ভালোবাসার গল্প

রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প – ভাইয়ের বন্ধু বর পর্ব ৭ | Love Story

রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প ৭

রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প – ভাইয়ের বন্ধু বর পর্ব ৭: গত পর্বে মাহিকে অপহরণ করে নিয়ে যায় বখাটেরা আর নাবিল বাঁচাতে গিয়ে মাথায় আঘাত পায়। দুজনে অজ্ঞান হয়ে সারা রাত ছিল। আজ বাসায় ফিরে কি হয় দেখার পালা।

নাবিল ও মাহির বিপদ

নাবীল দৌড়ে গিয়ে মাহিকে জরিয়ে ধরে, আর মাহি মাহি বলে ডাকতে থাকে। হঠাৎ নাবীলের মাথায় ভারী কিছু দিয়ে কেউ বারি মারে আর নাবীলও সেখানে অজ্ঞান হয়ে যায়।

এই কাজগুলো সকালের ওই ছেলেগুলো করছে, ওদের টার্গেট ছিলো শুধু মাহি। ওরা চাইছিলো মাহি যাতে আর কাউকে মুখ দেখাতে না পারে এমন ব্যবস্থা করবে। ওরা মাহির শ্লীলতাহানি করতে চাইছিলো। কিন্তু নাবীল এসে পড়ায় ওদের সব প্লান নষ্ট হয়ে যায়। তাই এখন নাবীলকেও ওরা শায়েস্তা করতে চায়।

কি রে কি করমু এহন, মাইয়াডার লগে এই শালাও আইসা পরছে। (ওই তিন জনের মধ্যে একজন বললো)। মেম্বার এর পোলার নাম ছিলো শাকিব। শাকিব বলে উঠলো শোন দুইডারে একসাথেই শায়েস্তা করমু। দেখ কাল কি খেলা হয়। এই কথা বলে তিনটাই হেসে উঠলো।

অন্যদিকে নাবীল ও মাহি দুজনেই অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পরে আছে। কাল এক ভয়াবহ সকাল হবার অপেক্ষায়।

অনেক রাত পর্যন্ত হলুদের অনুষ্ঠান চলেছে। এদিকে শফিক এতোই ব্যস্তছিলো যে মাহির কথা ওর মনেই ছিলো না। কিছু মেহমান চলে গেছে আর কিছু মেহমান বাসায়ই রয়ে গেছে। ক্লান্ত শরীলে যে যেখানে জায়গা পাইছে ঘুমিয়ে পড়েছে। বাড়ি ভর্তি এখনো মেহমান আছে। শফিকও সোফায় বসার সাথে সাথে শরীলটা ছেড়ে দিছে। তাই সেও সোফায় ঘুমিয়ে পড়েছে। আসলে শফিক ভাবছে মাহি ও নাবীল হয়তো বাড়ির কোথাও না কোথাও ঘুমিয়ে আছে, এখন কাউকে সে ডিস্টার্ব করতে চায় না।

আজ বিয়ে বলে সবাই সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে গেছে। সীমা উঠেই আগে মাহিকে খুঁজতে লাগলো। কারণ মাহি কাল অসুস্থ ছিলো, আর কাল রাত থেকেই ওকে আর দেখেনি সীমা। পুরা বাড়ি সীমা মাহিকে খুঁজলো কিন্তু পেলো না। সীমার সাথে মাহির মামা মামীও খুঁজতে লাগলো। সীমা দৌড়ে গিয়ে শফিকের কাছে গিয়ে শফিককে ঘুম থেকে উঠার জন্য ডাকতে লাগলো। এই শফিক ভাই, ভাই, এই ভাই..উঠ।

মাহিকে খোজাখোজি

শফিক ঘুম ঘুম চোখে সীমাকে বকতে লাগলো। কি রে কি হইছে? এতো সকাল সকাল ডাকলি কেন? আরো একটু ঘুমাতে দে।

সীমা চিৎকার দিয়ে বললো,

সীমাঃ ভাই মাহিকে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। কাল রাতের পর থেকে কেউ ওকে দেখেনি। তুমি জানো ও কই?

শফিকের মাথায় জেনো আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। কি বলস তুই? মাহি তোর সাথে ছিলো না। ঘুম থেকে লাফ দিয়ে উঠে।

সীমাঃ না ভাইয়া। হলুদ শেষ হবার আগেই ও চলে আসছে বাসায়। ওর শরীর ভালো লাগছিলো না বলে।

শফিকঃ কি..?

শফিক লাফ দিয়ে দাঁড়িয়ে যায়। আমি ভাবলাম ও তোর সাথে আছে তাই রাতে আর খোঁজ নি নাই। আমারি ভুল ছিলো। ওওওও খোদা।

শফিক পাগলের মতো চারদিক মাহিকে খুঁজতে লাগলো। বাড়ীর বাকি মানুষ গুলোও খোঁজা শুরু করে দিলো। হঠাৎ শফিকের নাবীল এর কথা মনে পড়লো। সবাই আছে কিন্তু নাবীল নাই এখানে। নাবীল কি মাহিকে খুঁজতে গেছে নাকি ও ও গায়েব হয়ে গেছে।

শফিকঃ সীমা, এই সীমা নাবীল কে দেখছোস।

সীমাঃ না ভাইয়া। কাল রাতের পর থেকে আমি নাবীল ভাইকেও আর দেখিনি। এমনকি সকালও কোথাও পাওয়া যায় নি।

শফিক যেন পুরো পাগল হয়ে যাবে এখন। এক দিকে মাহি আরেক দিকে নাবীল। দুজনেই ওর কাছের মানুষ, আর দুজনকেই ও যেন হারিয়ে ফেলেছে মনে হয়। পুরো বিয়ে বাড়ী এখন মরাবাড়ীর মতো হয়ে গেছে।

হঠাৎ বাড়ীতে গ্রামের কিছু মুরব্বী এসে হাজীর হলো এরা আসলে সকলেই গ্রামের মেম্বার আর চেয়ারম্যান সাহেবের চামচা। কবির স্যার মানে মাহির মামাকে উনারা দেখতে পারেনা। এর আগেও কয়েকবার চেষ্টা করেও কবির স্যারকে গ্রাম ছাড়া করতে পারেনি। তাই এবার ও অনেক প্লানিং করে আবার আসছে। মাহির মামাকে অপমান করতে।

লোকের বলাবলি

এদের দেখেই কবির সাহেব বুজতে পারলো কেন এরা এসেছে? কবির সাহেব শফিককে চুপ থাকতে ইশারা দিলো। মুখ বন্ধ থাকলেও চোখ জেনো কোন বাধ মানছে না শফিকের।

কবির সাহেব গিয়ে সৌজন্যতা বজায় রাখতে জিজ্ঞেস করলো ‘আরে আপনারা এতো সকাল সকাল এখানে। কি মনে করে?’

উত্তরে তারা বলল- কবির স্যার কি হুনতাছি আমরা আপনার বোনের মাইয়াটা নাকি কাইল রাত থেকে গায়েব। তো কই গেছে কিছু জানতে পারছেন।

অন্য একজন বলে উঠলো, কই আর যাইবো, মনে হয় রাইতে কারো লগে ভাইগা গেছে। মাইয়াটার চালচলন তেমন ভালা ছিলোনা, গত দুইদিন যা দেখলাম। (মুখটা একটু বাকিয়ে কথাগুলো বলছে)

তাদের সাথের আরো একজন…শুনলাম, যে পোলাডার লগে ভাগছে ওইডা নাকি শফিকের বন্ধু। ছি ছি.. ভাবতেও ঘৃণা লাগছে। কেমনে করলো? এহোন সীমার কি হইবো কবির সাহেব। পোলার বাড়ী যদি জানে মাইয়ার বোন রাতে কারো লগে ভাইগা গেছে তাহলে এই বাড়ীতে উনারা রিশতা করতে কোনদিনও আইবো না।

শফিক এখন রেগে গেলো। একতো বোনকে পাচ্ছে না তার উপর এদের এ ধরনোর কথা। নিজের রাগটা আর কন্ট্রোল করতে পারলো না। চিৎকার দিয়ে উঠলো-

শফিকঃ খবরদার, আমার বোনকে নিয়ে আর একটা খারাপ কথাও আমি শুনতে চাইনা।

কবির সাহেব শফিককে ধৈর্য্য ধরতে বললো, না হলে সব শেষ হয়ে যাবে।

দেখুন আগে মাহিকে খুঁজা খুব জরুলী, আগে ওকে খুঁজে পাই তারপর কি হইছে ওদের মুখ থেকেই শোনা যাবে।

মাহিকে নিয়ে নাবিলের বাসায় গমন

অন্যদিকে নাবীলের জ্ঞান ফিরলো। বাহিরের সূর্যের আলো জানালার ফাকগুলো দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছে। চারদিকে পাখির কিচিরমিচির শব্দও শোনা যাচ্ছে। নাবীল অনেক কষ্টে চোখগুলো খুলতে চেষ্টা করছে। মাথাটা খুব ব্যাথা করছে। হঠাৎ নাবীলের খেয়াল হলো কাল রাতে পেছন দিয়ে কেউ ওকে মাথায় মেরেছে। তার ব্যাথা এখনো অনুভব করছে। হঠাৎ নাবীলের মাহির কথা মনে পড়লো।

নাবীল চোখ খুলে মাহিকে নিজের বুকের উপর পেলো। নাবীল লাফ দিয়ে উঠে মাহি মাহি করে ডাকতে লাগলো। নাবীলের অনেক ডাকে মাহির জ্ঞান ফিরে এলো। মাহি মাথাটা ধরে চারদিক থাকিয়ে ভাবতে লাগলো ও কোথায় এখন। কারণ কাল বাড়ীর ভেতরে প্রবেশ করতে গেলে কেউ মাহির হাত ধরে ফেলে, মাহি ঘুম ঘুম চোখে নাবিলকে দেখতে পায়। আর তখনি জ্ঞান হারায়।

মাহিঃ এ কি নাবীল ভাই আপনে এখানে কেন? আর আমি কোথায়? আমার মাথাটা অনেক ব্যথা করছে। চোখগুলো খুলতেও অনেক কষ্ট হচ্ছে।

নাবীলঃ সব বলবো। আগে এখান থেকে বের হতে হবে আমাদের। কাল রাত থেকে আমরা এখানে,শফিক মামা মামী সবাই মনে হয় খুঁজছে আমাদের। উঠ কষ্ট করে, দাঁড়াবার চেষ্টা কর।

নাবীল মাহিকে ধরে উঠালো। নাবীল দেখলো দরজাটা একনো খোলা বাহির থেকে। তাই ও আর এক মিনিটও ওখানে না থেকে মাহিকে সাথে নিয়ে বাড়ীর দিকে হাটতে লাগলো। যত বাড়ীর কাছে আসছে চিল্লানো আর চেঁচামেচির শব্দ শুনতে পারছে নাবীল। নাবীল বুজতে পারলো কিছু একটা হচ্ছে বাড়ীর ভেতরে, তা নাহলে কেউ আমাদের না খুঁজে এমন চিল্লাচিল্লি কেনো করছে? নাবীল মনে মনে ভাবছে আল্লাহ তুমি সাহায্য করো এ বিপদ থেকে রক্ষার জন্য।

এ দিক দিয়ে শফিকের সাথে গ্রামের কিছু মানুষের সাথে তুমুল লড়াই লেগে গেছে। সবাই মাহির নামে আজেবাজে কথা বলছে বলে।

মাহির নীরব কান্না

নাবীল বাড়ীর ভেতরে ঢুকে ঘাবরে যায়। বাড়ী ভর্তি মানুষ দেখে। পরিস্থিতি বুজার চেষ্টা করছে। কি হচ্ছে এসব? এতো মানুষ কেনো এখানে। নাবীল একটু জোরেই শফিককে ডাক দিলো। ডাকের সাথে সাথে বাড়ী ভর্তি মানুষ পেছনে তাকিয়ে দেখলো মাহি ও নাবীল দাঁড়িয়ে আছে। মাহি ঠিক মতো দাঁড়াতেও পারছে না নাবীল ধরে রাখছে। শফিক দৌড় দিয়ে মাহিকে এসে ধরলো।

শফিকঃ মাহি, এই মাহি কি হইছে তোর? এই অবস্থা কেনো? বল..বল কিছু।

মাহি শুনতেতো পারছে কিন্তু কিছু বলতে পারছে না।

ক্লান্ত আর ঘুম ঘুম চোখে চারদিকে তাকিয়ে দেখে সব মানুষ তার দিকে তাকিয়ে আছে। আসলে মাহি বুঝতে পারছে না কেন? মাহির পুরো শরীর কাপছে। কিছু বলতে চাইছে কিন্তু ভয়ে কিছুই বলতে পারছে না।

সবাই মাহিকে কেমন নযরে জেনো দেখছে। নাবীল বুঝার চেষ্টা করছে, সবাই মাহিকে দেখে এমন করছে কেনো। হঠাৎ নাবীল মাহির দিকে একটু ভালো করে তাকালো, দেখতে পেলো মাহির ব্লাউজটা কিছুটা ছিড়া। ঠোটের লিপস্টিক আর কাজলটাও ছড়ানো। শাড়ীর কুছিগুলোও ঠিক না। নাবীল এবার বুঝতে পারলো কেনো সবাই মাহির দিকে আড় চোখে তাকিয়ে আছে।

এদিক দিয়ে শফিককে জরিয়ে ধরে মাহি কাঁদতে লাগলো কিন্তু কিছু বলছে না। কি আর বলবে ও। কেউ কি ওর কথা বিশ্বাস করবে।

নাবীলঃ মামী আর সীমাকে ইশারা করলো মাহিকে ঘরে নিয়ে যেতে।

গ্রামের কিছু মহিলা বলাবলি করা শুরু করে দিলো, দেখছোস মাইয়ার কাম, লজ্জা শরমের মাথা খাইছে মনে হয়। সারা রাইত আকামকুকাম কইরা মুখ কালা করছে। মামা মামী তো দূরে থাহুক বোইনডার কথাও চিন্তা করে নাই। এহোন আবার এই মুখ হবাইরে দেহাইতে আইছে।

মাহি সব শুনতে পাচ্ছে, আর চোখ দিয়ে অশ্রু ফেলছে।

নাবিলের প্রতিবাদ

নাবীল সব রাহয়ানকে খুলে বললো। শফিক স্তব্ধ হয়ে পরলো। কি হলো এক রাতে। এতো কিছু হয়ে গেলো আর ও রাতে বেঘোরে ঘুমিয়ে ছিলো। এখন কি হবে? কিভাবে গ্রামের এই অশিক্ষিত মুর্খ মানুষ গুলোকে বুঝাবে?

নাবীল রায়নহান কে সান্তোনা দিয়ে বলল,

নাবীলঃ এতো ভাবছিস কেনো? আমি এখন এসে পড়েছি, তুই একা না। চল দেখি কে কি বলছে? সবার প্রশ্নের উত্তর আমি দেবো।

শফিকঃ মাহির মামাকে সবাই অনেক অপমান করছে। লোকটা নিরবে সব শুনছে, সীমার বিয়েও নাকি এরা আর হতে দেবে না, গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে বলছে।

নাবীলঃ ব্যাশশশশশ..। (খুব জোরেই শব্দটা করেছে নাবীল)

নাবীলের এ ধরনের আচরণ এ উপস্থিত সবাই অবাক।

তাদের সামনে এসে বললো। সমস্যা কি আপনাদের? একটু খুলে বলবেন। আর আপনারা এই বিয়ে বাড়ীতে এসে এতো চেচামেচি কেনো করছেন? কি জানতে চান আমাকে বলুন আমি বলবো। কেন এই নির্দোষ মানুষকে অপমান করছেন?

এতক্ষণে চেয়ারম্যান সাহেবও এসে হাজির হইছে। সব কিছু শুনলো সবার থেকে।

দেখছেন দেখছেন চেয়ারম্যান সাহেব, আফনের সামনেই কেমন বেহায়ার মতো প্রশ্ন করছে? এতো বড় কুকাম কইরা এহোন ভালা সাজতে আসছে।

নাবীল আবার বলে উঠলো কি কুকাম আমরা করছি, একটু খুলে বলবেন? চলবে….

পরের পর্ব: রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প – ভাইয়ের বন্ধু বর পর্ব ৮

সকল গল্পের ধারাবাহিক সব পর্ব এখানে গিয়ে খুঁজুন – ধারাবাহিক পর্বের গল্প

Related posts

রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প – ভাইয়ের বন্ধু বর পর্ব ১৩ | Love Story

valobasargolpo

রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প – ভাইয়ের বন্ধু বর পর্ব ১৪ | Love Story

valobasargolpo

Leave a Comment

error: Content is protected !!