ভালোবাসার গল্প

তুমি আমার ভালবাসা (শেষ খণ্ড) – কলেজের প্রেমের কাহিনী

তুমি আমার ভালবাসা (শেষ খণ্ড) – কলেজের প্রেমের কাহিনী: আম্মু আমার সামনে ফোন বের করে ধরলো। যেটাতে একটা ভিডিও। ভিডিও দেখে আমি জাস্ট শকড। এটা তখনকার ভিডিও যখন এই শুভ আমাকে ওর রুমে যেতে বলেছিলো। আর আমি যাওয়ার পর ও আমার গলায় মুখ ডুবিয়েছিলো। আমাকে জড়িয়ে ধরেছিলো।


পর্ব ১৬

আমি অবাক হয়ে বললাম,
~ এটা কি করে সম্ভব? দুটো মানুষ একদম এক দেখতে কিন্তু কি করে হতে পারে? বাবা ও শুভ তুমি বিশ্বাস করো
~ ও কি করে শুভ হবে? শুভ’র কন্ঠ কি তুই চিনিস না? নাকি ভুলে গিয়েছিস? আর শুভ’র কপালে তিল ছিলো নাকি? তার থেকে বড় কথা শুভ যদি হবে তাহলে বউ, ছেলে কি করে এলো?

বাবার কথায় সব গুলিয়ে যাচ্ছে ভাবতে পারছি না কিছু এবার বাবা কে বললাম,
~ বাবা তুমি কাল বললে এই বাড়ি রবিন খাঁনে’র ও কিন্তু সেটা কি করে? না মানে এখন তো এই বাড়ির মালিক আমি আর প্রপার্টির যে দলিল ছিলো ওটার মুল কপিও তুমি ৬ মাস আগে আমাকে দিয়ে দিয়েছো তাহলে আমার সাইন ছাড়া এই বাড়ি ওনার কি করে হয়?

~ আমি তোকে দিয়ে সাইন করিয়েছি
আমি আকাশ থেকে পড়লাম। আমাকে দিয়ে সাইন করিয়েছে আর আমি জানিনা?
~ কই আমি তো এমন কিছুতে সাইন করিনি
বাবা চুপ থেকে বলে উঠলো

~ পরশুদিন তুই যেই ফাইল না দেখেই সাইন করে দিয়েছিলি তার মধ্যে এই বাড়ির পেপারস ও ছিলো
অভি রেগে বললো,
~ বাট পাপা আমাদের বাড়ি তুমি ওনার নামে কেন দিলে?
~ পুরো দেইনি ৫০% দিয়েছি!
~ বাট হোয়াই পাপা?

বাবা কিছু না বলে চলে গেলো। আর আমি ভাবছি এটা শুভ কিন্তু ওই বাচ্চা ছেলে আর মেয়েটা কে? আর ছেলেটা পাপা কেন বলছে? আর শুভ রবিন হয়ে কেন আছে।? আবার এটাও ঠিক হাটাচলা কথা বলা কন্ঠ কিছু মিল নেই কিন্তু একটা মানুষের সাথে আরেকটা মানুষের ফেস এত মিল? তেমন এটাও ঠিক এই পৃথিবীতে একরকম দেখতে মানুষ নাকি আছে। কেমন যেন সব অমিল লাগছে না আর ভাবতে পারছি না মাথাটা খুব ব্যথা করছে। রুমে চলে এলাম।

বিকেলের দিকে নিতু’রা বাইরে গেলো। বাইরে বলতে ফাইভ স্টার হোটেলে গেলো। আজ নাকি রোহানে’র জন্মদিন আমাদের যেতে বলেছিলো বাট যাইনি ছাদে দাড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ একটা মেসেজ এলো মেসেজটা দেখে আমি ভয় পেয়ে গেলাম রীতিমত কাঁপতে শুরু করলাম কোনোকিছু না ভেবে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়লাম। উদ্দেশ্য ফাইভ স্টার হোটেল তবে এটা বুঝতে পারছি না এখান থেকে কে আমাকে মেসেজ করলো প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। রাস্তায় গাড়ি খারাপ হয়ে যায় তাই কিছু না ভেবে হাটা শুরু করি একসময় এখানে পৌছে যাই ভেতরে এসে দেখি অনেক মানুষ রোহানে’র জন্মদিন তাই খুব ক্লান্ত লাগছে একটা মেয়ে আমাকে জুস দিয়ে গেলো। গলাটা শুকিয়ে আসছিলো তাই পুরো জুসটা খেয়ে নিলাম। একটু পর বুঝলাম আমার মাথাটা ঘুরছে সব কেমন উল্টা পাল্টা লাগছে হঠাৎ চোখ গেলো। সামনে চুপ করে থেকে বললাম,

~ শুভ আমার কাছে এসো
এই মুহূর্তে নিজের উপর কন্ট্রোল নেই হেলেদুলে ওর সামনে গেলাম এরপর জড়িয়ে ধরে বললাম,
~ তুমি কোথায় ছিলে শুভ? তুমি জানো? আমি তোমাকে কত মিস করেছি তুমি আমাকে মিস করোনি? আমি জানি তুমি রবিন না তুমি আমার শুভ
ও আমাকে সরিয়ে দিয়ে বললো,
~ এসবের মানে কি হ্যা? আর আপনি ড্রিংক করেছেন? আপনার হাজবেন্ড কোথায়?
~ এমন কেন করছো শুভ? তুমি না আমাকে ভালবাসো?

~ আপনাকে বলেছি না? আমি শুভ না রবিন খাঁন
মাথাটা প্রচুর ঘুরছে দাড়িয়ে থাকার শক্তি নেই সব ভর ছেড়ে পড়ে যেতে গেলাম ওমনি রবিন ধরে ফেললো চোখ দুটো বুঝে এলো আমার সেন্স আসার পর দেখি আমি ড্রয়িংরুমের সোফায় পাশে আম্মু, অভি, বাবা এক কথায় সবাই অভি রেগে বললো,
~ তুমি ড্রিংক কেন করেছো? তুমি জানো প্রেগন্যান্ট অবস্থায় ড্রিংক করা উচিত না আর তুমি তো ড্রিংক করো না তাহলে আজ ওখানে গিয়ে কেন করলে?

আমার মনে পড়লো। আমি যখন ছাদে ছিলাম। তখন ফোনে আননোন নাম্বার থেকে একটা মেসেজ আসে যেটাতে লেখা ছিলো ফাইভ স্টার হোটেলে আরোহী গিয়েছে। ওকে কিছু ছেলে ধরে রেখেছে। আমি না গেলে ওর ক্ষতি করবে আমি তাড়াতাড়ি নিচে চলে আসি। আর এসে দেখি আরোহী বাড়ি নেই তাই কিছু না ভেবে বেরিয়ে যাই ওখানে গিয়ে জুসটা খাওয়ার পর মাথা ঘোরে তারমানে জুসে ড্রিংক ছিলো। আমি অভি কে বললাম,
~ আমি ড্রিংক করিনি অভি
~ তুমি জানো? তুমি রবিন কে জড়িয়ে ধরেছো শুভ বলে চেঁচামেচি করেছো। সবাই আজেবাজে কথা বলছে। ইনফ্যাক্ট ওখানে মিডিয়ার লোক ছিলো এটাতো নিউসে দেখাচ্ছে

অভি’র কথায় আকাশ থেকে পড়লাম। রিমোট নিয়ে টিভি চালু করলাম আর টিভি দেখে আমি জাস্ট থ আমি সেন্সলেস হওয়ার পর রবিন আমাকে এনেছে কিন্তু আমি তো ড্রিংক করিনি তাই চেচিয়ে বললাম,
~ আমি ড্রিংক করিনি কেউ ইচ্ছে করে করিয়েছে
~ মানে? কে করাবে এটা?

এরপর আমি সব খুলে বললাম,
~ কিন্তুু আরোহী তো বাড়ি ছিলো
আম্মু বললো, এবার আমি অবাক আরোহী সিরি দিয়ে নেমে বললো,
~ হ্যা ভাবী আমি তো বাড়ি ছিলাম।
~ আপনার কি ব্রেইনে প্রবলেম আছে।?

রবিনে’র কথা শুনে রেগে বললাম,
~ ওয়াট ডু ইউ মিন?
~ আপনি যেমন করছে।ন তাই বলছি প্রেগন্যান্ট অবস্থায় ড্রিংক করছে।ন আমাকে শুভ বলছে।ন আরোহী বাড়ি অথচ আপনি বলছে।ন বাড়ি না তাই আমার মনে হচ্ছে
~ আপনার মনে হলে কি হবে?

তখন নিতু মেয়েটা বললো,
~ রবিন আমাদের রুমে যাওয়া উচিত!
~ ইয়াহ সিওর রোহান কাম উইথ মি
~ লেটস গো পাপা
ওরা চলে গেলো। আমি কিছু বুঝতে পারছি না একচুয়েলি কি হলো। এটা?

পরেরদিন রান্না করলাম আম্মু বারন করেছিলো শুনিনি হসপিটালে গিয়ে চেকআপ করে এসেছি আজ যাওয়ার কথা ছিলো না কিন্তু কাল ড্রিংকের এফেক্ট আমার বেবীর উপর পড়লো। কি না তাই সকালে গিয়ে চেকআপ করে এসেছি বেবী ঠিক আছে। বলেছে রান্না করে রুমে এসে শাওয়ার নিয়ে এরপর নিচে এলাম। সবাই চলে এসেছে। নিতু’রা ও আমাদের সাথে বসেছে যেহেতু এক বাড়ি আছি সবাই কে খেতে দিয়ে দিলাম অভি খাবার মুখে দিয়েই কাশতে শুরু করলো আমি পানি এগিয়ে দিয়ে বললাম,
~ কি হলো। কাশি দিচ্ছো কেন এভাবে?

অভি’র মুখ মুহূর্তে লাল হয়ে গেলো। জোড়ে শ্বাস নিতে শুরু করলো আমি খাবার একটু মুখে দিলাম প্রচুর ঝাল কিন্তু আমি এত ঝাল দেইনি তো আর অভি’র তো ঝালে এলার্জি অভি চেয়ার থেকে নিচে পড়ে গেলো। তাকিয়ে দেখি সেন্সলেস হয়ে গিয়েছে।
~ ও মাই গড উনি তো সেন্সলেস হয়ে গিয়েছে।
বাবা আর আম্মু ছুটে এলো আমি ও ডাকলাম বাট সারা নেই রবিন আবার বলে উঠলো
~ ওয়েট আমি ডক্টর কে কল করছি!

বলে ডক্টর কে কল করলো কিছুক্ষণ পর ডক্টর চলে এলো অভি কে দেখে বললো,
~ ওনার ঝালের জন্য এমন হয়েছে। আরো বেশী কিছু হতে পারতো খেয়াল রাখবেন এমন যেন না হয়
এরপর ঔষুধ দিয়ে চলে গেলো।
~ মিসেস চৌধুরী আপনি আপনার হাজবেন্ড ঝাল খায়না ঝালে ওনার ক্ষতি হয় জানেন না?

রবিনে’র কথায় আম্মু বললো,
~ ও তো জানে হ্যা রে তিশা কি হয়েছে। তোর বল তো? আমি বারন করলাম রান্না না করতে কিন্তু তুই গেলি কিন্তু এত ঝাল কেন দিলি?
~ আমি তো ঝাল দেইনি
~ আপনি রান্না করেছেন। ঝাল কি অন্য কেউ দিয়েছে? স্বামীর খেয়াল রাখতে পারেন না?

নিতু মেয়েটা বললো, কি বলবো বুঝতে পারছি না!
~ সেটা না হয় ওর স্বামী বুঝবে
অভি বললো, আম্মু অভি কে ধরে বললো,
~ এইতো তোর সেন্স এসেছে। তুই ঠিক আছিস?

~ ইয়াহ মাম্মা আই এম ওকে আর এসব কথা বাদ দাও তৃশ তুমি রুমে যাও!
রুমে এসে ভাবছি এসব কি হচ্ছে? প্রথমে ড্রিংক এর ব্যাপারটা আবার আজকে রান্নার ব্যাপারটা এসব বেশী ভাবলে চাপ বাড়বে যেটা আমার বেবীর জন্য ভালো না তাই আর ভাবলাম না পরেরদিন অফিসে এলাম। আজ রবিন খাঁনে’র সাথে ডিল ফাইনাল হবে আমি ফাইলটা দেখেছি উনি ফাইল চাইলো আমি দিয়ে দিলাম হঠাৎ উনি রেগে বলে উঠলো!
~ ওয়াট ইজ দিস?

আমি জিগ্গাসু দৃষ্টিতে তাকালাম উনি ফাইল ছুড়ে দিলো ফাইল দেখে আমার চোখ কপালে সারা ফাইলে শুধু শুভ, শুভ লেখা কিন্তু আমি নিজে সব ঠিক করে রেখেছিলাম। তাহলে এটা কি করে হতে পারে? অভি ফাইল নিয়ে দেখে বললো,
~ এসব কি?

~ আমি তো ঠিক করে রেখেছিলাম। এটা কি করে হলো। জানিনা
একজন বলে উঠলো
~ মিসেস চৌধুরী আপনার থেকে এটা আশা করিনি
আমি লেখাটা আবার দেখলাম দেখে চমকে গেলাম আমি যেভাবে লেখি ঠিক সেভাবে লেখা কিন্তু আমার লেখা কপি করতে একমাএ শুভ পারতো তাহলে? এবার চিন্তায় পড়ে গেলাম আমার সাথে কি হচ্ছে এসব?


পর্ব ১৭

আমি ভাবতে পারছি না কিছু তবে একটা কথা আমি বুঝে গিয়েছি এই রবিন হচ্ছে শুভ কিন্তু ও নিজের পরিচয় কেন লুকিয়েছে? আর এমন কেন করলো? সবাই রেগে গিয়েছে। এদের কি করে বোঝাবো? আমি এটা করিনি তাই চুপ করে আছি একটুপর সবাই বেরিয়ে গেলো। আমি আর অভিও চলে এলাম। মাথায় একটা কথা ঘুরপাক খাচ্ছে রবিন শুভ হলে আমি ওকে সবার সামনে আনবো ও নিজেকে আড়াল কেন করছে।?
বাড়ি এসে ভাবছি কি করে প্রুফ পাবো? রবিন খাঁন শুভ কি না? এরমাঝে অভি এলো এসে বলে উঠলো
~ আচ্ছা কি হয়েছে। তোমার? এরকম ভুল ভাল কাজ কেন করছো?

মাথা নিচু করে বললাম,
~ আমি এসব কিছু করিনি আমি জানিনা এসব কি হচ্ছে আর কে বা কেন করছে।? আমার মনে হচ্ছে রবিন খাঁন শুভ কিন্তু ও তো লুকিয়ে আছে। রবিন হয়ে তাহলে আমি কি করে প্রুফ করবো?

বলে অভি কে ধরে কেঁদে দিলাম এদিকে একজোড়া চোখ আমাদের দেখছে। আর রাগে ফোস ফোস করছে। পরেরদিন সকালে অভি রেগে আছে। বাবার উপর কারন ৫০% রবিন খাঁন কে দিয়েছে। কিন্তু কেন দিয়েছে। সেটা বলেনি বাবা বুঝতে পারলো তাই অভি কে সোফায় বসিয়ে বললো,
~ আমি সত্যিটা বলবো কিন্তু তুই কোনোরকম রিয়েক্ট করবি না ওকে?

অভি ভ্রু কুঁচকে তাকালো। বাবা আবার বললো,
~ রিয়েক্ট না করলে বলো
অভি সত্যিটা জানতে রাজি হলো। এরপর বাবা বলতে শুরু করলো

~ তুই তো জানিস। অভি শুভ কে হারানোর পর আমরা সবাই কতটা ভেঙে পড়েছিলাম। ঠিকমত অফিস করতে পারিনি সেই সময় অফিসে প্রচুর লস হয়েছে। ৫ দিন আগে আমি অফিসে ছিলাম। তখন রবিন খাঁন আমার অফিসে আসে এসে আমার সাথে ডিল করতে চায় আর ওনার অফিস এখন আমার থেকে বড় তাই আমি রাজি হয়ে যাই কিন্তু উনি বলে উনি ডিল করবে যদি আমি এই বাড়ির ৫০% ওনাকে দেই উনি এটাও বলেছে যে এখানে বেশীদিন থাকবে না আমি রাজি হয়েছি কারন ডিলটা দরকার ছিলো খুব বোঝার চেষ্টা কর অভি
অভি থম মেরে বসে রইলো কিছুক্ষণ হয়তো ভাবছে কি করা উচিত এরপর বললো,
~ আই এম সরি পাপা আমি বুঝিনি

একটুপর সবাই অফিসে চলে গেলো। রবিন ও গেলো। সাথে বাচ্চা ছেলে, আর নিতু রবিনে’র নাম্বার বাবার ফোন থেকে নিয়েছিলাম। ভেবে নিলাম। কি করতে হবে আমার বিকেলের দিকে ওই নাম্বারে ফোন দিলাম কয়েকবার রিং হওয়ার পর ধরলো কন্ঠ চেন্জ করে বললাম,
~ আপনি কি শুভ চৌধুরী? যদি শুভ চৌধুরী হয়ে থাকেন তাহলে এক্ষুণি আপনাদের বাড়ি চলে আসুন আপনাদের বাড়িতে আগুন লেগেছে আর বাড়ির ভেতরে আপনার পরিবার

বলে ফোন কেটে দিলাম এবার দেখতে হবে আসে কি না? মনে মনে আল্লাহ কে ডাকছি যাতে আসে তাহলে বুঝবো ও শুভ বাড়িতে কেউ নেই শুধু আমি আর আম্মু কিন্তু আম্মু এখন গভীর ঘুমে আমি পায়চারী করছি কিন্তু না কেউ আসছে না মন খারাপ হয়ে গেলো। মনে মনে ভাবছি তাহলে কি সত্যি এটা রবিন? হঠাৎ দরজা খোলার শব্দ পেলাম। শব্দ পেয়ে লুকিয়ে পড়লাম।

~ তিশা কোথায় তুমি? আগুন কো
বলতে বলতে থেমে গেলো। আমি ওনার সামনে গিয়ে দাড়িয়ে বললাম,
~ আপনি এসময় এখানে?

উনি হয়তো বুঝতে পারলো যে ফোনটা আমি করেছিলাম। তাই বলে উঠলো!
~ হ্যা কেন আসতে পারিনা?
~ আমি তো শুভ কে আসতে বলেছি তা আপনি এলেন যে? তাহলে কি আপনি শুভ?
আমার কথা শুনে দাতে দাত চেপে বললো,
~ লিসেন আই এম টেলিং ইউ আই এম নট শুভ চৌধুরী তাই বারবার শুভ বলা বন্ধ করুন আমি আমার ওয়াইফ এন্ড আমার ছেলে বলেছে বলেই তাড়াতাড়ি চলে এসেছি ওকে?

দরজায় তাকিয়ে দেখলাম সত্যি সত্যি ওরাও এসেছে। ওরা আমাকে পাশ কাটিয়ে উপরে চলে গেলো। আর আমি সেখানে দাড়িয়ে রইলাম তবে আমি হাল ছাড়বো না পরেরদিন বাড়ির লোকের সামনে রবিনে’র কলার ধরে বললাম,
~ তুমি শুভ তাই বলছি এটা স্বীকার করো
উনি রেগে গিয়ে বললো,
~ আরে এসবের মানে কি হ্যা?

এবার হাতে একটা ছুড়ি ধরলাম বাড়ির সবাই ভয় পেয়ে গেলো। অভি এক জায়গায় দাড়িয়ে আছে। আমি ওটা হাতে ধরে বললাম,
~ তুমি যদি স্বীকার না করো যে তুমি রবিন না তুমি শুভ তাহলে আমি হাত কেটে ফেলবো

এই মুহূর্তে একটা ভাবনা আর সেটা হচ্ছে রবিন কে দিয়ে বলানো যে ও হচ্ছে শুভ বিকজ আমার মন বলছে। হি ইজ শুভ কিন্তু আমার হাতে ছুড়ি দেখেও ওর কোনো হেলদোল নেই বুকের ভেতরে কষ্ট হচ্ছে আমার হাতে নকল ছুড়ি ভেবেছি এটা দিয়ে ভয় দেখালেই বলবে ভয় দেখানোর জন্যই হাতে টান দিলাম এরপর যেটা হলো। আমি আকাশ থেকে পড়লাম। আমি তো নকল ছুড়ি রেখেছিলাম। তাহলে এটা কি করে হলো? হাত থেকে গলগল করে রক্ত পড়ছে আমি চেচিয়ে উঠলাম মাথা ঘুরছে ঝাপসা লাগছে সব পড়ে যেতে গেলে কেউ একজন ধরলো চোখ হালকা ভাবে খুলে দেখলাম রবিন এরপর সেন্সলেস হয়ে গেলাম

সেন্স আসার পর নিজেকে হসপিটালে আবিষ্কার করলাম আমার বাড়ির লোকও এসেছে। সবাই আমাকে বকছে কিন্তু ছুড়িটা আসল কি করে হলো? ডক্টর ও রাগারাগি করলো কারন প্রেগন্যান্ট অবস্থায় এটা ঠিক হয়নি আমি নিজেও সেটা জানি আর তাই নকল ছুড়ি রেখেছিলাম। ডক্টর বলেছে কাল রিলিজ দেবে। রাতে ঘুশমিয়ে আছি হঠাৎ কারো গরম নিঃশ্বাস আমার মুখে অনুভব করলাম মনে হচ্ছে কেউ তাকিয়ে আছে। ঘুম বেশী হওয়ায় তাকাতে পারছি না অনেক কষ্টে কোনোরকম চোখে খুললাম কিন্তু আশেপাশে তো কেউ নেই আমার তো স্পষ্ট মনে হলো। কেউ এখানে ছিলো তাহলে কি শুভ এসেছিলো?

পরেরদিন আমাকে বাড়ি নিয়ে এলো সাথে আমার আম্মু এসেছে। আমি সবাই কে বোঝানোর চেষ্টা করছি এটা শুভ কিন্তু কেউ বিশ্বাস করছে। না সবাই ধমক দিচ্ছে কি করবো। এবার? এরমাঝে বাবা চেচিয়ে বাড়ি এলো অভি কে ডাকছে কিন্তু চেচিয়ে কেন? তাই আমিও নিচে নেমে এলাম। বাবা একটা ফাইল অভি’র দিকে ছুড়ে বললো,
~ এত বড় ভুল তুই কি করে করলি?

~ পাপা কি করেছি আমি?
অভি’র কথায় বাবা আরো রেগে বললো,
~ তোকে এই ফাইল দিয়েছিলাম। সবকিছু ঠিক করে রাখতে তুই সেখানে সব উল্টা পাল্টা করে রেখেছিস প্রজেক্টের জন্য যেই পেপারস এই ফাইলে ছিলো সেগুলো কোথায়?

অভি ফাইলটা নিয়ে অসহায় ভাবে তাকালো। ওর কাছ থেকে নিয়ে আমি দেখলাম এখানে কি সব আর্ট করা আছে। বাবা চেচিয়ে বলে উঠলো
~ তোর জন্য আমার ৫ কোটি টাকা লস গেলো। এতটা দায়িত্বহীন কি করে হতে পারলি অভি?
~ পাপা আমি জানিনা এসব কি করে হলো। ট্রাস্ট মি পাপা আমি সব দেখেছিলাম।
অভি’র বলায় ও বাবা বিশ্বাস করছে। না করার কথাও না আমি ভাবছি এসব কে করছে।? আমাদের এত লস কে করাতে পারে?

অভি বাড়ি নেই আজ আসতে আসতে রাত হবে বাড়ি আমি, আম্মু, বাবা, ফুপ্পি আর আমার ভার্সিটি ফ্রেন্ডরা ওদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি আর আমার শাশুড়ি আম্মু আমার ফুপ্পি শাশুড়ি কাজ করছে। ওদের দিয়ে আমিই কাজ করাচ্ছি চা আনতে বলেছি আরো আগে কিন্তু এদের তো আসার নাম গন্ধ নেই চেচিয়ে বললাম,
~ আম্মু, ফুপ্পি চা কি আজকে পাবো?

কিছুক্ষণ পর চা নিয়ে এলো সবাই কে আম্মু চা দিচ্ছিলো ইচ্ছে করে পা বাধিয়ে দিলাম আর চা গিয়ে পড়লো। আমার একটা ফ্রেন্ডের গায়ে রেগে বলে উঠলাম,
~ ওয়াট দ্যা হেল আম্মু? একটা কাজ ঠিকমত করতে পারোনা?

অবশ্য পারবে কি করে? সারাদিন তো বসে বসে গিলতে থাকো এখন হা করে কি দেখছো? ওর ড্রেসে চা পড়েছে তোমার ওরনা দিয়ে মুছে দাও।
আম্মুর চোখগুলো ছলছল করছে। আমার অনেক খারাপ লাগছে কিন্তু আমি শুভ কে রাগাতে এসব করছি যে কি না এখন রবিন সেজে আছে। নিজের বাড়ির লোক কে এভাবে দেখে নিশ্চই ও রেগে এসে আমাকে বকবে তাহলে সবাই বুঝবে ও শুভ এরা আমার ফ্রেন্ড ততটা না শুধু আজকের জন্য ওদের এনেছি ও উপরে দাড়িয়ে দেখছে। সব চোখেমুখে রাগ স্পষ্ট ফুটে উঠেছে পাশে ওই মেয়েটা আছে। একটুপর দেখলাম বাবা এলো বাবা কে ডেকে বললাম,
~ বাবা আমার ফ্রেন্ডদের জুস সার্ভ করে দাও
বাবা আকাশ থেকে পড়লো। রেগে বললো,
~ তিশা এসব কি বলছিস তুই?

~ ও কাম অন পাপা এত রেগে যাচ্ছো কেন? আমি যখন বলেছি তখন করো ভুলে যেওনা এই বাড়ির মালিক আমি তাই চুপচাপ কাজ করতে থাকো
~ বাট এই বাড়ির ৫০% আমার তাই আমি বলছি ওনারা আর কোনো কাজ করবে না
তাকিয়ে দেখলাম রবিন মনে মনে খুশি হলেও উপরে রাগ দেখিয়ে বললাম,
~ হেই হু আর ইউ? এসব বলার আপনি কে? ওনারা কি করবে কি করবে না সেটা ঠিক করার আপনি কে?

আমার লাইফ এরা আমার পরিবার আপনি কেন মাঝে কথা বলছে।ন? আপনি আমার পরিবারের কেউ না সো ইউ জাস্ট স্টে এওয়ে ফ্রম মি, এন্ড মাই ফ্যামিলি, গট ইট?
দেখলাম বাবা দাড়িয়ে আছে। তাই বললাম,
~ কি হলো। বাবা? তুমি এখানে হা করে দাড়িয়ে আছো কেন? তোমাকে না বললাম, ওদের জুস দিতে?

কিন্তু এতেও কাজ হলো।না ওই নিতু মেয়েটা ওকে নিয়ে চলে গেলো। মন খারাপ হয়ে গেলো। সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিলাম। হয়তো অবাক হয়েছে। কিন্তু রেগে নেই কয়েকদিন কেটে গেলো। এরকম হয়ে আসছে কখনো অভি’র সাথে উল্টা পাল্টা হচ্ছে কখনো আমার সাথে যার কারনে বেশী কথা শুনতে হয় এইতো মাঝে সবাই কে কেউ আইস ফ্যাক্টরী তে আটকে দিয়েছিলো আর সব দোষ হয়েছে। অভি’র আমার কেন জানিনা মনে হচ্ছে এইসব রবিন হয়ে থাকা শুভ করছে। শুধু বুঝতে পারছি না কেন করছে।?

রাত ১ টা ছাদে দাড়িয়ে আছে। একজন যার চোখগুলো লাল হয়ে আছে। হাত মুঠ করে রেখেছে ফোস ফোস করছে। রাগে!
~ আমার সাথে তোমরা যেটা করেছো তার কাছে এটুকু তো কিছুই না খুব কম শাস্তি আমি দিয়েছি তোমাদের মাম্মা, পাপা তোমরা কখনো আমাকে ভালবাসোনি তিশা তুমিও আমাকে ভালবাসোনি আর অভি সে তো খুনি তুই আমার বউ কে পেতে আমাকে খুন করতে চেয়েছিলি নাহলে আমি গুলি খাওয়ার পর পরই তিশা কে বিয়ে কেন করলি? আর তিশা তুমি কি করে পারলে? আমাকে ভুলে ওর সাথে সংসার করতে?

এখন তো তুমি ওর বাচ্চার মা ভেবেছিলাম। হয়তো বাচ্চাটা আমার কিন্তু ডক্টরের কাছে গিয়ে জানলাম তুমি ৩ মাসের প্রেগন্যান্ট যেখানে আমি নিখোজ ৪ মাস ভেবেছিলাম। ৪ মাস আগে সেই রাতের জন্য হয়তো আল্লাহ আমার বাচ্চা তোমার গর্ভে দিয়েছে। ডক্টর যদি বলতো ৪ মাসের প্রেগন্যান্ট ট্রাস্ট মি সব ভুলে যেতাম অভি’র থেকে তোমাকে ছিনিয়ে নিতাম কিন্তু না তুমি তো দিব্যি আছো কাউকে ক্ষমা করবো। না এখন তো আমার মনে হয় সবাই কে ভালবাসার জন্য আমার জন্ম হলেও আমাকে ভালবাসার জন্য কারো জন্ম হয়নি হ্যা শুভ কে কেউ ভালবাসে না!
পরেরদিন রবিন আমাকে ডাকলো কি নাকি সত্যি বলতে চায় ভাবলাম আজ হয়তো সব স্বীকার করবে তাই চুপিচুপি ওর রুমে গেলাম। রুমের কাছে আসতেই কেউ হ্যাচকা টানে ভেতরে নিয়ে গেলো। তাকিয়ে দেখি রবিন ওর হাত আমার কোমরে যেহেতু স্বীকার করেনি ও শুভ তাই বললাম,

~ কি করছে।ন আপনি?
~ কেন? তুমি তো আমাকে জড়িয়ে ধরো আমি না তোমার শুভ? আমি তো তোমাকে টাচ করতেই পারি
স্লো ভয়েসে বলে আমাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে গলায় মুখ ডুবিয়ে দিলো আমি ওর হাত চেপে ধরলাম হুট করেই বিছানায় শুইয়ে দিয়ে জড়িয়ে ধরলো আমি সরিয়ে দিয়ে বললাম,
~ তাহলে তুমি স্বীকার করছো তুমি শুভ?
~ কখন বললাম,?

বিছানা থেকে উঠে বললো, আমি রেগে গিয়ে বললাম,
~ মানে কি শুভ? একদম মিথ্যে বলবে না আমি জানি তুমি শুভ আজই সবাই কে বলবে আর ওই বাচ্চাটা কে? তোমাকে পাপা কেন বলে?
~ আমার ছেলে তাই পাপা বলে
বলে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। আমি থম মেরে বসে রইলাম আমিও ওই রুম থেকে চলে এলাম। কিন্তু একটা রুমের কাছে এসে যা শুনলাম আমার পায়ের তলার মাটি সরে গেলো। মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে মানুষ এত খারাপ কি করে হয়? এত বিশ্বাসঘাতক কি করে হয়? বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে এভাবে ঠকালো?


পর্ব ১৮

এমন কিছু কোনোদিন ভাবিনি মানুষ এত নিচ কি করে হয়? রুমে এসে থম মেরে বসে রইলাম আমার থেকে আমার স্বামী কে সরিয়েছে আমার শুভ কে মারতে চেয়েছে তাকে আমি কিছুতেই ক্ষমা করবো। না এদিকে নিতু এসে রবিনে’র কাধে হাত রাখলো রবিন কান্না করছে। আসলে তো শুভ!
~ থ্যাংকস নিতু তুমি না থাকলে আমি এসব কিছু করতে পারতাম না সেদিন যদি তুমি না বাঁচাতে তাহলে আমি মরেই যেতাম
নিতু সোফায় বসে বললো,

~ এটা আমার দায়িত্ব রবিন কে তো আমি ৩ বছর আগে হারিয়েছি তোমাকে পেলাম। মাজারের কাছে মাজারের পাশে নদীর কিনারে তুমি ছিলে আসলে প্রতিবার যেতাম ওখানে তোমাকে হসপিটালে নেওয়ার পর ডক্টর ট্রিটমেন্ট করে রবিন তো ৩ বছর নিখোজ ছিলো রোহানে’র জন্মের পরই হঠাৎ নিখোজ হয় পাগল হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু পাইনি ৩ বছর পর মৃত দেহ পাই তোমার সেন্স এলেও সাময়িক সময়ের জন্য তোমার মেমোরি লস হয়ে যায় ২ মাস পরে সব মনে পড়ে তুমি এখানে চলে আসো এরপর আবার আমাদের ওখানে যাও রোহান কে নিজের সন্তানের মত দেখো রোহান রবিন কে না পেলেও তোমাকে তো পেয়েছে
শুভ চোখমুখ খিচে বললো,
~ এখানে এসে তো জানি তিশা অভি কে বিয়ে করেছে তাই ভাবি সবাই কে শাস্তি দেবো তুমি না থাকলে কিছুই হতো না
~ তুমি আমার ছেলে কে বাবার ভালবাসা দিয়েছো এটুকু তো করতেই পারি রবিন অলওয়েজ নিজেকে কাভার করে রাখতো খুব কম মানুষ ওকে চিনতো তাই এটা সম্ভব হয়েছে। শুভ বলে উঠলো

~ এবার আসল চাল দেবার পালা!
রুমে বসে ছিলাম। এরমাঝে আম্মু ডাক দিলো তাই নিজেকে স্বাভাবিক রেখে নিচে নেমে এলাম। আমার আম্মুও আছে। অভি’র গায়ে পুলিশের ইউনিফর্ম দেখে বোঝা যাচ্ছে থানায় যেতে রেডি হয়েছে। রবিন নামক শুভ ও আছে। ইনফ্যাক্ট সবাই আছে। সবার মুখ দেখে মনে হচ্ছে অতিরিক্ত রেগে আছে। কিন্তু কেন? আসতে না আসতে আমার আম্মু ঠাস করে আমাকে থাপ্পর মারলো। আমি কিছু বুঝতে পারছি না। তাই জিগ্যেস করলাম,
~ কি হয়েছে। আম্মু? তোমরা এত রেগে আছো কেন?

এরমাঝে আম্মু আমার সামনে ফোন বের করে ধরলো। যেটাতে একটা ভিডিও। ভিডিও দেখে আমি জাস্ট শকড। এটা তখনকার ভিডিও যখন এই শুভ আমাকে ওর রুমে যেতে বলেছিলো। আর আমি যাওয়ার পর ও আমার গলায় মুখ ডুবিয়েছিলো। আমাকে জড়িয়ে ধরেছিলো। এরপর নিতু বলে উঠলো,
~ ছিঃ আপনি এত খারাপ? আমার অগোচরে আমার স্বামীর সাথে এসব করলেন?
আমি কি বলবো বুঝতেছি না। শুভ এটা কি করে করতে পারলো?

~ মিস্টার অভি আই থিংক আপনার ওয়াইফের ক্যারেক্টারে দোষ আছে।
কথাটা কলিজায় এসে লাগলো। এটা কি সত্যি আমার শুভ? আমার শুভ আমাকে চরিএহীন বলবে? রাগে গা জ্বলে যাচ্ছে ধীর পায়ে ওর সামনে গিয়ে দাড়ালাম ওর মুখে হাসি ফুটে উঠেছে কোনোকিছু না ভেবে ঠাস করে থাপ্পর বসিয়ে দিলাম সবাই হয়তো অবাক হয়েছে। আর ও রাগী দৃষ্টিতে তাকালো। কলার চেপে ধরে বললাম,
~ তুমি আমার শুভ হতেই পারোনা
ও বিষ্ময় চোখে তাকালো। আমি ওকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে বললাম,
~ তুমি আমার শুভ হলে আর যাই হোক আমার সাথে এটা করতে না। কারন শুভ’র কাছে আমার সম্মান সবার আগে। আর তুমি কি করে করতে পারলে বলো? এত নিচে নেমে গিয়েছো? কিসের শাস্তি দিচ্ছো আমাকে?

আমার কি অপরাধ বলো? আর এই বাড়ির লোকের কি অপরাধ? আমি জানি এতদিন ধরে আমাদের সাথে যা খারাপ হচ্ছে এই সব তুমি করেছো প্রথমে আমার জুসে ড্রিংক মিলিয়েছো যেখানে তুমি জানতে আমি প্রেগন্যান্ট এরপর অফিসের ফাইলে নিজের নাম লিখে রেখেছো আমার লেখা একমাএ তুমি কপি করতে পারো এরপর খাবারে ঝাল মিলিয়েছো যেখানে তুমিও জানো তোমার নিজের ভাই ঝাল সহ্য করতে পারেনা এই পরিবার এরা তোমার পরিবার অথচ তুমি এদের আইস ফ্যাক্টরী তে লক করে সব দোষ তোমার নিজের ভাইয়ে’র উপড় চাপিয়েছো ওকে সবার সামনে খারাপ বানিয়েছো আর আজ আমাকে চরিএহীন করলে কেন হ্যা? কিসের এত ক্ষোভ তোমার?

~ হ্যা হ্যা আমি শুভ কোনো রবিন না আর এতদিন ধরে এসব আমি করেছি আর যা করেছি যা শাস্তি দিয়েছি সেটা তোমাদের জন্য খুব কম
শুভ চিৎকার করে বললো, এবার সবাই আকাশ থেকে পড়লো। আম্মু, বাবা, ছলছল চোখে তাকালো। আমি চেচিয়ে বললো,
~ কি করেছি আমরা? কেন করছো এসব?

শুভ তাচ্ছিল্য হেসে বললো,
~ রিয়েলি? এটা আমাকে বলতে হবে? আরে কি করোনি তোমরা? আমি গুলি খেয়ে নিখোজ হতে না হতে তুমি এই অভি কে বিয়ে করে নিলে আর তার বাচ্চা পেটে নিয়ে ঘুরে বেরাচ্ছো এই তোমার ভালবাসা? লজ্জা করলো না এটা করতে? আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি তিশা তোমার লজ্জা বলতে কিছু নেই
~ স্টপ ইট শুভ, না অভি ভাইয়া আমার স্বামী আর না আমার বাচ্চার বাবা
সবাই আকাশ থেকে পড়লো। সবাই জানে বাচ্চাটা অভি ভাইয়ার না কিন্তু অভি ভাইয়া যে আমার স্বামী না এটা কেউ জানতো না আম্মু বলে উঠলো
~ অভি তোর স্বামী না মানে? তোরা যে কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে করলি?

~ ও ঠিকই বলেছে মাম্মা আমাদের কোনো বিয়েই হয়নি শুধু মাএ তোমাদের জন্য আমরা গত ২ মাস ধরে এই নাটক করে আসছি
অভি ভাইয়ার কথা শুনে শুভ বললো,
~ তাহলে কি বিয়ে ছাড়াই বাচ্চা
আবারও থাপ্পর মারলাম আমি ভাবতে পারছি না শুভ এসব বলছে? চোখ দিয়ে পানি পড়ছে চেচিয়ে বললাম,
~ এই বাচ্চা তোমার শুভ কি করে বলতে পারছো এসব?

~ আমার কি করে হলো? আমি নিখোজ ছিলাম। ৪ মাস আর তুমি প্রেগন্যান্ট ৩ মাস
ওর কথায় অবাক হয়ে গেলাম শুধু আমি না সবাই অবাক হয়ে গেলো। আম্মুই আবার বললো,
~ তুই এসব কি বলছিস শুভ? তিশা ৩ মাসের প্রেগন্যান্ট কে বললো,? তিশা’র প্রেগন্যান্সি ৪ মাস গিয়ে ৫ মাসে পড়লো। গতকাল
~ ওয়াট? এসব কি বলছো?

~ বাচ্চাটা তোমার শুভ ৪ মাস আগে যখন তোমার গুলি লাগলো। তুমি ব্রিজের নিচে পড়ে গিয়েছিলে আমিও লাফ দিতে চেয়েছিলাম। এরপর অভি ভাইয়া আমাকে ধরে ফেলে আমি সেখানে সেন্সলেস হয়ে যাই আর তারপর!

অতীত

আস্তে আস্তে আমি চোখ খুলি চোখ খুলে দেখি আমি বিছানায় আশেপাশে সবাই আছে। শুধু শুভ নেই শুভ কে দেখতে না পেয়ে আমি শুভ বলে চেচিয়ে উঠি তখন ডক্টর আমাকে বলে
~ আপনি এভাবে হাইপার হবেন না এতে আপনার বেবীর প্রবলেম হবে
বেবী শুনে আমি বুঝতে পারিনা কার বেবী কিসের বেবী? তাই বলে উঠি।
~ বেবী মানে?

~ তিশা তোর বেবী তুই প্রেগন্যান্ট
অজান্তে পেটে হাত দেই মনে পড়ে যায় শুভ বলেছিলো যখন ও জানবে। আমি প্রেগন্যান্ট তখন ১ সপ্তাহ ও বাড়ি থেকে কোথাও যাবেনা এখন মনে হচ্ছে যদি কাল জানতাম তাহলে শুভ আজ কোথাও যেতোনা চিৎকার করে কাঁদতে থাকি
~ আম্মু আমার শুভ কে এনে দাও আমার বাচ্চার ওর বাবা কে দরকার অভি ভাইয়া এনে দাও শুভ কে
সবাই কাঁদছে আমার কলিজা মনে হচ্ছে কেউ বের করে নিয়ে যাচ্ছে

~ দেখ তৃশ শুভ কে খোজা হচ্ছে আমরা ঠিক ওকে পাবো
অভি ভাইয়া বলছে। হঠাৎ মনে হলো। কেউ সুচ ফোটালো বুঝলাম ইনজেকশন দিচ্ছে কিছুক্ষণের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়লাম। যখন ঘুম ভাঙলো কাউকে পেলাম। না ড্রয়িংরুম থেকে কান্নার আওয়াজ আসছে মনের মধ্যে ভয় ঢুকে গেলো। ধীর পায়ে নিচে নেমে এলাম। এসে দেখলাম সবাই কাঁদছে আর আম্মু হাউমাউ করে কাঁদছে আম্মুর হাতে শুভ আজ যেই শার্ট পড়েছিলো সেটা আমি আম্মুর সামনে গিয়ে শার্ট নিয়ে বললাম,
~ এটা তো শুভ’র শুভ কোথায়?

কেউ কিছু বলছে। না তাই চিৎকার করে বললাম,
~ কি হলো? তোমরা কেউ কিছু বলছো না কেন? কোথায় আমার শুভ? ওর তো গুলি লেগেছে ওকে হসপিটালে নিতে হবে ও তোমরা ওকে হসপিটালে নিয়েছো? তাহলে আমাকে নিয়ে চলো
বলে সামনের দিকে পা বাড়ালাম!

~ শুভ নেই তৃশ ওকে পাইনি পুলিশ বলেছে ও যেখানে পড়েছে ওখানে পড়লে কেউ বাঁচেনা
অভি ভাইয়ার কথায় স্তব্ধ হয়ে গেলাম মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হচ্ছেনা মনে হচ্ছে কথাগুলো গলায় দলা পাকিয়ে গিয়েছে। মনে মনে বলছি
~ কেন আল্লাহ এটা কেন হলো? আজ শুভ’র সাথে এটা হলো। আর আমি আজই জানলাম আমি প্রেগন্যান্ট কি করে থাকবো শুভ কে ছাড়া? মরতেও তো পারবো না। আমি তো এখন একা না আমার গর্ভে আমার শুভ’র সন্তান কি করবো। আমি এখন?

এভাবে কেটে যায় ১ মাসের বেশী অভি ভাইয়া অলওয়েজ আমার খেয়াল রাখতো আমি সবসময় কাঁদতাম এটা আমার বাচ্চার জন্য ঠিক ছিলো না এ অবস্থায় নাকি হাসি খুশি থাক।তে হয়? কিন্তু আমি তো পারিনা থাক।তে হঠাৎ একদিন আম্মু এসে বললো,
~ অভি কে বিয়ে কর তিশা
আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো। অবাক চোখে বললাম,
~ এসব কি বলছো আম্মু?
~ দেখ তিশা আমি তোর আর তোর সন্তানের জন্য বলছি
~ মানে কি এসবের?

~ শুভ কে হয়তো আমরা আর পাবোনা কিন্তু তোর সন্তানের জন্য ওর বাবার খুব দরকার মা তুই একবার ভেবে দেখ ও যখন পৃথিবীতে আসবে আর বড় হবে ওকে তো স্কুলে ভর্তি করবি ও যখন সবাই কে দেখবে তাদের বাবা আছে। তাদের ভালবাসে তখন ওর ওইটুকু মনে সেটার কত খারাপ এফেক্ট পড়বে।
আম্মু যেটা বলেছে সেটা ঠিক কিন্তু আমি কাউকে বিয়ে করতে পারবো না। কিছুতেই না আমার শুভ আসবে আমি শুভ কে ছাড়া কাউকে স্বামী হিসেবে মানবো না!
~ মাম্মা এসব কি বলছো তুমি?

দরজায় তাকিয়ে দেখি অভি ভাইয়া।
~ তিশা আমাকে কেন বিয়ে করবে? আর আমি বা ওকে কি করে বিয়ে করবো?
রুমে ঢুকতে ঢুকতে বললো,
~ কেন বিয়ে করতে পারবি না? তুই পারবি না শুভ’র সন্তান কে তোর সন্তান বলে মেনে নিতে? তিশা কে সুখে রাখতে? মেয়েটা যে কষ্ট পাচ্ছে।
আম্মু রীতিমত কান্নাকাটি শুরু করে দিলো।
~ মাম্মা ও শুভ’র বউ শুভ’র সন্তান কে নিজের সন্তান ভাবতে পারি কিন্তু তৃশ ওর বউ আমি কি করে?

~ আমিও চাই তোরা বিয়ে কর
আমার আম্মু বললো, আম্মু ও চলে এসেছে। সবাই মিলে এক কথা বলছে। এরপর তো কসম দিয়ে দিলো নিজেকে খুব অসহায় লাগছে অভি ভাইয়া বলে উঠলো!
~ ঠিকাছে আমি বিয়ে করবো। কিন্তু তারআগে তৃশে’র সাথে আমি একটু কথা বলবো।
সবাই খুশি হয়ে রুম থেকে চলে গেলো। আমি রেগে বললাম,
~ এসব কি বলছো তুমি?
~ নকল বিয়ে তো করতে পারি

আমি অবাক হয়ে বললাম, মানে?
~ দেখ তৃশ আমি জানি তুই শুভ কে কত ভালবাসিস আমিও এই বিয়ে করতে চাইনা কিন্তু এখন যদি আমরা নকল বিয়ে না করি তাহলে সবাই মিলে আমাদের বিয়ে সত্যি দিয়ে দেবে।
ভেবে দেখলাম কথাটা ঠিক তাই বললাম,
~ নকল বিয়ে কি করে করবো?

~ আমি আর তুই বলবো আমরা জাঁকজমক ভাবে বিয়ে করবো। না তুই আর আমি কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে করে আসবো। আর ওখানে গিয়ে কাজী কে বলবো যদি কেউ জানতে চায় আমরা আসলে বিয়ে করেছি কি না? উনি যাতে হ্যা বলে এতে সবাই জানবে। আমরা হাজবেন্ড, ওয়াইফ।
উপায় না পেয়ে রাজী হয়ে গেলাম এরপর অভি ভাইয়ার কথামত সেটা বললাম, সবাই রাজী হলেও বললো, আমাদের রিসেপশন করবে এরপর হলো। নকল বিয়ে আর রিসেপশন সবাই জেনে গেলো। আমি অভি চৌধুরীর বউ আমি শুধু তাচ্ছিল্য হাসলাম অভি ভাইয়া কে ভাইয়া বলতে আম্মু বারন করলো আর অভি ভাইয়া কে বললো, যেন তুই না বলে তাই আমি অভি বলতাম আর অভি ভাইয়া তুমি এভাবে আরো ২ মাস কেটে গেলো।

বর্তমান…..

শুভ কিছুক্ষণ চুপ থেকে হেসে দিলো এ হাসির কারন অজানা হাসি থামিয়ে শুভ বললো,
~ তুমি কি জানো? অভি তোমাকে ভালবাসে?
আমি শকড হয়ে বললাম,
~ এসব কি বলছো তুমি?

শুভ দাতে দাত চেপে বললো,
~ আমি ঠিকই বলেছি আর তোমাকে যাতে ও পায় তাই ৪ মাস আগে এই অভি আমাকে গুলি করেছিলো।
বাড়িতে থমথম পরিবেশ চলছে। অভি ভাইয়া বসা ছিলো ধীর পায়ে শুভ’র সামনে এসে বললো,
~ তুই কি বললি শুভ? আ আমি তোকে গুলি করেছি?

~ হ্যা তুই আমাকে মারতে চেয়েছিলি তোকে তো আমি
বলে শুভ হাত ওঠাতে গেলে আমি থামিয়ে দিয়ে বললাম,
~ না জেনে কাউকে ব্লেম করা ঠিক না অভি ভাইয়া কিছু করেনি আরে কি করে বলছো এসব? এই লোকটা ৪ মাস নিঃস্বার্থ ভাবে আমার আমার সন্তানের খেয়াল রেখেছে আমি খেয়েছি কি না? আমি না খেলে আমার সন্তানের ক্ষতি হবে তোমার সন্তান কে নিজের সন্তান ভেবে এসেছে। তাকে তুমি খুনি বলছো?
~ তিশা তুমি জানোনা
শুভ কে থামিয়ে বললাম,

~ আমি সব জানি কে তোমাকে মারতে চেয়েছে? আর কেন মারতে চেয়েছে হয়তো কেউ বিশ্বাস করবে না কিন্তু আমি আজ সব জেনেছি
অভি ভাইয়া উত্তেজিত হয়ে বললো,
~ তুই জানিস? তাহলে শুভ কে বল তৃশ ও আমাকে দোষী ভাবছে আমি তো দোষী না প্লিজ বল।
এবার শক্তভাবে বললাম,
~ তুমি নিজে সব স্বীকার করবে? নাকি আমি লাইভ দেখাবো?
~ এসব আমি করেছি।

কেউ হয়তো ভাবেনি ও এমন করতে পারে এ আর কেউ না আরোহী হ্যা সেই আরোহী যাকে এত ভালবাসতাম শুভ অবাক হয়ে বললো,
~ আরোহী তুই? তুই তো আমাকে এতদিন হেল্প করলি তুই আমাকে মারতে চেয়েছিলি?
~ হ্যা মারতে চেয়েছি আমি তোকে সেই ছোট থেকে আমি তোকে ভালবাসি কিন্তু তুই কি করলি? তিশা কে বিয়ে করে নিলি আমি দাতে দাত চেপে সহ্য করেছি তোদের নেকামি দেখতে দেখতে হাপিয়ে গিয়েছিলাম। তাই ডিসাইড করে ফেলি তুই আমার না হলে তোকে আমি আর কারো হতে দেবোনা তাই সেইরাতে তুই যখন।
বের হলি আমি জানতাম তুই ওই ব্রিজে যাবি তিশা বের হওয়ার পর আমিও বের হই। আর তুই রেগে ছিলি তাই অভি ভাইয়া বের হয় সুযোগ বুঝে গুলি তাক করি তখন।
তিশা সামনে ছিলো তাই ভাবি আগে ওকে মারি তারপর তোকেও মারবো।

কিন্তু তুই রোমিও ওকে সরিয়ে নিজে গুলি খেয়ে পড়ে গেলি এরপর তোর বউ লাফ নিতে চায় আর তখন অভি ভাইয়া ওকে বাঁচায় ও সেন্সলেস হয়ে যায় অভি ভাইয়া ওকে কোলে নিয়ে গাড়িতে ওঠায় আমি ছবি তুলে রাখি জানিনা কেন মনে হয়েছিলো? বাই এনি চান্স যদি তুই বেঁচে যাস তাহলে এগুলো দিয়ে তোর মন বিষিয়ে দেবো। তারআগে তো এরা বর, বউয়ের ড্রামা করে এতে তুই এমনিই রেগে গেলি আমি আগেই বুঝেছিলাম। তুই শুভ তাই তোকে ওগুলো দেখিয়ে হেল্প করার ড্রামা করি তিশা’র পেটে তোর বাচ্চা ডক্টর যে বলেছিলো ৩ মাসের প্রেগন্যান্ট আমার কথাতেই বলেছিলো হ্যা আমি করেছি এসব আর বেশ করেছি!

আরোহী’র কথা শুনে আমরা জাস্ট থ এত প্লান? ফুপ্পি গিয়ে থাপ্পর মেরে বললো,
~ এটা কে ভালবাসা বলে না জেদ বলে বুঝেছিস? তুই এত নিচ কি করে হলি? ছোট ভাই কে মারতে চেয়ে বড় ভাই কে ফাঁসিয়ে দিলি।
আমি নিজেও ভাবছি আরোহী এত খারাপ কি করে হলো?

~ আই এম সরি তিশা আই এম রিয়েলি সরি আমি বুঝতে পারিনি। তোমার সাথে অনেক অন্যায় করেছি। আমার সন্তান কে অন্য কারো ভেবেছি তোমাকে বিলিভ করিনি প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দাও
শুভ’র হাত সরিয়ে বললাম,

~ ক্ষমা চাওয়ার হলে অভি ভাইয়ার কাছে চাও যে আমাদের প্রটেক্ট করলো তোমার বউ কে তোমার সন্তান কে আর তুমি তাকে খুনি বানিয়ে দিলে?
~ না তৃশ ওর ক্ষমা চাইতে হবেনা আর কেন ক্ষমা চাইবে? আমি ওর উপর রেগেই নেই ওর জায়গায় আমি হলে হয়তো এই কাজটাই করতাম
অভি ভাইয়ার কথায় শুভ অবাক চোখে অভি ভাইয়ার দিকে তাকালো। এরমাঝে পুলিশ এলো
~ পুলিশ কে ডাকলো?

~ আমি পুলিশ আসতে বলেছি আমার ভাই কে খুন করার দায়ে মিস আরোহী কে এরেস্ট করতে
অভি ভাইয়ার কথা শুনে আরোহী চেচামেচি করতে লাগলো। কেউ ওর হয়ে কথা বলছে। না ওর নিজের মা ও না হঠাৎ আরোহী পুলিশের কোমর থেকে বন্ধুক নিয়ে শুভ’র দিকে তাক করে বললো,

~ বলেছিলাম। না শুভ? তুই আমার না হলে কারো হবিনা
আমি আর শুভ কে হারাতে পারবো না। এটা ভেবে শুভ’র সামনে দাড়ালাম আরোহী গুলি চালিয়ে দিলো চোখ বন্ধ করে ফেললাম। কিন্তু আমার কিছু হলো।না তাই চোখ খুললাম চোখ খুলে আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো। আমার সামনে অভি ভাইয়া দাড়ানো বুকে হাত দিয়ে আছে। ওভাবেই অভি ভাইয়া নিচে পড়ে গেলো। ইউনিফর্ম রক্তে লাল হয়ে আছে। অভি ভাইয়া নিজের কোমর থেকে বন্ধুক বের করে আরোহী’র পায়ে গুলি করে বললো,
~ অফিসার ওকে নিয়ে যান
~ অভি ভাইয়া!

শুভ কাঁপা গলায় বললো, ভা ভা ভাই ভাইয়া!
সবাই অভি ভাইয়ার কাছে এলো শুভ অভি ভাইয়ার মাথা নিজের কোলে নিলো আমি কাঁদতে কাঁদতে বললাম,
~ তুমি আমার সামনে কেন এলে?

অভি ভাইয়া মুচকি হেসে বললো,
~ ৪ মাস তোকে আর তোর সন্তান কে আগলে আগলে রেখেছি চোখের সামনে আজ কি করে ক্ষতি হতে দিতাম? আর ৪ মাস পর শুভ তোদের ফিরে পেয়েছে? আবার কি করে হারাতে দিতাম?

অভি ভাইয়া জোড়ে শ্বাস নিতে নিতে বললো,
~ শুভ ছোটবেলায় আমি হারিয়েছি এরপর মাম্মা, পাপা কি করেছে আমি জানিনা কি কিন্তু তা তার দোষ কি আ আমার? তু তুই আ আমার থে থেকে কেন দু দুরে থা থাকিস? আ আমি হ হয়তো থাকবো না আ আমার মে মেয়ে স সরি তোর মেয়ে আ আর তৃ তৃশে’র খে খেয়াল রা রাখিস
বলতে বলতে অভি ভাইয়া জোড়ে একবার শ্বাস নিলো এরপর চোখ দুটো বন্ধ করে নিলো!
~ ভাইয়ায়ায়ায়া!
বলে শুভ জোড়ে চিৎকার করলো আমরা স্তব্ধ হয়ে গিয়েছি!

পর্ব ১৯

শুভ, ভাইয়া ভাইয়া বলে কাঁদছে এটাকেই হয়তো রক্তের সম্পর্ক বলে একদিন ঠিক ভুল বুঝাবুঝি দুর হয় কিন্তু অভি ভাইয়া কে হসপিটালে নিতে হবে তাই তাড়াতাড়ি সবাই কে বললাম, আর দেরী না করে হসপিটালে চলে এলাম। আল্লাহ কে ডাকছি যেন অভি ভাইয়া ঠিক হয়ে যায় যে মানুষটা নিঃস্বার্থ ভাবে গত ৪টা মাস আমার পাশে থেকেছে আমার এবং আমার সন্তানের খেয়াল রেখেছে আর আজ আমাদের জন্য নিজে মরতে বসেছে আল্লাহ যেন তাকে ফিরিয়ে দেয় ডক্টর অভি ভাইয়া কে ওটিতে নিয়ে গেলো। শুভ অনবরত কেঁদে যাচ্ছে আম্মু কাঁদছে তাই আম্মুর কাছে গেলাম কি বলবো বুঝতে পারছি না তবুও আম্মুর কাধে হাত রেখে বললাম,
~ আম্মু প্লিজ কেঁদোনা সব ঠিক হয়ে যাবে আল্লাহ কে ডাকো অভি ভাইয়া ঠিক হয়ে যাবে

সবাই কাঁদছে কাকে সামলাবো? আম্মু তো অভি ভাইয়ার মা আর এই মুহূর্তে আম্মু বেশী কষ্ট পাচ্ছে তাই আম্মু কে শান্ত করতে চাইছি শুভ’র উপর রাগ লাগছে এতদিন এতকিছু ভেবেছে ২ মাস আগে চাইলে সব ঠিক করতে পারতো ও কিন্তু না ও প্রতিশোধ নিতে ব্যস্ত ছিলো ২ ঘন্টা পর ডক্টর বেরিয়ে এলো ওনার মুখটা কালো করে আছে। এটা দেখে সবাই ভয় পাচ্ছে ডক্টর কে দেখে শুভ আগে এসে বললো,
~ ডক্টর আমার ভাইয়া কেমন আছে।? ও ঠিক হয়ে গিয়েছে। না? আমরা দেখা করবো। কোথায় ও?

আমি শুভ কে দেখে হা হয়ে আছি ও কি না অভি ভাইয়া কে দেখতে পারতো না ডক্টর মুখ বেজার করে বললো,
~ আসলে পেশেন্টের গুলিটা প্রায় হার্টের কাছে লেগেছে আমরা গুলিটা বের করে দিয়েছি কিন্তু ওনার এখনো সেন্স আসেনি অবস্থা খুব ক্রিটিকাল আগামী ২৪ ঘন্টায় ওনার যদি সেন্স না আসে তাহলে উনি কোমায় চলে যাবে আমরা আমাদের সাধ্যমত করেছি বাকীটা আল্লাহর হাতে আপনারা আল্লাহ কে ডাকুন!
শুভ সাথে সাথে ধপ করে বসে পড়ে বাচ্চাদের মতো কেঁদে দিলো আমি অবাক হয়ে শুভ কে দেখছি কেন জানিনা এখন মনে হচ্ছে আজ যেন শুভ বেশী কষ্ট পাচ্ছে গুটি গুটি পায়ে শুভ’র কাছে গিয়ে বসলাম ওমনি শুভ আমার হাত ধরে হাতের উপর কপাল ঠেকিয়ে বলতে লাগলো।

~ তিশা ভাইয়ার কিছু হবেনা তাইনা? ভাইয়া ঠিক হয়ে যাবে আমি কখনো ভাইয়া কে বুঝিনি কখনো ভাবিনি ছোট থেকে আমার সাথে যা হয়েছে। সত্যি এতে ভাইয়ার দোষ নেই ও তো আমাদের সাথে ছিলো না না জেনে কত কষ্ট দিয়েছি কত ছোট করেছি আজ যখন বুঝতে পারলাম তখন ভাইয়ার এই অবস্থা হয়ে গেলো। আমাদের জন্য নিজে গুলি খেলো ভাইয়ার কিছু হলে আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারবো না। আমি তো ক্ষমাও চাইতে পারলাম না

শুভ’র কথাগুলো শুনে ওর হাত ধরে বললাম,
~ শুভ আল্লাহ যেমন বিপদ দেয় ঠিক তেমন আল্লাহ’ই রক্ষা করে আল্লাহ’র উপর ভরসা রাখো অভি ভাইয়া ঠিক হয়ে যাবে
এদিকে অনেকক্ষণ একভাবে বসে আছি তার জন্য আমার খারাপ লাগছে মাথাটা কেমন যেন ঘুরছে উঠে দাড়াতে গিয়ে আবার বসে পড়লাম। দাড়িয়ে থাকার শক্তি নেই শুভ এসে আমাকে ধরে ফেললো আমি ওর হাত সরিয়ে দিলাম ও বুঝতে পারলো কিন্তু তবুও আবার হাত ধরে বললো,
~ চলো তোমাকে বাড়ি দিয়ে আসি
~ আমি একা চলে যেতে পারবো

বলে উঠে দাড়ালাম কিন্তু আবার পড়তে গেলেই শুভ হুট করে আমাকে কোলে তুলে নিয়ে হাটা শুরু করে আমি রেগে নামাতে বললাম, কিন্তু শুভ আমাকে নিয়ে গাড়িতে বসিয়ে কিছু না বলে গাড়ি স্টার্ট দিলো তাই বাধ্য হয়ে চুপ করে রইলাম!
~ আই এম রিয়েলি ভেরী সরি আমি জানি আমি ভুল করেছি আমার তোমার সামনে আসা উচিত ছিলো কিন্তু আমি আসিনি তিশা প্লিজ
হাত দিয়ে শুভ কে থামিয়ে বললাম,
~ চুপচাপ গাড়ি চালাও নাহলে নেমে যাবো!

শুভ জোড়ে একটা শ্বাস ছাড়লো যাকে বলা হয় দীর্ঘশ্বাস কিন্তু তবুও আমি কিছু বললাম, না বাড়ির কাছে গাড়ি থামালো সিটবেল্ট খুলে গাড়ি থেকে নেমে কোনোকথা না বলে রুমে চলে এলাম। আমার পিছনে শুভ ও এলো এসে ঘুরে ঘুরে রুম দেখছে। বুঝলাম ৪ মাস পরে এই রুমে তাই দেখছে। তবুও গম্ভীর কন্ঠে বললাম,
~ তোমার রুম আগের মতোই আছে।
~ আমার না আমাদের ওকে?

বলে শুভ ওয়াসরুমে ঢুকলো আমার খুব খারাপ লাগছে ইচ্ছে করছে। শুভ কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরতে কিন্তু পারছি না কারন শুভ আজ আমাকে চরিএহীন বলেছে সবার সামনে বলেছে সব মেনে নিতাম নিয়েছিও কিন্তু এটা মানতে পারছি না কি করে পারলো? এরকম করতে কি করে? ভাবতে ভাবতে চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়লো।
এরমাঝে শুভ বেরিয়ে এলো তাড়াতাড়ি চোখের পানি মুছে ফেললাম। শুভ লাল টি শার্ট আর সাদা প্যান্ট পড়েছে চুল দিয়ে পানি পড়ছে মানে শাওয়ার নিয়েছে একবার দেখে চোখ নামিয়ে নিলাম। শুভ আমাকে নিচে নিয়ে এলো দেখলাম আম্মুও চলে এসেছে। কেঁদে চোখ ফুলে গিয়েছে।

~ মাম্মা ওকে দেখে রেখো আমি হসপিটালে যাচ্ছি
এরপর শুভ চলে গেলো। আমি বারবার ফোন দিয়ে জেনেছি অভি ভাইয়ার সেন্স এসেছে। কি না প্রতিবার বলেছে আসেনি পরেরদিন আবার হসপিটালে চলে এলাম। এসে দেখলাম রুপ ও এসেছে। কথা বলতে গিয়েও বললাম, নারুপ এসেছিলো আমার কাছে আমি কথা বলিনি আর বলবোও না ২৪ ঘন্টা হতে চললো কিন্তু সেন্স আসেনি ডক্টর কে দেখে বাবা বললো,
~ ডক্টর আমার ছেলের সেন্স আসেনি?
~ আই থিংক পেশেন্ট কোমায় চলে গিয়েছে। তাই এখনো সেন্স আসেনি আমি গিয়ে দেখছি
হঠাৎ কেউ চিৎকার করে উঠলো তাকিয়ে দেখলাম খালামনি কাল বলতে বারন করেছিলাম। আম্মু কে তাহলে কি করে জানলো? কাছে গিয়ে বললাম,
~ খালামনি তুমি এখানে? তুমি কি করে জানলে?

~ আমি তো ওর আরেক মা তাইনা? তাহলে আমাকে কেন বললি না তিশা? আমি যদি তোর আঙ্কেল কে নিয়ে না আসতাম তাহলে তো জানতেই পারতাম না
বলে খালামনি কান্না করছে। একটুপর একজন নার্স আসলো
~ মিস্টার অভি’র সেন্স এসেছে। আপনারা দেখা করতে পারেন
মুহূর্তে সবার চোখ মুখে আনন্দ ফুটে উঠলো আম্মু আর খালামনি আগে গেলো। আম্মু শুভ কে ডাক দিলো আমরা ও ভেতরে চলে এলাম। শুভ আস্তে গিয়ে অভি ভাইয়ার মাথার পাশে দাড়ালো অভি ভাইয়া মুচকি হেসে বললো,
~ আমার কাছে বসবি না?

শুভ সাথে সাথে অভি ভাইয়ার পাশে বসলো
~ আমার জন্য তোকে কষ্ট পেতে হয়েছে। না?
শুভ অভি ভাইয়ার হাত ধরে কেঁদে দিয়ে বললো,
~ আই এম সরি ভাইয়া আমি না বুঝে না জেনে তোকে অনেক বেশী কষ্ট দিয়েছি আমাকে ক্ষমা করে দে প্লিজ
~ না তোকে আমি ক্ষমা করবো। না

অভি ভাইয়ার কথা শুনে অবাক হয়ে গেলাম আর শুভ ও হাত ছেড়ে দিয়ে বললো,
~ আমি বুঝতে পারছি আমি তোকে হার্ট করেছি কিন্তু এভাবে বলিস না ভাইয়া
~ আমি তোকে ক্ষমা করবো। না বিকজ আমি তোর উপর রেগেই নেই!

বলে অভি ভাইয়া হেসে দিলো আর শুভ অভি ভাইয়া কে জড়িয়ে ধরতে গিয়ে সরে গেলো।
~ সরলি কেন?
~ তোর বুকে গুলি লেগেছে তো আগে সুস্থ হয়ে যা এরপর জড়িয়ে ধরবো

এভাবে দুই ভাই হাসাহাসি করছে। ডক্টর অভি ভাইয়া কে বারন করেছে শুভ ও বারন করেছে কিন্তু ইনি খুচিয়ে খুচিয়ে কথা তুলছে আর হাসছে শুভ ও তাল মেলাচ্ছে সবার সাথে কথা বলেছে অভি ভাইয়া আমরা সবাই ওদের দেখছি হঠাৎ মাম্মা বলে উঠলো!

~ আজ আমি তোর বাবা স্বার্থক রে আমার দুই ছেলে মিলে গিয়েছে। আমার শুভ ফিরে এসেছে। আমরা আর কখনো ওকে কষ্ট দেবোনা অভি হারিয়ে যাওয়ার পর শুভ কে অনেক কষ্ট দিয়ে ফেলেছি আর না এখন থেকে আমরা হ্যাপি পরিবার হয়ে থাকবো
আল্লাহ’র কাছে শুকরিয়া জানালাম ৪ দিন পর অভি ভাইয়া কে বাড়িতে নিয়ে আসা হলো। বাড়িতে এসে দেখলাম নিতু কোথাও যাচ্ছে হাতে ট্রলি ব্যাগ ও আছে। শুভ এসব দেখে বললো,
~ নিতু কোথায় যাচ্ছো?

~ আমরা চলে যাচ্ছি শুভ আর আজকে আমরা লন্ডন চলে যাবো
রোহান পাশ থেকে বললো,
~ পাপা আমি যাবোনা তুমি মাম্মা কে বলো!

বলে রোহান শুভ’র কাছে চলে এলো শুভ রোহান কে কোলে নিয়ে বললো,
~ না বাবা তুমি পাপার কাছেই থাকবে!
নিতু রোহান কে নিয়ে বলে উঠলো
~ না শুভ এটা হয়না হতে পারেনা রোহান তোমার ছেলে না তিশা তোমার ওয়াইফ আর ও প্রেগন্যান্ট তোমার উচিত নিজের ওয়াইফ নিজের সন্তানের খেয়াল রাখা
কেন জানিনা রাগ লাগছে তাই বললাম,

~ লিসেন নিতু যদি শুভ’র ওর বউ, বাচ্চার খেয়াল রাখতে ইচ্ছে হয় তাহলে সেটা ও নিজে থেকে রাখবে। তোমার কথাতে আমি তো শুভ কে আমার বা আমার বাচ্চার খেয়াল রাখতে দেবোনা
বলে রুমে চলে এলাম। রুমে এসে পায়চারী করছি এরমাঝে গাড়ির শব্দ পেলাম। তাই জানালা দিয়ে নিচে তাকালাম দেখলাম নিতু চলে যাচ্ছে মনে মনে খুশি হলাম। তবে শুভ’র উপর থেকে রাগ যায়নি যাইহোক আস্তে আস্তে অভি ভাইয়া সুস্থ হলো। ১০ দিন পর রুম থেকে চেঁচামিচি শুনে নিচে এলাম। নিচে এসে বুঝলাম রান্নাঘর থেকে আওয়াজ আসছে রান্নাঘরে এসে আমার চোখ ছানাবড়া আম্মু কে ডেকে আনলাম আম্মুর ও আমার মতো অবস্থা আম্মু আর আমি একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে শব্দ করে হেসে দিলাম শুভ ছোট চোখ করে বললো,
~ ওয়াট হ্যাপেন্ড হাসছো কেন?

আমি ওর সাথে কথা বলিনা তাই আম্মু বললো,
~ তোরা দুজন কি করেছিস এসব? ময়দা দিয়ে সাদা ভুত সেজেছিস কেন?

আসলেই তাই রান্নাঘরে এসে দেখি দুজনের একেবারে ময়দা দিয়ে খুব বাজে অবস্থা অভি ভাইয়া বলে উঠলো
~ আমরা তো রান্না করতে চেয়েছিলাম।
আমি আর আম্মু আবার হেসে দিলাম
~ তোমরা করবে রান্না? সিরিয়াসলি অভি ভাইয়া আমার কাছে মনে হচ্ছে আমি যেন কোনো জোকস শুনলাম
বলে হু হা করে হেসে দিলাম শুভ রাগী গলায় বললো,
~ জাস্ট সাট আপ ওকে? আর তুমি এত হাসছো কেন?

~ তোমাকে বলতে বাধ্য নই!
বলে আর এক মুহূর্ত না থেকে চলে এলাম। এভাবেই চলছে। শুভ আর অভি ভাইয়া এরা একসাথে থাকলে পুরো বাড়ি মাথায় তুলে নেয়। ফাজিল কারো থেকে কেউ কম না আমার সাথে কথা বলে শুভ আমি কোনোকিছু বলিনা রাতে আমি ঘুমানোর পর শুভ বাবুর সাথে কথা বলে যদিও বাবু তো পেটে তবুও শুভ কথা বলে আমি অনেক সময় জেগে থাকি তাই শুনে এইতো দুই দিন আগে রাতে আমি চোখ বন্ধ করে ছিলাম। হঠাৎ পেটে শুভ হাত রেখে বলতে শুরু করলো
~ বেবী তুই দেখতে পাচ্ছিস? তোর মাম্মা তোর পাপার উপর কি পরিমান রেগে আছে। মনে হচ্ছে এই রাগ দিয়ে আমাকে পুড়িয়ে মারবে তুই তো পেটে আছিস তুই আর কি বলবি?

বলে পাশে শুয়ে পড়লো। গম্ভীর ভাবে বললাম,
~ এখানে কি করছো? তোমার তো সোফায় থাকার কথা
শুভ মুখ ফুলিয়ে সোফায় চলে গেলো। এটাই করি ওকে সোফায় থাক।তে বলেছি এভাবে আরো ৫ দিন চলে গিয়েছে। রাতে ব্যালকনিতে দাড়িয়ে আছি আমার ভাল লাগছে না শুভ কে এভাবে দুরে সরিয়ে রাখতে হঠাৎ কেউ পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলো বুঝলাম এটা শুভ ওকে ছাড়িয়ে চলে আসতে গেলে হাত টেনে ধরে বললো,
~ কোথায় যাচ্ছো?

আমি হাত ছাড়িয়ে বললাম,
~ পারছি না আমি শুভ সব মানতে পারলেও তুমি আমাকে চরিএহীন বলেছো এটা মেনে নিতে পারছি না তোমার জায়গা কাউকে দিতে পারিনি আমি রাতে অভি ভাইয়ার রুমে যেতাম ঠিকই সবাই কে দেখানোর জন্য কারন সবার চোখে আমরা হাজবেন্ড, ওয়াইফ ছিলাম। কিন্তু আবার এই রুমে চলে আসতাম এমন একটা রাত নেই যে আমি এখানে থাকিনি আমার শুধু একটা কষ্ট তুমি আমার কাছে এসে জানতে চাইতে কিন্তু না তুমি করলে না সেটা

~ আমি মানছি আমি ভুল করেছি তার জন্য আমি ক্ষমাও চেয়েছি আচ্ছা তুমি বলো তো আমার দোষ কি? কোন ছেলে সহ্য করতে পারবে? যে তার বউ সে মরার পরেই আরেকজন কে বিয়ে করছে। এটা শুনতে? নিজের চোখে রিসেপশন দেখতে? আমি ও পারিনি মানতে আর আমি কি জানতাম নাকি?

এটা তোমার আর ভাইয়ার নাটক ছিলো আর আরোহী ওই ছবি দেখিয়েছিলো এখন তুমি ভাবো সবটা এরপরও যদি তোমার মনে হয় আমাকে ক্ষমা করা যায়না তাহলে আমাকে ক্ষমা করতে হবেনা আমাকে শুধু আমার বেবীর থেকে দুরে রেখোনা
ভাঙা গলায় বললো, শুভ এবার আমি ভাবছি সত্যিই তো এতে ওর কি দোষ? ওর জায়গায় যে কেউ থাকলে হয়তো একই কাজ করতো আমিই একটু বেশী করে ফেলছি ৪ মাস পর ওকে ফিরে পেয়েছি আর দুরে সরিয়ে রাখবো না শুভ চলে যেতে গেলেই জড়িয়ে ধরে বললাম,
~ এখন তুমি কেন যাচ্ছো?

~ তুমি তো আমাকে ক্ষমা করোনি
~ না ক্ষমা করিনি কিন্তু রেগেও নেই তোমাকে দুরে সরিয়ে রাখতে পারবো না।
শুভ ও আমাকে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরলে। মনে হচ্ছে এই জায়গাটা সবচেয়ে নিরাপদ। এভাবে মরন হলেও শান্তি। ৪ মাস পর শুভ’র বুকে মাথা রাখার সৌভাগ্য হলো। পরেরদিন রুমে বসে আচার খাচ্ছি তখন রুপ হুরহুর করে রুমে এলো!
~ তুই এখানে কেন এসেছিস?

রুপ আমাকে থামিয়ে গরগর করে, অভি ভাইয়া কে ভালবাসে। আমার সাথে কেন কথা বলেনি সব বললো। সব শুনে আমি থ। একটুপর খুশিতে গদগদ হয়ে বললাম,
~ ও মাই গড রুপ তুই আমার জা হবি!
রুপ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো। তবে বেচারী লজ্জা পেলো পরে আবার কাঁদো কাঁদো হয়ে বললো,
~ অভি তো আমাকে ভালবাসে না
আমি ভাব নিয়ে বললাম,
~ আমি আছি না? আমি অভি ভাইয়া কে বোঝাবো তুই আরেকবার বলবি অভি ভাইয়া কে ওকে?

রুপ রাজি হয়ে গেলো। আমি অভি ভাইয়া কে বোঝালাম এখন তো বিয়ে করতে হবে সেটা প্রেম করে করুক বা পারিবারিক ভাবে করুক আর রুপ যে অভি ভাইয়া কে অনেক ভালবাসে এটাও বোঝালাম একটু নরম তো হয়েছে। পরেরদিন গিয়ে রাতে আমি আর শুভ রুমে বসে আছি শুভ তো বেবী আর বেবী বেবী ছাড়া কথা নেই তখন রুপ ফোন দিলো আমি রিসিভ করেই বললাম,
~ ওই বলেছিলি?

~ হ্যা রে বলেছিলাম।
~ কি বললো,? তাড়াতাড়ি বল!
~ বললো, একটু সময় লাগবে
আমি খুশি হয়ে বললাম,
~ একটু সময় যখন বলেছে তারমানে অভি ভাইয়া গলছে আইসক্রিমের মতো গলছে এবার পুরোটা গললেই তুই আমার জা হয়ে যাবি!
শুভ ভ্রু কুঁচকে বললো,
~ এই এসব কি বলছো তুমি?

ফোন রেখে শুভ কে সব বললাম,
~ বাহ শালিকা আমার ভাবী হয়ে যাবে
বলে শুভ হো হো করে হেসে দিলো আমিও হেসে দিলাম আর ভাবছি বেষ্টু আমার ভাবী হবে!

পর্ব ২০

সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। শুভ এখনো বেঘোরে ঘুমাচ্ছে অনেকবার ডেকেছি হু করে আবার ঘুম এবার অন্য উপায় করে উঠাতে হবে গ্লাসে পানি নিয়ে পাশে বসলাম লাস্ট আবার ডাক দিলাম ফলাফল একই তাই গ্লাসের পানি সম্পূর্ণ ওর মুখে ঢেলে দিলাম ওমনি শুভ লাফ দিয়ে উঠে বসলো রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আমার দিকে আর আমি হেসে কুটিকুটি হচ্ছি মুখ আর চুল ভিজে গিয়েছে। শুভ গাল ফুলিয়ে বললো,
~ এটা কি করলে?

~ তো কি করতাম? তুমি ঘুম থেকে উঠছিলে না তাই এভাবে ওঠাতে হলো।
~ সবার বউ কি রোমান্টিক কত রোমান্টিক ভাবে তাদের স্বামী কে জাগায় আর আমার বউ আস্ত ডাইনি
আমি চোখ গরম করে তাকালাম শুভ তা দেখে আমতা আমতা করে বললো,
~ ইয়ে মানে তুমি রোমান্টিক হতে পারোনা?

~ না পারিনা ওকে?
বলে রুম থেকে বের হতে গেলাম শুভ বিছানা থেকে নেমে হ্যাচকা টানে ওর বুকের সাথে মিশিয়ে নিলো ভ্রু কুঁচকে বললাম,
~ আরে কি করছো?

শুভ মুখে বিরক্তি ফুটিয়ে বললো,
~ এইযে দেখলে তো? আমি তোমাকে ধরেছি কোথায় তুমি লজ্জা পেয়ে লজ্জা মাখা মুখ নিয়ে বলবে এই শুভ ছাড়ো কি করছো? তা না ভ্রু কুঁচকে বলছো এই তুমি আর ভ্রু কুঁচকাবে না ওকে?

আমি হো হো করে হেসে দিলাম শুভ ভেংচি কেটে ওয়াসরুমে গেলো। যাওয়ার আগে আমার পেটে চুমু দিয়ে গেলো। এটা নাকি আমাকে না ওর মেয়ে কে দিয়েছে। অভি ভাইয়া ও মেয়ে মেয়ে করে আর শুভ ও তাই বুঝিনা এরা কি করে বুঝলো ছেলে নাকি মেয়ে বাট আমি তো ছেলেই চাই আবার ভাবি আল্লাহ যা দেয় তাতেই আলহামদুলিল্লাহ!
আমি নিচে চলে এলাম। আজকে ভার্সিটিতে যাবো ভাবছি ওখান থেকে আসার সময় চেকআপ করে আসবো। নিচে এসে দেখলাম অভি ভাইয়া মুখে হাত দিয়ে বসে আছে। আমি পাশে বসে কাশি দিয়ে বললাম,
~ কি ভাবছো ভাসুর মশাই?

অভি ভাইয়া ভ্রু নাচিয়ে বলে উঠলো
~ এই এটা কেমন নাম?
~ ওমা তুমি তো আমার ভাসুর হও তাইনা?
~ তাই নাকি? হ্যা এটা ঠিক বলেছিস আমি তো তোর ভাসুর হই। তা ভাসুর কে তুমি করে বলছিস কেন? এখন থেকে আপনি করে বলবি
হেসে বললো, অভি ভাইয়া টেবিল থেকে একটা আপেল নিয়ে খেতে খেতে বললাম,
~ হা হা সো ফানি বয়েই গিয়েছে। আমার তোমাকে আপনি বলতে

~ ভাইয়া তুই কি ওর সাথে পারবি? এই মেয়ে এক নাম্বারের ফাজিল
শুভ শার্টের হাতা ফোল্ড করছে। আর সিরি দিয়ে নামতে নামতে বললো, অভি ভাইয়া না বুঝতে পেরে বললো,
~ কেন ও আবার কি করলো?
~ আরে তুই জানিস। না ও সকালে আমার মুখে পানি মেরে এরপর ঘুম থেকে উঠিয়েছে

অভি ভাইয়া হু হা করে হেসে দিলো আমিও আরেকদফা হাসলাম শুভ মুখ ফুলিয়ে বললো,
~ সবগুলো শয়তান শুধু একটার থেকে আরেকটা বেশী
~ হ্যা যেমন আমাদের থেকে তুমি বেশী!
বলেই আবার হেসে দিলাম শুভ এবার ধমক দিয়ে বললো,
~ জাস্ট সাট আপ তিশা এত হাসি আসছে কেন? আর এত হাসা ভাল না ওকে? এতে আমার বেবী ব্যথা পাবে
হঠাৎ অভি ভাইয়ার হাসি মুখ বেজার হয়ে গেলো। অভি ভাইয়া উঠে চলে গেলো। বুঝলাম না কেন? আমি শুভ কে ভার্সিটি যাওয়ার কথা বললাম,
~ ওকে তুমি ব্রেকফাস্ট করো এরপর তুমি আর আমি যাবো

আমি ব্রেকফাস্ট করতে চলে এলাম। এদিকে অভি ভাইয়া রুমে এসে ফ্লোরে বসে পড়লো। চোখ দিয়ে পানি পড়ছে
~ মানুষ চাইলে কেন সব হয়না? কিছু না হতো অন্তত স্মৃতি তো ভুলতে পারতো তাহলে আমি সব ভুলে যেতাম ভুলে যেতাম তোকে তৃশ ভুলে যেতাম যে আমি তোর বেবী কে নিজের বলে মেনে নিয়েছিলাম। আমি যে ওকে নিজের সন্তান ভাবি আমি জানি শুভ ওর বাবা কিন্তু এই ৪ মাসে ওকে নিজের বলে মেনেছি তুই সবার সামনে আমার মিথ্যে বউ হলেও সবাই কে মিথ্যে বউ বললেও তোর বেবী কে তো সত্যি আমার বেবী বলেছি আমি তো ভেবেছি ও আমাকে বাবা বলবে কিন্তু এখন আর বলবে না এই ৪ মাস তুই যত কষ্ট পেয়েছিস ঠিক তত কষ্ট আমিও পেয়েছি সেদিন তুই জিগ্যেস করেছিলি আমার চোখ লাল কেন? কি করে বলতাম? না চাইতেও চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরে তোকে ভোলার চেষ্টা করছি কিন্তু বাবা হওয়ার অনুভূতি কি করে ভুলবো?

অভি ভাইয়া কাঁদতে কাঁদতে বললো, আমি আর শুভ বেরিয়ে পড়লাম। অনেকদিন হলো। ভার্সিটি আসা হয়না রুপ কে বলে দিয়েছি আসতে ভার্সিটি আসার পর সবাই শুভ কে ঘিরে ধরেছে কারন ৪ মাস পর এলো মেয়েরাও আছে। তাই রাগে গা জ্বলছে।
~ শুভ বেবী তুমি এতদিন কোথায় ছিলে?

বেবী শুনে তাকালাম তাকিয়ে দেখলাম সেই তুলি ভাবছি মেয়েটা এত বেসরম কেন? শুভ এর আগে যে থাপ্পর মারলো তাও আবার সবার সামনে আবার সেই মুখ উঠিয়ে চলে এসেছে। সবাই কে সরিয়ে সামনে গিয়ে বললাম,
~ তুমি এত বেসরম কেন? লজ্জা সরম কি চা দিয়ে গুলিয়ে খেয়েছো?

আর কে বেবী হ্যা? আমার হাজবেন্ড কে তোমার কোনদিক দিয়ে বেবী মনে হয়? লিসেন মিস
তুলি আই এম মিসেস তিশা চৌধুরী ওয়াইফ অফ শুভ চৌধুরী সো ইউ জাস্ট স্টে এওয়ে ফ্রম মাই হাজবেন্ড
তুলি ফোস ফোস করছে। মুখ ভেংচি কেটে শুভ কে নিয়ে চলে এলাম। রুপ আর শুভ হাসছে শুভ হাসতে হাসতে বললো,
~ স্বাধে কি আর ডাইনি বলি? বাপরে ডাইনির মতো নিয়ে এলো আমাকে
রাগে গা জ্বলছে। আবার এরা হাসছে চেচিয়ে বললাম,
~ ওই চুপ করবি তোরা? আর এইযে আপনি মিস্টার হাজবেন্ড আপনাকে যেভাবে মেয়েরা ঘিরে রেখেছিলো আবার ওই তুলি এসেছে। বেবী দিতে তাইতো নিয়ে এলাম। এই ওয়েট ওয়েট তোমার কি ওখানে আরো কিছুক্ষণ থাকার ইচ্ছে ছিলো?

শুভ চোখ বড় বড় করে বললো,
~ ইস কি যে বলো তুমি ওখানে থাক।তে মন চাইবে কেন? তুমি নিয়ে এসেছো ভাল করেছো
এবার রুপ কে বলে উঠলো
~ কি শালিকা শুনলাম তুমি শালিকা থেকে আমার ভাবী হওয়ার পরিকল্পনা করছো!
রুপ কাশতে শুরু করলো চোখ গরম করে আমার দিকে তাকালো। আমি সুন্দর করে দাত কেলিয়ে দিলাম যার অর্থ আমি বলে দিয়েছি রুপ এবার আমতা আমতা করে বললো,

~ আসলে হয়েছে। কি জিজু!
~ হয়নি হবে তুমি আমার ভাবী
রুপ মনে হলো। শকড হয়েছে। একটুপর কাঁদো কাঁদো হয়ে বললো,
~ কি করে হবো জিজু? তোমার ভাই আমাকে পাত্তা দেয়না
আমি হেসে দিয়ে বললাম,

~ আরে নো টেনশন ঠিক দেবে। আর ভাল ও বাসবে ওকে? আমাকে আর শুভ কে দেখ আমরা তো আগে টম এন্ড জেরী ছিলাম। এখন কি সুন্দর মটু পাতলু হয়ে গিয়েছি
শুভ বিরক্তি নিয়ে বললো,
~ উফ সাট আপ তিশা এটা কোনো লজিক? অলওয়েজ কার্টুন দিয়ে লজিক কেন দাও?

~ দেবো দেবো কার্টুন আমার ফেবারিট তাই এটা দিয়ে লজিক দেবো!
বলে হনহন করে ক্লাসে চলে এলাম। আমার পেছনে রুপ ও চলে এলো ক্লাস শেষ করে রুপ বাড়ি চলে গেলো। আর আমরা অন্য ডক্টরের কাছে গিয়ে চেকআপ করে বাড়ি এলাম। এভাবে আরো কয়েকদিন কেটে গিয়েছে। এখন আমার প্রেগন্যান্সির ৬ মাস রানিং বেচারী রুপ কে অভি ভাইয়া এখনো কিছু বলেনি বিকেলে আমি, শুভ, অভি ভাইয়া ছাদে দাড়িয়ে আছি বাড়ি আর কেউ নেই বাবা অফিসে আছে। ফুপ্পি আর আম্মু শপিং করতে গিয়েছে। সেটাও আমার বেবীর জন্য যে কি না এখনো পেটে আছে। এরা পারেও বটে আম্মু তো এখন থেকে প্লান করেছে তার নাতি হবে তাকে নিয়ে ঘুরতে যাবে যাইহোক আমরা ছাদে ছিলাম। আমি দোলনায় গিয়ে বসলাম ওমনি রুপ ছাদে এলো রুপ কে দেখে চমকে গেলাম আমাকে তো বলে আসেনি আর ওর চোখ মুখ ফোলা রুপ সোজা এসে অভি ভাইয়ার শার্টের কলার ধরলো আমি আর শুভ হা করে তাকিয়ে আছি!

~ আর কত অপেক্ষা করবো। আমি অভি? আমাকে কেন ভালবাসতে পারোনা? প্রায় ২ বছর আগে থেকে তোমাকে ভালবাসি ২ বছর আগে না হয় আমাকে ভাল না বাসার কারন ছিলো কিন্তু এখন কি কারন? তুমি তো বললে টাইম লাগবে আমি তো টাইম দিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম। তুমি বলবে কিন্তু না আমি ভুল আমি আরো অপেক্ষা করতাম অভি আমি আজ এখানে আসতাম না বাবা আমার বিয়ে ঠিক করেছে অভি
বলে রুপ কাঁদতে লাগলো। আমি তো অবাক হয়ে গিয়েছি শুভ অবাক হয়ে বললো,
~ এই তিশা ও কি বলে? তুমি ভাবতে পারছো? আমার ভাবীর বিয়ে ঠিক
শুভ কে চিমটি কেটে থামিয়ে দিলাম অভি ভাইয়াও অবাক হয়ে বললো,
~ ওয়াট? এটা সত্যি?

~ হ্যা সত্যি আমি তোমাকে ভালবাসি তোমাকে ছাড়া কাউকে বিয়ে করবো। না তুমি বলো তুমি আমাকে বিয়ে করবে যদি না বলো নিজেকে আজই শেষ করে দেবো
রুপ এসব কি বলছে? অভি ভাইয়া ও চুপ করে আছে। রুপ একটু দুরে গিয়ে পার্স থেকে একটা বোতল বের করলো বোতল থেকে আমরা ভয় পেয়ে গেলাম কারন এটা বিষের বোতল আমি ধমক দিয়ে বললাম,
~ রুপ আর ইউ ক্রেজি? ওয়াট আর ইউ ডুয়িং ড্যাম ইট?

~ ইয়েস আই এম ক্রেজি অভি যদি না বলে আমাকে বিয়ে করবে তাহলে আমি মরে যাবো আমি আর পারছি না তিশা
~ ভাইয়া প্লিজ ওকে বলে দে ওকে আটকা!
অভি ভাইয়া রুপ কে থামতে বলছে। কিন্তু রুপ যেটা শুনতে চায় সেটা বলছে। না রুপ মুচকি হাসি দিলো আমার হাত, পা ঠান্ডা হয়ে আসছে রুপ মুচকি হেসে বোতল খুলে মুখের কাছে নিয়ে নিলো অভি ভাইয়া রুপ বলে চিৎকার করলো রুপ ঠাস করে নিচে পড়ে গেলো। আমি আর শুভ শকড হয়ে তাকিয়ে আছি!

পর্ব ২১

রুপ নিচে পড়ে গেলো। আমি আর শুভ শকড বিকজ যখন রুপ বিষের বোতল মুখের কাছে নেয়। অভি ভাইয়া ঝড়ের গতিতে গিয়ে রুপ কে থাপ্পর মারে!
~ কি করছিলে এটা? আর ইউ ম্যাড?
চেচিয়ে বলে ওঠে অভি ভাইয়া রেগে পুরো বোম হয়ে গিয়েছে। আমি আর শুভ চুপ করে আছি রুপ বেচারী ভয়ে কাঁচুমাচু হয়ে গিয়েছে। হঠাৎ অভি ভাইয়া রুপে’র হাত চেপে ধরে
~ এই ভাইয়া কি করছিস?

শুভ’র কথা শুনে অভি ভাইয়া রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে
~ চুপচাপ ওখানেই থাক।বি গট ইট?

শুভ তাড়াতাড়ি মাথা নাড়ায় মানে হ্যা অভি ভাইয়া রুপ কে টানতে টানতে নিজের রুমে নিয়ে বিছানায় ছুড়ে মারে রুপ ভয়ে ভয়ে বলে!
~ অ অভি কি কি কর করছো?
অভি ভাইয়া হুট করেই রুপ কে টেনে তুলে রুপে’র ঠোটে ঠোট ডুবিয়ে দেয় রুপ চোখ বড় বড় করে ফেলে রুপ ছাড়ানোর চেষ্টা করতে থাকে কিন্তু অভি ভাইয়া রুপে’র দুই হাত জোড় করে পিছনে ধরে রেখেছে কিছুক্ষণ পর ছেড়ে দিয়ে বলে
~ এখনো আমাকে বিয়ে করবে?

রুপ জিগ্যাসু দৃষ্টিতে তাকায়
~ এইযে জোড় করে তোমাকে কিস করলাম
রুপ মুচকি হেসে বলে!
~ সো ওয়াট? আমি তো তোমারই
অভি ভাইয়ার রাগ যেন আরো বেড়ে যায় একটানে রুপে’র ওড়না ফেলে গলায় চুমু দিয়ে একটা কামড় দেয় রুপ ব্যথায় আহ করে ওঠে অভি ভাইয়া ছেড়ে দেয় রুপে’র চোখ দিয়ে পানি পড়ছে অভি ভাইয়া আবার বলে
~ এখনো বিয়ে করবে আমাকে?

~ বিয়ে আমি তোমাকেই করবো। অভি লাইফে শুধু তোমাকেই ভালবেসেছি তোমাকে ভালবেসে বুঝেছি ভালবাসা কি তুমি আমার সাথে যা ইচ্ছে করো না কেন আমি না মরা অবদি একটা কথা বলবো তোমাকে ভালবাসি তোমাকে চাই আমি শুধু তোমার বউ হতে চাই আমাকে ভালবাসতে হবেনা অভি শুধু বিয়ে করে তোমার বউ করো বিশ্বাস করো আমি তাতেই খুশি

অভি ভাইয়া মনে হয় স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। নিজে নিজেই ভাবছে এই মেয়েটা তাকে এত ভালবাসে? রুপ ওড়না নিয়ে দরজা দিয়ে আসতে গেলেই
~ রুপ আমি তোমাকে বিয়ে করবো।
রুপ দাড়িয়ে পড়ে রুপ যেন নিজের কান কে বিশ্বাস করতে পারছে না চট জলদী পিছনে ঘুরে তাকায় অভি ভাইয়া মুচকি হেসে আবার বলে
~ আমি তোমাকে বিয়ে করবো। তোমাকে ভাল ও বাসবো জাস্ট একটু টাইম দাও!

রুপ দৌড়ে গিয়ে অভি ভাইয়া কে জড়িয়ে ধরে নিজের অজান্তে অভি ভাইয়া ও জড়িয়ে ধরে!
আমি আর শুভ নিজেদের রুমে বসে আছি শুভ আমার দিকে আর আমি শুভ’র দিকে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছি একটুপর শুভ বলে উঠলো
~ আল্লাহ কি দেখলাম?
মুখে বিরক্তি নিয়ে ধমক দিয়ে বললাম,
~ সাট আপ শুভ কেন এককথা বলছো বারবার?
শুভ দাত কেলিয়ে বলে উঠলো
~ হাউ লাকি আই এম রাইট?

বড় ভাইয়ের রোমান্স দেখলাম
বলে হু হা করে হাসতে লাগলো। একচুয়েলি অভি ভাইয়া যখন রুপ কে গরুর মত টেনে নিয়ে গেলো। তখন পিছু পিছু আমরাও যাই আর গিয়ে আমরা জানালা দিয়ে সব দেখেছি আর এই শুভ সেটা বারবার বলছে। এরমাঝে শুভ বললো,
~ এই তিশা আমরা তো চলে এলাম। ভাইয়া যদি বিয়ে ছাড়া বাসর করে ফেলে?
আমি চোখ গরম করে তাকালাম শুভ আমতা আমতা করে বললো,
~ না আমি বলতে চাইছি যে পরিমান রেগে আছে। ভাবা যায় বলো?

কতকিছু করে ফেললো
রাগে এবার গা জ্বলছে। চেচিয়ে বলে উঠলাম!
~ এত ঢং করছো কেন শুভ? তুমি কি ধোয়া তুলসি পাতা? তুমি ও তো কতকিছু করো
বলে নিজের মুখে নিজে হাত দিলাম কি বলে ফেললাম। এটা? শুভ দাত ৩২ টা বের করে আছে। ওই অবস্থাতেই বললো,
~ ওহ তিশা বেবী তুমি আমার বউ আমি যা করি নিজের বউয়ের সাথে করি রুপ তো এখনো ভাইয়ার বউ হয়নি তাইনা?

উফ আবার সেই এককথা রেগে গজগজ করতে করতে বললাম,
~ হয়নি তো কি হয়েছে।? হয়ে যাবে এখন হাফ বউ তাই যা করেছে হাফ করেছে বিয়ের পর ফুল করবে হ্যাপি?
শুভ হয়তো ভাবেনি আমি এমন কিছু বলবো তাই হা করে তাকিয়ে আছে। আমি ভেংচি কেটে ব্যালকনিতে চলে এলাম। ওর কাছে থাকলে আবার সেই এককথা বলবে একটুপর মনে হলো। অভি ভাইয়া ডাকছে তাই ব্যালকনি থেকে এলাম। শুভ আমতা আমতা করে বললো,
~ তিশা রাগ করো না একটা কথা বলি?
বিরক্তি নিয়ে বললাম, বলে ফেলো কি কথা?

~ ভাইয়া আমাদের ডাকছে কেন? আমার মনে হয় বাসর করে ফেলেছে তাই ভয় পেয়ে এখন আমাদের ডাকছে
আমি আকাশ থেকে পড়লাম। এই ছেলে এসব কি বলছে? রাগী দৃষ্টিতে তাকালাম শুভ কাঁচুমাচু করে বললো,
~ তুমি কিন্তু বলেছো রাগ করবে না
একটা জোড়ে শ্বাস নিয়ে বললাম,
~ রাগ করছি না চলো নিচে যাই

নিচে এসে দেখলাম আম্মু আর ফুপ্পি বাবা ও অফিস থেকে এসেছে। রুপ মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে। নিচে আসতেই অভি ভাইয়া বললো,
~ মাম্মা আমি সবাই কে একটা কথা বলতে চাই
ওমনি শুভ আগ বাড়িয়ে বলতে গেলো।
~ এই ভাইয়া তুই কি রুপের সাথে!

আমি ওর মুখ চেপে ধরলাম অভি ভাইয়া ভ্রু কুঁচকে বললো,
~ তৃশ ও কি বলতে চাইলো? আর তুই ওর মুখ চেপে ধরলি কেন?
শুভ কে চোখ গরম দিলাম এরপর অভি ভাইয়া কে বললাম,
~ ও কিছু বলবে না তুমি বলো সবাই কে কি বলবে?

~ মাম্মা, পাপা আমি বিয়ে করবো।
সবার মুখ খুশিতে জলজল করছে। আর আমি ভাবছি কাকে বিয়ে করবে? প্রশ্ন মনে চেপে রাখতে না পেরে বলেই ফেললাম।
~ অভি ভাইয়া কাকে বিয়ে করবে?
অভি ভাইয়া মুচকি হেসে নিজের ডান হাত দিয়ে রুপে’র বাম হাত ধরে বললো,
~ রুপ কে বিয়ে করবো।

আমার খুশিতে নাচতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু আমি তো নাচতে পারবো না। তবুও কয়েক লাফ দিলাম শুভ ধরে নিয়ে সোফায় বসিয়ে দিলো মুখ ভেংচি দিয়ে বসে রইলাম রুপে’র রিয়েকশন দেখছি বাববা বেষ্টু আমার লজ্জায় লাল, নীল, গোলাপী, বেগুনি হচ্ছে আম্মু খুশিখুশি বললো,
~ বাহ এতো ভাল কথা রুপ কে আমার খুব পছন্দ আমি তো ভাবছিলাম। ওকে আমি তোর বউ করবো।
অভি ভাইয়া আর রুপ অবাক করা চাহনি দিলো আর আমি ভাবছি শাশুড়ি আমার আমাদের চেয়ে এক ধাপ উপরে!
~ আমি কালই রুপে’র বাড়িতে যাবো
রুপ কাঁদো কাঁদো হয়ে বললো,

~ ওরে শাশুড়ি আম্মু আমার তো বিয়ে ঠিক
আম্মু মুখটা আমসত্ত করে বললো,
~ কি বলছো বউমা? তোমার বিয়ে ঠিক হলে আমার অভি তো দেবদাস হয়ে যাবে!
অভি ভাইয়া হা করে তাকিয়ে আছে। আমি জাস্ট ভাবতে পারছি না আম্মু এসব বলছে? একটুপর হু হা করে হেসে দিলাম!

পর্ব ২২

অভি ভাইয়া হা করে তাকিয়ে আছে। আমি জাস্ট ভাবতে পারছি না আম্মু এসব বলছে? একটুপর হু হা করে হেসে দিলাম সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে। কোনোরকম হাসি থামিয়ে বললাম,
~ বাববা আম্মু তুমি তো এক কাঠি উপরে
~ হ্যা সে তো থাকবোই আফটার অল আমি তোদের বড়
আম্মুর কথায় বিষম খেলাম অভি ভাইয়া কাঁদো কাঁদো হয়ে বললো,
~ বাট মাম্মা রুপে’র তো নাকি বিয়ে ঠিক?

~ তাতে কি হয়েছে।? আমরা কাল যাবো ওদের বাড়ি ওর বাবা, মা কে বলবো তোদের কথা ভালমত রাজি হলে ভাল নাহলে তুলে নিয়ে আসবি
আমরা সবাই আম্মুর মুখে এমন কথা শুনে মনে হলো। আকাশ থেকে ধপাস করে পড়লাম। শুভ হা করে তাকিয়ে আছে। একটুপর বলে উঠলো!
~ এই ভাইয়া এটা আমাদের মাম্মা তো?

আম্মু ভ্রু কুঁচকে তাকালো। শুভ আমতা আমতা করে বললো,
~ না তুমি আজ যেসব ডোজ আমাদের মত নাদান শিশুদের দিচ্ছো তাতে আমার যথেষ্ট সন্দেহ হচ্ছে!
অভি ভাইয়া শুভ’র কান ধরে বললো,
~ তুই আর নাদান শিশু?

২ দিন পর নাদান শিশুর বাপ হবি
~ সে তো তুইও হবি এখন কান ছাড়
রুপ নেকামি করে বললো,
~ শাশুড়ি আম্মু আমার কি হবে?

আমি কিন্তু অন্য কাউকে বিয়ে করবো। না
~ খামুশ বউমা তুমি আমার ছেলের বউ হবে হাজার হোক আমি তো আর আমার ছেলে কে দেবদাস হতে দিতে পারিনা
আমি একেবারে ড্রয়িংরুম কাঁপিয়ে হেসে দিলাম সবার নজর এবার আমার দিকে শুভ আমাকে নিয়ে রুমে চলে এলো সিদ্ধান্ত হলো। কাল আমরা রুপ’দের বাড়ি যাবো রুমে এসে বিছানায় বসে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিলাম। অবশেষে রুপ অভি ভাইয়া কে পাবে তবে অভি ভাইয়া বলেছে আমার ডেলিভারীর আগে বিয়ে করবে না রুপ ও তাতে সম্মতি জানিয়েছে আমি বারন করেছিলাম। কিন্তু এরা দুজনই এক টাইপ তাই আর কি বলবো?

পরেরদিন আমরা রুপ’দের বাড়ি এলাম। রুপ’দের বাড়ি বেশী বড় না আবার ততটা ছোটও না আন্টি আমাকে দেখে খুশি হলো। তবে আমার সাথে বাকীদের দেখে অবাক হলো। আমি মুচকি হেসে বললাম,
~ আন্টি আমাদের জরুরী কথা আছে।

~ হ্যা আয় বস রুপ কে ডাকছি
আন্টি রুপ কে ডেকে আনলো আমি আন্টির হাত ধরে বললাম,
~ আন্টি আমার কথাগুলো শোনো অভি ভাইয়া কে তো চেনো আগে ছিলো খালাতো ভাই এখন ভাসুরও হয় যাইহোক অভি ভাইয়া আর রুপ দুজন দুজন কে ভালবাসে আমরা ওদের বিয়ের কথা বলতে এসেছি

আন্টি প্রথমে খুশি হলেও পরে মুখ কাঁচুমাচু করে বললো,
~ কিন্তুু তিশা রুপে’র তো বিয়ে ঠিক করেছি
~ আরে তাতে কি? যেমন বিয়ে ঠিক করেছেন। তেমন বিয়ে ভেঙে দিন ওদের বলে দিন রুপ অন্য কাউকে ভালবাসে
~ একদম ঠিক বলেছো জিজু

আমরা সবাই শুভ আর রুপে’র দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকালাম দুজনে মুখে হাত দিয়ে বসে রইলো!
এরমাঝে আঙ্কেল বলে উঠলো
~ কিন্তুু এখন এটা কি করে সম্ভব?

~ আঙ্কেল বিয়ে শুধু বিয়ে না বিয়ে মানে দুটো মনের মিল হতে হয় সারাজীবন তো একসাথে থাকবে আর এখানে যদি ভালবাসা না থাকে তাহলে কি করে সুখী হবে? আর রুপ অভি ভাইয়া কে ভালবাসে ওর সুখ অভি ভাইয়ার সাথে এখন আপনি ভাবুন আপনি কি করবেন? আপনি নিশ্চই চাইবেন আপনার মেয়ে সুখী হোক
আঙ্কেল কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো,
~ ঠিক আছে। অভি’র সাথেই রুপে’র বিয়ে হবে
আমরা হাফ ছেড়ে বাঁচলাম আঙ্কেল আবার বললো,
~ আমি ওদের বারন করে দেবো আমার মেয়ে যেখানে সুখী সেখানেই আমি ওর বিয়ে দেবো তাহলে বিয়ের তারিখ কবে ঠিক করবি তিশা?

~ বাবা আমি আর অভি চাই তিশা’র বেবী হয়ে যাক এরপর আমরা বিয়ে করবো।
ভেবেছিলাম। আঙ্কেল রাজি হবেনা কিন্তু আঙ্কেলও রাজি হয়ে গেলো। সত্যি খুব খুশি লাগছে আমার বেষ্টু আমার সাথে থাকবে মুচকি হেসে বললাম,
~ বাট আমার মনে হয় এখন এংগেজমেন্ট করে রাখলে ভাল হয় তাইনা?

সবাই সম্মতি জানালো সামনের সপ্তাহে এংগেজমেন্ট ডেট ফিক্স করা হলো। রুপ কে দেখে বোঝা যাচ্ছে কত খুশি আমরা বাড়ি চলে এলাম। পরেরদিন থেকে শপিং শুরু করে দিয়েছে। এক জায়গায় বসে থাক।তে রাগ লাগছে পেট আগের থেকে বড় হয়ে গিয়েছে। লজ্জা লজ্জা লাগে আর এই শুভ সারাদিন কিছু না কিছু খেতে বলে না খেলে জোড় করে খাওয়ায় এতে নাকি ওর বেবী হেলদি হবে তিশা এটা খাও ওটা খাও দৌড়াদৌড়ি করবে না এখানে যাবেনা ওখানে যাবেনা এবার ভাবছি কবে বেবী হবে আবার আগের মত চলতে পারবো

দেখতে দেখতে এংগেজমেন্টের দিন চলে এসেছে। কমিউনিটি সেন্টার বুক করা হয়েছে। এংগেজমেন্ট সন্ধ্যায় সবাই নিজেদের মতো বিজি আমি সবার সাথে আড্ডা দিচ্ছিলাম। কোথা থেকে শুভ এসে রুমে নিয়ে এলো বিছানায় মুখ কাঁচুমাচু করে বসে আছি আর শুভ রাগী লুকে সোফায় বসে আছে। আমতা আমতা করে বললাম,
~ শু শুভ শোনো না
~ সাট আপ তিশা তুমি এত কেয়ারলেস কেন?

আবার মুখ ফুলিয়ে বসে রইলাম শুভ এক গ্লাস দুধ একটা ডিম আর প্লেটে কিছু ফল এনে আমার সামনে দিয়ে গম্ভীর ভাবে বললো,
~ এখন এগুলো সব ফিনিশ করবে নাহলে মার একটাও মাটিতে পড়বে। না!
কাঁদো কাঁদো হয়ে বললাম,
~ কি বললে? তুমি আমাকে মারবে?

~ এগুলো খেতে বলেছি রাইট নাউ
গাল ফুলিয়ে খাওয়া শুরু করলাম একচুয়েলি সকাল থেকে কিছু খাইনি আর শুভ কে দেখলে লুকিয়ে থেকেছি এর জন্য এত রেগে আছে। একটু খানি বললাম,
~ শুভ আর খাবোনা প্লিজ!

~ মানে কি তিশা? দুধ তো এখনো খাওনি
চোখ গরম দিয়ে বললো, নাক মুখ শিটকে অর্ধেক দুধ খেলাম শুভ এখনো রাগী লুকে তাকিয়ে আছে। এবার কান্না পেয়ে গেলো। ভ্যা ভ্যা করে কেঁদে দিলাম শুভ হঠাৎ আমি এভাবে কাঁদায় ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো। কাছে এসে থামানোর জন্য বললো,
~ মিষ্টিপাখি কাঁদছো কেন? আরে আমি তো তোমাকে বকিনি তোমাকে তো খেতেই বলেছি জাস্ট
নাক টানতে টানতে বললাম,
~ তুমি আর আমাকে ভালবাসো না অলওয়েজ শুধু বেবী বেবী করো তুমি খুব পচা শুভ!

শুভ আমাকে বুকে টেনে নিয়ে বললো,
~ আমার কাছে আগে তুমি এরপর বাকী সব ওকে? না খেলে তো তুমি উইক হয়ে যাবে সোনা তুমি টাইমলি খেলে তো আমি কিছু বলি না তাইনা?
কান্নার আওয়াজ বাড়িয়ে দিলাম মানে হলো। আমি খাবোনা শুভ মুখটা মিনি বিড়ালের মত করে বললো,
~ আচ্ছা ঠিক আছে। কান্না অফ করো আমি আর জোড় করে খাওয়াবো না!

তাড়াতাড়ি চোখের পানি মুছে নিলাম। শুভ চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে। হু তাতে আমার কি?
সন্ধ্যায় রুপ কে সাজানো শেষ ব্লাক একটা গাউন পড়িয়েছে গলায় ব্লাক ডায়মন্ড নেকলেস কানে ঝুমকো, হাতে চিকন চুরি চোখে মোটা করে কাজল ঠোটে লাল লিপস্টিক একদম পুতুলের মতো লাগছে আমার আর রুপের জুয়েলারি একই এগুলো আম্মু দিয়েছে। আমি ব্লাক শাড়ি পড়েছি রুপ কে স্টেজে নিয়ে এলাম। স্টেজে এসে আমার চোখ আটকে গেলো। শুভ ব্লাক পান্জাবী পড়েছে ব্লাক প্যান্ট, হাতে ব্লাক ঘড়ি চুলগুলো স্পাইক করা চোখে ব্লাক সাইনগ্লাস মনে মনে ভাবছি আমার হাজবেন্ড কে জোশ লাগতেছে পাশে অভি ভাইয়া দুই ভাইয়ের সাজ একরকম সব মেয়েরা হা করে দেখছে। রাগে গা জ্বলে যাচ্ছে রুপ কে স্টেজে রেখে শুভ কে নিয়ে চলে এলাম।
~ কি হলো। নিয়ে এলে কেন?

শুভ’র কথা শুনে চোখ গরম দিয়ে বললাম,
~ আজ কি তোমার এংগেজমেন্ট? এত সাজুগুজু করার কি আছে।?
~ সাজুগুজু কোথায় করলাম?
ভেংচি কেটে বললাম,
~ সাজুগুজু করোনি তো কি? সব মেয়েরা চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছে
শুভ ভাব নিয়ে বলে উঠলো!

~ কাম অন তিশা বেবী ইউ নো না? তোমার হাজবেন্ড কিউট, হট তাই তো সবাই তাকিয়ে থাকে
অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি শুভ কাঁচুমাচু করে বললো,
~ মুখ ফসকে বেরিয়ে গিয়েছে।
বলে কেটে পড়লো। আর আমি হেসে দিলাম এরপর স্টেজে গেলাম এবার রিং পড়াবে রিং পড়াতে গিয়ে অভি ভাইয়া হঠাৎ করে মাথা চেপে ধরলো শুভ তাড়াতাড়ি কাছে গিয়ে বললো,
~ ভাইয়া আর ইউ ওকে?

অভি ভাইয়া মুচকি হেসে বললো,
~ ইয়েস আই এম ওকে দেখছিলাম। তুই কি করিস?
শুভ গাল ফুলিয়ে দাড়িয়ে রইলো আমরা সবাই হেসে দিলাম অতঃপর রিং পড়ানো হয়ে গেলো। সবাই ওদের শুভেচ্ছা জানালো আমরা বাড়ি চলে এলাম। দেখতে দেখতে ২ মাস কেটে গিয়েছে। অভি ভাইয়া রুপ কে চোখে হারায় টাইম পেলেই দেখা করতে চলে যায় তবে এখনো রুপ কে ভালবাসার কথা বলেনি ইদানিং শরীরটা খারাপ লাগে আমার হাটতে চলতে কষ্ট হয় নিচে যাচ্ছিলাম। শুভ যেতে বারন করেছে কিন্তু আমার ভাল লাগছে না তাই নিচে যাচ্ছিলাম। তখন শুনতে পেলাম। অভি ভাইয়া বলছে,

~ ইয়েস আমিও ভালবাসি রুপ কে আই লাভ ইউ রুপ আই লাভ ইউ সো মাচ আমি কালকেই বলে দেবো তোমাকে!
কথাগুলো শুনে ভাল লাগলো। যাক কাল তাহলে বলবে হেটে হেটে সিরি দিয়ে নামছি পেটে কিছুটা ব্যথা করছে। যত সিরি দিয়ে নামছি ব্যথা যেন বাড়ছে ড্রয়িংরুমে দেখলাম কেউ নেই কিন্তু এখানেই তো থাকার কথা এখন সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছে। সন্ধ্যায় তো সবাই এখানেই থাকে এসব ভাবতে ভাবতে শেষ সিরিতে এসে পা স্লিপ কেটে পড়ে গিয়ে চিৎকার করে শুভ কে ডাকলাম শুভ রান্নাঘর থেকে দৌড়ে এলো শুভ’র হাতে একটা কেক কেকটা হাত থেকে পড়ে গেলো। মনে পড়লো। আজ আমার জন্মদিন তারমানে এই জন্য শুভ কেক বানাতে গিয়েছিলো এদিকে আমার চিৎকারে সবাই চলে এসেছে। আমি ব্যথায় ছটফট করছি শুভ ও পাগলের মতো করছে। মনে হচ্ছে কেউ কলিজা বের করে নিচ্ছে মনে হচ্ছে আমি আর বাঁচবো না প্রচুর ব্লিডিং হচ্ছে শুভ’র কলার চেপে ধরে বললাম,
~ শুভ আমি মনে হয় বাঁচবো না ডক্টর যদি বলে যে কোন একজন বাঁচবে তাহলে তুমি আমাদের সন্তান কে বাঁচাবে বলো

~ চুপ তোর কিছু হবেনা তুই ঠিক হয়ে যাবি আমার শুধু তোকে চাই আর কাউকে না কেউ আমার ভালবাসা না তিশা শুধু #তুমি~ আমার~ ভালবাসা আমার তোমাকে চাই
এবার যেন নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে জোড়ে একটা শ্বাস নিয়ে শুভ’র কলার ছেড়ে চোখ বন্ধ করে নিলাম। চোখ বন্ধ করতে করতে শুনতে পেলাম। শুভ’র তিশা বলে করা চিৎকার আর ভাবতে লাগলাম জন্মদিন কি তাহলে আমার মৃত্যুদিন হবে?

বোনাস পর্ব

ওটিতে শুয়ে ছটফট করছি প্রচন্ড ব্যথা করছে। তবুও ভাবছি আমার বেবী যেন সুস্থ থাকে শুভ’র কান্না শুভ’র চিৎকারে বেশীক্ষণ সেন্সলেস হয়ে থাক।তে পারিনি শুভ ওটির দরজা ধাক্কাচ্ছে বুঝতে পারছি এরমাঝে আমাকে ইনজেকশন দিলো তারপর আর কিছু মনে নেই!
কতক্ষণ পর সেন্স এসেছে। জানিনা আস্তে আস্তে চোখ খুললাম চোখ খুলে দেখলাম পাশে আম্মু, রুপ, আর শাশুড়ি আম্মু আমি আমার বেবী কে খুজছি কোনোরকম বলে উঠলাম!
~ আমার বেবী কোথায়?

একটুপর অভি ভাইয়া তোয়ালে জড়ানো একটা ফুটফুটে বেবী নিয়ে এলো পাশেই শুভ আমার কাছে দৌড়ে এলো শুভ এসেই আমার হাত ধরে চুমু দিয়ে বললো,
~ তিশা তুমি ঠিক আছো? ব্যথা নেই তো?
~ আমার বেবী কে দাও
অভি ভাইয়া বেবী কে আমার কোলে দিলো ওকে কোলে নিয়ে মনে হলো। আমার কলিজা ঠান্ডা হয়ে গেলো। ভুলেই গেলাম ওর জন্য কষ্ট পেতে হয়েছে। রুপ মুচকি হেসে বললো,

~ ১ দিন পর তোর সেন্স এলো আর তুই জানিস? তোর বেবী কে তোর স্বামী এখনো কোলে নেয়।নি
শুভ মাথা নিচু করে ফেললো আমি চোখ গরম করে তাকালাম রুপ আবার বলতে শুরু করলো
~ তোর কন্ডিশেন খারাপ ছিলো বেবী হয়ে যাওয়ার পরও তোর সেন্স আসছিলো না তুই জোড়ে জোড়ে শ্বাস নিচ্ছিলি জিজু তো রীতিমত ভাংচুর করেছে নার্স বেবী কে বাইরে এনে বললো,
~ বেবী’র বাবা কে?

শুভ অভি ভাইয়া কে দেখিয়ে দিলো অভি ভাইয়া অবাক চোখে তাকিয়ে আছে। শুভ অভি ভাইয়ার কাছে গিয়ে বললো,
~ অবাক হচ্ছিস কেন ভাইয়া? এই বেবীর বাবা তোর হওয়ার কথা ছিলো আই মিন আমি মরে গেলে ও তো তোকেই বাবা বলতো আর আমি জানি তুই ওকে নিজের সন্তান ভাবিস আর এমনি তে আমার তিশা’র কিছু হলে ওকে আমি কোনদিন ছুয়েও দেখবো না!

রুপ এতটুকু বলে থামলো এরপর আবার বললো,
~ তারপর অভি বেবী কে কোলে নিয়েছে ভাবতে পারবি না অভি তো খুশি তে কেঁদে ফেলেছে সবার কাছে বলেছে ওর ছেলে হয়েছে।
আমি মুচকি হেসে শুভ কে বললাম,
~ নিজের ছেলে কে কোলে নেবে না?

শুভ আমার কাছ থেকে নিয়ে বেবী কে চুমু খেতে খেতে বললো,
~ এই বেবীর বাবা ভাইয়া আর ওর পাপা আমি তুমি মাম্মা আর রুপ মামনি ওকে?

অভি ভাইয়া আবার বেবী কে কোলে নিলো
~ ও আমার ছেলে? আমার ছেলে থ্যাংক ইউ সো মাচ শুভ!
শুভ গাল ফুলিয়ে বললো,
~ নিজের ভাই কে কেউ থ্যাংস বলে?

সবাই হেসে দিলো অভি ভাইয়া বেবী কে নিয়ে বাইরে গেলো। সাথে সবাই গেলো। এবার আমি বললাম,
~ তুমি এটা কেন বললে?

~ কি বললাম,? মানে কিসের কথা বলছো?
~ আমাদের বেবী অভি ভাইয়া কে বাবা বলবে কেন?

~ তাহলে শোনো সেদিন মনে আছে।? আমি বলেছিলাম। যে তুমি হেসো না তাহলে বেবী ব্যথা পাবে?
আমি মনে করে হ্যা বললাম, এরপর অভি ভাইয়া সেদিন রুমে গিয়ে কেঁদেছিলো আর কি বলেছিলো সব বললো, সব শুনে আমার খারাপ লাগছে তাই আমিও আর কিছু বললাম, না ৩ দিন পর আমাকে বাড়ি নিয়ে এলো হাটতে চলতে অসুবিধা হয় তাই রুমেই থাকি সারাদিন তবে রুপ আমার কাছে থাকে আর শুভ আর অভি ভাইয়া এরা তো বেবী কে নিয়ে সারা বাড়ি ঘুরে বেরায় ৭ দিন পর বেবীর নাম রাখা হলো। শান্ত শান্ত তে “শ” ও আছে। “ত” ও আছে। দেখতে দেখতে ২০ দিন কেটে গিয়েছে। এখন আমি কিছুটা সুস্থ দুপুরে গোসল করবো। তাই শান্ত কে শুভ’র কাছে রেখে ওয়াসরুমে এসেছি শান্ত অবশ্য ঘুমিয়ে আছে। তবুও শুভ কে থাক।তে বলেছি বলা তো যায়না কখন উঠে পড়ে এরমাঝে শুনতে পেলাম। শান্ত’র কান্না আর শুভ’র কথা!
~ বাবা কাঁদেনা মাম্মা আসুক এরপর যত ইচ্ছে কাঁদিস

শান্ত আরো জোড়ে কেঁদে দিলো আমি হেসে কুটিকুটি হচ্ছি এবার বোঝো ঠ্যালা সামলাও সেদিন রাতে যখন কেঁদেছিলো তখন বলেছিলো বেবী সামলাতে পারোনা? আমি তাড়াতাড়ি গোসল করে নিলাম। দরজা আস্তে খুলে বের হয়ে শুনলাম
~ আরে বাপ আমার চুপ কর আমার তো এবার আফসোস হচ্ছে তোর নাম শান্ত কেন রাখলাম? আসলে তো তুই অশান্ত তাই তোর নাম অশান্ত রাখা উচিত ছিলো
শুভ’র কথা শুনে রেগে বললাম,
~ হ্যা যেমন তোমার নাম শুভ না রেখে অশুভ রাখা উচিত ছিলো

শুভ মুখ কাঁচুমাচু করে বললো,
~ একচুয়েলি আমি ওটা বলতে চাইনি বাট তিশা তুমি দেখো ও কত কান্না করে কেন করে?
আমি গিয়ে শান্ত কে কোলে নিলাম। শান্ত সাথে সাথে চুপ হয়ে গেলো। শুভ ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বললো,
~ কত বড় ফাজিল ছেলে এতক্ষণ ভ্যা ভ্যা করছিলো আর তুমি কোলে নিতেই চুপ?
মুখ ভেংচি কেটে বললাম,
~ তুমি নিশ্চই ওকে মারছিলে?

~ এসব কি বলছো? ওকে আমি মারবো? এই তিশা ওকে কোথায় মারবো আমি?
আসলেই শান্ত তো ছোট আবার ভ্যা ভ্যা করে কেঁদে দিলো বুঝলাম ক্ষিদে পেয়েছে তাই খাইয়ে দিলাম খাওয়া শেষ হতেই অভি ভাইয়া এসে নিয়ে গেলো। শুভ আমাকে জড়িয়ে ধরলো চোখ গোল গোল করে বললাম,
~ তোমার আবার কি হলো?

বলতে বলতে শুভ আমার ঠোটে ওর ঠোট ছুয়ে দিলো আমি চুপ করে শুভ কে জড়িয়ে ধরলাম সন্ধ্যা বেলা সবাই গল্প করছি আমাদের রুমে আমি, শুভ অভি ভাইয়া, আবির ভাইয়া শান্ত সবার দিকে তাকাচ্ছে হয়তো বোঝার চেষ্টা করছে। এরমাঝে হুট করে অভি ভাইয়া চলে গেলো। আমরা কিছু না বুঝে তাকিয়ে রইলাম ভাবলাম পরে আসতে পারে কিন্তু অভি ভাইয়া এলোনা ওদের বলে গুটিগুটি পায়ে অভি ভাইয়ার রুমের কাছে এলাম। দেখলাম মুচকি হেসে ফোনে কথা বলছে। বুঝলাম আসল কারন ইনি তো রুপে’র সাথে কথা বলছে। আমি আবার চলে এলাম। আরো ২ মাস কেটে গিয়েছে। শান্ত এখন কিছুটা বড় বাড়ির সবার চোখের মনি আমার আর কোলে নিতে হয়না সারাদিন কারো না কারো কোলে থাকে শুভ এখন অফিসে যায় আর নিজের নামেই গান করে সবাই এখন শুভ কে ওর আসল নামে চেনে রবিন খাঁন হয়ে আর গান করে না!

পরেরদিন সকালে সবাই ব্রেকফাস্ট করছি এরমাঝে আম্মু বললো,
~ তিশা’র বেবী তো হলো। বাড়ি আলো করে দাদুভাই এলো এবার তাহলে রুপে’র সাথে অভি’র বিয়েটা দিয়ে দিতে হবে
অভি ভাইয়া খেতে খেতে বললো,
~ মাম্মা তাহলে এক কাজ করি আজকে আমরা গিয়ে ডেট দিয়ে আসি?
শুভ বিষম খেলো আমি পানি দিলাম শুভ পানি খেয়ে বললো,
~ তোর নিজের বিয়ের ডেট তুই নিজে দিতে যাবি?

অভি ভাইয়া ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বললো,
~ হ্যা এতে অবাক হওয়ার কি আছে।? রুপ কে সারপ্রাইজ দেবো
আমরা মুচকি মুচকি হাসছি কিন্তু অভি ভাইয়া কেমন রহস্যময় হাসি দিলো সবার চোখ এড়ালে ও না আমার চোখ এড়ালো না রুমে এসে রুপ কে ফোন করে বলে দিলাম বিকেলে আমরা ওদের বাসায় গেলাম আজ আমি, শুভ, আম্মু, বাবা অভি ভাইয়া, ফুপ্পি এসেছি আর আমাদের গুলুমুলু শান্ত আন্টি আঙ্কেল বাবা’র সাথে কথা বলছে। রুপ আমার পাশে বসা এরমাঝে অভি ভাইয়া বললো,
~ ওয়েট পাপা এই বিয়ে হবেনা
রুপ বসা থেকে দাড়িয়ে গেলো। আমরা সবাই অবাক হয়ে গিয়েছি
~ অভি ভাইয়া তুমি মজা করছো কেন?

অভি ভাইয়া আমার কথা শুনে হেসে দিয়ে বললো,
~ মজা লাইক রিয়েলি? ওয়েল তৃশ একটা কথা কি জানিস? মজা আমি এতদিন করেছি
আঙ্কেল এবার রেগে বললো,
~ এসবের মানে কি অভি?

অভি ভাইয়া মুখে বিরক্তি নিয়ে বললো,
~ হেই রাগ দেখাচ্ছেন কাকে? আচ্ছা আপনি বলুন তো আপনার মেয়ের কি যোগ্যতা আছে। আমার বউ অভি চৌধুরী’র ওয়াইফ হওয়ার? ২ বছর আগে থেকে আমার পিছনে পড়ে আছে। অনেকবার বারন করেছি ওকে বলেছি যে ওকে ভালবাসি না সেই তবুও আমার পেছনে পড়ে ছিলো ভুলেই গিয়েছিলো ও কে? আর আমি কে?
এবার আমার অবাক লাগছে ব্যাপারটা সেদিন তো অভি ভাইয়া বললো, যে রুপ কে ভালবাসে তাই বললাম,
~ তুমি যদি রুপ কে ভাল না বাসো তাহলে নিজের রুমে দাড়িয়ে একা বললে যে?

অভি ভাইয়া হু হা করে হাসি দিয়ে বললো,
~ গুড কোশ্চেন তুই শুনেছিলি বিকজ আমি তোকে শুনিয়েছিলাম। আমি তোকে আসতে দেখেই ওই নাটক করেছিলাম। বিকজ আমি জানতাম তুই রুপ কে বলবি আর এই মিডল ক্লাস রুপ আমার প্রতি আরো উইক হয়ে পড়বে। হলো। ও তাই বলেছিলি তো রাইট?
আমি চুপ করে আছি আমি তো বলেছিলাম। আর রুপ তখন কত খুশি হয়েছিলো অভি ভাইয়া এটা কি করে করতে পারলো?

~ এই মিডল ক্লাস মেয়ে কে আমি অভি কিছুতেই বিয়ে করবো। না কি যোগ্যতা আছে। ওর? এই তোমার কি যোগ্যতা আছে।? শুধু ফেস হলেই হয়না ওকে? না আছে। ভাল বাড়ি আর না আছে। গাড়ি তোমার তো ওয়েট
বলে অভি ভাইয়া হাতের রিং খুলে রুপে’র দিকে ছুড়ে মারলো রুপ চোখ বন্ধ করে ফেললো রুপ যেন পাথর হয়ে গিয়েছে। আম্মু গিয়ে অভি ভাইয়া কে ঠাস ঠাস করে দুটো থাপ্পর মারলো থাপ্পর খেয়ে অভি ভাইয়া চোখমুখ লাল করে বললো,
~ মাম্মা এই মিডল ক্লাস মেয়েটার জন্য আমাকে মারলে? পাপা তুমি কিছু বলবে না?

~ চুপ কর অভি তুই এত নিচ? যখন তোর মনে এই ছিলো তাহলে এখানে ডেট দিতে এলি কেন?
~ এই স্টুপিড মেয়েটা কে ওর জায়গা দেখাতে কোথায় ও আর কোথায় আমি তৃশে’র সাথে থেকে ও নিজেকে তৃশ ভাবছিলো তাই ওকে বুঝিয়ে দিলাম ও কি?
~ ছিঃ তোকে নিজের ছেলে ভাবতে লজ্জা করছে।
বাবার কথা শুনে অভি ভাইয়া রেগে ফোস ফোস করতে করতে বেরিয়ে গেলো। আমাদের কারো মুখে কথা নেই রুপ ধপ করে বসে পড়লো।

পর্ব ২৩

আমাদের কারো মুখে কোনো কথা নেই রুপ ধপ করে বসে পড়লো। আমি শান্ত কে শুভ’র কোলে দিয়ে রুপ’কে বসা থেকে উঠিয়ে দাড় করালাম রুপ কিছু বলছে। না ঠিক কিন্তু ওর চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে ঠোটগুলো ভীষন রকম কাঁপছে যেন কিছু বলতে চাইছে কিছুক্ষণ পর রুপ চিৎকার করে কেঁদে উঠলো আমরা সবাই হতবাক হয়ে তাকিয়ে আছি রুপ আমাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদছে আমার চোখে ও পানি বুঝতে পারছি ওর কষ্ট ভালবাসার মানুষটা ছেড়ে গেলে কত কষ্ট হয় সেটা আর কেউ না জানুক আমি জানি আমার শুভ ও তো দুরে ছিলো তখন প্রতিটা দিন আমার বিষের মত লেগেছে শান্ত আমার পেটে না থাকলে হয়তো মরেই যেতাম অভি ভাইয়া কাছে থেকেও রুপে’র থেকে দুরে রুপ কাঁদতে কাঁদতে বললো,

~ তিশা আমার কি দোষ বল? অভি কেন এমন করলো? যখন ভালবাসে না আমাকে তাহলে কেন স্বপ্ন দেখালো? তিশা সবাই বলে ভালবাসা নাকি বাঁচতে শেখায়? তাহলে সেই ভালবাসাই যে একটা সময় মানুষ কে তিলে তিলে যর্ন্তনা দেয় এটা কেন বলে না? ভালবাসা মানুষ কে স্বপ্ন দেখায় তাহলে সেই স্বপ্ন যে ভেঙে চুরমার করে দেয় এটা মানুষ কেন বলে না? বললে আমি ভালবাসতাম না অভি কে তিশা এখন আমি কি করবো? আমার খুব কষ্ট হচ্ছে রে আমাকে মেরে ফেল প্লিজ প্লিজ আমাকে মেরে ফেল

বলতে বলতে রুপ সেন্সলেস হয়ে গেলো। আমরা ওকে ধরে সোফায় শুইয়ে দিলাম আন্টি কান্নাকাটি করছে। আর করারই কথা একটা মেয়ে রুপে’র মুখে পানি ছেটানোর পর সেন্স এলো বাবা, আম্মু অভি ভাইয়ার হয়ে ক্ষমা চাইলো রুপ কে বুঝিয়ে রেখে চলে এলাম। আমি থাক।তাম বাট শান্ত’র জন্য চলে এসেছি!
ড্রয়িংরুমে বসে আছি আমরা বাড়িতে পিনপনতা বিরাজ করছে। অথচ কাল ও আমরা এই বিয়ে নিয়ে কত আনন্দ করেছি এক নিমিষে সব শেষ হয়ে গেলো। আচ্ছা মানুষের জীবন এমন কেন?

আমি এখন ভাবছি আমি যদি পারতাম সব ঠিক করে দিতাম অনেকক্ষণ হলো। বসে আছি শান্ত কে খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছি আরো আগে বাবা গম্ভীর হয়ে বললো,
~ আমি ভাবতে পারছি না অভি এতটা নিচ কি করে হলো? ওই মেয়েটার সাথে এটা কি করে করলো?

আমি নিজেও ভাবতে পারছি না আসলে কি অভি ভাইয়া নাটক করেছে? আমি তো এই অভি ভাইয়া কে চিনিনা বাবা, আম্মু কে বুঝিয়ে রুমে পাঠিয়ে দিলাম কারন রাত হয়ে গিয়েছে। আমরা গিয়েছিলাম। সেই বিকেলে অভি ভাইয়া সেই যে ওখান থেকে বেরিয়েছে আর এখনো বাড়িতে ফেরেনি আমি আর শুভ রুমে চলে এলাম। এরপর আন্টি কে ফোন করে রুপে’র খবর জেনে নিলাম। মেয়েটা একদম ভেঙে পড়েছে!

রাত ১২ টা ব্যালকনিতে দাড়িয়ে আজকের ঘটে যাওয়া কথা ভাবছি মনটা খুব বেশী খারাপ হঠাৎ কাধে কেউ হাত রাখলো বুঝলাম এটা শুভ ছাড়া কেউ না!
~ এরকম কেন হলো। শুভ? সবকিছু ঠিক থাকলে আজ বাড়িতে আনন্দের বন্যা বয়ে যেতো আমরা সবসময় যেটা ভাবি সেটা কেন হয়না শুভ? কেন তার উল্টোটা হয়?

বলতে বলতে আমার চোখ দিয়ে কয়েকফোট অশ্রু গড়িয়ে পড়লো। শুভ আমাকে ওর দিকে ঘুরিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললো,
~ তিশা দেখো এটা হয়তো হওয়ার ছিলো আমরা তো কিছু হওয়া আটকাতে পারিনা আর তুমি না বলো? আল্লাহ যা করে ভাল’র জন্য করে
কিছু বললাম, না শুভ’র বুকে মুখ লুকিয়ে ভাবছি হ্যা আল্লাহ যা করে সেটা আমাদের ভাল’র জন্যই করে কিন্তু আজকের এই ঘটনায় কার ভাল হলো?
এমন সময় ড্রয়িংরুম থেকে বাবা আর আম্মুর কথা শুনতে পেলাম। শুভ’র দিকে তাকিয়ে নিচে চলে এলাম। আমার সাথে শুভ ও এলো ড্রয়িংরুমে এসে একদফা শকড হলাম। অভি ভাইয়া হেলতে দুলতে হাটছে কিন্তু ঠিকমত হাটতে পারছে না তারমানে অভি ভাইয়া ড্রিংক করেছে? বাবা চেচিয়ে বললো,
~ এসবের মানে কি অভি?

অভি ভাইয়া ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বললো,
~ ওফ পাপা কোন সব?
আম্মু ও রেগে গিয়ে বললো,
~ অভি তুই ড্রিংক করেছিস?

অভি ভাইয়া হো হো করে হেসে মাতালদের মত বললো, অবশ্য মাতালই তো এখন!
~ ও সুইট মাম্মা এন্ড পাপা ওয়াটস রং উইথ ইউ গাইস? এটা কি নতুন নাকি? এমন তো না এই বাড়িতে এটা নতুন হচ্ছে শুভ ও তো আগে এটাই করতো ড্রিংক করতো লেট নাইট পার্টি রাইট? সো তোমরা এত চমকাচ্ছো কেন?

শুভ মাথা নিচু করে ফেললো হয়তো কষ্ট পেয়েছে শুভ তো এখন এটা করেনা আমি সামনে গিয়ে বললাম,
~ অভি ভাইয়া তুমি ড্রিংক করেছো?
~ হ্যা করেছি বেবী তুই কি রেগে যাচ্ছিস?

অভি ভাইয়ার কথা শুনে অবাক হয়ে বললাম,
~ এভাবে কথা বলছো কেন? আর তুমি আগে তো ড্রিংক করতে না
অভি ভাইয়া মুচকি হেসে বললো,
~ আগে করতাম না এখন করছি করবো। আগের অভি আর এই অভি আকাশ পাতাল ডিফরেন্স এনিওয়ে বাই গাইস, গুড নাইট
আমরা হতবাক হয়ে দেখছি একটা মানুষ এত চেন্জ কি করে হলো? সেটাও মাএ একদিনে এই একদিনে কি এমন হলো? তবে হতাশ হওয়া ছাড়া আর কি করবো? অভি ভাইয়া তো ছোট বাচ্চা না ওকে কি করে বোঝাবো? একরাশ হতাশা নিয়ে রুমে চলে এলাম। এমন কেন হচ্ছে?

সকালে ঘুম থেকে উঠে আগে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। শুভ আর শান্ত দুই বাপ ব্যাটা ঘুমে আছে। আমি এটা বুঝতে পারিনা সব বাচ্চারা ফজরের সময় উঠে আর নাকি ঘুমায় না আর আমার ছেলে এ তো একদম শুভ’র মত দুজন এক টাইমে ওঠে আয়নার সামনে দাড়িয়ে লম্বা চুলগুলো খোপা করছিলাম। হঠাৎ শুভ জড়িয়ে ধরেই গলায় মুখ ডুবালো চুপচাপ দাড়িয়ে আছি একে মাএ দেখলাম ঘুমানো আর এখন এসেই শুরু হয়ে গিয়েছে। বিরক্তি নিয়ে বলে উঠলাম!
~ তুমি না মাএ ঘুমানো ছিলে?

~ হ্যা সোনা মাএ ঘুমানো ছিলাম। মাএই ঘুম থেকে উঠলাম আর মাএই রোমান্স স্টার্ট করবো।
বলে শুভ ঠোট কামড় দিলো নিজের আমি বুঝতে পারলাম এনার মনে আসলে কি চলছে। তাই যেই সরতে যাবো ওমনি শুভ আমাকে টেনে ধরলো এরপর একটু একটু করে আমার ঠোটের দিকে আগাতে লাগলো। আমি চোখ বন্ধ করে ফেললাম। এরমাঝে শান্ত কান্না শুরু করলো শুভ কে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে তাড়াতাড়ি শান্ত কে কোলে নিলাম।
~ এই যে বাবা কাঁদেনা মাম্মা চলে এসেছে। শান্ত তো গুড বয় তাইনা?
~ গুড বয় না ছাই ব্যাড বয়!

শুভ’র কথায় ভ্রু কুঁচকে তাকালাম শুভ গাল ফুলিয়ে বললো,
~ এই ছেলেটা অলওয়েজ নিজের মাম্মা, পাপার রোমান্সে ঘোরতর বাধা সৃষ্টি করে
আমি হু হা করে হেসে দিলাম শুভ ভেংচি কেটে ওয়াসরুমে গেলো। আমি শান্ত কে ফ্রেশ করিয়ে নিচে নিয়ে এলাম। নিচে আসতেই অভি ভাইয়া ওকে কোলে নিয়ে হনহন করে নিজের রুমে চলে গেলো। আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম বিকজ অন্য সময় আগে কথা বলে এরপর শান্ত কে কোলে নেয়। আর আজ কিছু না বলে নিলো অভি ভাইয়ার ভাবগতি বুঝতে পারছি না শুভ নিচে এসে বললো,
~ তিশা শান্ত কোথায়?

~ অভি ভাইয়া নিয়ে গিয়েছে।
বলে সোফায় বসে পড়লাম। আজকে ভার্সিটি যেতে হবে একটা ইমপরটেন্ট নোট দেবে। সামনের পরিক্ষায় কাজে লাগবে আর নোট দিয়ে ক্লাসও করাবে কিন্তু যাওয়ার মুড নেই কারন আমি জানি রুপ আসবে না মুখ ফুলিয়ে বসে আছি শুভ বললো,
~ তিশা কি ভাবছো?

~ শুভ আজ ভার্সিটি যেতে হবে
~ ওকে দেন চলো আমি নিয়ে যাচ্ছি!
~ কিন্তুু শান্ত ওকে রেখে কি করে যাবো?

~ ওকে রেখে যাবোনা তো নিয়ে যাবো
শুভ’র সাথে কথা বলে শান্ত কে নিয়েই ভার্সিটি তে এলাম। ভার্সিটি তে এসে আমি অবাক রুপ হাসি মুখে দাড়িয়ে আছে। আমাদের দেখে ছুটে এসে শান্ত কে নিলো!
~ বাবা মামনি কে মিস করোনি? মামনি কিন্তু অনেক মিস করেছে তার ছেলে কে
আমি আর শুভ দুজন দুজনের দিকে তাকাচ্ছি রুপ মুচকি হেসে বললো,
~ তিশা চল আমরা ক্লাসে যাই
শান্ত কে শুভ’র কাছে রেখে ক্লাসে যাচ্ছি ভার্সিটির প্রায় সবাই শান্ত কে আদর করছে। হঠাৎ চোখ গেলো। তুলি’র দিকে মুখে কেমন রাগ ফুটে আছে। এই রাগের মানে আমার অজানা নয় নোট নিয়ে ক্লাস করে বাড়ি চলে এলাম।

এভাবে কয়েকদিন কেটে গিয়েছে। অভি ভাইয়া রোজ রাতে ড্রিংক করে বাড়ি আসে বাবা, আম্মু অতিষ্ট হয়ে গিয়েছে। বাবা তো অভি ভাইয়া কে একদম সহ্য করতে পারেনা অভি ভাইয়া বাড়ি বসেও ড্রিংক করে রাত ১১:৩০ টা ড্রয়িংরুমে বসে আছি আজ বাবা প্রচুর রেগে আছে। তাই কি না কি করে বসে এরজন্য বসে আছি এরমাঝে অভি ভাইয়া হেলতে দুলতে বাড়ি ঢুকলো অভি ভাইয়া কে দেখে আকাশ থেকে পড়লাম। চুলগুলো উস্কো খুস্কো শার্টের বোতাম কয়েকটা খোলা বুকে লিপস্টিকের দাগ ঠোটের দিকেও লিপস্টিক স্পষ্ট বাবা গিয়ে অভি ভাইয়া কে থাপ্পর মেরে বললো,
~ এসব কি অভি? কি করে এসেছিস তুই?

অভি ভাইয়া হেলতে দুলতে বললো,
~ ইনজয় উইথ গার্লস ড্যাড এটা এমন কি বলো? আফটার অল আই এম অভি চৌধুরী ওয়েট বাইরে একজন আছে। হেই বেবী কাম প্লিজ!
অভি ভাইয়া বলতেই একটা মেয়ে ঢুকলো যার পড়নে শর্ট টপস যার কারনে হাটু বেরিয়ে আছে। পায়ে হাই হিল মেয়েটার লিপস্টিক ছড়ানো মেয়েটাও হেলতে দুলতে ঢুকে এসে অভি ভাইয়া কে জড়িয়ে ধরলো অভি ভাইয়া ও জড়িয়ে ধরলো আমি জাস্ট থ হয়ে দেখছি বাবার আর সহ্য হলো। না বাবা মেয়েটা কে বের করে দিয়ে একটানে অভি ভাইয়া কে সোফায় ফেলে প্যান্টের বেল্ট দিয়ে মারতে লাগলো। আম্মু নিঃশব্দে কেঁদে যাচ্ছে অভি ভাইয়া চুপচাপ আছে। শুভ গিয়ে আটকালো বাবা কে আমি বুঝতে পারছি না এসব কেন হচ্ছে? কার নজর লাগলো। আমাদের সংসারে?

পর্ব ২৪

আমি ভাবছি কেন এমন হচ্ছে? আমাদের সুখের সংসারে কার কু নজর পড়লো।? বাবার চিৎকারে ভাবনা থেকে ফিরলাম আর সামনে দেখে তো আমি অবাক অভি ভাইয়া বাবার হাতের বেল্ট ধরে রেখেছে বাবা ছাড়িয়ে আবার বারি দিতে গেলো। অভি ভাইয়া আবারও বেল্ট ধরে চোখ মুখ লাল করে বললো,
~ ব্যাস এনাফ আই সেইড এনাফ ইজ এনাফ পাপা ওয়াট ইউ থিংক এবাউট মি? তুমি যা করবে আমি সেটাই মেনে নেবো? যদি তুমি এটা ভেবে থাকো দেন আই এম টেলিং ইউ ইউআর রং এন্ড ইউআর আইডিয়া ইজ এবসুলিউটলি রং গট ইট? নেক্সট টাইম আমাকে মারার ট্রাই করবে না ডোন্ট ইউ ট্রাই টু ডু দিস ডিসগাস্টিং পাবলিক

বলে অভি ভাইয়া হেলে দুলে চলে গেলো। বাবা ওখানেই থম মেরে আছে। বুঝতে পারছি বাবা কষ্ট পাচ্ছে নিজের ছেলে যদি এমন করে চোখের সামনে একটু একটু করে এভাবে বদলে যায় সেটা কোনো বাবা, মা সহ্য করতে পারবে না। বাবা ও পারছে না বাবা ধপ করে সোফায় বসে পড়লো। শুভ গিয়ে বাবা কে বললো,
~ পাপা তুমি কষ্ট পেয়োনা দেখবে সব ঠিক হয়ে যাবে আমরা সবাই আগের মতো থাকবো এই বাড়িটা আবার আগের মতো হয়ে যাবে ভাইয়া ও ঠিক ওর ভুল বুঝবে
শুভ’র কথা বলার মাঝে বাবা উঠে চলে গেলো। বাবার পিছু পিছু আম্মু ও চলে গেলো। শুভ একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আমার দিকে তাকিয়ে রুমে চলে গেলো। শুভ’র সাথে আমিও চলে এলাম। সবকিছু কেমন বিষাদ লাগছে অথচ কয়েকদিন আগেও সব ঠিক ছিলো!

সকালে শান্ত কে নিয়ে ড্রয়িংরুমে বসে আছি শান্ত আ আ করছে। হয়তো কথা বলার চেষ্টা করছে। আমার ছেলেটা বাবা ব্রেকফাস্ট করছিলো এমন সময় অভি ভাইয়া নেমে এলো গায়ে পুলিশের ইউনিফর্ম সব ঠিক আছে। কিন্তু হাতে সিগারেট সিগারেট খেতে খেতেই সিরি দিয়ে নামছে আমি হা করে তাকিয়ে আছি এই কি সেই অভি ভাইয়া? যে কি না সিগারেট সহ্য করতে পারতো না আজ কি না নিজে সিগারেট খাচ্ছে অভি ভাইয়া এসে শান্ত কে নিতে চাইলো কিন্তু আমি দিলাম না অভি ভাইয়া ভ্রু কুঁচকে বললো,
~ ওয়াট হ্যাপেন্ড তৃশ? শান্ত কে দিলি না কেন?

রাগী কন্ঠে বলে উঠলাম
~ আমার ছেলে কে আমি তোমার কাছে দেবো না
অভি ভাইয়া মুচকি হেসে বললো,
~ ও বুঝি আমার ছেলে না?

~ না ও তোমার ছেলে না আর যাইহোক তোমার মত একজন আমার ছেলের বাবা হতে পারেনা আর তুমি কি হ্যা? এই শান্ত’র প্রতি তোমার ভালবাসা? যে তুমি সিগারেট নিয়ে ওর সামনে এসেছো?

অভি ভাইয়া আমার কথা শুনে হু হা করে হেসে দিয়ে বললো,
~ তো তোর কি মনে হয়? তোর ছেলের জন্য আমি এই সিগারেট ফেলে দেবো?
বলে আবারও হেসে দিলো আর আমি শুধু অবাক হয়ে দেখছি অভি ভাইয়া সিগারেট টানতে টানতে চলে গেলো। আমি আবার বসে পড়লাম। ভাবছি আসলেই অভি ভাইয়া চেন্জ হয়ে গিয়েছে।

২দিন পর আমরা বসে আছি অভি ভাইয়া একপাশে বসে সিগারেট টানছে এরমাঝে রুপ এসে হাজির হলো। রুপ কে দেখে আমরা অবাক হলাম। রুপ মুচকি হেসে ভেতরে এসে আম্মু আর বাবা কে সালাম করলো অভি ভাইয়া রুপ কে দেখে রেগে এসে বললো,
~ তুই এত বেহায়া কেন হ্যা? এতকিছু হয়ে গেলো। তোকে এত ইনসাল্ট করলাম সেই আবার মুখ উঠিয়ে চলে এলি?

অভি ভাইয়ার মুখে তুই শুনে রুপ কিছু বললো, না শুধু হাসলো হেসে দিয়েই বললো,
~ আমি এখানে থাক।তে আসিনি ভাইয়া!
রুপ অভি ভাইয়া কে ভাইয়া বলছে। এটা শুনে অভি ভাইয়া ভ্রু কুঁচকে বললো,
~ এই মেয়ে কে তোর ভাইয়া?

~ বাহ বেশ ভাল অধঃপতন হয়েছে। আপনার যাইহোক আন্টি এটা রাখুন!
একটা কার্ড দিয়ে বললো, কার্ডটা দেখে আম্মু বলে উঠলো
~ এটা কিসের কার্ড?

~ আন্টি আমার বিয়ের কার্ড ৩দিন পর আমার বিয়ে কালকে এংগেজমেন্ট পরশু গায়ে হলূুদ আর তারপরের দিন বিয়ে আপনাদের সবার আসতে হবে সেই কমিউনিটি সেন্টারেই যেখানে আমার আগে এংগেজমেন্ট হয়েছিলো সবাই আসবেন আমার রিকোয়েস্ট!
আম্মু ছলছল চোখে রুপে’র গালে হাত রাখলো
~ আমরা অবশ্যই আসবো। মা আমি তো তোকে মেয়ের মতো ভালবেসেছি তিশা কে যেমন ভালবাসি তোকেও তেমন ভালবেসেছি তুই যে সব ভুলে নতুন করে নিজের জীবন গুছিয়ে নিয়েছিস এতেই খুশি আমরা

আম্মুর কথায় রুপ হাসলো এরপর অভি ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে বললো,
~ আপনিও আসবেন ভাইয়া তিশা’র বেষ্ট ফ্রেন্ড হিসেবে আমার বিয়েতে আপনিও থাকবেন আজ আমি আসছি বাই!
রুপ বাড়ি থেকে চলে গেলো। কার্ডটা খুলে হাতে নিলাম। ছেলের নাম দেখে অবাকই হলাম। কারন এই ছেলের সাথে রুপে’র বিয়ে ঠিক হয়েছিলো যেটা অভি ভাইয়ার জন্য ভেঙে দিয়েছিলো তাহলে সেখানেই রুপে’র বিয়ে ডক্টর আহানে’র সাথে অভি ভাইয়ার দিকে তাকালাম অভি ভাইয়ার কোনো হেল দোল নেই একমনে সিগারেট টানছে কিছু না বলে রুমে চলে এলাম।

পরেরদিন রেডি হয়ে নিচে এলাম। আজ রুপে’র এংগেজমেন্ট আন্টি আঙ্কেলও ফোন করে যেতে বলেছে আমাদের বাড়ি থেকেও আম্মু, বাবা, ভাইয়া যাবে শুভ নেমে আসতেই আমরা বেরিয়ে গেলাম অভি ভাইয়া ড্রয়িংরুমে সিগারেট টানছে গাড়ি নিয়ে পৌছে গেলাম কমিউনিটি সেন্টারে ভেতরে গিয়ে বাড়ির সবার সাথে দেখা হলো। ভাইয়া এসেই শান্ত কে কোলে নিলো কোলে নিয়ে চলে গেলো। আমি বাবা আর আম্মুর সাথে কথা বলে রুপে’র কাছে চলে এলাম। আজও রুপ কে পুতুল লাগছে রুপ আমাকে জড়িয়ে ধরলো তবে এই রুপ কে দেখে বোঝা যাচ্ছেনা ওর মনে আসলে কি চলছে। তাই বললাম,
~ রুপ তুই নিজের ইচ্ছেতে বিয়ে করছিস?

রুপ মুচকি হেসে দিয়ে বললো,
~ অবভিয়েসলি কেন বল তো?
~ তুই তো অভি ভাইয়া কে ভালবাসিস তাহলে আহান কে কি করে বিয়ে করছিস?

রুপ মুখে রাগ ফুটিয়ে বলে উঠলো!
~ ভুল বললি তিশা ভালবাসতাম এখন আমি নিজের উডবি হাজবেন্ড কে ভালবাসি
~ আমি চাই তুই সুখে থাক।
বলে শান্ত কে খুজতে চলে এলাম। খুজতে খুজতে একদিকে তাকিয়ে আমার চোখ ছানাবড়া হয়ে গেলো। আমার গুনধর ভাইয়া একটা মেয়ের সাথে হাত ধরে হেসে হেসে কথা বলছে। আর মেয়েটা শান্ত কে আদর করছে। পা টিপে টিপে কাছে গিয়ে কর্কশ গলায় বললাম,
~ এখানে কি করিস ভাইয়া?

ভাইয়া ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বললো,
~ দেখতে পারছিস না প্রেম করছি!
ভাইয়ার কথা শুনে আমি থ আর মেয়েটা কাশতে শুরু করে দিলো আমি মুখ চুপসে বললাম,
~ এই আপুটা কে ভাইয়া?
~ ও ডক্টর আহানিতা খাঁন রুপে’র উডবি হাজবেন্ড ডক্টর আহান খাঁনে’র বোন আমরা একই হসপিটালে আছি এখন!

ভাইয়া’র ডাক্টারী পড়া শেষ হয়ে গিয়েছে। মেয়েটা আসলেই কিউট অনেক কয়েক মিনিটি ওর সাথে মিশে গেলাম আপু করে বলছি ভাইয়া গলা খাকারী দিয়ে বললো,
~ আপু কি হ্যা? সি ইজ মাই গার্লফ্রেন্ড সো ভাবী বল
~ আবির মিথ্যে কেন বলছো? তিশা আমরা বেষ্ট ফ্রেন্ড!
আহানিতা আপুর কথায় আমি হেসে দিলাম ভাইয়া শান্ত কে আমার কাছে দিয়ে গাল ফুলিয়ে চলে গেলো। আহানিতা আপুও পিছনে পিছনে গেলো। এরমাঝে শুভ এসে রাগী ভাবে বললো,
~ কোথায় থাকো হ্যা? কখন থেকে খুজছিলাম।
~ কেন খুজছিলে?

শুভ আমার কোল থেকে শান্ত কে নিয়ে চুমু দিয়ে বললো,
~ আমার ছেলে কে মিস করছিলাম।
ভেংচি কেটে বললাম,
~ এখন তো ছেলেকেই মিস করবে বউ তো পর হয়ে গিয়েছে।
শুভ আমাকে টান দিয়ে ওর বুকের সাথে মিশিয়ে বললো,
~ আগেই বলেছি আগে তুৃমি এরপর সব!
~ শুভ এখানে সবাই আছে।

বলে সরে এলাম। এরপর স্টেজে গেলাম আহান কে আর রুপ কে পাশাপাশি বসানো হয়েছে। ছেলেটা যথেষ্ট হ্যান্ডসাম আছে। দেখতে দেখতে ওদের এংগেজমেন্ট হয়ে গেলো। আমরাও বাড়িতে চলে এলাম। আসতে আসতে রাত হয়ে গিয়েছে। শান্ত গাড়িতেই ঘুমিয়ে পড়েছে শান্ত কে রুমে শুইয়ে দিলাম আমি আর শুভ ফ্রেশ হয়ে নিচে এলাম। নিচে এসে টিভি চালু করে চ্যানেল পাল্টাচ্ছি একটা চ্যানেলে দিতেই শকড হয়ে গেলাম সবার মনে হয় পায়ের তলার মাটি সরে গেলো।

বিকজ টিভি তে ব্রেকিং নিউস দেখাচ্ছে সেটাও অভি ভাইয়া কে নিয়ে!
~ আজকের ব্রেকিং নিউস শহরের বিখ্যাত বিজনেস টাইকুন আরসাল চৌধুরী’র বড় ছেলে ইন্সপেক্টর অভি চৌধুরী কে নাইট ক্লাব থেকে ড্রিংক করে বাজে মেয়েদের সাথে রাত কাটানোর অভিযোগে পুলিশ এরেস্ট করেছে পুলিশ গিয়েছিলো তাদের কাজে কিন্তু সেখানে গিয়ে অভি চৌধুরী কে একটা মেয়ের সাথে ঘনিষ্ট অবস্থায় পাওয়া যায় জানা গিয়েছে। মেয়েটা এর আগেও অনেক ছেলের সাথে রাত কাটিয়েছে অভি চৌধুরী কি করে এটা করলো? যেখানে অভি চৌধুরী নিজেই একজন পুলিশ অফিসার!

এতটুকু শুনে টিভি অফ করে দিলাম বাবার ফোনে অলরেডি কলের ঝড় বইছে বাবা শুভ কে নিয়ে বেরিয়ে গেলো। আমি আর আম্মু পায়চারী করছি আম্মু কান্না করছে। খুব ৩ ঘন্টা পর বাবা আর শুভ এলো সাথে অভি ভাইয়া আম্মু গিয়ে অভি ভাইয়া কে থাপ্পর মারলো বাবা অভি ভাইয়া কে টান দিয়ে সোফায় ফেলে বললো,
~ তোকে আমার ছেলে ভাবতে ঘৃনা হচ্ছে যখন তুই হারিয়ে গেলি তখন ভাবতাম কবে তোকে পাবো? আর আজ মনে হচ্ছে কেন তোকে পেলাম? তোকে ছাড়িয়ে এনেছি নিজের সম্মানের জন্য আমরা সবাই তোকে ঘৃনা করি তোর মতো ছেলে থাকার থেকে না থাকা ভাল
বলে বাবা আম্মু কে নিয়ে চলে গেলো। আমি আর শুভ ও চলে এসেছি!

পর্ব ২৫

আমরা সিরির উপরে আসতেই অভি ভাইয়া কাশতে শুরু করলো আমি দাড়িয়ে পড়লাম। এভাবে কেন কাশি দিচ্ছে দেখতে অভি ভাইয়া কাশতে কাশতে দুই হাত নিজের মুখের কাছে নিয়ে গেলো। এরপর হাত দুটো সামনে এনে মুচকি হাসলো উপর থেকে ঠিকমত বোঝা যাচ্ছেনা নিচে যেতে চাইলাম কিন্তু শুভ আমাকে রুমে এনে দরজা বন্ধ করে দিলো আমি রুমে বসেই ভাবছি অভি ভাইয়া হাত দেখে হাসলো কেন?

সকালে রুপ বারবার ফোন করছে। ওর গায়ে হলুদ সন্ধ্যায় অথচ এখনি যেতে বলছে। শুভ এখন যেতে বারন করেছে অত মানুষের ভীরে শান্ত ভয় পায় রুপ কে বুঝিয়ে বললাম, সন্ধ্যার আগে পৌছে যাবো তাছাড়া বাড়ির পরিবেশ ও তো ভাল না কারো মন মেজাজ ঠিক নেই কেমন থমথমে হয়ে গিয়েছে। যেটুকু হাসি আছে। তা শান্ত’র জন্য এমন সময় দেখলাম খালামনি এসেছে। খালামনি অভি ভাইয়া কে ডাকতে শুরু করলো অভি ভাইয়া সিরি দিয়ে মুখ দিয়ে সিটি বাজাতে বাজাতে নেমে এলো খালামনির সামনে গিয়ে বললো,
~ কি হলো? এভাবে ডাকছো কেন?

ওমনি খালামনি অভি ভাইয়া কে থাপ্পর মারলো
~ ওয়াট দ্যা হেল? যার যখন ইচ্ছে হচ্ছে আমাকে থাপ্পর মেরে যাচ্ছে আমি ওয়ার্নিং দিচ্ছি নেক্সট টাইম কেউ আমাকে থাপ্পর মারাতো থাক। দুরে আমাকে টাচ করারও ট্রাই করবে না
অভি ভাইয়া রাগে ফুসতে ফুসতে বললো, সবাই তো জানে অভি ভাইয়া কতটা পাল্টে গিয়েছে। আজ খালামনিও জানলো!
~ এর জন্য তোকে মানুষ করেছিলাম। অভি?

খালামনির কথায় মুখে বিরক্তি নিয়ে অভি ভাইয়া বলে উঠলো!
~ নট অভি রাজ চৌধুরী ওকে? সন অফ আরসাল চৌধুরী এখন আপনি আসুন যান এখান থেকে
খালামনি কাঁদতে কাঁদতে চলে গেলো। সন্ধ্যায় হাটতে হাটতে ছাদে গেলাম!
~ জাস্ট সাট আপ তুলি তোমার সাহস কি করে হয়?

আমার সাথে এমন করার? আমার পরিবারের সম্মান নিয়ে খেলার? ইউ ব্লাডি ফুল আই উইল নট স্পেয়ার ইউ আই জাস্ট ফিনিশ ইউ তোমার বলা সব কথা রেকর্ড হয়ে গিয়েছে। এটা দিয়ে আমি সবাই কে বুঝিয়ে দেবো আমি কোনো মেয়ের সাথে রাত কাটাতে যাইনি আমাকে ফাঁসিয়ে আমার পরিবার কে ছোট করতে তুমি এসব করেছো সো বি রেডি কাল আমি নিজে তোমাকে এরেস্ট করবো। এরপর জেলে পচে মরবে রাবিশ
অভি ভাইয়ার কথা শুনে আমি থ তারমানে তুলি এসব করেছে আমাদের পরিবার কে ছোট করতে আমি গিয়ে অভি ভাইয়ার কাধে হাত রাখলাম অভি ভাইয়া ভুত দেখার মত চমকে উঠলো!

~ তুমি কাল বাবা কে কেন বললে না? যে তুমি এসব কিছু করোনি
অভি ভাইয়া আমতা আমতা করে বললো,
~ কোন সব? কিসের কথা বলছিস তুই?
~ তোমার এতক্ষণ বলা সব কথা আমি শুনেছি
~ কাল বলিনি বিকজ প্রুফ ছিলোনা আর আজও বলবো না আগামীকাল আমি সবাই কে প্রুফ দেবো ইন্সপেক্টর অভি চৌধুরী এমন কিছু করতে পারেনা
বলতে বলতে অভি ভাইয়া কাশতে শুরু করলো কাশতে কাশতে অন্য দিকে ঘুরে গেলো।
~ তৃশ তুই যা এখান থেকে

অভি ভাইয়ার কথায় খটকা লাগলো। অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে মুখে হাত দিয়ে রেখেছে
~ তৃশ আই সেইড লিভ মি এলোন!
আমি অভি ভাইয়ার সামনে গিয়ে বললাম,
~ কাল রাতেও তুমি এমন করছিলে আর আজও তুমি এমন করছো তোমার কি হয়েছে। অভি ভাইয়া?
~ আমার কিছু হয়নি তুই যা প্লিজ

আমি জোড় করে হাত সরিয়ে ফেললাম। হাত সরিয়ে আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো। অভি ভাইয়ার নাকে মুখে রক্ত আর দুটো হাত রক্তে লাল হয়ে গিয়েছে। অভি ভাইয়া মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে। আমি কাঁপা গলায় বললাম,
~ অ অভি ভাইয়া এ এসব কি?

অভি ভাইয়া রুমাল দিয়ে রক্ত মুছে বললো,
~ বলছি তো কিছুনা যা এখান থেকে!
~ না সত্যিটা না জেনে আমি যাবোনা
~ কোন সত্যি জানবি তুই? এটাই তো যে এই রক্ত কেন? তাহলে শোন আমার ব্রেইন ক্যান্সার আমি একজন ব্রেইন ক্যান্সারের পেশেন্ট
বলে অভি ভাইয়া আবার মুখ ঘুরিয়ে নিলো আর আমি থম মেরে আছি চোখ দিয়ে পানি পড়ছে আমার এসব কি শুনছি আমি?
~ কবে জানতে পেরেছো?

কান্না করে বললাম,
~ যেদিন রুপ কে ভালবাসার কথা বলতে চেয়েছিলাম। বাড়ি থেকে বেরও হয়েছিলাম। সেদিনই জানি মনে আছে। তোর তৃশ? আমাদের এংগেজমেন্টের দিন আমি মাথা চেপে ধরেছিলাম। ওই দিন আমার মাথায় পেইন হচ্ছিলো আমি বুঝতে পারিনি কেন এমন হচ্ছে এরপর তোদের রুমে আড্ডার মাঝে উঠে চলে এসেছিলাম। ওই দিন ও মাথায় পেইন হচ্ছিলো ভেবোছিলাম। হয়তো এমনি কিন্তু দিনে দিনে যেন বাড়ছিলো তাই হসপিটালে গিয়ে টেস্ট করি ডক্টর বলেছিলো পরেরদিন রিপোর্ট আনতে ওই দিন রুপ কে বলতে চেয়েছিলাম। আমি রুপ কে ভালবাসি অনেক ভালবাসি গাড়ি ড্রাইভ করছিলাম। হঠাৎ আবার মাথায় পেইন ওঠে আর নাক মুখ দিয়ে রক্ত পড়ছিলো

আমি গাড়ি ব্রেক করে ফেলি এরপর ডক্টর কল করে রিপোর্ট আনতে যেতে বলে ভাবি রিপোর্ট নিয়ে আসি এরপর রুপে’র কাছে যাবো কিন্তুু রিপোর্ট পেয়ে আমার পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছিলো কারন রিপোর্টে আমার ব্রেইন ক্যান্সার এসেছিলো আমি বারবার বলেছি এই রিপোর্ট ভুল তাই ডক্টর টেস্ট ও ৩ বার করেছে কিন্তু ৩ বারই সেম রিপোর্ট শুধু তাই না আমি লাস্ট স্টেজে চলে এসেছি আমার হাতে খুব বেশী হলে ২ মাস সময় আছে। আমি চাইনি আমার এই জীবনের সাথে রুপ কে জড়াতে তাই আমি ওকে সরিয়ে দিয়েছি বিশ্বাস কর তৃশ আমি রুপ কে ভালবাসি খুব ভালবাসি আমি ওর সাথে যা করেছি ওর ভাল’র জন্য করেছি নাহলে ও আমাকে ঘৃনা করতো না ও যদি জানতো আমার ব্রেইন ক্যান্সার তবুও ও আমাকে বিয়ে করতে চাইতো আমাকে বিয়ে করলে ওর পুরো জীবন শেষ হয়ে যেতো আমি এটা কি করে হতে দিতাম? তাই আমি ওকে সরিয়ে দিয়েছি আমার থেকে আমার জীবন থেকে!

আমি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছি আল্লাহ এটা কি করলো?
~ এর জন্য তুমি সবার চোখে খারাপ হচ্ছো না?

অভি ভাইয়া মুচকি হেসে বললো,
~ হ্যা যাতে আমি মরলে কেউ কষ্ট না পায়!
~ আমি এক্ষুণি সবাই কে বলে দেবো

বলে পা বাড়ালাম
~ শান্ত’র কসম তৃশ তুই কাউকে বলবি না!
আমি থমকে দাড়ালাম এখন আমি কি করবো? মাথায় জেদ উঠে গেলো। অভি ভাইয়ার সামনে গিয়ে ঠাস করে এক থাপ্পর মেরে বললাম,
~ কেন করছো এমন? সবাই কে কেন বলে দিচ্ছোনা? অভি ভাইয়া তুমি ঠিক হয়ে যাবে প্লিজ সবাই কে বলে দাও আমরা বেস্ট ডক্টরের কাছে তোমাকে নিয়ে যাবো প্লিজ বলে দাও!

~ আমি যা বলার বলে দিয়েছি
অভি ভাইয়ার কথা শুনে কষ্ট লাগছে এক পা দু পা করে চলে এলাম। এদিকে অভি ভাইয়া ও কাঁদছে
~ আমার সাথে কেন এমন হলো। আল্লাহ? কি পাপ করেছিলাম। আমি? যখন তৃশ কে ভালবাসলাম ও আমার হলো। না আর এখন যখন আমি রুপ কে ভালবাসি তখন তুমি আমাকে রুপে’র থেকে কেড়ে নিলে যখন আমাকে নেয়ারই ছিলো তাহলে তখনই নিয়ে নিতে যখন তৃশে’র বিয়ে হয়ে গিয়েছিলো আমি কি কারো ভালবাসার যোগ্য না?

আবারও অভি ভাইয়ার নাক মুখ দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করলো অভি ভাইয়া মুচকি হাসলো রুমে বসে আছি আমি এতটা কষ্ট লাগছে অভি ভাইয়া কে ভুল বুঝলাম শুভ এসে আমাকে রেডি হতে বললো, আমার যেতে ইচ্ছে করছে। না সবার কথায় গেলাম তবে গিয়ে হলুূদ ছুয়ে চলে এলাম। অভি ভাইয়ার রুমের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলাম। রুমের দিকে জানালা দিয়ে তাকালাম অভি ভাইয়া ফ্লোরে বসে আছে। একহাতে সিগারেট এক হাতে ড্রিংকের বোতল ইচ্ছেমতো ড্রিংক করছে। চুলগুলো উস্কো খুস্কো না চাইতেও চোখ দিয়ে পানি পড়ছে শুভ আমাকে নিয়ে চলে এলো পরেরদিন অভি ভাইয়া প্রুফ করে দিলো যে অভি ভাইয়া কোনো মেয়ের সাথে রাত কাটায়নি যা করেছে তুলি করেছে আমাদের পরিবার কে ছোট করতে!

~ এটা হয়তো মিথ্যে কিন্তু খারাপ তো তুই হয়ে গিয়েছিস
বাবার কথায় অভি ভাইয়া স্লান হেসে রুমে চলে গেলো। আমি এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি আমি তো জানি অভি ভাইয়া খারাপ না আজ রুপে’র বিয়ে অভি ভাইয়া রুপ কে ভালবাসে যত দুরে সরিয়ে রাখুক পারবে তো নিজেকে সামলাতে?

পর্ব ২৬

অভি ভাইয়া স্লান হেসে উপরে চলে গেলো। এবার ভাবছেন তো? কি করে কি হলো? চলুন বলি কিছুক্ষণ আগে কি হলো?

কিছুক্ষণ আগে

আমরা প্রতিদিনের মতো ড্রয়িংরুমে বসে আছি এমন সময় অভি ভাইয়া হাতে পিস্তল নিয়ে বেরিয়ে গেলো। বাবা আর আম্মু না বুঝে আটকাতে চেয়েছিলো বাট আমি যেহেতু জানি সব তাই আটকাইনি প্রায় অনেক সময় পর অভি ভাইয়া আমাকে কল করে আমি রিসিব করতেই আমাকে টিভি অন করতে বলে আর টিভিতে নিউসে সেই রেকর্ড শোনাচ্ছে!

~ হ্যা আমি করেছি সব আমি অভি চৌধুরী কে ফাঁসিয়েছি চৌধুরী পরিবারের মান সম্মান নষ্ট করতে অভি চৌধুরী’র ছোট ভাই শুভ চৌধুরী কে আমি ভালবাসতাম কিন্তু ও তিশা নামের মেয়েটা কে বিয়ে করে নিলো আর ওই মেয়েটার জন্য শুভ আমাকে ভার্সিটির সবার সামনে থাপ্পর মেরেছিলো আমার সামনে শুভ বউ ছেলে নিয়ে মাতামাতি করে যা আমার সহ্য হয়না তাই ওইদিন ক্লাবে আমি অভি কে ওর ড্রিংকে ড্রাগস দিয়ে আর ওই মেয়েটা কে টাকা দিয়ে ওই রুমটাতে পাঠিয়ে দেই আর পুলিশ গিয়ে অভি কে এরেস্ট করে হ্যা আমি এসব করেছি আর বেশ করেছি
টিভি তে এসব শুনে আমি থ এই মেয়েটা এত খারাপ? আর বাবা, আম্মু ও কিছু বলছে। না!

~ ইউআর আন্ডার এরেস্ট মিস নেহা আমাকে ইন্সপেক্টর অভি চৌধুরী কে ড্রাগস দেয়ার অপরাধে মিথ্যে অপবাদে ফাঁসানোর অভিযোগে আমি তোমাকে এরেস্ট করলাম
অভি ভাইয়া বাঁকা হেসে নেহা কে হেন্ডকাফ পড়ায় নেহা সমানে চেঁচামেচি করছে। শুভ এসে টিভি অফ করে দিয়ে রাগে ফোস ফোস করতে বলে!
~ এই নেহা এত খারাপ? একে তো ইচ্ছে করছে। খুন করতে বেয়াদব রাস্কেল মেয়ে একটা
এরপর অভি ভাইয়া বাড়ি আসে আর বাবা অভি ভাইয়া কে ওসব বলে!

আয়নার সামনে বসে রেডি হচ্ছি রুপে’র বিয়ে আজ ওখানেই যাচ্ছি রেডি হয়ে ড্রয়িংরুমে এলাম। যেতে ইচ্ছে করছে। না একটুও কিন্তু কি বলবো সবাই কে? ড্রয়িংরুমে এসে দেখি বাবা অভি ভাইয়া কে রাগারাগি করছে। অভি ভাইয়া মুখে বিরক্তি নিয়ে দাড়িয়েছে আসলে তো এটা বিরক্তি না এটা কষ্ট বুকের ভেতরের কষ্টটাকে বাইরে বিরক্তিকর রুপ দিয়েছে। যাতে সবাই খারাপ ভাবে!
শুভ শান্ত কে নিয়ে নিচে এলো এরপর আমরা বেরিয়ে গেলাম যেতে যেতে একবার পিছনে তাকালাম অভি ভাইয়ার চোখগুলো ছলছল করছে। এই মুহূর্তে আমার মতো কেউ যদি পিছনে তাকাতো তাহলে এই অসহায় চেহারা দেখতে পারতো আমার ইচ্ছে করছে। সবাই কে বলে দিতে কিন্তু আমি যে চাইলেও পারছি না অভি ভাইয়া নিজে আমার হাত পা বেধে দিয়েছে।

~ হা হা হা খুশি হয়েছো না তুমি? তুমি অনেক খুশি তাইনা আল্লাহ? এটাই তো চেয়েছিলে তুমি এই অভি কে সবাই ঘৃনা করবে অভি’র থেকে সবাই দুরে সরে যাবে রুপ অন্যকারো হয়ে যাবে এটাই চেয়েছিলে না? দেখো সব হচ্ছে রুপ আজ অন্যকারো হয়ে যাবে!
বলে কাঁদতে কাঁদতে অভি ভাইয়া হাটু গেরে ফ্লোরে বসে পড়লো। আমি এসেছিলাম। শান্ত’র প্যামপার্স নিতে তখন এসব শুনি আর দেখি আমি গিয়ে অভি ভাইয়ার সামনে দাড়াই অভি ভাইয়া আমাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দেয় আমিও কাঁদছি কাঁদতে কাঁদতে বললাম,
~ অভি ভাইয়া প্লিজ সবাই কে বলি?

অভি ভাইয়া আমাকে ছেড়ে রাগী লুক দিয়ে বলে!
~ একবার বলেছি না? শান্ত’র কসম তৃশ তুই বলবি না
একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে চলে আসি গাড়িতে চুপচাপ ছিলাম। ২ ঘন্টা পর আমরা এসে পৌছাই মানুষ দিয়ে ভরপুর ভাইয়া কে দেখলাম আহানিতা আপুর সাথে কথা বলছে। আমরা ভেতরে চলে এলাম। এসব কেন জানি ভাল লাগছে না শান্ত অলরেডি কান্না শুরু করে দিয়েছে। শুভ শান্ত কে নিয়ে একটু দুরে গেলো। আমি পা টিপে টিপে রুপে’র কাছে এলাম।

রুপ কে সাজানো শেষ লাল আর গোল্ডেন লেহেঙ্গা লেহেঙ্গা তে গোল্ডেন স্টোন বসানো গা ভর্তি গয়না চোখে কাজল ঠোটে টকটকে লাল লিপস্টিক একদম পুতুল পুতুল লাগছে তবে রুপে’র মুখে আজ আর হাসি নেই এতেই বোঝা যাচ্ছে রুপ মুখে যা বলুক রুপ অভি ভাইয়া কে এখনো ভালবাসে কারন ভালবাসা ভোলা যায়না একটুপর রুপ কে স্টেজে নিয়ে যাওয়া হলো। রুপ কে আহানের পাশে বসানোর পরই কারো মাতাল কন্ঠে গান ভেসে এলো
🎶জানি একদিন আমি চলে যাবো সবি ছেড়ে🎶
🎶যত বুক ভরা দুঃখ কষ্ট নিয়ে ওহহহহ🎶

🎶জানি একদিন আমি চলে যাবো সবি ছেড়ে🎶
🎶যত বুক ভরা দুঃখ কষ্ট নিয়ে🎶
🎶ফিরবো না কোনোদিন এই পৃথিবীতে🎶
🎶কোনোকিছুর বিনিময়ে এই পৃথিবীতে🎶
🎶একদিন চলে যাবো🎶

[বাকিটা নিজ দায়িত্বে শুনবেন আমার প্রিয় একটা গান]
লোকটা আর কেউ না অভি ভাইয়া অভি ভাইয়া হেলতে দুলতে এগিয়ে এলো অভি ভাইয়া কে দেখে রুপ স্টেজ থেকে নেমে অভি ভাইয়ার সামনে দাড়িয়ে বললো,
~ সেদিন আমাকে কি যেন বলেছিলেন? ওহ হ্যা মনে পড়েছে আমাদের বাড়িতে মুখ উঠিয়ে চলে এলি? তা আপনার কি লজ্জা সরম নেই? এতকিছু হওয়ার পরও ইনভাইট করেছি আর আপনিও বেহায়ার মতো চলে এলেন?

আচমকা অভি ভাইয়া রুপ কে জড়িয়ে ধরলো বিয়ের স্টেজে বিয়ের কনে কে অন্য কেউ এভাবে জড়িয়ে ধরলে সবাই অবাক হবে এখানেও তাই কানাঘুষা শুরু হয়ে গিয়েছে। রুপ অভি ভাইয়া কে ছাড়িয়ে ঠাস করে এক থাপ্পর মারলো!
~ আপনার সাহস কি করে হলো? আমাকে এভাবে জড়িয়ে ধরার? খারাপ লোক একটা
অভি ভাইয়া রুপে’র কথায় পাত্তা না দিয়ে রুপে’র হাত ধরে বলে উঠলো!

~ রুপ একবার আমাকে আই লাভ ইউ বলো প্লিজ তুমি তো অন্যকারো হয়ে যাচ্ছো জাস্ট একবার বলো
রুপে’র বাবা এসে রুপ কে নিয়ে গেলো। আর বাবা কে কথা শোনালো বাবা অভি ভাইয়া কে থাপ্পর মারলো আমার আর সহ্য হচ্ছে না এসব এরমাঝে অভি ভাইয়া কাশতে শুরু করলো কাশার মাঝে মাথা চেপে ধরলো একহাত দিয়ে মাথা চেপে ধরেছে আরেকহাত মুখে দিয়ে রেখেছে আজও কাউকে বুঝতে দিতে চাইছে না সবাই অভি ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। অভি ভাইয়া এবার দুই হাত দিয়ে মাথা চেপে জোড়ে চিৎকার করে উঠলো নাক মুখ দিয়ে গলগল করে রক্ত পড়ছে এমন কিছু দেখার জন্য কেউ প্রস্তুত ছিলোনা সকলে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। অভি ভাইয়া ঠাস করে মাটিতে পড়ে গেলো। মাথা চেপে ধরে পাগলের মতো করছে।
~ আহহহহ, আহহহহহ
রুপ স্টেজ থেকে দৌড়ে আসতে গেলো। কিন্তু ওর বাবা হাত ধরে ফেললো হঠাৎ আহান মাথার পাগড়ী খুলে এরপর বললো,
~ ওকে যেতে দিন আঙ্কেল

রুপ হাত ছাড়িয়ে দৌড়ে চলে এলো সবাই অভি ভাইয়ার কাছে এলো আহান নিজেও অভি ভাইয়ার কাছে এসে বললো,
~ অভি ডোন্ট ওয়ারী ওকে? তোর কিছু হবেনা
আহানে’র মুখে তুই শুনে অবাক হলাম। তাহলে কি আহান অভি ভাইয়া কে চেনে?
~ ওর কি হয়েছে।? কি হয়েছে। আমার ছেলের?

আম্মুর প্রশ্নে আর কিছু লুকাতে পারলাম না সবটা বলে দিলাম সবাই কান্নাকাটি করছে। আর অভি ভাইয়া ছটফট করতে করতে রুপ কে বললো,
~ রু রুপ আ আমি আর বাঁ বাঁচবো না তু তুমি প্লিজ আ আহান কে বি বিয়ে ক করে নি নি নিয়ো আ আর এ একটা ক কথা আ আমি তো তোমাকে ঠ ঠকাইনি রু রুপ
বলতে বলতে অভি ভাইয়া চোখ বন্ধ করে নিলো অভি ভাইয়া কে নিয়ে হসপিটালে চলে এসেছি এবার আহান বললো,

~ অভি আমার ফ্রেন্ড ও বিদেশ থেকে চলে এসেছিলো আর আমি থেকে গিয়েছিলাম। তাই তেমন একটা কথা হয়নি রুপে’র সাথে আমার বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর বাবা তার ফ্রেন্ডের মেয়ের সাথে আমার বিয়ে ঠিক করে হঠাৎ একদিন অভি আমাকে ফোন করে দেখা করতে বলে আর ওর ব্যাপারে সবটা বলে রুপে’র কথাও বলে তখন আমি অবাক হই। এরপর অভি বললো, ও জানতো না আমি সেই ছেলে অভি আমাকে রিকোয়েস্ট করে রুপ কে বিয়ে করতে আর ওর এই ব্রেইন ক্যান্সারের কথা কাউকে না জানাতে

~ আন্টি আপনারা সবটাই শুনেছেন একচুয়েলি অভি’র বাঁচার সম্ভাবনা আছে। বাট সেটা ১০০% এর ৫% অপারেশন করলে ও বাঁচতেও পারে আবার না বাঁচতে পারে আপনারা ওর অপারেশন করার অনুমতি দিন তাহলে ডক্টররা অপারেশন করতে পারবে আর আমি আবির আছি তো আমরা অভি কে ফিরিয়ে আনবো!
অনুমতি দেয়ার পর বন্ড পেপারস নিয়ে এলো বাবা কাঁপা হাতে সাইন করলো সবাই কাঁদছে শাশুড়ি আম্মু তো প্রায় অসুস্থ হয়ে পড়েছে রুপ স্থির হয়ে বসে আছে। চোখ দিয়ে পানি পড়ছে ওর আম্মুর কোলে শান্ত ঘুমিয়ে আছে। ৪ ঘন্টা পর আহান বেরিয়ে এলো সাথে ভাইয়া ও আছে। কিন্তু ওদের মুখ কালো হয়ে আছে। চোখ দিয়ে পানি পড়ছে ওদের এভাবে দেখে হাত পা ঠান্ডা হয়ে এলো সবাই ভয়ে ভয়ে আছে। আহান কান্না করে দিয়ে বললো,
~ আই এম সরি আন্টি আমরা পারলাম না অভি কে ফেরাতে!

আম্মু সাথে সাথে সেন্সলেস হয়ে গেলো। রুপ আগের মতোই আছে। যেন পাথর হয়ে গিয়েছে। শুভ ধপ করে বসে পড়লো। হসপিটাল যেন থমকে গিয়েছে। আমি নিজের কান কে বিশ্বাস করতে পারছি না একটুপর রুপ পাগলের মতো কান্না করতে লাগলো।
~ আল্লাহ এটা কি করলে তুমি? আমার অভি কে কেন আমি বুঝলাম না?

রুপে’র কান্নায় সবাই চলে এসেছে। হসপিটালের সবার চোখে পানি এসে গিয়েছে।
৩ মাস পর!
🎶ফেরাতে পারিনি আমি পারিনি তোমার হতে🎶
হ্যা রুপ গান গাইছে রুপে’র মুখে সবসময় এইটুুকু শোনা যায় আমি শান্ত কে কোলে নিয়ে দাড়িয়ে শুনছি আর চোখের পানি ফেলছি আল্লাহর কাছে মনে মনে প্রশ্ন করছি এটা হওয়া কি খুব দরকার ছিলো?

পর্ব ২৭

আমি দাড়িয়ে ভাবছি ৩ মাস আগের কথা
৩ মাস আগে!
আহানে’র কথা শুনে আম্মু সেন্সলেস হয়ে যায় শুভ উঠে গিয়ে আহানে’র কলার ধরে বলে
~ তুমি এসব কি বলছো? আমার ভাইয়া কোথায়? আমার ভাইয়ার কিছু হয়নি হতে পারেনা!

ভাইয়া এসে শুভ কে ছাড়িয়ে বলে
~ শুভ রিল্যাক্স জাস্ট কাম ডাউন আমাদের পুরো কথা আগে শোনো অভি ভাইয়া কে আমরা ফেরাতে পারিনি তারমানে এটা নয় যে অভি ভাইয়া বেঁচে নেই একচুয়েলি অভি ভাইয়ার কন্ডিশন খুব খারাপ ছিলো অপারেশন সাকসেসফুল হয়নি আর তাই অভি ভাইয়া কোমায় চলে গিয়েছে। কোমা থেকে কবে ফিরবে আমরা জানিনা!

আহান আর ভাইয়া মাথা নিচু করে ফেলে এরপর অভি ভাইয়া কে অনেক ডক্টর দেখানো হয় বাবা বিদেশে নিতে চেয়েছিলো কিন্তু ডক্টর তখন নিতে দেয়নি কারন ওই অবস্থায় নিলে লাইফ রিস্ক হতো রুপ আমাদের সাথেই থাকে কারো সাথে তেমন কথা বলেনা সারাদিন অভি ভাইয়ার রুমে থাকে অভি ভাইয়া কে বাড়িতে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছে। বাড়িতেই ট্রিটমেন্ট করা হয় অভি ভাইয়ার কিছু হলে রুপ বাঁচতো না শান্ত কে শুভ’র কাছে দিয়ে রুপে’র কাছে এলাম।
~ রুপ সারাদিন তো কিছু খাসনি প্লিজ চল কিছু খেয়ে নিবি!
~ না না আমি এখান থেকে কোথাও যাবোনা আমার অভি উঠে আমাকে না দেখলে অনেক রেগে যাবে আমি যাবোনা
পাগলের মতো করছে। আর বলছে,

~ রুপ তুই কি চাস অভি ভাইয়া কষ্ট পাক? অভি ভাইয়া কোমা থেকে ফিরে তোকে যদি এভাবে দেখে তাহলে কষ্ট পাবে এটা তুই কেন বুঝিস না?
রুপ আমাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিলো একটুপর আহান আর ভাইয়া এলো ওরা প্রতিদিন অভি ভাইয়া কে দেখে যায় রুপ কে কাঁদতে দেখে আহান বললো,
~ রুপ বি স্ট্রোং ওকে? তুমি এভাবে ভেঙে পড়লে চলবে না তোমাকে সুস্থ থাক।তে হবে প্লিজ ট্রাই টু আন্ডারস্ট্যান্ড!

আহান আর ভাইয়া রুপ কে বোঝালো রুপ চুপ করে বসে আছে। আমি খাবার এনে ওকে খাইয়ে দিলাম কোনোরকম একটু খেলো একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে চলে এলাম। শান্ত কান্না করছে। শুভ’র কাছ থেকে নিয়ে আগে ওকে খাইয়ে নিলাম।
~ রুপ খেয়েছে তিশা?

শান্ত কে খাইয়ে বিছানায় বসিয়ে দিলাম ৬ মাস চলছে। ওর ঠিকমত বসতে পারেনা তাই পাশ দিয়ে টেডিবিয়ার দিয়ে দিয়েছি এগুলো সব শুভ এনেছে নিজের ছেলের জন্য শান্ত কে বসিয়ে বললাম,
~ হ্যা খাইয়েছি তবে না খাওয়ার মতো!
~ কি থেকে কি হয়ে গেলো।?

এরমাঝে রুপে’র চিৎকার কানে এলো শুভ দৌড়ে বেরিয়ে গেলো। শান্ত কে কোলে নিয়ে আমিও চলে এলাম। আম্মু, বাবা, রুপ কান্না করছে। আহান আর ভাইয়া অভি ভাইয়া কে দেখছে। অভি ভাইয়া জোড়ে শ্বাস নিচ্ছে
~ ও মাই গড এটা কি করে হলো? এত মাস তো ঠিক ছিলো!
আহানে’র কথা শুনে শুভ বললো,
~ কেন কি হয়েছে।? আর ভাইয়া এমন করছে। কেন?

~ শুভ কথা বলার টাইম নেই অভি কে ইমিডিয়েটলি হসপিটালে নিতে হবে!
অভি ভাইয়া কে নিয়ে হসপিটালে চলে এলাম। ডক্টররা যা বললো, তা শুনে সবার অবস্থা খারাপ হয়ে গেলো। এখানে অভি ভাইয়ার ট্রিটমেন্ট করতে পারবে না। কারন কন্ডিশন খুব বেশী খারাপ এখানে থাকলে হয়তো কোনদিন কোমা থেকে ফিরবে না তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সিঙাপুর নিয়ে যেতে আম্মু আর রুপ পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে সবাই ভেঙে পড়েছে কিন্তু প্রকাশ করছে। না ঠিক হলো। সবাই সিঙাপুর যাবে আমি, শুভ, বাবা, আম্মু, ভাইয়া আর আহান

১০ দিন পর সিঙাপুর হসপিটালে আমরা অভি ভাইয়া আগের মতোই কোমায় আছে। ডক্টররা বলেছে সেন্স আসবে খুব তাড়াতাড়ি সবাই একটু হলেও শান্তি পেয়েছে সেন্স আসার অপেক্ষা এখন শুভ আমাকে হোটেলে নিয়ে এসেছে। শান্ত কে নিয়ে হসপিটালে থাকা ঠিক হবেনা শান্ত তো ছোট অনেক এসবে আমার ছেলেটা ভয় পেয়ে যাচ্ছে প্লেনে প্রচুর কান্না করছিলো হসপিটালেও কান্না করেছে হোটেলে এসেই নিরব হয়ে গিয়েছে। ও ভীর সহ্য করতে পারেনা!
রুপে’র বাবা, মা তো আসতে দিতে চায়নি ওকে কিন্তু রুপ জোড় করে এসেছে। কেউ আটকাতে পারেনি ওকে পারবে কি করে?

ভালবাসা তো এমনই কিন্তু এত কষ্ট যে ওদের পেতো হবে এটা কোনদিন ভাবিনি হাসি, খুশি প্রানজ্জল অভি ভাইয়া ছিলো অথচ ভাগ্যের পরিহাসে প্রায় ৪ মাস হতে চললো একভাবে পড়ে আছে। অক্সিজেন মুখে থাকে যার দিন রাত ২৪ ঘন্টা আল্লাহ জানে কবে সব ঠিক হবে কবে অভি ভাইয়া ঠিক হবে আর কবে সবার চোখের পানি রুপে’র বুকফাটা চিৎকার কান্না এসব কিছুর অবশান হবে মাঝে মাঝে ভাবি ভালবাসা এমন কেন? কেন এত কষ্ট ভালবাসায়? কেন কষ্টবিহীন ভালবাসা হয়না? আমিও তো কম কষ্ট পাইনি আমার শুভ কে তো সবাই মৃত ধরে নিয়েছিলো কিন্তুু আল্লাহর অশেষ রহমতে ওকে ফিরে পেয়েছি এখন আল্লাহ চাইলে রুপ ও আবার আগের মতো হাসবে সুখে থাকবে!

১ মাস পর ডক্টর পাঠিয়ে দিলো বাংলাদেশে কারন অভি ভাইয়ার সেন্স না এলেও কিছুটা রিকভার করেছে তাই বাড়িতে আগের মতো ট্রিটমেন্ট চলছে। ড্রয়িংরুমে বসে আছি শান্ত ফ্লোর বসে খেলছে আমি ওর সামনে সোফায় বসে আছি তার অপজিটে শুভ আর আম্মু বাবা ও পাশেই বসা এমন সময় রুপ সবাই কে ডাক দিলো আমরা তাড়াতাড়ি উপরে গেলাম উপরে গিয়ে আমরা অবাক মনে মনে আল্লাহ কে শুকরিয়া জানালাম অভি ভাইয়া চোখ খুলেছে সেন্স এসেছে। অভি ভাইয়া নিজেই উঠে বসলো আহান আর ভাইয়া ও চলে এসেছে। সবার চোখ মুখ খুশিতে উজ্জল হয়ে গিয়েছে। রুপ অভি ভাইয়া কে জড়িয়ে ধরলো অভি ভাইয়া ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে। একটুপর রুপ কে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিলো রুপ অসহায় ভাবে তাকিয়ে আছে।

~ কে আপনি? আমাকে জড়িয়ে ধরলেন কেন?
অভি ভাইয়ার কথা শুনে সবাই চাওয়াচাওয়ি করছে। আম্মু অভি ভাইয়া কে ধরে বললো,
~ অভি এসব কি বলছিস?

~ অভি? কে অভি? আপনারা কারা?
~ অভি আমি তোর মাম্মা
~ কে মাম্মা? আমি আপনাদের কাউকে চিনিনা!
বলে অভি ভাইয়া মাথা চেপে ধরলো এবার সবার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো।

পর্ব ২৮

অভি ভাইয়ার কথা শুনে সবার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়লো। বাবা এগিয়ে গিয়ে বললো,
~ অভি বাবা এসব কি বলছিস? আমাদের চিনতে পারছিস না? আমাকে চিনতে পারছিস? আমি তোর পাপা
~ কে পাপা? আপনারা কারা? এটা কোথায়? আমার কিছু মনে পড়ছে না কেন?

রুপ আবার গিয়ে অভি ভাইয়া কে জড়িয়ে বললো,
~ অভি প্লিজ এমন বলো না তুমি মজা করছো তাই না? নয়তো আমাকে শাস্তি দিতে চাইছো সবাই কে শাস্তি দিতে চাইছো আমরা আগে তোমাকে বুঝিনি তাই ঠিক না?

অভি ভাইয়া ধাক্কা মেরে রুপ কে নিচে ফেলে দিলো রুপ ছলছল চোখে তাকালো।
~ আমি বললাম, না? আমি আপনাদের কাউকে চিনিনা তবুও আপনি আমাকে জড়িয়ে ধরলেন কেন?

অভি ভাইয়া বিছানা থেকে নেমে এলো
~ আমি এখানে থাকবো না এখানকার সবাই পাগল!
বলে অভি ভাইয়া হাটা ধরলো আহান পিছন থেকে ইনজেকশন দিয়ে দিলো অভি ভাইয়া সাথে সাথে লুটিয়ে পড়লো। আহান আর ভাইয়া মিলে শুইয়ে দিলো রুপ রেগে আহান কে বললো,
~ এটা কি করলেন আপনি? অভি কে কি করলেন?

~ রুপ রিল্যাক্স এটা ছাড়া উপায় ছিলো না!
আহানে’র কথা শুনে শুভ বললো,
~ ভাইয়া এমন করছে। কেন আহান?

ভাইয়া একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বললো,
~ কারন অভি ভাইয়া সব ভুলে গিয়েছে। অভি ভাইয়া’র মেমোরি লস হয়েছে। ব্রেইন অপারেশনে অভি ভাইয়া কোমা থেকে ফিরলেও সব ভুলে গিয়েছে। এমনকি নিজেকেও আর তাই বলছে। কে অভি?

সবাই বাকরুদ্ধ হয়ে গেলো। রুপ কিছু বলছে। না কি বলবে ও? কি বলার আছে। ওর? এই মেয়েটা আর কত কষ্ট পাবে? রুপ কাঁপা গলায় বললো,
~ অভি কবে ঠিক হবে? কবে সবাই কে চিনবে? কবে আমাকে চিনবে ওর রুপ কে? কবে আমি আমার অভি কে পাবো? কবেএএএএএএ!
রুপ হাউ মাউ করে কাঁদতে লাগলো। আমি শান্ত কে শুভ’র কাছে দিয়ে রুপ কে জড়িয়ে ধরে শান্তনা দিতেছি যদি ও জানি এতে ওর কষ্ট কমবে না মন খুলে কাঁদুক ও মন হাল্কা হবে

ড্রয়িংরুমে বসে আছি ৫ ঘন্টা হলো। আহান আর ভাইয়ার সাথে কথা বলছি!
~ আন্টি এটা ওর ব্রেইন অপারেশনের জন্য হয়েছে। ওর ব্রেইন এই প্রেশার নিতে পারেনি তাই কোমায় চলে গিয়েছে। আর রিপোর্ট দেখে যেটা বুঝলাম অভি’র ব্রেইনের নার্ভ ছিড়ে গিয়েছে। যার জন্য ওর মেমোরি লস হয়েছে। আমি অন্য কিছুর ভয় পাচ্ছি
ভাইয়ার কথায় সবাই ভিতু দৃষ্টিতে তাকালো। আহান এবার বলে উঠলো!
~ একচুয়েলি আন্টি অভি নিজেকে চিনতে পারছে না সবাই কে না চিনলে হয়তো এই ভয় পেতাম না বাট ও নিজেকেও চিনতে পারছে না ওর পা পাগল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

কথাটা বলে আহান চোখ বন্ধ করে ফেললো রুপ পাগলের মতো হাসতে শুরু করলো আমরা অবাক দৃষ্টিতে রুপ কে দেখছি হাসার মাঝেই রুপ কেঁদে কেঁদে বললো,
~ দেখলে তো তোমরা? আমার সুখ আল্লাহ আমাকে সুখী দেখতে চায়নাতাই তো অভি কে আমার জীবনে একবার দিয়ে ব্রেইন ক্যান্সার দিয়ে কেড়ে নিতে চাইলো যখন আমার অভি ফিরে এলো তখন তো ও আমাকেই চিনতে পারছে না কেন এমন হচ্ছে আমার সাথে? আমি কি পাপ করেছি? শুধু ভালবেসেছি অভি কে
রুপে’র বুকফাটা চিৎকার দেখে সবাই কাঁদছে এরমাঝে অভি ভাইয়া নেমে এলো অভি ভাইয়া কে দেখে অবাক হলাম। একটা ব্লাক টি শার্ট পড়েছে তার উপরে সাদা জ্যাকেট সাদা জিন্স প্যান্ট প্যান্টের একপাশে বড় লম্বা মোটা চেন ঝোলানো এটা ডিজাইন চোখে কালো সাইনগ্লাস হাতে ব্যান্ডের ঘড়ি চুলগুলো জেইল দিয়ে সেট করা হাতে গাড়ির চাবি ঘোরাতে ঘোরাতে সিরি দিয়ে নামছে আমরা সবাই খুশি হয়ে গেলাম রুপ দৌড়ে গিয়ে বললো,
~ অভি তোমার মনে পড়েছে সব?

অভি ভাইয়া বিরক্তি নিয়ে বললো,
~ আমি জানিনা আমি কে? বাট ওনারা তো বললো, ওনারা আমার মাম্মা, পাপা আর ওই রুমে দেখলাম দেয়ালে আমার ছবি আর তাতে লেখা অভি চৌধুরী তাই বুঝলাম যে আমি অভি চৌধুরী কিন্তু আমার কিছু মনে নেই আর এই বাড়িটা বেশ সুন্দর তাই আমি এখান থেকে যাবোনা!

আম্মু বসা থেকে উঠে অভি ভাইয়ার হাত ধরে বললো,
~ তোর কিছু মনে করতে হবেনা বাবা তুই এখানে থাকলেই আমি খুশি!
অভি ভাইয়া হাত সরিয়ে বলে উঠলো
~ ওকে থাকবো বাট আমাকে বলুন তো আমার হাতের চাবির গাড়ি কোনটা? আপনারা তো বিশাল বড়লোক বাইরে কয়েকটা গাড়ি তাই বলছিলাম।
শুভ বলে দিলো অভি ভাইয়া গাড়ি স্টার্ট দিয়ে বেরিয়ে গেলো। শুভ আহান কে বললো,
~ আহান এটা কি হলো?

~ আই থিংক ওর নাম মনে পড়েছে বাট ওকে কখনো প্রেশার দিয়ে কিছু মনে করাতে যেয়ো না তাহলে ও ১০০% সিওর পাগল হয়ে যাবে!
আহানে’র কথায় সবাই ভয় পেয়ে গেলো। রুপ ভিতু কন্ঠে বললো,
~ না না কেউ প্রেশার দেবে। না প্লিজ কেউ প্রেশার দেবে।ন না!
আম্মু গিয়ে রুপ কে ধরলো রুপ আম্মু কে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে ভাইয়া আর আহান আজ থেকে গিয়েছে। অভি ভাইয়া কখন কি করে বসে তাই আম্মু ওদের রেখে দিয়েছে। শান্ত ঘুমিয়ে পড়েছে তাই ওকে নিয়ে আমি আমাদের রুমে যাচ্ছিলাম।

~ আহানিতা প্লিজ ট্রাই টু আন্ডারস্ট্যান্ড আই রিয়েলি লাভ ইউ প্লিজ আহানিতা ইউ কান্ট ডু দিস টু মি হোয়াই ডোন্ট ইউ আন্ডারস্ট্যান্ড? ইউআর মাই লাভ ইয়েস #তুমি~ আমার~ ভালবাসা আমি ভালবাসি তোমাকে সেটাও অনেক আগে থেকে আর এটা তো তুমি জানতে তাইনা? তাহলে তুমি কি করে এটা করতে পারো? আই কান্ট লিভ উইথআউট ইউ!
ভাইয়ার কথা শুনে বুঝলাম ভাইয়া আহানিতা আপুর সাথে কথা বলছে। আর ও সত্যিই আহানিতা আপু কে ভালবাসে কিন্তু এটা মাথায় আসছে না ভাইয়া এসব কেন বললো,? ফোন কেটে ভাইয়া ধপ করে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লো।

~ কিছুতো একটা হয়েছে। কিন্তু কি?
মনে মনে ভাবতে লাগলাম এরপর রুমে চলে এলাম। শান্ত কে শুইয়ে দিয়ে ভাবছি আর কি কি সহ্য করবে সবাই? শুভ রুমে এসে আমাকে এমন মনমরা দেখে আমার পাশে বসে আমার হাত ধরে বললো,
~ তুমি না স্ট্রোং লেডি? তাহলে এভাবে মনমরা হয়ে আছো কেন?
~ আমার খুব খারাপ লাগছে শুভ

বলতে বলতে চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়লো। শুভ সেটা মুছে দিয়ে জড়িয়ে ধরে বললো,
~ আমার মিষ্টিপাখি এমন হতে পারেনা তুমি না বলো? পরিস্থিতি ফেস করা শিখতে এবং সেটা হ্যান্ডেল করতে ডোন্ট ওয়ারি সোনা সব ঠিক হয়ে যাবে
রাতে সবাই বসে আছি ১১ টা বাজে অভি ভাইয়া ফেরেনি এরমাঝে দরজায় কলিং বেল বাজালো কেউ রুপ দৌড়ে গিয়ে খুলে দিলো অভি ভাইয়া ঢুলতে ঢুলতে ভেতরে ঢুকলো আর মাতাল কন্ঠে গান গাইছে!

🎶আমায় ভন্ড ভেবে পন্ড করে দিয়োনা এই ভালবাসা🎶
🎶আগের মতো চলতে দাও তোমার কাছে যাওয়া আসা🎶

🎶ভন্ড হলাম। প্রেমের কারনে🎶
🎶মন মানেনা নিষেধ বারনে🎶
[বাকিটা নিজ দায়িত্বে শুনবেন🙄]
অভি ভাইয়া আবার সেই ড্রিংক করেছে? বাবা এগিয়ে গিয়ে বললো,
~ অভি তুই আবার ড্রিংক করেছিস?

~ আরে মিস্টার চৌধুরী ওপস সরি পাপা আমি তো তোমার ছেলে তাইনা? তুমি তো এত বড়লোক তোমার ছেলে হয়ে এটা করা কোনো ব্যাপার নাকি? বড়লোকের ছেলে আমি ড্রিংক করতেই পারি

অভি ভাইয়ার কথা শুনে শুভ বললো,
~ বাট ভাইয়া এটা ঠিক না
শুভ কে খুটিয়ে দেখতে দেখতে অভি ভাইয়া বিরক্তি নিয়ে বললো,
~ কে কার ভাইয়া? তুমি কে?
আম্মু এগিয়ে এসে বললো,
~ ও তোর ছোট ভাই শুভ চৌধুরী!

~ শুভ হোক আর যে হোক আই রিয়েলি ডোন্ট কেয়ার
অভি ভাইয়া রুমে চলে গেলো। এরমাঝে কেটে গিয়েছে। ১ মাস আমরা সবাই বাইরে এসেছি শান্ত কে মুখে ভাত দিয়েছি তাই সবাই এসেছি রুপ ও আছে। হঠাৎ অভি ভাইয়া কে একটা মেয়ে এসে জড়িয়ে ধরে বললো,
~ ওহ অভি বেবী কেমন আছো তুমি? ইউ নো আই মিস ইউ এন্ড আই লাভ ইউ
~ আই লাভ ইউ টু বেবী!

অভি ভাইয়ার মুখে মেয়েটা কে আই লাভ ইউ টু বলতে শুনে ছুটে মেয়েটা কে ছাড়িয়ে থাপ্পর মারতে গেলো। তার আগে অভি ভাইয়া রুপে’র হাত ধরে বললো,
~ হাউ ডেয়ার ইউ? তোমার সাহস কি করে হয়? আমার জিএফ কে মারতে চাওয়ার?
~ অভি আমি তোমার উডবি!
ছলছল চোখে বললো, রুপ

~ জাস্ট সাট আপ চিনিনা জানিনা নিজেকে আমার উডবি বলতে লজ্জা করছে। না? একে কে এনেছে আমাদের সাথে? এন্ড ইউ জাস্ট গেট আউট!
রুপ কাঁদতে কাঁদতে দৌড়ে বেরিয়ে গেলো। আমার মেজাজ গরম হয়ে গেলো। রেগে গিয়ে বললাম,
~ এটা কি করলে অভি ভাইয়া? তোমার কি কিছু মনে নেই? এই রুপ কে না তুমি ভালবাসো? নিজের ভালবাসা কে কি করে ভুলে গেলে?
অভি ভাইয়া ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে দাড়িয়ে আছে। এদিকে একটু সামনে তাকাতে আমার চোখ ঝাপসা হয়ে এলো রুপ রাস্তার মাঝ দিয়ে হাটছে আর কিছুটা দুরে একটা ট্রাক!

~ ও মাই গড রুপ প্লিজ সরে যা
আমার বলা রুপে’র কানে গেলো। কি না জানিনা রুপ একভাবেই হেটে যাচ্ছে অভি ভাইয়া আমার কথা শুনে সামনে তাকালো। তাকিয়ে রুপ বলে চিৎকার করে সামনে দৌড় দিয়ে গেলো। আর সবাই রুপ বলে চেচিয়ে উঠলো!

পর্ব ২৯

অভি ভাইয়া রুপ বলে চেচিয়ে দৌড়ে গেলো। এই মুহূর্তে চরম অবাক হয়ে দাড়িয়ে আছি আমি অভি ভাইয়া না সব ভুলে গিয়েছে।? তাহলে রুপ বলে চেচিয়ে কেন গেলো।? এই প্রশ্নটা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে চেচানো শুনে সামনে তাকালাম তাকিয়ে থমকে গেলাম রাস্তার মাঝে ভীর জমে গিয়েছে। অভি ভাইয়া বা রুপ কাউকেই দেখা যাচ্ছেনা আমরা সবাই ভীর ঠেলে ভীতরে গেলাম ভীতরে গিয়ে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো। অভি ভাইয়ার কোলে রুপের মাথা রুপে’র শরীর পুরো রক্তাক্ত অভি ভাইয়ার মাথা থেকে রক্ত পড়ছে অনবরত শুভ গিয়ে অভি ভাইয়া কে ধরলো!
~ রুপ প্লিজ কথা বলো আমি আর তোমাকে কষ্ট দেবোনা রুপ দেখো আমি আর এমন করবো। না আই এম সরি প্লিজ লুক এট মি এব্রিথিং ইজ ফাইন প্লিজ ওপেন ইউআর আইস রুপপপপপপপ

অভি ভাইয়া পাগলের মতো কান্না করছে। অভি ভাইয়ার নিজের যে মাথা থেকে রক্ত পড়ছে সেদিকে কোনো খেয়াল নেই রুপ কে বুকে জড়িয়ে কাঁদছে অভি ভাইয়া কে বুঝিয়ে রুপ কে নিয়ে হসপিটালে চলে এলাম। রুপে’র নিথর দেহটা দেখে বুকটা ফেটে যাচ্ছে ডক্টর রুপ কে ওটি তে নিয়ে গেলো। এদিকে অভি ভাইয়া রুপ বলে কান্না করছে। ডক্টর অভি ভাইয়া কে ও নিতে চেয়েছিলো কিন্তু অভি ভাইয়া যায়নি একটু পর অভি ভাইয়া ও সেন্সলেস হয়ে যায় ডক্টর এসে অভি ভাইয়া কে নিয়ে গিয়েছে। সবার অবস্থা খারাপ রুপে’র বাবা, মা চলে এসেছে। সবাই কান্নাকাটি করে অবস্থা খারাপ করে ফেলেছে ২ ঘন্টা হয়ে গিয়েছে। ডক্টর আসেনি প্রায় ৩ ঘন্টা পর ডক্টর এলো!
~ ডক্টর ওরা কেমন আছে।?

শুভ’র প্রশ্নে ডক্টর মুখটা কালো করে বললো,
~ দেখুন মিস্টার অভি ঠিক আছে। কিন্তু আমরা ওনাকে ঘুমের ইনজেকশন দিয়েছি কারন উনি পাগলামি করছিলো!
আমি অবাক হয়ে বললাম,
~ পাগলামি করছিলো মানে?

~ মেয়েটার অবস্থা বেশী ভাল না শরীর থেকে অনেক ব্লাড বেরিয়ে গিয়েছে। ওনাকে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছে। আর মিস্টার অভি সেন্স আসার পর বারবার রুপ বলে চেঁচামেচি করছিলো মেবি ওই মেয়েটার নাম তাই ওনাকে ঘুমের ইনজেকশন দিয়েছি!
মেয়েটার অবস্থা খারাপ শুনে রুপে’র মা হাউ মাউ করে কান্না করতে লাগলো। আমি কোনোরকম ভাবে বললাম,
~ ডক্টর রুপ ঠিক হয়ে যাবে তো?

~ আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি বাকীটা আল্লাহর হাতে!
বলে ডক্টর চলে গেলো। একমাএ আল্লাহ পারে সব ঠিক করতে তাই মনে প্রানে আল্লাহ কে ডাকছি এভাবে অনেকক্ষণ কেটে গিয়েছে। এরমাঝে অভি ভাইয়া বেরিয়ে এলো আই সি ইউ তে ঢুকতে চাইছে কিন্তু ডক্টররা ঢুকতে দিচ্ছে না অভি ভাইয়া কাঁদতে কাঁদতে মেঝেতে বসে পড়লো।
~ এটা কি করলাম আমি? কেন আজকে ওমন করলাম? আমি তো বুঝতে পারিনি রুপ ওটাকে সিরিয়াসলি নেবে কেন আমি আগেই বলে দিলাম না? যে আমার সব মনে পড়ে গিয়েছে। রুপে’র কিছু হলে আমি কি করবো? কি নিয়ে বাঁচবো আমি? আর কত হারাবো আমি? আর কতো? আল্লাহ আমার রুপ কে ঠিক করে দাও আমি আর কিছু চাইনা প্লিজ!

অভি ভাইয়ার কথা শুনে থ হয়ে গিয়েছি মানে অভি ভাইয়ার আগেই সব মনে পড়েছে? শুভ অভি ভাইয়ার কাধে হাত রেখে বললো,
~ ভাইয়া এসব কি বলছিস?
~ আমার আগেই সব মনে পড়েছে তবে সেটা মাএ ৮দিন আগে আমি জানতাম আজ শান্ত’র মুখে ভাত তাই ভেবেছিলাম। রুপ কে আজ সব বলবো আমি যে কেন এভাবে ওকে বললাম,? নাহলে ও এমন করতো না

অভি ভাইয়ার কথায় রাগ লাগছে এবার!
~ আগেই বলেছিলাম। এটা করা ঠিক হবেনা
মেয়েলী কন্ঠে পিছনে তাকালাম তাকিয়ে দেখলাম সেই মেয়েটা মেয়েটা কে দেখে রাগ লাগছে তাই তেড়ে গেলাম!
~ তুমি এখানে কি করছো?

~ রিল্যাক্স তিশা আমি শুধু এটা বলতে এসেছি যে আমি অভি’র জিএফ না আমিও একজন পুলিশ অফিসার একচুয়েলি অভি আমাকে তখন ওভাবে ওখানে এন্ট্রি নিতে বলেছিলো ও চেয়েছিলো মজা করে রুপ কে সবটা বলতে কিন্তু এমন হবে কেউ ভাবিনি আমরা আমি অভি কে বারনও করেছিলাম। বাট ও তো শুনলো না
রাগে গা পিত্তি জ্বলে যাচ্ছে এই মজার জন্য আজ রুপ মরতে বসেছে অভি ভাইয়ার সামনে গিয়ে বললাম,
~ হয়েছে। শান্তি পেয়েছো? কি দরকার ছিলো সারপ্রাইজ দিতে চাওয়ার? সারপ্রাইজ দিতে কিন্তু এমন কেন করলে?

অভি ভাইয়া মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে। অনেকক্ষণ হসপিটালে থাকায় শান্ত এবার কান্নাকাটি করছে। শুভ আমাকে নিয়ে বাড়ি চলে এলো শান্ত কে খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিলাম!
পরেরদিন আবার হসপিটালে এলাম। রুপে’র সেন্স এসেছে। ওকে কেবিনে দিয়েছে। কেবিনে গিয়ে দেখলাম সবাই আছে। মাএই সেন্স এসেছে। রুপে’র অভি ভাইয়া এক সাইডে দাড়িয়ে আছে।
~ অভি তুমি ঠিক আছো?

রুপে’র এমন প্রশ্নে অভি ভাইয়া নিজেকে সামলাতে পারলো না দৌড়ে গিয়ে সবার সামনে রুপ কে জড়িয়ে ধরলো আর কাঁদতে কাঁদতে বললো,

~ আই এম সরি রুপ আমার এমন করা ঠিক হয়নি আই এম রিয়েলি ভেরী সরি প্লিজ ফরগিভ মি আই লাভ ইউ
রুপ অবাক হয়ে বলে উঠলো!
~ অভি তুমি আমাকে চিনতে পারছো?

~ তোর অভি তোকে আগেই চিনতে পেরেছে ও তো ইচ্ছে করে তোকে কষ্ট দিয়েছে।
রুপে’র মা রেগে বললো, রুপ না বুঝতে পেরে বললো,
~ মা তুমি এসব কি বলছো?

এরপর আন্টি রুপ কে সব বললো, সব শুনে রুপ থমকে গেলো। অভি ভাইয়া রুপে’র হাত ধরে বললো,
~ রুপ প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দাও আমি আর কখনো এমন করবো। না!
~ আমাকে একটু একা থাক।তে দাও আই এম সো টায়ার্ড
অভি ভাইয়া এমন কথা শুনে ভয়ে ভয়ে বললো,
~ রুপ প্লিজ আমি থাকি?

~ আই সেইড লিভ মি এলোন
চেচিয়ে বললো, রুপ বুঝলাম রুপ অনেক কষ্ট পেয়েছে পাবারই কথা অভি ভাইয়া এটা ঠিক করেনি রুপ কে আগেই বলে দেয়া উচিত ছিলো আর সারপ্রাইজ যদি দেয়ার ছিলো তাহলে এটা না করলেই পারতো ২দিন পর রুপ কে বাড়ি নিয়ে গেলো। ২দিনে অভি ভাইয়া অনেকবার রুপে’র সাথে কথা বলতে চেয়েছে কিন্তু রুপ একবারও বলেনি কেটে গিয়েছে। ২০ দিন রুপ এখনো অভি ভাইয়ার সাথে কথা বলেনি আমি শান্ত কে খাওয়াচ্ছিলাম। এরমাঝে রুপ এলো আমাদের বাড়ি রুপ কে দেখে অভি ভাইয়া টেনে নিয়ে গেলো। রুমে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলো রুপ রেগে গিয়ে বললো,
~ এটা কোন ধরনের অসভ্যতামি?

অভি ভাইয়া দাতে দাত চেপে বললো,
~ অসভ্যতামি এখনো শুরু করিনি আমি কেন আমাকে দুরে সরিয়ে রেখেছো? আমি বলেছি তো আমাকে ক্ষমা করে দাও কতবার কতভাবে ক্ষমা চেয়েছি কিন্তুু তুমি অলওয়েজ আমাকে ইগনোর করছো রুপ আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি প্লিজ একটু বোঝো আমাকে আর দুরে সরিয়ে রেখোনা!

বলতে বলতে অভি ভাইয়া কেঁদে দিলো রুপ দরজা খুলে বেরিয়ে আসতে গেলো।
~ আমি কারো ভালবাসার যোগ্যনা তাইনা? তাইতে যাকে ভালবাসি সেই আমাকে দুরে সরিয়ে দেয় তাকে নিজের করে রাখতে পারিনা দেখোনা তোমাকেও কষ্ট দিয়ে ফেললাম। ওকে ফাইন তুমি নিজের মতো থাকো যদি কোনদিন আমাকে ক্ষমা করতে পারো তাহলে সেদিন আমাকে বলো আমি ছুটে চলে আসবো। তবে তার আগে যেন আমি মরে না যাই!

অভি ভাইয়ার এমন কথায় রুপ থমকে গেলো। দৌড়ে গিয়ে অভি ভাইয়া কে জড়িয়ে ধরলো অভি ভাইয়ার বুকে মুখ লুকিয়ে বললো,
~ এমন কথা আর বলবে না তুমি তোমার কিছু হবেনা অভি আই লাভ ইউ!

~ আই লাভ ইউ টু রুপ
এসেছিলাম। অভি ভাইয়ার রাগ দেখে দুই ভাইয়ের যে রাগ কি না কি করে তাই এসে দেখলাম ওদের মধ্যে সব ঠিক হয়ে গিয়েছে। মনে মনে ভাবছি অভি ভাইয়া এটা কেন বললো,? যাকে ভালবাসি সেই দুরে সরে যা আজকে ওই বাড়ি যাবো বিকেলে শুভ কে নিয়ে চলে এলাম। সবার সাথে কথা বলছি বাট ভাইয়া কে দেখতে পেলাম। না আগে তো আমাদের আসার কথা শুনলে এই ড্রয়িংরুমেই থাক।তো তাহলে আজ? আম্মুর কাছ থেকে জানলাম রুমে আছে। আর আহানিতা আপুও আছে। তাই রুমের কাছে এলাম।

~ আহানিতা প্লিজ এমন করো না আমি বাঁচবো না তোমাকে ছাড়া ইউ কান্ট ডু দিস টু মি
~ জাস্ট সাট আপ আবির আমি তোমাকে আমার ফ্রেন্ড ভাবি আমি আয়াশ কে ভালবাসি!
বলে আহানিতা আপু বেরিয়ে গেলো। আর ভাইয়া ধপ লরে ফ্লোরে বসে পড়লো। আহানিতা আপু অন্য কাউকে ভালবাসে এটা ভাবতেই কেমন একটা লাগছে আর ভাইয়া তো বললো, ওকে ছাড়া বাঁচবে না তাহলে ভাইয়া কি করবে এখন? কে এই আয়াশ?

পর্ব ৩০

গুটি গুটি পায়ে ভাইয়ার রুমে এলাম। ভাইয়া ফ্লোরে বসে আছে। চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে নোনা জল ভাইয়ার কাধে হাত রাখতেই ভাইয়া আমাকে জড়িয়ে ধরে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতে লাগলো।
~ আমি ওকে অনেক ভালবাসি তিশা ওকে ছাড়া বাঁচবো না ও আগে কেন বললো, না? যে ওর লাইফে অন্য কেউ আছে। তাহলে তো আমি ওর রাস্তায় কখনোই নিজের পা বাড়াতাম না যখন পা বাড়িয়ে দিয়েছি তখন জানতে পারলাম এই রাস্তায় আমার জায়গা নেই কারন সেখানে অন্যকেউ পৌছে গিয়েছে। আর সে পৌছানোর পর রাস্তাটা কাটা দিয়ে ভরপুর হয়ে গিয়েছে।
বলে ভাইয়া আবারও কাঁদছে আর আমি ভাবছি এখন কি করবো?

~ ভাইয়া তুই আহানিতা আপু কে ভালবাসিস কিন্তু আহানিতা আপু তো বাসেনা ও অন্যকাউকে ভালবাসে তাহলে তুই কেন পারবি না ওকে ভুলতে? তুই বললি তুই ওকে ছাড়া বাঁচবি না তুই কি জানিস। না? ভালবাসা মরতে নয় বাঁচতে শেখায় শুধুমাএ ভালবেসে এই পৃথিবীতে এরকম হাজারও মানুষ বেঁচে আছে। তারা তো চাইলে মরতে পারতো ভালবাসার আরেক নাম সেক্রিফাইস তুই আমাদের কথা ভাববি না?

আমার কথায় ভাইয়া কান্না বন্ধ করে দিলো এরপর আমার মুখের দিকে তাকিয়ে নিজের চোখের পানি মুছে নিয়ে মুচকি হেসে বলে উঠলো!
~ তোদের আগে আমার কাছে কিছু নেই একচুয়েলি আই এম বিগ ফুল তাই ক্ষণিকের জন্য সেলফিস হয়ে গিয়েছিলাম। যাইহোক চল নিচে যাই
ভাইয়া আগে হাটছে আর আমি পিছনে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি ভাইয়া এত ইজিলি সব মেনে নিলো? আমার কথাগুলো এত এফেক্ট করলো? এসব ভাবতে ভাবতে নিচে নেমে এলাম। ভাইয়া শান্ত কে নিয়ে খেলছে শান্ত এখন বসতে পারে ফ্লোরে বসিয়ে দিয়েছে। চারপাশে খেলনা দিয়ে ভরপুর এগুলো বাবা, ভাইয়া কিনে রেখেছে যাতে শান্ত এলে খেলতে পারে!

রাতে আড্ডা দিচ্ছি ছাদে আমি, শুভ আর ভাইয়া শান্ত ঘুমিয়ে পড়েছে হঠাৎ শুভ ভাইয়া কে বললো,
~ ভাইয়া কাউকে ভালবাসো না?
শুভ’র এমন প্রশ্নে ভাইয়ার হাসি মুখ এক নিমিষে কালো হয়ে গেলো। তবুও ভাইয়া আবার মুখে হাসি ফুটিয়ে বললো,
~ হুম বাসি তবে পরিবার কে

বলে ভাইয়া নিচে নেমে গেলো। শুভ ভ্যাবলাকান্ত হয়ে তাকিয়ে আছে। তাই শুভ কে সবটা বললাম,
~ ওহ শিট ভাইয়া তো তাহলে হার্ট হলো।
শুভ মুখটা পেচার মতো করে বললো, আমি একপাশে গিয়ে দাড়ালাম শুভ আমাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলো ঘাড়ে চুমু দিয়ে বললো,
~ তুমি কি রাগ করেছো?

অবাক হয়ে বলে উঠলাম
~ এমা রাগ করবো। কেন?
~ ভাইয়া আমার জন্য হার্ট হলো। তাই!
~ না শুভ তুমি তো জানতে না

শুভ’র দিকে ঘুরে গলা জড়িয়ে ধরে বললাম, আরো কিছুক্ষণ থেকে রুমে চলে এলাম। এরপর পাড়ি জমালাম ঘুমের দেশে!
দাত দিয়ে নখ কাটছি আর ভাবছি কি হতে চলেছে? আসলে বাড়ি চলে এসেছি গতকাল আর আজ রুপ’দের বাড়ি এসেছি ওদের বিয়ের কথা বলতে রুপে’র বাবা বেঁকে বসে আছে। একপাশে গাল ফুলিয়ে দাড়িয়ে আছে। রুপ তার অপজিটে অভি ভাইয়া বেচারা তো রীতিমত ঘামছে আঙ্কেল কে অনেক বোঝানো হচ্ছে এত বেশী বোঝানো হচ্ছে যে আমার এবার মনে হচ্ছে আঙ্কেল কে বুঝিয়ে এরা শহীদ করে ফেলবে

~ আমি সবাই কে একটা কথা বলছি আর এটাই আমার ফাইনাল ডিসিশন!
গম্ভীর মুখে বললো, আঙ্কেল এদিকে এত গম্ভীর ভাবে বলায় সবাই আঙ্কেলের দৃষ্টি আকর্ষন করলো আর আমি নক কাটা বাড়িয়ে দিয়েছি অভি ভাইয়া এবার বেশী করে ঘামছে শুভ আমার মুখের দিকে তাকাচ্ছে আঙ্কেল গম্ভীর ভাবে বললো,
~ আমি রুপে’র বিয়ে দেবো তবে সেটা!
অভি ভাইয়া লাফ দিয়ে দাড়িয়ে বললো,

~ প্লিজ শ্বশুর বাবা আমি আপনার জামাই আই মিন মেয়ের জামাই হতে চাই এমনি তে আমি তো রুপে’র উডবি আর আপনি আমার সামনে বসে আমার বউ আই মিন হবু বউ কে আরেক জায়গায় বিয়ে দেওয়ার কথা বলছে।ন? দিস ইজ নট ফেয়ার রাইট?
আঙ্কেল ভ্রু কুঁচকে বললো,
~ আমি রুপ কে কখন অন্য জায়গায় বিয়ে দেওয়ার কথা বললাম,? আমি তো তোমার কথাই বলতে চাইলাম

অভি ভাইয়া আমতা আমতা করে বললো,
~ একচুয়েলি ভয় পেয়ে ভুল হয়ে গিয়েছে।
আমরা সবাই হেসে দিলাম অভি ভাইয়া মাথা চুলকে বসে পড়লো। অতঃপর ওদের বিয়ে ঠিক হলো। আজ ৪ তারিখ ১০ তারিখে বিয়ে বিয়েতে খুব বেশী দেরী নেই তাই সবাই আগামীকাল শপিং করে ফেলবো!

পরেরদিন আমরা শপিং করতে এসেছি শান্ত কে বাড়ি রেখে এসেছি আমি আসতাম না রুপ জোড় করলো তাই রুপে’র জন্য লাল লেহেঙ্গা কিনেছে অভি ভাইয়া লালের মাঝে গোল্ডেন স্টোন বসানো আর গায়ে হলুদের জন্য হলুদ লেহেঙ্গা আরো অন্য অন্য ড্রেস শাড়ী আমি নিজের জন্য কালো শাড়ী নিয়েছি শুভ কালো পান্জাবী অভি ভাইয়ার জন্য লাল পান্জাবী আর হলুদে পড়ার জন্যও সবাই ড্রেস নিয়েছি!

আজ রুপে’র গায়ে হলুদ কমিউনিটি সেন্টারে মানুষ দিয়ে ভরপুর রুপ কে পার্লারের মেয়েরা সাজাচ্ছে কাচা ফুলের গয়না ঠোটে লাল লিপস্টিক চোখে কাজল একদম পুতুল পুতুল লাগছে আমি হলুদ একটা শাড়ি পড়েছি কানে কাচা ফুলের ঝুমকো ঠোটে লাল লিপস্টিক চোখে কাজল লম্বা বেনীতে ফুল গুজে দিয়েছি রুপ কে নিয়ে স্টেজে এলাম। অভি ভাইয়া আর শুভ হলুদ পান্জাবী পড়েছে দুজনের একই সাজ আর বাকীরা সবুজ পান্জাবী আর মেয়েরা পড়েছে সবুজ শাড়ী গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গিয়েছে। রুপ কে অভি ভাইয়ার পাশে বসানো হয়েছে। সবাই হলুদ লাগাচ্ছে হলুদ শেষে রুপ কে ওর রুমে নিয়ে এলাম।

রুপ কে সাজানো শেষ লাল শাড়ীতে বউ বউ লাগছে অবশ্য রুপ তো বউই অভি ভাইয়ার বউ লাল শাড়ি গা ভর্তি গয়না একটুপর রুপ কে স্টেজে নিতে বললো, তাই ওকে নিয়ে স্টেজে বসিয়ে দিলাম প্রেস মিডিয়া ও উপস্থিত আছে। কাজী বিয়ে পড়ানো শুরু করলো অভি ভাইয়া গড়গড় করে কবুল বলে দিলো এরপর রুপ কে বলতে বললো, রুপ ও কবুল বলে দিলো এবার এলো বিদায়ের পালা রুপ হাউ মাউ করে কাঁদছে আমি জানি এই মুহূর্ত কতটা কষ্টের রুপ কে অভি ভাইয়ার গাড়িতে বসিয়ে গাড়ি স্টার্ট দিয়ে দিলো!
দরজার সামনে দাড়িয়ে আছি আমরা অভি ভাইয়া ভ্রু কুঁচকে বললো,
~ এখানে দাড়িয়ে আছিস কেন?

দাত কেলিয়ে বললাম,
~ টাকা দিয়ে তারপর বউয়ের কাছে যাও
~ আমি না তোর ভাশুর হই? আর শুভ তোর বড় ভাই হই। আমি যা ভাগ এখান থেকে!
আমরা ঠায় দাড়িয়ে আছি অতঃপর ২০ হাজার টাকা নিয়ে রুমে এলাম। আর অভি ভাইয়াও রুমে গেলো।

পর্ব ৩১

আমি আর শুভ রুমে চলে এসেছি এক বস্তা বিরক্তি নিয়ে বসে আছি বিকজ অফ শুভ, ওখান থেকে আসার পর থেকে বারবার বলে যাচ্ছে আবার ওই রুমের সামনে যাবে অভি ভাইয়া কে ডিস্টার্ব করতে!
~ তিশা বেবী চলো প্লিজ
এবার এক ধমক দিয়ে বললাম,

~ এই তোমার প্রবলেম কি? লজ্জা সরম নেই নাকি? আরে অভি ভাইয়া তোমার বড় ভাই
~ ভাইয়া বলেই তো যাবো আর তুমিও যাবে চলো!
বলে শুভ আমার হাত ধরে এক প্রকার টানতে টানতে নিয়ে এলো এই মুহূর্তে আমরা রুমের দরজার সামনে দাড়িয়ে আছি অভি ভাইয়া রুপ কে কাছে টেনে ওর ঠোটে ঠোট ডুবিয়ে দিলো এরপর রুপ কে কোলে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিলো একচুয়েলি এটা জানালায় ছোট করে ছিদ্র আছে। ওখান দিয়ে দেখেছি এতটুকু দেখে শুভ কে নিয়ে চলে এলাম।

শুভ দাত কেলিয়ে তাকিয়ে আছে। বুঝলাম সেদিনের মতো বকবক শুরু করবে তাই আগেই চোখ রাঙিয়ে বললাম,
~ শোনো শুভ চুপচাপ ঘুমাও এখন যদি তুমি সেদিনের মতো বকবক শুরু করেছো না? তাহলে তোমাকে রুম থেকে বের করে দেবো!

আমার কথায় শুভ মুখটা একদম বাংলার পাচের মতো করে ফেললো মুখ ভেংচি কেটে শুয়ে পড়লাম। মাঝরাতে শান্ত’র কান্নায় ঘুম ভেঙে গেলো। তাড়াতাড়ি লাফ দিয়ে উঠলাম শুভ ও ততক্ষণে উঠে গিয়েছে। শান্ত কে কোলে নিয়ে থমকে গেলাম চোখ দিয়ে পানি পড়ছে শুভ ভয় পেয়ে বললো,
~ তিশা কি হয়েছে। তোমার? কাঁদছো কেন?

~ শুভ শান্ত’র তো অনেক জ্বর!
শুভ শান্ত কে ধরে চমকে গেলো। কারন শান্ত’র প্রচুর জ্বর জ্বরে গা রীতিমত পুড়ে যাচ্ছে শান্ত কেঁদেই যাচ্ছে কি করবো। বুঝতে পারছি না হঠাৎ জ্বর কেন এলো? খাওয়ানোর চেষ্টা করলাম কিন্তু কেঁদেই যাচ্ছে শুভ’র কোলে দিয়ে পানি নিয়ে এলাম। এখন জলপট্টি দিতে হবে পানি এনে জলপট্টি দিতেছি তবুও কান্না বন্ধ হচ্ছেনা এবার আমার ভয় লাগছে

~ তিশা ডোন্ট ওয়ারী কিছু হবেনা!
শুভ’র কথায় ফুপিয়ে কান্না করে বললাম,
~ সন্ধ্যায় ও তো ঠিক ছিলো তাহলে এখন জ্বর কেন এলো? দেখোনা কত কষ্ট পাচ্ছে ও আমার ছেলের কষ্ট হচ্ছে শুভ এখন কি করবো। বলো? দেখো কিভাবে কাঁদছে ওর অনেক কষ্ট হচ্ছে!
শান্ত’র কান্না শুনে সবাই চলে এসেছে। এত জোড়ে কান্না করছে। দরজায় নক করছে। শুভ গিয়ে দরজা খুলে দিলো আম্মু, বাবা, অভি ভাইয়া, রুপ সবাই আমাদের রুমে চলে এসেছে।

~ তৃশ ও কাঁদছে কেন এভাবে?
অভি ভাইয়া প্রশ্ন করলো আমি কান্নায় কিছু বলতে পারছি না শুভ একটু চুপ থেকে বললো,
~ ভাইয়া শান্ত’র অনেক জ্বর।

অভি ভাইয়া সহ সবাই চমকে গেলো। অভি ভাইয়া কাছে এসে শান্ত কে কোলে নিয়ে অবাক হয়ে বললো,
~ মাই গড ওর তো অনেক জ্বর
আমি কান্না করতে করতে বললাম,
~ হ্যা এখন কি করবো? ও তো অনেক কষ্ট পাচ্ছে।
রুপ আমার কাছে এসে বললো,

~ তিশা একটু শান্ত হ এতরাতে হঠাৎ জ্বর কেন এলো?
আম্মু শান্ত কে কোলে নিয়ে ওর কান্না থামানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু শান্ত সমানে কেঁদে যাচ্ছে।
~ এতরাতে তো ডক্টরও আসবে না!
আমি আর শুভ একসাথে বললাম,
~ আমরা হসপিটালে যাবো এক্ষুণি!

এদিকে শান্ত কাঁদতে কাঁদতে এবার জোড়ে জোড়ে শ্বাস নিচ্ছে আমি চিৎকার করে ওকে কোলে নিলাম। সবাই ভয় পেয়ে গেলো। নিজেকে পাগল পাগল লাগছে সবকিছু গুলিয়ে যাচ্ছে কি করবো। এবার? শুভ তাড়াতাড়ি শান্ত কে কোলে নিলো এত চাপ নিতে না পেরে আমি সাথে সাথে সেন্সলেস হয়ে গেলাম
আস্তে আস্তে চোখ খুললাম চোখ খুলে নিজেকে হসপিটালে আবিষ্কার করলাম চারপাশে দেখছি হয়তো সকাল হয়ে গিয়েছে। কাল রাতের কথা মনে পড়তেই হুরমুর করে উঠে বসলাম আমার পাশে রুপ, আর আম্মু আমি কান্না করতে করতে বললাম,
~ আমার ছেলে কোথায়? আর আমি এখানে কি করছি?

রুপ আমার হাত ধরে বললো,
~ তিশা শান্ত একদম ঠিক আছে। গরম সহ্য করতে পারেনা ও জানিস। তো আর ভীরও সহ্য করতে পারেনা তোর ছেলে আর এসব কাল আমার বিয়েতে ছিলো গরম এবং ভীর একসাথে আর এর জন্যই শান্ত’র জ্বর এসেছে। আর তুই সেন্সলেস হয়ে গিয়েছিলি শান্ত কে ওভাবে দেখে ডক্টর শান্ত কে ইনজেকশন দিয়েছে। শান্ত এখন ঠিক আছে।
ডক্টর শান্ত কে ইনজেকশন দিয়েছে। শুনে চমকে গিয়ে বললাম,
~ ইনজেকশন দিয়েছে? তাহলে তো ও অনেক ব্যথা পেয়েছে রুপ তুই ওকে নিয়ে আয় প্লিজ!

রুপ গিয়ে শান্ত কে নিয়ে এলো শুভ আর অভি ভাইয়া ও এলো শান্ত কে কোলে নিয়ে চুমু খেলাম কালকে এক মুহূর্তের জন্য আমার দুনিয়া থমকে গিয়েছিলো নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিলো শান্ত আমার জীবন ওর কিছু হলে মরেই যাবো শান্ত ও গুটিশুটি মেরে আছে। আমার বুকে শুয়ে আছে।
~ তিশা আর ইউ ওকে? তোমার কষ্ট হচ্ছেনা তো?

শুভ’র কথায় মুচকি হেসে বললাম,
~ না কষ্ট হচ্ছেনা আমার ছেলে আমার কাছে আছে। ঠিক আছে। আমি একদম ঠিক আছি শুভ
ডক্টর এসে আমাকে দেখে গেলো। আর বললো, আমি বাড়ি যেতে পারবো শুভ আমাকে বাড়ি নিয়ে এলো শান্ত আমার কাছেই ছিলো!

পরেরদিন বাড়ি সাজানো হচ্ছে কারন আজ অভি ভাইয়া আর রুপে’র রিসেপশন আমাদের বাড়ির সবাই চলে এসেছে। খালামনি আঙ্কেল ও এসেছে। অভি ভাইয়া ওদের সাথে গল্প করছে। দেখতে দেখতে বিকেল হয়ে গেলো। রুপ কে সাজানো হচ্ছে লালের মাঝে সবুজ একটা শাড়ি পড়িয়েছে কানে বড় ডায়মন্ড ঝুমকো গলায় ডায়মন্ড নেকলেস হাতে চিকন চুরি কপালে টিপ ঠোটে লাল লিপস্টিক চোখে মোটা করে কাজল দারুন লাগছে রুপ কে আমাদের দুজনের একই সাজ শুধু শাড়ির কালার ভিন্ন আমি পড়েছি পিংক কালার শাড়ি

রুপ কে নিয়ে স্টেজে এসে শুভ কে দেখে হা করে তাকিয়ে আছি শুভ পিংক কালার পান্জাবী পড়েছে সামনের দুটো বোতাম খোলা ব্লাক কালার প্যান্ট চুলগুলো নরমাল আছে। বাতাসে উড়ছে হাতে ব্লাক বেল্টের ঘড়ি চোখে সাইনগ্লাস শান্ত’র ও একই সাজ শুধু সাইনগ্লাসটা নেই শান্ত’র হাতে সোনার ব্রেসলেট দুই বাপ বেটার এক সাজ শুভ’র কোলে শান্ত শুভ কি যেন বলছে। আর শান্ত হাসছে ওরা দুরে তাই শুনতে পারছি না!

একটুপর অভি ভাইয়া এলো কারো থেকে কেউ কম না। অভি ভাইয়া আর রুপ কে বসানো হলো। সবাই ফটো তুলতে ব্যস্ত রুপ কে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে রুপে’র মা, বাবা ও এসেছে। আজ ওদের রুপ’দের বাড়ি যাওয়ার কথা তাই আমাকে আর শুভ কেও যেতে বলছে। আমি প্রথমে রাজি হইনি। কিন্তু সবার জোড়াজোড়িতে রাজি হলাম। উপরে এসেছি চেন্জ করতে কারন এই শাড়ি পড়ে বিরক্ত লাগছে সিরি দিয়ে উপরে যাচ্ছি এমন সময় চোখ গেলো। সিরির পাশে আমি নিজের চোখ কে বিশ্বাস করতে পারছি না

ভাইয়া সিরির পাশে দাড়িয়ে সিগারেট টানছে হা করে তাকিয়ে আছি ভাইয়া আমার সেই ভাইয়া যে কি না সিগারেট খায় তো না আর সিগারেট খাওয়া লাইক করেনা আর আজ সে সিগারেট খাচ্ছে? বুঝতে বাকী রইলো না কেন ভাইয়ার পাশে গিয়ে দাড়িয়ে বললাম,
~ এভাবে কষ্ট কমাতে পারবি?

আমার কথায় ভাইয়া হতদন্ত হয়ে হাতের সিগারেট লুকিয়ে ফেললো
~ এখন লুকিয়ে কি হবে? আমি দেখেছি তোকে সিগারেট খেতে কেন সিগারেট খাচ্ছিস সেটাও জানি!
ভাইয়া আমতা আমতা করে বললো,
~ আরে তিশা আমি তো এমনিই!
ভাইয়া কে থামিয়ে দিয়ে বললাম,
~ আমাকে মিথ্যে বোঝাতে পারবি না কারন আমি জানি তুই সিগারেট একদম লাইক করিস না তাই এমনি খাওয়ার প্রশ্ন আসেনা!

ভাইয়া এবার মাথা নিচু করে ফেললো হয়তো শব্দহীন কান্না করছে। আমি কিছু বললাম, না চলে এলাম। কাঁদুক না যদি মনটা হাল্কা হয় শাড়ি চেন্জ করে নিচে নেমে এলাম। এরপর রুপ’দের বাড়ি এলাম। ভাইয়া কে ও যেতে বলেছিলো ভাইয়া মানা করে দিয়েছে। রুপ’দের বাড়ি আসার পর রুম দেখিয়ে দিলো আমরা রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। রাতে ডিনার করতে এসে অভি ভাইয়ার অবস্থা দেখে হেসে কুটিকুটি হচ্ছি নতুন জামাই তাই ইচ্ছে।
মতো খাওয়াচ্ছে ডিনার শেষে রুমে চলে এলাম। এখানে ২দিন থাকার কথা কিন্তু সেটা আর থাকা হলো।না অভি ভাইয়ার কোন ফ্রেন্ড নাকি আসছে আমেরিকা থেকে তাই বাড়ি চলে এলাম।
ড্রয়িংরুমে বসে আছি সেই ফ্রেন্ডের জন্য ছেলেটা হোটেলে থাক।তে চেয়েছিলো অভি ভাইয়া বলেছে আমাদের বাড়ি থাক।তে অতঃপর সবার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাড়িতে ঢুকলো একটা ছেলে বয়স বেশী না মেবি ২৬ হবে দেখতে বেশ হ্যান্ডসাম স্টাইলই আলাদা একদম ব্লাক ড্রেস হয়তো ব্লাক লাভার ফর্সা শরীরে কালো ড্রেস বেশ মানিয়েছে অভি ভাইয়া গিয়ে জড়িয়ে ধরলো এরপর আমাদের সামনে এনে বললো,

~ হি ইজ মাই ফ্রেন্ড ডক্টর সম্রাট খাঁন আমরা একসাথেই ছিলাম। আমেরিকা তে ও ডক্টর হলেও আমরা অলওয়েজ একসাথে থেকেছি ওর আরেকটা ভাইও আছে।
~ হেই অভি ভাইয়ের কথা ছাড় এখন বল কে তোর কি হয়?
অভি ভাইয়া কে থামিয়ে বললো, সম্রাট এরপর সবার সাথে পরিচয় হয়ে নিলো সম্রাটে’র ঠোটের কোনে কেমন রহস্যময় হাসি আমি ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছি!

পর্ব ৩২

সম্রাটে’র হাসি দেখে খটকা লাগলো। সম্রাট আমার সাথেও পরিচয় হলো। শান্ত কে দেখে জিগ্যেস করলো!
~ তিশা আই মিন ভাবী ও কে?
~ আমি যেহেতু ম্যারিড আমার ছেলে হবে তাইনা?

মুখটা গম্ভীর করে উত্তর দিলাম অভি ভাইয়া সম্রাট কে নিয়ে উনি যেই রুমে থাকবে নিয়ে গেলো। আমি শান্ত কে নিয়ে রুমে চলে এলাম। কেন জানিনা কিছু ভাল লাগছে না মনে হচ্ছে কোনো বিপদ হবে এরমাঝে রুপ এলো রুমে
~ তিশা কিছু ভাবছিস নাকি?

রুপে’র কথায় ভাবনা থেকে বেরিয়ে বললাম,
~ না কিছু ভাবছি না তোর নিশ্চয় মন খারাপ তাইনা?
~ ওমা মন খারাপ হবে কেন?

~ এই যে তোদের বাড়ি থেকে চলে এলাম।
রুপ মুচকি হেসে শান্ত কে কোলে নিয়ে বললো,
~ মোটেও আমার মন খারাপ না তোরা আছিস অভি আছে। আর আমার এই পিচ্চি বাবা আছে। তাহলে কেন মন খারাপ হবে?
রুপে’র কথায় আমিও মুচকি হাসলাম খুব ভাল লাগছে আমার বেষ্টু আমার জা তবে আমি আর রুপ আমরা ছোট থেকেই বেষ্ট ফ্রেন্ড কম বোন বেশী একসাথে থেকেছি সবসময় এক স্কুল, এক কলেজ, এক ভার্সিটি
~ কি করা হচ্ছে শুনি?

তাকিয়ে দেখি শুভ আর অভি ভাইয়া আর অভি ভাইয়া’ই প্রশ্ন করেছে রুপ ভেংচি কেটে বললো,
~ চোখ কি ড্রয়িংরুমে রেখে এসেছো নাকি?
অভি ভাইয়া ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো। আমতা আমতা করে বললো,
~ মানে চোখ তো সাথেই আছে।
~ তাহলে তো দেখতেই পাচ্ছো তাইনা?

রুপে’র কথা শুনে অভি ভাইয়া গাল ফুলিয়ে বললো,
~ হ্যা আর জিগ্যেস করবো। না!
আমরা হু হা করে হেসে দিলাম শুভ দাত কেলিয়ে বললো,
~ এবার বুঝবি ভাইয়া বউ কি জিনিষ?

আমি চোখ গরম করে তাকালাম ওমনি শুভ কাঁচুমাচু করে বললো,
~ ইয়ে মানে আমি বলতে চেয়েছি ভাইয়া এবার বুঝবে বউ কত ভাল শান্ত শিষ্ট লেজ বিষি
আর কিছু বলার আগে দাত কিড়কিড় করে তাকালাম শুভ মুখে হাত দিয়ে সোফায় বসে পড়লো। আমি মুখ চেপে হাসছি অভি ভাইয়া আর রুপ জোড়ে হেসে দিলো ওদের হাসতে দেখে শান্ত ও হেসে দিলো কি বুঝলো সেটা শান্ত জানে এবার আমি জোড়ে হেসে দিলাম শুভ ভেংচি কেটে বিছানায় এসে বসলো আমরা কথা বলছিলাম। তখন সম্রাট এলো!

~ অভি আমি একটু বাইরে যাচ্ছি
অভি ভাইয়া বসা থেকে উঠে বললো,
~ এখন বাইরে কেন? একটু আগেই তো এলি

সম্রাট মুচকি হেসে বললো,
~ ভাবছি বাংলাদেশে পার্মানেন্ট থেকে যাবো যেহেতু আমি একজন ডক্টর তাই এভাবে শুধু শুধু বসে থেকে কি করবো? পাপা কে বলেছি আমি এখানকার হসপিটালে জয়েন হবো আর তার জন্য বাইরে যাচ্ছি আর নানাভাইয়ের হসপিটাল আছে। তো এখন দেখি কোনটায় জয়েন হই। আর আমাদের বাড়িটাও মেবি ময়লা হয়ে গিয়েছে। ওটাও তো ক্লিন করতে হবে আমি ওখানেই থাকবো
~ এক থাপ্পর খাবি শালা তুই আমাদের সাথেই থাক।বি ওকে? একা একা তোদের বাড়ি থাক।তে হবে না হসপিটালে জয়েন হবি হ বাট আমাদের সাথে থাক।বি এটাই ফাইনাল!

অভি ভাইয়ার কথায় সম্রাট হেসে বললো,
~ ওকে আই উইল ট্রাই মাই বেষ্ট!
অভি ভাইয়া বুঝতে না পেরে বললো,
~ মানে কি সম্রাট?

সম্রাট থতমত খেয়ে বললো,
~ আব আই মিন আমি ট্রাই করবো। নাউ আই হ্যাব টু গো বাই অভি বাই এফরিওয়ান
বলে সম্রাট রুম ত্যাগ করলো!
~ অভি তোমার এই বিদেশী ফ্রেন্ড এটা কিন্তু সেই লেভেলের হ্যান্ডসাম একদম কিউটের ডিব্বা যাকে বলে
রুপে’র কথায় অভি ভাইয়া রেগে ওর দিকে তাকালো। আর আমি ভ্রু কুঁচকে বললাম,
~ কেন রে তাতে তোর কি? আর তোর হাজবেন্ড কি কম কিউট?

~ অবশ্যই কম একদম কম
বুঝলাম অভি ভাইয়া কে রাগাতে বলছে। কিন্তু তিনি কি আর বুঝবেন? উহুম মোটেও না রুপ কে টেনে নিয়ে গেলো। শুভ কিটকিট করে হাসছে ওর হাসির মানে খুজে না পেয়ে বললাম,
~ কি হলো। কি হ্যা? এভাবে হাসছো কেন?

শুভ দাত কেলিয়ে বললো,
~ ওরা নিশ্চয় রোমান্স করবে চলো আমরাও রোমান্স করবো।
শুভ’র কথা শুনে চোখ বড় বড় করে তাকালাম শুভ হুট করে আমাকে জড়িয়ে ধরলো আমি ও শুভ কে জড়িয়ে ধরলাম শান্ত আমার শাড়ীর আচল ধরে টানছে তাই শুভ কে ছেড়ে ওকে কোলে নিলাম। শুভ মুখটা কাঁদো কাঁদো করে বললো,
~ ছেলে আমার হয়েছে। একটা আমার রোমান্সে ব্যাঘাত ঘটায়!

আমি হো হো করে হেসে দিলাম শুভ মুখটা অসহায়ের মতো করে রেখেছে বিকেলে দেখলাম বাবা, আম্মু এসেছে। সাথে ভাইয়া ও আছে। ওদের দেখে খুশি হলেও ভাইয়া কে দেখে কান্না পেয়ে যাচ্ছে একি হাল হয়েছে। ওর? চুলগুলো এলোমেলো চেহারার কোনো হাল নেই ভাইয়া কে গিয়ে বললাম,
~ ভাইয়া তোর এই অবস্থা কেন?
~ হেই ব্রো ছ্যাকা খেয়েছো নাকি?

ভাইয়া কিছু বলবে তার আগে বাড়ি ঢুকতে ঢুকতে সম্রাট বললো, আমি রাগী দৃষ্টিতে তাকালাম সম্রাট হাসতে হাসতে বললো,
~ আরে ভাবী জাস্ট চিল ওকে? দেখুন আবির কে দেখে শুধু আমি না যে কেউ এটাই বলবে
আমি অবাক হয়ে বললাম,
~ আপনি তো ভাইয়া কে দেখেননি আর আপনি কি করে জানলেন? আমার ভাইয়ার নাম আবির
সম্রাট হাসি মুখ কালো করে ফেললো এরপর আবার হেসে বললো,

~ দেখেছি বাড়িতে ঢোকার সময় আর নাম জেনেছি হসপিটাল থেকে আমি যেই হসপিটালে জয়েন হয়েছি আবিরও সেই হসপিটালে অভি’র নাম বলাতে ওনারা আবিরে’র নামও বললো, খুব ভাল ডক্টর আবির রাইট?
ভাইয়া সম্রাটের সামনে গিয়ে বললে
~ আপনি সিটি হসপিটালে জয়েন হয়েছেন?

সম্রাট ভাইয়ার হাত ধরে বললো,
~ কামঅন আবির আমরা সেম এইজ সো আপনি করে বলো না তুমি আমাকে তুমি করেই বলবে ওকে? আর হ্যা আমি সিটি হসপিটালে জয়েন হয়েছি
এরপর ওরা অনেক কথা বললো, এইটুকু সময়ের মধ্যে মিশে গেলো। দুজন আমি আর কিছু বললাম, না আমি আম্মু আর বাবার সাথে কথা বলছি শ্বশুর বাবা আর শাশুড়ি আম্মুও আছে। শুভ ও সম্রাটে’র সাথে কথা বলছে। সম্রাট কে দেখে মিশুক মনে হচ্ছে এখন মনে হচ্ছে হয়তো আমি ভুল ভাবছিলাম।

রাতে ভাইয়ার রুমে এলাম। ভাইয়া সিগারেট খাচ্ছে ভাইয়ার কাধে হাত রাখলাম ভাইয়া আমার দিকে একবার তাকিয়ে আবার সিগারেট খাওয়ায় মন দিলো অবাক হয়ে বললাম,
~ ভাইয়া এমন করছিস কেন?
ভাইয়া সিগারেট ফেলে দিয়ে বললো,
~ কেন কি করলাম আমি?

~ তুই সিগারেট খাচ্ছিস কেন? তুই আহানিতা আপু কে ভালবাসিস ও যদি তোর সব হয় তাহলে ওকে বোঝা
রেগেই বললাম, কারন ভাইয়া কে এভাবে দেখতে ভাল লাগছে না ভাইয়া স্লান হেসে বললো,
~ আহানিতা কে কোথায় পাবো?
কিছুটা অবাক হয়ে বললাম,
~ কোথায় পাবি মানে?

~ আহানিতা চলে গিয়েছে। আমেরিকা চলে গিয়েছে।
বলে ভাইয়া কান্না করে দিলো আমি থ হয়ে গিয়েছি আহানিতা আপু কবে চলে গেলো।? এরমাঝে ভাইয়া বললো,
~ তিশা আমাকে একটু একা থাক।তে দিবি?
~ বাট ভাইয়া আমার কথা শোন!
~ আই সেইড লিভ মি এলোন

চেচিয়ে বললো, ভাইয়া তাই চলে এলাম। পরেরদিন বাবা, আম্মু, ভাইয়া চলে গেলো। দেখতে দেখতে ৪ মাস কেটে গিয়েছে। শান্ত’র আর ১ মাস পর ১ বছর হবে সম্রাট কে শুধু শুধু ভুল ভাবছিলাম। কারন এই ৪ মাসে খারাপ কিছুই হয়নি শুধু ভাইয়া কষ্ট পাচ্ছে আহানিতা আপুর জন্য কিন্তু এতে তো সম্রাটের দোষ নেই আমি আর রুপ শান্ত’র পিছনে ছুটছি সম্রাট, অভি ভাইয়া, শুভ গল্প করছে। সম্রাট এখন খুব কম আসে আমাদের বাড়ি এরমাঝে রুপ সেন্সলেস হয়ে গেলো। অভি ভাইয়া ছুটে এসে রুপ কে ধরলো আর তখন বাড়িতে আহানও ঢুকলো অভি ভাইয়া রুপ কে ড্রয়িংরুমের সোফায় শুইয়ে পাগলের মতো ডাকতে লাগলো। আমি তাড়াতাড়ি রান্নাঘর থেকে পানি এনে রুপে’র চোখে মুখে ছিটিয়ে দিলাম রুপ পিটপিট করে চোখ খুললো অভি ভাইয়া রুপ কে উঠিয়ে বসিয়ে বললো,
~ আহান, সম্রাট তোরা তো ডক্টর দেখনা রুপ সেন্সলেস কেন হলো?

দুজন রুপে’র দুহাত ধরলো রুপ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো। এদিকে আহান আর সম্রাট মুচকি মুচকি হাসছে অভি ভাইয়া ধমক দিয়ে বললো,
~ ওই তোদের হাসতে বলেছি?

সম্রাট মুচকি হেসে বললো,
~ দোস্ত মিষ্টি খাওয়াবি না?
অভি ভাইয়া রেগে বললো,
~ আমার বউ অসুস্থ আর তুই মিষ্টি খাওয়ার কথা বলছিস?
সম্রাট আর আহান একসাথে বললো,
~ ইয়েস বিকজ তোর বউ প্রেগন্যান্ট

অভি ভাইয়া খুশিতে কি করবে হয়তো নিজেই ভেবে পাচ্ছেনা আমরা ও খুশি আমি রুপ কে জড়িয়ে ধরলাম এই বাড়িতে আরেকটা পিচ্চি আসবে ভাবতেই লাফাতে ইচ্ছে করবে শুভ আর অভি ভাইয়া সাথে আহান আর সম্রাট সাথে সাথে মিষ্টি কিনতে চলে গিয়েছে। বাবা, আর আম্মুও খুব খুশি ওরা সবাই কে মিষ্টি বিলিয়েছে!
পরেরদিন স্টুডিওতে এসেছি আমি আসতে চাইনি শুভ নিয়ে এসেছে। শান্ত কে আনতে চেয়েছিলাম। রুপ আর অভি ভাইয়া রেখে দিয়েছে। শুভ’র গান রেকর্ড আছে। শুভ গান গাইতে শুরু করলো কিছুটা গাওয়ার পর হঠাৎ শুভ কাশতে শুরু করলো আমি দৌড়ে শুভ’র কাছে গেলাম শুভ’র মুখ দিয়ে রক্ত পড়ছে ভয় পেয়ে গেলাম এমন কেন হলো? দেরী না করে শুভ কে নিয়ে হসপিটালে চলে এলাম। ডক্টর বললো, ফুড পয়জেন থেকে হয়েছে। ডক্টর দেখিয়ে বাড়ি চলে এলাম। এদিকে আমাদের অজান্তে কেউ শয়তানি হাসি দিয়ে বললো,
~ দ্যা গেম ইজ স্টার্ট নাউ তোমাদের সবার ধ্বংসের খেলা আমি শুরু করে দিয়েছি এবার দেখো কি হয় জাস্ট ওয়েট এন্ড ওয়াচ কাউকে ছাড়বো না আমি সবাই কে শাস্তি পেতে হবে!

পর্ব ৩৩ (অন্তিম)

শুভ কে বাড়ি নিয়ে এসে ড্রয়িংরুমে বসিয়ে পানি এনে দিলাম শুভ অনেকটা উইক হয়ে গিয়েছে। আমি বসতেই রুপ শান্ত কে নিয়ে এলো শান্ত আমাকে দেখেই কেঁদে দিয়েছে শান্ত কে কোলে নিয়ে হাটছি আম্মু এসে বললো,
~ শুভ কি হয়েছে তোর?
~ জানিনা মাম্মা গান গাইছিলাম। গান গাওয়ার মাঝে হঠাৎ গলা দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করলো ডক্টর বললো, ফুড পয়জেনিং
আম্মু কিছুটা চমকে গিয়ে বললো,

~ আমাদের বাড়িতে ফুড পয়জেনিং? এসব কি বলছিস শুভ? এরকম তো হয়নি আগে কখনো
আম্মুর পাশে বসতে বসতে বললাম,
~ রাইট আম্মু আমিও সেটাই ভাবছি
এরমাঝে সম্রাট এলো বাড়িতে!
~ তাহলে কি হতে পারে?

সম্রাটে’র কথায় অভি ভাইয়া বললো,
~ কেউ কি ইচ্ছে করে এটা করেছে?
~ বাট কেউ এটা কেন করবে? আমার সাথে কার কি শএুতা? যে আমার খাবারে পয়জেন দেবে।
সবাই চিন্তায় পড়ে গেলো।

~ গাইস ডোন্ট ওয়ারী যদি কেউ এটা ইচ্ছাকৃত করে থাকে আই হোপ তাকে পেয়ে যাবো!
সম্রাটে’র কথায় কিছুটা চিন্তামুক্ত হলাম। এরপর যে যার রুমে চলে এলাম। দুপুরে শান্ত কে গোসল করিয়ে খায়িয়ে ঘুম পাড়িয়ে রুপে’র রুমে এলাম। অভি ভাইয়া থানায় গিয়েছে। আর শুভ অফিসে চলে গিয়েছে। স্টুডিওতে গিয়েছিলাম। অনেক সকালে রুপে’র সাথে অনেকক্ষণ আড্ডা দিয়ে আবার রুমে চলে এলাম। এখন সবার ঘুমানোর টাইম দুপুরে সবাই ঘুমায় তাই আমিও শান্ত’র পাশে ঘুমিয়ে পড়লাম।

পরেরদিন ব্রেকফাস্ট করছি অভি ভাইয়া এখনো আসেনি শুভ অভি ভাইয়া কে ডাক দিলো অভি ভাইয়া শিরিতে পা রাখতেই শিরি থেকে পড়ে গেলো। আমরা ছুটে এলাম। তাড়াতাড়ি অভি ভাইয়া মাথায় হাত দিয়ে আছে। রুপ হাতটা সরিয়ে ফেললো সবাই আতকে উঠলাম কপাল অনেকটা কেটে গিয়েছে। অভি ভাইয়া কে ধরে সোফায় বসিয়ে দিলো শুভ এরপর সম্রাট ব্যান্ডেজ করে দিলো ব্যান্ডেজ করার সময় সম্রাট হাসছিলো আর একটু আগে সম্রাট এলো শিরি দিয়ে তখন তো সম্রাট পড়লো। না তাহলে অভি ভাইয়া কেন পড়লো।? সম্রাট কে আবার সন্দেহ হচ্ছে আমার আর কালকে শুভ’র সাথে আজকে অভি ভাইয়ার সাথে যে অঘটন ঘটলো এগুলো কি কাকতালীয়?

রুপ কান্নাকাটি করছে। অভি ভাইয়া থামতে বলছে। কারন এই অবস্থায় কান্নাকাটি ঠিক না রুপ কেঁদেই যাচ্ছে তাই অভি ভাইয়া রুপ কে রুমে নিয়ে গেলো। এদিকে সম্রাট আজ আবার প্রথমদিনের মতো রহস্যময় হাসি দিলো আর কেউ খেয়াল না করলেও আমি ঠিকই খেয়াল করলাম তাই মনে মনে ভেবে নিলাম। এই সম্রাটে’র উপর নজর রাখতে হবে!

এভাবে ১ মাস চলে গিয়েছে। ১ মাসে রোজ কিছু না কিছু হয়েছে সম্রাট কে সন্দেহ হলেও তেমন কোনো প্রুফ পাইনি তাই কিছু বলতেও পারছি না সবাই মিলে বসে আছে। আমি শিরি দিয়ে নামতে নামতে শুনলাম
~ আগেও বলেছি এখনো বলছি যে এসব করছে। তাকে আমরা পেয়ে যাবো!
সম্রাটে’র কথায় মাথায় আগুন ধরে গেলো। চেচিয়ে বলে উঠলাম
~ ইউআর রাইট সম্রাট তাকে আমরা পেয়ে যাবো আমার তো মনে হয় পেয়ে গিয়েছি!
আমার কথা শুনে সবাই অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো,
~ পেয়েছিস মানে? কে সে?

আমি সম্রাটে’র সামনে দাড়িয়ে বললাম,
~ কি সম্রাট নিজে বলবেন? নাকি কষ্ট করে আমাকে বলতে হবে?
সম্রাট আমতা আমতা করে বললো,
~ মানে কি ভাবী? আ আমি কি বলবো?

ঠাস করে সম্রাট কে থাপ্পর মেরে বললাম,
~ আর কত নাটক করবেন আপনি? সেই প্রথমদিন থেকে নাটক করছে।ন সবাই কে কত আপন ভাবেন সেই নাটক আপনার সব জাড়িজুড়ি শেষ মিস্টার সম্রাট খাঁন আমি জেনে গিয়েছি এসব আপনি করেছেন। এতদিন ধরে যা হচ্ছে সব আপনি করেছেন। এবার বলুন কেন করেছেন? আমরা কি ক্ষতি করেছি আপনার?
সম্রাট চোখ মুখ লাল করে তাকিয়ে আছে। অভি ভাইয়া বসা থেকে উঠে বললো,
~ তৃশ এসব কি বলছিস তুই? সম্রাট কেন এসব করবে? তোর কোথাও ভুল হচ্ছে!

~ না অভি ভাইয়া আমার ভুল হচ্ছে না আমি এই লোকটা কে ফোনে কারো সাথে কথা বলতে শুনেছি আমি যদি ভুল না হই। সে একটা মেয়ে আর তোমার এই ফ্রেন্ড সম্রাট ওনার জিএফ হবে তার সাথে কথা বলছিলো আর এই বোতল পেয়েছি
বিষের বোতল দেখিয়ে বললাম, সম্রাট চমকে গিয়ে বললো,
~ এটা কোথায় পেয়েছেন?

মুচকি হেসে বললাম,
~ আপনার রুমে আপনার ব্যাগে!
~ হাউ ডেয়ার ইউ? তোমার সাহস কি করে হলো? আমার ব্যাগে হাত দেয়ার?
সম্রাট চোখ রাঙিয়ে বললো, ওর চোখ রাঙানি দেখে রেগে বললাম,
~ একদম চোখ রাঙাবেন না কেন করলেন এসব?

সম্রাট কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে উঠলো!
~ হ্যা আমি করেছি এসব এতদিন যা হয়েছে সব আমি করেছি প্রতিশোধ নিতে করেছি তোমরা যা করেছো তার তুলনায় এসব তো কিছুনা তোমাদের ধ্বংস করতেই আমি এসেছি
সবাই আকাশ থেকে পড়লো। অভি ভাইয়া চমকে গিয়ে বললো,
~ সম্রাট তুই এসব করেছিস? কিন্তু কেন করেছিস? কিসের প্রতিশোধ? কি করেছি আমরা বল?

সম্রাট চেচিয়ে বলে উঠলো
~ কি করিসনি তোরা? আমার ভালবাসা কে কষ্ট দিয়েছি।স ওকে জেলে দিয়েছি।লি মনে নেই? কি করেছিলো ও বল? শুধু একটা থাপ্পর মেরেছিলো তোকে অভি তার জন্য ফুল ফ্যামিলি মিলে ওকে জেলে দিয়ে দিলি? কি ভেবেছিলি ওকে জেলে রাখতে পারবি? না পারিসনি আমি ওকে আমি বের করেছি!
সম্রাটে’র কথা আমরা কেউ বুঝতে পারছি না শুভ সামনে এসে বললো,
~ কে তোমার ভালবাসা? কার কথা বলছো তুমি?

~ আরোহী কে মনে আছে।? নাকি জেলে দিয়ে ভুলে গিয়েছো? আরোহী আমার ভালবাসা আরোহী কে আমি ভালবাসি তোমাদের জন্য ও কষ্ট পেয়েছে তাই আমি এসেছি প্রতিশোধ নিতে!
~ তাহলে আমি কে আয়াশ?
কারো কথা শুনে দরজায় তাকালাম তাকিয়ে দেখলাম আহানিতা আপু আর সাথে ভাইয়াও আছে। আয়াশ নাম শুনে অবাক হলাম। তারমানে সম্রাট’ই আয়াশ?
সম্রাট চমকে গিয়ে বললো,

~ আহানিতা তুমি এখানে? তুমি না আমেরিকা ছিলে?
আহানিতা আপু কাঁদতে কাঁদতে বললো,
~ আমাকে এভাবে ঠকালে? কেন করলে এমন তুমি? আমি কি দোষ করেছিলাম? আমি তো তোমাকে সত্যি ভালবেসেছি তুমি আমাকে কেন ঠকালে বলো?
এবার সম্রাট রেগে বললো,

~ কিসের ভালবাসা? আমি তোমাকে ভালবাসি না ইনফ্যাক্ট কখনো বাসিনি তুমি ইমোশনাল ফুল তাই তোমার সাথে ভালবাসার গেম খেলেছি তোমাকে আবিরে’র থেকে সরাতে আমার উদ্দেশ্য ছিলো এদের কষ্ট দেয়া আমি দিতে পেরেছি বাট!
বাট বলেই গান বের করলো আমরা সবাই ভয় পেয়ে গেলাম
~ যার জন্য আরোহী জেলে গিয়েছে। যেই পরিবারের জন্য বিশেষ করে শুভ আর অভি এদের আমি ছাড়বো না!

বলেই সম্রাট ট্রিগার চাপতে গেলো। তার আগে ফুপ্পি এসে থাপ্পর মারলো সম্রাট অবাক হয়ে বললো,
~ আন্টি আপনি কেন মারলেন আমাকে? আপনার তো খুশি হওয়ার কথা ওরা আপনার মেয়ের সাথে অন্যায় করেছে তাই ওদের তো শাস্তি পাওয়া উচিত তাইনা?
~ অন্যায় ওরা না আরোহী করেছে!
সম্রাট পিস্তল নামিয়ে বললো,
~ মানে কি বলছে।ন আপনি?

ফুপ্পি সবটা বললো, সম্রাট কে সম্রাট ধপ করে সোফায় বসে পড়লো। দু হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরে বললো,
~ আরোহী আমাকে মিথ্যে বললো,? আর আমি কি না এত অন্যায় করলাম?
~ বেবী সবাই কে শেষ করেছো?

বলতে বলতে আরোহী ঢুকলো আমরা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি আরোহী একটা শর্ট টপস পড়া যেটাতে হাটু দৃশ্যমান আরোহী ও হয়তো শকড হয়েছে সম্রাট অগ্নি দৃষ্টিতে তাকালো। আরোহী’র দিকে আরোহী ঢোক গিললো সম্রাট আরোহী কে ঠাস করে থাপ্পর মারলো আরোহী গালে হাত দিয়ে তাকিয়ে আছে। সম্রাট আরোহী’র দু বাহু ধরে বললো,

~ লজ্জা করলো না এই নাটক করতে? আমাকে মিথ্যে কেন বললে? কেন আমাকে দিয়ে এসব করালে? এত ভালবাসতাম তোমাকে আমি যে তোমার সব কথা শুনেছি তোমার জন্য আমেরিকা থেকে চলে এসেছি একজন ডক্টর মানুষের জীবন বাঁচায় কিন্তু তোমার জন্য তোমাকে ভালবেসে আমি জীবন নিতে চেয়েছি আমার ব্রেষ্ট ফ্রেন্ড কেও মারতে চেয়েছি আহানিতা কে ঠকিয়েছি কেন করলি বল?
সম্রাট আরোহী’র গলা চেপে ধরলো আরোহী এক ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে বললো,

~ যা করেছি বেশ করেছি আমি জানতাম শুভ কে পাবোনা তাই শুভ কে সরিয়ে ফেলতে চেয়েছিলাম। শুভ কে গুলি করে তোমার সাথে নাটক করি ভালবাসার নাটক তুমিও বোকা তাই আমার জ্বালে ফেসে যাও ওরা সব জেনে আমাকে জেলে দেয় ওখানকার একজনের ফোন নিয়ে তোমাকে বলি সব মিথ্যে বলি তুমিও ফেসে যাও মিথ্যের জ্বালে আমার মিথ্যে কান্নার মায়ায় পড়ে যাও আমার কথাতে প্রতিশোধ নিতে চলে আসো আর ডক্টর থেকে ভিলেন হয়ে যাও
সম্রাট হাটু ভেঙে ফ্লোরে বসে পড়লো। চোখ থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে অভি ভাইয়া সম্রাটে’র কাধে হাত রাখলো সম্রাট কাঁদতে কাঁদতেই বললো,
~ আই এম সরি অভি না জেনে অনেক অন্যায় করেছি তোদের মারতেও চেয়েছি প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দে চাইলে আমাকে এরেস্ট করতে পারিস আমার কোনো আফসোস নেই

অভি ভাইয়া সম্রাট কে উঠিয়ে বললো,
~ তোর প্রতি কোনো রাগ নেই আসল কালপ্রিট তো আরোহী তাই শাস্তি ও পাবে তুই না

পুলিশ কে কল করলে ওনারা এসে আরোহী কে নিয়ে যায় সম্রাট আহানিতা আপুর সামনে গিয়ে বলে!
~ পারলে ক্ষমা করে দিও আবির তোমাকে অনেক ভালবাসে ওর সাথে নতুন করে সব শুরু করো অনেক ভাল থাকবে
আহানিতা আপু চোখের পানি মুছে বললো,
~ হ্যা ভাল থাকবো আবির কে নিয়েই ভাল থাকবো আর তোমাকে ক্ষমা করবো। না মিস্টার আয়াশ খাঁন সম্রাট
সম্রাট কিছু বললো, না রুমে গিয়ে ব্যাগ নিয়ে নেমে এলো অভি ভাইয়া বলে উঠলো!
~ কোথায় যাচ্ছিস?

সম্রাট স্লান হেসে বললো,
~ আমেরিকা চলে যাবো আমি তার আগে নানা ভাইয়ের কাছে যাবো!
~ না তুই যেতে পারবি না
~ প্লিজ অভি আমাকে আটকাস না আই হ্যাব টু গো নাউ প্লিজ!

বলে সম্রাট চলে গেলো। ওনার মনে যে ঝড় বইছে সেটা সবাই বুঝতে পারলো!
১ মাস পর আহানিতা আপু না এখন তো ভাবী আহানিতা ভাবী কে সাজানো দেখছি একদম পুতুল লাগছে বউ সাজে সবাই কে পুতুল লাগে মেবি আজ ভাইয়া আর আহানিতা ভাবীর বিয়ে একটুপর তাড়া দিলো ভাবী কে স্টেজে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাই স্টেজে নিয়ে গিয়ে ভাইয়ার পাশে বসিয়ে দিলাম আর ভাবতে লাগলাম আল্লাহ চাইলে সব হয় তাইতো ভাবীও এখন ভাইয়া কে ভালবাসে এরমাঝে ওদের বিয়ে পড়ানো শেষ হয়ে গেলো। আমরা ভাবী কে ভাইয়ার রুমে বসিয়ে আমি আর রুপ দরজায় দাড়িয়ে আছি ভাইয়া ভ্রু কুঁচকে বললো,

~ যা এখান থেকে টাকা পাবিনা!
আমি দাত কেলিয়ে বললাম,
~ টাকা না পেলে যাবো না!
অনেকক্ষণ পর ভাইয়া টাকা দিলো এরপর রুমে গেলো। আমাদের মত ওদের ভালবাসাও পূর্নতা পেলো

৪ বছর পর!
পুরো বাড়ি সাজানো হয়েছে আজকে শান্ত’র জন্মদিন শুধু শান্ত’র না আমারও শান্ত’র আজকে ৫ বছর হবে আর আমার ২৫ বছর দেখতে দেখতে কতগুলো বছর কেটে গেলো। এরমাঝে ভাইয়া ভাবী আর ওদের ছোট্ট ছেলে রিয়ান চলে এলো একটুপর আহান ওর বউ আর ২ বছরের মেয়ে আয়ানা কে নিয়ে ওরাও চলে এলো ভাইয়ার ছেলের ৩ বছর ভাইয়ার বিয়ের পরই আহান বিয়ে করেছে আহানে’র বউয়ে’র নাম মিলি অধরা কে নিয়ে রুপ নেমে এলো অধরা কে দেখেই শান্ত ছুটে গেলো। অধরা রুপ আর অভি ভাইয়ার মেয়ে শান্ত তো অধরা বলতে পাগল শান্ত অধরা কে গিয়ে বললো,
~ ওয়াও ইউআর লুকিং প্রিটি!
অধরা ভাব নিয়ে বললো,
~ আই নো ভাইয়া!

শান্ত গাল ফুলিয়ে বললো,
~ ডোন্ট কল মি ভাইয়া স্টুপিড!
একটুপর অভি ভাইয়া আর শুভ নেমে এলো শুভ কে দেখেই শান্ত গিয়ে কোলে উঠে বললো,
~ পাপা ওকে বারন করো আমাকে যেন ভাইয়া না বলে!
~ বাট তুমি তো ওর ভাইয়া হও বাবা

অভি ভাইয়ার কথায় শান্ত ভেংচি কেটে বললো,
~ নো বাবা ইউআর রং আমি ওর ভাইয়া না জামাই হই।
আমরা সবাই হেসে দিলাম অধরা দু হাত দিয়ে মুখ ঢাকলো এরমাঝে রিয়ান বললো,
~ তাহলে কি আয়ানা আমাল (আমার) বউ?

ওদের কথায় হাসতে হাসতে শেষ কেক কাটার সময় হয়ে গেলো। এরপর আমি আর শান্ত কেক কাটলাম কেক কেটে সবাই কে খাইয়ে দিলাম শুভ গান গাইছে আর আমি ভাবছি সারাজীবন যেন এভাবেই হাসি খুশি থাকি!

লেখা – তিশা ইসলাম নাবিলা

সমাপ্ত

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “তুমি আমার ভালবাসা (শেষ খণ্ড) – কলেজের প্রেমের কাহিনী” গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো। তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ূন – তুমি আমার ভালবাসা (১ম খণ্ড) – কলেজের প্রেমের গল্প