ভালোবাসার গল্প

রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প – ভাইয়ের বন্ধু বর পর্ব ১৯ | Love Story

রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প ১৯

রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প – ভাইয়ের বন্ধু বর পর্ব ১৯: বিয়ের আগে অনেক কাছে থেকেও নাবিল ও মাহি প্রেম করে নি, কিন্তু বিয়ের পর তারা চুটিয়ে প্রেম করছে। নাবিলের নিত্য নতুন কেয়ারিং মাহির মনে গভীর ভালোবাসার দাগ এঁকে দিচ্ছে। চলুন দেখি তারা আজ কি করে?

রোমান্টিক বরের দুষ্টুমি ভালোবাসা

নাবীল অফিসের সব কাজ তাড়াতাড়ি শেষ করে, বিকাল বেলা মাহির বাসায় চলে গেলো। সেখানে কিছুক্ষণ শফিকের সাথে গল্প করলো।

শফিকঃ নাবীল, তুই ফ্রেস হয়ে কিছুক্ষণ রেস্ট নে। মাহি, ওকে তোর রুমে নিয়ে যা।

মাহি নাবীলকে নিজের রুমে নিয়ে যায়, আর নতুন কিছু কাপড় এনে দেয় নাবীলকে ফ্রেস হয়ে পড়ার জন্য।

নাবীলঃ এগুলো কার কাপড়, শফিকের?

মাহিঃ না, আপনার জন্য বাবা আনছে।

নাবীলঃ তাইইই, কি দরকার ছিলো? আমি শফিকের কিছু পরে নিতাম।

মাহিঃ এটা নিয়ম, নতুন জামাই প্রথম বাড়ীতে এলে শ্বশুরের দেয়া কাপড়ি পরতে হয়।

নাবীলঃ খুব সুন্দর নিয়ম তো। তো আর কিছু নিয়ম শিখিয়ে দেয়নি তোকে।

মাহিকে পেছন দিয়ে জরিয়ে ধরে,

নাবীলঃ এই যেমন স্বামী আসলে তাকে সেবা করা, তাকে জরিয়ে ধরে আদর করা। সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে তাকে ডিপলি একটা কিস করা।

মাহিঃ না না, এমন কোন নিয়ম নেই। কে বলে আপনাকে এসব? আমিতো আজও এসব দেখিনি কাউকে বলতে। যতোসব আজাইরা নিয়ম।

মাহি নাবীলকে ধাক্কা দিয়ে চলে যেতে নিলে, নাবীল মাহির হাতটা ধরে টান দিয়ে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরে।

নাবীলঃ এই তুই দেখবি কি করে? এর আগে তোর কয়টা বিয়ে হইছে, বল?

মাহিঃ কি যা তা বলছেন? মানুষের কয়টা বিয়ে হয়? আর বিয়ে হলেই সব জানবে, আর না হলে জানবে না, কে বলেছে?

নাবীলঃ ওওও আমার মাহি পাখি তো তাহলে সব জানে। তাহলে এতোই যেহেতু জানো, তাহলে স্বামীর থেকে এতো দূরে দূরে থাকো কেনো, জানু? জানো না স্বামীর থেকো দূরে থাকা আল্লাহ পছন্দ করে না। মাহির কোমড়কে দুই বাহু দিয়ে আবদ্ধ করে রেখে।

মাহিঃ হইছে, আজকের জন্য। এখন আপনে ফ্রেস হতে জান। আমি চা নিয়ে আসছি। (মাহি নাবীলের কাছ থেকে ছুটার চেষ্টা করছে)

নাবীলঃ জানু, আমি না ছাড়লে তুমি হাজার চেষ্টা করেও নিজেকে ছুটাতে পারবে না। তাই শুধু শুধু নিজের শক্তি নষ্ট করো না।

নাবীল মাহিকে ছেড়ে দিয়ে কাপড়গুলো নিয়ে ওয়াস রুমে চলে যায়।

বউয়ের আদর

ওয়াসরুম থেকে বের হয়ে দেখে মাহি এখনো আসেনি। তাই নাবীল আধো শোয়া অবস্থায় বিছানায় বসে মোবাইল টিপছে। এরইমধ্যে মাহি চা নিয়ে আসে।

নাবীল চা টা এক চুমুক নিয়ে,

নাবীলঃ আমার মাথাটা অনেক ব্যথা করছে। তাই আমি কিছুক্ষণ ঘুমাবো।

মাহি চায়ের খালি কাপটা হাতে নিয়ে চলে যেতে চাইলে, নাবীল মাহির হাতটা ধরে বলে,

নাবীলঃ তুই কোথায় যাস?

মাহিঃ আপনে ঘুমাবেন, আমি কি করবো? বরং আমি থাকলে আপনার ঘুমের ডিস্টার্ব হবে, তাই।

নাবীলঃ আমি ঘুমাবো, তুই আমার চুলগুলো টেনে দিবি।

মাহিঃ কিকিকি..।

নাবীলঃ এতো জোরে চিল্লানোর কি আছে?

মাহিঃ না, মানেএএএ।

নাবীলঃ এতো মানে জানতে চাইনি, বস এখানে।

এরপর নাবীল মাহিকে বিছানায় বসিয়ে মাহির কোলে মাথা রেখে শুয়ে পরে। আর মাহি নাবীলের মাথাটা বিলি দিতে থাকে।

নাবীলঃ তোকে আমি কি বলছি?

মাহিঃ কি?

নাবীলঃ আমি চুলগুলো টানতে বলেছি, বিলি দিতে না।

মিষ্টি প্রেমের গল্প

এরপর মাহি চুলগুলো টেনে টেনে দেয়।

নাবীলঃ মাহি..?

মাহিঃ হুমমমমম।

নাবীলঃ দুপুরে খাস নাই।

মাহিঃ হুমমমম, খেয়েছিতো।

নাবীলঃ তাহলে এতো আস্তে আস্তে কেনো টানছিস, শক্তি নাই হাতে। (কিছুটা চেঁচিয়ে)

মাহি মুখটা ভেঙ্গচিয়ে চুলগুলো জোরে জোরে টানতে থাকে।

নাবীলঃ আমি না উঠা পর্যন্ত তুই কোথাও যাবি না? এখানেই থাকবি। আমি ঘুম থেকো উঠে তোকো না দেখলে খবর আছে।

মাহিঃ আসলেই পাগল, কখন ভালেবাসে, কখন রাগ করে, আর কখন যে মতিগতি নষ্ট হয়ে যায়, কিছুই বুজিনা।

মাহিও বসে ভাবতে ভাবতে কিছুটা ঘুমিয়ে যায়।

মাগরিবের আজানে মাহির ঘুম ভেঙ্গে যায়।

মাহিঃ এই যে শুনছেন উঠুন। আর ঘুমাতে হবে না।

মাহির ডাকাডাকি তে নাবীল মাহির কোমড়টা আরো শক্ত করে ধরে ঘুম থেকেই বলে-

নাবীলঃ কি করছোস? ঘুমাতে দে আরো একটু।

মাহিঃ ঠিক আছে, আপনে ঘুমান। কিন্তু আমাকে যেতে দিন। বাড়ীর সবাই কি মনে করবে? আমি এতোক্ষণ রুমে কি করছি?

নাবীল লাফ দিয়ে উঠে বসেই মাহির দিকে রাগান্বিত চোখে তাকিয়ে বলে-

নাবীলঃ সবাই তোর মতো গাধা না। সবাই বুঝে শুধু তুই ছাড়া..।

এ কথা বলেই নাবীল ফ্রেস হতে ওয়াসরুম এ যেতে নিলো।

অভিমানী ভালবাসা

মাহি একটু মুখ গোমড়া করে বলে- কি আমি গাধা, আমি গাধা হবো কি করে, এতো পড়া লেখা করে ও আপনে জানেন না।

মাহির কথা শুনে নাবীলের মন চাইছিলো মাহিকে আছাড় মারতে।

নাবীল মাহির দিকে তেড়ে আসে। মাহি ভয়ে রুম থেকে পালানোর জন্য দৌড় দিলে, নাবীল মাহির হাতটা ধরে টান দিয়ে বুকের সাথে চেপে ধরে।

নাবীলঃ সব জানিস, তাই না! কিন্তু যা জানার তাই জানোস না। এবার বাসায় চল, দেখ, কিভাবে সব শিখিয়ে দিই?

মাহিতো ভ্যাবাচেকা হয়ে তাকিয়ে আছে।

নাবীল মাহিকে ছেড়ে দিয়ে,

নাবীলঃ যা তাড়াতাড়ি রেডি হো, আমরা ডিনার করেই আজই বাসায় চলে যাবো।

মাহি মুখটা ঘোমরা করে বলে,

মাহিঃ আমি কাল আসি।

নাবীলঃ এক কথা আমি দ্বিতীয় বার বলবো না। আর আমরা আজই যাবো।

নাবীল ফ্রেস হতে চলে গেলো।

ডিনার টেবিলে,

মাহির মাঃ নাবীল তোমরা নাকি আজই চলে যাবে।

নাবীলঃ জি মা। একটা দিন থাকো। কাল চলে যেও। না মা, অফিসের কাজ অনেক জমে গেছে। আর ভাইয়ার একা সম্ভব না, তাই জেতেই হবে। আর কাল নাকি আমার কাজিনরা বাসায় আসবে। তাই মাহিকেও নিতে হবে। আমরা পরে একদিন সময় করে আসবো।

মাহির মাঃ আচ্ছা বাবা, তুমি যা ভালো মনে করো।

এরপর ডিনার করে সবার সাথে কিছুক্ষণ কথা বলে মাহিকে নিয়ে বাসায় চলে আসলো। নাবীল বুজতে পারছে, মাহির মন খারাপ। এভাবে বাসা থেকে নিয়ে আসার কারণে। কিন্তু নাবীল মাহিকে একদিনও তার কাছ থেকে দূরে থাকতে দেবে না। তাই মাহিকেও থাকতে দেয়নি।

বাসায় আসতে আসতে অনেক লেট হয়ে গেছে। ওরা বাসায় এসে দেখে সবাই যার যার রুমে। হয়তো ঘুমিয়ে পরছে, তাই কাউকে ডিস্টার্ব না করে রুমে চলে গেলো।

রাতেও মাহি নাবীলের সাথে কোন কথা বলেনি। নাবীল কিছু কাজ বাকি ছিলো বলে ল্যাপটপ নিয়ে বসে কাজ করছে। আর মাহি ঘুমিয়ে পরছে।

বরের আদর ও প্রেম

আজ সকালে উঠেও মাহি নিজেকে নাবীলের বুকের উপর পেলো।

মাহিঃ আমি রোজ রোজ বালিশ ছেড়ে এখানে কি করে আসি? (মাহি মনে মনে ভাবছে)

হঠাৎ নাবীল,

নাবীলঃ এতো ভাবিস না! তোর মতো পিচ্ছি এগুলো বুজবে না।

মাহিঃ রেগে গিয়ে, তাহলে এই পিচ্ছিকে বিয়ে করছেন কেন? বড় কাউকে বিয়ে করতে পারলেন না, যে সব বুঝে।

হঠাৎ নাবীল এক ঝটকায় আমায় বিছানায় ফেলে দিয়ে আমার উপর উঠে দুহাত চেপে ধরে।

ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলি। কিন্তু হঠাৎ ফিল হয় ঠোটে কিছুর স্পর্শ, চোখ খুলে বুঝার আগই আমার ঠোট ওর ঠোটের মধ্যে নিলো। উমমমমম। আমার চোখ যেন কপালে উঠে গেলো। নাবীলকে সরানোর চেষ্টা করতে লাগলাম কিন্তু হাত দুটো শক্ত করে ধরে রাখছে। আমার ছটফটানও তো ওর কোন মনোযোগ নেই। ও নিজের কাজে ব্যস্ত। প্রায় অনেকক্ষণ পর আমায় ছাড়ে।

আমার দিকে তাকিয়ে বললো,

নাবীলঃ এটা তোর শাস্তি। আমাকে এতো দিন দূরে রাখার জন্য। আর এখন থেকে নিজেকে তৈরি করে রাখ। আস্তে আস্তে আমি সব শিখিয়ে দেবো। আমার এই পিচ্ছি বউটাকে।
একটা ডেবিল হাসি দিয়ে ফ্রেস হতে চলে গেলো।

আমার তো বিশ্বাস হচ্ছে না, এটা কি ছিলো, স্বপ্ন নাকি বাস্তব। কেউ আমাকে একটি চিমটি মারো। কিন্তু কে মারবে? কেউ তো নেই। আমি মনে হয় স্বপ্ন দেখছি। আআআয়য়য়। কিন্তু আমার ঠোটটা এমন ফুলে গেছে কেনো? তার মানে এটা সত্য ছিলো। শয়তান ব্যাটা আমার ঠোট কি তোর জাগির মনে করেছোস। যে এমন করলি। মাহি বসে বসে নাবীলের চৌদ্দ গোষ্ঠী উদ্ধার করছে।

নাবীল এসে দেখে আজও মাহি ঠোঁটে হাত দিয়ে কি যেন ভাবছে। তাই মাহির সামনে এসে ভিজা চুলগুলো হাত দিয়ে ঝাকাতে লাগলো, ভিজা চুলের পানি মাহির উপর পড়লে চিন্তা থেকে বের হয়ে আসে।

মাহি নাবীলের দিকে তাকিয়ে আছে। এক অদ্ভুত অনুভূতি লাগছে। নাবীলে উন্মুক্ত শরীলটায় যেন এক নেশা আছে। আগে কখনো কোন ছেলেকে এমন ভাবে দেখিনি বলে কি আজ এমন লাগছে।

মায়াবী সংসারে কালো মেঘ

নাবীল আয়না দিয়ে দেখতে পেলো সব।

নাবীলঃ কি রে এভাবে কি দেখছোস? চোখ দিয়ে আমাকে গিলে খাবি মনে হয়।

মাহিঃ ফাজিল কোথাকার, মুখে কিছু আটকায় না। কিছু না, আপনার লজ্জা শরম নেই। কোন মেয়ের সামনে এভাবে থাকে।

নাবীলঃ কোন মেয়ে মানে, আমি আমার বউয়ের সামনে যেমনে খুশি তেমনে থাকবো। এতে লজ্জার কি আছে? আর এতো লজ্জা নিয়ে থাকলে তোর লজ্জা ভাঙ্গাবো কিভাবে? হুমমমম। বলতো ….(নাবীল মাহিকে এক চোখ টিপ মেরে বলে)

মাহিঃ উফফফফ.. । (বিরক্ত নিয়ে ওয়াসরুম এ চলে গেলো)

নাবীল ওয়াসরুমের দরজা নক করে, তাড়াতাড়ি বের হয়ে নিচে আস।

নাবীল নিচে নামার কিছুক্ষণ পর মাহিও নেমে আসে।

নাবীলের মাঃ আরে তোরা কখন এলি, আমি তো ভাবলাম তোরা আজ আসবি।

নাবীলঃ না মা, আমরা কাল রাতই এসে পরেছি। লেট হয়ে গিয়েছে বলে তোমাদের আর ডাকিনি।

নাবীলের মাঃ আচ্ছা ঠিক আছে, এখন বস। নাস্তা করে নে। আজ আবার মেহমান আসবে। তাই নাবীল ও তাওহিদ তোরাও তাড়াতাড়ি আসিস।

নাবীলঃ আচ্ছা মা, চেষ্টা করবো আমরা। নাস্তা করে অফিসে চলে গেলো ওরা।

আর মাহি, তানজিলা ও রেনু খালাকে নিয়ে সব গুচগাচ করে নিলো।

রাতে নাবীল ও তাওহিদ বাড়ীর ভেতরে ঢুকতেই চেচামেচির শব্দ শুনে দাঁড়িয়ে যায়।

নাবীলঃ ভাইয়া, মনে হয় শয়তানগুলো এসে পরছে, আজ থেকে আর শান্তি দিবে না।

তাওহিদঃ ঠিক বলছিস, আমিতো তোর ভাবীর কথা চিন্তা করছি। ঝুমুরকে দেখলে আমার দিকে এমন ভাবে তাকায় মনে হয় খেয়ে ফেলবে।

নাবীলঃ ঠিকই আছে, বলতে গেছো কেনো? ঝুমুর আপুর কথা আগ বাড়িয়ে।

তাওহিদঃ আরে বলবো না তো কি করবো? দেখোস না, মেয়েটা বাসায় আসলেই আমার পিছ ছাড়ে না। তানজিলা তো একদিন আমাকে চেপে ধরেছে। সমস্যা কি, তাই সব বলে দিলাম।

নাবীলঃ ভালো, এখন বুঝো। আগে চলো ভেতরে দেখি কি অবস্থা?

তাওহিদঃ চল। আর আল্লাহ কাছে দোয়া করিস আমার জন্য।

তাওহিদ ও নাবীল ভেতরে গিয়ে দেখে সবাই ড্রয়িং রুমে আড্ডা করছে। কিন্তু নাবীল কিছু একটা দেখে ওর রাগ উঠে যায় মাহির উপর। চলবে…

পরের পর্ব- ভাইয়ের বন্ধু বর পর্ব ২০

সকল গল্পের ধারাবাহিক সব পর্ব এখানে গিয়ে খুঁজুন – ধারাবাহিক পর্বের গল্প

Related posts

রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প – ভাইয়ের বন্ধু বর পর্ব ১৬ | Love Story

valobasargolpo

রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প – ভাইয়ের বন্ধু বর পর্ব ১৩ | Love Story

valobasargolpo

Leave a Comment

error: Content is protected !!