ভালোবাসার গল্প

রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প – ভাইয়ের বন্ধু বর পর্ব ১৭ | Love Story

রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প ১৭

রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প – ভাইয়ের বন্ধু বর পর্ব ১৭: নাবীল যে মাহিকে এতটা ভালবাসে তা মাহী কখনো বুঝতে পারে নি, নাবিলের শাসনের মাঝে এত ভালবাসা লুকিয়ে ছিল তাহলে! মাহিও অনেক ভালবাসে নাবিলকে যেটা সে নিজেও উপলদ্ধি করতে পেরেছে। তো দেখি তাহলে তাদের সংসার জীবন কেমন হয়?

বউয়ের সাথে দুষ্টামি

নাবীলের ঘুম আগে ভেঙ্গে গেলো, হঠাৎ খেয়াল করলো কেউ পেছন দিয়ে ওকে জরিয়ে ধরে আছে। নাবীল বুজতে পারলো তার বুকের সামনের হাতটা কার? আস্তে করে হাতটা সরিয়ে পেছনে ফিরলো, আজকের সকালটা যেনো নাবীলের কাছে স্বপ্ন মনে হচ্ছে। ঘুমন্ত মাহিকে দেখে যেনো আবার প্রেমে পড়ে গেলো।

মাহির শাড়ীর খোলা অংশ ভেদ করে সাদা পেটটা দেখা যাচ্ছে, পায়ের থেকে শাড়ীটা সরে গেছে। চুল দিয়ে মুখটাও ঢেকে গেছে। নাবীল কিছুক্ষণ তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিয়ে চাদর দিয়ে মাহিকে ঢেকে দিলো। এরপর চুলগুলো সরিয়ে একটা গভীর কিস করলো গালে!

নাবীলঃ এই মেয়েটার থেকে যতো দূরে থাকতে চাই ততোই ও আমাকো চুম্বকের মতো কাছে টানে। কেনো বুজছ না, আমি এখন তোর কাছে আসলে তোর কষ্টই বেশি হবে, যা আমি চাইনা। আর এভাবে আমাকে লোভ দেখালে আমিও দূরে থাকতে পারবো না। (নাবীল কথা গুলো মনে মনে বলে)

নাবীল ফ্রেস হতে চলে যায়। ফ্রেস হয়ে দেখে মাহি এখনো উঠেনি। নাবীল দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবে একটু দুষ্টুমি করা যাক। কতো রাত আমি নির্ঘুম কাটিয়েছি তোর জন্য। আর তুই কিনা আরামে ঘুমাস, দেখ তোর সাথে কি করি?

এই কথা বলতেই এক গ্লাস পানি মাহির শরীলে ঢেলে দেয়।

মাহি ভয়ে লাফ দিয়ে উঠে যায়।

মাহিঃ এ কি হলো… আমাকে পানি মারলেন কেনো? কি সুন্দর স্বপ্ন দেখছিলাম, আমার সব স্বপ্ন ভেঙ্গে দিলেন, একটু ন্যাকামি করে।

নাবীল মাহির একদম কাছে এসে, আমার স্বপ্ন যে তুৃই কাল রাতে ভেঙ্গে দিলি সেটার কি হবে, আর এখন নিজেই স্বপ্ন দেখছোস। অনেক স্বপ্ন হইছে, এখন বাস্তবে ফিরে আসেন, কয়টা বাজে, সবাই নিচে অপেক্ষা করছে, ১০মিনিট সময় দিলাম তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নিচে আস, তা না হলে, এখন তো এক গ্লাস পানি মারছি, লেট করলে আমাদের বাসায় একটা সুইমিংপুল আছে সেখানে তকে ফেলে দেবো।

মাহি ভয়ে ঢোক গিল্লো, তাড়াতাড়ি নেমে ফ্রেস হতে চলে গেলো।

মাহি পানি খুব ভয় পায়, মানে নদী, পুকুর, সুইমিংপুল এ ও কখনো নামেনা ভয়ে আর তাই নাবীলও সুযোগটা কাজে লাগালো।

ভাবী ননদের খুনসুটি

নাবীল নিচে গিয়ে নিশিকে পাঠিয়ে দিলো, মাহিকে সাহায্য করার জন্য।

মাহি বের হয়ে নিশিকে দেখে খুব খুশি হলো। মাহি ও নিশি বয়সে তেমন বড় ছোটনা তাই নিশির সাথে কথা বলতে ভালোই লাগে মাহির।

নিশিঃ ভাবী তুমিতো দেখতে খুব সুন্দর, তাইতো বলি ভাইয়া তোমার জন্য এতো পাগল কেনো?

মাহিঃ নিশি, তোমার ভাই আমার জন্য পাগল না। উনার এমনেও মাথায় সমস্যা আছে বলে মনে হয়। তোমরা কখনো ডাক্তার দেখাওনি তাকে মনে হয়, তাই বুজতে পারছো না। মুখ দিয়ে সারাক্ষণ তিতাকথা ছাড়া মিষ্টি কথা বেরই হয় না। তোমার ভাইকি আমার সাথেই এমন করে, নাকি তোমাদের সাথেও করে, সত্যি বলতো।

নিশিঃ ভাবী কি বলছো, ভাইতো কতো ভালো জানো। এখন চুপ থাকো, তা না হলে কপালে খারাপি আছে।

আসলে ওদের দেরি হচ্ছে বলে নাবীল দেখতে আসছে, আর এসেই মাহির সব কথা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে শুনছে। আর রাগে কটকট করছে।

নিশিঃ আরে রাখোতো আর কি খারাপি হবে! পিছনে তাকিয়ে দেখো সব বুঝতে পারবে।

মাহি হাসতে হাসতে পেছনে ফিরে তাকায়, আর সাথে সাথে মুখটা মলিন হয়ে যায়। বাঁচার জন্য নিশিকে বলে, নিশি চলো, সবাই বসে আছে।

নিশি বুঝতে পারে। তাই নিশিও বলে,

নিশিঃ ভাবী চলো সবাই তোমার জন্য অপেক্ষা করছে। আবার আজতো বৌ ভাত তাই তোমাকে রেডিও হতে হবে।

নাবীল নিশি সামনে বলে নিজের রাগটা নিয়ন্ত্রণ করে ফেলে আর কিছুই বলে না মাহিকে। ।

মাহি, নিশি ও নাবীল তিনজনেই একত্রে নেমে এসে নাস্তা করতে বসে। টেবিলে এতো খাবার কিন্তু লজ্জায় মাহি কিছুই নিতে পারছে না, তাই নাবীল নিজেই মাহির প্লেটএ ওর পছন্দের খাবার গুলো নিয়ে দেয়। মাহি কিছুক্ষণ নাবীলের দিকে তাকিয়ে থাকে।

নাবীলঃ আমাকে দেখলে পেট ভরবে না। তাই চুপচাপ খেয়ে নে। আর কি কি যেনো বলছিস, মনে রাখিস সময় হলে সুদে আসলে সব তুলবো। (মাহি নাবীলের কথায় একটু ভয় পেলো)

নাবীলের মাঃ কিরে মা খাস না কেনো? এখানে কেউ পরনা। সবাই তোর আপন। তাই লজ্জা করার কিছুই নেই।

স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা

মাহি মাথা নাড়িয়ে কিছু খেয়ে, রুমে চলে গেলো। কারণ আজ আর ওর কোন কাজ নেই।

অনেকটা সময় নিশির সাথে গল্প করে কেটে গেলো। এরপর মাহিকে সাজাতে আসলো কিছু মেয়ে। কারণ আজ নাবীল ও মাহির বৌ-ভাত, অনেকেই বিয়েতে আসতে পারেনি। তাই তারা আজ এসে নাবীল ও মাহিকে আশির্বাদ করবে।

বৌ-ভাত এর জন্যও বিশাল বড় হল ভাড়া করা হলো, নাবীল আগেই সেখানে চলো গেলো, আর সবার শেষে মাহিকে নিয়ে আসতে বললো। মাহি সারা দিন নাবীলকে আর দেখেনি।
মাহি হল রুমে পৌঁছানোর পর পরই লাইটটা অফ হয়ে গেলো, শুধু মাহির উপর একটা লাইট পরলো। মাহিকে সবাই দেখে কিছুটা অবাক, আজ মাহিকে লাল বেনারসি শাড়ি পড়ানো হলো, লাল কালারটা যে মাহিকে এতোটা মানাবে মাহি নিজেও কল্পনাও করেনি কারণ মাহি কোনদিন লাল কালারের কিছুই পরেনি।

কিন্তু আজ মাহিকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে। মাহিকে সবাই দেখতে পাচ্ছে কিন্তু মাহি কাউকেই দেখতে পাচ্ছে না। মাহিকে নিয়ে স্টেজ এর সামনে বসিয়ে দিলো। আর সাথে সাথে আরো একটা লাইট পুরো স্টেজ এর উপর পড়লো। মাহি তাকিয়ে দেখে একটা ছেলে পিঠ ঘুরে আছে। তার পিঠ মাহির দিকে, তাই দেখতে পাচ্ছে না। আর শফিক ভাইয়ের হাতে গিটার, বুজতে বাকি রইলো না তারা গান গাইবে। আমি শুনেছি তারা কলেজে থাকতে অনেক শো করেছে কিন্তু সামনা সামনি কখনো দেখিনি। কিন্তু আজ..

হঠাৎ মাইক দিয়ে কেউ কিছু বলছে, গান গাওয়া হয়না অনেক দিন ধরে। কিন্তু আজকের দিনটা আমার জীবনের অনেক বড় একটা দিন। তাই না গেয়ে পারলাম না, কথাটা বলেই নাবীল সামনের দিকে ঘুরে মাহির দিকে তাকালো, আমার গানটা তোরই জন্য..
নাবীল গান ধরল…

এটা মাহির পছন্দের একটা গান, যখনি মাহি উদাশিন থাকে তখনি গানটা শুনে। এটা নাবীল অনেক বার খেয়াল করেছিলো। গানটা শুনার পর মাহির মনটা ভালো হয়ে যেতো।

আর আজ নাবীল যেভাবে গানটা গাইছে, গানের প্রতিটা কলি যেনো মাহির জন্যই, তা আরকেউ বুজতে না পারলেও মাহি বুঝে গেছে। মাহির চোখ দিয়ে এক ফোটা পানি মাহির হাতে পরলো।

এই পানিটা ছিলো মাহির প্রতি নাবীলের ভালোবাসার গভীরতার কারণে। কেউ কাউকে এতোটা ভালোবাসতে পারে, তা তো মাহির জানাই ছিলোনা।

মাহি দিন দিন যতোই নাবীলের ভালোবাসার গভীরতা মাপার চেষ্টা করছে তা যেনো আরো গভীর হয়ে পরছে। আর মাহিও নাবীলের পাগলামোগুলো খুব উপভোগ করছে।

আর সেই জলকেউনা দেখলেও নাবীল টিকই দেখতে পেলো, কারণ পুরোটা সময় নাবীল মাহির দিকেই তাকিয়েই গানটা গেলো।

গানটা শেষ হবার সাথে সাথে পুরো হল রুমের লাইট জ্বলে উঠলো। নাবীলকে আরো গান গাইতে বললো, কিন্তু নাবীল স্টেজ থেকে নেমে মাহির হাতটা ধরলো, যে হাতে চোখের জলটা পড়েছিলো। জলটা নিজের একহাত দিয়ে মুছে বললো, তোর চোখের জলটাও আমার, তাই আমার সাথে মিশিয়ে নিলাম।

ভাইয়ের সাথে আবেগঘন মুহুর্ত

মাহি খুব অবাক হয়ে নাবীলের দিকে তাকালো।

নাবীলঃ অবাক হবার কিছুই নেই, তুই সামনে থাকস বা না থাকস কিন্তু আমার চোখ তোর উপরি থাকে।

মাহিকে নিয়ে স্টেজ এ চলে গেলো। একে একে অনেকেই এসে মাহি ও নাবীলকে বিয়ের শুভেচ্ছা জানালো। এরই মধ্যে মাহির বাবা মা ও আত্মীয়রাও এসে পরছে। সবাইকে দেখে খুব খুশি হলো। সবাইকে জরিয়ে ধরে কান্না করে দিলো।

এতোক্ষণ পর শফিক এলো। কি রে এতো কান্না করলে তোর মেকআপ নস্ট হয়ে যাবে, এর পরতো তোকে পেত্নীর মতো লাগবে। মানসম্মান সব শেষ হয়ে যাবে আমাদের।

মাহি কান্নার শব্দ আরো একটু বাড়িয়ে শফিককে দুহাত দিয়ে মারতে লাগলো। একসময় শান্ত হয়ে ভাইকে জরিয়ে ধরলো।

হইছে এবার চুপ হো। সবাই দেখছে। শফিক চোখের পানিটা মুছে দিয়ে।

এবার এলো নাবীল ও শফিকের ফ্রেন্ডস সার্কেল। তাদের অনেকেই বিয়ের দিনে ছিলোনা, তার মধ্যে রনি ছিলো। নাবীল ও শফিকের ফ্রেন্ডেদের মধ্যেকেউ আগে মাহিকে দেখেনি। মাহিকে কখনো এদের সামনে আসতে দিতো না। এমনকি ফ্রেন্ডেদের কোন অনুষ্ঠানে শফিক মাহিকে আনতে চাইলেও নাবীল আনতে দিতো না, এর কারণ সবাই আজ বুজতে পারলো।

রনি তো মাহিকে দেখে পাগল হয়ে গেছে। তাই নাবীলকো বলে উঠলো,

রনিঃ ভাই তোরেতো খুব ভদ্রমনে করেছিলাম, কিন্তু তুইতো দেখি চুপারোস্তম। তলে তলে জল ডুব দিলি বুজতেও পারলাম না।

নাবীলঃ আরে না, তেমন কিছু না। তুই ভুল বুঝছোস, পরে বলবো নি সব সময় করে। (নাবীল একটু বিরক্ত হয়ে)

রনিঃ তো মাহির সাথে পরিচয়তো করে দে আমাদের।

নাবীলঃ ওওও আস। মাহি এরা আমার ফ্রেন্ডস, শুধু আমার না শফিকেরও।

ভিলেন বন্ধুর ষড়যন্ত্র

মাহি সবাইকে সালাম দিলো। কিন্তু….

রনি হাতটা বাড়ালো মাহির সাথে মিলানোর জন্য। আর তখনিই শফিক এসে রনির হাতটা ধরে,

শফিকঃ আরে রনি কি করছিস? ও আমার বোন, তাই তোদেরও ছোট বোন এখন থেকে।

রনিঃ আরে এখন তো ভাবী আমাদের, আর আমরা তার দেবর। তাইতো একটু দুষ্টুমি করাই যায়। নাবীলের বাকি ফ্রেন্ডেরাও বুঝতে পারলো রনির কথা। তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে ওরা রনিকে নিয়ে চলো গেলো অন্য সাইডে।

এদিক দিয়ে নাবীল একটি টেনস হয়ে পরলো, রনির মতিগতি নাবীলের ভালো লাগলো না।

অন্যদিকে, রনি এখনো মাহির দিকে তাকিয়ে আছে।

আর বলছে,

রনিঃ শফিক কাজটা ভালো করেনি, জানোস। এই কলিটাকে এতো দিন সবার থেকে দূরে সরিয়ে রাখছে। তাইতো বলি শফিক কেনো মাহিকে আমাদের সামনে আনতো না। যদি আগে দেখতাম, তাহলে আজ নাবীলের জায়গায় আমি থাকতাম।

ওদের আরেক ফ্রেন্ড সাকিব বলে উঠলো,

সাকিবঃ তুই শালা পাগল হয়ে গেছোস মনে হয়, চুপ থাক। শফিক আর নাবীল জানতে পারলে তোর খবর আছে। শফিক একবার মাপ করলেও নাবীল তোকো মেরে ফেলবে। নাবীল বলতে গেলে মাহির জন্য পাগল। মাহিকে খুব ভালোবাসে। তাই এসব নোংরা চিন্তাবাদ দে।

কিন্তু্ রনির নজর পরে গেছে মাহির উপর। আর ওর চাই মাহিকে এক রাতের জন্য হলেও। (রনি কথাগুলো মনে মনে ভাবছে)

পরের পর্ব- রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প – ভাইয়ের বন্ধু বর পর্ব ১৮

সকল গল্পের ধারাবাহিক সব পর্ব এখানে গিয়ে খুঁজুন – ধারাবাহিক পর্বের গল্প

Related posts

রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প – ভাইয়ের বন্ধু বর শেষ পর্ব | Love Story

valobasargolpo

রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প – ভাইয়ের বন্ধু বর পর্ব ২১ | Love Story

valobasargolpo

Leave a Comment

error: Content is protected !!