সাইকো থ্রিলার গল্প

দ্য এডিকটেড লাভার – সিজন ১ । খুনের থ্রিলার গল্প

খুনের থ্রিলার গল্প

দ্য এডিকটেড লাভার – খুনের থ্রিলার গল্প: হা আমি খুনি। তুমি আমায় খুনি হতে বাধ্য করেছ। তোমার দেওয়া আঘাত আমাকে খুনি বানিয়েছে। তোমার জন্য আমি আমার সব অনুভুতি, আবেগ, ফিলিংসকে খুন কিরেছি। খুন করেছি তোমার জন্য আমার ভালবাসাকে। আচ্ছা তুমি না আমায় ভালবাস না।

পর্ব ১

বিয়ে বাড়ির সবার সামনে নীলার ঠোঁট দুটো নিজের ঠোঁটের সাথে আঁকড়ে ধরলো অর্ণব। নীলা নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে কিন্তু অর্ণব তাকে ছাড়ছে না। সবার চোখ যেন ছানাবড়া হয়ে গেল। বর যাত্রীদের সামনে যে অর্ণব এই কাজটা করবে তা কেউ ভাবতে পারেননি।

আজ নীলার বিয়ে। কিন্তু কোথ থেকে অর্ণব তার বডিগার্ডদের নিয়ে হাজির হলো। আর এসেই স্টেজে উঠে সকলের সামনে নীলার ঠোঁট দুটো নিজের আয়ত্তে নিয়ে নিল।
দশমিনিট পর অর্ণব নীলাকে ছাড়ল। নীলা তো পুরো বরফ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এটা কি হলো তার সাথে! নীলা তো অর্ণবকে এইখানে এইভাবে আশা করেনি। করবেই বা কিভাবে। অর্ণব যে বেঁচে আছে তা দেখেই নীলা এক বড়সড় শোক খেয়েছে। তার উপর অর্ণব সবার সামনে এমন এক কাজ করবে তা নীলার ভাবনার বাইরে ছিল। আপাতত সে কোমায় আছে। যে তার সাথে কি হতে গেল। তখনই অর্ণব বলে উঠে,

অর্ণবঃ তারপর শ্বশুরমশাই আমার বউকে অন্য একজনের সাথে বিয়ে দেওয়ার কথা আপনি ভাবলেন কি করে।

ফারুক সাহেব (নীলার বাবা): চুপ করো বেয়াদব ছেলে! আমার মেয়ে কে তহ আমি তোমার সাথে বিয়েই দেইনি। তাহলে ও তোমার বউ হয় কোথ থেকে? (দাঁতে দাঁত চেপে)

বরের বাবাঃ ছিছি, ফারুক সাহেব। আপনাকে আমি ভালো জানতাম আর আপনি। আপনার মেয়ের যে আগে বিয়ে হয়েছে আমাদের কেন জানান নি।

ফারুক সাহেবঃ দেখুন আমার মেয়ে….

অর্ণবঃ দেখলেনই তো আমার বৌকে আমি কতো ভালোবাসিতার প্রমাণ তো দিলাম। এরপরও যদি আপনাদের কোনো সমস্যা থাকে তো আমি না হয়….

বরের বাবাঃ আমরা আর কিছু দেখতে চাইনাসবাই চলো এখানে থেকে।

ফারুক সাহেবঃ আপনারা শুনুন…..

বর পক্ষরা চলে গেল। সাথে সাথে চারদিকে কানা গুসা শুরু হয়ে গেল। কেউ নীলাকে অপবাদ দিচ্ছে। তহ কেউ নীলার চরিত্রের দিকে আঙ্গুল তুলছে। তা দেখে ফারুক সাহেবের মাথা নিচু হয়ে যায়। সমাজে তার একটা রেপুটেশন আছে যা আজ এই ছেলে এসে সব মিশিয়ে দিল। ফারুক সাহেব এইবার রেগে অর্ণবকে বলে,

ফারুক সাহেবঃ অসভ্য ছেলে তোমার সাহস হয় কি করে আমার মেয়েকে। আর তুমি কে। এখানে সবার সামনে এইসব করার মানে কি।

অর্ণবঃ আমি কে তা আপনার মেয়ে ভালো করেই জানে। তাই না জান।

ফারুক সাহেবঃ মানে কি এইসব এর।

অর্ণবঃ বৌ তুমি সত্যি বলবা নাকি আমি বলবো। আচ্ছা আমিই বলি। আমি হলাম আমার এক মাত্র জ্বামাই। আর আপনার মেয়ের একমাত্র প্রিয় বর।

ফারুক সাহেবঃ কি যা তা বলছো। আমার মেয়ে তহ বিয়েই করে নি তাহলে তুমি কিভাবে ওর বর হও।

অর্ণবঃ জানি তহ বিশ্বাস করবেন না। দাড়ান। নুরু কাবিন নামাটা নিয়ে আয় তহ।

নুরু কাবিন নামাটা অর্ণবের হাতে দেয়। তারপর অর্ণব তা ফারুক সাহেনবের হাতে দেয়। ফারুক সাহেব তা হাতে নিয়ে দেখে সত্যি এইটা অর্ণব আর নীলার কাবিন নামা। আর তাতে নীলারর সাইনও রয়েছে। এইসব দেখে ফারুক সাহেব মাথায় হাত দিয়ে বসে। তা দেখে অর্ণব বলে,

অর্ণবঃ কি বিশ্বাস হলো তহ। যে আমি আপনার মেয়ের একমাত্র বর। এখন হয়ত আপনার মাথায় আসতাসে কিভাবে কি হলো তাই তহ। আসলে ওই যখন হোস্টেলে পড়ত তখন আমাদের পরিচয় হয়। ওই যেই কলেজে পড়ছিল আমি সেই কলেজের ট্রাস্টি ছিলাম। নীলা আমাকে আগে থেকে পছন্দ করত। কিন্তু আমি কোন সময় ওকে পাত্তা দেই নি। একদিন তহ কিছু কথাও শুনিয়ে গিয়েছিলাম। আর সেটা নাকি ওর ইগোতে লেগে যায়। তারপর থেকে জীদ ধরে বসে। সে নাকি আমার থেকে এর প্রতিশোধ নিবে। এরপর ও প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য পিছে পরে যায়। সে আমার সাথে ভালবাসার অভিনয় করতে থাকে। আর একসময় আমিও ওর ভালবাসা দেখে ওকে ভালবেসে ফেলি। কিন্তু কিছুদিন না যেতেই নীলা আমায় বিয়ে করার জন্য জোর করতে থাকে। যেহুতু আমি ওকে ভালবাসতাম তাই তখন আমিও রাজি হয়ে ওকে বিয়ে করে ফেলি। কিন্তু বিয়ের পরেরদিন ওকে আমি আর খুজে পাই নি। পরে ওর ফ্রেন্ডের জিজ্ঞেস করলে জানি ওই এইসব আমার থেকে ওর অপমানের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য এমন করেছে। আর ও আমায় ধোকা দিয়ে এখানে আপনার কাছে চলে এসেছে। এখন যত যাই হক ও আমার স্ত্রী। ও আমায় ভাল না বাসুক আমি তহ বাসি নাকি। তাই আমি ওকে আমার কাছে নিয়ে আসব বলে ঠিক করি। কিন্তু মাঝে আমার কিছু কাজ পরে যায়। যার জন্য আমায় দেশের বাইরে যেতে হয়। কিন্তু আজ যখন এসে শুনলাম ও অন্য কাউকে বিয়ে করছে তখন মাথায় আগুন ধরে যায়। যত যাই আমি ওকে সত্যি ভালবাসি। আর ও আমার বউ। আমি কিভাবে ওকে অন্য একজনেরচসাথে সহ্য করি। তাই আমি সবার সামনে ওকে এইভাবে। ইয়ে মানে। লজ্জা পাওয়ার এক্টিং করে।

এতখুন নীলা চুপ থাকলেও এখন সে চুপ থাকতে পারলো না। সে বাবার সামনে বলতে নেয়।

নীলাঃ বাবা এইসব মিথ্যা। তুমি আমার কথাটা শুন। নীলা আর কিছু বলার আগেই ফারুক সাহেব নীলার গালে চড় বসিয়ে দেয়। যে নাকি আজ পর্যন্ত নিজের মেয়ের গায়ে ফুলের টোকাও পরতে দেই সে আজ তাকে চড় মারলো। নীলা ছলছল চোখে বাবার দিকে তাকিয়ে বলে,

নীলাঃ বাবায়ায়ায়া।

ফারুক সাহেবঃ চুপ একদম চুপ। এই শিক্ষা দিয়েছি আমি তোকে। আমি জানতাম তুই একটু জেদি। কিন্তু তাই বলে তুই এতটা নিচে নামতে পারলি। তুই যে এমন হবি তা আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। তোর মা মারা যাওয়ার পর তোর কোন ইচ্ছায় কমতি রেখেছিলাম বল তুই। ঢাকায় গিয়ে পড়ালেখা করবি তাও করতে দিয়েছে। তোকে ফুল ফ্রীডাম দিয়েছি। আজ সেই ফ্রীডামের এমন শিক্ষা দিলি আমায়। আমার মান সম্মান সব ধুলোয় মিশিয়ে দিলি। কি জানি কাকে না কাকে বিয়ে করেছিস। তোর এই জিদের জন্য আমাকে বার বার অপমানিত হতে হয়।

অর্ণবঃ ও শ্বশুর মশাই। আমি যে কেউ না বুঝলেন। আপনি হয়তো আমায় চিনেন নাই। অর্ণব রহমানের নাম তহ শুনেছেনই তাই না। দ্যা ওনার অফ এডিবি কোম্পানি। এন্ড দ্যা নাম্বারওয়ান বিজন্যাসম্যান অফ ঢাকা সিটি। আমি সেই অর্ণব রহমান। চাইলে খোজ করে দেখতে পারেন।

পিছন থেকে কে যেন এসে পিছন থেকে বলে, হা ওই সত্যি অর্ণব রহমান । ঢাকা টপ বিজন্যাসম্যান এর মধ্যে একজন। ফারুক সাহেব তা শুনে কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর অর্ণবের দিকে শান্ত চাহিনিতে তাকিয়ে বলে,

ফারুক সাহেবঃ এখন তুমি কি চাও।

অর্ণবঃ আমি আমার বউকে চাই। ওকে নিজের সাথে করে নিয়ে যেতে চাই।

ফারুক সাহেবঃ আচ্ছা তাই হবে। তুমি আমার মেয়েকে নিয়ে যেতে পারও। কিন্তু এর আগে আমার এক শর্ত আছে।

অর্ণবঃ আমি সব শর্তে রাজি।

ফারুক সাহেবঃ তুমি যে এখন আমার মেয়ের এত বড় সর্বনাশ করলে ওর যে মান সম্মান সব মাটিতে মিশালে তা এখন তোমাকেই ঠিক করতে হবে। তোমাকে এখন এই মুহূর্তে সবার সামনে ওকে বিয়ে করতে হবে। পুরো দুনিয়ার সামনে ওকে এখন তোমার নিজের স্ত্রী হিসাবে পরিচয় দিতে হবে।

অর্ণবঃ এতে আমার কোন অসুবিধা নেই।

নীলা এতক্ষণ চুপ থাকলেও এখন আর চুপ থাকতে পারলো না। সে বলে উঠে।

নীলাঃ কিন্তু আমি না। আমি ওকে বিয়ে করব না। কোন মতেই না। আমি মরে যাব কিন্তু তাও ওকে বিয়ে করব না।


পর্ব ২

ঠাস ঠাস ঠাস

নীলা গালে হাত দিয়ে তার বাবার দিকে ছলছল চোখে তাকিয়ে আছে।

ফারুক সাহেবঃ আরেকটা কথা বললে আমি ভুলে যাব তুই আমার মেয়ে। এত কিছু করার পর তুই কোন মুখ দিয়ে বলছিস যে তুই এই বিয়ে করবি না। ছেলেটার সাথে এমন করার পর যে ওই তোকে স্বসম্মানে নিজের স্ত্রীর অধিকার দিচ্ছে তোকে মেনে নিতে চাচ্ছে। তারপরও তুই কোন মুখে মানা করছিস।

নীলাঃ বাবা তুমি তুমি যাই বল আমি ওকে বিয়ে করবো না। করবো না মানে না। ওর মত মানুষের সাথে আমি থাকতে পারব না।

ফারুক সাহেবঃ তুই যদি এই বিয়ে না করিস তাহলে আমার মরা মুখ দেখবি।

নীলাঃ বাবায়ায়ায়ায়া। এই ছেলের জন্য তুমি আমায় এইটা বলতে পারলে।

ফারুক সাহেবঃ হা পারলাম। কেন পারবো না তুই বল। আমার যা মান সম্মান ছিল তা তহ ধুলোয় মিশিয়ে দিলি। এখন যতটুকু সম্মান আছে তা শেষ করে দিস না। আজ তোর জন্য আমার মাথা নিচু হয়ে গেছে। যে মেয়েকে নিয়ে আমি একসময় গর্ব করতাম সে আজ আমার মাথা নিচুর কারন। তুই কিভাবে এইভাবে অন্য একজনকে ঠকাতে পারলি। কিভাবে। এখন তুই বল তুই এই বিয়ে করবি কি না।

নীলা কিছু না বলে চুপচাপ দাড়িয়ে থাকে। আর তার চোখ দিয়ে টুপটুপ করে পানি পরছে। তা দেখে ফারুক সাহেব বলেন।

ফারুক সাহেবঃ বললল।

নীলাঃ হ্যাঁ আমি রাজী।

এই শুনে অর্ণব একটা পৈচাশিক হাসি দিল। আর বললো,

অর্ণবঃ এই না হলো আমার বউ। কাজি সাহেব আপনি বিয়ে পরান।

তারপর কাজি বিয়ে পরানো শুরু করলো। নীলাকে কবুল বলতে বললে নীলা কিছু না বলে নিচের দিকে তাকিয়ে থাকে। অনেক বার জিজ্ঞাস করার পরও নীলা কিছু বললো না। তখন ফারুক সাহেব সামনে এসে বললেন,

ফারুক সাহেবঃ মা কবুল বল।

নীলা বাবার দিকে অশ্রুভরা নয়নে তাকায়। তা দেখে ফারুক সাহেব বলেন।

ফারুক সাহেবঃ যে ভুল তুই করেছিস তা তহ তোকেই শুধরাতে হবে তাই না। আর নিজের ভুলকে এখন শুধরানোর এই একটাই উপায়। কবুল বলে দে মা।

নীলা এতক্ষণ মনোযোগ দিয়ে তার বাবার কথা গুলো শুনছিল। সেও ভাবতে থাকে।

নীলাঃ হ্যাঁ যে ভুল আমি করেছি তা আমাকেই শুধরাতে হবে। অর্ণবকে ভালোবেসে আমি যে ভুল করেছি তার মাশুল তহ আমায় দিতেই হবে। কিন্তু এর মাঝে আমি আমার বাবার সম্মান নষ্ট হতে দিব না। এখন যা করার আমায় এই করতে হবে। এইসব মনে মনে ভেবে নীলা কিছুক্ষণ চুপ থাকে। তারপর একটা দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে কবুল বলে ফেলে। এইভাবেই তাদের বিয়ের কাজ সম্পন্ন হয়।

বিদায়ের সময় ফারুক সাহেব তার মেয়েকে ধরে কান্না করলে। আর বললেন,

ফারুক সাহেবঃ মা আমাকে মাফ করে দিস। আজ এই প্রথম তোর গায়ে হাত তুলেছি আমি। যাকে আজ পর্যন্ত ফুলের টোকাও পড়তে দেই নি। তাকে মেরেছি আমি। মাফ করে দে। কি করবো বল এইসব শুনে আমার মাথা ঠিক ছিল না। তুই যে এমন করবি তা আমি স্বপ্নেও ভাবতে পারি নি। তার উপর সমাজের এইসব কথা। তাই আমি বাধ্য হয়ে এমন করেছি।

এইবার নীলাও কান্না মাখা কন্ঠে বলে,

নীলাঃ না বাবা তুমি মাফ চাইছো কেন। দোষ তহ আমার এই। এইসব কিছু আমার জন্য হয়েছে। ভুল যখন করেছি তার মাশুল তহ আমায় দিতেই হবে তাই না। তুমি চিন্তা করো না তোমার প্রতি আমার কোন ক্ষোপ নেই। এইসব আমার ভাগ্যেই ছিল তাই এমন হয়েছে। তুমি এইসব নিয়ে ভেব না। তুমি প্লিজ তোমার খেয়াল রেখ। আর ঔষধ গুলো ঠিক মত খেও।

ফারুক সাহেবঃ নিজের খেয়াল রাখিস মা। মনের মধ্যে কোন ক্ষোপ রাখিস না। আমি যা করেছি তা তোর ভালোর জন্যই করেছি।

নীলাঃ হুম বাবা।

ফারুক সাহেব অর্ণব এর হাত ধরে বললেন,

ফারুক সাহেবঃ আমার মেয়ের খেয়াল রেখ। তোমায় ভরসা করে ওকে দিলাম আমি।

অর্ণবঃ অবশ্যই শ্বশুর মশাই। আপনি কোন চিন্তাই করবেন না। ওর আমি ভালো মত খেয়াল রাখবো। আফটার অল আমার ১০ টা না ৫ টা না একটা মাত্র বউ।

এই বলে অর্ণব নীলাকে গাড়িতে বসায়। তারপর গাড়ি ছেড়ে দেয়। কাউরো মুখে কোন কথা নেই। অনেক খানি পথ যাওয়ার পর নীলা নিজের মুখ খুলে।

নীলাঃ কি খুশি তহ তুমি এইবার।

অর্ণবঃ আমি আবার কেন খুশি হতে যাব। অবাক হয়ে।

নীলাঃ তুমি যা করতে চেয়ে ছিলে তা তহ করতেই পেরেছ। তোমার তহ খুশি হওয়ার কথা।

অর্ণবঃ তুমি ভালো করেই জানো আমি যা চাই তা হাসিল করেই ছাড়ি। আর আমি যা চাই তা এখনো পুরন হয়নি। সবে মাত্র তহ শুরু। এখন আরও অনেককিছু আমার করার আছে।

নীলাঃ আর কি করা বাকি আছে। শুনি। সব তহ শেষ করেই দিলে।

অর্ণবঃ উহু। এখনো কিছু শেষ হয়নি। তুমি যদিও শেষ করতে চেয়েছিলে কিন্তু তা শেষ হয়নি বরং শুরু হয়েছে। তুমি শুরু করেছ এইসব। আজ যা হয়েছে সব তোমার দোষে। আচ্ছা কি দোষ ছিল আমার যে তুমি আমার সাথে এমন করলে।

নীলাঃ কেন করেছি তা তুমি নিজেকে জিজ্ঞেস করো। তুমি যে জঘন্য কাজটা করেছ তারপর তোমার কি এইটাই পাওনা নয়।

অর্ণবঃ কি করেছি আমি হ্যাঁ কি করেছি।

নীলাঃ তু… মি… তু…. মি….

হঠাৎ করেই নীলা এর মাথা ঘুরে উঠে। তারপর একদম নিস্তেজ হয়ে অর্ণবের উপর ঢলে পরে। নীলাকে এইভাবে ঢলে পরতে দেখে অর্ণব হাইপার হয়ে যায়। আর আস্তে আস্তে নীলার গালে থাপ্পড় দিতে থাকে।

অর্ণবঃ নীলা কি হয়েছে তোমার। এই নীলা। চোখ খুলো। এই নীলা।

অর্ণব ড্রাইভার কে বললো গাড়ির স্প্রিড বারাতে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা বাসায় পৌছে যায়। অর্ণব নীলাকে কোলে নিয়ে বাসার ভিতরে ঢুকে সোজা বেডরুমে চলে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ডাক্তার এসে পরে। অর্ণব গাড়িতে থাকতেই ওর ফ্যামিলি ডাক্তারকে কল করে আসতে বলে দিয়েছিল।

ডাক্তার এসে নীলাকে দেখল আর বললো দূর্বলতার কারনে এমন হয়েছে। নীলা এর শরীরে রক্ত শূন্যতার অভাব রয়েছে। তার উপর ভিটামিনেরও অভাব রয়েছে। ওর দিকে স্পেশিয়াল ভাবে নজর রাখতে হবে। ডাক্তার আর কিছু মেডিসিন লিখে দিয়ে চলে যায়।

অর্ণব নীলা এর পাশে বসে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকে। আর বলে,

অর্ণবঃ আমাদের লাইফ তহ এমন হওয়ার কথা ছিল না। আমরা না এক সাথে কত স্বপ্ন বুনেছিলাম। কিন্তু তুমি সব নষ্ট করে দিলে। সব উজাড় করে দিলে। কেন করলে এমন। কেন তুমি আমার সাথে এমন বিশ্বাসঘাতকতা করলে। জানো আমার লাইফের সবচেয়ে বড় আঘাতটা তুমি এই করলে। আমি স্বপ্নেও ভাবিনি তুমি আমার সাথে এমন করবে। কেন করলে আমার সাথে এমন কেন।

এই বলে অর্ণব এর চোখ দিতে দুই ফোটা নোনা জল গরিয়ে পরলো।


পর্ব ৩

রাত ১২ টা বাজে…

নীলা ধীরে ধীরে তার চোখ খুলছে। সে আস্তে করে উঠে বসে মাথাটা চেপে ধরে। তারপর পুরো রুমে চোখ বুলাতে শুরু করে। সে বুঝতে পারছে সে এইখানে কিভাবে। তারপর তার আস্তে আস্তে সব কথা মনে পড়তে থাকে। তখনই অর্ণব রুমে কিছু ফ্রুটস আর জুস নিয়ে রুমে আসে। নীলা অর্ণবকে দেখে তার মুখ ঘুরিয়ে নেয়। অর্ণব নীলার পাশে বসে বলে,

অর্ণবঃ নাও কিছু খেয়ে নাও। তোমার শরীর অনেক দূর্বল।

এই বলে নীলার সামনে খাবার ধরতেই সেই তা ঢাক্কা দিতে ফেলে দেয়। আর দাড়িয়ে যায় আর বলে, আর চিল্লিয়ে চিল্লিয়ে বলে,

নীলাঃ আমি তোমার হাতের কিছুই খাব না। চলে যাও এইখান থেকে। তোমার সাহস কিভাবে হলো এইসব করার।

অর্ণবঃ আমার সাহসের দেখসো কি তুমি। আমি যে কি আর কি কি করতে পারি তার ধারনাও তুমি রাখো না। বুঝছো।

নীলাঃ তোমার মত অমানুষ কি করতে পারে তা আমার ভাল মত জানা আছে।
অর্ণব অমানুষ কথা শুনে তার মাথায় রক্ত চড়ে বসে। সে এসে শক্ত করে নীলা এর চুলের মুঠি ধরে। এতে নীলা কিছুটা ব্যথা পায়। অর্ণব নীলাকে নিজের কাছে এনে বলে,

অর্ণবঃ আমি অমানুষ হই আর যাই হই। তোকে এই অমানুষের সাথেই সারাজীবন থাকতে হবে বুঝলি।

নীলাঃ তোমার সাথে থাকার চেয়ে আমি মরা বেশি পচ্ছন্দ করবো। মুখ অন্য দিকে ঘুরিয়ে।

অর্ণব আরেক হাত দিয়ে নীলা এর গাল চেপে ধরে তার দিকে মুখ করে বলে,

অর্ণবঃ তা হচ্ছে আর না বউ। তোমাকে আমার সাথেই থাকতে হবে। প্রতি সেকেন্ড প্রতিটা মিনিট প্রতিটা মুহূর্ত তোমাকে আমার সাথে থাকতে হবে। এই কথা তোমার মাথায় ঢুকিয়ে নাও।

নীলাঃ কেন করছো এমন। কি চাই তোমার। কেন ফিরে এসেছ তুমি আবার।

অর্ণব একটু মুচকি হেসে বলে,

অর্ণবঃ কিসের জন্য এমন করছি তা তোমার অজানা নয়, আর আমার কি চাই তা তুমি তা ভালো করেই জানো। যে ভুল তুমি করেছ তার মাশুল দিবা না। তা কেমনে হয়।

নীলাঃ ওইটা কোন ভুল ছিল না। আমি যা করেছি তা একদম ঠিক করেছি। যার জন্য আমার মনে বিন্দুমাত্র আফসোস নেই।

অর্ণবঃ ভেবেছিলাম নিজের ভুল বুঝে মাফ চাইবে। কিন্তু না তুমি তহ কোন দিন নিজের ভুল স্বীকার করতেই শিখো নি। না এখন না তখন। বিশ্বাস কর তুমি যদি সামন্য পরিমান অনুতপ্ত হতে না। খুশি খুশি তোমায় আবার আপন করে নিতাম। ভুলে যেতাম তুমি আমার সাথে কি করেছিলে।

নীলাঃ আমি কেন অনুতপ্ত হবো। আমি যা করেছি একদম ঠিক করেছি। তোমার মত অমানুষের সাথে এমনই হওয়া উচিৎ।

অর্ণব নীলাকে ছেড়ে বলে,

অর্ণবঃ বার বার বলেছিলাম। যেখানে ইচ্ছে সেখানে আঘাত করো। কিন্তু ( বুকের বা পাশটার দিকে আংগুল দেখিয়ে। ) এইখানে করো না। আমি সইতে পারবো না। আর তুমি আমায় সেই এই জায়গায় আঘাত দিলে। তাও আবার নিজের হাতে। দেখ তোমার দেওয়া আঘাত এখনও আছে। অর্ণব কিছু দেখাতে নিলেই নীলা চিৎকার দিয়ে বলে উঠে।

নীলাঃ না, আমি কিছু দেখতে চাই না। নিজের চোখ হাত দিয়ে ঢেকে,

অর্ণব একটা তাচ্ছিল্য হাসি দিয়ে বলে,

অর্ণবঃ নিজের দেওয়া আঘাত নিজেই দেখতে পারছো না। তাহলে আমি কিভাবে তা বয়ে বেরাচ্ছি। একবারও ভাবলে না এইসব করার আগে। তুমি যা করেছ তার মাশুল তোমায় দিতেই হবে। বি রেডি জান। এখন থেকে তোমার সাথে যা হবে তা তুমি ভাবতেও পারবে না। এখন থেকে তুমি সেই প্রতিটা মিনিট। প্রতিটা দিন। প্রতিটা মুহূর্ত কে দোষ দিবে যা তুমি আমার সাথে কাটিয়েছ। তুমি অভিশাপ দেবে সেই মুহূর্তকে যখন তোমার আমার সাথে দেখা হয়ছিল।

নীলাঃ তুমি কি ভেবেছ তুমি যা বলবে তা আমি চুপচাপ করে মাথা পেতে নিব। তাহলে সেটা তোমার ভুল ধারণা। আমিও দেখব তুমি কিভাবে কি করো। আমাকে যদি দূর্বল ভেবে থাকো তাহলে তুমি বড্ড বড় ভুল করছো। আমি আর আগের মত নেই যে তোমার কথার বাধ্য হবো।

পাঠক আপনাদের জন্যই আমরা প্রতিনিয়ত লিখে থাকি। আপনাদের আনন্দ দেয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ। তাই এই পর্বের “খুনের থ্রিলার গল্প” টি আপনাদের কেমন লাগলো পড়া শেষে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

অর্ণবঃ হুম জানি তুমি আর আগের মত নেই। তাই তহ নিজের হাতে নিজের ভালবাসাকে শেষ করে দিতে তোমার হাত কাপলো না। আচ্ছা কি কমতি ছিল আমার ভালোবাসায় যে তুমি এমন করলে। কিভাবে পারলে নিজের ভালবাসার মানুষটার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে।

নীলাঃ সেটা ভালবাসা না মোহ ছিল। অল্প বয়সের করা এক ভুল ছিল। আর কিছুই না। আমি আর যাই হোক কোন খুনিকে ভালবাসতে পারি না।
অর্ণব নীলা এর কাছে এসে তার কোমর জরিয়ে ধরে বলে,

অর্ণবঃ হা আমি খুনি। তুমি আমায় খুনি হতে বাধ্য করেছ। তোমার দেওয়া আঘাত আমাকে খুনি বানিয়েছে। তোমার জন্য আমি আমার সব অনুভুতি। আবেগ। ফিলিংসকে খুন কিরেছি। খুন করেছি তোমার জন্য আমার ভালবাসাকে। আচ্ছা তুমি না আমায় ভালবাস না। তাহলে কেন তোমার দেওয়া আঘাত তুমি নিজেই দেখতে পারছো না। কেন আমায় আঘাত করার সময় তোমার চোখে পানি ছিল। কেন যখন আমি তোমার আশে পাশে থাকি তখন তোমার মধ্যে এক আলাদা অনুভুতি সৃষ্টি হয়। কেন আমি পাশে থাকলে তুমি নিজেকে নিরাপদ মনে করো কেন।

নীলাঃ জানি না আমি কিছু জানি না।

অর্ণবঃ তোমার এই অস্থিরতাই বলে দিচ্ছে তুমি জানো এর উত্তর কিন্তু মুখে প্রকাশ করতে চাও না। কিন্তু এখন তাতেও লাভ হবে না। তোমায় আগেই বলেছিলাম আল্লাহের কাছে দোয়া কইরো যে আমি যাতে ফিরে না আসি। তা না হলে আমি কি করবো আমি নিজেও জানি না। এখন যখন ফিরে এসেছি তখন তহ তোমায় এর ফল পেতেই হবে।
এই বলে নীলাকে হাত মোচর দিতে উল্টা করে ধরে। এতে নীলা ব্যথায় কুকড়িয়ে উঠে।

অর্ণব তা দেখে একটা পৈচাশিক হাসি দিয়ে বলে,

অর্ণবঃ এখন তহ শুধু শুরু জান। এর চেয়ে বেশি কষ্ট তোমায় সহ্য করতে হবে। আমায় দেওয়া প্রত্যেকটা আঘাত। প্রত্যেকটা ছলনার মাশুল তোমায় দিতে হবে ।

এই বলে অর্ণব নীলাকে মাটিতে ফেলে দিয়ে চলে যায়। ধাক্কা দেওয়ার ফলে নীলার সেন্টার টেবিলের উপর গিয়ে বারি খায়। আরচতার মাথার কোনা দিয়ে রক্ত পড়তে থাকে। কিন্তু এই আঘাত যেন তার হৃদয়ের আঘাতের সামনে কিছুই না। সে যে কষ্ট বয়ে বেরাচ্ছে তার সামনে এই কষ্ট অতি নগ্ন। নীলা সেখানে বসেই কাদতে থাকে। এক সময় সেখানেই ঘুমিয়ে পরে।

রাত ৩ টার দিকে অর্ণব বাড়ি ফিরে। রুমে এসে দেখে নীলা নিচে শুয়ে আছে। অর্ণব ওর পাশে গিয়ে ওকে কোলে তুলে নিয়ে বিছানায় শুয়ে দেয়। তারপর উঠে আসতে নিলে নীলার মাথার দিকে নজর যায়। অনেক খানি কেটে গেছে আর সেখানে রক্ত জমাট বেধে আছে। তা দেখে অর্ণব এর বুকের ভিতর মোচড় দিয়ে উঠলো। সে সাথে সাথে ফাস্ট এইড বক্স এনে নীলা এর রক্ত মুছে। ড্রেসিং করা স্ট্রাট করে, ড্রেসিং শেষে সে নীলা এর দিকে গভীর দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে। আর বলে,

অর্ণবঃ কি আজব বেপার তাই না। তোমায় আমি কষ্ট দিব বলে আজ এত ড্রামা করলাম। অথচ তোমার এই সামান্য আঘাত আমার সহ্য হচ্ছে না। মনে হচ্ছে আমি নিজেই আঘাত করছি। সেখানে তোমায় কিভাবে কষ্ট দিব। তুমি পাশান হতে পারলেও আমি পারব না। আচ্ছা আমি থ আগে এমন ছিলাম না। আমার মনে তহ কোন কাউরো জন্য কোন অনুভূতিই ছিল না। পাশানের থেকে অধম ছিলাম আমি। আর তুমি সেই পাশানকেই মানুষ করে তুললে। তার মধ্যে অন্যের জন্য অনুভূতি জাগালে। তাকে ভালোবাসতে শিখালে। যেখানে সবাই আমায় ভয় পায় সেখানে তোমাকে হারানোর ভয় আমি পেতাম। আমি যেমন পাশান থেকে মানুষ হয়েছি তুমিও মানুষ থেকে পাশানে পরিনত হয়েছ। তাই তহ খুব সহজেই নিজের ভালবাসার মানুষকে শেষ করতে তোমার হাতও কাপলো না।

অর্ণব কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বলে,

অর্ণবঃ আচ্ছা কেন করলে এমন আমার সাথে। আমার ভালবাসায় কি কমতি ছিল যে তুমি এমন বিশ্বাসঘাতকতা করলে। কেন করলে এমন। কেন। তোমার সব কথাই তহ আমি রেখেছিলাম। সব ছেড়ে দিয়েছিলাম। সব ছেড়ে তোমার কাছে ছুটে এসেছিলাম। তাহলে কেন তুমি আমায় ফিরিয়ে দিলে। জানো আমি নিজেও চেয়েছিলাম যে আমি মরে যাই। কিন্তু ভাগ্যে হয়তো তা লিখা ছিল না। তোমার সাথে আমার নসীব এখন এমনভাবে জুরে গেসে যে মৃত্যু বাদে আমাদের আর কেউ আলাদা করতে পারবে না। কিন্তু তুমি যেই অন্যায় করেছ তার শাস্তি তহ তোমায় পেতেই হবে। আমি যেমন তোমার ভালবাসার জন্য ছটফট করেছি তুমিও করবে। তুমিও বুঝবে আমার কষ্ট। খুব ভালো করেই বুঝবে।

এই বলে অর্ণব নীলা এর পাশেই শুয়ে পরে। আর তাকে দেখতে দেখতে এক সময় ঘুমিয়ে পরে।


পর্ব ৪

ভোরবেলা…

বাইরে ঝুম বৃষ্টি পরছে। বৃষ্টির শব্দে নীলা এর ঘুম ভেংগে যায়। নীলা আস্তে আস্তে নিজের চোখ খুলে। মাথাটা একদম ভার হয়ে আছে। সে উঠতে নিলে তার শরীরের উপর ভারী কিছু অনুভব করে। সে পাশে তাকিয়ে দেখে অর্ণব তাকে জরিয়ে ধরে আছে। নীলা এক ধিয়ানে অর্ণবের দিকে তাকিয়ে আছে। তাকে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছে। আজ প্রায় ৩ মাস পর সে অর্ণবকে দেখছে। আগের চেয়ে মুখটা অনেকখানি শুকিয়ে গেছে। চুল গুলো অগোছালো হয়ে আছে। চেহারায় ও আগের মত উজ্জ্বলতা নেই। কিন্তু এর মধ্যেও অর্ণব এর একটা জিনিস বদলায় নি। তার গোলাপি ঠোঁট দুটো। আগের মতই আছে। নীলা এর ইচ্ছে করছে তা ছুঁয়ে দিতে। নীলা সেই দিকে হাত বাড়াতেই তার সেই আগের কথা মনে পরে। নীলা এক ঝাটকায় অর্ণবকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়। হঠাৎ এমন হওয়াতে অর্ণব ধরফরিয়ে উঠে। একটুর জন্য অর্ণব খাট থেকে পরে যায় নি।

নীলাঃ এই তোমার সাহস কিভাবে হলো আমাকে স্পর্শ করার। খবরদার আমাকে স্পর্শ করবে না।

অর্ণবঃ তোমাকে স্পর্শ করার পুরা অধিকার আছে আমার। আমি তোমার স্বামী। তাও আবার দুবার বিয়ে করা স্বামী। আর তোমাকে কি আমি এই প্রথমবার স্পর্শ করছি নাকি। এর আগেও তহ অনেকবার স্পর্শ করছি।

নীলাঃ ঘৃণা করি তোমাকে আর তোমার করা সব স্পর্শকে। তোমার সেই স্পর্শের কথা মনে করলেও আমার গা ঘিন ঘিন করে। না জানি তোমার এই হাতে কত শত নিষ্পাপ মানুষের রক্ত লেগে আছে। আর তুমি আমায় এই অপবিত্র হাত দিয়ে স্পর্শ করেছ আমায়। ছি।

অর্ণব একটানে নীলাকে নিজের কাছে টেনে এনে বলে,

অর্ণবঃ আমি হাতে কোনো নিষ্পাপ মানুষের রক্ত লেগেনি। তুমি ভালো করেই জানো আমি কখনো করে নিষ্পাপ মানুষকে শাস্তি দেই না।

নীলাঃ মানি না আমি এইসব। তুমি মিথ্যাবাদি। তোমার কাছে সাবাই সমান। কে নির্দোষ আর কে না তোমার কাছে তা বিন্দুমাত্র মূল্য নেই। মূল্য আছে তহ শুধু টাকার। আর কোন কিছুর মূল্য নেই তোমার কাছে।

অর্ণবঃ আমার কাছে হয়ত কোন মূল্য নেই। কিন্তু তোমার কাছে আছে কি। বরং আমার থেকে তহ তোমার কাছেই অন্যের মূল্য নেই। তাই তহ খুব সহজেই নিজের ভালবাসার মানুষকে আঘাত করতে পারলে। তাকে মাঝ রাস্তায় ছেড়ে দিতে পারলে। তার ভালোবাসাকে পায়ে ঠেলে দূরে সরিয়ে দিলে। তাই তহ।

নীলাঃ তুমি যার প্রাপ্য তুমি তাই পেয়েছ। তুমি খুনি। আর একজন খুনিকে ভালবাসা যায় না।

অর্ণবঃ তাই না। তাহলে তখন কিভাবে ভালবেসে ছিলে।

নীলাঃ আমি তোমায় কখনোই ভালবাসি নি। আর না ভালবাসি। আর না কোনদিন ভালোবাসবো।

অর্ণবঃ ঠিক আছে। এতদিন আমার ভালবাসা দেখেছ। এখন দেখবে আমার রাগ আর অবহেলা।

এই বলে অর্ণব নীলাকে ছেড়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায়। আর নীলা সেখানেই বসেই কাদতে থাকে। আর বলে,

নীলাঃ কেন এমন হলো আমার সাথে। সব কিছু তহ ঠিক এইছিল। সব ভুলে তোমায় আপন করে নিতে চেয়েছিলাম তোমায়। কিন্তু এর মাঝে যে আমার সামনে এত বড় সত্যি চলে আসবে তা বুঝিনি। তুমি যা করেছ তা একদম ঠিক করোনি। আজ তোমার জন্য আমি আমার আপন জনকে হারিয়েছি। তোমাকে তহ আমি কখনো ক্ষমা করতে পারবো না। কখনো না। তুমি শুধু আমার থেকেই আমার সব কেড়ে নাও নি। শত শত মানুষের কাছ থেকেও তুমি তাদের সব কেড়ে নিয়েছ। তাদের বাঁচার শেষ অবলম্বনটুকু কেড়ে নিয়েছ। এর জন্য তোমার কোন মাফ নেই। এই বলে সে কেদে উঠে।

কিছুক্ষন কান্না করার পর সে উঠে দাড়ায়। আর সোজা চলে যায় ছাদে। নীলা এর এই একটা বাজে অভ্যাস। মন খারাপ থাকলে সে ছাদে চলে যায়। আর তখন ছাদের পরিবেশ যাই হক না কেনো তাকে আর ছাদ থেকে নামানো যায় না। নীলা খোলা আকাশের নিচে দাড়িয়ে এক দৃষ্টিতে আকাশের পানে তাকিয়ে আছে। আর চোখের পানি বৃষ্টির পানির সাথে মিশে ধুয়ে যাচ্ছে। পুরো শরীর দিয়ে পানি গরিয়ে পরছে। বৃষ্টির প্রত্যেকটা ফোটা যেন তার মধ্যে জ্বলে থাকা আগুন নিভাতে সাহায্য করছে। আকাশের পানে তাকিয়ে থাকতে থাকতে এক সময় তার চোখ দুটো বন্ধ হয়ে আসে। এবং আস্তে আস্তে তার শরীর লুটিয়ে পরে মাটিতে।

এইদিকে….

অর্ণব ডাইনিং রুমে মাথায় হাত চেপে বসে আছে। হঠাৎ করেই কলিংবেল বেজে উঠে। অর্ণব ভাবতে থাকে এই সাত সকাল আমার কে আসলো। তাও আবার এই বৃষ্টিতে। অর্ণব এক রাশ বিরক্তি নিয়ে দরজা খুলে। দরজা খুলে দাড়িয়ে থাকা ব্যক্তিটির দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। তিহান অর্ণবকে দেখে তাকে ঝাপটে ধরে বলে,

তিহানঃ অর্ণব, কই ছিলি তুই এত দিন। কত খুজেছি তোকে তুই জানিস।

অর্ণবঃ তুই এইখানে এই সময়ে।

তিহানঃ যখন শুনলাম তুই ফিরে এসেছিস আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না। ছুটে এলাম তোর কাছে।

অর্ণবঃ আচ্ছা আয় ভিতরে এসে বস।

তিহান আর কিছু না বলে সোফাতে গিয়ে বসে পরে। এ হচ্ছে তিহান। অর্ণব এর ছোট বেলার বেস্টফ্রেন্ড আর অর্ণব এর কোম্পানির ২০% পার্টনার। অর্ণব দরজা অফ করে দিয়ে তিহানের পাশে বসে।

তিহানঃ এখন বল কি হয়েছিল। তুই এই ৩ মাস কই ছিলি। আর নীলা বা কোথায় এখন।

তারপর অর্ণব তিহানকে সব খুলে বলে, সবকিছু শুনে তিহান মাথায় হাত দিয়ে বসে।

তিহানঃ এত বড় বিশ্বাসঘাতকতা। নীলা এইটা কিভাবে পারলো। ও তহ তোকে মেনে নিয়েছিল। তোকে ভালবেসে ফেলেছিল। তাহলে

অর্ণবঃ এইটাই তহ বুঝতে পারছি না। হঠাৎ কি হলো যে ওই এমন করলো।

তিহানঃ এমন তহ নয় যে। নীলা শুরু থেকেই এইসব করার কথা ভাবছিল। কিন্তু সময় ও সুযোগের জন্য পেরে উঠে নি। আর যখন সব হাতে নাতে পেয়েছে তখন সে আর সুযোগটা আর মিস করেনি।

অর্ণবঃ না নীলা এমন হতে পারে না।

তিহানঃ সবই হতে পারে। কিন্তু সিউরিটি দিয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। আচ্ছা যাই হক নীলা এখন কোথায়। কিছু জানিস।

অর্ণবঃ উপরে।

তিহান অবাক হতে বলে,

তিহানঃ উপরে মানেএএএএ।

অর্ণব তারপর কালকের সব কাহিনি খুলে বলে, তিহান সব কিছু শুনে মাথায় হাত দিয়ে বসে।

তিহানঃ লাইক সিরিয়াসলি। যে তোর সাথে এমন করলো শেষ কিনা তুই ওকেই বিয়ে করলি।

অর্ণবঃ কি করবো বল। আমার যে ওর থেকে অনেক কিছু জানার আছে। আর তার থেকেও বড় কথা আমি ওকে ভালবাসি। ওকে ছাড়া থাকা আমার পক্ষে সম্ভব না।

তিহানঃ তুই তহ আগে এমন ছিলি না। তোর কাছে তহ আগে বিশ্বাসঘাতকতা মানে মৃত্যু ছিল। আর আজ কিনা তোর সাথে এত বড় বিশ্বাসঘাতকতা হলো আর তুই কিছু না করে চুপ করে আছিস।

অর্ণবঃ ভালোবাসা সবাইকে চেঞ্জ করার ক্ষমতা রাখে। পাথর কেও বরফ করে তুলতে পারে।

এইসব শুনে তিহানের ভিতর থেকে দীর্ঘ শ্বাস বেড়িয়ে আসে। তারপর বলে,

তিহানঃ হুম। আচ্ছা শুন তুই তহ এই কয়দিন ছিলি না। তহ সব আমায় দেখতে হয়েছিল। এর অনেক কিছু হয়েছে। আবার আমার তোর সাথে কিছু দরকারি কথা ও আছে।

অর্ণবঃ হুম বল।

তারপর তিহান আর অর্ণব কথা বলতে থাকে। প্রায় ২ ঘন্টা পর তাদের কথা শেষ হয়। তখন তিহানের ফোন আসাতে সে চলে যায়। বাইরেও এখন বৃষ্টি করে গিয়েছে। হাল্কা রোদ ছড়িয়ে পরেছে সব দিকে। অর্ণব উপরে রুমে চলে আসে। এসে পুরো রুমে চোখ বুলিয়ে দেখতে থাকে নীলা কোথায়। কিন্তু না সে রুমে কোথাও নেই। অর্ণব ওয়াসরুম। বারান্দা সব চেক করলো। না কোথাও নেই। অর্ণব এর বুকের ভিতরটা ধুক করে উঠলো। কোথায় গেল নীলা। অর্ণব পুরো বাড়ি খুজতে থাকে। শেষ মেষ ছাদের দরজা খুলা দেখে উপরে যায়। আর যা দেখে তাতে অর্ণব এর দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার অতিক্রম।

সে দেখে নীলা নিচে পরে আছে। গায়ে এখনো সেই বিয়ের পোশাক। পুরো শরীর ভিজে একাকার। জামাগুলো পুরো লেপ্টে আছে শরীরের সাথে। অর্ণব তারাতারি নীলা এর পাশে যায়। আর আলতো হাতে তার গালে বারি দেয়। গালে হাত দিয়ে সে চমকে উঠে। পুরো শরীর আগুনের মত হয়ে আছে। হাত পা বরফের মত ঠান্ডা আর একদম ফ্যাকাসে হয়ে গিয়েছে। অর্ণব দ্রুত নীলাকে কোলে নিয়ে রুমে এসে পরে। নীলা এর জামা থেকে চুয়ে চুয়ে পানি পরছে। অর্ণব ভাবছে নীলাকে আগে চেঞ্জ করাতে হবে তা না হলে আরও সমস্যা হবে। অর্ণব নীলা আর কিছু না ভেবে নীলা এর জামা চেঞ্জ করে একটা কামিজ পরিয়ে দেয়। তারপর ডাক্তারকে ফোন করে। প্রায় ৩০ মিনিট পর ডাক্তার আসে এবং নীলাকে চেক করে বলে,

ডাক্তারঃ তার এই অবস্থা কিভাবে হলো। এমনেই তার শরীরে রক্তের অভাব। তার উপর ভিটামিনের ও অভাব আছে। আবার কালকে থেকে না খাওয়া। আর আজ প্রায় ২ ঘন্টা পানিতে ভিজার কারনে সে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছে। এখন তার শরীর আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। যদি আজকের মধ্যে তার জ্বর না কমে তাহলে তাকে অবজারভেশনে রাখতে হবে। আমি কিছু ঔষধ লিখে দিয়ে যাচ্ছি। আপনি প্লিজ তাকে জোর করিয়ে কিছু খাইয়ে তারপর ঔষধগুলো খাওয়াবেন। আর তার শরীর পুরো ঠান্ডা পরে গেছে। তাকে হয়তো তাপ দিতে হবে। আপনারা যেহুতু স্বামী স্ত্রী আমার মনে হয় প্রবলেম হবে না। আর যদি তার শরীর বেশি খারাপ হয় তাহলে আমাকে জানাবেন।

এই বলে ডাক্তার চলে যায়। আর অর্ণব এর ভীতর থেকে এক দীর্ঘ শ্বাস বেড়িয়ে আসে। অর্ণব নীলা এর দিকে করুন চোখে তাকিয়ে থাকে।


পর্ব ৫

ডাক্তার চলে গেল। আর অর্ণব এর ভীতর থেকে এক দীর্ঘ শ্বাস বেড়িয়ে আসে। অর্ণব নীলা এর দিকে করুন চোখে তাকিয়ে থাকে। তারপর অর্ণব তার একটা বডিগার্ড দিয়ে ঔষধ গুলো আনিয়ে নেয়। আর নিজেই খাবার রান্না করে নেয়। খাবার রান্না করতে করতে দুপুর হয়ে যায়। তারপর অর্ণব একটা ট্রেতে খাবার আর মেডিসিন গুলো নিয়ে সে রুমে যায়। নীলা এখনো সেই ভাবেই শুয়ে আছে। অর্ণব খাটের পাশের টেবিলে খাবার গুলো রেখে নীলাকে আলতো ভাবে ডাক দেয়। কিন্তু নীলা এর উঠার নাম নেই। অর্ণব কোন উপায় না পেয়ে তাকে উঠিয়ে নিজের বাহুতে চেপে ধরে বুকে সাথে মিশিয়ে নেয়। তারপর ওকে খাওয়ানোর চেষ্টা করে। আজব করার বিষয় নীলা খেয়েও নিচ্ছে। নীলা আদো আদো করে চোখ খুলছে। নীলা নিজের পাশে অর্ণব দেখেও কিছু বলছে। বরং আয়েশে অর্ণবকে জরিয়ে ধরেছে। অর্ণব তাতে একটু অবাক হয়। কিন্তু পরে নিজেকে সামলিয়ে নায়। অর্ণব নীলাকে দেখছে। একদম বাচ্চাদের মত খাচ্ছে। খাওয়া শেষে অর্ণব নীলাকে পানি খাইয়ে দেয়। এখন ঔষধ খাওয়ার সময় নীলা এর মর্জি শুরু হয়। সে কিছুতেই ঔষধ খাবে না।

অর্ণবঃ বৌ প্লিজ ঔষধগুলো খেয়ে নাও।

নীলাঃ না আমি খাব না। এই ঔষধ তিতা। আমি খাব না। ঠোঁট উল্টিয়ে বাচ্চাদের মত করে।

অর্ণবঃ বৌ এমন করে না। তুমি না আমার লক্ষি সোনা। খেয়ে নাও। তা না হলে শরীর খারাপ করবে।

নীলাঃ তাও আমি খাব না মানে খাব না।

অর্ণবঃ জান প্লিজ জিদ করে না।

নীলাঃ আমাল ঔষধ খেতে ভালো লাগে না। আমি খাব না।

অর্ণব তহ এখন পরলো মহা মুশকিলে। অনেক বুঝানোর পর ও যখন নীলা মানছে না। তখন অর্ণব উপায় না পেয়ে নিজের মুখে ঔষধ পানি নিয়ে নীলা এর ঠোঁট দুটো আকড়ে ধরে। পরে তার মুখের ঔষধ নীলার মুখে দিয়ে দেয়। নীলা ছুটাছুটি করলেও অর্ণব এর সাথে পেরে উঠে না। অর্ণব স্বরে আসতে নীলা নিজের মুখ থেকে ঔষধ বের করতে নিলে অর্ণব ওর মুখ চেপে ধরে। তাই বাধ্য হয়ে নীলাকে ঔষধ গুলো গিলতে হয়। নীলা ঔষধ খেয়েছে বুঝে অর্ণব তার হাত সরায়। হাত সরানো সাথে সাথেই নীলা অর্ণব এর উপর বমি করে দেয়। বমির কিছুটা নীলা এর উপর পরে। কিন্তু বেশির ভাগটা অর্ণব এর উপরই পরে। কিন্তু আজব করার বিষয় অর্ণব এর কোন প্রতিক্রিয়া নেই। যে অর্ণব সামন্য ধুলো সহ্য হয় না। কোথাও ময়লা থাকে পুরো বাড়ি মাথায় তুলে নেয়। আজ সেই অর্ণব এইসব দেখার পরও চুপ। অর্ণব কিছু না বলে আগে নিজের গায়ের টিশার্ট খুলে ফেলে। তারপর নীলা এর কাছে যায়। নীলা তখন খালি ঢুলছে। অর্ণব কাছে যেতেই নীলা অর্ণব এর উপর ঢলে পরে। অর্ণব কোন মতে নীলাকে ধরে শুয়ায়। তারপর ওকে চেঞ্জ করিয়ে সব পরিষ্কার করে। আর নিজেও ফ্রেশ হয়ে নেয়। আজ যদি অর্ণব কেউ এইভাবে দেখতো তাহলে নির্ঘাত ছোট খাটো একটা স্টোক করত। কেননা অর্ণব কখনো নিজের প্লেট উঠিয়ে ভাত খেয়েছে কিনা সন্দেহ। তার লাইফ স্টাইল বিলাসিতা দিয়ে ভরপুর। আফটার অল ঢাকার নাম্বার ওয়ান বিজিন্যাস ম্যান বলে কথা। কিন্তু এর বাদেও অর্ণব এর আরেক পরিচয় আছে। যা আস্তে আস্তে জানতে পারবেন।

অর্ণব ফ্রেশ হয়ে এসে দেখে নীলা এর শরীর কাপছে। অর্ণব তারাতারি নীলা এর উপর কোম্বল জরিয়ে দেয়। না কোন কাজ হচ্ছে না। অর্ণব তারাতারি একটা বাটিতে পানি এনে তার মধ্যে কাপড় ভিজায়। আর নীলা এর মাথায় জলপট্টি দিতে থাকে। অনেকক্ষণ এইভাবে জলপট্টি দেয়। কিন্তু নীলা এর কাপনি কমছেই না। অর্ণব বাধ্য হয়ে নীলা এর পাশে গিয়ে ওকে আষ্টেপৃষ্টে জরিয়ে শুয়ে পরে। নীলাও উষ্ণতা পেয়ে অর্ণব এর বুকে ঘাবটি মেরে শুয়ে থাকে। কিছুক্ষন পরেই নীলা এর কাপনী কমতে শুরু করে। এতে অর্ণব কিছুটা রিলেক্স হয়। কিছুক্ষন পরেই কিছু শব্দ কানে আসে। অর্ণব তাকিয়ে দেখে নীলা কি জেন বীর বীর করছে। অর্ণব তার কান নীলা এর কাছে নিয়ে শুনার চেষ্টা করে নীলা কি বলছে। তার সে শুনতে পায়।

নীলাঃ অর্ণব প্লিজ আমায় ছেড়ে যেও না। আমি তোমায় ছাড়া থাকতে পারব না। খুব ভালোবাসি তোমায়। খুব। প্লিজ ছেড়ে যেও না প্লিজ। কিছুটা অস্পষ্ট ভাবে বললেও অর্ণব বুঝে গেল নীলা কি বলতে চাচ্ছে। এইসব শুনে অর্ণব এর ভিতর থেকে এক দীর্ঘ শ্বাস বেড়িয়ে আসে। আর সে নীলা এর দিকে তাকিয়ে বলে,

অর্ণবঃ এ কেমন খেল খেলছো তুমি। যেখানে কষ্ট পাওয়ার কথা তোমার সেখানে কষ্ট পাচ্ছি আমি। যেখানে তোমার ভিতর আগুন জ্বলার কথা তোমার সেখানে আমার ভিতর আগুন জ্বলছে। কাতর হয়ে যাচ্ছি তোমার ভালবাসার জন্য। আমার সাথে এত বড় বিশ্বাসঘাতকতা করার পরও আমি তোমায় ঘৃণা করতে পারছি না। তুমি আমায় যে বুকে আঘাত করেছিলে আমিও তোমায় সেই একই জায়গায় আঘাত করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি। আমার পক্ষে যে এইটা সম্ভব না। তুমি তোমার ভালবাসার মানুষকে আঘাত করতে পারলেও আমি যে পারবো না। কই ভেবেছিলাম তোমায় কষ্ট দিব। তোমায় তিলে তিলে মারব। কিন্তু না। তোমায় কষ্ট দিয়ে আমি সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছি। তোমার এই মুখের দিকে তাকিয়ে আমি যেন সব ভুলে যাই। ভুলে যাই আমার সাথে হওয়া অন্যায়ের কথা। তোমার ধোকার কথা। পারব না আমি তোমায় কষ্ট দিতে। পারব না তোমার থেকে দূরে থাকতে। একবার ঠিক হও আমি সব আগের মত করে দিব। চাই না আমি জানতে কেন করেছিলে এমন। এখন আমার শুধু তোমাকে প্রয়োজন।
এই বলে অর্ণব নীলাকে জরিয়ে ধরে শুয়ে পরে। নীলাও অর্ণব এর বুকে শুয়ে থাকে।

দেখতে দেখতে দুইদিন কেটে যায়। নীলা এখন প্রায় সুস্থ। সেইদিন রাতেই নীলা এর জ্বর কমে আসে। যার ফলে তাকে আর হসপিটালে নিতে হয়নি। অর্ণব দিন রাত নীলা এর সেবা করেছে। নীলা এর প্রত্যেকটা জিনিসের প্রতি খেয়াল রেখেছে সে। নীলাও এইবার অর্ণবকে পর্যবেক্ষণ করছে। অর্ণব এর কাছে সে কিছুটা অবাক এই হচ্ছে। কেননা অর্ণব আগে কখনো এত কাজ করেনি। আর না তাকে করতে দেখেছে। সে তহ অর্ণবকে শুধু অর্ডার করতেই দেখেছে। আজ অর্ণবকে বড় অচেনা লাগছে। আসলেই কি এই সেই অর্ণব। যাকে সে একসময় খুব ভয় পেত। তাকে দেখলেই ভয়ে প্রান উড়ে যেত। এইসব ভাবনার মধ্যে কখন যে অর্ণব তার পাশে এসে বসেছে তা নীলা বুঝতে পারেনি। অর্ণব নীলাকে অন্যমনস্ক দেখে ওর কাধে হাত রেখে বলে,

অর্ণবঃ জান দেখ তোমার জন্য নাস্তা এনেছি। খেয়ে নাও।

নীলা এইবার বাস্তবে ফিরে আসে। আর এক ঝাটকায় অর্ণব এর হাত নিজের কাধ থেকে সরিয়ে নেয়। এতে অর্ণব কিছুটা অবাক হয়।

নীলাঃ খবরদার আমায় ছুবা না। আমাকে ছুয়ার অধিকার তোমার।

অর্ণবঃ আমার অধিকার আছে কি নাই তা তুমি ভালো করেই জানো। তোমার উপর আগেও আমার অধিকার ছিল আর এখনো আছে। আর তোমাকে ছুয়ার কথা বলছ। তোমাকে ছুয়ারও আমার সম্পূর্ণ অধিকার আছে। আর ভুলে যেও না এই কয়েকদিন তোমার জামা আমি এই চেঞ্জ করিয়েছি। তোমার নিজের সাথে মিশিয়ে রেখেছি। তোমাকে জরিয়ে শুয়ে রয়েছি। তোমায় প্রতিটা অঙ্গে শুধু আমারই স্পর্শ রয়েছে।

নীলাঃ চুপ একদম চুপ। চলে যাও এখান থেকে। আমি তোমার চেহারাও দেখতে চাই না।

অর্ণবঃ কথাটা কি আমার বলা উচিৎ ছিল না। তুমি যা আমার সাথে করেছ তারপরও কি এই ব্যবহার মানায়। যেখানে আমি সব ঠিক করতে চাচ্ছি সেখানে তুমি আমায় আবার সেই একই জিনিস তুলে আনছো।

নীলাঃ আমি চাই না কিছু ঠিক করতে। চাই না। তোমার সাথে আমার পক্ষে সম্ভব না। কোন মতেই না।

অর্ণবঃ তাহলে আগে কিভাবে থেকেছ। কিভাবে আমার সাথে দিনের পর দিন সময় কাটিয়েছ। কিভাবে আমাকে নিয়ে স্বপ্ন বুনেছ। আমাকে ঘিরেই নিজের দুনিয়া তৈরি করেছ। বলো।

পাঠক আপনাদের জন্যই আমরা প্রতিনিয়ত লিখে থাকি। আপনাদের আনন্দ দেয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ। তাই এই পর্বের “খুনের থ্রিলার গল্প” টি আপনাদের কেমন লাগলো পড়া শেষে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

নীলাঃ জানি না কিছু জানি না আমি। আমি শুধু এতটুকু জানি আমি তোমায় এখন ঘৃণা করি। সব থেকে বেশি ঘৃণা করি। তোমায় আমার সহ্য হয় না।

অর্ণব এইবার নীলা এর বাহু দুটো চেপে ধরে বলে,

অর্ণবঃ কেন সহ্য হয় না। কেন। কি এমন করেছি আমি যার জন্য আমি তোমার কাছে অসহ্যের কারন। যার জন্য আজ তুমি আমায় ভালবাসার জায়গায় ঘৃণা কর। বলো।

নীলাঃ কেননা তুমি খুনি। আর আমি যাই হোক কোন খুনি কে ভালবাসতে পারব না।

অর্ণবঃ খুনি আমি নাকি তুমি। এইসব কথা তহ আমার বলা উচিৎ ছিল। আমি যদি খুনি হই তাহলে তুমি আমার থেকে নিকৃষ্ট খুনি। কেননা যে নিজের ভালবাসার মানুষকে খুন করতে পারে সে এই পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট প্রানী। আর তুমি সেই।

নীলাঃ আমি যা করেছি একদম ঠিক করেছি। এমন অমানুষের বাঁচার কোন অধিকার নেই। আর যদি তাকে মারতে হলে আমায় নিকৃষ্ট হতে হয় তাহলেও আমার আফসোস নেই।

অর্ণবঃ কিভাবে পারলে তুমি এমন করতে কিভাবে। একবার ও হাত কাপলো আমার বুকে গুলি চালানোর সময়।

নিজের টিশার্ট টান দিয়ে খুলে বলে, বুকের ডান পাশে একটা গোল ক্ষত দেখা যাচ্ছে। আর তার চারপাশে হাল্কা রক্ত জমাট বাধা। এইটা দেখে সাথে সাথে নীলা নিজের হাত দিয়ে মুখ লুকিয়ে ফেলে।

অর্ণবঃ দেখ তোমার দেওয়া আঘাত এখনো সতেজ আছে। আমি রেখেছি। কেন না এইটা সব সময় আমায় তোমার সেই বিশ্বাসঘতকতা মনে করিয়ে দেয়। রোজ তোমার দেওয়া আঘাত দেখি আর তোমার দেওয়া প্রতিটি আঘাত প্রতারণা ছলনার কথা মনে করি। দেখ। একবার দেখ না। কি দেখতে পারবে না তাই তহ। আচ্ছা যেখানে তুমি নিজের দেওয়া আঘাতই নিজে দেখতে পারছো না। আমার কষ্ট দেখতে পারছো না। সেখানে তুমি কিভাবে দাবি করো যে তুমি আমায় ঘৃণা করো।

নীলাঃ আমি কিছু জানি না। আমি শুধু এতটুকু জানি যে আমি তোমায় ঘৃণা করে। সব থেকে বেশি ঘৃণা করি।

অর্ণবঃ উহু। তুমি আমায় ঘৃণা করো না। বরং আমায় নিজের থেকেও বেশি ভালবাস। আর আমি এইটা ১০০% সিউর যে তুমি ভালবাস। কিভাবে জানো। কারণ তোমার চোখ দুটো তোমার ভালবাসার জানান দিচ্ছে। তোমার না বলা কিছু কথা গুলো বার বার তোমার মনে উঁকি দিচ্ছে। আমাকে কাছে পাওয়ার পর তোমার চেহারায় কোন ভয় বা আতংক নেই। বরং আছে আমায় ফিরে পাওয়ার এক প্রশান্তি। তোমার মন বেকুব হয়ে আছে আমার কাছে ছুটে আসার জন্য। তোমার এই ক্লান্ত চাহনি বলে দিচ্ছে কত রাত তুমি আমার জন্য নিজের বালিশ ভিজিয়েছ। কত রাত নির্ঘুম কাটিয়েছ। আমার স্মৃতি যে তোমায় প্রতি নিয়ত কুড়ে কুড়ে খেয়েছে। কিন্তু তুমি এইসব মানতে নারাজ। তোমায় আমি ভালো করেই চিনি। তুমি মরে যাবে তাও শিকার করবে না তুমি আমায় ভালবাস।

নীলাঃ নিশ্চুপ। তার কাছে যে এর উত্তর নেই। কেন না অর্ণব যা বলছে তা একদম সত্যি। সে চাইলেও এইসব অশিকার করতে পারবে না। আর না শিকার করতে পারবে।
নীলাজে নিশ্চুপ দেখে অর্ণব বলে,

অর্ণবঃ জানি না কেন এমন করেছ। আমি নিশ্চিত তুমি শুধু এমন করোনি। অনেক বড় কিছু হয়েছে তাই তুমি এমন করেছ। তা না হলে যে আমার সামন্য ক্ষত দেখতে পারতো না সে কিভাবে আমায় এত বড় আঘাত দিতে পারে। কিন্তু তুমি যা করেছ তার শাস্তি তহ তোমায় পেতেই হবে। তুমি যা করেছ তার মাশুল হিসাবে তোমায় আমার সাথে আজীবন থাকতে হবে। আমার থেকে তুমি কোন দিন মুক্তি পাবে না।

এই বলে অর্ণব হনহন করে যায়। আর নীলা সেখানে বসে কাদতে থাকে।

নীলাঃ হ্যাঁ তুমি ঠিক। নিজের চাইতেও বেশি ভালবাসি তোমায়। কিন্তু তুমি যা করেছ তার সামনে আমার ভালবাসা অতি নগ্ন। তোমার করা সব ভুলের জন্য আজ আমি বাধ্য হয়েছি আমার ভালবাসাকে মাটি চাপা দিতে। কেন না আমি তোমার সব কিছুর জন্য মাফ করতে পারলে আমার…… এমন না করলে তুমি পারতে। কেন এমন করলে তুমি। আমার ভালবাসা নিয়ে কিভাবে খেলতে পারলে। আমার থেকে এইভাবে সব কেন সব এইভাবে কেড়ে নিলে। তখন আমার উপর দিয়ে যা গিয়েছে তা তুমি কল্পনাও করতে পারবে না। আর এইসবের জন্য তুমি দ্বায়ী। তুমি। তোমায় কখনো আপন করে নিতে পারব না।

নীলা এইসব মনে মনে বলছে আর অঝোরে কাদছে। সে হাটু গেড়ে বসে তার মধ্যে মুখ লুকিয়ে বসে থাকে। আজ তার মনে সেই আগের দিনের স্মৃতি গুলো নাড়া দিচ্ছে। তার মন ছুটে যাচ্ছে সেই ৩ বছর আগে। যেখান থেকে নীলা আর অর্ণব এর কাহিনি শুরু হয়।

Flashback…….


পর্ব ৭

Flashback

৩ বছর আগে……

মেঘলাঃ নীলাকে ফোন দে। কই ওই। আর কতক্ষণ এইভাবে বসে থাকব।

আয়ানঃ ফোন তহ দিতেই আসি মাইয়া ধরতাসেই না।

কল্পনাঃ ওই কোনদিন টাইম মত আসছে। যে আজকে আসবে। আমার সবাইকে ডেকে সে নিজেই মিস বাংলাদেশ হয়ে গেসে।

আয়ানঃ আধা ঘণ্টা ধরে ওয়েট করছি। কিন্তু ওর আসার কোন না গন্ধই নেই।

মেঘলাঃ দেখ গিয়ে পইরা পইরা আবার ঘুমাইতাসে নি।

তখন পিছন থেকে নীলা বলে উঠে।

নীলাঃ আমি মোটেও পরে পরে ঘুমাই না। আমি চিৎ হয়ে শুই

কল্পনাঃ নে আসছে আমার মিস বাংলাদেশ।

নীলা কল্পনার মাথায় চাপড় মেরে বলে,

নীলাঃ আমি মিস বাংলাদেশ না মিস ওয়ার্ল্ড বুঝলি। দেখিস না সবাই আমার পিছে মুরগির মত দৌড়ায়। ভাব নিয়ে।

সবাই এই কথা শুনে হাসতে হাসতে শেষ।

মেঘলাঃ আসছে আমাদের মিস ওয়ার্ল্ড। যা দুরে গিয়া কদু খা।

নীলাঃ ইয়াক থু। আর কিছু না পাইলি না। শেষ কিনা কদু। মুরগী খাইতে কইতি

কল্পনাঃ মুরগী তহ গাছে ধরে তাই না। তোর জন্য কদু এই বেস্ট।

নীলাঃ আর তোর জন্য তেলাপোকা বেস্ট।

কল্পনাঃ আর তোর জন্য যোক।

নীলাঃ এএএএএএএএ। ইয়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়াক থু। টিকটিকির শ্বাশুরি। যোক এর বউ। কালা হাতির মাইয়া। তেলাপোকার মাইয়া। তোরে তহ আমি মুরগির আইসটা দিয়া হরিণের দাত দিয়া পিপড়ার শিং দিয়া কিমা কইরা তারপর মুরগী গো খাওয়ামু।

আয়ানঃ আরে স্টোপ গাইস। তোরা যে কিভাবে এত ঝগড়া করতে পারিস। আর নীলা নিজের মুখ রে একটু লাগাম দে বইন। যা আসে তাই কইতে থাকস।

নীলাঃ হুহ। ভালো কথার দাম নাই।

কল্পনাঃ হইসে তোরে আর ভালো কথা কইতে হইব না।

এই শুনে নীলা একটা ভেংচি মারে।

আয়ানঃ আছা নীলা তুই বল কেন ডেকিছিস আমাদের।

নীলাঃ উমমম। কেন ডাকসিলাম।

কল্পনাঃ ওইটা তহ তুই জানোস। আমাদের বলতাসোস কেন।

নীলাঃ আমমম। ভুলে গেসি।

মেঘলাঃ হাইরে মাইয়া। পড়া তহ মনে থাকে না প্লাস এখন কথাও মনে থাকে না।

নীলাঃ হুহ। কইসে পড়া মনে থাকে না। আমি সব পারি।

কল্পনাঃ আচ্ছা তাই না। তাইলে বলতো নিউটনের বলের সূত্র কি।

নীলাঃ নিউটনের আবার সূত্রও আসে নি। ওই মিয়া আবার কবে সূত্র বের করলো।

এই শুনে সবাই মাথায় হাত দিয়ে বসে। এই নাইয়া জিন্দিগিতে শুধরাইব না। নীলাকে দিয়ে সব আশা করা গেলেও পড়া নিয়ে বিন্দু মাত্র আশা করা যায় না। এক নাম্বার এর মুরগি পড়ালেখায়। ( মুই কিন্তু এমন না)

হঠাৎ নীলা চিল্লিয়ে উঠে।

নীলাঃ এই মনে পরসে মনে পরসে।

মেঘলাঃ এখন আমাদের বলে উদ্ধার কর।

নীলাঃ আমার খিদা লাগসিলো। কিন্তু টাকা খরচ করতে ইচ্ছা করতাসিলো না। তাই ভাবলাম আমার ফ্রেন্ড গুলো থাকতে আমি কেন টাকা খরচ করবো। তাই তোদের ডাকসি। এখন না অনেক খুদা লাগসে কিছু খাবার ওর্ডার দে না।

সবাই রাগে আগুনে তেলে পুরে ছাই। এর জন্য সবাই সবার ক্লাস ছেড়ে আসছে আর সে কি না বলে কি। এক সাথে বলে উঠে তবে রেএএএ।

বাস লেগে গেল ওদের মধ্যে ঝগড়া। এইটা নতুন কিছু না। নীলা সব সময় এই এমন করে। কিন্তু মাঝে মধ্যে একটু বেশি। কিছুক্ষণ পির সবাই শান্ত হলে খাবার ওর্ডার দেয়। কি বাই করার। যখন সবাই এসে বসেই পরেছে তখন তহ আর না খেয়ে উঠা যায় না। সবাই খাচ্ছে। আর এই সেই নিয়ে কথা বলছে। হঠাৎ কল্পনা বলে উঠে।

কল্পনাঃ নীলা তোর না অনেক সাহস। তাহলে আজকে তোকে একটা ডেয়ার দিব। আর তোকে সেইটা কমপ্লিট করতে হবে। যদি কমপ্লিট করতে পারস তাহলে কালকের ট্রিট আমার পক্ষ থেকে। আর যদি হেরে যাস দ্যান কালকে তুই আমাদের ট্রিট দিবি।

নীলাঃ এএএএএএ।

কল্পনাঃ হেএএএ। এখন বল রাজি কি না। নাকি ভয় পেয়ে গেছিস

নীলাঃ আমি কখনো ভয় পেতে শিখি নি। বল কি করতে হবে।

কল্পনাঃ এই রেস্টুরেন্টের গেট দিয়ে এখন সর্ব প্রথম যে ব্যক্তিটি ঢুকবে তুই তাকে প্রাপোস করবি এন্ড তার গালে কিস করবি।

সবাই এক সাথে বলে উঠে। হোয়াট।

মেঘলাঃ তুই কি পাগল হয়ে গেছিস কল্পনা। কি বলছিস এইসব। মাথা গেছে নাকি তোর।

আয়ানঃ এইটা অতিরিক্ত।

কল্পনাঃ একদম না। ইট ইস জাস্ট আ ফান। এত রেয়েক্ট করার মানেই হয় না। তা নীলা তুই কি পারবি আমার ডেয়ার কমপ্লিট করতে নাকি হার মানছিস।

নীলাঃ মোটেও না। নীলা কখনো হার মানতে শিখে নেই। বরং জিততে শিখেছে। আমি এইটা করতে রাজি।

কল্পনাঃ আমার তহ মনে হয় না তুই এই ডেয়ার জিততে পারবি।

নীলাঃ মেরে উগান্ডা কি কাসাম যদি না জিতসি না আমি আমার তেলাপোকা গো টাকলা করে দিব। ( তেলাপোকা গো আবার চুলও আছে নি )

এই শুনে সবার মধ্যে হাসির রোল পরে গেল।

কল্পনাঃ ওকে দ্যান আমরা এখানেই বসে বসে সব দেখব। ওকে।

নীলাঃ ওকে।

প্রায় কিছুক্ষণ পরেই একজন রেস্টুরেন্টে ঢুকলো। পিছনে ৪-৫ জন কালো পোশাক পরা বডিগার্ড টাইপ লোক ও আছে। আর তাদের সামনে একজন লোক। মনে হচ্ছে তাদের বস। লোকটি আর কেউ না অর্ণব। ওর গায়ে ব্ল্যাক ব্লেজার। ব্ল্যাক প্যান্ট। ভিতরে হোয়াইট শার্ট পরা। চোখে সানগ্লাস। হাতে কালো বেল্ট এর ঘড়ি। চুল গুলো স্পাইক করা। হাইট ৬ ফুট। গায়ের রং একদম দুধের মত। সে হাতে একটা ফাইল চেক করতে রেস্টুরেন্টে ঢুকছে। সবাই তহ তার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। নীলা তহ এক দফা ক্রাস খেয়েছে। কল্পনা নীলাকে ঠেলে সামনে পাঠায়। নীলা একটা দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে সেই লোকটির সামনে যায়।

লোকটি নীলাকে দেখে পাশ কাটিতে চলে যেতে নিলে নীলা বলে,

নীলাঃ Excuse me।

কিন্তু অর্ণব শুনল না। তাই নীলা আবার ডাকলো। তাও শুনলো না। এইবার নীলা রেগে গিয়ে বলে,

নীলাঃ এইযে মি. বোলেম গাছ।

অর্ণব এইবার ঘুরে তাকায়। তারপর কিছু বলার আগেই নীলা বলে,

নীলাঃ আই লাভ ইউ মি. বোলেম গাছ।

এই বলে নীলা অর্ণব এর গালে কিস করে দৌড়। আর এই দিকে সবাই হা করে আছে। নীলা চলে যেতেই বাকিরাও ওর পিছে বেরিয়ে যায়। অর্ণব তহ অবাক হয়ে দাড়িয়ে আছে তার সাথে কি হলো। অর্ণব এর বডিগার্ডরা ভয়ে জমে গেছে। কেননা তারা অর্ণব এর রাগ সম্পর্কে জানে। আজ পর্যন্ত কেউ অর্ণব এর সামনে ভালো মত দাড়িয়ে কথা বলার সাহস পায় নি। সেখানে এই মেয়ে নাকি অর্ণবকে কিস করলো। আর তারা এইটাও জানে যে অর্ণব এর রাগ কোন তুফান থেকে কম না। অর্ণব এর রাগ সব কিছু তচনচ করতে যথেষ্ট। অর্ণব এইখানে অফিসের মিটিং এর জন্য আসছিল। কিন্তু রেস্টুরেন্টে ঢুকতেই এই কান্ড।

অর্ণব এতক্ষণ হিসাব মিলাচ্ছিল তার সাথে কি হয়েছে। যখন সে বুঝতে পারে তখন অর্ণব এর মাথায় আগুন লেগে যায়। সে একটা টেবিলে লাথি মেরে বলে,

অর্ণবঃ হু দ্যা হেল সি ওয়াজ। আমাকে টাচ করার সাহস কিভাবে পায় ওই। নুরু। নুরু।

তখনই নুরু হন্তদন্ত ভাবে অর্ণব এর সামনে আসে। কেননা সে অর্ণবকে চিনে। যদি তার সামনে আসতে .০০০৫ সেকেন্ড দেরি হয়। অর্ণব ওর একটা হাড্ডি আস্ত রাখবে না। নুরু সামনে আসতেই বলে,

অর্ণবঃ হু দ্যা হেল ওয়াজ সি। আমাকে সবার সামনে কিস করার সাহস কই পায় এই মেয়ে। কে এই মেয়ে।

নুরুঃ জা… ন.. ন… নি… ন… ন… না … স্যা…র

অর্ণবঃ তাহলে জানো টা কি। গর্জে উঠে।

নুরু ভয়ে কাচুমাচু হয়ে যায়। আর কয়েকটা ঢোক গিলে। অর্ণব বলে,

অর্ণবঃ তোমাকে আমি কেন রাখসি যাতে কেউ আমার সামনে আসতে না পারে। তুমি থাকতে ও আমার সামনে এসে এইসব করার সাহস কথায় পেল।

নুরুঃ স্যার সব কিছু তারাতারি হলো যে আমরা কেউ বুঝতেই পারলাম না। আর ওকে দেখে মনে হয়নি যে ওই এমন কিছু করবে।

অর্ণবঃ তহ আমাকে কেউ কি গুলি করার আগে বলে যাবে যে আমি তোমায় গুলি করছি। যতসব। ফার্দার মোর যদি আর এমন হয়েসে। তোমাদের আমি এমন হাল করব যে নিজেকে চিনতে তোমাদের কষ্ট হবে। আর আজকের মিটিং কেন্সেল।

এই বলে অর্ণব আরেকবার টেবিলে বাড়ি মেরে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে যায়। আর বাকি সব গার্ডসরা যেন প্রাণ ফিরে আসে। এতক্ষন মনে হয় কোন বাঘের থাবার নিচে ছিল তারা। তারাও আর দেরি না করে অর্ণব এর পিছে যায়।

অর্ণব গাড়িতে বসে আছে আর মনে মনে বলছে।,

অর্ণবঃ আল্লাহ এর কাছে দোয়া কর তুমি যাতে আর আমার সামনে না পরো। আর যদি লাইফে আমার সামনে পরো। আই সোয়ের আই উইল টিচ ইউ আ লেসেন। অর্ণব রহমানের সাথে এমন করার ফল সে হারে হারে বুঝবে।


পর্ব ৮

নীলা একটা পার্কে গিয়া হাপাচ্ছে। সাথে তার বন্ধুরাও আছে। কল্পনা বললো,

কল্পনাঃ বাপরে বাপ পোলাটা কি কিউট ছিল। আমি তহ ক্রাস খেলাম। ধ্যাত তোকে যে কেন এমন করতে বললাম। তোর জায়গায় যদি আমি থাকতাম।

নীলাঃ যাই হোক ক্রাস তহ আমিও খাইসি। উফফ কি কিউট পোলাটা। কিন্তু বাই চান্স যদি আবার কোন সময় দেখা হয় ডাইরেক বাশ খামু।

কিন্তু ছেলেটা অনেক মুডি দেখলেই বুঝা যায়। সে যাই হোক আমি কিন্তু ডেয়ার কমপ্লিট করসি সো কালকে তুই আমাদের ট্রিট দিবি ওকে।

কল্পনাঃ ওকে, কালকে রেডি থাকিস। বাই

এইবলে যে যার মত চলে যায়।

রাতে…

অর্ণব নিজের রুমে বসে ল্যাপটপে কাজ করছিল। হঠাৎ তার দুপুরের কথা মনে পরে যায়। আর ওর রাগ উঠে যায়। কিন্তু সাথে এক আলাদা অনুভুতিও হয়। কেননা আজ পর্যন্ত কোন মেয়ে ওর সামনে আশারও সাহস পায় নি সেখানে একটা মেয়ে তাকে প্রাপস করলো। করলো তহ করলো প্লাস কিসও করলো। ভাবা যায়। অর্ণব ওইসব বাদ দিয়ে নিজের কাজে আবার মন দেয়। কিন্তু তাও বার বার তার চোখের সামনে সে স্মৃতিটা ভেসে উঠে। সে আর কিছু না ভেবে বেলকনিতে চলে যায়। আর হাতে একটা সিগারেট জ্বালায়। সিগারেটে টান দিচ্ছে আর আকাশের পানে তাকিয়ে আছে। আর কিছু ভাবনায় বিভর আছে।

দেখতে দেখতে ৫ দিন কেটে যায়। অর্ণব প্রায় ওই ঘটনা ভুলেই গেছে। এইদিকে নীলাও নিজের মত বিন্দাস। সামনে তাদের কলেজে একটা ফাংশন আছে। সেখানে নাকি কলেজের সকল ট্রাস্টিরা আসবে। তাই নীলা সেই ফাংশনের জন্য বিজি হয়ে পরে। কেননা এই ফাংশনে তার ভুমিকা অনেক। কিভাবে তা পরেই জানবেন।

আয়ানঃ তহ নীলা সব রেডি তহ। দয়া করে এইবার প্লিজ লাস্ট মোমেন্টে কোনো গারবার করিস না।

কল্পনাঃ দয়া করে টাইমলি উঠে যাইস।

নীলাঃ এত পেরা নিস কেন। চিল গাইস। আমি ঠিক টাইমে আসবো।

মেঘলাঃ এইটা তুই আমাদের বিশ্বাস করতে বলস।

নীলাঃ বিশ্বাস না করার কি আসে। আর এমনেও এই ফাংশন অনেক ইম্পোরটেন্ট। তাই চিন্তা করিস না এইবার কোন ভুল হবে না। এখন চল না কেন্টিনে যাই অনেক খুদা লাগসে।

আয়ানঃ ওকে। চল…

এই বলে তারা কেন্টিনে চলে যায়।

দেখতে দেখতে ফাংশনের দিন চলে আসে। গেস্টদের বরণ করার দ্বায়িত্ব নীলা এর উপর পরেছে। কেননা নীলা পড়ালেখায় খারাপ হলেও বাকি সব দিক দিয়ে নাম্বার ওয়ান। বিভিন্ন ফাংশন অরগানাইজেশান করা থেকে শুরু করে সব নীলা হ্যান্ডেল করে। নীলা এইসব অনেক ভালোভাবে সামলাতে পারে বলে টির্চারসরাও ওকেই সব দ্বায়িত্ব দেয়। কিন্তু ভুল বসতো নীলা আজ লেট। এইদিকে চিফ গেস্টরা প্রায় এসে পরেছে। মেঘলা। আয়ুশ,কল্পনা দাড়িয়ে আছে। বরনের জন্য। কিন্তু মাইন গেস্টকে নীলা বরন করার কথা অথচ ওই নেই। সবাই টেনশন করতাসে ঠিক তখন একেক করে ৪ টা গাড়ি এসে কলেজের প্রথম গাড়ি থেকে কিছু বডিগার্ড বের হয়। তারপর তারা গিয়ে তিন নাম্বার গাড়িটার দরজা খুলে। দরজা খুলার পর একজন সুদর্শন পুরুষ বেরিয়ে আসে। পড়নে ব্লু পাঞ্জাবি। পাঞ্জাবির এর পাশে স্টোনের কাজ করা। সাথে হোয়াইট জিন্স। চোখে সানগ্লাস। চুল গুলো স্পাইক করা। হাতে একটা ওয়াচ। বেশ মানিয়েছে তাকে। গাড়ি থেকে বের হতেই সবার মুখ হা হয়ে যায়। সবচেয়ে বেশি কল্পনা। মেঘলা আর আয়ুশের। কেননা তারা একপ্রকার ঝাটকাই খেয়েছে লোকটিকে দেখে। কেননা লোকটি আর কেউ না অর্ণব। অর্ণব এর পর পরই পিছনের গাড়ি থেকে আরও দুইজন লোক বের সাথে একজন মহিলা।

তার মধ্যে একজন তিহান। ( আমি আগেই তিহানের পরিচয় দিয়েছি। তিহান হচ্ছে অর্ণব এর বেস্টফ্রেন্ড প্লাস বিজন্যাস পার্টনার। সাথে কলেজের ট্রাস্টিও) আজ তিহান মেরুন কালার আর ব্ল্যাক কালারের কোম্বিশনের একটা পাঞ্জাবি পরেছে। সাথে ব্ল্যাক জিন্স। হাতে ঘড়ি আর চুল গুলো স্পাইক করা।

সবাই এক সাথেই কলেজের গেটে ঢুকে।

কল্পনা, মেঘলা, আয়ুশ বাকিদের বরন করে নেয়। এখন আসে অর্ণবকে বরণ করার পালা। কিন্তু নীলা এর খোজ খবর নেই। তাই কল্পনাকে সবাই বললো বরণ করতে। কল্পনা ফুলের তোরা হাতে নিয়ে সামনে যেতে নিলেই কেউ পিছন থেকে বলে উঠে।

পাঠক আপনাদের জন্যই আমরা প্রতিনিয়ত লিখে থাকি। আপনাদের আনন্দ দেয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ। তাই এই পর্বের “খুনের থ্রিলার গল্প” টি আপনাদের কেমন লাগলো পড়া শেষে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

” আমি এসে গেছি। “

সবাই পিছনে তাকায়। অর্ণবও পিছনে তাকায়। আর তাকিয়ে যা দেখে তাতে যেন তার চোখ দুটো স্থির হয়ে যায়। সামনে নীলা দাড়িয়ে আছে। নিজের কানের দুল ঠিক করতে করতে সামনে আসছে। অর্ণব আজ ভালো করে নীলাকে দেখছে। নীলা এর পরনে আজ নেভি ব্লু শাড়ি। থ্রি কোয়ার্টার হাতা প্লাস ফুল গলা ব্লাউস। টানাটানা চোখে কাজল দেয়া। ঠোঁটে হাল্কা পিংক কালারের লিপস্টিক। সাথে হাল্কা মেকাপ। কানে ঝুমকা পরা। বা হাতে একমুট নীল কালারের রেশমি চুড়ি। চুল গুলো এক সাইডে সিথি করে ছাড়া। নীলা এর গায়ের রং এমনেই ফর্সা। তাই ব্লু কালারটা তাকে বেশ মানিয়েছে। অপরুপ লাগছে তাকে। অর্ণব তহ এক ধ্যানে নীলা এর দিকে তাকিয়ে আছে।

নীলা নিজের ঝুমকা ঠিক করে কল্পনা এর হাত থেকে ফুলের তোরাটা নেয়। আর বলে,

নীলাঃ সরি সরি। আসলে শাড়ি ঠিক করতে গিয়ে লেট হয়ে গেসে।

কল্পনাঃ পরে কথা বলিস আগে বরণ কর।

নীলা আর কিছু না বলে সামনে তাকিয়ে চিফ গেস্টকে বরণ করতে গিয়ে বড় সড় শোক খায়। কেননা সামনে যে অর্ণব। ভয়ে কয়েকবার শুকনো গলায় ঢোক গিলে তারপর কাপা কাপা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে। অর্ণব এখনো এক ধ্যানে নীলা এর দিকে তাকিয়ে থেকে ফুলটা নেয়। এতে নীলা এর কিছুটা আনইজি লাগে। অর্ণব তা বুঝে চোখ সরিয়ে নেয়। নীলা ও তারাতারি সেখান থেকে স্বরে আসে।

গেস্টরাও নিজের জায়গায় গিয়ে বসে। তাদের জন্য সবার সামনের সিটগুলো রিসার্ভ করা হয়েছে। সবাই আসন গ্রহণ করে। এইদিকে নীলা তহ ভয়ে শেষ।

নীলাঃ এই বোলেম গাছ এইখানে কি করতাসে।

আয়ানঃ তিনি আমাদের চিফ গেস্ট। প্লাস এই কলেজের ট্রাস্টি। অর্ণব রহমান

নীলাঃ খাইসে। এই পোলা তহ নিশ্চিত আমায় কলেজ থেকে করেই ছাড়ব। আল্লাহ বিপদে মোরে রক্ষা কর।

কল্পনাঃ বাট এই ইয়াং বয়সে ট্রাস্টি।

মেঘলাঃ আরেহ তিনি শুধু ট্রাস্টি এই না। ঢাকার নাম্বার ওয়ান বিজন্যাস ম্যান। এডিবি কোম্পানির মালিক। তার কোম্পানির ব্রেঞ্চ দেশ বিদেশে ভরা। তিনি ছোট বয়সেই ভালো সফলতা অর্জন করে ফেলেছে।

নীলাঃ তাতে আমার কি। আমারে যে এখন কি করবো আল্লাহ এই জানে। আমি সিউর আমারে উগান্ডায় পাঠাইয়া হাতিগো খাওয়াইবো।

আয়ানঃ ফাংশন শেষে সরি বলে নিস তাইলেই হবে। আর এখন ফাংশনে মনোযোগ দে। একটু পর তোকে স্টেজে যেতে হবে।

নীলাঃ হুম।

এইদিকে ফাংশন শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু অর্ণব এর সেই দিকে কোন খেয়াল নেই। সে তহ তার নীল পরীকে খুজতে ব্যস্ত। মানে নীলাকে।
তখনই সো হোস্ট বলে উঠে,

হোস্টঃ শুভ দর্শক মন্ডলি। যে সময়ের জন্য আপনারা সবাই অপেক্ষা করছেন সে সময় এসে পরেছে। আমাদের হৃদয়ের গতি বাড়াতে। নিজের তালে আমাদের মাতিয়ে তুলতে আসতাছে আমাদের টিউন কুইন। নীলা রহমাননন। ( আমি জানি না কিভাব্ব হোস্টিং করতে হয়। তাই ভুল হলে মাফ করবেন)

নীলা রহমান নামটাই শুনে অর্ণব বুকটা ধক করে উঠে। কিন্তু কেন তা সে জানে না। হঠাৎ সব লাইট অফ হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর স্টেজের মাঝে লাইট জ্বলে উঠে। সবার দৃষ্টি সেই দিকে। স্টেজে নীলা একটা চেয়ারে বসে আছে। হাতে গিটার। মুখের সামনে মাইক। অর্ণব নীলাকে দেখে খানিকটা অবাকই হয়। তারপর নীলা গিটারে টিউন ধরে। আর গাইতে শুরু করে।

আমার একলা আকাশ
থমকে গেছে রাতের স্রোতে ভেসে
শুধু তোমায় ভালবেসে
আমার দিনগুলো সব
রঙ চিনেছে তোমার কাছে এসে
শুধু তোমায় ভালবেসে
তুমি চোখ মেললেই
ফুল ফুটেছে আমার ছাদে এসে
ভোরের শিশির ঠোঁট ছুঁয়ে যায়
তোমায় ভালবেসে
( Song of shreya ghosal)
গান পুরাটা নিজ দ্বায়িত্বে শুনে নিবেন।

গান শেষে সবাই জোরে জোরে তালি দিতে থাকে। অনেকে শিসও বাজাতে থাকে। অর্ণব তহ এতক্ষণ মুগ্ধ হয়ে নীলা এর গান শুনছিল। সে যেন নীলা এর গানে হারিয়ে গিয়েছিল। অর্ণব এর মনে এক অজানা ভালো লাগা কাজ করছিল। কোন এক অনুভুতি তার মধ্যে উকি দিচ্ছিল কিন্তু তার যে এই অনুভূতির নাম জানা নেই। তালির শব্দে অর্ণব এর হুস ফিরে। আর স্টেজে তাকিয়ে দেখে নীলা নেই। সে ওয়াশরুমের কথা বলে নীলাকে খুজতে থাকে। খুজতে খুজতে কলেজের বাগানের দিকে চলে যায়। আর সেখানে এসে যা দেখে তাতে অর্ণব এর মাথা গরম হয়ে যায়। তার চোখ দুটো ভীষণ লাল হয়ে আছে। আর তার চাহনিতে হ্রিংস্রতা ফুটে উঠেছে।
সে দেখলো।

চলবে

দ্য এডিকটেড লাভার
লেখিকাঃ তানজিন ইসলাম

আরো পড়ুনঃ দ্য এডিকটেড লাভার – সিজন ১ । শীঘ্রই আসিতেছে

Related posts

দ্য এডিকটেড লাভার – সিজন ২ । বেস্ট থ্রিলার গল্প

valobasargolpo

থ্রিলার গল্প – হ্যাকারের ডার্ক ওয়েবে হারানো রহস্য – পর্ব ১

valobasargolpo

Leave a Comment

error: Content is protected !!