স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক

ইসলামিক রোমান্টিক গল্প – ধার্মিক আদর্শ বউয়ের বখাটে স্বামী – পর্ব ৯

ইসলামিক রোমান্টিক গল্প ৯

ইসলামিক রোমান্টিক গল্প – ধার্মিক আদর্শ বউয়ের বখাটে স্বামী – পর্ব ৯: ব্যস্ততা ভালোবাসার মধ্যে একটা দেয়াল করে দিয়েছে স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কের মাঝে। সাইমার অভিমানী মন অনেক কিছু কথা বলতে চায়, সজীব বুঝতে পারে কিন্তু সেও বাধ্য।

রোমান্টিক ভালোবাসার ছন্দ

আশায় হাল ছেড়ে দিয়ে নিজের কাজে মনোযোগ দেয় সজীব। মাহমুদের বাসার সবাইকে দাওয়াত দেয় শনিবার রাতের ডিনারে৷ বেশ আনন্দেই কাটে রাত মাহমুদের পরিবারের সাথে কথা বলে৷ সাইমা নিজ দায়িত্বে সব কাজ করে অতিথির আপ্যায়নে৷

৬ টা মাসে দুই পরিবার একে অপরের আত্মীয় হয়ে উঠে। সজীব ততদিনে রোশনির আশা ছেড়ে দিয়েছে। সাইমার সাথে আনন্দেই দিন পার করছিলো। এদিকে মাহমুদের বোন মনিকার বিয়ে ঠিক হয়। সেখানে সজীব সাইমার দাওয়াত পড়ে। কাজের অজুহাতে সজীব না যেতে চাইলেও সাইমা সজীব কে বলল,

সাইমাঃ উনারা এতো আশা করে ডেকে গেল, আর তুমি যাবেনা?

সজীবঃ না গিয়ে আর উপায় আছে। তোমার বোনের বিয়ে বলে কথা! (সজীব হেসে হেসে বলে কথাটা)

সাইমাঃ ওমা! ও আমার বোন হলো কিভাবে?

সজীবঃ এতদিনে যে ভাব করে ফেলেছো, বোন তো বলতেই পারি৷

সাইমাঃ তা ঠিক বলেছো, ও তোমার বন্ধুর সৎ বোন হলেও অনেক মিশুক একটা মেয়ে। এ কয় মাসে অনেক গল্প করেছে সে। ওর বিয়েতে না গেলেও নয়৷ খুব রাগ করবে মেয়েটা৷

সজীবঃ আচ্ছা, আমি ভিনদেশি বন্ধু বানিয়ে ফেললাম, অথচ তুমি বানালে না যে!

সাইমাঃ কেন? মনিকা কম কিসে?

দুজনেই কিছুক্ষণ হাসে। নেক্সট সানডে হটাৎ করেই বিয়ে টা ঠিক করেছে মাহমুদ। সাইমা বরাবরের মতো নিজেকে লং ড্রেসের সাথে হিজাবে আবৃত করে । তবুও এই ড্রেস টা একটু বেশীই গর্জিয়াস ছিলো। সোনালী পাথরে আবৃত পেস্ট রঙের ড্রেস। সজীব নিজেই পছন্দ করে এনে দিয়েছিল কিন্তু সাইমার পড়া হয়নি অকেশক পায়নি তাই।

এইবার সজীবের ইচ্ছেতেই সেজেছে সাইমা। ওড়না টা ভালভাবে নিলেও মাথায় হিজাব পড়ে একদম নরমাল ভাবে। দুই হাতে দুইটা পাথরের চুড়ি পরে নেয়। একটা আংটি পড়ে রিং ফিংগারে। অতি সিম্পল সাজ হলেও সাইমার সৌন্দর্যের কারণে অসম্ভব সুন্দরী লাগছিলো ওকে। সজীব শুধু একবার ওর দিকে তাকিয়ে বললো,

সজীবঃ সৌন্দর্য তোমার করে মোরে বিমোহিত।

চোখ ধাঁধানো রূপ করে ঘর আলোকিত।

যত দেখি এ হৃদয় হয় তত পুলকিত।

হৃদয় তোমার চাহনিতে হয় কম্পিত ।

সাইমা মৃদু হেসে সজীবের চুল গুলোতে হাত বুলিয়ে দেয়। তারপর বলে,

সাইমাঃ নীল শেরওয়ানিতে তুমিও কিন্তু জোশ। আমার হৃদয়ের রাজা তুমি, যত পারো করো বাস৷ এখন তাড়াতাড়ি চলো।

দুজনেই হেসে রওনা দেয়।

ধর্মীয় মানসিকতা

সন্ধ্যার সময় সজীব সাইমা ক্লাবে যেতে না যেতেই সজীবের গায়ে বিয়ার ফেলে দেয়। সাথে সাথে মেয়েটা সরি বলে ক্ষমা চায়, কিন্তু সজীব বিরক্তি নিয়ে তাকিয়ে মেজাজ চরম খারাপ হয়ে যায়৷

একটা পিচ্চি মেয়ে কিনা বিয়ার খাচ্ছে, তাও আবার অন্যের ড্রেস নষ্ট করে।

মেয়েটা কয়েকবার সজীবের কাছে ক্ষমা চাইলে সজীব পাত্তা না দিয়ে সাইমা কে বলল,

সজীবঃ আজ চলো ফিরে যাই, মুড টাই নষ্ট করে দিয়েছে এখানে।

সাইমাঃ এতো মাথা গরম না করে ওয়াশরুমে যাও, ড্রেস টা পানি দিয়ে ধুয়ে নাও। এরপর ফিরে যেও। এভাবে কিভাবে যাবে বলো?

সজীব ওয়াশরুমে যাওয়ার জন্য ঘুরলে একটা মেয়ে এসে সরি বলে বললো,

মেয়েটাঃ আমার মেয়েটা না বুঝে ভুল করে ফেলেছে, ওকে মাফ করবেন প্লিজ।

সজীব বিরক্তি নিয়ে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে বললো,

সজীবঃ যেমন মায়ের চরিত্র, তেমন মেয়ে।

মেয়েটাঃ দেখুন, আমার চরিত্র নিয়ে বাজে কথা বললেও আমার মেয়ে কে নিয়ে বাজে কথা বলবেন না।

সজীবঃ একটা মদখোর মেয়ে আবার কতটা ভালো?

মেয়েটাঃ বিয়ার খাওয়া খারাপ নাকি? আনস্মার্ট কোথাকার। (মুখ বাঁকিয়ে বললো মেয়েটা)

সজীবঃ আমি আনস্মার্ট হতে পারি ক্যারেকটার লেশ না! (সজীবের কণ্ঠে তীব্র ঝাঁজ)

চারিদিকে অনেকেই দেখছে। ঝগড়ার জন্য কেউ মজা নেয় কেউ না বুঝে হা হয়ে তাকিয়ে আছে।

সাইমা কিছু বুঝতে না পেরে সজীবের হাত টা শক্ত করে ধরে ইশারা করে চুপে যাওয়ার জন্য। ততক্ষণে মেয়েটা সাইমা কে উদ্দেশ্য করে সজীব কে বললো,

মেয়েটাঃ বউ টাও দেখি আনসোস্যাল। তার আবার দেমাগ। হুহহহ বউ নাকি আবার রক্ষিতা!

সজীবঃ আমার বিয়ে করা বউ কে না জেনে বাজে ভাষা দিলে সেটা তোমার ক্যারেকটার এর সাথে বেশ মানায়।

সাইমার মেজাজ খুব খারাপ হয়ে গেলো। সজীব সাথে সাথে বেরিয়ে যায় সাইমার হাত ধরে।

প্রাক্তন প্রেমিকার আগমন

বাসায় এসে সজীব খুব অস্থিরতায় ভুগতে থাকে। সাইমা তখন সজীবের ঘাড়ে হাত দিয়ে বললো,

সাইমাঃ ওই মেয়েটাই কি রোশনি?

সজীবঃ হুম। সজীব ভাবলেশহীন উত্তর দেয়।

সাইমাঃ ভেবেছিলাম অনেক সুন্দর মেয়েটা। কিন্তু না! চরিত্র ও ভালো মনে হল না৷

সজীবঃ সুন্দর ধুয়ে কি পানি খাবে? ওর ক্যারেকটার এতই খারাপ যে ও কতো পুরুষের বেড শেয়ার করেছে সেইই জানে।

সাইমাঃ কি বলছো তুমি এসব? একটা কথা জানতে চাই সজীব৷

সজীবঃ বলে ফেলো।

সাইমাঃ তুমি কেনো অষ্ট্রেলিয়া ছেড়ে চলে গিয়েছিলে?

সজীব কথাটার কোন গুরুত্ব দেয় না। এড়িয়ে গিয়ে বলল,

সজীবঃ মাহমুদ কে ফোন দিতে হবে৷ এটা বলে ফোন হাতে নিয়ে মাহমুদের নাম্বার খুঁজে বের করে।

সাইমা তখন সজীবের মুখ টা দুই হাত দিয়ে চেপে ধরে নিজের কাছে টেনে বললো,

সাইমাঃ এতটা সময় একসাথে আছি, কখনো জানতে চাইনি। কিন্তু আজ জানতে চাই, কি হয়েছিলো সেদিন? কি করেছিলো রোশনি?

সজীবঃ তুমি কি ঈর্ষান্বিত? ভয় পাও রোশনি কে নিয়ে?

সাইমাঃ আমি তোমাকে বিশ্বাস করি, সেজন্যই ওকে নিয়ে ভয় পাইনা। কিন্তু ঘৃণা লাগে খুব।

সজীবঃ জ্ঞান যত ফিকে হয় ভুল তত বেশি হয় আমিও ভুল করেছিলাম।

সাইমাঃ কি ভুল?

সজীবঃ রোশনি কে কখনো ভালোবাসিনি, একটা ভ্রমে ছিলাম। কিন্তু আমি তখনই বুঝতে পেরেছিলাম রোশনি ভালো মেয়ে না। ও আমার সাথে ক্লোজ হয় প্রথমে, এরপর আমাকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করেছিলো। চলবে…

পরের পর্ব- ইসলামিক রোমান্টিক গল্প – ধার্মিক আদর্শ বউয়ের বখাটে স্বামী – শেষ পর্ব

সকল গল্পের ধারাবাহিক সব পর্ব এখানে গিয়ে খুঁজুন – ধারাবাহিক পর্বের গল্প

Related posts

ইসলামিক রোমান্টিক গল্প – ধার্মিক আদর্শ বউয়ের বখাটে স্বামী – পর্ব ৮

valobasargolpo

ইসলামিক রোমান্টিক গল্প – ধার্মিক আদর্শ বউয়ের বখাটে স্বামী – পর্ব ২

valobasargolpo

Leave a Comment

error: Content is protected !!