ভালোবাসার গল্প

ইশারায় ভালোবাসার প্রকাশ – রোমান্টিক প্রেমের কথা

ইশারায় ভালোবাসার প্রকাশ – রোমান্টিক প্রেমের কথা: প্রকাশ কিছু বললো, না ইশারা কে একবার শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। আর তারপর ইশারা কে নিয়ে ইশারার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলো। সারা রাস্তায় ইশারা চুপ করে নীচের দিকে তাকিয়ে ছিলো একবার ও এদিক ওদিক তাকায়নি।


পর্ব ১

শরীর দেখানোর যদি এতই ইচ্ছে থাকে তাহলে তো নষ্ট গলি তে যেতে পারেন বেকার রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন কেনো?
~ পিছন থেকে এমনই কিছু কথা চিৎকার করে বললো,”প্রকাশ”একটি মেয়েকে। মেয়েটি দাঁড়িয়ে পরতেই তার সামনে গিয়ে বলা শুরু করলো,
প্রকাশঃ এই আপনাদের মতো কিছু নারীদের জন্য না পুরো নারী সমাজ কলঙ্কিত হয়। পুরুষদের লালসা জাগাতে এতই ইচ্ছুক। আপনি তাহলে ওড়না টা পড়েছেন কেনো? না পড়লেই পারতেন। আপনার কাজেই সুবিধা হতো। (জোরে জোরে)

আসলে মেয়েটির ওড়না বুক থেকে অনেকটাই সরে গেছিল তাই প্রকাশ সেটা দেখতে পেয়ে এই কথা গুলো বললো, প্রকাশের কথা শুনে মেয়েটি কিছু বললো, না নিজের ওড়না টা ঠিক করে নিয়ে চারিপাশে তাকিয়ে কাঁদতে কাঁদতে চলে গেলো।
প্রকাশ পাঁচিলে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছিল সেই সময় মেয়েটি প্রকাশের পাশ দিয়ে ডং ডং করে হেঁটে যায়। আর প্রকাশ কথাগুলো বলে।

প্রকাশ হলো একজন বড়লোক ঘরের ছেলে। ওর বাবা একজন ব্যবসায়ী। কিন্তু নিজের বাবা কে বা বাবার বিসনেস কে প্রকাশ পাত্তা দেয় না। শহরের সবাই প্রকাশ কে তার নিজের পরিচয়ে চেনে বেশ নাম করা মাফিয়া প্রকাশ। কিন্তু তা শুধু গরীবদের ভালোর জন্য তাদের সমস্যা মেটানোর জন্য প্রকাশ বসে ছিলো একটা চায়ের দোকানে। বসে বসে গেম খেলছিল তখনই ওর চোখ গেলো। সেইদিনের মেয়েটির ওপর। মেয়েটি আবার ও আগের দিনের মতো হেঁটে যাচ্ছে মাঝ রাস্তা দিয়ে। পিছনে যে একটা গাড়ি দ্রুত বেগে ওর দিকে এগিয়ে আসছে তার খেয়াল নেই।

প্রকাশ সঙ্গে সঙ্গে ছুটল। মেয়েটিকে গাড়ি টা ধাক্কা মারবে তার আগের মুহুর্তে হাত ধরে এক টান মেরে সরিয়ে নিয়ে এলো সাইডে।
প্রকাশঃ আরেহ বাবা মরার এতো শখ থাকলে নিজের বাড়িতে গিয়ে মরুন না। রাস্তায় নেমে মরার কি আছে? লোক দেখিয়ে মরার নাটক করে কি লাভ হবে আপনার? যত্তসব ডিসগাসটিং পিপল। (চিৎকার করে)

প্রকাশ কথা গুলো বলেই পিছন ফিরে গেলো। আর নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করতে লাগলো হঠাৎই পিছন থেকে”আঁ””আঁ”আওয়াজ শুনল আর নিজের পিঠে কাওর হাতের ছোঁয়া পেলো। পিছন ফিরে তাকাতেই ঐ মেয়েটিকে দেখতে পেলো। কিছু বলতে যাবে তার আগেই মেয়েটি হাতে একটা কাগজ ধরিয়ে জোর পায়ে হেঁটে চলে গেলো। কাগজ টা খুলে দেখল…

“ধন্যবাদ আমাকে বাঁচানোর জন্য”
প্রকাশঃ বাহবা! আজ কাল মুখে নয় মেয়েরা লিখে ধন্যবাদ জানাচ্ছে। স্ট্রেঞ্জ!
প্রকাশ মেয়েটির দিকে তাকাতেই দেখতে পেলো মেয়েটির চোখ দিয়ে অঝোরে জল পরছে। কিছু না বলে এদিক ওদিক তাকিয়ে মেয়েটি দৌঁড়ে চলে গেলো।
প্রকাশঃ এভাবে কাগজে ধন্যবাদ জানানোর মানে কি!
~ কারণ মেয়েটি কথা বলতে পারে না!

প্রকাশ পিছন ফিরে তাকালো। আর চায়ের দোকানের কাকা ওর দিকে এগিয়ে এসে বলতে শুরু করলো।
কাকাঃ যে মেয়েটিকে তুমি এতগুলো কথা শোনালে সেই মেয়েটি কথা বলতে পারে না। মেয়েটি “বোবা”। ওর বাবা মা শখ করে ওর নাম রেখেছিল “ইশারা”। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস দেখো আজ সত্যি এই বাপ মা মরা মেয়েটাকে ইশারায় কথা বলতে হয়। ওর বাবা মার অ্যাক্সিডেন্ট ও নিজের চোখে দেখেছে। শেষ মুহুর্তে একটা চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়।

যেহেতু জন্মগত বোবা নয় তাই ও কানে শুনতে পায়। কিন্তু কানে শুনতে পেলে ওর কষ্ট হবে কথা বলতে চাইবে তাই ডাক্তার বলেছেন ওর কানে তুলো গুঁজে রাখতে। সেটাই করা হয়েছে কিন্তু খুব জোরে কথা বললে ও শুনতে পায়। কিংবা জোরে গান চালালে ও শুনতে পায়। ঠিক ঠাক শুনতে না পেলেও তোমার মুখের অঙ্গ ভঙ্গি তে বুঝতে পেরেছে। তুমি ওকে ভালো কথা বলোনি তাই তো কাঁদতে কাঁদতে চলে গেলো। ঠিক হলো না এটা।

~ এই বলে চায়ের দোকানের কাকা ভিতরে চলে গেলেন। আর প্রকাশ ওখানে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। আর বললো,
প্রকাশঃ”ইশারা বোবা!”


পর্ব ২

উমম….উমম….উমম….উমম

প্রকাশঃ চুপ! একদম চুপ! একটা শব্দ করবি না আর! যদি করিস তাহলে আমার চেয়ে খারাপ আর কেউ হবে না।”উমম উমম”করে আমার মাথাটা খারাপ করে দিলো। (চিৎকার করে)

ইশারা চুপ করে গেলো। প্রকাশের ধমক শুনে। প্রকাশ ও কিছুটা নিজেকে শান্ত করে ইশারা বেডে যেখানে বসে আছে সেখানে ইশারার কাছে গিয়ে বললো,

প্রকাশঃ আ’ম সরি ইশারা আসলে আমি ভাবিনি এমন কিছু করে বসবো তোমার সাথে। কিন্তু কি করবো বলো এটা না করলে তো তোমাকে আমি সারাজীবনের মতো হারিয়ে ফেলতাম। যেটা মেনে নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়।

ইশারাঃ আমি আপনাকে ভালবাসি না। [ ইশারায় ]

প্রকাশঃ তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আমার ভালবাসাই এনাফ আমাদের সম্পর্কে।

ইশারা কিছু বুঝতে পারল না এবার তাই প্রকাশের মুখের দিকে চেয়ে রইলো। আর প্রকাশ সেটা দেখে মুচকি হেসে একটা পেপার নিয়ে এলো ইশারার কাছে আর বললো,

প্রকাশঃ সই করো এখানে [ আঙুল দিয়ে সই করার জায়গা দেখিয়ে ]

ইশারা ভালো করে কাগজ টা দেখতেই দেখতেই পেলো রেজিস্ট্রি পেপার। এর মানে প্রকাশ বিয়ে করতে বলছে ওকে। ও ততক্ষণাৎ বেড থেকে উঠে দাঁড়ায় আর ইশারায় বলে।

ইশারাঃ না আমি আপনাকে বিয়ে করবো না [হাত নাড়িয়ে ইশারায়]

প্রকাশঃ বিয়ে তো তোমাকে করতেই হবে ইশারা তাও সেটা আমাকে। কি কমতি আছে আমার মধ্যে যে তুমি আমাকে বিয়ে করতে চাও না? আমাকে এতটাই অপছন্দ তোমার যে তুমি ঐ মাঝবয়সি লোক টা বিয়ে করতে যাচ্ছিলে? লিসেন কেয়ারফুলি ইশারা তুমি যদি আমাকে বাউট না করো তাহলে তোমার পুরো পরিবার কে আমি শেষ করে দেবো [ইশারার কাছে গিয়ে ওর বাহু ধরে]

ইশারা ধপ করে বেডে বসে পরলো। ইশারা কথা বলতে পারে না। ইশারা করেই মানুষ কে কথা বোঝায় কিন্তু অনেকে তো বোঝে না তাই একটা খাতা পেন রাখে সব সময় নিজের কাছে যাতে ওটাতে লিখে বোঝাতে পারে। ইশারা জন্মগত বোবা নয় ইশারার যখন বয়স ১৪ তখন বাবা মায়ের অ্যাক্সিডেন্ট এর খবর শুনে শেষ একটা চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়। আর তারপর ডাক্তার বলে শকের কারণে এমনটা হয়েছে মেনে নিতে পারেনি ব্যাপার টা। ইশারা কথা না বলতে পারলেও কানে সব শুনতে পায়। কিন্তু খুব বেশি জোরে সাউন্ড ওর কানের পক্ষে ক্ষতিকারক ডাক্তার বলেছেন তাই ইশারা কানে তুলো গুঁজে রাখে। আর সবার কথা মোটামুটি শুনতে ও পায়।

আজ প্রকাশের সব কথা ইশারা শুনতে পেয়েছে। ইশারা কি করবে বুঝতে পারছে না এখন যদি ইশারা বিয়ে না করে প্রকাশ কে তাহলে হয়তো প্রকাশ সত্যি ওর পরিবার কে মেরে ফেলবে। পরিবার বলতে শুধু ইশারার মামা মামি আর ওর নিজের ভাই। ইশারার ভাইয়ের বয়স ১২ বছর এখন আর ইশারার বয়স ২০। অনার্স শেষ বর্ষে পরছে ইশরা মামি এমনিতেই পড়তে দিতে চায় না ঘরের সব কাজ কর্ম দিয়ে কলেজ যেতে দেয়না আর সেই কারণেই বিয়ে দিয়ে দিচ্ছিল। আসল কারণ টা অবশ্য তা নয়। এর একটা অন্য কারন আছে।

প্রকাশঃ সাইন করো ইশারা [ইশারার সামনে কাগজ টা রেখে]

ইশারা করুন চোখে প্রকাশের দিকে তাকিয়ে কাঁপা কাঁপা হাতে পেন টা দিয়ে সাইন করে দিলো। প্রকাশ জানত ইশারা কে পরিবারের ভয় দেখালেই ইশারা রাজি হবে। ইশারার মামা-মামি যতই খারাপ হোক ইশারা ওদের খুব ভালোবাসে সেটা প্রকাশ ছাড়া ভালো কেউ জানে না [পরের পর্বগুলি তে বুঝতে পারবেন কারণ টা]

প্রকাশ কাগজ টা নিয়ে নিলো আর পাশের টেবিলে রেখে ইশারার দিকে ঝুঁকতে লাগলো বেডের উপর ভর করে ইশারা নড়াচড়া করছে না এক্ভবেই বসে আছে। কি বা করবে এখন তো প্রকাশের পুরো অধিকার আছে ইশারার উপর। প্রকাশ ইশারার কানের কাছে নিজের ঠোঁট নিয়ে গেলো। আর বললো,

প্রকাশঃ ভীষণ ভালোবাসি তোমাকে ইশারা! আমি জানি তুমি আমায় পছন্দ করো না কিন্তু তুমি আমায় যতটা খারাপ ভাবো আমি ততটা খারাপ ও নই। তুমি কথা বলতে পারোনা এতে আমার কিছু যায়। আসে না ইশারা তো করতে পারো! #ইশারায়ভালোবাসারপ্রকাশ হবে আমাদের সম্পর্কে।

প্রকাশ কথা গুলো বলেই উঠে চলে গেলো। পেপার টা নিয়ে আর দরজাটা লক করে দিতেই ইশারা দরজার সামনে গিয়ে দরজা ধাক্কাতে লাগলো আর প্রকাশ তা পাত্তা না দিয়েই ঘরে চলে গেলো।,

কিছুক্ষণ আগে …

ইশারা বিয়ের সাজে বসে রয়েছে নিজের ঘরে কিন্তু চোখ দিয়ে সমানে জল গড়িয়ে পরছে। যার ফলে কাজল টা লেপ্টে গেছে। বেশী ভারী মেক আপ করেনি ইশারা সামান্য কয়েক টা হাল্কা গয়না পরেছে। তাও সেগুলো সোনা নয় এমিটেশন এর। ইশারা কনের ভেসে বসে রয়েছে। ঠিক সে সময় ওর মামা আর মামি ওর ঘরে প্রবেশ করলো।

মামাঃ কি রে মা তুই এভাবে চোখের জল ফেলছিস কেনো? (ইশারার মাথায় হাত দিয়ে)

ইশারা করুন চোখে মামার দিকে তাকালো। আর মামা বললো,

মামাঃ কষ্ট পাস না মা বিয়ে তো সব মেয়েরই একদিন না একদিন হয়

ইশান (ইশারার ভাই): এই বিয়েতে কেনো খুশি হবে আমার দিদিয়া। একটা বুড়ো লোকের সাথে কেনো বিয়ে দিচ্ছো তোমরা আমার দিদিয়া কে?

মামিঃ হাহ! বিয়ে না করলে তোর চিকিৎসা কে করাবে হ্যাঁ? জানিস কতো খরচা হবে তোর অপারেশন করাতে? ইশারা যদি গিরিশ বাবু কে বিয়ে করে তাহলে গিরিশ বাবু বলেছেন সব খরচ উনিই দেবেন। তাই ইশারা বিয়ে করবে

ইশানঃ দরকার নেই অপারেশনের

ইশারাঃ ভাই তুই কষ্ট পাস না আমি ঠিক আছি [ইশারায়]

ইশানঃ কিন্তু…..

আত্মীয়: কনে কে ডাকছে গো বিয়ের জন্য

মামিঃ হ্যাঁ হ্যাঁ এই তো যাচ্ছে

ইশারা কে নিয়ে গিয়ে বিয়ের আসরে বসিয়ে দিলো। ওর মামি। ইশারার পাশেই বসে রয়েছে ওর বর যার বয়স কিনা প্রায় ৫০ একবার বউ মরে গেছে এমনকি মেয়েও আছে একটা আর ইশারার বয়স এখন সবে ২০। ইশারা চুপচাপ নীচের দিকে তাকিয়ে বসে আছে। ওদের রেজিস্ট্রি হবে কোনো আচার আচরণ হবে না। উকিল এসে পড়েছেন অনেক আগে আর বরের সইও নেওয়া হয়ে গেছে বাকি এখন ইশারার সাইন। ইশারা যেই না পেন হাতে নিয়ে সই করতে যাবে তখনই বিকট এক শব্দ হলো। গুলি চলার শব্দ। সবাই তো ভয় পেয়ে গেছে ইশারা এবং সবাই সামনে তাকাতেই দেখলো।

প্রকাশ হাতে একটা পিস্তল দিয়ে বাতাসে গুলি করে চোখ লাল আর চোয়াল শক্ত করে দাঁড়িয়ে আছে। ইশারার মামা-মামি প্রায় ভয় পেয়ে গেছেন প্রকাশের এমন রুপ দেখে। এলাকার সবাই জানে প্রকাশের রাগ কতটা ভয়ংকর তবুও সাহস করে ইশারার মামা বললো,

মামাঃ এসব কি হচ্ছে? এই বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠানে তুমি গুন্ডাগিরি কেনো করছো?

প্রকাশ কোনো কথা না বলে ইশারার কাছে চলে গেলো। আর প্রকাশ এগোতেই ইশারার মামা-মামি পিছিয়ে গেলো। কারণ প্রকাশের হাতে পিস্তল আছে। প্রকাশ গিয়ে ইশারার হাত ধরে ইশারা কে টেনে তুললো আর লোক তাকে বললো,

প্রকাশঃ আর কোনদিন যদি এই এলাকায় আপনাকে দেখেছি বা আপনার ছায়া আমার চোখে পরেছে তাহলে আপনি বেঁচে বাড়ি ফিরবেন না (দাঁতে দাঁত চেপে)

এই বলেই ইশারা কে সবার সামনে কোলে তুলে নিলো প্রকাশ আর ইশারা তো ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রয়েছে প্রকাশের দিকে। এদিকে ইশারার ভাই ইশান তো খুব আনন্দ করছে প্রকাশ কে দেখে।

প্রকাশ কে কেউ বাঁধা দিতে এলেই প্রকাশের সব লোকেরা সামনে চলে এলো আর কেউ কিছু বলতে পারলো না। প্রকাশ ইশারা কে গাড়িতে বসিয়ে সিধে নিজের ফার্ম হাউসে চলে এলো।

এখ…..

প্রকাশ সিগারেটে টান দিচ্ছে আর বাতাসে ধোঁয়া ছাড়ছে। প্রকাশের চোখের কোণে জল জমেছে।

প্রকাশঃ ইশারা আমি জানি প্রথমে আমি তোমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছি কিন্তু বিশ্বাস করো তোমাকে প্রথম যেদিন দেখেছি সেদিনই একটা ভালো লাগা কাজ করেছে আর পরে তা ভালবাসায় পরিণত হয়েছে। আমি তোমাকে ভীষণ ভালোবাসি ইশারা। আমি যে বড্ড ভালোবাসার কাঙাল।

প্রকাশের চোখ থেকে টপ করে জল পরলো প্রকাশ সেটা মুছে সিগারেট টা ফেলে ইশারার ঘরের দিকে ইশারার জন্য খাবার নিয়ে হাঁটা ধরলো। প্রকাশ রূমের দরজা খুলতেই দেখলো ইশারা মেঝেতে হাঁটু ভাঁজ করে বসে কাঁদছে প্রকাশ কে দেখেই ইশারা মেঝে থেকে উঠে দাঁড়ালো। প্রকাশ রূমের ভিতর এসে খাবার টা রাখলো সেন্টার টেবিলে আর ইশারা কে বললো,

প্রকাশঃ ইশারা খাবার টা খেয়ে নাও!

ইশারা কোনো কথা না বলে প্রকাশ কে ধাক্কা দিয়ে দরজা দিয়ে বেরিয়ে গেলো। প্রকাশ রুমে ঢুকে দরজা টা লক করতে ভুলে গেছিল আর সেই ফাঁকেই ইশারা এমনটা করলো।

প্রকাশঃ ইশারা! (চিৎকার করে) পস্তাতে হবে তোমাকে এর জন্য! তুমি কি ভাবছো এভাবে পালিয়ে বাঁচতে পারবে তুমি আমর থেকে? নাহহহহ! কক্ষনো নাআআ! তুমি শুধু আমার। তোমাকে নিজের তো আমি করেই ছাড়ব!


পর্ব ৩

[গল্পের শুরুতে কিছু কথা বলে রাখছি কারণ গল্পের শেষের অংশ আপনারা পড়েন না। আপনারা অনেকেই বলেছেন যে ২০ বছর বয়সে ইশারা কি করে অনার্স শেষ বর্ষে পরে তাদের কে মনে করিয়ে দি আমি ইন্ডিয়ান। আমাদের ইন্ডিয়া তে ১৭ বছর বয়সে ছেলে-মেয়েরা ক্লাস ১২ এ পরে আশা করি বাকি টা হিসেব করে নেবেন এমনকি আমি ও ১৭ বছর বয়সে ক্লাস ১২ এ পড়ছি আর ২০ বছর বয়সে অনার্স থার্ড ইয়ারে পরব। কিন্তু এর ব্যতিক্রম ও আছে অনেকে ২১/২২ বছর বয়সে থার্ড ইয়ার দেয় কিন্তু ২০ বছর পারফেক্ট বয়স। আমি প্রথম যে পর্ব টা দিয়েছি সেটা সূচনা পর্ব (trailer part) ছিলো। আস্তে আস্তে জানতে পারবেন প্রেম কি করে হলো ]

প্রকাশঃ ইশারা! (চিৎকার করে) পস্তাতে হবে তোমাকে এর জন্য! তুমি কি ভাবছো এভাবে পালিয়ে বাঁচতে পারবে তুমি আমর থেকে? নাহহহহ! কক্ষনো নাআআ! তুমি শুধু আমার। তোমাকে নিজের তো আমি করেই ছাড়ব!

এই বলেই প্রকাশ দ্রুত পায়ে নীচে নেমে গেলো। আর ড্রয়িং রুমে গিয়ে দেখলো কেউ নেই। প্রকাশের চোখ গেলো। সদর দরজায় সেদিকে তাকিয়ে প্রকাশ অবাক হয়ে যায়। কারণ সদর দরজা যেমন ভাবে ভিতর দিয়ে বন্ধ করে রেখেছিল ঠিক তেমনই আছে তাহলে ইশারা কোথায় গেলো?

প্রকাশঃ ইশারা যদি বাইরে না যায়। তাহলে কোথায় গেলো? ঘরে লুকিয়ে আছে নাকি? ইশ…
প্রকাশ যেই ডাকতে যাবে কোথা থেকে ইশারা এসে ওকে পিছন থেকে ডাকলো।
ইশারাঃ আঁ আঁ (প্রকাশের পিঠে হাত দিয়ে ডেকে)

প্রকাশ পিছন ফিরে ইশারা কে দেখেই ইশারা কে জড়িয়ে ধরলো আর বলতে লাগলো।
প্রকাশঃ ইশারা কোথায় গেছিলে তুমি এভাবে? তোমার কিছু দরকার হলে আমায় বলতে এভাবে কেনো এলে তুমি? জানো আমি কতটা ভয় পেয়ে গেছিলাম?
ইশারাঃ আঁ আঁ (প্রকাশ কে নিজের থেকে ছাড়িয়ে ওর হাতে একটা কাগজ দিয়ে পরতে বললো,)
প্রকাশঃ এটা কি ইশারা?(কাগজ টা হাতে নিয়ে)
ইশারাঃ উম উম (আঙুল দিয়ে ইশারা করে পরতে বললো,)

প্রকাশ লেখাটা পরে ইশারার দিকে তাকাতেই দেখলো ইশারা হাত জোর করে ওর দিকে তাকিয়ে রয়েছে আর কাঁদছে। সেটা দেখেই প্রকাশ জোরে চিৎকার করে একটা গার্ড কে ডাকলো।
প্রকাশঃ গার্ড!

প্রকাশের চিৎকারে ইশারা কেঁপে উঠলো আর কানে হাত দিলো। যা দেখে প্রকাশ শান্ত হয়ে ইশারার হাত ধরলো আর গার্ড কে আসতেই তাকে আস্তে করে বললো,
প্রকাশঃ গাড়ি বার করো এক্ষুনি আমি আর তোমার ম্যাডাম বেড়াবো
গার্ডঃ ওকে স্যার

ইশারা প্রকাশের দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে রয়েছে সেই দেখে প্রকাশ ইশারার কাছে এসে ইশারার চোখের জল মুছিয়ে ইশারা কে কোলে তুলে নিলো আর বাইরের দিকে হাঁটা ধরলো।
ইশারা কে গাড়িতে বসিয়ে প্রকাশ নিজে ড্রাইভিং সিটে বসে গাড়ি স্টার্ট করে বেরিয়ে গেলো। উদ্দেশ্য হলো নার্সিংহোম।

নার্সিংহোম…

নার্সিংহোমের সামনে প্রকাশ গাড়ি থামাতেই ইশারা বেরিয়ে গেলো। আর ছুটে নার্সিংহোমের ভিতরে ঢুকে গেলো। আর প্রকাশ গাড়ি টা পার্ক করতে গেলো। ইশারা একবারে ও.টির সামনে চলে গেলো। গিয়ে দেখলো ওর মামা মামি মুখ কালো করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এবার ইশারার ভয় লাগছে কি ভাবে যাবে ও ওর মামা মামির সামনে?
ইশারাঃ গতকাল যা হলো তারপর আমি কি মুখ নিয়ে যাবো মামা-মামির কাছে? এখন যদি না যাই তাহলেও তো হবে না। কি করবো আমি? আচ্ছা টাকা টা নিশ্চয় জোগার হয়নি? এবার কি করে আমার ভাইয়ের অপারেশন হবে? নাহ ভাই কে নিশ্চই ডাক্তার বাবু কেবিনে রেখেছে অন্তত ভাইয়ের সাথে দেখা করতে আমায় যেতে হবে। [ মনে মনে ]

ইশারা মামা-মামির দিকে আসতেই ওর মামা মামি তেড়ে এলো ওর দিকে।
মামিঃ কি রে মুখপুড়ি কোথা থেকে মুখ কালো করে এলি হ্যাঁ? কই ছিলি সারারাত? নিজের মুখ কালো তো করলিই তার সাথে আমাদের মুখে ও চুনকালি মাখালি।
ইশারাঃ আমার ভাইয়ের অপারেশন কি হবে না মামি? ( ইশারায় )
মামাঃ ইসস শখ কতো! তুই কি মনে করিস তুই আমাদের মুখে চুন কালি দিবি আর আমরা তোর ভাইয়ের চিকিৎসা করাবো? মরুক তোর ভাই।

ইশারাঃ আঁআআআ! (চিৎকার করে)
মামিঃ ওরে বাহবা ভুল কাজ করে আবার চোপা করা হচ্ছে?
এই বলেই মামি ইশারা কে চড় মারতে নিলো। কিন্তু মারতে পারলো না কারণ ওর মামির হাত প্রকাশ ধরে ফেলেছে। মামি প্রকাশের দিকে তাকাতেই এক প্রকার ভয় পেয়ে গেলো। কারণ প্রকাশের চোখ লাল হয়ে রয়েছে। আর মামির হাত টা প্রকাশ এতো শক্ত করে ধরেছে যে ওর মামি হাতটা ছাড়াতে চেয়েও ছাড়াতে পারছে না। প্রকাশ চোখ মুখ গরম করে মামির হাত টা ঝাড়া মেরে ছেড়ে দিলো। আর বললো,
প্রকাশঃ ইশারার গায়ে হাত তোলার কোনো অধিকার আপনাদের নেই!
মামাঃ মানে! কি বলতে চাইছো তুমি?

প্রকাশঃ এইটাই যে ইশারার ওপর শুধু আমার অধিকার। আমার সম্পত্তি ইশারা সি ইস মাই লিগ্যাল ওয়াইফ! (জোরে)
মামিঃ তার মানে তোমরা বিয়ে করেছো?
প্রকাশঃ হ্যাঁ কিছুক্ষণ আগেই আমরা বিয়ে করেছি। দরকার পরলে রেজিস্ট্রি পেপার আপনাদের দেখিয়ে দেবো। আর এবার থেকে ইশারার গায়ে হাত তোলার কথা স্বপ্নেও ভাববেন না। আপনাদের জন্য সেটা ভালো হবে না (শার্টের হাতা ফোল্ড করতে করতে)

ইশারার মামা-মামি এবার একটু ভয় পেয়ে গেলো। ওদের ধারণা আছে প্রকাশের ক্ষমতা আর রাগ সম্পর্কে। প্রকাশ কোনো ভুল কাজ কে কোনদিন প্রশ্রয় দেয়না তাই ইশারার মামা-মামি আর কিছু বললো, না এদিকে ইশারা এতক্ষণ অবাক হয়ে প্রকাশের কথা গুলো শুনছিল।
প্রকাশঃ এবার বলুন ইশান কোথায়?

মামাঃ ঐ তো ও.টি.র পাশের কেবিনে আছে।
ইশারা কথাটা শুনেই দৌঁড়ে ঐ কেবিনে চলে গেলো। আর পিছন পিছন প্রকাশ ও গেলো। ইশারা কেবিনে ঢুকতেই দেখলো ইশান শুয়ে রয়েছে আর ওর মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগানো। ইশারা গিয়ে ইশানের মাথায় হাত রাখতেই ইশান চোখ খুলে ইশারার দিকে তাকিয়েই উঠে বসলো মাস্ক খুলে।
প্রকাশঃ আরে আরে কি করছো মাস্ক খুলছো কেনো?
ইশারাঃ মাস্ক কেনো খুলছিস ভাই? [ইশারায়]

ইশানঃ ওহ হো আমি ঠিক আছি এখন আমি তোমাদের সাথে কথা বলবো এখন সেই কখন থেকে ওয়েট করছি তোমাদের। আর তোমরা কি না কতো দেরী করলে। আড়ি তোমাদের সাথে (মুখ ফিরিয়ে নিলো)
প্রকাশঃ আড়ি তো আমি করবো তোমার সাথে।
ইশানঃ কেনো কেনো?

প্রকাশঃ কেনো নয়? তোমার দিদিয়ার বিয়ের খবর টা জানাতে পারলে আর তোমার অপারেশনের কথাটা জানাতে পারলে না?
ইশানঃ সরি ভাইয়া!
ইশারাঃ মানে? (ইশারায়)
ইশানঃ আরে মামা-মামি যখন তোর বিয়ে বুড়ো দাদু টার সাথে ঠিক করলো দুপুর বেলায় তখনি আমি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাই আর প্রকাশ ভাইয়া কে খুঁজতে থাকি কিন্তু পাই না তাই বিকেল বেলা আবার বেরিয়েছিলাম তখন প্রকাশ ভাইয়া কে চায়ের দোকানে পাই আর সব বলি তখন ভাইয়া আমায় বাড়ি ফিরতে বলে আর আমি বাড়ি ফিরে আসি আর তোর ঘরে যাই। তারপরেই তো প্রকাশ ভাইয়ার একটা হিরোর মতন এন্ট্রি হয় হিহিহিহি
ইশানের হাসি দেখে প্রকাশ ও ফিক করে হেসে দিলো। আর ইশারা ও।
ইশানঃ কিন্তু তোমাদেরকে কে খবর দিলো। যে আমি এখানে?

প্রকাশঃ তোমার দিদি আমাকে কাগজে লিখে জানায় যে আগামিকাল তোমার অপারেশন আর এই অপারেশনের সব টাকা ঐ লোক টা দেবে যাকে তোমার দিদি বিয়ে করছিল। বিয়ের শর্তই এমন ছিলো যে ইশারা বিয়ে করলে তোমার অপারেশন হবে কিন্তু বিয়েটা যখন হয়নি তাহলে অপারেশনের কি হবে? তোমার মামা-মামি তো আর অপারেশন করাবে না। এটা পরেই আমি তোমার দিদি কে নিয়ে আগে তোমাদের বাড়িতে যাই সেখানে দারোয়ান জানালো যে তুমি হঠাৎ করেই অজ্ঞান হয়ে গেছো। বাড়িতে লোকজন থাকায় তারা তোমায় এই নার্সিংহোমে ভর্তি করে। আর সেই ঠিকানা নিয়ে আমরাও চলে আসি। দারোয়ান দাদা বলছিল তোমার অপারেশন নাকি আজ্কেও হতে পারে তাই তো ও.টির সামনে এসেছিলাম আমরা।
ইশানঃ ওও! কিন্তু আমার তো আর অপারেশন হবে না দিদিয়া তো বিয়ে করেনি।

প্রকাশঃ বিয়ে করেনি তো কি হয়েছে? আমি তো আছি। আমি করাবো তোমার অপারেশন বুঝলে?
ইশানঃ তাই? জানো ভাইয়া মামা মামি দিদিয়া কে ভীষণ কষ্ট দেয়! আমার দিদিয়া কে পড়াশোনা করতে দেবে না বলে কলেজের সময় বাড়ির কাজ করায় আর বিকেলে পরতে বসলে এটা ওটা কাজ দেয় রান্না করায় ভুল করলে গরম খুঁটি দিয়ে ছ্যাকা দিয়ে দেয়। আর এই যে গয়না গুলো পরে আছে এগুলো সব নকল গয়না। আমার মায়ের সোনার গয়না গুলো কেড়ে নিয়েছে দিদিয়ার থেকে। তুমি দিদিয়া কে কোনো কষ্ট দিয়ো না প্লিজ (কাঁদতে কাঁদতে)

প্রকাশ ইশান কে বুকে জড়িয়ে নিলো আর ছলছল চোখে ইশারার দিকে তাকালো। দেখলো ইশারা ঠোঁট কামড়ে ধরে নিজের কান্না আটকানোর চেষ্টা করছে। প্রকাশ বাম হাত দিয়ে হেঁচকা টান মেরে ইশারা কেও বুকে টেনে নিলো আর জড়িয়ে ধরে মাথায় চুমু দিয়ে বললো,

প্রকাশঃ আজ থেকে তোমার দিদিয়ার কোনো কষ্ট হবে না। আর না তোমার হবে।
প্রকাশ বাইরে বেরিয়ে এসে ডাক্তারের সাথে কথা বলে নিলো অপারেশনের ব্যাপারে। আর ইশারা গিয়ে বসার জায়গায় বসে পরলো। আর ইশারার পাশে গিয়ে ওর মামি বসলো আর ইশারা কে কিছু কথা বললো, এটা প্রকাশের চোখে পরতেই প্রকাশ ইশারার কাছে এগিয়ে গেলো। ইশারার মামি প্রকাশ কে এগিয়ে আসতে দেখেই উঠে গেলো।


পর্ব ৪

প্রকাশ বাইরে বেরিয়ে এসে ডাক্তারের সাথে কথা বলে নিলো অপারেশনের ব্যাপারে আর ইশারা গিয়ে বসার জায়গায় বসে পরলো। আর ইশারার পাশে গিয়ে ওর মামি বসলো আর ইশারা কে কিছু কথা বললো, এটা প্রকাশের চোখে পরতেই প্রকাশ ইশারার কাছে এগিয়ে গেলো। ইশারার মামি প্রকাশ কে এগিয়ে আসতে দেখেই উঠে গেলো।

প্রকাশ কিছু বলতে যাবে তার আগেই ইশারার মামি হনহন করে হেঁটে বেরিয়ে গেলেন আর প্রকাশ ইশারার পাশে বসে পরলো। ইশারার তাতে কোনো হেলদোল নেই ও এক মনে নীচের দিকে তাকিয়ে আছে। প্রকাশ ইশারা কে ওভাবে দেখে ওর হাতের উপর হাত রেখে বললো,
প্রকাশঃ গতরাত থেকে তুমি না চেঞ্জ করেছো আর না কিছু খেয়েছো? চলো কিছু খেয়ে নেবে।
ইশারাঃ নাহ আমি খাবো না [ইশারায়]
প্রকাশঃ কেনো খাবে না?

ইশারা ওর ভাইয়ের কেবিনের দিকে তাকাতেই প্রকাশ বুঝতে পারলো।
প্রকাশঃ আগামীকাল অপারেশন হবে আর আজকে ওকে এডমিট থাকতে হবে আমি কথা বলে নিয়েছি ডক্টরের সাথে। এখন চলো ইশান ঘুমাচ্ছে।
ইশারা কে নিয়ে উঠে গেলো। প্রকাশ আর ইশারা ও চলে গেলো। প্রকাশের সাথে। প্রকাশ বাড়িতে এসে ইশারা কে রুমে পাঠিয়ে দিলো। আর নিজে গার্ডদের সাথে কিছু কথা বলতে লাগলো। এদিকে ইশারা তো রুমে গিয়ে ঠায় বসে আছে আর ভাবছে।

ইশারাঃ আমি কি করে ড্রেস চেঞ্জ করবো আমার তো এখানে কোনো জামাকাপড় নেই। ওনাকে কি একবার বলবো নাকি? না থাক।
প্রকাশ ঘরে এসে দেখলো ইশারা ড্রেস চেঞ্জ করেনি বসে বসে কিছু একটা ভাবছে। প্রকাশ ইশারার সামনে দাঁড়াতেই ইশারা ঘাবড়ে গিয়ে উঠে দাঁড়ালো।
প্রকাশঃ ড্রেস চেঞ্জ করতে বলেছিলাম? (শান্ত ভাবে)
ইশারা কাচুমাচু করছে।
প্রকাশঃ আমি কিছু বলেছি?

ইশারাঃ (হ্যাঁ বোধক মাথা নাড়ল)
প্রকাশঃ করোনি কেনো?
ইশারা আবার চুপ করে রয়েছে প্রকাশ কিছু একটা ভেবে আলমারির কাছে গেলো। আর আলমারি থেকে একটা প্যাকেট নিয়ে এসে ইশারার হাতে দিলো। আর বললো,
প্রকাশঃ ওখানে তোমার যা যা জিনিস লাগবে সব আছে। আমি আমার মেইড কে দিয়ে অনেক আগেই আনিয়ে রেখেছি। আর যদি তোমার কোনো হেল্প লাগে তাহলে আমাদের মেইড সীমা কে ডেকে নিয়ো
ইশারা প্রকাশের হাত থেকে প্যাকেট টা নিয়ে ওয়াশ রুমে চলে গেলো। চুপচাপ। প্রকাশের কিছু একটা খটকা লাগলেও কিছু বললো, না চলে গেলো। ফ্রেশ হতে।

ইশারা প্রায় এক ঘন্টা যাবত শাওয়ার নিচ্ছে আর এদিকে প্রকাশ ইশারার জন্য অপেক্ষা করছে। যেই না প্রকাশ ডাকতে যাবে ইশারা কে তখনই ইশারা বেরিয়ে এলো হাতে একটা টাওয়াল নিয়ে চুল মুছতে মুছতে। প্রকাশ থেকে ইশারা কে দেখে পুরো হা হয়ে রয়েছে। এখন ইশারার মুখে সামান্য মেক আপ টাও নেই। ইশারা কে দেখে প্রকাশের সেদিনের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে যেদিন প্রথম ইশারা কে দেখেছিল প্রকাশ। এখন আরো বেশি স্নিগ্ধ লাগছে ইশারা কে। এদিকে ইশারা বেরিয়েই প্রকাশ কে দেখতে পায়। প্রকাশ সোফায় বসে রয়েছে
সামনের টেবিলে খাবার সাজিয়ে। প্রকাশের এমন চাহুনী দেখে ইশারা কিছুটা লজ্জা পায়। আর প্রকাশ এক

ভাবেই চেয়ে রয়েছে। প্রকাশ উঠে গিয়ে ইশারার হাত ধরে সোফায় বসালো আর প্লেটে রাখা খাবার হাতে নিয়ে ইশারার মুখের সামনে ধরলো। ইশারা প্রকাশের মুখের দিকে তাকাতেই প্রকাশ চোখ দিয়ে ইশারা করলো জানো প্রকাশের হাতের থেকে গ্রাস টা মুখে নেয়। ইশারা ও চুপচাপ বাধ্য মেয়ের মতই খাবার টা খেয়ে নেয়।
প্রকাশ যখন আবার ইশারা কে খাওয়াতে যায়। তখন দেখে ইশারা আবারও আগের মতন মাথা নীচু করে চোখের জল ফেলছে। প্রকাশ সঙ্গে সঙ্গে ইশারা কে জিজ্ঞেস করে হাতের প্লেট টা রেখে
প্রকাশঃ কি হয়েছে ইশারা? খাবার টা ভালো লাগেনি? ঝাল লাগছে তোমার? কাঁদছ কেন তুমি?
ইশারাঃ (নিশ্চুপ)

প্রকাশঃ ওহ! আমি খাইয়ে দিচ্ছি বলে ভালো লাগছেনা? আচ্ছা আমি তোমায় জোর করে খাওয়াবো না। তুমি খেয়ে নাও তাহলে। আমি তোমাকে জোর করতে চাই না বিয়েটা হয়তো জোর করেই করেছি কিন্তু ভালোবাসার জন্য কখনো জোর করবো না।
এই বলে প্রকাশ উঠে যেতে নিলেই ইশারা প্রকাশের হাত টেনে ধরে। প্রকাশ ইশারার দিকে তাকাতেই ইশারা বিছানায় থাকা খাতা পেনের দিকে ইশারা করে। প্রকাশ সেটা এনে দিয়ে ইশারার সামনে বসে আর ইশারা প্রকাশ কে কাগজে লিখে দেয়।

ইশারাঃ আমি কখনো এতো ভালো খাবার খায়নি আর না কেউ আমায় কোনদিন খাইয়ে দিয়েছে। মামি রবিবার বাদে রোজ সকালে আর রাতে দুটো রুটি দিতো আর বাসি তরকারি দিতো। দুপুরে ডাল-ভাত ছাড়া কিছুই দিতো না শুধু রবিবার মাছ দিতো। আবার অনেক সময় কলেজে গেলে ঘরের কাজ বাকি থাকলে খেতে দিতো না। প্রথমবার এতো ভালো খাবার খেলাম হয়তো তার জন্য ধন্যবাদ। আপনি আমায় খাইয়ে দিলে আমি কিছু মনে করবো না। দেবেন আমাকে খাইয়ে?

প্রকাশের চোখে জল টলমল করছে ইশারার কথা শুনে। প্রকাশ ভাবছে মানুষ এতটা নিষ্ঠুর কি করে হতে পারে। প্রকাশ সঙ্গে সঙ্গে ইশারা কে আবার খাইয়ে দিতে লাগলো। এরই মাঝে ইশারা আবার কিছু একটা লিখে প্রকাশের সামনে ধরলো।

ইশারাঃ আচ্ছা আপনি আমায় আর আমার ভাই কে এতো সাহায্য কেনো করছেন? আমি তো আপনার কেউ হই হই তাই না?
প্রকাশঃ তুমি কবে বুঝবে বলো তো আমি তোমাকে ভালোবাসি? এখনো বিশ্বাস হয় না আমায়?
ইশারাঃ আমি কথা বলতে পারি না। অতি সামান্য একটা মেয়ে নিজের বাড়িতেই কাজ করে খাই আর কাজ না করলে খাই না। দেখতেও তো আহামরি সুন্দর নই সেই তুলনায় আপনি কতো সুন্দর কতো বড়লোক। আপনি আমায় কেনো ভালোবাসতে যাবেন বলুন তো শুধু শুধু? আপনি যেটা ভালবাসা ভাবছেন সেটা হয়তো কিছুদিনের মোহ মাত্র। কয়েক দিন যেতে না যেতেই আমি আপনার বিরক্তির কারণ হয়ে উঠব। আমার এই অক্ষমতা আপনার বিরক্তির কারণ হয়ে উঠবে যেটা স্বাভাবিক!

প্রকাশ ইশারার এই লেখাটা দেখে মারাত্মক রেগে গেলো। খাতা টা পাশে রেখে ইশারা কে বাম হাত দিয়ে টেনে নিজের কাছে নিয়ে এলো আর ইশারা ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে দিলো। আকস্মিক এমন ঘটনায় ইশারা পুরো জমে গেছে। আজ পর্যন্ত ইশারা কোনো ছেলের ধারে কাছেও ঘেষেনি বরাবরই একটু লাজুক ইশারা। আর আজ প্রকাশ ওকে এভাবে কাছে টেনে কিস করছে। ইশারা ছাড়ানোর চেষ্টা করতে লাগলেই প্রকাশ ইশারার ঘাড় পিছন দিক দিয়ে আরো শক্ত করে ধরে। ইশারা পেরে ওঠে না প্রকাশের সাথে এদিকে প্রকাশ রাগের কারণে এমনটা করে ফেললো। কিন্তু কিছুতেই প্রকাশের রাগ যাচ্ছে না কি করে পারলো ইশারা এভাবে ওর ভালোবাসা কে অপমান করতে?

কিছুক্ষণ পর প্রকাশ ইশারা কে ছাড়তেই দেখতে পেলো ইশারার চোখে জল। প্রকাশ ইশারা কে নিজের কাছে রেখেই বললো,
প্রকাশঃ তুমি ভাবতেও পারবে না আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি। না জেনে তুমি কি ভাবে আমার ভালোবাসা কে এতটা অপমান করলে? ভালো না বাসো আমার কোনো অসুবিধা নেই কিন্তু আমার ভালোবাসা কে অপমান করো না। আর কোনদিন যদি নিজেকে অক্ষম বলেছো তো আমার থেকে খারাপ আর কেউ হবে না। তুমি যেমন আমি তোমাকে সেভাবেই ভালবেসেছি ভালোবাসি আর আজীবন ভালবাসব। তুমি আমার জীবনে থাকলেই আমি বড়লোক হতে পারবো তুমি ছাড়া আমার কোনো অস্তিত্ব নেই।

বলেই ইশারা কে ছেড়ে উঠে গেলো। প্রকাশ আর হাত ধুয়ে ব্যালকনি তে চলে গেলো। এদিকে ইশারা বসে বসে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে কিন্তু অদ্ভুত ভাবে ইশারার কাছে প্রকাশের এই ছোঁয়া কোনো মোহ মনে হচ্ছে না খারাপ লাগছে না বরং ভালো লাগছে। ইশারা মনে মনে ভাবছে তাহলে কি সত্যি প্রকাশ ওকে ভালোবাসে? এসব ভাবতে ভাবতেই ইশারা কাশতে লাগলো। ব্যালকনির দিকে তাকিয়ে দেখলো ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে। ইশারা সেদিকে এগিয়ে গেলো। আর দেখলো ইতিমধ্যে প্রকাশ দু-তিনটে সিগারেট শেষ করে ফেলেছে আর হাতে একটা রয়েছে সেটাও শেষের পথে। ইশারা বুঝতে পারলো প্রকাশ রেগে রয়েছে আর ইশারার কথায় হয়তো কষ্ট ও পেয়েছে তাই এমন করছে। ইশারা গিয়ে প্রকাশের হাত থেকে সিগারেট টা টান দিয়ে ফেলে দিলো। আর প্রকাশ ইশারার দিকে তাকাতেই ইশারা কিছুটা ভয় পেয়ে গেলো। কারণ প্রকাশের চোখ টা ভয়ংকর লাল হতে গেছে।

প্রকাশ নিজের রাগ কন্ট্রোল করে নিজের হাত মুষ্টিবদ্ধ করে ইশারা কে বললো,
প্রকাশঃ তুমি গিয়ে শুয়ে পরো। আমাকে একা থাকতে দাও।
ইশারাঃ আপনি খাবেন না?[ইশারায়]
প্রকাশঃ নাহ খিদে মিটে গেছে আমার। তুমি যাও আমার চিন্তা তোমায় করতে হবে না।
ইশারা প্রকাশের কাঁধে হাত রাখতেই প্রকাশ ইশারার দিকে তাকালো। আর ইশারা আবার ও ইশারা করে বললো,
ইশারাঃ খেয়ে নিন না প্লিজ!

প্রকাশঃ বললাম তো খাবো না আমি যাও তুমি!(কিছুটা ধমক দিয়ে)
ইশারা কিছুটা ফুঁপিয়ে উঠলো আর ওখানেই দাঁড়িয়ে রইলো। প্রকাশ আর কিছু না বলে চুপ করেই দাঁড়িয়ে রইলো। ইশারা চোখ মুছে চলে যেতে নিলেই হুট করে ইশারার হাত প্রকাশ পিছন থেকে হেঁচকা টান মেরে নিজের দিকে ফিরিয়ে ইশারা কে জড়িয়ে ধরলো। আর ইশারার কাঁধে মুখ গুঁজে রইলো। ইশারা নিজের কাঁধ টা ভেজা অনুভব করলো তাই আলতো করে প্রকাশের পিঠে হাত দিতেই প্রকাশ কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বললো,
প্রকাশঃ আমি তোমাকে ভালোবাসি ইশারা ভীষণ ভালোবাসি! আমাকে ভালোবাসার কেউ নেই জানো?

আমার সব থেকেও আমি নিঃস্ব কিচ্ছু নেই আমার। কেউ নেই আমার কেউ ভালোবাসে না আমায়।
ইশারা শুধু শুনছে প্রকাশের কথা। প্রকাশের কথা শুনে বোঝা যাচ্ছে প্রকাশের ভিতরে একটা চাপা কষ্ট আছে যেটা কোনো সময় কাওর চোখে পরে না। ইশারা আস্তে করে প্রকাশ কে সোজা করে দাঁড় করিয়ে প্রকাশের চোখের জল মুছিয়ে প্রকাশের হাত ধরে ঘরে নিয়ে গেলো। আর সোফায় বসিয়ে নিজের হাতে খাওয়াতে শুরু করলো। প্রকাশ ও বাঁধা দেয়নি কারন আজ প্রকাশ ও অনেক দিন পর কাওর হাতে খাচ্ছে। নিজের ভালোবাসার হাতে খাচ্ছে।

খাওয়ার পর ইশারা বিছানায় বসতেই প্রকাশ গিয়ে ইশারার কোলে শুয়ে পরলো আর বললো,
প্রকাশঃ আমার আজ তোমাকে অনেক কিছু বলার আছে ইশারা! আজকে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দেবে একটু! আমি একটু শান্তি চাই (করুন কণ্ঠে)
ইশারা প্রকাশের চুলে বিলি কাটতে শুরু করলো আর প্রকাশ মুচকি হাসলো আর বলতে শুরু করলো……

পর্ব ৫

ইশারা প্রকাশের চুলে বিলি কাটতে শুরু করলো আর প্রকাশ মুচকি হাসলো আর বলতে শুরু করলো…
প্রকাশঃ জানো আমি আমার মা কে ভীষণ ভালোবাসি। ছোট বেলায় আমি সব সময় মায়ের আগে পিছে ঘুর ঘুর করতাম। মা কে ঠিক করে কাজ ও করতে দিতাম না সব সময় মা কে বিরক্ত করা ছিলো আমার কাজ। কিন্তু হঠাৎ সব পালটে গেলো। আমার মা আমায় ছেড়ে চলে গেলো। তাও সারাজীবনের মতো না ফেরার দেশে। খুব রাগ হয়েছিল বাবার ওপর সেদিন কেনো আমার মা কে ফিরিয়ে দিলো। না আমায়?

কি দোষ ছিলো আমার মায়ের? কথা বলতাম না বাবার সাথে ভাবতাম বাবা ইচ্ছে করে মাকে দুরে সরিয়ে দিয়েছে আমার থেকে কারণ আমি বাবা কে আদর করতাম না কাছে যেতাম না তাই। পরে যখন বড়ো হলাম তখন বুঝলাম যে আমার মায়ের ক্যান্সার ছিলো লাস্ট স্টেজ বাঁচানো সম্ভব ছিলো না। তখন আর কিছু বলতাম না বাবা কে। আমার বয়স যখন ৬ তখন মা চলে যায়। আর যখন জানতে পারলাম মা কেনো চলে গেছে তখন আমার বয়স ১২। মা কে হারিয়ে ছিলাম তাই বাবা কে আকড়ে ধরে বাঁচতে চাইতাম কিন্তু সেটাও আমার ভাগ্যে ছিলো না। বাবার কোনো সময় ছিলো না আমার জন্য আমি যে তার ছেলে তা হয়তো উনি ভুলেই গেছিলেন

সেই নিয়ে কোনদিন অভিযোগ ও করিনি বাবা বাবার মতো থাকতেন ব্যবসা নিয়ে আর আমি থাকতাম আমার মতো পড়াশোনা নিয়ে। বাড়ির কাজের লোকরাই আমায় মানুষ করেছে ধরতে গেলে কারণ আমার যে কেউ নিজের ছিলই না। পিসির বিয়ে হয়ে গেছিল আর কাকা আলাদা হয়ে গেছিলো বাবার সাথে ঝগড়া করে তাই আর ও একা হয়ে যাই আমি। জানো তোমার মতো আমাকে ও আমার বাড়িতে অবহেলা করা হতো। এই ভাবেই অবহেলা পেয়ে বড়ো হতে থাকি যখন কলেজে উঠলাম তখন জানো মাথায় সবসময় রাগ চড়ে থাকতো খুব অ্যারোগ্যাংট ছিলাম বুঝলাম অনেক গরীব মানুষ বড়লোকদের হাতে নিপীড়িত হচ্ছে তাই হয়ে গেলাম মাফিয়া। এটা করে অন্তত একটু ভালোবাসা পেয়েছিলাম সব বয়স্ক মানুষেরা যখন আমাকে নিজের ছেলে বলতো তখন আর নিজেকে একা মনে হতো না। এভাবেই দিন টা কাটত কিন্তু রাত!

রাতে জানো সব কষ্ট আমার মনে আবার ও উঁকি দিতো মনে করিয়ে দিতো আমার কেউ নেই! তাই আলাদা হয়ে গেলাম আমি। নিজের বাড়ি কিনে নিলাম এটা আমার ২ নম্বর বাড়ি আর আরেকটা ফ্ল্যাট আছে যেটা আমি প্রথম কিনেছিলাম। এরপর আমার বাবার আমাকে দরকার পড়ে তার বিসনেস এর জন্য আমি না করলে আমার সাথে আবার বিরোধিতা শুরু হয় আর আমি তো আমিই তাই সেইদিনের পর থেকে বাবার সাথে কোনো কথা নেই আমার।

প্রকাশ থেমে গেলো। এতটুকু বলে ইশারা প্রকাশের চুলে বিলি কাটতে কাটতে মন দিয়ে কথা গুলো শুনছিলো বিছানায় হেলান দিয়ে হঠাৎ করে থেমে যাওয়ায় উঠে বসলো। দেখলো প্রকাশ নিজের চোখের জল টা মুছে নিলো আর আবার বলতে শুরু করলো।
প্রকাশঃ আমার জীবন তো এভাবেই চলছিল তারপর তুমি এলে আমার জীবনে। যেইদিন তোমায় বাজে কথা বলেছিলাম রাস্তায় [সূচনা পর্ব] সেইদিন তোমায় প্রথম দেখেছিলাম আমি। কিন্তু তোমার দিকে কিছু বখাটে ছেলে বাজে নজরে তাকিয়ে ছিলো তাই আমার সহ্য হয়নি আর এতটা রিয়াক্ট করেছিলাম। আর তার পরে দ্বিতীয় বার দেখেছিলাম মেইন রোডে। আমি না দেখলে সেদিন একটা অ্যাক্সিডেন্ট হয়ে যেতো তোমার। সেদিন ও তোমাকে অনেক বকে ছিলাম আর তারপরেই চায়ের দোকানের কাকা আমাকে তোমার কথা বলে। ব্যাস তারপর আর কি আমি বাড়ি ফিরে যাই কিন্তু আমার রাতের ঘুম উড়ে যায়। চোখ বুজলেই শুধু তোমার মুখ টা চোখে ভাসছিল।,

ইন পাস্ট
ইশারা বোবা! কথাটা শোনার পর প্রকাশ ইশারার যাওয়ার পথে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে আর তারপর চলে যায়। কোনো কথা না বলে। বাড়ি ফিরে শাওয়ার নিয়ে নেয় আর চুপ করে শুয়ে পরে। সময়টা ছিলো বিকেল ৪টে আর প্রকাশ খালি এপাশ ওপাশ করছে শুয়ে শুয়ে শেষমেশ উঠে বসলো আর বিরক্তির স্বরে বলে উঠলো।

প্রকাশঃ উফফফফ কেনো বার বার ঐ মেয়েটার মুখ চোখের সামনে ভাসছে। কেনো? কি এমন আছে ঐ মেয়েটার মধ্যে যা নিমিষে আমার শান্তি কেড়ে নিলো। ধ্যাত চোখ বুজলেই শুধু ওর ঐ কান্না ভরা মুখটা ভেসে উঠছে আই থিঙ্ক না জেনে ওর সাথে মিসবিহেভ করেছি বলে এমন হচ্ছে।
এই বলে প্রকাশ গ্লাসে রাখা জল খেয়ে নিলো ঢকঢক করে আর একটা লম্বা নিশ্বাস নিলো আর সিগারেট হাতে নিয়ে ব্যালকনি তে চলে গেলো।
পরেরদিন ……..

প্রকাশ কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ইশারার কলেজের সামনে। সব মেয়েরা হা করে প্রকাশ কে দেখছে সেদিকে প্রকাশের কোনো খেয়াল নেই ও নিজের মনে ফোন ঘাটছে আর মাঝে মাঝে মাথা তুলে কলেজ গেটের সামনে তাকাচ্ছে।
প্রকাশ আজকে একটা টাইট ফিটিং কালো জিন্স তার সাথে ধুসর রঙের শার্ট পরেছে। শার্টের একটা প্রান্ত গুঁজে রেখেছে আর একটা প্রান্ত ছাড়া। আর হাত গুলো কুনুই অবধি গোটানো। চোখে অ্যাভিগেটর সানগ্লাস চুল গুলো ব্রাশ করে রেখেছে। চুলগুলো লম্বা আর সিল্কি হওয়ায় কয়েক টা চুল কপালে পরে রয়েছে। ডান হাতে ব্ল্যাক ব্রান্ডেড ওয়াচ আর বাম হাতে কালো মোটা ব্যান্ড আর পায়ে ওয়াইট লোফার। এটাই প্রকাশের স্টাইল ও সবসময় এভাবেই ড্রেস আপ করে।

প্রকাশ প্রায় অনেক্ষন ধরে ওয়েট করছে ইশারার জন্য বাট ইশারার কোনো দেখা নেই। বাধ্য হয়ে প্রকাশ একটা মেয়েকে ডাকলো আর জিজ্ঞেস করলো।
প্রকাশঃ এক্সকিউজ মি!
মেয়েটিঃ ইয়েস (অবাক হয়ে)
প্রকাশঃ আ’ম প্রকাশ। প্রকাশ বোস
মেয়েটিঃ ইয়াহ আপনাকে কে না চেনে। আ’ম রূপসা দাস।
প্রকাশঃ অ্যাকচুয়লী আই নীড আ ফেভার। তুমি কি বলতে পারবে ইশারা আজ কলেজে এসেছে কি না?
রূপসা: ইশারা?

প্রকাশঃ ইয়াহ! ইউ নো হার?
রূপসা: আমার খুব ভালো ফ্রেন্ড হয় ও।
প্রকাশঃ দেট’স গ্রেট। ও কি আজ কলেজ আসেনি?
রূপসা: ও তো মাসে পাঁচ-ছয় দিন কলেজ আসে। আজ আসেনি আগের দিন এসেছিল বলে।
প্রকাশঃ কেনো?

রূপসা: ওর মামি ওকে কলেজ আসতে দেয়না আমার থেকেই সব নোটস নেয়। আপনি কি জানেন ও কথা বলতে পারে না।?
প্রকাশঃ হ্যাঁ! আসলে আমি আগে জানতাম না আগেরদিন ইশারা রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল আর একটা গাড়ি ওর দিকে এগিয়ে আসছিল যেকোনো মুহুর্তে অ্যাক্সিডেন্ট হতে পারতো বাট আমি বাঁচিয়েনি ওকে তারপর একটু মিসবিহেভ করে ফেলি তাই চায়ের দোকানের কাকা আমায় বলে ইশারা কথা বলতে পারে না। বাট ও তো কানে শুনতে পায়। তাহলে কেনো ওভাবে হেঁটে যাচ্ছিল?

রূপসা: ও সবসময় অন্যমনুস্ক হয়ে থাকে। তাই হয়তো বুঝতে পারেনি। ইশারার মামি ওকে কাজ করার জন্য চাপ দিচ্ছে তাই কাজ খোজার বাহানায় কলেজ আসে আর মেইন ক্লাস গুলো করে কাজ খুজতে বেরিয়ে যায়। কথা বলতে পারে না। দেখে বেচারি কোনো কাজ ও পাচ্ছে না। ওর একটা ভাই আছে খুব মিশুকে কিন্তু বেচারার হার্টে একটা ফুটো ধরা পরেছে তাই ইশারা কে ডক্টর বলেছে অপারেশন করাতে হবে যার জন্য টাকার প্রয়োজন এইজন্য ওর মামি ওকে কাজ খুজতে বলেছে ওরা নাকি এক পয়সা দেবে না। ইশারা কোনো কাজ পাচ্ছে না
দেখে বাধ্য হয়ে বলেছে লোকের বাড়ি কাজ করবে এখন হয়তো সেটাই করছে। ওর মামি ওর সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করে একদিন তো মাঝ রাতে বাড়ি থেকে বাড় করে দিয়েছিল শীতের মধ্যে। অভাবেই বসে ছিল দরজার সামনে পরেরদিন জ্বর আসলেও ওর মামি সারা ঘরের কাজ করিয়েছে। ঐ শরীর খারাপ নিয়ে রান্না করেছে রান্নায় ভুল হওয়ায় গরম জলে হাত পুড়িয়ে দিয়েছে খেতে পর্যন্ত দেয়নি মেয়েটাকে। এইসব খবর আমি ওর ভাইয়ের কাছ থেকে পাই অনেক বার বলেছি ইশা তুই চলে আয় আমার বাড়ি আমি আর তুই একসাথে থাকবো এভাবে আর কয়দিন কোনদিন না তোর মামি তোকে মেরে….
প্রকাশঃ নাহ! ইশারার কিছু হবে না। তুমি আমাকে ওর বাড়ির এড্রেস দিতে পারবে?

রূপসা: হমম কিন্তু…
প্রকাশঃ প্লিজ এড্রেস টা দাও
রূপসার থেকে এড্রেস নিয়ে প্রকাশ ওখানে থেকে বেরিয়ে সিধে ইশারার বাড়ি চলে যায়। আর বাড়ির দরজার সামনে যেতেই চিল্লামিল্লির আওয়াজ শোনে আর ভিতরে যেতেই ওর পায়ের সামনে ইশারা হুমড়ি খেয়ে পরে। প্রকাশ একবার ইশারার দিকে তাকায় আর একবার পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা এক মহিলার দিকে যার হাতে খুন্তি। প্রকাশ বুঝতে পারছে এটা ইশারার মামি আর মামির পিছনেই দাঁড়িয়ে কাঁদছে একটা বাচ্চা ছেলে। এটা যে ইশারার ভাই তা রূপসার কথা মনে করতেই প্রকাশ বুঝতে পারলো

পর্ব ৬

প্রকাশ ইশারা কে মেঝে থেকে তুলে দাঁড় করাতেই ইশারা প্রকাশের দিকে তাকালো। ইশারা একটু ভয় পেয়ে গেলো। প্রকাশ কে দেখে আর প্রকাশ আবারও ইশারার সেই মায়াবি মুখের দিকে তাকিয়ে আছে এর মাঝেই পিছন থেকে ইশারার মামি বলে উঠলো।
মামিঃ আরেহ বাবা প্রকাশ! তুমি এখানে?

প্রকাশ ইশারা কে ভিতরে নিয়ে এনে সাইডে দাঁড় করাতেই ইশারার ভাই ইশান ছুটে এলো ইশারার কাছে। আর প্রকাশ ইশানের চুলগুলো এলোমেলো করে দিয়ে বললো,
প্রকাশঃ আপনি আমায় চেনেন?

মামিঃ তোমাকে না চিনলে চলে? এই এলাকার কতো গরীব মানুষের হয়ে লড়েছো তুমি কতো গুন্ডা বদমাইশদের শাস্তি দিয়েছো। মেয়েদের কে সেভ করেছো। বসো বসো
প্রকাশঃ তাহ আপনার হাতে খুন্তি কেনো? এটা রান্নাঘর বলে তো মনে হচ্ছে না আমার (সোফায় বসতে বসতে)
মামিঃ না না এটা কেনো রান্নাঘর হতে যাবে ঐ এই মেয়েটাকে শিক্ষা দিতে এসেছিলাম
প্রকাশঃ খুন্তি দিয়েও শিক্ষা দেওয়া যায়? ওয়াও!

মামিঃ আর বলনা বাবা! এই যে এই মেয়েটা আমাদের বাড়িতেই থাকে আমাদের বাড়িতেই খায় আবার আমাদের নামেই নিন্দা করে। এমন বেইমান আমার মেয়েটা ওকে কতো ভালোবাসে কতো কথা শোনে ওর আর ও! আমার মেয়েটাকে সবসময় অপমান করে। কাজের লোক হিসেবে নয় নিজের মেয়ের মতো মনে করি আর ও এই ব্যবহার করে তাই আজকে অর রাগ টাকে ধরে রাখতে পারিনি (শাড়ির আঁচলে মুখ গুঁজে ন্যাকা কান্না করে)
প্রকাশঃ ও কাজের লোকের মেয়ে?

ইশানঃ মিথ্যে কথা বলছেন উনি এটা আমাদের বাড়ি আর ওরা আমার দিদিয়া কে ক…
মামিঃ চুপ! বড্ড বড়ো বড়ো কথা হয়েছে। আদর দিয়ে বাঁদর তৈরী করেছি। ওর কথা কিছু মনে করো না বাবা!
প্রকাশঃ সবই বুঝলাম কিন্তু যে কথা বলতে পারে না। সে নিন্দে কি করে করবে?

ইশারা অবাক হয়ে তাকালো। প্রকাশের দিকে। ইশারা ভাবছে
ইশারাঃ উনি জানেন আমি কথা বলতে পারিনা তারপরেও ওমন ব্যবহার করেছেন আমার সাথে কিছুদিন আগে? করবে নাই বা কেনো ওনার মতো বড়লোক মানুষ আমার মতো মেয়ের সাথে কি বা ভালো ব্যবহার করবে?

মামিঃ হ্যাঁ মানে না!
_মা আমি একটু বের হচ্ছি বুঝ… (প্রকাশ কে দেখে পুরো শক)
মামিঃ আরে ঐ তো নেহা। আমার মেয়ে ভালই হলো দেখা হয়ে গেলো।
নেহা: হেই! প্রকাশ
প্রকাশঃ নেহা তুই এখানে?

নেহা: আরে আমার বাড়িতে আমি থাকবো না?
প্রকাশঃ ওহ এটা তোর বাড়ি? বাট আমি তো জানি এটা ঐ মেয়েটা (ইশারার দিকে উদ্দেশ্য করে) আই মিন ইশারার বাড়ি। আ’ম আই রং?
মামিঃ হ..হ্যাঁ মানে এটা ওর বাবার বাড়ি কিন্তু ওর বাবা মা মরে যাওয়ার পর আমরাই থাকি।
প্রকাশঃ কিছুক্ষণ আগেই তো বললেন এটা আপনাদের বাড়ি। কথাটা কেমন দু-রকম হয়ে গেলো। না? (বাঁকা হেসে)

মামিঃ আব…
নেহা: আরে তুই বাদ দে তো এসব এতদিন পর দেখা হলো আমাদের চল একটু আড্ডা দি। তুই তো জানিস আমি ছিলাম না এখানে আমেরিকা ছিলাম।
ইশানঃ হ্যাঁ সেটাও আমাদের টাকায়।
ইশারাঃ ইশান চুপ কর তুই! [ইশারায়]

প্রকাশঃ হাহ! সত্যি কখনো চেপে থাকে না। বায় দ্য ওয়ে অন্যদিন কথা হবে এই আড্ডা টা আমি অতো পছন্দ করি না সেটা তো তুই জানিসই সো আজ একটু কাজ আছে আমার। বায়!
প্রকাশ সানগ্লাস টা পড়ে নিলো আর বাঁকা হেসে ইশারার দিকে এগিয়ে গেলো। প্রকাশ কে এগোতে দেখে ইশারা চোখ নামিয়ে নিলো আর প্রকাশ ওর সামনে দাঁড়িয়ে সবাই কে অবাক করে দিয়ে বলল
প্রকাশঃ চলো আমার সাথে!

ইশানঃ আমার দিদিয়া কে কোথায় নিয়ে যাবে তুমি?
প্রকাশ হাঁটু গেড়ে বসলো ইশানের সামনে আর ইশানের হাত দুটো ধরে বললো,
প্রকাশঃ কলেজে! তুমি তো কলেজে পরো না নাহলে তোমায় ও নিয়ে যেতাম
ইশানঃ হিহিহি কলেজে পরি না তো কি হয়েছে স্কুলে তো পরি
প্রকাশঃ আরেহ তাই তো! তাহলে স্কুলে যাওনি কেনো?

ইশানঃ মামি যেতে দেয়নি। স্কুলে গেলে টিফিন দিতে হয় বলে যেতে দেয় না বই ও কিনে দেয় না ঠিক করে। আমার খুব খিদে পেয়েছে তাই খাবার চেয়েছিলাম (ইশানের কথার মাঝে ইশারা কিছু বলতে গেলে প্রকাশ রেগে তাকায় আর ইশারা চুপ করে যায়। এইদেখে নেহা আর মামি ও কিছু বলার সাহস পায়। না) দিদিয়া আমাকে খাওয়ার দেওয়ার কথা বলতেই মামি রেগে গিয়ে গরম খুন্তির ছ্যাকা দিয়ে দেয় আর দিদিয়া কে মেরে বাড় করে দিচ্ছিল কাজ করার জন্য। টাকা না দিলে খেতে দেবে না বলেছে (ইশান কাঁদতে কাঁদতে বললো,)
প্রকাশ ইশানের চোখের জল মুছিয়ে নেহার মায়ের উদ্দেশ্যে বললো,

প্রকাশঃ শাস্তি পেতে হবে একদিন না একদিন আপনাদের। তৈরী থাকবেন
প্রকাশ বাম হাতে ইশানের হাত ধরলো আর ডান হাতে ইশারার হাত ধরে বেরিয়ে গেলো। ও বাড়ি থেকে। কিছুদূর এসে নিজের বাইকে বসলো প্রকাশ আর ইশান কে ধরে নিজের সামনে বসালো বাইকের। ইশারার দিকে তাকাতেই দেখলো ইশারা জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ওর দিকে।
প্রকাশঃ তাকিয়ে থেকে লাভ নেই তারাতাড়ি বসো দেরী হয়ে যাচ্ছে আমার
ইশারাঃ আমি যাবো না আপনার সাথে। কেনো যাবো আমি? কে আপনি আমি তো আপনাকে চিনি ও না? [ইশারায়]

ইশান ইশারার কথাটা বলে দিলো। প্রকাশ কে আর প্রকাশ বললো,
প্রকাশঃ আমাকে চিনে যাবে এখন চলো ইশানের সাথে সাথে আমার ও খুব খিদে পেয়েছে। সকাল থেকে তোমার কলেজের সামনে তোমার অপেক্ষায় না খেয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম আর তোমার দেখা পাওয়া যাচ্ছিল না সো চলো।

ইশানঃ হিহি দিদিয়া চল না। আমি কোনদিন বাইক চড়িনি আর তুই ও তো চড়িসনি চল না।
প্রকাশঃ তোমার দিদি এতদিন যেমন বাইক চড়েনি তেমন এখন আমার বাইক ছাড়া অন্য কাওর বাইকে চড়বে না
ইশারা আর ইশান দুজনেই প্রকাশের কথার মনে না বুঝে ওর দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো আর প্রকাশ বললো,

প্রকাশঃ এবার তো বসুন ম্যাডাম
ইশারা আর কিছু না বলে বসে পরলো বাইকে কিন্তু প্রকাশ কে ধরলো না সেই দেখে প্রকাশ বললো,
প্রকাশঃ আমি টিকটকের ভিডিও করছি না এখানে যে তুমি ধরে বসবে না আমি কিছুদূর গিয়ে একটা ব্রেক মারব আর তুমি আমাকে ধরে বসবে। ব্রেক মারলে ছিটকে রাস্তায় পরবে যা চেহারা তাতে এর চেয়ে বেশি আর কিছু হবে না সো চুপচাপ ধরে বসো।

ইশারাঃ খরুস একটা আমি কি বলেছি নাকি টিকটক ভিডিও হচ্ছে এখানে যত্তসব। (মনে মনে)
প্রকাশকে ধরে বসলো ইশারা আর প্রকাশ এক গালে হেসে বাইক নিয়ে একটা রেস্টুরেন্টের চলে গেলো। সেখানে গিয়ে চাউমিন অর্ডার করে দিলো। সেই শুনে তো ইশান নাচানাচি করছে আর প্রকাশ ইশানের হাসি দেখছে আর মজা করছে ওর সাথে। ইতিমধ্যে প্রকাশ আর ইশানের ভালো বন্ধুত্ব হয়ে গেছে কিন্তু ইশারা প্রকাশের সাথে কথা বলছে না। প্রকাশ ইশান কে বসিয়ে রেখে ইশারার কাছে এলো ইশারা বাইরে দাঁড়িয়ে

ছিলো তাই। ইশারার কাছে এসে ইশারার হাত ধরতেই ইশারা হাত সরিয়ে নিলো আর মুখ টা কাঁদো কাঁদো করে ফেললো এই দেখে প্রকাশ প্রথমে অবাক হলেও পরে দেখলো ইশারার হাত টা পুড়ে গেছে। প্রকাশ বললো,
প্রকাশঃ সরি! আমি জানতাম না তুমি কথা বলতে পারো না আগের দিন তুমি যখন চলে গেলে তখন চায়ের দোকানের কাকা আমায় তোমার কথা বলে। আই আম সরি আমার ওভাবে বিহেভ করা উচিত হয়নি তোমার সাথে

ইশারাঃ লোক টা তো সরি বলতেই এসেছে আর আমি কি না কি ভাবলাম (মনে মনে)
প্রকাশঃ তা আমায় কি ক্ষমা করা যাবে?
ইশারা হ্যাঁ বোধক মাথা নাড়লো আর প্রকাশ বললো,
প্রকাশঃ চলো কিছু খেয়ে নেবে তারপর তোমাকে কলেজে ছেড়ে দিয়ে আসবো
ইশারা কে রেস্টুরেন্টে বসিয়ে দিয়ে প্রকাশ ওদের বলে কোথাও একটা বেরিয়ে গেলো। আর বলে গেলো। আসছে। ইশারা চামচ দিয়ে খাচ্ছিল তাই অসুবিধা হয়নি কিন্তু জায়গা টা ভীষণ জ্বলছে। তবুও কিছু বলছে না ইশারা হঠাৎ করে কোথা থেকে প্রকাশ এসে ইশারার পাশে বসে পরলো আর ওর হাত টা নিজের কাছে নিয়ে এলো আর ওষুধ লাগাতে শুরু করলো আর তারপর ব্যান্ডেজ করে দিলো। ইশারা একটু অবাক হয়ে গেলো। ব্যাপার টায় সবাই প্রায় ওদের দিকে তাকিয়ে আছে কিন্তু প্রকাশের সেদিকে কোনো খেয়াল নেই ও নিজের কাজ করে চলেছে।

প্রকাশ ইশারার হাত ছেড়ে নিজের ভাগের খাবার টা খেতে শুরু করলো এমন ভাবে খাচ্ছে জানো কোনো যায়। আসে না ফুল অ্যাটিটিউড নিয়ে। খাবার খেতে খেতেই প্রকাশ বললো,
প্রকাশঃ প্রথম বার এই প্রকাশ বোসের সাথে কোনো মেয়েকে দেখছে লোকজন তাই এভাবে তাকিয়ে রয়েছে। তাই লজ্জা না পেয়ে খাও আর এভাবে আমার দিকে তাকিয়ে থাকার কিছু হয়নি আই নো আই আম লূকিং সো হ্যান্ডসাম

ইশারা এবার ভীষণ লজ্জা পেলো প্রকাশের কথায় আর চুপচাপ মাথা নীচু করে খেতে শুরু করলো আর মনে মনে প্রকাশের গুষ্টি উদ্ধার করতে লাগলো।
খাওয়া শেষে প্রকাশ ইশান আর ইশারা কে নিয়ে ইশারার কলেজের উদ্দেশ্য বেরিয়ে পরলো। কলেজ পৌঁছাতেই সবাই ইশারা আর প্রকাশের দিকে হা করে তাকিয়ে রইছে সেই দেখে ইশারা লজ্জা পাচ্ছে কিন্তু প্রকাশ মজা পাচ্ছে আর ওদের দেখে রূপসা এগিয়ে এলো
রূপসা: ইশারা! এখন আসার সময় হল?

প্রকাশঃ আসতো না আমি না নিয়ে এলে বায় দ্য ওয়ে তুমি আজ একটু ম্যানেজ করে দিয়ো ওর বইগুলো নেক্সট ডে থেকে ও বই নিয়েই আসবে। আর থ্যাংক ইউ
রূপসা: থ্যাংক ইউ তো আমার আপনাকে দেওয়া উচিত।
প্রকাশঃ ইটস ওকে শা…আই মিন রূপসা
রূপসা আর ইশারা চলে যেতেই ইশান প্রকাশ কে বললো,
ইশানঃ ভাইয়া দিদিয়ার বই খাতা নেই
প্রকাশঃ কিইইইই!

ইশানঃ হম লুকিয়ে কলেজে গেছিল বলে সব খাতা বই পুড়িয়ে দিয়েছে
প্রকাশঃ চলো আইসক্রিম খাবে?
ইশানঃ হ্যাঁ
প্রকাশ যে রেগে গেছে সেটা ইশান কে বুঝতে দিলো। না চুপচাপ ওখান থেকে চলে গেলো। এদিকে ইশারা ক্লাস করে নিলো কিন্তু ভীষণ ভয় করছে ওর বাড়ি কি ভাবে ফিরবে আর ফিরলে মামি কি অবস্থা করবে ওর?

পর্ব ৭

প্রকাশ গাড়ির বোনাটের উপর শুয়ে আছে আর উপর দিকে সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়ছেচোখ বন্ধ করে। কিছু একটা মনে করতেই প্রকাশ মুচকি হাসলো চোখ বন্ধ করে আর হুট করে উঠে বসলো। প্রকাশ এক পা ভাঁজ করে হাঁটুর ওপর নিজের হাত ভর করে সিগারেটে টান দিলো। আর ধোঁয়া টা ছেড়ে বাঁকা হেসে বললো,
প্রকাশঃ ইউ আর ইন লাভ প্রকাশ। ইয়েস ইউ আর ফল ইন লাভ। মাই গড আমি তো নিজেই বিশ্বাস করতে পারছি না আমার মনে একজন বাসা বেঁধেছে শুধু আমার মন না। আমার মস্তিষ্ক জুড়ে সে বিচরণ করছে।

,আমি আমার উত্তর পেয়ে গেছি কেনো আমি চোখ বুজলেই তোমাকে দেখতে পাচ্ছি কেনো সারাক্ষণ শুধু তোমার কথা ভাবছি কারণ আমি তোমায় ভালোবেসে ফেলেছি ইশারা। আজ পর্যন্ত আমি কোনো মেয়ের দিকে ঘুরেই তাকায়নি সেখানে তোমাকে একবার দেখাতেই আমার ভালো লেগে গেছে। যেখানে সব ছেলেরা মেয়েদের মিষ্টি কথার প্রেমে পড়ে সেখানে আমি তোমার ইশারায় প্রেমে পড়েছি। আমার যে তোমাকে চাই ইশারা সেটা যেকোনো মূল্যে কারণ তুমি হবে আমার বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য তোমাকে আকড়ে ধরেই এই প্রকাশ বাঁচবে।

প্রকাশ লাফ দিয়ে গাড়ি থেকে নামল আর গাড়ি তে গিয়ে বসে পরলো। গাড়ি স্টার্ট দিয়ে বেরিয়ে পরলো ইশারার কলেজের উদ্দেশ্যে। এতক্ষণ প্রকাশ একটা নির্জন জায়গায় গাড়ির বোনাটের উপর শুয়ে ছিলো আর নিজের প্রশ্নের উত্তর খুঁজছিল যা প্রকাশ পেয়ে গেছে।

ইশারা রাস্তার সাইড দিয়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছে মনে একরাশ আতঙ্ক নিয়ে না জানি মামি আর নেহা কি বলবে কি শাস্তি দেবে। ইশারার হাতে কোনো বই খাতা বা ব্যাগ নেই কারণ প্রকাশের সাথে বেরযে আসার সময় কিছুই নিতে পারেনি আর এখন তো এমনিতেও ওর কোনো বই নেই। বিকেল হয়ে এসেছে আর রাস্তায় কেউ নেই আসলে রাস্তা টা একটু ফাঁকা ফাঁকা। খুব কম লোকজন চলা ফেরা করে এখান দিয়ে বেশিরভাগ সময় বখাটে ছেলেরা বসে আড্ডা দেয় রাস্তার ধারে বসে। ইশারা আনমনে হাঁটতে হাঁটতে এই রাস্তা দিয়ে চলে এসেছে আর এখন ওর খেয়াল হয়েছে এটা কোন রাস্তা

ইশারাঃ এটা তো ঐ রাস্তাটা যেখানে পাড়ার বখাটে ছেলেরা বসে আড্ডা দেয়। এইখান দিয়ে আসাটা আমার ঠিক হলো না অনেকটা তো চলে এসেছি এখন আবার ব্যাক করতে গেলে দেরী হয়ে যাবে। থাক এখান দিয়েই চলে যাই (মনে মনে)
ইশারা এক-দু কদম এগোতেই দেখলো ছেলেগুলো বসে আড্ডা দিচ্ছে মদ খাচ্ছে তাস খেলছে। ইশারা একটু ভয় পেয়ে গেলো। আর চুপচাপ পিছন ফিরে গেলো।
ইশারাঃ নাহ এখান দিয়ে যাওয়া টা ঠিক হবে না। আমি একা যদি এরা কিছু করে বসে আমি বরং ফিরে যাই (মনে মনে)

এই বলে ইশারা যেই না পিছন দিকে কিছুটা এগিয়ে গেলো। তখনই একটা ছেলে ডাকলো
১ম জন: কি বেইবি আমাদের দেখে উল্টো পথে চলে যাচ্ছো কেনো?
২য় জন: আমাদের কাছে এসো ভয় পেয়ো না (মাতাল কণ্ঠে)
ইশারা এগিয়ে যেতে নিলেই একটা ছেলে এসে দৌঁড়ে ইশারার হাত ধরে আর ইশারা কে আটকে দেয়। অন্য ছেলে গুলো ইশারা কে গোল করে ঘিরে ফেলে।

১ম জন: কি হলো বেইবি কথা বলছো না কেনো? এভাবে কাঁদলে কেউ তোমায় বাঁচাতে পারবে না হা হা হা
ইশারা শুধু হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করছে।
২য় জন: আমার মনে হয় কথা বলতে পারে না। তাই তো ব্যর্থ চেষ্টা করছে হাত ছাড়ানোর
১ম জন: কি বেইবি তুমি কথা বলতে পারোনা?
ইশারা না বোধক মাথা নাড়লো আর ছেলেটা ওর হাত ছাড়তেই ও ওদের কাছে হাত জোড় করে ইশারায় ওকে ছেড়ে দিতে বললো,

১ম জন: ওহ হো তাহলে তো ভীষণ ভালো চিৎকার ও করতে পারবে না
৩য় জন: মজাই মজা হবে আজকে হা হা হা
১ম: প্রথমে আমি মজা লুটি তারপর নাহয় তোরা দুজন নিস
এই বলে যেই না ইশারার ওড়নায় টান মারতে যাবে তখনই ইশারার পিছন থেকে কেউ একজন ছেলেটা কে সজোরে লাথি মারলো আর ছেলেটা ছিটকে পরলো।
২য় জন: এই কে রে তুই? (মাতাল অবস্থায় চোখ ছোট করে দেখার চেষ্টা করছে)
প্রকাশঃ তোদের যম!

ছেলেটি আর কেউ নয় প্রকাশ। ইশারা কে কলেজ থেকে আনতে যাবে বলে কলেজে গিয়ে দেখে ইশারা নেই তাই ইশারা যেই রাস্তা দিয়ে ফেরে সেই রাস্তা দিয়ে যেতে লাগে আর সেই সময় চায়ের দোকানের কাকা কে জিজ্ঞেস করে এদিক দিয়ে ইশারা গেছে নাকি। কাকা না বলায় প্রকাশ এই রাস্তা টা দিয়ে আসে কারণ এই দুটো রাস্তা দিয়েই ইশারার বাড়ি যাওয়া যায়।

৩য় জন: প..প্র..প্রকাশ ভাই (ছেলেটা আর কিছু না বলে উল্টো দিকে দৌঁড় দিলো।)
১ম জন: এই ও আমাদের জিনিস ছেড়ে দে ওকে। তুই কে বে?
প্রকাশঃ ঐ যে বললাম তোদের যম। তোদের মধ্যে একজন আমাকে চিনতে পেরে উল্টো পথে দৌঁড় মেরেছে কিন্তু তোরা সেটা পারবি না।

বলেই দুটো ছেলে কে মারতে শুরু করল প্রকাশ। ইশারা এতক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিলো কারন ওরা শুধু কথা বলছিল এখন প্রকাশ কে মারতে দেখে ইশারা ভয় পেয়ে গেলো। আর প্রকাশের কাছে গিয়ে প্রকাশ কে সরিয়ে আনার চেষ্টা করে কিন্তু প্রকাশ থামার নামই করছে না। ইশারা কে হাত ঝাড়া মেরে সরিয়ে দিয়ে চিৎকার করে বললো,

প্রকাশঃ জানিস তোরা কার দিকে বাজে নজর দিয়েছিস? জানিস? আমার জান হয় ও। তোর ঐ চোখ আমি তুলে ফেলবো আর এই হাত দিয়ে ওকে ছুঁয়েছিস তাই না(ছেলেটার হাত তুলে) এই হাত আর থাকবে না তোর (মুচড়ে দিলো।)
ছেলেটি: আআআআআআ (চিৎকার করে উঠলো)

ছেলেটির আর্তনাদ শুনে ইশারা ভীষণ ভয় পেয়ে গেলো। আর কানে হাত দিয়ে দিলো। ইশারা ভালো ভাবে তাকিয়ে দেখলো ছেলে দুটো নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছে আর ওদের নাক মুখ পুরো ফেটে গেছে আর রক্ত বের হচ্ছে। ইশারা ঘৃণা ভরা দৃষ্টি নিয়ে প্রকাশের দিকে তাকালো। আর দেখলো প্রকাশের চোখ দুটো ভয়ংকর লাল হয়ে রয়েছে ভীষণ হিংস্র লাগছে প্রকাশ কে। ইশারা দু-কদম পিছিয়ে গেলো। আর আস্তে আস্তে পিছোতে পিছোতে দৌঁড়ে চলে গেলো। বাড়ির দিকে। প্রকাশ ইশারার যাওয়ার পথে তাকিয়ে থেকে ছেলেগুলোর দিকে তাকালো। আর একটা লাথি মেরে ওখান থেকে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেলো।

পর্ব ৮

শারা প্রকাশের থেকে হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করলেই প্রকাশ এক টান মেরে ইশারা কে নিজের সাথে মিশিয়ে নেয় আর কোলে তুলে নেয়। পুরো কলেজ অবাক হয়ে ওদের দিকে তাকিয়ে রয়েছে কারণ টা হলো প্রকাশ। যে প্রকাশ কোনো মেয়ের দিকে ঘুরে তাকায় না সেই প্রকাশ সবার সামনে একটা বোবা মেয়ে কে কোলে তুলেছে। ইশারা অবাক হয়ে রয়েছে ছোটাছুটির চেষ্টা করলে প্রকাশ আরো শক্ত করে ইশারা কে ধরে আর তীক্ষ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে। তাতে ইশারা শান্ত হয়ে যায়। আর চুপ করে এদিক ওদিক তাকাতে থাকে আর প্রকাশ ইশারা কে কোলে করে নিয়ে বেরিয়ে কলেজ থেকে।

প্রকাশ ইশারা কে কোলে করে নিয়ে এসে গাড়িতে বসায় আর জোর করে সিট বেল্ট লাগিয়ে দেয় আর নিজে ড্রাইভিং সিটে বসে ওখান থেকে বেরিয়ে যায়। প্রকাশ ফুল স্প্রীডে গাড়ি ড্রাইভ করছে যা দেখে ইশারার ভীষণ ভয় হচ্ছে প্রকাশ কে আবার ও গতরাতের মতো ভয়ানক লাগছে। ইশারা ভাবছে প্রকাশ না ঐ ছেলেটার মতো ওকে ও মেরে ফেলে [কি আজব 😑] এসব আবোল তাবোল ভাবতেই প্রকাশ জোরে গাড়ি ব্রেক করলো আর ইশারা সামান্য ঝুঁকে পরলো সামনের দিকে।

প্রকাশ গাড়ি থেকে নেমে ইশারার দিকে গিয়ে ওর সিট বেল্ট খুলে টেনে ওকে গাড়ি থেকে নামালো আর গাড়ির দরজা টা বিকট শব্দ করে বন্ধ করে দিলো। সেখানে ইশারা আরেক দফা কেঁপে উঠলো। প্রকাশ ইশারার থেকে পিছন ফিরে বাম হাত কোমরে দিয়ে আর ডান হাতের দু-আঙুল কপালে স্লাইড করতে লাগলো এদিকে ইশারা দেখলো একটা নির্জন স্থানে ওরা রয়েছে এতে ইশারার ভয় সপ্তম আকাশে পৌঁছে গেলো। ইশারা এক পা দু-পা করে পিছোতে লাগলো। ঘুরে হাঁটতে লাগলেই প্রকাশ পিছন থেকে ইশারার হাত ধরে হেঁচকা টান মেরে নিজের কাছে এনে ইশারার ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে দিলো।

ইশারার দু-হাত নিজের বাম হাতে চেপে ধরে রেখেছে প্রকাশ আর ডান হাত দিয়ে ইশারার মাথা ধরে রেখেছে যাতে ইশারা মুভ না করতে পারে। প্রকাশ ডিপলি কিস করছে ইশারা কে আস্তে আস্তে ইশারার ঠোঁট শুষে নিতে থাকলো প্রকাশ প্রায় অনেকক্ষণ ওভাবে থাকার পর ইশারা কে ছেড়ে দেয় প্রকাশ। আর দেখে ইশারা চোখ বুজে রয়েছে আর চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ছে সেই দেখে প্রকাশ ইশার দু-গালে হাত দিয়ে কপালে কপাল ঠেঁকিয়ে বলতে লাগলো।

প্রকাশঃ কাল রাতে যদি আমি না যেতাম তাহলে কি হতো একবার ও ভাবতে পারছো? যদি ঠিক সময়ে না গিয়ে ঐ ছেলে গুলো কে না মারতাম তাহলে আজ তোমার কতো বড়ো ক্ষতি হয়ে যেতো তুমি জানো না? জানার পরেও কেনো ওভাবে ওখান থেকে চলে গেলে? শুধু হিংস্র রুপটাই দেখ্লে আমার। তোমার প্রতি ভালোবাসা টা দেখলে না?
ভালোবাসার কথা বলতেই ইশারা চোখ খুললো আর ধাক্কা দিয়ে প্রকাশ কে দুরে সরিয়ে দিলো। প্রকাশ কিছুটা পিছিয়ে গেলো। এমন হঠাৎ ধাক্কা দেওয়ায় প্রকাশ ইশারার দিকে মাথা তুলে তাকাতেই ইশারা বললো,
ইশারাঃ এসব আপনি কি বলছেন? আপনি আমাকে ভালোবাসেন? একটা বোবা মেয়ে কে ভালবাসেন? [ইশারায়]

প্রকাশঃ হ্যাঁ ইশারা আমি তোমাকে ভালোবাসি। ভীষণ ভালোবাসি বাঁচতে চাই তোমাকে আকড়ে ধরে। নিজের শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত তোমাকে আমার পাশে চাই। সাথে চাই আই রিয়েলি রিয়েলি লাভ ইউ ইশারা।
ইশারা প্রকাশের এমন কথা শুনে স্তব্ধ হয়ে গেছে কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না। ইশারা কে এভাবে চুপ করে যেতে দেখে প্রকাশ ইশারার কাছে গিয়ে বললো,
প্রকাশঃ ইশারা তুমি চাইলেই আমরা আমাদের জীবন টা নতুন ভাবে শুরু করতে পারি। সাজিয়ে নিতে পারি। শুধু তুমি চা…

ইশারাঃ আমি বাড়ি যাবো [ইশারায়]
প্রকাশ কিছু বললো, না ইশারা কে একবার শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। আর তারপর ইশারা কে নিয়ে ইশারার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলো। সারা রাস্তায় ইশারা চুপ করে নীচের দিকে তাকিয়ে ছিলো একবার ও এদিক ওদিক তাকায়নি। বাড়ির সামনে আসতেই চুপচাপ নেমে গেলো। আর হেঁটে এগিয়ে গেলো। বাড়ির দিকে একবার ও পিছন ফিরে তাকালো। না। তাকালে হয়তো প্রকাশের কৌতূহলী আর অসহায় চাহুনী দেখতে পেতো। প্রকাশ ভেবেছিল ইশারা ওর দিকে তাকাবে কিন্তু নাহ ইশারা প্রকাশ কে ভুল প্রমান করে এগিয়ে গেলো। আর ঢুকে গেলো। বাড়িতে।

বাড়িতে ঢুকতেই ইশারা দেখলো ওর মামি আর নেহা সোফায় বসে টিভি দেখছে ইশারা কে দেখতে পেয়েই ইশারার মামি আর নেহা ইশারা কে জিজ্ঞেস করলো
মামিঃ কি রে মহারানি কলেজ করা হলো? তা কি হবে এতো পড়াশোনা করে শেষে তো চাকরানি হয়েই থাকতে হবে

নেহা: বাহ বেশ ভালো বললে তো মা। কিন্তু চাকরানি যখন হবে তাহলে তুমি ওকে মহারানি বলো কেনো? চাকরানি তো বলতে পারো। এমনিতেই তো ঝি গিরি করে আমাদের।
মামিঃ আহা আমাদের চাকরানি কেনো হতে যাবে? যে ঘরে বিয়ে দিচ্ছি সেই ঘরের চাকরানি হবে। ওর নামে এই বাড়ি ও তো এই বাড়ির মহারানি তাই না?

নেহা: ওহ তাই বলো। হমম নাম মহারানির আর কাম চাকরানির। কিন্তু ওকে বিয়ে করছে কে?
মামিঃ ঐ তো একটা মাঝ-বয়সি লোক অনেক বড়লোক একবার বিয়ে হয়েছিল বউ নেই। আর একটা মেয়েও আছে ইশারা বিয়ে করলে নাকি অনেক টাকা ও দেবে আমাদের আর ওর ভাইয়ের যে অপারেশন টা হওয়ার কথা হার্টে ফুটো আছে বলে ওটার সব খরচ ও উনি দেবেন। বাঁচবো আপদ টা বিদায় হলে
নেহা: যা বলেছো এসব বোবা কালা নিয়ে থাকা যায়। নাকি?

মামিঃ কালা কেনো বলছিস কানে তো সব শোনে
নেহা: ধুর দেখো কয়েকদিন পর সেটাও পারবে না হা হা হা হা
এসব কথা বলে মামি আর নেহা হাসতে লাগলো আর ইশারা চুপচাপ নিজের ঘরে চলে গেলো। ইশারা ঘরে গিয়ে বসতেই ইশান দৌঁড়ে ইশারার কাছে এলো আর কাঁদতে কাঁদতে বললো,
ইশানঃ দিদিয়া তুই আমাকে ছেড়ে চলে যাবি? মা-বাবার মতো?

ইশারা কিছু না বলে ইশান কে জড়িয়ে ধরলো আর কাঁদতে লাগলো। আজ বাবা মা নেই বলে কতো অত্যাচারিত হতে হচ্ছে ওদের দুজন কে। ইশারা জানতো ওর মামি একটা বয়স্ক লোকের সাথে ওর বিয়ে ঠিক করছে তাই তো প্রকাশ কে কোনো জবাব না দিয়েই চলে এলো। ইশারা এ কয়দিন প্রকাশের সাথে ভালো ব্যবহার করবে বলে ঠিক করেছে ভালো ব্যবহার করলে প্রকাশ কোনো সন্দেহ করবে না আর বিয়ে টাও ভালো ভাবে মিটে যাবে। ইশারা চায় না প্রকাশের জীবনের সাথে নিজেকে জড়াতে ওর মতো অক্ষম মেয়েকে বিয়ে করে কোনো ছেলে সুখি হতে পারবে না। বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী নিজেদের মধ্যে প্রেমালাপ করে সুখ দুঃখের কথা বলো। স্বামী স্ত্রী কেনো একজন প্রেমিক প্রেমিকার মধ্যে ও এমনটা ঘটে সেখানে ইশারা তো কথাই বলতে পারে না। প্রেমালাপ কি করবে আর সুখ দুঃখের কথাই বা কি বলবে। আর যাই হোক একটা বোবা মেয়েকে বিয়ে করে সংসার করা যায়। না এমনি কোনো ছেলেই তো চাইবে না সেখানে প্রকাশ তো বড়োলোকের ছেলে দেখতেও সুন্দর।

এমন সময় ইশারার মামি ইশারার ঘরে ঢুকল আর কোনো কিছু না বলেই ইশারার আলমারি খুলতে লাগলো। ইশারার আলমারি খুলে গয়নার বাক্স বাড় করে সেটা খুলতেই মামি অবাক হয়ে গেলো। কারণ তার মধ্যে রয়েছে অনেক ভারী ভারী সোনা। ইশারা উঠে গিয়ে হাত থেকে কেড়ে নিয়ে নিলো বাক্স টা আর বললো,
ইশারাঃ এটা আমার মায়ের জিনিস। একদম ধরবে না আমি কাওকে দেবো না এটা। [ইশারায়]
মামিঃ আ মুলো জা। কি করবি তুই এসব সোনার গয়না নিয়ে? ঝি চাকরানি দের এসবে মানায় না বুঝলি। আমার কাছে যে এমিটেশন গয়না আছে সেগুলো পড়ে বিয়েতে বসবি। এখন দে এগুলো
ইশারাঃ না বললাম তো! আমি দেবো না এটা।

মামি ইশারার গালে ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দিলো। আর চুলের মুটি ধরে বললো,
মামিঃ দিবি না মানে তোর ঘাড় দেবে। এই গয়না না দিলে তোর ভাইয়ের চিকিৎসা করাব না। ডিরেক্ট উপরে পাঠিয়ে দেবো বুঝলি?

গয়নার বাক্স টা নিয়ে ইশারা কে বিছানার উপর ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে চলে গেলো। এদিকে ইশান ও তো ছোটো কি বা বলবে সে এতো ছোট বয়সে মাত্র ১২ বছর বয়সেই ছেলেটার হার্টে ফুটো ধরা পরেছে তাই মাঝে মাঝেই অজ্ঞান হয়ে যায়। ঠিক করে খেতেও পায়। না তাই দুর্বল ইশারা নিজে না খেয়ে ইশান কে খাওয়ায় নিজের খাবার যখন ইশানের দুর্বল লাগে। কিন্তু যেদিন খাবার দেয়না ইশারা কে সেদিন আর কি করবে ইশারা। নিজে না খেলেও তো চলে না তাই চায়ের দোকানের কাকার থেকে পাউরুটি এনে নিজে একটু খায় আর ভাই কে ও দেয়। পরে টাকা শোধ করে দেয় লোকের বাড়ি কাজ করে জমানো টাকা দিয়ে। যা মাইনে পায়। লোকের বাড়ি কাজ করে সেটাও মামি নিয়ে নেয় তাই রাগ করে ইশারা কাজ ছেড়ে দেয় আর মামি কে বলে কাজ থেকে ছাড়িয়ে দিয়েছে আর কাজ খোঁজার নাম করে মাঝে মাঝে কলেজ যায়। আর সেখানে একটা বাড়ি খুঁজে নেয় কাজের সেই টাকাটা দিয়েই চালায় মামির অজান্তে।

ইশান চুপ করে চলে গেলো। ঘর থেকে আর বাইরে বেরিয়ে গেল বাড়ির। মন খারাপ হলে ইশান এটাই করে কিন্তু বাইরে বেরিয়ে কিছুটা এগোতেই দেখলো। আগের দিন যেই দাদা টা ওর দিদি কে বাঁচিয়ে ছিলো আর ওদের খাবার খাওয়িছিলো সেই দাদা টা গাড়ির উপর বসে রয়েছে আর এক দিকে তাকিয়ে রয়েছে। ইশান সেইদিকে তাকালো। যেখানে ছেলেটা তাকিয়ে রয়েছে আর দেখলো এটা ইশারার বারান্দা (ব্যালকনি)
প্রকাশ বাড়ি না গিয়ে ইশারার ঘরের বাইরে রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে সেখানে বসে রয়েছে আর ইশারার ব্যালকনির দিকে চেয়ে রয়েছে। প্রকাশ কে ওভাবে দেখে ইশান প্রকাশের কাছে গেলো। আর বললো,
ইশানঃ তুমি ওভাবে আমার দিদিয়ার ব্যালকনির দিকে তাকিয়ে রয়েছ কেনো?

ইশানের গলার আওয়াজ পেয়ে প্রকাশ লাফ দিয়ে নামলো আর ইশানের কাছে হাঁটু গেড়ে বসে বললো,
প্রকাশঃ তোমার দিদিয়া কে দেখতে যে আমার মন টা ছটফট করছে। তাই তো চাতক পাখির মতো চেয়ে রয়েছি। তোমার দিদিয়া কে দেখলেই এই মনে শান্তি আসবে তৃপ্তি পাবে।
ইশানঃ তাহলে তো বাড়িতেই যেতে পারো এখানে বসে আছো কেনো চাতক পাখির মতো? [চেটে দিলো। রেহ 😂]
প্রকাশ ইশানের কথায় ফিক করে হেসে দিলো। আর ইশান কে কোলে নিয়ে গাড়ির উপরে বসালো আর বললো,

প্রকাশঃ আচ্ছা ইশান তুমি এতো রাতে এখানে বাড়ির বাইরে কি করছো?
ইশানঃ এমনি ভালো লাগছিল না। আচ্ছা তুমি আমার নাম জানলে কি করে? আমি তো তোমার নাম জানি না
প্রকাশঃ ও আমি সব জানি। আমার নাম প্রকাশ
ইশানঃ প্রকাশ?

প্রকাশঃ হমম
ইশানঃ ইশারা আর প্রকাশ। ইশারা দিয়েই তো মনের কথা প্রকাশ করা হয়। আর ভালোবাসা ও। হিহিহি তোমার সাথে আমার দিদিয়ার নামের কি সুন্দর মিল। যদিও তোমার নাম টা অড তবুও এক সাথে বেশ সুন্দর লাগছে ইশারা প্রকাশ
প্রকাশঃ তুমি তো ভীষণ পাকা? আচ্ছা যাও ঘরে যাও আর তোমার দিদিয়া কে ব্যালকনি তে পাঠাও
ইশানঃ আমি পারবো না হুহ আমাকে পাকা কেনো বললে
প্রকাশঃ আচ্ছা ঠিক আছে তুমি কাঁচা পাকা না। আর এ নাও (একটা চকলেট দিয়ে)
ইশানঃ এটা আমার?

প্রকাশঃ হমম তোমার দিদিয়া কে দিয়ে দেবো ভেবেছিলাম তোমার জন্য বাট ভুলে গেছিলাম
ইশানঃ হিহিহি থ্যাংক ইউ প্রকাশ ভাইয়া। আমি এখুনি দিদিয়া কে ব্যালকনি তে আসতে বলছি।
এই বলে ইশান দৌঁড় দিলো। গাড়ি থেকে নেমে আর প্রকাশ হাসলো

প্রকাশঃ ঠিক বলেছো তুমি ইশান। আমাদের সম্পর্কে #ইশারায়ভালোবাসারপ্রকাশ পাবে
এই বলে আবার তাকালো। ব্যালকনির দিকে। ইশান প্রকাশের কথা বলতে ইশারা ব্যালকনি তে চলে গেলো। কারণ প্রকাশ কে কিছু বুঝতে দেওয়া যাবে না। ইশারা ব্যালকনি তে দিয়ে প্রকাশ কে দেখতে পেলো আর একটা শুকনো হাসি দিলো। প্রকাশ ইশারা কে দেখে। ইশারা সেই দেখে চোখ নামিয়ে ঘরে চলে এলো আর প্রকাশ বেরিয়ে গেলো। অন্তত নিজের প্রাণপাখির দেখা তো পেলো।

এই ভাবেই চলতে লাগলো দিন প্রকাশ কিছু জানে না ইশারার বিয়ের ব্যাপারে এখনো পর্যন্ত। এমনি একদিন প্রকাশ ইশারা কে কলেজে পেলো না ভাবলো হয়তো শরীর খারাপ তাই নিজের কাজে চলে গেলো। আর ঠিক সেই সময় ইশান বেরিয়ে ছিলো প্রকাশ কে খবর দিতে যে আজ ইশারার বিয়ে। না পেয়ে বাড়ি ফিরে যায়। ইশান আর বিকেলে আবার বের হয় আর পেয়ে ও যায়। প্রকাশ কে আর তারপর সব টা বলে প্রকাশ কে। সেই শুনে প্রকাশ ইশান কে বাড়ি যেতে বলে আর চিন্তা করতে না করে।
এরপরের ঘটনা তো আপনারা জানেনই।
পর্ব ৯

বর্তমান……….

প্রকাশ কথাগুলো বলে থেমে গেলো। আর চুপচাপ ইশারার কোলে শুয়ে রইলো আর কিছুক্ষণ পর অনুভব করলো ইশারার হাত প্রকাশের চুলে বিচরণ করছে না। থেমে গেছে তাই প্রকাশ ইশারার কোল থেকে মাথা তুলে দেখল ইশারা বিছানায় হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে সেই দেখে প্রকাশ ইশারা কে আস্তে করে বেডে শুয়ে দিলো। আর কপালে হাত বোলাতে বোলাতে বললো,

প্রকাশঃ তুমি কবে বুঝবে ইশারা আমি তোমাকে ভালোবাসি ভীষণ ভালোবাসি। তোমাকে আকড়ে ধরে বাকিটা জীবন বাঁচতে চাই (প্রকাশ ইশারার কপালে ঠোঁট ছুঁয়ে সোফায় শুয়ে পরলো)
ইশারাঃ আমি জানি প্রকাশ আপনি আমাকে ভালোবাসেন কিন্তু এতে যে আপনার জীবন নষ্ট হবে। আমি ভেবেছিলাম হয়তো বিয়েটা আমার ঐ লোকটার সাথেই হয়ে যাবে। হয়ে গেলেই ভালো হতো তাহলে আপনার জীবন টা নষ্ট হতো না। আমি তো বুঝেছি আপনি আমাকে ভালোবাসেন কিন্তু আপনি কবে বুঝবেন আমি আপনাকে কখনো সুখি করতে পারবো না (মনে মনে)

ইশারা ঘুম প্রকাশের ঠোঁটের ছোঁয়াতেই ভেঙে গেছে তবুও নড়াচড়া করেনি ও প্রকাশের কথা গুলো শুনে আপন মনেই কথাগুলো বললো, আর ঘুমিয়ে গেলো।

সকালে ..

ইশারা ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে নিয়েছে কিন্তু প্রকাশের আসার নাম নেই ইশারা সেই কখন থেকে প্রকাশের জন্য অপেক্ষা করছে কিন্তু তার কোনো পাত্তাই নেই। ইশারা নীচে ও নামেনি কারণ প্রকাশ সার্ভেন্ট দিয়ে বারণ করে দিয়েছে। ইশারার এবার বিরক্ত লাগছে পটের বিবি হয়ে বসে থাকতে তাই কোনো কিছু না ভেবেই ইশারা আস্তে আস্তে নীচে নামলো আর সেসময় রান্নাঘর থেকে টুং টাং আওয়াজ শুনতে পেলো।

ইশারা রান্নাঘরের দিকে এগোতেই দেখতে পেলো প্রকাশ রান্না করছে আর সামনে ডাইনিং টেবিলে খাবার ও সাজানো হয়ে গেছে প্রায়। ডাইনিং টেবিলে সকালের ব্রেকফাস্ট যেমন অরেঞ্জ জুস ব্রেড জ্যাম বাটার স্যান্ডউইচ সব সাজানো। ইশারা এবার প্রকাশের দিকে তাকাতেই দেখলো প্রকাশ ডিম ফাটাচ্ছে আর ফ্রাইং প্যান গ্যাস ওভেনে বসানো। ইশারা প্রকাশের দিকে এগিয়ে যেতেই প্রকাশ বললো,
প্রকাশঃ তোমাকে না বললাম নীচে আসতে না তাহলে কেনো এসেছ…আহ!

প্রকাশ ইশারার সাথে কথা বলতে গিয়ে বিনা কিছুর সাহায্যে ওভেনে বসানো ফ্রাইং প্যানটা ধরে ফেললো আর ততক্ষণাৎ হাত সরিয়ে নিলো কারণ ফ্রাইং প্যান টা গরম ছিলো। প্রকাশের আওয়াজ শুনে ইশারা এগিয়ে গেলো। প্রকাশের কাছে আর হাত টা ধরে বেসিনে কলের তলায় দিয়ে দিলো। ইশারার মুখে স্পষ্ট চিন্তার ছাপ প্রকাশ অবশ্য এটা দেখে মজাই পাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর প্রকাশ হাত ছাড়িয়ে বললো,
প্রকাশঃ আমি অয়েটমেন্ট লাগিয়ে নিচ্ছি চিন্তা করতে হবে না তুমি চলো খেয়ে নেবে।

ইশারাঃ আমি ডিমের অমলেট করে নেবো আপনি যান ওষুধ লাগান হাতে। এ হাতে আপনাকে এসব করতে হবে না (ইশারায়)
প্রকাশঃ কিন্তু…..(প্রকাশ কে আর কিছু বলতে না দিয়ে ধাক্কিয়ে বাড় করে দিলো।)
ইশারা ডিমের অমলেট করে ডাইনিং টেবিলে এসে রাখলো আর প্রকাশ তো চেয়ারে বসে একমনে ইশারাকেই দেখে চলেছে। আজ ইশারা কচি কলাপাতা কালারের একটা শাড়ি পড়েছে যেটা আলমারিতে রাখা ছিলো। বরাবরই প্রকাশের এই রঙ টা ভীষণ পছন্দের আর ইশারা যে এই রঙের শাড়িটা নিজের বিয়ের পরে প্রথম দিন পরবে সেটা প্রকাশ কল্পনা করতে পারেনি। ইশারা দেখতে ভীষণ সুন্দর গোলগাল মুখ টানা টানা

চোখ ফর্সা গায়ের রঙ হাল্কা গোলাপি ঠোঁট আর লম্বা কোমর ছাড়ানো এক ছেয়ে চুল। সব দিক থেকেই ইশারা সঠিক শুধু কথা বলতে পারে না। এটাই ইশারার অক্ষমতা। যে কেউ ইশারার রুপে মুগ্ধ হয়ে যায়। তেমন প্রকাশ ও মুগ্ধ চাহুনী নিয়ে তাকিয়ে আছে কোনো সাজ গোজ ছাড়াই ইশারা কে অপরূপ সুন্দর লাগছে প্রকাশের কাছে। প্রকাশের এমন চাহুনী দেখে ইশারা কিছুটা লজ্জা পেয়ে ইশারা করে খেতে বললো, আর প্রকাশ ও হেসে খাওয়া শুরু করলো। প্রকাশের এই হাসিটাই ইশারা কে ঘায়েল করে প্রত্যেক বার প্রকাশ ভীষণ কম হাসে বলতে গেলে হাসেই না সব সময় গম্ভীর আর এটিটিউডে থাকে তাই সচরাচর প্রকাশের এই ঘায়েল করা হাসি দেখা যায়। না।

প্রকাশঃ আই নো আমার হাসিটা খুব সুন্দর আন্ড তুমি চাইলে আমি অলয়েস ৩২ পাটি দাঁত বাড় করে তোমার সামনে বসে থাকবো। বাট তুমি এখন খাওয়া শুরু করো
ইশারাঃ বেটা বজ্জাত এভাবে কেউ লজ্জায় ফেলে নাকি। আমার দিকে তো কিছুক্ষণ আগেই ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়েছিল জানো আগে কখনো শাড়ি পরা মেয়ে দেখেনি হুহ। আমি কি কিছু বলেছি আর এই বেটা কে দেখো যখন তখন যা খুশি বলে দেয় কোনো লাগামই নেই। কেউ একে সেন্টার ফ্রেশ কিনে দাও তাহলে যদি ঠিক হয়। খচ্চর পোলা এক খান কপালে জুটসে আমার (মনে মনে)
প্রকাশঃ খাওয়ার সময় এতো ভাবতে নেই আমাকে বকা পরেও দিতে পারবে আগে খেয়ে নাও শান্তি তে নাকি কালকে রাতের মতো খাইয়ে দিতে হবে?

ইশারা প্রকাশের কথা শুনে বিষম খেলো বড়সড়ো আর সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশ ইশারার সামনে জল ধরলো আর মাথায় ফুঁ দিতে থাকলো। ইশারা জল টা খেয়ে ভয়ে ভয়ে প্রকাশের দিকে তাকালো।
ইশারাঃ বাপ রে এই রাক্ষস টা সাইকোলজি নিয়ে পরেছে নাকি যে মনের কথা বুঝে যাচ্ছে (মনে মনে)
প্রকাশঃ তাকিয়ে না থেকে খেয়ে রেডি হয়ে নাও। ইশানের অপারেশন স্টার্ট হবে তাই আজকে আর কলেজ যেতে হবে না ওকে?

ইশারা হ্যাঁ বোধক মাথা নাড়লো আর খেয়ে নিয়ে রেডি হতে চলে গেলো। রেডি হয়ে নীচে নামতেই ইশারা এক দফা ক্রাস খেলো প্রকাশের উপর। প্রকাশ সব সময়ের মতো ব্ল্যাক জিন্স অফ ওয়াইট কালারের শার্ট যার এক প্রান্ত গোজা আরেক প্রান্ত ছাড়া। ডান হাতে ব্রান্ডেড ঘড়ি আর বাম হাতে ব্ল্যাক ব্যান্ড চুলগুলো ব্রাশ করা পায়ে লোফার। ইশারা হা হয়ে দেখছে প্রকাশ কে আর সিঁড়ি দিয়ে নামছে কিন্তু কিছুক্ষণ আগের কথা মনে পরতেই ইশারা চোখ সরিয়ে নিলো কিন্তু প্রকাশ কে এতো সুন্দর লাগছে যে ইশারার চোখ বার বার বেহায়ার মতো প্রকাশের দিকে চলে যাচ্ছে। ইশারা সোফার সামনে এসে মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে সে সময় প্রকাশ গিয়ে ইশারার সামনে দাঁড়ালো আর ইশারা কে পর্যবেক্ষণ করতে লাগলো।
প্রকাশঃ চলো

ইশারা মাথা নাড়তেই প্রকাশ ইশারা কে কোলে তুলে নিলো আর ইশারা বড়ো বড়ো চোখ করে তাকিয়ে রয়েছে আর প্রকাশ বাঁকা হেসে ইশারা কে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
ইশারাঃ আচ্ছা আমার কি পা নেই নাকি আমি হাটতে পারিনা কোনটা খোঁড়া? এই বদ মাফিয়া বেটা আমায় হুট হাট কোলে তুলে নেয় কেনো? (মনে মনে)

প্রকাশ গিয়ে ইশারা কে গাড়িতে বসিয়ে সিট বেল্ট লাগিয়ে দিলো। আর ব্রাউন শেডের সানগ্লাস টা পরে নিলো আর ড্রাইভ করে নার্সিংহোমের উদ্দেশ্যে চলে গেলো। নার্সিংহোমে গিয়ে ইশানের সাথে দেখা করে নিলো আর তারপর ইশানের অপারেশন শুরু হলো। ইশারা ওয়েটিং চেয়ারে বসে হাত কচ্লাচ্ছে আর বার বার ও.টি.র দিকে তাকাচ্ছে ওদিকে প্রকাশ ও হাল্কা নার্ভাস বাট ও সিওর ভালোই হবে।
আফটার ২ আওয়ার

ডক্টর ও.টি. থেকে হাসি মুখে বেরাতেই ইশারা আর প্রকাশ একটু ভরসা পেলো ডক্টর প্রকাশ কে বললো,
ডক্টর: এভরিথিং ইস অলরাইট। পেশেন্ট আউট অফ ডেঞ্জার
প্রকাশঃ আমরা কি ওর সাথে দেখা করতে পারি?

ডক্টর: হমম কিছুক্ষণ পর ওকে কেবিনে দেবো তখন দেখা করে আসবেন
ডক্টর চলে গেলেন আর কিছুক্ষণ পর ইশান কে কেবিনে দেওয়া হলে ইশারা আর প্রকাশ দুজন দেখা করতে গেলো। ইশান ঘুমোচ্ছে আর ইশারা ওর পাশে বসে আছে সেই সময় প্রকাশের কাছে একটা কল এলো আর প্রকাশ কল টা দেখেই সরে গেলো। ওখান থেকে আর কেবিনের বাইরে চলে এলো।
প্রকাশঃ হমম বল কি খবর?

স্যার সব খবর তো পেয়েইছি সঙ্গে মানুষ টাকে ও তুলে নিয়েছি প্রকাশঃ ভেরি গুড কোথায় রেখেছিস আপনি যেখানে বলে ছিলেন সেইখানেই
প্রকাশঃ ওকে আমি আসছি

প্রকাশ ফোন টা রেখে বাঁকা হাসলো আর কেবিনে গিয়ে ইশারা কে বললো,
প্রকাশঃ জান! তুমি ইশানের সাথে কথা বলে বাড়ি যাবে তো?
ইশারা হ্যাঁ বোধক মাথা নাড়লো
প্রকাশঃ ওকে ইশান ঘুম থেকে উথলে ওর সাথে কথা বলে তুমি বাড়ি চলে যেও বাইরে তোমার জন্য গাড়ি ওয়েট করবে। আমার একটু কাজ আছে আমাকে যেতে হবে। ওকে?
ইশারাঃ কি কাজ?(ইশারায়)
প্রকাশঃ তুমি কি বুঝবে আমার কাজ?

ইশারা না বোধক মাথা নাড়লো
প্রকাশ ইশারার কপালে আলতো চুমু দিয়ে বেরিয়ে গেলো। আর তারপর ইশারা ইশানের ঘুম থেকে উঠতেই কথা বলতে লাগলো।
আফটার সাম টাইম
আ। আমায় ছ। ছেড়ে দিন আ। আমি কিছু জ। জানি না প্রকাশঃ ওহ রিয়েলি? তুই কিচ্ছু জানিস না? (ছেলেটির আশে পাশে ঘুরে) ন। না

প্রকাশঃ দেখ ভালোয় ভালোয় সত্যি কথা টা বলে দে নাহলে তোর জন্য ভালো হবে না। আর তুই যদি কিছু না জানিস তাহলে যে জানে তার নাম বল (ছেলেটির মুখের সামনে দাঁড়িয়ে)
আমি কিচ্ছু জানি না। আপনারা কি ব্যাপারে বলছেন সেটাই জানি না আমি। প্রকাশঃ হা হা হা হা হা হা (বিকট শব্দে হাসতে লাগলো) প্রকাশ হাসতে হাসতেই পাশ থেকে একটা ছুরি নিয়ে ছেলেটির হাতে এক পোচ দিয়ে দিলো। আর ছেলেটি কুঁকীয়ে উঠলো আঁহহহহহহ!

প্রকাশঃ আমি মিথ্যে কথা একদম পছন্দ করি না এখনো সময় আছে সত্যি টা বলে দে।
আপনি কেনো আমায় টর্চার করছেন আমি তো বললাম আমি কিছু জানি না প্রকাশঃ জানিস না তাই না?(ছেলেটার চুলের মুটি ধরে) ন। না

প্রকাশ নিজের কোমরে গোঁজা গান টা বার করে ডিরেক্ট ছেলেটার পায়ে চালিয়ে দিলো। আর ছেলেটা চিৎকার করে উঠলো। সেই সময় পিছন দিক দিয়ে কিছু পড়ে যাওয়ার শব্দ হলো প্রকাশ পিছন ফিরতেই দেখলো একটা ফুলদানি পড়ে আছে আর সদর দরজার সামনে ইশারা কানে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে চোখ বুজে। প্রকাশ ইশারা কে এভাবে এখানে দেখে পুরো ঘাবড়ে গেলো। প্রকাশ আলতো পায়ে এগিয়ে গেলো। ইশারার দিকে
প্রকাশঃ ইশারা!
ইশারা চোখ খুলে প্রকাশ কে সামনে আসতে দেখে পিছোতে লাগলো আর এক দৌঁড়ে বেরিয়ে গেলো। ওখান থেকে।

লেখিকা – আয়েশা (কোয়েল)

সমাপ্ত

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের”ইশারায় ভালোবাসার প্রকাশ – রোমান্টিক প্রেমের কথা”গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ূন –

ইশারায় ভালোবাসার প্রকাশ – রোমান্টিক প্রেমের কথা:

পর্ব ১০

ইশারা চোখ খুলে প্রকাশ কে সামনে আসতে দেখে পিছোতে লাগলো আর এক দৌঁড়ে বেরিয়ে গেলো। ওখান থেকে আর নিজের ঘরে চলে গেলো। প্রকাশ এখনো দাঁড়িয়ে ইশারার চলে যাওয়ার পানে চেয়ে রয়েছে আর ভাবছে কি করে ইশারা এখানে এলো ওর তো আরো কিছুক্ষণ পর ফেরার কথা ছিলো।

পরলশ নার্সিংহোমের থেকে বেরিয়ে যেতেই তার কিছুক্ষণ পর ইশারা ও বেরিয়ে যায়। আর যখন বাড়ি ফেরে তখন গেট দিয়ে ঢোকার সময় বাড়ির পিছনের দিকে যে গোডাউন টা আছে সেটার দরজা খোলা দেখে। সেইদিকে এগিয়ে যেতে লাগলেই ইশারা একটি ছেলের আর্তনাদ শুনতে পায়।

সেই শুনে যখন গোডাউনের ভিতরে প্রবেশ করে তখন দেখে প্রকাশ একটা ছেলের দুই হাত শিকল দিয়ে দুটো পিলারের সাথে বেঁধে রেখেছে আর ছেলেটা সমানে আকুতি মিনতি করছে ছেড়ে দেওয়ার জন্য। এক হাত দিয়ে রক্ত পরছে ছেলেটার এসব দেখতে দেখতেই প্রকাশ হুট করে ছেলেটার পায়ে শুট করে দেয় আর সেই দেখেই ইশারা ভয়ে পিছিয়ে যায়। আর দরজার সাইডে থাকা টেবিলের ফুলদানি টা পরে যায়।

প্রকাশঃ ইশারা আবার আমাকে ভুল বুঝবে শিট! আগের বার ছেলে গুলো কে হাতে মেরেছিলাম বলে আমাকে ইগ্নোর করছিল আর এবার তো শুট করতে দেখেছে। ওহ গড। গার্ড এ জানো এখান থেকে বেঁচে না ফেরে যতক্ষণ না সত্যি বলছে ততক্ষণ টর্চার করতে থাকো (গার্ডের উদ্দেশ্যে বলে বেরিয়ে গেলো।)
ইশারা ঘরে এসে দরজা বন্ধ করে বিছানার পাশে গুঁটি শুঁটি মেরে বসে আছে কানে দু-হাত চাপা দিয়ে।

অঝোরে কাঁদছে ইশারা প্রথম থেকেই এসব মারপিট খুন-খারাবা ভীষণ ভয় পায়। আর আজ বার বার এই দৃশ্যগুলোই ওকে দেখতে হচ্ছে। ঘৃণা আসছে আজ প্রকাশের প্রতি ইশারার যা ভালো লাগা তৈরী হয়েছিল আজ নিমিষে তা ধুলোয় মিশিয়ে দিলো। প্রকাশ। ইশারার ভাবতেই গায়ে কাঁটা দিচ্ছে। এদিকে প্রকাশ সমানে দরজা ধাক্কা দিচ্ছে তার আওয়াজ ইশারার কানে যাচ্ছে না কারণ দু-হাত দিয়ে কান চেপে রেখেছে আর এমনিতেই ওর কানে তুলো গোঁজা থাকে।

প্রকাশ আর না পেরে দরজা ভেঙে দিলো। আর সেই শব্দ ইশারার কানে গেলো। যার জন্য ইশারা আরো ভয়ে গুঁটিয়ে গেলো। প্রকাশ এদিক ওদিক ইশারা কে খুঁজতে থাকায় বিছানার পাশে একটা শাড়ির আঁচল দেখা গেলো। প্রকাশ আস্তে আস্তে ওদিকে এগোতেই দেখলো ইশারা গুঁটি শুঁটি মেরে বসে আছে আর কাঁদছে। প্রকাশ ইশারার দিকে এগোতে নিলেই ইশারা পিছিয়ে যায়। এভাবে পিছোতে পিছোতে ইশারার পিঠ দেয়ালে থেকে গেলে প্রকাশ ইশারার সামনে এসে হাঁটু গেড়ে বসে
প্রকাশঃ কেনো ভয় পাচ্ছ তুমি আমাকে?

ইশারাঃ আমাকে মারবেন না প্লিজ! আমি আপনার কি ক্ষতি করেছি বলুন (ইশারায়)
প্রকাশঃ ইশারা তোমাকে মারার কথা আমি ভাবতে ও পারি না। আমি তোমাকে ভালোবাসি ইশারা
ইশারাঃ কিন্তু আমি আপনাকে ভালোবাসি না! ঘৃণা করি আমি আপনাকে। আপনি একজন খুনি একজন মুখোশধারী আপনার মুখ ও দেখতে চাই না আমি (ইশারায়)
প্রকাশ ইশারার কথা সবই বুঝতে পারছে [কারণ টা আস্তে আস্তে জানবেন] কিন্তু ইশারা কে সত্যি টা বলতে পারছে না এখন যে সময় হয়নি সত্যি টা জানার। কিন্তু ইশারা যা রিয়াক্ট করছে তাতে ওকে সত্যি টা বলে দেওয়াই ভালো।

প্রকাশঃ ইশারা তুমি আমার কথা টা শোনো। আমি শুধু শুধু এমন করিনি কারণ আছে এর পিছনে
ইশারা দু কানে হাত দিয়ে চেপে ধরলো আর মাথা নীচু করে না বোধক মাথা নাড়তে লাগলো। এর মানে ইশারা কিচ্ছু শুনতে চায় না। প্রকাশ এবার উঠে গেলো। এক হাত কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে বুড়ো আঙুল আর তর্জনি দিয়ে কপালে ঘষতে লাগলো কিছুক্ষণ পর রেগে সেন্টার টেবিলে একটা লাথি মারলো আর ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো। সেন্টার টেবিলে লাথি মারায় ইশারা কিছুটা কেঁপে উঠলো আর প্রকাশ বেরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উঠে ওয়াশরুমে চলে গেলো। আর শাওয়ারের নীচে বসে কান্না করতে লাগলো।

রাত ২টো….

ইশারা বিছানায় বসে ঝিমাচ্ছে প্রকাশ এখনো ফেরেনি বাড়িতে সেই যে বেরিয়ে গেছে আর কোনো খবর নেই। ইশারা গার্ডদের জিজ্ঞেস কর্পে গার্ডরা বলে যে প্রকাশের ফোন সুইচ অফ। ঝিমতে ঝিমতে ইশারা পড়ে গেলেই ঘুমটা ভেঙে যায়। ইশারার আর ঘড়িতে তাকিয়ে দেখে রাত ২টো বাজে কিছুক্ষণ পাইচারি করতে থাকে ঘরের মধ্যে আর না পেরে নীচে যায়। ইশারা কিছুক্ষণ আগে প্রকাশের গার্ডদের বলেছিল প্রকাশ কে খুঁজতে যেতে সেই খবরটাই আনতে ইশারা নীচে যায়।

ইশারা সিঁড়ি দিয়ে নামতেই দেখে দুটো গার্ডের ঘাড়ে ভর করে প্রকাশ হেলতে দুলতে বাড়ি ঢুকছে ঠিক মতোন হাঁটতেই পারছে না। ইশারা সিঁড়ি থেকে সরে গেলে গার্ড দুটো প্রকাশ কে নিয়ে ঘরে চলে যায়। আর ইশারা দাঁড়িয়ে চোখের জল ফেলতে লাগে।

ইশারাঃ এসব দেখাই বাকি ছিলো আমার। আর কতো কিছু সহ্য করতে হবে এই জীবনে আমার? ভেবেছিলাম একজন ভালো স্বামী পেয়েছি কিন্তু না এখন মনে হচ্ছে এমন স্বামীর থাকার থেকে না থাকা ভালো। গুন্ডামি করে মানুষ খুন করে আবার নেশা ও করে বাহ! কি কপাল আমার! ভগবান বোধ হয় আমার কপালে সুখের ছিটা ফোঁটা ও দেননি মাঝে মধ্যে ইচ্ছে করে নিজেকে শেষ করেদি। শেষ করেদি (মনে মনে)
ইশারা কাঁদতে কাঁদতে সিঁড়ি তে বসে পরলে একজন এসে ইশারার পাশে বসে আর ইশারা পাশ ফিরে তাকাতেই দেখে প্রকাশের একটা গার্ড।

গার্ডঃ আমার সাথে আপনার ঠিক করে কোনদিন পরিচয় হয়নি তাই না বৌদি? আমি রাতুল প্রকাশের ভাই
ইশারা অবাক হয়ে তাকায়”ভাই”কথা টা শুনে। প্রকাশের ভাই আছে এটা তো প্রকাশ কোনদিন বলেনি। তাহলে?

রাতুলঃ আমি জানি আপনি ভাবছেন এসব আমি কি বলছি। আসলে আমি প্রকাশ দার নিজের ভাই নই। আমি অনাথ রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে ঘুরে কাজ করতাম আজ থেকে ৪ বছর আগে হঠাৎ করেই একটা ড্রাগস ডিলারদের হাতে পরে যাই ওরা আমাকে বলে যে ওদের হয়ে ড্রাগস পাচার করতে হবে আর এটাই আমার কাজ। আমি চাইলেও না করতে পারবো না কারন আমি ওদের কে আর ওদের ব্যবসা সম্পর্কে জেনে গেছি,

যদি আমি কাজ টা না করি তাহলে আমায় ওরা খুন করে দেবে। প্রাণের ভয়ে আমি কাজ টা করি আর ধরা পরে যাই প্রকাশ দার হাতে। আমার বয়স খুব কম ছিলো তখন সবে ১৮ আর প্রকাশ দার ২০ কিন্তু দেখে মনেই হতো না যে ২০ বছরের একটা ছেলের এতো পাওয়ার এতো রাগ। ভেবেছিলাম হয়তো মেরে দেবে আমায় কারণ আমি মুখ খুলতে পারবো না আমার গ্যাং এর বিরুদ্ধে তাহলে তারা কোন না কোনো ভাবে আমায় মেরে দেবে। কিন্তু নাহ প্রকাশ দা আমায় সুযোগ দিলো। বলল সত্যি টা বললে আমায় ছেড়ে দেবে আমি অবশ্য বিশ্বাস করিনি কারন সবাই সচরাচর কথা বাড় করানোর জন্য এই মিথ্যে কথা টা বলেই থাকে তাই আমি ভাবলাম সত্যি টা বলে দেওয়াই ভালো অন্তত একটা ভালো কাজ করে মরব,

আমি সত্যি কথা বলতেই অদ্ভুত ভাবে প্রকাশ দা আমায় মারলো না বরঙ অনেক প্রটেকশান দিয়ে রাখলো যাতে আমায় কেউ মারতে না পারে। কয়েক দিন পর খবর পেলাম প্রকাশ দা ওদের কে পুলিশ এর হাতে দিয়ে দিয়েছে আর একজন কে মেরে দিয়েছে কারন সে নাকি একটা মেয়ে কে রেপ করেছিল আর এমন অনেক মেয়ে কে পাচার ও করেছে তাই তাকে পুলিশ এর হাতে না দিয়ে প্রকাশ দা মেরে দিয়েছে। আমি মনে করি যথেষ্ট ভালো কাজ করেছে প্রকাশ দা।

ইশারা চুপ করে সব শুনছে রাতুলের কথা গুলো রাতুল আবার বলতে লাগলো
রাতুলঃ এরপর থেকে প্রকাশ দা আমাকে নিজের ভাই মনে করে আর আমি তাকে দাদা। আমি হলপ করে বলতে পারি প্রকাশ দা আজ পর্যন্ত কোনো অন্যায়। করেনি। আপনাকে ভীষণ ভালোবাসে প্রকাশ দা সব করতে পারে আপনার জন্য। কেনো বলছি জানেন? আজ পর্যন্ত কোনো মেয়ে কে নিয়ে এতটা ভাবেনি তার পরিবার নিয়ে ভাবেনি। আমাদের কে টাকা দিয়ে দিতো আমরা পৌঁছে দিতাম আর আপনাকে তো নিজের দায়িত্ব মনে করে নিজের সম্পত্তি মনে করে

একটু বোঝার চেষ্টা করুন দেখবেন ওর ভিতরের কষ্ট গুলো কে অনুভব করতে পারবেন। আজ অনেকদিন পর প্রকাশ দা ড্রিংক করলো তাও এভাবে সম্ভবত আপনার সাথে পরিচয় হওয়ার পর এসব ছেড়ে দিয়েছিল। যাই হোক ওরা রেখে এসেছে প্রকাশ দা কে আপনি ঘরে যেতে পারেন আর কাইন্ডলী আমার কথা গুলো একটু ভেবে দেখবেন।

রাতুল কথা গুলো বলে চলে গেলো। আর ইশারা নিজের চোখের জল মুছে ঘরের উদ্দেশ্যে হাঁটা ধরলো। ঘরে গিয়ে দেখলো প্রকাশ বিছানায় এলোমেলো হয়ে শুয়ে রয়েছে পায়ের জুতো টাও খোলেনি। ইশারা গিয়ে পায়ের জুতো টা খুলে দিলো। আর প্রকাশ কে ঠিক ভাবে শোয়ানোর চেষ্টা করতে গেলেই প্রকাশ দু-হাতে ভর করে উঠে বসলো আর ইশারার কোমর জড়িয়ে ধরে ওর ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে দিলো। প্রকাশ খুব সফ্টলি কিস করছে ইশারা কে শুষে নিচ্ছে ইশারার ঠোঁট আর ইশারা আজকে বাধা দিতে চেয়েও দিতে পারছে না বরং প্রথম বারের মতো প্রকাশের সাথে তালে তাল মিলাচ্ছে। প্রকাশ ইশারার কোমর শক্ত করে জড়িয়ে ধরে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো আর ইশারা প্রকাশের গলা জড়িয়ে ধরে আছে চুল মুঠো করে রেখেছে।

প্রায় অনেকখন পর ইশারার ঠোঁট ছাড়ল প্রকাশ আর গলায় মুখ ডুবিয়ে দিলো। আর একটা ডিপ কিস করলো গলায় যার ফলে ইশারা প্রকাশের কাঁধ খামচে ধরলো। প্রকাশ নেশাক্ত কণ্ঠে বলতে লাগলো।
প্রকাশঃ আমার তোমাকে চাই ইশারা। সারাজিবনের জন্য চাই ভালোবাসতে চাই তোমাকে আমি ভীষণ ভীষণ ভীষণ ভালোবাসতে চাই। আই লাভ ইউ আ লট

প্রকাশের কথাগুলো জানো আজ ইশারার মনে অনুভূতি জাগিয়ে তুলছে। ইশারা প্রকাশের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে আর প্রকাশ ইশারার গলায় মুখ ডুবিয়ে রেখেছে। কিছুক্ষণ পর ইশারার গলার মধ্যে নিজের নাক ঘসে দিলো। প্রকাশ আর ইশারা সরে গেলো। ইশারা সরে গিয়ে প্রকাশ কে ঠিক মতো শুয়ে দিলো। আর উঠে যেতে নিলেই প্রকাশ হাত ধরে টেনে ইশারা কে বিছানায় বসিয়ে ওর কোলে মাথা রেখে পেটে মুখ গুঁজে দিলো। আর ঘুমিয়ে পড়ল এদিকে ইশারা প্রকাশের কান্ডকারখানা দেখে হাসবে না কাঁদবে বুঝতে পারছেনা।

পরেরদিন সকালে…

প্রকাশ ঘুম থেকে উঠে সারা বাড়ি খুঁজে ফেলেছে ইশারা কোথাও নেই আর গতরাতের কোন কথাই প্রকাশের মনে নেই। তাই ও তন্নতন্ন করে খুঁজছে। হুট করে রাতুল এসে প্রকাশ কে বললো, যে ইশারা কলেজে গেছে এটা শুনে প্রকাশ একটু দম ফেললো আর সঙ্গে সঙ্গে ফ্রেশ হয়ে ইশারার কলেজে চলে গেলো। কলেজে গিয়ে সবাই কে ইশারার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতেই সবাই বললো, ইশারা আজ কলেজে আসেইনি। এই শুনে প্রকাশ নিজের গার্ডদের বললো, পুরো শহরে খোঁজ নিতে প্রকাশ ও বেরিয়ে পরলো।

দুই দিন পর…………

ঘরের মেঝেতে মদের বোতল ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে আর প্রকাশ মেঝে তে সোজা হয়ে শুয়ে রয়েছে হাতে একটা মদের বোতল নিয়ে। দু-দিন হয়ে গেছে ইশারা কে প্রকাশ কোথাও পায়।নি পাথর হয়ে গেছে প্রকাশ। চিৎকার করে কাঁদে রাত হলেই কোনো কথা বলে না চুপচাপ ঘরে বন্দী হয়ে থাকে আর মদ খেয়ে মাতাল হয়ে থাকে। কেউ খোঁজ খবর দিতে আসলে ইশারার সেটা শোনে আর পাগলের মতো হাসে। প্রত্যেক টা খবর প্রকাশ কে কাঁদায় কারণ ইশারা কে পাওয়া যায়।নি।

প্রকাশঃ ইশারাআআআআ! কেনো আমায় ছেড়ে চলে গেলে একবার আমার কথাটা শুনতে পারতে। আমি যে পারবো না তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না আমি। (চিৎকার করে কাঁদছে)

পর্ব ১১

প্রকাশ রক্ত চক্ষু নিয়ে একটা সোফায় বসে আছে হাতে একটা ওয়াইনের গ্লাস। চোয়াল শক্ত করে রেখেছে প্রকাশ দাঁত করমড় করছে। এক চুমুকে ওয়াইন টা খেয়ে নিয়ে গ্লাস টা হাতে শক্ত করে চেপে ধরলো। এতটা জোরে চেপে ধরলো যে গ্লাস টা ভেঙেই গেলো। গ্লাস টা ভেঙে গিয়ে কাঁচ টা প্রকাশের হাতে গেথে গেছে আর অঝোরে রক্ত পড়ছে হাত থেকে কিন্তু প্রকাশের চাহুনী সামনের দিকে স্থির হয়ে রয়েছে একজনের উপর।

বিছানায় হাঁটু মুড়ে বসে বসে কাঁদছে ইশারা এই মুহুর্তে প্রকাশ কে যমের চেয়েও বেশী ভয় পাচ্ছে ইশারা তাই সমানে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। প্রকাশের হাতের রক্ত টা দেখে ইচ্ছে করছে গিয়ে ওষুধ লাগিয়ে দিতে কিন্তু ভয়ের কারণে সেটাও পারছে না ইশারা।

কিছুক্ষণ আগে …

প্রকাশ নিজের ঘরে বসে স্মোক করছে সেইসময় প্রকাশের কাছে ফোন এলো।
প্রকাশঃ হমম
রাতুলঃ ইশারা বৌদির খবর পেয়েছি ভাই। তুমি তারাতাড়ি নীচে আসো
প্রকাশ আর এক মুহুর্ত দেরী করলো না সঙ্গে সঙ্গে যা পরে ছিলো তাই পরেই বেরিয়ে গেলো। রাতুলের সাথে। প্রকাশ আজ ড্রাইভ করছে না রাতুল ড্রাইভ করছে প্রকাশের শরীর খুব একটা ভালো না এই দু-দিন ঠিক মতো খায়নি শুধু ছাই-পাশ খেয়েছে আর স্মোক করেছে তাও ভালো নিজের কোনো ক্ষতি তো করেনি। মনে মনে ভাবছে রাতুল। কিছুক্ষণ পরেই রাতুল আর প্রকাশ পৌঁছে গেলো। সেই জায়গায় যেখানে ইশারা আছে বলে খোঁজ পেয়েছে রাতুল।

একটা একতলা সিমেন্টর বাড়ি শহরের থেকে অনেক দুরে প্রায় শেষ প্রান্তে প্রকাশ রাতুলের দিকে তাকাতেই রাতুল ইশারা করলো ভিতরে যাওয়ার জন্য। প্রকাশ রাতুল কে হাত দিয়ে ইশারা করলো বাড়ির বাইরে থাকার জন্য আর নিজে এগিয়ে গেলো। বাড়ির ভিতরে। বুক কাঁপছে প্রকাশের যদি ইশারা না থাকে এখানে? যদি ও না পায়। ইশারা কে? একটা লম্বা নিশ্বাস নিয়ে প্রকাশ বাড়ির ভিতরে গেলো। দরজা খোলা তাই আর নক করলো না চুপচাপ ভিতরে প্রবেশ করে গেলো। কিন্তু কিছুটা এগোতেই কাওর পায়ের নূপুরের”ছন ছন”শব্দ পেলো। এই একটা শব্দর দ্বারাই প্রকাশের ভিতরে শীতল হাওয়া বইয়ে দিচ্ছে প্রকাশের যে বড্ড চেনা এই নূপুরের শব্দ। প্রকাশ চোখ বন্ধ করে শব্দটা শুনছে তীব্র থেকে তীব্র হচ্ছে শব্দ টা কিন্তু হঠাৎ থেমে গেলো। শব্দ টা। স্টিলের বাসন-কাসোন পড়ে যাওয়ার”ঝিন ঝিন”শব্দ এলো আর প্রকাশ দ্রুত নিজের চোখ খুললো। চোখ খুলতেই দেখতে পেলো”ইশারা”কে

ইশারা প্রকাশ কে দেখে ভীষণ পরিমাণ ভয় পেয়ে গেছে হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। হাঁটু ভেঙে আসছে ইশারার। ইশারার পিছন থেকে ইশারা কে পাশ কাটিয়ে দৌঁড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরলো ইশান প্রকাশ কে। আর বলতে লাগলো।
ইশানঃ দেখলি দিদিয়া আমি বলেছিলাম না প্রকাশ ভাইয়া আসবে। তুই খালি খালি রাগ করতিস আমার ওপর আমি তো জানি প্রকাশ ভাইয়া তোকে কতটা ভালোবাসে হিহিহি। তুই একটা বোকা বুঝিসই না প্রকাশ ভাইয়ার ভালোবাসা টা শুধু শুধু এই দু-দিন প্রকাশ ভাইয়া কে কষ্ট দিলি কতবার বললাম কোথায় নিয়ে যাচ্ছিস আমায় কিছু বললিই না আমায়। দেখ তো ভাইয়ার অবস্থা কি হয়েছে এই দু-দিনে।

ইশারা ইশানের কথায় প্রকাশের দিকে ভালো করে তাকিয়ে দেখল মাথার চুল গুলো এলোমেলো চোখ মুখ শুকিয়ে গেছে গোলাপি ঠোঁট গুলো কেমন কালো বর্ন ধারন করেছে বড়ো বড়ো চোখ গুলো ছোট ছোট লাগছে দেখে মনে হচ্ছে কতদিন ঠিক মতো খায়নি-ঘুমায়নি। ইশারা অবাক হয়ে যাচ্ছে প্রকাশের অবস্থা দেখে মাত্র দুই-দিনে এতটা খারাপ অবস্থা করেছে নিজের? সত্যি বলতে ইশারা ও এই দুই-দিন ভালো ছিলো না। ইশারা দেখলো প্রকাশ একটা টি-শার্ট আর ট্রাউসার পরা এর মানে খবর পেতেই হয়তো ছুটে চলে এসেছে ইশারার কাছে।

প্রকাশ ইশানের মাথায় হাত বুলালো চুলগুলো এলোমেলো করে দিয়ে বললো,
প্রকাশঃ বাইরে রাতুল আঙ্কেল গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে তুমি গিয়ে বসে পরো গুড বয়ের মতো ওকেই?
ইশানঃ ইয়ে কি মজা বাড়ি যাবো। হুররে! (বলে দৌঁড় দিয়ে বেরিয়ে গেলো।)
প্রকাশ এক-পা দু-পা করে এগিয়ে যাচ্ছে ইশারার দিকে আর ইশারা ভয়ে সালোয়ারের ওড়না পেঁচাচ্ছে প্রকাশ ইশারার সামনে এসে ট্রাউসার এর পকেটে হাত গুঁজে দাঁড়িয়ে শান্ত গলায় বললো,
প্রকাশঃ কেনো এভাবে ছেড়ে চলে এলে ইশারা?(শান্ত গলায়)

ইশারাঃ (নিশ্চুপ শুধু চোখের জল ফেলছে মাথা নীচু করে)
প্রকাশঃ আমি কি এতটা খারাপ ইশারা যে আমার সাথে থাকা যায়। না? এত ভালোবাসার পরেও তুমি আমাকে ছেড়ে চলে এলে? বলে দিতে পারতে আমায় আমি নিজে তোমাকে আমার কাছ থেকে দুরে সরিয়ে দিতাম। কিন্তু এখন তোমাকে শাস্তি পেতে হবে ইউ হ্যাভ টু পে ফর দিস।

প্রকাশ ইশারা কে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে হাত ধরে টেনে নিয়ে বাইরে চলে এলো আর গাড়িতে বসিয়ে দিলো। আর নিজেও গিয়ে সামনের সিটে বসে পরলো। রাতুল থাকায় বেশী কিছু বললো, না প্রকাশ কিন্তু মনে মনে রাগ অভিমান কষ্ট ঠিকই হচ্ছে। ইশারা ইশান কে ও নার্সিংহোমের থেকে ডিসচার্জ করিয়ে নিজের সাথে নিয়ে যায়। প্রকাশ ইশারা কে কলেজে না পেয়ে নার্সিংহোমে গেছিল সেখান থেকেই জানতে পারে ইশারা ইশান কে নিয়ে চলে গেছে সামান্য সুস্থ হতেই। সঙ্গে প্রকাশ এও বুঝলো যে ইশারা কে কেউ কিডন্যাপ করেনি ইশারা নিজের ইচ্ছায় গেছে।

এখন…

প্রকাশ একটান মেরে কাঁচ টা বাড় করে ফেললো তাতে রক্ত বেড়ানোর পরিমাণ আরো বেড়ে গেলো। এরপর উঠে দাঁড়িয়ে লাথি মেরে সামনের সেন্টার টেবিলের কাঁচ টা ফেলে দিলো। আর কাঁচ টা পড়ে টুকরো টুকরো হয়ে গেলো। প্রকাশ ইশারার সামনে এসে চিৎকার করে বলে উঠলো।
প্রকাশঃ ওয়াই ইশারা ওয়াই? কেনো করলে তুমি আমার সাথে এমন? কম তো ভালোবাসিনি আমি তোমায়। কতবার বলেছি তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচতে পারবো না? বলিনি? (চিৎকার করে)
ইশারাঃ (নিশ্চুপ ভয়ে গুঁটিয়ে রয়েছে আর কাঁদছে)

প্রকাশঃ কাঁদছ কেনো তুমি? হ্যাঁ কাঁদছ কেনো? অ্যান্সার মি ড্যাম ইট! (হুঙ্কার দিয়ে)
প্রকাশঃ (কিছুক্ষণ থেমে) ওওওও আমার কাছে ধরা পরে গেছো দেখে? আমার কাছে ফিরে আসতে হয়েছে দেখে খুব কষ্ট হচ্ছে? ভাবনি তাই না আবার আমার কাছে ফিরে আসতে হবে? এইজন্য কষ্ট হচ্ছে তোমার?
প্রকাশ শান্ত হয়ে গেলো। আর আস্তে করে গিয়ে ইশারার পায়ের সামনে ধপ করে দু-হাঁটু গেড়ে বসে পরলো আর ইশারার দিকে করুন ও অসহায় চোখে তাকালে ইশারার বুকের ভিতরটা ধুক করে উঠলো। প্রকাশ শান্ত গলায় বললো,

প্রকাশঃ আমি খুব খারাপ তাই না ইশারা? বদমেজাজি একগুয়ে একটা ছেলে যে কিনা মারপিট করে লোক কে খুন করে। এক্তা মাফিয়া। ক্রিমিনাল আমি তাই না? খুব বিরক্ত তুমি আমার উপর আমার রাগের উপর। ঠিক আছে আর তোমাকে আমায় সহ্য করতে হবে না।
ইশারার মন টা কেমন জানি করে উঠলো প্রকাশের এমন কথায়। প্রকাশ উঠে দাঁড়িয়ে ইশারার সামনে এসে ওর কপালে একটা গভীর ভাবে ভালোবাসার পরশ দিলো। আর বললো,
প্রকাশঃ এটা আমার ভালোবাসার হয়তো শেষ চিহ্ন

বলেই সেন্টার টেবিলের ভাঙা কাঁচের টুকরো টা বাম হাতে নিয়ে ডান হাতের শিরায় এক পোচ দিলো। আর গলগল করে রক্ত পরতে লাগলো ইশারা শকড হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে চোখের সামনে মুহুর্তে এমন কিছু হবে তা ভাবতে পারেনি ইশারা। প্রকাশ নিজের মুখে হাসির রেখা টেনে বললো,
প্রকাশঃ আর বিরক্তির কারণ হবো না তোমার। কিন্তু জীবনে তোমার আর কোনো অসুবিধা হবে না সব ব্যাবস্থা আ..আমি ক..করে (আর বলতে পারলো না পরে গেলো। ধপ করে)

পর্ব ১২

ডান হাতে ব্যান্ডেজ করা অজ্ঞান অবস্থায় প্রকাশ বিছানায় শুয়ে রয়েছে আর ডক্টর চেক আপ করছে। দুরে দাঁড়িয়ে ইশারা বার বার চোখের জল মুছছে আর ডক্টরের পাশে রাতুল চিন্তিত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
প্রকাশ যখন হাতের শিরায় কাঁচের টুকরো দিয়ে টান দিয়েছিল তখন গলগল করে রক্ত পরতে শুরু করে আর সেই রক্ত দেখে ইশারা কিছুক্ষণের জন্য স্তব্ধ হয়ে যায়। কিন্তু প্রকাশ যখন পরে যায়। তখনই ইশারার হুশ আসে। আর ইশারা ছুটে প্রকাশের কাছে এগিয়ে যায়। আর প্রকাশ কে ধাক্কা দিতে থাকে,

ইশারার তো কাওকে ডাকার মতো ও ক্ষমতা নেই অনেক রক্ত বের হচ্ছে দেখে ইশারা সঙ্গে সঙ্গে একটা কাপড়ের টুকরো জোগার করে ক্ষত স্থানে বেঁধে দেয় আর দৌঁড়ে নীচে চলে যায়। ভাগ্যবশত সেখানে রাতুল কে দেখতে পেয়েই রাতুলের হাত ধরে টেনে নিজের ঘরে নিয়ে আসে। প্রকাশ কে এই অবস্থায় দেখে রাতুল ও অবাক হয়ে যায়। প্রকাশের হাতের কাপড় টাও রক্তে ভিজে যাচ্ছে। রাতুল তারাতারি প্রকাশ কে তুলে বিছানায় শুয়ে দিয়ে ডক্টর কে ফোন করে আর বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে আসে রীতিমতো।
প্রকাশ কে চেক করা শেষ হলে ডক্টর বললো, ইশারা কে বললো,
ডক্টর: আপনি ওনার ওয়াইফ?

ইশারা হ্যাঁ বোধক মাথা নাড়লো
ডক্টর: কি করে হলো এই অবস্থা অনেক রক্ত ঝরেছে।
ইশারাঃ নিশ্চুপ
ডক্টর: বললেন না তো?
রাতুলঃ অ্যাকচুয়লী ডক্টর ইশারা বৌদি কথা বলতে পারে না। তাই কিছু বলছে না।
ডক্টর একটু অবাক হলো কারণ এতো বড়ো বিসনেস ম্যানের ছেলে যার নিজের ও অনেক পয়সা বাবার টাকায় চলে না তার স্ত্রী কথা বলতে পারে না।? এসব চিন্তা বাদ দিয়ে ডক্টর বললো,

ডক্টর: ওহ আ’ম সরি। আসলে পেশেন্টর অনেক ব্লাড লস হয়েছে কিন্তু কাপড় বেঁধে দেওয়ায় বাঁচোয়া নাহলে হসপিটালে এডমিট করতে হতো ব্লাডের জন্য। উনি একটু উইক এখন বেশি উত্তেজিত হতে দেবেন না রেস্ট নিতে বলবেন আর পেইন হতে পারে তাই এই কয়েকটা মেডিসিন লিখে দিলাম এগুলো দিয়ে দেবেন।
রাতুলঃ শিরা কাটেনি তো ডক্টর?

ডক্টর: নাহ জাস্ট চোট পরেছে আর কাঁচ দিয়ে কাটায় রক্তক্ষরণ বেশি হয়েছে কিন্তু আরেকটু গভীর হলেই শিরা কেটে যেতো। জ্ঞান আরেকটু পরেই ফিরে আসবে। এই নিন এগুলো টাইমে দিয়ে দেবেন (প্রেসক্রিপশন দিয়ে)
রাতুলঃ চলুন আমি এগিয়ে দিচ্ছি। আমাদের ড্রাইভার আপনাকে বাড়ি পৌঁছে দেবে।
রাতুল ডক্টর কে নিয়ে বেরিয়ে গেলে ইশারা আস্তে আস্তে প্রকাশের পাশে গিয়ে বসে চোখের জল ফেলতে থাকে আর প্রকাশের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে ভাবে

ইশারাঃ আজ আমার জন্য আপনার এই অবস্থা প্রকাশ। বিশ্বাস করুন আমি চাইনি আপনাকে আঘাত করতে। চাইনি আমি। এই কয়েকদিন আপনার থেকে দূরে থেকে আমিও ভালো ছিলাম না প্রত্যেক মুহুর্তে আপনার কথা মনে পড়ত আমার। আপনার যত্ন ভালোবাসা সব মনে পড়ত কিন্তু আমি নিরুপায়। ছিলাম বিশ্বাস করুন (ইশারা চোখ বুজে কাঁদতে লাগলো)

ইশারা যেহেতু প্রকাশের দিকে ঝুঁকে ছিলো তাই ইশারার চোখের জল গুলো প্রকাশের গলায় পড়ছিল চিবুকে পড়ছিল আর আস্তে আস্তে সে সময় প্রকাশের জ্ঞান ও ফিরছিল। প্রকাশ যখন পুরোপুরি চোখ খুলে নিজের কাছে ইশারা কে দেখলো তখন প্রথমে খুশি হলেও পরক্ষণে ইশারার চলে যাওয়ার কথা শুনে রাগ টা জেঁকে বসলো আর প্রকাশ মুখ অন্য পাশে ফিরযে বললো,

প্রকাশঃ চলে যান আমার চোখের সামনের থেকে।
প্রকাশের কথায় ইশারা চোখ খুললো প্রকাশের জ্ঞান ফিরেছে এই দেখে ইশারার মুখে হাসি ফুটে উঠলো কিন্তু প্রকাশের কথা টা কানে গেলো। না সেই আনন্দে। তাই প্রকাশের মাথায় হাত দিতে গেলেই প্রকাশ বাম হাত দিয়ে ইশারার হাত টা ধরে নেয় আর বলে।
প্রকাশঃ আমি তো বললাম আমার চোখের সামনে থেকে চলে যেতে। কথা কানে যায়। না? আমি তো জানতাম আপনি কানে শুনতে পান।

ইশারাঃ এরমভাবে কেনো বলছেন প্রকাশ (ইশারা)
প্রকাশঃ প্লিজ। প্লিজ চলে যান আপনি আমার সামনে থেকে আপনাকে দেখলেই আমার জীবনের প্রথম ভুলের কথা মনে পরে যায়। আপনাকে ভালোবেসে আমি আমার জীবনের সবচেয়ে বড়ো ভুল করেছি। আপনি আমার সামনে থেকে যান নাহলে আমি আবার কিছু একটা করে বসবো।
ইশারা আর কিছু না বলে কাঁদতে কাঁদতে চলে গেলো। দৌঁড়ে আর প্রকাশ বিছানায় মাথা ঠেকিয়ে নিজে নিজে বলতে থাকলো

প্রকাশঃ এতো ভালোবাসলাম তোমাকে তারপরেও তুমি আমাকে ছেড়ে চলে গেলে কেনো ইশারা? আমাকে কি সত্যি ভালোবাসা যায়। না? এখন থেকে তুমি যা চাইবে সেটাই হবে আমি আর তোমার কাছে ভালোবাসার কথা বলবো না কোনো অধিকার ও খাটাবো না। কিন্তু আমি চাইলেও তোমাকে না ভালোবেসে থাকতে পারবো না সেটা আমার পক্ষে অসম্ভব।
প্রকাশের চোখের কোণা দিয়ে জল গড়িয়ে পরছে আর চোখের সামনে শুধু ইশারার মুখটা ভেসে উঠছে। সে সময় দরজায় নক করলো রাতুল
রাতুলঃ প্রকাশ দা আসবো?

প্রকাশঃ হ। হমম আয় (আস্তে করে উঠে বসে চোখের জল টা মুছে নিলো)
রাতুলঃ এনাও খেয়ে নাও। এরপর ওষুধ খেতে হবে। আর এখন কেমন লাগছে?
প্রকাশঃ হম ঠিক আছি। আর আমার কিছু খেতে ইচ্ছে করছে না নিয়ে যা প্লিজ
রাতুলঃ প্রকাশ দা নিজের রাগ টা তুমি প্রথমে নিজের ক্ষতি করে আর এখন খাবারের উপর দেখাচ্ছ। এতে তো ক্ষতি তোমারই হবে তাই না?

প্রকাশঃ আমার যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে গেছে রে। শোন আমি অন্য ঘরে যাচ্ছি এঘরে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয় আর। বাঁচতে চাই ভালো ভাবে আমি শান্তি চাই একটু।
বলেই প্রকাশ আস্তে করে বিছানা থেকে নেমে গেলো। যেহেতু হাত কেটেছে তাই হাঁটতে চলতে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না জাস্ট শরীর টা দুর্বল প্রকাশের। প্রকাশ দরজা থেকে বেরিয়ে যেতেই ওর বাম হাতে টান পরলো। ইশারা দরজার বাইরেই দাঁড়িয়ে ছিলো কারণ রাতুল কে দিয়ে খাবার টা ওই পাঠিয়েছে। প্রকাশ পিছন না ফিরেই ঝাড়া দিয়ে ছাড়িয়ে নিলো হাতটা আর বললো,

প্রকাশঃ আমি তো বললাম আমি একটু শান্তি চাই।
বলেই প্রকাশ সামনের দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো আর নূপুরের শব্দ আস্তে লাগলো প্রকাশের কানে এর মানে ইশারা ও আসছে প্রকাশের পিছন পিছন। এদিকে প্রকাশের বাইরে দাঁড়িয়ে কথাটা রাতুল শুনতে পেয়ে ও বেরিয়ে আসে আর ওদের পিছনে আস্তে থাকে। প্রথমে প্রকাশ তারপর ইশারা আর ইশারার পরে রাতুল। প্রকাশ একটা রুমে ঢুকে তারাতারি দরজা টা বন্ধ করে দিতে গেলে ইশারা দরজা টা আটকাতে যায়। কিন্তু আটকাতে গিয়ে ইশারার আঙুল টা চাপা পরে যায়। আর ইশারা ঝট করে সরিয়ে নিলেও আঙুল টা কেটে গিয়ে রক্ত বেরিয়ে যায়। এদিকে দরজা টা ও বন্ধ করে দেয় প্রকাশ। রাতুল সঙ্গে সঙ্গে এসে ইশারার হাত টা ধরে আর বলতে থাকে।
রাতুলঃ আরে বৌদি এটা কি করলেন এভাবে কেউ হাত দেয় নাকি দরজায়? দেখুন তো কেটে গিয়ে রক্ত বেরিয়ে গেলো।

রাতুলের কথা শুনতে পেয়ে প্রকাশ সঙ্গে সঙ্গে দরজা খুলে ইশারার সামনে চলে আসে আর উত্তেজিত হয়ে পরে।
প্রকাশঃ কে বলেছিল দরজায় হাত দিতে? আমি বলেছিলাম? একটা না একটা কিছু করে নিজের ক্ষতি করতেই হবে তাই না? এই রাতুল যা গিয়ে তুই যা গিয়ে ফার্স্ট এইড বক্স নিয়ে আয়। রক্ত বের হচ্ছে তো (প্রকাশ ইশারার আঙুল টা মুখে পুরে নিলো রক্ত বন্ধ করার জন্য)

রাতুলঃ দা তুমি বৌদি কে এই ঘরে নিয়ে যাও এখানেই ফার্স্ট এইড বক্স টা আছে।
প্রকাশ সঙ্গে সঙ্গে ইশারা কে ঘরে নিয়ে এসে সোফায় বসিয়ে ফার্স্ট এইড বক্স খুঁজতে লাগলো। সেটা নিয়ে এসে সোফায় বসে খুব যত্ন করে ইশারার হাতে মলম লাগিয়ে দিচ্ছে প্রকাশ আর ইশারা অবাক চোখে প্রকাশের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। ব্যান্ডেজ হয়ে গেলে প্রকাশ ইশারা কে কিছু বলতে যাবে তখনই ইশারার এমন চাহুনী দেখে প্রকাশ কিছু টা ইতস্তত বোধ করে বলতে লাগলো

প্রকাশঃ এভাবে আমার জন্য নিজের ক্ষতি করে লাভ নেই। কেনোই বা ক্ষতি করবেন নিজের? আমি তো কেউ হইনা আপনার তাই জন্যই তো বিরক্ত হয়ে ছেড়ে চ…..
প্রকাশ আর বলতে পারলো না তার আগেই ইশারা প্রকাশ কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিলো। ইশারা যে কাঁদছে তা প্রকাশ নিজের জামায় ভেজা অনুভব হওয়ায় বুঝতে পারছে। প্রকাশ ইশারা কে দুরে সরাতে নিলে ইশারা আরো শক্ত করে প্রকাশ কে জরযে ধরে। প্রকাশ ও নিজেকে আটকাতে পারে না। আর ইশারা ওএ জড়িয়ে ধরে প্রকাশের ও চোখ ছলছল করছে প্রকাশ ইশারার কান্না সহ্য করতে না পেরে দু হাত দিয়ে ইশারার মাথা তুলে ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে দিলো। ইশারা প্রথমে অবাক হলেও পরে প্রকাশের ডাকে সাড়া দিয়েছে।

প্রকাশ ইশারার কোমর জড়িয়ে ধরে কাছে টেনে নিলো আর ইশারা প্রকাশের কাঁধ খামচে ধরে রেখেছে। দুজন সমান তালে তাল মিলাচ্ছে আজ হয়তো এভাবেই ওদের দুজনের মিল হলো ইশারায় ভালোবাসার প্রকাশ হলো।

বেশ কিছুক্ষণ পর প্রকাশ ইশারার ঠোঁট ছেড়ে গলায় মুখ ডুবিয়ে শ্বাস নিতে থাকে। প্রকাশের গরম নিশ্বাস ইশারার গলা আর বুকে আছড়ে পড়ায় ইশারা কেঁপে কেঁপে উঠছে আর প্রকাশ কে শক্ত করে ধরে রেখেছে। প্রকাশ ইশারার গলায় মুখ ডুবিয়েই বলতে লাগলো।

প্রকাশঃ এরপর থেকে আমাকে ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবার আগে তুমি আমাকে ছেড়ে গেলে আমার কি পরিণতি হবে সেটা ভাববে। ভাববে তুমি একটা ছেলে কে যে তোমায় পাগলের মতো ভালোবাসে তাকে পুরোপুরি শেষ করে দিচ্ছো। চিরতরের মতো তাকে মেরে…

প্রকাশ কে থামিয়ে দিলো। ইশারা ঠোঁটে আঙুল দিয়ে। কিন্তু ওরা এখন ও একই অবস্থায় আছে। প্রকাশ একটু হেসে ইশারার হাতে চুমু খেলো গভীর ভাবে আর আবার ও কোমর জড়িয়ে গলায় নাক ঘষল। প্রকাশ আস্তে আস্তে ইশারার কানের কাছে গিয়ে বললো,
প্রকাশঃ আই লাভ ইউ জান!

প্রতি উত্তরে ইশারা শুধু মুচকি হাসলো যার অর্থ প্রকাশ বুঝে গেছে। প্রকাশ ইশারার উত্তর পেয়ে আবার ও কানের কাছে গিয়ে বললো,

প্রকাশঃ আই নীড ইউ রাইট নাও (ঘোর লাগা কণ্ঠে। কথাটা বলে একটা আলতো করে চুমু দিলো। ইশারার কানের লতিতে)
এবার ইশারা একটু বেশীই লজ্জা পেলো আর প্রকাশের বুকে মুখ গুঁজলো। প্রকাশ ইশারার কাঁধে চুমু দিয়ে আস্তে করে ইশারার সালোয়ারের ফিতে টা যেই না খুলতে যাবে সেইসময কেউ দরজায় নক করলো আর ইশারা চট করে সরে গেলো। আর প্রকাশ তো বেজায় চটে গেছে ইশারার দিকে রাগী চোখে তাকাতেই ইশারা কে এসেছে দেখতে বললো, ইশারায়।

প্রকাশঃ ধ্যাত! দিলো। আমার সব রোম্যান্স এর ১২ দুগুনে ২৪ টা বাজিয়ে। ভালো লাগে না ছাই।
ইশারা হাসতে লাগলো প্রকাশের কথায়। প্রকাশ গিয়ে দরজা টা খুললো কারণ রাতুল দরজা টা ভেজিয়ে দিয়ে গিয়েছিল। দরজা খুলে ওপারের ব্যক্তি কে দেখতেই প্রকাশের চোয়াল শক্ত হয়ে গেলো। হাত মুষ্ঠি বদ্ধ করে নিলো। প্রকাশ কে এভাবে দেখে ইশারা এগিয়ে গেলো। কে এসেছে দেখার জন্য। ব্যক্তি টিকে দেখতেই ইশারা প্রকাশের হাত চেপে ধরলো ভয়ে আর কিছুটা আড়ালে চলে গেলো। প্রকাশের

পর্ব ১৩

দরজা খুলে ওপারের ব্যক্তি কে দেখতেই প্রকাশের চোয়াল শক্ত হয়ে গেলো। হাত মুষ্ঠি বদ্ধ করে নিলো। প্রকাশ কে এভাবে দেখে ইশারা এগিয়ে গেলো। কে এসেছে দেখার জন্য। ব্যক্তি টিকে দেখতেই ইশারা প্রকাশের হাত চেপে ধরলো ভয়ে আর কিছুটা আড়ালে চলে গেলো। প্রকাশের। প্রকাশ ইশারার হাতে হাত রেখে লোকটির দিকে তাকিয়ে বললো,
প্রকাশঃ কেনো এসেছেন এখানে? কি চাই?

লোকটিঃ আমার তোমার সাথে কিছু কথা আছে তাই
প্রকাশঃ আমার আপনার সাথে কোনো কথা নেই মিস্টার রাজীব বোস। চলে যান এখান থেকে
রাজীবঃ নিজের বাবার সাথে এভাবে ব্যবহার করতে হয়?
প্রকাশঃ মানিনা আমি আপনাকে বাবা এটা আর কেউ না জানুক আপনি খুব ভালো ভাবেই জানেন।
রাজীবঃ আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। আমাকে এভাবে তারিয়ে দিয়ো না
প্রকাশ এর প্রতি উত্তরে কিছু বলতে যাবে তার আগেই ইশারা প্রকাশ কে টেনে নিয়ে এলো ভিতরে আর নিজে প্রকাশের বাবা রাজীবের দিকে এগিয়ে গেলো। আর ভিতরে আসতে বললো, রাজীব ভিতরে আসতেই ইশারা রাজীবের পা ছুঁয়ে নমস্কার করলো আর প্রকাশ রেগে গিয়ে বলল,

প্রকাশঃ ইশারা! আমি তোমাকে ওনার পা ছুঁয়ে নমস্কার করতে বলিনি। যেখানে আমি ওনাকে বাবা মানিনা সেখানে উনি তোমার শ্বশুরমশাই ও হয় না আর এতো সন্মান ও ডিসার্ভ করে না।
ইশারাঃ আপনার মানা না মানাতে কিছু যায়। আসে না। সত্য তো এটাই যে উনি আপনার জন্মদাতা আপনার বাবা আর সম্পর্কে আমার শ্বশুরমশাই আপনি সন্মান না করলে ও আমি সন্মান শ্রদ্ধা দুটোই করবো (ইশারায়)

রাজীব ইশারার ইশারা করে কথা বলা কিছুই বুঝতে পারলো না তাই অবাক হয়ে প্রকাশের দিকে তাকালো। আর প্রকাশ মাথা নীচু করে ইশারা কি কি বললো, তা বলে দিলো। কথা গুলো শুনে রাজীবের চোখে জল চলে এলো আর ইশারার মাথায় হাত রেখে বললো,

রাজীবঃ দীর্ঘজীবী হও মা সব সময় খুশি থাকো এই কামনা করি। কিন্তু প্রকাশ ঠিকই বলেছে আমি যে এতো সন্মান ডিসার্ভ করিনা। তোমার সাথে আমি যেটা করেছি তারপর তো নাই। তারপরেও যে তুমি আমাকে নিজের শ্বশুরমশাই মনে করেছো সন্মান দিয়েছ এটাই অনেক।

রাজীব ইশারার কাছে হাত জোর করতেই ইশারা রাজীবের হাত দুটো ধরে নিলো আর ইশারায় কিছু কথা বলতে লাগলো। রাজীব তো এর অর্থ বুঝতে না পারায় প্রকাশের দিকে তাকাতেই প্রকাশ বলে দিলো।
প্রকাশঃ ও বলতে চাইছে। আপনি আমাদের গুরুজন আপনি এভাবে আমাদের সামনে নত কেনো হবেন? ভুল মানুষ মাত্রেই হয় আর আমাদের ছোটদের উচিত তা ক্ষমা করে দেওয়া। অনেকসময় ছোটদের ভালো চাইতে গিয়ে বড়োরা ভুল করে ফেলে তা ছোটদের বোঝা উচিত আর ক্ষমা করে দেওয়া উচিত।
শেষের কথাগুলো বলতে গিয়ে প্রকাশের চোখটা ছল ছল করে উঠলো। আর প্রকাশ অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নিলো। রাজীব নিজের চশমা টা খুলে চোখের জলটা মুছে নিয়ে প্রকাশ কে উদ্দেশ্য করে বললো,
রাজীবঃ তুই আমাকে কোনদিন ক্ষমা করিস না রে বাবা। আমি যে অনেক বড়ো ক্ষতি করতে বসে ছিলাম তোর।

রাজীবের কথায় প্রকাশ রাজীবের দিকে তাকালো। তারপর ইশারার দিকে তাকাতেই দেখল ইশারা কেমন চুপসে গেছে তাই কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করলো,
প্রকাশঃ কি বলতে চাইছেন আপনি?
রাজীবঃ ইশারা হুট করেই তোকে ছেড়ে চলে যায়।নি আমি বাধ্য করেছিলাম ওকে চলে যেতে। ও যখন কলেজ যাচ্ছিল তখন আমি ওর সামনে গাড়ি নিয়ে দাঁড়াই আর নিজের পরিচয় দি। ওকে নিজের অফিসে নিয়ে এসে বলি………..

রাজীবঃ এই বিশাল অফিস টা দেখছো? এটা আমার অফিস আর এরকম আরো ১০টা অফিসের মালিক আমি। আর আমার অবর্তমানে আমার ছেলে প্রকাশ হবে এই অফিস আমার বাংলো। টাকা-পয়সা। যাবতীয় সম্পত্তির উত্তরাধিকারী।
ইশারা নিজের সাইড ব্যাগ থেকে একটা নোটবুক আর পেন বের করে ওটার মধ্যে লিখতে শুরু করল। রাজীব কিছু বললো, না কারণ রাজীব আগেই খবর পেয়েছে ইশারা বোবা কথা বলতে পারে না। কিন্তু কানে শুনতে পায়। আর ইশারা কে এখানের কারণ ও এটাই।
ইশারাঃ আপনি আমায় এসব কেনো বলছেন?

রাজীবঃ বলছি তার কারণ তুমি আমার একমাত্র ছেলের স্ত্রী। কিন্তু তোমার কোনো যোগ্যতাই নেই আমার বাড়ির বউমা হওয়ার। আছে কোনো যোগ্যতা?
ইশারাঃ আমি জানি আমি আপনার ছেলের যোগ্য নই আপনার বাড়ির বউমা হওয়ার যোগ্য নই আর তাই জন্যই তো আমি আপনার ছেলে কে বলেছি আমি তাকে ভালোবাসি না সেই তো আমাকে জোর করে বিয়ে করে এনেছে। শুধুমাত্র আমাকে ভালোবাসে বলে আমার সাথে সারাটাজীবন কাটাতে চায় বলে।
রাজীবঃ হা হা হা ভালোবাসা? আমার ছেলে তোমাকে ভালোবাসে? তোমার মতো একটা বোবা মেয়েকে এই রাজীব বোসের ছেলে ভালোবাসে বলতে চাইছো?

হা হা হা হাসালে আমায় তুমি। এইসব ভালোবাসা টালোবাসা কিছু না সব মোহ। তুমি বোবা হলেও দেখতে সুন্দর তাই হয়তো আমার ছেলে তোমার রূপে ভুলেছে। যাই হোক এসব বাজে কথা রাখো আর কাজের কথা শোনো। (কিছুক্ষণ থেমে) আমি চাই তুমি আমার ছেলের জীবন থেকে সারাজীবনের মতো চলে যাও।
ইশারা কিছুটা চমকে রাজীবের দিকে তাকালো। কিছুক্ষণ আগে রাজীবের কথাগুলো শুনে এমনিতেই ইশারার চোখ দিয়ে আপনা আপনি জল গড়িয়ে পরতে থাকে আর এখন বলছে প্রকাশের থেকে দুরে সরে যেতে। না চাইতেও ইশারা প্রকাশ কে ভালোবেসে ফেলেছে পারেনি দুরে সরে থাকতে। পারেনি প্রকাশের ভালোবাসা কে উপেক্ষা করে নিজের মনের কথা গুলো দিয়ে মন কে বোঝাতে। ধরা দিতেই হয়েছে। হার মানতেই হয়েছে প্রকাশের ভালোবাসার কাছে।,কিন্তু এখন?

এখন কি করবে ইশারা? ভেবে পাচ্ছে না সে।
রাজীবঃ আমি চাই না আমার ছেলের জীবনে তোমার ছায়া পর্যন্ত থাকুক। আমি তোমাকে সব ব্যবস্থা করে দিচ্ছি তোমার ভাইয়ের সব খরচ ও আমার
ইশারাঃ আমি পারবো না। আপনার ছেলের কথাটা একবার ভাবুন সে আমায় পাগলের মতোন ভালোবাসে আপনার ছেলের ভালো করতে গিয়ে আরো খারাপ হয়ে যাবে। আপনি আরো বেশি পরিমাণে খারাপ হয়ে যাবেন যদি সে জানতে পারে।

রাজীবঃ জানতে পারবে তারপর তো? আর ও আমার ছেলে একদিন না একদিন ঠিক বুঝবে আমি ওর ভালোর জন্য করেছি তোমাকে সে নিয়ে ভাবতে হবে না। আচ্ছা তোমার কি টাকা চাই? হমম বুঝেছি এই জন্যই রাজি হচ্ছো না তাই না? ওকে এ নাও ব্লাঙ্ক চেক (একটা চেক দিয়ে) যত অঙ্কের পারো এমাউন্ট বসিয়ে নিয়ো
ইশারাঃ আমার কোনো টাকার দরকার নেই কিন্তু আপনার ছেলের আমাকে আমার ভালোবাসার দরকার আর আমার আপনার ছেলের ভালোবাসার আমরা দুজন দুজনকে ভালোবাসি তাই চাইলেও আপনি আমাদের আলাদা করতে পারবেন না। আপনার কথায় আমি রাজি আমি দুরে সরে যাবো আপনার ছেলের কাছ থেকে। জানি সে কষ্ট পাবে সঙ্গে আমিও কিন্তু আপনার ভুল টাও তো ভাঙা দরকার তাই আমি রাজি।

প্রকাশ হাত মুঠ করে দাঁড়িয়ে রয়েছে চোখ দিয়ে জানো আগুন ঝরছে পারলে এখুনি সে সব কিছু তছনছ করে দেয় শুধু ফুঁসছে প্রকাশ। অনেক চেষ্টা করেও পারছে না নিজেকে শান্ত রাখতে।
রাজীবঃ তুই ঠিকই বলেছিলি রে মা আমি ভুল ছিলাম। আমার ছেলের যে তোকে আর তোর ভালোবাসার ভীষণ প্রয়োজন। তুই যাওয়ার পর ওর অবস্থা আমি চোখে দেখতে পারচ্ছিলাম না তাই তো…..
প্রকাশঃ শাট আপ জাস্ট শাট আপ! আর একটাও কথা বলবেন না আপনি (চিৎকার করে) ঘৃণা করি আমি আপনাকে আজ এখুনি এই মুহুর্তে আপনি আমার চোখের সামনে থেকে চলে যাবেন। আর কোনদিন আপনার মুখ ও দেখতে চাইনা আমি। একটাও কথা বলবে না তুমি তোমাকে তো আমি পরে দেখে নেবো (ইশারা কে উদ্দেশ্য করে)

ইশারা প্রকাশ কে কিছু বলতে গেলে ইশারা কে ও ধমক দিয়ে থামিয়ে দেয় প্রকাশ। ইশারা ও আর সাহস করতে পারেনি কিছু বলার মতো।
প্রকাশঃ আপনার সাহস কি করে হয় আমার স্ত্রী কে অপমান করার? কে দিয়েছে আপনাকে সে অধিকার? চলে যান আমার সামনে থেকে নাহলে আপনার জন্য ভালো হবে না। চলে যান বলছি (চিৎকার করে বললো,)
রাজীব আর কিছু বললো, না ইশারার মাথায় হাত বুলিয়ে মৃদু হেসে চলে গেলো। ইশারা জানে এই হাসির পিছনে কতো কষ্ট লুকিয়ে আছে। ইশারা এক পলকে রাজীবের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। ইশারা চোখ প্রকাশের দিকে ফেরাতেই দেখলো প্রকাশ রক্তবর্ন চোখে তাকিয়ে আছে ওর দিকে

ইশারা কিছুটা ঘাবড়ে গেলো। এবার কিন্তু প্রকাশ ইশারা কে অবাক করে দিয়ে এক ঝটকায় ইশারার হাত ধরে হেঁচকা টান মেরে নিজের সাথে মিশিয়ে ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দিলো। পাগলের মতো স্বাদ নিতে লাগলো ইশারার ঠোঁটের ইশারা প্রথমে তাল মেলালেও পরে চুপ করে গেছে প্রকাশ খুব ডিপলি কিস করছে ইশারা কে। হয়তো এভাবেই নিজের রাগ মিটাচ্ছে প্রকাশ এইটাই হয়তো ইশারার শাস্তি। কিন্তু ইশারার এই শাস্তি খারাপ লাগছে বরং ভালই লাগছে এরম শাস্তি মাঝে মধ্যে পেলে ভালো বই খারাপ হবে না। চোখ বুজে প্রকাশের ছোঁয়া অনুভব করতে থাকা অবস্থায় এইসবই ভেবে চলেছে ইশারা।

প্রকাশ ইশারার ঠোঁট কিছুক্ষণ পরেই ছেড়ে দিলো। আর ইশারা ও চোখ মেলে তাকালো। ইশারা তাকাতেই প্রকাশ আবার ও ইশারার ঠোঁটে গভীর ভাবে চুমু দিলো। আর ইশারা কে ছেড়ে বেরিয়ে গেলো। ঘর থেকে। ইশারা এখনো নিজের জায়গায় বেকুবের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে। আপনা আপনি ইশারার হাতের আঙুল গুলো ঠোঁটে চলে গেলো। আর নিজের অজান্তেই ইশারা হেসে ফেললো। পরক্ষণেই ইশারার মনে পরলো প্রকাশ বেরিয়ে গেছে। আর প্রকাশের রাগ হয়তো এখনও কমেনি যদি আবার কিছু করে বসে তখন? এই ভাবতেই ইশারাও বেরিয়ে গেলো।

ইশারা সারা বাড়ি খুঁজে ফেলেছে কিন্তু প্রকাশ কে কোথাও পায়।নি ইশারার এবার ভীষণ কান্না পাচ্ছে কি করবে কিছুই বুঝতে পারছে না।
ইশারাঃ প্রকাশ আপনি কোথায়? এভাবে হঠাৎ করে কোথায় চলে গেলেন রাগের মাথায়। আমার যে ভীষণ চিন্তা হচ্ছে আপনি কি আবার আগের দিনের মতো নেশা করে ফিরবেন? নিজের আবার কোনো ক্ষতি করে বসবে না তো?

ইশারার মনে ভয় ক্রমশ বাড়ছে এইসব ভাবনার মাঝেই ইশারার মনে পরলো ছাদ তো চেক করা হয়নি। সারা বাড়ির মধ্যে ঐ একটা জায়গাই তো বাকি আছে। যেমন ভাবা তেমন কাজ ইশারা সঙ্গে সঙ্গে দৌঁড় দিলো। ছাদের দিকে।
এদিকে প্রকাশ ছাদে বসে একের পর এক সিগারেট শেষ করছে চোখ গুলো আবার ও লাল হয়ে গেছে প্রকাশের মাঝে মাঝেই জল গাল বেয়ে পরছে চোখ থেকে। আজ প্রকাশের যন্ত্রণা টা তীব্র থেকে তীব্র হয়ে গেছে সে ভাবতেও পারছে না তার নিজের বাবা এমনটা করবে। যাকে সে পাগলের মতো ভালোবাসে তাকে দুর করতে চেয়েছে ওর নিজের বাবা। এটা ভাবলেই প্রকাশের ভিতর টা ফেটে যাচ্ছে আজ যদি ইশারা কে খুঁজে না পেতো প্রকাশ? সত্যি সত্যি যদি চিরতরের মতো হারিয়ে যেত ইশারা? কি করতো তখন সে। কি নিয়ে বাঁচত? এসব ভাবলেই প্রকাশের বুকের ভিতর টা মোচড় দিয়ে উঠছে। প্রকাশের ভাবনার মাঝেই শুনতে পেলো সেই চেনা নূপুরের”ছনছন”শব্দ। আর বুঝেও গেলো। তার”প্রাণ পাখি”টা তার কাছে আসছে।

ইশারা ছাদে এসে চারিদিকে চোখ বুলাতেই দেখতে পেলো প্রকাশ ছাদের রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছে আর হাতে সিগারেট। এতক্ষণে ইশারার দেহে জানো প্রাণ এলো সঙ্গে সঙ্গে ইশারা ছুটে গেলো। প্রকাশের কাছে আর পিছন থেকে ঝাপটে ধরলো প্রকাশ কে। ইশারা এতো শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছে যে প্রকাশ না নিজে নড়তে পারছে না ইশারা কে নড়াতে পারছে। প্রকাশ হাতের থেকে সিগারেট টা ফেলে দিলো। আর ইশারার হাত দুটো ধরে আলগা করে ইশারার দিকে ফিরলো ফিরে দেখলো ইশারা ফোঁপাচ্ছে। আস্তে করে নিজের বুকে নিয়ে নিলো

ইশারা কে প্রকাশ এ জানো এক আলাদা প্রশান্তি এতক্ষণ প্রকাশের মনে যেই জ্বালা টা হচ্ছিল তার উপর জানো নিমিশেই মাটি চাপা পরে গেলো। প্রকাশের সব মনের রোগের ওষুধ যে একমাত্র ইশারা তা প্রকাশের বুঝতে বাকি নেই।
অপর প্রান্তে ইশারার মধ্যেও একটা ভালো লাগা কাজ করছে এতক্ষণের সব চিন্তা দুর হয়ে গেছে প্রকাশ কে কাছে পেয়ে। এতদিন প্রকাশ যেমন ইশারা কে আকড়ে ধরে বাঁচতে চাইত এখন ইশারাও ঠিক একভাবে প্রকাশ কে আকড়ে ধরে বাঁচতে চায় প্রকাশ কে ছাড়া জানো ওর কোনো অস্তিত্ব নেই গতি নেই। প্রকাশ থেকেই ওর শুরু আর প্রকাশে গিয়েই শেষ।”ভালোবাসে ভীষণ ভালোবাসে প্রকাশ কে ইশারা!”এসব ভেবেই ইশারা প্রকাশের বুকে আলতো করে ঠোঁট ছোঁয়ালো আর প্রকাশ তো অবাক!

পর্ব ১৪

ইশারা চুপ করে প্রকাশের বুকে মুখ গুঁজে রয়েছে আর প্রকাশ ইশারার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে কিছুক্ষণ এভাবে চলার পর প্রকাশ ইশারাকে বললো,
প্রকাশঃ ইশারা! একটু একা থাকতে চাই আমি!
ইশারা প্রকাশের বুক থেকে মাথা উঠিয়ে করুন চোখে প্রকাশের দিকে তাকালো। প্রকাশ ইশারার দু-গালে হাত রেখে বললো,

প্রকাশঃ চিন্তা করো না আমি ঠিক আছি শুধু নিজেকে সময় দেওয়া প্রয়োজন
প্রকাশ কথাটা বলেই পিছন ফিরে গেলো। আর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আকাশের দিকে তাকালো। কিন্তু প্রকাশ বুঝতে পারলো ইশারা যায়।নি ও এখনো এখানেই আছে ইশারার উপস্থিতি টের পাচ্ছে প্রকাশ তাই সামনের দিকে ফিরলো দেখলো ইশারা অভাবেই দাঁড়িয়ে রয়েছে একটু ও নড়েনি
প্রকাশঃ তোমাকে তো বললাম আমি একা থাকতে চাই!

ইশারাঃ আমি তো কথা বলতে পারিনা যে আপনাকে কথা বলে ডিস্টার্ব করবো! আমি এমনি দাঁড়িয়ে আছি আপনার কোনো অসুবিধা হবে না (ইশারায়)
প্রকাশ বুঝলো ইশারা খানিকটা অভিমান করে কথা টা বোঝাল কারণ কথাটা বোঝানোর সময় ও একবার ও প্রকাশের দিকে তাকায়নি প্রকাশ নিজের দু-হাত বাড়িয়ে ইশারার কোমর জড়িয়ে ধরে নিজের কাছে টেনে দাঁড়ালো আর ইশারার কপালে একটা আলতো চুমু দিলো। তারপর আস্তে আস্তে ইশারা কে জড়িয়ে ধরে ওর কাঁধে মাথা রাখলো

প্রকাশঃ জানো ইশারা আজ আমার ভীষন কষ্ট হচ্ছে আমার নিজের বাবা যে এমন করবে আমি ভাবতেও পারিনি ওই যে বলে না কেউ পিছন থেকে ছুরি দিয়ে আঘাত করলে ততটা কষ্ট হয় না যতটা কষ্ট হয় যখন জানা যায়। যে আঘাত টা নিজের কাছের মানুষ করেছে। কি করে পারলো উনি এভাবে আমার কাছ থেকে আমার ভালোবাসা কে দুরে সরানোর কথা ভাবতে? আমার কি হবে এটা একবার ও ভাবলো না কোনদিন ভাবেওনি সেটা সবসময় নিজে যেটা মনে করেছে সেটাই করেছে আমার ভালো-লাগা মন্দ-লাগার কোনো দাম নেই তার কাছে…!

ইশারা প্রকাশের থেকে নিজেকে ছাড়াতেই প্রকাশ মাথা নীচু করে নিলো ইশারা প্রকাশের দু-গালে হাত দিয়ে মাথাটা উঁচু করতেই দেখলো প্রকাশ কাঁদছে। প্রকাশের চোখের জল টা মুছিয়ে দিয়ে প্রকাশ কে ছাদে থাকা দোলনায় বসালো। ইশারা প্রকাশের পাশে বসতেই প্রকাশ ইশারার কোলে মাথা রেখে শুয়ে পরলো আর ইশারা প্রকাশের চুলে বিলি কেটে দিতে লাগলো প্রকাশ নিজের হাতের ভাঁজে ইশারার বাম হাত টা নিয়ে রেখেছে আর মাঝে মাঝেই তাতে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিচ্ছে। আস্তে আস্তে প্রকাশ ওখানেই ঘুমিয়ে পরলো আর ইশারা তা বুঝতে পেরে প্রকাশের মাথাটা নিজের কোল থেকে নামিয়ে ছাদের দরজার দিকে তাকালো। সেইখানে রাতুল দাঁড়িয়ে ছিলো। ইশারা ধীর পায়ে চলে এলো ছাদ থেকে নীচে নিজের ঘরে আর এদিকে প্রকাশ তো ঘুমিয়ে পড়েছে
ইশারা নিজের ঘরে বসে রয়েছে রাতুলের সাথে,

, রাতুল খাটের এক পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে ইশারা আস্তে করে উঠে রাতুলের কাছে গেলো। আর রাতুলের কাঁধে হাত রাখলো রাতুল ইশারার দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো সেই মুহুর্তেই প্রকাশ ঘরে ঢুকল আর জিজ্ঞেস করলো

প্রকাশঃ রাতুল তুই এখানে এত রাতে?
প্রকাশের গলা শুনে ইশারা আর রাতুল দুজনেই প্রকাশের দিকে একবার তাকালো। তারপর একে অপরের দিকে তাকালো। ইশারা রাতুল কে চোখ দিয়ে ইশারা করতেই রাতুল প্রকাশের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো আর বললো,
রাতুলঃ প্রকাশ দা আসলে…

প্রকাশঃ আসলে কি? তুই কি কিছু বলতে চাস?
রাতুলঃ হমম। আজ আমি যে তোমাকে বৌদির খবর দিয়েছি তা আমাদের কোনো লোক আমাকে দেয়নি।
প্রকাশঃ তাহলে কার থেকে খবর পেয়েছিস?
রাতুলঃ তোমার বাবার কাছ থেকে!
প্রকাশঃ কিহহহহ..?

রাতুলঃ হমম আসলে তুমি যেই দু-দিন ঘরে বন্দী ছিলে সেই দু-দিন আঙ্কেল এসেছিল আমাদের এখানে তোমার খোঁজ খবর নিতো আর হতাশ হয়ে ফিরে যেতো। আমি যখন বলি তোমার অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে সেইদিন আর কিছু না বলেই বেরিয়ে যায়। আর তার কিছুক্ষণ পরেই আমায় ফোন করে আর বলে আমি জানো এই ঠিকানায় তোমাকে নিয়ে চলে যাই ওখানেই নাকি বৌদি আর ইশান কে পাবো।
রাতুল এটুকু বলেই বেরিয়ে গেলো। আর ইশারা এসে প্রকাশের সামনে দাঁড়ালো প্রকাশ মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে কিছুক্ষণ ওভাবে দাঁড়িয়ে থাকার পর প্রকাশ ইশারা কে পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে যেতে নিলেই ইশারা প্রকাশের হাত টেনে ধরে আর বিছানায় বসায় প্রকাশ উঠে যেতে নিলে ইশারা প্রকাশের হাতে একটা কাগজ ধরিয়ে দেয়

ইশারাঃ প্রকাশ আপনার বাবা আপনাকে খুব ভালোবাসে আপনার ভালো চায় অনেকসময় বড়োরা ছোটদের ভালো চাইতে গিয়ে একটু-আধটু ভুল করে ফেলে এগুলো মনে রাখতে নেই আজ যদি উনি খবর না দিতো তাহলে হয়তো আমরা এক হতে পারতাম না। উনি যেমন দুরে সরিয়ে ছিলেন তেমন উনিই তো কাছে এনে দিলেন আমাদের। ছোট থেকে আপনি যেমন বাবার অভাব ভোগ করেছেন তেমন উনিও তো ছেলের অভাব ভোগ করেছেন এখন আপনি আপনার মতো ভালো থাকলেও উনি কি ভালো আছেন?

উনি তো এইসময় টা আপনার সাথে থাকতে চায় কোনো বাবা-মা ই তার সন্তান কে ছাড়া ভালো থাকে না। তেমন উনিও নেই। এখন যখন উনি আপনাকে পাশে চাইছেন তখন আপনার উচিত সব ভুলে ওনার পাশে থাকা শত হোক আপনি ওনার ছেলে আর আপনি ও যে ওনাকে ছাড়া ভালো আছেন তা তো নয় তাই না? তাহলে কেনো ফিরে যাচ্ছেন না?

প্রকাশ মাথা নীচু করে চোখের জল ফেলছে ইশারা প্রকাশের কাঁধে হাত রাখতেই প্রকাশ ইশারা কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো কিছুক্ষণ বাদে ইশারা প্রকাশ কে নিজের থেকে ছাড়িয়ে বললো,
ইশারাঃ আমি আমার শ্বশুরবাড়ি যেতে চাই নিয়ে যাবেন? (ইশারায়)
প্রকাশ হ্যাঁ বোধক মাথা নাড়তেই ইশারা প্রকাশের চুলগুল এলোমেলো করে হেসে দিলো। আর একে অপরকে জড়িয়ে ধরলো

সকালে…….

প্রকাশ গাড়ি ড্রাইভ করছে আর ইশারা পাশে বসে আছে ইশান কে স্কুলে দিয়ে প্রকাশ আর ইশারা প্রকাশের নিজের বাড়িতে যাচ্ছে। প্রকাশ ড্রাইভ করছে আর বার বার আড় চোখে ইশারার দিকে তাকাচ্ছে ইশারা সেটা বুঝতে পেরেও না বোঝার ভান ধরে জানলার বাইরে তাকিয়ে আছে। ইশারা এবার দেখলো গাড়ি টা একটা বিশাল বাড়ির ভিতর ঢুকছে সিকিউরিটি গার্ড এসে দরজা টা খুলে দিলো। গাড়ি টা ভিতরে প্রবেশ করতেই ইশারা দেখলো চারিপাশে নানান রকম গাছ লাগানো বাগান আছে আর বাড়িতে ঢুকতেই রাস্তাটাকে দু-ভাগে ভাগ করছে

একটা কৃত্তিম ফোয়ারা তার একটা রাস্তা দিয়ে গাড়ি টা গিয়ে ঘুরে দাঁড়ালো এক বিশাল দরজার সামনে। গাড়ি থামতেই ইশারা প্রকাশের দিকে তাকালো। আর প্রকাশ চোখ দিয়ে সম্মতি জানালো নামার জন্য
প্রকাশ আর ইশারা গাড়ি থেকে নেমে দরজার সামনে দাঁড়াতেই একটা গার্ড প্রকাশের সামনে এলো আর প্রকাশ তাকে গাড়ির চাবি টা দিয়ে দিতেই চলে গেলো। তা নিয়ে। ইশারা দেখলো প্রকাশ মাথা নীচু করে নীচের দিকে তাকিয়ে আছে আজ নিজের বাড়িতে হয়তো অনেকদিন পর সে পা রাখতে চলেছে ইশারা আস্তে করে প্রকাশের বাহু জড়িয়ে ধরলো আর প্রকাশ নীচের দিকে তাকিয়েই হাসলো তারপর মাথা উঠিয়ে এগিয়ে গেলো। ইশারা হাতের উপর হাত রেখে,

,দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কাঁপা কাঁপা হাতে প্রকাশ কলিং বেল বাজালো কলিং বেল বাজানোর কিছুক্ষণ পরে কেউ একজন দরজা খুলে দিলো। দরজা খুলতে দেরী হলো কিন্তু দরজা খুলে দেওয়া ব্যক্তির প্রকাশ কে জড়িয়ে ধরতে দেরী হলো না প্রায় ঝড়ের গতিতে সে প্রকাশ কে জড়িয়ে ধরলো।
ছেলেটি: ব্রো এত্তদিন পর তোর আমার কথা মনে পরলো? এতদিন কেনো আসিসনি? সাচ আ লায়ার ইউ আর অলয়েস বলেছিস আসবি বাট আসিসনি আই ডোন্ট ওয়ান্না টক উইথ ইউ
প্রকাশঃ আবে তুই এখানে দাঁড়িয়ে এতগুলো কথা বলে ফেললি আর কি বাকি রেখেছিস কথা বলার মতো? ভিতরে ঢুকতে দিবি না আমি চলে যাবো

ছেলেটি: নো নেভার কাভি নাহি তোকে এখান থেকে কেউ নিয়েই যেতে পারবেনা। এই সত্যি বল তো তুই আমার থেকে ভালো ভাই পেয়ে গেছিস তাই না? ঐ তো ঐ তো ঐ রাতুল তাই না?(কাঁদো কাঁদো ফেস করে)
প্রকাশঃ থাম! তোর গিফ্ট আমি এনেছি ভিতরে ঢুকতে দিলে পাবি না হলে রাতুল কে দিয়ে দেবো
ছেলেটি: এই না না না না আমি তো মজা কর রাহা থা হিহিহি চল চল ভিতরে চল লাপ ইউ ভাই (ঝাপ্পি দিয়ে)
প্রকাশঃ বড়ো কবে হবি তুই আর তোর এই ঝাপ্পি পাপ্পি দেওয়া কবে বন্ধ হবে। ভুলে যাস না ছেলে আমি মেয়ে না পেয়ে কি অবস্থা হয়েছে

ছেলেটি: মাজাক মাত উরাও মেরা মেয়ন্ বহাত ফেমাস হুন তুমহে পাতা হায় নাহি হেইন
প্রকাশঃ হ্যাঁ এবার ভিতরে যাই। পায়ে ব্যথা করছে আমার আর আমার বউয়ের
ছেলেটি: ভাবির সাথে পরিচয় করিয়ে দে
প্রকাশঃ দুরে থাক! আর ভিতরে চল
__কেউ ভিতরে আসবে না!

প্রকাশ আর ইশারা ভিতরে আসবে সেসময় ভিতর থেকে একজনের কণ্ঠর স্বর শোনা গেলো। ইশারা এতক্ষণ বেশ মজা পাচ্ছিল কিন্তু এখন একটু ভয় লাগছে প্রকাশ ও চুপচাপ দাঁড়িয়ে রয়েছে। পাশের ছেলেটি হুট করে প্রকাশের পাশ থেকে সরে ভিতরে চলে গেলো। আর প্রকাশ ইশারার হাত টা ধরে পিছন ফিরে যেতেই আবার কণ্ঠর স্বর শোনা গেলো।

__ঘরের নতুন বউমা কে বরণ না করেই ভিতরে আসতে দেবো নাকি?
প্রকাশ আর ইশারা অবাক হয়ে পিছন ফিরলো কথাটা শুনে আর দেখলো একটি মাঝ বয়সি মহিলা সুন্দর করে শাড়ি পরা আর হাতে বরণ ডালা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আস্তে আস্তে উনি এগিয়ে এলেন আর বরণ শুরু করলেন বরণ শেষে তাদের কাজের লোক কে বললেন চালের ঘটি রাখতে চৌকাটে যা ফেলে ইশারা ঘরে আসবে। যেমন কথা তেমন কাজ প্রকাশ তো শুধু অবাক হচ্ছে এসব দেখে ভিতরে আসতেই প্রকাশের বোন ইশারা কে এসে জড়িয়ে ধরলো আর বললো,
মেয়েটিঃ ওয়েলকাম হোম বউমনি

প্রকাশঃ ইশারা ও দিয়া আমার বোন (মেয়েটি কে উদ্দেশ্য করে) আর ও দীপ আমার ভাই (ছেলেটির দিকে উদ্দেশ্য করে) ওরা যমজ। আমার কাকিমণি (মহিলাটি কে উদ্দেশ্য করে) আর উনি আমার কাকা (সদ্য ঘর থেকে বেরিয়ে আসা লোকটিকে উদ্দেশ্য করে)
কাকিমণি: দিয়া তোর বউমনি কে ঘরে নিয়ে যা।
দিয়া: হ্যাঁ বউমনি চলো

প্রকাশঃ আব। এক মিনিট তোমাদের সবাইকে একটা কথা বলার ছিলো। আসলে ইশারা কথা ব…
কাকিমণি: আমরা সব জানি তোকে বলতে হবে না বুঝলি।
প্রকাশ বুঝলো ওর বাবা বলেছে সবাই কে তাই আর কথা বাড়ালো না।
কাকাঃ আর কতদিন এভাবে আমাদের উপর রাগ করে দুরে সরে থাকবি?
প্রকাশঃ (নিশ্চুপ)

কাকিমণি: মানছি ছোটবেলায় আমরা অনেক ভুল করেছি তোর খেয়াল না রেখে। কিন্তু তুই তো জানিস আমরা কতটা ব্যস্ত ছিলাম। দীপ আর দিয়া কেও ঠিক করে সময় দিতে পারিনি। আর ওদের সময় দিতে দিয়ে তোকে।
কাকাঃ ব্যস্ততার মাঝে আমার এই ছেলেটার কথা আমি ভুলে গেছিলাম। তোর দায়িত্ব যেখানে বউদি আমায় দিয়ে গেছিল সেখানে আমি..(চোখের জল মুছছেন)
কাকিমণি: আমাদের কি ক্ষমা করা যায়।না বাবাই?

“বাবাই”ডাকটা শুনে প্রকাশ নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না ঝাপটে ধরলো ওর কাকিমণি কে আর বললো,
প্রকাশঃ আ’ম সরি মণিমা আর কখনো তোমাদের ছেড়ে যাবো না।
কাকাঃ তোর বাবা উপরের ঘরে আছে। তোর মায়ের ঘরে জানে না তোরা এসেছিস এই কয়েকটা বছর অনেক কষ্টে কাটিয়েছে। যা বাবার কাছে যা
প্রকাশ একবার ইশারার দিকে তাকালো। ইশারা চোখ দিয়ে সম্মতি জানাতেই প্রকাশ দৌঁড়ে উপরে চলে গেলো।……..

পর্ব ১৫

প্রকাশ একবার ইশারার দিকে তাকালো। ইশারা চোখ দিয়ে সম্মতি জানাতেই প্রকাশ দৌঁড়ে উপরে চলে গেলো। প্রকাশ নিজের বাবার ঘরে যেতেই দেখলো ওর বাবা ওর মায়ের একটা ছবির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। অনেক বড়ো একটা ছবি যা দেয়ালে টানানো প্রকাশ ধীর পায়ে গিয়ে বাবার পাশে দাঁড়ালো। রাজীব প্রকাশ কে দেখে সঙ্গে সঙ্গে নিজের চোখের জল আড়াল করে বললো,
রাজীবঃ তুমি এসেছো? কখন এলে?

প্রকাশঃ ঠিক তখন যখন তুমি মামের ছবির সামনে দাঁড়িয়ে চোখের জল ফেলছিলে ড্যাড!
রাজীব অবাক হয়ে তাকিয়ে রয়েছেন প্রকাশের দিকে ড্যাড! কথাটা শুনে কিন্তু প্রকাশ স্থির ও শান্ত চোখে সামনে ছবির দিকে তাকিয়ে আছে। রাজীব নিজের কাঁপা কাঁপা হাত প্রকাশের কাঁধে রাখতেই প্রকাশ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো আর বললো,

প্রকাশঃ আ’ম সরি ড্যাড! আমার ঠিক হয়নি তোমার উপর এভাবে এতদিন রেগে থাকা। অনেক অপমান করেছি তোমায় আ’ম রিয়েলি রিয়েলি সরি ড্যাড।
রাজীব প্রকাশ কে জড়িয়ে ধরলো আর প্রকাশ ও জড়িয়ে ধরলো। আজ অনেক বছর পর প্রকাশ নিজের বাবা কে বাবা বলে সম্বোধন করেছে। জড়িয়ে ধরেছে আজ সব ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে বাবা-ছেলের সম্পর্ক ঠিক হলো। দুর থেকে দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে ইশারা। দীপ-দিয়া। কাকা-কাকিমণি খুশিতে চোখের জল ফেলছে। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর সবাই সরে গেলো। আর দিয়া ইশারা কে প্রকাশের ঘরে রেখে চলে গেলো।

ইশারা প্রকাশের ঘরের সব জিনিস খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে সব কি সুন্দর করে সাজানো গোঁছানো। ইশারা দেখলো বিছানার পিছনের দেয়ালে প্রকাশের একটা বড়ো ছবি টানানো যেখানে প্রকাশের চুল গুলো একদম এলোমেলো হয়ে রয়েছে যার জন্য কপাল ঢেকে গিয়ে চোখের মধ্যে চুল পরে রয়েছে আর প্রকাশ বাঁকা হাসি ঠোঁটের কোণে রেখে হাসছে। ইশারা ছবিটা দেখে খুব বড়ো ধরণের একটা ক্রাস খেলো যদিও সব সময় ইশারা সেটা খায় খুব একটা বড়ো ব্যাপার না কারণ প্রকাশের সৌন্দর্যটাই এমন। ইশারা নিজের মনে মুচকি হেসে ব্যালকনি তে চলে গেলো।

আজ কে খুব সুন্দর পরিবেশ টা মেঘলা করে হাওয়া দিচ্ছে হয়তো কিছুক্ষণের মধ্যেই বৃষ্টি আসবে। মৃদু বাতাস ইশারার শরীর ছুঁইয়ে যাচ্ছে হাওয়ায় চুল গুলো উড়ছে ইশারার। ইশারা ভাবছে আজ প্রকাশ কে তার নিজের বাবার কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরেছে। সে। ঠিক এভাবে যদি কেউ ইশারার বাবা-মা কে ফিরিয়ে দিতে পারতো? তাহলে ইশারাও নিজের বাবা-মায়ের আদর পেতো কতদিন নিজের বাবা-মা কে দেখেনা ইশারা। ভাই টা তো আরো বেশী কষ্ট পায়। অনেক ছোট বেলায় হারিয়েছে সে বাবা-মা কে কিন্তু এখন প্রকাশ সেই কষ্ট টা কিছুটা হলেও লাঘব করেছে। এখন থেকে ইশারার ও বাঁচার একটা উদ্দেশ্য আছে এটা ভাবতেই ইশারার মনটা কিছুটা ভালো হয়ে গেলো।

ঠিক সেই সময় ইশারা নিজের পেটে শীতল হাতের স্পর্শ পেলো আর পিঠে গরম নিশ্বাস। এটা যে প্রকাশ তা বুঝতে বাকি রইলো না ইশারার। প্রকাশ ঘরে এসে চারিদিকে ইশারা কে দেখতে না পেয়ে ব্যালকনি তে আসতেই দেখলো ইশারার লম্বা একছেয়ে চুলগুলো বাতাসে এলোমেলো হয়ে উড়ছে সঙ্গে ইশারার শাড়ির আঁচল টাও যার ফলে ইশারার ফর্সা পিঠ টা দেখা যাচ্ছে আজ জানো প্রকাশ কে ভীষণ ভাবে আকর্ষণ করছে ইশারার এই রুপ। প্রকাশ পিছন থেকে গিয়ে ইশারা কে আলতো করে জড়িয়ে ধরলো।

,প্রকাশের এমন ছোঁয়া পেয়ে ইশারা কেঁপে উঠলো প্রকাশের স্পর্শ গুলো ধীরে ধীরে গভীর হচ্ছে পিঠ থেকে এখন কাঁধে ঠোঁট বুলাচ্ছে প্রকাশ। আর একটা হাত ইশারার পেটে বিচরণ করছে ইশারা প্রকাশের হাত টা ধরে রেখেছে শক্ত করে প্রকাশ ইশারার ঘাড়ে চুমু দিতেই ইশারা প্রকাশের হাতটা খামচে ধরলো চোখ বুজে আর সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশের দিকে ফিরে প্রকাশ কে জড়িয়ে ধরলো। প্রকাশ ইশারা কে সামনে এনে ওর মুখ টা তুলতেই ইশারা মুখ ঘুরিয়ে নেয় আর বৃষ্টি শুরু হয়ে যায়। প্রকাশ ইশারার কানের কাছে গিয়ে আস্তে করে ঠোঁট বুলায় আর বলে

প্রকাশঃ ইশান কে ড্রাইভার নিয়ে আসবে স্কুল থেকে। সো আমাদের মাঝে এখন কোনো বাঁধা নেই আর ওয়েদর ও কিন্তু পারফেক্ট (একটা চুমু দিলো।)
ইশারা আর কিছু না বলে প্রকাশের দিকে ফিরতেই প্রকাশ ইশারার কোমর জড়িয়ে ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে দিলো। কিছুক্ষণ পর ছেড়ে ইশারা কে কোলে তুলে নিলে ইশারা প্রকাশের বুকে মুখ গোঁজে আর প্রকাশ ইশারা কে নিয়ে ঘরে চলে যায়। ইশারাকে বিছানায় শুয়ে দিয়ে নিজের ভর ছেড়ে দেয় ইশারার ওপর আর ইশারার গলায় মুখ ডুবিয়ে দেয়। ইশারা নিজের এক হাত আবদ্ধ করে প্রকাশের চুলের মধ্যে আর আরেক হাত রেখেছে প্রকাশের হাতের উপর

আজ থেকে শুরু হলো একটা নতুন অধ্যায়। ওদের জীবনের। প্রকাশের কথা মতোই #ইশারায়ভালোবাসারপ্রকাশ ঘটল। মিটে গেলো। ওদের মাঝের সকল দ্বিধা-দ্বন্দ্ব মিলিত হলো ওরা দুজন
প্রকাশের বুকে মাথা রেখে ইশারা শুয়ে রয়েছে বাইরে এখন মুষলধারে বৃষ্টি পরছে আর তার সঙ্গে দমকা বাতাস বইছে। জানলা দিয়ে সেই হাওয়া আসছে আর ঘরের বাতাস টা ঠান্ডা করে দিচ্ছে খুব বেশি ঠান্ডা লাগায় ইশারা আরো শক্ত করে প্রকাশ কে জড়িয়ে ধরল প্রকাশও এক হাত দিয়ে ইশারা কে নিজের সাথে জড়িয়ে মাথায় আলতো করে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিলো।
প্রকাশঃ রাত হয়ে গেছে জান! খাবে না..?

ইশারা হ্যাঁ বোধক মাথা নাড়লো।
প্রকাশঃ তুমি ফ্রেশ হয়ে নাও আমি খাবার ঘরে নিয়ে আসছি।
ইশারাঃ আমি সবার সাথে নীচে বসেই খাবো (ইশারায়)
প্রকাশঃ আচ্ছা আমি আসছি তুমি ফ্রেশ হয়ে নাও
ইশারাঃ কোথায় যাচ্ছেন? (প্রকাশের হাত টেনে ধরে ইশারায়)
প্রকাশঃ আসছি একটা ইম্পরট্যান্ট কল এসেছে (ইশারার কপালে ঠোঁট ছুঁয়ে)

প্রকাশ নিজের শার্ট টা নিয়ে ব্যালকনির দিকে বেরিয়ে গেলে ইশারা আস্তে আস্তে বিছানা ছেড়ে ওয়াশরূমে চলে যায়। ফ্রেশ হতে কিছুক্ষণ পর শাওয়ার নিয়ে বেরিয়ে এসে ইশারা দেখে প্রকাশ নেই ঘরে
ইশারাঃ এখন ও আসেননি উনি? কি এমন ইম্পরট্যান্ট কল এসেছে ওনার যে আমার সামনে কথা বললেন না (মনে মনে)

দিয়া: বউমনি! (দরজা ধাক্কিয়ে)
ইশারা দিয়ার আওয়াজ পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে গিয়ে দরজা খুলে দিলো। আর দিয়া ভিতরে এসে বললো,
দিয়া: ওহ বউমনি! সেই যে এসে ঘরে ঢুকলে আর বেরোলেই না এদিকে তোমার ভাই মানে ইশান এসে তোমায় খুঁজছিলো আমি আর দীপ মিলে অনেক কষ্টে আটকে রেখেছি নানান অজুহাত দিয়ে। আর রাত ও তো অনেক হয়েছে খাবে না নাকি?

ইশারাঃ তুমি যাও আমরা আসছি (ইশারায়)
দিয়া: ওহ হো বুঝেছি দাদাভাইয়ের সাথে ব্যস্ত ছিলে হমম?
ইশারা প্রতি উত্তরে মুচকি হাসলো আর দিয়া হেসে চলে গেলো। আর ইশারা দরজা টা ভেজিয়ে দিলো। আর ব্যালকনির দিকে চলে গেলো। এদিকে প্রকাশ কথা বলতে ব্যস্ত
প্রকাশঃ আমিও তো তোকে ভীষণ মিস করছি

প্রকাশঃ তো তোর কেনো মনে হচ্ছে আমি তোকে ভালোবাসি না? আমি তো বললাম আমি তোকে ভালোবাসি
~ ….
প্রকাশঃ ওকে ফাইন বিশ্বাস করিস না আমাকে আমি ফোন রাখছি দেন
~ ….
প্রকাশঃ তুই আমাকে হার্ট করছিস আমি না। আমি এতো দিন ধরে তোকে ভালোবাসি আর তুই কি না।
~ ….
প্রকাশঃ ইয়াহ! তুই যেমন টা বলেছিস ঠিক তেমনটাই হবে আমি ওকে নিয়েই যাবো কালকে। এতদিন অনেক কষ্ট পেয়েছি ওর জন্য এবার শান্তি চাই। আমার যেটার দরকার সেটা তো আমি কিছুক্ষণ আগেই পেয়ে গেছি (বাঁকা হেসে) এখন আর ওর দরকার নেই।
~ ….
প্রকাশঃ লাভ ইউ! বায়।
প্রকাশ ফোন রেখে পিছনে ফিরতেই চমকে উঠলো কারণ সেখানে ইশারা দাঁড়িয়ে আছে প্রকাশ বেশ অপ্রস্তুত হয়ে পরেছে ইশারা কে এভাবে দেখে
প্রকাশঃ শিট! সব শুনে ফেললো না তো? তাহলে কালকের প্লান পুরো ভেস্তে যাবে। এতদিন ধরে যা নাটক করলাম শেষ মুহুর্তে এসে সব কিছুর উপর জল না ঢেলে দেয় এই মেয়ে। (মনে মনে)
প্রকাশঃ আব ইশারা ত। তুমি এখানে ক। কি করছ?

ইশারাঃ দিয়া এসেছিল নীচে যাওয়ার কথা বলেছে তাই ডাকতে এলাম আপনাকে।
প্রকাশঃ (থ্যাংক গড কিছু শোনেনি) ওকেই চলো যাচ্ছি আমি
প্রকাশ ইশারা কে পাস কাটিয়ে বেরিয়ে যেতেই ইশারার চোখ দিয়ে জল গাল বেয়ে গড়িয়ে পরতে লাগলো। ইশারা প্রকাশের সব কথা শুনেছে এতক্ষণ নিজের চোখের জল ধরে রাখতে পারলে ও আর পারছে না এখন। কিছু ভাবতে পারছে না ইশারা সব কিছু কেমন ওলট পালট হয়ে যাচ্ছে তবুও ইশারা কিছু বললো, না প্রকাশ কে চুপচাপ নীচে চলে গেলো। ইশারা নিজেকে স্বাভাবিক করে।

রাতের বেলা খাওয়া শেষে ঘরে এসে ইশারা প্রকাশের সাথে কোনো কথা বললো, না চুপ চাপ নিজের জায়গায় এসে এক পাশ ফিরে শুয়ে পরলো বিছানায়। অপর পাশেই প্রকাশ শুয়ে আছে সে শুয়ে শুয়ে ফোন চালাচ্ছে আর মুচকি মুচকি হাসছে ইশারা চোখের কোণ দিয়ে অনবরত জল পরছে হঠাৎ করেই প্রকাশ ইশারা কে টান মেরে নিজের বুকে নিয়ে নিলো আর ইশারা কে এক হাত দিয়ে জড়িয়ে নিয়ে ঘুমিয়ে পরলো
ইশারাঃ প্রকাশ আপনি এমনটা কি করে করতে পারলেন আমার সাথে? এতো ভালো অভিনয় কি করে করেন আপনি? আমি আপনাকে কিচ্ছু বলবো না এই ব্যাপারে আমিও দেখতে চাই আমার ভাগ্যে কি আছে। (মনে মনে প্রকাশের দিকে তাকিয়ে)

ইশারা হয়তো ভাবতেও পারছে না ওর জন্য কি অপেক্ষা করছে। কি হতে চলেছে ওর সাথে। হতে পারে এটাই প্রকাশের বুকে মাথা রেখে কাটানো শেষ রাত ইশারার জন্য। কেউ জানে না কার ভাগ্যে কি আছে নিয়তি কখন কার জন্য ভালো কার জন্য খারাপ তার হিসেব কাওর কাছে নেই একমাত্র ভগবান ছাড়া।
সকালবেলা…………
প্রকাশ ড্রাইভ করছে আর ইশারা প্রকাশের পাশের সিটে নীরব হয়ে বসে আছে সেটা প্রকাশ আড় চোখে দেখছে আর বাঁকা হাসছে।

প্রকাশঃ আজ সব নাটকের অবসান হবে। ইশারা অনেক নাটক করেছি। আর নয় অনেক কষ্ট পেয়েছি। আর না নাও আমার ভালো থাকার পালা। (বাঁকা হেসে মনে মনে)
প্রকাশ একটা পুরোনো বাড়ির সামনে গাড়ি দাঁড় করালো আর নিজে নেমে ইশারা কে নামতে বললো, ইশারার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই

সে জানো প্রকাশের হাতের পুতুল প্রকাশ যেমন চাইছে ঠিক তেমন চলছে ইশারা প্রকাশের সাথে আস্তে আস্তে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করলো। ইশারা এতক্ষণ বাড়িটা খেয়াল করেনি কিন্তু বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করতেই ইশারার বুকটা ধক করে উঠলো পাশে প্রকাশ কে দেখতে না পেয়ে এদিক ওদিক তাকাতেই দেখলো একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে মেয়েটাকে দেখে ইশারা অবাক হলো না বরং পিছনে তাকালো। দেখলো প্রকাশ দরজার সাথে হেলান দিয়ে দু হাত ভাঁজ করে বটে নিয়ে ইশারার দিকে তাকিয়ে বাঁকা হাসছে। ইশারা এটা দেখে মাথা নিচু করে নিলো আর চোখের জল ফেললো।

প্রকাশঃ তো মিস ইশারা? আজ সব নাটক শেষ করেদি কি বলো?
আস্তে আস্তে মেয়েটার কাছে গিয়ে মেয়েটার কোমর জড়িয়ে ধরে গালে স্লাইড করতে করতে।
প্রকাশঃ ট্রাস্ট মি ইশারা আমি আর পারছি না তোমার সাথে এই মিথ্যে নাটক করতে আই আম কম্পলীটলি ফেড আপ। এতদিন নাটক করতে কার ভালো লাগে বলো? নিজেকে তো এখন অভিনেতা মনে হচ্ছে আমার হা হা হা! নাও গেম ইস ওভার
এটা বলতে না বলতেই গুলির আওয়াজ হলো আর ইশারার চোখ দিয়ে টপ টপ করে জল পরতে লাগলো।

পর্ব ১৬

এটা বলতে না বলতেই গুলির আওয়াজ হলো আর ইশারার চোখ দিয়ে টপ টপ করে জল পরতে লাগলো। ইশারা চোখ বুজে রয়েছে ইশারার মনে হচ্ছে প্রকাশ গুলি টা ওকে করেছে। ইশারার কষ্ট হচ্ছে না আর যাই হোক যাকে ভালোবাসে তার হাতে মরতে হচ্ছে ওকে।
ইশারাঃ আমার কোনো যন্ত্রণা হচ্ছে না কেনো? গুলি লাগলে তো যন্ত্রণা হওয়ার কথা কই তেমন কিছুই তো হচ্ছে না আমার? (মনে মনে)

ইশারা এবার আস্তে আস্তে চোখ খুললো চোখ খুলতে না খুলতেই আতকে উঠলো ইশারা গুলি টা ওর লাগেনি গুলি টা প্রকাশের লেগেছে। প্রকাশের হাত দিয়ে দরদর করে রক্ত ঝরছে আর বন্দুক টা মেয়েটার হাতে। মেয়েটা আর কেউ নয় ওর নিজের মামির মেয়ে নেহা!
নেহা: প..প..প্রকাশ এটা ত..ত..তুই কি ক..ক..করলি? আমি তো ত..তোকে গুলি করিনি ত..তা..তাহলে?
ইশারা অবাক হয়ে তাকিয়ে রয়েছে নেহা বলছে নেহা প্রকাশ কে গুলি করেনি তাহলে প্রকাশের হাত দিয়ে রক্ত পরছে কেনো। ইশারা দৌঁড়ে প্রকাশের কাছে চলে গেলো। প্রকাশ এক হাত দিয়ে নিজের হাত দিয়ে চেপে রেখেছে যে জায়গা টা গুলি লেগেছে।

  • নাআআআআ!

প্রকাশ কিছু বলতে যাবে তার আগেই দরজার দিক থেকে একটা চিৎকার ভেসে আসলো। প্রকাশ আর ইশারা সেদিকে তাকিয়ে দেখলো ইশারার মামা আর মামি দাঁড়িয়ে আছে। ইশারার মামি দৌঁড়ে নেহার কাছে চলে এলো আর নেহার হাত থেকে বন্দুক টা ফেলে দিলো। তারপর প্রকাশ কে উদ্দেশ্য করে চিৎকার করে বলতে লাগলো।
মামিঃ আমার মেয়ে তোমায় গুলি করেনি তুমি নিজেকে নিজে গুলি করেছো। মিথ্যে অভিযোগে ফাসাতে চাইছো তুমি আমার মেয়ে কে।

প্রকাশঃ তার কি প্রমাণ আছে? স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে আমার হাত থেকে রক্ত পরছে গুলি লেগে আর আপনার মেয়ের হাতে এতক্ষণ সেই বন্দুক টা ছিলো। এর মানে আপনার মেয়ে আমাকে মারতে চেয়েছে ইটস আ কেস অফ এটেম্প টু মার্ডার।
মামাঃ নাহ আমার মেয়ে এমন কাজ কেনো করবে? তুমি কেনো এভাবে ফাঁসাতে চাইছে আমার মেয়েকে।
প্রকাশঃ আমি কেনো শুধু শুধু আপনার মেয়েকে ফাঁসাবো বলুন। আমি তো আপনার মেয়েকে ভালোবাসি। তাই তো ওর কথায় আজ এখানে ছুটে এসেছি এমন কি ইশারা কে মারতেও যাচ্ছিলাম কিন্তু আপনার মেয়েই তো আমায় গুলি করে দিলো। আহ! (হাত টা ধরে)

ইশারা অবাক হয়ে তাকিয়ে রয়েছে প্রকাশের দিকে। ইশারা ভাবছে যেই প্রকাশ কি না এতো কষ্ট করেছে ইশারার ভালোবাসা পাওয়ার জন্য সেই প্রকাশ কি না আজ ইশারা কে মারতে চায়..? কিন্তু ইশারা তো স্পষ্ট দেখেছে বন্দুক টা প্রকাশের হাতে ছিলো আর গুলির আওয়াজ হতেই ইশারা চোখ বন্ধ করে নেয় তাহলে? কিচ্ছু মাথায় আসছে না ইশারার।
মামিঃ ত। তুমি আমার ম। মেয়েকে ভালোবাসো?

প্রকাশঃ হ্যাঁ। তাই তো আজকে এখানে এসেছি। আপনার মেয়েই তো বললো, এখানে ইশারা কে নিয়ে আসতে মারার জন্য।
নেহা কিছু বলতে যাবে তার আগেই ইশারার মামা বলে উঠলো
মামাঃ তাহলে শুভ কাজে দেরী কিসের? এই মেয়েকেও ঠিক সেভাবে সরিয়ে দাও যেভাবে আমরা ওর বাবা-মা কে অনেক বছর আগে সরিয়ে ছিলাম।
প্রকাশঃ মানে?

মামিঃ তুমি তো ইশারা কে ভালোবাসো না তাই না? কিন্তু এতদিন কেনো নাটক করলে?
প্রকাশঃ আসলে যেদিন আপনাদের বাড়িতে গিয়ে আমার নেহার সাথে দেখা হয় তারপরেই নেহা কে আমি প্রপোস করি আর নেহা আমাকে এক্সেপ্ট করে কিন্তু তারপর বলে যে আমাকে ইশারার সাথে ভালোবাসার নাটক করে এই বাড়ির সম্পত্তির কাগজে সাইন করাতে হবে যাতে এই সব সম্পত্তির মালিক আপনারা হন। কি তাই তো নেহা?

নেহা: হ্যাঁ। কিন্তু তার আগেই ইশারার বিয়ে হয়ে যাচ্ছিল দেখে প্রকাশ ইশারা কে বিয়ে করে নেয় আর ইশারা কে বিশ্বাস করায় যে ও ইশারা কে ভালোবাসে। আজ ইশারা কে এখানে ডেকেছি সম্পত্তির কাগজে সাইন করাবো বলে আর তারপর ওকে শেষ করে দেবো। ঠিক যেভাবে তুমি আর বাবা ইশারার বাবা মার থেকে সম্পত্তির কাগজ নিয়ে ওদেরকে ইচ্ছে করে অ্যাক্সিডেন্ট করিয়ে মেরে ফেলেছো।

মামাঃ কিন্তু তখন আমরা কি আর জানতাম ওই সম্পত্তির কাগজে সব কিছু ইশারার নামে করা আছে।
মামিঃ কতো চেষ্টা করেছি এ মেয়েকে দিয়ে সাইন করানোর কিন্তু কিছুতেই সাইন করেনি। মেরেও ফেলতে পারবো না ওকে আবার। মেরে ফেললে তো এইসব সম্পত্তি সরকারের কাছে চলে যাবে। ওকে নিজের ইচ্ছায় এই সম্পত্তি দিতে হবে আমাদের।

নেহা: আর আজ এতো দিন পর সেটা হবে। এই আপদ টা সাইন করে সব সম্পত্তি আমাদের নামে করে দেবে। কিন্তু প্রকাশ! (প্রকাশ কে উদ্দেশ্য করে) তুই এমন করলি কেনো? তোর তো ইশারা কে মারার কথা তা না করে তুই নিজের হাতে গুলি চালিয়ে আমার হাতে দিয়ে দিলি বন্দুক টা। কেনো?
__তোদের সব কটাকে জেলে ভরার জন্য!

কথাটা শুনে সবাই পিছন ফিরে তাকালো। আর দেখলো রাতুল দাঁড়িয়ে আছে সঙ্গে পুলিশ। নেহা আর ওর বাবা-মা ঘাবড়ে গেলো। এই দেখে।
প্রকাশঃ হ্যাঁ কি জানো বলছিলেন আপনারা? ইশারা কে ঠিক সেভাবে রাস্তা থেকে সরিয়ে দিতে যেভাবে ওর বাবা-মা কে সরিয়ে দিয়েছেন।
মামাঃ ওহ তো তার মানে তুমি এসব ইচ্ছে করে করলে?

মামিঃ নাটক ইশারার সাথে না আমাদের সাথে। আমার মেয়ের সাথে করছিলে তুমি?
প্রকাশঃ একদম ঠিক! আপনারা চালাক হলেও আপনাদের মেয়েটা বড্ড বোকা জানেন তো? এর জন্যই তো ওকে নিজের ঘুটি বানিয়ে আপনাদের কাছে পৌঁছাতে পারলাম। আমি অনেক আগেই জানতাম ইশারার বাবা-মা অ্যাক্সিডেন্ট এ মারা গেছে কিন্তু এর পিছনে তো কোনো রহস্য ও থাকতে পারে কারণ ইশারার বাবা-মায়ের অনেক সম্পত্তি ছিলো,

কেউ ইচ্ছে করে মেরেও ফেলতে পারে তাদের। এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্যই আমি ইশারার বাড়ি যাই আর সেখানে যখন ইশারা কে অত্যাচারীত হতে দেখি তখন বুঝতে পারি আপনারা সম্পত্তির জন্য এমন করছেন তারপর আমি দেখি নেহা কে ব্যাস ঠিক করেনি যে কীভাবে সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে। নেহার সাথে এতদিন প্রেমের নাটক করলাম ওকে বিশ্বাস করালাম আমি ওকে ভালোবাসি ইশারা কে না আর কালকে রাতে বললাম আমি ইশারা কে মেরে ফেলবো সম্পত্তির কাগজে সাইন করিয়ে এই শুনে আপনাদের মেয়ে আপনাদের কে জানিয়ে নাচতে নাচতে চলে এলো এখানে।
রাতুলঃ একে চিনতে পারছেন? (একটা ছেলে এগিয়ে এলো)
মামাঃ ত। তু। তুমি এখানে ক। কি। কিভাবে?

ইশারাঃ এটা তো সেই ছেলেটা যাকে প্রকাশ সেইদিন গোডাউনে টর্চার করছিল (মনে মনে)
প্রকাশঃ ওহ চিনতে পেরেছে।ন তাহলে। ইশারা! (ইশারা কে উদ্দেশ্য করে) এটা সেই ছেলে টা যার সাথে তুমি আমাকে গোডাউনে দেখেছিলে। মনে পরছে?
ইশারা হ্যাঁ বোধক মাথা নাড়লো।
প্রকাশঃ অনেক কষ্টে আমি ওর খোঁজ পাই। ও হচ্ছে সে যাকে তোমার মামা ভাড়া করেছিল তোমার বাবা-মায়ের গাড়ি ব্রেক ফেল করানোর জন্য।

ছেলেটি: ইশারার বাবা মা আমাকে অনেক হেল্প করেছিল টাকা পয়সা দিয়ে এক সময় কিন্তু আমি জানতাম না আমি যাদের গাড়ি ব্রেক ফেল করছি সেটা ওনাদের মারার জন্য। ওনারা যখন গাড়ি তে উঠে যান তখন আমি দুর থেকে দাঁড়িয়ে ওনাদের দেখি আর চিনতে পেরে যাই। তাই সঙ্গে সঙ্গে ওনাকে ফোন করে বলেদি যে গাড়ির ব্রেক ফেল। যেকোনো সময় অ্যাক্সিডেন্ট হতে পারে।

প্রকাশঃ ওর কথা শুনে ইশারার বাবা-মা বাঁচার জন্য চলন্ত গাড়ি থেকে ঝাঁপ দেয়। প্রাণে বেঁচে গেলেও ইশারার বাবা প্যারালাইসড হয়ে যান আর মা মাথায় চোট পান গভীর ভাবে তাই অনেকদিন জ্ঞান ছিলো না
ছেলেটি: আমি ওনাদের গাড়ির পিছনে বাইক নিয়ে ফলো করছিলাম ওদের ওভাবে গাড়ি থেকে ছিটকে পরতে দেখে হসপিটাল নিয়ে যাই আর সেখান থেকে সবার আড়ালে আমার বাড়ি। গাড়ি টা খুব বাজে ভাবে উল্টে গিয়ে ব্লাস্ট করে যাওয়ায় কেউ লাশ খুঁজে পায়।নি আর চেষ্টা ও করেনি তাই আমার সুবিধা হয়েছিল। আমি অনেক বার চেষ্টা করেছিলাম ইশারা কে জানানোর কিন্তু!

প্রকাশঃ কিন্তু পারেনি! কারণ ইশারার মামি ইশারা কে কলেজ যেতে দিতো না আর এখানে কেউ ওকে দেখে ফেললে সমস্যা হতে পরে তাই ওকে লুকিয়ে দেখা করতে হতো ইশারার সাত্গে যার সুযোগ ও পায়।নি এছাড়া ইশারা সব জেনে গিয়ে যদি পুলিশ এ খবর দেয় সেটার ও ভয় ছিলো ওর মধ্যে। আমি ওর খোঁজ পাই নেহার দ্বারা অনেক কষ্টে নেহার কাছ থেজে ওর কথা আমি বার করেছিলাম।

ছেলেটি: প্রকাশ যখন আমাকে ধরে নিয়ে আসে তখন আমি ভেবেছিলাম সে হয়তো ইশারার মামা-মামির লোক ওরা হয়তো জেনে গেছে ইশারার বাবা-মা বেঁচে আছেন! কিন্তু ইশারা কে যখন ওনার বাড়িতে দেখলাম আর ওদের বেরিয়ে যাওয়ার পর রাতুল যখন আমায় সবটা বললো, ওদের ব্যাপারে তখন আমি প্রকাশ কে সব খুলে বলি।

প্রকাশঃ রাতুল! (রাতুল কে ইশারা করলো)
ইশারা ভাবছে শুধুমাত্র সম্পত্তির জন্য আজ ওর বাবা মা কে মরতে হচ্ছিল ভাগ্যের খাতিরে আজ তারা বেঁচে গেছেন। ছেলেটি যদি না জানাতো ব্রেক ফেলের কথা তাহলে তো মরেই যেতো তারা। আজ ভীষণ চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে ইশারার। ইশারা কতো টা ভুল বুঝেছিল প্রকাশ কে কি করে ভাবলো প্রকাশ ওকে মেরে ফেলবে। একটু ও বিশ্বাস করলো না প্রকাশ কে সে। এসব ভাবতেই ইশারার কান্নার বেগ বেড়ে যাচ্ছে। আশেপাশের কোনো খেয়াল নেই অঝোরে কাঁদছে ইশারা।
__ইশারা মা!

ইশারার কান্নার মাঝেই ইশারা নিজের মায়ের গলার স্বর শুনতে পেলো। অনেকদিন পর হলেও নিজের মায়ের গলার স্বর চিনতে ভুল হতে পারে না। ইশারা পিছন ফিরে দেখলো ইশারার মা ইশারার বাবার হুইলচেয়ার ধরে দাঁড়িয়ে আছেন আর ইশারার বাবা হুইলচেয়ারে বসে আছেন।
ইশারা দৌঁড়ে ওর বাবা মায়ের কাছে চলে গেলো। আর মা কে জড়িয়ে ধরে নিজের চোখের জল ফেলতে লাগলো। চিৎকার করে কাঁদার ক্ষমতা টাও যে আজ নেই ইশারার।

প্রকাশঃ আসলে আমি আপনাদের মতো অতো খারাপ না যে সন্তান কে তার বাবা মায়ের থেকে আলাদা করে দেবো। আপনারা যেমন ইশারার বাবা-মা কে মারার চেষ্টা করেছেন তেমন আপনার মেয়েও আমাকে মারার চেষ্টা করেছে (নিজের হাতে ক্ষত স্থানের দিকে ইশারা করে) থ্যাংক গড বাহু তে লেগেছে তাই তো এতক্ষণ দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারছি। আসলে গুন্ডাগিরি করতাম তো তাই অভ্যেস আছে গুলি খাওয়ার (বাঁকা হেসে)
এবার নেহা বুঝতে পারলো হঠাৎ করে কেনো প্রকাশ নিজের হাতে নিজে গুলি করে ওর হাতে বন্দুক টা ধরিয়ে দিয়ে ছিলো। নেহার কাছে একজন মহিলা পুলিশ এলো আর বললো,
পুলিশ: চলুন!

ইশারা ওর মা কে ছেড়ে প্রকাশের দিকে ঘুরে তাকালো। দেখলো প্রকাশ ওর দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসছে। ইশারা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে আর প্রকাশের দিকে আস্তে আস্তে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রকাশের অনেকটা কাছে চলে যেতেই প্রকাশ ইশারা কে হেঁচকা টান মেরে সরিয়ে দিলো। দুরে আর নিজে সামনে এগিয়ে এসে দাঁড়াতেই গুলি লেগে গেলো। প্রকাশের। ইশারা সহ সবাই স্তব্ধ হয়ে গেলো। আর প্রকাশ আস্তে করে হাঁটু ভেঙে নীচে পরে গেলো।

পর্ব ১৭

আকাশে মেঘ জমেছে ঘন কালো মেঘ! মনে হয় অঝোরে বৃষ্টি আসবে আর বৃষ্টি হলেই আকাশের মন ভালো হয়ে যাবে সব কালো মেঘ দুর হয়ে যাবে কালো মেঘ ভেদ করে বেরিয়ে আসবে গোল একটা চাঁদ আর তার সঙ্গে তারা যা রাতের আকাশের শোভা বৃদ্ধি করে। এই মনোরম পরিবেশের মৃদু শীতল হাওয়া আজ ইশারার শরীর ছুঁয়ে প্রবাহিত হচ্ছে কারণ সে দাঁড়িয়ে ছাদে আর এই মনোরম পরিবেশ অনুভব করছে। আকাশের মতো ইশারার মনে ও কালো মেঘ জমেছে ভীষণ ভারী অনুভব হচ্ছে নিজেকে হয়তো একটু কাঁদতে পারলে ভালো হতো! আকাশ যেমন বৃষ্টি দিয়ে হাল্কা হয়ে যাবে তেমন যদি ইশারাও পারতো!

কিন্তু তা আর হচ্ছে কই?
ইশারা দাঁড়িয়ে ছিলো ঠিক সেই সময় আকাশে আলোর ঝলকানি দেখা দিলো। আর কিছুক্ষণ পর খুব জোরে বিদ্যুত চমকালো ইশারা ভয় পেয়ে দু-কানে দু-হাত চাপা দিয়ে পিছন দিকে ফিরতেই একজনের বুকে ধাক্কা খেলো। বাঁধা পেলো যাওয়ার পথে ইশারা নড়লো না একভাবে দাঁড়িয়ে রইলো ইশারা টের পেলো তার কোমরে শীতল হাতের স্পর্শ বিচরণ করছে আর তার সঙ্গে সেই পরিচিত মিষ্টি সুভাষ যা শুধুমাত্র একজনের কাছে আসাতেই ইশারার অনুভব হয় ইশারা কান থেকে হাত নামিয়ে আস্তে করে দুরে সরে যেতেই ইশারার কোমরে থাকা হাতের স্পর্শ আরো শক্ত হয়ে তাকে কাছে টেনে নিলো। ইশারা মাথা তুলে তাকাতেই দেখতে পেলো সেই মায়াভরা চাহুনী যা ইশারার দ্বারা উপেক্ষা করা অসম্ভব! সেই চাহুনী যাতে ইশারার প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রকাশ পায়! হ্যাঁ এ আর কেউ নয় এ যে প্রকাশ! ইশারার ভালোবাসার প্রকাশ!⚘

ইশারা নিজের চোখ নামিয়ে নিলো আর নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতে লাগলো কিন্তু প্রত্যেক বারের মতো সে অসফল না পেরে চুপ করে স্থির ভাবে দাঁড়িয়ে রইলো নীচের দিকে তাকিয়ে।
প্রকাশঃ আ’ম সরি ইশারা! তোমাকে জানিয়ে যদি যেতাম তাহলে তুমি আমাকে যেতে দিতে না তাই তো তোমাকে জানাইনি আমি। আমার যাওয়া টা ভীষণ দরকার ছিলো লাভ! (আল্হাদী কণ্ঠে)
ইশারাঃ (নিশ্চুপ)

প্রকাশঃ এই কয়েকদিন আমার সব থেকে বেশী কষ্ট হয়েছে তোমাকে ছাড়া থাকতে তুমি তো জানো আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারিনা তারপরেও আমি গেছি দেট’স মিন কাজ টা কতো ইম্পরট্যান্ট ছিলো তুমি বুঝতে পারছো?
ইশারা হ্যাঁ বোধক মাথা নাড়লো
প্রকাশঃ কাম ওন ইশারা! এভাবে মন খারাপ করে থেকো না প্লিজ আমার ভালো লাগে না তোমাকে এভাবে দেখতে আন্ড ইউ নো দেট ভেরি ওয়েল!
ইশারা কোনো প্রতিক্রিয়া না করে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলো

প্রকাশঃ ফাইন! এতদিন পর তোমার কাছে এলাম আর তুমি এমন বিহেভ করছো। যেখানে তোমার আমার কাছে আসা উচিত তুমি দুরে ঠেলে দিচ্ছো। আমি আর কিছু বলবো না (অভিমান কণ্ঠে)
প্রকাশ এই বলে পিছন ফিরে চলে যেতে নিলেই ইশারা প্রকাশের হাত পিছন থেকে টেনে ধরে আর প্রকাশের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়! প্রকাশ ইশারার দিকে না তাকিয়ে অন্যদিকে মুখ ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে ইশারার সে দেখে ভীষণ হাসি পায়। সামান্য হেসে ইশারা আলতো করে প্রকাশ কে জড়িয়ে ধরে প্রকাশের বুকে মাথা রাখে। এর ফলে আপনা আপনি প্রকাশের হাত ইশারাকে জড়িয়ে ধরে প্রকাশের বাম হাত ইশারার মাথায় আর ডান হাত পিঠে! কিছুক্ষণ পর ইশারা মাথা তুলে প্রকাশের দিকে তাকায়
ইশারাঃ”ভালোবাসি!”

প্রকাশঃ”ভীষণ ভালোবাসি!”
ইশারাঃ এতদিন কি ফোন ও করা যেতো না আমায়?
প্রকাশঃ ফোন করে যদি আমি তোমার কথা শুনতাম তাহলে তো আমার কাজের বারো দুগুনে চব্বিশ টা বেজে যেতো। মন টা তো তোমার কাছে পরে থাকত তখন আমার কাজটা কে করতো বেইবি!(ইশারা কে নিজের সাথে মিশিয়ে)
ইশারাঃ হুহ! মিথ্যে অজুহাত (মুখ ফিরিয়ে)
প্রকাশঃ সত্যি বলছি!

ইশারাঃ যাওয়াটা এতো জরুরি ছিলো যে অসুস্থ অবস্থায় চলে গেলে? তাও আবার আমাকে না জানিয়ে?
প্রকাশঃ অসুস্থ! আর আমি..? ওফফ ইশারা প্লিজ! আমি অনেক আগেই ফিট হয়ে গেছি ঘটনাটা ঘটেছে ছয় মাস হয়ে গেছে এতদিন কে অসুস্থ থাকে?
ইশারাঃ ডক্টর তোমাকে রেস্ট নিতে বলেছিল প্রকাশ!
প্রকাশঃ পাক্কা সাড়ে পাঁচ মাস রেস্ট নিয়েছি দেন কাজে গেছি। আরো রেস্ট নিতে হতো? আমি কি বুড়ো নাকি আমার স্ট্রেনথ নেই কোনটা?

ইশারাঃ দুটোই! (ভেংচি কেটে)
প্রকাশঃ আচ্ছা..? চলো তাহলে দেখাচ্ছি আমার স্ট্রেনথ!
প্রকাশ ইশারা কে কোলে তুলে নিলো আর ইশারা ছুটো ছুটি করছে
ইশারাঃ প্রকাশ। প্রকাশ নামাও আমায় প্লিজ!

প্রকাশঃ নো ওয়ে। তোমাকে আজকেই দেখাবো আমি কি আর আমার কতো স্ট্রেনথ। মে বি ভগবান ও তাই চায় এই জন্যই তো এতো সুন্দর ওয়েদর দিয়েছে। এই সুবর্ণ সুযোগ তো আমি হাতছাড়া করছি না মাই লাভ!
প্রকাশ ইশারা কে কোলে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে একটা টুপ করে চুমু দিলো। ইশারার গালে। ইশারা প্রকাশের কথায় এমনিতেই লজ্জা পাচ্ছিল আর এখন তো একদম লজ্জায় লাল নীল হয়ে যাচ্ছে বেচারি। লজ্জায় কথা বের হচ্ছে না তাই চুপ করে প্রকাশের বুকে মুখ গুঁজলো ইশারা। প্রকাশ ইশারাকে ঘরে নিয়ে গিয়ে বিছানায় বসাতেই আবার বিদ্যুত চমকালো আর ইশারা প্রকাশ কে জড়িয়ে ধরলো
প্রকাশঃ বাহ!

আমার অর্ধেক কাজ তো আজ ওয়েদরই করে দেবে মনে হচ্ছে (ইশারা কে জড়িয়ে দুষ্টু হেসে)
ইশারাঃ ধ্যাত! (লজ্জা পেয়ে একটা কীল দিলো। প্রকাশের বুকে)
প্রকাশ ইশারা কে জড়িয়ে ধরে ইশারার কাঁধে আলতো করে ঠোঁট ছোঁয়ালো আস্তে আস্তে ইশারার পিঠে থাকা ব্লাউসের ফিতে টা খুলে দিলো। আর ইশারা কে শুয়ে ওর গলায় মুখ ডোবালো 🌹
[ ওরা ওদের কাজে ব্যস্ত থাকুক আপনারা আমার সাথে ফ্লাশব্যাকে চলুন অতো রোম্যান্স দেখতে হবে না 😒 বাপ রে এই রোম্যান্স দিতে গিয়ে আমার কাঁপা কাঁপি শুরু হয়ে গেছে 😬]

ছয় মাস আগে…

ইশারা ওর মা কে ছেড়ে প্রকাশের দিকে ঘুরে তাকালো। দেখলো প্রকাশ ওর দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসছে। ইশারা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে আর প্রকাশের দিকে আস্তে আস্তে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রকাশের অনেকটা কাছে চলে যেতেই প্রকাশ ইশারা কে হেঁচকা টান মেরে সরিয়ে দিলো। দুরে আর নিজে সামনে এগিয়ে এসে দাঁড়াতেই গুলি লেগে গেলো। প্রকাশের। ইশারা সহ সবাই স্তব্ধ হয়ে গেলো। আর প্রকাশ আস্তে করে হাঁটু ভেঙে নীচে পরে গেলো।
ইশারাঃ প্রকাশশশশশশ!

ইশারা চিৎকার করে প্রকাশের নাম ধরে ডাকলো। প্রকাশের জ্ঞান এখন ও আছে ইশারা ছুটে গিয়ে প্রকাশ কে ধরলো আর ওর মাথা নিজের কোলে নিয়ে প্রকাশের হাত ধরে বারবার প্রকাশ কে ডাকতে লাগলো।
ইশারাঃ প্রকাশ! প্রকাশ আপনি ঠিক আছেন? আপনার কিছু হবে না। তাকান আমার দিকে
প্রকাশের চোখ আস্তে আস্তে ঝাপসা হয়ে গেলো। আর প্রকাশের হাত টা পরে গেলো। ইশারার হাত থেকে।
ইশারাঃ মা! বাবা! প্রকাশ আমার সাথে কথা বলছে না কেনো? রাতুল ভাইয়া! দেখুন না প্রকাশ আমার সাথে কথা বলছে না।

ইশারা অঝোরে কাঁদছে আর এদিকে প্রকাশের এভাবে গুলি লাগায় সবাই অবাক হলেও ইশারা কে কথা বলতে দেখে সব চেয়ে বেশী অবাক হচ্ছে। তখন নেহা ইশারা কে গুলি করতে যায়। আর প্রকাশ সেটা দেখতে পেয়ে ইশারা কে সরিয়ে নিজে ইশারার জায়গায় চলে আসে আর গুলি টা প্রকাশের লেগে যায়।
ইন নার্সিংহোম ………..

ইশারা একটা কেবিনে শুয়ে আছে তখন কাঁদতে কাঁদতে ইশারা প্রকাশের পাশেই জ্ঞান হারায় তাই ওদের দুজনকেই রাতুল আর ইশারার বাবা-মা নার্সিংহোমে নিয়ে আসে। ইশারার জ্ঞান ফিরতেই ইশারা উঠে বসলো।
ইশারাঃ প..প্রকাশ! আমি প্রকাশের কাছে যাবো রাতুল ভাইয়া! আমাকে প্রকাশের কাছে নিয়ে চলুন না প্লিজ।
রাতুলঃ বৌদি আপনি চিন্তা করবেন না প্রকাশ দা এখন ঠিক আছে। প্রকাশ দার কাঁধে গুলি লেগেছে একসাথে দুটো গুলি শরীরে থাকায় প্রকাশ দা সেন্সলেস হয়ে গেছিল। বৌদি আপনি ক….

ইশারাঃ আমি কোনো কথা শুনতে চাই না আমি প্রকাশের কাছে যাবো প্লিজ আমাকে নিয়ে চলুন।
ইশারা এই বলেই নেমে গেলো। বেড থেকে আর রাতুল ও কিছু বলতে না পেরে ইশারা কে প্রকাশের কেবিনে নিয়ে গেলো। ইশারা প্রকাশের কেবিনে গিয়ে দেখলো প্রকাশের ডান কাঁধ থেকে নিয়ে ডান হাত ব্যান্ডেজ করা এছাড়া বাম বাহু তেও ব্যান্ডেজ করা প্রকাশ শুয়ে চোখ বুজে রয়েছে। ইশারা দৌঁড়ে চলে গেলো। প্রকাশের কাছে ইশারা প্রকাশের কাছে গিয়ে বসতেই প্রকাশ চোখ খুলে তাকালো। প্রকাশ কিছু বলবে তার আগেই ইশারা বলতে শুরু করলো

ইশারাঃ প্রকাশ আপনি ঠিক আছেন তো? আপনার ব্যাথা করছে তাই না? কে বলেছিল আপনাকে ওভাবে নিজের হাতে নিজে গুলি করতে। তারপর যখন নেহা গুলি করলো তখন কেনো আপনি সামনে এলেন?
ইশারার ঠোঁটে আঙুল দিয়ে চুপ করিয়ে দিলো। প্রকাশ আর ইশারা কে বললো,
প্রকাশঃ থ্যাংক গড আমি এমন টা করেছিলাম নাহলে তো জানতেই পারতাম তোমার মতো তোমার কন্ঠের স্বর ও এতো সুন্দর আর মিষ্টি!
ইশারাঃ আপ….

ইশারা থেমে গেলো। কথা বলতে গিয়ে এতক্ষণে ইশারার মাথায় এলো ও কথা বলতে পারছে ইশারা অবাক হয়ে প্রকাশের দিকে তাকালো। দেখল প্রকাশ মৃদু হাসছে। সেই সময় রুমে ডক্টর প্রবেশ করলো
ডক্টর: এখন কেমন ফীল করছেন মি.প্রকাশ
প্রকাশঃ ফীলিং বেটার ডক্টর।
ডক্টর: অ্যাকচুয়লী আমি আপনাকে আপনার ওয়াইফ এর ব্যাপারে কিছু জানাতে এসেছিলাম। আপনি আমায় বলেছিলেন তিনি কথা বলতে পারেন না
প্রকাশঃ ইয়েস ডক্টর!

ডক্টর: আমি তো আপনাকে আগেই বলেছিলাম উনি একটা শক পেয়ে নিজের স্বর হারিয়ে ছিলেন ঠিক তেমনই আবার একটা শক পেয়ে নিজের স্বর ফিরে পেলেন। কিন্তু!
প্রকাশঃ কিন্তু কি ডক্টর?
ডক্টর: এখন কিছুদিন আপনার ওয়াইফের কান থেকে তুলো গুলো খুলবেন না প্রায় অনেক বছর এভাবে থেকে ওনার অভ্যেস তাই হুট করে খুলে ফেললে প্রব্লেম হয়ে যাবে আর আপনি ও কিন্তু এখন ফুল রেস্টে থাকবেন
প্রকাশঃ ওকে ডক্টর!
ইশারাঃ থ্যাংক ইউ!

এরপর কেটে গেছে প্রায় পাঁচ বছর ইশারা আর প্রকাশ আবার নতুন করে সব শুরু করেছে সেইদিনের পর থেকে প্রকাশ নিজের পরিবার ফিরে পেয়েছে আর ইশারা নিজের। ইশারাদের বাড়িতে এখন ইশারার বাবা-মা আর ভাই ইশান থাকে ওদের মধ্যে আর কোনো দুরুত্ব নেই এখন সঙ্গে আরও একটা ভালো জিনিস হয়েছে। দেখা যাক সেটা কি?

প্রকাশঃ ইশারা! (চিৎকার করে)
ইশারাঃ আমি কি ঘরের বাইরে নাকি যে এভাবে চিৎকার করে চলেছো? (রেগে)
প্রকাশঃ আমি কি করবো তোমার তো আর এখন আমার কথা মনেই থাকে না। তাই চিৎকার করে ডাকছি যদি এই অভাগা স্বামীর কথা তোমার মনে পরে। (দুঃখী দুঃখী মুখ করে)
ইশারা প্রকাশের কথা শুনে ফিক করে হেসে দিলো। আর প্রকাশের কাছে গিয়ে দাঁড়ালো। প্রকাশ ইশারা কে টান মেরে নিজের কোলে বসিয়ে নিলো। ইশারা প্রকাশের গলা জড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো
ইশারাঃ আচ্ছা আমি যখন ইশারায় কথা বলতাম তুমি কি করে বুঝতে?

প্রকাশঃ তোমাকে দেখার পর যখন জানতে পারি তুমি কথা বলতে পারো না তখন একটা বাচ্চাদের অনাথ আশ্রমের খোঁজ পাই যেখানে সেসব বাচ্চা দের রাখা হয় যারা কথা বলতে পারে না। বা কানে শুনতে পায়। না। সেখানে রোজ যেতাম ওদের সাথে থেকে থেকে শিখে গেছিলাম (ইশারার গালে একটা চুমু দিয়ে)
__অ্যাঅ্যাঅ্যাঅ্যা
প্রকাশ আর ইশারা দেখলো দরজার সামনে দাঁড়িয়ে একটা তিন বছরের মেয়ে কাঁদছে সেই দেখে প্রকাশ আর ইশারা একে অপরের দিকে অসহায় ভাবে তাকিয়ে ঢোঁক গিললো। আর ইশারা ঝট করে উঠে গেলো। প্রকাশের কোল থেকে।

প্রকাশঃ কি হয়েছে মামমাম তুমি কান্না করছো কেনো?
মেয়েটিঃ তুমি পচা (কেঁদে কেঁদে)
ইশারাঃ”কথা”মা পাপা তোমাকে কতো ভালোবাসে না? তুমি পচা কেনো বলছো?
কথা: হ্যাঁ পাপা পচা আমাতে বালন কলেছে তোমাল কাছে আততে (আমাকে বারণ করেছে তোমার কাছে আসতে)
প্রকাশঃ এই কেলো করেছে রে! সব বলে দেবে এবার (মনে মনে)
ইশারাঃ কেনো মা?

কথা: বলেতে তোমাল কাছে না আসলে চক্কেট দেবে কিন্তু দেয়নি অ্যাঅ্যাঅ্যাঅ্যা
প্রকাশঃ চকলেট খেলে দাঁতে পোকা হবে মামমাম
ইশারাঃ প্রকাশ!(জোরে)
প্রকাশঃ বুঝেছি মামমাম তুমি আর তোমার ভাই/বোন কে পৃথিবী তে আসতে দেবে না।
কথা: না না আমাল ভাই ও চাই বোন ও চাই
প্রকাশঃ সামান্য একজন কেই আনতে পারছি না তোর পরে তো আরেকজন হুহ!
ইশারাঃ প্রকাশ! কি বলছো এসব?

প্রকাশঃ অনেক সহ্য করেছি আর নয় হুহ! মামমাম তোমাল চক্কেট তোমাল দাদুল কাছে আছে ওক্কে?
কথা: ইয়ে কি মজা! (হাত তালি দিয়ে)
প্রকাশঃ চলো তুমি এবার দাদুর কাজে তোর জন্য আমিও বাচ্চা হয়ে যাচ্ছি। তুমি দাদুর কাছে থাকো আর আমাকে তোমার ভাই/বোন আনার ব্যবস্থা করতে দাও। (কথা কে নিয়ে যেতে যেতে)
ইশারাঃ উফফ কি অসভ্য রেহ বাবা এই ছেলেটা। মেয়ের সামনে আবোল তাবোল বকতে থাকে।
প্রকাশঃ তো ভুল কি বললাম আমি (ইশারা কে পিছন থেকে জড়িয়ে)
ইশারাঃ এই তুমি না কথা কে দিতে গেছিলে?

প্রকাশঃ ঐ তো দরজা খুলতেই দিয়া কে পেলাম আর পাঠিয়ে দিলাম ওর সাথে (চোখ মেরে)
ইশারাঃ হায় ভগবান!(কপালে হাত দিয়ে)
প্রকাশঃ দিনে যতবার তুমি ভগবানের নাম করো তার অর্ধেক ও যদি আমার নাম করতে এতদিনে আমি পাঁচ টা বাচ্চার বাবা হয়ে যেতাম।
ইশারাঃ পাঁচটা?

প্রকাশঃ আরেহ প্রত্যেক বছর একটা একটা। বেশী না অনলি ওয়ান
ইশারাঃ হাটটট!
ইশারা চলে যেতে নিলেই প্রকাশ হেঁচকা টান মেরে ইশারা কে কোলে তুলে নেয় আর ইশারা ও প্রকাশের গলা জড়িয়ে প্রকাশের গালে ঠোঁট ছোঁয়ায়।
প্রকাশঃ”ভালোবাসি”

ইশারাঃ”প্রাণের চাইতে ও বেশী ভালোবাসি”

লেখিকা – আয়েশা (কোয়েল)

সমাপ্ত

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের”ইশারায় ভালোবাসার প্রকাশ – রোমান্টিক প্রেমের কথা”গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ূন – অবশেষে বৃষ্টি (১ম খণ্ড) – প্রেমিক প্রেমিকার ভালোবাসা ‘র গল্প