ছোট গল্প

বউ যখন সিনিয়র – রোমান্টিক ছোট গল্প

বউ যখন সিনিয়র – রোমান্টিক ছোট গল্প: ওলে আমার, ছোট জামাইটা দেখি রাগ করছে। এই বলে আমায় জড়িয়ে ধরে একটা ইয়ে একে দিলো আমার ঠোটে।


মূলগল্প

বউঃ একি, আপনি নিচে বিছানা করছেন কেন?
আমিঃ এছাড়া যে আমার আর কিছু করার নাই।
বউঃ মানে?

আমিঃ মানে হলো আমি আপনাকে স্ত্রী হিসেবে মানতে পারবো না।
বউঃ কেন?

আমিঃ কারণ আপনি আমার দুই বছরের সিনিয়র।
বউঃ শুধু এই কারণ? নাকি আরও কারণ আছে?
আমিঃ হুমম। এছাড়া আর কোন কারণই নেই।
বউঃ তাই বুঝি? তাহলে আমায় বিয়ে করলেন কেন?

আমিঃ এছাড়াও যে আমার আর কোন উপায় ছিলো না।
বউঃ মানে?

আমিঃ মানে হলো আম্মু। আম্মুর কারণেই আপনাকে আমায় বিয়ে করতে হয়েছে।
বউঃ উনি আবার আপনাকে কি করলেন?
আমিঃ কিছুই করে নাই। শুধুমাত্র একটা “কসম” দিয়েছেন। আর সেই কসমের কারণে আমি আপনাকে বিয়ে করি।

বউঃ তাই নাকি? তাহলে শুনিতো উনি আপনাকে কি কসম দিয়েছেন।
আমিঃ আম্মু বলেছেন, আমি যদি আপনাকে বিয়ে না করি তাহলে আমায় নাকি আম্মুর মরা মুখ দেখতে হবে।

বউঃ হি হি হি, আমার শাশুড়ি তো বড়ই ইনটেলিজেন্ট।

একথার জবাবে আমি কিছুই বলতে পারলাম না।

এখন, আমি শুধু মুগ্ধ চোখে আমার বউয়ের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি।
আমি এতক্ষন পর্যন্ত তার দিকে না তাকিয়েই কথা বলছিলাম। যার কারণে এতক্ষন ধরে আমি তার সৌন্দর্য দেখতে পাইনি।

মেয়েটার হাসি যেমন সুন্দর, তেমনই তার চেহারা। এককথায় বলতে পারেন, এক মায়াময়ী।

( তোমরা কেউ আমাকে ধরে, আমি তো মনে হয় হেতি প্রেমে পড়ে গেছি )
বউঃ কি হলো, আপনি আমার দিকে এমন ভাবে তাকিয়ে আছেন কেন?
(বউ আমায় একটু ধাক্কা দিয়ে বললো)

আমিঃ না মানে, কি? (আমি, ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বললাম)
বউঃ কি মানে? আবারও তাকিয়ে আছেন।
আমিঃ তাকিয়ে আছি বুঝি? একটু হেসে..
বউঃ হুমম। আমি কিন্তু উঠে গেলাম।

এই বলে বউ আমার ফ্লোর থেকে যেই উঠতে যাচ্ছিলো। তখনই তার হাত ধরে এক ঝটকায় আবার ফ্লোরে বসালাম।

বউঃ কি হলো? আপনি আমার হাত ধরলেন কেন?
আমিঃ আমি আমার বউয়ের হাত ধরেছি। তাতে আপনার কি?
বউঃ আমার হাত ধরেছেন, আবার বলছেন আমার কি? আর বউ? কে আপনার বউ? আপনিতো বললেন, আপনি আমায় স্ত্রী হিসেবে মানতে পারবেন না। তাহলে?

আমিঃ তাহলে আর কি? আমি আপনাকেই স্ত্রী হিসেবে মেনে নিলাম।
বউঃ কিন্তু আমি তো আর আপনাকে স্বামী হিসেবে মানতে পারবো না।
আমিঃ কেন?

বউঃ কেন আবার? আপনি আমার দুবছরের জুনিয়র বলে।
আমিঃ ও, এটা কোন ব্যাপার না।
বউঃ কে বললো এটা কোন ব্যাপার না, এটাই বড় ব্যাপার।
আমিঃ ওহ। তাহলে আপনি বিছানায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।
আহত দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে কথাটা বলে, আমি ফ্লোরে করা বিছানায় অপরদিকে মুখ করে শুয়ে পড়লাম।

এখন আমার খুব কষ্ট লাগছে। তারমানে ওরও এইরকম কষ্ট লেগেছে যখন আমি তাকে এইরকম করে কথা বলেছি। এসব ভাবতেছি, তখন রিনঝিন শব্দ শুরু হলো।
তারমানে ও আমার পাশ থেকে উঠে গেলো।
তখনই রিনঝিন শব্দটা তীব্রতর হলে।

আমিঃ আপনি গয়না গুলো খুলে রাখুন তো। কেমন যেন বিরক্তিকর শব্দ আসে।
বউঃ ধন্যবাদ।
আমিঃ মানে? (আশ্চার্য় হয়ে বললাম)
বউঃ মানে হলো গয়নাগুলো খুলে রাখতে বলায়।
আমিঃ ও।

কিছুক্ষন পর…

“না, আর কোন শব্দ আসছে না। তার মানে গয়না খুলা শেষ। কিন্তু ও কি ঘুমিয়ে পড়ছে নাকি?
অপরদিকে মুখ করে ঘুমিয়ে থাকায় কিছু দেখতে পাচ্ছি না।

তাই আমি ঘুমানোর ভান করে ওর দিকে মুখ ফিরিয়ে আড় চোখে তাকাতেই আমার চোখ কপালে উঠে গেলো।

কারণ, ও ড্রেস চেন্জ করছিলো।
এটা দেখল আমি তাড়াতাড়ি করে আবার অপরদিকে মুখ ফিরিয়ে ফেলি। তখনই রুমের লাইট ওপ হয়ে গেলো। ওই লাইট ওপ করলো।

তারমানে ও দেখে ফেলেছে, আমি যে ওর দিকে তাকিয়েছি। কিছু খনপরেই আমি অনুভব করলাম আমার পাশে কারো শোয়ার। ও আর কেউ নয়। ও হলো আমার বউ।

আমিঃ একি আপনি আমার পাশে শুয়েছেন কেন? আর আমাকে জড়িয়ে আছেন কেন?
( মনে মনে তো খুশিতে লুঙ্গি ডান্স করতে মন চাইতেছে তাও একটু ভদ্র সাজলাম )
বউঃ আমার স্বামীকে আমি জড়িয়ে ধরেছি। তাতে আপনার কি?
আমিঃ মানে? আপনি যে বললেন।

বউঃ আমি আপনাকে এটা বোঝাতে চাইছিলাম, আপনি যে আমাকে এভাবে কথাগুলো বললেন তখন আমার কেমন লেগেছিলো।

আমিঃ সরি।
বউঃ আমিও সরি
আমিঃ হুমম। আচ্ছা, আপনি আমায় আপনি আপনি করে না বললে ভালো হয়।
বউঃ কেন?

আমিঃ কেন আবার? আপনি আমায় এভাবে আপনি আপনি করে বললে আমার কেন জানি নিজেকে মুরব্বি মনে হয়।

বউঃ তাই নাকি? তাহলে আপনি আমায় আপনি আপনি করে বললে আমার কেমন মনে হয় বলুন তো?
আমিঃ আপনার আবার কেমন মনে হবে? আপনি আমার সিনিয়র। আর তাই আমি আপনাকে আপনি আপনি করে বলবো।

বউঃ তা হয় না। হয় দুজনে একে অপরকে তুমি করে বলবো আর না হয় আপনি করে।
আমিঃ আচ্চা ঠিক আছে। আমরা একে অপরকে তুমি করেই বলবো।
বউঃ হুমম।

আমিঃ আচ্ছা, আমি তো এখনও আপনার না মানে তোমার নামই জানি না।
(ওর দিকে মুখ করে, বললাম)

বউঃ আমার নাম হলো মাফিয়া জান্নাতুল মনি। সবাই আমাকে মাফিয়া বলেই ডাকে। কিন্তু তুমি আমায় মনি বলেই ডাকবে। আর তোমার নাম বলতে হবে না। আমি তোমার নাম জানি।

আমিঃ তাই নাকি?

বউঃ হুমম।
আমিঃ আল্লাহ দরবারে শুকরিয়া, আর ছেলেটা যে পালিয়ে গেছে তাকে ও ধন্যবাদ।
বউঃ কেন?

আমিঃ কেন আবার? আল্লাহ আমাকে একজন সিনিয়র বউ দিয়েছে ঐ ছেলের মাধ্যমে। ছেলেটা যদি অন্য মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে না যেত, তাহলে আম্মুও আমায় তোমাকে বিয়ে করতে বলতেন না। আর আমায় ও তোমাকে পাওয়া হতো না।
বউঃ তাই নাকি?

আমিঃ হুমমম। আচ্ছা, তোমার তখন আফসুস হয় নাই যখন শুনলে তোমার বিয়ের বর অন্য মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে গেছে।
বউঃ না।
আমিঃ কেন?

বউঃ কারণ যে চলে যাবার সে তো চলেই গেছে। আর ও চলে যাওয়ার খবর শুনে তোমার আম্মু মানে শাশুড়ি মা এসে আমাদের ভরসা দেয় তোমার কথা বলে। তাতে করে তো আমাদের আর কোন আফসুস থাকতেই পারে না। তাই না।

আমিঃ হুমম। আচ্ছা, আমার তো একটা কথা মাথাই ডুকছে না।
বউঃ কি কথা?

আমিঃ এই যে, আম্মু হুট করে তোমার সাথে আমার বিয়ে দিতে রাজি হয়েছিলো কেন?

বউঃ কারণ, আমার আম্মু আর শাশুড়ি মা হলো একে অপরের বান্ধবি। এক বান্ধবির বিপদে আরেক বান্ধবি এগিয়ে আসবে না, তা কি করে হয়। আর তাই তো তোমার মা আর আমার মা, তোমার আমার বিয়েতে কোন অমত পোষন করে নাই, যদিও তুমি আমার ছোট বলে।

আমিঃ এই তুমি আমাকে ছোট বলে ইনসাইল্ড করতেছো। এই কথা বলে আমি আমার মুখটা ভার করলাম, (দেখি কোনরকম আদর পাই কিনা? হা হা হা। )

বউঃ ওলে আমার, ছোট জামাইটা দেখি রাগ করছে। এই বলে আমায় জড়িয়ে ধরে একটা ইয়ে একে দিলো আমার ঠোটে।

আর আমিও সুযোগ পেয়ে তাকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ওর ঠোটে একটা ইয়ে একে দিলাম।
বউঃ এইই, আমরা কি আজ ফ্লোরে ঘুমাবো নাকি?

আমিঃ হুমম। সবাই বাসর করে খাটে। আমরা করবো ফ্লোরে। হা হা হা। এই বলে আমি আবারও তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম।
অতঃপর আর কি? বাকিটা ইতিহাস।

লেখা – সোহানা

সমাপ্ত

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “বউ যখন সিনিয়র – রোমান্টিক ছোট গল্প” গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ূন – মিষ্টার ইনোসেন্ট ডেভিল – সাইকো প্রেমের গল্প

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!