সাইকো থ্রিলার গল্প

মিষ্টার ইনোসেন্ট ডেভিল – সাইকো প্রেমের গল্প

মিষ্টার ইনোসেন্ট ডেভিল – সাইকো প্রেমের গল্প: ফারিয়া আমার কথা শুনে রেগে যায়। আর সে আমার কাছে এসেই ৪ ঠোট একসাথে মিলালো। কিছুক্ষন পরেই আমাকে ছেড়ে দেয় আর আমার উপর ঝাপিয়ে পড়ে। আমারো কিছুই করার নেই।


পর্ব ১

কলেজে আমি নতুন শুধু কলেজেই নয় শহরেও আমি নতুন। আব্বু ট্রান্সফার হয়ে ঢাকায় আসলো। আসলে সরকারী কর্মকতা তাই তাদের অনেক সময় বিভিন্ন যায়গায় ট্রান্সফার হতে হয়। আর আমারো ইচ্ছা নতুন নতুন জায়গা ঘুড়ে বেড়াতে আর অনেক ইচ্ছাও ছিলো ঢাকা শহরে আসার। যাক আল্লাহ আমার ইচ্ছাটা পূরন করলো। আমি কলেজের দিকে হাটতে লাগলাম। হাটতে হাটতে নিজের আমার পরিচয়টা দিয়ে দি।

বরাবরের মতো আমি ওবায়দুর রহমান অন্তর। অনার্স ২য় বৎসে পড়ি। কিন্তু এখন ঢাকা শহরে পড়তে হবে তার কারণ তো আপনারা জানেনই। পরিবারের একমাত্র আদরের ছেলে। আমি আম্মু আব্বু মিলেই আমাদের পরিবার। বাকি কাহিনি গল্পে জানতে পারবেন।

আমি কালকেই এই কলেজে admission নিলাম। আর আজকে আমার প্রথমদিন এই কলেজে জানি না এই কলেজের মানুষ কেমন হবে। শুধু কলেজ নয় এই শহরের মানুষ কেমন হবে তা আমার অজানা। তবুও বুকে বল নিয়ে ক্যাম্পাসে হেটে গেলাম।
এই চস্মাউদ্দিন!

কে যেন আমাকে চস্মাউদ্দিন বলে ডাকদিলো। আসলে আমি একটা চশ্মা পড়ে আছি যার কোনো পাওয়ারই নাই। বলতে পারেন সো অফ এর জন্য কিন্তু আমি পড়লাম ভদ্র থাকার জন্য।
এই চশ্মিস চোখের সাথে কি কানেও কম শুনিস নাকি! (একটা ছেলে)
আমিঃ জি ভাইয়া বলুন! আমাকে কেন ডাকলেন?
ছেলেটাঃ দেখে তো ভদ্র ঘরের ছেলেই মনে হচ্ছে।

আমিঃ থ্যাং ইউ ভাইয়া।
সেখানে শুধু ছেলেটাই না সেখানে দুজন মেয়ে আর ৩টা ছেলে উপস্থিত আছে। তবে মেয়ে গুলো সার্ট পেন্ট পড়া যা দেখে আমার কেমন জানি লাগতেছে।

ছেলেটাঃ এই তোর নাম কিরে? কলেজে তো নতুন মনে হচ্ছে?
আমিঃ জি আমার নাম মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান অন্তর। আর আমি আজই কলেজে আসলাম।
সেখান থেকে মেয়ে একটা বলে।

মেয়েঃ ফাষ্ট ইয়ার মনে হচ্ছে?
আমিঃ না আপু সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি। আসলে আমার আব্বু এই শহরে ট্রাস্ফার হইছে আর আমারো ইচ্ছাছিলো ঢাকা শহরে আসার।

আরেকটা মেয়েঃ বাবা দেখতে তো অনেক innocent মনে হচ্ছে! আর ভালোই তুই আমাদের সাথে পড়িস। আচ্ছা মুরগী হতে পারিস!

আমিঃ সরি!
একটা ছেলেঃ এতো নেকা না সেজে মুরগী হ তো!

আমিঃ হা হা হা ছেলে কোনো দিনো মুরগী হয় নাকি। ছেলেরা মোরগ হয় মুরগী না। আর আমাকে আপনারা মনে হয় র‍্যাগ দিচ্ছেন?
মেয়েঃ হুম দিচ্ছি। আসলে নতুনদের এভাবেই আমরা সাগতম জানাই। তো কথা বলিস না নাহলে কিন্তু……..

আমাকে কিছু বলতে যাবে তখন গাড়ির হর্ন শুনা যায় আর খেয়াল করলাম সেই হর্নের আওয়াজ সুনে সবাই কেমন যেন চুপসে গেলো! আমি দেখলাম আমার পিছন বরাবর একটা কালো গাড়ি ক্যাম্পাসে দাড়ালো। আর দেখলাম সবাই নিস্তব্দ হয়ে গেলো তাদের মুখে কোনো কথা নেই।

দেখলাম সেই গাড়ি থেকে দুজন কালো পোশাক পড়া গার্ড বের হলো। আর সেখান থেকে একজন গাড়ির দরজা খুলে দিলো। সেখান দিয়ে একটা মেয়ে বের হলো যা দেখতে অপরূপ সুন্দরী কিন্তু সেই মেয়েটাকে দেখে সকলের চোখে ভয় দেখলাম।

এবার প্রশ্ন হলো কে এই মেয়ে? কেন সবাই এই মেয়েটাকে দেখে ভয় পেয়ে গেলো আর একদম নিস্তব্দ হয়ে গেলো। জেন মনে হচ্ছে কারো জন্য শোক দিবস পালন করতেছে।
এই সুযোগে আমিও সেখান থেকে কেটে পড়ি।
কিছু দূরে যেতেই দিলাম দোড়।

পরে নাহলে মেয়েটার সম্পকে জেনে নিবো কিন্তু সেখানে থাকলে আমাকে র‍্যাগ এর শিকার হতে হবে।
আমিও ক্যাম্পাসের অন্যদিকে চলে যাই। সেখানে একটা বটগাছ আছে যা সিমেন্ট দিয়ে ভরাট করে রাখা যেটাতে মানুষ বসতেও পারবে। আমিও সেখানে বসে পড়ি। দোড়ানোর কারণে আমি একটু হাপিয়ে যাই।

এই যে মিষ্টার (মেয়েলি কন্ঠে)

আমি তাকিয়ে দেখি একটা মেয়ে আমার দিকে পানির বোতল এগিয়ে দিলো। আমি হা করে আছি।
মেয়েটাঃ কি হলো নিন। দেখে তো মনে হচ্ছে অনেক তৃষ্ণার্ত নিন পানি খান।
আমিঃ Thank U

তারপর পানির বোতল্টা নিয়ে পানি খেলাম। তারপর মেয়েটাকে পানির বোতল্টা দিয়ে দিলাম।
মেয়েটাঃ আপনার ভাগ্য একদিক দিয়ে ভালো একদিক দিয়ে খারাপ!
আমিঃ মানে?

মেয়েটাঃ মানে আপনি অল্পের জন্য র‍্যাগ এ শিকার থেকে বেচে গেলেন কিন্তু এখন থেকে আপনাকেও অন্যদের মতো চুপচাপ থাকতে হবে!
আমিঃ কেন। এখানে কি কথা বলা নিষেধ নাকি?
মেয়েটাঃ না তবে এই মাত্র একটা মেয়েকে দেখলেন না! সেই মেয়েটার সামনে তো দূরে থাক তার উপর যদি কারো ছায়াও পড়ে না তাহলে সেই মেয়েটা ঐ মানুষটা অবস্থা খারাপ করেই ছাড়ে। বলতে গেলে আধমরা করেই ছাড়ে!
আমি মেয়েটার কথা শুনে কিছুটা অবাক হলাম।
আমিঃ কেন। এই কলেজ তার নাকি?

মেয়েটাঃ বলতেই পারেন আসলে আপনি জানেন না ঐমেয়েটা কে? আপনাকে তো দেখে নতুনই মনে হচ্ছে!

আমিঃ হ্যা আমি নতুন(তারপর আমি সব বললাম। )
মেয়েটাঃ আপনি অন্য কলেজে গেলেই ভালো হতো কারণ এখন এই কলেজে কেউ থাকতে চায় না।
আমিঃ কেন! এখানে কি হইছে?

মেয়েটাঃ সবই ঐ মেয়েটার জন্য। কেউ কোনো মজা করে বেড়াতে পারে না। সবাইকে সাবধানে চলাফেরা করতে হয়। আর আমাদের সকলকেই সেই মেয়েটার কথা মতো চলতে হয় এবং কি লেকচারাররা ও প্রিন্সিপাল স্যারও।

আমিঃ কেন মেয়েটা ভুত না ভাল্লুক?
মেয়েটাঃ মেয়েটা ভুত ভাল্লুক বললে ভুল হবে। বলতে গেলে মেয়েটা একটা লেডি মাফিয়া! তার কথা মতোই পুরা ক্যাম্পাস চলে। আর তার এই শক্তি আসে তার বড় ভাই লিটন থেকে। যে আমাদের ঢাকা শহরের একজন বিজন্যাস ম্যান হলেও unofficially একজন নাম করা মাফিয়া। যে পূরা ঢাকা শহরে রাজ্যত্ব করে বেড়ায়। আর লিটন ভাইয়ের একমাত্র বোন হওয়ার কারণে সেও তাকে ফ্রিডম দিয়ে দিছে। যার ফল আমাদের ভোগ করতে হচ্ছে।

আমি এই লিটন ভাই এর কথা এখানে আসার আগেও শুনলাম। মনে করছিলাম সামান্য একজন গুন্ডা হবে তবে ঢাকা শহরের মাফিয়া কিং হবে তা জানতান না। এখন তো গেলো থুক্কু গেলাম “মনে মনে”

আমিঃ ভাইরে ভাই আসলেই কুফা ধরছে কেন যে এই কলেজে আসলাম ধুর এখন কি হবে!
মেয়েটাঃ হুম। থাক আপনি একটু সাবধানে চলা ফেলা করলেই হবে! bye The Way আমি অভনি সরকার। আর তুমি?
আমিঃ আমি ওবায়দুর রহমান অন্তর।

অভনিঃ বাহ নামটা তো সুন্দর। তোমাকে দেখেই আমার ভদ্র মনে হলো আর নামটাও ভদ্রদের মতোই। আর আমিও তোমার সাথেই পড়ি মানে তোমার ক্লাস মেট আমি।
আমিঃ যাক ভালোই হলো। এখন আর আসুবিধা হবে না ক্লাস খুজতে! আচ্ছা ঐ লেডি মাফিয়ার নাম কি?

অভনিঃ তার নাম ফারিয়া বিন্তে আফরোজ। তবে তাকে সবাই ফারিয়া মেডাম বলেই ডাকে। আর আমাকে আপনি আপনি বলিও না। আমি যেহুতু তোমার ক্লাস মেট তাই তুমি করে বলিও। আর যতো পারবা ফারিয়া থেকে দূরে থেকো। মেয়েটা অনেক মারাত্মক লেভেলের জিনিস। যদি কেউ তার সাথে জাষ্ট ক থেকে খ করে তাহলেই সেই ব্যক্তি শেষ। একত ফারিয়া নিজের হাতে সেই ব্যক্তির অবস্থা টাইট করবে নাহলে গার্ড দিয়ে এমন মার খাওয়াবে একত কয়েক মাস বেডে থাকতে হবে নাহলে পঙ্গু হয়েই বাকি জীবন কাটাতে হবে।
আমিঃ thanks For advice।

অভনিঃ আচ্ছা আমরা কি বন্ধু হতে পারি?
আমিঃ হুম কেন হয়?
তারপর অভনির সাথে ফ্রেন্ডসিপ করে নিলাম। কিন্তু অভনির মুখে যা শুনলাম তাতে আমার একটু মাথাটা গরম হয়ে যেতে লাগলো। তবুও নিজেকে কন্ট্রোল করে নিলাম।

আমি আর অভনি ক্লাসের দিকে গেলাম। সেখানে অভনি তার কিছু ফ্রেন্ডদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো। তারপর আমিও একটা সিটে গিয়ে বসি।
কিছুক্ষন পরেই লেকচারার স্যার আসে আর সবাইকে Good morning Wish করে।

লেকচারার স্যারঃ তোমাদের মধ্যে একজন নতুন স্টুডেন্ট আসার কথা সে কি আসছে?
আমিঃ জি স্যার। আমি আসছি।
লেকচারার স্যারঃ সবাইকে তোমার পরিচয় দাও।
আমিঃ আমার নাম মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান অন্তর আর আমি আজ থেকে আপনাদের সাথ এই কলেজে পড়বো আর আপনাদের সাথেই অনার্স কমপ্লিট করবো।

স্যারঃ সবাই অন্তর এর সাথে বন্ধুত্ব সরূপ আচরন করবা। আর তার যদি কোনো অসুবিধা হয় তার সমস্যা দূর করার চেষ্টা করবা।
তারপর স্যার ক্লাস করাতে শুরু করে।

৫ মিনিট পরেই দেখলাম ফারিয়া আমাদের ক্লাসে আসে। তাকে দেখে সবাই দাঁড়িয়ে যায়। যা দেখে আমি অবাক না হয়ে পারলাম না।
অভনিঃ অন্তর দাড়া নাহলে কপালে দুঃখ আছে! (আস্তে করে বলে)
আমিও অভনির কথা সুনে দাঁড়িয়ে গেলাম। কিন্তু এই জিনিসটা দেখেই মেঝাজ খারাপ হয়ে গেলো আর সবচেয়ে কষ্ট লাগলো স্যার পর্যন্ত তার জন্য দাঁড়িয়ে যায়। আর ফারিয়া স্যার এর পারমিশন ছাড়াই ক্লাসে ডুকে। সে সিটে বসতেই সকলে সিটে বসে পড়ে।

খেয়াল করলাম ফারিয়া আমার দিকে রাগি চোখে তাকিয়ে আছে। কিন্তু কেন তা আমি জানি না। তবে আমার ভিতরে অন্যকিছুই চলতেছে। পাওয়ার পাইছে ভালো কথা কিন্তু তার অপব্যবহার করতে এটা কোনো কথা! তবুও বাদ দিলাম। কারণ আমি নতুন সো এখন কোনো ঝামেলায় জড়াতে চাচ্ছি না।
আমি ক্লাস করতে লাগি। কিন্তু ক্লাসে তেমন মজা বা হইহুল্লা হয়না। সবাই একদম চুপসে আছে! মনে হচ্ছে কে মরে গেছে আর আমরা এখানে শোক দিবস পালন করতেছি। পূরাই বোরিং ক্লাস হলো।

ক্লাস শেষ করলাম।
আমি ক্লাস থেকে বেরিয়ে যেতেই কেউ একজন আমাকে ধরে ফেলে। পরে দেখি অভনি।
অভনিঃ কোথায় যাস?
আমিঃ এমনেই একটু ঘুরবো আর কি।
অভনিঃ চল আমাদের সাথে আড্ডা দিবি।
আমিঃ না আমার থেকে uneasy লাগতেছে।
অভনিঃ আরে চলতো

বলেই আমাকে টানতে টানতে নিয়ে গেলো তাদের আড্ডায়। আসলে তাদের সাথে আড্ডা দিয়ে ভালোই লাগলো। কারণ তারা খুব ফ্রেন্ডলি বিহেব করে। আর এটাই তো প্রয়োজন।
আমরা আড্ডা দিচ্ছি এমন সময় আমার ফোন বেজে উঠে।
আমিঃ guys আমি আসতেছি তোমরা আড্ডা দাও।
আমিও চলে গেলাম এক কোনায়। সেখানে গিয়ে দেখি আমার জীগারের দোস্ত তানভির ফোন দিছে! আমিও রিসিব করি।
আমিঃ হ্যালো মামা কি অবস্থা! কেমন আছিস?

তানভিরঃ সালা একটা সপ্তাহ ধরেই কই ছিলি তুই?
আমিঃ সালা আব্বু ট্রান্সফার হইছে এখানে আমার কাজ নাই। মাল পত্র কি তুই এসে ঠিক করে দিয়ে যাবি!
তানভিরঃ ধুর বেটা তুই ছাড়া ভালো লাগে না। তুই থাকলে তো এমনেই বেটা মন চাঙ্গা হয়ে যায়। সালা না গেলে কি হইতো! আমার জন্য একটু সেক্রিফাইস করতি!

আমিঃ সালা এই সুযোগ কি হাত ছাড়া করমু না কি। তুই থাকলে তো কোনো মেয়ের সাথে কথা বলতেও ভয় লাগে! কোন জায়গায় কি বাঁশ দিয়ে বসে থাকিস! ইজ্জত তো অধেক তুই খাইছিস তাই নতুন শহরে আসলাম একটু ইজ্জত বানাতে!
তানভিরঃ মামা শুখ কিন্তু চিরস্থায়ী নয়। (মজা করে)

আমিঃ সালা এই দিকে আসবি তো একটা মাইরো মিস যাইবো না। আচ্ছা বাকিদের কি অবস্থা আর আমাদের ভাই-ব্রাদার গুলো কেমন আছে?
তানভিরঃ সব গুলোর এখন মরার মতো অবস্থা! তুই নাই তাই সব গুলোরে এতিম এতিম লাগের। মামা এটা কিন্তু ঠিক করলি না তুই!
আমিঃ যাক এই শহরে এসে নিজেকে একটু ভদ্র তো বানাতে পারলাম তোদের কাছে থেকে তো নিজেকে সেই হিট ম্যান বানাইছি।
তানভিরঃ সালা সব তুই করলি আর দোষ আমার উপর চাপাচ্ছিস (রেগে)
আহহহহহহহহহহহ(চিৎকার করে)

আমি আর তানভির ফোনে কথা বলতেছি তখনি একটা চিৎকার শুনতে পেলাম। মনে হয় কোনো ছেলে চিৎকার দিছে!
তানভিরঃ দোস্ত এটা কিসের চিৎকার ছিলো(হতাশ হয়ে)
আমিঃ আমিও তো অবাক হলাম বেটা।
তানভিরঃ মামা তুই কিছু করিস নাই তো!

আমিঃ সালা আমি তোর সাথে ফোনে কথা বলতেছি আমি কি করবো!
তানভিরঃ দেখ মামা উল্টা পাল্টা কিছু করিস না। লাস্ট টাইম কি হইছে মনে আছে তো!
আমিঃ সালা ফোন রাখ আর কি হইছে দেখতে দে। (রেগে)
তানভিরঃ দোস্ত নিজেকে শান্ত রাখিস। আর দরকার পড়লে আমি ঐদিকের আমাদের সাথে একজন আছে তাকে বলবো!
আমিঃ না কেউ কে কিছুই বলতে হবে না। আমি সামলে নিবো। এখন ফোন রাখ তো(রেগে)
তানভিরঃ ভাই Be Carefull and be Cool।

সালার আজাইরা কথা শুনার ইচ্ছা নাই। বরং কে এই চিৎকার করলো তা আমার দেখতে হবে।
আমি ফোন পকেটে ডুকিয়ে চলে গেলাম ক্যাম্পাসে। সেখানে গিয়ে দেখি অনেকেই ভিড় জমিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমিও সেখানে চলে গেলাম। তারপর যা দেখলাম তা দেখে অবাক না হয়ে পারলাম না।
কারণ ফারিয়ার দুজন বডিগার্ড একটা ছেলেকে ধরে আছে ছেলেটা অনেক রক্তাত্ত অবস্থায় দেখতেছি আর ফারিয়া দাঁড়িয়ে আছে সেই ছেলেটার দিকে তাকিয়ে হেসেই যাচ্ছে!


পর্ব ২

ফারিয়ার দুজন বডিগার্ড একটা ছেলেকে ধরে আছে ছেলেটা অনেক রক্তাত্ত অবস্থায় দেখতেছি আর ফারিয়া দাঁড়িয়ে আছে সেই ছেলেটার দিকে তাকিয়ে হেসেই যাচ্ছে।
আমি দেখলাম ফারিয়ার হাতে একটা হকিস্টিক। মনে হয় সেই স্টিক দিয়েই ছেলেটাকে মারছে।
আমি নিজেকে আর আটকে রাখতে পারলাম না। আমি যখনি সেখানে যেতে নিবো তখনি কেউ একজন আমার হাত ধরে ফেলে। আমি দেখলাম অভনি আমার হাত ধরছে!
অভনিঃ কই যাস তুই?

আমিঃ অভনি ছাড় আমাকে (রেগে)
অভনিঃ অন্তর তুই ঐখানে গেলে তোকেও মারবে! ভাই যাস না প্লিজ?
আমার মনে পড়লো আমি এখন সে নয় আমি এখন একজন সাধারন মানুষ। তবুও আমি যাবো ছেলেটাকে আর মারলে ছেলেটা মরেই যাবে।
আমিঃ অভনি ছাড় আমাকে!
এই মেয়ে ছেলেটার হাত ধরে আছিস কেন? আসতে দাও ওকে। (ফারিয়া বলে)
ফারিয়ার কথা সুনে সবাই আমার আর অভনির দিকে তাকিয়ে আছে!

অভনিঃ মেডাম ও এখানে নতুন তাই কিছুই জানে না plz ওকে ছেড়ে দেন?
ফারিয়াঃ এই মেয়ে দেখতেছিস না তার মধ্যে মানবদরদি বেড়ে গেছে! কোনো কথা বলবি না তাকে আসতে দে(মজা করে)
আমিও অভনির থেকে ঝাড়ি মেরে হাত ছাড়িয়ে নিলাম। তবে ফারিয়ার কথা সুনে সবার চোখে ভয় দেখতে পাচ্ছি আমি।
আমিও সেই ছেলেটার কাছে যাই।
ফারিয়াঃ এই তোরা এই আবালকে ছাড় আর এই বীর পূরুষকে ধর। (গার্ডকে বলে)
সাথে সাথে ফারিয়ার সেই দুই গার্ড আমাকে ধরে ফেলে।

ফারিয়াও আমার কাছে এগিয়ে আসে।
ফারিয়াঃ কিরে বীর পুরুষ। তুই আমার কাজে নাক গলালি কেন? কি মরার জন্য এতো ইচ্ছা কেন তোর? আজকে ক্লাসেও দেখলাম তুই আমি আসার পরে দাড়ালি না। না দাড়াইছিস তবে একটু দেরি করে। আর আমি লেট মানুষ একদম ঘৃনা করি। আর কি মনে করিস নিজেকে তুই? তুই জানিস আমি কে? আমার এলাকায় আসলি আবার আমার কলেজে আসলি অথচ আমাকেই সম্মান করলি না! তুই তো আস্ত একটা বেয়াদব।? (রেগে)

বলেই দিলো আমাকে ঠাসসস করে কষে একটা থাপ্পর! যা খেয়ে প্রচুর ব্যাথা পাই। কিন্তু আমাকে ফারিয়ার গার্ডরা ধরেই আছে!
ফারিয়াঃ এই ছোট লোক ক্ষ্যাত। নিজেকে হিরো মনে করিস তাই না। দেখতে তো একদম ইনোসেন্ট বাচ্চার মতো কিন্তু কলিজা মনে হয় তোর বড় তাই না।
আমিঃ আপু আপনি আমাকে মারলেন কেন? আর আপনি যে কাজ করে বেড়ান সেটা কি ঠিক?
ফারিয়াঃ এই ছোট লোকের বাচ্চা তুই আমাকে ঠিক বেঠিক শিখাবি! তোর সাহস তো কম না তুই আমার সাথে মুখে মুখে কথা বলিস। এই তোরা শুধু ধরেই রাখবি নাকি মার একে (রেগে ফারিয়া তার গার্ডদের বলে)

আমাকে যখনি মারতে যাবে তখনি কলেজে আরো একটা কালো গাড়ি আসে! যা দেখে ফারিয়ার গার্ড আমাকে মারে নি! বরং সেখানেই থেমে গেলো!
সেই গাড়ি থেকে একটা লোক বের হয়। আর সাথে সাথে ফারিয়া সেই লোকটার কাছে চলে যায়।
ফারিয়াঃ ভাইয়া
বলেই ফারিয়া লোকটাকে জড়িয়ে ধরে!
তারমানে এই লোকটাই লিটন ভাই।

ফারিয়াঃ ভাইয়া এই ছেলেটা আমার মুখে মুখে তর্ক করছে! ভাইয়া একে শাস্তি দাও। (আমাকে দেখিয়ে)
লিটন ভাইঃ এই ছেলে নাম কি তোর? তোকে তো এখানে আগে কখনো দেখি নাই। (উচ্চ স্বরে)
ফারিয়াঃ ভাইয়া এই ক্ষ্যাতটা নতুন আসছে আমাদের কলেজে! কেন যে প্রিন্সিপাল এদের মতো ক্ষ্যাত গুলোকে আমাদের কলেজে নেয়! (ঘৃনার ভান করে)
লিটন ভাইঃ থাক বোন যেহুতু সে নতুন তাই সে কিছুই জানে না। তাকে মাফ করে দে। আর চল আমার সাথে তোর জন্য সার্প্রাইজ আছে!
ফারিয়াঃ এই তোরা এই ক্ষ্যাতটাকে ছেড়ে গাড়ি নিয়ে চলে আসিস আমি ভাইয়ার সাথে গেলাম।

বলেই সে লিটন ভাইয়ের সাথে তার গাড়িতে উঠে চলে যেতে লাগে। আর ফারিয়ার গার্ডগুলো আমাকে ছেড়ে দিয়ে তারাও গাড়ি নিয়ে চলে যায়।
আমাকে ছাড়তেই অভনি আমার কাছে দোড়ে আসে।
আভনি : তোকে মানা করছিলাম না! তাহলে কথা শুনিস নাই কেন? (রেগে)
আমিঃ আমাকে পরে বকিস আগে এই ভাইয়াটাকে হস্পিটালে নিয়ে যাই।
তারপর সেখান থেকে ছেলেটাকে নিয়ে আমরা কয়েকজন হস্পিটালে যাই। সেখানে সেই ছেলেটার ট্রিটমেন্ট করাই।
আভনি : এই অন্তর! তোর তো ঠোট ফেটে গেছে! কেন তুই এই জামেলায় জড়াতে গেলি? মানা করছিলাম না তোকে!
আমিঃ আরে বাদ দে।

সেখানে কয়েকটা ছেলের সাথে কথা বলি তারা নাকি যে ছেলেটাকে ফারিয়া মারছে তার বাড়ি চিনে তাই দায়িত্ব দিলাম। ছেলেটাকে বাড়ি নিয়ে যেতে আর আমিও সবার থেকে বিদাই নিয়ে বাড়ি চলে গেলাম।
বাড়িতে ডুকতেই আম্মুর সাথে দেখা।
আম্মুঃ কিরে আসছিস যা ফ্রেস হয়ে নে। আমি খাবার দিচ্ছি।

আমিও আমার রুমে গিয়ে ফ্রেস হয়ে নি। তারপর নিচে এসেই ডাইনিং টেবিলে বসে পড়ি।
আজকে ঘটনাটা আমি বসে বসে চিন্তা করতে লাগলাম। পাওয়ার পেয়ে কিভাবে তা অপব্যবহার করতেছে তারা। না এর কয়েকদিন এদের তামাশা দেখবো পরে কিছু করবো আমি। শুধু কয়েক দিন যাক “মনে মনে”
আম্মুঃ কিরে কিভাবছিস তুই?

আমিঃ কই কিছুই না। খাবার দাও ক্ষিদা লাগছে!
আম্মুঃ হুম নে।
তারপর খাবার দিলো। আর আমিও খেতে লাগি।
আম্মুঃ কিরে তোর ঠোটে কি হইছে? (অবাক হয়ে)
আমিঃ আরে কিছুই হয় নাই। একটু পড়ে গেছিলাম তাতেই ঠোট ফেটে গেছে। বাদ দাও তো!
তারপর খাবার খেয়ে নিলাম।

সেই দিনটা আমি সুন্দর মতোই কাটালাম।
সকাল বেলা
অন্তর! এই অন্তর! কিরে কলেজে যাবি না? (আব্বু)
আমিঃ এম্ম। যাবো একটু ঘুমাই পরে যাবো!
আব্বুঃ ঐ উঠ তারাতারি!

আমিঃ আব্বু আজকে তুমি ডাকলা কেন? আম্মু কই?
আব্বুঃ তোর আম্মু নাস্তা বানাতে ব্যস্থ আর আমাকে বলছে তোকে ডাকতে! আর এমনেও কথা আছে তোর সাথে! তাই তারাতারি ফ্রেস হয়ে নে আমি গেলাম! ডাইনিং টেবিলে কথা হবে! বলেই আব্বু চলে গেলো।

আমিও উঠে চলে যাই ফ্রেস হতে! ফ্রেস হয়ে এসে নিজেকে আয়নার সামনে দেখতে লাগলাম।
আমি যখন নিজেকে দেখি তখন আমি অন্য কেউকেই অনুভব করি। এমন একজন যে চাইলে অনেক কিছুই করতে পারবে যার পথে কেউ বাধা হতে পারবে না। কিন্তু আমি মানুষের উপর শাষন করতে চাই না। আমি মানুষের মন ভালোবাসা দিয়ে জয় করতে চাই।
আমি আমার চুল গুলো একটু আচড়ে নিলাম। আর চুল গুলো শুইয়ে দিলাম। আমি চাই নিজেকে সবার সামনে একজন Innocent ছেলে হিসেবে প্রকাশ করতে ঐ জিনিসটা হিসেবে নয় যেটা আমি আসলেই!

আমি আমার চশ্মাটা পড়ে নিলাম। তারপর চলে গেলাম নাস্তা করতে! সেখানে গিয়ে আমি টেবিলে বসলাম আর আব্বু আগের থেকেই সেখানে বসে আছে! তবে আব্বুকে দেখে একটু চিন্তিত মনে হচ্ছে।
আমিঃ আব্বু আমাকে কি বলতে চাইছিলা?
আব্বুঃ বাবারে আমি অনেক বড় এক ভুল করে ফেলছি তোকে আর তোর আম্মুকে এখানে এনে!
আমিঃ কেন আব্বু কি হইলো আবার?
আব্বুঃ বাবারে আমি মনে করছিলাম এই শহরটা শান্তশিষ্ট শহর হবে কিন্তু তোদের তো আমি গুন্ডা মাস্তানদের এলাকায় নিয়ে আসলাম। এখানে সারাক্ষন মারামারি খুন খারাবি লেগেই থাকে। এখন আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম রে বাবা!

আমিঃ আরে আব্বু চিন্তা করিও না। আমরা যদি সাবধানে চলাচল করি তাহলে আমাদের কেউ কোনো ক্ষতি করবেই না। সো এতো টেনসেন মাথায় আনিও না তো!
আম্মু নাস্তা নিয়ে আসে আর আমরাও নাস্তা করে নিলাম। তারপর আমিও আব্বু আম্মু থেকে বিদাই নিয়ে চলে গেলাম কলেজে।
আমি কলেজের প্রায় গেটের সামনে চলেই আসছি এমন সময় আমার গায়ে জুসের বোতল কে যেন ছুড়ে মারলো। সেটা সোজা আমার কাছে এসে গায়ে লাগে। মেঝাজটা ৪৪০ হয়ে গেলো।

কে আমাকে এই জুসের বোতল্টা ছূড়লো? পরে দেখি সে আর কেউ না ফারিয়া! কলেজের সামনে একটা দোকান আছে সেখান সে বসে আছে। দেখলাম ফারিয়া সার্ট পেন্ট আর সু পড়ে আছে যা আমার অতিরিক্ত জঘন্য লাগলো!
আমিও কিছুই না বলেই মাথা নিচু করে চলে যেতে লাগি। কি বা বলবো আমি! আমি তো সাধারন একটা ছেলে আর সে তো লেডি মাফিয়া!
এই চশ্মিস ক্ষ্যাত!

আমি পিছনে তাকাতেই দেখলাম ফারিয়া আমাকে ডাক দিলো! আমিও আবার হাটতে লাগলাম কারণ আমি এখন এই মেয়ের সাথে লাগতে চাই না।
হঠাৎই কেউ আমাকে ধরে ফেলে! আমি দেখলাম এটা ফারিয়ার গার্ড।
আমিঃ কি চাই ভাই?
গার্ড : তোকে ম্যাডাম ডাকছে!
আমিঃ আমাকে কে ডাকবে আবার? আর কখনি বা ডাকলো?
গার্ড : এই চুপ চাপ চল!

বলেই আমাকে টানতে টানতে নিয়ে গেলো ফারিয়ার কাছে।
ফারিয়াঃ এই ক্ষ্যাত তোকে ডাকি নাই আমি(রেগে)
আমিঃ আপনি আমাকে কোথায় ডাকলেন? আমার নামতো ক্ষ্যাত না!
ফারিয়াঃ এই শুন আমি যাকে যা ইচ্ছা তাই বলে ডাকবো আর আমার সাথে এটিটিউট দেখাচ্ছিস তাই না(রেগে)
আমিঃ কি বলেন আপু! আমি আপনার সাথে এটিটিউট দেখাবো? কোথায় আপনি আর কোথায় আমি! কোথায় বাগ আর কোথায় হরিন!
ফারিয়াঃ সেটাও ঠিক। তবে বাগ না বাগিনী হবে বুঝছিস! আর আমার জুতার লেস্টা লাগাইদে তো!
আমিঃ কি?

ফারিয়াঃ কানে শুনিস নাই নাকি! এই কলেজে সবাই আমার কথা মতোই চলে যে আমার কথা শুনে না তার কি হাল করি তা তো দেখছিসই! এখন কথা না বলে আমার সু লেসটা লাগিয়ে দে! নাকি তোকে লুজ করতে হবে(রেগে)
আমিঃ না না আপু। আমি লাগিয়ে দিচ্ছি!
তারপর আমিও বাধ্য ছেলের মতো সু-লেস লাগিয়ে দিলাম।
ফারিয়াঃ এই তো গুড বয়! এই ক্ষ্যাত তোর নামটা কি জানি!
আমিঃ জি মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান অন্তর।

ফারিয়াঃ ঠিক আছে জন্তর মন্তর এবার যা আমার চোখের সামনে থেকে!
আমিও চুপচাপ মাথা নিচু করেই চলে গেলাম কলেজে! কিন্তু মাথায় আমার রক্ত চড়ে বসে আসে কারণ মেয়েটা প্রতিনয়ত সবাইকে টচার করে বেড়ায়। না এর সমাপ্তি করতেই হবে কিন্তু এখন আমি সেই রূপ নিতে পারবো না। আমি এখানে ভদ্র হয়েই থাকতে চাই। আমাকে অন্য কোনো পথ বের করতে হবে। নাহলে এই সব আটকানো যাবে না। তারা আমাকে পাওয়ার দেখিয়ে ভয় লাগাচ্ছে তাই না! সময় হোক তাদের বাহাদুরিও বের করবো আমি। শুধু সময়ের জন্য অপেক্ষায় রইলাম আমি। তাদের আমি বুঝাই দিবো কার কাথে কি করতেছে তারা।

আমি কলেজে ডুকলাম। না এখন সবাই সাভাবিক ভাবেই আছে! সেটাই ভালো। সবার স্বাধীন ভাবে চলাফেরা করার অধিকার আছে। কিন্তু এই লিটন ও তার বোন নিজেদের রাজ্যত্ব বসাই রাখছে। কিন্তু তাদের এই রাজ্যত্ব আমিই শেষ করবো। শুধু পিন্টু একবার দেশে ফিরে আসুক তারপর দেখবো আমি!
আমি হাটতে লাগলাম। হঠাৎ আমি অভনিকে দেখলাম তাই আমিও তার কাছে চলে গেলাম
আমিঃ কিরে কি অবস্থা?
অভনিঃ এই তো ভালোই তোর কি খবর?

আমিঃ এই তো ভালোই।
আমরা কথা বলতেছে হঠাৎ কেউ একজন আমাকে পিছন থেকে আমার ঘাড় চেপে ধরে!


পর্ব ৩

আমরা কথা বলতেছে হঠাৎ কেউ একজন আমাকে পিছন থেকে আমার ঘাড় চেপে ধরে!
যে আমার ঘাড় ধরছে সে ঠিক আমার পিছন বরাবর আছে। তার হাত একটু লুজ হতেই আমি পিছনে ঘুড়েই ডাইরেক্ট গলা চেপে ধরি। আসলে আমার রাগ উঠে গেছিলো আর এমনেই ও ফারিয়ার কান্ডকালাপ দেখে মাথায় প্রায় রক্ত চড়েই আছে!
মামা কি করিস ছাড় মামা মরেই যাবো কিন্তু!

আমি তার দিকে তাকিয়ে সাথে সাথে তার গলাটা ছেড়ে দিলাম। কারণ সেটা আর কেউ না তানভির! যাকে দেখে আমি অবাক না হয়েই পারলাম না।
আমিঃ সালা তুই! তুই এখানে কি করিস? তোকে মানা করছি না এখানে আসতে না? আর মরার এতো শখ হইছে তোর? (রেগে)
তানভিরঃ সালা আমি তো ভুলেই গেছিলাম কাকে ঘাড় চেপে ধরলাম (কাশি দিয়ে)
আমিঃ সালা তুই এখানে কি করিস? (রেগে)

তানভিরঃ আসলাম আর কি খুশির ঠেলায়! কিন্তু তোর মাথা গরম হয়ে আছে কেন? কি হইছেরে দোস্ত!
আমিঃ আরে কিছু হয় নাই। কিন্তু তুই এখানে কেন?
তানভিরঃ তোকে আগেই বলছি মামা তোকে ছাড়া কিছুই ভালোলাগে না! তাই আমিও চলে আসলাম! কিন্তু তোকে দেখে প্রায় অবাক হয়েই গেলাম! এ কেমন গেটাপ মামা তোর?
পাশে অভনিছিলো সে বলে!
অভনিঃ কেমন গেটাপ মানে? এই শয়তানটা এমন না? (অবাক হয়ে)

তানভিরঃ এই মেয়ে মুখ সামলে কথা বলো? কাকে কি বলতেছো তুমি জানো? এ চাইলে এক মিনিটেই এম্মম্মম্মম
সালা কিছুই বলার আগেই আমি এই শালার মুখ চেপে ধরলাম।
অভনিঃ এই অন্তর কি বলতেছে সে? । এক মিনিটে কি? আর তুই ওর মুখ চেপে ধরলি কেন?
আমিঃ এমনেই সালা মুখ থেকে গন্ধ বের হইতেছে তুই থাক আমি এই সালার মাউত ওয়াস করাই নিয়ে আসি।
আমিঃ এই সালা চল আমার সাথে। মনে হয় দাত ব্রাস না করেই চলে আসছিস? (মুখ চেপেই টানতে টানতে নিয়ে গেলাম তানভির কে)
আমি তানভিরকে এক কোনায় নিয়ে গিয়ে মুখ ছেড়ে দিলাম।

তানভিরঃ এই সালা তুই আমাকে টেনে আনলি কেন? আর মুখ চেপে ধরলি কেন তুই?
আমিঃ সালা মুখ একটু কন্ট্রোল করতে শিখ! আর তুই এখানে কেন? সেটা বল?
তানভিরঃ আমার চট্টগ্রাম ভালোলাগে না তাই আমিও ঢাকায় চলে আসলাম!
আমিঃ তোকে মানা করলাম না আমার পিছু না নিতে!

তানভিরঃ সালা আমি না থাকলে তোকে প্রটেক্ট করবে কে? আর তাছাড়াও তুই ছাড়া বেটা কিছুই ভালোলাগে না! মামা আমরা দুজনে একত্রে থাকলেই মজা হয়!
আমিঃ কিন্তু ভাই আমি নিজেকে একটু সুধরে নিতে চাই! আমি সেই দুনিয়া থেকে একটু রেহায় চাই ভাই!
তানভিরঃ মামা আমরা সেই দুনিয়ার থেকে এতো সহজে রেহায় পাবো না। আর মামা বকবক করিস না। আর এই হাল করে রাখলি কেন সেটা বল? মানে এই গেটাপ কেন তোর?
আমিঃ এমনেই নিজেকে একটু আপাদত ভদ্র রাখতে চাই আর কি!
তানভিরঃ সালা আমরা কি ভদ্র?
আমিঃ আমি ভদ্র

তানভিরঃ হা হা হা তুই ভদ্র? ভাই জোক্সসটা অনেক মজারছিলো। যে কি না চাইলে বড় বড় মাফিয়াদের পা দিয়ে পিসে ফেলতে পারবে সে কি না ভদ্র O vai maro muje maro nehi yea majak horaha hai।
আমিঃ ভাই আল্লাহর ওয়াস্তে এখানে আমার পর্দা ফাস করিস না। আমি এখানে এখন একজন ভদ্র ছেলে তাই আমার পিছে বাঁশ দিস না।
তানভিরঃ ওকে। তুই যেভাবে খুশি থাক! মোট কথা আমি তোর সাথে থাকলেই হইছে!
আমিঃ মানে তুই আমার পিছু নেওয়া ছাড়বি না।

তানভিরঃ নারে মামা। তুমি যেখানে আমি সেখানে! দুজনে…..
আমিঃ আর গান গাইস না। এবার চল আর ভুলেও মুখ খুলবি না বুঝছোস!
তারপর তানভিরকে নিয়ে ক্যাম্পাসে গেলাম। সেখানে আমি অভনির সাথে তানভির এর পরিচয় করিয়ে দিলাম। এরপর আমরা ক্লাসের দিকে চলে গেলাম। তবে তানভিরকে আমার সাথে যেতে দেখে অবাক হলাম।
আমিঃ এই শালা তুই কই যাস?

তানভিরঃ দোস্ত আমি ক্লাস করবো না। নাকি?
আমিঃ মানে তুইও ট্রাস্ফার সাটিফিকেট নিয়ে আসছিস!
তানভিরঃ অয়ো। এবার কথা বন্ধ কর আর ক্লাসে চল।
তারপর তানভিরকে নিয়ে ক্লাসে গেলাম। সেখানে গিয়ে তো আমি আর তানভির এক সাথেই বসি।
কিছুক্ষন পরে স্যার আসে আর আমরাও তাকে সম্মানের জন্য দাড়িয়ে যাই।
তানভিরঃ মামা স্যার টাকলা! (মজা করে)

আমিঃ নারে মামা স্যার টাকলা না স্যার এর মাথায় ইয়ার পোট হা হা হা।
তারপর স্যার এসে তানভির এর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। এরপর ক্লাস করাতে থাকে। ক্লাস প্রায় আধা ঘন্টা করানো শেষ এমন সময় ফারিয়ার এন্ট্রি! ফারিয়াকে দেখে সবাই দাঁড়িয়ে যায় এবেন আমিও।
তানভিরঃ সালা দাড়ালি কেন? আর মেয়েটা লেট করে ক্লাসে আসলো তাও স্যার এর পারমিশন না নিয়ে ক্লাসে ডুকলো এটা তো বেয়াদবি!
আমিঃ তানভির দাড়া! (আস্তে করে)

তানভিরঃ না এই মাইয়াটারে আমি এখনি মাথায় তুলে আছাড় দিবো! (রেগে)
আমিঃ আমাকে রাগ কন্ট্রোল করতে বলে তুই রেগে জাচ্ছিস!
তারপর তানভির দাড়ালো তবে তার চেহারায় রাগ দেখতেছি। তানভির এমন অবস্থায় আছে মনে হয় এখনি ফারিয়ার অবস্থা কাইল করে দিবে!
দেখলাম ফারিয়া তানভিরের দিকে রেগে তাকিয়ে ছিলো। আর ক্লাস চলা অবস্থায়ও তানভিরের দিকেই তাকিয়ে ছিলো।
ক্লাশ শেষ

আমি আর তানভির বাহিরে গেলাম দেখলাম তানভিরের মাথা গরম হয়ে আছে।
আমিঃ মামা কি হইছে তোর?
তানভিরঃ এই বেয়াদব মেয়েটা কে রে? (রেগে)
আমিঃ লিটনের বোন! লিটনের দাপড দিয়ে এই সব করেই বেড়ায়।
তানভিরঃ সালার লিটন এবার তো শেষ। অন্তর তুই করবি নাকি আমি করবো?

আমিঃ Bro chill and Be cool। এখন শুধু তামাশাটা দেখেই যা পরে এই গুলোর জন্য ব্যবস্থা হবে।
তানভিরঃ No chilling Only Killing। আমার মাথা গরম হয়ে আছে এই ইদুরের বাচ্চা গুলো এই ভাবে দাপড দেখাচ্ছে তাহলে আমাদের কেমন দেখানো উচিত!
আমরা কথা বলতেছি এমন সময় ফারিয়া তার দুইটাই গার্ড নিয়ে আসলো!
ফারিয়াঃ এই ছেলে তুই আমার দিকে এইভাবে তাকাই ছিলি কেন? (রেগে)
আমিঃ না মানে আপু আপনি তো অনেক সুন্দরী তাই ভুলে তাকাই ফেলছে তার জন্য আমি সরি বলতেছি(হেসে)
ফারিয়াঃ ও তাই। তুই ওর পক্ষ থেকে সরি বলতেছিস! ওর জন্য মার খেতে পারবি! (হেসে)

আমি দেখলাম তানভির পূরাই রেগে আগুন হয়ে গেলো তাই আমিও আসতে করে সালার হাত চেপে ধরলাম। আর চোখের ইশারা দিয়ে তাকে বুঝিয়ে বললাম শান্ত হতে! কিন্তু সে আমাকে ইশারা দিয়ে তার কোমড় দেখালো! আর আমিও কোমড় দেখে সক খেয়ে গেলাম। সাথে সাথে আমি তার সার্ট ঠিক করে দিলাম।
ফারিয়াঃ এই ক্ষ্যাত তুই তো এই কলেজের নিয়ম জানিস তাহলে ওকেও একটু বুঝিয়ে দিস! নাহলে পরে পস্তাতে হবে ওকে(ধমক দিয়ে)
আমিঃ জি আপু। আপনি নিশ্চিন্তে জান আমি ওকে আপনার রুলস গুলো বুঝিয়ে দিবো। (হেসে)
ফারিয়াঃ হুম।

বলেই ফারিয়া তার গার্ড নিয়ে চলে গেলো। আর আমিও তানভিরকে এক সাইডে নিয়ে যাই।
আমিঃ সালা এটা কেন আনলি?
তানভিরঃ মামা সেইফটির জন্য! কিন্তু এই মেয়েটা তোর সাথে এমন ভাবে কথা বলল কেন?
আমিঃ আরে মামা chill করতো! আর কলেজেও কি এটা আনতে হবে নাকি!
তানভিরঃ সালা আমি তো আর তুই না যে। একটা কলমকেও হাতিয়ার বানাইফেলতে পারি!

আমিঃ তাই বলে এটা নিয়ে আসবি তুই! দেখ ভাই আমি এখন এখানে ভালো হতে আসছি! কিন্তু এখন তুই এসে আবার আমাকে সেই মানুষটা বানাইতে চাচ্ছিস!
তানভিরঃ দোস্ত এখন ভালোর যুগ নাই। এখন ভালো মানুষ পাইলে মানুষে তাকে পূরাই খেয়ে ফেলে! আর কথা রইলো তুই ভালো মানুষ। তা আমার থেকে ভালো আর কে জানে? হা হা হা!
আমিঃ ভাই এই টপিকে আর কোনো কথা বলিস না। আপাদত cool থাক আর কথা রইলো এই লিটন ও তার বোনের সেটা পিন্টু আসলেই সমাধান হবে! তাই এখন চুপচাপ সব দেখেই যা!

তানভিরঃ সালা লিটন আর তার বোন তো জানে না তারা কতো বড় বিপদ ডেকে আনছে হা হা হা!
আমিঃ হুম সেটাও ঠিক। ঐ বলে না if নিজের পিছে নিজেই বাঁশ দেওয়া Had a face হা হা হা!
তারপর আমি আর তানভির চলে গেলাম কলেজের বাহিরে!
আমি আর তানভির রাস্তায় হাটতে লাগলাম।
তানভিরঃ মামা কয়েকটা টান হবে নাকি!
আমিঃ হুম। চল আমারো ভালোলাগতেছে না।

তারপর এক কোনায় গিয়ে দুজনেই ধরিয়ে দিলাম সিগারেট। দুজনেই মজায় মজায় টানতে লাগলাম!
আমিঃ তো এখন কই থাকবি তুই?
তানভিরঃ কেন হোস্টেল আছে সেখানে থাকবো!
আমিঃ হুম কিন্তু আমাদের বাড়িতেই খাবার খাবি!

তানভিরঃ নারে ভাই। তোর বাসায় যেতে ভয় লাগে আংকেলের জন্য। যে রাগি মানুষ উনি!
আমিঃ হুম কি আর করবো বল! তবুও রাগি হলেও ভালো। সব সময় সঠিক শিক্ষাটাই দিছে সেটাই অনেক আমার জন্য। এখন চল আমরা একসাথে লাঞ্চ করবো!
তানভিরঃ না মামা পরে অন্য একদিন!
আমিঃ সালা যাবি কি না বল? (রেগে)
তানভিরঃ না না না আমি কেন আমার চোদ্দ গুষ্টিও যাইবো। তুই রাগিস না দোস্ত! (ভিত হয়ে)
আমিঃ সালা এতো ভয়ের কি আছে!

তানভিরঃ হ ভয়ের কি আছে তাই না। আমি তো দেখছি যখন তোর রাগ উঠে তুই কি করিস!
আমিঃ ধুর সালা চলতো।
তারপর তানভিরকে নিয়ে বাড়ি চলে গেলাম।
আমিঃ আম্মু দেখো তানভির হারামি আসছে!
আম্মুও এসে তানভিরকে দেখে অবাক।
আম্মুঃ তানভির কেমন আছো বাবা!

তানভিরঃ আসসালামুয়ালাইকুম আন্টি কেমন আছেন!
আম্মুঃ এই তো ভালো। আচ্ছা তোমরা ফ্রেস হয়ে আসো আমি খাবার রেডি করতেছি!
আমিঃ ওকে আম্মু।
তারপর তানভিরকে নিয়ে রুমে চলে যাই। আর ফ্রেস হয়ে আসি। এরপর আমরা ৩ জনেই খাবার খেয়ে নি! তারপর আমি আর তানভির রুমে চলে যাই। আমরা দুজনেই খাটে শুয়ে পড়ি।

তানভিরঃ অন্তর তুই ঐ শহরেও নিজেকে সকলের সামনে ভদ্র হিসেবে প্রকাশ করলি তবে সেখানে চশ্মা পড়িস নাই। আর এখানে তো তুই ভদ্র Pro Max হয়ে গেলি।
আমিঃ দেখ সালা আব্বু আম্মু আমাকে ভদ্র ছেলে বানাতে চাইছে তাই আমিও তাদের খুশির জন্য সকলের সামনে ভদ্র সেজে থাকি।

তানভিরঃ কিন্তু আংকেল আন্টি তো আর জানে না যাকে তারা ভদ্র বলে জানে সে তো আসলে একটা শয়তান। দোস্ত তুই আসলে একটা ভদ্র শয়তান যে কিনা উপরে একটা পাট দেখায় আর গোপনে এক পাট দেখায়। ঐ যেটাকে বলে উপরে ফিটফাট ভিতরে সদরঘাট। আচ্ছা তোর জিনিসটা কই?
আমিঃ আছে আর কি কোথাও! কেন?

তানভিরঃ না এমনেই! তবে মামা একটা কথা মানতে হবে। বোকা বানানো তো তোর থেকে শিখা দরকার! যেভাবে গেটাপ নিছিস না যেকেউ ধোকা খেয়েই যাবে!
আমিঃ হা হা হা। এটাই তো মজা!
এভাবেই কথা বলে আমরা দুজনে দুপুর পার করলাম।
বিকাল বেলা
তানভিরঃ মামা চল শহরটা একটু ঘুড়ে আসি।

আমিঃ হুম চল।
তারপর দুজন মিলেই বাড়িতে থেকে বেরিয়ে শহর ঘরতে ব্যস্থ হয়ে পড়লাম। আসলে নতুন শহর তাই একটু চিনে রাখাই ভালো।
সন্ধা পর্যন্ত আমরা ঘুরাঘুরি করলাম।
তানভিরঃ অন্তর চল নাস্তা করবো ক্ষিদা লাগছে!
আমিঃ হুম চল।

তারপর দুজনে নাস্তা করে নিলাম। দেখালাম ঘড়িতে ৭:০০ বাজে তাই চিন্তা করলাম আরো একটু হাটা দি। আমি আর তানভির ভালোভাবেই মজা করতে করতে হাটতে লাগলাম। আসলে এই সালার সাথে থাকলে সময় কখন চলে যায় নিজেও জানি না।

আমরা দুজনেই হাটতেছি।
বাচাওওওওওওওওওওও(মেয়েলি কন্ঠে চিৎকার করে)
আমি আর তানভির চিৎকার শুনে অবাক হয়ে গেলাম!
তানভিরঃ দোস্ত! কে চিৎকার দিলো রে?

আমিঃ আমি কি করে জানবো তবে মনে হচ্ছে কেউ বিপদে পড়ছে! চল খুজে দেখি!
তানভিরঃ হুম।
তারপর আমরা আশেপাশে খুজতে লাগি!
তানভিরঃ কই কেউকেই তো দেখলাম না!
plz আমাকে ছেড়ে দিন(মেয়েলি কন্ঠে)
আমিঃ সামনে থেকে আওয়াজটা আসলো চল তারাতারি!

তারপর আমি আর তানভির সামিনে গিয়ে দেখি বখাটে ছেলে একটা মেয়েকে জোর করতেছে।
আমিঃ মুখে রুমাল বাধ(সিরিয়াস হয়ে)
আমরা দুজনেই মুখে রুমাল বেধে নিলাম। আর ঝাপিয়ে পড়লাম সেই বখাটে ছেলে গুলোর দিকে। আমি আর তানভির মিলে সেই ছেলে গুলোকে ইচ্ছা মতে মারি। তবে এটাই শেষ নয়। সেই ছেলেগুলোকে আমরা আদমরা করে একজায়গায় রাখি। আর মেয়েটাকে সরিয়ে নি আমরা।

আমিঃ তানভির তুই আপুটাকে নিয়ে যা। ওনাকে দিয়ে আয়! আর শুন তোর জিনিসটা দে তো। আর ভুলেও রুমাল খুলিস না (কানের কাছে আস্তে করে বললাম)
তারপর তানভির থেকে সেই জিনিসটা নি! আসলে আপনাদের মনে প্রশ্ন আসতেই পারে তানভির এর কাছে কি এমন জিনিস আছে। তাহলে শুনুন তানভির এর কাছে বেশি কিছু না একটা ফুল্লি লোডেড পিস্তল আছে। আর সেটাই আমি নিয়া তানভিরকে চলে যেতে বলি।
তারপর তানভির মেয়েটাকে নিয়ে চলে যায় আমিও সেই ছেলেগুলোর কাছে চলে যাই।

আমিঃ জানোয়ারের বাচ্চারা তোদের জন্যই আমাদের মা-বোন সুরক্ষিত নেই! কোথায় থেকে তোদের এতো সাহস আসে? (রেগে)
ছেলেএকটা : আমাদের এলাকা আমরা যা ইচ্ছা করেই বেড়াবো তুই কে আমাদের থামানোর!
আমিঃ হ এই এলাকা তো তোদের বাপের দেওয়া তাই না যা ইচ্ছা করেই বেড়া বি। আর চিন্তা কি করেই করলি এই সকল পাপ কাজ করেই বেড়াবি আর এমনে এমনেই পারপেয়ে যাবি তোরা! (রেগে)

ছেলেটাঃ তুই জানোস না তুই কার গায়ে হাত উঠিয়েছিস! আমি এই এলাকার এমপির ছেলে! (রেগে)
সাথে সাথে গান রিলোড করে দিলাম সেই এমপির ছেলের গায়ে সুট করে। খেল খতম।
এমপির ছেলের মাথা উড়াই দিলাম। তার সাথে থাকা বাকি দুজন খুব ভয় পেয়েগেলো। হয় তো ভাবছে আমি শুধু ভয় লাগাচ্ছি কিন্তু আমি তো ভয় লাগাই না ডাইরেক্ট মেরেদি।

যে অন্যায় করবে বা অন্যায়কে পশ্রয় দিবে তাকে কোনো কথা ছাড়াই উপরওয়ালার কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

আমিঃ কিরে সালা এমপির ছেলে এখন চুপ হয়ে গেলি কেন? কোথায় গেলো তোর বাপের দাপট? এই জানোয়ারের বাচ্চা এখন কি হইলো! মনে করিস এমপির ছেলে বা মিনিষ্টারের ছেলে হবি তাহলে অন্যায় করে পার পেয়ে যাবি তোরা(রেগে)! হা হা হা তোদের মারার জন্য আইন রক্ষাকারি দরকার নেই একজন ট্রু Human প্রয়োজন। (হেসে)
পাশে থাকা দুই ছেলে খুব ভয় পেয়ে গেছে।

ছেলে একটাঃ ভাই আমাদের ছেড়ে দেন! আর কোনো দিনো আমরা এমন কাজ করবো না! (করুন গলায়)

অন্য ছেলেটাঃ ভাই আমরা ভালো হয়ে যাবো ভাই। আমাদের ছেড়ে দেন(কাদো কাদো গলায়)
আমিঃ সরি ভাইজানরা আমি আপনাদের ছাড়তে পারবো না। যদি তোদের মধ্যে বিন্দু মাত্র মন-মানসিকতা থাকতো তাহলে সেই মেয়েটার সাথে এমন করতি আর আমি এমনেও খুন করলে তার প্রমান রাখি না। (সিরিয়াস গলায়)
বলেই সেই দুইটা ছেলেকেও সুট করে দিলাম। Game Over।

আমার সামনে এখন ৩টা লাশ পড়ে আছে। তবে তাদের মেরে ফেলাই উচিত। কারণ এই সকল জানোয়ারদের জন্য আজ আমাদের মা-বোনরা রাস্তায় সুরক্ষিত না।
This Just Beginning। সামনে আরো লাশ পড়বে। হতে পারে গ্যাংস্টারদের! বা কোনো কোনো কুকাজ করা মানুষের হা হা হা। আগে এই শহরছিলো লিটন ভাইয়ের কিন্তু এবার এই শররে রাজ্যত্ব করবে তাদের বাপ হা হা হা।

আমিও এবার সোজা হাটতে লাগি বাড়ির উদ্দেশ্যে! হাটতে হাটতে নিজের মুখের রুমালটা খুলে নি পিস্তল্টা আমার কোমড়ে রেখে দি। আর সেই চশ্মাটা পড়ে নিলাম। আর আবারো নিজেকে ইনোসেন্ট বানিয়ে নিলাম।


পর্ব ৪

আমিও এবার সোজা হাটতে লাগি বাড়ির উদ্দেশ্যে! হাটতে হাটতে নিজের মুখের রুমালটা খুলে নি পিস্তল্টা আমার কোমড়ে রেখে দি। আর সেই চশ্মাটা পড়ে নিলাম। আর আবারো নিজেকে ইনোসেন্ট বানিয়ে নিলাম।

আমি সোজা আমাদের বাড়িতে চলে যাই। তারপর আমি আমার রুমে গিয়ে ফ্রেস হয়ে নি। এরপর আমি তানভিরকে ফোন দিলাম বাড়ি আসার জন্য। আর আমিও ভাবতে লাগলাম আজকে যে ৩টা খুন করলাম সেটা নিয়ে।

কিছুক্ষন পরেই বাড়ির বেল বেজে উঠে আর আমিও গিয়ে দরজা খুলে দি। দেখলাম আব্বু আসলো!
আব্বুঃ কিরে আজকে তোকে একটু অন্য রকম লাগতেছে যে?
আমিঃ আরে আব্বু প্রতি দিনিত আমাকে একই রকম লাগে।
আব্বুর সাথে কথা বলতেছি এরিমধ্যে তানভির হাজির!

তানভিরকে দেখে আব্বু অবাক।
আব্বুঃ তানভির! কিরে তুই এখানে!
তানভিরঃ আংকেল আসসালামুয়ালাইকুম কেমন আছেন?
আব্বুঃ ভালো কিন্তু তুই ঢাকায় কি করিস?
তানভিরঃ না মানে আংকেল আমিও ঢাকায় চলে আসছি আসলে এলাকায় থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে পড়লাম তাই এখানে চলে আসলাম।
আম্মুঃ কিরে তোরা এভাবেই থাকবি নাকি হাত মুখ ধুয়ে আসবি!
আমিঃ তানভির চল রুমে হাতমুখ ধুয়ে আসি!
তানভিরঃ হুম চল।

তারপর আমি আর তানভির সোজা রুমে চলে যাই।
আমিঃ তুই হাত মুখ ধুয়ে আয়!
তানভির চলে গেলো ফ্রেস হতে। আর আমিও আমার আগের কথা গুলো মনে করতে লাগলাম। সত্যি আজ আগের দিনের কথা মনে পরে গেলো। কি থেকে কি হয়ে গেলাম আমি!
তানভির বাহিরে আসে
তানভিরঃ অন্তর কি ভাবছিস তুই?
আমিঃ অতীত আর কি!

তানভিরঃ তোর অতীত আর বর্তমান একই। এখনো চেঞ্জ হয় নাই কোনো কিছু। শুধু একটু গেটাপটাই চেঞ্জ করছিস আর কি!
আমিঃ হুম।
তানভিরঃ আচ্ছা ঐ ছেলে গুলোকে কি করছিস!
আমিঃ Knockout।
তানভির আমার কথা শুনে থ হয়ে গেলো
অন্তর! তানভির! খেতে আয় তোরা! (আম্মু)
আমিঃ চল খাবো ক্ষিদা লাগছে!

তারপর তানভির আর আমি চলে গেলাম। রাতের খাবার খেতে! খাওয়া দাওয়া শেষ করে আমি তানভিরকে তার হোস্টেল পর্যন্ত আগিয়ে দিয়ে যেতে লাগলাম।
আমিঃ এই নে তোর পিস্তল! (পিস্তল্টা এগিয়ে দিয়ে)
তানভিরঃ হুম। তবে দোস্ত ছেলেগুলোকে মারা উচিত হয় নাই!
আমিঃ আজ যদি এই গুলোকে বাচিয়ে রাখি তাহলে কাল অন্যরা এই কাজ গুলো করতে ভয় পাবে না! তাই অন্যদের শিক্ষা দিতে এই গুলোকে শেষ করতে হলো। এখন দেখবি এলাকা শান্ত হয়ে যাবে!

তানভিরঃ আচ্ছ বাদ দে। আমি যাই কাল কলেজে দেখা হবে!
আমিঃ আচ্ছা Bye।
তারপর আমিও বাড়ি চলে আসলাম! এসেই রুমে গিয়ে চশ্মাটা খুলে খাটের পাশে টেবিলে রেখে শুয়ে পড়ি আর যখনি চোখ বন্ধ করি তখনি সেই রূপটাকে আমি দেখতে পাই যা যে কোনো মানুষের রুহকে কাপিয়ে দিতে পারে!
এই সব ভাবতে ভাবতে আমার ঘুম চলে আসে
সকাল বেলা

অন্তর! আব্বু আর কতোক্ষন ঘুমাবি এবার উঠ(আম্মু)
আমিঃ আম্মু উঠতেছি তুমি যাও! (ঘুমু ঘুমু কন্ঠে)
তারপর আম্মু চলে গেলো আর আমিও উঠে ফ্রেস হয়ে নিলাম। তারপর রেডি হয়ে নাস্তা করতে চলে গেলাম। কিন্তু আব্বুকে দেখে চিন্তিত মনে হচ্ছে!
আমিঃ আব্বু তোমার আবার কি হইলো?
আব্বুঃ কালকের ঘটনা জানিস!
আমিঃ কি আব্বু!

আব্বুঃ কাল রাতে ৩টা ছেলে খুন হইছে! তবে তাদের মধ্যে একজন এই শহরের এমপির ছেলে। যদি এমপির ছেলেই সেইফ না থাকে তাহলে আমরা কিভাবে নিশ্চিন্তেই থাকবো!
আমিঃ im sorry আব্বু! আমি তোমাকে বলতে পারবো না যে কাল সেই ৩টা ছেলেকে আমিই খুন করছি আর তোমরা আমাকে যা জানো তা আমি না! আর কালকের ছেলে যেগুলো মারা গেছে সেগুলো ভালো না আব্বু কিন্তু তোমাকে আমি কিছুই বলতে পারবো না! “মনে মনে”
আমিঃ আরে আব্বু তুমি এতো মাথায় চাপ নিও না তো!
আমি নাস্তা করেই ব্যাগ নিয়ে চশ্মা পড়ে চলে গেলাম কলেজে!
তবে কলেজে আজকে অনেকের মুখে হাসি দেখতে পাচ্ছি। বিশেষ করে মেয়েদের! আমিও অভনিকে দেখে তার কাছে চলে গেলাম।
আমিঃ কিরে শয়তানি কি অবস্থা?

অভনিঃ অন্তর আমি তো ভালোই আর আজকে তো অনেক অনেক খুশি!
আমিঃ কেন আজকে কি ছেলের প্রপোজ পাইছিস নাকি?
অভনিঃ তুই অলটাইম উল্টাই বলিস। ঐযে এমপির ছেলে সিফাত আছে না! কাল নাকি সেই জানোয়ারটা খুন হইছে! সেই জানোয়ারটা অনেক মেয়ের জীবন নষ্ট করছে! এবং আমাদের প্রিন্সিপাল স্যার এর মেয়েকেও ছাড়ে নাই। আমরা কতোই না এবার বেচার চেয়ে আন্দলন করলাম কিন্তু সেই জানোয়ারের বাপ বড় জানোয়ার মাফিয়া কিং ডেবিল এর ভয় দেখিয়ে আমাদের চুপ করে দেয়! কিন্তু কাল সেই জানোয়ার সিফাত খুন হলো। আজকে তো সবার জন্য খুশির দিন। যে এই জানোয়ার সিফাতকে মারছে উপরওয়ালা তাকে যেনো ১০০ বছর বাচাক! (খুশি হয়ে)

এই ছেমড়ি আমাকে ১০০ বছর বাচিয়ে কি করাবে! আমার এতো কেয়ামত দেখার ইচ্ছা নাই আল্লাহ আমাকে তার আগেই ইমানের সাথে মৃত্যু করে দিও। তবে আর যাই বলি আজ সকলকে হাসিখুশি দেখে আমার মনটা ভরে গেলো। তবে এমপি সকলকে মাফিয়া কিং ডেভিলের ভয় দেখিয়ে চুপ করে রাখছে তাই না! তারও দিন ঘনিয়ে আসতেছে ওয়েট কর চান্দু তুইও উপরে যাবি! “মনে মনে”
আমিঃ তুই এটা তে খুশি হলি আর আমার ফাটতেছে! ভাইরে ভাই এখন যদি আমাকেও মেরে ফেলে (ভিত হওয়ার নাটক করে)
অভনিঃ ঐ তুই কি কোনো মেয়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করছিস নাকি!

আমিঃ করি নাই। কিন্তু আব্বু বলছে এই শহরে নাকি কোনায় কোনায় মানুষ খুন হয়! অভনি আমার না মরার ইচ্ছা নাই। আমি তো বিয়েও করি নাই আর সিংগেলও। এখন যদি মাফিয়ারা আমাকেও মেরে ফেলে(ভিত হওয়ার নাটক করে)
অভনিঃ আরে ধুর বোকা তোকে কে মারবে। তোর মতো ইনোসেন্ট ছেলেকে কেউ মারবে নাকি প্রয়োজনে প্রেম করতে পারে! (হেসে)
দেখলাম তানভির আসতেছে আমাদের কাছে!
তানভিরঃ মামা তুই কালকে সেই লেভেলের কাজ করছিস!
আমার কাছে আসতেই আমি তানভিরের মুখ চেপে ধরলাম।

আমিঃ সালা মুখ সামলা(তানভিরের কানের কাছে মুখ করে বললাম)
আর সাথে সাথে ছেড়ে দিলাম।
অভনিঃ অন্তর তুই এর মুখ ধরছিলি কেন?
আমিঃ ভালো লাগে খুশির ঠেলায় আর কি!
তারপর ৩জনের কথা বলতে লাগলাম। এমন সময় আমাদের কলেজে একটা সাদা গাড়ি আসলো!
আমরা ৩জন সেই সাদা গাডির দিকে হা করেই তাকিয়ে আছি। আসলে এন্ট্রিটাই এমন নিলো।

সেখানে গাড়ি থেকে একটা মেয়ে নামে। যা কে দেখেই আমার মন লাড্ডু হয়ে গেলো। আসলে মেয়েটা দেখার মতোই। আর সবচেয়ে ভালোলাগার কথা হলো মেয়েটা আধুনিক মেয়েদের মতো সার্ট-পেন্ট পড়ে নাই বরং সাদা কালারের জামা পড়ছে যা তাকে পরীর মতো দেখাচ্ছে! তবে আমি খেয়াল করলাম কলেজের সকল ছেলে মেয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে!

মেয়েটা আমাদের দিকেই আসতেছে। দেখলাম সালা তানভির তার চুল ঠিক করতেছে! ইচ্ছা করছে সালারে দি একটা চিন্তা করলাম তার ভাবি বানামু কিন্তু তানভিরকে দেখে মনে হচ্ছে সে মেয়েটাকে আমার ভাবি বানানোর ব্যবস্থ করতে লাগে।
মেয়েটাঃ Excuse me! অনার্স 1st year এর ক্লাসটা কোন দিকে? (মিষ্টি গলায়)
বিশ্বাস করেন রাসেল ভাই মেয়েটার ভয়েসটা শুনে ইচ্ছা করছে এখনি তুলে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করে ফেলি। কারণ মেয়েটাকে তো দেখতে পরীর মতোই লাগলো আর তার ভয়েস শুনে তো আমি ফিদা হয়ে গেলাম। বলতে গেলে মেয়েটা মনে হয় আকাশ থেকে নেমে আসা পরী মনে হচ্ছে!
তানভিরঃ আরে আমি দেখাচ্ছি আপনি আমার সাথে আসুন! (নরমাল হয়ে মিষ্টি করে বলে)

আমি মনে করলাম এটাকে তানভিরের ভাবি বানামু কিন্তু সালা তো আমার ভাবি বানানোর প্লেন করতেছে “মনে মনে”
আমিঃ কিন্তু তানভির তুই তো ক্লাস চিনিস না! তুই তো কাল আসছিস!
তানভিরঃ সমস্যা নাই আমি উনাকে খুজে দিবো! আর আপনি চলুন আমার সাথে(মেয়েটাকে বলে)
তারা দুইজনেই চলে যেতে লাগে আর আমি ২কেজি ছ্যাকা খেয়ে বেকা হয়ে গেলাম। তোমরা থাকো সুখে আগুন জলুক আমার বুকে! জীবনটাই বেদনা 😣😣😣
অভনিঃ কিরে তুই মুখটাকে বাংলার পাচের মতো করে রাখলি কেন?

আমিঃ এমনে খুশির ঠেলায়!
অভনিঃ সবই বুঝি তো! মেয়ে দেখে ফিদা বন্ধুর জন্য মেয়েকে আলবিদা হা হা হা।
আমিঃ আরে বাদ দে তো!
তারপর আর কি করবো ক্যাম্পাসে বসে বসে দুজনে আড্ডা দিচ্ছি! সালা তানভির তো এখন গায়েব সালা মেয়ে পাই বন্ধুকে ভুলে গেলো। আসলে এ আমার জন্য অনেক সেক্রিফাইজ করছে! সে আমার জন্য ঢাকায় পর্যন্ত চলে আসলো আর আমি তার জন্য এই মেয়ের পিছে পড়া বাদ দিলাম। নাহলে পটিয়েই ছাড়তাম! হা হা হা
আমি অভনি কথা বলতেছি কিছুক্ষন পরে তানভির আসে!
আমিঃ সালা আমার কলিজায় আঘাত করলি তুই!
তানভিরঃ কি কস মামা। তারমানে তুইও!

আমিঃ আরে না আমি ফান করতেছি!
অভনিঃ দুইজনেই ফাইজলামি হইলে ক্লাসে যাওয়া যাবে!
আমিঃ হুম।
তারপর চলে গেলাম ক্লাসের দিকে! তবে দেখলাম সেখানে ফারিয়ার গার্ড আগের থেকেই দরজায় উপস্থিত! তারমানে ফারিয়াও ক্লাসে চলে গেছে! আমরাও ক্লাসের দিকে যেতে লাগলাম।
ফারিয়ার গার্ড সাথে সাথে আমাদের থামিয়ে দেয়!
আমিঃ আরে ভাইয়া ক্লাসে যাবো। থামালেন কেন?

গার্ড : মেডাম ভিতরে যেতে মানা করছে তাই কেউ যেতে পারবে না(রেগে)
অভনিঃ তোরা চল এখান থেকে ভিতরে যাইস না। (ভিত হয়ে)
আমিঃ অভনি আমাদের একটু কাজ আছে তুই যা। আমরা অন্য জায়গায় যাবো!
অভনিঃ আচ্ছা ঠিক আছে!
তারপর অভনি চলে গেলো!

তানভীর : মামা মনে হয় এই ইদুরের বাচ্চা গুলোর ব্যবস্থা করতে হবে(কানের কাছে এসে আস্তে করে বলে)
আমিঃ ওকে তুই এই একটাকে সামলা আমিও একটাকে সামলাই আর ক্লাসে যাই! (তানভিরের কানে কাছে গিয়ে বললাম)
তানভিরঃ ভাইয়া লিটন ভাই আমাকে বলছে ফারিয়া মেডামের একটা গার্ড কে ডেকে নিয়ে যেতে!
গার্ড : কি বলিস!
তানভিরঃ হুম আপনি আমার সাথে আসুন আর একজন এখানে থাকুক।
গার্ড : আচ্ছা চলো।

তারপর একজন গার্ড তানভিরের সাথে যায় আর একজন দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
আমিঃ ভাই! ফারিয়া আপু কি করতেছে ভিতরে?
গার্ড : একটা ছেলের সাথে ফারিয়া মেম ধাক্কা খায় কিন্তু ছেলেটা ক্ষমা না চেয়ে চলে আসে তাই ফারিয়া মেম সেই ছেলেটাকে শিক্ষা দিচ্ছে!
আমিঃ ওহ আচ্ছা।
বলেই আমি সেই গার্ডের মাথা ডাইরেক্ট দরজার সাথে দিলাম বারি। যার জন্য দরজাও খুলে যায় আর গার্ডও রুমের ভিতরে ছিটকে পড়ে।
দরজা ভাঙ্গতে দেখে ফারিয়া আমাকে দেখে অবাক হয়ে গেলো!

ফারিয়াঃ এই তুই এখানে কি করিস! আর আমার গার্ডকে কে মারলো! (অবাক হয়ে)
আমিঃ অনেক সহ্য করছি তোর এই আবলামি কিন্তু এবার খেল খতম! ভদ্রতা দেখাই তো তাই ভদ্র ভেবেই বসে আছিস। একটা ভদ্রের পিছে কি লুকিয়ে আছে তা তো দেখিসই নাই তবে এবার দেখাবো! (রেগে)
ফারিয়াঃ এই তুই আমার সাথে তুই তকারি করছিস সাথে উচু গলায় কথা বলছিস। মরার ভয় নাই তোর! (রেগে)
আমিঃ হা হা হা। আগে তুই ঠিক থাকতে পারিস না সেটা দেখ!

বলেই আমি ফারিয়াকে ঝাপটে ধরে ফেলি!
ফারিয়াঃ ছাড় আমাকে (ছাড়ানোর চেষ্টা করে)
আমিঃ হা হা হা। সামান্য একটু ধাক্কা লাগলো বলে ছেলেটার এই হাল করছিস তুই! এখন আমি যেটা করবো! সেটার জন্য তুই আমাকে কি করবি?
ফারিয়াঃ এই ক্ষ্যাত ছাড় বলতেছি নাহলে কিন্তু আমার গার্ড দিয়ে তোর এমন হাল করবো না আর সোজা হয়েও দাড়াতে পারবি না(রেগে)
সাথে সাথে কথা না বলেই জোর করে ফারিয়ার ঠোট জোড়া নিজের দখলে করে দিলাম। প্রায় ৩ মিনিটের মতো ফারিয়ার ঠোট নিজের দখলে করে রাখলাম এরপর ছেড়ে দিলাম।
দুজনেই হাপাচ্ছি।

আমিঃ কি! এবার কি করবি তুই!
ফারিয়াঃ জানোয়ারের বাচ্চা তুই আমাকে কি করে কিস করলি! এবার তুই সিয়োর মরবি!
আমিঃ হা হা হা। আমাকে মারবে কে? তোর সেই পঙ্গু লিটন ভাই! হা হা হা। সে তো শুধু ডেবিলের লেফট হেন্ড এর পা চেটে ঢাকার লিটন ভাই হইছে!
ফারিয়াঃ আজকে তুই তোর জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল করে ফেলছিস! কাল তুই সকালের সূর্য দেখবি না এটা এই ফারিয়ার কথা!
আমিঃ কেন আজ রাতে কি হানিমুনে যাবা নাকি(মজা করে)

ফারিয়াঃ হেসে নে তুই! তোর সব হাসি বের করবো আমি! (রেগে)
আমিঃ তার আগে আর একটা কি পাবো! হুম!
বলেই ফারিয়ার দিকে এগুতে লাগলাম আর সেও এক দোড়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায়!
আমি জানি এখন সে তার ভাইকে বলবে। সমস্যা নাই এখন একদম ফর্মে চলে আসছি! সকলের সামনে ভদ্র থাকবো কিন্তু ভিতরে ভিতরে একজন শয়তান হয়েই থাকবো হা হা হা।
তারপর তানভিরকে ফোন দিয়ে ডেকে এনে সেই ছেলেটাকে ও যে গার্ডকে দরজার সাথে মাথায় বারি খাইয়ে আহত করলাম তাদের নিয়ে হস্পিটালে চলে যাই!


পর্ব ৫

তারপর তানভিরকে ফোন দিয়ে ডেকে এনে সেই ছেলেটাকে ও যে গার্ডকে দরজার সাথে মাথায় বারি খাইয়ে আহত করলাম তাদের নিয়ে হস্পিটালে চলে যাই!
হস্পিটালে আসার সময় তানভির যে গার্ডটাকে নিয়ে যায় তাকে তানভির মেরে আধমরা করে দেয়। ফলে তাকেও আনতে হলো। আর মজার বেপার হলো আমরাই তাদের আহত করলাম আর আমরাই তাদের এখন ট্রিটমেন্ট করাতে আনলাম। তবে আমরা বেশি চিন্তিত সেই ছেলেটাকে নিয়ে যাকে ফারিয়া চেয়ারে বেধে মারছে! ডাক্তার তো তাকে নিয়ে গেলো আর সেই দুই গার্ডকে কেবিনে নিয়ে যায়। কারণ তাদের অতটাও ক্ষতি হয় নাই কিন্তু সেই ছেলেটার অনেক ক্ষতি হইছে ইভেন আমি নিজেও তার হাল দেখে ভয় পেয়ে গেলাম।

আসলে সব পাওয়ারের খেলা। যার কাছে পাওয়ার থাকবে সেই বাদশা-বেগম আর যাদের কাছে ক্ষমতা থাকে না তারা সেই ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের গোলামি করতে হয়!
আমি আর তানভির দাঁড়িয়ে আছি। কিছুক্ষন পরে ডাক্তার বের হয়।
আমিঃ ডাক্তার ছেলেটা এখন কেমন আছে? (হতাশ হয়ে)
ডাক্তার : সে তো ভালো আছে কিন্তু তার হাত ভেঙ্গে গেছে! যা প্লাষ্টার করে দেওয়া হলো। তবে তাকে এখন অনেক রেষ্ট নেওয়া দরকার! আচ্ছা আপনারা ছেলেটার কে হোন?
তানভিরঃ বন্ধু হই!

ডাক্তার : ওহ। আপনাদের থেকে একজন আমার সাথে আসুন আমি কিছু ওষধ লিখে দিবো সেগুলো নিয়ে আসুন!
আমিঃ তানভির তুই যা আমি এখানে থাকি!
তানভিরঃ ok।
তারপর তানভির চলে গেলো। আর আমিও আছি কোনো মতে! চিন্তা করলাম কেবিনে গিয়ে একটু দেখে আসি ছেলেটার কি অবস্থা আর তার বাসার ঠিকানা বা তার আম্মু আব্বু বা কোনো পরিচিত কারো নাম্বার নিতে পারি নাকি দেখি!

আমি কেবিনে প্রবেশ করলাম দেখলাম ভাইটা ঘুমাচ্ছে! যাক ভালোই এমনেই যা মার খাইছে আল্লাহ রক্ষা করছে!
আমি ছেলেটার বেডের পাশে চেয়ার টেনে বসে বসে মোবাইল টিপতে লাগি!
কিছুক্ষন পর ছেলেটার হোস আসে। ছেলেটা নড়ে উঠে
আমিঃ আরে ভাই নড়িয়েন না! সোজা শুয়ে থাকেন!
ছেলেটাঃ ভাই আমি কোথায়? (অবাক হয়ে)

আমিঃ আরে আজব হাতে প্লাস্টার ব্যান্ডিজ এটা দেখার পর বুঝেন নাই আপনি কই? আরে আপনি হস্পিটালে!
ছেলেটাঃ ভাই। আপনি কে? আপনার নাকি কি?
আমিঃ আমার নাম অন্তর। আর আপনার নাম কি?
ছেলেটাঃ আমার নাম সিয়াম!

আমিঃ আচ্ছা সিয়াম ভাই! আপনার বাসার বা কোনো পরিচিত কেউ এর নাম্বার দেন! কল করে বলি!
সিয়ামঃ না ভাই। আমার আম্মু আব্বু আর একটা ছোট বোন আছে! আমরা মধ্যবিত্ত পরিবার এর সদস্য। এখন আম্মু আব্বুকে যদি আমার এই কথাটা বলি তাহলে তারা আমার জন্য দুশ্চিন্তা করবে! আমাকে আমার আব্বু আম্মু অনেক কষ্টে লালন পালন করছে! তাই আমিও তাদের জন্য কিছু করতে চাই। তাই আমি মন দিয়ে পড়া শুনে করেই যাচ্ছি কিন্তু ভাই আজকে আমি ভুল করে সেই ফারিয়া মেডাম এর সাথে ধাক্কা খাই। পরে সরি বলে চলে যাই কারণ তাড়াছিলো এসাইন্মেন্ট জমা দেওয়ার কথা! আমিও এসাইন্মেন্ট জমা দিয়ে ক্লাসের দিকে যাই আর উনি আমাকে অনেক মারে! ভাই আমরা মধ্যবিত্ত বলে আমরা মানুষ না! আমাদের কি অধিকার নাই স্বাধীন ভাবে চলার! ভাই এই ফারিয়া আর তার ভাই লিটন মিলে গোটা কলেজকে দখল করে রাখছে! এখন আমরা শান্তিতেও চলাচল করতে পারি না!

আমিঃ আচ্ছা ভাই। থাক ঐ সব কথা। এখন এটা বলেন এখন কেমন বোধ করছেন?
সিয়ামঃ এই তো ভাই ভালো। থ্যাং ইউ ভাই। আমাকে সাহায্য করার জন্য। তবে আপনি আমাকে আনলেন কি করে? ফারিয়া তো ছাড়ার পাত্র না!
আমিঃ আমি ছাড়িয়ে আনছি!
আমরা কথা বলতেছি তখনি তানভির আসে!

তানভিরঃ ভাই এখন কেমন লাগতেছে?
সিয়ামঃ এই তো ভালো! কিন্তু ভাই আপনি কে?
আমিঃ ও আমার সাথে হয়ে আপনাকে আনছে!
তানভিরঃ আমার নাম তানভির! আর ভাই কথা বলিও না রেষ্ট নাও!
তানভিরঃ অন্তর! উনার বাসার নাম্বার নিছিস?

আমিঃ না। (সিয়াম আমাকে যা যা বলে সব বললাম)
তানভিরঃ অসুবিধা নাই! তবে উনাকে উচিত বাসায় ফোন করে বলে দেওয়া নাহলে টেনসেন করবে!
আমিঃ সিয়াম ভাই! আপনি আপনার বাসায় বলে দেন! আপনি আপনার বন্ধুদের সাথে পিকনিকে গেছেন! কয়েক দিন পরে ফিরবেন! আসলে বাসায় বলবেন আপনাকে জোর করে নিয়ে গেছে!

সিয়ামঃ আচ্ছা ভাই!
তারপর সিয়াম তারপর পরিবারের সাথে কথা বলে নেয়!
রাত পর্যন্ত আমি আর তানভির সিয়াম ভাই এর কাছে ছিলাম!
আমি বাসায় ফোন করে বলে দি আমার আজকে বাসায় ফিরতে দেরি হবে! নাহলে আম্মু আব্বু আবার চিন্তা করবে!
রাতে আমরা ৩জনেই খাবার খেয়ে নিলাম।

সিয়াম ভাইয়ের শুধু হাত ভাঙ্গছে। আর অতিরিক্ত মার খাওয়ার ফলে তার শরীরের কিছু অংশ ফেতে যায়। সেগুলো ডাক্তারে ওয়াস করে ব্যান্ডিজ করে দেয়। আর আমরা মানে আমি আর তানভির যে দুজন গার্ডকে আহত করলাম তাদের শুধু কিছুটা ফ্রেকচার হয়। তবে আমি যাকে মারলাম তার মাথা ফেটে যায় আসলে দরজায় খুব জোরেই বারি দি তাই।
তানভিরঃ অন্তর। তুই চলে যা! আমি এখানে থাকি!
আমিঃ আরে না আমি থাকি তুই যা!

তানভিরঃ চুপ সালা বাসায় যা। আমি থাকবো এখানে!
আমিঃ আচ্ছা ঠিক আছে তুই থাক আমি গেলাম। আর কোনো কিছু প্রয়োজন হলে ফোন দিবি!
তানভিরঃ হুম।
তারপর তানভির থেকে বিদাই নিয়ে চলে গেলাম বাসায়!

সেখানে গিয়ে তো খেলাম এক বকা। কোথায় ছিলাম? এতো দেরি হইছে কেন? আরো অনেক প্রশ্ন
পরে তাদের বলি একটা ভাইয়া এক্সিডেন্ট হইছে আর আমাকে ঐখানে ভাইয়ার থাকতে হইছে!
তারপর চলে যাই রুমে আর সেখানে গিয়ে লেটিয়ে পড়ি। আর দিলাম ঘুম সকাল বেলা।
আজকে কেন জানি ঘুম ভেঙ্গে গেলো! তাই আমিও উঠে ফ্রেস হয়ে নি। এরপর রেডি হয়ে চশ্মা নিয়ে নিচে চলে যাই।
তারপর নাস্তা করে আম্মু আব্বু থেকে বিদাই নিয়ে কলেজের জন্য বেরিয়ে পড়ি।

কলেজে যেতে যেতে সিয়াম ভাইয়ের কথা মনে পড়লো তাই চিন্তা করলাম কলেজ শেষ করে তার সাথে দেখা করবো। তবে সকালে একবার কথা হইছিলো! তবুও দেখা তো করা লাগবেই!
আমি কলেজের দিকে গেলাম। দেখলাম সেখানে ৭টা কালো কার গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে! মনে হয় কেউ আসছে তাতে আমার কি!
আমিও ক্যাম্পাসের দিকে হাটতে লাগলাম। তবে খেয়াল করলাম অনেকেই আমার দিকে তাকিয়ে আছে! এখন প্রশ্ন হলো। আমি তো এখানে এখন আর নতুন না তাহলে কেন তাকালো তারা? বাদ দে আমি একটু chill করি।

হঠাৎই আমার সামনে লিটন ভাই আর তার বোন ফারিয়া এসে পড়লো। পরে মনে পড়লো কাকের ঘটনার কথা!
সাথে সাথে লিটন রেগে এসে আমার কলার ধরে ফেলে! আর পকেট থেকে পিস্তল বের করে আমার দিকে তাক করে!
লিটন : এই জানোয়ারের বাচ্চা! তুই কাল তুই আমার বোনের সাথে অসভ্যতামি করছিস! আজকে তোকে মেরেই ফেলবো! (রেগে)
লিটন আমার কলার ধরে আছে সে আমাকে টানতে টানতে তার গাড়িতে উঠায়। তবে সে টানা লাগে নাই আমি নিজেই উঠে পড়ি!
আজকে যেহুতু তাদের সাথে যাচ্ছি মানে আমার আজকে ও ক্লাস মিস।

লিটনের সাথে তার বোন ফারিয়াও গাড়িতে উঠলো!
আমি ফারিয়া আর লিটনদের গাড়িতেই আছি। কোনো ভয় বা চিন্তা কাজ করতেছে না। জাষ্ট নরমাল ভাবেই আছি। মনে হয় কিছুই হচ্ছে না!
ফারিয়াঃ ভাইয়া আজকে এই ক্ষ্যাতটাকে শেষ করেই ছাড়বা! (রেগে)
আমিঃ কেন গো! আমি মরলে তোমার কষ্ট হবে না(মজা করে)
লিটন : তুই আমার সামনে আমার বোনের সাথে এইভাবে কথা বলতেছিস। আজকে তোর মৃত্যু অর্নিবার্য।
আমিও একটা মুচকি হেসে দিলাম।

ফারিয়াঃ এই ক্ষ্যাত তোর ভয় লাগতেছে না? কেমন ছেলে তুই? আমরা তোকে মারতে নিয়ে যাচ্ছি আর তুই এভাবে একদম ঠান্ডা ভাবেই বসে আছিস? (অবাক হয়ে)
আমিঃ কি করবো! মরবোই যেহুতু তাই হেসেই মরতে চাই!
কিছুক্ষন পরে আমাকে একটা নির্জন জায়গায় নিয়ে আসা হয়। যেখানে আছে বালি আর বালি!
আমাকে তারা টানতে টানতে বালির উপর ছুড়ে মারে। আর আমিও পড়ে যাই!
আমার অবস্থা দেখে সেখানে থাকা ফারিয়া ও লিটনের গ্যাং মেম্বাররা মজা নিচ্ছে! আর আমিও চুপচাপ আছি। কি করবো বলেন নিরিহ একটা ছেলে আমি। আমি তো আর তাদের সাথে পারবো না। তাই আর কি চুপচাপ আছি।

সেখান থেকে দুটো গার্ড এসে আমাকে সেই বালির মাঠে বসিয়ে দেয়। আর সেখানে থাকা গার্ডগুলো আমাকে ঘিরে তাদের হাতের পিস্তল তাক করে আমার দিকে!
ফারিয়াঃ কি? এখন কেমন লাগছে? এবার বুঝছিস এই ফারিয়া কি জিনিস? কাল তুই আমাকে জোর করে কিস করছিস তাই না! আমার উপর কারো ছায়া পড়তে পারে না আর তুই তো কাল অনেক বড় জঘন্য কাজ করেই বসে আছিস? বল তোর শেষ ইচ্ছা আছে কিনা? নাকি ডাইরেক্ট উপরে যাবি! (মজা করে)
আমিঃ আমার ইচ্ছা বাদ দেন! আপনাদের কোনো ইচ্ছা আছে কিনা বলেন তো!
লিটন : এই তুই নিজের মৃত্যুতে আমাদের ইচ্ছা কেন জিজ্ঞেসা করতেছিস?
আমিঃ না এমনেই।

ফারিয়াঃ ভাইয়া আমি ওকে নিজ হাতে মারতে চাই!
তখনি লিটনের মোবাইলে কল আসে।
লিটন : হ্যালো ভাই? কেমন আছেন? কি খবর আপনার শরীর ঠিক আছে তো? (হেসে)
অপর পাশে :……… ….
লিটন : ভাই আমরা তো বালির মাঠ আছে না সেখানে! কেন ভাই?
অপরপাশঃ………..

লিটন : কি বলেন ভাই আপনি! সত্যি আপনি আসতেছেন? ভাই আপনি আসেন তাহলে আপনার সামনে এক বেয়াদব অসভ্য ছেলেটাকে মারবো। আপনি আসুন ভাই(খুশি হয়ে)
তারপর ফোন কেটে দেয়!
লিটন : তোর ভাগ্য অনেক ভালো। তুই আরো কিছুক্ষন বেচে থাকবি। কারণ আমাদের মাফিয়া কিং ডেবিলের লেফ্ট হেন্ড এর সাথে কথা বলছি আর সে এখানে আসতেছে! (হেসে)
ফারিয়াঃ কি বলিস ভাইয়া। উনি এখানে আসতেছে? (খুশি হয়ে)
লিটন : হ্যারে বোন আমার। উনি আসতেছে।
কিছুক্ষন পরে দেখালাম ২০টার মতো পাজারু গাড়ি এখানে আসে। তবে সেখানে একটা কার গাড়িও ছিলো। সব গাড়ি গুলো কালো কালারেরছিলো!
গাড়ি গুলো থেকে অনেক গুলো গার্ড বের হয়। বলতে গেলে পায় ৪০। ৫০ জনেই মতো হবে। বা আরো বেশিও হতে পারে। যাদের হাতে আছে বিভিন্ন রকমের অস্ত্র। যেমন : ছুরি। পিস্তল। রাইফেলস। সটগানস।

তবে সব আধুনিক অস্ত্র। এখানে প্রাচীন কালের কোনো কিছুই নাই।
সেখানে কার গাড়ি থেকে একজন বের হয়। সাথে সাথে আমি বসা অবস্থায় মাথা নিচু করে রাখি। আর তাদের কথা শুনতে থাকি!
লিটন : ভাই। আমি বিশ্বাস করতে পারছি না আপনি আমার সামনে! (খুশি হয়ে)
লোকটাঃ হুম। তো কি অবস্থা তোর? আর ফারিয়া কেমন আছিস বোন?
ফারিয়াঃ এই তো ভালো। ভাইয়া আপনি ডেভিলকে দেখছেন? (খুশি হয়ে)
লোকটাঃ হুম। আমরা ৩জন মিলে আমাদের মাফিয়া গ্যাং গঠন করলাম। আর আমি হলাম ডেভিলের লেফট হেন্ড।
লিটন : তাহলে ডেভিল এর রাইট হেন্ডকে ভাই?

লোকটাঃ তার নাম বলা যাবে না। ডেভিল বলে রাখছে তারা দুজনে আড়াল থাকতে চায়। আর আমাদের যা বলবে তাই আমাদের করতে হবে! আচ্ছা কে ফারিয়ার সাথে অসভ্যতামি করছে। আমি সেই ছেলেটাকে দেখতে চাই।
ফারিয়াঃ ঐ যে। যে বালিতে মাথা নিচু করে বসে আছে সেই ছেলেটা!
তারপর তারা আমার কাছে আসতে লাগে। আমি তো চুপচাপ নিশপাপ শিশুর মতোই মাথা নিচু করে বসে আছি। কিইবা করবো আমি!
লোকটাঃ তাহলে তুই সেই ছেলে যে এই এলাকার মাফিয়ার বোনের সাথে অসভ্যতামি করছিস! মানুষ কি করে এতো বোকামি করে হুম! দেখি তো তোর চাঁদ মুখখানি!
বলেই আমার গাল চেপে ধরে আর আস্তে আস্তে আমার মাথা তুলে।
আমিও তার হাসি মাখা চেহারাটা দেখে একটা মুচকি হেসে দিলাম।

আমার দেখে সেই লোকটা সাথে সাথে আমার গাল ছেড়ে দেয় আর উল্টে পড়ে।
আর আমিও দাঁড়িয়ে পড়ি। আমার পিছন থেকে পিস্তল বের করি আর সোজা সেই লোকটার দিকে তাক করি।
লোকটা নিচে বালিয়ে উল্টো হয়ে আমার দিকে মুখ করে বসে আছে। আর বাকিরা এই কান্ড দেখে অবাক হয়ে গেলো!
আমিঃ কেমন আছিস পিন্টু ভাই? হা হা হা!


পর্ব ৬

আমিঃ কেমন আছিস পিন্টু ভাই? হা হা হা!
সবাই আমার কান্ড দেখে হা হয়ে আছে। বিশেষ করে লিটন ও তার বোন ফারিয়া!
আমিঃ হুদাই কাবাবে হাড্ডি হওয়া দরকারছিলো তোর?

এই দিকে ফারিয়া লিটন ও তার গ্যাং এর সদস্য থ হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে! তারা হয়তো ভাবতে পারতেছে না এই Innocent ছেলেটা হঠাৎ Devil এর রূপ নিলো কিভাবে! আর সবচেয়ে বড় কথা আমি মাফিয়া কিং ডেভিলের লেফট হ্যান্ড পিন্টুর উপর পিস্তল তাক করে দাঁড়িয়ে আছি। যা দেখে যে কেউ অবাক না হয়ে পারবে না।
সাথে সাথে লিটন ও পিন্টুর গার্ড আমার দিকে তাদের অস্ত্র গুলো তাক করে ধরলো।
লিটন : এই কার দিকে পিস্তল তাক করছিস তুই জানিস? আর তোর কাছে পিস্তল কোথায় থেকে আসলো? কে তুই? (রেগে)
আমিঃ হা হা হা Who am I। That’s Not Important! What am I। That’s Important. And Never Judge Some one by seeing his Outside। 1st Try to Know his Inside.

তারপর দিলাম একটা চিৎকার
আমিঃ Boysssssss(চিৎকার করে)
সাথে সাথে ১০০ এর বেশি মানুষ বেরিয়ে আসে। তাদের হাতেছিলো বিভিন্ন প্রকারের রাইফে। সটগাট। পিস্তল। ছুরি আর তারা ফুললি দেখতেও একদম সৈনিকের মতো লাগতেছিলো। কারণ তাদের শরীরে বুলেট প্রুফ জেকেট ছিলো। আর তার মধ্যে তো আছে আর নানান রকমের জিনিস। মানে ছোট ছোট অস্ত্রও।
আমার সেই গার্ডগুলো ডাইরেক্ট লিটন ও তার বাহিনীকে চারোদিক দিয়ে ঘিরে ফেলে! আর সোজা তাদের দিকে রাইফেল সটগান তাক করে ধরে। কিছুক্ষন পরে ফারিয়াকে ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। আর ফারিয়ার দিকে পিস্তল তাক করে। তবে যে ফারিয়াকে মাটিতে ফেলে দেয় আর পিস্তল তাক করে সে একটা মেয়ে। তবে অন্যান্ন মেয়েদের চেয়ে আলাদা মেয়েটা।

ফারিয়া মেয়েটাকে দেখে অবাক হয়ে গেলো। শুধু মেয়েটা কে না তাদের গিরে থাকা গার্ডগুলোকে দেখেও প্রায় অবাক। আর পিন্টুর গার্ডগুলো সেই গার্ডগুলোকে দেখে সাথে সাথে হাতে থাকা সকল অস্ত্র মাটিতে ফেলে দেয়!
লিটন ফারিয়া আমার দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে আছে! আর আমি তো হাসতেছি কারণ তারা তো নিজের পিছে নিজেই বাঁশ দিয়ে গেলো হা হা হা।
ফারিয়াঃ এই তুই কালকের নতুন আসা মেয়েটা না?

মেয়েটাঃ এই তুই কাকে তুই বলতেছিস? মুখ সামলে কথা বল! তুই এখন গান পয়েন্টের কাছেই আছিস। সোজা গুলি চালিয়ে দিবো না। সব বেরিয়ে যাবে! (রেগে)
আমিঃ রোকসানা এই হারামজাদির চুলের মুঠি ধরে আমার দিকে ছুড়ে মারো!
সাথে সাথে রোকসানা ফারিয়ার চুলের মুঠি ধরে আমার কাছে নিয়ে আসে।
আমিঃ আমি তোমাকে কি বললাম? বলছি চুলের মুঠি ধরে আমার কাছে ছুড়ে মারতে! তাহলে তুমি চুলের মুঠি ধরে আনলে কেন?
রোকসানাঃ সরি বস। আসলে চুলের এখানে ছুড়ে মারলে এতো ব্যাথা পাবে না। তাই চুলের মুঠি ধরেই নিয়ে আসছি!
আমিঃ তবুও ভালোই করছিস! হা হা হা।

লিটন আমাদের দিকে হা করেই তাকিয়ে আছে। আর ফারিয়া তো আমার দিকে করুন চোখেই তাকিয়ে আছে হয়তো তারা ভাবছে কে আমি? আর আমার কাছে এতো গুলো গার্ড আসলো কোথায় থেকে!
আমিঃ কিরে লেডি মাফিয়া! আমাকে না ভয় লাগাচ্ছি আর বলতেছিলি আমার মৃত্যু আসছে আর আমি একদম শান্ত ভাবে আছিই কি করে? আসলে তোরা মনে করছি আমি অনেক ভদ্র! কিছুই জানি না! আর এমনে এমনেই তোদের কাছে ধরা দিয়ে দিবো তা ভাবলি কি করে? ! একটা ছেলে যদি এই পরিস্থিতিতেও যদি শান্ত থাকে তাহলে বুঝে নিস ছেলেটা পাক্কা দুইনাম্বারি জিনিস! আমি তোদের জালে না তোরা আমার জালেই আটকা পড়ছিস! আমি শুধু কলেজে আর এলাকায় তোদের তামাশা দেখতাম। কিছুই করতাম না। আর নিজেকে সকলের সামনে এমন ভাবে প্রকাশ করলাম যাতে কেউ আমাকে সন্দেহর নজরে না দেখে!

ফারিয়াঃ কে আপনি?
আমিঃ ওলে বাবালে! হঠাৎ তুই থেকে আপনি হয়ে গেলাম কি করে? মামনি ভয় পাইছো মনে হয়! আসলে ভদ্রতা দেখাইছি বলেই তো ধোকা খেয়ে গেলা। This is called Ontor’s Illusion। আর আমার মায়ায় ধোকা তো খাবেই হা হা হা। আর কি মনে করছিস তুই নিজেকে? (মজা করে)
লিটন : কে তুই? (রেগে)

আমিঃ ওলে বাবালে এ তো দেখি লিটন কাকু খেপে আছে হা হা হা।
সাথে সাথে পকেট থেকে সিগারেট বের করে। তা ধরিয়ে নি। আর মজা করে টানতে থাকি!
আমিঃ আমি! আমি তো সাধারন ভদ্র ছেলে। যে সবার বিপদে এগিয়ে আসে। মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার জন্য পাগল! আর নিজেকে পরিপাটি করে রাখতে পছন্দ করে। হা হা হা।

পিন্টুঃ লিটন এখনো চিনিস নাই উনি কে? এখনো বুঝিস নাই! আরে যার পাওয়ার ও নাম দিয়ে তুই আমি আর ছোট ছোট মাফিয়ারা চলে উনি সেই ব্যক্তি। মানে অন্তর ভাই উর্ফে আমাদের Devil_The_Mafia_King. And Now He Is Arrived.
পিন্টুর কথা সুনার সাথে সাথে লিটন ও ফারিয়ার চোখ গুলো বড় বড় হয়ে গেলো। তারা হয়তো ভাবতেই পারে নাই তারা এতো বড় ধরনের ধোকা খাবে। যে ছেলেটাকে তারা ক্ষ্যাত ছোট লোক মনে করতো বা যাকে তারা অতিসাধারন মনে করে নিচু চোখে দেখতো আর যার সাথে Attitude দেখাইছে আজ সেই ছেলেটাই তাদের বাপ হবে!
আমিঃ পিন্টু তুই মরবি! (রেগে)

পিন্টুঃ ভাই আমি কি করলাম? (করুন গলায়)
আমিঃ আমি তোদের ক্ষমতা দিলাম কেন? আর তোরা কি করছিস? (রেগে)
আমিঃ boys! আমি আর রোকসানা ছাড়া সবার দিকে তোমাকে বন্দুক গুলো তাক করো! (রেগে চিৎকার করে)
সাথে সাথে আমার গার্ডগুলো আমাকে আর রোকসানাকে ছাড়া বাকি সবার দিকে বন্দুক তাক করে দাঁড়ায়। এবং কি পিন্টু ও তার ছেলে পেলের দিকেও!
আমিঃ জানোয়ারের বাচ্চা গুলো। তোদের পাওয়ার কেন দেওয়া হলো? ভুলে গেছিস সব? আমাদের উদ্দেশ্য কি ছিলো? সব ভুলে গেছিস তোরা? (রেগে চিৎকার করে)
পিন্টুঃ ভাই আমি কিছুই জানি আমি কালই দেশে ফিরছি! (করুন গলায়)

আমিঃ কেয়ার লেস হলি কেন? এখন পস্তাতে হবেই তোদের! (রেগে)
আমিঃ Boys Hold your Weapon! (গার্ডদের কমান্ড দিলাম)
পিন্টুঃ ভাই plz আর একটা সুযোগ দেন? plz ভাই আমাদের মারিয়েন না ভাই!
আমিঃ ভুল যেহুতু করছিস এবার শাস্তি পাইতে হবে! (রেগে)
লিটন সাথে সাথে লিটন দোড়ে এসে আমার পায়ের উপর ঝাপটে পড়ে!

লিটন : ভাই আমাকে ক্ষমা করে দেন! ভাই আমি আমি পাওয়ার পেয়ে এমন হয়েগেছিলাম। ভাই একটা সুযোগ দেন! ভাই আল্লাহর দোহায় লাগে আমাদের আর একটা সুযোগ দেন! (পা ধরে কান্না করতে করতে)
আমিঃ ঠিক আছে একটা সুযোগ পাবি! তবে তোদের একটা কাজ করতে হবে। (সিরিয়াস হয়ে)
পিন্টুঃ জি ভাই বলুন কি করতে হবে! (উৎসাহ এর সাথে)

আমিঃ কাল আমি কলেজে এসে যাতে শুনতে পারি এই এলাকার এমপি Is No more!
আমার কথা সুনে লিটন অবাক হয়ে গেলো। কিন্তু পিন্টু ঠিক ঠাক ভাবেই আছে! হয়তো পিন্টু বুঝতে পারছে আমি কেন এই কথাটা বলছি।
আমিঃ কি! কাজটা করবি? নাকি আমি করবো! (সিরিয়াস হয়ে)
লিটন : ঠিক আছে ভাই। কাজ হয়ে যাবে!

আমিঃ হুম। আর খবরদার তোরা যে আমাকে দেখছিস বা চিনিস বা আমি এই শহরে আছি এই সব যাতে কেউ না জানতে পারে। আর আমার এখানে আসার খবর যদি ফাস হয় তাহলে তোরাই বুঝে নে আমি কি করবো তোদের! (রেগে)
আমার কথা সুনে লিটন আর পিন্টু ডোক গিলে!
আমিঃ Boys! Relax। তোমরা সবাই সবার জায়গায় চলে যাও!
বলার সাথে সাথে আমার গার্ডগুলো অস্ত্র গুলো নিচে নামিয়ে নিলো। আর আমার সকল গার্ড চলে গেলো।
আমিঃ লিটন আর ফারিয়া এই দিকে আয়! (রেগে)
লিটন : জ জ জি ভাই বলেন!

আমিঃ কাল তোদের আরো একটা কাজ আছে! তোরা দুজনেই গিয়ে কলেজে সকলের পা ধরে ধরে ক্ষমা চাইবি! আর যদি আমার কথা না শুনিস প্রয়োজন পড়লে আমার সত্যিটা ফাস হোক কিন্তু তোদের দুজনের একটা কেউ আস্ত রাখবো না। আর সোজা আমার সামনে থেকে যা তোরা! (রেগে)
সাথে সাথে লিটন ও তার বোন ফারিয়া চলে গেলো।

এবার আপনাদের মনে প্রশ্ন আসতেই পারে। আমি যদি কালকের মেয়েটাকে মানে রোকসানাকে চিনেই থাকি তাহলে কাল এমন করলাম কেন? আসলে এটাই প্লেন ছিলো। আমরা একে অপরকে চিনেও না চিনার ভান করবো। আর রোকসানাকে আমিই এই শহরে আসতে বলি। কারণ রোকসানা একটা সার্প-সুটার আর একজন লেডি হ্যাকার। সে আমাদের দলে আমাদের গ্যাং গঠন করার পর থেকেই আমাদের সাথে আছে। মেয়েটা এতিম। নাহলে আমাদের গ্যাং এ আসতো না। কাল ইচ্ছা করেই আমি আর তানভির এর নাটকটা করি যাতে কেউ বুঝতে না পারে আমরা একে অপরকে চিনি। রোকসানাকে এখানে আনার উদ্দেশ্য হলো ওকে একটা ওয়েবসাইট হ্যাক করতে হবে।

কারণ সেখানে বিভিন্ন খারাপ কাজের ডিলিং হয়ে থাকে। তবে আমাদের মাফিয়া টিম গঠন করার কারণ হলো জনগনকে সুরক্ষিত রাখা কিন্তু আমাদের নাম ও পাওয়ার অনেকেই খারাপ কাজে ব্যবহার করতেছে যার জন্য আমাদের ক্রিমিনাল রেকোড বাড়তেছে তাই আমরা সেই ক্রিমিনাল গুলোকে বের করে শেষ করে দিচ্ছি। এবার প্রশ্ন আসতেই পারে আমি যদি ভালো কাজের জন্যই মাফিয়া টিম তৈরী করে থাকি তাহলে কেন আমি আইনশৃংখলা বাহিনীতে যোগ দি নাই। আসলে বর্তমানে পলিটিশিনের হাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের হাতের পুতুল হয়ে থাকতে হয় যা আমি হতে চাই না। তারা সেই আইনশৃংখলা বাহিনীর মানুষগুলোকে নিজের ইশারা মতো নাচায়। তাই আমিও মাফিয়া হয়ে যাই। তবে এখন তো মাফিয়া কিং।

পিন্টুঃ ভাই আমার সাথে চলেন আমি আপনাকে বাড়িতে দিয়ে আসি।
আমিঃ বাড়ি না আমি হস্পিটালে যাবো! পারলে রোকসানাকে তার যায়গায় দিয়ে আস!
পিন্টুঃ ঠিক আছে ভাই। তবে ভাই আপনি এই শহরে কি করতেছেন?

আমিঃ আমি এখানে আসতাম না কিন্তু আমি যখন শুনতে পারি আমার নাম আর পাওয়ার মিসইউজ হচ্ছে তাই এখানে আসলাম! এখন কথা বলিস না রোকসানাকে তার জায়গা বরাবর দিয়ে আয়। আর রোকসানা তোমাকে আমি একটা লিংক সেন্ট করবো! সেই লিংকের ওয়েবসাইট হ্যাক করতে হবে তোমাকে!
রোকসানাঃ জি বস।

তারপর রোকসানা পিন্টুর সাথে চলে যায়।
আপনারাদের মনে প্রশ্ন আসতেই পারে। আমি এখানে আসি মানে! আসলে আমার আব্বুর ট্রান্সফার আমি আমার মাফিয়া পাওয়ার দিয়েই করাই। কারণ আমি চাই আমি যেখানে যাইনা কেন আমার পরিবার আমার সাথে থাকুক। আপনারা এবার বলবেন আমার আব্বু তো সরকারি চাকুরিজীবি তাহলে আমি তাকে এতো সহজেই ট্রান্সফার করালাম কিভাবে? আসলে যখন মানুষের কাছে কোনো কিছু হারানোর থাকে তখন সেই মানুষটাকে আরো বেশি করে ভয় লাগানো যায়। আমি সেই অফিসারকে এমন ভয় লাগাই সে বাধ্য হয় এই কাজ করতে। মানে আমার আব্বুকে এই শহরে ট্রান্সফার করতে!

আমিও একটা সিএনজি নিয়ে চলে যাই হস্পিটালে!
সেখানে গিয়ে সিএনজি ভাড়া দিয়ে হস্পিটালে গিয়ে সিয়াম ভাইয়ের কেবিনে চলে যাই।
দেখলাম ভাই সুন্দর করেই শুয়ে আছে।
আমিঃ ভাই কেমন আছেন?

সিয়ামঃ এই তো আলহামদুলিল্লাহ ভালো। থ্যাং ইউ ভাই বিপদে আমার পাশে থাকার জন্য।
আমিঃ আরে ভাই এটা আমার কর্তব্য। তানভির একটু সাইডে আয় কথা আছে!
তানভিরঃ হুম।
তারপর তানভিরকে সাইডে নিয়ে যাই। আর আজকে কি কি ঘটছে সব বলি!
তানভিরঃ মানে আমাদের পর্দা ফাস হয়ে গেছে।

আমিঃ না শুধু লিটন তার বোন আর সেখানে থাকা গার্ডগুলোই জানে!
তানভিরঃ হুম। আচ্ছা এখন কি করবি তুই!
আমিঃ আপাদত পিন্টু আর লিটনকে অডার দিছি সেই এমপি জানোয়ারকে সোজা নক আউট করে দেয়। এই জানোয়ারের অনেক রেকড আমাদের কাছেই আছে। জানোয়ারটা এতোটাই জঘন্য কাজ করে বসে আছে যার কোনো ক্ষমা নাই।
তানভিরঃ হুম। তার মানে এখন আমরা দুজন কিছু মানুষের কাছে পরিচিতি পাইগেছি। মামা কতো ভালো লাগে ডেভিলের রাইড হ্যান্ড হয়ে!

আমিঃ জুতা খুলে মারমু সালা। তোরে আজ পর্যন্ত আমি কোনো দিনো আমার রাইট হ্যান্ড ভাবি নাই আর কোনো দিনো ভাববোও না। তুই আমার ভাই। আমার বেষ্টু। আর একবার এই হ্যান্ড এর কথা বলবি ডাইরেক্ট তোর লেফট হ্যান্ড ভেঙ্গে দিমু(রেগে)

তানভিরঃ তাহলে মামা আমি বাথরুমে যামু কেমনে? আমার তো অনেক বড় সর্বনাশ হয়ে যাইবো (করুন গলায়)
আমিঃ সালা নাটক বন্ধ কর।
তানভিরঃ আচ্ছা রোকসানাকে লিংকটা দিছিলি?

আমিঃ না বাসায় গিয়ে দিবো। জানোয়ারের দলরা আমাদের সকলের সামনে খারাপ বানিয়ে রাখলো। তাদের একবার পাই না শেষ করেই ছাড়বো আমি(রেগে)
তারপর কিছুক্ষন হস্পিটালে থাকলাম। দেখলাম সিয়াম ভাইকে ডিসচার্জ করে দিলো।
আমিঃ সিয়াম ভাই। আপনি আমার সাথে আমাদের বাসায় চলেন।
সিয়ামঃ না ভাই। আমি অন্য কোথাও চলে যাবো। যদি ফারিয়া আবার এসে আমাকে মারে! (ভিত হয়ে)
আমিঃ ভাই আমি প্রমেস করে বলতেছি সে আপনাকে না কেউকে কিছুই করবে না। আপনি আমার সাথে আসুন।

তারপর আমি আর তানভির মিলে সিয়ামকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে যাই। বাড়ি যাওয়ার আগেই আমি আম্মুকে ফোন করে সব বলে দি। তাই আম্মুও গেষ্ট রুমটা ঠিক করে রাখে।
আমি আর তানভির মিলে সিয়ামকে ধরে নিয়ে গেষ্ট রুমে শুয়ে দি। আর রেষ্ট নিতে বলে সিয়ামকে গেষ্ট রুমে রেখেই আমরাও গেষ্ট রুম থেকে বেরিয়ে আসি।
তারপর আমি আর তানভির আমার রুমে গিয়ে ফ্রেস হয়ে নি। আমার কাছে থাকা পিস্তলটা বের করে ড্রয়ারে রেখে দি। আর তাতে তালা মেরে দি। কারণ আমি জানি এখন আর এটা প্রয়োজন হবে না।
দুপুর বেলা

সিয়ামকে কোনো মতে ধরে আমি আর তানভির মিলে হাত মুখ ধুয়ে দি। তারপর তাকে ধরে নিয়ে যাই টেবিলে।
আম্মু আমাদের খাবার দেয়। আর আমরাও খেয়ে নি।
এরপর সিয়ামকে তার রুমে নিয়ে যাই। আর ওষধ ছিলো তা খাওয়াই দি। আর তাকে রেষ্টের জন্য তার রুমে রেখে দি। আমি আর তানভির আমার রুমে চলে যাই।
সেখানে গিয়ে আমরা দুজনেই লেটিয়ে পড়ি। আর শুয়ে থাকতে থাকতে ঘুম চলে আসে।


পর্ব ৭

সেখানে গিয়ে আমরা দুজনেই লেটিয়ে পড়ি। আর শুয়ে থাকতে থাকতে ঘুম চলে আসে।
সন্ধা বেলা।
আমরা শোয়া থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে নিলাম। তারপর চলে গেলাম সিয়ামের রুমে। দেখলাম সিয়াম ভাই এখনো ঘুম।
আমিঃ সিয়াম ভাই। উঠেন সন্ধ্যা হইছে!
তানভিরঃ সিয়াম ভাই। আরো কতো ঘুমাবেন। এই রকম ভাবে ঘুমাইলে তো রাতের ঘুম বেহেস্তে হা হা হা।
সিয়ামঃ এম্ম। উঠতেছি তোরে ভাই!

তারপর সিয়ামকে উঠিয়ে দিলাম। আর সেও চলে গেলো ফ্রেস হতে! তারপর ফ্রেস হয়ে বেরিয়ে আসে।
সিয়ামঃ ভাই আবারো ধন্যবাদ আমার বিপদের সময় পাশে থাকার জন্য।
আমিঃ আরে ভাই কয়বার বল্মু এটা আমাদের কর্তব্য।
সিয়ামঃ আচ্ছা ভাইয়ারা আমরা কি বন্ধু হতে পারি। আসলে ভাই শব্দটা শুনতে শুনতে কান পচে গেছে!
তানভিরঃ আসলে ঠিকি বলছেন। এই ভাইটা বলা ও শুনা অনেক বিরক্তির লাগে। তবে অন্তরকে ভাই ডাকলে কেন জানি ভিতর থেকে অনেক ভালো লাগে!
আমিঃ সালা আমাকে ভাই না ডাকলেও চলবে শুধু পারলে ভাইয়ের মতো একটু রিস্পেক্ট করিস এতোটুকুই আমার জন্য অনেক। আর পারলে দুলা ভাই বানা সেটাতে আমার অসুবিধা নাই।

তানভিরঃ অ্যাহ
আমিঃ সালা তুই অ্যাহ বাহির করতেছি বলে দিলাম কি ঘুসি!
কিছুক্ষন তানভিরকে ইচ্ছা মতো কেলানি দি। যা দেখে সিয়াম হাসতে লাগে!
আম্মুঃ কিরে তোরা এই রকম কুস্তি লড়তেছিস কেন? অন্তর ছাড় তানভিরকে! (ধমক দিয়ে)
আমিঃ আম্মু এই হারামজাদা অতিরিক্ত লেভেলের বিটিস।
তানভিরঃ কেন। আমি কি তোরে এখনো বলছি “বাবু খাইছো”
আমিঃ সালা কুত্তা! । তুই আজকে শেষ। (রেগে)

বলেই দিলাম তানভিরকে দোড়ানি। আসলে এই “বাবু খাইছো ডাইলগটা শুনলে ইচ্ছা করে যে হারামজাদা আমার সামনে এটা বলে তারে উদুম কেলাইতে। পূরাই আজাইরা আর নেকামি মার্কা ডাইলগ। যা শুনলে মাথা পূরাই হ্যাং হয়ে যায়
তারপর আমরা চার জনে মিলে নাস্তা করে নি। এরপর আমি সিয়াম তানভির আড্ডায় ব্যস্থ আজকে পড়া শুনা বেহেস্তে!
রাতের বেলা

আব্বু আসে। এসেই আমার খবর না নিয়ে সোজা সিয়ামের খবর আর তানভিরের খবর নিতে ব্যস্থ। মনে হতে লাগলো এটাই কি আমার আব্বু! নাকি কেউ প্লাস্টিস সার্জারি করে আব্বুর চেহারার মতো করে চলে আসছে। পরে আব্বুর ধেয়ান গেলো আমার দিকে।
রাতে আমরা সকলে একত্রে ডিনার করি। তারপর সিয়ামকে ওষধ খাইয়ে দি। আর শুয়াই দি। আমি আর তানভির আমার রুমে চলে যাই। সালা তানভির কতো বার বলছে সে হোস্টেলে যাবে! আমি যাইতে দি নাই।
আমি আর তানভির ডাইরেক্ট আমার রুমে গিয়ে দিলাম ঘুম
সকাল বেলা
অন্তর! তানভির!

কিরে হারামি হগল কলেজে যাবি না!
সাথে সাথে আমি আর তানভির লাফিয়ে উঠি।
আমিঃ কিরে সিয়াম তুই এখানে কি? সালা যা রেষ্ট কর! এখানে আসলি কেন?
সিয়ামঃ হ। এমন ভাবে বলতেছিস মনে হয় আমি সিরিয়াস অবস্থায় আছি। আরে হারামি আমার জাষ্ট একটু শরীরে আঘাত লাগলো। আর হাতটাই তো ভাঙ্গলাম এতে এতো সিরিয়াস হওয়ার কি আছে। সালারা উঠ। কলেজে যাবি না!

তানভিরঃ জি সিয়াম ভাইয়া। আমরা তো কলেজে যাইনা। আমরা তো সারাক্ষন আড্ডা বাজিতেই মেতে থাকি।
সিয়ামঃ সালা যা বেটা আমি কলেজে যাইতে পারতেছিনা কারণ আমার হাত ভাঙ্গা বলে। নাহলে আমি কি কলেজ মিস দিতাম।
আমিঃ সালা আসলে বলতো। তুই কি সত্যি কলেজে পড়তে যাইতে যাইতি নাকি? অন্য কিছু!
সিয়ামঃ পড়তে যাইতাম আর অন্য কিছুর জন্যেও।
সিয়ামের কথা সুনে আমি আর তানভির থ হয়ে গেলাম।
তানভিরঃ ওরে বাটপার!
আমিঃ ওরে ছিটার।

সিয়ামঃ ডাইলক বাজি বন্ধ কর। সালা কলেজে যা।
তারপর আমি আর তানভির উঠে ফ্রেস হয়ে নিলাম। এরপর আমরা ৩জনেই চলে গেলাম নাস্তা করতে। টেবিলে আমরা ৫ জন বসা। আমি। আম্মু। আব্বু। তানভির। ও সিয়াম।
আমরা নাস্তা করে নিলাম। যেহুতু সিয়াম অসুস্থ তাই আমি তানভিরকে বললাম বাসায় থাকতে আর আমি কলেজে গেলাম।
কলেজে আসার আমার কোনোই ইচ্ছাছিলো না। কিন্তু সেই জানোয়ার এমপি মরছে কি না তা জানতেই আমি আসলাম। আর এমনেও দুদিন আমার কলেজ মিস গেছে।
আমি কলেজের গেট দিয়ে ডুকলাম। সবাই আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। কারণ তারা হয়তো ভাবছে। কাল আমাকে যেভাবে নিয়ে গেছে মনে করলো কালই আমাকে শেষ দেখতেছে কিন্তু তারা তো আর জানে না। আমাকে শেষ দেখবে নাকি আমি সবাইকে শেষ দেখাই হা হা হা।
সাথে সাথে অভনি আমার কাছে দোড়ে আসে।

অভনিঃ অন্তর! তুই ঠিক আছিস? (অবাক হয়ে)
আমিঃ হুম। আল্লাহ বাচাইছেরে কালকে একজন এসে আমাকে বাচায়। তবে তার চেহারা দেখি নাই। তাকে দেখে লিটন ও তার ছেলেপেলে প্রায় ভয় পেয়ে গেছে। সে আমাকে সবার সামনে থেকে নিয়ে যায়। কিন্তু কেউ আমাকে একটা টোকাও দিতে পারে নাই। আমি আরো দেখলাম সেই ছেলেটাকে দেখে প্রায় সকলে ভয় পেয়ে গেছে। কিন্তু দুঃখের কথা সে হুডি আর মাস্ক পড়ে থাকার কারণে তার চেহারা দেখতে পারি নাই আমি। জানিস আমাকে লিটন ভাই যেভাবে নিয়ে গেছে আমি তো মনে করছিলাম আমি শেষ।
অভনিঃ আচ্ছা ফারিয়া তো বলছে তুই নাকি তার সাথে কি অসভ্যতামি করছিস তাই বলে এমন করছে!

আমিঃ অসভ্যতামি! আর আমি! তাও ফারিয়া আপুর সাথে? আমার মরার এতো শখ নাই। আর তুইও ভালো করেই জানিস আমি এই সব জামেলা মারপিট সহ্য করতে পারি না। আর আমি কিনা সেই লেডি মাফিয়া ফারিয়ার সাথে অসভ্যতামি করবো। কাল ভুল করে ওনার সাথে একটা ধাক্কা খাইছিলাম সেটাতেই উনি ক্ষেপে যায়। আর কাল তো আমাকে যেভাবে নিয়ে গেছে আমার তো মনে হইছিলো এই শেষ দেখা দেখলাম তোদের। কিন্তু আল্লাহ আমাকে বাচাইছে। উফ।
অভনিঃ যাক বাবা। তবে আমার মনে হয় সেই ছেলেটা আর কেউ না মাফিয়া কিং ডেভিল! কারণ আর কারো ক্ষমতা নাই তোকে বাচানোর! তার মানে সে এই শহরে চলে আসছে! (অবাক হয়ে)

যা সালা এটা কি করলাম আমি! নিজের আসার কথা নিজেই প্রকাশ করে দিলাম। এখন তো অনেক বড় সমস্যায় পড়বো আমি। আল্লাহ আমাকে সাহায্য করো। আল্লাহ আমি মাফিয়া কিং ডেভিল হইছি তার একটা উদ্দেশ্য মানুষের পাশে দাঁড়ানো। আল্লাহ একমাত্র তুমিই পারো আমাকে সাহায্য করতে “মনে মনে”
আমিঃ কি বলিস! মাফিয়া কিং ডেভিল এই শহরে চলে আসছে! এবার তো আমার রক্ষা নাই। (ভিত হয়ে)
হঠাৎ আমার মোবাইলে কল আসে। আমিও রিসিব করি।
আমিঃ হ্যালো। আসসালামুয়ালাইকুম! কে বলতেছেন?

অপরপাশঃ ভাই আমি পিন্টু! ভাই এমপির খেল খতম। সেটাই বলতে ফোন দিছিলাম।
আমিঃ কি বলেন। আমি লঠারিতে জিতে গেলাম। ও ভাই কি মজা। (খুশি হয়ে)
আসলে অভনি পাশে আছে বলেই এই ভাবে কথা বলতেছি।
পিন্টুঃ ভাই! নিশ্চই আপনার পাশে কেউ আছে। আচ্ছা পরে কথা বলবো। রাখি ভাই খোদা হাফেজ।
আমিঃ হুম আমার টিকেট এসে আমি নিয়ে নিবো।
তারপর ফোন কেটে দিলাম।

অভনিঃ কিরে তোর আবার কি হইছে?
আমিঃ আমি একটা লঠারি জিতছি সেখানে ফাষ্ট প্রাইজ হচ্ছে দুদিনের জন্য কক্সবাজারে ঘুরার সুযোগ তাও ফ্রিতে হি হি হি।
অভনিঃ ঐ তুই একা যাবি!
আমিঃ হুম। আমার তো আর gf নাই যে তাকে নিয়ে গিয়ে রোমান্টিক মুহুত্ত পার করবো।
অভনিঃ সারাক্ষন gf gf করিস। বান্ধবীকে নিয়ে গেলে কি হয়! হুম(রেগে)
আমিঃ আচ্ছা যা নিবো তোরে। খুশি!
অভনিঃ কবে যাবি সেটা বল!

আমিঃ চিন্তা করিস না গেলে তোকেও নিয়েই যাবো।
কিছুক্ষন পরে একটা কালোগাড়ি আসে। আর সোজা ক্যাম্পাশে থামে।
সেই গাড়ি থেকে লিটন ও ফারিয়া বের হয়। তা দেখে আমিও নাটক শুরু করে দিলাম।
আমি সোজা অভনির পিছে লুকিয়ে পড়ি।

অভনিঃ কিরে তুই আমার পিছে গেলি কেন?
আমিঃ অভনি আমাকে ওরা মারতে আসতেছে plz আমাকে বাচা (করুন গলায়)
আসলে এরা আমাকে মারবে হা হা হা। what a Jock। এরা আমার কাছে আসতে গেলেও গুলি খেয়ে মরে পড়ে থাকবে। কারণ ক্যাম্পাসেই আমার কিছু গার্ড ছদ্দবেশি আকারে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে। সন্দেহ জনক কেউ কে দেখলেই তার দিকে নজরদারি শুরু করে দিবে। আর যদি সিরিয়াস কিছু পায় তাহলে কথা ছাড়াই গুলি করে দিবে!
ক্যাম্পাসের সকলেই লিটন ও তার বোনের দিকে তাকিয়ে আছে আর আমার দিকেও। তারা হয়তো ভাবছে লিটন ও ফারিয়া আসছে আমাকে মারতে কিন্তু তারা তো আর জানে না যে যাকে তারা সিদাসাদা ভদ্র ছেলে মনে করছে আসলে সে একটা ছদ্দবেশি শয়তান হা হা হা।

লিটন : আমি আপনাদের সকলের কাছে কিছু কথা বলতে চাই। এতো দিন আমি ও আমার বোন আপনাদের উপর অনেক অন্যায় করে ঘুড়ে বেড়ালাম কিন্তু কাল আমি রিয়েলাইজ করলাম আমি আপনাদের সাথে অন্যায় করছি। আজ আপনাদের জায়গায় আমি হলে আমারও অনেক কষ্ট হতো। তাই আমি ও আমার বোন ফারিয়া সবার কাছ থেকে ক্ষমা চাচ্ছি।

আমি অভনির পিছন থেকে ইশারার সাহায্যে বললাম স্যার মেডামদের পা ধরে ক্ষমা চাইতে!
সাথে সাথে তারাও লেগে পড়ে। নাহলে তো গোপনে বা প্রকাশেই হোক তাদের সোজা Knock Out করে দিতাম।
অভনিঃ অন্তর এটা কি হলোরে? (অবাক হয়ে)
আমিঃ আমিও তো থ হয়ে গেলাম কান্ডটা দেখে। কিন্তু হঠাৎ তারা এতো পরিবর্তন হয়ে গেলো কিভাবে?
অভনিঃ মনে হয় কেউ তাদের ডোজ দিছে (হেসে)

ঠিকিই বুঝছিস বান্ধবী। তাদের সেই লেভেলের ভয় এর ডোজ দেওয়া হয়। হা হা হা “মনে মনে”
কিছুক্ষন পরে একটা একটা ছেলে চিৎকার করে উঠে। আমি তো প্রায় ভয় পেয়ে গেলাম।
ছেলেটা দোড়ে আমাদের কাছে আসে আর বলে।
ছেলেটাঃ আমাদের সেই এলাকার সেই জানোয়ার এমপি খুন হইছে (খুশি হয়ে)

এই কথাটা সুনার পর সবাই অবাক হয়ে গেলো। কারণ তারা ভাবতেও পারে নাই মাফিয়া কিং ডেভিলের সাথে যার কন্ট্রাক্ট আছে সে কিনা খুন হবে। আসলে আগেই বলছিলাম এই জানোয়ারকে আমি চিনিই না। সে নিজেকে মাফিয়া কিং ডেভিলের লোক বলে পরিচয় দিছে আর কু-কাজ করেই বেড়াইছে। কিন্তু সে তো আর জানে না ডেভিলের উদ্দেশ্যকি হা হা হা তাই সে আমার নাম মিসইউজ করে মরতে হইছে। Im Devil For Devils।
আমিঃ অ অ অ ভনি এটা কি বলল সে? এমপি খুন হইছে? (ভিত হয়ে)

অভনিঃ Yessss। এই জানোয়ারটাও মরছে। যাক আজ অনেক ভালো লাগতেছে আমরাও ন্যায় বিচার পেয়ে গেলাম।
এমপির মৃত্যুর খবর শুনে সকলে তো খুশি কারণ এমপি মানুষটা তো খারাপ তাই কেউ তার মৃত্যুতে আপসোস করলো না।
আমি ডেভিল হওয়ার মূলউদ্দেশ্য হলো নিরিহ মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও তাদের ন্যায় বিচার পাইয়ে দেওয়া। তবে ন্যায় বিচার না পাইয়ে দিতে পারলেও ন্যায় বিচার তো করতে পারলাম।

আজ সত্যি অনেক ভালো লাগতেছে। কারণ আজ আমি গোটা কলেজের মানুষের মুখের হাসির কারণ। সত্যি আজ মনে মনে হচ্ছে আমার ডেভিল হওয়াটা সার্থক হইছে।
আজ আমার কারণে লিটন ও ফারিয়ার মাফিয়া গিরি বন্ধ হয়ে গেলো। আর জানোয়ার এমপিও খতম। আজ সকলেই মহাখুশি। কারণ তারা এখন থেকে স্বাধীন ভাবে চলতে পারবে বলতে পারবে। মজা করতে পারবে আর কেউ তাদের আটকাতে পারবে না।
এইভাবে ছদ্দবেসি ডেভিল মানে সকলের সামনে innocent হয়ে ৩টা মাস কাটিয়ে দিলাম।
৩মাস পর।

আমি। সিয়াম। তানভির। অভনি। রোকসানা আমরা ৫ জনেই ক্যাম্পাসে বসে আড্ডা দিচ্ছি।
হঠাৎ তানভির বলে উঠে।
তানভিরঃ অন্তর আমি কিছুদিনের জন্য চট্টগ্রাম যাবো।
আমিঃ কেন? সেখানে কে আছে রে তোর?

তানভিরঃ সালা আমার অনেক সার্টিফিকেট সেখানে। তাই গিয়ে সার্টিফিকেট নিবো আর কয়েক দিন ঘুরেও আসি।
অভনিঃ নাকি তুই আর অন্তর মিলে কক্সবাজার যাওয়ার প্লেন করতেছিস। এই হারামি বলছিলো আমাকে নিয়ে যাবে কিন্তু এখন পর্যন্ত নিলো না!
আমিঃ হায়রে খোদা মাইয়া এমন ভান করতেছে মনে হয় আমি তার কোন যুগের বিএফ লাগি।
অভনিঃ তো লাগিস না তুই! আর Bf শুধু বয়ফ্রেন্ড হয় নাকি বেষ্ট ফ্রেন্ডও তো হয়।

আমিঃ এরে অভনিরে আমি তো মনে করলাম তুই আমাকে প্রপোজ করবি কিন্তু তুই তো আমাকে ২কেজি ছ্যাকা দিয়ে দিলি(করুন গলায়)
হঠাৎই ফারিয়ার আগমন। তবে সে এখন গার্ড ছাড়াই চলাচল করে। কারণ কলেজে আবার কিসের গার্ড লাগে। হুদাই সো অফ করে লাভ আছে?
ফারিয়াঃ অন্তর তোমাকে আমার কিছু বলার আছে!
আমিঃ আ আ আমাকে? আমাকে আবার কি বলবেন আপু? (ভিত হয়ে)
ফারিয়াঃ কি নাটকটাই করে বাবারে! যেকেউ ধোকা না খেয়ে পারবে না। এই শয়তানটা তো এই কয়েক মাসে সকলের মন জয় করেই বসে আছে। কিন্তু সবাই তো আর জানে না এই আসলেই একটা ভদ্র-শয়তান “মনে মনে”
আমি দেখলাম ফারিয়া কি ভাবতেছে?

আমিঃ আ আ আপু কি কি কিছু বলবেন?
ফারিয়াঃ হুম। একটু সাইডে আসবা! plz!
ফারিয়া আমাকে সাইডে কেন ডাকতেছে? নাকি কোনো গোপন কথা বলতে চায়! না যেতে তো হচ্ছে “মনে মনে”
আমিও ফারিয়ার সাথে কলেজের এক সাইডে গেলাম।
আমিঃ হুম বলেন! কি বলবেন? (সিরিয়াস হয়ে)
এরপর যা করলো তার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।


পর্ব ৮

এরপর যা করলো তার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।
ফারিয়া সোজা আমাকে দেয়ালের সাথে ধাক্কা দেয় আর সে আমাকে ঝাপটে ধরে।
আমিঃ এই বেয়াদব মেয়ে কি করতেছিস তুই? (রেগে)
ফারিয়াঃ আমি বেয়াদব তাই না। তাই তো কেউ আমাকে জোর করে কিস করে (রেগে)

আমি কথাটা চুপ হয়ে গেলাম। আসলে রাগের মাথায় আমি কখন কি করি আমি নিজেও জানি না। আর সেটা আমি ভুল করেই এমনটা করে ফেলি।
ফারিয়াঃ তোমার ঐ কিসটার জন্য আমার সব সম্মান চলে গেছে। আমি এখন সমাজে মুখ দেখাতে পারি না। সবাই জেনে গেছে তুমি আমাকে কিস করছো। (করুন গলায়)
আমিঃ আরে ঐ জাষ্ট একটা এক্সিডেন্টছিলো। আর রাগের মাথায় আমি কখন কি করি নিজেও জানি না। আর তার জন্য সরি!
ফারিয়াঃ তোমার সরির গুষ্টিরে আমি কিলাই। আমার সব শেষ করে দিলা তুমি! এখন আমাকে বিয়ে করতে হবে তোমাকে!

ফারিয়ার মুখ দিয়ে বিয়ের কথাটা শুনে থ হয়ে গেলাম। সেদিন রাগের মাথায় আমি একটা ভুল করলাম আর এখন সেডাইরেক্ট বিয়ে পর্যন্ত চলে গেলো। আল্লাহ আমাকে বাচাও “মনে মনে”
ফারিয়াঃ তোমার জন্য আমার সব শেষ হয়ে গেলো। এখন আমাকে তোমার বিয়ে করতেই হবে নাহলে আমি সুইসাইড করবো(করুন গলায়)
আমিঃ এই ছেমড়ি! কি মনে করিস তুই নিজেকে। হ্যা! সুন্দর ভাবে কথা বলতেছি তো তাই এমন করছিস! সোজা বলতেছি আমার পিছে লাগিস না। আর কথা রইলো বিয়ের। আমার কি চয়েস এতোই খারাপ যে তোকে বিয়ে করবো। আর তুই কি মেয়ে? একবার নিজের দিকে দেখ আর কোন দিক দিয়ে মেয়ে লাগিস তুই? আমি কেন? কেউ তোকে বিয়ে করবে না। কারণ তুই তো মেয়েই না। (রেগে)

ফারিয়াঃ কিহহহহহ! আমি মেয়ে না! এই তুই কিভাবে এই কথাটা বললি আমি মেয়ে না? (রেগে)
আমিঃ কোন দিক দিয়ে মেয়ে মনে হয় তোকে? নিজের দিকে দেখ। সেই ছেলেদের মতোই তো সার্ট-পেন্ট পড়ে আছিস! যে ছেলেদের মতো সার্ট-পেন্ট পড়ে গুন্ডামি করে বেড়ায় সে কি করে মেয়ে হতে পারে?
ফারিয়াঃ ঠিক আছে। আমি যদি আমার ড্রেসআপ চেঞ্জ করি তাহলে তো বিয়ে করা আমাকে তাই না!
আমিঃ বিয়ে আর তোর মতো মেয়েকে Impossi- এম্মম্মম্মম্মম্মম্ম।
আমার পূরা কথা শেষ করতে না দিয়ে ফারিয়া তার ঠোট জোড়া দিয়ে আমার ঠোট জোড়া ধকল করে নিলো।
প্রায় ৩। ৪মিনিট পর আমাকে ছেড়ে দেয়!
আর আমি তো হাপাচ্ছি। সাথে ফারিয়াও।

আমিঃ এই জানোয়ারের বাচ্চা! এটা তুই কি করলি! আমি না হয় ভুল করে সেই দিন এই কাজটা করলাম কিন্তু তুই এটা করলি কেন? (হাপাতে হাপাতে! )
ফারিয়াঃ সেদিন আমাকে দিলা। তাই এখন আমিও দিয়ে দিলাম আর কি(হেসে)
আমিঃ জানোয়ারের বাচ্চা! তোকে তো আমি! (এগিয়ে গিয়ে)
ফারিয়াঃ আরো একটা চাই না কি গো! (মজা করে)
আমিঃ নাআআআআআ।

বলেই দিলাম দোড়। আজ প্রথম আমি কোনো কারো ভয়ে দোড়ালাম। ইজ্জতের ফালুদা হয়ে গেলো। যে ছেলের ভয়ে গোটা আন্ডারওয়াল্ট ভয়ে থাকে আজ সেই ছেলে কিনা একটা মেয়ের ভয়ে দোড় দিলো। ওয়াক থুউউ অন্তর তোর উপর।
আমি ডাইরেক্ট ক্যাম্পাস দিয়ে দোড়ালাম আমার দোড় দেখে আমার বন্ধু-বান্ধবীরা থ হয়ে গেলো।
রোকসানাঃ এই অন্তর এভাবে কুকুরের মতো দোড়ে কই যাস তুই?

আমিঃ কুত্তি দোড়নি দিলো তাই আমিও কুকুরের মতো দোড়ে বাসায় যাচ্ছি।
বলে দিলাম আরো জোড়ে দোড়। আর এক দোড়ে ডাইরেক্ট বাসায়।
বাসায় গিয়ে সোজা রুমে চলে যাই। সেখানে গিয়ে খেয়াল করলাম ঘামে আমি কাইল হয়ে আছি। তাই চলে গেলাম। গোসল করতে। গোসল শেষ করে খাটে একটু শুয়ে পড়ি। আর আজকে ফারিয়া আমার সাথে কি করলো তা ভাবতে লাগি।
কিছুক্ষন পর আম্মু খাবারের জন্য ডাক দেয়। আমিও সেখানে গিয়ে খাবার খেতে লাগি।
আম্মুঃ কিরে আব্বু তোকে একটু চিন্তিত মনে হচ্ছে?

আমিঃ কিছু না আম্মু এমনেই।
তারপর খাবার খেয়ে নিলাম। খাবার শেষ করে রুমে চলে গেলাম। দোড়ানোর জন্য প্রচুর ক্লান্ত আমি। তাই চিন্তা করলাম একটা পাওয়া নেপ দেওয়া উচিত। তাই আমি লেটিয়ে পড়ি খাটে। আর চোখ বন্ধ করে রাখি। আর কখন ঘুমের রাজ্য চলে যাই নিজেও জানি না।
সন্ধ্যা বেলা
আমি আমার ঘুম ভাঙ্গলো। তবে চোখ বন্ধ করে আছি। আসলে শরীরে আলসতা চলে আসে। কিন্তু খেয়াল করলাম। আমার শরীর ভারি হয়ে আছে!

কিরে ভাই এমন কেন মনে হচ্চে আমার ওজন বেড়ে গেলো? আমি কি দুপুরে বেশি খেয়ে ফেললাম নাকি। আর এক বেলায় খেয়ে কেউ ওজন বাড়াতে পারে নাকি! “মনে মনে”
হঠাৎ কারো ঠোটের ছোয়া আমার গালে অনুভব করলাম। সাথে সাথে লাফিয়ে উঠি। আর যা দেখলাম অবাক না হয়ে পারলাম না আমি! কারণ এতোক্ষন ফারিয়া আমার উপরে শুয়ে ছিলো। আর আমি লাফিয়ে উঠাতে সেও চমকে যায়।
আমিঃ এই তুই এখানে কি করিস?
ফারিয়াঃ বা রে আমি আমার শশুর বাড়িতে আসতে পারি না!
আমিঃ কিসের বাড়ি?

ফারিয়াঃ শশুর বাড়ি আর কি! (হেসে)
আমিঃ তুই আমাদের বাড়িতে আসলিই কি করে? আর আমাদের বাড়িতে ডুকলিই বা কি করে? জানোয়ারের বাচ্চা আমার আম্মুকে কি করছিস তুই? (রেগে)
ফারিয়াঃ আরে আম্মুই তো দরজা খুলে আমাকে বাড়িতে ডুকতে দেয়!
আমিঃ আম্মু দরজা খুলে ডুকতে দিছে মানে! এক মিনিট কি বললি তুই? আম্মু মানে? এই তুই কাকে আম্মু ডাকতেছিস? (রেগে)
ফারিয়াঃ দাড়াও। দেখাচ্ছি কাকে আম্মু ডাকতেছি!
ফারিয়াঃ আম্মুউউউউউউউউউ(চিৎকার দিয়ে)

আমিঃ এই ছেমড়ি! চিৎকার দিচ্ছিস কেন?
সাথে সাথে আম্মুর আগমন!
আমিঃ আম্মু! এই মেয়েটা এখানে কি করতেছে! আর সবচেয়ে বড় কথা এই মেয়েটা আমাদের বাড়িতে কি করতেছে(বিরক্ত হয়ে)
আম্মুঃ দাড়া দেখাচ্ছি!
বলেই আমার রুমে একটা শলার ঝাড়ুছিলো সেটা হাতে নেয়!

আমিঃ আম্মু। তুমি এটা হাতে নিলা কেন?
আম্মুঃ শয়তান ছেলে তোর খবর করার জন্য এটা হাতে নিছি
বলেই ঝাড়ু নিয়ে আমাকে দিলো দোড়ানি! আর কাছে পেয়ে যায় আর সেই ঝাড়ুটা দিয়ে ইচ্ছা মতো মারতে থাকে!
আম্মুঃ শয়তান ছেলে। তুই একটা মেয়ের সাথে রিলেশন করে এখন তাকে ছেড়ে দিছিস তাই না। রিলেশন কি টাইমপাসের জিনিস। (বলতেছে আর মারতেছে)
আমিঃ বিশ্বাস করো রাসেল ভাই। থুক্কু বিশ্বাস করো আম্মু আমি এই মেয়ের সাথে কোনো রিলেশন টিলেশন করি নাই। বরং আমি কেন আমার চোদ্দগুষ্টিও এর সামনেও যাইতেও পারবে না আম্মু কারণ সে……..

আমার কথা শেষ করার আগেই ফারিয়া আমার কথার মাঝে বলতে লাগে
ফারিয়াঃ আম্মু। দেখ আমার সাথে রিলেশন করে এখন আমাকে এই ভাবে অবহেলা করতেছে। আম্মু আমি কিন্তু সুইসাইট করবো(নেকা কান্না করতে করতে)
আম্মুঃ ফারিয়া মামনি! তুই আমাকে আম্মু ডাকছিস। আর যদি মরতেই হয় তাহলে এই ফাজিলটাই মরবে! তুই না। তুই আমার সাথে আয় আমি তুই নাস্তা করবো। আর এই তুই আজ থেকে এই ঘরে কিছুই পাবি না!
আমিঃ আম্মু বিশ্বাস করো। এই মেয়েটা মিথ্যা বলছে! আম্মু আমি এই মেয়ের সাথে কেন! কোনো ছেলেই এই মেয়ের পিছে লাগবার মতো সাহস পাবে না। আম্মু এই মেয়েটা ঢাকার……

ফারিয়াঃ আম্মুউউউউউউ দেখ ও আমাকে কিভাবে কথা সুনাচ্ছে! (ভ্যা করে কান্না করে দিলো)
আম্মুঃ এই তুই আমার মেয়েকে এভাবে কথা সুনাচ্ছিস কেন?
আমিঃ এই তোমার মেয়ে মানে? (অবাক হয়ে)
আম্মুঃ হ্যা ও আজ থেকে আমার মেয়ে! আর তুই আমার ছেলে না(রেগে)
আমিঃ আম্মু। মেয়ে পেয়ে ছেলেকে ভুলে গেলা। (করুন গলায়)

আম্মুঃ চুপ! একদম কথা কথা বলবি না। (রেগে)আর ফারিয়া মামনি তুমি আমার সাথে চলো আমরা নাস্তা করবো (মিষ্টি গলায়)
তারপর আম্মু চলে গেলো।
আমিঃ জানোয়ারের বাচ্চা তুই আমার বাসায় এসে আমার আম্মু আদর থেকে আমাকেই বঞ্চিত করলি। তোকে এর ফল পেতে হবে! (রেগে)
ফারিয়াঃ আমি কই তোমার আম্মুর আদর থেকে তোমাকে বঞ্চিত করলাম!

আমিঃ দেখলি না আম্মু আমার সাথে কেমন ব্যবহার করলো তাও তোর জন্য। তোকে তো আমি
বলেই দিলাম দোড়ানি আর সেও দিলো দোড় আর এক দোড়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায়।
আজ এই মেয়েটা আমার বাড়িতেই আমাকে আমার আম্মুর আদর থেকে বঞ্চিত করে এতিম বানিয়ে দিলো! না এর শেষ দেখেই ছাড়বো আমি।
আমিও চলে গেলাম ফ্রেস হতে। ফ্রেস হয়ে এসে আমি খাটে অসহায় এর মতো বসে আছি। কি আর করবো বলেন! নিজের বাসায় নিজেই হুদাই ঝাড়ি খাইলাম কোনো কারণ ছাড়াই। আমি এখানে ক্ষিদায় মরতেছি অন্যদিকে আম্মু ও সেই গুন্ডি মাইয়াটা বসে বসে নাস্তা করতেছে।
হঠাৎই আমার কল বেজে উঠে। দেখলাম তানভির ফোন দিলো।

আমিঃ হ্যা তানভির বল!
তানভিরঃ দোস্ত আমি আজই চট্টগ্রাম যাবো। আর টিকেট ও কেটে রাখছি ৮:০০ বাস ছাড়বে।
আমিঃ ওকে আমিও আসতেছি।
তারপর ফোন কেটে দিলাম। আর আমিও রেডি হয়ে নিলাম আর রুম থেকে বেরিয়ে আসলাম আমি হল রুমে আসতেই দেখলাম আম্মু আর সেই ডাইনিটা গল্প করতেছে যা দেখে আমার শরীরে আগুন লেগে গেছে মনে হচ্ছে।
আমিও বাহিরে যেতে লাগি।

আম্মুঃ কিরে কোথায় যাচ্ছিস?
আমিঃ মরতে যাইতেছি (বিরক্তি ভাব নিয়ে)
আম্মুঃ আচ্ছা শুন। আসার সময় আমার মামনিটার জন্য আইসক্রিম নিয়ে আসিস।
আমিঃ

আম্মুঃ কিরে কি দেখিস! যা তারাতারি(রেগে)
আম্মুর এমন ব্যবহার দেখে কলিজায় আঘাত লাগলো। আজকে পরের মেয়ে পেয়ে আপন ছেলেকে ভুলে গেলো। এখানেই তো কষ্ট লাগেরে ভাই।
এই সকল কষ্ট নিয়ে চলে গেলাম বাস স্টেশনে। কিছুক্ষন পরে তানভিরও আসে।
এরপর দুজনেই নাস্তা করে নিলাম আর আজকে আমার সাথে কি কি ঘটলো সব বললাম।
তারপর কিছু সময় তানভির এর সাথে পার করে তানভিরকে বাসে উঠিয়ে বিদাই দিলাম।
এরপর আইসক্রিম নিয়ে বাসায় গেলাম।

আম্মুঃ ঐ এতো দেরি কেন হইছে! (রেগে)
আমিঃ মরার জন্য রাস্তা খুজতে গেছিলাম তাই দেরি হইছে!
আম্মুঃ মরতে গেছিস ভালো কথা আগে আইসক্রিমটা তো দিয়ে যেতি তারপর রাস্তা খুজতি। (আইসক্রিম নিয়ে)
আমি দেখালাম আমার আব্বাজান ও সেই কাল নাগিনীর সাথে আড্ডায় মেতে আসে অথচ আমি আজকে নাস্তা করি নাই আম্মু তা জানার শর্তেও আমাকে একবারও নাস্তা কথা জিজ্ঞেসা করে নাই।

এভাবে দুইটা দিন ধরে আমি নিজ বাড়িতে আছি থিকি কিন্তু এতিমের মতো। সেই ডাইনিটা এসে আমার জায়গা দখল করে নিলো আর আমাকে আমার বাড়িতেই অসহায় বানিয়ে ছাড়লো!
ভোর বেলা।
আমি ঘুমাচ্ছি হঠাৎই আমার ফোন বেজে উঠে। আমিও রিসিব করি।
আমিঃ হ্যালো আসসালামুয়ালাইকুম! কে বলছেন?
এরপর যা শুনলাম তা শুনে আমার মোবাইল হাত থেকে ছুটে পড়লো।


পর্ব ৯

এরপর যা শুনলাম তা শুনে আমার মোবাইল হাত থেকে ছুটে পড়লো।
কথাটা সুনেই আমার বুকে খুব খারাপ ভাবেই আঘাত লাগলো। মনে হলো কেউ আমার বুক ছিড়ে নিয়ে গেলো।
আমিও সাথে সাথে পিন্টুকে ফোন দিলাম।
আমিঃ হ্যালো পিন্টু! কোথায় তুই! (হতাশ হয়ে)

পিন্টুঃ ভাই আমি তো বাসায়! কেন কি হইছে! আপনাকে হতাশ মনে হচ্ছে কেন? (অবাক হয়ে)
আমিঃ তুই তারাতারি আমার বাসায় গাড়ি নিয়ে আয় (কাদো কাদো গলায়)
পিন্টুঃ ভাই আপনি কান্না করতেছেন মনে হয়!
আমিঃ জানোয়ারের বাচ্চা বেশি কথা বলিস না। তারাতারি গাড়ি নিয়ে আয়। (কাদো কাদো গলায়)

তারপর ফোন কেটে দিলাম। আমার এখন অঝরে কান্না আসতেছে। আমার কলিজায় খুব খারাপ ভাবেই আঘাত লাগে যা আমি কেউকে বলে বুঝাতে পারবো না!
আমিও আমার ব্যাগ রেডি করে নিলাম আর সাথে আমি ড্রয়ার খুলে পিস্তল্টা বের করে নিয়ে আমার কাছে রাখলাম।

আমার চোখ দিয়ে অঝরো পানি পড়তে লাগলো। আমি আজ অসহায় হয়ে গেলাম মনে হচ্ছে। কারণ আমার সহায় হওয়ার মতো আমার কলিজার বন্ধু আমার কলিজার ভাই তানভির নাকি সুইসাইড করছে। যা শুনে আমার কলিজায় প্রচুপ ব্যাথা অনুভব করতে লাগলাম। কারণ সে শুধু আমার বন্ধু না সে আমার ভাই। আর গার্ডিয়েন ও ছিলো। কিন্তু কিছুক্ষন আগেই আমি ফোন পাই। কিন্তু অপর পাশে একজন পুলিশছিলো যে আমাকে এই কথাটা বলে।

আমি কোনো দিনো চাই না আমার ভাই আমার বন্ধু আমার থেকে হারিয়ে যাক।
আমি তারাহুরা করে ব্যাগ নিয়ে যেতে লাগি যার জন্য একটা আওয়াজ হয়। আর সাথে আম্মু আব্বু রুম থেকে বেরিয়ে আসে!
তারা আমাকে ব্যাগ নিয়ে যেতে দেখে অবাক হয়।
আম্মুঃ কিরে কোথায় যাচ্ছিস তুই?

আমিঃ আম্মু আমার একটা কাজ আছে তাই একটু চট্টগ্রাম যাচ্চি! (নিজেকে শান্ত করে)
আব্বুঃ হঠাৎ করে!
আমিঃ না মানে আমি একটা পরিক্ষা দিছিলাম তো সেটার রেজাল্ট আনবো আর আমার আরো একটু কাজ আছে। আচ্ছা আম্মু আব্বু আমি যাই পরে সব বলবো! আমার লেট হয়ে যাচ্ছে!
আব্বুঃ আরে আরে শুন।
আমিও কথা না বলে বেরিয়ে গেলাম।

কিছুক্ষন পরে পিন্টু গাড়ি নিয়ে আসে! আমিও গাড়িতে উঠে পড়ি।
পিন্টুঃ কি হইছে ভাই আপনার! চোখে পানি কেন?
পিন্টুকে সব বললাম। আর পিন্টুও সক খেয়ে গেলো।
পিন্টুঃ কি বলতেছেন ভাই এই সব। আর তানভির ভাই এমন কেন করবে!
আমিঃ তুই তারাতারি চট্টগ্রাম চল।

পিন্টুঃ ভাই by air এ গেলে ভালো হবে! আর আমিও আপনার সাথে যাবো! আর টিকেটের ব্যবস্থা আমি করতেছি। আপনি শান্ত হোন।

কিন্তু পিন্টুকে কি বলবো! তার কাছে তানভির হয়তো মাফিয়া কিং এর রাইট হ্যান্ড মনে হতে পারে কিন্তু আমার কাছে যে তানভির আমার ভাই আমার গার্ডিয়েন হতো। আর সে কিনা সুইসাইড করবে। কি এমন কারণে সে এমনটা করতে পারে! সে আমার কথাটা একবারো ভাবলো না। তাকে ছাড়া আমি তো অসহায়।

পিন্টু গাড়ি ডাইরেক্ট এয়ারপোটে নিয়া যায় আর আমিও ব্যাগ নিয়ে ডাইরেক্ট এয়ারপোটে ডুকে পড়ি।

পরে মনে পড়লো আমি পিস্তল নিয়ে আসছি। আর এয়ারপোর্টে একবার ধরা খেলে অনেক বড় প্রব্লেমে পড়বো।
আমিঃ পিন্টু! আমি মনে করছিলাম আমরা by road যাবো তাই আমি আমার পিস্তলটা নিয়ে আসছি।
পিন্টুঃ আসুবিধা নাই! আমি ব্যবস্থা করতেছি! আপনি আপনার পিস্তলটা দেন।
তারপর আমি আমার পিস্তলটা পিন্টুকে দিলাম। পিন্টু কাকে যেনো ফোন দেয়। আর কিছুক্ষন পরে একটা কালো গাড়ি আসে। আর সেখান থেকে একটা ছেলে বেরিয়ে আসে আর তাকে পিন্টু গুলিটা দেয়।

পিন্টুঃ দেখ। তোকে এটা যেভাবে দিচ্ছি ঠিক সেভাবেই আমাকে ফিরত দিবি!
ছেলেটাঃ জি ভাই!
তারপর ছেলেটা চলে যায়। আর আমরাও এয়ারপোটে ডুকে যাই। দেখলাম পিন্টু টিকেট কাউন্টারে গিয়ে টিকেট নিয়ে আসে।
আমাদের ফ্লাইট ৮:০০ কিন্তু এখন বাজে ৭:০০ মানে হাতে আছে এক ঘন্টা।
পিন্টুঃ ভাই আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে কিছুই খান নি। চলেন নাস্তা করি।
আমিঃ পিন্টু তুই যা খাওয়ার খা। আমার নাস্তা কেন! এক গ্লাস পানি খেতেও মনে চাচ্ছে না। (হতাশ হয়ে)

পিন্টুঃ ভাই এই সময়ে এভাবে ভেঙ্গে পড়লে চলবে না। ভাই নিজেকে শক্ত করুন। আর চলেন ভাই নাস্তা করবো! আমার ক্ষিদা লাগছে।
পিন্টু আমাকে জোর করে নিয়া যায় নাস্তা করতে।

আমি নাস্তা খাচ্ছি কিন্তু গলা দিয়ে তা নামতেছে না। বারবার সেই খাবার গলায় আটকে যাচ্ছে!
আমি বারবার ভাবতেছি তানভির কেন সুইসাইড করবে। কিসের সমস্যা ছিলো তানভিরের। তানভির সব সময় তার সকল কথা বলতো কোনো কথাই আমার থেকে লুকালো না সে। তাহলে কেন সে আজ এই কাজটা করবে!
পিন্টুর নাস্তা শেষ তবে আমি এখনো নাস্তা অধেকও খেতে পারি নাই। মন ছটফট করছে চট্টগ্রাম যাওয়ার জন্য।
কিছুক্ষন পরে আমাদের ফ্লাইট ছাড়বে তাই আমি আর পিন্টু চলে যাই আমাদের ফ্লাইটে।

আমাদের ফ্লাইট লেন্ড করতেই আমার মন আরো ছটফট করতে লাগে বন্ধুসরূপ আমার ভাইটার কাছে যেতে। আমরা এয়ারপোট থেকে বের হতেই। দেখি একটা পাজারু গাড়ি। পিন্টুও সেখানে যায় আর আমাকে গাড়িতে উঠতে বলে। আমিও কথা না বলেই উঠে যাই।

কিছুক্ষন পর তানভির এর বাসায় গেলাম। সেখানে বাসা ভর্তি মানুষ। আমার হৃতপৃন্ডের কম্পন্ন আরো বেড়ে গেলো। আমিও আসতে আসতে ভিতরে যেতে লাগলাম। সেখানে গিয়ে আমি দেখলাম আমার বন্ধু তানভির এর দেহ ফ্লোরে শুয়ানো। যা দেখে সাথে সাথে আমি মাটিতে বসে পড়ি। আর চোখ দিয়ে অঝরো পানি বয়ে পড়তে লাগলো। সেই রুমে কয়েকজন পুলিশছিলো। আমাকে মাটিতে বসে পড়তে দেখে আমার কাছে এসে আমাকে ধরে।

আমি নিস্তব্দ হয়ে গেলাম। আমি কোনো দিনো ভাবিনি আমার বন্ধুসরূপ ভাইটাকে হারিয়ে ফেলবো। এক মুহুত্তের জন্য আমি প্যারালাইড হয়ে গেলাম। না মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হচ্ছে। না শরীর নড়াতে পারছি আমি! মনে হচ্ছে আমার শরীর আছে কিন্তু আমি তার মধ্যে নেই।
পুলিশঃ উনি আপনার কে হয়!
আমিঃ কিন্তু কোনো শক্তি পাচ্ছি না আমি কথা বলার।
পিন্টুঃ আফিসার! ও বেষ্ট ফ্রেন্ড হয় ওর।

পুলিশঃ ওহ। আচ্ছা যিনি সুইসাইড করছে তার মা-বাবা কোথায়?
পিন্টুঃ আসলে তানভির ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে থাকা অবস্থায় তার মা-বাবা এক দূঘটনায় মারা যায়।
পুলিশঃ sorry To say। কিন্তু এই ছেলেটা মাফিয়া কিং ডেভিল এর রাইট হ্যান্ডছিলো।
পিন্টুঃ কি বলতেছেন আপনি? (অবাক হওয়ার নাটক করে। কারণ যদি এখন সত্যিটা প্রকাশ পেয়ে যায় তাহলে আমাদেরই সমস্যা হবে)
পুলিশঃ হ্যা। আর সে সুইসাইড করার আগে দুটা সুইসাইড নোট লিখে যায়। একটা অন্তর এর জন্য আর একটা ডেভিলের জন্য। দাড়ান আমি আপনাদের দেখাই।
পুলিশ পিন্টুকে সেই দুইটা সুইসাইড নোট দেখায়।

আর এই দিকে আমি মরার মতো পড়ে আছি। পিন্টু আমার কাছে এসে বলে
পিন্টুঃ ভাই। তানভির ভাই দুইটা সুইসাইড নোট রেখে গেছে আপনার জন্য।
কথাটা শুনেই আমি হাউমাউ করে কান্না করে দিলাম। আমি চিৎকার করে করতে লাগলাম। কারণ আমি আমার ভাই আমার বন্ধু আমার বেষ্ট ফ্রেন্ড আমার গার্ডিয়েন কে হারিয়ে ফেলছি।
আমার কান্না দেখে পুলিশ আর পিন্টু মিলে আমাকে শান্তনা দিতে থাকে। কিন্তু আমি অঝরো কান্না করেই যাচ্ছি। কারণ আজ আমার জীবন থেকে আমি অনেক মূল্যবান কিছু হারিয়ে ফেললাম। যা আর ফিরে পাবো না।

পুলিশঃ লাশ পসমডামের জন্য পাঠানো লাগবে!
পিন্টুঃ জি পাঠাতে পারেন।
তারপর তানভিরের লাশ পসমডামের জন্য নিয়ে যায়। আর পিন্টু আমাকে ধরেই রাখে।
পিন্টুঃ ভাই শান্ত হোন। এখন আর কান্না করে লাভ নেই ভাই। তানভির ভাই আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। এখন আমরা তার আখিরাতের জন্য দোয়া করলেই ভালো হবে ভাই।
আমি কান্না থামাতে চাচ্ছি কিন্তু থামাতে পারছি না।

পসমডামের পর আমাদের লাশ দেওয়া হয় আর আমরাও সেই লাশ নিয়ে চলে যাই।
যোহরের নামাজের পর জানাযার নামাজ শেষ করে তাকে আমরা চট্টগ্রামেই তাকে তার মা-বাবার সাথে দাফন করি।
আজ আমাকে একা একা লাগছিলো। অন্য সময় তানভির এর সাথে কথা হতো আড্ডা হতো কিন্তু আজ সে আমাদের মাঝে নেই।
পিন্টুঃ ভাই অনেক হইছে এবার থামেন! আর কান্না করলে সে তো আর ফিরে আসবে না!
আমিঃ কি এমন কারণছিলো! যার জন্য তানভির আমাকে এভাবে একা করে চলে গেলো। সে তো আমাকে ভাই মানতো তাহলে আজ এই ভাইটাকে কেন একা করে চলে গেলো।
বলেই কান্না করে দিলাম।

পিন্টুঃ ভাই বাদ দেন। আর তানভির ভাই সুইসাইড নোট রেখে গেছে সেটা একবার দেখেন।
তারপর আমি আর পিন্টু মিলে পুলিশ স্টেশনে যাই।
পিন্টুঃ অফিসার আমাদের সেই সুইসাইড নোট গুলো দেখান।
পুলিশঃ জি এক মিনিট।
তারপর আমাদের সেই চিঠি গুলো দেয়!

আমিও সেই চিঠি গুলো হাতে নি।
প্রথমে সেই চিঠিটা যেটা ডেভিলের জন্য রেখে গেছে!
চিঠিটা পড়ে আমি প্রায় অবাক হয়ে গেলাম।
চিঠিতে লিখাছিলো
“ডেভিল

আমি জানি এই চিঠিটা আপনি ঠিকি পাবেন কিন্তু তখন হয়তো আমি বেচে থাকবো না। আমি জানি আমার মৃত্যুতে আপনি অনেক কষ্ট পাবেন। জানতে চাইবেন আমি কেন এই সুইসাইডের রাস্তাটা বেছে নিলাম। আসলে আমি আপনার ভরসার সুযোগে সৎ ব্যবহার করছি। বলতে গেলে আপনার সাথে বেইমানি করলাম আমি। আমিও এই কাজের জন্য অনুতপ্ত। তাই আমিও নিজেকে শেষ করে নিজের ভুলের প্রাইসিদ্ধ করলাম। “
এই চিঠিটা পড়ে আমি প্রায় অবাকই হয়ে গেলাম। কেন অবাক হলাম সেটা পরে বলতেছি। আমিও ২য় চিঠিটা পড়ে তো চোখ কপালেই উঠে গেলো।
কারণ চিঠিটায় লিখা ছিলো
“অন্তর আমার বেষ্টু

আমি জানি এই চিঠিটা পাওয়ার পর তুই অনেক রেগে যাবি আর আমাকে ঘৃনা করতে লাগবি। কিন্তু কিছুই করার নাই। আমি অনেক বড় একটা ভুল করছি দোস্ত। তোকে একটা সত্যি কথা বলি নাই। অনেক দিন ধরেই তুই ডেভিল নামে মাফিয়া কিং এর কথা শুনে আসছিস। আর সেই মাফিয়া কিং এর রাইট হ্যান্ড আমি। হ্যা আমি সেই মাফিয়া কিং ডেভিলের রাইট হ্যান্ড। আমি জানি তুই এই সব ঝামেলা পছন্দ করিস না। তাই আমিও তোকে এই কথা বলি নাই। কিন্তু খুব বড় একটা ভুল করে বসে আছি আমি। যার জন্য ডেভিল আমাকে খুব খারাপ ভাবেই মারতে পারে তাই তার হাতে মরার চেয়ে নিজেই নিজের জান দিয়ে দিলাম। আমাকে ক্ষমা করে দিস দোস্ত।
ইতি তোর Ex Bestu
তানভির

এই চিঠিটা আর আগের চিঠিটা পড়ে আমি অনেক অনেক অবাক হলাম। তবে মনে করছিলাম প্রথম চিঠিটা আমাকে করলো। কিন্তু না ২য় চিঠিটা আমাকে আরো বেশি অবাক করলো। তা কেন আপনারাই বুঝছেন।
তানভির তো জানেই আমি ডেভিল তাহলে সে আমাকে এভাবে কেন বললো আমি তাকে ঘৃনা করবো। বা তার উপর রেগে যাবো।
আমি সত্যিই অবাক না হয়ে পারলাম না।
পুলিশঃ জি আপনি কি ভাবছেন? (আমাকে বলল)
আমিঃ কিছু না অফিসার।

পুলিশঃ আচ্ছা। তবে ওনার রুমে থেকে আমরা আরো কিছু জিনিস পাই। I Think আপনাকে এই গুলো দেখা দরকার।
তারপর আমাদের টেবিলে একটা ট্রে রাখা হয় যেখানে ছিলো তানভিরের ফোন। ওয়ালিট। রিং। চাবি। আর একটা ঘড়ি।
ঘড়িটা দেখে আমি প্রায় অবাক হয়েই গেলাম কারণ এই ঘড়িটা তানভিরের না। কারণ আমি তানভিরকে একটা ঘড়ি দিছিলাম সেটাই ও পড়তো আর ঘড়িটার রং ছিলো কালো। কিন্তু আমার সামনে যে হাতের ঘড়িটা আছে তা হলো গোল্ডেন কালারের। আর সবচেয়ে অবাক কর বিষয় হলো এই ঘড়িটা একজনের হাতে দেখছিলাম।
তারপর সেই জিনিস গুলো দেখে আমরা পুলিশ স্টেশন থেকে চলে আসলাম। আর সোজা তানভিরের কবরের কাছে গেলাম।


পর্ব ১০

তারপর সেই জিনিস গুলো দেখে আমরা পুলিশ স্টেশন থেকে চলে আসলাম। আর সোজা তানভিরের কবরের কাছে গেলাম।
সেখানে আমি আমার বন্ধুর কবরের পাশে বসে পড়লাম। আর চোখ দিয়ে অঝরো পানি ঝড়াতে লাগলাম। আসলে সে তো শুধু আমার বন্ধু না সে তো আমার ভাই। যার সাথে রক্তের সম্পর্ক না হলেও তার থেকে বেশি গভীরের সম্পর্ক আমার। হাসিঠাট্টায় মজা মাস্তিতে মেতে থাকতাম আমরা দুজনেই। একে অপরের সাথে সুপার গ্লুয়ের মতো চিপকে থাকতাম আমরা দুজনে। আর আজ সে আমাকে একা করেই চলে গেলো না ফেরার দেশে।

পিন্টুঃ ভাই! এভাবে কান্না করলে অসুস্থ হয়ে পড়বেন আর ভাই ৩:০০ বাজে। দুপুরের খাবার খাবেন না? ভাই আমি জানি আপনি তানভির ভাইকে অনেক মিস করতেছেন। আর যানি আমি আপনার ও তানভির ভাইয়ের বন্ধুত্বের কথা কিন্তু এভাবে কান্না করলে তো ভাই আর ফিরে আসবে না!
আমি চুপ হয়ে আছি। কিছুই বলছি না।
পিন্টুঃ ভাই চলেন। আমরা হোটেলে যাবো।
তারপর পিন্টু আমকে নিয়ে যায় আর একটা হোটেলে আমরা উঠি।
আমি আমার হোটেল রুমে আছি আর কিছুক্ষন পরেই পিন্টু আসে।

পিন্টুঃ ভাই চলেন। কিছু খেয়ে নিবো।
আমি কোনো কথা না বলেই পিন্টুর সাথে গেলাম। আর না পারতেও খেতে লাগলাম।
খাওয়া দাওয়া শেষ করে আমি রুমে চলে আসলাম। তবে আমার মনে অন্যকিছুই চলতেছিলো।
আমি পিন্টুকে ফোন করে আমার রুমে আসতে বলি। আর সেও চলে আসে।
আমিঃ পিন্টু! তুই ঢাকায় চলে যা। আমি এখানে একা থাকতে পারবো। আর পারলে আমাকে কিছু টাকা দিয়ে যা!
পিন্টুঃ ভাই। টাকা তো দিতে পারবো কিন্তু আপনাকে একা ছাড়তে পারবো না।

আমিঃ আমি যেটা বলছি সেটা শুন। আর তোর বিজন্যাস এর দিকে ধেয়ান দে। আমি আমাকে সামলে নিতে পারবো।
পিন্টুঃ কিন্তু ভাই!
আমিঃ কোনো কিন্তু না। যেটা বলছি সেটা শুন।
পিন্টুঃ আচ্ছা ভাই। আপনি যা বলেন।

তারপর পিন্টু আমাকে কিছু টাকা দিয়ে দেয়।
পিন্টুঃ ভাই। আমি থাকলে ভালো হতো। কারণ আপনি একা হয়ে যাবেন। আর এখন তো আপনার যা হাল হয়ে আছে।
আমিঃ thanks পিন্টু আমার জন্য চিন্তা করার জন্য। কিন্তু চিন্তা করিস না। আমি একা থাকতে পারবো। তুই শুধু তোর কাজে ধেয়ান দে ঠিক আছে।
তারপর পিন্টু হোটেলের কাছ থেকে একটা গাড়ি নিয়ে চলে যায়। আর আমিও আমার রুমে চলে গেলাম।
এবার আমার আসল কাজ শুরু।

আমি ভালো করেই বুঝতে পারলাম তানভির সুইসাইড করে নাই। তার প্রমান সরূপ সেই সুইসাইড লেটার আর সেই ঘড়িটা।
যদি তানভিরের কোনো প্রকার সমস্যা থাকতো তাহলে সবার আগে আমাকে বলবে। আর আমার বন্ধু এতোটাও weak না যে সে সুইসাইড করবে।
আর ২য় কথা হলো সেই গোল্ডেন কালারের ঘড়িটা। যা আমার মনে আরো বেশি সন্দেহ তৈরী করলো। আর ঘড়িটাও আমার চেনা চেনা লাগছলো। কারণ আমি ঘড়িটা আগেও কারো কাছে দেখছিলাম।

সন্ধ্যা বেলা
আমি আমার হোটেল রুম থেকে বেরিয়ে আসলাম। বাহিরে গিয়ে মনে পড়লো আমার ফোনের কথা। আমিও চেক করলাম। আর দেখলাম। আম্মু আব্বু আমাকে মিস কল দিয়ে ভরাই রাখছে। আমিও আম্মুকে কল ব্যাক করলাম।
আমিঃ হ্যালো আম্মু আসসালামুয়ালাইকুম।
আম্মুঃ ওয়ালাইকুমসালাম। কিরে বেয়াদব ছেলে। কতোগুলো মিস কল দিছি সেই দুপুর থেকে আর এখন ফোন দিচ্ছি! (রেগে)
আমিঃ সরি আম্মু। আসলে একটু ব্যস্থছিলাম। আর আমাকে দিয়েই বা কি করবা। আপনার মেয়ে আছে না!
আম্মুঃ ঝাটা চিনিস। (রেগে)

আমিঃ বেশি কথা বলবা তো আর আসবো না। আর এখানেই বিয়ে করে থেকে যাবো(মজা করে)
আম্মুঃ কি বললি তুই? (রেগে)
আমিঃ আমি! কই কিছুই তো বলি নাই। (অবুঝ সেজে)আচ্ছা আম্মু আমি একটু ব্যস্থ আছি পরে কথা বলবো।
আম্মুঃ আচ্ছা ঠিক আছে। ভালো থাকিস খোদাহাফেজ।
আমিঃ খোদাহাফেজ।

তারপর ফোন কেটে দিলাম। আর একজনকে ফোন দিলাম।
চিন্তা করলাম পুলিশ স্টেশন থেকে তানভির এর বাসার চাবিটা নিয়ে আসি। আসলে পুলিশ তানভির এর বাড়ি সিল করে দিলো। যেহুতু তানভিরের কেউ নাই তাই সিল করলো।
আমিও চলে গেলাম পুলিশ স্টেশনে।
সেখানে গিয়ে আমি চাবিটা নিয়ে আসলাম। আসলে প্রথমে তারা চাবি দিতে চায় নি কিন্তু পরে আমি অনেক রিকোয়েষ্ট করে চাবিটা নিলাম। আর তারাও আমাকে না করতে পারলো না।

চাবিটা নিয়ে আমি হোটেলে চলে গেলাম। আর সেই রাতটা কোনো রকম পার করলাম।

সকাল বেলা
আমি ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে নিলাম। কিছুক্ষন পরেই আমার রুমে নাস্তা দিয়ে যাওয়া হয়। আর আমিও নাস্তা করে নিলাম। এরপর চলে গেলাম। তানভিরের বাসার দিকে।
আমি বাসার দরজা খুলতেই মনে পড়ে গেল তানভিরের সাথে মজার করার মুহুত্বগুলো। এই দরজাটা দিয়ে কতোই না ফাজলামি করলাম তানভিরের সাথে। একদিন তো সে দরজা ধাক্কা দিবে এমন সময় আমিও দরজা খুলে দিলাম ইচ্ছা করে আর সেও পড়ে গেলো।
কিন্তু আজ সেই মানুষটা আমার কাছে নেই!

আমিও তানভিরের রুমে চলে যাই। আর সেখানে আমি খোজাখোজি শুরু করে দি। কারণ আমার কেন জানি মনে হচ্ছে কিছুতো একটা ক্লু পাবো আমি।
আমি খুজতেছি হঠাৎ আমি একটা ফোনের আওয়াজ পেলাম। যা তানভিরের খাটের নিচে থেকে একদম ভিতর থেকে আসতেছে আমিও খাটের নিচে ডুকলাম আর একটা নরমাল ফোন পেলাম। যেটাতে ফোন আসতেছে! আমিও রিসিব করলাম।

অপরপাশঃ রনি! কিরে কই তুই? আজকে আর একজনকে শেষ করতে হবে তো। আমাদের এই ডেভিলের সমরাজ্য শেষ করতে হবে। আর এটার জন্য তুই পারফেক্ট। দেখ রনি! আমরা সবে মাত্র ডেভিলের রাইট হ্যান্ডকে খতম করলাম। কিন্তু আমাদের এভাবে গোপনেই কাজ করেই যেতে হবে। এই শালা ডেভিল আমাদের কাজে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। কিন্তু তার টাইম আস্তে আস্তে ঘনিয়ে আসতেছে। আর তুই যদি ফুল্লি কাজটা করতে পারিস তাহলে তোকে Next Devil বানাবো + আমাদের বিজন্যাসের ৫০% সেয়ার পাটনারও বানাবো। আচ্ছ তুই কি জানতে পারছিস এই ডেভিলটা আসলে কে। বা দেখতে কেমন!
আমিঃ জানোয়ারের বাচ্চা। তুই আমার থেকে আমার অনেক মূল্যবান জিনিস কেড়ে নিলি। আমি জানি না তুই কে! কিন্তু এতোটুকু বলে রাখতেছি। তুই যেই হোস না কেন! তুই আর তোর সকল সদস্য মরবেই(রেগে)

অপরপাশঃ এই রনি! কি বলতেছিস এই সব! (রেগে)
আমিঃ আমি জানি না এই রনিটা কে। কিন্তু সে যদি আমার ভাই তানভিরের হত্যা কান্ডে জড়িত থাকে তাহলে সেও বাঁচবে না। আর তুইও বাচবি না। ডেভিলকে দেখার এতোই সখ না। এবার ডেভিল তোদের সামনেও আসবে আর তোদের মেরেও যাবে। (রেগে ধমক দিয়ে)
অপরপাশঃ এই রনি! কি আবল তাবল বক্তেছিস তুই!

আমিঃ আমি রনি না। যাকে দেখার ও মারার প্লেন করতেছিস তোরা আমি সেই। তোদের জম উর্ফে Devil। Just w8 কর। সময় হলে ঠিকি আমাকে দেখবি তোরা। তোরা সাপের লেজে পা দিছিস এবার তো ছোবল খেতেই হবে তোদের (রেগে)
সাথে সাথে ফোন কেটে দিলো। আর আমিও এবার সিয়োর হয়ে গেলাম আমার বন্ধু খুন হইছে।
যে আমার বন্ধু আমার বন্ধুর খুনের সাথে জড়িত তাদের আমি কুত্তার মতো দোড়াই দোড়াই মারবো। নাহলে আমিও ডেভিল না।

আমিও তানভিরের আলমারি চেক করতে লাগি। সেখানে একটা সেইফ লকার পাই। যার পাসওয়াড আমার জানা আছে আর এখানে কি থাকতে পারে তাও আমি জানি।
আমিও সেই লকারটা খুলি। আর সেখানে আমার কাজের জিনিসটাই পাই মানে পিস্তল। ও তার কিছু ম্যাকজিন্স।
সেগুলো আমিও নিয়ে নি।

এবার আমাকে বের করতে হবে এই রনিটা কে? একবার যদি এই রনি জানোয়ারটাকে পাইনা তাহলে মেইন জানোয়ারের বাচ্চাটাকে পেয়ে যাবো আমি!
তানভির এর রুমে আরো কিছু জিনিস পেলাম যা আমার আর তানভিরের মজার ও মেমোরিবেল মুহুত্তের কিছুছবি যা একটা এলবামে আছে তাও আমি আমার সাথে নিয়ে নিলাম।
তা তানভিরের রুমে একটা ব্যাগছিলো তাতে নিয়ে নি। তবে গান আর ম্যাকজিন গুলো আমার কাছেই রেখে দি মানে গান রাখলাম আমার কোমড় এর সাথে আর ম্যাগজিন গুলো ব্যাগে রাখি।

আমি বাসা লক করেদি। আর হাটা শুরু করি।
আমি তানভিরের বাড়ির আঙ্গনার থেকে বেরিয়ে যাচ্ছি আর চোখ দিয়ে পানি বয়ে যেতে লাগে। আমিও চোখ মুছে হাটতে লাগি।
আমি গলি পার হবো তখনি কেউ একজন আমার পথ আটকায়!
আমিঃ ভাই কি চাই! পথ কেন আটকালেন? (কাদো কাদো গলায়)
ছেলেটা সাথে সাথে একটা গান বের করে আর আমার দিকে তাক করে বলে!
ছেলেটাঃ চল আমার সাথে! (সিরিয়াস গলায়)

ছেলেটা ঠিক আমার দিকে গান ধরে আছে যা দেখে আমার ভিতরের শয়তানটা জেগে উঠে! তবুও নিজেকে কন্ট্রোল করে বলি।
আমিঃ ভাই আমাকে নিয়ে কি করবেন(কাদো কাদো গলায়)
ছেলেটাঃ গেলেই বুঝতে পারবি! চল বলতেছি। (রেগে)
আমিও ছেলেটার সাথে যেতে লাগি।

ছেলেটা আমাকে একটা পূরানো গোডাউনে নিয়ে যায়।
সেখানে সে একাইছিলো! আর আমার দিকে তার গানটা তাক করেই আছে!
ছেলেটাঃ ঐ বাসার চাবিটা দে! (রেগে)

আমিঃ কোন বাসার কথা বলতেছেন ভাই! (অবুঝ সেজে)
ছেলেটার চেহারা আমি দেখতেছি না কারণ সে কালো হুডি ও মস্টার মাস্ক পড়ে আছে।
ছেলেটাঃ ঐ যে বাসায় তুই গেছিলি সেই বাসার চাবিটা দে নাহলে গুলি চালিয়ে দিবো। (রেগে)
আমিঃ সেই বাসার চাবি দিয়ে কি করবেন ভাই!

ছেলেটাঃ তোকে বলছি চাবি দিতে। নাকি মরতে ইচ্ছা করতেছে তোর? (ধমক দিয়ে)
হঠাৎ চোখ গেলো তার বাম হাতের দিকে যা দেখেই আমার মাথা গরম হয়েই গেলো। কারণ ছেলেটার বাম হাতে তানভিরকে দেওয়া আমার সেই গিফট মানে কালো ঘড়িটা। যা সে পড়ে আছে। তারমানে সেইকি রনি!
ছেলেটাঃ কিরে চাবি দিবি নাকি? সুট করবো(ধকম দিয়ে)
আমিঃ দ দ দিচ্ছি (ভিত হওয়ার নাটক করে)

তারপর চাবি নেওয়ার ভান করে আমার কাছে থাকা তানভিরের গানটা হঠাৎ বের করেই তার যে হাতে গানছিলো সেই হাতের তালুতেই সুট করে দিলাম।
সাথে সাথে চিৎকার দেয় আর তার হাতে থাকা গানটা পড়ে যায় আর সেও মাটিতে লেটিয়ে পড়ে আছে সাথে তার হাত ধরে আছে। সে ব্যাথা কাতর হয়ে হামাগড়ি দিচ্ছে আর সেই সুযোগে নিচে পড়ে থাকা সেই গানটাও নিয়ে নিলাম।
দুইটা গান হাতে নিয়েই তার দিকে তাক করে দাড়ালাম।
আমিঃ তোর নাম কি রনি? (রেগে)

ছেলেটা আমার দিকে তাকিয়ে আছে। তা দেখে আমার মাথা গরম হয়ে গেলো। কারণ আমি যেটা জিজ্ঞেসা করলাম তার উত্তর না দিকে আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে।
সাথে সাথে আমিও ছেলেটার ডান পায়ে সুট করে দিলাম।
ছেলেটার পায়ে গুলি লাগার কারণে ব্যাথায় চিৎকার দেয় আবার মাটিতে হামাগড়ি দিতে লাগে।
আমিঃ কিরে জানোয়ারের বাচ্চা কি জিজ্ঞেসা করলাম তোকে? তোর নাম কি রনি? (ধমক দিয়ে)
ছেলেটাঃ হ্যা আমার নাম রনি

কথাটা সুনেই সাথে সাথে দিলাম আবার গুলি চালিয়ে। তবে এবার বাম পায়ে গুলি করলাম।
সাথে সাথে সে আবারো জোরে চিৎকার দেয়। তার চিৎকার শুনে আমার মনে শান্তি লাগতে লাগলো।
আসলে আমি গুলি চালালাম কারণ সে জাতে পালাতে না পারে। আর এমনেও মাথায় রক্ত চড়ে আছে।
রনিঃ কে তুই! আর তোর কাছে গান কোথায় থেকে আসলো! (কান্না করতে করতে)

আমিঃ জানোয়ারের বাচ্চা। তুই আমার থেকে আমার বন্ধুটাকে কেড়ে নিলি! কি দোষছিলো আমার বন্ধুর? (ধমক দিয়ে)
রনি ব্যাথায় কান্না করেই যাচ্ছে! আমিও রনির গান একটু পরিষ্কার করে হাত থেকে দূরে কোথাও ছুড়ে মারি। যাতে সে গানটা হাতের কাছে না পায়। আর আমিও রনির গাল চেপে ধরি।
আমিঃ জানোয়ারের বাচ্চা। আমার বন্ধু তোদের কি ক্ষতি করছিলো যে তোরা আমার বন্ধুকে মারছিস! আর কে কে ছিলো তোর সাথে! (রেগে)
রনিঃ ভাই বলতেছি। আমাকে মারিয়েন না। (কান্না করতে করতে)
আমিঃ তাহলে বল! (ধমক দিয়ে)


পর্ব ১১

আমি রনিকে জিজ্ঞেসা বাদ করতে লাগলাম যে কে কে তার সাথে আমার বন্ধু তানভির এর হত্যা কান্ডে জড়িত ছিলো
রনিঃ ভাই বলতেছি। আমাকে মারিয়েন না। (কান্না করতে করতে)
আমিঃ তাহলে বল! (ধমক দিয়ে)

রনিঃ আমি ছিলাম আর একজনছিলো। সে আর কেউ না এই শহরের নাম করা বিজন্যাস ম্যান মোশারফ হোসেন।
আমিঃ কিহহহহ! এই মোশারফ! সে আমাদের মেরে কিসের বিজন্যাস এর কথা বলল সে?
রনিঃ বে-আইনি অস্ত্র। আর বিভিন্ন নেশা দ্রব্য বেচা কেনা করতে পারবে। যা ডেভিল মানা করে দিছিলো করতে কিন্তু মোশারফ টাকা কামাতে এই তার ব্যবসার পাশে এই ব্যবসাটাও করতে চাচ্ছে যেটা ডেভিল জীবিত থাকা কালিন সে করতে পারবে না। আর কি বললেন? আপনাদের মেরে মানে?
আমিঃ এখনো বুঝিস নাই আমি কে? হা হা হা।
রনিঃ ডেভিল!

আমিঃ Yessss। তবে তানভিরের বাসার চাবি দিয়ে কি করবি তুই?
রনিঃ সেখানে আমার ফোন কোথাও পড়েগেছিলো। আমি মনে করছিলাম পুলিশ সেই ফোনটা পেয়ে গেছে কিন্তু পুলিশের কাছে সেই ফোনটা দেখি নাই আমি। আমার মনে হলো সেই ফোনটা তানভিরের রুমের কোথাও পড়ে আছে। আর সেই ফোন দিয়ে মোশারফ আমার সাথে কন্ট্রাক্ট করতো। ভাই plz আমাকে ছেড়ে দেন! (করুন গলায়)
আমিঃ তোকে ছাড়লে আমার বন্ধুত্বের অসম্মান হবে। তাই তোকে আমি ছাড়ছি না(রেগে)
বলেই কথা ছাড়া গুলি করে দিলাম। গুলি সোজা আমি রনির হৃতপৃন্ডে চালিয়ে দি। আর সেও খতম।

রনি কি করে ভাবলো তাকে আমি ছেড়ে দিবো। সে আমার বন্ধুকে আর মাফিয়া কিং এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন মানুষটাকে মেরে ফেললো আর মাফিয়া কিং এমনেই তাকে ছেড়ে দিবে। এবার এই মোশারফ এর পালা। আমি ফোনে যার সাথে কথা বলছিলাম সেই মোশারফছিলো!
তবে আমার মাথায় এখনো ঘুরপাক খাচ্ছে এই মোটা মাথা ডেভিলের পিছে লাগবে তা আমার মনে হয় না। এর এতোটাও সাহস নেই ডেভিলের পিছে লাগার। কারণ সবাই ভালো করেই জানে ডেভিলের পিছে লাগা মানে মরা পাক্কা।
হয়তো অন্যকেউ তাকে উস্কে দিলো মানে হিংক্স দিয়ে দিলো। বা লোভ লাগিয়ে এমনটা করলো। সমস্যা নাই যেহুতু সেও আমার বন্ধুর মৃত্যুর সাথে জড়িতছিলো তাই সেও বাচবে না।

এখন আমার মনে পড়লো আমি সেই গোল্ডেন কালারের ঘড়িটা কোথায় দেখেছি।
আসলে আমি চট্টগ্রাম থাকা কালিন যে কলেজে পড়তাম সেখানে অনার্স ৪থ বৎস পড়া শিক্ষাথীদের বিদায় অনুষ্ঠানে মোশারন হোসেনকে চিফগ্যাষ্ট হিসেবে Invite করা হয়। আর আমি দেখছিলাম সেই ঘড়িটা মোশারফ পড়েই ছিলো। তার ঘড়িটাই এমন যেকেউ নজর দিবে সেই ঘড়ির দিকে।
রনির রক্তাত্ত মৃতদেহ আমার সামনে মাটিতে পড়ে আছে। এবার পালা সেই মোশারফ এর।

আমিও সেখান থেকে চলে যাই। আর গানটা আমার কোমড়ে লুকিয়ে সোজা আমার হোটেলে চলে আসি।
হোটেলে এসেই এবার ভাবতে লাগি কিভাবে মোশারফের বাসায় যাওয়া যায়। মোশারফ এই শহরের একজন নামিদামি বিজন্যাস ম্যান। সো তার বাসায় অবশ্যই সিকোরেটি থাকবে। তাই আমাকেও ছদ্দবেশ নিয়ে যেতে হবে। ধুর আমি তো ভুলেই গেলাম আমি তো ছদ্দবেশেই থাকি তাহলে আর কি ছদ্দবেশ নিবো। তবে আর যাই বলি আমাকে একটু গেটাপ চেঞ্জ করেই তার বাসায় একট্রি নিতে হবে।

আপনারা হয়তো ভাবছেন আমি কেন এভাবে বলতেছি আমি তার বাসায় এন্ট্রি নিতে হবে। আমি তো চাইলেই সেই মোশারফকে খুব সহজেই পেয়ে যেতে পারি। আসলে আমি চাইনা কেউ জানুক যে মাফিয়া কিং ডেভিল আমিই। তাই আমিও একদম সিক্রেটলি কাজটা করতে চাই। যাতে পাব্লিকও ডিস্টাব না হয় আর আমার কাজটাও আমি সেরে ফেলতে পারবো। তবে হ্যা এখন মোশারফ একটু সাবধান হয়ে যাবে কিন্তু কোনো ফায়দা নাই সে তো মরবেই তা নিশ্চিত।
আমিও চলে গেলাম ফ্রেস হতে। ফ্রেস হয়ে বাহির হতেই কে যেন আমার রুমের দরজা নক করে। দেখলাম ১১ বাজে কিন্তু এখন তো কেউ আসার কথা না!
তবুও নিজেকে একদম শান্ত করেই দরজাটা খুলি।

এরপর যাকে দেখলাম চমকে না উঠে পারলাম না আমি। দরজার অপর পাশে আর কেউ না ফারিয়া!
আমিঃ তুই! তুই এখানে কি করিস? (রেগে)
সাথে সাথে ফারিয়া আমাকে ঝাপটে জড়িয়ে ধরে!
আমিঃ এই মেয়ে ছাড় আমাকে! নাহলে কিন্তু খারাপ হয়ে যাবে!

ফারিয়াঃ কিভাবে তুমি নিজের মধ্যে কষ্ট লুকিয়ে রাখতে পারো! (জড়িয়ে ধরে)
আমিঃ ছাড় আমাকে! আর তুই এখানে কি করতেছিস? (রেগে)
ফারিয়াঃ কাল আমি তানভিরের বেপারে ভাইয়া থেকে সব শুনি যেটা ভাইয়া পিন্টু ভাইয়ার থেকে ভাইয়া শুনে। আমি জানি তোমার আর তানভিরের বন্ধুত্ব কতোটা গভীর। আর এই সময়ে তোমার পাশে কেউকে থাকা প্রয়োজন। তুমি তো পিন্টু ভাইয়াকে পাঠিয়ে দিলে। তাই আমি ভাইয়াকে বলে আজি ফ্লাইট করে আসলাম আর আসার আগে ভাইয়ার থেকে তোমার ঠিকানাটাও জেনে আসলাম।

আমিঃ আমার কেউ লাগবে না। আমি একাই ঠিক আছি। আর নিজেকে সামলেও রাখতে পারবো।
ফারিয়াঃ অন্তর। প্লিজ এভাবে বিহেব করিও না। আমাকে অন্তত তোমার কাছে থাকতে দাও। তুমি একা থাকলে আরো ভেঙ্গে পড়বা। দেখ এই সময়ে কেউ অন্তত তোমার পাশে থাকা প্রয়োজন। আর আমি তো তোমার হবু বউ!
আমিঃ কিহহ! তুই আমার কি হোস?

ফারিয়াঃ এই বয়রা কানে কম শুনো নাকি! হবু বউ তোমার! (রেগে)
আমিঃ এই তুই মেঝাজ কার সাথে দেখাচ্ছিস? তুই ভুলে যাচ্ছিস আমি কে? (উচু গলায়)
ফারিয়াঃ কে মানে! তুমি তো আমার হবু স্বামী! এবার সরোতো আমাকে ভিতরে আসতে দাও! (মিষ্টি গলায়)
কথাটা বলেই আমাকে আমার নিজের রুমে ধাক্কা মেরে এক সাইড করে সে তার ব্যাগ নিয়ে ডুকে!
আমিঃ এটা কিন্তু বেশি হচ্ছে! বের হো আমার রুম থেকে! অন্য রুমে গিয়ে থাক!
ফারিয়াঃ এই! এটা শুধু তোমার রুম না এটা আমাদের রুম বলো!

আমিঃ এই আমাদের কি বিয়ে হইছে! নাকি তুই আমার বিয়ে করা বউ? আমি তোকে কোনো দিনো মেনে নিবো না। (রেগে)

ফারিয়াঃ তোমার আম্মু আব্বুকে পটাতে পারলে তুমি কোন জিনিস হা হা হা। এবার সরোতো।
আসতে না আসতেই ফারিয়া তার অধিকার খাটানো শুরু করে দিলো। তবে কি বলল সে! সে আমার হবু স্ত্রী? ও মা গো আমার দিন তার মানে ঘনিয়ে আসতেছে! দুই দিন আমাদের বাড়ি এসেই আমাকে আম্মু আব্বু থাকার পরেও এতিম বানিয়ে দিলো আর সে এখন পারমানেন্টলি আমাকে! না না না এটা হতে পারে না।

ফারিয়া চলে গেলো ফ্রেস হতে আর আমি বেক্কেলের মতো দাঁড়িয়ে আছি। আসতে না আসতেই এভাবে অধিকার খাটাচ্ছে। না ওর দিকে ধেয়ান না দিয়ে আমি আমার কাজে ধেয়ান দিতে হবে।

আমি আমার ব্যাগ গুছিয়ে নিতে লাগলাম। ফারিয়াও ফ্রেস হয়ে বের হলো।
ফারিয়াঃ ব্যাগ গোচাচ্ছো কেন?
আমিঃ আমি এই এখানে থাকবো না। তুই থাক এই রুমে! আমি অন্য কোথাও থাকবো।
ফারিয়াঃ এই তোমার লজ্জা করে না!
আমিঃ আমি আবার কি করলাম?

ফারিয়াঃ আমার মতো নিরিহ মেয়েটাকে এভাবে একা করে চলে যাবে। তোমার মনে কি মায়া দয়া নাই! (করুন গলায়)
আমিঃ মায়া আমার সিনিয়র ক্রাসছিলো আর দয়া নামে তো কেউ কে চিনি না আমি।
ফারিয়াঃ কি বললি তুই?
বলেই আমার কলার ধরে খাটে ছুড়ে মারে। আর সে আমার উপর চড়ে বসে।
ফারিয়াঃ মায়া তাই না! বেয়াদব লম্পট বদমাইস! পোলা। তোকে আমি মনে করছিলাম তুই মাফিয়া হতে পারিস কিন্তু যেভাবে থাকিস মনে করতাম কোনো মেয়ের দিকে নজর দেস নাই কিন্তু তুই তো! (গলা চেপে ধরে)

আমিঃ মায়া ছাড় থুক্কু ফারিয়া ছাড়!
ফারিয়াঃ তলে তলে টেম্পু চালাও আর আমি চালালে হরতাল তাই না!
আমিঃ ফারিয়া ছাড় আমাকে মরে যাইতে…..এম্মম্মম্মম্মম্মম্মম্মম্মম
ব্যাস কথা শেষ করার আগেই তার ঠোট জোড়া দিয়ে আমার ঠোট জোড়া দখল করে নিলো। আর কিছুক্ষন সেভাবেই আমাকে আটকে রাখলো!
এরপর আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ফারিয়াঃ এখন থেকে তোমার মুখে যাতে শুধু আমার নামটাই শুনতে পাই যদি আমার নাম ছাড়া অন্য কোনো ক্রাস ফ্রাস এর নাম শুনি তাহলে এর থেকে ভয়ানক কিছু করবো! (হাপাতে হাপাতে বলল)
আমিঃ কোন পাপে আমারে এই জিনিসটা দিলো! দম বন্ধ করে মেরে ফেলতে চাইতেছে আমাকে! আল্লাহ কি এমন পাপ করলাম যার ফল এটাকে দিলা “মনে মনে”
ফারিয়াঃ কি হুম। চলো আমার ক্ষিদা লাগছে খাবার খাবো!

তারপর আমার থেকে সরে গেলো। আর একটু দেরি করে ছাড়লে আমিতো ডাইরেক্ট দম বন্ধ করেই উপরওয়ালার কাছ থেকে সবাইকে টাটা দিতাম।

আমি নাকি মাফিয়া! কিন্তু মেয়েটা আমারে যা করতেছে তাকে কিছুই করতে পারতেছি না কে? কেন এই বিবেকে বাধা দেয় আমাকে? আসলে মেয়েদের আমি তেমন কিছুই করতে পারবো না কারণ মেয়েদের আমি সম্মান করি কিন্তু অন্য কোনো ছেলে আমার সাথে উচু গলায় কথা বল্লেও আমি তাকে কম পক্ষে ৩মাসের জন্য বেড র‍্যাষ্ট এ পাঠিয়ে দিতাম।
আমি মরার মতো খাটে পড়ে আছি।

ফারিয়াঃ এভাবে মরার মতো না পড়ে থেকে চলো লাঞ্চ করবো!
আমি শুয়েই আছি হাত পা মেলে।
ফারিয়াঃ কি কথা কানে যাই নাই। নাকি আর একটা দিবো (মজা করে)
সাথে সাথে আমি লাফিয়ে উঠি।
তারপর ফারিয়াকে নিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে চলে গেলাম। আমরা খাবার অডার করে খেতে লাগি।

কিন্তু যখনি খাবার খেতে নি মনে পড়ে তানভিরের সাথে খাবার নিয়ে লড়াই করার মুহুত্তগুলো। বিশেষ করে বিরিয়ানির ক্ষেত্রে যা করতাম। কিন্তু আজ!
কথা গুলো ভাবছি আর চোখ দিয়ে অঝরো পানি বয়ে যেতে লাগে। আসলে এই তানভির আমার অনেক কাছে একজন। তাই তাকে আমি মন থেকে মুছতে পারবো না।

ফারিয়া আমার চোখ মুছে দিলো।
ফারিয়াঃ আমি জানি অন্তর। তুমি তানভিরকে মিস করছো। কিন্তু এখন এভাবে চোখের পানি ফেললে তো সে আর ফিরে আসবে না। দেখ সময় হলে মানুষকে একদিন না একদিন ঠিকি যেতে হয়। তাই এভাবে চোখের পানি না ফেলে তুমি তানভিরের আখিরাতের জন্য দোয়া কর।

ফারিয়া আমার পাশে এসে আমাকে শান্তনা দিতে লাগে। আসলে মেয়েটাকে যতোটা খারাপ ভাবতাম ততটাও খারাপ না সে। আসলে একটা সত্যি কথা বলি। আমিও ফারিয়াকে পছন্দ করি। কিন্তু একজন মাফিয়া হওয়ার কারণে কোনো সম্পকে জড়াতে চাচ্ছি না। কারণ মাফিয়াদের জীবনের গেরান্টি থাকে না। তাই আবেগ বাড়াতে চাচ্ছি না। নাহলে আমরা একে অপরের জন্য পারফেক্ট। ঐ বলে না বাঘের পাশে বাঘিনীকেই মানায়।

খাওয়া দাওয়া শেষ করে আমরা হোটেলে চলে যাই। তবে ফারিয়া আমাকে এক মুহুত্তের জন্যেও চোখের আড়ালে যেতে দেয় না।

বিকাল বেলা ..

ফারিয়া আমাকে জোর করে বাহিরে নিয়ে যায়। তারপর আমরা অনেকক্ষন বাহিরে সময় কাটাই। ফারিয়া বারবার আমার মন ভালো রাখার জন্য লেগেই থাকে।

সন্ধায় বেলা …

আমর বাহির থেকে নাস্তা করে নি। এরপর ফারিয়া আমাকে জোর করে শপিং মলে নিয়ে যায়।
সে শপিং করতে ব্যস্থ আর আমিও ব্যস্থ তবে অন্যকিছু নিয়ে।
আমি ব্যস্থ আছি যে কিভাবে মোশারফের বাসায় এন্ট্রি নিবো।


পর্ব ১২

আমি ব্যস্থ আছি যে কিভাবে মোশারফের বাসায় এন্ট্রি নিবো।
কিছুক্ষন পরেই ফারিয়া আসে।
আমিঃ কি? কিছু নেওয়া হয় নাই?
ফারিয়াঃ এখানে দাঁড়িয়ে কি করো চলো আমার সাথে!
বলেই ফারিয়া আমাকে টেনে নিয়ে গেলো।

আমিও ফারিয়ার সাথে মলে ঘুরতে লাগলাম।
ফারিয়ার শপিং শেষ। এরপর আমরা শপিং মল থেকে চলে আসলাম।
ফারিয়াঃ চল ডিনার বাহিরে করবো!
আমিঃ Ok।

তারপর বাহিরে রাতের খাবার খেয়ে নিলাম। এরপর চলে গেলাম হোটেলে। এবার হলো আসল প্যারা।
রুম একটা আর মানুষ দুজন। রুম ঠিক করছিলাম আমার জন্য কিন্তু ফারিয়া এসেই ঝামেলা ডবল করে দিলো।
ফারিয়াঃ কি হইছে? কি ভাবো এতো?

আমিঃ ভাবনায় ফেলে দিলে তো ভাববই না! এক কাজ করো তুমি এই রুমে ঘুমাও আমি হোটেলের ম্যানেজারের সাথে কথা বলে দেখি অন্য একটা রুমে থাকার ব্যবস্থা করতে পারি নাকি!
ফারিয়াঃ লাগবে না অন্যরুম এখানেই থাকো আমার সাথে।

আমিঃ কিহহ। মাথা খারাপ! ভুলেও না। আমি কোন অধিকারে তোমার সাথে ঘুমাবো!
ফারিয়াঃ কি জিনিস তুমি! যে কথা গুলো। মেয়ে হয়ে আমাকে বলা উচিতছিলো সেই কথা গুলো তুমি বলতেছো! আর আমি তো তোমার হবু স্ত্রী তাই আমি পারমিশন দিছি তো!
আমিঃ লাগবে না পারমিশন। নাহলে এক কাজ করো। তুমি সোফায় ঘুমিয়ে যাও!

ফারিয়াঃ কিহহহ। আমি সোফায় ঘুমাবো! একটা মেয়েকে এই কথাটা বলতে পারলা? আমি মেয়ে হয়ে ঐ সোফায় ঘুমাবো!
আমিঃ তাহলে এক কাজ করো তুমিই খাটে ঘুমাও আমি সোফায় ঘুমাচ্ছি! ok।
ফারিয়াঃ দুজনে খাটে ঘুমালে কি হয়।
আমিঃ তুমি কি আমার বিয়ে করা বউ লাগো যে তোমার সাথে খাটে ঘুমাতে হবে!
ফারিয়াঃ এক কাজ করা যায় না। আমরা দুজনে খাটে ঘুমাবো আর তোমার সুবিধার্থে মাঝখানে একটা বালিস দিয়ে দিবো যাও।
আমিঃ ok।

তারপর মাঝখানে বালিস দিয়ে দুজনে খাটে শুয়ে পড়লাম আর দিলাম ঘুম।

সকাল বেলা….

আমার ঘুম ভাঙ্গে তবে চোখ বন্ধ। হঠাৎই খেয়াল করলাম আর বুক ভারি মনে হচ্ছে। আমিও গায়ের থেকে চাদরটা সরাই আর দেখলাম ফারিয়া আমাকে জড়িয়ে ধরে আমার বুকের উপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে আছে। সে আমাকে এমন ভাবে ধরে আছে মনে হয় আমি মানুষ না তার কোল বালিস!
যখনি তাকে সরাতে যাবো তখনি চোখ পড়লো তার চেহারার দিকে যা অনেক অনেক সুন্দর ও মায়াবি লাগছিলো। আর তার মাথার কিছু চুল গুলো তার মুখে চলে আসে। তাই আমিও সেই চুল গুলো সরিয়ে দি।

পরে নিজের মধ্যে আছি আর চিন্তা করতে লাগি এতোক্ষন আমি কি করতেছিলাম।! আমি ফারিয়াকে মুগ্ধ নয়নে দেখছিলাম নাকি সে আমার উপর কোনো কালো যাদু করে রাখছিলো! কারণ এতোক্ষন আমি কি করতেছিলাম তা নিজেও জানি না।
হঠাৎই ফারিয়া নড়ে উঠে আর আমিও ফারিয়া ডাকদি!
আমিঃ এই যে ম্যাডাম!
ফারিয়াঃ কি(ঘুমুঘুমু কন্ঠে)

আমিঃ আপনি আমার বুকের উপর কি করতেছেন? (রেগে)
ফারিয়া সাথে সাথে সরে যায়। আর উঠে পড়ে!
আমিঃ কাল রাতে কি বলছিলাম!

ফারিয়াঃ বেশি কিছু তো করি নাই একটু হবু স্বামীর বুকেই তো মাথা রাখলাম তাতে এতো রেগে যাওয়ার কি আছে হুম।! (নরম সূরে)
আমিঃ রেগে যাওয়ার কি আছে মানে! কালকেই বলছিলাম আমার দিকে আসবা না। তাহলে?
সাথে সাথে ফারিয়া আমাকে গলাচিপে ধরে।

ফারিয়াঃ এই কিসের এতো রাগ দেখাস তুই? আমি তোর হবু স্ত্রী আমার অধিকার আছে তোর উপর। বেশি এটিটিউট দেখাস তাই না। এমন হাল করবো না!
আমি ফারিয়ার দিকে তাকাই আছি। আর মনে মনে নিজের উপর নিজেরই ঘৃনা হতে লাগলো। থু কিসের মাফিয়া তুই অন্তর! এই লেডি মাফিয়ার সামনে তুই এভাবে ঝাড়ি খাইলি! আর কিছুই করতে পারলি না! সালা এখনি মাফিয়া কিং এর পোষ্ট ছেড়ে গিয়ে কচু গাছের সাথে ফাসি দে। একটুও ইজ্জত নাই আমার “মনে মনে”
ফারিয়াঃ কি ভাবছিস? (রেগে)
আমিঃ কচু গাছ!

ফারিয়াঃ কিহহ। (অবাক হয়ে)
সাথে সাথে আমিও ঝাড়ি মেরে ফারিয়ার হাত আমার গলা থেকে ছাড়িয়ে নি। আর তার উপর বসি! আর দুহাত চেপে ধরি!
আমিঃ এই ছেমড়ি? তুই আমাকে পাইছিসটা কি? ভুলে গেছিস আমি কে? একবার যদি আমার সেই রূপটা নি না তাহলে তোর এমন হাল করবো না তুই ভাবতেও পারবি না(রেগে)

ফারিয়া কোনো মতে তার হাত ছুটিয়ে তারদিকে আমাকে টান দেয়। আর ঝাপটে জড়িয়ে ধরে। আর সাথে সাথে ৪ঠোট এক করে দিলো।

আমিও আবুল হয়ে গেলাম। বীর পুরুষ হতে গেলাম। আর ফারিয়া আমাকে বিলাই বানিয়ে দিলো।
কিছুক্ষন পরে ছেড়ে দিলো। আর সে হাসতে লাগলো।
ফারিয়াঃ কি! আমার সাথে রাগ দেখাও তাই না। দেখলে চট করে তোমার রাগ শেষ করে দিলাম। আর দেখাবা রাগ?
আমিঃ কি জিনিস তুই? আর কেন আমার জীবনে আসলি তুই?

ফারিয়াঃ ও হ্যালো আমি তোমার জীবনে আসি নাই তুমি আমার জীবনে আসছো। যদি আমাদের শহরে না আসতে তাহলে আমিও তোমার পিছে লাগতাম না। তবে ভালোই হলো। তুমিও আসলে আর আমার মধ্যে ভালোবাসার ভুত ডুকিয়ে দিলে। এখন যাও ফ্রেস হয়ে আসো।

আমি বেক্কেল হয়ে গেলাম। আর সোজা কোনো কথা না বাড়িয়ে চলে গেলাম ফ্রেস হতে। যদি কিছুই বলি আমারই সর্বনাশ তাই চুপ থাকাই বুদ্ধিমানে কাজ। আমার লুট করে নিলো রেএএএএএএ “মনে মনে”

আমি ফ্রেস হয়ে বেরিয়ে আসার পর ফারিয়াও ফ্রেস হয়ে আসে। আর চলে গেলাম নাস্তা করার জন্য।
আমরা নাস্তা করতেছি তবে আমি চুপচাপ নাস্তা করতেছি
ফারিয়াঃ এভাবে চুপচাপ নাস্তা না করে কিছু তো বলো!
আমিঃ কি বলবো। যখনি কথা বলি আমাকেই ইন্সাল্টেড হতে হয়। তাই চুপ থাকাই ভালো।
সাথে সাথে ফারিয়া আমার হাত ধরে।

ফারিয়াঃ অন্তর। আমি কি এতোই খারাপ! আমি কি তোমার যোগ্য নয়। কেন তুমি আমাকে মেনে নিচ্ছো না। অন্তর আমি না আগে মনে করতাম যার কাছে পাওয়ার থাকে সেই সুখি হতে পারে। অন্তর আমার না ভাইয়া ছাড়া এই পৃথিবীতে আর কেউ নেই। যার জন্য আমি ভাইয়ার আদর পেয়ে বড় হই। কোনো দিনো আমাকে শাষন করে নি। তাই আমিও নিজের মতো চলতে থাকি।

নিজের সার্থের জন্য অন্যদের কষ্ট দিতাম। কারণ আমাকে কেউ ভালোখারাপ বুঝায় নি। কিন্তু অন্তর তোমার দ্বারা আমি বুঝতে পারলাম ভালো কোনটা খারাপ কোনটা। তাই আমিও তোমার দ্বারা নিজেকে সুধরে নিতে চাই। অন্তর আমি কি এতোটাই খারাপ যার জন্য তুমি আমাকে অবহেলা করছো। অন্তর আমাকে একটিবার সুযোগ দাও না। আমি তোমাকে অনেক ভালোবেসে ফেলছি আর আমাকে দূরে ঠেলে দিয়ো না। (কান্না করতে করতে)

আমিও ফারিয়াকে জড়িয়ে ধরি। সে তবুও আমার বুকে মুখ রেখে কান্না করেই যাচ্ছে।

আমিঃ ব্যাস ব্যাস হইছে। আমি তো একটা জিনিস দেখে অবাক হলাম। লেডি ডনেরও একটা মন আছে ফিলিক্স আছে তা আমার জানাছিলো না। (জড়িয়ে ধরে)
ফারিয়াঃ বড্ড ভালোবেসে ফেললাম তোমাকে। আমাকে আর এভাবে দূরে ঠেলে দিয়ো না। আমার আর সহ্য হয় না(কান্না করতে করতে)

আমিও ফারিয়াকে জড়িয়ে ধরে আছি। আর সত্যি আজ অবাক না হয়ে পারলাম না। যে সবাইকে আঘাত দিয়ে কান্না করাতো আর আজ সেই মেয়েটা কান্না করতেছে। আমি যতোটুকু বুঝতে পারলাম ফারিয়া চেঞ্জ হয়েগেছে যা অন্তত্ত ভালোই হলো।

আমিঃ আরে কান্না থামাও তো আমার সার্টের কি হাল করছো দেখ আগে! নাকের পানি চোখের পানি দিয়ে আমার সার্টটা শেষ করে দিলা তুমি!
ফারিয়াঃ আমার চেয়ে সার্ট বেশি জরুরী হয়ে গেলো তোমার(কাদো কাদো গলায়)
আমিঃ আরে এটা মায়ার দেওয়া সার্ট তাই একটু কষ্ট লাগতেছে! (মজা করে)
ফারিয়াঃ তোর মায়ার গুষ্টিরে কিলাই। (রেগে)

বলেই ফারিয়া তার নাক আর চোখের পানি আমার সার্টে মুছে নিলো।
আমিঃ ইইইইইই। এটা কি করলা?
ফারিয়াঃ তোর মায়ার জিনিস আমি আরো বেশি সরনীয় করে দিলাম। এবার পরে থাক এটা। (রেগে)
কি আর করবো সে অবস্থায় কোনো মতে নাস্তা করে নিলাম। এরপর হোটেলে চলে গেলাম।
আমিঃ ফারিয়া একটা কথা বলবো রাখবা?
ফারিয়াঃ বলো অবশ্যই রাখবো। (মিষ্টি গলায়)

আমিঃ তুমি ঢাকায় চলে যাও আর আমার আম্মু আব্বুর কাছে থাকো। আসলে তাদের জন্য একটু টেনসেন হচ্ছে। কাল রাতে কথাও হইছিলো তবুও আমি চাই কেউ অন্তত তাদের কাছে থাকুক।
ফারিয়াঃ আমি চলে গেলে তোমার কে খেয়াল রাখবে!

আমিঃ আমি নিজেকে সামলে নিতে পারবো। তুমি বরং তাদের কাছে থাকলেই আমি একটু টেনসেন ফ্রি হবো।
ফারিয়াঃ ঠিক আছে। তোমার কথাটাই শুনলাম তবে ঢাকায় এসেই আমাকে বিয়ে করতে হবে।
আমিঃ Ok। done.

তারপর আমিও সার্ট বদলে নি। আর ফারিয়াকে এয়ারপোট পর্যন্ত দিয়ে আসি। ফারিয়া তার ভাইয়ের দ্বারাই অনলাইনে টিকেট বুক করে রাখে।
ফারিয়াঃ সাবধানে থাকবা। আর আমাকে প্রতি বেলায় কল দিবা।
আমিঃ হুম। তুমিও নিজের খেয়াল রাখবা আর যতো পারবা আম্মু আব্বুর কাছে কাছেই থাকবা ও খেয়াল রাখবা।
ফারিয়াঃ Ok। bye ভালো থেকো।

তারপর ফারিয়া ইয়ারপোটের ভিতরে চলে যায়। আর আমিও না অনেক বোর হয়ে গেলাম ভদ্র থাকতে থাকতে।
এতোদিন ভালো মন-মানসিকতা নিয়ে সকলের সাথে ভালো চেয়েছিলাম কিন্তু দুনিয়াই তো এখন ভালোর দাম দেয় না। অনেক দিন ধরেই তো ভদ্র আছি। তাই চিন্তা করলাম Innocent থেকে একটু Devil এর রূপটা নিয়ে দেখি। অনেক দিন সেই ডেভিলকে দেখি না আমি!

আমিও সোজা রাস্তার দিকে যাই আর ফোনটা বের করলাম। বহুত টাইমপাশ করলাম। এবার একটু Action এ আসা প্রয়োজন।
আমি ফোন বের করে একজনকে কল দিলাম।
আমিঃ হ্যালো। আরফিন!

আরফিনঃ জি। কে বলছেন?
আমিঃ শুন। কম-পক্ষে ১৫০ জনকে নিয়ে *মাঠে উপস্থিত হ!
আরফিনঃ কি উল্টা পাল্টা বলতেছেন! কে আপনি?
আমিঃ হা হা হা। Who am I। That’s Not Important! What am I। Thats Important!
আরফিনঃ Devil(অবাক হয়ে)
আমিও ফোন কেটে দিলাম।

অনেক ভদ্রতা দেখালাম। কিন্তু আজ আমার বন্ধুর মৃত্যুর প্রতিশোধ ও অনেক মানুষের জীবন মরনের কথা। তাই এবার ডেভিল আমাকে হতেই হবে।
আমি যতোটুকু বুঝতে পারলাম মোশারফ একা নয় তার সাথে অন্যকেউও আছে। এবং রনিকে মারার আগ মুহুত্তের জানতে পারলাম তারা একটা কালো দুনিয়া বানাতে চাচ্ছে যেটা সাধারন মানুষদের জন্য মোটেও ভালো হবে না।

তাই আমাকেও এই সব শেষ করতে হবে আর আমার বন্ধুর মৃত্যুর প্রতিশোধও নেওয়া লাগবে।
তাদের ডেভিলকে দেখার এতোই সখ যখন তাই তাদের শেষ ইচ্ছাটাও পূরান করা আমার কর্তব্য। তাই আমিও হোটেলে গিয়ে গানও কিছু ম্যাকজিন নিয়ে বেরিয়ে পড়ি সেই মাঠের উদ্দেশ্যে যেখানে আরফিমকে ও আমাদের কিছু মেমবারদের আসতে বলি।


পর্ব ১৩

আমিও হোটেলে গিয়ে গানও কিছু ম্যাকজিন নিয়ে বেরিয়ে পড়ি সেই মাঠের উদ্দেশ্যে যেখানে আরফিনকে ও আমাদের কিছু মেমবারদের আসতে বলি।
চিন্তা করলাম তাদের আমি আমার চেহারা দেখাবো না। কারণ পরে আমার জন্য তা সমস্যা তৈরী করতে পারে। তাই চলে গেলাম শপিং মলের দিকে। সেখান থেকে কালো কালারের একটা হুডি ও মস্টার মাস্ক নিয়ে নিলাম।

সেটা নিয়ে আমি মল থেকে বেরিয়ে গেলাম আর মাঠের কাছে আসতেই আগে আমি এক কোনায় গিয়ে আমার সার্টের উপর হুডি পড়ে নিলাম। আর মাস্কটাও কারণ যদি আমি আমার চেহারা দেখিয়ে দি সর্বপ্রথম অনেকেই জেনে যাবে আমিই ডেভিল যার জন্য আমার পরিবারও সমস্যার সম্মক্ষিন হবে। ২য়ত পুলিশও আমার পিছে লেগে যাবে আমাকে ধরতে কারণ অনেক ক্রিমিনাল রেকোড করে বসে আছি। ৩য়ত আমার পরিবার জেনে যাবে যে তারা যাকে ভদ্র সিদাসাদা মনে করতো আসলে সেই সবচেয়ে বড় শয়তাম। যার জন্য আমিও তাদের চোখে খারাপ হয়ে যাবো।

প্রত্যেকটা জিনিসের মধ্যে ভালোখারাপ থাকে তার মধ্যে মাফিয়ারাও। আমি চাইলেই আমার পাওয়ার দিয়ে দুইনাম্বারি কাজ করে যেতে পারতাম কিন্তু আম্মু আব্বু আমাকে তেমন শিক্ষা দেয় নি। তারা সব সময় আমাকে ভালোটাই শিখিয়েছে যার জন্য আমিও মাফিয়া হয়েও মানুষের পাশে দাড়াচ্ছি।
আমিও মাঠের দিকে গেলাম। সেখানে দেখলাম অনেক গুলো ছেলেপেলে উপস্থিত। আমিও সেখানে যেতে লাগলাম। আমি প্রায় ১০ মিটারের দূরুত্বে তখনি আমার ফোন বেজে উঠে।

আমি দেখলাম যে কল দিছে সে আর কেউ মা আরফিন। আমিও ফোন কেটে সেই ভিড়ে গেলাম। আমি আরফিনকে দেখে তার কাছে যেতে লাগি। তখনি সেখানে থাকা কয়েকটা ছেলেপেলে আমাকে আটকায়।

ছেলে একটাঃ এই ছেলে এই এখানে কি করিস? কি চাই?
আমিঃ আরফিনকে ডাক দে। (শান্ত গলায়)
ছেলে একটাঃ এই তুই আরফিন ভাইকে আরফির বলতেছিস!
সাথে সাথে আমি গান বের করে মাটিতে শুট করলাম। গুলির আওয়াজ সুনে সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আর আরফিন দেখেই আমার কাছে চলে আসে।
আরফিনঃ এই ছেলে কে তুই? আর তোর কাছে গুলি কি করে আসলো?
আমিঃ আরফিন! গুলিটা কি তোর মাথায় করতে হবে! (শান্ত গলায়)
আরফিনঃ ডেভিল!

ডেভিল কথাটা শুনে সকলে অবাক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
আরফিনঃ ভাই আপনি ডেভিল! কিন্তু কেউ দেখলে বিশ্বাস করবে না। আর ভাই আপনি হুডি মাস্ক কেন পড়ে আছেন?
আমিঃ আমি জানি আমাকে দেখে কেউ বলবে না আমি ডেভিল। আর এই জন্যই তো বলি “Never Judge someone by seeing his Out Side।
First Try to know his Inside”
আর কথা রইলো হুডি মাস্ক পড়লাম কেন? কারণ আমি চাইনা কেউ আমার চেহারা দেখুন। এবার কথা বাড়াস না। এখন শুন তোদের এখানে ডাকা কেন হলো।
আরফিনঃ বলেন ভাই!

আমিঃ তোরা শহরের নাম করা বিজন্যাস ম্যান মোশারফ হোসেনকে তো চিনিস তাই না!
সবাই : হ্যা ভাই চিনি!
আরফিনঃ কিন্তু এই বুড়াকে দিয়ে কি কাজ ভাই?
আমিঃ আছে আছে। আচ্ছা তোরা তো তানভির এর কথা সুনছিস?
আরফিনঃ জি ভাই আপনার রাইট হ্যান্ড। আর উনি সুইসাইড করছে!
সাথে সাথে আরফিনের গালে দিলাম কসে একটা থাপ্পর।

আমিঃ এই কি বললি তুই? তানভির আমার রাইট হ্যান্ড! সে আমার ভাইছিলো। আর আমার ভাই এতোটাই নিম্ন মানসিকতার না যে সে সুইসাইড করবে! বরং আমাদের দেখানো হয়েছিলো সে সুইসাইড করছে কিন্তু প্রকৃত পক্ষে আমার ভাই আমার বন্ধুটাকে খুন করে তা সুইসাইডের নাম দেওয়া হয়। আর এই কাজটা করছে মোশারফ আর একটা ছেলে যার নাম রনি! তবে রনিকে আমি শেষ করে দিলাম এবার বাকি রইলো মোশারফ।

আরফিনঃ ভাই তার মানে গতকাল একটা ছেলে খুন হয় সেই কি রনিছিলো!
আমিঃ হুম। আর তাকে আমিই শেষ করলাম।

আরফিনঃ ঠিক আছে। তবে একটা জিনিস মাথায় ডুকলো না এই মোশারফ আমাদের পিছে পড়বে! ভাই এ তো আমাদের পিছে পড়ার মতো মানুষ না! ভাই আমার থেকে কেমন যানি অন্য রকম লাগতেছে।

আমিঃ তুই ঠিকি বুঝছিস। আমি জানি মোশারফর এই কাজে অন্যকেউ সহায়তা করছে এখন আমাদের কাজ হলো মোশারফকে ধরা তার থেকে জেনে নেওয়া তার পিছে কে আছে! আর তাকেও শেষ করে দেওয়া!
আরফিনঃ ঠিক আছে ভাই আমাদের এখন কি করতে হবে সেটা বলেন!

আমিঃ মোশারফ এখন তার অফিসেই থাকবে! তোদের কাজ হলো তার ফেক্টরিতে attack দেওয়া মানে তার ফেক্টরি শেষ করে দেওয়া। এরপর মোশারফ তার ফেক্টরির দিকে আসতেই তার উপর ঝাপিয়ে পড়া আর তাকে আমাদের আস্তানায় নিয়ে আসা।

আরফিনঃ ভাই ফেক্টরিতে হামলা করার কি আছে এই বুইড়ারে তার অফিস থেকে কান টেনে ধরে নিয়ে আসলে হয় না!

আমিঃ না। কারণ যদি তোরা অফিসে যাস তাহলে মোশারফের লোক তোদের দেখে ফেলবে কিন্তু ফেক্টরিতে শুধু গার্ড থাকবে। তাই তাদের শেষ করে দিবি কিন্তু খবরদার একটা ওয়াকার এর উপর আচও লাগতে দিবি না। জাষ্ট গার্ড ও ফেক্টরি। তবে শেষ করা মানে এই না যে পূরা ফেক্টরি উড়াই দেওয়া। মানে তাদের ফেক্টরি নিজেদের দখলে নিয়ে নিবি আর মোশারফকে আনার পর পুলিশকে বলবি মোশারফের ফেক্টরিতে সার্চ করতে!

আরফিনঃ ভাই একটা প্রশ্ন? আপনি বললেন ফেক্টরি প্রথমে নিজেদের দখলে নিয়ে নিতে তারপর মোশারফকে ধরার পর পুলিশকে ফেক্টরিতে সার্চ করতে বলতে মানে কথাটা মাথায় ডুকে নাই!
আমিঃ আচ্ছা আরফিন তুই জানিস ঐ ফেক্টরিতে কি কি আছে!
আরফিনঃ আরে ভাই আমাদের এলাকার ফেক্টরি আর আমরাই জানবো না! সেটা তো সার এর ফেক্টরি তাই না!

আমিঃ হা হা হা আসলে কি দেখে যে তোদের দলে নিলো বুজলাম না। তুই ঐ ফেক্টরির সম্পকে পূরাপুরি জানিস না তাহলে। পাব্লিককে দেখানোর জন্য সেটা হলো সার তৈরীর কারখানা কিন্তু আসলে সেই ফেক্টরিটা হলো বে-আইনি অস্ত্র ও মাদক দ্রব্যের গোডাউন। সেখানে তুই অনেক ধরনের আধুনিক অস্ত্রের পাশাপাশি নেশা দ্রব্যও পাবি যেমন : ড্রাগস। গাঞ্জা। ইয়াবা। মানে অনেক এলকোহল পাবি সেখানে!

আমার কথা সুনে প্রায় সকলেই থ হয়ে গেলো।
আরফিনঃ কি বলতেছেন ভাই এই গুলো? সালা তো সিদাসাদা তাহলে তার ফেক্টরিতে এই সব আসবে কই থেকে!

আমিঃ সে সকলকে সিদাসাদা দেখায় কিন্তু আসলেই সে সিদাসাদা নয় আর কথা রইলো এই বে-আইনি জিনিস গুলোর। সে এই গুলো একা সামলাতে পারবে না তার সাথে অন্য কেউ আছে। সো কথা না বলে কাজে যা!
তাহলে ভাই আপনি জায়গা বরাবর যান আমরা কাজ শেষ করে সেই বুড়াকে নিয়েই আসতেছি!

তারপর সেখানে থাকা সকলে চলে গেলো তাদের কাজে আর আমিও চলে গেলাম আড্ডায় আসলে আড্ডা বললে ভুল হবে আমরা যে জায়গাটা নিয়ে কথা বলতেছি সে জায়গাটা হলো পূরুনো একটা গোডাউন যেটা এখন আমাদের আড্ডা।

চট্টগ্রাম থাকা কালিন পিন্টু আমি আর তানভির সর্বপ্রথম এই আসি। তারপর এটাকে আমাদের আড্ডা খানা বানাই আর পিন্টু এর দারিত্ব আরফিনকে দেয়। এখানে আড্ডা দেওয়ার মতো সকল কিছু আছে। বলতে গেলে একটা ক্লাব বানিয়ে ফেলছে।

আমিও বসে আছি। চিন্তা করলাম আম্মুর সাথে কথা বলি তাই আম্মুকেও ফোন দি। আর তার কথা বলে নি।

প্রায় ২ ঘন্টা পর তারা আসে আর সাথে মোশারফও। তবে তাকে দেখে মনে হচ্ছে তার উপর ঝড় গেছে। তবে শুধু ঝড় গেছে তাতেই শেষ না। এখনো অনেক কিছুই বাকি আছে মোশারফ এর সাথে হওয়ার!
আরফিনঃ ভাই এই নিন আপনার মোশারফকে (আমার দিকে ছুড়ে মারে)
আমিঃ আরফিন! তুই ছাড়া বাকি সবাইকে চলে যেতে বল!
তারপর আরফিন সবাইকে চলে যেতে বলে। আর সবাই চলে যায়।
আমিঃ আরফিন এটাকে একটা চেয়ারে বেধে ফেল!

সাথে সাথে আরফিন মোশারফকে একটা চেয়ারে বেধে ফেলে!
মোশারফঃ কে তোরা? আর কেন আমাকে এখানে আনা হইছে!
আমিঃ চুপ! একদম চুপ। যা জিজ্ঞেসা করবো তাই বলবি তুই! এর বার্তি বকবি না(ধমক দিয়ে)
মোশারফঃ আমাকে কেন এখানে আনা হইছে। আমি কিন্তু নাম করে বিজন্যাস ম্যান। আমাকে কেন কিডন্যাপ করা হইছে! টাকার লোভে আমাকে কিডন্যাপ করছিস না তোরা! এতোক্ষনে পুলিশ আমার কিডন্যাপের কথা জেনে গেছে মনে হয়। তারা আমাকে ঠিক খুজে বের করে নিয়ে যাবে! আর তোদেরও ছাড়বে না! (রেগে)

আমিঃ আরফিন তোকে এটাকে আনার সাথে সাথে আরএকটা কাজ দিছিলাম সেটা করছিস?
আরফিনঃ ও সরি ভাই ভুলে গেছি। এখনি করে দিচ্ছি।

তারপর আরফিন পুলিশকে ফোন করে।
আরফিনঃ হ্যালো * থানা। জি আপনাদের জন্য একটা নিউজ আছে!
অপরপাশ……..

আরফিনঃ জি। শহরের জনপ্রিয় বিজন্যাস ম্যান মোশারফ হোসেন এর ফেক্টরিতে বে-আইনি অস্ত্র ও মাদক দ্রব্য পাওয়া গেছে। আপনারা তারাতারি সেখানে যান।
বলেই ফোন কেটে দিলো।
আরফিনঃ ভাই Done।

আমিঃ গুড। একটা তার প্লাস হবে!
আরফিনঃ আছে তো ভাই। আড্ডায় অনেক সময় ইলেক্ট্রিসিটির সমস্যা হয় তাই এই সকল যন্ত্র পাতি রাখতে হয়। দাড়ান আমি নিয়ে আসি!
তারপর আরফিন গিয়ে তার প্লাস নিয়ে আসে।
আরফিনঃ এই নেন ভাই! (প্লাস এগিয়ে দিয়ে)
আমিও প্লাস নিয়ে নিলাম। আর মোশারফের কাছে এগিয়ে গেলাম।
মোশারফঃ এই! তোর হাতে প্লাস কেন? আর আমার দিকে এভাবে কি দেখছিস তুই? তোর মুখে মাস্ক কেন? কে তুই?
আমিঃ যে ব্যক্তির খুব কাছের একজনকে কেড়ে নিলি আমিই সেই ব্যক্তি! যে ব্যক্তিকে তোরা মারার ও তার অস্তিত্ব মিটাতে চেয়েছিস আমিই সেই ব্যক্তি!
মোশারফঃ মানে? (অবাক হয়)

আমিঃ হা হা হা।
সাথে সাথে মোশারফের ডান হাতের একটা নখ প্লাস দিয়ে তুলে ফেললাম। রক্ত বয়ে পড়তে লাগলো!
মোশারফঃ আয়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়া। (চিৎকার দিয়ে কান্না করে দেয়)
আমিঃ এবার বুঝছিস আমি কে? (ধমক দিয়ে)
মোশারফ কান্না করেই যাচ্ছে হাত ধরে!

আমিঃ কিরে এখন ব্যাথা লাগে তাই না! তাহলে কেন তোরা তানভিরকে মারলি! আমার বন্ধুর কষ্ট হয় নাই! নাকি সব কষ্ট তোরাই নিজেই জন্মেছিস!
মোশারফঃ আমাকে ছেড়ে দে plz। আমি লোভে পড়ে এসব করছি! (কান্না করতে করতে)
আমিঃ তাহলে আমি যা জিজ্ঞেসা করবো তা সঠিক সঠিক জবাব দিবি! কার সাথে হাত মিলিয়েছিস! তোর পিছে থাকা ব্যক্তিটা কে?

মোশারফ হাত ধরে কান্না করেই যাচ্ছে!
আমিঃ কিরে জবাব দিচ্ছিস না কেন? কে সেই ব্যক্তি? নাকি আরো একটা নখ তুলতে হবে! (ধমক দিয়ে)
মোশারফঃ বলছি বলছি। সব বলছি! সে আর কেউ না আসরাফ চোধুরী।


পর্ব ১৪

আমি মোশারফকে জিজ্ঞেসা বাদ করতে লাগলাম যে কার সাথে সে হাত মিলিয়ে আমার বন্ধু তানভিরকে খুন করছে আর কালো দুনিয়া বানাতে সাহায্য করছে
মোশারফঃ বলছি বলছি। সব বলছি! সে আর কেউ না আসরাফ চোধুরী।
আমিঃ কিহহহহ! আসরাফ চোধুরী? (অবাক হয়ে)

মোশারফঃ হ্যা। আসরাফ চোধুরী আমাকে তার প্লেনে জোগ করে। সে আমাকে মোটা অংকের টাকা দিবে বলছে তাই আমিও রাজি হয়ে যাই তার সাথে!

আপনারা হয়তো ভাবছেন এই আসরাফ চোধুরীটা কে? আসরাফ চোধুরী একজন বিত্তশালি ব্যক্তি যার কাছে আছে অসংখ্য টাকা। সে নামের একজন বিজন্যাস ম্যান। তবে তার কাছে সব দুনাম্বারির টাকা। সে বিদেশি মাফিয়াদের সাথে অস্ত্রও বিভিন্ন নেশা দ্রব্যও দেশে আদান প্রদান করে। একবার পুলিশ তা জানতে পারে ও তাকে ধরতে গেলে সেও বিদেশে পালিয়ে যায় এবং কি আমিও পর্যন্ত এর পিছে লেগে আছি। কারণ এই জানোয়ারটার জন্য অনেক মানুষ ড্রাগস এর addict হয়ে গেছে। কিন্তু আজ জানতে পারলাম আমি যার পিছে লেগে আছি এখন সেও আমার পিছে লেগে আছে।

এই আসরাফ চোধুরীর জন্য আজ তার পরিবারও সবাজে কলংকিত। তার কুকাজের জন্য তার পরিবারকে তার ফল ভোগ করতে হচ্ছে। আসরাফ চোধুরীর পরিবারে সে ছাড়া বাকি সবাই ভালো। তার পরিবারে আছে একটা ছেলে ও একটা মেয়ে আছে। কিন্তু আজ তারা কোনো দোশ ছাড়াই আসরাফ চোধুরীর কারণে সমাজে সকলের কাছে মাথা নিচু করে চলে। তাই আসরাফের পরিবার এখন আসরাফের সাথে কোনো সম্পর্ক অবশিষ্ট রাখে নি।
আমিঃ এই আসরাফ এখন কোথায় আছে?

মোশারফঃ সে সপ্তাহ খানেক আছে চট্টগ্রাম আসে আর আমার সাথে গোপনে দেখা করে। তবে এখন কোথায় আছে তা জানি না!
আমিঃ আচ্ছা তাহলে এটা বল। তার সাথে কিভাবে কন্ট্রাষ্ট করতি?
মোশারফঃ সে আমাকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নাম্বার থেকে কল দেয় আর কি কি করতে হবে তা বলে!
আমিঃ তোর মোবাইলে ফোন দেয় নাকি লেন্ডলাইনে?
মোশারফঃ আমার পারসোনাল ফোনে কল দিয়ে সব বলে।

আমিঃ ফোনটা কোথায়? তোর কাছেই আছে নাকি অন্য কোথাও?
মোশারফঃ আসরাফ চোধুরী বলছে সে আমাকে যে কোনো সময়ে ফোন দিতে পারে তাই আমাকেও ফোনটা কাছেই রাখতে হয়। আর ফোনটা আমার কাছেই আছে! আমার পকেটে!
আমিও মোশারফের পকেট থেকে ফোন বের করি।
মোশারফঃ লাষ্ট রিসিব নাম্বারের আগের নাম্বারটা থেকেই আজকে আসরাফ ফোন দিছিলো আমাকে!
আমিঃ তাহলে সব কাহিনি এই ফোনেই আছে।

মোশারফঃ হ্যা। তবে ফোন দিলে আগে আমাকে কথা বলতে হয় নাহলে সে কথা বলে না। প্লিজ আমাকে মেরো না। আমি যা করছি তা অন্যায়ছিলো প্রয়োজনে আমাকে পুলিশের হাতে দাও। (করুন গলায়)

আমিঃ সেটা পরে দেখা যাবে।
আমি সেই নাম্বারটা খেয়াল করলাম। এটা ইন্টারনেট এর নাম্বার মানে ইন্টারনেট থেকে কল করা হইছে মোশারফকে। সালার বুদ্ধিতো ঠিক আছে এই ভাবে কল করলে কেউ ট্রেস করতে পারবে না। কারণ যখনি কেউ ইন্টারনেট থেকে কল করে তখন অনেকেই আইপি এড্রেস প্রুফ করেই কল দেয়। যাতে কেউ ট্রেস করতে না পারে। কিন্তু এখানেও একটা ট্রিক্স আছে। অনেকে আইপি এড্রেস প্রুফ করলেও তার কিছু কোড থেকে যায় সেটা ট্রেস করা যেতে পারে তবে এটা একমাত্র মাস্টার হ্যাকাররাই করতে পারে আর আমার কাছে একজন প্রো হ্যাকার আছে।

হঠাৎই মোশারফের ফোনে কল আসে। দেখলাম সেই ইন্টারনেট এর নাম্বার।
আরফিনঃ কে কল দিছে ভাই?
মোশারফঃ ভাই আমার কাছে আনেন নাহলে আমার ভয়েস না শুনে সে কথা বলবে না।
মোশারফ বুঝতে পারলো যে কে কল দিছে তাই আমিও কল রিসিব করে তাকে দি।
মোশারফঃ হ্যালো…

অপরপাশঃ পুলিশ কি করে জানলো তোর ফেক্টরিতে অস্ত্রও ড্রাগস আছে! এটা ফাস কি করে হলো। তুই জানিস এখানে কয়েকশত কোটিটাকার জিনিসছিলো।! (রেগে)
মোশারফঃ আমিও তো জানি না পুলিশ কি করে জানলো এই বেপারটা!

অপরপাশঃ আমার কতোটাকা লস হইছে তুই জানিস! এখনি তোর ফেক্টরিতে কাজ করা সকল ওয়ারকারকে চেক কর। আমি সেই নেমকহারামকে চাই।! (রেগে)
মোশারফঃ জি। আপনি চিন্তা করবেন না আমি দেখতেছি।
অপরপাশঃ হ্যা চিন্তা করবো না। আমার কয়েকশত কোটি টাকার লস হইছে আর আমি নিশ্চিন্তে থাকবো তাই না। যে করেই হোক সেই জিনিস গুলো ছাড়িয়ে আন নাহলে তোকে আস্ত ছাড়বো না। (রেগে)

বলেই ফোন কেটে দিলো।
আমিও এবার রোকসানাকে ফোন দিলাম।
আমিঃ হ্যালো রোকসানা?

রোকসানাঃ কিরে হারামি কইছিলি তুই? কলেজে আসিস না কেন?
আমিঃ আরে অনেক বড় সমস্যায় আছি আমি। সেটা পরে বলবো এখন একটা ইন্টারনেটের নাম্বার দিলে সেটা ট্রেস করতে পারবি?

রোকসানাঃ তুই কি পাগল? নেটের নাম্বার গুলো ips প্রুফিং করা থাকে তুই জানিস না!
আমিঃ তাহলে তুই আমাকে এটা কেন বলল? তুই অনলাইনের নাম্বার পর্যন্ত ট্রেস করে ফেলতে পারিস।
রোকসানাঃ হুম পারি। তবে সেই নাম্বারগুলোর একটা কোড থাকে সেটা দিয়ে করা যায়।
আমিঃ আচ্ছা আমি তোকে একটা নাম্বার দিচ্ছি সেটা দেখ ট্রেস করতে পারিস কিনা?
রোকসানাঃ আচ্ছা দে। দেখি ট্রেস করতে পারি কি না!

তারপর ফোন কেটে দিলাম। আর মাত্র আসরাফ যে নাম্বার থেকে কল দিছে সেটা রোকসানাকে পাঠিয়ে দিলাম।
আপনারা হয় তো খেয়াল করছে রোকসানা আমাকে তুই তকারি করে কথা বলতেছে। আসলে আমিই তাকে এভাবে কথা বলতে বলি। কারণ সকলের সামনে বস ডাকলে আমার পরিচয় ফাস হয়ে যেতে পারে তাই আমিও রোকসানাকে বলে দি আমার সাথে বন্ধুসরূপ আচরন করতে যাতে কেউ আমাদের সন্দেহ না করে।
আরফিনঃ ভাই এখন মোশারফকে কি করবেন?
আমিঃ সেটাই করবো সেটা তার জন্য ভেবে রাখা হইছে।

মোশারফঃ plz আমাকে ছেড়ে দেন! (করুন গলায়)
আমিঃ তুই যদি আমার বন্ধুর হত্যাকান্ডে জড়িত না থাকতি তাহলে তোকে ছেড়ে দিতাম কিন্তু এখন তোকে যদি এভাবেই ছেড়ে দি আমার বন্ধুত্বের অসম্মান হবে। যা আমি কোনো দিনো করতে পারবো না। তাই তোকে তো মরতে হবেই।
গান বের করলাম আর লোড করলাম। এরপর ডাইরেক্ট মোশারফের দিকে তাক করলাম।
মোশারফঃ ভাই আমাকে মারিয়েন না ভাই আমার পরিবার আছে ভাই। ভাই প্লিজ ছেড়ে দেন। (ভিত হয়ে)
কথা না বলে সুট করে দিলাম। তবে মোশারফকে উপরে সুট করলাম।
মোশারফ চোখ বন্ধ করে আছে।

আরফিনঃ ভাই একে মারলেন না কেন?
আমিঃ আজ যদি আমি তাকে মারতাম তাহলে তার পরিবার অসহায় হয়ে পড়তো। তার পরিবারে সেই একজন আছে যে কিনা income করতে পারবে। আর আমার বন্ধু অতটাও নিষ্ঠুর নয় যে সে নিজের জন্য অন্যদেরকে কষ্ট দিবে। সে আমাকে সব সময় একটা কথা বলতো। যাতে তার জন্য যাতে কোনো পরিবার অসহায় না হয়। তাই আমিও মোশারফকে মারলাম না। যদি মোশারফ একা হতো বা তার পরিবারে উপার্যন করার মতো কেউ থাকতো তাহলে তাকে মেরে দিতাম কিন্তু তার ২টা মেয়ে আছে ১টাকে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। আর একটা মাত্র ইন্টার পড়তেছে। তাই আমিও মোশারফকে তার পরিবারের জন্য ছেড়ে দিলাম।
হঠাৎ আমার ফোন বেজে উঠে। দেখলাম রোকসানা ফোন দিছে।
আমিঃ হ্যা বল!

রোকসানাঃ তুই একে কোথায় পেলি? এই শয়তানটাকে আমরা কতোই না খুজলাম।
আমিঃ আগে এটা বল ট্রেস করছিস?
রোকসানাঃ ট্রেস completed। সে এখন ঢাকায় আছে। আর আমিও তার উপর নজর দারি লাগিয়ে রাখলাম। কিন্তু তুই তাকে পেলি কি করে?
আমিঃ অনেক কাহিনি! পরে বলবো। তবে এই আসরাফ চোধুরীর উপর নজর রাখ আমি ঢাকায় আসতেছি।
রোকসানাঃ ঠিক আছে!

তারপর ফোন কেটে দিলাম। আর সেই মোশারফকেও ছেড়ে দিলাম।
আমিঃ এবার তুই যা তোকে ছেড়ে দিলাম। তবে আগে গিয়ে নিজের হাতের চিকিৎসা করাইস।
তারপর মোশারফ দোড়ে চলে গেলো। আর আমিও গোডাউন থেকে বাহিরে যাই।
আমি চাইছিলাম তার থেকে প্রতিশোধ নিবো কিন্তু প্রতিশোধ নিতে গিয়ে যদি তানভিরের জন্য অনেক বড় ক্ষতি করে দি তাহলে তানভির আমাকে ক্ষমা করবে না। আমি জানি আমার ভাইটা আজকে আমার প্রতি গর্ববোধ করবে “আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি আর চোখ দিয়ে পানি বয়ে পড়তে লাগলো।
আমিঃ আরফিন! থ্যাংক্স আমার সাথে থাকার জন্য।

আরফিনঃ আরে ভাই আমি তো আপনারই লোক। আপনার সাথে থাকবো না তো কার সাথে থাকবো!
আমিঃ তবুও থ্যাংক্স।
আরফিনঃ ভাই একটা কথা বলি!
আমিঃ বল!
আমিঃ আমাকে আপনার চেহারাটা একবার দেখাবেন plz ভাই। আমি আপনার চেহারাটা দেখতে চাই! কেউকে বলবো না। শুধু একটিবার দেখবো আপনাকে!
আমিঃ আচ্ছা ঠিক আছে দেখ তাহলে।

তারপর মুখ থেকে মাস্কটা সরাই। আর হুডিও সরাই।
আরফিন আমাকে দেখার পর অবাক চোখে তাকিয়ে আছে।
আরফিনঃ ভাই! এটা আপনার রিয়েল ফেইস? ভাই আপনি তো আমাদের কলেজে পড়ছেন না! (অবাক হয়ে)
আমিঃ হুম। তাহলে মনে আছে তোর।

আরফিনঃ ভাই সিরিয়াসলি আমি ধোকা খেয়ে গেলাম। কারণ আপনি সবার সামনে কতোটাই না ভদ্র সেজে ছিলেন কিন্তু আপনি তো!
আমিঃ হা হা হা। এই জন্যই তো তানভির আমাকে Mr_Innocent_Devil নামটা দিলো।
কথাটা বলেই আমি আমার মাস্ক আর মাথায় হুডি দিয়ে দিলাম।
আমিঃ আচ্ছা চলি তাহলে ভবিষ্যতে আবারো দেখা হবে।
আরফিনঃ ভাই। আমিও ঢাকায় যাবো। আপনার সাথে হাটাচলা করবো। আর ভাই যে নাম্বার থেকে কল দিছেন সেই নাম্বারে আপনাকে কল দিলে পাবো?
আমিঃ হুম পাবি। আচ্ছা আমি যাই ভালো থাকিস।

তারপর আরফিন থেকে বিদাই নিয়ে আমার হোটেল রুমে চলে গেলাম। আর সেখানে গিয়ে তানভিরের গান ভালো করে পরিষ্কার করে নিলাম আর তা খুলে খন্ড খন্ড করে একটা প্যাকেটে ডুকিয়ে নিলাম। এরপর নিজের ব্যাগ গুছিয়ে নিলাম। আর পিন্টুকে ফোন করে আমার জন্য ফ্লাইটের টিকেট বুক করে নিলাম ঢাকার জন্য।
এরপর হোটেল রুম থেকে বেরিয়ে হোটেলের চাবি হোটেল ম্যানেজারকে বুজিয়ে চলে গেলাম বন্ধুর কবরের কাছে।
সেখানে গিয়ে প্যাকেট করা সেই পিস্তলটা সেই কবরস্থানে দাফন করে। বন্ধুর জন্য দোয়া করে শেষ বিদাই দিয়ে চলে গেলাম এয়ারপোটে।
ফ্লাইট ৪:০০ আর এখন বাজছে ৩:০৭ আর দুপুরের খাবার খেয়ে নিলাম। আসলে লেট হয়ে গেছে এই মোশারফের সাথে কথাবার্তা বলতে ও সামলাতেই সময় পার হয়ে গেল।
খাওয়া দাওয়া শেষ করেই কিছুক্ষন ইয়ারপোটে বসেই সময় কাটালাম তারপর ফ্লাইটের সময় হয়ে গেলো আর আমিও ফ্লাইটে উঠে গেলাম। কিছুক্ষন পরেই ফ্লাইটের যাত্রা শুরু।
ফ্লাইট ঢাকায় লেন্ড করে আর আমিও ইয়ারপোট থেকে বের হই আর দেখি পিন্টু আমার জন্য গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

এখন প্রায় সন্ধ্যা হয়েই গেলো। আমিও পিন্টুর গাড়িতে উঠে পড়লাম।
পিন্টুঃ ভাই সময় কেমন কাটলো চট্টগ্রামে!
আমিঃ আমি কি চট্টগ্রামে হানিমুনে গেছিলাম যে আমার সময় ভালো কাটবে। আমি ঐখানে কাজে গেছিলাম।
পিন্টুঃ থাক ভাই গালি শুনার সখ নাই।
আমিঃ এমনেও শুনবি। তোর মুখে কিছু আটকায় না নাকি? লিটন ও তার বোনকে তানভিরের কথাটা বলাটা কি জরুজিছিলো!
পিন্টুঃ কেন ভাই কি হইছে!

তারপর কিছুকিছু কথাই বললাম সব বলি নাই। শুধু এতো টুকুই বলছি ফারিয়া আমার পিছে লেগে পড়ছে। সব বললে আমার ইজ্জত অবশিষ্ট থাকবো না। হুদাই নিজের ইজ্জত নিজে ধুয়ে তো আর লাভ নাই।
পিন্টুঃ ভাই। তাহলে আমি লিটনকে সাবধানে করে দি!
আমিঃ না বাদ দে। আর একটা হোটেলে নিয়ে যা। বাড়ি যাবো না।
পিন্টুঃ ভাই বাড়ি যাবেন না ভালো কথা কিন্তু হোটেলে যাওয়ার কি আছে! আপনি আমার বাড়িতে চলেন!
আমিঃ যেটা বলছি সেটা শুন।

তারপর পিন্টু আর কথা বলল না। আমাকে একটা হোটেলে নিয়ে যায় আর আমিও হোটেলের রুম বুক করি। আর দুজনে নাস্তা করে নিলাম। এরপর পিন্টুকে পাঠিয়ে দিলাম।
আমি হোটেলে থাকার কারণ আমি বাড়ি গেলে পরে বের হতে পারবো না। একদম কয়েকদিনের জন্য রাতে বের হওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। আর তা আমি হতে দিতে পারি না কারণ রাতেই আমি আমার কাজ করবো।
এরপর আমিও হোটেলের রুমে চলে যাই আর ফ্রেস হয়ে নি। তারপর খাটে কিছুক্ষনের জন্য লেটিয়ে পড়ি।
আজ যে করেই হোক আমাকে এই আসরাফ চোধুরীর কাজের সমাপ্তি ঘটাতেই হবে। তার কালো দুনিয়া বানানোর সপ্নকে বেহেস্তে পাঠাতেই হবে আমাকে। তাই আমিও ফোন বের করে আমার লোক দের রেডি হতে বলেদি। কারণ আজ রাতেই Devil এর Counter Attack হবে আসরাফ চোধুরীর উপর।


অন্তিম পর্ব

আমিও ফোন বের করে আমার লোক দের রেডি হতে বলেদি। কারণ আজ রাতেই Devil এর Counter Attack হবে আসরাফ চোধুরীর উপর।
হঠাৎ আমার ফোন বেজে উঠে আর দেখি আম্মু ফোন দিছে। আমিও রিসিব করলাম
আমিঃ হ্যালো আম্মু আসসালামুয়ালাইকুম। কেমন আছো?
আম্মুঃ ভালো। কিন্তু তুই আমাকে দুপুরে ফোন দিস নাই কেন? জানিস আমার কতো টেনসেন হচ্ছিলো! (রেগে)
আমিঃ সরি আম্মু একটু ব্যস্থছিলাম।

আম্মুঃ আচ্ছা ছাড় ঐসব কথা এখন শুন। আমি একটা কথা বলবো। রাখবি আমার কথা!
আমিঃ কি আম্মু?
আম্মুঃ আমি আর তোর আব্বু চাই। তোর আর ফারিয়ার চার হাত এক করে দিতে!
আমিঃ আম্মু এই মেয়েটাকি তোমাকে পূরাই পটাইফেলছে তাই না!

আম্মুঃ ঐসব কথা শুনতে চাচ্ছি না আমি! এখন আমার কথা রাখবি কি না সেটা বল!
আমিঃ আমি জানি না যা খুশি করো তোমরা! আমি এমনেই অন্যএকটা সমস্যায় আছি।
আম্মুঃ তাহলে আমি বিয়ের ব্যবস্থা করতেছি। আর তুই কবে আসবি!
বাচি না মরি তার গেরান্টি নাই এখানে আম্মু বিয়ে নিয়ে পড়ে আছে। জানি না ভাগ্যে কি লিখা আছে “মনে মনে”
আম্মুঃ কিরে কথা বলিস না কেন? কবে আসবি তুই?

আমিঃ এই তো দেখি কবে আসতে পারি! আচ্ছা আম্মু রাখি আমার একটু বাহিরে যেতে হবে। পরে কথা বলবো!
আম্মুঃ আচ্ছা ঠিক আছে ভালো থাকিস।
আমিঃ জি আম্মু! খোদাহাফেজ.
বলেই ফোন কেটে দিলাম। এবার কল দিলাম আমার লোককে। আর তাকে আমার হোটেলের ঠিকানা দি আর বলি গাড়ি নিয়ে এসে আমাকে নিয়ে যেতে।
আমিও আমার সেই কালো হুডিটা নিয়ে নি সাথে মাস্কটাও। এরপর আমিও রোকসানাকে কল দি।
আমিঃ হ্যালো রোকসানা!

রোকসানাঃ জি অন্তর সাহেব বলেন! কি সাহায্য করতে পারি!
আমিঃ আপাদত একটুকুই সাহায্য করুন। আমাকে সেই লোকেশনটাই দেন তো!
রোকসানাঃ তার মানে তুই শহরে চলে আসছিস?
আমিঃ হুম। তবে এখন লোকেশন দে বার্তিকথা বলার মুড নাই।
রোকসানাঃ ওকে। তবে সাবধানে থাকিস।

তারপর আমি ফোন কেটে দি আর কিছুক্ষন পর আমাকে রোকসানা লোকেশন পাঠায়।
কিছুক্ষন পরে আমার রুমের দরজা নক করা হয়। আমিও হুডি আর মাস্ক পড়েনি। কারণ আমি জানি কে আসছে!

তারপর রুম লক করে আমিও চলে যাই আর গাড়িতে গিয়ে বসি। এরপর লোকেশন দেখে গাড়ি চালাতে বলি। লোকেশনটা ছিলো একটা অনেক পূরানো ফেক্টরির।
আমি আমার লোকদের সেখানের ঠিকানা দিয়ে দি আর সকলকে সাবধানে থাকতে বলে দি। কারণ একটা ভুল পদক্ষেপের জন্য আমাদের হাত থেকে সেই আসরাফ চোধুরী পার পেয়ে যাবে সেটা আমি কোনো মতেই চাই না।

গাড়ি লোকেশন বরাবর পোছে যায়। এরপর আমরা গাড়ি থেকে নেমে পড়ি। এই মিশন সম্পকে আমি পিন্টুকে কিছুই বলি নাই। কারণ পিন্টুকে এখন এই প্রেসারটা দিতে চাচ্ছি না আমি। সে এখন একটু নরমাল থাকুক।
আমি দেখলাম আমার লোকজন সবাই সেখানে উপস্থিত। তাই আমিও তাদের কাছে যায়।

আমিঃ Listen guys। এখন আমরা একদম শান্তশিষ্ট ভাবে থাকবো। তবে প্রথমে আমি ভিতরে যাবো। তোরা শুধু ফেক্টরির চারোদিকে ঘিরে থাকবি। কারণ এখন আমরা উল্টা পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারবো না। আগে আমাদের পরিস্থিতি বুঝতে হবে তারপর action নিবো। তবে তোরা এলাট থাকবি! আর কোনো আওয়াজ করবে না যাতে কেউ বুঝতে না পারে এখানে তোমার উপস্থিতি। আর যে করেই হোক আমাদের এই আসরাফ চোধুরীর মেটার ক্লোজ করতেই হবে।

লোক একটা : ভাই আপনি নিশ্চিন্তে থাকেন। তবে একটা কথা বলতে চাই। ভিতর থেকে যদি কোনো আওয়াজ পাই তাহলে আমরা ঝাপিয়ে পড়বো! কারণ আপনি আমাদের লিডার। আমাদের বস। আপনার ক্ষতি হতে দেখা আমাদের সহ্য হবে না ভাই!

আমিঃ ভুলেও সেটা করবি না। মোট কথা আমার পরবর্তি কমান্ড শুনে পদক্ষেপ নিবি তোরা। তার আগে না।
লোকটাঃ তবে আপনাকে একা যেতে দেওয়াটা উচিত হবে না। আপনার যদি কিছু হয়ে যায়! আপনার পরিবর্তে অন্য কেউ যাক! আপনার কিছু হলে তো আমরা অসহায় হয়ে যাবো ভাই।!
আমিঃ দেখ তোদের মধ্যে কেউ ভিতরের পরিস্থিতি সামলাতে পারবে না। আমাকেই যাওয়া লাগবে তাই আমিই যাবো। তবে একটা কথা। তোদের সকলে ফোন অন করেই রাখবি। কারণ তোদের মধ্যে থেকে একজনকে কল করে পরবর্তি নিদেশ দিতে পারি। আচ্ছা আমি যাই তোদের যা বলছি তাই যেনো মনে থাকে।

তারপর আমিও সোজা ফেক্টরির ভিতরে চলে যেতে লাগি। তবে আমার কাছে কোনো গান নেই। কারণ যদি ধরা পরি চেকিং এর সময় গান পেলে তো গেছি।
ভিতরে গিয়েই মুখের মাস্কটা খুলে ফেলি কারণ এখানে কেউ আমাকে চিনে না সো মাস্ক পড়লে আরো সন্দেহ করবে। মাস্ক খুলে পকেট থেকে চশ্মাটা পড়ে নি। আর হুডিটা খুলে নি।

আমি ভিতরে হাটতে লাগি। আসলে আমি প্লেন করছি প্রথমে আমি তাদের কাছে ধরা দিবো তারপর তারা আমাকে আমার টার্গেট আসরাফ চোধুরীর কাছে নিয়ে যাবে আর সেটাই আমার জন্য enough.
আমিও হাবাবোবা ছেলের মতো ভিতরে হাটছি আর দেখতেছি। সেখানে প্রায় অনেক কিছুই দেখলাম। সেখনে অনেক লোক আছে প্রায় ৮০। ৯০ জনের মতো আর তাদের কাছে আছে বিভিন্ন রকমের অস্ত্র।

আমি হাটতেছি হঠাৎই কেউ একজন পিছন থেকে বলে উঠে।
এই ছেলে দাড়া! (পিছন বরাবর থেকে)
এবার শুরু করে দিলাম innocent হওয়ার। মানে এমন ভান শুরু করলাম মনে হয় আমি ১০। ১২ বছরের বাচ্ছা।
পিছনে ফিরলাম আর দেখলাম আমার দিকে ak 47 তাক করে দাঁড়িয়ে আছে।
লোকটাঃ এই ছেলে হাত উপর কর? কে তুই আর এখানে কি করতেছিস? (ধমক দিয়ে)

আমিও হাত উপর করলাম!
আমিঃ আ আ আমাকে মারবেন না plz।! (innocent সেজে)
সাথে সাথে আমাকে আরো ৭। ৮ জন মিলে ঘিরে ফেলে। আর একজন আমার কলার ধরে। যা আমার রাগ উঠিয়ে দেয়। তবুও আমি কোনো মতে কন্ট্রল করে নিলাম।
একটা গার্ড : এই এটাকে বসের কাছে নিয়ে যা।

তারপর তারা আমাকে নিয়ে যেতে লাগে। তবে আমি যেতে যেতে অনেক কিছুই দেখলাম। সেখানে থাকা লোক গুলো বিভিন্ন অস্ত্র। মাদক দ্রব্য ও টাকা প্যাকেটিং করতেছে। আমাকে সেখানেও সে জায়গা পার করে একটা রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে ফেক্টরিটা দেখে অবাক না হয়ে পারলাম না। কারণ বাহিরের থেকে সেটাকে অনেক ভাঙ্গাচুড়া দেখাচ্ছিলো কিন্তু ভিতরে তো পূরাই নতুনের মতো। বাহির থেকে ফেক্টরিটা দেখলে কেউ এটার প্রতি ইন্ট্রেষ্ট দেখাবে না কিন্তু ভিতরে তো!
আমি রুমে ডুকতেই আমাকে ফ্লোরের দিকে ছুড়ে মারা হয়। আমিও পড়ে যাই।

লোকটাঃ বস এই ছেলেটাকে এখানে পাওয়া যায়।
হঠাৎই কেউ একজন আমার চুল ধরে চেনে উঠায়। তবে সে আর কেউ না আসরাফ চোধুরী।!
আসরাফঃ এই ছেলে! তুই এখানে কি করিস! এখানে আসার সাহস কি করে পেলি তুই? এই তোরা এটাকে চেক করে দেখছিস!
লোকটাঃ না।
তারপর তারা আমাকে চেক করে।
লোকটাঃ না ভাই কিছুই তো নেই এর কাছে।

আসরাফঃ দেখতে তো পুরাই আবালের মতো। এই তোরা এই আবালটাকে ধরে একটা রুমে বন্ধি করে রাখ।

লোকটাঃ জি বস। তারপর তারা আমাকে একটা রুমে নিয়ে বন্ধি করে রাখে।
হা হা হা আবারো ধোকা দিয়ে দিলাম। আমাকে আবাল বলল অথচ তারা এখনো বুঝে নাই আমি আবাল নাকি তাদের জম। আসলে আমি নিজেকে সকলের সামনে সিদাসাদা দেখাতে চাই তাই একটু আবাল মার্কা গেটাপ নিয়েই থাকি যার জন্য যে কেউ ধোকা খেয়েই যায়।

তবে এই মাত্র আমাকে যে রুমে নেওয়া হয়েছিলো সেখানে আমি কিছু ব্যাগ ও ৫টা কম্পিউটার দেখলাম যেটাতে ৫জন বসে বসে কাজ করছিলো।
হঠাৎ কেউ একজন আমার রুমে আসে। দেখলাম গার্ড আসলো। আমিও নাটক শুরু করে দিলাম।
আমিঃ ভাইয়া আমাকে ছেড়ে দেন! আমার আম্মু হয়তো আমার জন্য টেনসেন করতেছে। আমি আর কোনো দিনো এখানে আসবো না ভাইয়া। (রিকোষ্ট করে)

ছেলেটাঃ একবার এখানে আসছিস মানে এখান থেকে আর ফিরতে পারবি না। বস হয়তো কোনো কাজে তোকে রাখছে নাহলে যেই এখানে আসে সেই মরে!
আমিঃ কিন্তু আমি তো মরতে আসিনাই এখানে! (করুন গলায়)

ছেলেটাঃ কিছুই করার নাই। হয়তো বস তোকে অন্যভাবে মারবে! (হেসে)
আমিঃ আরে আবুল আমার পুরা কথা তো শেষ করতে দে। আমি এখানে মরতে না তোদের মারতে আসছি!

বলেই প্যান্টের বেল্টের একটা ছোট পকেট ছুরি লুকিয়ে রাখছিলাম সেটা বের করে মুহুত্তের মধ্যেইসোজা ছেলেটার গলায় পোচ মেরে দি! খেল খাতাম।
তারপর ফোন বের করে ম্যাসেজ দিয়ে দি ছেলেপেলে দের। আর মেসেজ দেওয়ার সাথে সাথেই হামলা শুরু।

আমি কারো আসার আওয়াজ সুনতে পাই আমিও দরজার পাশে দাড়িয়ে যাই। দরজা খুলে একজন গার্ড ডুকে আর সেই গার্ডকে রক্তাত্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেই চিৎকার করতে যাবে তখনি আমিও তার থেকে সুযোগ বুঝে গান নিয়ে নি আর সুট করেদি। দুজন শেষ। আগের গার্ড থেকেও পিস্তল্টা নিয়ে নি। এবার রুম থেকে বেরিয়ে দেখি কয়েক জন এই দিকেই আসতেছে আমিও চশ্মা খুলে ফেলে দি আর দুহাতে দুটো পিস্তল নিয়ে গুলি চালাতে লাগলাম। পরপর ৮ জন আসে আর সব কটাকেই সুট করে শেষ করে দিলাম। আর ফেক্টরি তো আমার ছেলে পেলেই সামলাচ্ছে!

এবার গান নিয়ে সেই কম্পিউটার রুমের দিকে যাই। সেখানেও থাকা লোক গুলোর গানে হেড ফোনছিলো তাই তারা বাহিরের শব্দ শুনতে পায়নি। আমাকে তারা দেখে সাথে সাথে উঠে পড়ে আর তাদের ডেস্কে পিস্তলছিলো।

এই ছেলে এখানে এখানে কি! আর তোর হাতে পিস্তল কেন? (একজন)
সাথে সাথে কথা না বলেই সব কটাকেই শুট করতে লাগলাম। তারাও খতম। তবে প্রশ্ন হলো আসরাফ কোথায়? আমিও আগে কম্পিউটারের দিকে গেলাম আর দেখতে লাগলাম। যেটাই সন্দেহ করলাম সেটাই সত্যি।

তারা এই কন্ট্রোল রুম থেকেই বাহিরের মাফিয়াদের সাথে কন্ট্রাক্ট করতো। আমি কম্পিউটার গুলো কিছুই করলাম না। আমিও চলে গেলাম আসরাফকে খুজতে। আমি বাহিরে খুজতে লাগি হঠাৎই একটা রুম থেকে গুলির আওয়াজ শুনি আমিও সেই রুমের দিকে চলে যাই। আমি রুমে ডুকতেই আমাকে দরজার পাশ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফ্লোরে ফেলে দেয়। আমি দেখলাম যে ধাক্কা দেয় সেই আসরাফ। সে আমার উপর ঝাপিয়ে পড়ে আমিও সরে যাই আর সে গান বের করে আমার দিকে সুট করতে নিবে তখনি আমি তার হাত ধরে ফেলি আর গান নিয়ে ধস্তাধস্তি করতেছি আর গান ফায়ার হচ্ছে তবে সব মিস ফায়ার।

সুট করতে করতে গুলি শেষ আমি তার হাত ছেলে দিলাম একটা ঘুসি। আমি আর একটা মারতে যাবো তার আগেই আমাকে ধাক্কা মেরে সে রুম থেকে পালিয়ে যায়। আমিও তার পিছু নিতে লাগি সে যেতে লাগে আর ফেক্টরির দিকে গিয়েই সে একটা অস্ত্র হাতে নিয়ে নেয় আর আমার দিকে সুই করার আগেই আমিও কভারে চলে গেলাম। সেও সেই অস্ত্রটা নিয়ে বাহিরে দিকে যেতে লাগে আর মাঝেমাঝে আমাকে সুট করতেছে। আমিও একটা অস্ত্র নিয়ে নি যেটা m4a1 আর সে নিছিলো ump। আমিও এবার সুরু করলাম সুট করতে আমারটাও মিস ফায়ার হচ্ছে।

দুজনে বাহিরের দিকে যাচ্ছি আর একে অপরের দিকে সুট করতে লাগি। তবে m4a1 ভারি হওয়ার কারণে আমিও সেইটা রেখে uzi নি। কারণ এই রাইফেলটা ছোট যেটা এক হাত দিয়ে চালানো যায়। আমিও সেটা নি সাথে সেটার কিছু ম্যাগাজিন নিয়ে নি+একটা গান নি সেটাতে সাইলেন্সার লাগানো। আসরাফ প্রায় বাহিরে চলে যায়। আর দেখলাম সে গাড়ি নিয়ে পালাতে লাগে।

আমিও আমার দলের একজন থেকে তার বাইক নিয়ে চেস করতে লাগি। সে গাড়ি চালাতে ব্যস্থ আর আমিও তাকে চেস করতে। সে গাড়ি এমন জায়গায় জায়গায় নিয়ে যায় যেটা একদম নির্জন যায়গা আর আমিও সুযোগ বুঝে গুলি ছুড়তে লাগি। গুলি ডাইরেক্ট তার গাড়ি চাকায় লেগে চাকা শেষ। তাই আসরাফের গাড়িও থেমে যেতে লাগে। আমিও বাইক নিয়ে গাড়ির সামনে চলে যাই আর বাইক থেকে নেমে সেই সাইলেন্সার লাগানো পিস্তল্টা আসরাফের দিকে তাক করে ধরি।
আমিঃ অবশেষে পেয়ে গেলাম। তোকে আসরাফ চোধুরী!

আসরাফঃ কে তুই?
আমিঃ যাকে মারার জন্য তুই মোশারফের সাথে হাত মিলিয়েছিলি আর আমার ভাইটাকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিলি!

আসরাফঃ দেখ আমাকে ছেড়ে দে। প্রয়োজনে আমার যা টাকা পয়সা আছে সব নিয়ে নে!
আমিঃ ওরে আবুল আমাকেও কি মোশারফ পাইছিস। আমি টাকা না তোর জান চাই!
আসরাফঃ দেখ। আমরা দুজন মিলে কিন্তু অনেক কিছুই করতে পারবো। দেশটাকে আমাদের হাতে নিয়ে রাখতে পারবো।
আমিঃ সরি আমার এটাতে ইন্ট্রারেষ্ট নাই! মোট কথা তোকে মারাতেই আমার ইন্ট্রেষ্ট।
আসরাফঃ আমাকে মারলে কি পাবি তুই!

আমিঃ এখনো হয়তো বুঝিস নাই কে আমি! who am i। that’s not Important! What am i। that’s important
আসরাফঃ Devilll।
বলেই সে গান বের করে সুট করতে যাবে তার আগেই আমি তার মাথায় গুলি করে দি। সেও মাটিতে পড়ে যায়। খেল খতম।

আমাকে অন্য মাফিয়াদের মতো ভাবা মানে বোকামির কাজ। কারণ আমি টাকার প্রতি এতো ইন্ট্রেষ্ট না। আমি মানুষের পাশে দাঁড়ানো ওতাদের সঠিক সুবিচার করিয়ে দেওয়া ও তাদের ভালোবাসা পাওয়াটাই আমার উদ্দেশ্য। এজন্যই আমি একটা কথা “Im Devil For Devils”

২দিন পর…

আমার বাসায় প্রচুর মানুষ তার কারণ হলো আমি বাসায় যেতেই শুরু করে দেওয়া হলো বিয়ের কাজ। আমি জানি না আমার অনুপস্থিতিতে ফারিয়া কি কি করে আম্মু আব্বুর মাথা খাইছে যার জন্য বাসায় ডুকতে না ডুকতেই এই জিনিস নিয়ে কথা সুরু। আমি যেদিন আসরাফকে শেষ করি। তার পরের দিনি বিকালে বাসায় প্রবেশ করি। আমি কেমন আছি সেটা জিজ্ঞেসা না করে বলতে লাগে ফারিয়া মামনি কি কি পছন্দ সেটার বাজার করে আনতে। তবে আজকের কথা কিই বা বলবো। আমার আব্বু আম্মু ফারিয়াকেই নিয়ে ব্যস্থ আর আমি এক কোনায় অসহায় এর মতো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাদের তামাশা দেখি।

কিছুক্ষন পরেই কাজী সাহেব আসে আর আমাদের বিয়েটা করিয়ে দেয়। তারপর ফারিয়াদের বাড়ি থেকেই বিদাই নিয়ে নি আর গাড়িতে বসি।

আমিঃ কি ম্যাডাম এবার খুশি তো। এবার আমি শিয়োর আমার জীবন ধেনাতেনা হবেই।
ফারিয়াঃ তোমার মাথা দেখবে কেমন করে আগলে রাখি তোমাকেই (কান্না করা অবস্থায়)
আমিঃ হা হা হা হাসালে। আগে নিজের নাকের ও চোখের পানিকে সামলাও তারপর আমাকে সামলাইও (মজা করে)
ফারিয়াঃ কিইইইই।

সাথে সাথে ফারিয়া আমার কাছে এসেই গাড়িতেই তার নাকের ও চোখের পানি আবার পাঞ্জাবিতে মুছে।
আমিঃ ইইইইইইইইই ইয়াক। এটা কি করলা।
ফারিয়াঃ আরো মজা করো আমাকে নিয়ে(কাদো কাদো গলায়)
তারপর আর কথা না বলেই বাড়ি চলে গেলাম।
রাতের বেলা।

আমি ছাদে দাঁড়িয়ে আছি। হঠাৎই কেউ একজন পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে। আমার বুঝতে বাকি রইলো না এটা ফারিয়া!
ফারিয়াঃ রাতে ছাদে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কি ভাবো তুমি!
আমিঃ ভাবতেছি সামনে কি হবে আমার। আগে আব্বু আম্মুই আমার weakness ছিলো আর এখন তো তুমিও আমার weakness হয়েগেলা!

ফারিয়াঃ সুনো স্ত্রী কোনো দিনো স্বামীর দূবলতা হয় না তার শক্তি হয় আর আমিও আমার মাফিয়া বরের মাফিয়া ওয়াইফ হয়ে গেলাম। so next time থেকেই দুজনেই একসাথে মাফিয়া পাওয়ার দেখাবো। কি বলো হুম! (মিষ্টি গলায়)

আমিঃ হা হা হা। কি আর বলবো বলার ভাষাই হারিয়ে ফেললাম আমি।
ফারিয়াঃ থাক তোমাকে বলতে হবে না। আচ্ছা শুনো আমাদের আরো একজন মাফিয়া সদস্য আনলে কেমন হয়! (মিষ্টি গলায়)
আমিঃ বুঝলাম না!

ফারিয়াঃ আমি একটা ছোট অন্তর চাই। মানে ছোট ডেভিল চাই!
আমিঃ কিন্তু আমি তো একটা আনজেল চাই!
বলেই ফারিয়াকে কোলে তুলে নিলাম। সেও আমার গলা দুহাত দিয়ে ধরে আছে।
ফারিয়াঃ তাহলে রুমে চলো।
আমিঃ রুমে কে আছে?

ফারিয়াঃ ভুত আছে ভুত। রুমে চলো! (রেগে)
আমিঃ জি মহারানী!

তারপর ফারিয়াকে নিয়ে রুমে চলে গেলাম। সেখানে গিয়ে দুজনে নফল নামাজ আদায় করলাম।
ফারিয়াঃ তো মিষ্টার ইনোসেন্ট ডেভিল আমরা কি আরো একজন সদস্য আমাদের পরিবারে আনতে পারি! (মিষ্টি গলায়)
আমিঃ না, আমি ঘুমাবো! good n8।
ফারিয়াঃ দেখাচ্ছি ঘুম (রেগে)

ফারিয়া আমার কথা শুনে রেগে যায়। আর সে আমার কাছে এসেই ৪ ঠোট একসাথে মিলালো। কিছুক্ষন পরেই আমাকে ছেড়ে দেয় আর আমার উপর ঝাপিয়ে পড়ে। আমারো কিছুই করার নেই। আমিও তার কাছে ধরা দিয়ে দিলাম বউ বলে কথা হা হা হা। এরপর আমরা দুজন দুজনের মধ্যে হারিয়ে যাই।

লেখক – অন্তর

সমাপ্ত

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “মিষ্টার ইনোসেন্ট ডেভিল – সাইকো প্রেমের গল্প” টি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ূন – বৈধ ধর্ষন – ফুলশয্যার রাতে