স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক

অন্যরকম তুমি – নতুন করে ভালোবাসার গল্প (২য় খণ্ড)

অন্যরকম তুমি – নতুন করে ভালোবাসার গল্প: আহিল বুঝতে পারে অরিন বেহুশ হয়ে গেছে। আহিল তাড়াতাড়ি তার পার্সোনাল ডাক্তারকে কল করে আসতে বলে। আহিল অরিনকে বেডে শুইয়ে দেয়। অরিনের চেহারা অসম্ভব রকমের লাল হয়ে গেছে সাথে হাত, পা, গলা। আহিল বুঝতে পারছে না হঠাৎ করে কেনো এমন হলো?


পর্ব ১৯

অরিন বারবার পলক ফেলছে। টপটিপ চোখে তাকায়। অরিন অনুভব করছে কোনো উঁচু জিনিসের উপর মাথা রেখে শুয়ে আছে। অরিনের সন্দেহ লাগে তাই সে চোখ খুলে তাকায়, তাকিয়ে যা দেখে সেটা দেখার জন্য সে মোটেই প্রস্তুত ছিলো না। অরিন কান চেপে ধরে জোরেশোরে একটা চিৎকার দেয়, আপনাদের ও জানা দরকার অরিন কি দেখলো! অরিন চোখ মেলে দেখে। সে আহিলের বুকের উপর শুয়ে আছে তাও তাকে জড়িয়ে ধরে। আহিল উঠে অরিনের মুখ চেপে ধরে,

অরিনঃ উমমমমমমমমমম! (চোখ বড় বড় করে)

আহিলঃ ষাঁড়ের মতো চিল্লাতে শুরু করছো কেনো? (রেগে)
অরিনঃ উমমমমমমমমম! (মাথা নেড়ে)
আহিলঃ এমন ভাব করছো মনে হয় ভূত দেখেছো? (রেগে)
অরিনঃ উমমমমমমমমম! (মাথা নেড়ে)
আহিলঃ কি উমম উমম করছো? কথা বলতে পারো না? (মনে মনে হেসে)
অরিনঃ উমমমমমমমমম! (রেগে)

আহিলঃ ও তোমার মুখ তো চেপে ধরেছি! কথা বলবে কি করে? (বাঁকা হাসি দিয়ে)
অরিনঃ উমমমমমমমমম, (মাথা নেড়ে)
আহিলঃ শোনো, আমি চিৎকার চেঁচামেচি মোটেও পছন্দ করি না তাই সবসময় শান্ত থাকবে। (মুখের ওপর থেকে হাত সরিয়ে )
অরিনঃ আমি এখানে এলাম কি করে? আমি তো বাসায় ছিলাম। (অবাক হয়ে)
আহিলঃ তোমাকে তুলে এনেছি। (বাঁকা হাসি দিয়ে)

অরিনঃ What? (রেগে)
আহিলঃ তুলে এনেছি তোমাকে তোমার বাসা থেকে। (অরিনের কানের কাছে এসে)
অরিনঃ আপনি একটা কিডন্যাপার? আপনার নামে আমি মামলা করবো তারপর সারাজীবন জেলের ঘানি টানতে টানতে বুড়ো হয়ে যাবেন। (রেগে)
আহিলঃ বউকে বাসা থেকে তুলে এনেছি অন্য কাউকে নয় বুঝলে। (হেসে)

অরিনঃ বউ মানে আমি আপনার কোন কালের বউ? (রেগেমেগে)
আহিলঃ সাত কালের। (মুচকি হেসে)
অরিনঃ আমি মানি না, আমি বাসায় যাবো। (রেগেমেগে)
আহিলঃ কোন লাভ নেই? (মাথা নেড়ে)

অরিনঃ মানে? (অবাক হয়ে)
আহিলঃ ইয়াসির আরাফাত মানে আমার শশুর মাশাই আরাফাত পরিবার থেকে তোমাকে ত্যাজ্য করে দিয়েছেন। (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ এ হতে পারে না। (মাথা নেড়ে)
আহিলঃ আমার কাছে প্রমাণ আছে। দেখতে চাইলে দেখাতে পারি। (ভ্রু নাচিয়ে)
অরিনঃ হুম দেখবো। (মাথা নেড়ে)

আহিল ল্যাপটপে অরিনের বাবার সিসিটিভি ফুটেজ বের করে অন করে অরিনকে দেখায়। অরিন তো রেগেমেগে একাকার কারণ সবকিছুর জন্য দায়ী আহিল। আহিল ঝট করে ল্যাওটপ অফ করে ফেলে। অরিন রেগেমেগে বলে,

অরিনঃ আমার বাসায় আপনি সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়েছেন? (রেগেমেগে)
আহিলঃ হুম, তোমার রুমেও লাগিয়েছি! দেখবে? (হেসে)

অরিনঃ কিহহহহ্ আমার রুমেও! (চোখ কপালে তুলে)
আহিলঃ হুম, (মাথা নেড়ে)
অরিন কিছু বলতে যাবে তখনই আহিলোর কল আসে। আহিল ফোন রিসিভ করে কথা বলতে বলতে বাহিরে যায়।

অরিনঃ আমার জীবনটা তেজপাতা করে দিলো। আমিও অরিন রাফিয়া অরিন তোর জীবনকে ডাব থেকে ঝুনা নারিকেল বানিয়ে দিবো দেখে নিস। (রাগে গজগজ করতে করতে)

অরিন বসে বসে সব দিকে চোখ বুলিয়ে নিচ্ছে। আর মনে মনে বলছে,
অরিনঃ খাটাশ মশাই যা যা পছন্দ করেন না আমি সেটাই বেশি করে করবো শেষমেশ অতিষ্ঠ হয়ে আমাকে বাসায় দিয়ে আসতে বাধ্য হবে। এখন তো পালিয়েও কোথাও যেতে পারবো না আর যাবো ও না। আমাকে বিয়ে করেছো না, বিয়ের সাধ আমি মিটিয়ে দিবো। (চারদিকে তাকিয়ে)

আহিল তখনই রুমে চলে আসে। আহিল অরিনের শেষ কথাগুলো শুনতে পায়। আহিল ডেভিল মার্কা হাসি দিয়ে অরিনের পাশে বসে বলে,
আহিলঃ কি মিটিয়ে দিবে? (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ কই কিছু নাতো! (থতমত খেয়ে)

আহিলঃ আমি তো শুনলাম, তুমি কি কি জানি বললে? (ভ্রু কুঁচকে)
অরিনঃ বললে বলেছি, আপনার সমস্যা? (আহিলের সামনে এসে)
আহিলঃ দেখো, আমাকে রাগ দেখাতে আসবে না? (রেগে)
অরিনঃ আমার যা খুশি তাই করবো। (মুখ বাকিয়ে)

আহিলঃ আমার বাড়িতে আমার কথার বাহিরে কোনোকিছু হয়নি আর হবেও না। (রেগে)
অরিনঃ আমিও যা বলি তাই করে ছাড়ি। (ভেংচি মেরে)
আহিলঃ ঠিক আছে, দেখা যাবে! (বাঁকা হাসি দিয়ে)
অরিন কিছুটা সংকোচ নিয়ে আহিলের দিকে তাকিয়ে বলে,
~ আমার খিদে পেয়েছে! (আড়চোখে তাকিয়ে)

~ তো আমি কি করবো? (ভাব নিয়ে)
~ আজব তো আপনি খাবার নিয়ে আসবেন। (অবাক হয়ে)
~ খিদে পেয়েছে তোমার আর খাবার আনবো আমি! Impossible… (বাঁকা হাসি দিয়ে)
~ দরকার নেই আনতে হবে না, আমি না খেয়ে খেয়ে এক সময় মরে যাবো তারপর এঞ্জেল হয়ে আকাশে উড়ে যাবো তারপর পরী হয়ে ঘুরে বেড়াবো আর খুশি তাই খাবো। (গালে হাত দিয়ে ভাবতে ভাবতে)

~ How funny jokes? (হাসতে হাসতে)
~ This is not jokes, ok. This is reality! (সিরিয়াস মুডে)
~ তোমার এই ফালতু ভাবনা কখনো পূরণ হবে না! (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
~ হবে হবে, (ভেংচি মেরে)
~ যখন হবে তখন দেখা যাবে। (হেসে)

~ Done. (হেসে)
অরিন বিছানা থেকে উঠে গিয়ে বেলকনিতে দাঁড়ায়। আহিলও অরিনের পেছনে পেছনে যায় আর বলে,

আহিলঃ যদি ভাবো, যে এখান থেকে পালাবে! তাহলে বলে রাখি, বেলকনির নিচে একটা টিকটিকির স্তুপ আছে। (মুচকি হেসে)
অরিন ভয়ে ঢোক গিলে, ভয়ে ভয়ে বলে,

অরিনঃ আ আ আমি টিকটিকি ভয় পাই না, I am so সাহসী girl. (হালকা হেসে)
আহিলঃ তাই নাকি, ঠিক আছে রুম থেকে একটা টিকটিকি নিয়ে আসি সেটা তুমি হাতে নিবে কেমন, (দুষ্ট হাসি দিয়ে)

অরিনঃ আম্মু বাঁচাওওওওওওওওও, (কান দুই হাত দিয়ে চেপে ধরে দৌড় দিয়ে)
আহিলঃ এই রাফিয়া কোথায় যাচ্ছো? (অরিনের দিকে তাকিয়ে)

অরিন দৌড়ে রুমে যায়। আহিলও অরিনের পিছনে পিছনে রুমে চলে আসে। আহিল অরিনের সামনে এসে বলে,

আহিলঃ তোমার পায়ের পাশে একটা টিকটিকি ঐ দেখো! (পায়ের দিকে ইশারা করে)
অরিন জোরে চিৎকার দিয়ে বেহুশ হয়ে পড়ে যেতে নেয়, আহিল অরিনকে ধরে ফেলে,
আহিলঃ এই কি হলো তোমার! আরে আমি তো মিথ্যা কথা বলেছি, (অরিনের গাল ধরে)
অরিন এক চোখ মেলে আহিলের দিকে তাকিয়ে বলে,

অরিনঃ আমিও জানতাম আপনি মিথ্যা কথা বলছেন? (মুচকি হেসে)
আহিল অরিনের এই কান্ড দেখে অরিনকে ছেড়ে দেয় আর অমনি অরিন ফ্লোরে পড়ে যায়, অরিন কোমরে হাত দিয়ে বলে,

অরিনঃ আরে আমার কোমর গেলো রে, মনে হয় ভেঙেই গেছে। আপনি সত্যি একটা ডেভিল। (রেগেমেগে)
আহিলঃ তাই বুঝি! (হেসে)
অরিনঃ হাত ধরুন, (হাত বাড়িয়ে দিয়ে)

আহিলঃ তোমার হাত আমি কেনো ধরবো? (মুখ ফিরিয়ে)
অরিনঃ আরে আমি উঠতে পারছি না, সাহায্য করুন! (হাত বাড়িয়ে)
আহিলঃ পারলে ওঠো নাহয় ওখানেই বসে থাকো, (বাঁকা হাসি দিয়ে)
অরিনঃ সাদা গন্ডার, ডেভিল, খাটাশ সব আপনি, (ভেংচি মেরে)

আহিলঃ ঠিক আছে, ভেবেছিলাম তোমাকে ধরবো কিন্তু এখন আর উঠাবো না, (রেগে)
অরিনঃ দরকার নেই। (ভেংচি মেরে)

আহিল ফোন বের করে গেমস খেলতে থাকে। অরিন অনেক কষ্টে উঠে গিয়ে বেডের উপর বসে। আহিল খেয়াল করে অরিনের ফেস পুরোপুরি গোলাপি রঙের মতো হয়ে গেছে আর ফুলে গেছে। তখনি আহিল ফোন রেখে অরিনের কাছে যায়,
আহিলঃ এই তোমার মুখ এমন হয়ে গেছে কেনো?

অরিন নিভু নিভু চোখে আহিলের দিকে তাকায়, আহিল অরিনের কাঁধে হাত রাখলে অরিন আহিলের উপর ঢলে পড়ে, আহিল অরিনকে জড়িয়ে ধরে বলে,
আহিলঃ রাফিয়া চোখ খোলো? কি হয়েছে তোমার?

আহিল বুঝতে পারে অরিন বেহুশ হয়ে গেছে। আহিল তাড়াতাড়ি তার পার্সোনাল ডাক্তারকে কল করে আসতে বলে। আহিল অরিনকে বেডে শুইয়ে দেয়। অরিনের চেহারা অসম্ভব রকমের লাল হয়ে গেছে সাথে হাত, পা, গলা। আহিল বুঝতে পারছে না হঠাৎ করে কেনো এমন হলো?


পর্ব ২০

ডাক্তার অরিনকে চেকাপ করছে, পাশেই আহিল বসে আছে। ডাক্তার চেকাপ শেষ করে আহিলের দিকে তাকিয়ে বলে,
ডাক্তার ~ এই মামুনি কি হয় তোমার? (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
আহিলঃ Wife, (কাচুমাচু করে)

ডাক্তার ~ সে কি? তুমি বিয়ে করলে কবে? (অবাক হয়ে)
আহিলঃ আগামীকাল। (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
ডাক্তার ~ দাওয়াত তো পেলাম না! (ভ্রু কুঁচকে)

আহিলঃ আসলে, বিয়েটা খুব তাড়াহুড়ো করে হয়েছে তাই কাউকে ইনভাইট করতে পারিনি তবে কিছুদিন পরে একটা ফাংশন করবো ভাবছি। তো ওর কি হয়েছে? (সংকোচ করে)
ডাক্তার ~ খাওয়া দাওয়া না করার জন্য জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে আর মামুনির ডাস্ট এলার্জি আছে। অতিরিক্ত ঘেমে গেলে বা একই জামা পরিবর্তন না করার কারণে এমন হয়েছে। (আহিলের দিকে তাকিয়ে)

আহিলঃ এ কেমন মেয়ে বিয়ে করলাম! কিছুক্ষন না খেয়ে থেকেই বেহুশ হয়ে গেছে! (মনে মনে)
ডাক্তার ~ সবসময় পরিষ্কার পরিছন্ন থাকতে হবে আর সে অনেক দুর্বল তাই বিশেষ কেয়ার করতে হবে। (আহিলের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে)
আহিলঃ ঠিক আছে আঙ্কেল। (মাথা নেড়ে)

ডাক্তার ~ এই মেডিসিন গুলো কন্টিনিউ করো, সব ঠিক হয়ে যাবে। (প্রেসকিপশন হাতে দিয়ে)
আহিল~ আচ্ছা। ইনভাইট করবো, আসবেন কিন্তু! (মুচকি হেসে)
ডাক্তার ~ অবশ্যই, কেন নয়। আচ্ছা বাবা এখন আসি। (হেসে)
আহিলঃ জি। (মাথা নেড়ে)
ডাক্তার উঠে চলে যায়। আহিল অরিনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। অরিন হঠাৎ করে চোখ মেলে তাকায়, আহিল থতমত খেয়ে বলে,
আহিলঃ তুমি আগে কেনো বলোনি যে তোমার ডাস্ট এলার্জি আছে? (হাত সরিয়ে )

অরিনঃ বলার সুযোগ দিলে তো বলবো! (ভেংচি মেরে)
আহিলঃ এতো শুকনো কেনো তুমি? ফুঁ দিলেই তো উড়ে যাবে! (ভ্রু কুঁচকে)
অরিনঃ তাহলে কি আপনার মতো হাতি হবো নাকি যে ১০০ জন ধাক্কা দিলেও এক চুল ও নাড়ানো যাবে না। (আড়চোখে তাকিয়ে)
আহিলঃ কিছুক্ষণ না খেয়ে থেকেই বেহুশ হয়ে গেছো? (বাঁকা হাসি দিয়ে)

অরিনঃ হ্যাঁ, তো কি হয়েছে? বলেছিলাম না আমার খুদা লেগেছে তাও তো আপনি কিছুই আনেননি। (রেগে)
আহিলঃ তুমি আমাকে হাতি বললে কোন সাহসে? (রেগেমেগে)
অরিনঃ হাতিকে হাতি বলতে আবার সাহস লাগে নাকি! (ভেংচি মেরে)
আহিলঃ বেশি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু, (দাঁতে দাঁত চেপে )

অরিনঃ বেশি হয়ে যাচ্ছে ঢংং, (ভেংচি মেরে)
আহিল অরিনকে একটানে নিজের সামনে নিয়ে আসে অরিন আহিলকে ধাক্কা দিতে চেয়েও পারছে না। আহিল অরিনের গাল চেপে ধরে বলে,
আহিলঃ বেশি বাড়াবাড়ি করো না ফল খুব খারাপ হবে। (কটমট করে)
অরিনঃ হুহহহ, (ভেংচি মেরে)

আহিল অরিনকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয় তারপর আলমারি থেকে একটা ক্রিম কালারের সিল্কের শাড়ি বের করে অরিনের সামনে ছুড়ে মেরে বলে,
আহিলঃ পাঁচ মিনিটের মধ্যে এই শাড়িটা পড়ে আসো। (রেগে)
অরিনঃ বললেই হলো।, আমি শাড়ি পড়তে পারি না! (মুখ ফিরিয়ে)
আহিলঃ পারো টা কি? (বিরক্ত হয়ে)
অরিনঃ মানে? (আহিলের দিকে তাকিয়ে)

আহিলঃ সমস্যা নেই, আমি শাড়ি পড়াতে পারি। তোমাকে পড়িয়ে দিবো No tension. (বাঁকা হাসি দিয়ে)
অরিনঃ কি বললেন, (রেগে)
আহিলঃ কেমন মেয়ে তুমি! এক তো মেয়ে হয়ে শাড়ি পড়তে পারো না আবার আমি পড়িয়ে দিতে চাচ্ছি তাও ভাব নিচ্ছো। (অবাক হয়ে)
অরিনঃ আমি পড়বো না। (ভেংচি মেরে)

আহিল রেগেমেগে হনহনিয়ে অরিনের কাছে এসে অরিনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় বিছানার উপর তারপর অরিনের দুইহাত চেপে ধরে বিছানার সাথে। আহিল অরিনের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে, আহিল অরিনকে বলে,
আহিলঃ আমাকে শান্ত দেখতে তোমার ভালো লাগে না তাই না? (রেগেমেগে)
অরিনঃ ছাড়ুন, (হাত নাড়িয়ে)
আহিলঃ কেনো? তুমি তো খুব বড় গলায় বলেছিলে, কোন দলিলে সাইন করে আপনি আমাকে স্পর্শ করেন? তোমার বলতে দেরি কিন্তু আমার সেই কাজ করতে এক মূহুর্ত দেরি হবে না। (দাঁতে দাঁত চেপে)

অরিনঃ আমার লাগছে ছাড়ুন, (কাঁদো কাঁদো সুরে)
আহিলঃ বেশি উল্টা পাল্টা করো না, একটা কথা মাথায় রেখো আমাদের এখনও বাসর হয়নি! (বাঁকা হাসি দিয়ে)
কথাটা শুনে অরিন ভয়ে চুপসে যায়। আহিল অরিনকে দেখে বলে,

আহিলঃ আমার কথার বাহিরে গেলে বুঝতেই পারছো! (দুষ্ট হাসি দিয়ে)
অরিনঃ, (নিশ্চুপ হয়ে তাকিয়ে আছে আহিলের দিকে)
আহিলঃ আলমারিতে সব রাখা আছে, তোমার যা প্রয়োজন নিয়ে নাও। আর একটা কথা, আমার কথার নড়চড় করো না। (রেগেমেগে)
অরিনঃ না না। (ঢোক গিলে)

আহিল অরিনকে ছেড়ে দিয়ে উঠে পড়ে। অরিন দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে উঠে বসে। আহিল রুমের বাহিরে চলে যায়। অরিন শাড়িটা হাতে নিয়ে বলে,
অরিনঃ ভেবেছিলাম মিথ্যা বলে পাড় পেয়ে যাবো তা আর হলো কই! এখন পড়ো! ধুর (নিজের মাথায় নিজে টোকা দিয়ে)
অরিন শাড়িটা হাতে নিয়ে ওয়াশরুমে গিয়ে লম্বা শাওয়ার নেয় তারপর সুন্দর করে শাড়িটা পড়ে বের হয় ওয়াশরুম থেকে চুল মুছতে মুছতে। অরিন খেয়াল করে, রুমে ফোন বাজছে। অরিন চারদিকে তাকিয়ে দেখে টেবিলের উপর ফোন বাজছে, অরিন মনে মনে বলে,
অরিনঃ এটা হয়তো ঐ ডেভিলটার ফোন! দেখি কে কল করেছে! (মনে মনে)

অরিন ফোনটা হাতে নিয়ে দেখে, ফোনের স্ক্রীনে ফারিনের নাম ভেসে উঠেছে। অরিনের চোখ চকচক করে ওঠে, অরিন ঝটপট ফোন রিসিভ করে কিছু বলতে যাবে তার আগেই আহিল একটানে ছিনিয়ে নেয় ফোনটা অরিনের হাত থেকে। অরিন চিৎকার করতে নিবে তখনই আহিল অরিনের মুখ চেপে ধরে এক হাত দিয়ে অন্যহাতে ফোন কানের কাছে নিয়ে বলে,
আহিলঃ কেমন আছিস ফারিন? (হেসে)
ফারিনঃ ভালো না, তুমি কখনো খোঁজ নাও বোনের? (অভিমান করে)

আহিলঃ জানিস তো, অনেক ব্যাস্ত থাকি। সময় করে উঠতে পারি না। (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
ফারিনঃ জানি তো, (হালকা হেসে)
আহিলঃ তায়িফ কেমন আছে?(অরিনের দিকে তাকিয়ে)
ফারিনঃ ভালো আছে। (হেসে)

আহিলঃ শশুড়, শাশুড়ী কেমন আছেন? (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
ফারিনঃ আলহামদুলিল্লাহ ভালো। (হেসে)
আহিলঃ তোর ননদ কেমন আছেন? (অরিনের দিকে তাকিয়ে চোখ টিপ মেরে)
ফারিনঃ জানি না ভাইয়া। (দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে)
আহিলঃ জানি না, মানে? (অবাক হওয়ার ভান করে)

ফারিনঃ হঠাৎ করে বাসা থেকে নিখোঁজ হয়ে গেছে। কেমন আছে, কোথায় গেছে। কার সাথে গেছে। কার কাছে গেছে? কিচ্ছু জানিনা। (কাঁদো কাঁদো সুরে)
আহিলঃ দুঃখজনক ব্যাপার। (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
ফারিনঃ আচ্ছা ভাইয়া রাখছি পরে কথা হবে। (কেঁদে কেঁদে)

আহিলঃ ঠিক আছে। (সান্ত্বনা দিয়ে)
ফারিনঃ আল্লাহ হাফেজ, টুট টুট টুট
আহিল অরিনকে ছেড়ে দেয়। অরিন কোমরে হাত রেখে দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
অরিনঃ আপনি আস্ত একটা ডেভিল, আমার ভাবির সাথে আমাকে কথা বলতে দিলেন না উল্টো আদিক্ষ্যেতা দেখালেন। (রেগেমেগে)
আহিলঃ তো কি বলতাম? (অরিনের দিকে তাকাতে তাকাতে)

অরিনঃ কি কি আর বলতেন, (ঢোক গিলে)
আহিলঃ যে আমি তোমাকে তুলে এনেছি তোমার বাসা থেকে এইটা বলতাম? (কটমট করে)
অরিনঃ না না, আমি তো তা বলিনি! (হাত নেড়ে)
আহিলঃ তো কি বলেছো? (দাঁতে দাঁত চেপে)
অরিনঃ আসলে, (ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে)

আহিলঃ Next time, আমার ফোন ধরতে দেখি না যেনো, (অরিনের হাত চেপে ধরে)
অরিনঃ না না ধরবো না। (ভয়ে ভয়ে)
আহিল~ খেতে চলো, (হেঁচকা টান দিয়ে)
আহিল অরিনকে একটানে নিচে নিয়ে যায়। অরিন দেখতে পায়, টেবিলে সব রকম খাবার সাজানো। আহিল একটা চেয়ার টেনে দেয় অরিনকে, আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
আহিলঃ তুমি এখানে বোসো, আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।

আহিল কথাটা বলেই রুমের দিকে চলে গেলো। অরিন বসে বসে ভাবছে, এতকিছু কে বানালো। তখনি অরিনের চোখ গেলো রান্নাঘরের দিকে, রান্নাঘর থেকে একটি মেয়ে আসে ২২/২৪ বছর বয়স হবে। গাঁয়ের রং একটু চাপা, কিন্তু গড়ন খুব সুন্দর, লম্বায় অরিনের থেকে একটু খাটো, চুল দেখা যাচ্ছে না কারণ মাথায় ওড়না দেয়া দুই প্যাঁচ দিয়ে। অরিনের ভাবনার ছেদ ঘটে মেয়েটির কথায়,
~ আসসালামু আলাইকুম ভাবি,

~ ওয়ালাইকুম আসসালাম, কেমন আছো?
~ আলহামদুলিল্লাহ ভালো, আপনি কেমন আছেন ভাবি?
~ ডেভিলটা আর ভালো থাকতে দিলো কই (মনে মনে), আল্লাহর রহমতে ভালোই আছি, কি নাম তোমার?
~ আমার নাম রিতু।
~ খুব সুন্দর নাম তো।
~ ধন্যবাদ বাদ ভাবি। ভাবি মাশাআল্লাহ দারুন সুন্দরী, ভাইয়ের চয়েজের তুলনা হয় না। ভাই যেমন সুন্দর তেমনি আপনিও।
~ তাই বুঝি,

~ হুম ভাবি। আচ্ছা আপনার পছন্দের খাবার কি কি?
~ আমার তো সব খাবারই পছন্দ আসলে আমি খেতে খুব পছন্দ করি।
~ তাহলে তো ভালোই হবে আম্মা আপনাকে নানা রকম খাবার রান্না করে দেবেন আর আপনি খাবেন।
~ আম্মা কে?

~ আমার মা, সেই এখানের দেখভাল করে, আমি মাঝে মাঝে আসি আম্মা যখন অসুস্থ থাকেন।
~ ওহ আচ্ছা, তুমি কিন্তু ভারি মিষ্টি মেয়ে।
আহিল ব্ল্যাক কালার টি শার্ট পড়েছে সাথে ব্ল্যাক জিন্স। আহিল হাত দিয়ে চুল ঝাড়তে ঝাড়তে সিড়ি দিয়ে নিচে নামে। রিতু আহিলকে আসতে দেখে রান্না ঘরের দিকে যায় অন্যান্য খাবার আনতে। অরিন আহিলের দিকে তাকিয়ে টাস্কি খেয়ে যায়। আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে হালকা কাশি দিয়ে চেয়ার টেনে বসে, অরিন ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। আহিল অরিনের দিকে তাকায়,


পর্ব ২১

আহিল একটা প্লেটে ফ্রাইড রাইস, রোস্টেড চিকেন আর কিছু স্যালাড নেয়। আহিল খেতে নিবে তখনই অরিন প্লেট টেনে নিজের সমানে নিয়ে খাওয়া শুরু করে। আহিল যতটা না অবাক হয়ে যায় তার থেকে বেশি রেগে যায়, আহিল রেগেমেগে বলে,
আহিলঃ What the hell? (রেগেমেগে)
অরিনঃ কই কিছু না তো, (না জানার ভান করে)

আহিলঃ টেবিলে কি প্লেটের অভাব পড়েছে? আমার প্লেট থেকে নিয়ে খাচ্ছো কেনো? (রেগে)
অরিনঃ বিশ্বাস নেই! (খেতে খেতে)
আহিলঃ কি বিশ্বাস নেই? (ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে)
অরিনঃ আপনাকে, (খেতে খেতে)

আহিলঃ এই আমার দিকে তাকাও, কি সমস্যা তোমার? (অরিনের হাত চেপে ধরে নিজের দিকে ঘুরিয়ে)
অরিনঃ আপনি যদি খাবারে বিষ মিশিয়ে রাখেন তাহলে তো আমি সেই খাবার খেয়ে ফুটুস, আপনি প্লেটে যখন খাবার নিলেন ভাবলাম আমাকে মারার ধান্দা থাকলেও নিজে তো আর মরতে চাইবেন না। তাহলে তো, অবশ্যই বিষমুক্ত খাবার টাই খাবেন তাই আপনার প্লেট থেকে খাচ্ছি। এবার আমার হাত ছাড়ুন, আমি খাবো। (বিরক্ত হয়ে)
আহিলঃ You bloody fool! তোমার কি মনে হয়, তোমাকে মারার জন্য বিয়ে করেছি? (দাঁতে দাঁত চেপে)
অরিনঃ সে আপনি জানেন? (মুখ ফিরিয়ে)

আহিলঃ তুমি অন্য প্লেট নাও, (শান্ত গলায়)
অরিনঃ একদম না, আর আমি আপনার প্লেটেই খাবো। (চোখ রাঙিয়ে)
আহিলঃ তুমি কার সাথে চোখ রাঙিয়ে কথা বলছো? তুমি জানো? (কটমট করে)
অরিনঃ নাতো, এই আপনি কে? (অবাক হয়ে)

আহিলঃ আহিল রেহমান, (ভাব নিয়ে)
অরিনঃ ওহ রহমান সাহেব! (হেসে)
আহিলঃ Who is rohoman? My status is Rehman. Do you understand? (রেগেমেগে)
অরিনঃ ঐ হলো রহমান। (হেসে)
আহিলঃ Youuuu…… (রেগে)

অরিনঃ ইয়ো ইয়ো করছেন কেনো? চুপ করে খান তো আর আমাকেও খেতে দেন, ওয়াও রোস্ট টা কি দরুন খেতে! (খাওয়ার দিকে মনোযোগ দিয়ে)
আহিলঃ তুমি, (রেগেমেগে)

অরিনঃ খেতে বলছি না, (ধমক দিয়ে)
আহিল অরিনের ধমক শুনে বোকা বনে যায়। আহিল ও চুপচাপ খেতে থাকে এক প্লেট থেকেই। অরিন আহিলের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে। আহিল অল্প খেয়ে উঠে যেতে নেয় আর অরিন হাত ধরে ফেলে, আহিল অবাক হয়ে পেছনে ফিরে তাকায়,

আহিলঃ কোথায় যাচ্ছেন? (আহিলের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ হ্যান্ড ওয়াশ করতে, (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
আহিলঃ চলুন আমিও যাবো, (উঠে দাড়িয়ে)
আহিল বেসিনের সামনে যেতেই অরিন সামনে চলে আসে, আহিল অরিনের দিকে তাকায় তখনি অরিন চোখ টিপ মেরে বলে,
অরিনঃ Ladies always first, you don’t know Mr. Rohoman. (হেসে)

আহিলঃ What? (রেগে)
অরিনঃ Nothing else.. (হেসে)
অরিন হাত ধুয়ে চলে যায়। আহিল অরিনের কান্ড দেখে থ হয়ে যায়। অরিন চলে যায়, আহিল মুচকি হাসে। অরিন সোফায় বসে পড়ে, পুরো ঘরের দিকে চোখ বুলাচ্ছে। আহিল অরিনের পাশে বসে বলে,
আহিলঃ এভাবে কি দেখছো? (অরিনের দিকে তাকিয়ে)

অরিনঃ আপনাকে, (দাঁত বের করে হেসে)
আহিলঃ মানে? (ভ্রু কুঁচকে)
অরিনঃ আপনার এই ডেরাটাকে দেখছি, (আঙুল দিয়ে ইশারা করে পুরো বাড়ি দেখিয়ে)
আহিলঃ What? (রেগে)
অরিনঃ ডেরা চেনেন না? (অবাক হয়ে)

আহিলঃ না, (মাথা নেড়ে)
অরিনঃ তোমার মতো মাথামোটা জানবেও বা কি করে, (মনে মনে)
আহিলঃ কি হলো? (আঙুলে তুড়ি বাজিয়ে)

অরিনঃ ডেরা হচ্ছে যেখানে শিয়াল, চামচিকা, বাঁদুড়, কাঁকড়া থাকে, সেইটাকে ডেরা বলে বুঝলেন, (হেসে)
আহিলঃ How dare you? You know that, এই বাড়ির মূল্য কতো? (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ তা জেনে আমি কি করবো, (মুখ ফিরিয়ে)
আহিলঃ তোমার সাথে কথা বলাই বেকার, (রেগে)
অরিনঃ Absolutely right, (হেসে হেসে)

আহিল উঠে রুমের দিকে চলে যায়। অরিন সোফায় বসে মুখ চেপে হাসছে আহিলের দিকে তাকিয়ে। অরিন আস্তে আস্তে বলে,
অরিনঃ আমিও অরিন, রাফিয়া অরিন, সবে তো শুরু। আপনার জীবন পুরাই তেজপাতা বানিয়ে দেবো, aage aage dekho hota hai kya, (দুষ্ট হাসি দিয়ে)
অরিনও উঠে রুমে চলে যায়। আহিল বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে। অরিন আহিলকে দেখে মনে মনে বলে,

অরিনঃ তুমি চুপচাপ থাকতে পছন্দ করো তাই না, দাঁড়াও দেখাচ্ছি মজা, (হেসে)
অরিন খাটের উপর উঠে, কোমরে শাড়ি গুঁজে। চুল গুলো মেলে দিয়ে গান শুরু করে দেয়,
অরিনঃ O Dj O Dj একটা ঝাকানাকা গান বাজা আরে O Dj Oj একটা ঝাকানাকা বাজা, (চিৎকার করে)
আহিল অরিনের চিৎকার শুনে কান হাত দিয়ে চেপে ধরে রুমে আসে। আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,

আহিলঃ রাফিয়া কি হচ্ছে এসব? থামো বলছি, (বিরক্ত হয়ে)
অরিন আহিলকে দেখে আরও জোরে গান গায়,
অরিনঃ Are abhi tooh party shuru hui hai, taan taan taan.. (আরও জোরে)
আহিলঃ রাফিয়া তোমাকে থামতে বলেছি, (রেগে)

অরিনঃ ধীম তানা ধীম তানা তা না না না না, আজ নাচেরে নাচেরে মন শোনে না মানা, (নাচতে নাচতে)
আহিলঃ তুমি থামবে নাকি আমি উঠবো খাটে, (দাঁতে দাঁত চেপে)
অরিনঃ নাচ না জানলে উঠান বাঁকা যে বলুক রে, (ভেংচি মেরে)
আহিলঃ তোমাকে তো, (রেগেমেগে)

আহিল রেগেমেগে খাটে উঠে অরিনের কাছে গিয়ে, শক্ত করে অরিনের হাত ধরে আর অমনি অরিন ঢলে পড়ে আহিলের উপর, আহিল অরিনকে ধরে ফেলে, আহিল অরিনের গালে হাত রেখে বলে,
~ রাফিয়া চোখ খোলো? (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
~, (চুপচাপ চোখ বন্ধ করে আছে)
~ আরে হঠাৎ করে কি হলো তোমার? (চিন্তিত হয়ে)
~ ওগো তোমার আকাশ দুটি চোখে আমি হয়ে গেছি তারা। (এক চোখ খুলে)

~ তবে রে, (রেগেমেগে)
অরিন উঠে দৌড়ে বেলকনিতে যায়। আহিলও যায়। অরিন পালাতে নিবে তার আগেই আহিল অরিনের শাড়ির আঁচল ধরে টান দেয়। অরিন চুপটি করে দাঁড়িয়ে যায়, আহিল অরিনের কাছে আসতে আসতে বলে,
~ নিজেকে খুব চালাক ভাবো তাই না, (দাঁতে দাঁত চেপে)

~ মোটেই না, (মাথা নেড়ে)
~ নাটক খুব ভালো করে করতে পারো! (রেগে)
~ একটু ও না, (হাত নেড়ে)
~ তোমাকে তো শাস্তি পেতেই হবে, (রেগেমেগে)
আহিল অরিনের কাছে আসে তখনই আহিলের ফোন বেজে ওঠে। অরিন মনে মনে অনেক খুশি হয়। আহিল ফোন হাতে নিয়ে রিসিভ করে,


পর্ব ২২

আহিল ফোন রিসিভ করে, অপর প্রান্ত থেকে খুব রেগে তার মা আহিলকে বলে,
আম্মুঃ আহিল, (ধমক দিয়ে)

আহিলঃ কেমন আছো আম্মু? (হেসে)
আহিলের মুখে আম্মু শব্দটা শুনে অরিনের কান খাঁড়া হয়ে যায়। অরিন আড়ি পেতে শোনার চেষ্টা করে আহিল কি বলছে, আহিল শান্ত গলায় বলে,
আহিলঃ কি হলো আম্মু রেগে আছো? (অবাক হয়ে)
আম্মুঃ রাগ করবো না হয় দাঁত বের করে হাসবো, (রেগে)

আহিল~ কি হয়েছে আম্মু? (না জানার ভান করে)
আম্মুঃ তুই আমাদের একমাত্র ছেলে, তুই বিয়ে করেছিস তাও আমাদের না জানিয়ে? (রেগে)
আহিলঃ আম্মু খুব তাড়াহুড়ো করে সব হয়েছে বলার সুযোগ পাইনি, (থতমত খেয়ে)
আম্মুঃ একটা বার আমাদের বলার ও প্রয়োজন মনে করলি না? (রেগে)

আহিলঃ আম্মু শোনো তো, (বুঝানোর চেষ্টা করে)
আম্মুঃ কি শুনবো? (রেগেমেগে)
আহিলঃ তুমি কি করে জানলে আমি বিয়ে করেছি? (শান্ত হয়ে)
আম্মুঃ তোর ডাক্তার আঙ্কেল বলেছে, সে তো বৌমাকে দেখেও এসেছে, (রেগে)
আহিলঃ জানতাম, (শ্বাস ফেলে)

আম্মু~ তুই যা করেছিস সেটাই সে বলেছে, (রেগে)
আহিলঃ তাহলে এখন কি ডিভোর্স দিয়ে দিবো? (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
আম্মু~ থাবড়া মেরে গাল লাল করে দেবো, (রেগেমেগে)

ভুলবশত তখনই লাউড স্পিকার অন হয়ে যায় আর অরিনও কথাটা শুনে ফেলে। কথাটা শুনে অরিন হো হো করে হেসে ওঠে। আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
আহিলঃ তাহলে, কি করবো সেটা তো বলো? (বিরক্ত হয়ে)
আম্মুঃ বৌমার কাছে ফোনটা দে, (ধমক দিয়ে)
আহিলঃ তোমার এমন ড্রামা কুইন বৌমা, (বিড়বিড় করে)
আম্মুঃ কি হলো ফোন টা দে, (রেগেমেগে)
আহিলঃ দিচ্ছি,

আহিল অরিনের কাছে গিয়ে অরিনের মাথায় হাত রেখে একহাতে টান দিয়ে নিজের মুখের কাছে এনে বলে,
আহিলঃ কোনো রকম উল্টো পাল্টা করবে না, আম্মু কথা বলবে, নাও, (অরিনের হাতে ফোন দিয়ে)
অরিন আহিলের দিকে তাকিয়ে একটা ভেংচি মেরে ফোনটা হাতে নিয়ে, কথা বলা শুরু করে। অরিন এমন ভাবে কথা বলে, মনে হয় আহিলের মাকে অনেক আগে থেকেই তার চেনা, আহিল অবাক হয়ে যায়,

অরিনঃ আসসালামু আলাইকুম, (হেসে)
আম্মুঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম, (হেসে)
অরিনঃ কেমন আছো মামুনি? বাবাই কেমন আছেন? (একসাথে)
আম্মু~ হ্যাঁ মা ভালো আছি আমরা, (হাসিমুখে)

অরিনঃ কি করছো এখন, আর তোমরা কোথায় থাকো? এতো বড় বাড়ি তবুও তোমরা নেই? (বাচ্চাদের মতো করে)
আম্মুঃ আহিল কিছু বলেনি তোমাকে? (অবাক হয়ে)
অরিনঃ সে তো আমার সাথে কথাই বলে না, (আহিলের দিকে তাকিয়ে)
আম্মুঃ কি বলিস মা, তোমার সাথে কথা বলে না? (অবাক হয়ে)

অরিনঃ না মামুনি, তোমরা চলে আসো না প্লিজ প্লিজ (কান্নার সুরে)
আম্মুঃ আসবো মা, তোকে দেখতে তো আসতেই হবে, (হেসে)
অরিনঃ সত্যি তুমি অনেক ভালো মামুনি, (হেসে)
আম্মুঃ পাগলি মেয়ে, রাখছি কেমন ? (হেসে)

অরিনঃ আল্লাহ হাফেজ, টুট টুট টুট
আহিল অবাক হয়ে অরিনকে দেখছিলো। অরিন ফোন কেটে দিয়ে আহিলের দিকে তাকিয়ে আঙুলে তুড়ি বাজায়। আহিলের ধ্যান ভেঙে যায়, আহিল হালকা কাশি দিয়ে বলে,
আহিলঃ শেষ কথা বলা? (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ হুম, ফোন নিন আমি ঘুমাবো এখন, (ভেংচি মেরে)

আহিল অরিনের হাত থেকে ফোনটা নেয়। অরিন খাটের উপর শুয়ে পড়ে। আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে রুমে আসে। আহিল রুমে আসতেই অরিন উঠে বসে, অরিন উঠেই সব কুশান গুলোকে খাটের মাঝখানে রাখে, আহিল কিছু বুঝতে পারে না অরিন কেনো এগুলো রাখছে? সব গুলো রাখা শেষ করে আহিলের দিকে তাকিয়ে বলে,
অরিনঃ এই বাউন্ডারির বাহিরে আসার চেষ্টাও করবেন না, (গাল ফুলিয়ে)

আহিলঃ Excuse me, আমার বাড়ি আমার রুম আমার বেডে তুমি বাউন্ডারি দেয়ার কে? (রেগেমেগে)
অরিনঃ আমি অরিন রাফিয়া অরিন, (ভাব নিয়ে)
আহিলঃ হেহহ, মাফিয়া হরিণ। (ভেংচি মেরে)
অরিনঃ এই কি বললেন আপনি?(রেগেমেগে)
আহিলঃ মাফিয়া হরিণ, (হেসে)

অরিন সব বালিশগুলো আহিলের দিকে ছুড়ে মারে, আহিল থ হয়ে যায়। অরিন রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলে,
অরিনঃ আমার এতো সুন্দর নামটা কি বানিয়ে দিলেন? (কটমট করে)
আহিলঃ এই কি করছো এসব? (উঠে গিয়ে)
অরিনঃ আমাকে মাফিয়া হরিণ ডাকেন, (রেগেমেগে)
আহিলঃ তো কি হয়েছে? (না জানার ভান করে)
বালিশ সব শেষ হয়ে যায়। অরিন চারদিকে তাকাতে থাকে, কিন্তু কোন কিছু পায় না আহিলের উপর ছুড়ে মারার জন্য। আহিল কটমট করে এসে অরিনকে বিছানার সাথে চেপে ধরে আর বলে,
আহিলঃ খুব সাহস তো তোমার? (চোখ রাঙিয়ে)

অরিন ভয়ে চুপসে যায়। আহিল অনেক জোরে অরিনের হাত চেপে ধরে, অরিন ব্যাথায় কান্না করে। অরিনের চোখের পানি দেখে আহিল অরিনের হাত ছেড়ে দেয়। অরিন চোখের পানি মুছে ফেলে। আহিল অরিনকে জড়িয়ে ধরে, অরিন ধাক্কা দিতে নিলে, আহিল বলে,

আহিলঃ নড়াচড়া করে লাভ নেই, আমি এভাবেই জড়িয়ে ধরে ঘুমাবো, (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ আরে বললেই হলো। (রেগে)
আহিল রেগেমেগে অরিনের দিকে তাকায়, অরিন ভয় পেয়ে বলে,
অরিনঃ না না এভাবেই ঘুমান আমি কিছু বলবো না। (ভয়ে ঢোক গিলে)
আহিলঃ Good girl, (গাল টেনে)

আহিল অরিনকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়ে। অরিন মনে মনে আহিলের গুষ্ঠি উদ্ধার করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ে,
সকালে অরিনের ঘুৃম ভেঙে যায় কারো চিৎকারে। অরিন ঘুমের ঘোরে বলে,
অরিনঃ কি আম্মু এতো চিল্লাচিল্লি করছো কেনো? সবে তো ভোর হলো। (মুখে হাত দিয়ে)
আহিলঃআম্মুকে কোথায় পেলে? আর এখন ভোর না সকাল ১০ টা বাজে, (অবাক হয়ে)
অরিনঃ তো কি হয়েছে, (অন্যদিকে ঘুরে)

আহিল বিরক্ত হয়ে অরিনকে বালিশের সাথে চেপে ধরে কিস করা শুরু করে, কিস না কামড় দেয়া শুরু করে। অরিন চোখ মেলে জোরে জোরে, উমমমমম উমমমমম করা শুরু করে। অরিন মাথা নাড়ে জোরে জোরে ছেড়ে দেওয়ার জন্য, কিন্তু আহিল ছাড়ছে না। অরিনের চোখ ছলছল করে ওঠে, কিছুক্ষন পরে আহিল অরিনকে ছেড়ে দেয়। আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,

আহিলঃ উঠতে দেরি হলে, এইটাই প্রতিদিন পাবে, কি হলো এখনো শুয়ে আছো কেনে? যাও ফ্রেশ হও, পাঁচ মিনিটের মধ্যে, নইলে (রেগেমেগে)
অরিন দৌড়ে ওয়াশরুমে মধ্যে যায়। আহিল হাসতে থাকে অরিনের কান্ড দেখে। অরিন ওয়াশরুমে ঢুকে কান্না করা শুরু করে দেয়। আহিল দরজায় টোকা দিয়ে বলে,
আহিলঃ Just 5 miniuits, mind it.
আহিলের কথা শুনে অরিন ভয় পেয়ে তাড়াতাড়ি করে ফ্রেশ হয়ে বের হয়। অরিনের চোখ, নাক, গাল টকটকে লাল হয়ে গেছে। আহিল খাটের উপর বসে ছিলো। আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,

আহিলঃ বাহ্, কাঁদলে তো তোমাকে হেব্বি কিউট লাগে। তাহলে আজ থেকে প্রতিটা মূহুর্ত শুধু কান্নাই করবে কেমন,
অরিন আহিলের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলে,
অরিনঃ তোর দফা রফা করে দিবো দেখে নিস ডেভিল একটা, (মনে মনে)
আহিল অরিনকে হেচকা টান দিয়ে নিজের কাছে আনে, অরিন অন্যদিকে তাকায়,


পর্ব ২৩

আহিল কিছুটা সংকোচ নিয়ে অরিনের দিকে তাকায়। অরিন চোখ মেলে তাকায়, অরিন আহিলের দিকে তাকিয়ে একটা ভেংচি মেরে অন্যদিকে তাকায়। আহিল শান্ত গলায় অরিনের হাত ধরে বলে,
আহিলঃ রাফিয়া,

অরিন আহিলের দিকে একপলক তাকিয়ে আবার মুখ ফিরিয়ে নেয়, আহিল অরিনের মাথায় হাত রেখে বলে,
অরিনঃ আমি জানতাম না একটা দুষ্টামির জন্য এত কিছু হয়ে যাবে।
অরিন মনে মনে বলে,

অরিনঃ তুই তো সব জেনে শুনেই করেছিস ডেভিল একটা,
আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
আহিলঃ ক্ষমা করলে কি খুব বেশি ক্ষতি হতে হয়ে যাবে?
অরিন মনে মনে বলে,
অরিনঃ ক্ষমা কখনো না, আমি সুদে আসলে এর শোধ নিয়ে ছাড়বো,

আহিল অরিনের গালে হাত রেখে নিজের দিকে ফিরিয়ে বলে,
আহিলঃ বিশ্বাস করো আমি,
আহিল তার কথা শেষ করতে পারলো না তার আগেই অরিনের বকবক মেশিন স্টার্ট,

অরিনঃ কি বিশ্বাস করবো? আপনাকে! জীবনেও না। আপনার পক্ষে কোনোকিছু অসম্ভব না, আপনি তো খাবারে বিষ মিশিয়ে সেই খাবার আমাকে খাওয়াতেও দ্বিধা বোধ করবেন না। আপনাকে খুব ভালো করে চিনি আমি। আমার জীবনটা তেজপাতা বানিয়ে দিয়েছেন তাতে ক্ষান্ত হননি এখন আবার,
আহিলঃ রাফিয়া বিশ্বাস করো,

অরিনঃ না না একদম না,
আহিলঃ কি করলে আমাকে মাফ করবে?
অরিনঃ না কোনো,

কথাটা বলতে গিয়ে অরিন থেমে যায়। অরিনের মাথায় দুষ্ট বুদ্ধি আসে, অরিন মনে মনে বলে,
অরিনঃ তোমাকে শায়েস্তা করার আইডিয়া পেয়ে গেছি হিহিহি।
আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,

আহিলঃ কোথায় হারিয়ে গেলে?
অরিনঃ জাহান্নামে,
আহিলঃ কি?
অরিনঃ না কিছু না, আমি যা যা বলবো সব করতে হবে আপনাকে, পারবেন।

আহিল চোখ ঘুরিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে মনে মনে বলে,
আহিলঃ এমনিতেই নাচের বুড়ি তার উপর আবার ঢোলে বারি, কথাটা বলাই ঠিক হয়নি।
অরিন বিছানা থেকে উঠে আহিলের সামনে আঙুলে তুড়ি বাজিয়ে বলে,
অরিনঃ Excuse me..

আহিলঃ হুম বলো,
অরিনঃ আমি যা বলবো তা সব করতে পারবেন? তাহলে ক্ষমা করলেও করতে পারি।

আহিলঃ ঠিক আছে। আমি রাজি,
অরিন কথাটা শুনে মনের মধ্যে নাচানাচি শুরু করে দেয়। আহিল যদি সামনে না থাকতো তাহলে উঠেই নাচানাচি শুরু করে দিতো কিন্তু তা তো করার উপায় নেই তাই বহু কষ্টে নিজেকে শান্ত রেখে অরিন বলে,

অরিনঃ আচ্ছা, যান আমার জন্য একটা স্পেশাল কফি বানিয়ে নিয়ে আসুন।
আহিল উঠতে নিলে অরিন আহিলের হাত ধরে বলে,
অরিনঃ অন্য কাউকে দিয়ে বানালে আমি খাবো না, আপনি নিজের হাতে বানিয়ে নিয়ে আসবেন, কেমন।
আহিলঃ ঠিক আছে।

আহিল উঠে চলে যায় রান্না ঘরে। অরিন হাত তালি দিয়ে নিজের প্রশংসা করা শুরু করে দেয়,
অরিনঃ বাহ্ অরিন তুই তো দেখছি অনেক চালাক, Yes, I’m so চালাক
কিছুক্ষণ পর আহিল কফি বানিয়ে নিয়ে আসে রুমে, অরিন এতক্ষণ আহিলের জন্য অপেক্ষা করছিলো, আহিল এসে অরিনের পাশে বসে, অরিনের দিকে কফি মগটা বাড়িয়ে দেয়, অরিন কফি মগটা হাতে নিয়ে চুমুক দেয়, আর নাক ছিটকে বলে,
অরিনঃ ইয়াক, এটা কি?

আহিলঃ কেনো? কফি!
অরিনঃ এটা কেমন কফি, একটুও চিনি নেই?
আহিলঃ তুমি কফিতে চিনি খাও?
অরিনঃ নাহ লবণ দিয়ে খাই।

আহিলঃ ঠিক আছে লবণ নিয়ে আসছি,
অরিনঃ আরে, আমি চিনি খাই কফিতে,
আহিলঃ তুমি না বললে লবণ খাও,

অরিনঃ এমনি বললাম, যান চিনি নিয়ে আসুন,
আহিল অরিনের হাত থেকে কফি মগটা হাতে নিয়ে চলে যায় রান্নাঘরে। একটুপরে আহিল চলে আসে। অরিন মুখ ভেংচি মেরে বলে,
অরিনঃ এতো দেরি হলো কেনো আসতে?
আহিলঃ এই নাও,

অরিন কফি মগে চুমুক দিয়ে বলে,
অরিনঃ এত চিনি! কফিকে তো শরবত বানিয়ে দিলেন।
আহিলঃ সমস্যা কি তোমার?

অরিনঃ আমার কোনো সমস্যা নেই।
আহিলঃ তাহলে এতো খুঁত ধরছো কেনো? নিজে বানিয়ে খাও।
অরিনঃ আপনি কি সব ভুলে গেছেন?
আহিল হনহনিয়ে অরিনের কাছে এসে অরিনের গাল চেপে ধরে বলে,
আহিলঃ আমি ইচ্ছে করে এসব করিনি আর অতিরিক্ত কোনো কিছু করো না।
অরিনঃ আ,
আহিলঃ চুপ একদম চুপ

আহিল আচমকা অরিনের কপালে একটা কিস দিয়ে রুম থেকে বের হয়ে যায়। অরিন দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
অরিনঃ ভেবেছিলাম শায়েস্তা করবো এ তো উল্টো আমাকে শায়েস্তা করে চলে গেলো। ধুর।

আহিল রুম থেকে বের হয়ে দুই পা সামনে গিয়ে থমকে দাঁড়ায়, ঘুরে রুমের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলে,
আহিলঃ মেয়েটা ভিষণ দুষ্ট কিন্তু নিজেকে খুব চালাক ভাবে। মাঝে মাঝে হালকা ধমক দিলেই ভয়ে গুটিশুটি হয়ে যায়। পাগলি একটা,
আহিল ড্রইংরুমে গিয়ে ল্যাপটপে কাজ করতে থাকে। অরিন রুম থেকে বের হয়ে ড্রইং রুমে চলে আসে। অরিন আহিলের দিকে তাকিয়ে বলে,
অরিনঃ এটা কথা বলি?
আহিলঃ হুম বলো,

আহিলঃ আমি কলেজে যেতে চাই?
কলেজের কথা শুনে আহিল ক্ষেপে যায়। আহিল রাগী দৃষ্টিতে অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
আহিলঃ কোথাও যাওয়ার দরকার নেই।
অরিনঃ কিন্তু,

আহিলঃ Shut up. আর একটা কথা বললে,
অরিন মুখ গোমড়া করে বসে থাকে। আহিল বারবার আড়চোখে অরিনের দিকে তাকায়। অরিন অন্যদিকে তাকিয়ে আছে। আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
আহিলঃ পড়তে চাও?
অরিনঃ হুম,

আহিলঃ ঠিক আছে, কাল থেকে আমার কাছে পড়বে তুমি।
অরিনঃ কিহ্ আপনার কাছে?
আহিলঃ হুম আমার কাছে।
অরিনঃ আপনি!

আহিলঃ শোনো আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করেছি তারপর পিএইচডি করেছি দেশের বাইরে। তোমার মতো বাচ্চা মেয়েকে পড়ানো কোনো ব্যাপার না।
অরিনঃ কি আমি বাচ্চা মেয়ে?
আহিলঃ নয়তো কি?
অরিন রেগেমেগে উঠে চলে যেতে নেয় আর তখনি আহিল অরিনের শাড়ির আঁচল ধরে ফেলে।


পর্ব ২

আহিল অরিনের শাড়ির আঁচল ধরে টান দেয়, অরিন একরাশ বিরক্তি নিয়ে আহিলের দিকে তাকায়। আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে চোখ টিপ মারে। অরিনের চোখ বড় বড় হয়ে যায়, আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,

আহিলঃ এভাবে তাকালে ডিমের মতো চোখ দুটো বেরিয়ে যাবে। (মুচকি হেসে)
অরিনঃ কি বললেন? (রেগেমেগে)
আহিলঃ কেনো কানে শোনো না? (ভ্রু কুঁচকে)
অরিনঃ যতো ঢং, (ভেংচি মেরে)

অরিন যেতে নেয় তখনি আহিল আবারও অরিনের আঁচল ধরে টান দেয়, অরিন আহিলের দিকে তাকিয়ে বলে,
অরিনঃ আমার কাছে টাকা পয়সা নেই ভিক্ষা দেওয়ার জন্য, (ভাব নিয়ে)
আহিলঃ What? (রেগে)

অরিনঃ কেনো কানে শুনেন না? (মুখ বাকিয়ে)
আহিলঃ আমার কথা আমাকে ফিরিয়ে দিচ্ছো, আর তুমি কি বললে আমাকে ভিক্ষা দেবে? (রেগেমেগে)
অরিনঃ তাহলে শাড়ির আঁচল ধরে টানাটানি করছেন কেনো? (রেগে )

আহিলঃ ওহ তাই, ওকে। (ডেভিল মার্কা হাসি দিয়ে)
কথাটা বলেই আহিল জোরে টান দেয় অরিনের শাড়ির আঁচল ধরে। অরিন হুমড়ি খেয়ে আহিলের উপর পড়ে যায়। আহিল অরিনকে ধরে ফেলে। অরিনের চুল উড়ে এসে আহিলের মুখে পড়ছে। অরিন আহিলের চোখের দিকে তাকিয়ে যেনো সব ভুলে গেছে। আহিল অরিনের খুব কাছাকাছি চলে আসে। অরিন আহিলকে কিছু বুঝতে না দিয়ে ধীরে ধীরে আহিলের কানের কাছে গিয়ে জোরে চিৎকার করে।

আহিল অরিনকে ছেড়ে দিয়ে কান চেপে ধরে। অরিন উঠে গিয়ে হাততালি দিয়ে নাচা শুরু করে দেয়। আহিল রেগেমেগে বলে,
আহিলঃ এটা কি হলো? (রেগেমেগে)

অরিনঃ চিৎকার করা হলো। (শাড়ির আঁচল নাড়িয়ে)
আহিলঃ কিসের জন্য শুনি? (ধমক দিয়ে)

অরিনঃ সব কথা বলতে নেই সবাইকে। (দাঁত বের করে হেসে)
কথাটা বলে অরিন দৌড়ে সিড়ি দিয়ে উঠে যায়। আহিল অরিনের দৌড়ানোর দিকে তাকিয়ে বলে,
আহিলঃ এই মেয়েকে বোঝা আমার পক্ষে সম্ভব না। (কানে হাত দিয়ে)
অরিন রুমে গিয়ে হঠাৎ দাঁড়িয়ে যায় আর গালে হাত দিয়ে বলে,

অরিনঃ এ বাসার তো কিছুই চিনি না কিছুই জানি না, পুরো বাড়িটা একবার ঘুরে দেখা দরকার। দেখা নয় দেখবো আর সেটা এখনই। (আঙুলে তুড়ি বাজিয়ে)
যেই বলা সেই কাজ। অরিন রুম থেকে বের হয়ে প্রথমে তাদের রুমের পাশের রুমে যায়। অরিন রুমের দরজা খুলে বুঝতে পারে এটা আহিলের বাবা, মায়ের রুম কারণ রুমে তাদের ছবি টাঙানো। তারপর অরিন বের হয়ে তার পাশের রুমে যায়।

সেই রুমটাকে রুম না বলে লাইব্রেরি বললে ঠিক হবে কারণ পুরো রুমে তাকভর্তি বই আর বই। রুমের মাঝখানে একটা টেবিল আর তিন পাশে সোফা। অরিন রুমের মধ্যে ঢুকে সবটা দেখে বলে,

অরিনঃ খাটাশ টা তাহলে বই পড়তে খুব পছন্দ করে। দেখা যাক আর কি কি পছন্দ করে বদের হাড্ডি টা। (মুচকি হেসে)
অরিন রুম থেকে বের হয়ে তার পাশের রুমে যায়। রুমের মধ্যে গিয়ে অরিন হা হয়ে যায় কারণ পুরো রুম ক্রিকেট ব্যাট, বল, টেনিস ব্যাট, ভলিবল, হকিস্টিক আরও নানারকম খেলার সরঞ্জামাদি সেই সাথে রুমের ঠিক মাঝখানে একটা বড় আলমারি তার মধ্যে অনেক গুলো ট্রফি, ক্রিষ্টি, মেডেল। আর অনেকগুলো ছবি রাখা। ছবিগুলোতে আহিল ট্রফি নিচ্ছে। অরিন হা হয়ে বলে,

অরিনঃ উরিম্মা এত্তগুলা ট্রফি। এ ডেভিল তো দেখছি সব কিছুতে চ্যাম্পিয়ান। দেখা যাক, পাশের রুমে কি আছে? (মাথায় হাত দিয়ে)
অরিন বের হয়ে পাশে তাকিয়ে দেখে দেয়াল মানে এটাই ছিলো এই পাশের শেষ রুম। অরিন বাম পাশের রুমে চলে যায়। সেখানে গিয়ে দরজা খুলতে যাবে আর অমনি আহিল এসে অরিনের হাত ধরে ফেলে। অরিন আহিলের দিকে তাকিয়ে বলে,
অরিনঃ কি হলো হাত ধরলেন কেনো? (অবাক হয়ে)

আহিলঃ এখানে কি করছো? (রেগে)
অরিনঃ আমি তো সব রুম গুলো ঘুরে দেখছিলাম। (চারদিকে তাকিয়ে)
আহিলঃ অন্যরুম ঘুরে দেখো কিন্তু এইরুমে কখনো ঢুকবে আর ঢোকার চেষ্টাও করবে না। (রেগেমেগে)
অরিনঃ আপনার কথায়, (ভ্রু কুঁচকে)
আহিলঃ হ্যাঁ, আমার কথায়। (রেগে)

অরিনঃ আমি এই রুমে যাবো আর সেটা এখুনি, (ভেংচি মেরে)
অরিন এক ঝাটকায় আহিলের হাত সরিয়ে দিয়ে দরজা খুলতে নিলে। আহিল অরিনকে ঘুরিয়ে কষে থাপ্পড় দেয়। অরিন তাল সামলাতে না পেরে ছিটকে নিচে পড়ে যায়। অরিনের ঠোঁট কেটে যায়। ঠোঁট কেটে রক্ত পড়তে থাকে। অরিন গালে হাত দিয়ে অসহায় দৃষ্টিতে আহিলের দিকে তাকায়।

আহিল রেগেমেগে অরিনের কাছে গিয়ে অরিনের গাল চেপে ধরে বলে,
আহিলঃ বলেছি না আমার কথার উপর কথা না বলতে, (চোখ রাঙিয়ে)
অরিনঃ কি এমন করেছি, শুধু ঐ রুমটায় যেতে চেয়েছি। (কাঁদতে কাঁদতে)

আহিলঃ না ঐ রুমে যেতে পারবে না। আর যদি কোনোমতে ঐ রুমে যাও তাহলে আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না। (গাল চেপে ধরে)
আহিল অরিনকে ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে দেয়। অরিন সেখানে বসে বসে কাঁদতে থাকে। আহিল রাগে গজগজ করতে করতে রুমে চলে যায়। আহিল রুমে গিয়ে ফুঁসতে ফুঁসতে বলে,
আহিলঃ কেনো তোমাকে ভুলতে পারছি না নুজহাত। ফুয়াদ! তোদেরকে আমি মনে করতে চাই না তবুও তোদের স্মৃতি সবসময় আমাকে তাড়া করে বেড়ায় আর সেই রাগ আমি শুধু শুধু অরিনের উপর ঝারি যেখানে সেই মেয়ের কোনো দোষ নেই। (চোখ মুছে)
অরিন সেখানে বসে দুই হাটুতে মুখ গুঁজে কাঁদছে। অরিন কাঁদছে আর বলছে,

অরিনঃ আমার কি দোষ ছিলো? রুমটাই তো দেখতে চেয়েছিলাম ঠিক আছে দেখলাম না তোর ঘর। (কেঁদে কেঁদে)
টানা চার পাঁচ ঘন্টা কেটে যায়। আহিল রুমে বসে আছে। অরিনও সেখানেই বসে বসে কাঁদছে। কাজের লোকোরাও কেউ সাহস করে উপরে উঠছে না। আহিল উঠে রুম থেকে বের হয়। বের হয়ে তাকিয়ে দেখে অরিন সেখানে বসেই কাঁদছে। আহিল দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে অরিনের কাছে যায়।
অরিন তখনও মাথা গুঁজে কাঁদছে। আহিল বসে অরিনের মাথায় হাত রেখে বলে,

আহিলঃ রাফিয়া। (শান্ত গলায়)
অরিন আহিলের দিকে তাকিয়ে একটা ভেংচি মেরে আবারও মাথা গুঁজে ফেলে। আহিল আবারও বলে,
আহিলঃ রুমে চলো। (অরিনের মাথায় হাত রেখে)
অরিনঃ না যাবো না। (ধমক দিয়ে)
আহিলঃ চলো বলছি। (জোরে)
অরিনঃ থাকেন আপনি আপনার রুম নিয়ে, এতো জোরে আমার আম্মু, বাবাই ও মারেনি আমাকে। (হেঁচকি তুলে)
আহিলঃ আমার ভুল হয়ে গেছে। (শ্বাস ফেলে)

অরিনঃ সারাজীবন এখানে এভাবে কাটিয়ে দেবো যাবো না আপনার রুমে (কেঁদে কেঁদে)
আহিল কথা না বাড়িয়ে অরিনকে কোলে তুলে নেয়। অরিন কোলের উপরে নাচানাচি শুরু করে দেয় আহিল জোরে ধমক দিয়ে বলে,
আহিলঃ এই চুপ, আর একটু নড়াচড়া করলে এই উপর থেকে ফেলে দেবো। (জোরে ধমক দিয়ে)

অরিন ভয়ে চুপসে যায়। আহিল অরিনকে নিয়ে রুমে গিয়ে যায়। তারপর অরিনকে বেডে বসিয়ে নিজেও অরিনের সামনে বসে। আহিল অরিনের ঠোঁটের দিকে তাকায়, অরিনের ঠোঁটের কোণে রক্ত শুকিয়ে গেছে।
অরিন আরচোখে আহিলের দিকে তাকায় আর মনে মনে বলে,
অরিনঃ না জানি বজ্জাতটা আবার কোন কুমতলব আঁটছে। (মনে মনে)

আহিল অরিনের ঠোঁটে আঙুল রেখে আস্তে আস্তে বলে,
আহিলঃ ব্যাথা পেয়েছো? (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ না খুব আরাম পেয়েছি, (ভেংচি মেরে)
আহিল অরিনের গালে পড়ে থাকা চুল সরিয়ে দিয়ে দেখে অরিনের ফর্সা গালে আহিলের পাঁচ আঙুলের ছাপ রক্তবর্ণ হয়ে ফুটে উঠেছে। আহিল অরিনের গালে হাত রেখে বলে,
আহিলঃ খুব লেগেছে তাই না। (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ এতো জোরে মারলে কি লাগে নাকি? (রেগে)

আহিলঃ Extremely sorry, (অরিনের দুই কান ধরে)
অরিনঃ আমার কান ধরছেন কেনো? নিজের কান ধরুন, (রেগেমেগে)
আহিলঃ আচ্ছা এই ধরলাম এবার খুশি। (কান ধরে)
অরিন অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, আহিল অরিনের মুখ নিজের দিকে ফিরিয়ে বলে,
আহিলঃ আমার লক্ষীসোনা চাঁদের কণা রাগ করে না। (অরিনের গাল টেনে)
অরিনঃ আহ্লাদে একেবারে আটখানা। (ভেংচি মেরে)

আহিলঃ না বাবু দশখানা তাও একটু হাসো। (হাতজোড় করে)
অরিন ভেংচি মেরে অন্যদিকে তাকায়। আহিল মুচকি হেসে মনে মনে বলে,
আহিলঃ এভাবে কাজ হবে না অন্য পথ অবলম্বন করতে হবে। (মুচকি হেসে)
কি করবে আহিল অরিনের রাগ ভাঙানোর জন্য? দেখা যাক সে কি করে?


পর্ব ২৫

আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিয়ে উঠে রুম থেকে বের হয়ে যায়। অরিন বাঁকা চোখে তাকিয়ে তা দেখে বলে,
অরিনঃ বাঁচা গেলো, ডেভিলটা রুম থেকে বের হয়ে গেলো। এখান থেকে সর দূরে গিয়ে মর। (ভেংচি মেরে)

অরিন ভেংচি মেরে দেয়ালের দিকে তাকায়। হঠাৎ করে অরিন অনুভব করে সে হাওয়ায় ভাসছে। অরিনের মুখ ফসকে বের হয়ে যায়,
অরিনঃ আরে আমি কি এন্ঞ্জেল হয়ে গেলাম নাকি। এমনি এমনি হাওয়ায় ভাসছি। (থতমত খেয়ে)
আহিল অরিনের কথা শুনে হো হো করে হেসে ওঠে। আহিল বহু কষ্টে হাসি থামিয়ে বলে,
আহিলঃ হায়রে বোকা মেয়ে, (হাসি থামিয়ে)

আহিলের কথায় অরিন আহিলের দিকে তাকায়। অরিন একটা ভেংচি মেরে বলে,
অরিনঃ আপনি আমাকে কোলে নিলেন কেনো? (রেগেমেগে)
আহিলঃ বউকে কোলে নিতে পারমিশন লাগে না বুঝলে? (চোখ টিপ মেরে)
অরিনঃ আমি নামবো, (রেগেমেগে)

আহিলঃ আমি কি বলছি নাকি যে তোমাকে সারাজীবন কোলে করে রাখবো এমনিতেও তুমি এতো ভারি! (তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে)
অরিনঃ কি বললেন? (চোখ রাঙিয়ে)
আহিলঃ না কিছু না। (মাথা নেড়ে)

আহিল অরিনকে কোলে নিয়ে রুম থেকে বের হয়। অরিন কোলের লাফালাফি শুরু করে দেয় আর বলে,
অরিনঃ কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন আমাকে? ছাড়ুন বলছি, (লাফালাফি করে)
আহিলঃ ধরে একটা আছাড় মারবো, সমস্যা কি তোমার? রোমান্টিক মুড আসলেই তখনি সেই মুডে পানি ঢেলে দাও। (ধমক দিয়ে)
অরিনঃ এই বজ্জাতটা নাকি রোমান্টিক আর এটাও আমাকে বিশ্বাস করতে হবে। বিদায় পিতিবী (বিড়বিড় করে)
আহিলঃ কি বললে? আর পিতীবি কি? (ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে)

অরিনঃ পিতীবি মানে পৃথিবী বুঝলেন, (ভেংচি মেরে)
আহিলঃ তো এই পৃথিবী আসলো কোথা থেকে এই কথার মাঝে? (অবাক হয়ে)
অরিনঃ জানি না (মুখ বাকিয়ে)

আহিল কথা বলতে বলতে একটা রুমে নিয়ে আসে। পুরো মিউজিক্যাল ইনস্ট্রুমেন্টে ঠাসা। এমন কোনো ইন্স্ট্রমেন্ট নেই যেটা এই রুমে। দেয়ালে আহিলের ছবি টাঙানো হাতে গিটার এরকম বহু ছবি। অরিন পুরো রুমে চোখ বুলিয়ে নিচ্ছে। আহিল অরিনকে কোল থেকে নামিয়ে দেয়। অরিন ঘুরে ঘুরে পুরো রুম দেখছে। আহিল ড্রামে কাঠি দিয়ে তাক দেয়। অরিন আহিলের দিকে তাকায়। আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
আহিলঃ কলেজ লাইফে আমার একটা নাম ছিলো। জানো সেটা কি? (মুচকি হেসে)
অরিনঃ সেটা আমি কি করে জানবো? (ভেংচি মেরে)

আহিলঃ সেটা হলো রকস্টার আহিল। সবাই এই নামে আমাকে ডাকতো (ভাব নিয়ে)
অরিনঃ উরিম্মা! (চাপা মারার আর জায়গা পায় না)
আহিলঃ বহুদিন পর এই রুমে আসলাম তাও তোমার জন্য। (মুচকি হেসে)
অরিনঃ আমি তো বলিনি যে আপনি এই রুমে আসুন। (বিরক্ত করে)
আহিলঃ হুম তা ঠিক, (মাথা নেড়ে)

অরিনঃ তাহলে, ( আড়চোখে তাকিয়ে)
আহিলঃ এখানে এসেছি তোমার রাগ ভাঙানোর জন্য, (হেসে)
অরিনঃ এখন এই ঢাক ঢোল পিটিয়ে আমার রাগ ভাঙাবেন (গোমড়া মুখে)
আহিলঃ হাহাহা, আরে না। (হেসে)
অরিনঃ তাহলে, (মুখ ফিরিয়ে)

আহিলঃ তোমাকে গান শোনাবো তাই এসেছি। (শান্ত গলায়)
অরিনঃ আমি আপনার বেসুরা গলার গান শুনতে চাই না। আপনার ভয়েস কার মতো জানেন? (আহিলের দিকে তাকিয়ে)
আহিলঃ কার মতো? (অবাক হয়ে)

অরিনঃ ডোরেমনের মধ্যে নবীতার বন্ধু জিয়ান আছে না, ঠিক জিয়ানের মতো আপনার ভয়েস। (হেসে)
আহিলঃ Oh really. Anyway আমি ওসব জিয়ান টিয়ানকে চিনি না তবে আমার তোমার শুনতেই হবে। (বাঁকা হাসি দিয়ে)
অরিনঃ কখনো না। (কান চেপে ধরে)

কথাটা বলেই অরিন দৌড়ে দরজার কাছে গেলে দরজা অটোমেটিক বন্ধ হয়ে যায়। রুমের দরজাটা অটো লক সিস্টেম। অরিন রেগেমেগে আহিলের দিকে তাকায়। আহিল মুচকি হেসে ব্লু রঙের বাটারফ্লাই ট্যাটু করা গিটার টা হাতে নেয়, আহিল গিটারট হাতে নিয়ে টুংটাং সুর তোলে। অরিন কান চেপে ধরে দুই হাত দিয়ে। আহিল গানের সুর তোলে,
আকাশ জুড়ে তোমার একটা ছবি দেখতে পাই
আকাশ জুড়ে তোমার একটা ছবি দেখতে পাই

(অরিন কান থেকে হাত সরিয়ে আহিলের দিকে তাকায়)
সকাল, দুপুর, বিকেল রাত্রি আকাশের বুকে
(আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে গানের সুর তোলে)
গোমড়া মুখে বসে আছো তুমি যে একা

লক্ষীসোনা তোমার মুখে হাসি দেখতে চাই
তুমি হাসো একটুখানি হাসো
তাতেই আমি বুঝে নেবো অনেক ভালোবাসো
তুমি হাসো একটুখানি হাসো

তাতেই আমি বুঝে নেবো অনেক ভালোবাসো
(আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে একটা ফ্লাইং কিস দেয়, অরিন তো রেগেমেগে একাকার)
ভালোবাসবো বাসবো রে বন্ধু তোমায় যতনে

আমার মনের ঘরে চান্দের আলো চুঁইয়া চুঁইয়া পড়ে
(অরিন মনে মনে বলে ~ খাটাশ টা তো ভালোই গান জানে)
আহিল গিটারটা রেখে ধীরে ধীরে অরিনের দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। অরিন এক পা, দুই পা করে পিছিয়ে যেতে থাকে, আহিল ডেভিল মার্কা হাসি দিয়ে অরিনের দিকে আসতে থাকে। অরিন মনে মনে বলে,

অরিনঃ হায় আল্লাহ এই লুচুটা আবার কি করবে? হে খোদা, আমাকে উপরে উঠিয়ে নাও যাতে এই ডেভিলটা কিছু না করতে পারে। (মনে মনে)
অরিন হঠাৎ দাড়িয়ে গেলো কারণ পেছনে দরজা তাও আবার লাগানো, অরিন ভয়ের চোখে আহিলের দিকে তাকায়, আহিল অরিনের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। অরিন ভয়ে চোখ দুটো বন্ধ করে নেয়। আহিলের প্রতিটা নিশ্বাস অরিন অনুভব করছে। অরনিরে হার্ট বিট ফুল স্পীডে বেড়ে গেছে। অরিনের কপালের উপর পড়ে থাকা চুল গুলো আহিল ফুঁ দিয়ে সরিয়ে দেয়। অরিন কেঁপে ওঠে। আহিল অরিনের আরো কাছে চলে আসে, তারপর,


পর্ব ২৬

আহিলের প্রতিটা নিশ্বাস অরিনের মুখে পড়ছে। অরিনের বুকের মধ্যে ঘন্টা বাজছে। আহিল তার হাত অরিনের কোমরের পাশে রেখে দরজার লক খোলে। দরজাটা খুলে যায়। আহিল কিছুটা সরে যায় অরিনের থেকে।

অরিন কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে রাখার পর সামনে কারো অস্তিত্ব টের পায় না। অরিন টিপটিপ করে একটা চোখ খুলে তাকিয়ে দেখে, আহিল অরিনের সামনে দাড়িয়ে আছে আর হাসছে, অরিন হুড়মুড়িয়ে দুচোখ খুলে তাকায়। আহিল ভ্রু নাচিয়ে অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
~ কি ভেবেছিলে? (ডেভিল মার্কা হাসি দিয়ে)
~ ক ক কই, কিছুনা, (থতমত খেয়ে)

~ তাহলে চোখ বন্ধ করে ছিলে কেনো? (বাঁকা হাসি দিয়ে)
~ ইচ্ছে হয়েছে তাই, (ভেংচি মেরে)
~ আমি তো ভেবেছিলাম অন্যকিছু ভাবছো, (চোখ ঘুরিয়ে)

~ না আমি কিছুই ভাবছিলাম না। (ভ্রু কুঁচকে)
~ Oh really.. (অবাক হয়ে)
~ Yeah. (দাঁত বের হয়ে)
~ চলো আমার সাথে! (দরজার দিকে ইশারা করে)
~ কোথায়? (অবাক হয়ে)

~ তোমার মেডিসিন খাওয়ার সময় হয়ে গেছে। (ঘড়ির দিকে তাকিয়ে)
~ কিহহ্ মেডিসিন (অবাক হয়ে)
~ এতো চমকে যাওয়ার কি আছে? চলো, (রেগে)

~ আমাকে খাওয়াবে মেডিসিন! বললেই হলো। তোমাকে মেডিসিন খাওয়ানোর ব্যাবস্থা করছি দাঁড়াও, (বিড়বিড়)
~ কি হলো? আবার কোলে নিতে হবে নাকি? (বাঁকা হাসি দিয়ে)
~ না না, আমি যেতে পারবো। (ঢোক গিলে)
~ তাহলে চলো। (মুচকি হেসে)

অরিন আহিলের পেছনে পেছনে রুম থেকে বের হয়। অরিন ভাবতে থাকে কীভাবে আহিলকে শায়েস্তা করা যায়, তখনই অরিনের মাথায় আইডিয়া চলে আসে,
অরিন হাটা বন্ধ করে আহিলের দিকে তাকিয়ে বলে,
~ আমার খিদে পেয়েছে, (মুখ গোমড়া করে)

আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
~ কি খাবে? (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
~ কলা, (অন্যদিকে তাকিয়ে)
~ তুমি রুমে যাও আমি নিয়ে আসছি। (হেসে)

~ আচ্ছা। (মাথা নেড়ে)
আহিল নিচে চলে যায়। অরিন মনের সুখে নাচতে নাচতে রুমে চলে যায়। অরিন ধপাস করে বেডের উপর বসে পড়ে আর তারপর বলে,
~ রহমান সাহেব এবার দেখো তোমার দফা রফা করি করে। (দুষ্ট হাসি দিয়ে)
আহিল কয়েকটা কলা, আপেল আর আঙুর নিয়ে আসে একটা প্লেটে করে। অরিন চুপচাপ বসে আছে। আহিল অরিনের হাতে প্লেট দিয়ে বলে,
~ তুমি খেয়ে নাও আমি একটু আসছি। (অরিনের গালে হাত রেখে)

~ ওকে, (মাথা নেড়ে)
~ সবগুলো খাবে একটা ফল ও জানি না থাকে। (অরিনের দিকে তাকিয়ে)

~ ঠিক আছে। (মাথা নেড়ে)
আহিল রুম থেকে বের হয়ে যায়। অরিন প্লেটটা বেডের উপর রেখে তাড়াতাড়ি করে কলাগুলো খাওয়া শুরু করে। তারপর কলার ছোকলা গুলো নিয়ে দৌড়ে দরজার সামনে রেখে দেয় আর বলে,
~ ব্যাস এবার তোমার কেল্লাফতে,
অরিন চুপচাপ গিয়ে বেডের উপর বসে আঙুর খেতে শুরু করে। আহিল ফোনের দিকে তাকিয়ে হাটতে হাটতে রুমে আসে। আহিলের পা ছোকলার ওপর পড়ে না। আহিল এসে অরিনের পাশে বসে।

অরিন অবাক হয়ে যায় আহিলকে সুস্থ সবল দেখে। অরিন মাথা চুলকাতে চুলকাতে মনে মনে বলে,
~ এটা কি হলো? তার তো পা পড়লো না ছোকলার ওপর! ধুর ভালো লাগে না, কি ভাবলাম আর কি হলো? (মনে মনে)
আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,

~ খাওয়া রেখে এতো মনোযোগ দিয়ে কি ভাবছো? (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
~ তোমাকে ফাঁদে ফেলতে পারলাম না সেই কথা ভাবছি। (মনে মনে)

~ রাফিয়া কি হয়েছে? (রেগে)
~ কিছু না। (মাথা নেড়ে)
~ সত্যি করে বলো? (রেগে)
~ সত্যি কিছু না, আপনি খাবেন তাহলে নিন, (প্লেট এগিয়ে দিয়ে)

~ না আমি খাবো না এখন, (মাথা নেড়ে)
~ কেনো কেনো? (সন্দেহ নিয়ে)
~ এমনি, (ফোনের দিকে তাকিয়ে)
~ নাহ্ এগুলো খেতে ইচ্ছে করছে না। (অনীহা নিয়ে)

~ তাহলে একটা কাজ করো দুই কাপ কফি বানিয়ে নিয়ে আসো। (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
~ আমি, (চমকে গিয়ে)
~ হ্যাঁ তুমি, (মাথা নেড়ে)
~ আমি তো, (বিচলিত হয়ে)
~ Shut up……. যাও বলছি। (ধমক দিয়ে)

~ যাচ্ছি যাচ্ছি। (ভেংচি মেরে)
অরিন উঠে দৌড়ে যেতে নেয় আর অমনি ধাম করে পড়ে যায়। অরিনের মনে ছিলোনা যে, সে দরজার সামনে কলার ছোকলা ফেলে রেখেছিলো। কথায় আছে না, অন্যের জন্য ফাঁদ পাতলে সেই ফাঁদে ঘুরে ফিরে নিজেরই পড়তে হয়। অরিনের ক্ষেত্রেও এর ব্যাতিক্রম হয়নি। অরিম চিৎকার দেয়,
~ ওরে বাবা রে আমার কোমরটা গেলো রে, (চিৎকার করে)

আহিল দৌড়ে এসে অরিনকে ধরে বলে,
~ এখানে পড়লে কি করে? (অবাক হয়ে)

~ কলার ছোকলায় পা পিছলে, (কোমরে হাত দিয়ে)
~ কালর ছোকলা আসলো কোথা থেকে এখানে? (ভ্রু কুঁচকে)
~ আমি ফে, (কথাটা বলতে গিয়ে থেমে যায়)
~ কি হলো থামলে কেনো বলো? (গম্ভীর কণ্ঠে)

~ জানি না, আমার হাত ধরুন প্লিজ উঠতে পারছি না। (হাত বাড়িয়ে দিয়ে)
~ যখন ফেলেছিলে তখন মনে ছিলো না! (রেগে)
~ মানে, এসব কি বলছেন আপনি? (না জানার ভান করে)

~ এই ছোকলা গুলো তো তুমি আমার জন্য ফেলেছিলে, যাতে আমি তোমার মতো পড়ে যাই কিন্তু তোমারে ফাঁদে তুমিই পড়লে। (রেগেমেগে)
~ জেনে গেছেন তখন আমাকে সাহায্য করুন। (কাঁদো কাঁদো সুরে)
~ পারবো না, এখন বসে থাকো, (মুখ ফিরিয়ে নিয়ে)

~ এমন করছেন কেনো? কেউ বিপদে পড়লে তাকে সাহায্য করতে হয় জানেন না। (কাঁদো কাঁদো সুরে)
~ কেউ নিজের ইচ্ছেতে বিপদে পড়লে তাকে সাহায্য করতে নেই। (দাঁতে দাঁত চেপে)
~ আপনি একটা ডেভিল, (কেঁদে কেঁদে)
আহিল অরিনকে কোলে তুলে নেয়। অরিন ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে। আহিল অরিনকে বেডের উপর বসায় তারপর,


পর্ব ২৭

আহিল অরিনের পায়ের পাতা হাতে তুলে নেয়। অরিন কিছুটা চিৎকার করে ওঠে। আহিল রেগেমেগে অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
আহিলঃ এত বড় হয়েছো তবুও বাচ্চামো গেলো না তোমার? (রেগেমেগে)
অরিনঃ, (নিচের দিকে তাকিয়ে কাঁদছে)
আহিলঃ একটু চুপচাপ বসে থাকতে পারো না? (ধমক দিয়ে)

অরিনঃ, (কান্না করছে)
আহিলঃ সারাক্ষণ শুধু দৌড়াদৌড়ি, (অরিনের পায়ে হাত বুলাতে বুলাতে)
অরিনঃ, (ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে)
আহিলঃ এই একদম কান্না করবে না, (ধমক দিয়ে)

অরিনঃ তাহলে কি করবো? ব্যাথা পেলে কি মানুষ হাসে? (চোখের পানি মুছে)
আহিলঃ আগে মনে ছিলো না এসব? (রেগেমেগে)
অরিনঃ আমি কি জানতাম? (কেঁদে কেঁদে)

আহিলঃ আবার যদি দৌড়াদৌড়ি করতে দেখি তাহলে ঠ্যাং ভেঙে বসিয়ে রাখবো। (রেগেমেগে)
অরিনঃ, (ভয়ে চুপসে গিয়ে)

আহিলঃ একদম নড়াচড়া করবে না আমি পা মালিশ করে দিচ্ছি। (পায়ে হাত রেখে)
আহিল হঠাৎ উঠে রুম থেকে বের হয়ে যায়। অরিন বুঝতে পারে না আহিল হঠাৎ চলে গেলো কেনো? একটু পর একজন সার্ভেন্ট এসে সব পরিষ্কার করে চলে যায়। অরিন মন খারাপ করে বসে আছে। পায়ে অনেক ব্যাথা।

আহিল একটা ছোট্ট বাটি হাতে নিয়ে রুমে আসে। অরিন কিছুটা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে,
অরিনঃ এটায় কি আছে? (অবাক হয়ে)
আহিলঃ রসুন তেল, (অরিনের সামনে বসে)
অরিনঃ সেটা আবার কি? আগে তো এই তেলের নাম শুনিনি? (অবাক হয়ে)

আহিলঃ রসুন থেতলে সরিষার তেলের সাথে মিক্স করে গ্যাসে গরম করে এই তেল বানানো হয়। এই তেল দিয়ে ব্যাথায় মালিশ করলে ব্যাথা এক্কেবারে কমে যায়। (মুচকি হেসে)
অরিনঃ আপনি তো দেখছি অনেক কিছু জানেন। (আহিলের দিকে তাকিয়ে)
আহিলঃ আম্মুর থেকে জেনেছি, দাও তোমার পায়ে মালিশ করে দেই। (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ আপনি আমার পা ধরবেন! না না আমি, (সংকোচ নিয়ে)

আহিলঃ চুপ করো, (ধমক দিয়ে)
অরিন আহিলের ধমক শুনে পা সামনে বের করে। আহিল অরিনের পায়ে আলতো করে ধরে বাটিতে তিন আঙুল ডুবিয়ে অরিনের পায়ে মালিশ করে দিচ্ছে। অরিন আহিলের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলে,

~ এই মানুষটাকে এখনো বুঝতে পারলাম না? কত রুপ দেখলাম একটা মানুষের। তবে একটা জিনিস বারবার খেয়াল করছি, মানুষটার মনে অনেক কষ্ট জমে আছে? সেটা কি? যে করেই হোক জানতে হবে!
আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলে,
আহিলঃ কি দেখছো? (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ আপনাকে দেখছি।, (ঠাট্টা করে)

আহিলঃ এভাবে দেখলে তো প্রেমে পড়ে যাবে! (ভাব নিয়ে)
অরিনঃ কাক নিজেকে ময়ূর ভাবলে যা হয় আর কি! (আড়চোখে তাকিয়ে)
আহিলঃ কি বললে? (রেগে)

অরিনঃ আমি কি কিছু বলতে পারি বলুন, (দাঁত বের করে হেসে)
আহিলঃ তোমার মেডিসিন খাওয়ার সময় হয়ে গেছে, ওয়েট আমি নিয়ে আসছি, (ঘড়ির দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ এই রে সেরেছে, এখন কি হবে? আমি তো ঐ ছাইপাঁশ খাবোই না। (মনে মনে)

আহিল মেডিসিন নিয়ে আসে তারপর ওষুধ বের করে অরিনের হাতে দেয় আর অন্য হাতে গ্ল্যাস দিয়ে আহিল বলে,
আহিলঃ চুপচাপ খেয়ে নাও আর একটা কথা মাথায় রেখো এই ওষুধ যদি ফেলে দাও তাহলে তোমার একদিন কি আমার একদিন। (ধমক দিয়ে)
আহিলের কথা শুনে অরিন ভয়ে ঢোক গিলে। আহিল ধমক দিয়ে চলে,
আহিলঃ হা করে ওষুধ মুখে নাও, (রেগে)

আহিলের কথা শুনে অরিন মুখে ওষুধ নেয়, আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
আহিল~ এবার পানি খাও। (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
আহিলের কথা অনুযায়ী অরিন পানি খেয়ে নেয়। আহিল মুচকি হেসে অরিনকে কাছে টেনে কপালে আলতো করে ভালোবাসার পরশ একে দেয়। অরিন থতমত খেয়ে যায়। আহিল অরিনের দুই গালে হাত রেখে বলে,

আহিলঃ That’s like a good girl… (অরিনের গালে হাত রেখে)
অরিন অবাক হয়ে আহিলের দিকে তাকায়। আহিল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলে,

আহিলঃ লান্ঞ্চ টাইম হয়ে গেছে। আমি তোমার জন্য খাবার নিয়ে আসছি কেমন। (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
আহিল অরিনকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে উঠে যেতে নেয়। আহিল দরজার সামনে গিয়ে দাড়িয়ে যায় তারপর অরিনের দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিয়ে চলে যায়। অরিন পুরো ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। অরিন মনে মনে বলছে,

~ এতো খেয়াল রাখছে, নিশ্চয়ই কোনো ঘাপলা আছে। কথায় আছে না অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ।
আহিল প্লেটে করে খাবার নিয়ে এসে অরিনের সামনে বসে। আহিল লোকমা তুলে অরিনের সামনে নিয়ে বলে,
আহিলঃ হা করো, (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ আমার কাছে দিন। আমি খেয়ে নিচ্ছি আর আপনিও খেয়ে নিন। (সংকোচ নিয়ে)

আহিলঃ তোমাকে খাইয়ে দিয়ে তারপর খাবো। (মুচকি হেসে)
অরিনঃ কিন্তু, (মাথা নেড়ে)
আহিলঃ কোনো কিন্তু নয়, (ধমক দিয়ে)

অরিন আর কথা না বাড়িয়ে চুপচাপ খেয়ে নেয়। আহিল প্লেট নিয়ে নিচে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর আহিল এসে অরিনের পাশে বসে। অনেকক্ষণ চুপচাপ থাকার পরে আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
আহিলঃ রাফিয়া, (নিচের দিকে তাকিয়ে)

অরিনঃ জি, (আহিলের দিকে তাকিয়ে)
আহিলঃ তোমাকে একটা কথা বলার ছিলো, (দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে)
অরিনঃ হুম বলুন, (মাথা নেড়ে)

আহিলঃ তুমি আমার স্ত্রী, আমার অতীত বর্তমান সবকিছু জানার দরকার আর অধিকার তোমার কাছে। আমি চাই না সেই অধিকার থেকে তুমি বন্ঞ্চিত হও। (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ বলুন, আমি শুনছি। (জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে)
আহিলঃ আসলে,


পর্ব ২৮

আহিল কথা বলতে গিয়ে থেমে যায়। আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলে,
আহিলঃ কখনো কারও প্রেমে পড়েছো? (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ সেই দূর্ভাগ্য আমার হয়নি, (ভেংচি মেরে)

আহিলঃ প্রেম, ভালোবাসা বলতে কি বুঝো? (গম্ভীর কণ্ঠে)
অরিনঃ তেমন কিছু বুঝি না, তবে যদি কেউ বুঝিয়ে বলে তাহলে বুঝবো, (মুখ ফিরিয়ে)
আহিলঃ তাহলে শোনো, (অরিনের দিকে তাকিয়ে)

কলেজ লাইফে আমি, ফুয়াদ আর নুজহাত খুব ভালো বন্ধু ছিলাম। আমাদের বন্ধুত্ব এতটাই গভীর ছিলো যে অন্যরাও হিংসা করতো আমাদের। আমি বাবা, মায়ের একমাত্র সন্তান ছিলাম। আমার কোনো ভাই বোন ছিলো না। কিন্তু ফুয়াদ ছিলো আমার ছোটোবেলার বন্ধু। আমরা একসাথে বড় হই। সবসময়, সবকাজ, সবকিছু একসাথে করতাম। একে অপরকে ছাড়া অচল ছিলাম। কলেজ লাইফে পদার্পণ করার পরে নুজহাতের সাথে পরিচয়। প্রথম প্রথম আমরা তেমন পাত্তা না দিলেও পরে ধীরে ধীরে আমাদের বন্ধুত্ব হয়।
আহিল একটু থেমে যায়। অরিন আহিলের মুখে নুজহাতের নাম শুনে মনে মনে বলে,

অরিনঃ নিশ্চয়ই সেই মেয়ের সাথে টাংকি মারছে তারপর ছ্যাকা খেয়ে ব্যাকা হয়ে গেছে। (মেনে মনে)
আহিল আবারও বলতে শুরু করে,
আহিলঃ ফুয়াদের থেকে আমি লেখাপড়ায় বেশি ভালো ছিলাম সেই সুবাদে নুজহাত প্রায়ই আমার থেকে নোট নিতো নাহয় পড়া না বুঝলে বোঝার জন্য আমার কাছে আসতো। এমনভাবে অনেকদিন কেটে যায়। আমি ধীরে ধীরে বুঝতে পারি নুজহাত আমাকে পছন্দ করে।

কিন্তু সেদিকে তোয়াক্কা না করে আমার মতো লেখাপড়া চালিয়ে যাই। একদিন আমার ব্যাগে একটা চিঠি পাই পড়ে বুঝতে পারি এটা একটা লাভ লেটার এটা আমার কাছে নতুন কিছু ছিলো না কারণ আমার ব্যাগে, বইয়ের মধ্যে, বসার সিটে আরও অনেক জায়গায় এরকম চিঠি অনেক পেয়েছি। বুঝতেই পারছো কেনো পেয়েছি? কারণ কলেজের সবথেকে হ্যান্ডসাম এন্ড সব মেয়েদের ক্রাশ ছিলাম।
অরিনঃ কি ঢং রে বাবা, (মনে মনে)

আহিলঃ ধীরে ধীরে আমি আর নুজহাত খুব ভালো বন্ধু হয়ে গেলাম। কলেজ শেষে একসাথে ঘুরতে যাওয়া, কফি শপে একসাথে সময় কাটানো, গাড়িতে করে লং ড্রাইভে যাওয়া সব মিলিয়ে ভালোই যাচ্ছিলো আমাদের দিনগুলো।
আহিলের কথা শুনে অরিনের মাথা পুরোপুরি গরম হয়ে যায়। তবুও নিজেকে শান্ত রেখে আহিলের কথা গুলো শোনে,

আহিলঃ এতো কিছুর মাঝে ফুয়াদের সাথে আমার দূরত্ব বাড়তে থাকে। নুজহাতকে আমার ভালো লাগতো। আসলে ও যেমন আমাকে ভালোবাসতো আমিও ওকে তমনি ভালোবাসতাম। ওর তেমন টাকা পয়সা ছিলো না। এজন্য ওর লেখাপড়া বন্ধ করতে চেয়েছে ওর পরিবার। এজন্য অনেক কান্নাকাটি করে আমাকে জড়িয়ে ধরে তাই আমি ওর সব খরচ বহন করার দায়িত্ব নেই। আমার বাবার টাকার অভাব ছিলো না তাই যখন যা চাইতাম নির্বিঘ্নে দিয়ে দিতো। নুজহাতের কথা আমি আমার পরিবারকে বলেছিলাম। সবাই ওর কথা জানতো। যখন যতো টাকার দরকার হতো আমি দিতাম কখনো আমি জিজ্ঞেস করিনি এত টাকা দিয়ে কি করে বা কিসে খরচ করছে।

এভাবে চলতে থাকে অনেক দিন। একদিন ক্লাস শেষ করে বের হচ্ছিলাম তখন লাবিব এসে আমাকে বলে, ফুয়াদ আর নুজহাতকে প্রায় রাতে বাইকে করে ঘুরতে দেখেছে সে। আমি তেমন পাত্তা দেই না এসব কথায়। কিন্তু নুজহাতের নামে এরকম অনেক কমপ্লেইন আসতে থাকে। একদিন আমি ক্লাসে বসে ছিলাম ফুয়াদ এসে আমাকে অনেক কথা শুনিয়ে চলে যায়। ফুয়াদ বলে নুজহাতের সাথে নাকি ফিজিক্যাল রিলেশনশিপ হয়ে গেছে। আমি ভেঙে পড়ি। কারণ নুজহাতের কাছে আমি প্রিয়জন ছিলাম না, ছিলাম প্রয়োজন। আমার সাথে ও বেইমানি করে, আমিও এর কোনো প্রতিবাদ করিনি শুধু ফুয়াদের কথা ভেবে। তারপর অনেক দিন কলেজে যাইনি।

একদিন রাত ১২ টায় আমার ফোনে কল আসে, ফুয়াদ কলটা করেছিলো। রিসিভ করার পর শুনলাম ফুয়াদ এক্সিডেন্ট করেছে। তৎক্ষনাৎ হাসপাতালে চলে যাই গিয়ে শুনি ফুয়াদ আর নুজহাত পালিয়ে যাচ্ছিলো পথিমধ্যে তাদের বাইক ব্রেকফেইল করে এক্সিডেন্ট হয়। কিন্তু নুজহাতকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এক্সিডেন্টে ফুয়াদের ব্রেন ড্যামেজ হয়ে যায় আর মস্তিষ্কে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়।

দুইদিন পরে ফুয়াদ মারা যায়। মারা যাওয়ার আগে আমার হাত ধরে বলে, পারলে ক্ষমা করে দিস ভই। আমার পাপের শাস্তি আমি পেয়েছি। আমার পরিবারকে একটু দেখে রাখিস। এই ছিলো শেষ ইচ্ছে। প্রায় দুই মাস পরে নুজহাতের লাশ পাওয়া যায়। একটি ঝোপের মধ্যে। সবাই অনেকটা চমকে যায় কারণ ফরেনসিক রিপোর্ট অনুযায়ী নুজহাতের মৃত্যু এক্সিডেন্টে নয় বরং ধর্ষণের পরে শ্বাস রোধ করে মারা হয়েছে।

ঘটনা তদন্ত করে পরে জানা যায়, ফুয়াদের এক্সিডেন্ট করিয়েছিলো নুজহাত। ফুয়াদ বাসা থেকে বিশ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে এসেছিলো ফুয়াদের এক্সিডেন্ট করিয়ে সে টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় আর অনেকদিন লুকিয়ে থাকে। তারপর অন্য একটি ছেলের সাথে সেই টাকা আর গয়না নিয়ে পালিয়ে যেতে নিলে সেই ছেলে তাকে ধর্ষণ করে গলা টিপে হত্যা করে সব নিয়ে পালিয়ে যায়।

আহিলের চোখ ভিজে গেছে। অরিন আহিলের কথা শুনে নিজের চোখের পানি ধরে রাখতে পারে না। আহিল চোখ মুছে বলে,
আহিলঃ মেয়েদেরকে সেইদিন থেকে ঘৃণার দৃষ্টিতে দেখা শুরু করি। ওদের স্মৃতি গুলো সবসময় আমাকে তাড়া করে বেড়াতো তাই দেশের বাইরে চলে যাই। টানা ছয় বছর পরে দেশে আসি। আর যেদিন আসি সেদিন তোমার সাথে দেখা।

আহিল কিছুটা হেসে অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
আহিলঃ You are only one piece.
আহিলের কথা শুনে অরিন অনেকটা চমকে যায় আর বলে,
অরিনঃ মানে?

আহিলঃ অনেক মেয়ে দেখেছি কিন্তু তোমার মতো কাউকে দেখিনি। আমার সামনে কেউ কথা বলার সাহস করতো না কিন্তু তুমি তার বিপরীত। তোমাকে আমার ভালো লেগেছিলো সেদিন। কেনো যেনো অন্যকারো সাথে তোমাকে সহ্য করতে পারতাম না। আমি দেশের বাইরে গিয়েছিলাম ঠিকই সব সময় তোমার উপর নজর রেখেছি।
অরিনঃ কীভাবে?

আহিলঃ তোমার উপর আমার গার্ডরা নজর রাখে আর তোমার রুমে সিসিটিভি ক্যামেরা তো ছিলোই।
অরিনঃ আপনি আমার রুমে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়েছেন?
আহিলঃ হ্যাঁ, তারপর আঙ্কেলকে কিছুদিন ছুটিতে পাঠিয়ে দিয়ে আমি জয়েন করি কলেজে তোমাকে কিছুটা কাছ থেকে দেখার জন্য। কিন্তু তুমি রেগে দলিলপত্রের কথা বললে তাই সেই ব্যাবস্থা করলাম।

আমি স্থীর দৃষ্টিতে অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
আহিলঃ রাফিয়া আমাকে ক্ষমা করে দাও যা করেছি তার জন্য।

অরিনঃ আমি আপনাকে মাফ করে দিয়েছি।
আহিলঃ আমি সব ভুলে যেতে চাই তোমাকে ভালোবেসে তুমি কি আমার সঙ্গীনি হবে?
অরিন থতমত খেয়ে যায়। সে বুঝতে পারে না কি বলবে। আহিল চোখ মুছে উঠে চলে যায়। অরিন হা হয়ে তাকিয়ে থাকে। কি বলবে সে বুঝতে পারে না।


পর্ব ২৯

অরিন হা হয়ে আহিলের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে আছে। আহিল রুম থেকে বের হয়ে যায়। অরিন ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। অরিন মনে মনে বলে,
~ এটা কি হলো? কি ভাবলাম আর কি হলো? না না একটুও না, এত সহজে তোমাকে ছেড়ে দেবো ভেবেছো? আমাকে জোর করে বিয়ে করেছো তারপর বাসা থেকে তুলে এনেছো এর প্রতিশোধ তো আমি নিবোই।

অরিন চুপচাপ বসে আছে রুমে। একটু পরে আহিল রুমে আসে। অরিন আড়চোখে আহিলের দিকে তাকায়। আহিল এসে অরিনের পাশে বসে। আহিলের এক হাত পেছনে। অরিন বার বার মাথা এদিক সেদিক ঘুরাচ্ছে আহিলের হাতে কি আছে তা দেখার জন্য,
আহিল অরিনের দিকে তাকায়, অরিন আহিলের চোখের দিকে তাকায়। আহিলের চোখ দুটো লাল হয়ে আছে, অরিন বুঝতে পারে আহিল কান্না করেছে। আহিল মুচকি হেসে বলে,
আহিলঃ কি দেখছো এমন করে?

অরিনের খুব খারাপ লাগে আহিলকে এভাবে দেখে। অরিন নিজের অজান্তে বলে ফেলে,
অরিনঃ আপনি কান্না করেছেন তাই না।
আহিল তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
আহিলঃ দেখার কেউ নেই তো তাই,
অরিনঃ আপনার মনে অনেক কষ্ট জমে আছে তাই না?

আহিলঃ সেটা আমি জানি,
আহিল আড়াল থেকে হাত বের করে। আহিলের হাতে এক গুচ্ছ টকটকে লাল গোলাপ। সদ্য ফোটা গোলাপ দেখে অরিনের চোখ চড়কগাছ হয়ে যায়। আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,

আহিলঃ এই ফুল গুলোর মতো নিষ্পাপ তোমার মন আর সেই মনে ভ্রমর হয়ে আমি ঘুরতে চাই।
অরিনঃ আমিও সেই ভ্রমর কে এরোসল দিয়ে ফুস করে দিতে চাই।
অরিনের কথা শুনে আহিল মুচকি হেসে অরিনের দিকে ফুলগুলো এগিয়ে দেয়। অরিন কিছু না ভেবে ফুলগুলো হাতে নেয়। আহিল একটা ফুল হাতে রেখে দেয়। অরিন আহিলকে জিজ্ঞেস করে,
অরিনঃ একটা ফুল হাতে রাখলেন কেনো?

আহিলঃ তোমার কানে গুঁজে দেবো বলে,
অরিনঃ আমার কানে কেনো?
আহিলঃ তোমার লম্বা চুল গুলো আমার খুব ভালো লাগে। নিজে না খেয়ে শুধু চুলের যত্ন নিয়েছো তাই তোমার চুল গুলো এতো প্রাণোজ্জ্বল আর তুমি শুকনো কাঠি।
অরিনঃ কি বললেন?

আহিলঃ কই কিছু না তো,
অরিনঃ আমার কথা আমাকে ফিরিয়ে দিচ্ছেন।
আহিল আচমকা অরিনের হাত ধরে বলে,

আহিলঃ আমি কখনো ভাবিনি আমার জীবনে দ্বিতীয়বার কেউ আসবে! তোমাকে আমি খুব ভালোবাসি। রাফিয়া আমাকে ভালোবাসলে কি তোমার খুব বেশি ক্ষতি হয়ে যাবে?
অরিন কি বলবে বুঝতে পারছে না। আহিল ধীরে ধীরে অরিনের দিকে এগিয়ে আসে। অরিন ভয়ে ঢোক গিলে। আহিল অরিনের খুব কাছাকাছি চলে আসে। অরিন ধপ করে নিজের চোখ বন্ধ করে ফেলে। আহিল অরিনের কানের কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বলে,

আহিলঃ এই লাজুক মুখটা দেখতে আমার ভিষণ ভালো লাগে।
কথাটা বলে আহিল অরিনের থেকে কিছুটা দূরে সরে আসে। আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলে,
আহিলঃ আমি পারতাম, জোর করে তোমার উপর স্বামীর অধিকার ফলাতে!

অরিন ভয়ে ভয়ে আহিলের দিকে তাকায়, আহিল অরিনের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বলে,
আহিলঃ আমি তোমাকে জোর করে পেতে চাই না। আমি চাই তুমি আমাকে ভালোবাসো, আমাকে বোঝো তারপর তোমার সম্মতিতে সব হবে। আমি তোমার বাবা, মা আর ভাইকে আমার বাসায় আসতে বলবো। তাদেরকে আমি সব বুঝিয়ে বলবো, আশা করি তারা বুঝবেন।

অরিন আহিলের কথা শুনে চমকে যায় অরিন কথা বলতে যেয়েও থেমে যায় কারণ কোনো এক অনূভুতি তাকে থামিয়ে দিচ্ছে। তবে কি অরিনও ভালোবেসে ফেলেছে? আহিল অরিনের কানে ফুলটা গুঁজে দেয়। অরিন চুপচাপ আহিলের দিকে তাকিয়ে থাকে।
সারাদিনে অরিনের সাথে আহিলের আর তেমন কোনো কথা হয় না। রাতে অরিন শুয়ে আছে আহিল পাশে এসে শুয়ে পড়ে।
অরিন মনে মনে বলে,

অরিনঃ মানুষটা এতো কষ্ট নিয়ে বেঁচে আছে। কিন্তু এখন সব ভুলে যেতে চায় আমাকে আঁকড়ে ধরে, আমাকে ভালোবেসে সব ভুলে যেতে চায়। সে আমার সাথে যা করেছে নিজের ইচ্ছেতে করেনি সব রাগের বশে করেছে। তাকে একটা সুযোগ দেওয়া উচিত।
আহিল মনে মনে ভাবছে,
আহিলঃ অরিন কি আমাকে একটিও সুযোগ দেবে না।
কি হবে অরিন আর আহিলের। তারা কি পারবে সব অভিমানকে দূরে সরিয়ে দিয়ে দুজন দুজনকে আপন করে নিতে?


পর্ব ৩০

দুজন দুজনের কথা ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ে। সকাল সকাল আহিল ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হতে চলে যায়। অরিন এখনো ঘুমাচ্ছে। আহিল ফ্রেশ হয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হয় হঠাৎ আহিলের চোখ যায় অরিনের দিকে, অরিনকে ঘুমন্ত অবস্থায় একদম একটি নিষ্পাপ শিশুর মতো লাগছে। আহিল অরিনের কাছে গিয়ে বসে। আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে অপলক দৃষ্টিতে, আহিল অরিনের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় আর বলে,

আহিলঃ তুমি এমনিতেই অনেক সুন্দর তারপর ঘুমের ঘোরে তোমাকে পুরোপুরি এন্ঞ্জেলের মতো লাগে। এতো সুন্দর কেনো তুমি? এই রুপ দেখে তো আমি ফিদা হয়ে গেছি। (মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে)
আহিল মুচকি হেসে অরিনের কপালে ভালোবাসার পরশ একে দেয়। অরিন নড়েচড়ে ওঠে। আহিল অরিনের কানে কানে বলে,
আহিলঃ এবার ওঠো সকাল হয়ে গেছে। (কানের কাছে গিয়ে ফিসফিস করে)

অরিনঃ আর পাঁচ মিনিট প্লিজ, (অন্যদিকে ঘুরে)
আহিলঃ তুমি তাহলে পাঁচ মিনিট ঘুমাও, আমি পানি নিয়ে আসি তোমার মাথায় ঢালার জন্য। (দাঁতে দাঁত চেপে)
অরিনঃ ধুর, আপনি আমাকে শান্তিতে ঘুমাতেও দেবেন না। (বিরক্ত হয়ে)

আহিলঃ না, বেশি বেলা ঘুমালে তোমার এতো সুন্দর মুখখানা বুড়িদের মতো হয়ে যাবে। তখন তোমাকে কেমন দেখাবে বলো? (মুচকি হেসে )
আহিলের কথা শুনে অরিন হুড়মুড়িয়ে উঠে পড়ে। আহিল অরিনের কান্ড দেখে হেসে ওঠে। অরিন আহিলের দিকে তাকিয়ে বলে,
অরিনঃ এটা কি সত্যি কথা? (অবাক হয়ে)

আহিলঃ ১০০% (মাথা নেড়ে)
অরিন তার দুই গালে হাত বুলাতে বুলাতে চিন্তিত হয়ে মনে মনে বলে,
অরিনঃ হায় হায় আমি তো সবসময় দেরি করে ঘুম থেকে উঠি তার মানে আমি বুড়ি হয়ে যাবো এতো তাড়াতাড়ি? (মনে মনে)
আহিলঃ এতো ভাবার দরকার নেই, এবার ওঠো, (অরিনের দিকে তাকিয়ে)

অরিন আনমনে ভাবতে ভাবতে আলমারি থেকে ব্ল্যাক এন্ড গোল্ডেন কালার মিক্স করা একটি থ্রিপিছ নিয়ে। ওয়াশরুমে চলে যায়, আহিল অরিনের অবস্থা দেখে হেসে গড়াগড়ি খাওয়ার অবস্থা। আহিল কোনোমতে হাসি থামিয়ে বলে,

আহিলঃ মেয়েটা আসলেই একটা বাচ্চার মতো, যা বলি সেটাই বিশ্বাস করে ফেলে। (হাসতে হাসতে)
অরিন ফ্রেশ হয়ে বের হয়। আহিল রেডি হয়ে বসে আছে অরিনের জন্য। আহিলের চোখ অরিনের দিকে যায়। অরিনকে অনেক সুন্দর লাগছে। আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে আছে। অরিন হালকা কাশি দিয়ে বলে,
অরিনঃ কি ব্যাপার এভাবে কি দেখছেন? (আহিলের দিকে তাকিয়ে)
আহিলঃ তোমাকে, (অরিনের দিকে তাকিয়ে)

অরিনঃ আমাকে! কিন্তু কেনো? (ভ্রু কুঁচকে)
আহিলঃ অনিন্দ্য সুন্দরী লাগছে তোমাকে, যে সৌন্দর্যের কোনো তুলনা হয় না। (মুচকি হেসে)
অর্জন আহিলের কথা শুনে লজ্জা পেয়ে বলে,
অরিনঃ Chal jhutta, (মুখ দুই হাত দিয়ে আড়াল করে)

আহিলঃ What? (রেগে)
অরিনঃ না না কিছু না, (মাথা নেড়ে)
আহিলঃ চলো, ব্রেকফাস্ট করবে, (অরিনের হাত ধরে)
অরিনঃ হুম, (মাথা নেড়ে)

অরিনের পায়ে ব্যাথা এখন অনেকটা ঠিক হয়ে গেছে। আহিল অরিনের হাত ধরে ডাইনিং টেবিলের কাছে নিয়ে যায়। অরিনও আহিলকে কোনো বাধা দেয় না। আহিল অরিনের পাশাপাশি বসে। অরিন আহিলের দিকে তাকিয়ে বলে,
অরিনঃ রিতু কোথায়? (আশেপাশে তাকিয়ে)

আহিলঃ ওর পরিক্ষা তাই এই কয়দিন আসবে না ওর মা এসে রান্না করবে। (খাবার সার্ভ করতে করতে)
অরিনঃ ওহ আচ্ছা, (মাথা নেড়ে)

আহিল অরিনকে খাইয়ে দেয়। অরিন আহিলকে বারণ করে না কারণ ওর বেশ ভালোই লাগে। অরিনকে খাইয়ে দিয়ে আহিল এক গ্লাস আপেল জুস খায় আর এক পিস ব্রেড খেয়ে অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
আহিলঃ যাও রেডি হয়ে নাও, (অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে)
অরিনঃ কেনো? (অবাক হয়ে)

আহিলঃ এক জায়গায় যাবো, (টিস্যু দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে)
অরিনঃ কোথায়? (আহিলের দিকে তাকিয়ে)
আহিলঃ গেলেই দেখতে পাবে, (মুচকি হেসে)
অরিনঃ বলুন না, (বিচলিত হয়ে)
আহিলঃ বললে সারপ্রাইজটা নষ্ট হয়ে যাবে, যাও রেডি হয়ে নাও। বেডের উপর একটা রেড গাউন রাখা আছে তার সাথে ম্যাচিং করা অর্নামেন্টস আর সু রাখা আছে পড়ে নাও। (অরিনের দিকে তাকিয়ে)

অরিন মনে মনে বলে,
অরিনঃ ডেভিলটা এতোসব কখন করলো? না জানি আমাকে কোথায় নিয়ে যাবে? (বিড়বিড় করে )
আহিল অরিনের সামনে আঙুলে তুড়ি বাজিয়ে বলে,

আহিলঃ একটু পর পর কোথায় হারিয়ে যাও? (রেগে)
অরিনঃ কই কোথাও না তো, (থতমত খেয়ে)
আহিলঃ যাও রেডি হও, (ধমক দিয়ে)

অরিনঃ ঠিক আছে, (মাথা নেড়ে)
অরিন উঠে যেতে নিলে, আহিল আবারও অরিনকে ডাক দেয়। অরিন ঘুরে আহিলের দিকে তাকায়। আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
আহিলঃ অতিরিক্ত আটা ময়দা মাখার কোনো দরকার নেই। (অরিনের দিকে তাকিয়ে)

অরিনঃ কি বললেন? আরও বেশি করে মাখবো, (ভেংচি মেরে)
আহিলঃ তাহলে তোমার সাথে যা হবে তুমি ভাবতেও পারবে না। (দাঁতে দাঁত চেপে)
অরিন আহিলের কথা শুনে ভয়ে ঢোক গিলে বলে,
অরিনঃ ঠিক আছে, মাখবো না। (মাথা নেড়ে)
আহিলঃ যাও। (ধমক দিয়ে)

অরিন দৌড়ে রুমে চলে যায়। অরিন বেডের দিকে তাকিয়ে দেখে আহিল যা যা বলেছ সব তেমনি রাখা। অরিন গাউনটা হাতে নিয়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখে। গাউনটা লং রেড কালার লিলেন কাপরের ওপর রেড স্টোনের কাজ করা। শর্ট ত্রিকোণ হাতা আর গাউনটা হলো ব্যাকলেস। অরিন গাউনটা পড়ে বের হয়ে লুকিং গ্লাসের সামনে গিয়ে দাঁড়ায় অরিন নিজেকে দেখে বলে,
অরিনঃ বাহ্ তোকে তো হেব্বি কিউট লাগছে কিন্তু গাউনটা ব্যাকলেস তার ওপর এতো বড় সামলানো অনেক মুশকিল হয়ে যাবে। এই গাউনের সাথে তো হাই হিল রাখা ছিলো সেটা পড়ে দেখি। (লুকিং গ্লাসের দিকে তাকিয়ে)

অরিন হাই হিল পড়ে তারপর আবার লুকিং গ্লাসের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু অরিনের অস্বস্তি লাগছে কারণ গাউনটা ব্যাকলেস। অরিন সাজুগুজু শুরু করে দেয়।
আহিল সোফায় বসে বসে টিভি দেখছে হঠাৎ তার নজর গেলো ঘড়ির দিকে। আহিল অবাক হয়ে বলে,

আহিলঃ একঘন্টার বেশি হয়ে গেছে তবুও এখনো তার সাজগোজ শেষ হয়নি। আমি এখন রুমে না গেলে আজ আর শেষ হবে না। (রেগেমেগে)
আহিল রেগেমেগে রুমের দিকে যায়। আহিল রুমের দরজা খুলে অরিনের দিকে তাকাতেই টাস্কি খেয়ে যায়। অরিন ঠোঁটে গাড় লাল লিপস্টিক দিয়েছে চোখে হালকা কাজল তারউপর গোল্ডেন ও রেড মিক্স আইশেড গালে হালকা পিংক কালারের ব্লাশিং কানে ডায়মন্ডের এয়ার রিং গলায় ডায়মন্ডের নেকলেস হাতে ডায়মন্ডের ব্রেসলেট। অরিন চুল নিয়ে বিপাকে পড়ে গেছে। অরিন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবছে কি করবে?
আহিল ঘোর কাটিয়ে অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
আহিলঃ কি ভাবছো? (অরিনের দিকে তাকিয়ে)

অরিনঃ ড্রেসটা ব্যাকলেস তো তাই ভাবছি চুল কিভাবে বাঁধবো? (চিন্তিত হয়ে)
আহিলঃ আগে তো এরকম ড্রেস অনেক পড়তে দেখেছি তখন তো এতো ভাবোনি তাহলে আজকে এতো ভাবনা কিসের? (রেগে)
অরিনঃ চুলগুলো এভাবে ছেড়ে রাখবো, (হেসে)

আহিলঃ না, হয় বেনি করো না হয় খোঁপা। (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ তাহলে পি, (কথা শেষ করার আগেই আহিল থামিয়ে দেয় )
আহিলঃ আমিই দেখবো অন্যকেউ দেখবে না বুঝলে। (ডেভিল মার্কা হাসি দিয়ে)
অরিনঃ,
অরিনঃ বেনি করে নাও, আমি রেডি হয়ে এসে যেনো তোমাকে ফিটফাট দেখি। (রেগে)

কথাটা বলে আহিল আলমারি থেকে একটা সাদা শার্ট আর রেড প্যান্ট নিয়ে ওয়াশরুমে যায়। অরিন তাড়াতাড়ি করে একটা ফ্রান্স বেনি করে নেয় আর বেনির মধ্যে সাদা স্টোনের ক্লিপ লাগিয়ে দেয়। অরিন মনে মনে বলে,
অরিনঃ ইসসসস, এখন যদি ফোনটা থাকতো তাহলে সেলফি তুলতে পারতাম, ফাটা কপাল আমার। (আফসোস করে)

আহিল ওয়াশরুম থেকে বের হয়। আহিলকে পুরাই হিরোদের মতো লাগছে। একদম তামিল হিরো প্রবাসের মতো। আহিল আলমারি থেকে রেড কালার কোট বের করে পড়ে। অরিন আহিলকে দেখে ক্রাশ খায়। আহিল চুল হালকা জেল দিয়ে স্পাইক করে আর পারফিউম দিয়ে অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,

আহিলঃ এমনিতেই অনেক দেরি করে ফেলেছো তারপর আবার স্ট্যাচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছো। চলো,
আহিলের কথা শুনে অরিন কিছু লজ্জা পায়। আহিল হাঁটা শুরু করে থেমে অরিনের দিকে তাকায় আর তখনি,


পর্ব ৩১

আহিল অরিনের দিকে এগিয়ে আসে, অরিন পিছিয়ে যেতে নিলে আহিল একটানে অরিনকে নিজের সাথে মিশিয়ে নেয়। আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে আছে, অরিনের খুব লজ্জা লাগছে কেনো জানি, অরিন চোখ তুলে তাকাতে পারছে না। আহিল মুচকি হাসছে অরিনের দিকে তাকিয়ে। অরিন লজ্জায় লাল হয়ে গেছে। আহিলে একহাত অরিনের ঘাড়ে রাখে আর অমনি অরিন চোখ বন্ধ করে নেয়। আহিল অরিনের বেনিটা সামনে এনে কানে ফিসফিস করে বলে,
আহিলঃ বেনিটা সামনে থাকলে অনেক সুন্দর লাগে। (ফিসফিস করে)

কথাটা বলে আহিল অরিনকে ছেড়ে দিয়ে হেঁটে যায়। অরিন চোখ খুলে দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে বলে,
অরিনঃ কি ভাবলাম আর কি হলো কিন্তু যা হলো ভালোই হলো। Thanks god….. (দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে)

অরিন আহিলের পেছনে পেছনে যায়। দুজনে গাড়িতে উঠে বসে। আহিল গাড়ি স্টার্ট দেয়। অরিনের চোখ বারবার আহিলের দিকে যাচ্ছে। আহিলের চোখ এড়ায়নি ব্যাপারটা। আহিল অরিনের হাতে হাত রাখে। অরিন চমকে যায়। আহিল গাড়ি চালাতে চালাতে বলে,
আহিলঃ এভাবে আড়চোখে না তাকিয়ে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকো। (সামনে তাকিয়ে )
আহিলের কথা শুনে অরিন জিভে কামড় দিয়ে মনে মনে বলে,

অরিনঃ হায় খোদা, কি লজ্জা কি লজ্জা!
আহিল হেসে হেসে অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
আহিলঃ এতো লজ্জা পাওয়ার কি আছে?

অরিনঃ হায় হায় এই ছেলেতো মনের কথাও বুঝতে পারে!
আহিলঃ শুধু মনের কথা না, তোমাকেও বুঝতে পারি,
অরিনঃ কীভাবে?
আহিলঃ সেটা সিক্রেট বলা যাবে না।

অরিন ভেংচি মেরে বাহিরের দিকে তাকিয়ে থাকে। আহিল মুচকি হেসে মনে মনে বলে,
আহিলঃ পাগলি মেয়েটা মনে করে সে মনে মনে কথা বলে আসলে কথাগুলো যে জোরে জোরে বলে তাই জানে না।
যেতে যেতে প্রায় রাত হয়ে যায়। অন্ধকার নেমে এসেছে। কিছুক্ষন পর গাড়ি এসে একটা অন্ধকার জায়গায় থামে। অরিন চারদিকে তাকিয়ে দেখে ঘুটঘুটে অন্ধকার কোথাও কোনো আলোর ছিটে ফোঁটাও নেই। অরিন ভয়ে ঢোক গিলে মনে মনে বলে,

অরিনঃ এমা এ তো অনেক অন্ধকার জায়গা! এই ডেভিলটা আমাকে মারার ফন্দি আঁটছে নাতো?
আহিল গাড়ি থেকে বের হয় অরিনও ভয়ে ভয়ে বের হয়। আহিল এসে অরিনের হাত ধরে আর বলে,
আহিলঃ আমার সাথে এসো।

অরিন বাধ্য মেয়ে মতো আহিলের সাথে যায়। অরিন শুনতে পায় চারদিকে ঠান্ডা মিষ্টি বাতাস বয়ে যাচ্ছে শো শো করে। অরিনের মনে হয় কোনো সৈকতের আশেপাশের যায়গা এটা। আহিল হঠাৎ দাঁড়িয়ে যায়, আহিল পকেট থেকে একটা লাল রঙের রিভেল বের করে অরিন চোখে বেধে দেয়। অরিন কিছুটা আৎকে ওঠে। আহিল অরিনকে বলে,
আহিলঃ ভয় পেয়ো না তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে!
অরিনঃ কিন্তু চোখ বাঁধলেন কেনো?
আহিলঃ একটু অপেক্ষা করো জানতে পারবে।

আহিল অরিনের হাত ধরে সামনের দিকে এগুতে থাকে। অরিনের হিল পড়ে হাঁটতে কষ্ট হয়। অরিন বুঝতে পারে সে বালুর উপর হাঁটছে। আহিল আচমকা অরিনকে কোলে তুলে নেয়। আহিল বুঝতে পারে যে অরিনের হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে। একটু পর আহিল অরিনকে নিচে নামিয়ে দেয়। অরিন চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে কিন্তু আহিলের সাড়া শব্দ পায় না অরিনের কিছু টা ভয় লাগে আর তখনই অরিনের কানে ভেসে আসে গানের সুর অরিন চোখের বাধন খুলে সামনে তাকিয়ে দেখে হাজার হাজার লাভের বেলুন তার ঠিক মাঝখানে একটা গোল স্টেজ লাল রঙের পর্দা দিয়ে ঘেরা মাঝে ছোট্ট একটি টেবিল দুই পাশে দুটো চেয়ার,

বালুর ওপর বড় করে লাভ আঁকা লাভের ওরপ লাল গোলাপের পাপড়ি লাভের পাশের রেখা গুলোতে ছোটো ছোটো দিয়া জ্বালানো, আর মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে আহিল, অরিন অবাক হয়ে আহিলের দিকে তাকায়, আহিল মুচকি হেসে গান গায়,
Main Rahoon Ya Na Rahoon Tum Mujh Mein Kahin Baaki Rehna

Mujhe Neend Aaye Jo Aakhiri Tum khwaboon Mein Aate Rehna
Bas Itna Hai Tumse kehna. Bas Itna Hai Tumse kehna. Bas Itna Hai Tumse kehna. Bas Itna Hai Tumse kehna….. 💖
(অরিন অবাক হয়ে আহিলের দিকে তাকিয়ে আছে, আহিল ধীরে ধীরে অরিনের কাছে এসে অরিনের গালে হাত রাখতে নিয়ে আবার সরিয়ে নেয়। কেনো জানি, অরিনের মন খারাপ হয়ে যায়। আহিল অরিনের থেকে দূরে সরে যায়)

Main Rahoon Ya Na Rahoon Tum Mujh Mein Kahin Baaki Rehna
Kisi Roz Baarish Jo Aaye Samajh lena Boondon Mein Main Hoon
Subah Dhoop Tumko Sataaye Samajh Lena kirno Mein Main Hoon
Kisi Roz Baarish Jo Aaye Samajh lena Boondon Mein Main Hoon
Kuch Kahun Ya Na Kahun Tum Mujhko Sada Sunte Rehna

Bas Itna Hai Tumse kehna. Bas Itna Hai Tumse kehna. Bas Itna Hai Tumse kehna. Bas Itna Hai Tumse kehna…..
(অরিন আহিলের দিকে তাকিয়ে আছে। আহিল এসে অরিনের হাত ধরে আলতো করে কিস করে সরে যায়। আহিল এভাবে সরে যাওয়ায় অরিনের মন খারাপ হয়ে যায়)
Hawaaon Mein Lipta Hua Main Guzar Jaaunga Tumko Chhu ke
Agar Maan Ho To Rok Lena Theher Jaaunga In Labbon Pe

Hawaaon Mein Lipta Hua Main Guzar Jaaunga Tumko Chhu ke
Agar Maan Ho To Rok Lena Theher Jaaunga In Labbon Pe
Main Dikhu Ya Na Dikhu Tum Mujhko Mehsoos Karna

Bas Itna Hai Tumse kehna. Bas Itna Hai Tumse kehna. Bas Itna Hai Tumse kehna. Bas Itna Hai Tumse kehna…..
(আহিল অরিনকে জড়িয়ে ধরে পেছন থেকে অরিন আহিলকে অনুভব করে। আহিল অরিনের চুলে নাক ডুবিয়ে দেয়, অরিন আহিলের হাত ধরে। আহিল অরিনকে ছেড়ে দিয়ে যেতে নেয়)

Main Rahoon Ya Na Rahoon Tum Mujh Mein Kahin Baaki Rehna
অরিন আহিলের হাত ধরে, আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
আহিলঃ হাত ধরলে যে? (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ কোথায় যাচ্ছেন? (মন খারাপ করে)

আহিলঃ জানি না যেখানে ভালোবাসা নেই সেখানে থেকে কি হবে? তার থেকে দূরে সরে যাওয়াই অনেক ভালো। (অন্যদিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ ভালোবাসি, (মাথা নিচু করে)
আহিলঃ কি বললে? (অবাক হয়ে)

অরিনঃ ভালবাসি, (আহিলের দিকে তাকিয়ে)
আহিলঃ বাতাসের শব্দে কিছু শুনতে পাচ্ছি না, (না শোনার ভান করে)
অরিনঃ আমি আপনাকে অনেক ভালোবাসি, (মন খারাপ করে)
আহিলঃ আরও জোরে বলো তো, (অরিনের দিকে তাকিয়ে)

অরিনঃ আমি আপনাকে ভালোবাসি অনেক ভালোবাসি পারবো না আপনাকে ছাড়া থাকতে। (কাঁদো কাঁদো সুরে)
অরিন দৌড়ে এসে আহিলকে জড়িয়ে ধরে। আহিল অবাক হয়ে যায় কারণ আহিল বুঝতে পারেনি অরিন এতো তাড়াতাড়ি মেনে যাবে। আহিল মনে মনে বেশ খুশি হয়ে অরিনকে জড়িয়ে ধরে। আহিল অরিনকে জড়িয়ে ধরে বলে,
আহিলঃ I love you Rafiya I love you so much…
অরিনঃ I love you very much..

আহিল অরিনকে ছেড়ে দিয়ে অরিনের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে একহাত পেছনে রেখে অন্যহাতে ডায়মন্ড রিং নিয়ে অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
~ আমার কাছে তুমি অন্যরকম তুমি, হাজার সাধারণের মধ্যে অসাধারণ তুমি, আকাশের হাজার নক্ষত্রের মাঝে উজ্জ্বল তারা তুমি, মনের মাঝে তুমি আমার কাছে অন্যরকম তুমি।
অরিনের চোখে পানি চলে আসে আহিলের কথা শুনে। অরিন হাত বাড়িয়ে দেয়। আহিল অরিনের হাতে রিংটা পড়িয়ে দেয়। আহিল উঠে দাঁড়ায়। অরিন আহিলের কপালে ভালোবাসার পরশ একে দেয়।

আহিল অরিনকে জড়িয়ে ধরে এক হাত অরিনের কোমরের উপর রাখে অন্যহাত অরিনের হাতে রেখে কাপল ড্যান্স করে। আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
আহিলঃ কখনো ছেড়ে যাবে নাতো?
অরিনঃ কখনো না,
আহিলঃ কথা দাও সারাজীবন পাশে থাকবে?
অরিনঃ মৃত্যুর আগে পর্যন্ত আপনার পাশেই থাকবো।

আহিল অরিনকে কোলে তুলে নেয়। পাশেই একটা কর্টেজ। আহিল অরিনকে সেখানে নিয়ে যায়। একটি রুমে সার্কেল বেড তার উপর লাভ শেড গোলাপের পাপড়ি দিয়ে। সাদা বেডশিটের উপর লাভ টাকে দারুণ লাগছে পুরো রুম যেনো গোলাপের সমাহার। অরিন অবাক হয়ে যায়, আহিল অরিনের কানে কানে ফিসফিস করে বলে,
আহিলঃ আমাদের এখনও বাসর হয়নি আজ হলে মন্দ কি!
অরিন লজ্জা পেয়ে আহিলের বুকে মুখ লুকায়। শুরু হলো ভালোবাসার নতুন অধ্যায়।


পর্ব ৩২

অরিন সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠে। পাশেই আহিল ঘুমিয়ে আছে। আহিলকে ঘুমন্ত অবস্থায় নিষ্পাপ শিশদের মতো লাগছে। অরিন গালে হাত রেখে আহিলকে দেখছে। অরিনের মনে হয়, আহিলের দিকে তাকিয়ে থেকে সে সারাজীবন কাটিয়ে দিতে পারবে। অরিন নিজের ভাবনায় নিজেই হেসে ফেলে। অরিন উঠে শাওয়ার নিতে চলে যায়। আহিল ঘুমের মধ্যে অরিনকে খোঁজে হাত দিয়ে পাশে চেক করে না পেয়ে, ঘুমঘুম চোখে উঠে বসে। আশেপাশে তাকিয়েও অরিনকে দেখতে পায় না। আহিল হাই তুলে বলে,
~ গেলো কোথায় সকাল সকাল?

আহিলের চোখ যায় ওয়াশরুমের দিকে, ওয়াশরুমে পানি পড়ার শব্দ শুনে আহিল বুঝতে পারে অরিন ওয়াশরুমে। অরিন ওয়াশরুম থেকে বের হয়। অরিন গাঢ় নীল রঙের শাড়ী সাথপ গোল্ডেন পাড়ের একটি শাড়ী পড়েছে। অরিনকে দারুণ লাগছে। অরিন বের হয়ে আহিলকে বেডে আহিলকে দেখতে পায় না। অরিহ আশেপাশে তাকাতেই পেছন থেকে আহিল অরিনকে জড়িয়ে ধরে, অরিন ভয় পেয়ে বলে,
অরিনঃ বাবা রে আমি ভয় পেয়ে গেছিলাম, (চোখ বন্ধ করে)
আহিলঃ কেনো ভয় পাবে কেনো? (অবাক হয়ে)

অরিনঃ হঠাৎ করে এসে জড়িয়ে ধরলে ভয় পাবো না তো কি হাসবো নাকি? (রেগে)
আহিলঃ তোমাকে না খুব সুন্দর লাগছে, (হেসে)
অরিনঃ চাপা, (আড়চোখে তাকিয়ে)
আহিলঃ মোটেই না সত্যি, (সিরিয়াস কন্ঠে)

অরিনঃ যান ফ্রেশ হয়ে আসুন, (অন্যদিকে তাকিয়ে)
আহিলঃ ইচ্ছে করছে না তোমার থেকে দূরে যেতে, (মুচকি হেসে)

অরিনঃ আমি তো পালাচ্ছি না যে পালিয়ে গেলে কোথায় পাবো! যান ফ্রেশ হয়ে আসুন, (রেগে)
আহিলঃ তুমি ও রেডি হয়ে নাও আমরা বের হবো একটু পরে, (অরিনের গালে হাত রেখে)
অরিনঃ কোথায়? (অবাক হয়ে)
আহিলঃ সারপ্রাইজ, (হেসে)

কথাটা বলে আহিল ওয়াশরুমে চলে যায়, অরিন কোনো কিছু বলার সুযোগ পেলো না। অরিন দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে বলে,
অরিনঃ আবারও সারপ্রাইজ, আমার জীবনটাই সারপ্রাইজ আর আমিও সারপ্রাইজ। (দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে)

অরিন বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়ায়। অরিন চারদিকের পরিবেশ দেখে মুগ্ধ হয়ে যায় কারণ সামনে সৈকত তার আশেপাশে অনেক নারিকেল গাছ পাশেই বাগান। অনেক সুন্দর মিষ্টি বাতাস বয়ে যাচ্ছে। পানির কলকল শব্দ পাখির উড়ে যাওয়া সব মিলি নৈসর্গিক দৃশ্য। আহিল ফ্রেশ হয়ে বের হয়। অরিনকে বেলকনিতে দেখে সেখানে গিয়ে বলে,
আহিলঃ কি দেখছো? (অরিনের দিকে তাকিয়ে)

অরিনঃ জায়গাটা ভিষণ সুন্দর, (সামনে তাকিয়ে)
আহিলঃ এর থেকেও আরও সুন্দর জায়গায় নিয়ে যাবো রেডি হও, খাবার অর্ডার করেছি একটু পরেই এসে যাবে। (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
~ ঠিক আছে, চলুন। (হেসে)

কিছুক্ষণ পর খাবার চলে আসে রোজকার মতো আহিল অরিনকে খাইয়ে দেয়। অরিনকে খাইয়ে দিয়ে নিজে খেয়ে নেয়। অরিন হালকা সাজুগুজু করে নেয়। আহিল রেডি হয়ে। অরিনকে নিয়ে গাড়িতে ওঠে গাড়ি স্টার্ট দেয়। অরিন বাহিরের পরিবেশ দেখছে। আহিল অরিনের দিকে আড়চোখে তাকিয়ে হাসছে। অরিন আহিলের দিকে তাকিয়ে বলে,
অরিনঃ আমরা এখন কোথায় যাচ্ছি? (আহিলের দিকে তাকিয়ে)

আহিলঃ হানিমুনে, (হেসে)
অরিনঃ হানিমুনে! কিন্তু কোথায়? (অবাক হয়ে)
আহিলঃ সারপ্রাইজ, (সামনে তাকিয়ে)

অরিনঃ আবারও সারপ্রাইজ, (অবাক হয়ে)
আহিলঃ হ্যাঁ সোনা, (হেসে)
অরিন মন খারাপ করে বাহিরের দিকে তাকিয়ে থাকে। আহিল গাড়ি চালাতে থাকে। গাড়ি এয়ারপোর্টে চলে আসে। আহিল অরিনকে নিয়ে নেমে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে গিয়ে সব ফর্মালিটি মিটিয়ে অরিনকে নিয়ে প্লেনে ওঠে।

আহিল প্রাইভেট প্লেন রেন্টে নেয় অরিনের সাথে একাকী সময় কাটানোর জন্য। অরিন প্লেনে উঠে অবাক হয়ে যায় কারণ এই প্লেনটা অন্য প্লেনের মতো না আর প্লেনের মধ্যে কোনো মানুষ নেই। অরিন অবাক হয়ে আহিলের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে,
অরিনঃ প্লেন তো পুরোপুরি খালি, (অবাক হয়ে)
আহিলঃ হ্যাঁ, (মাথা নেড়ে)

অরিনঃ আমরা দুজনই কি এই প্লেনে যাবো। (অবাক হয়ে)
আহিলঃ হ্যাঁ বেবি আমরা একা যাবো আর কেউ উঠবে না এই প্লেনে কারণ আমি এই প্লেন ভাড়া করেছি। (হেসে)
অরিনঃ এটার দরকার ছিলো না, (রেগে)

আহিলঃ তাহলে তোমার সাথে সময় কাটাতাম কীভাবে? (অরিনের গালে হাত রেখে)
অরিনঃ তাই বলে, (আহিলের দিকে তাকিয়ে)
আহিলঃ চুপ করো, আমার পাশে বসো দাঁড়িয়ে থেকো না। (ধমক দিয়ে)
অরিন আহিলের পাশে বসে। প্লেন ওড়া শুরু করে। অরিন বাহিরের দিকে তাকিয়ে আছে হঠাৎ,


পর্ব ৩৩

অরিন বাহিরের দিকে তাকিয়ে আছে তখনই আহিল এসে অরিনকে জড়িয়ে ধরে। অরিন আহিলের দিকে তাকিয়ে বলে,
অরিনঃ আচ্ছা আমরা কোথায় যাচ্ছি? (আহিলের দিকে তাকিয়ে)
আহিলঃ সুইজারল্যান্ডে, (অরিনকে জড়িয়ে ধরে)
অরিনঃ সেখানে তো অনেক ঠান্ডা আর আমরাও তো কিছু নেইনি সাথে পড়ার জন্য। (চিন্তিত হয়ে)

আহিলঃ সেখানে আমাদের একটা রিসোর্ট আছে। আমি আগেই কেয়ারটেকারকে সব বলে রেখেছি। (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ ভালোই হলো। আমার অনেক দিনের ইচ্ছে সুইজারল্যান্ডে যাবো। (আনন্দিত হয়ে)
আহিলঃ আমি তোমার সেই ইচ্ছে পূরণ করে দিলাম। (হেসে)
অরিনঃ অনেক গুলা থ্যাংক্স। (আহিলের দিকে তাকিয়ে)
আহিলঃ না এভাবে না, আমার তো অন্য কিছু চাই! (দুষ্ট হাসি দিয়ে)

অরিনঃ ডেভিলটা নিশ্চয়ই কোনো কুমতলব করছে মনে মনে, (বিড়বিড় করে)
আহিলঃ কি দেবে না, (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ আমি তো বেকার মানুষ, আমার কাছে কিছুই নেই আপনাকে দেওয়ার জন্য, (হেসে)
আহিলঃ এই শোনো তুমি আপনি আপনি করা বন্ধ করবে। (রেগে)

অরিনঃ পনি যদি চান আমি আপনাকে না ডাকি তাহলে সমস্যা নেই, ডাকলাম না। (মুখ ফিরিয়ে)
আহিলঃ আরে বোকা, আমি সেটা বলিনি। তুমি আমাকে না ডাকলে কে ডাকবে, (অরিনের গালে হাত রেখে)
অরিনঃ মন গলানোর ধান্দা, (মনে মনে) তাহলে কি বলছিলেন? (আহিলের দিকে তাকিয়ে)

আহিলঃ বলছিলাম তুমি আমাকে আপনি করে সম্বোধন না করে তুমি করে বলো। (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ কিন্তু কেনো? (ভ্রু কুঁচকে)
আহিলঃ আপনি করে বললে পর পর লাগে, আমি কি তোমার পর? (অরিনের কাঁধে মাথা রেখে)
অরিনঃ মোটেই না আপনি তো আমার সবচেয়ে আপন, (আহিলকে জড়িয়ে ধরে)

আহিলঃ তাহলে আজকে থেকে তুমি করে বলবে কেমন, (হেসে)
অরিনঃ ঠিক আছে তুমি, (আহিলের দিকে তাকিয়ে)
অরিনের কথাশুনে আহিল হেসে। অরিন আহিলকে জড়িয়ে ধরে হাসে। আহিল অরিনকে জড়িয়ে ধরে,
আহিলঃ অনেক ভালোবাসি।
অরিনঃ জীবনের চেয়েও বেশি।

আহিলের কাঁধে অরিন মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ে। আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে আছে এক দৃষ্টিতে। এভাবে অনেকক্ষণ কেটে যায়। আহিল অরিনকে ঘুম থেকে তোলে খাবার খাওয়ার জন্য। অরিন টলতে টলতে ঘুম থেকে ওঠে। আহিল অরিনকে খাবার খাইয়ে দেয়।

অরিন ঘুমঘুম চোখে খেয়ে নেয়। আহিল তেমন কিছু খায় না। অরিন খাবার শেষ করে, আহিলের বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ে। আহিল অরিনের কান্ডদেখে মুচকি হাসে। আহিল সিটের সাথে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর মাইক এনাউন্সমেন্টে বলে, প্লেন সুইজারল্যান্ড এয়ারপোর্টে চলে এসেছে। আহিল অরিনের গালে হাত রেখে বলে,
আহিলঃ ওঠো সুইজারল্যান্ডে এসে গেছি, (অরিনের গালে হাত রেখে)
অরিনঃ আরেকটু পরে, (ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে)

অরিনঃ না এখন, (অরিনকে উঠিয়ে)
অরিন বিরক্ত হয়ে উঠে পড়ে। আহিল অরিনের কপালে ভালোবাসার পরশ একে দেয় তারপর প্লেন ল্যান্ড করে। অরিন আহিলের সাথে সিড়ি দিয়ে নামে। তারপর এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে গাড়িতে ওঠে। অরিন শীতে কাঁপছে। আহিল অরিনকে জড়িয়ে ধরে আহিল নিজের কোট খুলে অরিনকে পড়িয়ে দেয়।

কিছুক্ষণ পর গাড়ি এসে থামে একটি সুন্দর রিসোর্টের সামনে। আহিল অরিনকে নিয়ে বের হয়। অরিন আহিলের সাথে রিসোর্টের মধ্যে যায়। রিসোর্টের ভেতর টা অনেক সুন্দর। আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
আহিলঃ এসব পরে দেখবে আগে ভেতরে চলো। শীতের পোশাক পড়বে না হয় ঠান্ডা লেগে যাবে।

অরিনঃ আচ্ছা চলুন।
আহিল অরিনকে নিয়ে দোতলায় একটি রুমে যায়। অরিন রুমে গিয়ে দৌড়ে বেলকনিতে যায়। বেলকনি থেকে অনেক সুন্দর নৈসর্গিক দৃশ্য উপভোগ করার মতো জায়গা দেখা যায়। দূরে বরফে ঢাকা পাহাড়। অরিন আহিলের দিকে তাকিয়ে বলে,
অরিনঃ কতো সুন্দর জায়গা,

আহিলঃ তোমার পছন্দ হয়েছে?
অরিনঃ এমন দৃশ্য কার না ভালো লাগবে, আমার অনেক অনেক পছন্দ হয়েছে।
আহিলঃ এবার তাড়াতাড়ি ভেতরে এসো, নাহয় ঠান্ডা লাগবে।

অরিনঃ আচ্ছা চলুন।
আহিল আলমারি থেকে অরিনকে কোট বের করে দেয় পড়ার জন্য। তখনই কেয়ারটেকার গরম গরম কফি নিয়ে আসে দুজনের জন্য। আহিল তার সাথে কিছু কথাবার্তা বলে। অরিন কফি মগে চুমুক দেয়। আহিল এসে অরিনের পাশে বসে, আর বলে,
আহিলঃ আমরা খাবার খেয়ে ঘুড়তে বের হবো।
অরিনঃ সত্যি,
আহিলঃ একদম সত্যি,

অরিনঃ কোথায় কোথায় যাবো?
আহিলঃ তা তো এখনো ঠিক করিনি, চিন্তা করো না ঠিক করে ফেলবো।
অরিন অনেক খুশি এখানে এসে কিন্তু তারপরও একটা কষ্ট অরিনের মনে হানা দিচ্ছে। আহিলকে বারবার বলতে যেয়েও বলতে পারে না,


পর্ব ৩৪

অরিনরা মনমরা হয়ে বসে আছে। আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে দেখে অরিন অন্যমনস্ক হয়ে বসে আছে। আহিল কিছুটা আঁচ করতে পেরেছে, কেনো অরিনের মন খারাপ? আহিল অরিনের পাশে বসে জিজ্ঞেস করে,
আহিলঃ কি ব্যাপার, মন খারাপ? (অরিনের হাতে হাত রেখে)

অরিনঃ না এমনি, (মাথা নেড়ে)
আহিলঃ সত্যি করে বলো, (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ আসলে, (মাথা নিচু করে)

আহিলঃ হ্যাঁ আসলে, (হেসে)
অরিনঃ বাসার সবার কথা খুব মনে পড়ছে, খুব মিস করছি সবাইকে। (মন খারাপ করে)
আহিলঃ মন খারাপ করো না, আমরা এখান থেকে দেশে ফিরে তারপর তোমার পরিবারের সাথে কথা বলে মিটমাট করে সব স্বাভাবিক করে নেবো। (অরিনের মাথা হাত রেখে)
অরিনঃ বাসার সবাই কি মানবে? (অবাক হয়ে)

আহিলঃ অবশ্যই মানবে, কেনো মানবে না? তুমি তাদের একমাত্র মেয়ে দেখবে ঠিক মেনে নিয়েছে সবাই। (হেসে )
অরিনঃ তাই যেনো হয়, (মাথা নিচু করে)
আহিলঃ এখন রেস্ট নাও তারপর নাস্তা করে একসাথে বের হবো। (অরিনকে জড়িয়ে ধরে)

অরিনঃ ঠিক আছে, (মাথা নেড়ে)
অরিন কফি শেষ করে, বিছানায় শুয়ে পড়ে। আহিল তার ল্যাপটপ নিয়ে বসে অফিসিয়াল কাজ করার জন্য। অরিন ঘুমিয়ে পড়ে। আহিল এসে কয়েকবার অরিনকে দেখে যায়। আহিল বসে বসে কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যায়। আহিল সোফায় হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পরে, অরিন ঘুম থেকে উঠে পাশে আহিলকে দেখতে পায় না। অরিন সামনে তাকিয়ে দেখে, আহিল সোফায় হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। অরিন উঠে গিয়ে আহিলের পাশে বসে।

এতো ঠান্ডা পড়ছে তবুও আহিল একটি শার্ট পড়ে আছে। অরিন খেয়াল করে বেলকনি থেকে সুর সুর করে বাতাস আসছে রুমের মধ্যে। আহিলের চুল গুলো বাতাসের জন্য কপালের উপর পড়ছে। অরিনের বেশ ভালোই লাগছে, আহিলকে এভাবে দেখতে। অরিন ধীরে ধীরে আহিলের কপালের উপর পড়ে থাকা চুল গুলো আঙুল দিয়ে সরিয়ে দেয়। অরিন হেসে মনে মনে বলে,

~ একটা ছেলে এতো কিউট হয় কি করে? বাহ্ কি ভাগ্য তোর অরিন! এতো হ্যান্ডসাম একটা ছেলে তোর হাসবেন্ড। ঘুমিয়ে গেলে একেবারে ছোট্ট বেবির মতো লাগে। না জানি কতো মেয়ের ক্রাশ তিনি। সে অন্য মেয়েদের ক্রাশ আর আমি তার ক্রাশ হিহিহি। (মনে মনে হেসে)
কথাগুলো ভাবতে ভাবতে মনের আনন্দে অরিন আহিলের বুকে মাথা রেখে জড়িয়ে ধরে। আহিলের ঘুম ভেঙে যায়। আহিল চোখ মেলে তাকিয়ে দেখে অরিন তাকে জড়িয়ে ধরেছে। আহিল মুচকি হেসে অরিনকে জড়িয়ে ধরে বলে,

আহিলঃ ঘুম ভাঙলো কখন? (অরিনকে জড়িয়ে ধরে)
অরিনঃ এইতো একটু আগে। আপনি সোফায় বসে ঘুমাচ্ছিলেন কেনো? (রেগে)
আহিলঃ কাজ করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েছি। (চোখ বন্ধ করে)

অরিনঃ এটা কিন্তু ঠিক না, এতে করে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়, (অভিমান করে)
আহিলঃ তুমি আগে নিজের স্বাস্থ্যের খেয়াল নাও, দেখেছো নিজেকে একবারও, শুকিয়ে লম্বা হয়ে গেছো। (হেসে)
অরিনঃ তাও তো আপনার সমান হতে পারলাম না, (ভেংচি মেরে)
আহিলঃ আমার ওতো লম্বা বউয়ের দরকার নেই, (হেসে)

অরিনঃ কেনো কেনো? (অবাক হয়ে)
আহিলঃ লম্বা মেয়েদের জড়িয়ে ধরলে তো হার্টবিট শুনতে পায় না তাই তারা মনের ফিলিংস টাও বুঝতে পারে না। কিন্তু মিডিয়াম লম্বা আর খাটো মেয়েরা হার্টবিট শুনতে পায় আর মনের ফিলিংস টাও বুঝতে পারে তাই খাটো মেয়েরা অনেক রোমান্টিক হয়। (হেসে হেসে)
অরিনঃ আপনিও না। (লজ্জা পেয়ে)

আহিলঃ সত্যি বললাম, চলো এখন নাস্তা করবে। (অরিনকে ছেড়ে দিয়ে)
অরিনঃ আচ্ছা চলুন, আপনি ফ্রেশ হয়ে নিন আগে। (আহিলের দিকে তাকিয়ে)

আহিল উঠে ফ্রেশ হতে চলে যায়। অরিন উঠে বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়ায়। একজন সার্ভেন্ট এসে অরিনকে বলে,
সার্ভেন্টঃ ম্যাম কিছু লাগবে? (মাথা নিচু করে)
অরিনঃ আপনি বাংলা জানেন? (অবাক হয়ে)
সার্ভেন্টঃ জি ম্যাম, আমি বাংলাদেশী। (বিনয়ী সুরে)

অরিনঃ তাই, তাহলে তো ভালোই হলো। এখন কয়টা বাজে তাই তো জানি না? (মন খারাপ করে)
সার্ভেন্টঃ ম্যাম এখন দুপুর, আসলে এখানে সবসময় এইরকম আবহাওয়া থাকে তাই বোঝা যায় না কখন সকাল, কখন দুপুর। (হালকা হেসে)
অরিনঃ ঠিক বলেছেন, আপনি লান্ঞ্চ রেডি করুন, আমরা আসছি। (হেসে)

সার্ভেন্টঃ ঠিক আছে ম্যাম। (মাথা নেড়ে)
সার্ভেন্ট চলে যায়। অরিন বাহিরের দিকে তাকিয়ে পাহাড়ি দৃশ্য উপভোগ করছে। আহিল ফ্রেশ হয়ে বের হয়। আহিল বের হওয়ার পর অরিন ফ্রেশ হয়ে নেয়। তারপর দুজনে একসাথে লান্ঞ্চ করে রুমে আসে। আহিল অরিনকে বলে,
আহিলঃ রেডি হয়ে নাও, (অরিনের দিকে তাকিয়ে)

অরিনঃ আমরা এখন কোথায় যাবো? (আনন্দিত হয়ে)
আহিলঃ বাহিরে যাবো। শোনো তুমি রেড টপস আর ব্লু জিন্স পড়বে সাথে রেড কোট। (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ বাহ্ কতোদিন পরে টপস পড়বো। (মনে মনে)

আহিলঃ কোথায় হারিয়ে গেলে? (আঙুলে তুড়ি বাজিয়ে)
অরিনঃ না না কোথাও না, আপনি কি পড়বেন? (আহিলের দিকে তাকিয়ে)
আহিলঃ কেনো? (অবাক হয়ে)
অরিনঃ দুজন এক কালার ম্যাচিং করে পড়বো কেমন? (হেসে)
আহিলঃ আচ্ছা ঠিক আছে। (মাথা নেড়ে)

অরিন ড্রেস নিয়ে ওয়াশরুমে যায়। আহিল রুমেই চেঞ্জ করে। আহিল রেড কালার শার্ট সাথে ব্ল্যাক কোট পড়েছে। আহিল অরিনের আগেই রেডি হয়ে যায়। অরিন ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে দেখে আহিল রেডি। অরিনকে খুব সুন্দর লাগছে রেড টপসে। আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
আহিলঃ Wow you looking so pretty..
অরিনঃ You looking so handsome..

আহিলঃ বুঝতে হবে না, আহিল রেহমান। (ভাব নিয়ে)
অরিনঃ ঠিক বলছেন রহমান সাহেব। (হেসে)
আহিলঃ What? (রেগে)
অরিনঃ কই কিছু না তো, আমি রেডি হবো। (মুখ ফিরিয়ে)
আহিলঃ হও না, আমি তো মানা করিনি। (রেগে)

অরিন ঠোঁটে লাল লিপস্টিক দেয়, চোখে হালকা কাজল। চুল গুলো ছেড়ে রাখে। কানে হোয়াইট স্টনের টপ এয়াররিং পড়ে। তারপর কোট পড়ে। আহিল বসে বসে অরিনকে দেখছে। অরিন আহিলের সামনে এসে বলে,
অরিনঃ আমি রেডি এবার চলুন। (হেসে)

আহিলঃ হুম চলো, (অরিনের হাত ধরে)
আহিল উঠে অরিনের হাত ধরে তারপর দুজন বের হয় বাসা থেকে। অরিনের বেশ ভালোই লাগে আহিলের হাত ধরে হাটতে। অরিন আশেপাশে তাকিয়ে দেখে,


পর্ব ৩৫

আহিল উঠে অরিনের হাত ধরে তারপর দুজন বের হয় বাসা থেকে। অরিনের বেশ ভালোই লাগে আহিলের হাত ধরে হাটতে। অরিন আশেপাশে তাকিয়ে দেখে কাপলরা একে অপরের জড়িয়ে ধরে হাঁটছে। অরিন আড়চোখে তাকিয়ে দেখে চোখ সরিয়ে নেয়। আহিল অরিনকে দেখে মুচকি হাসে। অরিন সামনে তাকিয়ে দেখতে পায় একটি ছোট মাঠের মতো জায়গা বরফে পরিপূর্ণ। অরিন আহিলের হাত ছেড়ে দিয়ে দৌড়ে সেখানে যায়। অরিন চারপাশে তাকিয়ে তারপর দুইহাত দিয়ে বরফ উঠিয়ে আইস বল বানায়। আহিল দূর থেকে অরিনকে ডাকে,
আহিলঃ রাফিয়া ওখানে কি করছো? (অরিনের দিকে তাকিয়ে )

অরিন আচমকা আহিলের দিকে তাকিয়ে আইস বল ছুঁড়ে মারে। আহিলের মুখের ওপর আইস বল পড়ে। আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
আহিলঃ তবে রে, দাঁড়াও দেখাচ্ছি মজা, (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
আহিলও আইস বল বানিয়ে অরিনের দিকে ছুঁড়ে মারে। অরিন দৌড়ে একটা গাছের পেছনে লুকিয়ে যায়। তারপর তাড়াতাড়ি করে অনেক গুলো আইস বল বানিয়ে আহিলের দিকে ছুঁড়ে মারে। আহিল অরিনের সাথে পেরে ওঠে না। আহিলের মাথায় বুদ্ধি আসে। আহিল দৌড়ে অন্য একটা গাছের নিচে লুকিয়ে পড়ে।

অরিন আড়াল থেকে আশেপাশে তাকিয়ে আহিলকে দেখতে পায় না। অরিন আবারও সবদিকে তাকায় কিন্তু আহিলকে দেখতে পায় না। অরিন আড়াল থেকে বের হয়ে আসে। অরিন আশেপাশে তাকিয়ে জোরে জোরে চিৎকার করে আহিলকে ডাকে কিন্তু আহিলকে দেখতে পায় না। অরিন মনে মনে বলে,
অরিনঃ বুঝতে পেরেছি, নিশ্চয়ই আমাকে ভয় দেখানোর জন্য কোথাও লুকিয়েছে হয়তো। দাঁড়াও দেখাচ্ছি, (মনে মনে)
অরিন দৌড় দিয়ে বসে পড়ে কান্না শুরু করে দেয়,

অরিনঃ এ্যাঁ এ্যাঁ এ্যাঁ, আমার পা ভেঙে গেলো রে, কেউ তো বাঁচাও, (কেঁদে কেঁদে )
আহিল দূর থেকে অরিনের কান্না শুনে। আড়চোখে অরিনের দিকে তাকায়। আহিল দেখে অরিন বসে বসে কাঁদছে। আহিল আর এক মূহুর্ত দেরি না করে দৌড়ে অরিনের কাছে আসে। আহিল অরিনের কাঁধে হাত রেখে বলে,
আহিলঃ কি হয়েছে তোমার? কাঁদছো কেনো? (অরিনের কাঁধে হাত রেখে)
অরিনঃ আমি পড়ে গেছি, (কেঁদে কেঁদে)

আহিলঃ কীভাবে পড়ে গেলে, (চিন্তিত হয়ে)
অরিনঃ দৌড়াতে গিয়ে, (কেঁদে কেঁদে)
আহিলঃ হাত ধরছি তুমি ওঠো, (অরিনের হাত ধরে)

অরিনঃ পারবো না তো, কোলে নিতে হবে। (মাথা নেড়ে)
আহিলঃ ঠিক আছে আমি তোমাকে কোলে নিচ্ছি। (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
আহিল অরিনকে কোলে নেয়। অরিনকে কোলে নেওয়ার সাথে সাথে অরিন আহিলের গালে কিস করে। আহিল অবাক হয়ে অরিনের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে,
আহিলঃ এটা কি হলো? (অবাক হয়ে)
অরিনঃ কিসিং হলো। (হেসে)

আহিলঃ তার মানে তুমি ব্যাথা পাওনি? (রেগে)
অরিনঃ আপনি লুকিয়ে ছিলেন তাই আপনাকে খুঁজে বের করার জন্য একটু অভিনয় করলাম, বলুনতো অভিনয়টা কেমন হলো? (দাঁত বের করে হেসে)
আহিলঃ তুমি না সত্যি ড্রামা কুইন, (রেগে)
অরিনঃ তাই বুঝি, (হেসে)

আহিলঃ ঐ যে সামনে একটা কফিশপ দেখা যাচ্ছে, চলো কফি খাবো। (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ আচ্ছা চলুন। (মাথা নেড়ে)
আহিল অরিনকে কোলে করে নিয়ে যায় কফিশপে। কফিশপে বেশিরভাগই জিএফ বিএফ বসে কফি খাচ্ছে। আহিল অরিনকে জিজ্ঞেস করে,
আহিলঃ কোনটা খাবে হট কফি নাকি কোল্ড কফি?
অরিনঃ হট কফি।
আহিলঃ ঠিক আছে।

আহিল ওয়েটারকে ডেকে দুটো হট কফি আনতে বলে। অরিন পাশে তাকাতেই, অরিনের চোখ চড়কগাছ হয়ে যায়। কারন একটি ছেলে একটি মেয়ে কিস করছে তাও আবার জড়িয়ে ধরে। অরিন দুই হাত দিয়ে নিজের চোখ চেপে ধরে। আহিল অরিনের কান্ড দেখে হাসছে। অরিন রেগে গিয়ে বলে,
অরিনঃ হাসছেন কেনো? (রেগেমেগে)
আহিলঃ তোমার কান্ড দেখে। (হেসে)

অরিনঃ কি নির্লজ্জ! পাবলিক প্লেসে এসব করে! ছিঃ ছিঃ (অন্যদিকে তাকিয়ে)
আহিল ~ শোনো এটা বাংলাদেশ না যে সব লুকিয়ে লুকিয়ে করতে হবে। এখানে যার যা ইচ্ছে তা তখনই যেকোনো জায়গায় করে। এতে তারা মোটেও লজ্জাবোধ করে না বুঝলে। (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ ছিঃ তাই বলে এভাবে! (রেগে)
আহিলঃ হ্যাঁ এভাবে। চলো আমরাও করি )

অরিনঃ কি বেশরম! (রেগে)
আহিলঃ ওরাও তো করছে আর আমি বললে দোষ, )
অরিনঃ গেলাম আমি খাবো না কফি। (রেগেমেগে)
আহিলঃ আরে বাবু দাঁড়াও, দুষ্টুমি করছি। (অরিনের হাত ধরে)
অরিনঃ সত্যি, (আহিলের দিকে তাকিয়ে)
আহিলঃ তিন সত্যি, (হেসে)

অরিনঃ ঠিক আছে, (মাথা নেড়ে)
ওয়েটার এসে কফি দিয়ে যায়। আহিল কফিতে চুমুক দিতে দিতে অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
আহিলঃ চলো Truth or Dare খেলি। (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ আমি তো পারি না)
আহিলঃ কোনো ব্যাপার না আমি শিখিয়ে দিচ্ছি। আগে বলো তুমি Truth নাকি Dare নিবে? (হেসে)
অরিনঃ Truth.. (আহিলের দিকে তাকিয়ে)

আহিলঃ আমি তোমাকে একটা প্রশ্ন করবো, তোমাকে সেটার উত্তর দিতে হবে। যদি ভুল উত্তর দাও তাহলে আমি যা বলবো তাই করতে হবে। (অরিনের দিকে তাকিয়ে )
অরিনঃ আর আমি জিতলে! (আহিলের দিকে তাকিয়ে)

আহিলঃ তুমি যা বলবে তাই করবো। (কফিতে চুমুক দিয়ে)
অরিনঃ ঠিক আছে আমি রাজি। (মাথা নেড়ে)
আহিলঃ রাজি তো হয়ে গেলে না বুঝেই, তখন অভিনয় করছিলে না দেখো এবার কীভাবে তার শোধ নেই। (মনে মনে)


পর্ব ৩৬

আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে। অরিন আড়চোখে আহিলের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলে,
অরিনঃ এনার হাবভাব সুবিধার ঠেকছে না, মনে মনে কি খিচুড়ি পাকাচ্ছে কে জানে? (মনে মনে)
আহিল কফি শেষ করে অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
আহিলঃ এবার খেলা শুরু করা যাক, (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ হ্যাঁ, (মাথা নেড়ে)

আহিলঃ আমি তোমাকে একটা প্রশ্ন করবো, উত্তর দিতে না পারলে যা বলবো তাই করতে হবে। Are you ready? (বাঁকা হাসি দিয়ে)
অরিনঃ Yes, i’m ready, (হেসে)
আহিলঃ So let’s start the game, (ডেভিল মার্কা হাসি দিয়ে)
অরিনঃ Yeah, (হেসে)

আহিল কিছুক্ষণ আশেপাশে তাকিয়ে, অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
আহিলঃ আমাদের পাশে যে দম্পতি বসে আছে তারা কি বিবাহিত নাকি অবিবাহিত? (পাশে বসে থাকা দম্পতির দিকে ইশারা করে)
অরিনঃ এটা কেমন প্রশ্ন? (অবাক হয়ে)
আহিলঃ প্রশ্ন তো প্রশ্নই, তাড়াতাড়ি উত্তর দাও, (বাকাঁ হাসি দিয়ে)

অরিনঃ এরা যেভাবে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কিস করছিলো তাতে মনে হয় এরা বিবাহিত (মনে মনে)
আহিলঃ কি হলো বলো? (ধমক দিয়ে)
অরিনঃ হ্যাঁ তারা বিবাহিত, (মাথা নেড়ে)
আহিলঃ Are you sure? (ভ্রু কুঁচকে)

অরিনঃ I’m damned sure, (কনফিডেন্ট হয়ে)
আহিলঃ Just a minuit, (মুচকি হেসে)
আহিল পাশে ঘুরে ছেলেটিকে ডাকে। ছেলেটি হাসিমুখে আহিলের দিকে তাকিয়ে করমর্দনের জন্য হাত বাড়িয়ে দেয়। আহিল তার সাথে হাতে হাত মিলায়। আহিল হেসে ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করে,

আহিলঃ Are you married couple? (হেসে)
ছেলেঃ No, we are friends, (অবাক হয়ে)
আহিলঃ In a relationship? (হেসে)
ছেলেঃ No, Just Friend… But Why? (সন্দেহ করে)

আহিলঃ Nothing Else, nice to meet you.. (হেসে)
ছেলেঃ Same to you. (হেসে)
আহিলঃ Bye. (বিদায় জানিয়ে)
ছেলেঃ Bye. (মাথা নেড়ে)

আহিল হাসতে হাসতে অরিনের দিকে তাকায়, অরিন বুঝতে পারে কোনো না কোনো গন্ডগোল নিশ্চয়ই আছে। আহিল হাসতে হাসতে বলে,
আহিলঃ একটু অপেক্ষা করো, আমি আসছি। (উঠে দাঁড়িয়ে)
অরিনঃ কিন্তু কোথায়? (বিচলিত হয়ে)
আহিলঃ আরে বসো, পাঁচ মিনিটের মধ্যে আসছি। (হেসে)
অরিনঃ আচ্ছা। (মাথা নেড়ে)

আহিল উঠে চলে গেলো। অরিন বসে আছে। অরিন খেয়াল করলো তার ঠিক সামনা সামনি যে টেবিল, সেখানে বসা ছেলেটি ওর দিকে তাকিয়ে আছে। অরিন ভেংচি মেরে অন্যদিকে তাকায় তাও ছেলেটি এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে। অরিনের বিরক্ত লাগে এদিকে আহিল চলে আসে। আহিল বসে অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
আহিলঃ তোমার শাস্তির জন্য প্রস্তুত হয়ে যাও। (বাঁকা হাসি দিয়ে)
অরিনঃ কি শাস্তি? (ভ্রু কুঁচকে)

আহিলঃ তুমি এখান থেকে এক দৌড়ে ক্যাফের বাহিরে যাবে। (চেয়ারে বসে)
অরিনঃ এ আর এমনকি, এ তো আমার বা হাতের খেলা। (ভাব নিয়ে)
আহিলঃ তাই তাহলে করে দেখাও, ওহ একটা কাজ করা হয়নি। (নিচের নিচের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ সেটা কি? (অবাক হয়ে)

আহিল একজন ওয়েটারকে ডাক দেয়। ওয়েটার এসে আহিলের সামনে দাঁড়াতেই, আহিল বলে বিল অরিন দেবে। আহিল ইশারা করে দৌড়ানোর জন্য। অরিন কিছু না বুঝেই দিলো ভো দৌড়। সাথে সাথে ওয়েটারও দৌড় দিলো।
অরিন বুঝতে পারছে না ওর পিছনে ওয়েটার কেনো আসছে? তখনই অরিনের মনে পড়ে। আহিলতো বিল দেয়নি। অরিন আরো জোরে দৌড় দিলো, রাস্তায় বরফ থাকায় অরিন দৌড়াতে পারছে না। অরিন দৌড়ে একটা গাড়ির পেছনে লুকিয়ে পড়ে।

অরিন জোরে জোরে হাঁপাতে থাকে। তখনই অরিনের সামনে কেউ একটি গোলাপ ফুল ধরে। অরিন লোকটির মুখের দিকে তাকিয়ে দেখে আর কেউ নয় আহিল। আহিল মুচকি হেসে বলে,
আহিলঃ এই ফুলটা দিয়ে ঐ ছেলেটাকে প্রোপোজ করো যাও, (ফুল এগিয়ে দিয়ে)
অরিনঃ কি বলছেন এসব? (অবাক হয়ে)

আহিলঃ এটা তোমার শাস্তি। (বাঁকা হাসি দিয়ে)
অরিনঃ কোন ঝামেলায় পড়লাম রে বাবা। (বিড়বিড় করে)
আহিলঃ কি হলো যাও, (ধমক দিয়ে)
অরিনঃ যাচ্ছি। (ভেংচি মেরে)

অরিন আহিলের হাত থেকে ফুলটা নিয়ে, আহিলের ইশারা করা ছেলেটি ক্যাফেতে ওর দিকে তাকিয়ে থাকা সেই ছেলেটি। আহিল অরিনের কানে কানে ফিসফিস করে বলে,
আহিলঃ ঐ ছেলেটাকে যদি পটাতে পারো তাহলে তোমার বাকি শাস্তি মাফ। (ডেভিল মার্কা হাসি দিয়ে)
অরিনঃ ঠিক আছে আমি পারবো, (মাথা নেড়ে)
অরিন আহিলের হাত থেকে ফুলটা নিয়ে, নিজের চুল ঠিকঠাক করে সোজা ছেলেটার সামনে দাঁড়ায়। ছেলটি তো খুশিতে আটখানা কারণ সে মেঘ না চাইতে বৃষ্টি পেয়েছে। অরিন ভাব নিয়ে ছেলটিকে বলে,

অরিনঃ Hello darling.
ছেলেটি ~ Hey, What’s up baby.
অরিনঃ 7 up.

ছেলেটি ~ What?
অরিনঃ Nothing to say, you know what? I like you.
ছেলেটি ~ Oh really, I like you most baby.
অরিনঃ you like rose?
ছেলেটি ~ yeah, also like it.
অরিনঃ This is for you.

ছেলেটি ~Thank you so much baby.
ছেলেটি হঠাৎ করে অরিনকে জড়িয়ে ধরতে নেয়, অরিন ছেলেটিকে দূরে সরিয়ে দেয়। ছেলেটি অরিনের চুলে হাত রাখে, অরিনের বিরক্ত লাগে এসব। অরিন বুঝতে পারে ছেলেটির মতলব ভালো না। ছেলেটি অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,

ছেলেটি ~ Kiss you baby.
অরিনঃ I don’t’ like this.
ছেলেটি ~ I like it.

ছেলেটি অরিনের হাত চেপে ধরে। অরিনের মেজাজ বিগড়ে যায়। অরিন সহ্য করতে না পেরে কষে থাপ্পড় দেয় ছেলেটির গালে। ছেলটির মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। ছেলটি অরিনকে গাছের সাথে চেপে ধরে তখনই আহিল এসে ছেলেটির নাক বরাবর ঘুষি মারে। এতো জোরে ঘুষি মারার জন্য ছেলটার নাক ফেটে যায় আর সাথে সাথে ছেলেটি চোখে সরষে ফুল দেখে।
অরিন অগ্নিদৃষ্টিতে আহিলের দিকে তাকায়। আহিল চোখ সরিয়ে নেয়। অরিনের চোখ লাল হয়ে গেছে। অরিন হনহন করে হাঁটা শুরু করে আর তখনই,


পর্ব ৩৭

অরিন রেগেমেগে আহিলের দিকে তাকায়। আহিল ভয়ে অন্যদিকে তাকায়। অরিন হনহম করে হাঁটা শুরু করে আর তখনই আহিল অরিনের হাত ধরে ফেলে। অরিন রেগেমেগে আহিলের দিকে ঘুরে তাকায়, আহিল ভয়ে ভয়ে বলে,

আহিলঃ বাবু কোথায় যাচ্ছো? (ভয়ে ভয়ে)
অরিনঃ ডাক পেটাতে যাচ্ছি। (রেগেমেগে)
আহিলঃ ডাক পেটাবে কোন দুঃখে বাবু? (হালকা হেসে)

অরিনঃ এই সুখে যে আমার হাবি আমাকে বলে অন্য ছেলেকে প্রোপোজ করো না হয় শাস্তি পেতে হবে। (দাঁতে দাঁত চেপে)
আহিলঃ বাবু সরি। (হাতজোড় করে)
অরিনঃ কিসের সরি, নো সরি। (মুখ ফিরিয়ে)

আহিলঃ আচ্ছা কি করলে মাফ করবে বলো? (অরিনের দিকে তাকিয়ে)
অরিনঃ না আপনাকে মাফ করবো না। (রাগ করে)

আহিলঃ এই কান ধরলাম আর হবে না, (অরিনের কান ধরে)
অরিনঃ আরে আমার কান ধরছেন কোনো? (আহিলের হাত সরিয়ে)
আহিলঃ আচ্ছা আমার কান ধরলাম, এবার খুশি। (নিজের কান ধরে)
অরিনঃ না। (রাগ করে)
আহিলঃ প্লিজ। (অনুরোধ করে)

অরিনঃ মাফ করতে পারি এক শর্তে। (আহিলের দিকে তাকিয়ে)
আহিলঃ তুমি যা বলবে তাই হবে। (হেসে)
অরিনঃ আমাকে কোলে নিয়ে বাসায় যাবেন হেটে হেটে। (আহিলের দিকে তাকিয়ে)

আহিলঃ এটা কোনো ব্যাপার, জিম করে বডি বানিয়েছি কি এমনি এমনি? এসো। (অরিনকে কোলে নিয়ে)
আহিল অরিনকে কোলে তুলে নেয়। অরিন ইচ্ছে করে নিজের শরীরের ভার ছেড়ে দেয় কিন্তু এতে আহিলের কিছু আসে যায় না। আহিল অরিনকে নিয়ে বাসায় চলে যায়। বাসার সামনে এসে আহিল অরিনকে নামিয়ে দেয়। অরিন আহিলের কোল থেকে নেমে আহিলের দুই কাঁধে হাত রেখে পায়ের পাতার উপর দাঁড়িয়ে যায়।

আহিল অরিনের কান্ড দেখে অবাক। অরিন আহিলের দিকে তাকিয়ে বলে,
অরিনঃ আমি তো এভাবেই যাবো! (হেসে)
আহিলঃ আর আমার আর কি করার এভাবেই আপনাকে বয়ে বেড়াতে হবে। (বিড়বিড় করে)

অরিনঃ কি বললেন? (রেগে)
আহিলঃ বললাম চলো। (হেসে)
অরিন আহিলের পায়ে পা রেখে হাটতে থাকে তখনই আহিলের ফোনে কল আসে। আহিল ফোন বের করে রিসিভ করে।
আহিলঃ আসসালামু আলাইকুম বাবা।

বাবা~ ওয়ালাইকুম আসসালাম, কেমন আছো তোমরা?
আহিলঃ আলহামদুলিল্লাহ ভালো, তুমি আর আম্মু কেমন আছো?
বাবাঃ তোমাদের ছাড়া ভালো থাকি কি করে। বাসা তো পুরো বাড়ি তো ফাঁকা।
আহিলঃ কোন বাসার কথা বলছো বাবা?

বাবাঃ বাংলাদেশের বাসার কথা বলছি, কোথায় আছো তোমরা?
আহিলঃ বাবা আমাকে তো কিছুই জানালে না।
বাবাঃ ভাবলাম সারপ্রাইজ দিবো, তাই বলিনি।
আহিলঃ আমরা আসছি।

বাবাঃ কোথায় আছো সেটা তো বলো।
আহিলঃ আমরা নিউজিল্যান্ডে আছি, আর সন্ধ্যার ফ্লাইটে চলে আসবো কেমন। কেয়ারটেকার আঙ্কেল কি আছেন বাসায়?
বাবাঃ হ্যাঁ বাবা আছেন, শোনো আহিল একটা কথা!

আহিলঃ হ্যাঁ বলো,
অরিনঃ আমরা এখানে এসেছি তোমার আর অরিনের ধুমধাম করে বিয়ে দিতে, অরিনের পরিবার এখনো রেগে আছে। তাছাড়া তারা জানেই না কার সাথে তাদের মেয়ের বিয়ে হয়েছে।
আহিলঃ বাবা তুমি এতোকিছু কিভাবে?

বাবাঃ তোমার আম্মু সব বলেছে আমাকে, এর একটা বিহীত করা দরকার কতদিন আর এমনভাবে চলবে। তুমি আমার একমাত্র ছেলে তোমাকে নিয়ে অনেক আশা আমাদের। আমি এর মধ্যে ঝামেলা চাই না। তোমরা এসো তারপর আমরা অরিনের বাসায় যাবো।

আহিলঃ ঠিক আছে বাবা। আমরা আসছি।
বাবাঃ সাবধানে এসো কেমন, আল্লাহ হাফেজ।
আহিলঃ আল্লাহ হাফেজ।

আহিল আর বাবার সব কথা অরিন পাশে বসে শুনছিলো। অরিন মনে মনে বেশ খুশি হয়। আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
আহিলঃ সব ঠিক হয়ে যাবে, (হেসে)
অরিনঃ হ্যাঁ, কিন্তু, (মাথা নিচু করে)
আহিলঃ কিন্তু কি? (অবাক হয়ে)
অরিনঃ বাবা কি মানবে? (মন খারাপ করে)

আহিলঃ না মানার কারণ আছে বলে মনে হয় না। আমার কোনোকিছুরই কমতি নেই। (অরিনের মাথায় হাত রেখে)
অরিনঃ বাবার জেদ একটাই যে কেনো আমি এভাবে পালিয়ে এলাম। (মাথা নিচু করে)
আহিলঃ তুমি চিন্তা করো না সব ঠিক হয়ে যাবে। (আশ্বস্ত করে)

অরিনঃ তাই যেনো হয়। (দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে)
আহিল আর অরিন নাস্তা করে সব গুছিয়ে গাড়িতে করে এয়ারপোর্টে চলে যায়। এয়ারপোর্ট থেকে প্লেনে করে সোজা চলে আসে বাংলাদেশে। অরিন আর আহিলকে রিসিভ করতে আসেন তার বাবা। তিনি স্বাদরে দুজনকে রিসিভ করে বাায় নিয়ে যায়।


পর্ব ৩৮ (শেষ পর্ব)

আহিল অরিন বাসায় চলে আসে। বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে বিশ্রাম নেয়। আহিলের মা, বাবার খুব পছন্দ হয়েছে অরিনকে। বিকেলে সবাই রওনা দেয়। অরিন আহিল একটা গাড়িতে আর আহিলের বাবা মা অন্য একটি গাড়িতে। অরিন বেশ চিন্তিত, আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
আহিলঃ এতো চিন্তা করছো কেনো?
অরিনঃ আপনি কি বুঝবেন কেনো চিন্তা করছি?
আহিলঃ Relax Rafiya.

অরিনঃআপনার জন্য হয়েছে সব।
আহিলঃ আমি মানছি আমার জন্য সব হয়েছে so please calm down.
অরিনঃ যানি না বাবা কি করবেন?
আহিলঃ কিচ্ছু হবে না তুমি নিশ্চিত থাকো।
অরিনঃ দেখা যাবে,

আহিলঃ ঐ যে তোমার বাসা, এসে পড়েছি আমরা।
প্রায় অনেকদিন পর অরিন বাসার সামনে এসেছে। অরিনের হার্টবিট বেড়ে যায়। আহিলের বের হয়ে অরিনের হাত ধরে বের করে গাড়ি থেকে। আহিলের বাবা, মা এর গাড়িও চলে আসে। আহিল আর অরিন অপেক্ষা করছিলো তাদের। আহিলের বাবা, মা গাড়ি থেকে বের হয়। আহিলের বাবা অরিনের মাথায় হাত রেখে বলে,
বাবাঃ আমার বন্ধুকে বুঝিয়ে বললে সে অবশ্যই বুঝবে, এতো ভয় পেয়ো না মা।

আহিল আর অরিন অবাক হয়ে যায় আহিলের বাবার কথা শুনে। আহিলের বাবা রহস্যময় হাসি দিয়ে ভেতরে চলে যায়। আহিল অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
আহিলঃ বাবা তার বেয়াইকে বন্ধু বললো কেনো?
অরিনঃ আমারও একই প্রশ্ন?

আহিলঃ চলো দেখা যাক কি হয়?
অরিনঃ হুম,
আহিলের বাবা আর মা সামনে আহিল আর অরিন পেছনে। ফারিন সোফায় বসে তার শাশুড়ীর সাথে গল্প করছে। তায়িফ ল্যাপটপে কাজ করছে আর অরিনের বাবা খবরের কাগজ পড়ছেন। আহিলের বাবা অরিনের বাবার দিকে তাকিয়ে বলে,

বাবাঃ কি খবর ইয়াসির আরাফাত?
অরিনের বাবা খবরের কাগজ নামিয়ে আহিলের বাবার দিকে তাকায় সেই সাথে সবাই তাদের দিকে তাকায়। অরিনের বাবা উঠে এসে আহিলের বাবা কে আলিঙ্গন করে বলে,
বাবাইঃ এতো বছর পরে মনে পড়লো আমাকে?
বাবা~ তোর কথা সব সময় মনে করি কিন্তু থাকি তো দেশের বাহিরে তাই তোর সাথে বহু বছর যোগাযোগ করতে পারিনি।

বাবাইঃ আসসালামু আলাইকুম ভাবি।
মা ~ ওয়ালাইকুম আসসালাম ভাই সাহেব।
বাবা~ এবার তোকে দেখতে স্ত্রী, ছেলে, আর ছেলের বউ কে সাথে নিয়ে এসেছি।

বাবাইঃ খুব ভালো করেছিস, কোথায় তোর ছেলে আর বউ মা?
আহিল তার বাবার পেছন থেকে বের হয়ে এসে অরিনের বাবাকে সালাম। অরিনের বাবা অবাক হয়ে বলে,

বাবাইঃ আহিল তুমি আমার বন্ধুর ছেলে তা তো আগে জানতাম না? এতো বড় হলে কবে?
আহিলঃ আমি তো জানতাম যে আঙ্কেল বাবার বন্ধু?
বাসার সবাই এগিয়ে আসে। সবাই তাদের আমন্ত্রণ জানায়। অরিনের বাবা আশে পাশে তাকিয়ে বলে,

বাবাইঃ বৌমা কোথায়?
আহিলের বাবা পেছনে ঘুরে অরিনের হাত ধরে সামনে আনে। অরিন মাথায় নিচু করে আছে। সবাই হতভম্ব হয়ে যায় অরিনকে দেখে। অরিনের বাবা পুরোপুরি অবাক। অরিনের বাবা অবাক হয়ে আহিলের বাবার দিকে তাকায়। আহিলের বাবা মুচকি হেসে বলে,

বাবাঃ এই যে আমার বৌমা,
অরিনের বাবা আহিলের দিকে তাকিয়ে বলে,
বাবাইঃ ও তোর ছেলের বৌ?
বাবাঃ এখানেই দাঁড় করিয়ে রাখবি নাকি ভেতরে আসতে বলবি।

বাবাইঃ হ্যাঁ, হ্যাঁ, ভেতরে আয়।
অরিন দৌড়ে গিয়ে তার বাবাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কান্না জুড়ে দেয়। অরিনের কান্না দেখে সবার চোখ ছলছল করে ওঠে। আহিল অরিনের কান্না সহ্য করতে না পেরে অন্যদিকে তাকায়। অরিন কাঁদতে কাঁদতে বলে,
অরিনঃ বাবাই আমাকে ক্ষমা করে দাও, বাবাই ভুল করে ফেলেছি প্লিজ মাফ করে দাও।
আহিলের বাবা অরিনের বাবার কাঁধে হাত রেখে বলে,

বাবাঃ ওরা নাহয় ভুল করে ফেলছে এখন আমরা বড়রা যদি রাগ করে বসে থাকি তাহলে কি হবে বল?
আহিলের বাবার কথা শুনে অরিনের বাবার চোখ ছলছল করে ওঠে। তায়িফ এসে অরিনের মাথায় হাত রাখে। অরিন তায়িফকে জড়িয়ে ধরে সাথে তায়িফও। অরিন কাঁদতে কাঁদতে বলে,
অরিনঃ ভাই আমাকে মাফ করে দাও।

তায়িফঃ আমরা তো সেই কবে তোকে মাফ করে দিয়েছি, কিন্তু তুই তো একবারও আমাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করিসনি। আমরা তো জানতামও না যে তুই কোথায় আছিস কার সাথে তোর বিয়ে হয়েছে? আমরা সব জায়গা খোঁজ করেও তোর সাথে কারো সম্পর্ক ছিলো কি না জানতে পারিনি। সবাই এক কথায় বলেছে তোর সাথে কারও সম্পর্ক ছিলো না।

ফারিন এসে অরিনের কাঁধে হাত রেখে বলে,
ফারিনঃ আমার ননদিনী আমার ভাইর সাথে আছে তা জানলে তো আমি নিয়ে আসতাম দুজনকে।
অরিনের বাবা অরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,
বাবাইঃ কান্না করবে ভালো কথা ভেতরে চলো তারপর ধীরে সুস্থে কান্না করবে।

সবাই ভেতরে চলে যায়। আহিলও ভেতরে যায়। সবাই আজ অনেক খুশি। অরিনের বাবা অরিন আর আহিলকে মাফ করে দিয়েছে। সবাই কথা বার্তা পাকা করে নেয়। আগামীকাল ধুমধাম করে আহিল আর অরিনের বিয়ে। আহিল তার বাবা মায়ের সাথে বাসায় যায়। অরিনকে সবাই রেখে দেয়।

সারাদিন আহিলকে ছাড়া অরিনের মন খুব ছটফট করে। ফারিন অরিনের সাথে আহিলের কথা বলতে দেয় না কারণ কাল তাদের বিয়ে। অবশেষে এলো সেই প্রহর।
অরিন আজ আবারও বধূ সাজে সেজেছে কিন্তু আগের বারের মতো নয় এবার সে নিজ ইচ্ছেতে সেজেছে। অরিন নীল রং আর গোল্ডেন কালারের স্বর্ণকাতাণ শাড়ি পড়েছে সেই সাথে গোল্ডের গহনা। অরিনকে আজ দারুন লাগছে। আহিল নীল রঙের শেরওয়ানি পড়েছে। দুজনকে যেনো একে অপরের জন্য আল্লাহ বানিয়েছেন।
সাজিদ আর রিম্পিও এসেছে। দুজনের মধ্যে বেশ ভাব জমে উঠেছে। অরিনের পাশে রিম্পি বসে আছে, সাজিদ এসে অরিনের পাশে বসে বলে,

সাজিদঃ শেষমেশ মাফিয়া হরিণ আমার ভাবি হলো?
অরিনঃ এই কি বললে?
সাজিদঃ বললাম রাফিয়া অরিন আমার ভাবি হচ্ছে।

অরিনঃ তাই না, এই রিম্পি তোর ইয়ে কিন্তু মার খাবে আমার,
রিম্পিঃ আমার ইয়ে মানে তোর দেবর!
অরিনঃ খুব শীঘ্রই যে তুই আমার দেবরের হবি!
সাজিদঃ মাফিয়া হরিণ ভাবি ভালো হচ্ছে না।

অরিনঃ দেখ দেখ কীভাবে লজ্জা পাচ্ছে!
তিনজন হেসে ওঠে। ধীরে ধীরে বিয়ের কার্যক্রম শেষ হলো। অরিন বাসর ঘরে বসে আছে। অনেকক্ষণ পরে আহিল রুমে আসলো। অরিন লজ্জায় লাল হয়ে গেছে। আহিল অরিনের পাশে বসে বলে,
আহিলঃ আমি পৃথিবীর একমাত্র লোক যেকিনা একজনকে দুই বার বিয়ে করেছি আর বাসরও দুই বার করবো।

আহিলের কথা শুনে অরিন লজ্জায় শেষ। আহিল অরিনের মুখের ওপর থেকে ঘোমটা সরিয়ে দিয়ে অরিনের দিকে তাকায়, অরিন নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। আহিল অরিনকে বলে,
আহিলঃ সেদিন তোমাকে জোর করে বিয়ে না করলে আজ হয়তো তোমাকে পেতাম না। ভালোবাসি অনেক ভালোবাসি।
অরিনঃ ভালোবাসি অনেক বেশি।
আহিল অরিনকে জড়িয়ে ধরে। আজ আহিলের ডাকে সাড়া দিচ্ছে অরিন। এভাবেই ভালোবাসা পূর্ণতা পায়। শুরু হলো আহিল অরিনের নতুন জীবন।

লেখা – রাফিয়া অরিন

সমাপ্ত

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “নতুন করে ভালোবাসার গল্প” টি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ুন – অন্যরকম তুমি – নতুন ভালোবাসার গল্প (১ম খণ্ড)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

গল্পটি পড়তে আপনার ব্রাউজারের "Adblock" অপশনটি বন্ধ করুন।