শেষটা তোমার আমার – প্রেমের গল্প পড়ুন

শেষটা তোমার আমার – প্রেমের গল্প পড়ুন: সিনথিয়া আর ফিরতি মেসেজ দিল না। ভয়ানক রাগ হয়েছে তার। এরপর আবার অনেকদিন কথা হলো না তাদের। একদিন সিনথিয়া তার ছোট্ট বিড়ালের ছবি মাইডে তে দিল, সাথে লিখল, “দুষ্টু।”


সিনথিয়া মাত্রই আলুভর্তা মেখে সেগুলোর চপ বানাচ্ছিল। নোটিফিকেশনের শব্দ শুনে মোবাইলের দিকে তাকাল৷ অপরিচিত একটা আইডি থেকে মেসেজ এসেছে, “হ্যালো! আছেন? একটা জরুরি কথা ছিল।”

কে এটা সিনথিয়া জানে না। জানার প্রয়োজনও বোধ করল না। আরেকটা চপ বানাতে বানাতে আবারও নোটিফিকেশন।” আপনি কি ব্যস্ত?”
কী এমন জরুরি কথা রে বাবা! সিনথিয়ার মোবাইলের ফিঙ্গারপ্রিন্ট লক দেয়া ডান হাতের আঙুল দিয়ে। ডান হাত তেলে মাখামাখি। বাম হাতও তেলতেলে হয়ে গেছে। তবু বুড়ো আঙুল দিয়ে পাসওয়ার্ড দিয়ে লক খুলল৷ উত্তর দিল, “বলুন।”

ছেলেটা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই লিখে পাঠাল, “আজকের পোস্টটা কি আমাকে নিয়ে করেছেন?”

সিনথিয়ার এক মুহূর্ত মাথা ফাঁকা ফাঁকা লাগল। আজকে সে পোস্ট করেছে নাকি সেটাই মনে নেই। কী লিখেছে অনেক চেষ্টা করেও মনে করতে পারল না৷ আর যাই বা লিখুক, এই ছেলেকে চেনে না জানে না, তাকে নিয়ে কোন দুঃখে লিখতে যাবে? যত্তসব পাগলের প্রলাপ, এটেনশন সিকার!

সিনথিয়া”না।” লিখে সেন্ড করে আলুর চপ বানাতে মনোযোগ দিল। হঠাৎই মনে পড়ে গেল সে আজ ভোরে ঘুম ঘুম চোখে ফেসবুকে ঢুকেছিল। স্ক্রল করতে করতে চোখে পড়েছিল নিজের সবচেয়ে প্রিয় নায়কের পেজের আপলোড করা ছবি৷ নতুন সিনেমার প্রমোশন পোস্ট দিয়েছে। এবারের মুভিতে একদম নতুন লুকে, ক্লিন শেভ করা৷ সিনথিয়ার এত মেজাজ খারাপ হলো! ওর এই নায়ককে পছন্দই চাপদাড়ির জন্য। ক্লিন শেভে এটাকে দেখতে লাগছে আস্ত যমুনাপাড়ি ছাগলের মতো! সিনথিয়া মনের দুঃখে মন্তব্য করল, “তুমি শেভ করেছ কেন পাজি ছেলে? দাড়িতে কত সুন্দর লাগে জানো?”
সেই মন্তব্যই আবার কপি করে সে নিজের ওয়ালে পোস্ট করেছে। কেন করেছে নিজেও জানে না। পোস্ট অপশন চেপে মোবাইল রেখে ঘুমিয়ে পড়েছিল সে৷ এটার কথাই তবে বলল এই ছেলেটা? কী আশ্চর্য!

রোজা শুরু হওয়ার পর থেকে এই এক যন্ত্রণা হয়েছে সিনথিয়ার, খালি ঘুম পায়। যখনই একটু সুযোগ পায়, গা এলিয়ে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। ওর মা টেনে তুলে এটা ওটা কাজ ধরিয়ে দেয়৷ সেই কাজ করে আবার ঘুমিয়ে পড়ে সিনথিয়া। আজ আলুর চপ বানানো শেষ হতেই এলিয়ে পড়ল বিছানায়। উঠল আসরের সময়৷ নামাজ পড়ে ইফতার রেডি করতে করতে সন্ধ্যা। ইফতারের পর বিশ্রাম নিয়ে তারাবি পড়ে সব কাজ শেষে রাতে শুতে শুতে বারোটা পার হলো। মোবাইলটা তখনই ধরার সময় পেল সে। দেখল ছেলেটা আরও কয়েকটা মেসেজ দিয়ে রেখেছে, “সরি, আমি ভেবেছিলাম আমাকে নিয়ে লিখেছেন।”
“আমিও আজকে শেভ করেছি তো! আপনার পোস্ট দেখে অবাক হয়ে গিয়েছি।”

“আমিই গর্ধব। বোঝা উচিত ছিল।”
“আপনাকে কি বিরক্ত করলাম?”
“দুঃখিত।”
“আপনি বোধহয় ব্যস্ত।”
“বাই।”

সিনথিয়া বিরক্ত হয়ে মেসেজগুলো দেখল। কোন লাক্স সুন্দর আসছে যে তাকে নিয়ে মেয়েরা লিখবে? দেখা যাক প্রোফাইল। নাম রেদওয়ান শহীদ। প্রোফাইল পিকচার দেয়া, ক্লিন শেভ, ফর্মাল ড্রেস। কালো শার্টের সাথে মেরুন টাই, চুলগুলো সুন্দর করে কাটা, চোখে সানগ্লাস, ঠোঁটের কোণে হালকা মার্জিত হাসি। সিনথিয়া একটা ঢোক গিলল। বাবারে দারুণ স্মার্ট!

স্ক্রল করে নিচে গেল সে। কয়েকদিন আগে বন্ধুদের সাথে আপলোড দেয়া ছবিটা দেখে কেমন গা শিরশিরে অনুভূতি হলো। মাথাভর্তি ঝাঁকড়া চুল আর গালভর্তি চাপদাড়ি। চাহনী মাদকীয়। তবে মুখে আলাদা একটা কাঠিন্য আছে যেটা দূরে সরিয়ে দেয় না, যেন কাছে টানে। দেখলেই ঘোর লেগে যায়! এরপর পুরো প্রোফাইল চষে ফেলল সিনথিয়া। যখন সম্বিত ফিরেছে তখন সাহরির সময় হয়ে গেছে। এত সুন্দর একটা ছেলে তার বন্ধু তালিকায় আছে, সে জানেও না! এই ছবিগুলো আগে তার সামনে আসেনি কেন? জুকার ভাই বড়ই পাজি লোক! সারাদিন কত আবোল তাবোল ছবি এসে নিউজফিড ভরে থাকে, ভালো জিনিস লুকিয়ে থাকে আড়ালে।

সিনথিয়া ভেবেচিন্তে ছেলেটাকে উত্তর দিল, “আমি আমার প্রিয় অভিনেতাকে নিয়ে লিখেছিলাম। আপনাকে নিয়ে না। গতকাল আপনার মেসেজের উত্তর দিইনি কারন কাজ করছিলাম।”
রেদওয়ান অনলাইনে ছিল। প্রত্যুত্তরে শুধু একটা স্মাইলি পাঠাল৷ সিনথিয়া একটু হতাশ হলো। ভেবেছিল কিছু লিখবে সে, লিখল না। কথাও এগোতে পারল না৷ যাক চুলোয়, আজ না হোক, কাল হবে। সিনথিয়া উঠে পড়ল, মা ডাকছে।

পরদিন আবার রেদওয়ানের প্রোফাইলে ঢুকল সিনথিয়া৷ গতকাল ছবি দেখতে গিয়ে যেটা চোখে পড়েনি সেটা আজ দেখল। রেদওয়ান তার ইউনিভার্সিটিতেই পড়ে, আইআইটি তে। দুই ব্যাচ সিনিয়র। ইউনিভার্সিটিতের ভাই বলেই হয়তো এড করে নিয়েছিল কোনো এক সময়, এখন মনে নেই।

কিছু একটা লিখতে ইচ্ছে হলো প্রচন্ড! কিন্তু কী লিখবে! কিছুক্ষণ এটা ওটা ভেবে না পেয়ে মায়ের ডাকে মোবাইল ফেলে কাজ করতে চলে গেল।
দিন গড়ালো আরও কয়েকটা। ঈদ কাছে চলে এলো। সিনথিয়া অপেক্ষা করে গেল রেদওয়ানের মেসেজের, মেসেজ আর আসে না। ঈদের আগের দিন সিনথিয়া যখন দুই হাতে মেহেদি দিয়ে বসে আছে, তখন মেসেজ এলো কাঙ্ক্ষিত আইডি থেকে, “ঈদ মোবারক সিনথিয়া। আপনার ঈদ খুব ভালো কাটুক।”

সিনথিয়া তক্ষুনি উঠে গিয়ে ডান হাতের দুই আঙুলের মেহেদি টিস্যু দিয়ে মুছে ফেলল। না হোক লাল! উত্তরে লিখল, “ঈদ মোবারক। কেমন আছেন?”
“আলহামদুলিল্লাহ ভালো। আপনি?”

“ভালো আছি।” লিখে সেন্ড করতে গিয়ে মনে হয়ো একটা প্রশ্ন করা দরকার। নয়তো আবারও একটা স্মাইলি দিয়ে কনভার্সেশন কুইট করে দিতে পারে গাধাটা! সে সাথে লিখল, “আপনি মেহেদি পরেছেন?”

ওপাশ থেকে হাসির ইমো এলো কিছু। তারপর একটা হাতের ছবি। হাতের তালুতে মেহেদি দিয়ে হিজিবিজি আঁকা। সাথে লিখল, “আমার ভাস্তি করেছে এই কাজ৷ আমি খেয়ালও করিনি। আমার হাত টেনে খেলছিল, এর মাঝেই এসব। দেখার সাথে সাথে ধুয়ে ফেলেছি। তবু কীসব মেহেদি বের হয়েছে! এইটুকু সময়ে গাঢ় হয়ে গেলে রঙ!”
সিনথিয়া লিখল, “খারাপ হয়নি।”

রেদওয়ান আবারও হাসির ইমো দিয়ে বলল, “আপনার মেহেদি দেখি?”
সিনথিয়া বাম হাতের ছবি তুলে পাঠিয়ে দিল।
“কে দিয়ে দিয়েছে?”
“নিজেই।”

“বাহ দারুণ। আর আরেক হাত?”
ডান হাতে মেহেদি লাগিয়ে দিয়েছিল সিনথিয়ার ছোট চাচী মৌটুসী। ওইটা আরও বেশি সুন্দর হয়েছিল কিন্তু সিনথিয়া কতখানি মুছে ফেলেছে। এটার ছবি কেমন করে দেবে? লিখল, “বাম হাতের মেহেদি শুকায়নি। পরে ছবি দেব।”
“ওকে।”
সিনথিয়া কনভার্সেশন শেষ করতে চায় না। তাই লিখল, “আপনার ভাস্তি অনেক পাজি তাই না?”

ওপাশ থেকে এই মেসেজ সিন হলেও উত্তর এলো না। কী সমস্য? ঘুমিয়ে গেল নাকি? সিনথিয়া অনেকক্ষণ অপেক্ষা করল। তারপর মন খারাপ করে কখন যেন মেহেদি হাতেই ঘুমিয়ে পড়ল।
ওপাড়ে রেদওয়ান সিনথিয়ার মেসেজ দেখে মুচকি হেসে মোবাইল ফেলে রেখেছে। মেয়েটা আগ্রহ করে তার সাথে কথা বলতে আসছে৷ আর সেদিন কী ভাবটাই না দেখাল! পুরো বারো ঘন্টা পর মেসেজের উত্তর দিয়েছে। সে এত সহজে ধরা দেবে কেন? নিজের ওজন বাড়ানো যাক খানিকটা৷ এভাবেই প্রেমের গল্প পড়ুন।

রেদওয়ান উত্তর দিল পরদিন দুপুরে।” জি অনেক পাজি।”
সিনথিয়া আর ফিরতি মেসেজ দিল না। ভয়ানক রাগ হয়েছে তার। এরপর আবার অনেকদিন কথা হলো না তাদের।
একদিন সিনথিয়া তার ছোট্ট বিড়ালের ছবি মাইডে তে দিল, সাথে লিখল, “দুষ্টু।”
রেদওয়ানে সেখানে রিপ্লাই করল, “এত কিউট বিড়ালটা দুষ্টুমি করে?”
“করে। তবে সেজন্য লিখিনি, ওর নামই দুষ্টু।”

“হায় হায় বলেন কী!”
“কী হলো?”
“আমার নামও দুষ্টু।”
সিনথিয়া খিলখিল করে হেসে ফেলল। কয়েকটা হাসির ইমো পাঠিয়ে লিখল, “দারুণ তো! আপনিও খুব দুষ্টু বুঝি!”

“ছোটবেলায় ছিলাম৷ মা তখন থেকে ডাকে। বড় হয়ে আর নামটা বদলায়নি।”
“আমার বিড়ালের সাথে আপনার মিলে গেল। আপনারা হলেন মি-তা!”

রেদওয়ানও হাসল। কথোপকথন চলল দীর্ঘ সময়ব্যাপী। এরপর থেকে তাদের প্রায়ই কথা হয় এটা ওটা নিয়ে৷ দুজনেই ভালো লাগা টের পায়, কিন্তু ইগোর একটা দেয়াল শুরু থেকেই তাদের মাঝে হয়ে আছে, সেটা কেউ টপকাতে পারে না। কিংবা চেষ্টাই করে না। ভাবে অপর মানুষটা বলতে আসবে আগে।

কোভিডের কারনে ইউনিভার্সিটি বন্ধ বলে দেখাসাক্ষাৎ হলো না তাদের৷ ইউনিভার্সিটি খুলল অনেকদিন পর। তখন বর্ষাকাল। আকাশ মুখ গোমড়া করে বসে আছে৷ সিনথিয়া ছাতা আনতে ভুলে গেছে। টিএসসি চত্তর পার হওয়ার সময় ঝুম বৃষ্টি নামল। সে দৌড়ে গিয়ে দাঁড়াল একটা গাছের নিচে। বৃষ্টির বেগ এখানে কম হলেও পাতার ফাঁক দিয়ে পানি পড়ছে৷ কাঁধ ভিজে যাচ্ছে।
হুট করে কোথা থেকে কেউ একজন এসে ওর পাশে দাঁড়িয়ে পড়ল। মাথার ওপর ছাতা ধরে রেখেছে মানুষটা। সিনথিয়া চোখ তুলে চাইল৷ চাপদাড়ি, ঝাকড়া চুল, সম্মোহনী চাহনীর মানুষটাকে চিনতে ভুল হলো না। ওকে কেমন করে এ সময়ে খুঁজে পেল ও?

রেদওয়ান ফিসফিস করে বলল, “সিনথিয়া! একশো থেকে এক পর্যন্ত উল্টো কাউন্ট করো তো!”
“মানে?”
“প্লিজ। চোখ বন্ধ করে গুনতে থাকো। আর ছাতাটা ধরো৷ সাবধানে গুনবে। ভুল যেন না হয়৷ আমি খেয়াল রাখব।”
“কিন্তু কেন?”

“বলছি বলে!”
সিনথিয়া কী ভেবে ছাতাটা হাতে নিয়ে চোখ বুজে গুনতে শুরু করল। আশেপাশে কেউ নেই। অন্তত কেউ পাগল ভাববে না তাকে। পঁচিশ পর্যন্ত গুনে ফেলার পর রেদওয়ান বলল, “হয়েছে। চোখ খোলো এবার৷”
সিনথিয়া চোখ মেলে দেখল রেদওয়ান ভিজে চুপচুপে হয়ে আছে। হাতে পলিথিনে মোড়া একটা ব্যাগ। ওকে বোকা বানিয়ে এটা আনতে গিয়েছিল তাহলে!
রেদওয়ান ঝটপট পলিথিনের গিঁট খুলে একটা নোটবুক বের করে দিল সিনথিয়ার হাতে। ছাতাটা নিজে নিয়ে নিল। সিনথিয়া পাতা উল্টে দেখল তার অজস্র ছবি! তাও অনেক আগের৷ কোভিড তখনো আসেনি। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায়, আড্ডার সময়, খাওয়ার সময় বা বাসে। তার অগোচরে সব তোলা হয়েছে। ছবিগুলোর নিচে আবার ছোট ছোট নোট লেখা। যেমন, “আজ কাজল পরেছ বলে বুঝি তোমাকে পদ্মদিঘির মতো লাগছে?”

“আমাকে তোমার আইসক্রিম থেকে একটু দেবে? শুধু একটুখানি ভেঙে?”
“তোমাকে নীল রঙে সবচেয়ে বেশি মানায় এটা বোধহয় তুমি জানো না৷ নইলে নীল জামা মোটে একটা কেন?”
সিনথিয়া হতবাক হয়ে চাইল রেদওয়ানের দিকে। রেদওয়ান বলল, “তোমাকে অনেক আগে থেকেই চিনি সিনথিয়া। অনেক আগে থেকেই ভালোবাসি।”
সিনথিয়ার গায়ের পশমগুলো আপনাতেই দাঁড়িয়ে গেল। তার প্রশ্নবোধক দৃষ্টি বলে দিল সে জানতে চায়”কেমন করে চেনো?”

রেদওয়ান নিজের ডান হাতটা বাড়িয়ে দিল। হাতের কব্জির খানিক ওপরে গভীর কাটা দাগ। সে বলতে শুরু করল, “তোমার মনে আছে তোমরা যখন একদম নতুন, মাত্র কিছুদিন হলো ভর্তি হয়েছ তখন একবার আমাদের ভার্সিটির বাস একসিডেন্ট করেছিল৷ সেদিন আমি তোমার পাশে বসেছিলাম। হঠাৎ বাসটা কাত হয়ে গিয়েছিল। আমি জানালার পাশে ছিলাম৷ সেদিকেই কাত হয়। মোটা কাচ ঢুকে গিয়েছিল এখানে। কপালেও কেটেছিল অনেকখানি। গলগল করে রক্ত পড়ছিল। আমার অবস্থা ছিল না সেখান থেকে বের হওয়ার৷ তুমি টেনে বের করেছিলে আমায়। ধরে অ্যাম্বুলেন্সে তুলেছিলে। আমার রক্তের দরকার ছিল, তুমি ছুটোছুটি করে রক্তের ব্যবস্থা করেছিলে। আমার মুখ রক্তে মাখামাখি হয়েছিল বলেই হয়তো পরে আর চিনতে পারোনি। সেদিন প্রচন্ড যন্ত্রণার মধ্যেও অ্যাম্বুলেন্সে বসে যতবার তোমার চিন্তিত মুখটা দেখছিলাম, কেমন অদ্ভূত শান্তি লাগছিল। তোমার হয়তো মনে নেই, আমি তোমার হাত ধরে রেখেছিলাম শক্ত করে।

আমি সুস্থ হয়ে আসার পর সবার প্রথম তোমাকে খুঁজে বের করি। দূর থেকে তোমাকে দেখতে ভালো লাগত। তখনো ভালোবাসার ব্যাপারটা ছিল না, শুধু অদ্ভূত ভালোলাগা কাজ করত। পরিচিত হতে ভয় হতো, একবার পরিচিত হয়ে গেলেই আমি আর তোমার আশেপাশে থেকে তোমাকে নিজের মতো করে দেখতে পারব না, তুমি ধরে ফেলবে। বেশিরভাগ দিন তোমার সাথে একই শিডিউলের সেইম বাস ধরতাম। তুমি বাসে উঠেই সিটে হেলান দিয়ে ঘুম দিতে। আমি সামনে দাঁড়িয়ে তোমাকে দেখতাম। কী ভালো লাগত বলে বোঝাতে পারব না। আস্তে আস্তে প্রেম হতে থাকল তোমার সাথে। তুমি যখন বৃষ্টির সময় জানালার বাইরে হাত বাড়িয়ে বৃষ্টি ধরার চেষ্টা করতে, ফাগুনের পলাশের দিকে হা করে চেয়ে থাকতে, পড়ে থাকা কৃষ্ণচূড়া কুড়িয়ে হাত ভর্তি করে ক্লাসে যেতে, প্রতিদিন আয়েশ করে চা খেতে, আমি বার বার তোমার প্রেমে পড়তাম।

এরপর একদিন এই করোনাভাইরাসের জন্য সব দুম করে বন্ধ হয়ে গেল। তোমাকে দেখতে না পেয়ে আমার অবস্থা খারাপ। ছবি দেখে কতক্ষণ কাটানো যায়? একদিন না পারতে তোমাকে মেসেজ করলাম। সেদিন অবশ্য সত্যি ভেবে নিয়েছিলাম আমার মতো তুমিও আমাকে ফলো করো। কিন্তু যখন আসল ঘটনা জানলাম তখন মনটাই ভেঙে গিয়েছিল। বুঝতে পেরেছিলাম তুমি আমাকে ভুলে গেছ। সেই কবেকার কয়েক পলক দেখা!”

সিনথিয়া ততক্ষণে কাঁদতে শুরু করেছে। সে কিছুই বলতে পারল না৷ রেদওয়ান বলল, “Sinthia! You are the sweetest girl I have ever seen! I love you so much!”

বৃষ্টি থেমে গেছে। সিনথিয়া বলল, “আমি যাই।”
রেদওয়ান আর্দ্র কন্ঠে বলল, “উত্তর দিয়ে গেলে না?”
“আপনি কোনো প্রশ্ন করেছেন?”
রেদওয়ানের বলতে ইচ্ছে হলেও কেন যেন বলল না, “প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইনি। ভালোবাসির পাল্টা জবাব চেয়েছিলাম। তুমিও কি বাসো?”

এক বছর পর এক রাতে সিনথিয়া দেখল রেদওয়ান ম্যারিড স্ট্যাটাস দিয়েছে। প্রোফাইলের ছবিটাও বদলে গেছে। বরবেশে রেদওয়ানের পাশে হাসিমুখে সুন্দরী স্ত্রী। সিনথিয়ার চোখদুটো ঝাপসা হয়ে এলো। সে চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়া পানিটা আলতো করে মুছে ফেলল।

গোমড়া মুখে স্বামীকে প্রশ্ন করল, “আমাকে ট্যাগ করোনি কেন?”
“কীভাবে করব মহারানী? দু’দিন আগে ব্লক করেছিলেন। তারপর ব্লক ছুটালেও রিকোয়েস্ট তো আর দেননি৷ আমি আর দিচ্ছি না রিকোয়েস্ট। নিজে দিবা এরপর থেকে।”
বিয়ে করার সাথে সাথে পার্ট বেড়ে আকাশ ছুঁয়েছে!”

“তা আর বলতে! তুমি তো জানোই আমার ভাব একটু বেশি!
সিনথিয়া হেসে ফেলল। রেদওয়ানকে আজ একটু বেশিই সুন্দর লাগছে। নিজেরই না নজর লেগে যায়!

লেখা – মহসিন আহমেদ

সমাপ্ত

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “শেষটা তোমার আমার – প্রেমের গল্প পড়ুন” গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ূন – জীবনসঙ্গী (১ম খণ্ড) – ভালোবাসার রোমান্টিক কথা বাংলা

Leave a Reply

Your email address will not be published.