স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক

অন্যরকম তুমি – নতুন ভালোবাসার গল্প (১ম খণ্ড)

অন্যরকম তুমি – নতুন ভালোবাসার গল্প: আহিল হাত বাড়িয়ে ফুল নেয় অরিনের হাত থেকে। ফুল নেওয়ার সময় আহিলের হাতের সাথে অরিনের হাত লাগে। আর অমনি অরিন আঙুল দিয়ে আচড় কাটে আহিলের হাতে। আহিল হাতটা সরিয়ে নেয়। সবার দৃষ্টিতে না পড়লেও সাজিদের চোখ এড়ায়নি। সাজিদ মনে মনে বিড়বিড় করে বলে…..


পর্ব ১

ইয়াসির আরাফাত, আরাফাত পরিবারের বড় কর্তা। অত্যান্ত রাগী একজন মানুষ। পরিবারের সবাই তার ভয়ে সর্বদা ভীত হয়ে থাকেন। বড় ব্যবসা তার সাথে ইমপোর্ট এর সাথে জড়িত। আসুন তার পরিবারের সদস্যের সাথে পরিচিত হই। ইয়াসির আরাফাত এর সহধর্মিণী ইয়ামিন আরাফাত তাদের আদরের সন্তান তায়িফ আরাফাত এবং রাফিয়া অরিন। চারজনের সুখি পরিবার। তায়িফ দেখতে বেশ স্মার্ট, লম্বা, দেখতেও বেশ হ্যান্ডসাম, লেখাপড়া শেষ করে। বাবার সাথে ব্যাবসার দেখাশোনা করে।

সবাই ইয়াসির আরাফাতকে ভয় করলেও অরিন তার বীপরীত। পরিবারের একমাত্র মেয়ে হওয়ায় খুব আহ্লাদী, সবার খুব আদরের, নাকের ডগায় রাগ, খুব চন্ঞ্চল, মেধাবীও বটে, মুখে কথার ফুলঝুরি। দেখতে, দুধে আলতা গাঁয়ের রং, লম্বা চুল, হরিণী চোখ, হাসি দিলে হালকা টোল পড়ে।

ছেলেঃ সাস্থ্য মিডিয়াম, মোট কথা সব দিক দিয়ে সে অনিন্দ্য। শুরু হয়ে গেলো রোজকার কাহিনী চলুন দেখে আসি।

আম্মুঃ অরিন এখনো হয়নি তোর? দেরি হয়ে যাচ্ছে তো! (বিরক্ত হয়ে)
অরিনঃ আম্মু আসছি আর পাঁচটা মিনিট। (চিৎকার করে)

তায়িফঃ আম্মু তোমার মেয়ে পাঁচ মিনিট বলে এক ঘন্টা লাগিয়ে দেবে তবুও তার সাজুগুজু শেষ হবে না। (নাস্তা খেতে খেতে)
বাবাইঃ অরিন কোথায়? (রাগি সুরে)
আম্মুঃ ওই যে এসে গেছে তোমার দুলারি (নাস্তা সার্ভ করতে করতে)
অরিনঃ Good morning Whole family.

বাবাইঃ তোমার কলেজে আজকে নাকি শো আছে। (নাস্তা হাতে নিয়ে)
অরিনঃ হুম বাবাই। আমার সময় নেই নাস্তা করার, ক্যান্টিনে গিয়ে খেয়ে নেবো। আমি যাই। (তারাহুরো করে)
তায়িফঃ চল আমি তোকে কলেজে নামিয়ে দিয়ে অফিসে যাবো। (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ No bro. আমি পিংকি কে নিয়ে যেতে পারবো। গেলাম। (তায়িফের চুল টেনে)

অরিন কাউকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে দিলো এক দৌড়। দৌড়ে সে তার পিংকির কাছে গিয়ে স্টার্ট দিলো।
অন্যদিকে, আহিল রেহমান। ঢাকার টপার বিজনেস ম্যান। ধনী ব্যাক্তিদের নামের তালিকায় আহিলের নাম দ্বিতীয় তে। বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। কর্মসূত্রে আহিলের বাবা, মা লন্ডনে থাকেন। আহিল আর তার জানে জিগার ভাই সাজিদ (চাচাত) বাংলাদেশেই থাকে। আহিল দেখতে পুরাই রাজকুমার যে কোনো প্রথম দেখায় ক্রাশ খেয়ে যাবে। লম্বায় ৬ ফুট ২ ইঞ্চি, গায়ের রং ফর্সা, ড্যাব ড্যাব চোখ দেখলে প্রেমে না পড়ে উপায় নেই। স্টাইলে কেউ হার মানাতে পারবে না।

কিন্তু মেজাজ ভিষণ চড়া। কথা বলে না বললেই চলে, সব সময় কাজ নিয়ে ব্যাস্ত। সাজিদ ও প্রায় আহিলের মতো। তবে আহিলের থেকে সাজিদ খুব ফ্রী আর চনমনে। আহিল আর সাজিদ যাচ্ছে একটি শো তে তাদের দামী টয়োটা ইনোভা নিয়ে। পিছনে আরো ৫ টা গাড়ি গার্ডদের।
অরিন খুব দ্রুত গতিতে তার পিংকি (স্কুটি) নিয়ে তাড়াহুড়ো করে মোড়ে বাকঁ নিতে নেয় আর অমনি গাড়ির সাথে ধাক্কা খেয়ে স্কুটি নিয়ে পড়ে যায়। অরিন কোনো রকম উঠেই গাড়িতে লাথি মারে।

অরিনঃ কোন উগান্ডা রে? আমার রাস্তায় এসে আমাকে ধাক্কা মারে। (কোমরে হাত রেখে)
আহিলঃ ড্রাইভার গাড়ি থামালে কেনো? বাহিরে চিৎকার করছে কে? (ল্যাপটপে কাজ করতে করতে)
ড্রাইভারঃ বস, মোড় থেকে একটা মেয়ে স্কুটি নিয়ে বের হলো। হর্ণ না বাজিয়ে। হঠাৎ সামনে আসায় আমি ব্রেক করতে পারিনি।
সাজিদঃ ভাই তুমি বসো। আমি দেখছি।
আহিলঃ না, আমি দেখছি।

অরিন তো অগ্নিশর্মা হয়ে দাড়িয়ে আছে। আহিল আর সাজিদ গাড়ি থেকে বের হলো। সাথে সাথে অরিন আহিলের সামনে গিয়ে দাড়িয়ে বকবক শুরু করে দেয়,
অরিনঃ Oh hello. চোখের মাথা খেয়ে গাড়ি চালান নাকি! মোড়ের সামনে এসে হর্ণ বাজাতে হয় সেটাও কি জানেন না! না জানলে গাড়ি চালাতে কে বললো হ্যা, ঠেলাগাড়িতে চালাতে পারেন না। যত্তসব নাইজেরিয়া উগান্ডা।

আহিলঃ Excuse me, mind……
অরিনঃ বাংলা জানো না যে ইংরেজি ফুটাও। ঠেঙিয়ে এক বারে পাবনা পাঠিয়ে দিবো।

সাজিদঃ What a dangerous girl!
অরিনঃ আমাকে ধাক্কা দিয়েছো ভালো কথা আমার পিংকির কি হবে?
আহিলঃ এই পিংকি টা আবার কে? এখানে তো আর কোনো মেয়ে কে দেখতে পাচ্ছি না?
অরিনঃ Excuse me. পিংকি কোনো মেয়ে না আমার স্কুটির নাম,
আহিলঃ What the hell?

অরিনঃ you.
আহিলঃ That’s enough! Who are you!
অরিনঃ My name is Rafiya orin.
সাজিদঃ মাফিয়া অরিন।

অরিনঃ কানা নাকি বয়রা হ্যা, অরিন, রাফিয়া অরিন আমার নাম।
আহিলঃ You know who i am?
অরিনঃ Yes i know you’re a Uganda.

আহিলঃ Oh you shut up.
অরিনঃ You shut up
আহিলঃ তোমার ঐ third class স্কুটির থেকেও আর দামী ১০০০ স্কুটার কেনার ক্ষমতা আমি রাখি।
অরিন কিছু বলতে যাবে তার আগেই রিম্পি কল করে। অরিন তাড়াতাড়ি রিসিভ কর…

অরিনঃ হুম বল তাড়াতাড়ি।
রিম্পিঃ তাড়াতাড়ি আয় কোথায় তুই?
অরিনঃ ৫ মিনিটের মধ্যে আসছি। টুট টুট টুট, ওহ মি. রহমান বেঁচে গেলেন, এবারের মতো মাফ করে দিলাম,

অরিন তাড়াহুড়ো করে স্কুটি উঠিয়ে স্টার্ট দিয়ে চলে যায়। আহিল পুরাই টাস্কি খেয়ে যায়। সাজিদ পুরাই অবাক। তার সাথে আহিলের সব গার্ডরাও অআহিলকে দেখে অবাক। এই প্রথম কোনো মেয়ে অআহিলকে নাস্তানাবুদ করে দিলো। সাজিদ আহিলের পাশে গিয়ে ফিসফিস করে বলে,
সাজিদঃ ভাই এটা কি হলো? যে আহিল রেহমানের সামনে গিয়ে কেউ কথা বলার সাহস পায় না সেই আহিল রেহমানকে এতো কথা শুনিয়ে দিলো মেয়েটা,
আহিলঃ Shut up. Go now.

আহিল আর সাজিদ গাড়িতে উঠে গাড়ি স্টার্ট দেয়। গাড়িতে উঠে আহিল অরিনের কথা ভাবে। অরিন তাড়াতাড়ি স্কুটি পার্ক করে ক্যাম্পাসের ভেতরে যায়। সবাই অরিনের জন্য অপেক্ষা করছিলো। কলেজের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি আসবেন আর তাকে সংবর্ধনা জানাবে অরিন আর তার ক্লাসমেটরা। অরিন সোজা চেন্জিং রুমে গিয়ে রেডি হয়। একটু পরেই রিম্পি ডাকতে আসে অরিনকে,

রিম্পিঃ আরে অরিন তাড়াতাড়ি কর। তারা এসে গেছে।
অরিনঃ হয়ে গেছে আমি আসছি।
অরিন বের হয়ে রিম্পির সাথে কলেজ গেইটের সামনে যায় হাতে ফুল নিয়ে। সবাই দাড়িয়ে। কিছুক্ষনের মধ্যে তারা এসে পড়ে।


পর্ব ২

অরিন সবার সামনে দাড়িয়ে আছে ফুলের তোড়া নিয়ে। কিছুক্ষনের মধ্যে প্রধান অতিথির গাড়ি চলে আসে। গাড়ি থেকে যখন প্রধান অতিথি নামেন অরিনের চোখ চড়কগাছ। কারণ প্রধান অতিথি আর কেউ নয় আহিল। আহিল আর সাজিদ গাড়ি থেকে নেমে গেইটে আসে। সাজিদ আহিলের কানে কানে বলে,
সাজিদঃ ভাই, এ তো সেই ডেঞ্জারাস মেয়ে!
আহিলঃ তাই তো দেখছি।

অরিন আহিলকে দেখে থ হয়ে গেছে। আর মনে মনে বলছে,
~ হায়রে অরিন, এবার কি হব্বে, এই সাদা গন্ডার যদি প্রিন্সিপালকে আমার নামে নালিশ দেয় তাহলে তো আমার দফা রফা করে দেবে। না না একদম ভয় পেলে চলবে না তোকে শক্ত থাকতে হবে,
তখনই রিম্পি অরিনকে ধাক্কা দিয়ে বলে,
রিম্পিঃ কি রে, ফুল টা দে,

অরিনঃ হুম,
অরিন আহিলের দিকে তাকিয়ে হালকা কাশি দিয়ে আহিলকে শুভেচ্ছা জানায়,
অরিনঃ আমাদের কলেজের সকল স্টুডেন্ট ও শিক্ষকবৃন্দের পক্ষ থেকে আপনাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

আহিল হাত বাড়িয়ে ফুল নেয় অরিনের হাত থেকে। ফুল নেওয়ার সময় আহিলের হাতের সাথে অরিনের হাত লাগে। আর অমনি অরিন আঙুল দিয়ে আচড় কাটে আহিলের হাতে। আহিল হাতটা সরিয়ে নেয়। সবার দৃষ্টিতে না পড়লেও সাজিদের চোখ এড়ায়নি। সাজিদ মনে মনে বিড়বিড় করে বলে,
সাজিদঃ ভাই তোমার জন্য এই মেয়েকেই দরকার।

কলেজের প্রিন্সিপাল তামজিদ রেহমান আহিলের সামনে এসে বলে,
~ Welcome my son,
~ Thanks uncle…

অরিনের চোখ বড় বড় হয়ে যায় প্রিন্সিপালের কথা শুনে, অরিন ভাবতে থাকে।
অরিনঃ এটা কি হলো? স্যার গন্ডারটাকে Son বললো কেনো? সুযোগ পেলে স্যারকে জিজ্ঞেস করতে হবে।
সবাই আহিলকে সংবর্ধনা জানায়। অরিন আহিলের পাশে, আহিল দাঁত কটমট করে আস্তে আস্তে বলে,
আহিলঃ তুমি তাহলে এই কলেজের স্টুডেন্ট?
অরিনঃ Any doubt

আহিলঃ তোমাকে বাগে পাই তারপর বুঝাচ্ছি
অরিনঃ Me Orin, Rafiya orin কে বাগে পাওয়া এতো সোজা নয়।
আহিলঃ দেখা যাক।
আহিল আর সাজিদ গিয়ে প্রিন্সিপালের পাশে বস স্পেশাল চেয়ারে বসে। সব স্টুডেন্টরা তাদের চেয়ারে বসে, অরিন আহিলের সামনে সারিতে বসে। আহিল অরিনের দিকে আড়চোখে তাকায়

অরিন ভাব নিয়ে ভেংচি মেরে চোখ ঘুরিয়ে নেয়। সাজিদ দুজনের কাহিনী দেখে মুচকি হাসছে, প্রিন্সিপাল উঠে গিয়ে মাইক হাতে নিয়ে বক্তৃতা শুরু করেন,
~ আমার প্রিয় স্টুডেন্টরা আজ আমাদের মাঝে যে বিশেষ অতিথি হিসেবে যিনি এসেছেন তার নাম হলো আহিল রেহমান ও সাজিদ রেহমান। শহরের টপার বিজনেস ম্যান ও টপ রিচ ম্যান। লন্ডন থেকে বিজনেস স্টাডিজ এর উপর পিএইচডি করে দেশে এসেছেন। আমাদের কলেজের প্রায় ৭০% খরচ বহন করে আহিল।

আহিলের আর সাজিদের সাথে আমার পারিবারিক সম্পর্ক আছে। আহিল আমার বড় ভাইয়ের ছেলে এবং সাজিদ মেঝে ভাইয়ের ছেলে। প্রতিবারের মতো এবারের ডোনেশন ও আহিল দিচ্ছে তাই আজকের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আমি আমন্ত্রণ জানিয়েছি। এখন একটি নৃত্যনুষ্ঠানের মাধ্যমে আামাদের অতিথিকে বরণ করবে আমাদের কলেজের মেধাবী স্টুডেন্ট রাফিয়া অরিন ও তার দল। সবাইকে ধন্যবাদ।

অরিন উঠে স্টেজে যায়। অরিন সাদা সিল্কের ও লাল পাড়ের শাড়ি পড়েছে তার উপর লাল ওরনা বাঁধা কোমরে। চুলে হালকা বেনুনী আর কানের পাশে সদ্য ফোটা রক্তিম গোলাপ। দুহাত ভর্তি লাল রেশমি চুরি, কানে বড় ঝুমকা গলায় গ্লাসের হার সব মিলিয়ে অরুনকে দারুণ লাগছে। গান প্লে হয়,
তুমি যে সুরের আগুন লাগিয়ে দিলে মোর প্রাণে

এ আগুন ছড়িয়ে গেলো, এ আগুন ছড়িয়ে গেলো, সব খানে, সব খানে, সব খানে,
তুমি যে সুরের আগুন লাগিয়ে দিলে মোর প্রাণে
এ আগুন ছড়িয়ে গেলো, এ আগুন ছড়িয়ে গেলো, সব খানে, সব খানে, সব খানে,
তুমি যে সুরের আগুন লাগিয়ে দিলে মোর প্রাণে

এ আগুন ছড়িয়ে গেলো, এ আগুন ছড়িয়ে গেলো, সব খানে, সব খানে, সব খানে,
তুমি যে সুরের আগুন লাগিয়ে দিলে মোর প্রাণে,
(আহিল অরিনকে দেখছে, বাঁকা হাসি দিয়ে। সাজিদ তাড়াতাড়ি ফোন বের করে ভিডিও করা শুরু করে)
যতসব মরা গাছের ডালে ডালে নাচে আগুন রে এএএএ, নাচে আগুন তালে তালে, আকাশে হাত তোলে সে কার পানে, কার পানে, কার পানে,
তুমি যে সুরের আগুন লাগিয়ে দিলে মোর প্রাণে,

(আহিল মনে মনে বলে ~ বাহ ভালোই নাচতে জানো। দেখো এবার তোমাকে আমি কিভাবে নাচাই)
আধারের তারা যত অবাক হয়ে রয় চেয়ে, কোথাকার পাগল হাওয়া বয় ধেয়ে
আধারের তারা যত অবাক হয়ে রয় চেয়ে, কোথাকার পাগল হাওয়া বয় ধেয়ে

নীশিথের বুকের মাঝে উঠলো ফুটে রে এএএএ, উঠলো ফুটে স্বর্ণকমল, আগুনের কি গুণ আছে কে জানে, কে জানে, কে জানে,
(আহিল তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে মুখ ফিরিয়ে নেয়, অরিন নাচের মধ্যে আহিলের দিকে তাকিয়ে ভেংচি মেরে আবারও নাচে মনোযোগ দেয়। )
তুমি যে সুরের আগুন লাগিয়ে দিলে মোর প্রাণে।
এ আগুন ছড়িয়ে গেলো, এ আগুন ছড়িয়ে গেলো, সব খানে, সব খানে, । সব খানে,
তুমি যে সুরের আগুন লাগিয়ে দিলে মোর প্রাণে।

এ আগুন ছড়িয়ে গেলো, এ আগুন ছড়িয়ে গেলো, সব খানে, সব খানে, সব খানে,
সবাই অনেক জোরে করতালি দিচ্ছে। অরিনকে সবাই শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। আহিলের ফোনে কল আসে তাই আহিল একটু নির্জন জায়গায় যায় অরিন পাশ কাটিয়ে চেঞ্জিং রুমে সাজ ঠিক করতে যায়। সবাই অনুষ্ঠানে তাই রুম ফাঁকা। অরিন দরজা লাগিয়ে আয়নার সামনে দাড়িয়ে শাড়ি ঠিক করছে আর বলছে,
অরিনঃ আরে বাহ অরিন! তুই তো খুব সুন্দর নাচতে পারিস। তোকে দেখে আজ কতজন টাস্কি খেয়েছে জানিস?
আহিল অরিনের পিছনে দাড়িয়ে ছিলো তা অরিন খেয়াল করেনি। অরিন এক মনে বকবক করে যাচ্ছে। আহিল এক হাত পকেটে রাখে আর অন্য হাত থুতনি চুলকাতে চুলকাতে বলে,

আহিলঃ তোমার মতো অদ্ভুত মেয়ে আমি আমার জীবনে দেখিনি! (তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে)
অরিন হুট করে পেছনে তাকায় আর রাগে লাল হয়ে যায় আর আহিলের সামনে দাড়িয়ে বলে,
অরিনঃ Oh hello Mr. White hippopotamus. This is a girl’s change room. Gents not allow… (আঙুল উঠিয়ে)
আহিলঃ you don’t know? আমার যেখানে ইচ্ছে আমি সেখানে যাই। আর কি যেনো বলছিলে, তুমি খুব ভালো নাচতে পারো? How funny! ক্যাঙ্গারুর মতো লাফানোকে নাচ বলে না। (ডেভিল মার্কা হাসি দিয়ে)

অরিনঃ How dare you? Me Rafiya orin, কতো পুরষ্কার নিয়েছি নাচ গানে সেটা আপনি জানেন? (রাগী লুকে)
আহিলঃ নিজেকে খুব সুন্দরী ভাবো! তেতুল গাছের পেত্নীও তোমার থেকে সুন্দর। (অন্যদিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ আপনি জানেন, এই কলেজের ৯৯% ছেলের ক্রাশ আমি। কলেজের সেরা সুন্দরীদের মধ্যে আমি সবার ফার্স্টে। আর আপনি কি না? নাইজেরিয়ার উগান্ডা, (আহিলের আরো সামনে এসে)
আহিলের রাগ অতি মাত্রায় বেড়ে যায়। রাগের ভাব চেহারায় স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। গাল লাল হয়ে গেছে আর চোখ আগুনের ফুলকির মতো। আহিল অরিনকে হেচকা টান দিয়ে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে আর,


পর্ব ৩

আহিল অরিনকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে, অরিন বহু চেষ্টা করেও আহিল কে এক চুল ও সরাতে পারছে না। অরিন রেগেমেগে বলা শুরু করে,
অরিনঃ আপনার সাহস তো কম না? এভাবে একটা নিষ্পাপ মেয়েকে একা পেয়ে টর্চার করছেন, উগান্ডা, সাদা গন্ডার, বদের হাড্ডি, উল্লুক, (রাগে গজগজ করতে করতে)
আহিলের রাগের মাত্রা আরো বেড়ে গেলো। আহিল নিজেকে আর কন্ট্রোল করতে পারলো না, অরিনের ঠোঁট ঠোঁট বসিয়ে দিলো। অরিন তো পুরোপুরি অবাক, অরিন বুঝতে পারেনি আহিল এমন কিছু করবে।

অরিনঃ উমমমমমমমম।

অন্যদিকে, সাজিদ আহিলকে খুঁজতে খুঁজতে হয়রান, রিম্পি অরিনকে খুঁজছে। সবাই অনুষ্ঠানে তাই কলেজের বিল্ডিং পুরো ফাঁকা। তখনই সাজিদ রিম্পিকে দেখে, রিম্পি এদিক সেদিক তাকাচ্ছিলো। সাজিদ কৌতাহলবশত রিম্পির কাছে গিয়ে ডাক দেয়,
সাজিদঃ Excuse me… (ডাক দিয়ে)
রিম্পিঃ জি, কিছু বলবেন? (মুখ ঘুরিয়ে)

সাজিদঃ আপনি এখানে একা একা কি করছেন? (অবাক হয়ে)
রিম্পিঃ অরিনকে খুঁজতে খুঁজতে এখানে এসেছি? আপনি এখানে, (এদিক সেদিক তাকিয়ে)
সাজিদঃ Omg, ঐ ডেঞ্জারাস মেয়ের বান্ধবী! সেই এতো ডেঞ্জারাস তার বান্ধবী তো। (মনে মনে)
রিম্পিঃ কি হলো বলুন? (আঙুল বাজিয়ে)
সাজিদঃ ভাইকে খুঁজতে এসেছি। দেখি কল করে কোথায় আছে? (ফোন বের করে)

সাজিদ কল দেয় আহিলের ফোনে, রিম্পি ও পাশে দাঁড়ানো ছিলো। আহিলের ফোনের রিংটোন বেজে ওঠে, সাজিদ ও রিম্পি চমকে যায় কারণ রিংটোন খুব কাছাকাছি বাজছে।
রিম্পিঃ রিংটোনের আওয়াজ তো ঐ রম থেকে আসছে, (আঙুল দিয়ে ইশারা করে)
সাজিদঃ তাইতো, চলুন দেখি। (রিম্পির দিকে তাকিয়ে)
সাজিদ আর রিম্পি চেন্জিং রুমের সামনে গিয়ে দেখে দরজা হালকা খোলা। সাজিদ দরজা ধাক্কা দেয় আর পুরোপুরি দরজা খুলে যায়,
সাজিদঃ ভাইইইইই, (হা হয়ে)
রিম্পিঃ অরিনননননন (শকড হয়ে )

আহিলের সেদিকে কোনো খেয়াল নেই। সাজিদ আর রিম্পি থ হয়ে গেছে ওদের দেখে। আহিলের কাজ শেষ করে অরিনকে ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে দেয়। আহিল পকেট থেকে রুমাল বের করে মুখ মুছতে মুছতে বলে,
আহিলঃ নেক্সট টাইম আমাকে কিছু বলার আগে ভেবে নিও। আহিল রেহমানের সাথে পাঙ্গা নেওয়ার পরিনাম কতটা ভয়াবহ তা হারে হারে বুঝতে পারছো। যাই হোক লিপস্টিক টা খেতে দারুণ,
অরিনঃ Youuuuu…… (রেগেমেগে )

আহিলঃ What? তোমার মুখ থেকে আর একটা শব্দ বের হলে ডিরেক্ট তুলে নিয়ে যাবো! তারপর কি হবে তা কল্পনাও করতে পারবে না। (অরিনের কাছে এসে)
অরিন মুখে হাত দিয়ে চেপে ধরে। আহিল বাঁকা হাসি দিয়ে ঘুরে দেখে সাজিদ আর রিম্পি হা হয়ে দাড়িয়ে আছে। আহিল এমন ভান করলো যে কিছুই হয়নি। আহিল সাজিদকে বলে,
আহিলঃ কি ব্যাপার? এভাবে হা হয়ে দাড়িয়ে আছিস কেনো?
সাজিদঃ তোমাকে খুঁজতে এসে, (থতমত হয়ে)
আহিলঃ হুুম চল,

অরিন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাঁদছে। আহিল দরজার সামনে গিয়ে হঠাৎ দাঁড়িয়ে যায়, পিছনে তাকিয়ে অরিনের দিকে তাকায়। অরিন নিচের দিকে তাকিয়ে কাঁদছে। অরিনের দিকে একপলক তাকিয়ে মুচকি হেসে হাটা শুরু করে। অরিন বসে পড়ে রিম্পি দৌড়ে এসে অরিনকে ধরে,
রিম্পিঃ এসব কি অরিন?

অরিনঃ সার্কাস, (রেগে)
রিম্পিঃ শান্ত হ প্লিজ, কি হয়েছে আমাকে সব খুলে বল, (অরিনের কাঁধে গাত রেখে)
অরিনঃ কিচ্ছু হয়নি। আমি বাসায় যাবো। (চোখ মুছে)

রিম্পিঃ আরে শোন তো, অরিন
অরিন কাঁদতে কাঁদতে পার্কিং লনে গিয়ে স্কুটিতে উঠে স্টার্ট দেয়। আহিল আর সাজিদ গিয়ে তাদের চেয়ারে বসে। কিছুক্ষনের মধ্যে অনুষ্ঠানের সেকেন্ড পার্ট, সেরা মেধাবী স্টুডেন্ট ২০২০ এ তিনজনের মধ্যে সেরা হয়েছে রাফিয়া অরিন। প্রিন্সিপাল নাম অ্যানাউন্স করে কিন্তু অরিনের সাড়া পায় না, পাশ থেকে রিম্পি বলে, অরিন বাড়িতে গেছে। কথাটা আহিল শুনে ফেলে। অরিন বাসার সামনে এসে স্কুটি রেখে দৌড়ে রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে কাঁদতে থাকে।
অনুষ্ঠান শেষ করে আহিল আর সাজিদ বাসায় চলে আসে। আহিল ভাবতে থাকে,

আহিলঃ যা করলাম তা মোটেই ঠিক হয়নি। একটা মেয়ের সাথে আমি এমনটা কি করে করতে পারলাম? কিন্তু মেয়ে টা সবার থেকে আলাদা একে বারে অন্যরকম,
অরিনের আম্মু এসে বার দরজা ধাক্কাচ্ছে। অরিনের মা তার বাবাকে সব বলে, কারন অরিন তার বাবার কথা বেশি শোনে, অরিনের বাবা অরিনের রুমের সামনে গিয়ে তাকে ডাকে,
বাবাইঃ অরিন দরজা খোলো!
অরিন এসে দরজা খুলে দেয়। অরিনের চোখ ফুলে আপেলের মতো হয়ে গেছে আর নাক টমেটোর মতো লাল হয়ে গেছে। গাল গোলাপি হয়ে গেছে। অরিনের বাবা বুঝতে পারে কিছু একটা হয়েছে,

বাবাইঃ কি হয়েছে আমার মায়ের? (মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে)
অরিনঃ কিছু না বাবাই। (হালকা হেসে)
বাবাইঃ আমাকে বলো মা। আমি জানি কিছু না কিছু হয়েছে, (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ কই কিছু নাতো, (জোর করে হেসে)

বাবাইঃ তাহলে কাঁদছো কেনো? (গালে দুহাত রেখে)
অরিনঃ ঘুমিয়েছিলাম, তাই হয়তো এমন লাগছে। (চোখ মুখ মুছতে মুছতে)
বাবাইঃ তোমার জন্য সুখবর আছে? (অরিনের মাথায় হাত দিয়ে)
অরিনঃ কি বাবাই? (হেসে)

বাবাইঃ তায়িফের জন্য যে মেয়েকে দেখেছিলাম না, তার সাথেই বিয়ে ঠিক করেছি। আগামীকাল এনগেজমেন্ট। (মুচকি হেসে)
অরিনঃ Wow, what a surprise! I’m so happy.. (হেসে হেসে)
বাবাইঃ তোমার একমাত্র ভাইয়ের বিয়ে তাই সব দায়িত্ব কিন্তু তোমার।
অরিনঃ Yes… Mr. Yasir Arafat. (মুচকি হেসে)
বাবাইঃ পাগলি মেয়ে একটা, চলো ডিনার করবে, (হাত ধরে)
অরিনঃ তুমি যাও, আমি আসছি, (হেসে)
বাবাইঃ তাড়াতাড়ি এসো।

অরিন ফ্রেশ হয়ে সবার ডিনার করে সবার সাথে। তারপর রুমে এসে শুয়ে পড়ে। বালিশে মাথা রাখতেই আবারও আহিলের কথা মনে পড়ে যায় অরিনের। অরিন মাথার উপর বালিশ চাপা দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। অন্যদিকে আহিল অরিনের কথা ভুলতেই পারছে না। বারবার অরিনের মুখ ভেসে উঠছে। আহিল কোনো কাজে মন বসাতে পারছে না,
আহিলঃ ধুর, মেয়েটা তো আমাকে শান্তিতে কোনো কাজই করতে দিচ্ছে না।
এরই মধ্যে সাজিদ রুমে আসে,

সাজিদঃ কি হলো ভাই, কি বলছো,
আহিলঃ কিছু না, কিছু বলবি?
সাজিদঃ ভাই কালকে ফারিনের এনগেজমেন্ট। আমাদের সেখানে যেতেই হবে নাহয়, আন্টি এসে আমাদের কান ধরে নিয়ে যাবে,
আহিলঃ ওহ আচ্ছা, ওকে সময় পেলে,
সাজিদঃ বাধ্যতামুলক ভাই,
আহিলঃ ওকে যাবো কালকে,
সাজিদ কিছুক্ষণ আহিলের সাথে কথা বলে তার রুমে চলে যায়। আহিল তার কাজ শেষ করে শুয়ে পড়ে। খুব সকাল সকাল অরিন ঘুম থেকে উঠে তারপর,


পর্ব ৪

অরিন ঘুম থেকে উঠে তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে রুমে আসে। তারপর একের পর এক ড্রেস চয়েস করতে থাকে। কিন্তু কোনোটাই পারফেক্ট মনে হয় না। অবশেষে একটা লেহেঙ্গা পছন্দ হলো। অরিন লেহেঙ্গা টি পড়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাড়ালো। লেহেঙ্গাটি নেভি ব্লু ঘাগড়া, তার উপর সাদা স্টোনের চমৎকার ডিজাইন, হালকা গোলাপি রঙের বেকলেস ব্লাউজ থ্রি কোয়ার্টার হাতা তার উপর সাদা আর গোল্ডেন স্টোনের কাজ, ওড়না ব্লু কালারের নেটের উপর সাদা স্টোন বসানো।

অরিন তার লম্বা চুল গুলো ভাগ করে সামনে একপাশে রাখে, আর অন্যসাইডে ওড়না পড়ে। কানে ডায়মন্ডের মিনি সাইজের দুল আর গলায় হার পড়ে। এক হাতে নীল রঙের চুরি ও অন্যহাতে মেচিং ঘড়ি। চোখে গাঢ় কাজল, ঠোঁট গোলাপি রঙের লিপস্টিক গালে হালকা গোলাপি ব্লাশিং আর সবশেষে কপালে ছোট্ট একটা সাদা স্টোনের টিপ। অরিন রেডি হয়ে তায়িফের রুমে যায়। তায়িফ অলরেডি বসে আছে রেডি হয়ে।

অরিনঃ ভাইয়া ভুক্কি, (দরজা দিয়ে উঁকি দিয়ে)
তায়িফঃ এই যে আমার পাগলি বোনটা, তোকে তো খুব সুন্দর লাগছে, (অরিনকে দেখে)

অরিনঃ দাও টাকা দাও, (হাত পেতে)
তায়িফঃ কেনো শুনি? (রাগ করে)
অরিনঃ আমাকে সুন্দর বললে তাই, (ভাব নিয়ে)
তায়িফঃ সুন্দর বললে টাকা দিতে হয়? (ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে)

অরিনঃ দিবে না, ওকে আম্মুওওওওওওও ভাইয়ের ফোনে কার জানি ছবি, (চিৎকার করে)
তায়িফঃ থাম থাম, তুই বোন নাকি শত্রু? এই নে, এবার খুশি, (পকেট থেকে টাকা বের করে)
অরিনঃ আমার লক্ষী ভাইয়া। (তায়িফের গাল টেনে)
বাবাইঃ এবার চলো তোমরা, এমনিতেই অনেক দেরি হয়ে গেছে! (গম্ভীর কণ্ঠে)
তায়িফঃ হুম চলো বাবা, আয় পেত্নী, (ভেংচি মেরে)

অরিনঃ বাসায় এসে বুঝাবো শয়তানের হাড্ডি। (রেগেমেগে)
সবাই গাড়িতে উঠে বসে। ড্রাইভার গাড়ি স্টার্ট দেয়। সবাই অনেক খুশি। অরিন তার বাবাইয়ের সাথে বকবক করছে,
অরিনঃ বাবাই কি কি ফাংশনের প্ল্যান করেছো?

বাবাইঃ আজকে এনগেজমেন্ট, কালকে গাঁয়ে হলুদ পরশু বিয়ে তারপরের দিন বৌভাত।
অরিনঃ Wow, খুব ভালো হবে। (হাততালি দিয়ে)
তায়িফ সামনের সিটে বসে ছিলো। অরিনের বকবকানি শুনে তায়িফ ঘুরে পিছনে তাকিয়ে বলে,
তায়িফঃ রেডিও ফুর্তি এবার তো একটু স্টপ কর তোর ননস্টপ রেডিও। (অরিনের সামনে হাত জোর করে)

অরিনঃ সবাই বললে দোষ নাই আর আমি বললেই দোষ। আর কথাই বলবো না। (মুখ গোমড়া করে)
সবাই হেসে ওঠে অরিনের কথায়। কিছুক্ষণের মধ্যে গাড়ি এসে বাড়ির সামনে থামে সবাই ধীরে ধীরে গাড়ি থেকে নামে। অরিন গাড়ি থেকে নেমে দাড়ায়। দূর থেকে কারও চোখ আটকে যায় অরিনের ওপর। সবাই বাড়ির ভেতরে আসে। মেয়েপক্ষের সবাই খুব স্বাদরে গ্রহন করেন। সবাই সোফায় বসে কিন্তু অরিন দৌড়ে দোতালায় চলে যায় তারপর একজনকে জিজ্ঞেস করে ফারিনের রুম কোনটা? সে নিয়ে যায় ফারিনের কাছে। ফারিনকে পার্লারের বিউটিশিয়ানরা সাজাচ্ছিলো। অরিন দৌড়ে এসে ফারিনকে জড়িয়ে ধরে,

অরিনঃ ভাবিইইইইইই, (জড়িয়ে ধরে)
ফারিন ~ কেমন আছো আমার প্রিয় ননদী? (জড়িয়ে ধরে)
অরিনঃ অন্নেক ভালো। তুমি কেমন আছো? (ফারিনের হাত ধরে)
ফারিন ~ ভালো আছি। (অরিনের গাল ধরে)

অরিনঃ You are so beautiful just look like wonderful fairy.., (ফারিনের থুতনি ধরে)
ফারিন ~ তোমাকে তো অনেক বেশি সুন্দরী লাগছে, (নাক টেনে)
আহিলঃ আটা ময়দা মাখলে পেত্নীকেও সুন্দরী পরীর মতো লাগবে। (বাঁকা হাসি দিয়ে)
অরিন অবাক হয়ে যায় কন্ঠটা শুনে। কন্ঠটা খুব পরিচিত মনে হয় অরিনের। অরিন মনে মনে বলতে থাকে,
অরিনঃ কন্ঠটা শুনতে তো একদম ঐ খাটাশটার মতো কিন্তু ও এখানে আসবে কি করে?

ফারিন অরিনের পাশ কাটিয়ে আহিলের কাছে যায়। অরিন ভয়ে পেছনে তাকানোর সাহস পাচ্ছে না। ফারিন আহিলকে বলে,
ফারিন ~ ভাইয়া তোমার বোনের বিয়ে আর তুমি এতো দেরি করে এসেছো? (আহিলকে হালকা জড়িয়ে ধরে)
আহিলঃ Extremely sorry, my dear sis please don’t angry? (ফারিনকে ধরে)

এবার অরিন ঘুরে তাকায়। অরিন আহিলকে দেখে টাস্কি খেয়ে যায় কারণ আহিল ব্লু রঙের পাঞ্জাবি পরেছে, চুল স্পাইক করা, হাতে ওয়াচ জাস্ট হিরোর মতো লাগছে আহিলকে। আহিল অরিনকে দেখে হালকা কাশি দিয়ে বলে,
আহিলঃ ফারিন এই মেয়েটা কে? (না জানার ভান করে)
ফারিন ~ ও হচ্ছে অরিন আমার একমাত্র ননদী। (অরিনকে দেখিয়ে দিয়ে)
আহিলঃ ওহ আচ্ছা। (স্বাভাবিক ভাবে)
ফারিন ~ কি হলো অরিন? দাঁড়িয়ে আছো যে এদিকে এসো, (হাত দিয়ে ইশারা দিয়ে)

তখনই নিচ থেকে মেয়েরা আসে ফারিনকে নিতে। সবাই ফারিনকে নিয়ে যায় আহিল পাশে দাড়িয়ে আছে আর অরিন ও। আহিল অরিনের কানে ফিসফিস করে বলে,
আহিলঃ তোমার সাথে এতো তাড়াতাড়ি দেখা হবে ভাবিনি? (ডেভিল মার্কা হাসি দিয়ে)
অরিন ভয়ে কোনো কথা বলছে না। কারণ কথা বললেই আহিল যদি কালকের মতো করে। আহিল আবারও বলে,

আহিলঃ You looks like so pretty but your lipstick is awesome… (বাকা হাসি দিয়ে)
অরিন দুই হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে দেয় এক ভো দৌড়। আহিল অরিনের কান্ড দেখে মুচকি হাসে। সবাই দাড়িয়ে আছে দুই ভাগ হয়ে। মেয়েপক্ষ আর ছেলেপক্ষ। আহিল এসে ফারিনের কাছে দাঁড়ায়। তখন ফারিনের বাবা বলে,
ফারিনের বাবাঃ আমার ছেলের অপেক্ষায় ছিলাম এতোক্ষণ। সে যখন চলে এসেছে শুভকাজে আর দেরি নয়।
অরিনের বাবাঃ আপনার ছেলে না মারা গেলো?

আহিলঃ হুম। ফুয়াদ আর আমি ছোটোবেলার বন্ধু। আঙ্কেল, আন্টি আমাকে তাদের ছেলে ভাবেন। আমরা একসাথে বড় হয়েছি। ফারিন আমার ছোটো বোনের মতো। আজ ফুয়াদ থাকলে অনেক ভালো হতো কিন্তু নিয়তি? এ্যাক্সিডেন্টে ওর অকাল মৃত্যু হলো। আজ ফুয়াদ নেই কিন্তু আমি আছি। ফারিনের ভাইয়ের দায়িত্ব আমি পালন করবো।
অরিন চুপ করে আহিলের কথা শুনছিলো। আহিল কথা শেষ করে অনুষ্ঠান শুরু করতে বলে, তায়িফ ফারিনকে আংটি পড়িয়ে দেয় আর ফারিন ও তায়িফকে আংটি পড়িয়ে দেয়। সবাই হাততালি দেয়। তায়িফ আর ফারিনকে একসাথে বসানো হয়। সবাই গেস্টদের সাথে কথা বলছে। অরিন একপাশে দাড়িয়ে দাড়িয়ে ফোনে গেমস খেলছিলো আর তখনি আহিল আসে সেখানে,

আহিলঃ গোমার মতো ভাবওয়ালি মেয়ে এতো গরীব হবে ভাবতে পারিনি। (বাঁকা হাসি দিয়ে)
অরিনঃ কি বললেন? (ভ্রু কুচকে)
আহিলঃ যা শুনেছো সেটাই বলেছি। (চোখ ঘুরিয়ে)
অরিনঃ আমাকে কোন এংগেল থেকে গরীব মনে হয় বলুন, (কোমরে দুই হাত রেখে)

আহিলঃ এইযে কম কাপড়ের ব্লাউজ পরেছো পিঠে কাপড় নেই বললেই চলে, স্কার্ট পরছো সাদা কাগজের মতো পেট দেখা যাচ্ছে। (পা থেকে মাথা পর্যন্ত তাকিয়ে)
অরিনঃ Oh hello this is a style and my dress is traditional. Okay, (আঙুল উঠিয়ে তুড়ি বাজিয়ে)
আহিলঃ How funny! Traditional ? (তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে)
অরিনঃ বোঝেও না। (আড়চোখে তাকিয়ে)
আহিলঃ তোমার তো অন্য মতলব? (ডেভিল মার্কা হাসি দিয়ে)
অরিনঃ মানে? (অবাক হয়ে)

আহিলঃ মানে হলো এমন ড্রেস পরেছো কারণ ছেলেরা তোমাকে দেখলে ক্রাশ খাবে তারপর তুমি তা নিয়ে অহংকার করবে। (পকেটে হাত রেখে)
অরিনঃ Excess.. (ভেংচি মেরে)
আহিলঃ আর যাই বলো না কেনো, তোমার ঐ সাদা পেটের দিকে তাকালে যে কেউ প্রেমে পড়ে যাবে। (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ সালার বেটা নাইজেরিয়ার উগান্ডা কি বলে? (মনো মনে)
আহিলঃ ঠিক করে নাও। (সিরিয়াস ভাবে)

অরিনঃ আপনার কথায়? যেটা যেমন আছে তেমনি থাকবে। আপনি অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করার কে? (রেগেমেগে)
আহিলঃ কি বললে? (রাগো লাল হয়ে)
অরিনঃ আপনার কথায় আমি চলি না।
, শুনলেন। (আহিলের সামনে আঙুল উঠিয়ে)
আহিলঃ ওকে ফাইন। (জোর করে হেসে)

অরিন আর আহিল করিডোরের একবারে শেষের দিকে ছিলো আর সেখানে মানুষও এক বারে কম। আহিল অরিনকে হেচকা টান দিয়ে একটা রুমের মধ্যে নিয়ে যায়। তারপর দরজা বন্ধ করে দেয়। অরিন ভয়ে চুপসে যায়। সে ভয়ে ভয়ে বলে,
অরিনঃ আ আ আপনি আমাকে এনেছেন কেনো? (পিছিয়ে যেতে যেতে)
আহিলঃ তোমার লেহেঙ্গা ঠিক করতে। (পাঞ্জাবির হাতা উঠাতে উঠাতে)
অরিনঃ দেখুন আ আ আমি কিন্তু চি চিৎকার করবো। (ভয়ে ভয়ে)

আহিলঃ করো। No problem…. (না জানার ভান করে)
অরিনঃ প্লিজ আমাকে যেতে দিন। আমি ঠিক করে নেবো। (কাঁদো কাঁদো সুরে)
আহিলঃ এই কথাটা আগে বললে তোমাকে ছেড়ে দিতাম কিন্তু এখন, (রাগী লুকে)

আহিল এগুতে থাকে আর অরিন পিছিয়ে যায় শেষমেশ অরিন দেয়ালের সাথে ঠেকে যায়। অরিন করুন দৃষ্টিতে আহিলের দিকে তাকায়। আহিল অরিনের হাত ধরে হঠাৎ করে খুব জোরে টান মারে অরিন তাল সামলাতে না পেরে আহিলের উপর পড়ে যায়। আর তখনি,


পর্ব ৫

আর তখনি আহিল অরিনকে জড়িয়ে ধরে। অরিন আহিলকে ধাক্কা দিতে থাকলেও তাতে আহিল বিন্দু মাত্র ছাড়ে না। আহিল অরিনের কানে কানে বলে,
আহিলঃ বাহ! তোমার পারফিউম টা তো খুব সুন্দর।
অরিনঃ ছাড়ুন বলছি।
আহিলঃ অবশ্যই ছেড়ে দেবো।

আহিল তার হাত ধীরে ধীরে অরিনের পিঠের ওপর আনে। অরিন আহিলের ঠান্ডা শীতল স্পর্শে কেঁপে ওঠে। আহিল তার হাত ব্লাউজের ফিতার কাছে আনে আর এক টানে ফিতা ছিড়ে ফেললো। অরিনের চোখে জলকণা জমে গেছে। আর অরিন পুরোপুরি চুপচাপ হয়ে গেছে,
আহিলঃ খুব শখ এসব থার্ড ক্লাস ড্রেস পড়ার তাই না।

অরিন আহিলকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে। আহিল অরিনকে ছাড়িয়ে দিতে নেয় আর বলে,
আহিলঃ কি হলো ছাড়ো। (ছাড়াতে ছাড়াতে)
অরিনঃ না। (শক্ত করে আঁকড়ে ধরে)

আহিলঃ কেনো? (মুচকি হেসে)
অরিনঃ জানি না। (কাঁদো সুরে)
আহিল অরিনের ওড়না টেনে পিঠ ঢেকে দেয়। অরিন কাঁদছে। আহিল অরিনের কানে কানে বলে,
আহিলঃ Next time…. এসব ড্রেস পড়ার আগে দশবার ভেবে নিও। (গম্ভীর কণ্ঠে)

আহিল এক ধাক্কায় অরিনকে সরিয়ে দেয়। অরিন ছিটকে দূরে সরে যায়। আহিল ঘুরে দরজার কাছে গিয়ে থেমে যায়, আহিল পিছনে তাকিয়ে দেখে অরিন নিচের দিকে তাকিয়ে কাঁদছে। আহিল ঘুরে অরিনের কাছে যায়, অরিন সরে যেতে নিলে, আহিল হেচকা টান দিয়ে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে, আহিল ধীরে ধীরে অরিনের ঠোঁটের কাছে আসে, অরিন মাথা ঘুরিয়ে নেয় আর তখনি আহিল অরিনের পেটে অনেক জোরে আচঁড় কাটে। অরিন ব্যাথায় চিৎকার করতে নিলে আহিল অরিনের ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ধরে। আর কিছুক্ষণ পর ছেড়ে দেয়। আহিল এতোটা জোরে আঁচড় কেটেছে যে ব্লিডিং হচ্ছে। আহিল পকেট থেকে রুমাল বের করে অরিনের হাতে দিয়ে বলে,
আহিলঃ নাও, কাটা জায়গায় চেপে ধরো। ব্লিডিং কম হবে, আর শোনো ফারিনকে পাঠিয়ে দিচ্ছি ওর থেকে একটা শাড়ি নিয়ে পড়ো কেমন। (অরিনের সামনে দাড়িয়ে)
আহিল কথাগুলো বলে দরজা খুলে চলে যায়। অরিন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাঁদছে। আর বলছে,

অরিনঃ উগান্ডা, সাদা গন্ডার, বদের হাড্ডি, শয়তানের হাড্ডি তোর বউ জুটবে না দেখে নিস। বিয়ে টা হোক তারপর তোকে দেখছি! আমিও রাফিয়া অরিন, (বিড়বিড় করে)
ফারিন সোফায় বসে ছিলো। আহিল ইশারায় ফারিনকে ডাকে। ফারিন উঠে আহিলের কাছে যায়, আহিল গিয়ে ফারিনকে বলে,
আহিলঃ ফারিন,
ফারিন ~ জি ভাইয়া, কিছু বলবে? (হেসে)
আহিলঃ তোমার একটা ননদ আছে না? কি জানি নাম? (না জানার ভান করে)
ফারিন ~ অরিনের কথা বলছো? (অবাক হয়ে)

আহিলঃ ওর লেহেঙ্গা টা ফেটে গেছে। দেখলাম একটা রুমে যেতে। তোমার একটা শাড়ি ওকে দাও নাহয় মান সম্মান সব যাবে। (অভিনয় শুরু করে)
ফারিন ~ কি বলো ভাইয়া? আমি এখনই যাচ্ছি। অরিন কোন রুমে? (চিন্তিত হয়ে)
আহিলঃ করিডোরের লাস্ট পয়েন্টের রুমটায়। (ইশারা করে)

ফারিন তাড়াতাড়ি অরিনের কাছে যায়। অরিন তখনও বসে বসে কাঁদছে। ফারিন অরিনের কাছে গিয়ে বলে,
ফারিন ~ আরে বোকা মেয়ে এই সামান্য বিষয়ে কাঁদতে হয়? (কাঁধে হাত রেখে)
অরিনঃ সামান্য মানে? (অবাক হয়ে)
ফারিন ~ এইযে তোমার লেহেঙ্গা ফেটে গেছে। আসো আমার রুমে চলো। (অরিনের হাত ধরে)
ফারিন হাত টেনে নিয়ে যায় অরিনকে তার রুমে তারপর একটা ব্লু রঙের শাড়ি দেয় অরিনকে পড়ে। ফারিন দেখে অরিন এক হাত দিয়ে তার পেট চেপে ধরে আছে। ফারিন কৌতূহল বশত জিজ্ঞেস করে,

ফারিন ~ তোমার পেটে কি হয়েছে?
অরিনঃ কই কিছু না তো এমনি। (থতমত খেয়ে)
ফারিন ~ নাও শাড়ি টা পড়ে আসো। পড়তে পারো তো নাকি? (মুচকি হেসে)
অরিনঃ পারি না। (মাথা নেড়ে)

ফারিন ~ ওকে আমি পড়িয়ে দিচ্ছি। (হেসে হেসে)
ফারিন অরিনকে শাড়ি পড়িয়ে দেয়। শাড়ি পড়ানো শেষ হলে ফারিন অবাক হয়ে অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
ফারিন ~ Wow, Amazing.
অরিনঃ ধন্যবাদ। (হেসে)
ফারিন ~ আমার ভাইয়ের চয়েস আছে! (ভাব নিয়ে)

অরিনঃ মানে? (অবাক হয়ে)
ফারিন ~ ভাইয়া আজকের জন্য ৩ ডজন শাড়ি এনেছে। তার মধ্যে এইটা। (মুচকি হেসে)
অরিনঃ আপনার ভাই। (অবাক হয়ে)
ফারিন ~ হুম। চলো এবার, (হাত ধরে )
অরিনঃ ভাই না উগান্ডা। (মনে মনে)
দুজন নিচে আসে। অরিনের আম্মু, বাবাই, ভাই অরিনের দিকে তাকায়। অরিনের আম্মু জিজ্ঞেস করে,
অরিনঃ তোর লেহেঙ্গা? (ভ্রু কুচকে)

ফারিন ~ আসলে আম্মু বাচ্চারা ঘুরাঘুরি করছে। ওদের হাতে জুসের গ্লাস ছিলো সেটা অরিনের লেহেঙ্গায় পড়ে পুরো ভিজে গেছে। তাই অরিনকে শাড়ি পড়িয়ে দিয়েছি। (অরিনকে চোখ টিপ দিয়ে)
কিছুক্ষণ পরে সবাই বিদায় জানায় যাওয়ার জন্য। কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত অরিনদের একটা গাড়ির তেল শেষ হয়ে যায়। তাই সবাই গাড়িতে উঠে কিন্তু অরিন উঠবে তার আর জায়গা নেই তখন ফারিনের বাবা আহিলকে নিয়ে যেতে বলে অরিনকে। অরিন কিছু বলবপ তার আগেই আহিল বলে,
আহিলঃআসুন আমার গাড়ি সামনে।

অরিন বাধ্য হয়ে আহিলের সাথে যায়। আহিলের গাড়িতে ড্রাইভার ছিলো। আহিল ড্রাইভার কে যেতে বলে নিজে ড্রাইভিং সিটে বসে অরিন গাড়িতে বসে, আহিল বলে,
আহিলঃ সিট বেল্ট লাগিয়ে নাও। (সামনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ দরকার নেই। (ভেংচি মেরে)
আহিলঃ কি বললে? (ধমক দিয়ে)
অরিনঃ কই কিছু নাতো। (ভয় পেয়ে)
আহিল গাড়ু স্টার্ট দেয়। অরিন বাহিরের দিকে তাকিয়ে আছে। আহিল গাড়ি চালাচ্ছে। অরিনের চুল উড়ে উড়ে আহিলের মুখের উপর পড়ছে। কিছুক্ষন পড়ে,


পর্ব ৬

কিছুক্ষণ পরে আহিল হঠাৎ করে গাড়ি ব্রেক করে থামিয়ে দেয়। অরিন চুপচাপ বসে আছে। আহিল অরিনের দিকে একপলক তাকিয়ে গাড়ি থেকে নেমে যায়, অরিন সেদিকে দৃষ্টিপাত না করে বসে আছে। আহিল ফোন বের কাকে জানি ফোন দেয় আর বলে,

~ গাড়ির তেল শেষ হয়ে গেছে এজন্য আসতে দেরি হতে পারে। কোনো চিন্তা করবেন না অরিন আমার কাছে নিরাপদ থাকবে। আচ্ছা আল্লাহ হাফেজ। টুট টুট টুট
অরিন ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে আহিলের দিকে তাকায়। আহিল ফোন পকেটে রেখে অরিনের দিকে তাকায় আর সাথে সাথে অরিন চোখ নামিয়ে নেয়। আহিল অরিনকে গাড়ি থেকে নেমে আসতে বলে অরিন ভয়ে ভয়ে নেমে আসে। দুজন গাড়ির সামনে দাড়িয়ে আছে। আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
আহিলঃ কি ভয় পাচ্ছো? (বাঁকা হাসি দিয়ে)
অরিনঃ তোর মত ডেভিল পাশে থাকলে যে কেউ ভয় পেয়ে যায় বদের হাড্ডি। (বিড়বিড় করে)
আহিলঃ কি বিড়বিড় করছো?

অরিনঃ আপনাকে কেনো ভয় পাবো? আপনি টিকটিকি নাকি তেলাপোকা? (ভ্রু কুচকে)
আহিলঃ ওহ আচ্ছা তুমি তাহলে টিকটিকি আর তেলাপোকা ভয় পাও। (ডেভিল মার্কা হাসি দিয়ে)
অরিনঃ এই রে মুখ ফসকে বেরিয়ে গেলো, অরিন সত্যি তোর পেটে কথা থাকে না। (জিহ্বায় কামড় দিয়ে)
আহিলঃ ভালোই করেছো বলে, নাহয় জানতেই পারতাম না তোমার দুর্বল পয়েন্ট। (হেসে হেসে)
অরিনঃ কাউকে ব্ল্যাকমেইল করা কোনো সুপুরুষ এর কাজ না বুঝলেন। (ভেংচি মেরে)

আহিলঃ তাই নাকি। (ভ্রু নাচিয়ে )
অরিনঃ গাড়ি থামালেন কেনো? (রেগে)
আহিলঃ সে কৈফিয়ত তোমাকে দেবো না Because, আহিল রেহমান কাউকে কৈফিয়ত দেয় না। (আঙুল উঠিয়ে)
অরিনঃ ওহ আচ্ছা।
আহিলঃ কি হলো ভয়ে চুপসে গেলে যে?

অরিনঃ ক ক কই নাতো!
আহিলঃ Very good. Any you looking so ugly .. (ভাব নিয়ে)
অরিনঃ ভালো হয়েছে। (ভেংচি মেরে)
আহিলঃ প্রেম করেছো কয়টা? (অন্যদিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ আপনাকে কেন বলবো? (ভেংচি মেরে)

আহিলঃ ভালোয় ভালোয় বলো না হলে, (রেগেমেগে)
অরিনঃ একটাও না। (ভয়ে ভয়ে)
আহিলঃ বিশ্বাস হয় না। (ভাব নিয়ে)
অরিনঃ বিশ্বাস অবিশ্বাস সম্পূর্ণ আপনার ব্যাপার। (অন্যদিকে তাকিয়ে)
আহিলঃ হুুম। দেখো জায়গাটা কতো সুন্দর। (আঙুল দিয়ে সামনে দেখিয়ে দিয়ে)
অরিনঃ Wow..! (সামনে তাকিয়ে)

অরিন অবাক হয়ে চারদিক দেখছে। আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে আছে। অরিন এতোক্ষণ খেয়াল করেনি এতো সুন্দর মনোরম দৃশ্য। অরিন আরও সামনে চলে যায়, চারদিক শুধু সবুজে ঘেরা, ছোট ছোট ঘাসফুল সাদা, হালকা হলুদ, গোলাপি রঙের পুরো মাঠ জুড়ে। মাঠের এক কোণে একটা কাঠগোলাপের গাছ। কিছু দূরে একটা ছোটো ডোবার মত। সব মিলিয়ে অসাধারণ নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্য। অরিন সবকিছু উপভোগ করছিলো তারপর সে আহিলের সামনে এসে বলে,
অরিনঃ শহরের মধ্যে এতো সুন্দর মনোরম দৃশ্য আছে আগে জানতাম না? (মুচকি হেসে)
আহিলঃ ভুল শহরের বাইরে। (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ মানে? (অবাক হয়ে)

আহিলঃ মানে হলো সবাই সোজা রাস্তায় গিয়েছে আর আমি গাড়ি ঘুরিয়ে শর্টকাটে এসেছি। (বাঁকা হাসি দিয়ে)
অরিনঃ এই লোকের আবার কোনো কু মতলব নেই তো? (শাড়ি ঠিক করে)
আহিলঃ নির্ভয়ে থাকো আমার দ্বারা তোমার কোনো ক্ষতি হবে না। (আশ্বাস দিয়ে)
অরিনঃ বাকিও রাখেননি। (মনে মনে)

আহিলঃ সেটা তোমার জন্যই হয়েছে। (মুচকি হেসে)
অরিনঃ এমা এ দেখি আমার মনের কথা বলে দিলো, (বিড়বিড় করে)
আহিলঃ এ আর এমন কি? (পকেটে হাত রেখে)
অরিনঃ আমি বাসায় যাবো। (করুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে)
আহিলঃ হুম অবশ্যই পৌঁছে দেবো। সুষ্ঠু ভাবে দায়িত্ব পালন করা আহিল রেহমান খুব ভালো জানে। (বাঁকা হাসি দিয়ে)
অরিনঃ তাহলে চলুন না, এমনিতেই সন্ধ্যা হয়ে আসছে। (রেগেমেগে)

আহিলঃ কি আর করার চলো কিন্তু, (থেমে গিয়ে)
অরিনঃ কিন্তু কি? (রেগে)
আহিলঃ তোমার চুলের ঘ্রান কিন্তু খুব সুন্দর। (চোখ টিপ মেরে)
অরিনঃ এ তো দেখি ভারি লুচু। (মনে মনে)

আহিলঃ কিছু বললে?
অরিনঃ না। চলুন,
অরিন আর আহিল গাড়িতে উঠে আহিল গাড়ি স্টার্ট দেয়। আহিল গাড়ি চালাচ্ছে অরিন চুপ করে বসে আছে। আহিল কিছুক্ষণ পর অরিনের দিকে তাকায় অরিন ততক্ষণে ঘুমিয়ে পড়েছে। অরিনের মুখের ওপর ছোটো ছোটো চুল এসে পড়ে। আহিল সেই হাত দিয়ে চুল সরিয়ে কানে গুঁজে দেয়। আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে গাড়ি চালানোতে মনোযোগ দেয়। কিছু সময়ের মধ্যে আহিল চলে আসে অরিনের বাসায়। আহিল অরিনকে ধাক্কা দেয় অরিন হুড়মুড় করে উঠে পড়ে। আহিল অরিনকে বলে,
আহিলঃ নামো,

অরিনঃ নামো মানে?
আহিলঃ তোমার বাসায় চলে এসছি নাকি গাড়িতে থাকার শখ জেগেছে।
অরিনঃ নামছি, (ভেংচি মেরে)

অরিন গাড়ি থেকে নেমে সোজা বাসায় চলে যায় একবারও আহিলের দিকে ফিরে তাকায়নি। আহিল অরিনের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে গাড়ি নিয়ে চলে যায়। অরিন বাসায় আসে তার বাবা আর ভাই বসে বসে কথা বলছে বাসায় অনেক গেষ্ট। সবাই হৈ~হুল্লোড় করছে। অরিনের বাবা অরিনকে দেখে বলে,
বাবাইঃ আহিল কোথায় অরিন? (অরিনের দিকে তাকিয়ে)

অরিনঃ কি জানি? (মাথা নেড়ে)
বাবাইঃ কি জানি মানে? তুমি তাকে বাসায় নিয়ে আসোনি কেন? (গম্ভীর কণ্ঠে)
অরিনঃ আসলে বাবাই, চোখে অনেক ঘুম ছিলো তাই বলতে ভুলে গেছি। (হাই তুলে)
বাবাইঃ এটা কেনো কথা হলো? (রেগে)

তায়িফঃ তোমার মেয়ে তো একটা মাথামোটা। (হাসতে হাসতে)
অরিনঃ কি বললে ভাইয়া? (চোখ রাঙিয়ে)
তায়িফঃ না আমি কিছু বলতে পারি? (মুখ চেপে)
অরিনঃ দাও টাকা দাও? (হাত বাড়িয়ে)

তায়িফঃ আবার কিসের টাকা? (অবাক হয়ে)
অরিনঃ শপিং করবো, কাল না গায়ে হলুদের ফাংশন। (ভ্রু কুচকে)
তায়িফঃ না দিবো না। (মাথা নেড়ে)
অরিনঃ ও ভাইয়া ও ভাইয়ারে তুই অপরাধী রে,
আমার শপিংয়ের টাকা তুই দিলি না রে,

একটা সময় তোরে আমার ভাই ভাবিতাম, (গানের সুরে)
তায়িফঃ থাম থাম, দিচ্ছি। (কান চেপে ধরে)
অরিনঃ আগে দিলেই পারতে তাহলে আমার এতো কষ্ট করে গান গাওয়া লাগতো না। (মুচকি হেসে )
তায়িফঃ যা ফ্রেশ হয়ে আয়।

অরিনঃ যাচ্ছি।
অরিন রুমে চলে আসে। দরজা লাগাতে গিয়ে নিজের সাথে ধাক্কা লাগে। আর আহিল যেখানে আঁচড় কেটেছিলো সেখানে ব্যাথা অনুভব হয়। অরিন কোনোরকম ফ্রেশ হয়ে রুমে এসে মলম লাগায় আর বলে,

অরিনঃ সালা বদের হাড্ডি, সাদা গন্ডার, কোয়ালা তোকে আমি দেখে নেবো। দেখিস তোর কি করি? (রেগেমেগে)
তারপর রাতের ডিনার করে অরিন ঘুমিয়ে পড়ে। সকাল সকাল মায়ের ডাকে ঘুম ভেঙে যায়। তারপর উঠে তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে নাস্তা সেরে রেডি হয়ে নেয় অরিন। আজকে অরিন হলুদ আর বেগুনি রঙের লেহেঙ্গা পড়েছে। লেহেঙ্গা টির ঘাগড়া উপর দিয়ে হলুদ আর নিচে বেগুনি সাথে মেচিং কালার স্টোন দিয়ে কাজ করা। ব্লাউজে থ্রি কোয়ার্টার হাতা, সাথে ভারি স্টোনের কাজ করা। আর হালকা হলুদ ওড়না নেটের তার ওপর হলুদ স্টোন বসানো।

কানে বড় ঝুমকা, দুহাত ভর্তি হলুদ রেশমি চুরি, চুল বেনি করে তার উপর হলুদ ফুল গুঁজে দেয়া। চোখে গাঢ় কাজল আর ঠোঁটে বেগুনি রঙের লিপস্টিক। অরিন রেডি হয়ে নিচে যায়। তারপর হলুদের ডালা নিয়ে গাড়িতে ওঠে সাথে আরো ৪ টি গাড়ি। সবাই অনেক আনন্দ করে গাড়িতে। কিছুক্ষণ পর গাড়ি এসে ফারিনদের বাসার সামনে থামে।
পুরো বাড়ি খুব সুন্দর করে ডেকোরেট করা। বাড়ির ছাঁদে সব আয়োজন করা হয়েছে। অরিন ছাঁদে উঠতে নিবে আর তখনি,


পর্ব ৭

অরিন সিড়ি দিয়ে দৌড়ে উঠছে আর তখনি কারো সাথে জোরেশোরে ধাক্কা খায়। অরিন উল্টে পড়ে যেতে নিলে সেই অচেনা হাত অরিনের হাত খপাৎ করে ধরে ফেলে। অরিন সামনে তাকিয়ে দেখে সে অচেনা মানুষ আর কেউ নয় আহিল। আহিল এতো জোরে অরিনের হাত ধরে যে সেই চাপে অরিনের হাতের চুরি ভেঙে যায়। আহিল অরিনের হাত ধরে হেঁচকা টানে নিজের কাছে নিয়ে আসে। আহিল অরিনের চোখে চোখ রেখে বলে,
আহিলঃ দেখে চলতে পারো না? (রাগী সুরে)
অরিনঃ Same… (মুখ বাকিয়ে)

আহিলঃ What? (রাগে কটমট করে)
অরিনঃ আমার মাথা আপনার মুন্ডু। আমার হাত ছাড়ুন! (ভেংচি মেরে)
আহিলঃ What the…… (বলতে গিয়ে থেমে যায় সাজিদের ডাকে)
তখনি সাজিদ এসে আহিলকে ডাক দেয়। আহিল কথা বলতে যেয়ে থেমে যায়। সাজিদ অরিনের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিয়ে আহিলকে বলে,
সাজিদঃ ভাই, আঙ্কেল ডাকছে, (আহিলের দিকে তাকিয়ে)

আহিলঃ হুম, (মাথা নেড়ে)
আহিল অরিনের দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
আহিলঃ দোষ করে স্বীকার করার নাম নেই? তোমাকে তো পরে দেখে নেবো। (ভ্রু কুঁচকে)
অরিনঃ পরে দেখে নেবো। (ভেংচি মেরে)

আহিল অরিনের হাত ছেড়ে দিয়ে চলে যায়। সাজিদ অরিনের সামনে দাড়িয়ে যায়। অরিন রাগী লুকে সাজিদের দিকে তাকালেও সাজিদ মুচকি হেসে অরিনকে বলে,
সাজিদঃ Hello miss Mafiya Orin. (মুচকি হেসে)
অরিনঃ Who is Mafiya Orin? My name is Rafiya orin.. (রেগেমেগে)
সাজিদঃ Oh yeah, How are you? (অবাক হয়ে)
অরিনঃ Very very fine. (দাঁত বের করে)

সাজিদঃ Very good. আপনার বেষ্টু কোথায়? তাকে তো দেখছি না, (এদিক সেদিক তাকিয়ে)
অরিনঃ রিম্পি? (অবাক হয়ে)
সাজিদঃ হ্যাঁ হ্যাঁ সেই, (মাথা নেড়ে)

অরিনঃ রিম্পি আসতে পারেনি আজকে একটা কাজের জন্য কিন্তু রাতে আসবে বিয়েতে। আপনি ওর কথা জিজ্ঞেস করছেন কেনো? রিম্পি আমার বেষ্টু সেটা আপনি জানলেন কি করে? (সন্দেহের দৃষ্টিতে)
সাজিদঃ এমনি আর সেটা আপনার না জানলেও চলবে। চলুন সবাই অপেক্ষা করছে। (ইশারা করে)

অরিন বলতে গিয়ে থেমে যায় তারপর সাজিদের পেছনে পেছনে ছাঁদে যায়। ছাঁদের এককোণে হলুদের স্টেজ আর অন্যান্য কোণে খাবারের টেবিল রাখা এক সাইডে সেলফি তোলার জন্য সেলফি কর্ণার। পুরো ছাঁদ ফুল দিয়ে সাজানো। ফারিন হলুদ স্টেজে বসে আছে দুজন মেয়ে ফারিনের দুই হাতে মেহেদি পড়িয়ে দিচ্ছে। অরিন দৌড়ে গিয়ে ফারিনকে জড়িয়ে ধরে,
অরিনঃ কেমন আছো ভাবি? (জড়িয়ে ধরে)
ফারিন ~ ভালো আছি। আমার ননদীনি কেমন আছে? (অরিনের গাল টেনে)

অরিনঃ অনেক ভালো। তোমাকে পুরোপুরি হলুদ পরীর মতো লাগছে। (ফারিনের গালে হাত রেখে)
ফারিন ~ তাই বুঝি। (মুচকি হেসে)
অরিনঃ দেখতে হবে না ভাবি টা কার। (ভাব নিয়ে)
তখনই আহিল চলে আসে সেখানে। আহিল অরিনের কথা শুনে দুহাত বেধে বাঁকা হাসি দিয়ে অরিনকে বলে,
আহিলঃ একদম ভুল কথা! (বাঁকা হাসি দিয়ে)

অরিনঃ তাহলে সঠিক কথাটা বলে আমাকে উদ্ধার করুন। (মুখ বাকিয়ে)
আহিলঃ সঠিক কথা হলো। দেখতে হবে না বোনটা কার। (ফারিনের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে)
অরিনঃ আপনার বোন ছিলো এখন আমার ভাবি। (মুখ ফিরিয়ে)

আহিলঃ আমার বোন আগেও ছিলো, এখনো আছে পরেও থাকবে এর আগে পিছে কার কি হয় বা না হয় সেটা আমার দেখার বিষয় নয়। (ভেংচি মেরে)
আহিল অরিনের সামনে বসে। অরিন ভেংচি মারে আহিলের দিকে তাকিয়ে। আহিল সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে অরিনের দিকে তাকিয়ে ফ্লায়িং কিস দেয়। অরিন ঠোঁট কামড়ে বড় বড় চোখে আহিলের দিকে তাকায়। আহিল চোখ ঘুরিয়ে নেয়। ফারিনের দুহাতে মেহেদী পড়ানো শেষ। হলুদ লাগানোর পর্ব শুরু। আহিল সবার আগে ফারিনকে হলুদ লাগায় তারপর ধীরে ধীরে সবাই ফারিনকে হলুদ লাগায়। অরিন তাড়াতাড়ি করে সব পর্ব শেষ করে বাসায় আসে। এর মধ্যে আহিলের সাথে অরিনের দেখা হয়নি। অরিন বাসায় এসে তাড়াতাড়ি রেডি হতে চলে যায়।

তায়িফের গায়ে হলুদের পর্ব শেষ। তাই তায়িফকে রেডি হওয়ার জন্য জেন্টস পার্লারে পাঠানো হয়েছে। সবাই কনের বাড়িতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। অরিন ফ্রেশ হয়ে রুমে আসে তারপর ব্রাইট রেড কালারের একটা লেহেঙ্গা পড়ে। নেটের উপর রেড স্টোনের চমৎকার ডিজাইন করা। ব্রাইট রেডের উপর হালকা গোল্ডেন আর রেড স্টোনের কাজ করা। ওড়না পাতলা টিস্যু জর্জেটের ওপর রেড স্টোন বসানো। অরিন লেহেঙ্গা পড়ে চুল সামনে দিয়ে ফ্রান্স বেনী করে বেনীর মধ্যে সাদা সার্কেল স্টোনের ক্লিপ পড়ে আর চুল গুলো ছেড়ে রাখে। চোখে গাঢ় কাজল আর ঠোঁটে গাঢ় লাল লিপস্টিক দেয় গালে হালকা গোলাপি ব্লাশিং দেয়।

কানে রেড কালার স্টোনের কানের দুল আর হাতে ব্রেসলেট পড়ে লাল স্টোনের। ওড়না এক পাশে এনে তারপর নিজেকে কিছুক্ষন আয়নাতে দেখে কয়েকটা সেলফি তুলে রুম থেকে বের হয়ে তায়িফের কাছে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে রিম্পি ও চলে আসে।
সবাই রেডি হয়ে গাড়ি তে উঠে পড়েছে। অরিন আর রিম্পি ও সবার সাথে গাড়িতে উঠে পড়ে। সব মিলিয়ে ১২ টি গাড়ি যাচ্ছে। ফারিন আর তায়িফের বিয়ের এ্যারেন্জ্ঞ করা হয়েছে শহরের নামকরা চাইনিজ রেস্টুরেন্টে। আর সবটা করেছে আহিল।

কিছুক্ষণের মধ্যে গাড়ি চলে আসে রেস্টুরেন্টে। সব গাড়ি পার্কিং লনে থামে। গাড়ি পার্ক করে তারপর সবাই একে একে গাড়ি থেকে বের হয়। অরিন আর রিম্পি ও সবার সাথে বের হয়। রেস্টুরেন্টের গেইটে সবাইকে আমন্ত্রন জানাচ্ছে আহিল আর ফারিনের বাবা। অরিনের চোখ আটকে যায় আহিলকে দেখে। আহিলকে দেখে অরিন পুরোপুরি টাস্কি খেয়ে যায়। কারণ আহিল রেড কালার কোট আর প্যান্ট পড়েছে সাথে ওয়াইট শার্ট, ব্ল্যাক সু পকেটে ব্লু রুমাল ট্রাই এঙ্গেল করে রাখা। চুল জেল দিয়ে স্পাইক করা। আহিল এমনিতেই ফর্সা তার সাথে এই গেট আপ পুরোপুরি মানিয়েছে। যে কেউ প্রথম দেখলে ফিদা হয়ে যাবে।
অরিন আহিলের সামনে আসে। অরিন আহিলের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আহিল বাঁকা হাসি দিয়ে আঙুলে তুড়ি বাজায় আর সাথে সাথে অরিনের ঘোর কেটে যায়। আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলে,

আহিলঃ Welcome, . (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ Most welcome. (হাসার ছলে ভেংচি মেরে)
অরিন ভেতরে চলে আসে। অরিন সামনে এসে আবারও পেছনে ফিরে তাকায় আহিলের দিকে। তখনই রিম্পি ধাক্কা দিয়ে অরিনকে বলে,
রিম্পিঃ কি রে অরিন ওভাবে ড্যাব ড্যাব করে কি দেখছিস ওদিকে? (মুচকি হেসে)
অরিনঃ খুঁজছি? (কপালে হাত উঠিয়ে)

রিম্পিঃ কাকে খুঁজছিস? (অবাক হয়ে)
অরিনঃ ঐ খারুচটার বন্ধুটাকে, যে তোকে খুঁজছিলো। (দুষ্টুমি করে)
রিম্পিঃ চল ভুতনি। (ভেংচি মেরে)
অরিনঃ হ্যা চল পেত্নী। (হাসতে হাসতে)
সামনে যেতেই সাজিদ হাজির। সাজিদ দূর থেকেই দুজনকে দেখছিলো। সাজিদ দুজনের দিকে তাকিয়ে বলে,
সাজিদঃ Hey guise, What’s up? (হেসে হেসে)
অরিনঃ Seven up. (ভেংচি মেরে)

সাজিদঃ What? Anyway, Hello Miiss Mafiya. (রাগানোর জন্য)
অরিনঃ My name is Rafiya. (রেগে)
সাজিদঃ সে যাই হোক আমার কাছে আপনি মাফিয়া No রাফিয়া। (হেসে)
অরিনঃ বদের হাড্ডি, (বিড়বিড় করে)
সাজিদঃ Hello Miss Rimpi. (রিম্পির দিকে তাকিয়ে)
রিম্পিঃ Hi. (হেসে)

সাজিদঃ How are you? (মুচকি হেসে)
রিম্পিঃ Fine. and you? (হেসে)
সাজিদঃ Also fine. (হেসে)
অরিন দুজনের কথোপকথন শুনে ক্ষেপে যায়। অরিন রিম্পির দিকে তাকিয়ে ভেংচি মেরে সামনে চলে। অরিনের পেছনে পেছনে রিম্পিও যায়। সাজিদ ওদের দিকে তাকিয়ে বলে,

সাজিদঃ যে করেই হোক, রাফিয়াকে ভাইয়ের বউ বানাতে হবে। শুধু মাত্র রাফিয়া পারবে ভাইয়ের সব কষ্ট ভুলিয়ে দিতে। (সৌজন্য হাসি হেসে)
অরিন আর রিম্পি স্টেজে যায় তায়িফ আর ফারিনের কাছে। দুজন চুপচাপ বসে আছে। অরিন গিয়ে দুজনের মাঝখানে বসে পড়ে আর রিম্পির হাতে ফোন দেয় সেলফি তোলার জন্য। অরিন এক এক এ্যাঙ্গেলে সেলফি নিচ্ছে সাথে রিম্পিও। তখনই সেখানে,


পর্ব ৮

তখনই সেখানে আহিল আসে হাতে করে মাইক নিয়ে। আহিল স্টেজে উঠে ফারিনের আর তায়িফের হাত ধরে নিজের পাশে দাঁড় করায় আর মাইকে বলে,
~ আজ শহরের সবচেয়ে বড় ব্যাবসায়ী ও কোটিপতি আহিল রেহমান মানে আমার একমাত্র বোনের বিয়ে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইয়াসির আরাফাত সাহেবের একমাত্র ছেলে তায়িফ আরাফাতের সাথে বিয়ে হবে কিছুক্ষণের মধ্যে। সবাই ওদের জন্য দোয়া করবেন। ধন্যবাদ।

আহিল কথা শেষ করে যেতে নিলে ফারিন আহিলের হাত ধরে। আহিল ফারিনের দিকে তাকায়, আহিলের চোখের কোণে বিন্দু বিন্দু পানি দানা বেঁধে চিকচিক করছে। ফারিন আহিলকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে, আহিল ফারিনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে,

আহিলঃ কষ্ট শুধু একটাই ফুয়াদ আজকে আমাদের মাঝে নেই। অনেক মিস করি ওকে। আজ ফুয়াদ থাকলে, (কাঁপা কাঁপা কন্ঠে)
আহিল কথাটা শেষ করতে পারলো না তার আগেই ফারনকে ছেড়ে দিয়ে সোজা চলে যায়। ছেলেরা সহজে কাঁদে না যখন কষ্টের মাত্রা সীমা ছাড়িয়ে যায় তখন আর নিজেকে ধরে রাখা দায় হয়ে পড়ে। আহিলের ও ঠিক তেমন। অরিন এতক্ষণ ওদের সব কথা শুনছিলো। আহিলের চলে যাওয়া দেখে অরিনও আহিলের পেছনে পেছনে যায়,
আহিল রেস্টুরেন্টের একবারে শেষের দিকের করিডোরে চলে যায়। আহিল চোখ মুছে দাঁতে দাঁত চেপে বলতে থাকে,

আহিলঃ এক পাহাড় কষ্টের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে তোরা চলে গেলি। তোরা সবাই সার্থ্যপর, সবাই (রেলিঙের সাথে হাত দিয়ে জোরে ঘুষি দিয়ে)
অরিন পেছন দাঁড়িয়ে আহিলের কথা শুনেছিলো। অরিন আস্তে করে আহিলকে ডাক দিয়ে বলে,
অরিনঃ আপনি কাঁদছেন? (মন খারাপ করে)

আহিল ঘুরে পেছনে তাকিয়ে দেখে অরিন দাঁড়িয়ে আছে। আহিল দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে বলে,
আহিলঃ তুমি এখানে কি করছো? (রাগী সুরে)
অরিনঃ আপনাকে ফলো করতে করতে এখানে এসেছি। (চোখ নিচে নামিয়ে )
আহিলঃ কেনো? (ঘুরে সামনে তাকিয়ে)
অরিনঃ আপনি ফুয়াদ ভাইয়াকে খুব ভালোবাসতেন তাই না। (আহিলের সামনে গিয়ে
আহিলঃ…………………………., (নিশ্চুপ হয়ে)

অরিনঃ আচ্ছা, তিনি কীভাবে মারা গেলেন? (কৌতুহলবশত)
কথাটা শুনে আহিলের সেই এ্যাক্সিডেন্টের কথা মনে পড়ে যায়। সাথে সাথে আহিলের চোখ রক্তবর্ণ ধারণ করে। আহিলের চোখ অসম্ভব রকমের লাল হয়ে গেছে তার সাথে পুরো মুখ। অরিন অন্যদিকে তাকিয়ে কথা বলছিলো তাই আহিলের ভয়ংকর রুপ টা খেয়াল করেনি। আহিল খুব কষ্টে চোখ বন্ধ করে আর ফুয়াদের মুখ ভেসে ওঠে। আহিল চোখ খুলে অরিনকে হেঁচকা টান দিয়ে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে। অরিন অনেকটা ভয় পেয়ে যায়। অরিন আহিলের মুখের দিকে তাকিয়ে ভয়ে ঢোক গিলে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলে,
অরিনঃ I’m so sorry.

আহিলঃ আমাকে শান্ত দেখতে তোমার মোটেও ভালো লাগে না তাই না। (দাঁতে দাঁত চেপে)
অরিনঃ আমি বুঝতে পারিনি, বিশ্বাস করুন, (ভয়ে ভয়ে)
অরিনের কথা শেষ করার আগেই আহিল অরিনের ঠোঁটে ঠোঁট বসিয়ে দেয়। অরিন ভয়ে চুপসে যায় আর জমে যায়। আহিল তার কাজ করছে। অন্যদিকে রিম্পি খুঁজছে অরিনকে। খুঁজতে খুঁজতে করিডোরে চলে আসে। আহিল পায়ের শব্দ শুনতে পায় আর তখনই অরিনকে ছেড়ে দেয়। অরিনের চোখ থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে। আহিল অরিনকে ছেড়ে যেতে চলে যেতে নেয়। এক কদম সামনে গিয়ে আবারও ঘুরে তাকায় অরিনের দিকে। অরিন সেখানেই চুপচাপ দাড়িয়ে আছে। আহিল অরিনের সামনে এসে অরিনের দুচোখের পানি মুছে দিয়ে বলে,
~ কখনো আমার সামনে উল্টো পাল্টা করলে ফল এমনই হবে Mind it.

অরিন রাগী দৃষ্টিতে আহিলের দিকে তাকায় এবং। আহিল সেদিকে তোয়াক্কা না করে হনহনিয়ে চলে যায়। রিম্পিও সেখানে চলে আসে, রিম্পির সামনে দিয়ে আহিল চলে যায়। রিম্পি সামনে তাকিয়ে দেখে অরিন দেয়াল ঠেসে দাঁড়িয়ে আছে। রিম্পি দৌড়ে অরিনের কাছে যায় আর বলে,
রিম্পিঃ এই অরিন কি হয়েছো তোর? কাঁদছিস কেনো? (অরিনের কাঁধে হাত রেখে)
অরিনঃ……………………….. (চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে)
রিম্পিঃ আরে বল না… (অরিনকে ধাক্কা দিয়ে)
অরিনঃ মানুষকে সাহায্য করাটাও আজকাল দায় হয়ে পড়েছে। (চোখ মুছে)
রিম্পিঃ মানে? (না বুঝে)

অরিনঃ আমি চেয়েছিলাম ওনার মনের কথা গুলো শুনবো তাহলে ওনার মনের কষ্টটা হালকা হবে কিন্তু তার বদলে, (রেগেমেগে)
রিম্পিঃ কিসব বলছিস? বুঝিয়ে বল প্লিজ, (অরিনের হাত ধরে)
অরিনঃ কিছু না। চল, (সামনে গিয়ে)
রিম্পিঃ ওকে। (মাথা নেড়ে)

এদিকে কাজী চলে এসেছে। সবাই কনে আর বরের ছবি তুলছে। আহিল ফারিনের পাশে বসে আছে অরিন সেখানে দাঁড়ানোর সাথে সাথে তায়িফ অরিনকে নিজের পাশে বসতে বলে। অরিন চুপচাপ তায়িফের পাশে বসে পড়ে। ফারিনের পাশের সোফায় ফারিনের বাবা আর তায়িফের পাশের সোফায় বসে তায়িফের বাবা। সামনে বসা কাজী।
বিয়ে পড়ানো শুরু হয়। আহিল অরিনের দিকে একপলক তাকিয়ে আবার অন্যদিকে তাকায়। অরিন আহিলের দিকে তাকিয়ে ভেংচি মারে। বিয়ে পড়ানো শেষ হয় আহিল উঠে তায়িফ আর ফারিনের হাত একসাথে মিলিয়ে দেয় আর পকেট থেকে একটা চাবি বের করে তায়িফের হাতে দেয় আর বলে,
আহিলঃ আমার পক্ষ থেকে এই সামান্য উপহার Marti Suzuki Car specially অর্ডার করে বানানো আর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ১০ তলার একটি ফ্ল্যাট আর বসুন্ধরায় ৭ তলার একটি শপিং মল। খেয়াল রেখো ফারিন যেনো কখনো কষ্ট না পায়।
তায়িফঃ জি ভাইয়া।

আহিল গেস্টদের আপ্যায়ন করতে চলে যায়। অরিন সবার সাথে কথা বলছে। আহিল অরিনের পাশে গিয়ে ফিসফিস করে বলে,
আহিলঃ বেশি বাড়াবাড়ি করো না তাহলে তো বুঝতেই পারছো। (অরিনের চোখে চোখ রেখে)
অরিনঃ কি করলাম? (ভ্রু কুচকে)

আহিলঃ সবার সাথে পরিচিত হওয়ার দরকার নেই। যাও চুপচাপ বসো ওখানে গিয়ে। (সামনে ইশারা করে)
অরিনঃ যাবোওওওওওওওও না। (মুখ ফিরিয়ে)
আহিলঃ বুঝে বলছো? (ভ্রু কুচকে)
অরিনঃ না বোঝার কি আছে। (ভ্রু নাচিয়ে)

আহিলঃ আমাকে না বলার সাহস কিভাবে পেলে ? (দাঁতে দাঁত চেপে)
অরিনঃ সাদা গন্ডার। (ভয়ে ভয়ে)
আহিলঃ What? (রেগেমেগে)
অরিনঃ কিছু না। এর শাস্তি তুমি পাবে, অপেক্ষা করো। (আঙুল উঠিয়ে)
আহিল চলে যায়। অরিন ভয়ে ঢোক গিলে বলে,

অরিনঃ এই রে ক্ষেপিয়ে দিলাম। এবার আমার কি হব্বে? না না একদম একা থাকা থাকা যাবে না। (ভয়ে ভয়ে)
কি হবে আহিল আর অরিনের? দুজন কি এভাবেই যুদ্ধ করে যাবে নাকি মিল হবে তাদের এক পবিত্র বন্ধনে?


পর্ব ৯

সবাই খাওয়া দাওয়া নিয়ে বিজি। রিম্পি সাজিদের সাথে বকবক করে যাচ্ছে, অরিন এসব মোটেই পছন্দ করে না। অরিন একা একা ঘুরছে তখনই একটা পিচ্চি বাবু অরিনকে ডাক দেয়,
বাবু ~ আন্টি শোনো, (অরিনের লেহেঙ্গা ধরে টেনে)
অরিনঃ কাকে ডাকছো বাবু? (গালে হাত রেখে)
বাবু ~ তোমাকে, (আঙুল দিয়ে দেখিয়ে)
অরিনঃ আমাকে? (অবাক হয়ে)
বাবু ~ হ্যাঁ, (মাথা নেড়ে)

অরিনঃ বলো বেবি কেনো ডাকছো, (বাবুর সামনে বসে)
বাবু ~ তোমাকে মাম্মা ডাকছে? (অরিনের হাত ধরে)
অরিনঃ তোমার মাম্মাকে আমি কি চিনি? (মুচকি হেসে )
বাবু ~ হ্যাঁ, আমার মাম্মা তোমাকে চেনে। (হেসে)

অরিনঃ এই মাম্মা টা কে? (মনে মনে)
বাবু ~ কি হলো আন্টি, (ধাক্কা দিয়ে)
অরিনঃ তোমার মাম্মা কোথায় বেবি? (গাল টেনে)
বাবু ~ হোটেল রুমে! (হেসে)
অরিনঃ কোথায় ? (ভ্রু কুচকে)

বাবু ~ সামনে গিয়ে ডান দিকে তারপর হাতের বাম দিকে মোড় নিয়ে সবার শেষে যে রুমটা সেখানে মাম্মা তোমার জন্য অপেক্ষা করছে? (ইশারা করে)
অরিনঃ আচ্ছা ঠিক আছে।
অরিন কোনো কিছু না ভেবেই বাবুর কথা শুনে ওর বলা কথা মত সেখানে যায়। আহিল পুরো হোটেল বুকিং করেছে তাই পুরো হোটেল খালি শুধু ওয়েডিং সেকশন খোলা। অরিন হাটতে হাটতে রুমের সামনে চলে আসে। তারপর দরজায় নক করে,
অরিনঃ কেউ আছেন?

কয়েকবার টোকা দেওয়ার পরে অরিন আরো জোরে ধাক্কা দেয় দরজায় আর সাথে সাথে দরজা খুলে যায়। অরিন ভেতরে উঁকি দেয়। কাউকে না দেখে অরিন ভেতরে চলে আসে।
~ পিচ্চি টা হয়তো আমাকে বোকা বানিয়েছে। যাক ভালোই হলো। আয়না তো আছে। সাজুগুজু ঠিক করে আবার যাওয়া যাবে।
অরিন নাচতে নাচতে ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে দাড়িয়ে যায়। আয়নার দিকে তাকিয়ে জোরে চিৎকার দেয়,

কারণ, আহিল দরজা লক করে। দরজার সাথে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছে এক হাত পকেটে রেখে অন্য হাত দিয়ে টাই ঘুড়াতে ঘুড়াতে অরিনের দিকে তাকিয়ে আছে, ডেভিল মার্কা হাসি দিয়ে, সেটাই অরিন দেখতে পায়। আহিল তার কোট খুলে বিছানায় ফেলে রেখেছে। আহিল বলে,
আহিল~ করো করো আরো জোরে চিৎকার করো কেউ শুনবে না কারণ রুম সাউন্ড প্রুফ। (বাঁকা হাসি দিয়ে)
অরিনঃ এই আপনি এখানে? (চিৎকার করে)
আহিলঃ হ্যাঁ। (মাথা নেড়ে)

অরিনঃ আমি যাবো সরুন। (ভয়ে ভয়ে)
আহিলঃ রুমে এসেছো নিজ ইচ্ছায় আর যাবে আমার ইচ্ছায়। (ডেভিল মার্কা হাসি দিয়ে)
অরিনঃ আমাকে যেতে দিন প্লিজ, (ভয়ে ভয়ে)
আহিলঃ বদলে আমি কি পাবো? (বাঁকা হাসি দিয়ে)
অরিনঃ আপনাকে, (ভাবতে ভাবতে)

আহিলঃ হ্যাঁ, (মাথা নেড়ে)
অরিনঃ কিটক্যাট চকলেটের ডিব্বা আর আমার জমানো টাকা আর হচ্ছে আমার কালেক্ট করা বাটারফ্লাই স্টিকার। (হেসে)
অরিনের কথা শুনে আহিল হাসবে না কাঁদবে সেটাই বুঝতে পারছে না। আহিল কোনো মতে নিজেকে কন্ট্রোল করে বলে,
আহিলঃ তোমার কি মনে হয় আমি বাচ্চা? (রেগে)

অরিনঃ আপনি বাচ্চা হতে যাবেন কেনো, (ভেংচি মেরে)
আহিলঃ কত টাকা আছে তোমার কাছে? (হেসে)
অরিনঃ পাঁচ হাজার তিনশো পঁচিশ টাকা। (গুনে গুনে)

আহিল আর হাসি থামিয়ে রাখতে পারে না। অরিন আহিলকে হাসতে দেখে অবাক হয়ে যায়। আহিল এমনিতেই সেই হ্যান্ডসাম তার উপর ক্রাশ খাওয়ার মতো হাসি। অরিন ফিদা হয়ে যায় আহিলের হাসি দেখে। আহিল কোনো মতে হাসি থামিয়ে বলে,
আহিলঃ আমার ব্যাংক ব্যালেন্স জানো? (হাসি থামিয়ে)
অরিনঃ আমি কি করে জানবো? (মন খারাপ করে)

আহিলঃ দুইশো কোটি টাকারও বেশি। আর তোমাকে ছেড়ে দেবো পাঁচ হাজার তিনশো পঁচিশ টাকা নিয়ে। হাসালে, (তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে)
অরিনঃ প্লিজ যেতে দিন, (হাত জোর করে)
আহিলঃ আমার কাজ শেষ হলেই যেতে দেবো। (দুষ্ট হাসি হেসে)
অরিনঃ মানে? (ঢোক গিলে)
আহিল অরিনের দিকে এগুতে থাকে অরিন ভয় পেয়ে পিছিয়ে যায়। আহিল টাই খুলে ফেলে দেয়। অরিন কান্না করা শুরু করে দেয়।


পর্ব ১০

আহিল ধীরে ধীরে অরিনের দিকে এগুতে থাকে। ভয়ে অরিনের গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাওয়ার পালা। অরিন পিছিয়ে যেতে যেতে হঠাৎ দাঁড়িয়ে যায় কারণ পেছনে দেয়াল। আহিল বাঁকা হাসি দিয়ে বলে,
আহিলঃ আমাকে যেনো কি বলছিলে? (বাঁকা হাসি দিয়ে)
অরিনঃ ক ক কই নাতো, কিচ্ছু বলিনি। (ঢোক গিলে)

আহিলঃ না আমার স্পষ্ট মনে আছে, তুমি কিছু একটা বলছিলে। (কপালে আঙুল বুলাতে বুলাতে)
অরিনঃ আমাকে ছেড়ে দিন প্লিজ, আর কখনো এমন করবো না। (হাত জোর করে কাঁদো কাঁদো সুরে)
আহিলঃ হুম আর যাতে না করার সাহস করো, সেই ব্যবস্থাই করবো আজকে। (ভ্রু কুচকে)
অরিনঃ এতো মানু্ষ থাকতে আপনি আমার পিছু নিয়েছেন কেনো? (কেঁদে কেঁদে)
আহিলঃ আহিল রেহমান কাউকে কৈফিয়ত দেয় না। (ধমক দিয়ে)

আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে শার্টের বোতাম খোলা শুরু করে। আহিল অরিনের কাছে চলে এসেছে। অরিন নিজের সর্বশক্তি দিয়ে আহিলকে ধাক্কা মেরে দৌড় দেয় কিন্ত আহিল অরিনের ওড়না ধরে টান দেয়। অরিন থেমে যায়, আহিল অরিনের কাছে এসে হাত মুঁচড়ে ধরে। অরিন ব্যাথায় কুকিয়ে ওঠে,
আহিলঃ তোমাকে যেটা মানা করি সেটাই তুমি বেশি করে করো? Why? (দাঁতে দাঁত চেপে)
অরিনঃ আমাকে যেতে দিন প্লিজ, (কাঁদতে কাঁদতে)

আহিলঃ সেদিনের কথা কি ভুলে গিয়েছিলে নাকি আমি বারবার তোমার কাছে আসি তুমি সেটা চাও? (রাগী কন্ঠে)
অরিনঃ আমাকে এভাবে মিথ্যা কথা বলে বোকা বানিয়ে এখানে এনেছেন তারপর এভাবে অত্যাচার করে কি নিজেকে বীরপুরুষ ভাবছেন? (রেগে)
আহিলঃ আমার রাগ বাড়ানোর চেষ্টা করো না ফল খুব খারাপ হবে, অরিন। (রেগেমেগে)
অরিনঃ একবার তো বের হই তারপর সবাইকে বলে দেবো যে আপনার ভালো চেহারার পেছনে একটা হিংস্র চেহারা আছে। (কেঁদে কেঁদে )
আহিলঃ ও আর কি কি করবে? (হেসে)
অরিনঃ আমার বাবা আর ভাই জানলে আপনাকে ছাড়বে না। (রেগে)

আহিলঃ What a funny jokes? (তাচ্ছিল্যর হাসি হেসে)
আহিল অরিনকে ঘুরিয়ে ঠাসসসসসসস করে একটা চড় মারে গালে। অরিন ছিটকে বিছানার উপর পড়ে যায়। অরিনের ফর্সা গোলাপি আভার গালে আহিলের পাঁচ আঙুলের দাগ পড়ে যায় সেই সাথে অরিনের ঠোঁট কেটে রক্ত পড়ে, অরিনের শরীর অবস হয়ে আসছে। অরিন আহিলের দিকে করুন দৃষ্টিতে তাকায়। আহিল অগ্নি দৃষ্টিতে অরিনের দিকে তাকায়, আহিল অরিনের দুই হাত চেপে ধরে বিছানার সাথে, আহিল অরিনের দিকে ঝুঁকে গেলে অরিন মুখ ফিরিয়ে নেয়, আহিল অরিনের কানে কানে বলে,

আহিলঃ Next time, আমার মুখের ওপর কথা বলার আগে দশ বার ভেবে নিও, এবার ছেড়ে দিলাম কিন্তু পরবর্তীতে আর ছাড় পাবে না। (কটমট করে)
অরিন বড় বড় চোখে আহিলের দিকে তাকায়। অরিনের চোখ ছলছল করছে। আহিল অরিনের চোখের দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে চোখ নামিয়ে সরে যায় অরিনের থেকে। আহিল উঠে গিয়ে অরিনের ওড়না ছুঁড়ে মারে অরিনের মুখে। আহিল ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে টাই পড়ে, শার্টের বোতাম লাগিয়ে কোট পড়ে নেয়। অরিন পাথর হয়ে বসে আছে। আহিল ধমকের সুরে অরিনকে বলে,

আহিলঃ কি হলো? এখনো বসে আছো কেনো? (ধমক দিয়ে)
অরিন আহিলের দিকে একপলক তাকিয়ে ওড়না পড়ে নেয়। আহিল অরিনের সামনে গিয়ে অরিনের চুলের ক্লিপ খুলে দেয় তারপর পকেট থেকে রুমাল বের করে অরিনের ঠোঁটের রক্ত মুছে দেয় আর বলে,
আহিলঃ থাপ্পড়ের দাগটা খুব সুন্দর মানিয়েছে গালে। চুল দিয়ে ঢেকে দিলাম কারণ যে কেউ দেখলে তুমি বিপদে পড়বে। দেখা হবে আবার, (অরিনের গালে হাত দিয়ে)
অরিনঃ জীবনেও না। (মনে মনে)

আহিলঃ যে কয়দিন দেখা হবে না সেই কয়দিন না হয় এই স্মৃতি টা নিয়ে থাকো। আলবিদা, (মুচকি হেসে)
আহিল মুচকি হেসে চলে যায়। অরিন ও চলে আসে কিছুক্ষণের মধ্যে। রিম্পি দৌড়ে এসে অরিনের হাত ধরে,
রিম্পিঃ এই কোথায় ছিলি? (সন্দেহ মিশ্রিত সুরে)
অরিনঃ ওয়াশরুমে, (মন খারাপ করে)

রিম্পিঃ একদম মিথ্যা কথা বলবি না। আমি বহু বার ওয়াশরুম চেক করেছি তোকে তো পাইনি। (রেগে)
অরিনঃ প্লিজ রিম্পি, (বিরক্ত হয়ে)
রিম্পিঃ আচ্ছা আহিল স্যার তোর সাথে কিছু করেনি তো? (অবাক হয়ে)
অরিনঃ Shut up Rimpi. (রেগেমেগে)
রিম্পিঃ আচ্ছা।, (ভয়ে ভয়ে)

কিছুক্ষণ পর সবাই গাড়িতে ওঠে কনেকে নিয়ে। ফারিন তার বাবা আর আহিলকে জড়িয়ে ধরে কাঁদে। আহিল ফারিনকে সান্ত্বনা দিয়ে গাড়িতে বসিয়ে দেয়। গাড়ি এসে বাসার সামনে থামে। সবাই তায়িফ আর ফারিনকে বরণ করে নেয়। অরিন সোজা রুমে চলে যায়। রিম্পি বাসায় চলে যায়। অরিন কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়ে। সকাল সকাল ঘুম ভেঙে যায় অরিনের। ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে তায়িফের রুমে যায়। তায়িফ অফিসের কাজে বাহিরে গেছে ফারিন বসে আছে খাটে। অরিন গিয়ে ফারিনের পাশে বসে,
অরিনঃ কেমন আছো ভাবি? (মুচকি হেসে)
ফারিন ~ এই বুঝি আমার কথা মনে পড়লো? (অভিমানী সুরে)

অরিনঃ আসলে কালকে খুব ক্লান্ত ছিলাম তাই আসতে পারেনি। (হালকা হেসে)
ফারিন ~ আচ্ছা এখন কেমন আছো? (অরিনের হাতে হাত রেখে)
অরিনঃ ভালো। (মাথা নেড়ে)
তখনি অরিনের মা চলে আসে। সে এসে ফারিনকে বলে,

আম্মুঃ বৌমা তুমি রেডি হয়ে নাও। (ফারিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ কেনো আম্মু? (অবাক হয়ে)
আম্মুঃ একটু পরেই ফারিনের বাবার বাড়ি থেকে মেহমান আসবে।

অরিনের মন খারাপ হয়ে যায়। কারণ, নিশ্চয়ই আহিল আসবে। অরিন চায় না সে আহিলের সামনে পড়ুক। ফারিন হালকা করে ধাক্কা দেয় অরিনকে,
ফারিন ~ কি হলো ননদিনী কোথায় হারিয়ে গেলে? (আঙুলে তুড়ি বাজিয়ে)
অরিনঃ কই? তুমি রেডি হয়ে নাও আমি আসছি। (ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে)
ফারিন ~ কোথায় যাচ্ছো? (অরিনের হাত ধরে)

অরিনঃ নাস্তা করতে। তুমি খেয়েছো? (মুচকি হেসে)
ফারিন ~ তোমাকে ছেড়েই খেয়েছি। অপেক্ষা করতে চেয়েছিলাম কিন্তু মা নিষেধ করলো। (মন খারাপ করে)
অরিনঃ সমস্যা নেই। আমি একটু দেরিতে উঠি ঘুম থেকে তাই বারণ করছেন। (মুচকি হেসে)
ফারিন ~ আচ্ছা তাহলে নাস্তা করে আসো। (হেসে)
অরিনঃ হুম। (মাথা নেড়ে)

ফারিন ~ অরিন তোমার গালে হাতের দাগ? (ইশারা করে)
অরিনঃ আসলে কাল রাতে মশা পড়েছিলো গালে তাই, (গালে হাত রেখে)
ফারিন ~ তাই বলে এতো গভীর দাগ? (চিন্তিত হয়ে)
অরিনঃ আরে তেমন কিছু না ভাবি। (জোর করে হেসে)

অরিন ডাইনিং টেবিলের সামনে গিয়ে দাড়িয়ে যায়। অরিনের আম্মু এসে নাস্তা দিয়ে যায়। অরিন খেতে থাকে, তখনই ঠোঁটে ব্যাথা অনুভব হয়। অরিনের মনে পড়ে যায়। আহিল যখন চড় মারে তখন ঠোঁট কেটে যায়। অরিন দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে।
ফারিনের বাসার মেহমান চলে আসে। ফারিনের বাবা, সাজিদ আর অন্যান্যরা এসেছে। অরিন ওদের দেখে খাবার রেখে উঠে যায়। অরিন সিড়ি দিয়ে উঠতে যাবে তখনই ফারিন অরিনকে টেনে নিয়ে যায়। অরিন ও নিরুপায় হয়ে চলে যায়। ফারিন তার বাবাকে সালাম করে,
ফারিন ~ কেমন আছো আব্বু? (পায়ে হাত দিয়ে সালাম করে)

ফারিনের বাবাঃ আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি মা। তুমি কেমন আছো? (ফারিনের মাথায় হাত দিয়ে)
ফারিন ~ ভালো আছি। সাজিদ ভাইয়া কেমন আছো? (সাজিদের দিকে তাকিয়ে)
সাজিদঃ ভালো, তুমি? (মুচকি হেসে)
ফারিন ~ ভালো, কিন্তু আহিল ভাইয়া কোথায়? (এদিক সেদিক তাকিয়ে)

আহিলের কথা শুনে অরিনের মুড অফ হয়ে যায়। অরিন আড়চোখে চারদিকে তাকিয়ে দেখে আহিল নেই। সাজিদ অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
সাজিদঃ ভাই আমেরিকাতে গেছে একটা জরুরি কাজে। কবে আসবেন তার ঠিক নেই। কালকে খুব তাড়াহুড়ো করে গেছেন তাই কাউকে বলে যেতে পারেনি। (হালকা হেসে)
ফারিন ~ ওহ আচ্ছা। (মন খারাপ করে)
সাজিদঃ মন খারাপ করো না। ভাই সেখানে গিয়ে সিম পেলে কল করবে তোমাকে। (হেসে)

সাজিদের কথা শুনে অরিন স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে। মনে হয় অনেক বড় বাঁচা বেঁচে গেছে অরিন। সাজিদ অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
সাজিদঃ কেমন আছেন মিস. মাফিয়া অরিন? (অরিনকে রাগানোর মতলবে)
অরিনঃ ভালো। আপনি? (অমনোযোগী ভাবে)
সাজিদঃ আমি আপনাকে কি যেন বললাম? (ভাবার ভান করে)
অরিনঃ হুম শুনেছি। (মাথা নেড়ে)

সাজিদঃ কি ব্যাপার? প্রতি বারা মাফিয়া ডাকলে তো তেলে বেগুনে জ্বলে উঠতো আজ কি হলো? (মনে মনে)
অরিন চলে যায় ফারিনকে ছেড়ে উপরে চলে যায়। বৌভাত ও সম্পন্ন হয়। অরিন ধীরে ধীরে আগের মতো চন্ঞ্চল হয়ে ওঠে। আগের কথাগুলো প্রায় ভুলে যায়। কেটে যায় সাত মাস।


পর্ব ১১

কেটে গেছে সাত মাস। এর মধ্যে আহিলের সাথে অরিনের না দেখা হয়েছে না কথা হয়েছে। অরিন বেশ ভালোই আছে। অরিন কলেজের জন্য বের হয় বাসা থেকে। রাস্তায় অনেক জ্যাম, তার উপর কাঠ পোড়া গরম। অরিন স্কুটিতে বসে আছে, ঘেমে একাকার হয়ে গেছে অরিন। অরিনের পাশে একটা ব্ল্যাক কালার এসি কার। অরিন গাড়িটার দিকে তাকিয়ে বলে,

অরিনঃ গাড়ির মধ্যে যে বসে আছে, কতই না শান্তিতে বসে আছে। আর আমি খোলা আকাশের নিচে সূর্য মামার অত্যাচার সহ্য করছি। শুধু তোর জন্য পিংকি, আমি ভাইয়ার সাথে গাড়িতে আসি না। (স্কুটিতে ঘুষি মেরে)
গরমে অরিনের চেহারা লাল টমেটোর মতো হয়ে গেছে। সাথে না আছে রুমাল না আছে টিস্যু। তাই ওড়না দিয়ে বার বার ঘাম মুছতে হচ্ছে অরিনের। অরিন ঘাম মুছতে মুছতে বলে,

~ কি ওড়না রে বাবা, গালে লাগালে মনে হয় গালের চামড়া উঠে যাবে। ধুর, ভালো লাগে না। এদিকে কলেজে দেরি হয়ে যাচ্ছে। (ঘড়ির দিকে তাকিয়ে)
অরিন আনমনে বকবক করে যাচ্ছে। তখনই অরিনের মুখের সামনে কেউ একজন একটা সাদা রঙের রুমাল ধরে। অরিন তার মুখের না তাকিয়ে রুমাল নিয়ে ঘাম মুছতে মুছতে বলে,

~ Many many thanks.. I wish, আপনার মনের আশা পূর্ণ হোক। (সামনের দিকে তাকিয়ে)
অরিন যেই না পাশে তাকাতে যাবে অমনি জ্যামের সিগনাল ছেড়ে দেয়। অরিন স্কুটি স্টার্ট দিয়ে আশে পাশে তাকিয়ে কাউকে দেখতে পায় না। অরিন তেমন একটা পাত্তা দেয় না ব্যাপারটা। অল্প সময়ের মধ্যে অরিন কলেজে চলে আসে। অরিন পার্কিং জোনে গিয়ে স্কুটি পার্ক করে, ক্লাসের সামনে চলে আসে, তখনই রিম্পি, এশমা, নেহা, সাইফ, আরাফ চলে আসে অরিনকে দেখে,

রিম্পিঃ এতো দেরি হলো কেনো আসতে? (ধাক্কা দিয়ে)
অরিনঃ আর বলিস না রাস্তায় অনেক জ্যাম। (ঘাম মুছতে মুছতে)
এশমাঃ আমরা সবাই সেই কখন থেকে অপেক্ষা করছি তোর জন্য। (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ আমার জন্য, কিন্তু কেনো? (অবাক হয়ে)
সাইফ ~ অনেকদিন হয় তোর গান শুনি না! আজকে আমাদের সবাইকে গান শোনাতে হবে? (আবদারের সুরে )
অরিনঃ আমি? (চোখ বড় বড় করে)

নেহা ~ হ্যাঁ তুই। (অরিনের হাত ধরে)
আরাফ ~ আর কিছু শুনতে চাই না তাড়াতাড়ি চল। (বিরক্ত হয়ে)
অরিনঃ কিন্তু কোথায় ? (অবাক হয়ে)
রিম্পিঃ অডিটোরিয়াম রুমে। (হেসে)
আরাফ ~ আমি গিটার নিয়ে এসেছি চল। (অরিনের দিকে তাকিয়ে)

অরিনঃ ক্লাস শুরু হবে তো! (ঘড়ির দিকে তাকিয়ে)
রিম্পিঃ ক্লাস শুরু হতে এখনো অনেক দেরি। (ঘড়িতে সময় দেখে)
সাইফ ~ একটা গান শুনাতে বেশি হলে ১০ মিনিট লাগবে। চল আর বাহানা করিস না। (অরিনের মাথায় টোকা দিয়ে )

অরিনঃ আচ্ছা আচ্ছা চল তোরা। (সবাইকে থামিয়ে)
অরিন সবার সাথে অডিটোরিয়াম রুমে যায়। সাইফ অরিনের কাছে গিটার এগিয়ে দেয়। সবাই বেঞ্চে গোল হয়ে বসে অরিনের সামনে। অরিন গিটার হাতে নিয়ে বলে,
~ আজকে আমার সবচেয়ে পছন্দের গানটা গাইবো কেমন,
সাইফ ~ এবার শুরু কর।

অরিন গিটার বাজানো শুরু করে, গিটার বাজানোর সাথে সাথে গানের সুর তোলে,
এখন তো সময় ভালোবাসার
এ দুটি হৃদয় কাছে আসার
তুমি যে একা আমিও যে একা লাগে যে ভালো
ও প্রিয় ও প্রিয় ও প্রিয়

পেয়েছি তোমাকে এতোদিনে
যেও না সরে গো অভিমানে
পেয়েছি তোমাকে এতোদিনে
যেও না সরে গো অভিমান
আমি তোমারই ও বুকে নাও টেনে
এখন তো সময় ভালোবাসার
এ দুটি হৃদয় কাছে আসার
তুমি যে একা আমিও যে একা লাগে যে ভালো
ও প্রিয় ও প্রিয় ও প্রিয়

কি ছোঁয়া আমাকে দিলে তুমি
রাত দিন তোমাকে ভাবি আমি।
কি ছোঁয়া আমাকে দিলে তুমি
রাত দিন তোমাকে ভাবি আমি।
কেনো বোঝো না প্রেমেরও পাগলামি
এখন তো সময় ভালোবাসার
এ দুটি হৃদয় কাছে আসার
তুমি যে একা আমিও যে একা লাগে যে ভালো
প্রিয় ও প্রিয় ও প্রিয় ও প্রিয় ও প্রিয়

হঠাৎ করে কেউ একজন দরজার সামনে দাড়িয়ে হাত তালি দিয়ে ওঠে, সবাই চমকে যায়। অরিন হাসিমুখে দরজার দিকে তাকায় আর সাথে সাথে অরিনের মুখ মলিন হয়ে যায়। সবাই পিছনে তাকিয়ে দেখে কে হাত তালি দিচ্ছে।
আপনারা কার কথা যাকে ভাবছেন? আসলে কি সে নাকি অন্য কেউ?


পর্ব ১২

সবাই পেছনে তাকায় যে দাড়িয়ে আছে সে আর কেউ নয় আহিল রেহমান। সবাই অবাক আহিল কে দেখে। অরিন মনে মনে বলতে থাকে,
অরিনঃ এই বদের হাড্ডি কোথা থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসলো। (বিড়বিড় করে)
আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে বাঁকা হাসি দিয়ে বলে,
আহিলঃ What a voice? Just wow. (মুচকি হেসে)

অরিন চুপ করে আছে আহিলের দিকে তাকিয়ে। আহিল অডিটোরিয়ামের ভেতরে আসে সাথে সাথে সবাই দাঁড়িয়ে আহিলকে সালাম দেয়। আহিল সালামের উত্তর দেয়। আহিলের সাথে রসায়ন বিষয়ের প্রফেসর তারেক আহসান। তিনি সবার উদ্দেশ্য বলেন,
তারেক আহসান ~ মি. আহিল রেহমানকে তোমরা সবাই চেনো নিশ্চয়ই। (আহিলকে সম্বোধন করে)
সবাই ~ জি স্যার। (একসাথে )
তারেক আহসান ~ আমাদের প্রিন্সিপাল স্যারের একটা জরুরি কাজ পড়েছে তাই তিনি দুই মাসের জন্য লন্ডনে গেছেন। স্যারের বদলে এই দুই মাস আহিল স্যার তোমাদের ক্লাস নিবেন। (সবার উদ্দেশ্য)

অরিন পুরাই অবাক হয়ে যায় তারেক স্যারের কথায়। অরিনের মুখ ফসকে বেরিয়ে যায়,
অরিনঃ কিন্তু তিনি তো বিজনেস স্টাডিজ এর উপর পিএইচডি করেছেন তাহলে ইংরেজি কি করে? (জোর করে হেসে)
আহিলঃ তুমি হয়তো জানো না পিএইচডি করতে হলে ইংলিশ কোর্স শেষ করতে হয়। আর পুরো বাংলাদেশের মধ্যে এই কোর্সে আমি প্রথম হয়েছি। So any doubt? (ভ্রু নাচিয়ে)
অরিনঃ No.. (মাথা নেড়ে)

তারেক আহসান ~ স্যার চলুন। আপনার রুমটা দেখিয়ে দিচ্ছি। (আহিলের দিকে তাকিয়ে)
আহিলঃ Of course.. (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে একটা ডেভিল মার্কা হাসি দিয়ে তারেক আহসানের সাথে চলে যায়। অরিন মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ে আর মনে মনে বলে,
অরিনঃ শেষমেশ এই হওয়ার ছিলো, ভেবেছিলাম সাদা গন্ডার টার থেকে বোধ হয় রেহাই পেয়েছি কিন্তু এবার তো, (মনে মনে বিড়বিড় করতে করতে)
নেহা অরিনকে ধাক্কা দিয়ে বলে,

নেহা ~ কি রে? তোর আবার কি হলো? (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
এশমাঃ আর যাই বলিস আমি কিন্তু ক্রাশ খেয়েছি স্যারের উপর। (উদাসীন সুরে)
রিম্পিঃ তাহলে স্যারকে গিয়ে প্রোপোজ কর। (ঠাট্টার সুরে)
সাইফ ~ কথাটা কিন্তু মন্দ বলিসনি। (তাল মিলিয়ে)

আরাফ ~ অরিন তোর কন্ঠের জবাব হয় না। সত্যি অসাধারণ। (হাত তালি দিয়ে)
নেহা ~ আমিও সহমত। (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
রিম্পিঃ স্যার শুনেও খুব প্রশংসা করলো। (মুচকি হেসে)
অরিনঃ ক্লাসে চল সবাই। সময় হয়ে যাচ্ছে। (ভেংচি মেরে)
সবাই মিলে ক্লাসে চলে যায়। অরিন খুব চুপচাপ হয়ে গেছে আহিলকে দেখে। সবাই যে যার মতো বসে। অরিন ফার্স্ট বেঞ্চে বসে পাশে এশমা। এশমা অরিনকে ধাক্কা দিয়ে বলে,
এশমাঃ এই রে অরিননননন, (ধাক্কা দিয়ে)

অরিনঃ তোর কি হলো? (বিরক্ত হয়ে )
এশমাঃ আজকে ফার্স্ট পিরিয়ড ইংলিশ। (আনন্দের সুরে)
অরিনঃ তো কি হয়েছে? (মুখ ফিরিয়ে)
এশমাঃ আরে আহিল স্যারের পিরিয়ড। (হেসে হেসে)
অরিনঃ তো আমার, কিহহ্, (থেমে গিয়ে অবাক হয়ে)

এশমাঃ হ্যাঁ। খুব ভালো হয়েছে। (হাত তালি দিয়ে)
তখনই আহিল ক্লাসে চলে আসে। সবাই দাড়িয়ে আহিলকে সালাম জানায়। আহিল হাতের ইশারায় সবাইকে বসতে বলে। সবাই বসে পড়ে। আহিল সবার দিকে তাকিয়ে বলে,
আহিলঃ আশা করি সবাই ভালো আছেন। আজ থেকে আগামী দুই মাস আমি আপনাদের ইংলিশ ক্লাস নেবো। আমার ক্লাস একদম মিস দেওয়া যাবে না। কেউ যদি মিস দেয় তাহলে শাস্তি খুব কঠোর হবে। (রাগী সুরে)

অরিন আহিলের কথা শুনে আকাশ থেকে পড়লো। অরিন বিড়বিড় করে বলে,
অরিনঃ এ তো দেখছি সব প্ল্যানিং করে এসেছে। ভেবেছিলাম সামনের দুই মাস আসবোই না কিন্তু বদের হাড্ডি টা আমার প্ল্যানে পানি ঢেলে দিলো। (বিড়বিড় করে)
আহিলঃ আমার ক্লাসে অমনোযোগী হওয়া চলবে না। পড়ানোর সময় আমার দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। I say that, Eyes to eyes. এর হেরফের হলে ক্লাস থেকে বের করে দেওয়া হবে। Understand? (সবার দিকে তাকিয়ে)

অরিনঃ কি আমার শিক্ষক রে, ওনার দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে খোক্কশ কোথাকার। (ভেংচি মেরে)
অরিন আনমনে কথা গুলো বলছিলো। অরিনের খেয়ালই নেই আহিল তার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। আহিল অরিনকে কয়েক বার ডাক দিলেও অরিন শুনতে পায় না আহিলের রাগ উঠে যায় আর তখনই আহিল খুব জোরে বেঞ্চে হাত রাখে অরিন ভয়ে পেয়ে কেঁপে ওঠে, আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
আহিলঃ Stand up, (রাগী সুরে)
অরিন ভয়ে চুপসে যায়। অরিন করুন দৃষ্টিতে তাকায় আহিলের দিকে। আহিল আরও জোরে ধমক দিয়ে বলে,
আহিলঃ I say stand up, (ধমক দিয়ে)

অরিনঃ Yes sir, (ভয়ে ভয়ে)
আহিলঃ What is your name? (রেগেমেগে)
অরিনঃ Rafiya orin.. (ভয়ে ভয়ে)
আহিলের মনে পড়ে যায় সাত মাস আগে যখন অরিনের কাছে আহিল নাম জিজ্ঞেস করেছিলো,
আহিলঃ নাম কি আপনার? (রাগী সুরে)
অরিনঃ অরিন রাফিয়া অরিন আমার নাম। (ভাব নিয়ে)

আহিল আগের কথা মনে করে মনে মনে হেসে অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
আহিলঃ কি ভাবছিলেন? (কপালে দুই আঙুল বুলাতে বুলাতে)
অরিনঃ না না কিছু না। (থতমত খেয়ে)
আহিলঃ অপরাধ করে আবার মিথ্যা কথা বলছেন, Get out, i say get out, (ধমক দিয়ে)
অরিনঃ স্যার আমার কথা তো শুনুন, (কান্নার সুরে)
আহিলঃ Get lost from here…. (চিৎকার করে)

অরিনের চোখ ছলছল করে ওঠে। অরিনের শিক্ষা জীবনে কোনো শিক্ষক এভাবে অরিনকে বকা দিতে পারেনি। অরিন সবার দিকে এক নজর তাকিয়ে বের হয়ে যায় ক্লাস থেকে। আহিল এমন ভাব করে যেনো কিছুই হয়নি। আহিল বলে,
~ ক্লাসের টপার স্টুডেন্ট কে? (সবার দিকে তাকিয়ে)
আহিলের কথা শুনে রিম্পি দাঁড়িয়ে বলে,

রিম্পিঃ স্যার যাকে একটু আগে বের করে দিয়েছেন সেই ক্লাসের টপার স্টুডেন্ট শুধু ক্লাসের না পুরো কলেজের টপার স্টুডেন্ট। (হালকা রেগে)
আহিলঃ Oh, I see. Anyway let’s start our study. (তাচ্ছিল্যের সুরে)
অরিন বাহিরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাঁদছে। তখনই তামিন আসে সেখানে। তামিন হলো অরিনের সিনিয়র। লেখাপড়ায় ভালো তার পাশাপাশি পলিটিক্স করে। সবচেয়ে বড় কথা হলো তামিম অরিনকে পছন্দ করে অনেকবার প্রোপোজাল পাঠালেও অরিন প্রতিবার তা রিজেক্ট করে দেয়। তামিম অরিনকে দেখে বলে,
তামিন ~ কি ব্যাপার অরিন? তুমি বাহিরে কেনো? (অবাক হয়ে)

অরিনঃ আমার যেখানে খুশি দাঁড়িয়ে থাকবো। আপনার কোনো সমস্যা? (রেগেমেগে)
তামিন ~ এভাবে বলছো কেনো? (হেসে)
অরিনঃ তো কিভাবে বলবো? (রেগে)
তখনই আহিল বের হয় ক্লাস রুম থেকে। আহিলের চোখ টকটকে লাল হয়ে যায় অরিনকে আর তামিমকে একসাথে কথা বলতে দেখে। আহিল অরিনের কাছে গিয়ে বলে,
আহিলঃ কি হচ্ছে এখানে? (রাগী কন্ঠে)

অরিনঃ স্যার আসলে? (ভয় পেয়ে)
আহিলঃ Who are you? (তামিনের দিকে তাকিয়ে)
তামিম ~ My name is Tamin Mahbub.. (সৌজন্যে হাসি দিয়ে)
আহিলঃ ক্লাস টাইমে বাহিরে কি? (রেগেমেগে)
তামিন ~ না স্যার এমনি, ( মাথা নেড়ে)
আহিলঃ What? ক্লাস টাইমে বাহিরে টইটই না করে ক্লাসে যাও। (ধমক দিয়ে)
তামিন ~ জি স্যার। (মাথা নিচু করে)

তামিন মাথা নিচু করে চলে যায়। আহিল অগ্নিশর্মা হয়ে অরিনের দিকে তাকায়, অরিন আহিলের দিকে তাকিয়ে চোখ নামিয়ে নেয়। আহিল রেগেমেগে অরিনের সামনে যায় অরিন ভয়ে দুই কদম পিছিয়ে যায়। আহিল কটমট করে বলে,
আহিলঃ সুযোগ পেলেই ছেলেদের সাথে কথা বলা তোমাদের মেয়েদের একটা অভ্যাস। (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ, (নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে)
আহিলঃ Disgusting, (ধমক দিয়ে)

আহিল হনহনিয়ে ক্লাসে চলে যায়। অরিন চুপচাপ বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকে। ক্লাস শেষ করে আহিল বের হয়। আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে দেখে, অরিনের নাক, গাল গোলাপি হয়ে গেছে সাথে চোখও। বোঝা যায় এতক্ষণ কান্না করেছে। আহিল অরিনকে বলে,
আহিলঃ আমার কেবিনে আসো।
অরিন তেমন পাত্তা দেয় না আহিলের কথায়। আহিল দুকদম সামনে গিয়ে আবার পিছিয়ে এসে অরিনকে বলে,
আহিলঃ কথার নড়চড় হলে, খুব খারাপ হবে। যা ভাবতেও পারবে না। (রাগী লুকে)

অরিন এবার ভয় পেয়ে যায় পারণ আহিলের কথা না শোনার পরিনাম আগে কয়েকবার তাকে ভোগ করতে হয়েছে। আহিল হাঁটতে শুরু করে সাথে অরিনও। আহিল কেবিনে ঢোকে পিছনে পিছনে অরিনও। আহিল তার চেয়ারে বসে হেলান দিয়ে অরিনের দিকে তাকায়, অরিন নিচের দিকে তাকিয়ে আছে, আহিল বলে,
আহিলঃ কেমন আছো? সাত মাস পরে দেখা! (মুচকি হেসে)
অরিনঃ,
আহিলঃ তো মুখ লাল আপেল বানিয়ে রেখেছো কেনো? I see, ক্লাস থেকে বের করে দিয়েছি এজন্য?
অরিনঃ, (নিচের দিকে তাকিয়ে আছে)

আহিলঃ কাল থেকে এই গোট আপ চেঞ্জ করে কলেজে আসবে। (রাগী লুকে)
অরিন আহিলের কথা ওড়না ঠিক করে, জামা।
ঠিক আছে কিনা সেটা চেক করে। আহিল অরিনের দিকে একটা মন ভোলানো হাসি দেয়,
আহিলঃ এখন সব ঠিক করছো। আগে মনে ছিলো না। (বাঁকা হাসি দিয়ে)
অরিনঃ আগে তো ঠিকই ছিলো। (অবাক হয়ে)

আহিলঃ মনে আছে, আগেরবার বেকলেস ব্লাউজ আর পেট বের করে ঘাগড়া পড়েছিলে তখন কি করেছিলাম? (ডেভিল মার্কা হাসি দিয়ে)
আহিলের কথা শুনে অরিনের অজান্তে হাত চলে যায় পেটের কাছে। অরিন ভয়ে ঢোক গিলে বলে,
অরিনঃ আ আ আমি তো থ্রিপিছ পড়েছি। (ভয়ে ভয়ে)
আহিলঃ হুম কিন্তু এসব নরমাল নেটের? (কপাল কুঁচকে)

অরিনঃ আপনি জানেন এটার দাম কত? (হালকা রেগে)
আহিলঃ আমাকে দাম জানাতে এসো না। কাল থেকে এসব ড্রেস পড়ে আসলে ওয়েস্টার্ন ড্রেস পড়িয়ে পুরো কলেজ ঘুড়াবো। (রেগেমেগে)
অরিনঃ ওকে। (মাথা নেড়ে)
আহিলঃ আমার রুমাল তো পুরো ভিজিয়ে ফেলেছো চোখের পানি দিয়ে। (অরিনের হাতের দিকে তাকিয়ে)

অরিন চমকে যায় আহিলের কথা শুনে। অরিন রুমালের দিকে তাকায় আবার আহিলের দিকে তাকায়, আহিল হেসে বলে,
আহিলঃ এটা আমার রুমাল। আমি দিয়েছিলাম তোমাকে কাল থেকে সাথে করে রুমাল না হয় টিস্যু নিয়ে আসবে। (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ কিন্তু, (বলতে গিয়ে থেমে যায়)
আহিলঃ দাও এবার ফেরত দাও। আর ধন্যবাদ আমার জন্য দোয়া করেছো। (মুচকি হেসে)
অরিনঃ হ্যাঁ। (ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে)
আহিলঃ যাও, (ভ্রু কুচকে)

অরিনঃ জি, (অবাক হয়ে)
আহিলঃ যেতে বলেছি তোমাকে। (রেগেমেগে)
অরিন রেগেমেগে যেতে নেয় আর তখনই আহিল বলে ওঠে,
আহিল~ তোমার দিকে একটা ছেলে তাকিয়ে ছিলো তাই তোমাকে ক্লাস থেকে বের করে দিয়েছি। (বাঁকা হাসি দিয়ে)
অরিনঃ কিহহ্, (রেগেমেগে)

আহিলঃ Get lost. (ধমক দিয়ে)

অরিন ভেংচি মেরে আহিলের কেবিন থেকে বের হয়ে যায়। আহিল টেবিলের উপর তাকিয়ে দেখে অরিন রুমাটা রেখে গেছে। আহিল চেয়ার ছেড়ে উঠে রুমালটা হাতে নিয়ে বলে,
আহিলঃ সাত মাসে এই রুমালটা হাতছাড়া করিনি কারণ এই রুমালে তোমার স্পর্শ আছে। কিন্তু ড্রামা কুইন আগের মতোই আছো। একটুও বদলাওনি তবে, আগের থেকে অনেক সুন্দরী হয়ে গেছো।

অরিন ক্লাসে চলে আসে। এশমা দৌড়ে আসে অরিনের কাছে। অরিন বেঞ্চে বসে পড়ে, এশমা এসে বলে,
এশমাঃ স্যার কি বললো রে? (উৎসাহ নিয়ে )
অরিনঃ আমার মাথা আর তোর মুন্ডু! হয়েছে, (রেগে)
এশমাঃ সিরিয়াসলি। (অবাক হয়ে)

অরিনঃ চুপ কর। ক্লাস করতে দে, (রেগেমেগে)
এভাবে ক্লাস শেষ হয়ে যায়। কলেজ ছুটি হয়ে যায়। অরিন সবাইকে বিদায় জানিয়ে স্কুটির কাছে যায়। আহিলের সাথে দুইজন গার্ড মাঝখানে আহিল। আহিল গাড়িতে উঠতে নিবে তখনই খেয়াল করে অরিন স্কুটির সামনে দাঁড়িয়ে আছে। আহিল অরিনের কাছে যায়,
আহিলঃ কি ব্যাপার? দাঁড়িয়ে আছো কেনো? অরিনের দিকে তাকিয়ে)

অরিনঃ আসলে স্কুটিটা চলছে না, কিছুক্ষন আগেও ঠিক ছিলো। (স্কুটির দিকে তাকিয়ে)
আহিলঃ তো এখন কি করবে? (পকেটে হাত রেখে)
অরিনঃ রিকশায় করে যাবো। (আহিলের দিকে তাকিয়ে)
আহিল অরিনের হাত ধরে গাড়ির সামনে নিয়ে যায় তারপর গার্ডদের বলে,
আহিলঃতোমরা অন্য কারে এসো। আর ড্রাইভার আপনি বের হন আমি কার ড্রাইভ করবো। আর স্কুটি টা বাসায় পৌঁছে দেয়ার ব্যাবস্থা করো। (ঘড়ির দিকে তাকিয়ে)
গার্ড ~ জি স্যার, (দৃঢ় কন্ঠে)

গার্ডরা আর ড্রাইভার নেমে যায় গাড়ি থেকে। আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
আহিলঃ ওঠো, (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ কিন্তু আ, (পুরোটা বলার আগেই ধমক দেয় আহিল)
আহিলঃ Shut up, (ধমক দিয়ে)

অরিন চুপচাপ উঠে পড়ে। আহিল গাড়ি স্টার্ট দেয়। আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
আহিলঃ এতো মোটা হয়ে গেছো কেনো? (ড্রাইভিং করতে করতে)
অরিনঃ আমি মোটা হয়েছি? কে বললো আপনাকে? (ভেংচি মেরে)
আহিলঃ আমি বললাম। (হেসে)

অরিনঃ আমি আগের মতই আছি। (ভ্রু কুঁচকে)
আহিল মুচকি হেসে গাড়ি ড্রাইভ করে। কিছুক্ষণের মধ্যে গাড়ি চলে আসে বাসার সামনে। অরিন গাড়ি থেকে নেমে যায়। অরিন গাড়ি থেকে বের হয়ে আহিলকে বলে,
~ Thanks লিফট দেওয়ার জন্য। (সৌজন্যে হাসি দিয়ে)

কথাটা বলেই অরিন চলে যায়। আহিল বাঁকা হাসি দিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে চলে যায়। অরিন বাসায় চলে যায়। তারপর,


পর্ব ১৩

অরিন দৌড়ে রুমে চলে যায়। রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে, দরজার পেছনে দাঁড়িয়ে যায়। অরিন ধীরে ধীরে জানালার কাছে গিয়ে পর্দা সরিয়ে উঁকি দেয় বাহিরে। ততক্ষণে আহিল গাড়ি নিয়ে চলে গেছে। অরিন হাফ ছেড়ে বাঁচলো। তারপর বলা শুরু করে,

অরিনঃ ভেবেছিলাম ঐ সাদা গন্ডার টা আর আসবে না কিন্তু এবার তো এক্কেবারে বাবাল গামের মতো চিপকে গেছে। কি করি এখন? এই কয় মাসে তো আমার দফা রফা করে দেবে। না না, কিছুতেই হার মানা যাবে না। ঐ বদের হাড্ডি টার থেকে সবসময় দূরে দূরে থাকতে হবে না হয় আমার বারোটা থেকে তেরোটা বাজিয়ে দেবে। Orin all is well. তুই এতো ভাবছিস কেনো? তুই তো খুব বুদ্ধিমতী মেয়ে। মি. আহিল রেহমান তুমি চলবে ডালে ডালে তাহলে আমি চলবো পাতায় পাতায়। যাই ফ্রেশ হয়ে আসি। (নাচতে নাচতে)

অরিন ফ্রেশ হতে চলে যায়। এদিকে অরিনের কথা শুনে আহিল হাসতে হাসতে শেষ। আহিলের পেছনে সাজিদ দাঁড়ানো ছিলো। আহিলের হাসি দেখে সাজিদের চোখের কোণে নোনা জল জমে গেছে, সাজিদ মনে মনে বলে,
সাজিদঃ আজ বহু বছর পর তুমি প্রাণ খুলে হাসলে ভাই। তোমার এই হাসি যেনো চিরস্থায়ী হয় সেই ব্যবস্থা আমি করবো তাতে যতো বাঁধা আসুক না কেনো। (চোখ মুছে)
আহিল হাসতে হাসতে সাজিদের দিকে তাকিয়ে বলে,
আহিলঃ ধন্যবাদ। (হাসি থামিয়ে)
সাজিদঃ কেনো ভাই? (অবাক হয়ে )

আহিলঃ তুই যদি অরিনের রুমে সিসি ক্যাম আর স্পিকার না লাগিয়ে আসতি তাহলে এভাবে ওর ওপর নজর রাখতে পারতাম না। (ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে)
সাজিদঃ আরে এতে ধন্যবাদ দেওয়ার কি হলো? ভাইয়ের জন্য এতটুকু তো করতেই পারি। (মুচকি হেসে)
আহিলঃ আমি ফ্রেশ হয়ে আসি কেমন তারপর একসাথে লান্ঞ্চ করবো। (সাজিদের দিকে তাকিয়ে)
~ ঠিক আছে ভাই। তুমি ফ্রেশ হয়ে আসো, আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করছি নিচে। (হেসে)

সাজিদ রুম থেকে বের হয়ে নিচে যায়। আহিল সোফায় বসে অরিনের ছবি দেখছে ল্যাপটপে আর আনমনে বলছে,
আহিলঃ তোমার মধ্যে আমি সেই অন্যরকম তুমিকে দেখতে পেয়েছি। তোমাকে যতই দেখি ততই অবাক হয়ে যাই। হ্যাঁ, তুমি আমার কাছে অন্যরকম তুমি। (অরিনের ছবির দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে)
অরিন ফ্রেশ হয়ে বের হয়। তারপর ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখে বকবক শুরু করে দেয়,
অরিনঃ বুঝিনা কিচ্ছু বুঝিনা। (গালে হাত দিয়ে)

তখনই ফারিন চলে আসে অরিনের রুমে আসে। ফারিন অরিনের কথা শুনে ফেলে। তাই ফারিন অরিনের বেডে বসে বলে,
ফারিন ~ কি বোঝো না ননদিনী? (হেসে)
অরিনঃ ও আমার গুলুমুলু ভাবি, তোমাকে খুব মিস করেছি। (দৌড়ে এসে ফারিনকে জড়িয়ে ধরে)
ফারিন ~ তাই বুঝি। (অরিনের গাল টেনে)
অরিনঃ হ্যাঁ গো হ্যাঁ। বিশ্বাস হয়না বুঝি? (ভ্রু কুঁচকে)

ফারিন ~ অবশ্যই বিশ্বাস করবো। আমার দশটা না পাঁচ টা না দুইটা না একটা মাত্র ননদিনী। তোমাকে কি অবিশ্বাস করা যায়? (অরিনের গালে হাত রেখে)
অরিনঃ এই না হয় সুইট ভাবি। (ফারিনের কাঁধে মাথা রেখে)
ফারিন ~ আজকে আসতে এতো দেরি হলো কেনো তোমার? (অরিনের মাথায় হাত রেখে)

অরিনঃ আমার পিংকি টার মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছিলো তারপর স্যারের গাড়িতে করে চলে আসলাম। (মাথা উঠিয়ে ফারিনের দিকে তাকিয়ে)
ফারিন ~ কোন স্যার? (অবাক হয়ে)
অরিন বলতে যাবে তখন অরিনের আম্মু চলে আসে আর বলেন,
আম্মুঃ আরে তোমরা খেতে এসো অনেক বেলা হয়ে গেছে।
অরিনঃ হুম আম্মু আসছি, তুমি যাও। (মাথা নেড়ে)

আম্মু~ বৌমাকে নিয়ে চলে আয় তাড়াতাড়ি। (দুজনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ ভাবি চলো খেয়ে আসি। অনেক খুদা লেগেছে। (পেটে হাত রেখে)
ফারিন ~ হ্যাঁ আমারও, চলো। (মাথা নেড়ে)

অরিনের আম্মু, অরিন, ফারিন একসাথে লান্ঞ্চ করে নেয়। তায়িফ এবং তার বাবা অফিসে। অরিন লান্ঞ্চ করে রুমে এসে শুয়ে পড়ে তারপর কানে এয়ারফোন লাগিয়ে ফোনে একটা গান প্লে করে। গান শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়ে অরিন। সন্ধ্যায় ফারিনের ডাকে ঘুম ভেঙে যায় অরিনের। অরিন চোখ কচলাতে কচলাতে উঠে বলে,
অরিনঃ কি হলো ভাবি ডাকছো কেনো? (ঘুমকাতুরে কন্ঠে)

ফারিন ~ সারা দুপুর ঘুমিয়েছো এবার পড়তে বসো। (গম্ভীর কণ্ঠে)
অরিনঃ একটু পরে, (মাথা নেড়ে)
ফারিন ~ না এখনই। (হালকা রাগী সুরে)
অরিনঃ আচ্ছা ঠিক আছে বসছি। (উঠে দাঁড়িয়ে)

ফারিন ~ ফ্রেশ হয়ে পড়তে বোসো আমি তোমাকে স্ন্যাকস্ দিয়ে যাচ্ছি। (হেসে)
অরিনঃ ওকে। (মাথা নেড়ে)
অরিন ফ্রেশ হয়ে পড়তে বসে। ফারিন এসে স্ন্যাকস্ দিয়ে যায় অরিনকে। অন্যদিকে, আহিল অফিসের কাজ করছে। আহিলের মা কল করে, আহিল রিসিভ করে আর কথা বলে,
আহিলঃ কেমন আছো মম? (কাজ করতে করতে)

মম ~ আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি আব্বু। তুমি কেমন আছো? (হেসে)
আহিলঃ ভালো আছি। বাবা কেমন আছেন? (ফাইল চেক করতে করতে)
মম ~ তোমার বাবাও ভালো আছে। কি করছো এখন? (হেসে)
আহিলঃ অফিসে আছি। (ঘড়ির দিকে তাকিয়ে)

মম ~ কবে থেকে বলছি, এবার একটা বিয়ে করো। এতো মেয়ে দেখালাম একজনকেও পছন্দ হয় না তোমার। বললাম, তাহলে নিজের পছন্দে বিয়ে করো তারও খবর নেই। (অভিমানী সুরে)
আহিলঃ সময় হোক তারপর, (মুচকি হেসে)
মম ~ সময় কবে হবে শুনি? (রেগে)

আহিলঃ সময় হলেই হবে। আচ্ছা মম এখন রাখছি পরে কথা বলবো। (তাড়াহুড়ো করে)
মম ~ আচ্ছা বাবা। ভালো থেকো। (হেসে)
আহিলঃ হুম রাখছি। টুট টুট টুট
আহিল ফোন রেখে বলতে শুরু করে,

~ দেখি কবে সিংগেল থেকে মিংগেল হওয়ার সৌভাগ্য হয়। সেদিন না হয় বিয়েটা করবো। (মুচকি হেসে)
আহিল আবারও কাজে মনোযোগ দেয়। অরিনের বাসার সবাই ডাইনিং টেবিলে বসে ডিনার করার জন্য। অরিন তায়িফকে বলে,
অরিনঃ ভাইয়া আমার পিংকি ঠিক মতো চলছে না। (মন খারাপ করে)
তায়িফঃ তোকে কতবার বললাম, নতুন স্কুটি কিনে দেই কিন্তু তুই তো রাজি হোস না। (খেতে খেতে)
ফারিন ~ অরিন তুমি এবার নতুন স্কুটি নাও। (অরিনের দিকে তাকিয়ে)

অরিনঃ এই স্কুটি টা ভাইয়া আমাকে কিনে দিয়েছিলো তার প্রথম আয়ের টাকা দিয়ে। (নিচের দিকে তাকিয়ে)
তায়িফঃ তুই আমার একমাত্র বোন। তোর ভালো মন্দ দেখার দায়িত্ব আমার। আগে নাহয় কিনে দিয়েছি এবারও কিনে দিবো। এবার আর তোর কোনো কথা শুনছি না। কালকে তোর জন্য ব্রান্ডেড স্কুটি কিনে আনবো কেমন। (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ ওকে ভাইয়া। (মাথা নেড়ে)

বাবাইঃ তোমাদের দুই ভাই বোনের বাচ্চামো এখনো গেলো না। (হালকা হেসে)
অরিনঃ না না কখনো যাবে না। কি বলো ভাইয়া? (দুষ্টুমি করে)
তায়িফঃ Absolutely right. (হেসে)
সবাই হেসে ওঠে দুই ভাইবোনের কথা শুনে। ডিনার শেষ করে সবাই যে যার মতো রুমে চলে যায়। অরিন রুমে এসে শুয়ে পড়ে তারপর গান শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়ে। অরিন স্বপ্নে দেখে,

আহিল অরিনকে জোর করে কাঁধে তুলে নিয়ে আসে একটা রুমে তারপর দরজা বন্ধ করে অরিনের খুব কাছে চলে আসে। আহিল অরিনের গাল চেপে ধরে বলে,
আহিল~ এবার আমার হাত থেকে তোকে কেউ বাঁচাতে পারবে না। (রাগী সুরে চিৎকার করে)
কথাটা বলে আহিল ঝাপিয়ে পড়ে অরিনের উপর সাথে সাথে অরিনের ঘুম ভেঙে যায়। অরিন ধরফর করে উঠে বসে। লো টেম্পারেচারে এসি চলা সত্বেও অরিন ঘেমে একাকার হয়ে গেছে। চারদিকে ভোরের আলো ফুটেছে। অরিন মাথায় হাত দিয়ে বলে,

অরিনঃ এ আমি কি কি স্বপ্ন দেখলাম? তাও আবার ভোর বেলা। আর ভোরের স্বপ্ন নাকি সত্যি হয়। হে খোদা রক্ষা করো আমাকে ঐ ডেভিলটার হাত থেকে। (ঘাম মুছতে মুছতে)
অরিন ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে নেয়। স্কুটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার জন্য তায়িফ গাড়িতে করে ড্রপ করে দেয়। অরিন গাড়ি থেকে নেমে তায়িফকে বিদায় জানিয়ে কলেজের ভেতরে যায়। তামিন গেইটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলো। অরিনকে দেখে তামিন টিজ করে বলে,

তামিন~ সুন্দরী চলেছে একা পথে সঙ্গী হতে দোষ কি তাতে? (টিজ করে)
অরিনের মেজাজ বিগড়ে যায়। রাগী দৃষ্টিতে তামিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
অরিনঃ খুব শখ সঙ্গী হওয়ার। কি রে তোর বাসায় মা, বোন নাই? সিনিয়র হয়েছিস বলে কি মাথা কিনে নিয়েছিস নাকি। (শার্টের কলার ধরে)
তামিন ~ ঠিক করে কথা বলো, (রেগেমেগে)
অরিনঃ দেখ তাইলে, (থাপড়ানো শুরু করে)

অরিন তানিমকে এলোপাতাড়ি থাপ্পড় দেয়া শুরু করে। আহিল ও ক্যাম্পাসের মধ্যে চলে আসে। আহিল অরিনের এই রুপ দেখে থ হয়ে যায়। পাশে থেকে একটা ছেলে আসে অরিনের হাত ধরতে অরিন বাম পা দিয়ে জোরে ছেলেটার পায়ে লাথি মারে। ছেলেটা বসে পড়ে। আহিল অরিনের ফাইটিং দেখে বিষম খায়। পাশের একজন গার্ড আহিলকে বলে,
গার্ড ~ স্যার পানি আনবো।
আহিলঃ না না দরকার নেই। (অরিনের দিকে তাকিয়ে)

সাইফ, নেহা, রিম্পি এসে অরিনকে থামানোর চেষ্টা করে। কিন্তু অরিন থামার নামই নিচ্ছে না। অরিন তামিনের শার্টের কলার ধরে কিল ঘুষি দিয়েই যাচ্ছে। পুরো কলেজের সব স্টুডেন্টরা জড়ো হয়ে গেছে। অবস্থা বেগতিক দেখে আহিল সেখানে যায়,
আহিলঃ কি হচ্ছে এখানে, (রেগেমেগে )
অরিন আহিলের দিকে তাকিয়ে বলে,

অরিনঃ দেখতে পাচ্ছেন না কি হচ্ছে। ও আমাকে টিজ করেছে, কিছু বলি না তাই ভাবে যে কিচ্ছু বলতে জানি না। জানিস আমি কে, অরিন রাফিয়া অরিন। ইয়াসির আরাফাতের মেয়ে আমি, অন্যায় করলে ছেড়ে দিবো ভেবেছিস। (তামিনকে ঘুষি মেরে)
আহিলঃ এটা কলেজ শুটিং স্পট না। থামো না হয় একদম টিসি দিয়ে কলেজ থেকে বের করে দেয়া হবে। (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
রিম্পি অরিনকে জড়িয়ে ধরে টেনে ক্লাসে নিয়ে যায়। অরিন যেতে যেতে তামিনকে বলে,
অরিনঃ দেখে নেবো তোকে, (দাঁত দাঁত চেপে)

আহিল তামিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
আহিল~ কলেজে আসো মেয়েদের টিজ করতে। আর কোনো দিন ও এই কলেজের ত্রিসীমানায় যেন না দেখি। Get lost.. (ধাক্কা দিয়ে)
রিম্পি অরিনকে বলে,

রিম্পিঃ ভাই এবার তো একটু থাম। (অরিনের হাত ধরে)
অরিনঃ ওর সাহস তো কম না আমাকে টিজ করে। (রাগে গজগজ করতে করতে)
সাইফ ~ এর জন্য তো কম ধোলাই দিস নি। (হাসি চেপে)

নেহা~ অরিন কুল কুল। (বই দিয়ে বাতাস করে)
কলেজের পিয়ন আসে ক্লাসে তারপর বলে,
পিয়ন ~ রাফিয়া অরিনকে আহিল স্যার ডেকেছেন তার কেবিনে। (সবার দিকে তাকিয়ে)
নেহা ~ অরিন এবার কি হবে? (ভয় পেয়ে)

রিম্পিঃ তাড়াতাড়ি যা। (অরিনকো ধাক্কা দিয়ে)
অরিন উঠে হনহন করে ক্লাস থেকে বের আহিলের কেবিনে চলে যায় পারমিশন না নিয়ে। আহিল অরিনের দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে বলে,
আহিলঃ তুমি এতো ভালো ফাইটিং জানো? আমি তো অবাক তোমাকে দেখে! (অবাক হয়ে)
অরিনঃ কি বলতে চান আপনি? টিজ করে যাবে আর আমি ছেড়ে দেবো? (রেগেমেগে)

আহিলঃ আমি তা বলিনি, (শান্ত হয়ে)
অরিনঃ হ্যাঁ আপনি তাই বলেছেন। আপনি তো ওদের সাইড নিবেনই কারণ ওরাও ছেলে আর আপনিও ছেলে। (রেগে)
আহিলঃ Orin shut up. (রেগে)
অরিনঃ সত্য কথা বললে তখন শাট আপ, (রেগে)

আহিল উঠে গিয়ে অরিনকে টেনে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে। আহিল রেগমেগে বলে,
আহিলঃ খুব সাহস বেড়ে গেছে তাই না আমার মুখের ওপর কথা বলো? (কটমট করে)
অরিনঃ আমি কাউকে ভয় পাই না আর আপনাকেও না। (রেগে)

আহিল অরিনের ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ধরে। অরিন নিজের সর্ব শক্তি দিয়ে আহিলকে ধাক্কা দেয়। আহিল কিছুটা দূরে সরে যায়। অরিন আহিলের দিকে তাকিয়ে বলে,
অরিনঃ কোন দলিলে সাইন করে বারবার আমাকে স্পর্শ করেন? (রেগেমেগে)
আহিলঃ তোমাকে স্পর্শ করতে হলে দলিলে সাইন করতে হবে? ঠিক আছে সেই ব্যবস্থাই করবো। (অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে)
অরিন বের হয়ে যায় কেবিন থেকে। আহিলের চোখ আগুনের ফুলকির মতো লাল হয়ে গেছে। তারপর,


পর্ব ১৪

অরিন কেবিন থেকে বের হয়ে হঠাৎ করে দাঁড়িয়ে যায়। অরিন নিজের মাথায় টোকা দিয়ে নিজেকে নিজে বলে,
~ একি করলি অরিন? রাগের বশে উরা ধুরা কথা বলে ফেললি, এখন তোর কি হব্বে? এই না, তুই যা বলেছিস একদম ঠিক বলেছিস। সে যা করার করুক।
অরিন হাসিমুখে ক্লাসে চলে আসে। সবাই অরিনকে এতো চার্মিং মুডে দেখে অবাক হয়ে যায়, রিম্পি অরিনকে জিজ্ঞেস করে,
রিম্পিঃ তোর মুড অফ থেকে অন হলো কি করে? (অবাক হয়ে)
নেহা ~ আমারও একই প্রশ্ন? (গালে হাত দিয়ে)

আরাফ, সাইফ ~ আমাদের ও? (একে অপরের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ তামিনকে কায়দা করে কেলিয়েছি তো তাই মনটা উরু উরু করছে, বুঝলি। (হাত দুটো পাখির ডানার মতো করে)
আরাফ ~ তোর উরু উরু মন আবার কখন জানি উড়ে যায়। (হেসে হেসে)
অরিনঃ মানে? (অবাক হয়ে)

রিম্পিঃ মানে হলো। তোর আবহাওয়ার ঠিক নেই, কখনো গরম, কখনো শীত। (দাঁত বের করে)
অরিনঃ হয়েছে এবার তোরা চুপ করে উদ্ধার কর আমাকে। (হাত জোর করে)
সবাই হেসে ওঠে। ক্লাস টিচার চলে আসে সবাই যে যার মতো বেঞ্চে বসে পড়ে। টিচার আর কেউ নয় আহিল। অরিন টেড়া চোখে আহিলের দিকে তাকায়। আহিল অরিনের দিকেই তাকিয়ে আছে। অরিন অমনি চোখ নামিয়ে ফেলে। আহিল সবাইকে বলে,
আহিলঃ আমার দিকে তাকিয়ে না থেকে পড়ায় মনোযোগ দিন, বিশেষ করে মেয়েদের বলছি। (বাঁকা হাসি দিয়ে)
অরিন ভেংচি মেরে মনে মনে বলে,

অরিনঃ নিজেকে কত্ত হ্যান্ডসাম ভাবে? সাদা গন্ডার একটা কিন্তু দেখতে সত্যিই কিন্তু হ্যান্ডসাম। (নিজের কথায় নিজেই হেসে ওঠে)
অরিন কথাগুলো বলতে বলতে আহিলের দিকে তাকায়, আহিল তখনও অরিনের দিকে তাকিয়ে আছে রাগী দৃষ্টিতে, অরিন ঢোক গিলে নিচের দিকে তাকায়। আহিল মনে মনে বলে,

আহিলঃ তোমাকে স্পর্শ করতে আমাকে দলিলে সাইন করতে হবে তাই না এবার দেখো, এমন দলিল বানাবো, (দাঁতে দাঁত চেপে)
পিয়ন একটা নোটিশ নিয়ে আসে। আহিল সেটা হাতে নিয়ে পড়তে থাকে সবাই মনোযোগ দিয়ে শোনে,
আহিলঃ আগামী বুধবারে কলেজের ৩০ পূর্ণ হওয়ায় বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। আশা করি, সব স্টুডেন্টরা সেখানে উপস্থিত থাকবেন। ধন্যবাদ। (নোটিশ বোর্ডের দিকে তাকিয়ে)
সবার মধ্যে থেকে এশমা বলে ওঠে,

অরিনঃ স্যার কি কি ক্যাটাগরি থাকছে এই অনুষ্ঠানে? (আড়চোখে আহিলের দিকে তাকিয়ে)
আহিলঃ সেটা আমি ঠিক জানি না তবে একজন টিচার লিস্ট আমার কাছে দিয়ে গেছে। নাচের আর কবিতা আবৃত্তির লিস্ট আমার কাছে। যারা যোগদান করবেন তারা তাদের নাম লিখিয়ে যাবেন। (সবার দিকে তাকিয়ে)
রিম্পি অরিনকে ধাক্কা দিয়ে বলে,

রিম্পিঃ অরিন যে ক্যাটাগরিতে সবসময় তুই পার্টিসিপেট করবি সেটাই তো আহিল স্যারের কাছে। (অবাক হয়ে)
অরিনঃ তো তো কি হয়েছে? (তোতলাতল তোতলাতে)
রিম্পিঃ না কিছু হয়নি তবে, (মাথা নেড়ে)

অরিনঃ হয়নি আর হবেও না। সবার আগে আমি আমার নাম লিখাবো সেই লিস্টে। (ভাব নিয়ে)
ক্লাস শেষে আহিল বের হয়ে যায়। আহিলের পেছনে পেছনে অরিনও দৌড় দেয়। জোরে দৌড় দেওয়ার জন্য অরিনের পায়ে স্লিপ কাটে অরিন সামনের দিকে পড়ে যেতে নেয় আহিল অরিনকে ধরে ফেলে, অরিন হা হয়ে তাকিয়ে আছে আহিলের দিকে। অনেক স্টুডেন্টরা ক্লাস থেকে বের হয়ে এসেছে। সবাই অরিন আর আহিলকে দেখে অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এশমা বের হয়ে এই দৃশ্য দেখে ভিরমি খায়।

অরিন আহিলের চোখের দিকে তাকিয়ে আছে, আহিল তাকিয়ে আছে অরিনের ঠোঁটের দিকে, কোনো এক অজানা নেশায় ডুব দিচ্ছে আহিল, আহিল কোনো মতে নিজেকে কন্ট্রোল করে, অরিনকে দাঁড় করিয়ে দিয়ে চলে যায়। অরিন আহিলের দিকে তাকিয়ে আছে।
সবাই অরিনকে দেখে একে অপরের কানে কানে ফিসফিস করছে। অরিন সেদিকে পাত্তা না দিয়ে সোজা চলে যায় আহিলের কেবিনে,
অরিনঃ May i coming sir? (দরজার সামনে দাড়িয়ে)

আহিলঃ Yes coming. (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ স্যার, আসলে আমি ঐ ইভেন্ট দুটোতে নাম লেখাতে চাই। (নিচের দিকে তাকিয়ে)
আহিলঃ কোনটায় কোনটায়? (হেলান দিয়ে)
অরিনঃ নাচ আর কবিতা আবৃত্তি। (হেসে)

আহিলঃ না, নাচে নাম দেওয়ার দরকার নেই? (গম্ভীর কণ্ঠে)
অরিনঃ কিন্তু কেনো স্যার? (অবাক হয়ে)
আহিলঃ না তো না। (রেগে)
অরিনঃ আমি নাম দিবো, তাতে আপনার কি সমস্যা? (রেগে)
আহিলঃ মাথা খারাপ করো না। (কপালে আঙুল বুলাতে বুলাতে)
অরিনঃ আজব তো, আমি, (রেগেমেগে)

কথাটা বলার সুযোগ না দিয়েই আহিল এসে অরিনের মুখ চেপে ধরে এক হাত দিয়ে অন্য হাত দিয়ে অরিনের দুহাত চেপে ধরে, আর কানে কানে বলে,
আহিল~ আমার কথার বাহিরে যেও না ফল ভালো হবে না। (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ উমমমমমমম, (চোখ বড় বড় করে)
আহিলঃ অন্য উপায়ে তোমার মুখ বন্ধ করতে পারতাম কিন্তু আজ আর তা করলাম না, (মুচকি হেসে)
অরিনঃ উমমমমমমমমম, (চোখ ঘুরিয়ে)

আহিলঃ ধৈর্য্যের ফল খুব মিষ্টি হয়। সেই অপেক্ষায় আছি। (বাঁকা হাসি দিয়ে)
কথাটা বলে আহিল অরিনকে ছেড়ে দেয়। অরিন ঘুরে এসে বলে,
অরিনঃ আমি এই ইভেন্টে পার্টিসিপ্যান্ট করবো তো করবো। That’s final, (রেগেমেগে)
আহিলঃ Okay Fine. (মাথা নেড়ে)
অরিন ভেংচি মেরে বের হয়ে যায়। আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,

আহিলঃ বুধবারের অপেক্ষা। সেদিন খুব সুন্দর করে তোমাকে স্পর্শ করবো তুমি না বলেছিলে তোমাকে স্পর্শ করতে দলিলে সাইন করতে হবে। নিজের বিপদ নিজে ডেকে এনেছো তুমি এবার দেখবে আহিল রেহমান কি কি করতে পারে। (ডেভিল মার্কা হাসি দিয়ে)

কি হবে বুধবারে? আর আহিল কোন দলিলের কথা বললো? কোন দলিলে সাইন করে আহিল অরিনকে নিজের করে নেবে?


পর্ব ১৫

দেখতে দেখতে বুধবার চলে এলো। অরিন ঘুম থেকে উঠে নাচানাচি শুরু করে দেয় কি পড়বে, কীভাবে সাজবে? অরিন ফ্রেশ হয়ে দৌড়ে ফারিনের রুমে যায়,
অরিনঃ ভাবিইইইইইইই, (চিৎকার করে)

ফারিন ~ তুমি তো আমাকে ভয় পাইয়ে দিলে, (ভয়ে কেঁপে ওঠে )
অরিনঃ তাড়াতাড়ি আমার রুমে চলো, (নাচানাচি করে)
ফারিন ~ কেনো সেটা তো বলবে? (অবাক হয়ে)
অরিনঃ আগে চলো তো, (হাত ধরে)

ফারিন ~ আচ্ছা আচ্ছা, (সায় দিয়ে)
অরিনঃ তাড়াতাড়ি চলো, (তাড়াহুড়ো করে)
ফারিন ~ আস্তে আস্তে পড়ে যাবো তো। (পড়ে যেতে নিয়ে)
অরিন তার ভাবিকে রুমে এনে বেডের উপর বসিয়ে আলমারি থেকে একটা একটা করে ১১ টা লেহেঙ্গা বের করলো। ফারিন বসে বসে অরিনের কান্ড দেখছে। অরিন ছুটে এসে সবগুলো লেহেঙ্গা ফারিনের সামনে রেখে বলে,

অরিনঃ বলো, এর মধ্যে কোনটা সবচেয়ে সুন্দর? (সব লেহেঙ্গাগুলো সামনে রেখে)
ফারিন ~ হঠাৎ সকাল সকাল লেহেঙ্গার মার্কেট নিয়ে বসলে যে? (অবাক হয়ে)

অরিনঃ আরে ভাবি, আজকে আমাদের কলেজে ফাংশন আছে। (লেহেঙ্গার দিকে তাকিয়ে)
ফারিন ~ কিসের? (অবাক হয়ে)
অরিনঃ ৩০ বছর পূর্ণ হওয়ায় পূর্ণমিলন অনুষ্ঠান। তাই তোমাকে ডেকে এনেছি, এই গুলোর মধ্যে যেটা সবথেকে সুন্দর সেটা পড়ে কলেজে যাবো। (হাত ধরে)
ফারিন ~ তাই বুঝি। ঠিক আছে, এদের মধ্যে, হ্যা এইটা (একটা লেহেঙ্গা হাতে নিয়ে)
অরিনঃ কোনটা? (খুজতে খুজতে)

ফারিন ~ ব্লু আর গোল্ডেন কালারের মিক্স কম্বিনেশন। (অরিনের সামনে ধরে)
অরিনঃ আমিও মনে মনে এইটাই চয়েজ করেছিলাম। ভাবি You are great.. (জড়িয়ে ধরে)
ফারিন~ তুমি তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে আসো। আমি তোমাকে সাজিয়ে দিবো কেমন। (অরিনের গালে হাত রেখে)

অরিন তাড়াতাড়ি করে লেহেঙ্গাটা পড়ে আসে। লেহেঙ্গা টার ঘাগড়া উপর দিয়ে নীল আর নিচ থেকে গোল্ডেন কালার। ওড়না টা নীল তার ওপর গোল্ডেন কালারের স্টোন বসানো। আর ব্লাউজ টা নীল তার উপর গোল্ডেন কালারের স্টোন। ফারিন অরিনকে টেনে নিয়ে যায় ড্রেসিং টেবিলের সামনে। ফারিন অরিনের চুল গুলো দুই সাইড করে সামনে থেকে গোল গোল মুড়িয়ে পেছনে ক্লিপ দিয়ে আটকে দেয়। তারপর গালে হালকা ব্লাশিং দিয়ে দেয় হালকা গোলাপি রঙের। তারপর ঠোঁটে গাড় গোলাপি লিপস্টিক, চোখে গাঢ় কাজল কানে এন্টিক এর সিলভার কালারের ঝুমকা, এক হাতে গোল্ডেন কালারের চুরি অন্য হাতে ঘড়ি। সবশেষে ওড়নাটা ঘাগড়ায় গুঁজে ঘুড়িয়ে অন্য সাইডে এনে সামনে রাখে ও অন্যপাশে একগোছা চুল রাখে। ফারিন অরিনকে বলে,

ফারিন ~ আজকে মনে হয় না বাসায় ফিরতে পারবে! (অরিনের কাঁধে হাত রেখে আয়নার দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ কেনো ভাবি? (অবাক হয়ে)
ফারিন ~ তোমাকে যা লাগছে না এক্কেবারে পুতুল।
অরিনঃ এক্কেরে ডাহা মিছা কতা।
ফারিন ~ মোটেও না। (হসতে হাসতে )

অরিনঃ ভাবি দেরি হয়ে যাচ্ছে, আমি এখন যাই। (তাড়াতাড়ি করে)
ফারিন ~ নাস্তা করবে না? (ভ্রু কুঁচকে)
অরিনঃ ক্যান্টিনে খেয়ে নেবো। (তাড়াহুড়ো করে দৌড়ে)

অরিন দৌড়ে দরজার সামনে গিয়ে থেমে যায় আবার ছুটে এসে ফারিনের গালে একটা কিস করে আবার দৌড়ে চলে যায়। ফারিন গালে হাত দিয়ে বলে,
ফারিন ~ পাগলী একটা। (মুচকি হেসে)
অরিন ড্রইং রুমের সামনে গেলে তায়িফ অরিনকে ডেকে বলে,
তায়িফঃ অরিন শোন। (ল্যাপটপে কাজ করতে করতে)
অরিনঃ ভাইয়া তাড়াতারি বলো, (তাড়াহুড়ো করে দাঁড়িয়ে)

তায়িফঃ এভাবে পেত্নী সাজ দিয়ে সাদ সকালে কোথায় যাওয়া হচ্ছে শুনি? (ভাব নিয়ে)
অরিনঃ তুমি আমাকে পেত্নী বললে? (রেগেমেগে)
তায়িফঃ না না মোটেই না, আমি তো তোকে পরী বললাম। (মুচকি হেসে)
অরিনঃ মিথ্যাবাদী। (রেগেমেগে)

তায়িফঃ এই চাবিটা নে। (পকেট থেকে বের করে)
অরিনঃ কিসের চাবি? (অবাক হয়ে)
তায়িফঃ তোর নিউ স্কুটির। (হেসে)
অরিনঃ ভাইয়া ও ভাইয়া রে তুমি কত্ত ভালো রে, (দৌড়ে এসে তায়িফকে জড়িয়ে ধরে)

তায়িফঃ হয়েছে আর পাম দিতে হবে না (মুখ বাকিয়ে)
অরিনঃ ঠিক আছে এখন তো সময় নেই, কলেজ থেকে এসে পাম দিবোনি কেমন। (হেসে )
তায়িফঃ তবে রে! (মারতে নিয়ে)
অরিন দৌড়ে বাহিরে চলে আসে। পার্কিং জোনে গিয়ে দেখে একটা নিউ ব্লু রঙের স্কুটি। অরিন অবাক হয়ে গেলো স্কুটিটা দেখে। স্কুটিটা অনেক সুন্দর। অরিন স্টুটিটার দিকে তাকিয়ে বলে,

অরিনঃ আজ থেকে তুমি আমার ফ্রেন্ড। তোমার একটা নাম দেওয়া উচিত, হ্যাঁ তোমার নাম নীল। ওয়াও I’m so বুদ্ধিমতী। চলো এবার তোমাকে নিয়ে গন্তব্য পাড়ি জমাই। (স্কুটিতে উঠে)
অরিন স্কুটিতে উঠে, স্কুটি স্টার্ট দেয়। স্কুটি চালিয়ে সোজা কলেজে চলে আসে তারপর পার্কিং সাইডে স্কুরি পার্ক করে। অরিন স্কুটির সিটে হাত বুলাতে বুলাতে বলে,
অরিনঃ মন খারাপ করো না, একটু পরেই চলে আসবো তোমার কাছে ততক্ষণ তুমি এখানে দাঁড়িয়ে থাকো।

অরিন দৌড়ে সামনে যেতে নিলে অরিনের হাই হিল স্লিপ কাটে আর অমনি কেউ একজন খপাৎ করে অরিনের হাত ধরে ফেলে। অরিন তাকিয়ে দেখে সেই মহান ব্যাক্তি আর কেউ নন আমার হিরো থু্ক্কু অরিনের হিরো আহিল। আহিল অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে অরিনের দিকে। অরিন ভেংচি মেরে বলে,
অরিনঃ এভাবে ভেটকি মাছের মতো তাকিয়ে আছেন কেনো? (ভেংচি মেরে)
আহিলঃ What? (ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে)

অরিনঃ এমন ভাব করছেন মনে হয়, জীবনেও ভেটকি মাছের নাম শোনেনি। (ভ্রু কুঁচকে)
আহিলঃ আমাকে দেখে তোমার ভেটকি মাছ মনে হয়? (রেগেমেগে)
অরিনঃ সাদা গন্ডারের মতো মনে হয়। (বিড়বিড় করে)
আহিলঃ What the hell? (রেগে)
অরিনঃ কিছুই না। (ভাব নিয়ে)

অরিন সেখান থেকেও দৌড় দেয়। আহিল কিছু বলতে গিয়েও পারলো না। আহিল দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
আহিলঃ বড্ড বার বেরেছো, তোমাকে শায়েস্তা করার সব ব্যাবস্থা করা শেষ। দেখো তোমার কি করি।
অরিন দৌড়ে কলেজের ভেতর চলে আসে। সবাই অরিনকে অবাক হয়ে দেখছে। অরিন মনে মনে বলে,
অরিনঃ আরে, সবাই আমাকে এভাবে দেখছে কেনো? মনে হয় চিড়িয়াখানার কোনো প্রাণীকে দেখছে। আরে আমি এতো ভাবছি কেনো আমি তো অনেক কিউট পিউট একটা পরী। (ভাব নিয়ে)

আরাফ, নেহা, রিম্পি, এশমা এক জায়গায় দাড়িয়ে কথা বলছিলো অরিন জোরে ডাক ওদের। ওরাও অরিনকে দেখে হা হয়ে যায়। রিম্পি অরিনকে দেখে বলে,
রিম্পিঃ এই কি আমাদের অরিন? নাকি অন্য কেউ? (পা থেকে মাথা পর্যন্ত তাকিয়ে)
অরিনঃ আমি অরিন রাফিয়া অরিন। (ভাব নিয়ে)
নেহা ~ সত্যি অরিন তোকে দারুন লাগছে, just wow.
আরাফ ~ তোকে দেখে যে কেউ প্রেমে পড়ে যাবে। (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ তুই সাবধানে থাকিস তাইলে। (আড়চোখে তাকিয়ে)
এশমাঃ একদম ঠিক। (তাল মিলিয়ে)

সাইফ এসে অরিনের মাথায় টোকা দিয়ে বলে,
সাইফ ~ আমি তো তোর প্রেমে পড়ে গেছি। এবার কি হবে। (মুচকি হেসে)
অরিনঃ এবার তোকে কেলানো হবে। (রেগেমেগে)
আহিলঃ নরম হাতের কেলানো খেতে আমার ভালোই লাগবে। (হেসে)
অরিনঃ তবে রে শয়তান। (মারতে গিয়ে)

তখনই সবাইকে এক জায়গায় জড়ো হতে বলা হয়। সবাই চলে যায় সেখানে। যে যার মতো চেয়ারে বসে পড়ে। প্রিন্সিপাল স্যারও এসেছে অনুষ্ঠানে। একে একে সব ইভেন্ট শেষ হতে লাগলো কিন্তু কবিতা, নাচে অরিনের নাম ডাকা হয়নি। অরিন রেগেমেগে বসে আছে। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে গেছে। নাচে সিনিয়র ক্লাসের জেনি ফার্স্ট হয়েছে আর কবিতায় ও। সবাই বলাবলি করছে অরিন থাকলে অরিনই দুইটায় ফার্স্ট হতো। অরিনের মন খারাপ হয়ে যায়। অরিন মনে মনে বলে,
অরিনঃ আমার সাথে এমনটা করবেন সেটা ঠিক জানতাম। ধুর থাকবোই না এখানে।
অরিন উঠে হনহন করে চলে আসে পার্কিল লনে। সবাই অনুষ্ঠানে ব্যাস্ত তাই কোনো ফ্রেন্ডরাই খেয়াল করেনি অরিন চলে এসেছে। অরিন স্কুটির কাছে দাড়িয়ে রাগে গজগজ করতে করতে বলে,

অরিনঃ এখন ঐ জেনি নিশ্চয়ই ভাব মেরে বলবে, কি হলো অরিন এবারতো আমি ফার্স্ট হলাম। ধুর,
তখনই একটি হাত অরিনের মুখ চেপে ধরে অন্যহাত অরিনের হাত দুটো চেপে ধরে। তারপর অরিনকে টেনে নিয়ে যায় কলেজের পাশের একটা নির্জন রাস্তায়। অরিন চিৎকার করতে চেয়েও পারছে না কারণ অরিনের মুখ চেপে ধরা। সেই রাস্তায় গিয়ে অরিনকে ছেড়ে দেয়। অরিন ঘুরে তাকায়,
অরিনঃ তামিন তুমি?
তামিন ~ কেনো অবাক হলে?

অরিনঃ অসভয়তামির একটা সীমা থাকে যেটা তুমি ক্রস করেছো।
তামিন ~ তাই, তাহলে এখন তাই করবো।
অরিনঃ কি করবে?
তামিন ~ যা করবো তা ভাবতেও পারবে না। সেদিন সবার সামনে আমাকে অপমান করেছো। কি ভেবেছো? এতো সহজে তোমাকে ছেড়ে দেবো। No way,
অরিনঃ ভালো হচ্ছে না তামিন।

অরিন তামিনকে ধাক্কা দিয়ে দৌড় দিতো নিলে দেখে ১৪/১৫ টা ছেলে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তামিন অরিনের হাত ধরে হেচকা টান দিয়ে জড়িয়ে ধরে। অরুন ধাক্কা দিতে চাইলেও পারছে না। অরিন জোরে চিৎকার করে। তামিন অরিনের ওড়না টান মেরে সরিয়ে ফেলে। অরিন দৌড়ে যাবে তার আগেই তামিন আবারও জড়িয়ে ধরে অরিনকে আর বলে,
তামিন ~ I love you orin
অরিনঃ I hate you damned,

তখনই একটা গুলি এসে তামিনের হাত ভেদ করে চলে যায়। অরিন থমকে যায়। আশেপাশের ছেলেগুলো বুলেটের শব্দ শুনে দৌড়ে পালায়। তামিন অরিনকে ছেড়ে দিয়ে নিজের হাত ধরে সামনে তাকায় দেখে রোডলাইটের আলোতে অনেকগুলো লোক দাঁড়ানো তাদের ঠিক মাঝখানে হালকা ক্রিম কালার শার্ট পড়া একটি ছেলে মুখ বাঁধা রুমাল দিয়ে হাতে পিস্তল। সেই ছেলেটা হাতের ইশারায় বলে,
অজানা ~ বয়েস, একটা ছেলেরও যেনো হাড় আস্ত না থাকে।

কথাটা বলে দুই আঙুল উঠিয়ে ইশারা করার সাথে সাথে গার্ডরা বদমাশ ছেলেগুলো ধরার জন্য দৌড়ে যায়। সেই ছেলেটা তামিনের সামনে গিয়ে পিস্তল দিয়ে মাথায় জোরে বারি দেয়। তামিন মাথা ঘুরে পড়ে যায়। তারপর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অরিনের দিকে এগুতে থাকলে, অরিন দৌড় দিতে নিলে ছেলেটা হাত ধরে টান দেয় আর অরিন সামনে চলে আসে সাথে সাথে ছেলেটা মুখের রুমাল সরিয়ে ফেলে। অরিনের চোখ চড়কগাছ হয়ে গেছে ছেলেটিকে দেখে। কারণ সে আর কেউ নয় আহিল। আহিল ভয়ংকর রুপ ধারণ করেছে। চোখ দুটো অসম্ভব লাল হয়ে গেছে। আহিল চটপট করে অরিনের মুখ বেধে ফেলে রুমাল দিয়ে আর পাশে পড়ে থাকা ওড়না দিয়ে অরিনের হাত বেধে ফেলে। অরিন কিছু বুঝে ওঠার আগেই আহিল এই কাণ্ড করলো তারপর আহিল অরিনকে কাঁধে তুলে নেয়। অরিন নাচানাচি শুরু করে দেয় আহিল অরিনকে গাড়িতে বসিয়ে নিজেও গাড়িতে উঠে


পর্ব ১৬

অরিন গাড়ির মধ্যে নাচানাচি শুরু করে দেয়। অরিন আহিলকে ইশারায় বলছে, হাতের বাঁধন আর মুখের রুমাল খুলে দিতে। আহিল গাড়ির স্টেয়ারিং ধরে সামনের দিকে আছে। অরিনের কর্মকাণ্ডে বিরক্ত হয়ে, সোজা পিস্তল বের করে কপালে চেপে ধরে বলে,
আহিল~ অতিরিক্ত নাচানাচি করলে পিস্তলের সব কয়টা বুলেট তোমার মাথা ভেদ করে চলে যাবে। মেরে লাশ গুম করে দেবো কেউ জীবনেও খুঁজে পাবে। (অরিনের দিকে তাকিয়ে)

~ উমমমমমমমমমমমমমম। (মাথা নেড়ে)
~ কি উমম উমম করছো? যদি বাঁচতে চাও চুপ করে বসে থাকো নড়াচড়া করলেই ডিরেক্ট শুট। (রেগেমেগে)
~ হুমমমমমমমম। (মাথা নেড়ে)

আহিল গাড়ি স্টার্ট দেয়। অরিন চুপ করে বসে আছে সিটে আর মনে মনে আহিলের চৌদ্দ পুরুষকে উদ্ধার করছে,
অরিনঃ আরে শুঁটকি মাছ, আমার মুখের দিকে সবাই সব ভুলে যায় আর তুই কিনা আমাকে মারার জন্য উঠে পড়ে লেগেছিস। আরে ঢেঁড়স জানিস আমার কতো ইচ্ছে, বিয়ে করে জামাইকে দিয়ে রান্না করিয়ে খাবো। সব কাজ করাবো। আর এই সাদা হনুমান কিনা আমাকে মারতে চায়! তোর কপালে বউ জুটবে না এই বলে দিলাম। কিন্তু এই শয়তানটা আমাকে নিয়ে কোথায় যাচ্ছে? (আহিলের দিকে আড়চোখে তাকিয়ে)

অরিন আবারও নড়াচড়া শুরু করে দেয়। আহিল গাড়ি থামিয়ে, বিরক্ত হয়ে অরিনের মুখের রুমাল সরিয়ে দেয় আর ধমক দিয়ে বলে,
আহিলঃ সমস্যা কি তোমার? (রেগেমেগে)
অরিনঃ খিদে পেয়েছে (বাচ্চাদের মতো মুখ করে)

আহিলঃ What? এই মোমেন্টে তোমার খিদে লেগেছে? (ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে)
অরিনঃ আমি কথা না বলে থাকতে পারিনা। কথা না বললেই খিদে পেয়ে যায়। সেটা কি আমার দোষ? (মন খারাপ করে)
আহিলঃ Are you crazy? (রেগে)
অরিনঃ বেশি কিছু না আপাতত তিনটা বার্গার আর দুইটা স্যান্ডউইচ, একটা হটডগ আর এক বোতল কোকা কোলা হলেই হবে। (হাসিমুখে)
আহিলঃ এ কেমন মেয়ে? You shut up. (মুখ চেপে ধরে)

অরিনঃ ভালো করে কথা বললে কি আপনার মহাভারত উল্টে যাবে? (ভেংচি মেরে)
আহিলঃ আর একটা কথা বললে আমার থেকে খারাপ আর কেউ হবে না। (রেগেমেগে)
~ আমাকে বাসায় যেতে দিন প্লিজ না হয় বাবা আমাকে আর বাসায় ঢুকতে দিবে না (কাঁদো কাঁদো সুরে)
আহিলঃ তোমাকে এতো সহজে ছাড়ছি না। (বাঁকা হাসি দিয়ে)

অরিনঃ আপনি এতো খারাপ! একটা অবলা মেয়েকে তুলে এনেছেন রাস্তা থেকে। (রেগেমেগে)
এবার আহিলের রাগ চরম মাত্রায় পৌঁছে গেলো। আহিল অরিনের গলা চেপে ধরে বলে,
আহিলঃ এতই অবলা তাহলে অন্য ছেলেকে জড়িয়ে ধরলি কি করে? মেয়েদের আমার খুব ভালো করে চেনা আছে। (গলা চেপে ধরে)
অরিনঃ আপনি এভাবে বলতে পারেন না। (মাথা নেড়ে)

আহিল অরিনের মুখ বেধে দেয় রুমাল দিয়ে আবারও গাড়ি স্টার্ট দেয়। আহিল আড়চোখে অরিনকে দেখে মনে মনে বলে,
আহিলঃ এখনো কিছুই দেখোনি। Just wait and see, (বাঁকা হাসি দিয়ে)
কিছুক্ষণের মধ্যে গাড়ি এসে থামে একটা বাড়ির সামনে। বাড়িটা রং বেরঙের বাতি দিয়ে সাজানো হয়েছে। আহিল বের হয়ে অরিনকে কোলে নিয়ে বাড়ির মধ্যে ঢোকে। পুরো বাড়ি খুব সুন্দর করে সাজানো ফুল দিয়ে। আহিল অরিনকে নিয়ে যায় একটা রুমিকে। আহিল অরিনকে বেডের উপর বসিয়ে তারপর অরিনের পাশে বসে, অরিনের মুখের রুমাল সরিয়ে দেয়, আর তো অরিনের বকবকানি মেশিন স্টার্ট,

অরিনঃ আরে আমাকে এ কোথায় নিয়ে এলেন? আম্মু বাঁচাও এই ভিলেন আমাকে তুলে নিয়ে এলো। বাবা, বাবা? (চিৎকার করে)
আহিলঃ আমি ভিলেন না হিরো। (রেগে)
অরিনঃ যেই না চেহারা নাম রেখেছে পেয়ারা। কেউ তো বাঁচাও এই ডেভিলের হাত থেকে? (ভেংচি মেরে)
আহিলঃ যতো পারো চেচামেচি করো সমস্যা নেই তবে তোমার চিৎকার কেউ শুনবে না। (পকেটে হাত রেখে বাঁকা হাসি দিয়ে )
অরিনঃ আমাকে ছেড়ে দিন না। (অসহায় দৃষ্টিতে)

আহিলঃ তাহলে, আমি কি পাবো? (ভ্রু নাচিয়ে)
অরিনঃ দেখুন আমার কাছে একটা টাকাও নেই, আর এই যে অর্নামেন্টস গুলো এগুলো সব নরমাল। (অসহায় ভাবে)
আহিলঃ তোমার কি মনে হয় আমি তোমাকে হাইজেক করার জন্য তুলে এনেছি। আমার টাকার অভাব নেই বুঝতে পেরেছো এ শহরের টপ রিচ ম্যান আমি। (রেগেমেগে)
আহিল তার একজন গার্ডকে ডাক দেয়,

আহিলঃ শ্যাম্পেইন এর বোতল টা নিয়ে এসো। (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ ক্যাম্পেইন? ক্যাম্পেইনে তো টিকা দেয়। না না আমার টিকার দরকার নেই। (অবাক হয়ে)
আহিলঃ কিহহ্। (ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে )
অরিনঃ আমি ছোটবেলায় ক্যাম্পেইন এ গিয়ে পোলিও ক্যাপসুল খেয়েছি এক সাথে চার পাঁচটা এখন আর দরকার নেই। (মুখ বাকিয়ে)
আহিলঃ You bloody fool, Champaign not campaign.. (রেগেমেগে)

অরিনঃ সেটা আবার কি? (অবাক হয়ে)
আহিলের গার্ড এসে তাকে শ্যাম্পেইনের বোতল দিয়ে যায়। অরিন বুঝতে পারে এটা নিশ্চয়ই কোনো বাজে জিনিস। আহিল বাঁকা হাসি দিয়ে অরিনের দিকে তাকায়, অরিন ভয়ে ঢোক গিলে। আহিল একটা গ্লাসে শ্যাম্পেইন ঢেলে অরিনের কাছে আসে, অরিন বলে,
অরিনঃ এমা, ছিঃ ছিঃ কি বিচ্ছিরি গন্ধ। (নাক কুঁচকে)

আহিলঃ নাও হা করো। (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ মরে গেলেও না। (মুখ ফিরিয়ে)
আহিলঃ ভালোয় ভালোয় হা করো না হয়, (রেগে)
অরিনঃ হা কেনো হু ও করবো না। (ভেংচি মেরে)

আহিল অরিনের গাল চেপে ধরে অরিনের মুখে সব ঢেলে দেয়। অরিন নাক ছিটকে বলে,
অরিনঃ ছিঃ এ কোন ছাইপাঁশ খাওয়ালেন। আপনি একটা হনুমান, বদের হাড্ডি, সাদা গন্ডার বান্দরবানের বানর আর যেনো কি? (ভাবতে ভাবতে)
আহিলঃ একটু পরেই এ্যাকশন শুরু হয়ে যাবে। (ডেভিল মার্কা হাসি দিয়ে)
অরিনঃ মানে কিসের এ্যাকশন। (অবাক হয়ে)

আহিলঃ Wait baby wait. (মুচকি হেসে)
আহিল রুম থেকে বের হয়ে যায়। অরিনের মাথায় চক্কর দিয়ে ওঠে। অরিন এদিকে সেদিকে তাকিয়ে বলছে,
অরিনঃ একি সব ডাবল ডাবল কেনো দেখছি। ঘরটা এভাবে ঘুরছে কেনো? (চোখ ঘুরিয়ে)
আহিল একটু পরে রুমে চলে আসে সাথে আরও দুইটা মেয়ে আসে সাথে রেড কালার ব্রাইডাল লেহেঙ্গা, গয়না আর মেকাপ কিটস। অরিন ঘাড় বাঁকা করে চোখ বন্ধ করে আছে। আহিল অরিনের মাথায় হাত রাখে। অরিনকে অনেক বেশি মায়াবি লাগছে। আহিল অরিনের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলে,
আহিলঃ রাফিয়া চোখ খোলো। (অরিনের দিকে তাকিয়ে)

অরিনের কোনো খবর নেই। আহিল একটু জোরে ধাক্কা দেয়, অরিন চোখ মেলে তাকায়। অরিন কিছুক্ষণ আহিলের দিকে তাকিয়ে হো হো করে হেসে ওঠে। আহিল অরিনকে বলে,
আহিলঃ Are you ok.. (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ এ মশাই আপনি কে? (ভ্রু কুচকে)

আহিলঃ আমি! (অবাক হয়ে)
অরিনঃ এই মেয়েরা আমার দিকে হা করে কি দেখছো?
আহিলঃ কাজ হয়ে গেছে (মনে মনে)
আহিল পকেট থেকে ফোন বের করে সাজিদকে কল করে। সাজিদ ফোন রিসিভ করে বলে,

সাজিদঃ হ্যাঁ ভাই বলো।
আহিলঃ সব রেডি?
সাজিদঃ হ্যাঁ ভাই রেডি!
আহিলঃ হুম। রাখছি। টুট টুট টুট।

আহিল মেয়েদের দিকে তাকিয়ে বলে,
আহিলঃ আপনাদের কাজ শুরু করে দিন। সময় আধ ঘন্টা।
আহিল বের হয়ে যায় রুম থেকে। মেয়েরা অরিনের কাছে যায়।


পর্ব ১৭

মেয়েগুলো অরিনের হাতের বাঁধন খুলে দেয়। অরিন বারবার হেলে পড়ে যাচ্ছে। মেয়েরা বলছে অরিনের দিকে তাকিয়ে,
মেয়েটি ~ বাহ্, তুমি তো অনেক সুন্দরী! স্যারের চয়েজ আছে বলতে হবে। (অরিনের গাল টেনে)
অপর মেয়েটি ~ একদম ঠিক বলেছো, দুজনকে পাশাপাশি দারুণ লাগবে। তাড়াতাড়ি করো, সময় নেই হাতে। (তাকিয়ে)
~ হুম চলো।

তারা তাদের কাজ শুরু করে দিলো। আহিল বাহিরে দাঁড়িয়ে আছে আর ভাবছে অরিনের কথা গুলো মনে করে, আহিল তার মাথায় হালকা টোকা দিয়ে বলে,
আহিলঃ মেয়েটা সত্যি অন্যরকম। বয়স বাড়লেও বাচ্চা পনা ভাবটা রয়ে গেছে। কথা না বললে খিদে লাগে 😂 এই প্রথম শুনলাম। যত দেখি ততই অবাক হয়ে যাই, একটা মানুষ এতটা অসাধারণ কি করে হতে পারে। কিন্তু আজ যে কাজটা করতে হচ্ছে শুধুমাত্র তোমার কথার জন্য, এমনটা করবো যাতে তুমি বাধ্য হও আমাকে ভালোবাসতে। I। promise, তোমাকে আমার করেই ছাড়বো। (মুচকি হেসে)

এদিকে অরিনকে সাজানো শেষ। অরিনকে রেড কালার ব্রাইডাল লেহেঙ্গা পড়েছে তার সাথে ভারি গহনা গোল্ডের। অরিন একের পর এক পাগলামি করেই যাচ্ছে। সাঁজ শেষে মেয়ে দুটো অরিনকে বলে তোমাকে পুরাই নায়িকার মতো লাগছে। একদম সুন্দরী ললনা। অরিন হেসে হেসে বলা শুরু করে,
অরিনঃ বঙ্গ ললনা me বঙ্গ ললনা সুপার সে উপার হে ইয়ে বঙ্গ ললনা। (নাচানাচি করে)
একটি মেয়ে অন্যজনের দিকে তাকিয়ে বলে,
মেয়েটি ~ আমি স্যারকে বলে আসি, সাজানো শেষ। (কাঁধে হাত রেখে)
অপর মেয়েটি ~ আচ্ছা। (মাথা নেড়ে)

মেয়েটি গিয়ে আহিলকে বলে। আহিল তাদের বিল পে করে যেতে বলে। মেয়েরা চলে যায়। আহিল রুমের মধ্যে যায়, অরিন বসে আছে বেডের উপর, আহিলকে দেখে অরিন উঠে চলে আসে আহিলের কাছে,
অরিনঃ আমাকে একা রেখে কোথায় গিয়েছিলে? আমার বুঝি ভয় করে না। (অভিমানী সুরে)
আহিলঃ বাচ্চা মানুষ ভয় পাবে এটায় তো অস্বাভাবিক কিছু না। (তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে)
অরিনঃ বাচ্চা কে? কাকে বাচ্চা বললে? (রেগে)

আহিলঃ আমার সামনে যে দাঁড়িয়ে আছে তাকে বললাম। (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ আমি বাচ্চা নই। বুঝলেন মিস্টার, (রেগেমেগে)
আহিলঃ বাহ, তোমাকে তো অনেক সুন্দর লাগছে। (বাঁকা হাসি দিয়ে)
অরিনঃ তাহলে দাও, (হাত বাড়িয়ে দিয়ে)
আহিলঃ কি দিবো? (অবাক হয়ে)

অরিনঃ চকলেট দাও। (হেসে)
আহিলঃ এখন তো চকলেট নেই আমার কাছে অন্য কিছু দিলে চলবে, (দুষ্ট হাসি দিয়ে)
অরিনঃ হ্যাঁ চলবে। (মাথা নেড়ে)

আহিল অরিনের কাছাকাছি আসলেও আহিল দূর্বল সরে গিয়ে বলে,
আহিলঃ একটু অপেক্ষা করো। পেয়ে যাবে। (ডেভিল মার্কা হাসি দিয়ে)

কথাটা বলে আহিল অরিনকে ছেড়ে দিয়ে আলমারি থেকে একটা ক্রিম ও রেড কালার মিক্সড একটা শেরওয়ানি হাতে নিয়ে ওয়াশরুমে যায়। অরিন আহিলের দিকে তাকিয়ে আছে অবুঝের মতো। আহিল ওয়াশরুমের মধ্যে যায়। অরিন টলতে টলতে ওয়াশরুমের দরজার সামনে দাড়িয়ে থাকে। আহিল শেরওয়ানি পড়ে বের হওয়ার জন্য দরজা খুলতে নেয় আর তখনি অরিন আহিলের উপর পড়ে যায়। আহিল হতভম্ব হয়ে যায় অরিনের কান্ড দেখে, আহিল বিরক্ত হয়ে বলে,
আহিলঃ তুমি দরজার সামনে কি করছিলে? (রেগে)
অরিনঃ ভয় করছিলো তো?(অসহায় ভাবে তাকিয়ে)

আহিলঃ তাই বলে দরজার সামনে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকবে আরেকটু হলেই তো নিচে পড়ে যেতে। (রেগে )
অরিনঃ তার আগেই তো তুমি আমাকে ধরে ফেললে। (হেসে)
আহিলঃ না ধরলে? (ভ্রু কুঁচকে)
অরিনঃ পড়ে যেতাম। (মাথা বাঁকা করে)
আহিল অরিনকে ধরে বাহিরে নিয়ে আসে। আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
আহিলঃ চলো এবার। (হাত ধরে)

অরিনঃ কোথায় যাবো? (আহিলের দিকে তাকিয়ে)
আহিলঃ ড্রইং রুমে। (বিরক্ত হয়ে)
অরিনঃ কেনো? (অবাক হয়ে)
আহিলঃ সবাই অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। (বিরক্ত হয়ে)
অরিনঃ কেনো অপেক্ষা করছে? (আহিলের দিকে তাকিয়ে)

আহিলঃ তোমার আর আমার বিয়ে দিবে তারা এজন্য অপেক্ষা করছে। (হেসে)
অরিনঃ আমার বিয়ে Hip hip hurray (হাত তালি দিয়ে নাচা শুরু করে)
আহিলঃ এ কেমন মেয়েরে বাবা, নিজের বিয়ের কথা শুনে নাচা শুরু করে দিলো। (মনে মনে)
অরিনঃ আমার বিয়ে, আচ্ছা আমার বর কে? (গালে হাত রেখে)
আহিলঃ তোমার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে। (ভাব নিয়ে)

অরিনঃ তুমি আমার বর? (অবাক হয়ে)
আহিলঃ Any doubt? (ভাব নিয়ে)
অরিনঃ চলো তাড়াতাড়ি বিয়ে করবো। (আহিলের হাত ধরে)
আহিলঃ এখন না বুঝে বলছো! সকাল বেলা তোমার এক্সপ্রেশনটা কেমন হবে? সেটাই ভাবছি। (মনে মনে)
অরিনঃ কি হলো চলো না। (তাড়াহুড়ো করে)
আহিলঃ হুম চলো। (মাথা নেড়ে)

অরিনঃ না যাবো না। (দাঁড়িয়ে)
আহিলঃ আবার কি হলো? (বিরক্ত হয়ে)
অরিনঃ কোলে নাও। (হেসে হেসে)
আহিলঃ কিহহ (অবাক হয়ে )
অরিনঃ কোলে না নিলে, আমি যাবো না বলে দিলাম। (রাগ করে)
আহিলঃ আর কতো কি দেখতে হবে আল্লাহ জানেন। (দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে)

আহিল এসে অরিনকে কোলে তুলে নেয়। অরিন আহিলের বুকে মুখ লুকায়। নিচে ড্রইং রুমে সাজিদ বসে আছে সাথে একজন কাজী আর কয়েকজন লোক. সাজিদ কথা বলতে বলতে সিড়ির দিকে তাকায়, সাজিদ মুচকি হেসে আবারও তার কাজে মন দেয়। আহিল ড্রইং রুমে আসার সাথে সাথে সবাই দাড়িয়ে যায়। অরিন লাফ দিয়ে নেমে যায় কোল থেকে। সবাই অবাক হয়ে যায় অরিনের কান্ড দেখে। অরিন সাজিদের দিকে তাকিয়ে বলে,
অরিনঃ তুমি আমাদের বিয়ে দেবে? (সাজিদের দিকে তাকিয়ে)

সাজিদঃ আমি না কাজী সাহেব বিয়ে পড়াবেন মিস. মাফিয়া হরিণ। (মুচকি হেসে)
অরিনঃ এই এই তোমার সাহস তো কম না আমাকে হরিণ বলো তাও আবার মাফিয়া হরিণ। (রেগেমেগে)
সাজিদঃ আচ্ছা সরি। এই কান ধরলাম। (কান ধরে)
অরিনঃ ঠিক আছে। কাজী এখনও বিয়ে পড়াচ্ছেন না কেনো। (ব্যাস্ত হয়ে )

আহিল অরিনের অবস্থা দেখে সাজিদকে ইশারা করে কাজ শুরু করানোর জন্য। সাজিদ ইশারা করে কাজীকে। কাজী তার কাজ শুরু করেন, আহিল অরিনকে তার পাশে বসায়। কাজী সব রেডি করে অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
কাজী ~ বলুন কবুল, (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ কি বলবো? (কান সামনে পেতে)
কাজী ~ তিনবার কবুল বলুন, (জোরে)

অরিনঃ কি তিন বার, আমি একসাথে একহাজার বার বলে দিলাম কবুল কবুল কবুল কবুল কবুল কবুল কবুল কবুল কবুল কবুল কবুল কবুল কবুল কবুল কবুল কবুল কবুল কবুল কবুল কবুল কবুল কবুল কবুল কবুল কবুল কবুল কবুল কবুল কবুল কবুল কবুল কবুল কবুল কবুল কবুল। (চোখ বন্ধ করে)
আহিল অরিনের মুখ চেপে ধরে কাজীর দিকে তাকিয়ে বলে,
আহিলঃ কবুল কবুল কবুল। (কাজীর দিকে তাকিয়ে)

কাজী পুরোপুরি অবাক অরিনের অবস্থা দেখে। আহিল কাজীর মুখের সামনে আঙুলে তুড়ি বাজিয়ে বলে,
আহিলঃExcuse me আর কি কি ফর্মালিটি আছে? (রাগী সুরে)
কাজী ~ এই পেপারে সাইন দরকার আপনাদের দুজনের। (পেপার এগিয়ে দিয়ে)

আহিলঃ পেপার দিন। (হাতে এনে)
কাজী আহিলের সামনে পেপার দেয়। আহিল সাইন করলেও অরিন সাইন করতে চায় না। আহিল অরিনের হাতে কলম দিয়ে তারপর আহিল অরিনের হাতে হাত রেখে সাইন করায়। সাজিদের দিকে তাকিয়ে আহিল বলে,
আহিলঃ টাকা দিয়ে এদের বিদায় কর। (রাগী লুকে)

সাজিদঃ ঠিক আছে ভাই। (মাথা নেড়ে)
তখনি অরিন বলে ওঠে,
অরিনঃ আমি বাসায় যাবো। (দৌড় দিতে নিয়ে)
আহিলঃ কোথাও যেতে পারবে না। (হাত ধরে)
অরিনঃ ছাড়ো আমাকে, আমি যাবো। (হাত ছাড়াতে নিয়ে)

আহিল অরিনকে কোলে নিয়ে উপরে চলে যায়। অরিন এলোপাতাড়ি ঘুষি মারছে আহিলকে। কিন্তু আহিলের কোনোকিছু হয়না তাতে। আহিল অরিনকে বেড রুমে নিয়ে বিছানার উপর ছুড়ে মেরে ফেলে দেয়। অরিন অসহায় দৃষ্টিতে তাকায় আহিলের দিকে। আহিল শেরওয়ানি খুলতে খুলতে বলে,
~ সেদিন যেনো কি বলেছিলে? তোমাকে স্পর্শ করতে হলে দলিলে সাইন করতে হবে। হ্যাঁ, দলিলে সাইন করলাম এবার তোমার কি হবে।
~ আমি যাবো! আমাকে যেতে দাও।

অরিন উঠতে নিলে আহিল অরিনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় বেডের উপর। অরিন হাত পা ছুড়তে থাকে। আহিল অরিনের হাত চেপে ধরে বালিশের সাথে তারপর অরিনের ওষ্ঠের সাথে ওষ্ঠ চেপে ধরে। কিছুক্ষন পরে আহিল অরিনকে ছেড়ে দেয়। আহিল উঠে চলে আসে, আর মনে মনে বলে,
~ রেডি থাকো কাল থেকে শুরু হবে তোমার জীবনের নতুন দিন।

অরিনের মাথা ঘুরতে থাকে অরিন বেডেই ঘুমিয়ে পড়ে। সকাল সকাল ঘুম ভেঙে যায় অরিনের। অরিন লম্বা হাই তুলে ঘুম থেকে উঠে বসে। আশে পাশে তাকিয়ে দেখে রুমটি অচেনা। অরিন অবাক হয়ে যায় তারপর দেখে তার গায়ে নতুন লেহেঙ্গা ভারি ভারি গয়না। অরিন চমকে যায় এসব দেখে। অরিন মাথায় হাত দিয়ে বলে,
অরিনঃ আমি কোথায় এলাম? আর এসব কখন পড়লাম। আমি সারারাত এখানে ছিলাম। (ছলছল চোখে)

আহিলঃ হ্যাঁ তুমি সারারাত এখানেই ছিলে আমার সাথে এক বাসায় এক ছাঁদের নিচে আর এক বেডে। (বাঁকা হাসি দিয়ে)
অরিন কথা গুলো শুনে রীতিমতো শক খায়। অরিন পেছনে তাকিয়ে দেখে আহিল ওয়াশরুম থেকে বের হয়েছে চুল মুছতে মুছতে। অরিন আহিলের দিকে তাকিয়ে বলে,
অরিনঃ আপনি? (অবাক হয়ে)

আহিলঃ এখানে আমি ছাড়া আর কে~ই বা থাকবে? (ভাব নিয়ে)
অরিনঃ আপনি তাহলে এসব করেছেন? (রেগে)
আহিলঃ কি করেছি? শুধুমাত্র বিয়ে করেছি। (তাচ্ছিল্যের ভাব নিয়ে)
আহিলের কথা শুনে অরিনের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। অরিনের চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়লো। অরিন আহিলের দিকে তাকিয়ে বলে,
অরিনঃ কখনো না, আপনি মিথ্যা বলেছেন? (রেগেমেগে)

আহিলঃ আমার থেকে তো তুমি বেশি এ্যাক্সাইটেড ছিলে কালকে? (হেসে)
অরিনঃ আমি বিশ্বাস করি না। (রেগে)
আহিলঃ সব ভিডিও করা আছে। ওয়েট তোমাকে দেখাচ্ছি,
আহিল ল্যাপটপে সব ভিডিও দেখায় অরিনকে। অরিন বিশ্বাস করতে পারছে না সে এমন করছে। আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
আহিলঃ তোমার কথা আমি রেখেছি। (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ কি কথা? (অবাক হয়ে)

আহিলঃ তোমাকে স্পর্শ করতে দলিলে সাইন করতে হবে! সেই সাইন করা শেষ এবার যখন খুশি তোমাকে স্পর্শ করতে পারবো। (বাঁকা হাসি দিয়ে)
অরিনঃ আপনি এতো নিচ। (ঘৃনার দৃষ্টিতে তাকিয়ে)
আহিলঃ সে যাই বলো I don’t care? (তাচ্ছিল্যের সুরে )
আহিল অরিনকে চেপে ধরে দেয়ালের সাথে। অরিন রাগে ক্ষোভে আহিলের দিকে তাকিয়ে বলে,

অরিনঃ আপনি চিটিং করেছেন আমার সাথে। (কেঁদে কেঁদে)
আহিলঃ তুমি যে এগ্রিমেন্টে সাইন করেছো সেখানে সাফ সাফ লেখা আছে, আমি যতদিনে তোমাকে মুক্তি না দেবো ততদিন তুমি বন্দী আর যদি মুক্তি নিতেই হয় ১৫ কোটি টাকা দিয়ে তারপর মুক্তি নিতে পারবে। আইনের বরখেলাপ করলে তোমার নামে কেস হবে টাকা আত্মসাৎ করার। আর তুমি এসব মানতে বাধ্য। না মানলে সমাজ তোমাকে ধিক্কার জানাবে তখন তোমার বাবা, ভাইয়ের মন সম্মান ধুলোয় মিশে যাবে। সবাই তাদের এড়িয়ে চলবে শুধু তোমার জন্য। এবার বলো, তুমি কি তা চাও? (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ আপনি এমনটা করতে পারলেন? (কেঁদে)
আহিলঃ তুমি বলতে পারলে আমি কেনো করতে পারবো না?

অরিনঃ আমি বাসায় যাবো?
আহিলঃ হুম যাও কিন্তু আমি যখন তোমাকে ডাকবো তখনই আসতে হবে, না হয়।
অরিনঃ আসবো।
আহিলঃ That’s like a good girl, no wrong, that’s like a good wife.

অরিনকে ছেড়ে দেয় আহিল। অরিন রকিং চেয়ারের উপর তার গোল্ডেন কালারের লেহেঙ্গা রাখা দেখে। সেটা হাতে নিয়ে ওয়াশরুমে চলে যায়। আহিল মনে মনে বলে,
আহিলঃ তেমার দৃষ্টিতে যে ঘৃণা ছিলো আমার জন্য ততটা ঘৃণা আমার প্রাপ্য নয়। আমাকে যতটা খারাপ ভাবো ততটা খারাপ আমি নই সেটা ধীরে ধীরে বুঝতে পারবে।


পর্ব ১৮

অরিন তার লেহেঙ্গা পড়ে বের হয়ে। আশেপাশে তাকিয়ে দেখে আহিল রুমে নেই। অরিন দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে রুমে আসে। অরিনের অজান্তেই দুফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। অরিন চোখের পানি মুছে। তখনই একটা হাত এসে অরিনের হাত ধরে হেঁচকা টানে নিজের কাছে নিয়ে আসে। অরিন তাকিয়ে বলে,

অরিনঃ প্লিজ আমাকে বাসায় যেতে দিন, আমার বাসার সবাই অপেক্ষা করছে আমার জন্য, প্লিজ যেতে দিন। (কাঁদো কাঁদো সুরে)
আহিলঃ হ্যাঁ যাও, দরজা খোলা আছে। তোমাকে কেউ আটকাবে না। (তাচ্ছিল্যের সুরে)
অরিনঃ ধন্যবাদ। (কাঁদতে কাঁদতে)
আহিল অরিনকে ছেড়ে দেয়। অরিন দৌড়ে দরজার সামনে যেতেই আহিল বলে,

আহিলঃ আমার কথার বরখেলাপ করলে পরিনাম কি হবে সেটা নিশ্চয়ই জানো? (সোফায় বসে পায়ের উপর পা রেখে)
আহিলের কথা শুনে অরিন থমকে যায়। আহিল অরিনের কাছাকাছি এসে বলে,
আহিলঃ আমার যা চাই তা আগে দিয়ে তারপর যেখানে খুশি যাও। (বাঁকা হাসি দিয়ে)
অরিনঃ কি চাই আপনার? (করুন সুরে)

আহিলঃ এদিকে এসো? (আঙুল দিয়ে ইশারা করে)
অরিনঃ, (নিশ্চুপ হয়ে দাড়িয়ে আছে)
আহিলঃ কি হলো কথা কানে যায় না? (রেগেমেগে)

অরিনঃ আসছি। (মাথা নিচু করে)
অরিন ধীরে ধীরে আহিলের সামনে যায়। আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে আছে। অরিনের মুখে ভয়ের ছাপ। এমন রুপে অরিনকে আরও মায়াবতী লাগছে। অরিন আহিলের সামনে এসে দাঁড়ায়, আহিল উঠে দাড়িয়ে অরিনের কাছে গিয়ে আচমকা অরিনকে জড়িয়ে ধরে, আহিল অরিনের কানে কানে বলে,

আহিলঃ Welcome to my Kingdom. (ফিসফিস করে)
অরিনঃ, (নিশ্চুপ হয়ে কাঁদছে)
আহিলঃ আশা করি, যখন ডাকবো তখন চলে আসবে। (রাগী লুকে)

অরিনঃ, (কাঁদছে নিরবে)
আহিলঃ কি হলো কথা বলছো না কেনো? (রেগেমেগে)
অরিনঃ জি জি আসবো। (ভয়ে কেঁপে ওঠে)
আহিলঃ তাহলে, আমার সামনে থেকে দূর হও এখন, Get lost. (ধাক্কা দিয়ে)

আহিল অরিনকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়। অরিন অসহায় দৃষ্টিতে তাকায় আহিলের দিকে। পকেট থেকে ওয়ালেট বের করে ৫০০ টাকার একটা নোট ছুড়ে মারে অরিনের দিকে আর বলে,
আহিল~ ভাড়া দিয়ে চলে যাও বাসায়। (তাচ্ছিল্যের সুরে)

অরিনের খুব কান্না আসছে কারণ কখনো কেউ এতো রুড বিহেভ করেনি তার সাথে। আহিল রুম থেকে বের হয়ে যায়। অরিনও রুম থেকে বের হয়ে আর কোনো দিকে না তাকিয়ে সোজা বের হয়ে যায়। আহিল আর সাজিদ বসে ছিলো ড্রইং রুমে। সাজিদ বুঝতে পারে, কিছু একটা হয়েছে। আহিলের দিকে তাকিয়ে বলে,
সাজিদঃ ভাই, ভাবি এভাবে একা চলে যাচ্ছে কেনো? (অবাক হয়ে)
আহিলঃ যাক, (কেয়ার না করে)

সাজিদঃ আমি এগিয়ে দিয়ে আসছি ভাবিকে! (উঠে যেতে নিলে)
আহিলঃ না, ও একাই যাবে আর তুই রেডি হয়ে নে আর একঘন্টা পরে তোর ফ্লাইট। (রেগে)
সাজিদঃ কিন্তু ভাই, (সংকোচ নিয়ে)
আহিলঃ যেতে বলেছি না? (রেগেমেগে)
সাজিদঃ জি ভাই, (মাথা নেড়ে)

সাজিদ কখনো আহিলের কথার অবাধ্য হয় না। আহিল যা বলে তাই শোনে। আহিলের কথা মতো সাজিদ রেডি হতে চলে যায়। আহিল মনে মনে ভাবছে,
আহিলঃ এ তো সবে শুরু, তোমাকে আরও অনেক কিছু সহ্য করতে হবে। একটু পরেই আবারও এখানে আসতে হবে তোমাকে এখানে কারণ তোমার বাসার কেউ তোমাকে একসেপ্ট করবে না। (ডেভিল মার্কা হাসি দিয়ে)

অরিন রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে। কোনো গাড়ি নেই বললেই চলে। অনেকক্ষণ পরে একটা ট্যাক্সি আসে। অরিন সেটায় উঠে পড়ে। অরিন মনে মনে ভাবছে,
অরিনঃ আজতো কেয়ামত হয়ে যাবে বাসায়। কি করবো? কি বলবো বাসায়? সারারাত বাসার বাহিরে ছিলাম! কোথায় ছিলাম সেটা কি করে বলবো? হে খোদা, আমাকে তুমি বাঁচাও! ঐ ডেভিলটার হাত থেকে রক্ষা করো আমাকে। (আনমনে বিড়বিড় করে)
অরিনের বাসার সামনে গাড়ি আসতেই, অরিন ড্রাইভারকে গাড়ি থামাতে বলে। ড্রাইভার গাড়ি থামায়। অরিন গাড়ি থেকে নেমে ড্রাইভারকে ৫০০ টাকার নোটটা দেয়। ড্রাইভার অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,

ড্রাইভারঃ আফা, ভাংতি টেহা নাই। (দাঁত বের করে)
অরিনঃ পুরোটা রেখে দিন। (বিরক্ত হয়ে)
ড্রাইভারঃ আইচ্ছা আফা। (মাথা নেড়ে)
অরিন বাড়ির দিকে তাকিয়ে দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে ভয়ে ভয়ে কদম বাড়াতে থাকে। হঠাৎ করে দেখতে পায় অরিনের নিউ স্কুটি রাখা বাসার সামনে। অরিন বাসার দরজার সামনে এসে ঢোক গিলে পা বাড়ায়। অরিন বাসার মধ্যে ঢুকে তাকিয়ে দেখে সবাই বসে আছে ড্রইং রুমে। ফারিন দরজার দিকে তাকিয়ে তায়িফের কাঁধে হাত রেখে বলে,

ফারিন ~ শুনছো ঐ যে অরিন। (তায়িফের দিকে তাকিয়ে)
তায়িফ দরজার দিকে তাকিয়ে দেখে অরিন দাঁড়িয়ে আছে। অরিনের কলিজা শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম। বাবাই নিচের দিকে তাকিয়ে বসে আছে অরিনের মা পাশে বসে বসে
কাঁদছে। তায়িফ তার বাবার দিকে তাকিয়ে বলে,
তায়িফঃ বাবা অরিন এসেছে। (বাবার দিকে তাকিয়ে)
অরিনের বাবা অগ্নি দৃষ্টিতে তাকায় অরিনের দিকে। সে ধীরে ধীরে অরিনের সামনে যায় আর অরিনের দিকে তাকিয়ে বলছে,
বাবাইঃ কোথায় ছিলে? (শান্ত গলায়)

অরিনঃ বা বা বাবাই, (ভয়ে চুপসে গিয়ে)
বাবাইঃ কোথায় ছিলে সারারাত? (শান্ত গলায়)
অরিনঃ বা বা বাবাই রিম্পির বাসায় ছিলাম। (ভয়ে ভয়ে )
অরিনের বাবা সাথে সাথে কষে থাপ্পড় দেয় অরিনের গালে। অরিন ছিটকে দূরে পড়ে যায়। ফারিন দৌড়ে অরিনের কাছে যেতে নিলে তায়িফ ফারিনের হাত ধরে ফেলে। বাবাই অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,

বাবাইঃ তুই এতো বড় হয়ে গেছিস! সারারাত বাসার বাহিরে কাটিয়ে এসে আবার মিথ্যা কথা বলিস! তোর সব বন্ধুদের বাসায় খোঁজ করেছি কিন্তু তুই কারো বাসায় ছিলি না তোর স্কুটি পড়েছিলো পার্কিং লনে। (রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে)
তায়িফ অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,

তায়িফঃ অরিন সত্যি করে বল, তুই কোথায় ছিলি? (রেগে)
অরিনঃ আমি, (বলতে গিয়ে থেমে যায়)
কথাটা বলতে যেয়ে কেনো জানি অরিনের গলা ভারি হয়ে আসে। অরিন বলতে যেয়েও থেমে যায়। তায়িফ ধমক দিয়ে বলে,
তায়িফঃ কি হলো? বল, (ধমক দিয়ে)

অরিনঃ ভা ভা ভাইয়া, (কাঁদো কাঁদো সুরে)
ফারিন এসে অরিনকে ধরে বলে তায়িফের দিকে তাকিয়ে বলে,
ফারিন ~ থামো ওকে একটু রিল্যাক্স হতে দাও? (অরিনের কাঁধে হাত রেখে)

তায়িফ এক ঝটকায় ফারিনকে উঠিয়ে আনে হাত ধরে আর বলে,
তায়িফঃ ওর সাইড নিলে একবারে তালাক দিয়ে দেবো। (রেগেমেগে )
তায়িফের এমন কথায় অরিন আর ফারিন দুজনেই অবাক হয়ে যায়। ফারিন তায়িফের কথা শুনে চুপ হয়ে যায়। বাবাই এসে অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
বাবাইঃ এই ইয়াসির আরাফাতের সামনে দাড়িয়ে কেউ কথা বলার সাহস করে না আর তোর জন্য। তোর জন্য পুরো এলাকার মানুষ ছিঃ ছিঃ করছে। (রেগেমেগে)
তায়িফঃ অরিন বল তুই কোথায় ছিলি? (রেগেমেগে)

অরিনঃ, (নিশ্চুপ হয়ে চোখের পানি ফেলছে)
তায়িফঃ ছোটো থেকে এখন পর্যন্ত তোকে কোনো কিছুতে বাঁধা দেয়নি, যা চেয়েছিস তাই দিয়েছি, কে জানতো তার প্রাতিদান তুই এভাবে দিবি? (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনের মা অরিনের কাছে এসে জিজ্ঞেস করে,

আম্মুঃ কাল কলেজ থেকে বের হয়ে কোথায় ছিলি? সারারাত কোথায় কাটিয়েছিস একটা ফোন ও তো করতে পারতি? (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ, (নিচের দিকে তাকিয়ে আছে)
আম্মুঃ কি হলো চুপ করে আছিস কেনো বল? (অরিনকে ধাক্কা দিয়ে)

অরিনঃ, (চুপ হয়ে আছে)
অরিনের মা ও একটা চড় মারে অরিনের গালে আর বলে,
আম্মুঃ এমন কোথায় ছিলি যে মুখ ফুটে বলতে পারছিস না। (রেগেমেগে)
বাবাইঃ ওকে নিয়ে রুমে আঁটকে রাখো! ওর বাহিরে যাওয়া নিষেধ। (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
তায়িফ অরিনের হাত টেনে নিয়ে যায় রুমে তারপর রুমের দরজার লাগিয়ে দেয় অরিনকে ভেতরে রেখে। অরিন মুখ চেপে ধরে কাঁদছে। আহিল সবটা দেখছিলো ল্যাপটপে। আহিল বাঁকা হাসি দিয়ে বলে,

আহিলঃ ভেবেছিলাম, বাসা থেকে বের করে দেবে কিন্তু এ তো উল্টো হয়ে গেলো। ব্যাপার না আহিল রেহমানের পক্ষে কোনো কিছু অসম্ভব নয়। (বাঁকা হাসি দিয়ে)
অরিন রুমের মধ্যে বসে কাঁদছে। দরজা বাহির থেকে বন্ধ করা। দুপুরে কাজের লোক এসে খাবার দিয়ে যায়। খাবার সেরকমই থাকে অরিন তা ছুঁয়েও দেখে না। সারাদিনে কেউ আসেনি অরিনের রুমে। দুপুর থেকে সন্ধ্যা নেমে আসে। পুরো রুম অন্ধকার। অরিন ইচ্ছে করে লাইট জ্বালায়নি। হঠাৎ একটা রুমাল দিয়ে কেউ একজন অরিনের মুখ চেপে ধরে তারপর আরকিছুই মনে নেই অরিনের। ফারিন তায়িফকে বলে,

ফারিন ~ ও না হয় ভুল করে ফেলেছে! তার জন্য তোমরা এমন করতে পারো না। (রেগে)
তায়িফঃ তাহলে, কি করা উচিত ছিলো আমাদের? (রেগেমেগে)
ফারিন ~ তুমি অরিনের রাগ ভাঙিয়ে এসো। (তায়িফের সামনে এসে)
তায়িফঃ বাবা বারণ করেছে, (মাথা নেড়ে)

ফারিন ~ যাও তুমি, কিচ্ছু হবে না। (আশ্বাস দিয়ে)
তায়িফঃ ঠিক আছে।
তায়িফ উঠে অরিনের রুমে চলে যায়। পুরো রুম অন্ধকার। তায়িফ অরিনকে পুরো রুমে তন্নতন্ন করে খুঁজে কিন্তু পায়না৷ তায়িফ দৌড়ে তার বাবার রুমে যায়। তায়িফ বলে,
তায়িফঃ বাবা অরিনকে খুঁজে পাচ্ছি না?
বাবাইঃ কি বলছো? ও তো রুমের মধ্যে ছিলো?

তায়িফঃ না বাবা নেই।
সবাই অরিনের রুমে যায় কিন্তু অরিনকে কোথাও খুঁজে পায়না। অরিনের বাবা সবাইকে বলে,
বাবাইঃ আজকে থেকে অরিন মরে গেছে। ওর কথা এই বাসায় আর কারও মুখে জানি না শুনি।
ফারিন তার শাশুড়ীকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে। তায়িফ দুচোখ মুছে চলে যায়।
অরিন গেলোটা কোথায় ?

লেখা – রাফিয়া অরিন

চলবে

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “অন্যরকম তুমি – নতুন ভালোবাসার গল্প” টি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ুন – অন্যরকম তুমি – নতুন করে ভালোবাসার গল্প (২য় খণ্ড)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!