কষ্টের প্রেমের গল্প

সত্যি তোকে অনেক ভালোবাসি – গোপন ভালোবাসার গল্প

সত্যি তোকে অনেক ভালোবাসি – গোপন ভালোবাসার গল্প: শ্রাবণীর রাগ যেনো বেড়েই চলেছে। কিন্তু আহাদের ভালোবাসা তাকে আবার টেনে এনেছে আহাদের কাছে। শ্রাবণী ধীরে ধীরে আহাদের কাছে এসে বললো, আমার কাছে তুমি ঐ বলদা আহাদটাই থেকো প্লিজ!


পর্ব ১

অর্ধনগ্ন অবস্থায় খাটের নিচে লুকিয়ে আছে লামিজা। চোখের পানি সব একাকার হয়ে গেছে তার।

দরজা টা ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঢুকলো জনি।

জনিঃ বেবি তুমি কী ভয় পেয়েছো? (দরজা লাগিয়ে)কাছে এসো আমার। কথা দিচ্ছি একদম কষ্ট দিবো না তোমায়। কোথায় তুমি?
লামিজা যেনো কথা গুলো সহ্য করতে পারছে না।

ফ্ল্যাশব্যাক……

৩ বছরের রিলেশন তাদের। হঠাৎ করেই আজ জনি লামিজাকে তার বাসায় নিয়ে আসে। গল্পই করছিলো তারা কিন্তু হঠাৎ জনি লামিজার কাছে গিয়ে লামিজার ঠোঁটে ঠোঁট বসিয়ে দেয়। লামিজা বুঝতে পারে যে আজ জনির এই ছোঁয়ায় ভালোবাসা নেই আছে নিজের চাহিদা মেটানোর উত্তেজনা। লামিজা জনিকে সরিয়ে দিয়ে চলে যেতে লাগলো ঠিক তখনি জনি লামিজাকে টেনে নিয়ে লামিজাকে সোফায় বসিয়ে দেয়। লামিজার কাছে গিয়ে লামিজার বুকের আঁচল সরাতেই লামিজা ঠাস করে জনির গালে চড় বসিয়ে দেয়।

জনিঃ আজ পর্যন্ত কেউ আমার গায়ে হাত তোলেনি। তোর এত বড় সাহস তুই আমাকে চড় মারিস? (প্রচন্ড রেগে)
লামিজাঃ ঠিক করে কথা বলো। তোমার মনে এই বাজে চিন্তা আসলো? ছিঃ!
জনিঃ গার্লফ্রেন্ড হয়েছিস কীসের জন্য?

লামিজাঃ জনি আমি তোমাকে ভালোবাসি। আমি তোমার সাথে আজীবন থাকতে চাই। বিয়ের পর তো আমি তোমার। তার আগে প্লিজ এসব এ যাইও না।
জনিঃ আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি সোনা। কিন্তু আজ থেকে তোমার সাথে আমার এই ভালোবাসা আরও গভীর হবে। পূর্ণতা পাবে। আসো সোনা কাছে আসো। আমাকে জোর করতে বাধ্য করিও না প্লিজ।

লামিজাঃ জনি আমি বাসায় যাবো। আমাকে প্লিজ যেতে দাও। (কান্না জড়িত কন্ঠে)
জনিঃ তা তো হয় না সোনা। ১ বা ২ ঘন্টা পর যেতে পারবে তুমি। তার আগে নয়।
লামিজা ভয়ে চুপ করে আছে।

জনি লামিজার কাছে এসে লামিজার চোখের পানি মুছে দিয়ে লামিজার ঠোঁটে ঠোঁট মেলাতে লাগলো। লামিজা চুপ করে সহ্য করছে। শরীর কেমন যেনো অবশ অবশ লাগছে তার। জনি লামিজার গালে ঘাড়ে পাগলের মতো কিস করেই যাচ্ছে। লামিজা চোখ বন্ধ করে দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করছে। জনি লামিজার বুকের আঁচল টান দিয়ে ছুঁড়ে ফেলে ধীরে ধীরে জনি লামিজার প্লাজু টান দিয়ে খুলে ফেললো। লামিজার জামাটা তুলে আধোগোটা করে দিলো জনি। লামিজা চোখ খুলে নিজেকে অর্ধনগ্ন ভেবে চিৎকার করে কান্না করতে লাগলো।

জনি নিজের শার্ট খুলে খালি গায়ে একটা শার্ট পরে লামিজার কাছে এসে লামিজা পেটের কাছে কিস করতে লাগলো। লামিজার সারা শরীর কেঁপে কেঁপে উঠলো। লামিজার প্রচন্ড রাগ উঠে গেলো। জনিকে সরিয়ে দিতে গেলো কিন্তু পারলো না। জনি লামিজার হাত চেপে ধরে আছে। লামিজার ঠোঁটে কিস করতে লাগলো জনি। লামিজা কোনোরকম ভাবে হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে পাশের একটা কঠের ফুলদানি দিয়ে জনির মাথায় আঘাত করলো। জনি প্রচন্ড ব্যাথায় লামিজাকে ছেড়ে দিয়ে মাথা চেপে ধরলো। লামিজা এই সুযোগে পালিয়ে উপরের এক রুমে এসে খাটের নিচে লুকিয়ে পড়লো। কিন্তু জনি ঠিকই ধরতে পেয়েছে যে লামিজা কোন রুমে গিয়েছে)

জনিঃ লামিজা কোথায় তুমি? এসো আমার কাছে। এই দেখো তুমি আমাকে আঘাত করলে কতটা কেটে গিয়েছে! কিন্তু আমি তোমাকে কষ্ট দেবো না। এসো লামিজা। (পায়চারি করতে করতে)
লামিজা শক্ত করে মুখ চেপে ধরে রেখেছে। কিছুক্ষন পর লামিজা তার পিঠের মাঝে একটা গরম নিঃস্বাস পায়। লামিজা ভয়ে পেছনে তাকাতে পারছে না। টপ টপ করে চোখ দিয়ে পানি পরছে তার।
জনিঃ এই টা লুকানোর যায়গা সোনা? (লামিজাকে টেনে বের করতে করতে)
জনি লামিজাকে ধাক্কা দিয়ে বিছানায় ফেলে দিলো।

লামিজাঃ আ..আ..আ..আমাকে ছেড়ে দাও জনি। (চাদর দিয়ে নিজেকে ঢেকে নিয়ে)
জনিঃ ছাড়তে তো ভালোবাসিনি সোনা। আদর করবো বলেই তো ভালোবেসেছি। ছেড়েই যদি দেই আদর করবো কীভাবে?

জনি লামিজার কাছে গিয়ে এক টানে চাদর ছুঁড়ে ফেলে দিলো। লামিজাকে কাছে টেনে এনে লামিজার ঠোঁটে ঠোঁট রেখে লামিজার পেটে হাত বোলাতে লাগলো জনি। বিছানায় লামিজাকে ফেলে দিয়ে জনি নিজের দৈহিক চাহিদা মেটাতে লাগলো নরপশুর মতো। চিৎকার করতে করতে লামিজা একসময় দাঁত চেপে চেপে সহ্য করতে লাগলো জনির এই নরপশুময় অত্যাচার। চারদেয়ালে বন্ধি হয়ে লামিজাকে এমনি ভাবে একপ্রকার ধর্ষণই করতে লাগলো জনি।

প্রায় এক লম্বা সময় পর লামিজাকে ছেড়ে দিলো জনি।
লামিজা এখনো কেঁপে কেঁপে উঠছে। ভাবতেই পারছে না তার আজকে এত্ত বড় সর্বনাশ হয়েছে।

জনি লামিজাকে টেনে বুকে জড়িয়ে বলে, লামিজা প্রথম তো তাই একটু কষ্ট লাগছে তোমার। আমাকে ক্ষমা করে দিয়ো।
লামিজা চুপ করে শুনে যাচ্ছে। একটু পর লামিজা ফ্রেশ হয়ে জনিকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলো। জনি ফ্রেশ হয়ে এসে দেখে লামিজা চলে গেছে। জনি তাড়াহুড়া করে রেডি হয়ে বাইক নিয়ে বেরিয়ে গেলো।

ধুপ করে বিছানায় মাথা গুজে চিৎকার করে কাঁদতে লাগলো লামিজা। তার চিৎকার শুনে লায়লা ও নুরি(লামিজা, লায়লা ও নুরি একসাথে থাকে একটা ফ্লাটে) দৌড়ে এসে লামিজার পাশে বসে পড়ে।
লায়লাঃ এই কাঁদছিস কেনো?

নুরিঃ লামিজা কী হয়েছে বলবি তো?
লায়লা লামিজাকে টান দিয়ে বসিয়ে দিলো। লামিজা লায়লাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো।
নুরিঃ লামিজা প্লিজ বল কী হয়েছে তোর?
লায়লাঃ এই লামিজা বল প্লিজ। এভাকে কাঁদিস না।

লামিজাঃ আ..আ..আমি শেষ হয়ে গেছি। (কাঁদতে কাঁদতে)
লায়লা লামিজাকে ঠিকমতো বসিয়ে লামিজার চোখ মুছে দিয়ে বললো, সব খুলে বল তো।
লামিজা ধীরে ধীরে সব বলতে লাগলো। সব শুনে লায়লা আর নুরি অবাক হয়ে গেলো।
নুরিঃ এসব কী বলছিস?

লায়লাঃ আচ্ছা জনি কী তোকে বলেছে যে ওর আর তোকে প্রয়োজন নেই? এই কথা কী বলেছে?
লামিজাঃ বলতে কতক্ষন?
নুরিঃ এমনটা ভাবছিস কেনো?

লামিজাঃ আজ কাল এমনি তো হচ্ছে। প্রয়োজন শেষ তো সব শেষ। (কান্না জড়িত কন্ঠে)
নুরিঃ জনি মোটেও ঐ রকম না। আমার বিশ্বাস।

লায়লাঃ বাদ দে তো। আচ্ছা জনি আর ফোন দেয় নি?
লামিজাঃ ফোন অফ করে রাখছি।
লায়লাঃ নিশ্চই টেনশনে আছে। ফোন দে ওকে। আমি কথা বলবো।

লামিজাঃপারবো না। আমি ওর সাথে আর থাকবো না।
লায়লাঃ কী বলছিস এই সব?
লামিজাঃ যা বলছি ঠিক বলছি।
নুরিঃ কিন্তু…

হঠাৎ করে নুরির ফোন বেজে উঠলো। ফোনটি করেছে নুরির বয়ফ্রেন্ড নিশান আর জনির খুব কাছের বন্ধু। নুরি ফোনটা ধরলো।
নিশানঃ হ্যাঁলো নুরি। জনি ACCIDENT করেছে(কান্না করতে করতে)
নুরিঃ কীহ! জনি ACCIDENT করেছে? (চমকে উঠে)


পর্ব ২

নিশানঃ হ্যাঁ নুরি। লামিজার ফোন বন্ধ পেয়ে জনি আমাকে ফোন দেয় যে আমি যাতে তোমাকে ফোন করে লামিজার খোঁজ নিয়ে ওকে দিতে পারি। কিন্তু ফোনটা রেখে ২ মিনিটের মাঝে এক লোক ফোন দিয়ে বললো যে জনি ACCIDENT করেছে। (প্রচন্ড কেঁদে কেঁদে)

নুরিঃ বাবু একটু শান্ত হও তুমি। কোন হাসপাতালে তুমি আছো?
নিশানঃ আইডিয়াল HOSPITAL এ।

নুরি ফোনটা রেখে দিতেই প্রচন্ড চিৎকার করে অঙ্গান হয়ে গেলো লামিজা। একটু পর নুরি লামিজার মুখে পানির ফোঁটা দিতেই জেগে কান্না শুরু করে দেয় লামিজা।
লামিজাঃ আমার জন্যই আজ ওর এমন অবস্থা। আজ ওর কিছু হলে আমি কাকে নিয়ে বাঁচবো? (প্রচন্ড কেঁদে কেঁদে)
লায়লাঃ কিচ্ছু হবে না। নিশ্চই আল্লাহ সব ঠিক করে দেবেন। এভাবে কাঁদিস না প্লিজ। (লামিজাকে আগলে রেখে)

নুরিঃ চল আগে Hospital এ যাই।
লায়লাঃ ফ্রেশ হয়ে নে লামিজা।
লামিজাঃ এভাবেই যাবো আমি। (চোখ মুছতে মুছতে)
নুরিঃ চল তাহলে।

কিছুক্ষন পরেই Hospital a পৌঁছে গেলো তারা। প্রায় পাগলের মতো জনি জনি করে ছুটে যেতে লাগলো লামিজা। নিশান লামিজার সামনে গিয়ে লামিজাকে শান্ত করার চেষ্টা করতে লাগলো। কিন্তু লামিজা কিছুতেই বুঝতে চাইছে না। সে তার জনিকে দেখবেই। লায়লা আর নুরি এসে লামিজাকে কিছুটা শান্ত করলো।

নুরিঃ নিশান এখন কী অবস্থা জনির? কোথায় জনি?
নিশানঃ অপারেশন থিয়েটারে। (ভয়ার্ত কন্ঠে)
নুরিঃ কীহ! (চমকে গিয়ে)

লামিজা নিশানের কথা শুনে প্রচন্ড কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো। লায়লা লামিজাকে থামানোর চেষ্টা করতে লাগলো।
নিশানঃ অনেক রক্তপাত হয়েছে আর সারা শরীরে অনেক কাঁচ গেথে উগেছে। (থেমে থেমে বলতে লাগলো)

লায়লা, লামিজা ও নুরির গায়ে যেনো কাটা বিঁধতে লাগলো নিশানের কথা শুনে। লামিজা কিছুতেই নিজেকে শান্ত করতে পারছে না।
নুরিঃ ডাক্তার কী বলেছে? (প্রায় কান্না জড়ানো কন্ঠে)
নিশানঃ এখনো কিছু বলা যাচ্ছে না। (ভারী কন্ঠে)

প্রায় তিন ঘন্টা হয়ে গেলো। নিশান, নুরি, লামিজা আর লায়লা ওটি থেকে ডাক্তারের বেরুনোর অপেক্ষা করছে। লামিজার কন্ঠ বসে গেছে। একটু পর পর সে কান্না করছে। লায়লা লামিজাকে শক্ত করে ধরে আছে। নুরির চোখ গিয়ে পড়েছে ওটির দিকে। নিশান মাথা নিচু করে চোখ বন্ধ করে আছে।

হঠাৎ ওটির দরজা খুলে গেলো। ক্লান্ত হয়ে বেরিয়ে এলো DOCTOR..হুড়মুর করে নুরি গিয়ে ডাক্তারের সামনে দাঁড়ালো।
নুরিঃ স্যার কেমন আছে জনি? (জোড়হীন গলায়)

নিশান, লামিজা ও লায়লা উঠে গিয়ে ডাক্তারের সামনে গেলো।
ডাক্তারঃ Patient এর অবস্থা ভালো নয়। আমরা রক্তক্ষরন থামাইতে পেরেছি এবং শরীরের গেঁথে যাওয়া সব কাঁচ বের করেছি। কিন্তু Patient এর মধ্যে কোনো নরমাল বিষয় দেখছি না। সে কোমাতে চলে গিয়েছে।

এখন শুধু আল্লাহকে ডাকুন। তিনি যা করবেন ভালোই করবেন।
ডাক্তার যাওয়ার পর লামিজা আবার অঙ্গান হয়ে যায়। কিছু নার্স এসে লামিজাকে কেবিনে নিয়ে যায়। লায়লা লামিজার পাশে বসে আছে। নিশান আর নুরি বাহিরে দাঁড়িয়ে আছে।
নুরিঃ নিশান! (কাতর কন্ঠে)
নিশানঃ বলো। (ভারী কন্ঠে)

নুরিঃ জনির মা বাবা জানে?
নিশানঃ না। আঙ্কেল, আন্টি দেশের বাইরে গেছেন ব্যাবসার কাজে। আসতে ১ মাসের মতো লাগবে।
নুরিঃ তুমি জানাবে না তাদেরকে? (আশ্চর্য কন্ঠে)
নিশানঃ আঙ্কেল, আন্টি জনিকে নিয়ে অনেক চিন্তা করে। এখন যদি জানাই তাহলে সব ফেলে তারা ছুটে আসবে নুরি।
নুরিঃ তাই বলে তুমি তাদের জানাবে না? তাদের কাজটাই তোমার কাছে বেশি মনে হচ্ছে? (আশ্চর্য কন্ঠে)

নিশানঃ আমি ওভাবে বলি নি নুরি। জনি আমার নিজের ভাইয়ের চেয়েও বেশি কিছু। ওর মা বাবা আর ও সুখে দুঃখে সব সময় আমার পাশে থেকেছে। আমি এই মহুর্তে তাদের কষ্ট বা টেনশন দিতে চাচ্ছি না। (করুন কন্ঠে)
নুরিঃ হুম।

খুব সকালে ঘুম ভেঙ্গে গেলো লামিজার। একটা শান্ত কেবিনে শুয়ে আছে সে। পাশের বেডে নুরি আর লায়লা জড়োসড়ো হয়ে শুয়ে আছে। মাথা তার হালকা ব্যাথা করছে। দেখতে পেলো তার শরীরে স্যালাইন প্রবেশ করছে। কিন্তু তার মন মানছে না। সে তার জনিকে দেখতে চায়। লামিজা আস্তে আস্তে উঠে পড়লো। স্যালাইনটা খুলতে যাবে ঠিক তখনি নিশান রুমে প্রবেশ করে চিৎকার দিয়ে উঠলো। লামিজার হাত আটকে গেলো। লায়লা আর নুরি ধুপ করে উঠে পড়লো।

নুরিঃ কী হয়েছে নিশান?
নিশানঃ কেনো স্যালাইনটা খুলতে চাইছিলে লামিজা? (লামিজার দিকে তাকিয়ে)

লায়লাঃ কী বলছো নিশান? (লামিজার কাছে এসে)
নিশানঃ আমি না এলে লামিজা এখনি স্যালাইনটা খুলে ফেলতো।
লামিজাঃ আ..আ..আমিতো শু…
নিশানঃ চুপ করো একদম(প্রচন্ড ধমক দিয়ে)
লামিজা চমকে উঠলো নিশানের ধমকে।

নুরিঃ লামিজা তুই নিজেও অসুস্থ। এখন যদি এসব পাগলামি করিস তাহলে তো আরও অসুস্থ হয়ে পড়বি।
লামিজাঃ আমার জনিকে আমি একটু দেখবো(কাঁদতে কাঁদতে)
নিশানঃ লামিজা তুমি নিজে একটু সুস্থ হও তখন জনিকে দেখিও।

লামিজা কাঁদতেই লাগলো।
নুরিঃনিশান এখন কেমন অবস্থা জনির?
নিশানঃ এখনো ঙ্গান ফিরেনি জনির। (মৃদু কন্ঠে)
লামিজাঃ স..সব আমার জন্যে। আমার জনির কিছু হলে আমিও নিজেকে শে..শেষ করে দিবো। (প্রচন্ড কান্না করতে করতে)

নুরি লামিজার পাশে এসে লামিজাকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বললো, লামিজা প্লিজ কাঁদিস না। তোর কান্না আমার সহ্য হয় না রে। আর এভাবে এসব কথা বলিস না প্লিজ। তুই এভাবে কাঁদলে আরও অসুস্থ হয়ে পড়বি। জনির পাশে তোকে প্রয়োজন। তুই তো জনির কাছে যেতে চাস। তাড়াতাড়ি সুস্থ হলেই তুই তোর জনিকে দেখতে পারবি। প্লিজ কাঁদিস না।
লামিজা ধীরে ধীরে কান্না থামায় দিলো। একটু পর লামিজা ঘুমিয়ে পড়লো।

জনির পাশে বসে আছে নিশান ও নুরি। নিষ্পাপ শিশুর মতো শুয়ে আছে জনি। মুখে Oxyzen MUSK..কোনো সাড়া শব্দ নেই তার।
একটু পর ডাক্তার রুমে প্রবেশ করলো। নার্স নুরি আর নিশানকে একটু বাহিরে যেতে বললো। নুরি আর নিশান বাহিরে দাড়িয়ে ডাক্তারের অপেক্ষা করতে লাগলো।
একটু পর ডাক্তার বেরিয়ে এলো।

ডাক্তারঃ Patient এর ঙ্গান এখনো ফেরে নি। সম্ভাবনা খুব কম। তবুও প্রার্থনা করতে থাকুন। তবে এমন অবস্থায় ওনার ব্রেন ওনাকে বাঁচার আগ্রহ দিচ্ছে।
নুরিঃ মানে?

ডাক্তারঃ এমন অনেক Patient আছে যারা Serious আত্নহত্যার পরেও বেঁচে যায়। কারন তার ব্রেইন তাকে বাঁচার শক্তি যোগায়। মিঃ জনির ও ঠিক তাই। ওনার মনে কিছু একটা আছে যেটা উনি প্রকাশ করতে চান। হয়তো সেটা তার খুব কাছের প্রিয় মানুষকে। তাই তার ব্রেইন তাকে একটা বাঁচার আগ্রহ দিচ্ছে। এটা সম্পূর্ণ সৃষ্টিকর্তার কৃপা। মাঝে মাঝে আমরাও অবাক হয়ে যাই এমন ঘটনা দেখে। তাই বলছি মহান আল্লাহকে ডাকুন INSHALLAH সব ঠিক হয়ে যাবে।
নিশানঃ জ্বি। ধন্যবাদ Doctor.


পর্ব ৩

ডাক্তারঃ হুম। আচ্ছা আমি চলি।
ডাক্তার চলে যাওয়ার পর হাঁটু গেড়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো নিশান। নুরি নিশানের সামনে গিয়ে নিশান কে বুকে জড়িয়ে নেয়। নিশান নুরির বুকের মাঝে শান্তি খুঁজার চেষ্টা করতে থাকে।
নিশানঃ আমি এখন কী করবো নুরি? (কাঁদতে কাঁদতে)

নুরিঃ বাবু প্লিজ কেঁদো না। জনির ব্রেইন তো ওকে বেঁচে থাকার শক্তি দিচ্ছে। নিশ্চই সব ঠিক হয়ে যাবে। তুমি এভাবে ভেঙ্গে পড়ো না। (নিশানের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে)
লামিজার কেবিন থেকে দৌড়ে লায়লা বেরিয়ে নিশান আর নুরির কাছে এলো।

লায়লাঃ অ..নুরি..লামিজার অবস্থা খুব খারাপ হচ্ছে। (ভয়ার্ত কন্ঠে)
নুরি নিশান কে ছেড়ে দিয়ে বললো, কী বলছিস এই সব? (খুব ভয়ে)
নিশানঃ চলো তো। (চোখ মুছতে মুছতে)

নিশান, লায়লা আর নুরি লামিজার কেবিনে গিয়ে দেখে কয়েকজন নার্স লামিজাকে সামলানোর চেষ্টা করছে কিন্তু লামিজা ছটফটাতে শুরু করেছে। নিশান দ্রুত ডাক্তার কে ডেকে আনে। ডাক্তার একটা ঘুমের ঔষধ লামিজার হাতে পুশ করে দিলো।

নুরিঃ কী হয়েছে ওর Doctor?
ডাক্তারঃ ওনার শরীর প্রচন্ড দুর্বল হয়ে গিয়েছে। হয়তো বা কাউকে হারানোর ভয়ে উনি ভীত হয়ে আছেন। তাই তার কাছে যাওয়ার জন্য তিনি ছটফট করছেন। কিন্তু চিন্তা করবেন না ঘুমের ঔষধ দেওয়া হয়েছে। কাল বা তার পরের দিন তিনি পুরোপুরি ঠিক হয়ে যাবেন INSHALLAH..
লায়লাঃ ধন্যবাদ স্যার।

ডাক্তারঃ আচ্ছা আমি তাহলে আসি। আর ওনার খেয়াল রাখবেন।
নুরিঃ অবশ্যই স্যার।

এশার আযান দিচ্ছে। গম্ভীর হয়ে জনির পাশে বসে আছে নিশান। কিছুই চিন্তা করতে পারছে না সে।

নিশানঃ ভাই একবার চোখ টা খোল। আমি জানি তুই কেনো লামিজার সাথে এই কাজ করেছিস। কিন্তু তাই বলে তুই তোর লামিজাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার ফন্দি আঁচছিস? ভাই তোর মনে আছে আমার মা বাবা যখন ACCIDENT এ মারা যায় তখন আমার পাশে শুধু তুই ছিলি। তোর বাসায় নিয়ে গিয়ে আন্টি আর আঙ্কেলকে বাবা, মা বলার অধিকার দিয়েছিলি। আন্টি আর আঙ্কেল আমাকে হাসি মুখে মেনে নিয়েছিলো(জনির হাত ধরে কাঁদতে কাঁদতে)ভাই তুই একবার কথা বল। তুই না আমার ভাই। তুই না আমায় বলেছিলি তুই থাকতে কেউ আমায় একা করে চলে যেতে পারবে না। আজ তুই কেনো সেই না ফেরার পথে পাড়ি দিচ্ছিস? আমাকে কী তোর একটুও মনে পড়ছে না? কথা বল জনি! প্লিজ কথা বল। (হাঁটু গেড়ে জনির হাত ধরে কান্না করতে করতে)

নুরি এসে নিশানের এমন অবস্থা থেকে চোখের জল আর ধরে রাখতে পারলো না। নিশানের পাশে গিয়ে বসে পড়লো নুরি।

নিশানের মাথায় হাত রাখতেই নিশান নুরিকে জড়িয়ে ধরলো। নুরি পরম আবেগে নিশানকে শক্ত করে নিজের বুকে মিশিয়ে নিলো।
নুরিঃ নিশান তোমার কান্না দেখলে আমারও কান্না এসে যায়। এত ভালোবাসো তুমি জনিকে? (কাঁদতে কাঁদতে)

নিশানঃ ও কেনো বুঝে না যে ও এভাবে থাকলে শুধু আমার না ওর সবচেয়ে প্রিয় মানুষটার কষ্ট হয়। লামিজার অবস্থা ও ভালো না। এখন কী করবো আমি নুরি? (কান্না জড়ানো কন্ঠে)
নুরিঃ একদম টেনশন করিও না তুমি নিশান। দেখবে সব একদিন ঠিক হয়ে যাবে। আমি তো তোমার পাশেই আছি নিশান। (নিশানের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে)

রাতের খাবার শেষে লায়লা চুপ করে লামিজার দিকে তাকিয়ে নিরবে দু ফোটা অশ্রু ফেলছে।
নিশান নুরির কোলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছে। নুরি শান্ত হয়ে নিশানের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে আর শান্তিতে ঘুমিয়ে থাকা জনির দিকে তাকিয়ে অনেক কিছু ভাবছে। একসময় ভাবতে ভাবতেই নিশানের বুকে ঘুমিয়ে পড়ে নুরি।

খুব সকালে লামিজার ঘুম ভেঙ্গে যায়। এখনো স্যালাইন চলছে। লামিজার মনে স্বস্তি জাগছে এই ভেবে যে আর কিছুক্ষন পরেই স্যালাইন টা শেষ হবে। তখন সে তার জনিকে দেখতে পারবে।
লামিজাঃ(জনি তোমার কিচ্ছু হবে না। আমি তোমার কিচ্ছু হতে দিবো না। তুমি দেখো ঠিক আমি তোমাকে আমার করে নিবো। আবার আমরা একসাথে গল্প করতে পারবো, দূরের আকাশে তারা দেখতে পারবো, হালকা নিয়ন আলোয় একসাথে হাঁটতে পারবো আর সবচেয়ে বড় কথা তোমার বুকের বাম পাশে মাথা রেখে কান পেতে তোমার হৃদস্পন্দন শুনে ঘুমিয়ে যেতে পারবো। আমি আসছি জনি। আমায় প্লিজ ছেড়ে যেও না। প্লিজ)

কথাগুলো ভাবতে ভাবতে লামিজার চোখে জল এসে গেলো।
লায়লাঃ জনির কথা ভাবছিস? (লামিজার পাশে এসে)
লামিজা মাথা নাড়লো।

লায়লা লামিজার চোখের কোণে জমে থাকা জল গুলো মুছে দিয়ে বললো, এখন তো তুই সুস্থ হয়েছিস। এখন তোর দায়িত্ব জনিকে সুস্থ করে তোলা। পারবি না?
লামিজাঃ আমাকে পারতেই হবে লায়লা। আমি খুব ভালোবাসি জনিকে। আমি জানি আমি যদি ডাকি ও ঠিক সাড়া দেবে। (কান্না মেশানো গলায়)
লায়লাঃ হুম। (মৃদু কন্ঠে)

দুপুরের দিকে লামিজাকে ডাক্তার দেখে বললো, হুম আপনি এখন সুস্থ। কিন্তু বেশি ভেঙ্গে পড়বেন না। তাহলে আবার অসুস্থ হয়ে পড়বেন।
লামিজাঃ স্যার আমি কী জনিকে দেখতে যেতে পারি এখন? (কাতর কন্ঠে)
ডাক্তারঃ হুম পারেন। কিন্তু ওনার অবস্থার কোনো উন্নতি হয় নি।

লামিজাঃ আমি ডাকলে ঠিকই সাড়া দেবে ও। এটা আমার বিশ্বাস। (ছলছল চোখে)
ডাক্তারঃ আশা করি তাই যেনো হয়। আচ্ছা আমি তাহলে আসি।

ডাক্তার চলে যাওয়ার পর লায়লা আর নুরি লামিজাকে ধরে ধরে জনির কাছে আনলো। নিশান লামিজাকে জনির পাশে বসিয়ে দিলো। লামিজা জনিকে দেখতে লাগলো। মাথার চারপাশে সাদা ব্যান্ডেজ। মুখের ওপর Oxyzen musk..হাত, পা শীতল হয়ে আছে। লামিজা দেখলো জনির পাশে কিছু বড় বড় যন্ত্র কী সব রেখার মতো টেনে যাচ্ছে। লামিজার ঐ সব অনেক ভয় লাগে। লামিজা জনির হাতটা ধরে অঝোরে কান্না করতে লাগলো। নুরি আর লায়লা লামিজাকে সামলাইতে যেতে চাইছে নিশান বাঁধা দিয়ে বলে, কী হয় দেখে যাও তোমরা।

লামিজাঃ জনি! এই জনি! এই দেখো আমি তোমার লামিজা। এই দেখো জনি আমি তোমার পাশে বসে আছি। SORRY সোনা আজ আমার জন্য তোমার এই অবস্থা। বিশ্বাস করো আমি কখনো এমনটা করতে চাইনি। আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাইনি। তোমার প্রতি রাগ হচ্ছিল খুব তাই ফোনটা বন্ধ করেছিলাম।

আমি তোমাকে ভুল বুঝেছি জনি তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও জনি। (প্রবল ভাবে কান্নায় ভেঙ্গ পড়ে)জনি! ও জনি! আমায় বুকে জড়িয়ে নেবে না? আমার ঠোঁটে মিষ্টি পরশ এঁকে দেবে না? আমাকে তোমার বুকের বাঁ পাশে জায়গা দেবে না? আমার অসুস্থতায় আমার খেয়াল নেবে না? এই দেখো আজ ২ দিন ধরে আমি অসুস্থ। অথচ তুমি আমার একবার ও খোঁজ নাও নি। আমি কিন্তু ভীষন রাগ করেছি। জনি আমার রাগ ভাঙ্গাবে না? (কান্না যেনো থামছেই না)

{নিশান, নুরি, লায়লা নিজেদের শান্ত রাখতে পারছে না। চোখ বেয়ে বেয়ে তাদেরও জল গড়িয়ে পড়ে যাচ্ছে সাদা টাইলসের স্বচ্ছ মেঝেতে। }

লামিজাঃ জনি! বাবু আমাকে সোনাপাখি বলে ডাকবে না? আমার হাতে হাত রেখে বলবে না যে তুমি আমাকে ভালোবাসো? বলো আমাকে জনি। বলবে না তুমি আমাকে ভালোবাসো? ছয় তারের গিটারটা হাতে নিয়ে আমার জন্য গান রচনা করবে না? বলো জনি আমার জন্য গান গাইবে না? (ফোঁপাতে ফোঁপাতে)শু..জনি..আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। আ..আ..আমাকে ছেড়ে চলে যেও না। আমি তাহলে মরেই যাবো। জনি তুমি কী শুনতে পারছো? (কান্না মিশ্রিত রাগে চিৎকার দিয়ে)কথা বলো জনি। please কথা বলো……।


পর্ব ৪

লামিজা প্রচন্ড ভাবে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছে। লায়লা লামিজার কান্না সহ্য না করতে পেরে লামিজার পাশে এসে বললো, লামিজা এভাবে কাঁদিস না। তোর শরীর এখনো ভালো হয় নি। (মৃদু কান্নায়)
লামিজা লায়লাকে জড়িয়ে ধরে বললো, ও কেনো বোঝে না আমার কষ্ট হচ্ছে? আমার বুকের ভেতরটা খাঁ খাঁ করছে! বল লায়লা ও কেনো কথা বলছে না? বল? (কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে)
নুরি আর সহ্য করতে পারছে না। দৌড়ে এসে নিশানের বুকে মাথা গুজে দেয়। নিশান চোখের পানি মুছে নুরিকে দুহাত দিয়ে নিজের বুকে আগলে নেয়।
লামিজা লায়লাকে ছেড়ে জনির হাত ধরে বলে, জনি এই দেখো আমি তোমার লামিজা। যাকে তুমি খুব ভালোবাসো। শু..শু..জনি চোখ খোলো! (ফোঁপাতে ফোঁপাতে)
কেবিনের দরজা খুলে নার্স এসে প্রবেশ করে। নার্স চিৎকার করে বলে ওঠে, এভাবে চিৎকার করছেন কেনো? বের হয়ে যান সবাই!

লায়লা লামিজাকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে লাগলো কিন্তু লামিজা জনির হাত ছেড়ে যেতে চাইলো না। একসময় নুরি আর লায়লা জোড় করে লামিজাকে টেনে টেনে নিয়ে যেতে লাগলো। লামিজার কান্নায় জড়ানো চিৎকার সারা রুমে ছড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ছে।

(জনি! এরা আমাকে তোমার কাছে থেকে নিয়ে যাচ্ছে। আমাকে বুকে নাও জনি। আমাকে আগলে রাখো। আমাকে হারিয়ে যেতে দিও না। জনি, জনি)চিৎকার করছে তো করছেই।
নুরি আর লায়লাকে ধাক্কা দিয়ে লামিজা জনির হাত শক্ত করে ধরে রাখলো। লায়লা, নুরি আর ২ টা নার্স মিলে লামিজার দুই বাহু ধরে লামিজাকে টেনে জনির কাছে থেকে সরাতে লাগলো। লামিজা তার সব শক্তি দিয়ে জনির হাত ধরে রাখলো আর কান্নায় ভেঙ্গে বলতে লাগলো, জনি ! এই দেখো এরা আমায় সরিয়ে নিচ্ছে। তোমার বুকে জায়গা করে দাও আমি থাকতে চাই। আগলে নাও আমায় এদের খুব ভয় করছে আমার। জনি!

অবশেষে লামিজার শরীর দুর্বল হয়ে পড়লো। নুরি আর লায়লা লামিজাকে সরাতে সক্ষম হলো। নার্সরা ডাক্তার সহ প্রবেশ করলো। লামিজা আবার অঙ্গান হয়ে যাওয়ার আগে বলে উঠলো, আমাকে ছেড়ে দিও না জনি। আমি তোমাকে অনেক ভালো..বাসি….

হঠাৎ করে জনির মাথায় কিছু কথা এসে আটকা পড়ে। তার মস্তিষ্ক বার বার তাকে শোনাচ্ছে, জনি আমি তোমাকে ভালোবাসি, আমাকে ছেড়ে যেও না, তোমার বুকে আমাকে আগলে রাখো প্লিজ।
হঠাৎ ধুপ করে কেঁপে উঠলো জনি।

নিশান, নুরি, ডাক্তারের চোখ জনির দিকে। Oxyzen musk এর চারপাশে সাদা ধোঁয়াটে হয়ে গেলো জনির মুখের নিঃস্বাসে। জনি বলে উঠলো, মি..লামিজা আমিও তোমাকে ভালোবাসি।
ছটফটাতে লাগলো জনি। ডাক্তার দ্রুত জনিকে চেকআপ করে ঘুমের ঔষধ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিলো। নিশান, নুরি, লায়লা বাহিরে অপেক্ষা করছে। প্রায় ২০ মিনিট পর ডাক্তার বের হলো।
নিশানঃ স্যার আমার ভাই? (কান্না বিজড়িত চোখে)

ডাক্তারঃ মিঃ জনির ঙ্গান ফিরেছে। কিন্তু মাথার আঘাত প্রচন্ড হওয়ায় রক্তকণিকা চলাচলে একটু সমস্যা হয়। এখন কিছু ঔষধ আর ঘুমের ইনজেকশন পুশ করা হয়েছে। আশা করা যায় খুব দ্রুত উনি সুস্থ হয়ে যাবেন।

নুরি, নিশান আর লায়লা যেনো নিজ দেহে প্রাণ ফিরে পেলো।
নুরিঃ ধন্যবাদ আল্লাহ। (দু হাত দিয়ে মোনাজাত করে)

ডাক্তারঃ লামিজা কোথায়?
লায়লাঃ পাশের কেবিনে ঘুমের ঔষধ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে।
ডাক্তারঃ ওনার আর্তনাদেই হয়তো মহান আল্লাহ খুশি হয়ে জনির ঙ্গান ফিরিয়ে দিয়েছেন।
নুরিঃ সেটা বুঝলাম। কিন্তু লামিজার আর্তনাদের বিষয়টা বুঝলাম না?

ডাক্তারঃ বিঙ্গানের ঙ্গানই সীমাবদ্ধ নয়। কিছু প্রাকৃতিক উপায় আর সৃষ্টিকর্তার দয়া অনেক কিছু ঘুরিয়ে দেয়। আমার যতটুকু মনে হচ্ছে লামিজার আর্তনাদ সব জনি কান দিয়ে শুনছিলো। কিন্তু ওনার ব্রেইন সেই কথা গুলোর প্রতি সঠিক উওর দিতে পারছিলো না। কিন্তু কিছু কথা জনির মস্তিষ্কে গভীর ভাবে গেথে যাওয়ায় তা বারে বারে প্রতিধ্বনিত হতে থাকে। ফলে তার ব্রেইন তার মুখে কয়েকটা কথা পৌঁছে দেয়। একই সাথে সে কথা বলে এবং শ্বাস ছাড়ে। রক্তকণিকা গুলো কিছু কারনে বাঁধা পেয়ে জনির শরীরের সব অঙ্গকে উদ্দীপনার এক স্রোতে ভাসিয়ে দেয়। ফলে সে হয়তো ছটফটাতে থাকে। পুরো বিষয়টা শুধু একটা ইমাজিনেশন।

নিশানঃ হুম। খুব গভীরের বিষয়।
ডাক্তারঃ আচ্ছা আমি এখন চলি। কোনো সমস্যা হলে আমি তো আছিই। চলি তাহলে…
ডাক্তার চলে যাওয়ার পর লায়লা, নুরি আর নিশান লম্বা এক শ্বাস ফেলে।

ঘড়ির কাঁটাটা ১২ তে বাজতে চললো। জনির পাশে বসে ঝিমুচ্ছে নিশান। একটা, একটা করে আঙ্গুল নড়তে থাকলো জনির। ধীরে ধীরে চোখ খুলেলো জনি। মাথার ব্যাথাটা এখনো অনেক বেশি। আস্তে আস্তে জনি পাশ ফেরার চেষ্টা করলো। নিশান একটু শব্দ পেয়ে চোখ খুললো। আনন্দে তার চোখে জল এসে গেলো।

নিশানঃ ভাই তুই ঠিক আছিস? জানিস কতোটা টেনশনে ছিলাম আমরা? (জনির হাত ধরে)
জনিঃ ভা..ভাই..আমাকে মাফ করে দিস। তোদের অনেক কষ্ট দিয়েছি। (আস্তে আস্তে কথা বলে)

নিশানঃ কথা বলিস না ভাই। আল্লাহ তোকে সুস্থ করেছে এটাই অনেক। তুই চুপ করে শুয়ে থাক আমি ডাক্তারকে ডেকে আনছি।
জনিঃ ভাই আমার লামিজা? (খুব দ্রুত)
নিশানঃ তোর লামিজা ঠিক আছে ভাই। তোকে নিয়ে একটু বেশি চিন্তা করে তো তাই একটু ঘুমিয়ে আছে।

জনিঃ জানিস ওর ডাক আমার কানে এতটা আর্তনাদ সৃষ্টি করেছে যে আমি বোধহয় আমার লামিজার জন্যই চোখ খুলেছি। (চোখের কোণে পানি জমে)
নিশান জনির পাশে এসে বসে জনির হাত ধরে বললো, আমি জানি ভাই। তোর লামিজা তোকে কখনো এই অবস্থাতে দেখতে পারে নি। যতবার তোর কাছে আসতে চেয়েছে তোর অবস্থা দেখে ও নিজে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তোর লামিজা ঘুম থেকে উঠে যখন শুনবে যে তার জনি চোখ মেলে তাকিয়েছে না জানি কীভাবে ছুটে তোর কাছে চলে আসবে! (আশ্চর্য মাধুরতায়)
জনিঃ একবার ডেকে দে না আমার লামিজাকে। (নিশানের হাত আঁকড়ে ধরে)

নিশানঃ একটু অপেক্ষা কর ভাই। কাল সকালে দেখবি এখন!
জনিঃ হুম। (কিছুটা ব্যর্থ সুরে)

ডাক্তার জনিকে দেখছে। বাহিরে নুরি আর নিশান দাঁড়িয়ে আছে। দুজনে আজ একটু হালকা হয়ে আছে। ডাক্তার বের হয়ে বললো, মিঃ জনিকে ঔষধ দেওয়া হয়েছে। ঔষধ গুলো সিস্টারের কাছে থেকে বুঝে নেবেন। কনডিশন আগের থেকে অনেক ভালো।
নিশানঃ ওকে স্যার।
ডাক্তার চলে যাওয়ার পর নিশান ঔষধ সব বুঝে নিলো।

ঘড়ির কাঁটা ২ টার ঘরে ছুঁই ছুঁই করছে। নিশানের কোলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছে নুরি। এই কয়েকদিন অনেক চাপের ওপরে গেছে তারা। নিশান নুরির মাথার চুলগুলো আলতো করে ছুঁয়ে দিচ্ছে। মিষ্টি আলোতে এক নিষ্পাপ বাচ্চার মতো লাগছে নুরিকে। নিশান তার ঠোঁটের কোণে একটা মিষ্টি হাসি ফুটিয়ে নুরির কপালে মিষ্টি একটা পরশ একে দিয়ে বেডের এক সাইডে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। পাশের বেড থেকে হাসিমুখে জনি নিশান আর নুরির মিষ্টি ভালোবাসাতে অনেক স্বস্তি পেলো। আর ভাবতে লাগলো তার নিজের কল্পনার দেশে থেকে তার ডাক এসেছে। সবুজের বুকে নীল রঙ্গের শাড়ীতে লামিজাকে দেখতে লাগলো জনি।

লামিজাঃ জনি! কাছে এসো। কী দেখছো দাঁড়িয়ে?
জনিঃ এতো সুন্দর কেনো তুমি?
লামিজাঃ তাই নাকি?
জনিঃ হ্যাঁ। অনেক। এভাবে তোমাকে প্রতিদিন দেখলে আমি তো শেষ হয়ে যাবো!

লামিজাঃ থাক আর শেষ হতে হবে না। তোমার বুকে জায়গা করে দিও আমি তোমার হৃদপিন্ড হয়ে যাবো। (হাসি মুখে)
জনিঃ তুমি তো আমার হৃদপিন্ডই। আমার বেঁচে থাকার মূল Oxygen…
লামিজাঃ তাহলে আমি এখনে কেনো? আমাকে বুকে নিয়ে নাও। তোমার প্রতিটি নিঃশ্বাসে আমায় জড়িয়ে নাও। বেশি দেরী করলে কিন্তু বাঁচতে দেবো না। (মায়াবী স্বরে)
জনিঃ এসো তাহলে। আমি তো আর পারছি না শ্বাস নিতে।

লামিজা দৌড়ে গিয়ে জনির বুকে মাথা গুজে দিলো। জনি পরম আবেশে লামিজাকে বুকে জড়িয়ে নিলো।
লামিজাঃ এখন শ্বাস নিতে পারছো?
জনিঃ হ্যাঁ। আমার Oxygen যে ফিরে পেয়েছি।
লামিজাঃ যাহ! মিথ্যুক। (লজ্জায় মাথা গুজে)
জনিঃ I Love You MIRA..

লামিজাঃ I Love You too SHUVO…
জনি এসব কল্পনায় ভাবতে ভাবতেই ঘুমিয়ে গেলো।

ভোর সকালে ঘুম ভেঙ্গে গেলো লামিজার।


পর্ব ৫

আজও নিজেকে একটা আবদ্ধ শান্ত ঘরে আবিষ্কার করলো লামিজা। আজ তার দেহে স্যালাইন প্রবেশ করছে না। হুড়মুড় করে উঠে পড়লো লামিজা। পাশ ফিরে লায়লাকে ডাকতে লাগলো।
লামিজাঃ লায়লা? এই লায়লা?

লায়লা ঘুম জড়ানো চোখে উঠে বসে বললো, লামিজা তুই ঠিক আছিস তো?
লামিজাঃ আমি একদম ঠিক আছি। আমার জনি? (ছটফট করতে করতে)
লায়লাঃ একটু শান্ত হয়ে বস। আমি সব কিছু বলছি।
লামিজাঃ নাহ। আমি জনিকে দেখবো। চল।

লায়লাঃ আবার গিয়ে পাগলামো করবি না তো?
লামিজাঃ যতক্ষন ও উঠবে না, চোখ খুলবে না আমি পাগলামো থামাবো না। তুই কী যাবি?
লায়লা হাসতে হাসতে বললো, আরে পাগলি তোর জনি কালকেই চোখ খুলেছে।
লামিজাঃ কীহ! (ছলছল চোখে তাকিয়ে)
লায়লাঃ আবার কাঁদিস না প্লিজ।

বলতে না বলতেই লামিজা কান্না করতে করতে লায়লাকে জড়িয়ে ধরলো।
লায়লাঃ জড়িয়ে ধরলি ক্যান?
লামিজাঃ এত বড় একটা খবর দেওয়ার জন্য(কান্না সুরে)
লায়লাঃ চোখ টা মুছে জনিকে গিয়ে জড়িয়ে ধর গিয়ে।

লামিজা চোখ মুছে দৌড়ে কেবিন থেকে বেড়িয়ে জনির কেবিনে প্রবেশ করলো। শান্ত হয়ে জনি শুয়ে আছে। পাশের বেডে নিশানের বুকে ঘুমিয়ে আছে নুরি। নিশান নুরিকে পরম আগলে রেখে ঘুমাচ্ছে। লামিজা গিয়ে জনির পাশে বসে জনির হাত ধরে কান্না করতে লাগলো। জনি আস্তে করে চোখ মেলে লামিজার দিকে তাকালো।
জনিঃ লামিজা! কেমন আছো? (মৃদু স্বরে)

লামিজাঃ কোনো কথা বলবি না তুই। তুই এত খারাপ কেনো? কেনো তুই আমাকে ছেড়ে যাওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছিস? আমি তো তোর সাথে মিশেই গিয়েছি তবুও তুই আমাকে ছেড়ে যেতে চাইছিলি? তুই খুব খারাপ। খুব খুব খুব খারাপ। (অভিমানী কান্না সুরে)

জনিঃ এভাবে কেঁদো না লামিজা। এত রাগ করেছো আমার উপরে? (মৃদু স্বরে)
লামিজাঃ…..(কান্নায়)
জনিঃ কথা বলবে না? (হালকা স্বরে)
লামিজাঃ ……(কান্নায়)

জনিঃ আচ্ছা এই যাত্রায় তো যেতে পারলাম না পরের যাত্রায় চেষ্টা করবো চলে যাওয়ার(মুখ ঘুরিয়ে)
লামিজাঃ তোর এত বড় সাহস? তুই আবার এইকথা বলিস? তোকে আমি খুন করে ফেলবো। (চিৎকার করে)

লামিজার চিৎকারে ঘুম ভেঙ্গে গেলো নুরি আর নিশানের। এতো জোড়ে চিৎকারে জনি থ হয়ে গেছে। ডাক্তার, নার্স আর লায়লা ছুটে কেবিনে প্রবেশ করলো। লামিজা হাঁটু গেড়ে কাঁদতে লাগলো।
ডাক্তারঃ এত চিৎকার করলে তো পেসেন্টের সমস্যা হবে। প্লিজ কান্নাকাটি আর চিৎকার বন্ধ করুন লামিজা।

লায়লা আর নুরি এসে লামিজাকে সামলে নেয়। ডক্টর জনিকে চেকআপ করে লামিজাকে চেক আপ করে চলে যায়। লামিজা চুপ করে বসে আছে। জনি চুপ করে শুয়ে আছে। নিশান, নুরি আর লায়লা চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে।

প্রায় ১৫ দিন পর জনি আজ তার বাসায় ফিরে এসেছে। কিছুদিন আগেই তার মা বাবা সবকিছু জেনেছে। নিশানকে এর জন্য অনেক কথা শুনতে হয়েছে। কিন্তু নিশান ঠিকই সব সামলে নিয়েছে। বিছানায় শুয়ে টিভি দেখতে লাগলো জনি। লামিজা জনির জন্য গরম দুধ নিয়ে হাজির হলো।
লামিজাঃবাবু দুধটা খেয়ে নাও তো।

জনিঃ আমার একদম দুধ ভালো লাগে না। একটা কোক দাও তো আমায়। (টিভিতে মগ্ন হয়ে)
লামিজাঃ কিহ! এখনি এই দুধ খেয়ে নিবে তুমি।

লামিজা জনির সামনে এসে গ্লাসটা জনির মুখের সামনে ধরলো। জনি কোনো উপায় না পেয়ে ঢকঢক করে সব দুধ খেয়ে ফেললো। লায়লা আর নুরি রান্না করছে। নিশান অফিসের কাজ করছে ল্যাপটপে। লামিজা এসে লায়লা আর নুরির সাহায্য করতে লাগলো। হঠাৎ করে দরজার বেল বেজে উঠলো। লামিজা দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে দিলো। লামিজা দেখতে পেলো একদম পরীর মতো একটা মেয়ে কয়েকটা লাগেজ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার পাশে সে দেখতে পেলো জনির ছোট বোন পায়েল কে। লামিজাকে পায়েল খুব ভালোভাবেই চেনে।
পায়েলঃ আরে আপু কেমন আছো?

লামিজাঃএইতো। তুমি?
পায়েলঃ ভাইয়ার সাথে এত বড় একটা ঘটনা ঘটে গেলো আর আমাদের জানালেও না?
লামিজা পায়েল আর মেয়েটাকে ভেতরে এনে বলতে লাগলো, সরি বোন। মাফ করে দিও।
পায়েল লামিজার হাত ধরে বললো, যাক তুমি ছিলে বলেই আজ ভাইয়া প্রায় সুস্থ আছে। তোমাকে অনেক ধন্যবাদ আপু। আসলে আমিও তো দেশের বাহিরে ছিলাম আর মা বাবাও তো দেশের বাহিরে। তুমি যদি না থাকতে…(কাঁদতে লাগলো পায়েল)

লামিজা পায়েলকে আকড়ে ধরে বললো, সব ঠিক আছে বোন। একদম কাঁদবে না।
পায়েল চোখ মুছে বললো, শ্রাবণী কোথায় গেলো?
লামিজাঃ কে শ্রাবণী?

পায়েলঃ যে মেয়েটা আমার সাথে এসেছে।
লামিজাঃ কে ও?
পায়েলঃ আমার মামাতো বোন। চলো তো ভাইয়া কে দেখে আসি।
লামিজাঃ চলো।
নিশানঃ কেমন আছিস পায়েল? (পায়েলকে দেখে)

পায়েলঃ যেভাবে রেখেছিস আমাদের! (আশ্চর্য হয়ে)
নিশানঃ কিছু করার ছিলো না রে!
পায়েলঃ ভাই এতো চিন্তা করিস আমাদের জন্য?
নিশানঃ করবো না? তোরাই তো আমার সব। ছোটবেলা থেকে তো তোরাই আমার ভাই, বোন, মা, বাবা সব।
পায়েলঃ হুম। চল ভাইয়াকে দেখে আসি।

নিশান, পায়েল আর লামিজা জনির রুমে প্রবেশ করেই অবাক হয়ে গেলো। তারা দেখলো শ্রাবণী জনিকে কিছু খাবার খাওয়ায় দিচ্ছে। লামিজা তো কিছুই সহ্য করতে পারছে না।
পায়েলঃ আপু তুই কখন এলি এখানে? (শ্রাবণীর দিকে তাকিয়ে)
শ্রাবণীঃ এইতো তোরা যখন কথা বলছিলি তখন।
জনিঃ কেমন আছিস বোইনা? (পায়েলের দিকে তাকিয়ে)

পায়েলঃ তুই কেমন আছিস ভাই? (জনির পাশে বসে)
জনিঃ এইতো আছি রে। লামিজা, নিশান, নুরি আর লায়লা আছে তো। আমি ঠিকই আছি এখন।
পায়েলঃ তাই তো আমাদের ভুলে গেছিস তাই না? (একটু অভিমানে)
জনি পায়েলের গালটা টেনে বললো, কখনই না বোইনা।
পায়েলঃ থাক আর নাটক দেখাতে হবে না।

শ্রাবণীঃ আর একটু খেলেই শেষ জনি। হা করো। (জনির মুখের সামনে ভাতের দলা দেখিয়ে)
জনি হা করে খেতে লাগলো। লামিজা বুক চিড়ে যেনো তীর বিঁধতে লাগলো।
লামিজাঃ (কে এই মেয়ে? কেনো আমার জনির পেছনে লেগে আছে? জনি কী আমাকে ভুলে যাবে? আমি কী করবো? )
শ্রাবণীঃ নিশান ভাইয়া নিচে ওরা কারা রান্না করছে?
নিশানঃ নুরি আর লায়লা।

শ্রাবণীঃ ওরা কারা?
পায়েলঃ Wait আপু আমি বলছি। নুরি আর লায়লা আপু হলো লামিজা আপুর রুমমেট। আর Specially নুরি আপু হচ্ছে আমাদের নিশান ভাইয়ার Girlfriend..
শ্রাবণীঃতাই! ভাইয়া ট্রিট কবে দিবা?
নিশানঃতোরা পারিস ও বটে।
জনিঃ আমাকেও এখনো ট্রিট দেয় নি ও।

নিশানঃ জনি তুইও শুরু করলি? লামিজা তুমি কিছু বলো!
লামিজাঃ ঠিকই তো বলেছে। নুরি ও তো আমাকে ট্রিট দেয় নি।
নিশানঃ আচ্ছা ঠিক আছে আজ রাতে আমি সকলকে ট্রিট দিবো। হ্যাপি সকলে?
পায়েল, লামিজা, শ্রাবণী আর জনি একসাথে মাথা নাড়ালো।
নিশান হাসতে হাসতে চলে গেলো। জনি আর শ্রাবণী খুনসুটি গল্প করতে লাগলো। পায়েল বের হতে যাবে তখনি লামিজা তাকে টেনে বেরিয়ে গেলো।
লামিজাঃ আচ্ছা ঐ শ্রাবণী ওভাবে জনির সাথে আষ্টে পিষ্ঠে আছে কেনো?
পায়েলঃ আপু ওরা সবসময় ওভাবেই ছিলো এখনো আছে।
লামিজাঃ মানে?

পায়েলঃ মানে ছোট থেকেই ওদের ভাব খুব। আর শ্রাবণী আপু তো ভাইয়াকে খুব ভালোবাসে।
লামিজার মাথায় যেনো বাজ ভেঙ্গে পড়লো।
লামিজাঃ কী বলছো এইসব? আমার তো দুনিয়া ঘুরে যাচ্ছে।

পায়েলঃ আপু শান্ত হও একটু। ভাইয়া শ্রাবণী আপুকে শুধু একটা ভালো বন্ধুর চোখে দেখে এর বেশি না।
লামিজাঃ সত্যি?
পায়েলঃ একদম সত্যি আপু। আর ভাইয়া তো তোমাকে অনেক ভালোবাসে। আপু আমি বুঝতেছি যে তোমার ওকে সহ্য হচ্ছে না। কয়েকটা দিন অপেক্ষা করো আব্বু আম্মু আসলেই ও চলে যাবে।
লামিজাঃ হুম। (মৃদু স্বরে)

বিকালবেলা ছাদে একা একা বসে আছে লামিজা। শ্রাবণীকে সহ্যই করতে পারছে না লামিজা। শ্রাবণীর জন্য জনি কাছে যেতে পারছে না লামিজা। খুব কষ্ট হচ্ছে তার। জনি সারা বাড়ি খুঁজে লামিজাকে না পেয়ে ছাদে এসে লামিজাকে দেখতে পায়।
জনিঃ মন খারাপ? (লামিজার পাশে বসে)
লামিজাঃ নাহ! (ভাঙ্গা ভাঙ্গা স্বরে)
জনিঃ একা একা বসে আছো যে? আমাকে ডাকলেও তো পারতে।

লামিজাঃ আপনার কী আমার জন্য সময় আছে? (অভিমানী স্বরে)
জনি লামিজার হাত ধরে বললো, রাগ করেছো সোনা?
লামিজা উঠে ধপ করে জনির কোলে উঠে জনির বুকে মাথা গুঁজে দেয়। জনি বুকে ব্যাথা পেলেও লামিজাকে ভালোবাসায় জড়িয়ে নেয়। অনেক দিন পর লামিজা জনির বুকে শান্তি খুঁজে পেলো।
লামিজাঃ আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি জনি। (মায়াবী স্বরে)
জনিঃ আমিও তোমাকে অনেক বেশি ভালোবাসি লামিজা। (দু হাত দিয়ে লামিজাকে গভীর ভাবে জড়িয়ে ধরে)


পর্ব ৬

গোধুলী Logno টা জনির কোলে বসেই উপভোগ করতে লাগলো লামিজা। জনির হাতের ছোঁয়ার যাদু আর গভীর মমতায় লামিজার মাথায় হাত বুলানো লামিজার অন্তরে শান্তির বার্তা বয়ে আনলো। দূরের সূর্যটা অস্তমিত যাওয়ার আগ পর্যন্ত জনি আর লামিজা খুনসুটি গল্প করতেই থাকলো।

সন্ধ্যার দিকে মেয়েরা সবাই মিলে গল্প করতে লাগলো। শুধু শ্রাবণী সোফায় বসে ফোন টিপতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো। জনির সাথে নিশান রয়েছে উপরে।
নুরিঃশ্রাবণী আসো এখানে! গল্প করি। (শ্রাবণীর দিকে তাকিয়ে)
শ্রাবণীঃতোমরা গল্প করো আপু। আমার একসাথে গল্প করাটা ভালো লাগে না। (ফোনে মগ্ন হয়ে)
নুরির মুখটা গম্ভীর হয়ে গেলো শ্রাবণীর কথা শুনে।
পায়েলঃ আপু বাদ দাও তো। (নুরির হাত ধরে)

লামিজাঃ আচ্ছা নিশান ভাইয়ার তো রাতে ট্রিট দেওয়ার কথা ছিলো। তোমার মনে নেই পায়েল?
পায়েলঃ হ্যাঁ। তাই তো।
নুরিঃ কোন খুশিতে? জনি ঠিক হয়েছে তাই? (প্রশ্ন করে)
পায়েলঃ আরে না। ভাইয়া নাকি আরেকটা মেয়েকে পটাইছে তাই। (লামিজার দিকে আস্তে চোখ টিপে)
নুরিঃ কীহ? কী বলছো এই সব পায়েল? (হতবম্ভ হয়ে)

লামিজাঃ ঠিকি বলেছে রে নুরি। ভাইয়া তো তাকে নাকি বিয়েও করবে কিছুদিনের মধ্যে। (লম্বা সুরে)
পায়েলঃ তাই তো ট্রিট দিচ্ছে। তুমি জানো না আপু? (নুরিকে প্রশ্ন করে)
নুরিঃ ওর এত্ত বড় সাহস! আজ ওর একদিন কী আমার একদিন। (প্রচন্ড রাগে উঠে গিয়ে)

পায়েলঃ কৈ যাও আপু?
নুরি উঠে গিয়ে নিশানকে ডাকতে লাগলো, এই নিশান! নিশান? (চিৎকার করে করে)
উপর থেকে হুড়মুড় করে নিচে নেমে আসলো নিশান। লামিজা আর পায়েল মিটমিট করে হাসতে লাগলো। লায়লা অবাক হয়ে কাহিনী দেখছে। শ্রাবণী ফোন অফ করে দাঁড়িয়ে আছে। জনি আস্তে আস্তে নিচে নেমে এলো।

নিশানঃ কী হয়েছে বাবু? (চিন্তিত স্বরে)
নুরি নিশানের কাছে গিয়ে নিশানের কলার চেপে কাছে টেনে নিয়ে বলে, কাকে তুমি পটাইছো? কাকে বিয়ে করবে তুমি?
নিশানঃ কী বলছো এগুলা? (বিশ্মিত স্বরে)
নুরিঃ নাটক করছো কেনো? আমাকে যদি ভালোই না বাসো তাহলে আমাকে ভালোবাসি , ভালোবাসি বলো কেনো?

নিশানঃ আরে নুরি আমি তোমাকেই পটিয়েছি আর তোমাকেই বিয়ে করবো INSHALLAH..কিন্তু তুমি এভাবে রেগে আছো কেনো?
নুরিঃ পায়েল আর রিয়া বললো তুমি নাকি ওদের ট্রিট দিবা। এই জন্য দিবা যে তুমি নাকি নতুন কাউকে বিয়ে করবে?
নিশানঃ আরে ওরা আমাদের রিলেশন ট্রিট চেয়েছে। তাই আমি ওদের ট্রিট দিতে চেয়েছে।
নুরিঃ কিন্তু ওরা যে…
পায়েলঃ একটু দুষ্টুমি করেছি আপু।

নুরি নিশানকে জড়িয়ে ধরে বললো, I LOVE YOU NISHAN..
নিশান নুরিকে আগলে নিয়ে বললো, আমিও তোমাকে অনেক ভালোবাসি নুরি।
বাকি সবাই হাত তালি দিতে লাগলো। লামিজাও জনিকে জড়িয়ে ধরার জন্য যেতে লাগলো ঠিক তখনি শ্রাবণী জনির বুকে জড়িয়ে পড়লো। সকলে অবাক হয়ে তা দেখতে লাগলো। লামিজার বুকে যেনো কেউ বিষাক্ত তীর ছুঁড়ে মারলো।

জনি এবারও বুকে ব্যাথা পেলো কিন্তু কিছু বললো না। হাত দুটো পিছিয়ে নিলো।
পায়েলঃ কী রে আপু ভাইকে জড়িয়ে ধরলি কেনো? (রাগী ও আশ্চর্য সুরে)
শ্রাবণী জনিকে ছেড়ে বললো, আরে আমিও নুরি আপু আর ভাইয়ার মতো করতে চাইছিলাম। তাই ভুলে তোকে না ধরে জনিকে জড়িয়ে ধরেছি। সরি জনি(মনে মনে হেসে)
জনিঃ ঠিক আছে। আর আমরা যেহেতু বন্ধু তো একে অপরকে তো জড়িয়ে ধরতেই পারি। তাই না? (শ্রাবণীর দিকে মুচকি হেসে)
শ্রাবণীঃ ঠিক বলেছে।

শ্রাবণী আবার জনির বুকে নিজেকে জড়িয়ে নিলো আর জনির দুহাত দিয়ে নিজেকে শক্ত করে জড়িয়ে নিলো। লামিজা আর সহ্য করতে পারছে না। সবাই চুপ করে কান্ড দেখছে।
লামিজাঃ শ্রাবণী তোমার কী হয়েছে? (শ্রাবণীর কাছে গিয়ে)
শ্রাবণীঃ মানে? (জনিকে ছেড়ে দিয়ে)
লামিজা ধুপ করে জনির কোলে উঠে পড়লো। সবাই দেখে চমকে যেতে লাগলো। শ্রাবণী জ্বলে পুড়ে যেতে লাগলো।

লামিজা জনির কোলে উঠে জনির ঠোঁট দুটো নিজের আয়ত্তে করে নিলো। সবাই হাত দিয়ে চোখ ঢেকে নিলো। জনি নিজেকে ছাড়তে পারছে না। লামিজা ছাড়তেই চাইছে না।
পায়েলঃ আপু, ভাইয়া এখানে ছোট বড় সবাই আছে। কী করছো তুমরা? (চোখ ঢেকে)
লামিজা জনিকে ছেড়ে দিয়ে নিচে নেমে গেলো। জনি প্রাণ ভরে শ্বাস নিতে লাগলো।
নিশানঃ অনেক রোমান্টিকতা হয়েছে। চলো সবাই এখন রেডি হয়ে নাও আমরা বাইরে যাবো।
সবাই যে যার রুমে গেলো রেডি হতে।

পায়েলের রুমে,
শ্রাবণীঃ ওদের কী লজ্জা বলে কিছু নেই পায়েল? (রাগী সুরে)
পায়েলঃ কাদের কথা বলছিস? (হালকা কাজল দিতে দিতে)
শ্রাবণীঃ জনি আর ঐ মেয়েটার।

পায়েলঃ ওরা তো একে অপরকে খুব ভালোবাসে। তাই এমটা করেছে। (ওড়নাটা ঠিক করে)
শ্রাবণীঃ তুই ভালো করেই জানিস যে আমি জনিকে কতটা ভালোবাসি(অভিমানী স্বরে)

পায়েলঃ আপু একপাক্ষিক ভালোবাসা তোর। ভাইয়া তো লামিজা আপুকে খুব ভালোবাসে। তুই বুঝতেছিস না কেনো?
পায়েলঃ আপু তুই একটু বুজার চেষ্টা কর ওরা তো একে অপরের জন্যই সৃষ্টি।
লায়লা রুমে ঢুকে পড়লো।
লায়লাঃ চলো সবাই।
পায়েল লায়লার সাথে যেতে লাগলো। শ্রাবণী প্রচন্ড রেগে তৈরী হয়ে নিলো।
শ্রাবণীঃ (জনি শুধু আমার। কাউকে হতে দেবে না। আমার কাছেই রেখে দিবো)

বড় একটা রেস্টুরেন্টে আসলো সবাই। নিশানের পাশে বসে আছে নুরি। লামিজা আগে ভাগেই জনির পাশে বসে পড়েছে। শ্রাবণী আর পায়েল তাদের সামনের সারিতে বসে পড়লো।
নিশানঃ কী খাবে সবাই? অর্ডার করো।
লায়লাঃ ভাইয়া আপনি আমাদের সকলের জন্য অর্ডার দিন।

নিশানঃআমি দিবো?
সবাই মাথা নেড়ে সম্মতি দিলো। খাবার আসার আগে সবাই হালকা গল্পে মেতে উঠলো। শ্রাবণী জনিকে লামিজার পাশে দেখতে পারছে না।
লামিজা মনে মনে রাজ্য জয়ের হাসি দিয়ে বলছে, আমার অধিকার আমি ঠিক নিয়ে নেবো। কাউকে ভাগ দেবো না আমার জনিকে।
খাবার এসে গেলো। সকলে খেতে লাগলো। শ্রাবণী একটু একটু করে খেতে লাগলো।

লামিজা জনির দিকে তাকিয়ে বললো, বাবু আমাকে খাওয়ায় দেবে?
জনিঃ আচ্ছা দিচ্ছি সোনা। (মৃদু হেসে)
জনি লামিজাকে খাওয়ায় দিতে শুরু করলো। আশেপাশের সকলে তাদের মধুর ভালোবাসা দেখে সত্যি বিমোহিত হয়ে গেলো। একটু পর লামিজা পরম যত্নে জনিকে খাওয়ায় দিতে লাগলো। শ্রাবণী মাথা নিচু করে রাগে ফুলতে লাগলো।

ঘড়িতে প্রায় ১২ টা বাজতে চললো। জনি লামিজার কোলে ঘুমাচ্ছে। লামিজা জনির মাথায় ভালোবাসার ছোঁয়ায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। জনি পুরোপুরি ঘুমিয়ে গেলে লামিজা জনির কপালে একটা মিষ্টি পরশ এঁকে বেরিয়ে নিজের রুমে গেলো।

রুমে গিয়েই দেখলো শ্রাবণী চুপ করে বসে আছে।
শ্রাবণীঃ এসো লামিজা। তোমার জন্যই তো অপেক্ষা করছি আমি। (সুরে সুরে তাল মিলিয়ে)..


পর্ব ৭

লামিজাঃ কিছু বলবে? (আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে)

শ্রাবণীঃ নিজেকে বিশ্বসুন্দরী মনে করো তুমি তাই না? (রাগী গলায়)
লামিজাঃ কৈ না তো। বিশ্বসুন্দরী না হলেও তোমার থেকে সুন্দরতায় কোনো অংশে কম নই আমি। (শান্ত গলায়)
শ্রাবণীঃ তুমি যেই হও না কেনো সেটা আমার দেখার বিষয় না। আমি সাফ সাফ কথা বলতে পছন্দ করি। তাই বলছি আমি জনিকে ভালোবাসি। তুমি আমাদের মাঝে থেকে সরে যাও। (একটু ভাব নিয়ে)
লামিজাঃ ও তাই বুঝি! জনির খেয়াল রাখি আমি, জনিকে পাগলের মতো ভালোবাসি আমি আর তোমার কথায় ওকে ছেড়ে চলে যাবো? শুনে রাখো জনি আমার সব কিছু। ওকে ছেড়ে কখনই আমি চলে যাবো না।

শ্রাবণীঃ তোমার কী যোগ্যতা আছে ওর সামনে দাড়াবার? (ভাব দেখিয়ে)
লামিজাঃ সত্যি ভালোবাসার যোগ্যতা আছে আমার। যেটা দ্বারা জনির প্রতিটা স্নায়ুতন্ত্রে আমি জড়িত আছি। প্রতিটা শ্বাসে আমি আছি, প্রতিটা হাসিতে আমি আছি। প্রতিটা ভালোবাসার ছোঁয়ায় আমি আছি।
শ্রাবণীঃ ও প্লিজ লামিজা এসব ন্যাকামো করিও না আমার সামনে।

লামিজাঃ ন্যাকামো আমি করি না। ন্যাকামোটা তুমি করো। (জোড় গলায়া)
শ্রাবণীঃ আমি ওসব বুঝি না কালকের মধ্যে তুমি এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাবে আর কখনো জনির সাথে যোগাযোগ করবে না।
লামিজাঃ এই তোমার কী মাথা খারাপ? আর এটা কী তোমার বাড়ি? আমি আমার জনিকে ছেড়ে কোথাও যাবো না।
শ্রাবণীঃ লামিজা আমি তোমাকে যেতে বলেছি মানে তুমি যাবে। (প্রচন্ড রেগে)

পায়েলঃ শ্রাবণী আপু তুই কিন্তু বাড়াবাড়ি করছিস। (লামিজার রুমে প্রবেশ করে)
শ্রাবণীঃ তুই এখানে কী করছিস? (পায়েলকে দেখে)
পায়েলঃ সেটা বড় কথা না। লামিজা আপু কোথাও যাবে না। আর বাবা মা দেশে ফিরলে INSHALLAH ভাইয়ার সাথে লামিজা আপুর বিয়ে হবে। তাই তুই এখানে বাড়াবাড়ি করিস না। (রেগে গিয়ে)
শ্রাবণীঃ আমিও দেখবো আসলে কাকে বিয়ে করে জনি। (রাগে বের হয়ে গিয়ে)

পায়েলঃ আপু তুমি ওর কথা একদম শুনবে না। (লামিজার দিকে তাকিয়ে)
লামিজাঃ আমার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমি আমার জনিকে কারোও হতে দিবো না। (জোড় গলায়)
পায়েলঃ হুম। (একটু হেসে)
লামিজাঃ তবে তোমার মা বাবা কী আমাকে মেনে নেবেন? (চিন্তিত স্বরে)

পায়েলঃ অবশ্যই মেনে নেবে। না হলে আমি, নিশান ভাইয়া আর তোমার হবু বর আমরা তো আছিই। (মিষ্টি হেসে)
লামিজাঃ আমার ভাগ্যটা ভালো যে তোমাদের মতো একটা পরিবারের সাথে থাকতে পারছি।
পায়েলঃ আমারও ভাগ্যটা ভালো যে তোমার মতো একটা মিষ্টি ভাবিকে পেতে যাচ্ছি।
লামিজা আর নুরি দুজনেই হাসতে লাগলো।
দেয়ালের আড়াল থেকে সব শুনে ফেললো শ্রাবণী।
শ্রাবণীঃ (দেখা যাক কে কার হয়)

সকালে লামিজা ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে জনির জন্য নাস্তা বানিয়ে ফেললো। আনু আর লায়লা আসলো তাকে হেল্প করতে।
লায়লাঃ শুধু জনির জন্য নাস্তা? আমাদের নেই? (ইয়ার্কির ছলে)
নুরিঃ তাইতো। কী রে লামিজা আমাদের নাস্তা নেই?

লামিজাঃ ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়েছে রে। নাহলে সবার জন্য বানাতাম। নুরি একটু সামলে নে না প্লিজ। (তাড়াহুড়া করে)
নুরিঃ আচ্ছা ঠিক আছে। তুমি জলদি যাও উপরে তোমার সোনা বাবুটা ঘুম থেকে উঠলো বলে(নুরি আর লায়লা হাসতে লাগলো)
লামিজাঃ ধ্যাত! (নাস্তা নিয়ে উপরে যেতে যেতে)

জনির রুমে প্রবেশ করলো লামিজা। মিষ্টি বাচ্চার মতো ঘুমিয়ে আছে জনি। লামিজা জনির কাছে গিয়ে জনির কপালে, দু গালে আর ঠোঁটে মিষ্টি পরশ এঁকে দিলো।
লামিজাঃ বাবু! উঠো। দেখো আমি তোমার জন্য নাস্তা এনেছি। উঠো সোনা আমার। (মায়া দিয়ে)
জনিঃ আর একটু ঘুমাতে দাও তো লামিজা। (ঘুমের ঘোরে)
লামিজাঃ নাহ! একদম না। উঠো বলছি। তাড়াতাড়ি উঠো। উঠো বাবু। (জনিকে ধাক্কা দিতে দিতে)
জনি ধুপ করে উঠে পড়লো। লামিজাঃ যাও ফ্রেশ হয়ে এসো।

জনি গিয়ে ফ্রেশ হয়ে এলো। লামিজা নিজ হাতে জনিকে খাওয়ায় দিতে লাগলো। জনি খাচ্ছে আর টিভি দেখছে।
লামিজাঃ তাড়াতাড়ি খাও বাবু। (কলাটা জনির মুখের সামনে নিয়ে)
জনিঃ তুমি খেয়েছো? (লামিজার দিকে তাকিয়ে)
লামিজাঃ তুমি খেলেই আমি খেয়ে নেবো।
জনি আপেলের পিচ নিয়ে লামিজার মুখে তুলে দিয়ে বললো, এখনি খেয়ে নাও সোনা।
লামিজা মিষ্টি হেসে খেতে লাগলো।

ছাদে উঠে শ্রাবণী তার মা কে ফোন দেয়।
শ্রাবণীঃ হ্যাঁলো মা!

শ্রাবণীর মাঃ কেমন আছিস?
শ্রাবণীঃ ভালো নেই মা। তুমি?
শ্রাবণীর মাঃ আমি তো ভালো আছি। কী হয়েছে তোর মা?
শ্রাবণী তার মাকে সব খুলে বললো।

শ্রাবণীর মাঃ দেখ মা ওরা একে অপরকে খুব ভালোবাসে। ওখানে তুই তো আর তোর ভালোবাসাকে জয়ী করতে পারবি না। তুই বরং জনিকে ভালো বন্ধু বা ভালো ভাইয়ের চোখে দেখ।
শ্রাবণীঃ না মা আমি জনিকে ভুলতে পারবো না। আমি জনিকেই বিয়ে করবো।
শ্রাবণীর মাঃ তুই কেনো বুঝতেছিস না….
শ্রাবণীঃ মা আমি সব বুঝি। ভালো থেকো।
শ্রাবণী ফোন কেটে দিলো।
শ্রাবণীঃ (আমার ভালোবাসার কী কোনো দাম নেই?)

প্রায় ১ টার দিকে কলিংবেল বেজে উঠলো। সবাই ছাদে গল্প করছিলো। শুধু শ্রাবণী বসে বসে টিভি দেখছিলো। শ্রাবণী উঠে গিয়ে দরজা খুলে দিতেই একটা অপরিচিত ছেলে তাকে জড়িয়ে ধরলো।
ঃ আপু, আপু, আপু আমি ভার্সিটিতে টপ করেছি। (খুশির আনন্দে )
শ্রাবণীঃ এই ছেলে ছাড়ুন আমায়। (ধাক্কা দিয়ে ছাড়িয়ে দিয়ে)
ঃ ওহ সরি সরি। মাফ করবেন আমায়। আমি তো আমার লামিজা আপুর কাছে এসেছি।
শ্রাবণীঃ সুন্দরী মেয়ে দেখলেই জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করে তাই না? (প্রচন্ড রেগে)

ঃ আপনি ভুল ভাবছেন। আমি মোটেও বুঝে কাজটি করিনি। (ক্ষমাপ্রার্থী হয়ে)আমাকে মাফ করে দিবেন প্লিজ।
শ্রাবণী কিছু বলতে গিয়েও বলতে পারলো না ছেলেটির কথা শুনে।
শ্রাবণীঃ আচ্ছা ঠিক আছে। মন খারাপ করবেন না। আপনি কে? (মৃদু ও আশ্চর্য স্বরে)
ঃ আমি আহাদ। লামিজা আপু আমার নিজের বোন। (খুশি হয়ে)
শ্রাবণীঃ ওহ! ঐ লামিজার ভাই আপনি? (আশ্চর্য হয়ে)

আহাদঃ ঐ লামিজা বলতে?
শ্রাবণীঃ না কিছু না। আচ্ছা আপনি এত খুশি কেনো? (প্রশ্ন করে)
আহাদঃ আসলে আজকে ভার্সিটির রেজাল্ট দিয়েছে। পুরো ভার্সিটিতে আমি প্রথম হয়েছি।
শ্রাবণীঃ বাহ! খুব মেধা তো আপনার! (আশ্চর্য হয়ে)


পর্ব ৮

আহাদঃ কী যে বলেন! (লজ্জা পেয়ে)আপনি কে আপু?
শ্রাবণীঃ ঐ আমি আপনার কোন দিক থেকে আপু লাগি? (প্রচন্ড রেগে)
আহাদঃ ওহ! সরি আপু।

শ্রাবণীঃ ঐ আপনি আবার আমারে আপু ডাকতাছেন! আমার নাম শ্রাবণী।
আহাদঃ অনেক সুন্দর নাম আপনার শ্রাবণী আপু। (মিষ্টি হেসে)
শ্রাবণী কিছুক্ষন আহাদের টোল পড়া হাসির দিকে তাকিয়ে থাকলো।
শ্রাবণীঃ (এত মিষ্টি হাসি ছেলেটার! টোলটাও তো খুব কিউট)
আহাদঃ আপু কী দেখছেন? (শ্রাবণীর কান্ড দেখে)

শ্রাবণীঃ এ আপনি কী বলদ? আপু আপু ডাকছেন কেনো আমায়? আমার আর আপনার বয়স প্রায় কাছাকাছি। So call me Maliha..got it?
আহাদঃ আপনি ১ বছরের ছোট হলেও আপু আর ১ বছরের বড় হলেও আপু। আমার জন্মের ১ দিন আগে হলেও আপু ১ দিন পরে হলে ছোট আপু। খুব সুন্দর না বিষয় টা? (ফ্যালফ্যালে শ্রাবণীকে প্রশ্ন করে)
শ্রাবণীঃ সত্যি আপনি পারেন ও বটে। (হাসতে হাসতে)

আহাদ এই প্রথম তার আপু কে ছাড়া এই মেয়েটাকে খুব ভালোভাবে দেখছে। এত সুন্দর, এত মিষ্টি আর এত কিউট কেউ কীভাবে হয়?
লামিজাঃ আরে ভাই! কখন এলি? (নিচ থেকে নামতে নামতে)
চমকে গেলো শ্রাবণী ও আহাদ।
আহাদঃ এই তো একটু আগেই আসলাম। (লামিজার দিকে তাকিয়ে)

শ্রাবণী তার রুমে যাওয়ার সময় ফিসফিসিয়ে লামিজাকে বললো, তোমার ভাইকে সামলাও। যাকে তাকে জড়িয়ে ধরে কেনো?
লামিজা আহাদের সামনে এসে আহাদের কানটা জোড়ে টেনে ধরলো।
আহাদঃ আপু লাগছে তো। ছাড়। (ব্যাথা কাকুতি মিনুতি করে)
লামিজাঃ শ্রাবণীকে জড়িয়ে ধরেছিলি কেনো? পড়াশোনা বাদে তোর সুন্দরী মেয়েদের প্রতি আগ্রহ জমলো কীভাবে?
আহাদঃ আপু তুই ভুল ভাবছিস আমাকে। ছেড়ে দে কানটা আপু। (ব্যাথায়)
লামিজা আহাদের কান ছেড়ে দিয়ে বললো, কী হয়েছে বল।

আহাদঃ আরে আজ ভার্সিটির রেজাল্ট দিয়েছে। University top করেছি আমি । তাই আমি তোর সাথে দেখা করতে এসেছিলাম। বেল বাজতেই ঐ আপু টা কে বলে উঠলো। আমি গলার আওয়াজ শুনে ভাবছিলাম তুই। তাই তো দরজা খুলতেই জড়িয়ে ধরেছি। ওনার কাছে তো ক্ষমাও চেয়েছি। (হাত দিয়ে কানটা বোলাতে বোলাতে)
লামিজাঃ তোর এই স্বভাব আর গেলোই না ভাই। (মুচকি হেসে)
আহাদঃ কী করবো বল ছোট বেলা থেকেই তো তুই আমার মা আর তুই আমার বাবা। তোকে জড়িয়ে ধরবো না তো ঐ শ্রাবণী আপুকে জড়িয়ে ধরবো?
লামিজাঃ ওকেই তো জড়িয়ে ধরেছিস আজ। (হাসতে হাসতে)

আহাদঃ ও হ্যাঁ। তাই তো। আরে ওটা তো ভুলে ধরেছি।
লামিজাঃ যাইহোক। মিষ্টি কৈ? (হাসি থামিয়ে)
আহাদঃ এই যা! তোকে জানানোর জন্য তাড়াহুড়া করতেই আনতে ভুলেই গেছি। (মৃদু কন্ঠে)
লামিজাঃ তাহলে তাড়াতাড়ি নিয়ে আয় এখন।

আহাদ মিষ্টি আনার জন্য বাহিরে গেলো। লামিজা ভেতরে যাবে ঠিক তখনি শ্রাবণী তার সামনে এসে দাঁড়ালো।
শ্রাবণীঃ ওকে অতো জোড়ে কান মলা দিলা কেনো? (মায়ার সুরে)
লামিজাঃ দোষ করেছে শাস্তি তো পেতেই হবে।
শ্রাবণীঃ ইচ্ছা করে তো করে নি।
লামিজাঃ তুমি তো বললে যাকে তাকে জড়িয়ে ধরে।

শ্রাবণীঃ আমাকে শুধু জড়িয়ে ধরেছিলো। আর তো কেউ ছিল ন। (মায়াতে)
লামিজাঃ ওহ! শ্রাবণী কী সব বলতেছো? একবার এটা বলছো তো আরেকবার ওটা। কী এইসব? (বিরক্ত নিয়ে)
শ্রাবণীঃ আমার মাথা বোধ হয় গেছে। (মায়ার সুরে)
শ্রাবণী চলে যেতে লাগলো। লামিজা চুপ করে বিষয়টা বুঝতে লাগলো। কিন্তু কিছুই ভেবে পেলো না।

বাসার সকলকে মিষ্টি খাওয়ালো আহাদ। আহাদের রেজাল্টের উপলক্ষে নুরি, লায়লা, লামিজা, পায়েল সুন্দর সুন্দর রান্না করতে লাগলো।
নিশান অফিস থেকে ফিরে এসেছে। আহাদ, জনি আর নিশান গল্প করছে।

শ্রাবণীঃ (জনি আমার অনেক ভালো বন্ধু। আমার ওকে ভালোলাগে। কিন্তু আমার ভালোবাসা তো ও না। আমার ভালোলাগা ও। আর আমাকে তো ও ভালোবাসে না। একপাক্ষিক ভালোবাসা তো বৃথা। ) ছাদে বসে এইসব কথা ভাবতেছিলো শ্রাবণী।
আহাদঃ Hlw..শ্রাবণী আপু। কী করছেন? (শ্রাবণীর পাশে দাঁড়িয়ে)
শ্রাবণীঃ এই আপনি প্লিজ আমাকে আপু বলবেন না। আমি হাতজোড় করে বলছি। (পেছনে ঘুরে হাতজোড় করে)
আহাদঃ ছিঃ ছিঃ এমনটা করবেন না। আচ্ছা এখন থেকে আর আপু বলবো না।

শ্রাবণীঃ ধন্যবাদ। (মিষ্টি হেসে)
আহাদঃ কিছু একটা বিষয় নিয়ে আপনি ভীষন চিন্তায় আছেন। আপনার মিষ্টি হাসির পেছনে তা কেউ বুঝতে না পারলেও আমি ঠিকই বুঝতে পারছি। যদি সমস্যা না মনে করেন তাহলে শেয়ার করতে পারেন। (হাসি মুখে)
শ্রাবণীঃ আপনি এত্ত বোঝেন আমাকে? (রহস্যময়ী হাসি দিয়ে)
আহাদঃ আমি তো আপনাকে আরো বুঝতে চাই….(বলেই থেমে গেলো)
শ্রাবণীঃ আরোও বুঝতে চাই মানে? (ভ্রু কুঁচকে)

আহাদঃ না মানে আপনার সমস্যার কথা জানতে চাই আর কি? (কপালের ঘাম মুছে একটু হেসে)
শ্রাবণীঃ একি ঘামছেন কেনো এতো? (আশ্চর্য হয়ে)
আহাদঃ ক..কৈ নাতো তো।
শ্রাবণীঃ আবার তোতলাইতেছেন কেনো? (আশ্চর্য হয়ে)

আহাদ একটা দীর্ঘ দম ফেলে বললো, একটা কথা বলি?
শ্রাবণীঃ হুম বলুন। (আকাশের দিকে তাকিয়ে)
আহাদঃ আমরা কী বন্ধু হতে পারি? (থেমে থেমে)
শ্রাবণীঃ শুধু বন্ধু তো? (ভ্রু কুঁচকে)
আহাদঃ ভালো বন্ধু। (একটু হেসে)

শ্রাবণীঃ না। ভালো বন্ধু শুধু একজন হয়। আর সেটা আছেই একজন। সরি আমি আপনাকে ঐ জায়গা দিতে পারবো না। (মুচকি হেসে)
আহাদঃ ওহ আচ্ছা। (মৃদু স্বরে মন খারাপ করে চলে যাওয়ার প্রস্তুতিতে)
শ্রাবণীঃ তবে অন্য কিছুও হতে পারেন। বা চির জীবনেরও কিছু একটা হতে পারেন যদি চান তো। (লজ্জায় মুচকি হেসে)
আহাদঃ কী সেটা? (আগ্রহ নিয়ে)
শ্রাবণীঃ বুঝেন না? (আশ্চার্য হয়ে)
আহাদঃ বুঝতেছি না তো। (মাথা চুলকিয়ে)

শ্রাবণীঃ ব ল দ আপনি একটা। ধুর সব আমারি ভুল। সরেন তো এখান থেকে। (বিরক্ত নিয়ে)
আহাদ সরে গেলো। শ্রাবণী কী সব বকতে বকতে নিচে চলে গেলো। আহাদ বোকার মতো দাঁড়িয়ে ভাবতে লাগলো।
আহাদঃ সারাজীবনের জন্য কী হওয়া যায়? বন্ধুই তো হওয়া যায়। ওহ বুঝেছি। নিশ্চই সারা জীবনের জন্য বড় ভাই বা ছোট ভাই হতে বলছিলো আমায়। (মুচকি মুচকি হেসে)এত বুঝি আমি? হাহাহাহাহাহাহাহাহা।

সন্ধ্যার দিকে আহাদে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে লাগলো। জনি আর নিশানকে বলতে গিয়ে আহাদ পড়লো বিপদে।
আহাদঃ ভাইয়ারা আমি তাহলে আসি। (নিশান আর জনির দিকে তাকিয়ে)
জনিঃ কৈ যাচ্ছো?

আহাদঃ হোস্টেলে।
নিশানঃ ওখানে আর থাকতে হবে না তোমায় আহাদ। (মুচকি হেসে)
আহাদঃ মানে? (আশ্চার্য হয়ে)

জনিঃ আজ থেকে তুমি এখানেই থাকবো আহাদ। (হেসে)
আহাদঃ কিন্তু ভাইয়া….
শ্রাবণীঃ থেকে যান তো। আপনার কী বউ আছে যে কিন্তু কিন্তু করছেন? (জনি আর নিশানের জন্য চা নিয়ে এসে)
জনি আর নিশান শ্রাবণীর কথা শুনে হাসতে লাগলো।
লামিজাঃ এত হাসাহাসি কেনো? (জনির জন্য গরম দুধ নিয়ে হাজির হয়ে)

জনি সব খুলে বললো। লামিজা কিছু একটা আন্দাজ করতে পারছিলো।
লামিজাঃ আহাদ সবাই থাকতে বলতেছে যেহেতু থেকে যা।
আহাদঃ ওকে আপু। আমি তাহলে সব বই আর কাপড় চোপড় নিয়ে আসি।
জনিঃ আচ্ছা যাও। রহিম চাচাকে বলে দিচ্ছি ওনার সাথে যাও।
আহাদঃ আচ্ছা।

শ্রাবণীঃ আমিও যাই? (আহাদ কে প্রশ্ন করে)
জনি, লামিজা, নিশান আর আহাদ অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো শ্রাবণীর দিকে।
জনিঃ ধুর পাগল হয়েছো নাকি? ওটা তো ছেলেদের হোস্টেল শ্রাবণী।
লামিজাঃশ্রাবণী আহাদ তো আসছে। আসলেই তোকে শাস্তি দিও।

শ্রাবণীঃ কী শাস্তির কথা বলছো লামিজা? (অবাক হয়ে)
লামিজাঃ বুঝবে এখন তুমি ধীরে ধীরে। (মনে মনে হেসে)
আহাদঃ আচ্ছা থাকো শ্রাবণী। আমি আসি। (তাড়াহুড়া করে)
শ্রাবণী স্পষ্ট শুনতে পেলো আহাদ তাকে তুমি বলেছে। তাহলে আজ থেকে কী সে ও আহাদকে তুমি বলবে? শ্রাবণী ভাবতে লাগলো।

রাতে লামিজা জনির খাবার নিয়ে জনির রুমে এলো।
লামিজাঃ বাবু কৈ তুমি? (জনিকে ডাকতে লাগলো)
জনি বেলকুনিতে বসে আকাশ দেখছে। লামিজা তার পাশে গিয়ে দাঁড়ালো।
লামিজাঃ একা একা আকাশ দেখছো? (হালকা হেসে)

জনিঃ মনটা খারাপ থাকলে একা একাই আকাশ দেখি। (মৃদু স্বরে)
লামিজা জনিকে কাছে টেনে নিয়ে জড়িয়ে ধরে বললো, আমি থাকতে আমার বাবুটার কেনো মন খারাপ?
জনি লামিজাকে ছেড়ে দিয়ে লামিজার হাত ধরে বললো, তুমি কী জানো আমি ঐ দিন তোমার সাথে কেনো শারীরিক সম্পর্ক গিয়েছিলাম?
লামিজাঃ জনি থাক না ঐ সব। (শক্ত করে জনির হাত ধরে)

জনিঃ না লামিজা আজ তোমায় জানতেই হবে সবকিছু। (লামিজার থেকে একটু দূরে গিয়ে)
লামিজা শান্ত হয়ে সবকিছু শোনার অপেক্ষায় রইলো।


পর্ব ৯

জনি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলা শুরু করলো।

জনিঃ সেই ছোট বেলা থেকেই দেখছি মা বাবা সব সময় আলাদা আলাদা থাকতেন। আমি কখনো মার কাছে থাকতাম আবার কখনও বাবার কাছে থাকতাম। আবার পায়েল হওয়ার পরও বাবা মা সবসময় কাজে ব্যস্ত থাকতেন। আমাকে আর পায়েলকে রেখে দেশের বাইরে যেতেন কাজে।
আমি নিজেকে সামলিয়ে তো নিয়েছিলাম কিন্তু আমার বোনটা সামলাতে আমার অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। ও সব সময় মা, মা, বাবা, বাবা বলে সারাবাড়ি ছুটে ছুটে বেড়াতো। ঘরের প্রত্যেকটা কোণে খুঁজে খুঁজে বেড়াতো। যখন পেতো না খুঁজে তখন ছুটে এসে আমায় জড়িয়ে ধরে বলতো, ভাইয়া আমি মায়ের কাছে যাবো।

বাবা কোথায় গিয়েছে ভাইয়া? আমি পায়েলের কান্না সহ্য করতে পারতাম না তাই ওকে থামাতে আমার অনেক বুঝতে হয়েছে। আবার যখন মা, বাবা বাহিরে থেকে আসতো তখন তারা এতটাই ক্লান্ত হয়ে যেতেন যে আমাদের কী অবস্থা তারা দেখার সময় একদম পেতেন না। কাদের চাচাই আমাকে আর আমার বোনকে মানুষ করেছে। কিন্তু সেই কাদের চাচাই কয়েক বছর আগে আমাদের ছেড়ে চলে যান অনেক দূরে। আমি তখন এতটাই ভেঙ্গে পড়ি যে আমার অবস্থা অনেক খারাপ হয়ে গিয়েছিলো। ছোট বেলা নিশান আমার সাথে কয়েক বছর থেকে ওর চাচার কাছে চলে যায় বিদেশে। সেখান থেকে পড়াশোনা শেষ করে এসে আমাদের ব্যবসায় যোগ দেয়। নিশান থাকতেও আমি একাকি বোধ করতাম না। নিশান চলে গেলেও পায়েল আর কাদের চাচা ছিলো আমার সাথে।

কিন্তু কাদের চাচাও চলে গেলো না ফেরার দেশে পায়েল তার স্বপ্ন পূরনের জন্য দেশের বাহিরে গেলো। আমি আবার একা হয়ে গেলাম। মা বাবা দেশের বাহিরে একদম সেটেল হয়ে গেলো। মাঝে মাঝে যেতাম। আমায় ওখানে থাকতে বলেছিলো কিন্তু আমি আর থাকি নি। আমার এখানে ছাড়া কোথাও ভালো লাগে না। যখন তুমি এলে তখন আমার জীবন আবার স্বাভাবিকে ফিরে যায়। কিন্তু আমার তোমাকে হারাবার খুব ভয় ছিলো। আমি তোমার প্রেমেতে পুরোই পাগল লামিজা। আমি বাধ্য হয়ে তোমাকে পেতে এমনটা করেছি লামিজা। আমি তোমাকে কখনও হারাতে চাই না লামিজা। আমাকে ক্ষমা করে দিও। আর আমাকে কখনও ছেড়ে যেও না। (হাঁটু গেড়ে অঝোরে কাঁদতে লাগলো)

লামিজা দৌড়ে এসে জনিকে তুলে তার বুকে আগলে নিলো।

লামিজাঃ আমার বাবুটা এভাবে কাঁদছে কেনো? আমি তো আছি তোমার সাথে জনি। কথাদিলাম তোমাকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তোমার সাথে থাকবো। কেঁদো না প্লিজ। (জনিকে শক্ত করে জড়িয়ে নিয়ে)
জনি কেঁদেই যাচ্ছে। লামিজা বুঝেছে যে কতটা ভেঙ্গে পড়েছে জনি। এভাবে জনিকে কাঁদতে দিলো লামিজা। যাতে সে তার ভুলটা বুঝতে পারে আর এটা বিশ্বাস করে যে তার লামিজা তার সাথে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আছে।

আহাদের রুমে শ্রাবণী প্রবেশ করে অবাক হয়ে গেলো। চারদিকে শুধু বই আর বই।
শ্রাবণীঃ তোমার এত্তগুলা বই? (অবাক চোখে)

আহাদঃ হুম। বই তো আমার সব কিছু। একে নিয়েই তো আমি বেঁচে আছি। (পেছনে ফিরে শ্রাবণীকে জবাব দিয়ে)
শ্রাবণীঃ তা বলি বিয়ে টাও কী এইসব বই কেই করবে? (বিরক্ত নিয়ে)
আহাদঃ বাহ! ভালো বলেছো তো। এটা তো কখনও ইমাজিন করি নি। ভাবতে হবে।

মাহিলা কপালে হাত দিয়ে বললো, তুমি এতটা বোকা কেমনে হতে পারো? একদম বিরক্তিকর। (হতাশা আর বিরক্ত নিয়ে)
আহাদঃ এই লামিজা আপুও এই কথা বলে। তোমায় কী শিখিয়ে দিয়েছে নাকি? (অবাক হয়ে)
শ্রাবণীঃ চুপ কর। (ধমক দিয়ে)
আহাদ চুপ হয়ে গেলো আর বই গোছাতে লাগলো।
শ্রাবণীঃ আচ্ছা একটা কথা বলি? (মায়া নিয়ে)

আহাদঃ বলো।
শ্রাবণীঃ তোমার কী বই ছাড়া আর চিন্তা নেই? আর কিছু নিয়ে ভাবনা নেই?
আহাদঃ আছে তো। (হাসি মুখে)
শ্রাবণীঃ কী সেটা? (আকাঙ্কা নিয়ে)
আহাদঃ কীভাবে এই সব বই পড়ে শেষ করা যায়, কীভাবে ভালো রেজাল্ট করা যায়, আপুকে দেখে রাখা যায় এই সব ভাবনা আছে। দারুন না? (শ্রাবণীকে প্রশ্ন করে)
শ্রাবণীর রাগে মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে। শ্রাবণী রাগে বলে উঠলো, তুই একটা বলদা। তুই থাক তোর বই নিয়া।

এসব বলে রাগে হনহন করে বেরিয়ে গেলো শ্রাবণী। আহাদ হা করে শ্রাবণীর চলে যাওয়া দেখতে লাগলো।
আহাদঃএই মেয়েটা এমন কেনো? আমি তো আমার ভাবনা বা পরিকল্পনাটাই বললাম। এমন করলো কেনো মেয়েটা? যাই হোক অনেক কিউট কিন্তু। ধুর কী যে ভাবছি আমি। (হাত দিয়ে মাথার পেছনে টালা দিয়ে)

পায়েলঃ কী রে আপু! রাগে ফুলে আছিস কেনো? (শ্রাবণীর দিকে তাকিয়ে)
শ্রাবণীঃ কোথায় থেকে এই সব বলদ গুলা আসে রে? (রাগে)
পায়েলঃ কার কথা বলছিস? (আশ্চার্য হয়ে)
শ্রাবণীঃ ঐ যে আহাদের বাচ্চার কথা বলছি। (প্রচন্ড রাগে)
পায়েলঃ ভাইয়া কী বিয়ে করেছে? (মজা নিয়ে)
শ্রাবণীঃ খুন করে ফেলবো যদি বিয়ে করে তো। (প্রচন্ড রাগে)

পায়েলঃ কী রে আপু ভাইয়ার প্রেমে টেমে পড়ছিস নাকি? (রহস্য হাসি নিয়ে)
শ্রাবণীঃ আ…আ..আ..রে..কী..ব..ব…
পায়েলঃ থাক আর তোতলাইতে হবে না। সব বুঝে গেছি আমি। (হাসি মুখে)
শ্রাবণীঃ কী বুঝেছিস?
পায়েলঃ তুই ভাইয়ার প্রেমে পড়েছিস। (গানের সুরে)

শ্রাবণীঃ ধ্যাত! (লজ্জা নিয়ে)
পায়েলঃ ইস! কী লজ্জা পাচ্ছে দেখো তো!
শ্রাবণীঃ পায়েল কাউকে কিছু বলিস না প্লিজ। (পায়েলের হাত ধরে)

পায়েলঃ আসো বাবু লাইনে আসো। ট্রিট দিতে হবে তাহলে। (ভাব মেরে)
শ্রাবণীঃ আগে ওর কাছে থেকে প্রোপোজাল পাই। কখন নিস বইন? (মায়া নিয়ে)
পায়েলঃ আচ্ছা ঠিক আছে। তবে ভাইয়া কী তোকে ভালোবাসে?
শ্রাবণীঃ আরে ওভাবে একদিনে ভালোবাসা হয় নাকি?

পায়েলঃ তাহলে তুই কীভাবে একদিনে ভালোবেসে ফেললি?
শ্রাবণীঃ ওর হাসি, ওর কথা, ওর সরলতা আর ওর জড়িয়ে ধরা আমাকে তো পাগল করতেছে Just..(আবেগ নিয়ে)
পায়েলঃ কীহ! কথা, হাসি, সরলতা বুঝলাম। কিন্তু জড়িয়ে ধরা মানে?
শ্রাবণী পায়েল কে সব খুলে বললো।

পায়েলঃ কিন্তু সে তো পড়া নিয়েই ব্যস্ত। তাকে নিজের করে নিতে পারবি?
শ্রাবণীঃ হেল্প কর প্লিজ বোইন। (মায়া নিয়ে)
পায়েলঃ হুম করবো। আমার ভাইয়ের মাথা থেকে নেমেছিস তাই ভালো। (খুশি হয়ে)
শ্রাবণীঃ কীহ! (রাগে)

পায়েলঃ আরে কিছু না। ঘুমিয়ে পড় এখন(বিছানায় শুতে শুতে)
শ্রাবণীঃ তোর ও যখন প্রেম হবে তখন দেখা যাবে!
পায়েলঃ আসুক আগে। তখন না হয় দেখা যাবে।

লামিজাঃ জনি এভাবেই কী কোলে শুয়ে থাকবে? রাত তো ১২ টা বাজে। চলো খেয়ে নেমে। ঔষধ খেতে হবে তো!
জনিঃ আর একটু থাকি?
লামিজাঃ না একদম না। চলো ওঠো। (জনিকে ঠেলে তুলতে তুলতে)..


পর্ব ১০

জনি আস্তে আস্তে উঠে পড়লো।
লামিজাঃ খাওয়ায় দিবো? (খাবার প্লেট এনে)
জনিঃ তো কী করবে? তুমি না খাওয়ায় দিলে আমি কী খেতে পারি?
লামিজাঃ আচ্ছা বাবু। আমি জানি তো। হা করো এখন।

লামিজা জনিকে খাওয়ায় দিতে লাগলো। জনি ছোট বাচ্চার মতো গপাগপ খেতে লাগলো।
জনিকে খাওয়ানোর পর লামিজাকে জনি খাওয়ায় দিলো। লামিজা হাসি হাসি মুখ নিয়ে খেতে লাগলো। খাওয়া শেষে জনি আবার লামিজার কোলে শুয়ে পড়লো।
লামিজাঃ আমি তোমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি তুমি ঘুমিয়ে পড়ো। (হাত বুলাতে বুলাতে)
জনিঃ আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি লামিজা।
লামিজা জনির কপালে মিষ্টি একটা চুমু দিয়ে বললো, আমিও তোমাকে অনেক বেশি ভালোবাসি সোনা।
একটু পর জনি ঘুমিয়ে গেলো। লামিজা জনিকে বালিশে শোয়ায় দিয়ে নিজেও ঘুমাতে গেলো।

সকাল বেলা পড়াশোনার আওয়াজ শুনে ঘুম ভেঙ্গে গেলো শ্রাবণীর।
শ্রাবণীঃ এই পায়েল এত জোড়ে জোড়ে কে পরছে রে? (বিরক্ত নিয়ে)
পায়েলঃ কৈ? (কুচড়ে মুচড়ে)
শ্রাবণীঃ ভালো করে শুনে দেখ। (পায়েলের মাথায় টালা দিয়ে)

পায়েলঃ সকাল সকাল বিরক্ত করিস না তো আপু। কোথায়? (বিরক্ত নিয়ে)
শ্রাবণীঃ একটু ভালো করে কান পেতে শোন বোইন!
পায়েল এবার শুনতে পেলো যে কেউ পড়ছে। গুনগুনিয়ে না অনেক জোড়ে জোড়ে। আবার মাঝে মাঝে চিৎকারও করছে।
শ্রাবণীঃ শুনতে পারছিস?

পায়েলঃ হুম। এটা নিশ্চই তোমার পড়ুয়া বাবু হবে। যাকে তুমি ব ল দ বলে ডাকো। (হা হা হা হা হা হা হা হা)
শ্রাবণীঃ চুপ কর। তোর মতো তো আর পড়া চোর না। পড়ছে এটা তো ভালো।
পায়েলঃ তাই বলে এত জোড়ে?
শ্রাবণীঃ দারা আজ ওকে মজা দেখাচ্ছি। (বিছানা থেকে উঠে)

আহাদের কানে হেডফোন আর হাতে বই। বই এর পড়া গুলো জোড়ে জোড়ে পড়ছে আর যখনি গানের ফিল পাচ্ছে তালে তাল রেখে চিৎকার করছে।
আহাদঃ জৈব যৌগের বিক্রিয়ার কৌলল নুরিসারে মুক্ত মূলক অথবা “আলবিদা আলবিদা মেরে রাহে আলবিদা মেরে সাসে কেহতিহে আলবিদা”আয়নিয় বিকারক উভয়ের মাধ্যমেই প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া সংঘটিত হতে পারে। “মাইয়া রে মাইয়া রে তুই ছাইড়া গেলি রে। আমার বুকটা এখন কাইন্দা মরে আমায় ছেড়ে দে। লে লে লে লে লে লে লে..

শ্রাবণী দৌড়ে এসে আহাদের কান থেকে হেডফোন খুলে ফেলে দিলো। আহাদ অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো।
শ্রাবণীঃঐ ব্যাটা চিৎকার করতাছোস কেনো? (চিল্লায়)
আহাদঃআমি তো পড়তেছিলাম(মায়া সুরে)

শ্রাবণীঃ তাহলে কী আমার বর আইসা চিল্লাইতেছিলো? (রাগের মাথায়)
আহাদঃ আপনি বিয়ে করেছেন? কবে? (আশ্চর্য হয়ে)

শ্রাবণীঃ ঐ ব্যাটা আমি তরে বলছি যে আমি বিয়ে করেছি? আমারে দেইখা বোঝোস না আমি কুমারী? (রাগে ফুলতে ফুলতে)
আহাদঃএকটু আগে যে বললেন আপনার বর এসে চিল্লাছিলো। (মাথা চুলকাতে চুলকাতে)

শ্রাবণী কপালে হাত দিয়ে ক্লান্ত সুরে আজানায় হারিয়ে বলে, আরে ব ল দ আমার বর তো তুমি। আমি তো তোমাকেই বিয়ে…(জিহ্বা কামড়ে থেমে যায় শ্রাবণী)
আহাদঃ ব ল দ কে বিয়ে করবেন? কোনো প্রাণী কে বিয়ে করা যায়? (মাথা চুলকাতে চুলকাতে)

শ্রাবণীঃ ধন্যবাদ তুমি বুঝো নি। আর সবচেয়ে বড় কথা তুমিই সেই ব ল দ। (হাসি আর লজ্জা নিয়ে দৌড়ে বের হয়ে যায় শ্রাবণী)
আহাদঃ কিছুই তো বুঝলাম না। যাইহোক (কানে হেডফোন দিয়ে)কোনো জৈব যৌগের অণু থেকে..”আলবিদা আলবিদা..থুক্কু চিল্লাইতে তো নিষেধ। ভুইলাই গেছি। (হা হা হা হা হা)
এতক্ষন দরজার আড়ালে লুকায় ছিলো লামিজা। চিৎকার শুনে আহাদের রুমে এসে শ্রাবণীর শাসন, শ্রাবণীর বিরক্ত আর শ্রাবণীর ভুলে মুখ দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া ভালোবাসা সব কিছু খেয়াল করে লামিজা।
লামিজাঃ(এই ব্যাপার তাহলে। শ্রাবণী আহাদকে ভালোবাসে! কিন্তু আহাদটা তো বোকা। এইসব তো কিছুই বোঝে না। যাই হোক আমি আছি তো। আমি মিলায় দিবো নি। আমার জনির পিছু তো ছাড়ছে। ){খুশি হয়ে}

পায়েলঃ কী রে আপু মুখ লুকিয়ে হাসতেছিস কেনো? (শ্রাবণীর কান্ড দেখে)

শ্রাবণীঃ মুখ ফসকে বলে ফেলেছি যে, “তুমি একটা ব ল দ। আমার বর তো তুমি। আমি তোমাকেই বিয়ে…” বলেই আঁকটে গেছি।
পায়েলঃ আল্লাহ! (আশ্চর্য হয়ে)ভাইয়া কী বুঝতে পেরেছে? (আশ্চার্য নিয়ে)
শ্রাবণীঃ ধুর। ও বলে যে, ব ল দ কেও বিয়ে করা যায়? জানতাম না তো।
শ্রাবণী আর পায়েল হাসিতে লুটিয়ে পড়লো।
পায়েলঃ ভাগ্যে পাইছিস একজনকে বইন! জোস বোকা! (হা হা হা হা)

শ্রাবণীঃএকদম বোকা বলবি না। ভার্সিটিতে টপ। আর ও সরল প্রকৃতির। (পায়েলের মাথায় টোকা দিয়ে)
পায়েলঃএখনি এই অবস্থা। বাসর রাতে কী আদৌ কিছু হবে তোদের? (হাসতে হাসতে)
শ্রাবণীঃ যাহ! কী বলছিস এইসব? (লজ্জা নিয়ে)
পায়েলঃ আহারে! লজ্জা পাচ্ছো? লজ্জা পেয়ো না বইনা। বুকে কষ্ট লাগে। (নাটক করে)
শ্রাবণীঃ আর নাটক করতে হবে না। চল নিচে যাই।
পায়েলঃ চল।

নুরি নিশানের রুমে এসে দেখে চারদিকে শুধু রঙ্গের ছোঁয়া। নিশান চুপ করে বসে কিছু একটা আঁকছে।
নুরিঃ কী আঁকছো নিশান? (নিশানকে পেছন থেকে ডেকে)
চমকে ওঠে নিশান।

নুরিঃ এ মা চমকে গেলা কেনো? (আশ্চার্য স্বরে)
নিশানঃ না হঠাৎ ডাকলে তো তাই চমকে গিয়েছি। কাল আমার আর্ট Axhibition আছে তো তাই কিছু আর্ট নিয়ে ব্যস্ত আছি।
নুরিঃ কীহ? আগে তো কখনও বলো নি? (আশ্চার্য হয়ে)
নিশানঃ হঠাৎ করেই বললো তো তাই বলা হয়ে উঠেনি।

নুরিঃ তুমি যে আর্ট করো তা তো আগে কখনও বলো নি। আজকেই তোমার রুমে এই রং তুলি দেখছি আমি।
নিশানঃ ভালো লাগা তো। তাই কখনও এটা নিয়ে বলা হয় নি। রাগ করিও না আমার ওপর। (মায়া নিয়ে)
নুরিঃ আরে না গো রাগ করি নি। আগে বোলতা তাহলে এতটা Surprise হতাম না।
নিশানঃ হুম। (হাসি নিয়ে)
নুরিঃ আমায় কাল নিয়ে যাবে না EXHIBITION এ?

নিশানঃ সবাই যাবে নুরি। (হাসি নিয়ে)
নুরি নিশানের ছবি আঁকা দেখতে লাগলো আর আশ্চার্য হতে লাগলো।
নুরিঃ এতটা সুন্দর করে ছবি আঁকো তুমি? (আশ্চার্য হয়ে)

নিশানঃ এমনি চেষ্টা করি।
নুরিঃ তোমার Exhibition শেষ এ আমার ছবি এঁকে দিবে সোনা?
নিশানঃ এসো আমার সাথে। (নুরির হতে ধরে)

নিশান নুরিকে ঘরের অপর রুমে নিয়ে গেলো। নুরি চারদিকে তাকিয়ে শুধুই অবাক হয়ে যাচ্ছে। প্রতিটা কোণে এমন কী মেঝের প্রান্তগুলোতেও তার ছবি আঁকা। নুরি সজোরে নিশানের বুকে ঝাপিয়ে পড়লো।

নুরিঃ এত বড় Surprise এর জন্য তৈরী ছিলাম না নিশান।
নিশানঃ হুম। (নুরিকে বুকের মাঝে বিশাল জায়গা এঁটে দিয়ে)

বই নিয়ে হেঁটে হেঁটে পড়ছে আহাদ। কোনো দিকেই তার চোখ নেই। শুধু বইয়ের দিকেই চোখ। পায়েল শ্রাবণীর লেখা আহাদের জন্য প্রেমপএ নিয়ে দৌড় শুরু করেছে। শ্রাবণীও পায়েলের পিছে দৌড়ানো শুরু করেছে। পায়েল আহাদের সামনে এসে থেমে যায় এবং সরে দাঁড়ায়। আহাদ খুব সুন্দর ভাবে বিক্রিয়াটা মাথায় গেঁথে নিচ্ছে আর এক প্রান্ত ক্রস করছে। ঠিক ঐ সময়ে শ্রাবণী দৌড়ে এসে নাজেকে সামলাতে না পেড়ে আহাদের উপর সজোরে ধাক্কা খেয়ে আহাদের বুকের ওপর পড়ে যায়।

আহাদঃ ও আপু গো পড়ে গেলাম গো! কমর ভেঙ্গে গেলো গো! আমার বিক্রিয়া থেমে গেলো গো। (শ্রাবণীকে বুকে জড়িয়ে চিল্লাতে চিল্লাতে। )
শ্রাবণী আহাদের চিল্লানিতে থমকে গেছে। বিরক্ত আর রাগে হাত দিয়ে আহাদের মুখ চেপে ধরে বললো, ঐ চুপ করো প্লিজ। চিল্লাই তো কানের পোকা মেরে ফেলতাছো। (রাগে)


পর্ব ১১

আহাদঃ আমার উপরে পড়ছো কেনো তুমি? আমার তো ভয় করছে। ছেড়ে দাও আমায় প্লিজ। (চোখ বন্ধ করে শ্রাবণীকে আকড়ে ধরে)
পায়েলঃ ভাইয়া আর আপু একটু স্মাইল প্লিজ। (ছবি তুলতে তুলতে)

আহাদঃ কান্না বের হচ্ছে আমার। হাসবো কেনো? আমার কমর তো ভেঙ্গেই গেলো বুঝি। আপু গো কোথায় তুই? তোর ভাই বুঝি আর বাঁচবে না আপু। কোথায় তুই? (মড়া কান্না কেঁদে কেঁদে)
শ্রাবণীঃ আহাদের বাচ্চা আগে আমারে ছেড়ে দে। এমনে শক্ত করে জড়ায় ধরলে মুক্তি পাবো কেমনে? (বিরক্ত আর রাগ নিয়ে)
আহাদঃ আমি তো তোমাকে ধরি নি। তুমিই তো আমাকে ধরেছো। মরার আগে একবার পড়া গুলো রিভিশন দিয়ে নিই…দুই বা ততোধিক গ্যাস যখন রাসায়নিক বিক্রিয়া ছাড়াই পরস্পরের সাথে সম্পূর্ণ ভাবে মিশে যায়…ধুর আর মনে পড়ছে না। আপু কৈ তুই? শেষ বিদায় দিবি না?

শ্রাবণী প্রচন্ড রাগে আহাদের মুখ চেপে ধরে বলে, এই বলদা আরেকবার আপু আপু আর পড়াশোনার কথা বললে সত্যি সত্যি তোরে আমি মাইরা ফেলবো। ছাড় আমারে।
আহাদ অবশেষে বুঝতে পারলো যে সে শ্রাবণী কে ধরে আছে। তৎক্ষনাত শ্রাবণীকে ঝেড়ে ফেলে উপরে উঠে যায় আহাদ। শ্রাবণী ধপাস করে পড়ে যায়। পায়েল হাসতে হাসতে লুটিয়ে পড়ে তাদের কান্ড দেখে।

আহাদঃ ওহ! সরি শ্রাবণী। ভয়ে ফেলে দিয়েছি। (শ্রাবণীর হাত ধরে তুলতে তুলতে)
শ্রাবণীঃ এবার বোধ হয় আমার কোমর ভেঙ্গে গেলো গো! (মায়া নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে)
আহাদঃ সমস্যা নেই আমি ভালো কোমর মালিশ করতে পারি। (সব দাঁত বের করে হাসি দিয়ে)
শ্রাবণীঃ অসভ্য কোথাকার! তোর তো স্বভাব একদম ভালো না। (চিৎকার করে)

আহাদঃ ওহ! শ্রাবণী সরি সরি আসলে আমার আপুর কথা বলতে আমি আমার কথা বলে ফেলেছি। সরি। (দৌড়ে পালিয়ে গেলো)
পায়েলঃ কী রে আপু ভাইয়া তোকে এত ভালো একটা কথা বললো তুই ওকে অসভ্য বললি? (হাসি নিয়ে)
শ্রাবণীঃ চুপ কর তুই। ও মা গো ব্যাথায় নড়তেই পাচ্ছি না। ওরে আরেকবার দেখা পাই আগে। জনমের মতো দেখায় দিবো আমি কে! (কুড়কে কুড়কে)
পায়েলঃহোক। আগে চল মুভ দিয়ে দিই। আর ঔষধ খেয়ে নিবি চল। (শ্রাবণীকে ধরে)
শ্রাবণীঃ চল।

দুপুর ১ টার দিকে কলিংবেল বেজে উঠলো। পায়েল দৌড়ে এসে দরজা খুলে দিয়েই চমকে গেলো। তার মা বাবা চলে এসেছেন।
পায়েলঃ মা, বাবা কখন এলে তোমরা?
জনির মাঃ ভোরেই পৌঁছে গেছি রে। একটা বড় কাজ সারতে এসেছি। (হাসি নিয়ে)
পায়েলঃকী কাজ? (আশ্চার্য হয়ে)

বাবাঃভেতরে গিয়ে বলি?
পায়েলঃ ওহ! সরি এসো এসো।
মাঃ বুড়ি হয়ে গিয়েছিস নাকি মা? (পায়েলের দিকে তাকিয়ে)
পায়েলঃ কী যে বলো মা! (হাসি নিয়ে)
পায়েল বাসার সবাইকে ডেকে নিচে আনলো। জনি গিয়ে তার মা, বাবাকে সালাম করে নিলো। বাসা ভর্তি মানুষ দেখে জনির মা আর বাবা খুশি হয়ে গেলো। জনির মা লামিজাকে কাছে নিয়ে জনির পাশে বসিয়ে দিয়ে বললো, বাহ! দেখো জনির বাবা কত সুন্দর মানিয়েছে দুজনকে।
বাবাঃ হুম খুব মানিয়েছে।

পায়েলঃ কী করতে চাইছো তোমরা? (আগ্রহ নিয়ে)
জনির বাবাঃ ৪ দিন পরে আমাদের আবার চলে যেতে হবে। তাই কালকে ছোট্ট পরিসরে জনি আর লামিজার জনি বিবাহটা সেরে ফেলতে চাইছি।
সকলেই প্রথমে থমকে গেলো পরে সবাই খুশি হয়ে একসাথে হুররে বলে চিৎকার দিয়ে উঠলো। লামিজা লজ্জা পেয়ে দৌড়ে তার রুমে চলে গেলো।
পায়েলঃ ভাবি আগেই লজ্জা পেয়েছে।

সবাই হাসতে লাগলো।
নিশানঃ আঙ্কেল সব কিছু কী ঠিক হয়েছে? (জনির বাবাকে জিঙ্গাসা করে)
বাবাঃ ভোরে দেশে এসেই সময় নষ্ট না করে সব ঠিক করে ফেলেছি আমরা। তোমরা শুধু শপিং টা সেরে ফেলো। আর হ্যাঁ নিশান নুরি আর তোমারও বিয়ে কিন্তু কলকে। নুরির পরিবারকে আসতে বলো। (হাসি মুখে)

এবার সকলে আরও খুশি হয়ে গেলো। নুরি খুশিতে লজ্জা পেয়ে দৌড়ে পালিয়ে গেলো।
শ্রাবণীঃ এটাও পালালো!
আবার সকলে একসাথে হেসে উঠলো।

জনির মাঃ আমার দুই ছেলে সুখে থাক আমার দুই বউমাকে নিয়ে এই দোয়াই করি আজীবন।
জনি আর নিশান খুব খুশি হলো।
পায়েলঃসবার বিয়ে হচ্ছে আর আমি কুমারী থেকে যাবো?
শ্রাবণীঃআরে আমিও তো আছি।
জনির মাঃতোরাও জুটিয়ে নে। আরেকবার এসে না হয় তোদের বিয়ে দিয়ে যাবো।
সকলে হাসিতে লুটিয়ে পড়লো।

সন্ধ্যার দিকে নুরির মা, বাবা পৌঁছে গেলো।

নিশান সকলকে নিয়ে তার আর্ট EXIBITION এ গেলো। সকলে নিশানের আর্ট দেখে প্রসংশা করতে লাগলো। বিশেষ করে সব আর্টেই নুরি চেহারার বিশেষ ছাপ ছিলো। বাহিরের দেশ থেকে অনেকে এই সব আর্ট কোটি টাকায় কিনে নিলো। নুরি খুবি অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলো আর্টগুলোর দিকে। আজ আরেকবার নিশান তাকে Surprise করেছে।

ছাদে…
লামিজাঃ জনি ঐ যে দূরের আকাশ থেকে মা, বাবা নিশ্চই আমাদের দেখছেন তাই না? (মৃদু স্বরে)
জনিঃ হ্যাঁ লামিজা। ওনারা সব সময় আমাদের জন্য দোয়া করে যাচ্ছেন।

লামিজাঃ আজ যদি মা, বাবা বেঁচে থাকতেন..(লামিজা কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো)
জনি লামিজার কাছে গিয়ে লামিজার চোখের পানি মুছে দিয়ে বললো, কেঁদো না রুপবতী আমার। তোমার কান্নায় যে ঐ দূরের আকাশের চাঁদ ও অঝোরে কেঁদে দেবে। তুমি কাঁদলে তো আমার চোখের জল গুলো ও বেয়ে বেয়ে সমুদ্র তৈরী করবে। তুমি প্লিজ কেঁদো না।
লামিজা কান্না থামায় দিলো।

শ্রাবণীঃ আরে ভাইয়া, আপু চলো নিচে ডাকছে তোমাদের। আর ভাইয়া কাল থেকে তো আপু তোমার। একটু অপেক্ষা করো। (ছাদে এসে লামিজা আর জনিকে ডেকে)
জনিঃ শ্রাবণী তুমি কবে থেকে আমাকে ভাইয়া ডাকা শুরু করেছো? (অবাক হয়ে)
শ্রাবণীঃ অনেক আগেই থেকে। (হাসি নিয়ে)
জনিঃ এভাবে ভাইয়া ডাকলে তো বুকটা ফাইটা যায় আমার…..(মজা করে)
লামিজাঃ ঐ? টাংকি মারতেছো আমার সামনে? একদম খেয়ে ফেলবো কিন্তু বলে দিলাম। (জনির ন্যাকামি দেখে রাগ হয়ে)
জনিঃ কৈ..কৈ..আমি তো ম..জা করছি..লা..লা..ম(তোতলাইতে তোতলাইতে)

লামিজাঃ তোতলানো ছাড়িয়ে দেবো একদম। বেয়াদবি? (রাগে)
শ্রাবণীঃ ওহ! তোমরা ঝগড়া থামাও তো। মামা, মামী ডাকছে তো তোমাদের। আমি গেলাম।
জনিঃ চলো লামিজা। (ভয়ে)
লামিজাঃ আমি ছাড়া কাউকে দেখলে বা টাংকি মারলে তোমাকে শেষ করে ফেলবো কিন্তু বলে দিলাম। (রাগে)
জনিঃ আচ্ছা বাবু এমন আর কখনও হবে না। (হাসি মুখে)


পর্ব ১২

আহাদের রুমে…
আহাদ পড়াশুনা আর পাগলামিতে ব্যস্ত…..
আহাদঃ যেসব জৈব যৌগের অণুতে একযোজী কার্বক্রিল মূলক বর্তমান থাকে তাদেরকে কার্বক্রিলিক এসিড বলে। “লাল শাড়ি পড়িয়া বইন আমার শ্বশুর বাড়ি যায়, একা একা ভালো লাগে না বিয়া করতে মন চায়। খুঁইজা পাইনা ভালো মাইয়া কান্দে মন আমার, ও শ্রাবণী কোথায় গেলা তুমি বউ হবে কী আমার? “থুক্কু কী বলছি এইসব! আহ ভালো লাগে না আর। পড়াই পড়ি। কার্বক্রিলিক এসিডের অণুতে কার্বক্রিলিক এসিড মূলক…..
শ্রাবণীঃ আসতে পারি বিদ্যাসাগর মশাই? (দরজার পাশে দাড়িয়ে)

আহাদঃ আরে আসো আসো। (হাসি নিয়ে জবাব দিয়ে)
শ্রাবণীঃ কী করতেছেন? ( বিছানায় বসে)
আহাদঃ কী যে চাপে আছি! এই পড়াটা শেষ করতে পারলেই বইটা শেষ হবে। তখন আরেকটা বই পড়া শুরু করবো।
শ্রাবণীঃ আজাইরা! (বিরক্ত নিয়ে)
আহাদঃ আচ্ছা আমাকে প্রেম করা শিখাবা? (আগ্রহ নিয়ে)

শ্রাবণীঃ কীহ! কেনো? (আশ্চর্য হয়ে)
আহাদঃ আরে সবার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। আমার ও তো বিয়ে করতে ইচ্ছে করে। তো ভাবছি মেয়ে পটাবো একটা। কীভাবে পটাতে হয়? (হতাশ নিয়ে)
শ্রাবণীঃ আমারে দেইখা কী তোমার এইসবের মাষ্টার মনে হয়? (আশ্চার্য হয়ে)
আহাদঃ আরে তুমি দেখতে কিছুটা সুন্দর তাই অনেক প্রোপোজাল পাইছো নিশ্চই। তা ছেলেরা কীভাবে তোমাকে প্রোপোজ করতো?
শ্রাবণীঃ আমি দেখতে কিছুটা সুন্দর? (প্রচন্ড রাগে)
আহাদঃ আরে কে বলছে কিছুটা? তুমি দেখতে প্রচন্ড সুন্দর। (ভয়ে মুচকি হেসে)
শ্রাবণীঃ সত্যি?

আহাদঃ একদম সত্যি। এবার বলো কীভাবে ছেলেরা প্রোপোজ করে?
শ্রাবণীঃ তুমি কাকে প্রোপোজ করবা? (মায়া আর লজ্জা পেয়ে)
আহাদঃ শুনবে?
শ্রাবণীঃ হুম।
আহাদঃ সে এক ভৌত জগতে থাকা রাসায়নিক পরী। তার দুই হাতে দুটি অক্রিজেন বন্ড, দুই পায়ে দুটি হাইড্রোজেন বন্ড। চার হাত মিলে গেলো তো! মুখ খানি তার সায়ানাইডের আদ্র বিশ্লেষণে চুবানো। সেই মুখ খানি দেখলেই সকল মৌল যেনো যৌগতে পরিণত হতে চায়। তার চোখ থেকে স্পষ্ট বেনজিন চক্র দেখা যায়।

সমতলীয় সেই চক্রে পাই কাঠামো যেনো বার বার চেন্জ হচ্ছে কিন্তু সিগমা কাঠামো একদম ঠিক ঠিক ভাবে অবস্থান করছে। তার হাতের তালুতে যেনো রয়েছে ক্লোরোফোম গ্যাস। যা বাব বার ঙ্গান হারিয়ে দেয়। তার চুলের পিএইস এতটাই সমৃদ্ধ যে ফিউরান বা পাইরল আঘাত করতে পারে না। অবশেষে বলতে চাই অ্যারোমা যুক্ত আপাদমস্তকে শুধু যেনো ভালোবাসতেই ইচ্ছে করে। তাই তাকে এতটা ভালোবাসি।

শ্রাবণীঃ এগুলা কোন কবি লিখেছেন? (মাথা চুলকাতে চুলকাতে)
আহাদঃকবি আহাদ বেনজোয়িক। (হাসি নিয়ে)

শ্রাবণীঃবিশ্বাস করো তোমার মতো পাগল জীবনে দেখি নাই আমি। সব কিছুতে পড়াশোনা একদম ভালো না। (রাগে ফুলে বের হয়ে গেলো)
আহাদঃ যাক বাবা! আমি আবার কী করলাম? যাই হোক মেয়েটাকে খুব কিউট লাগে। একদম বেনজিনের মতো। কিন্তু বেনজিন তো মোটা। ও তো মোটামুটি মোটাও না পাতলা ও না। ওহ হ্যাঁ বিয়ের পরেই বেনজিন হয়ে যাবে। (হাহাহাহাহাহাহাহা)

সকাল থেকেই নুরির মা, জনির মা রান্নাতে ব্যস্ত। পায়েল, শ্রাবণী আর লায়লা নুরি আর লামিজাকে সাজাতে ব্যস্ত। সন্ধ্যার দিকে কাজী উপস্থিত হলো। ধীরে ধীরে জনি, লামিজা আর নুরি, নিশানের বিয়ে সম্পন্ন হলো।

জনি, লামিজার বাসর রাতে…

ঘোমটা দিয়ে বসে আছে লামিজা। জনি এসে ঘোমটা তুলে দিয়ে লামিজা চাঁদমাখা মুখটি দেখলো।
জনিঃ এত সুন্দর কেনো আমার বউটা?
লামিজাঃ যাহ! (লজ্জা পেয়ে)

জনিঃ এত লজ্জা পেলে হবে? এখন ও তো কিছুই হলো না। (লামিজাকে কাছে টেনে)
লামিজা জনির বুকে মাথা রেখে বললো, জনি আমাকে এভাবে সারাজীবন আগলে রাখবে তো? (মায়া নিয়ে)
জনিঃ হুম লামিজা। রাখবো।

জনি লামিজার ঠোঁট দুটোতে হালকা হাতের ছোঁয়া দিয়ে নিজের ঠোঁট দুটো লামিজার ঠোঁটে ডুবিয়ে দিলো। লামিজা পাগলের মতো দিশেহারা হতে লাগলো। জনি লামিজার আঁচল ধীরে ধীরে সরিয়ে দিয়ে বুকের মাঝে মাথা গুজে দিতে লাগলো। ধীরে ধীরে লামিজা পাগল প্রায় হতে লাগলো। জনিকে অনবরত চুমু দিতে লাগলো। জনি লামিজার পেটের চারদিতে হাত বুলাতে বুলাতে নিচের দিকে চলে গেলো। লামিজা শাড়ী আস্তে আস্তে খুলে ফেলে দিলো জনি। ছায়ার বাঁধন খুলে এক টান দিয়ে ফেলে দিলো বহু দূরে। পরম আবেগে লামিজা আজ ভালোবাসায় নিজেকে বিলিয়ে দিলো জনির কাছে। তারা দুজনেই মেতে উঠলো এক ভালোবাসার গভীর পূর্ণতায়।

নিশান ও নুরির বাসর ঘরে….
লাল টুকটুকে শাড়ি পড়ে ঘোমটা দিয়ে বসে আছে নুরি। নিশান রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলো। নুরির পাশে এসে নিশান নুরির ঘোমটা তুলে দিলো আর তাকিয়ে রইলো নুরির দিকে।
নুরিঃকী দেখছো এভাবে? (লজ্জা পেয়ে)

নিশানঃ দেখছি আর ভাবছি কীভাবে তোমার ছবি আঁকলে সুন্দর লাগবে! (চিন্তা নিয়ে)
নুরিঃ তাই বুঝি!

নিশানঃ হুম। তুমি এভাবেই সারা রাত বসে থাকো আমি তোমার ছবি আঁকি। বসে থাকো এভাবে।
নিশান উঠতে যাবে ঠিক এই সময় নুরি নিশানের হাত টেনে ধরে নিশানকে বিছানায় ফেলে দিলো এবং নিশানের উপর চড়ে বসলো।
নিশানঃ কী হয়েছে গো? (ভয় পেয়ে)
নুরিঃ বাসর রাতে বউকে বসায় রেখে তুমি ছবি আঁকবা? এটা কী সভ্যতা? সেই কবে থেকেই এই দিনটার অপেক্ষা করছি আর তুমি ছবি আঁকবা? দেখাচ্ছি তোমাকে….

এই বলে নুরি নিশানের ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দিলো। নিশান নুরিকে জড়ায় নিয়ে নুরির ওপর উঠে নুরির শাড়ী খুলে ফেলে দিলো। নুরির সারা শরীরে ভালোবাসার ছোঁয়া দিতে লাগলো নিশান। নুরি পাগলের মতো দিশাহারা হয়ে পড়তে লাগলো। ছায়াটা এক টানে খুলে ফেলে দিয়ে নিশান আর নুরি হারিয়ে গেলো এক পূর্ণতার জগতে। যেখানে দুজনে মিলে একাকার হয়ে যায় একজনে।

শ্রাবণী আর পায়েল দরজায় কান পেতে আছে জনি আর লামিজার রুমের বাহিরে। আহাদ পাশ দিয়ে যেতেই পায়েল আর শ্রাবণীর কান্ড দেখে থেমে গেলো।
আহাদঃ এখানে কী করছো তোমরা? (আগ্রহ নিয়ে)
চমকে উঠে শ্রাবণী আর পায়েল।

পায়েলঃ কৈ কিছু না তো। (ভয়ে ভয়ে)

আহাদঃ আচ্ছা বাসর রাত নাকি খুব মজার? কী হয় সেখানে? তোমরা কেউ জানো?

পায়েলঃ শ্রাবণী আপু তুই ম্যানেজ কর তোর বাবুকে আমি গেলাম। (দৌড়ে পালিয়ে গেলো পায়েল)
শ্রাবণী থ মেরে দাঁড়িয়ে রইলো।
আহাদঃ ও পালালো কেনো? (চমকে উঠে)

শ্রাবণীঃ জানি না। (অসহায় হয়ে)
আহাদঃ আচ্ছা বললে না তো কী হয় বাসর রাতে? (দাঁত বের করে)

মালাহা প্রচন্ড রেখে গিয়ে আহাদের কলার টেনে কাছে এনে বললো, এই বলদ আমাকে বিয়ে কর তাহলে তোকে শিখায় দিবো বাসর রাতে কী হয়। বুঝলি? (ছেড়ে দিয়ে)
আহাদঃ তোমাকেই বিয়ে করতে হবে? অন্য কাউকে বিয়ে করলে সে শিখাবে না? (ভয়ে ভয়ে)

শ্রাবণীঃ তোকে বলেছি না আমাকে বিয়ে করতে হবে! আমাকে বিয়ে করলেই শিখতে পারবি। তার আগে না। বল আমাকে বিয়ে করবি? (প্রচন্ড রাগে আহাদের কলার টেনে নিয়ে )
আহাদঃ হ্যাঁ। হ্যাঁ। আমি তোমাকেই বিয়ে করবো। আমার ভয় লাগছে। ছেড়ে দাও আমায়। (হাত পা কাঁপাতে কাঁপাতে)
শ্রাবণীঃ যা ভাগ। (আহাদ কে ধাক্কা দিয়ে)

আহাদ দৌড়ে পালিয়ে গেলো।
শ্রাবণীঃ বলদা কোথাকার। (নিজের রুমে যেতে যেতে)


পর্ব ১৩

পায়েলঃ কী রে আপু তোর বাসর রাতে কী শুধু বিক্রিয়ায় হবে নাকি অন্য কিছুও হবে? (শ্রাবণীর দিকে তাকিয়ে)
শ্রাবণীঃ চুপ কর। তুই আমাকে রেখে পালালি কেনো? (আশ্চর্য হয়ে)

পায়েলঃ ছিঃ আপু দুলাভাইয়ের সামনে কী করে বলবো যে বাসর রাতে কী হয়!
শ্রাবণীঃ বেশি পাকামো করিস না। খুব ঘুম পাইছে।
পায়েলঃ হুম আমারো।

সকালে ঘুম ভেঙ্গে গেলো লামিজার। নিজেকে জনির বুকে আবিষ্কার করলো সে। আস্তে আস্তে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে জনির ঠোঁটে মিষ্টি একটা পরশ এঁকে দিয়ে একটা লম্বা সাওয়ারে গেলো লামিজা। একটু পর শাড়ি পড়ে আয়নার সামনে এসে চুল আছড়াতে লাগলো লামিজা। জনি ঘুম থেকে উঠে অপলক দৃষ্টিতে লামিজাকে দেখতে লাগলো। লামিজা পেছন ফেরে অবাক হয়ে বললো, কী দেখো?

জনিঃ তোমাকে।

লামিজাঃ কেনো?
জনিঃ ভালো লাগে।

লামিজাঃ কেনো?
জনিঃ ভালোবাসি যে।
লামিজাঃ কেনো?
জনিঃ ভাল লাগছে। খুশির ঠ্যালায়। (প্রচন্ড রাগে)

লামিজা হাসতে হাসতে জনির কাছে এসে বললো, রাগ করেছো? (মায়া নিয়ে)
জনিঃ না একদম না। খুশির ঠ্যালায় আছি। (মুখ ঘুরিয়ে)
লামিজাঃ রাগ ভাঙ্গতে হবে বুঝেছি। কাছে আসো বাবু। (জনিকে ডেকে)
জনি ধপ করে লামিজার কাছে আসে।

লামিজাঃ আদর চাই বুঝি আমার রাগী বর টার? (জনির থুতনিতে হাতের ছোঁয়া দিয়ে)
জনিঃ হুম। (হাসিতে)
লামিজাঃ রাতের আদর কম হয়েছে বুঝি? (মায়ার সুরে)
জনিঃ হুম অনেক কম হয়েছে। (হাসি দিয়ে)

লামিজাঃ ওহ তাই বুঝি? আচ্ছা জনি এক কাজ করো তুমি ফ্রেশ হয়ে নিচে এসে নাস্তা করে অফিসে যাও। আমিও আদর তৈরী করে রাতে বেশি বেশি আদর করবো এখন। আচ্ছা? যাও তাড়াতাড়া যাও।
মহুর্তেই জনির হাসি মুখ বিলিন হয়ে গেলো।
জনিঃ একটু দাও না আদর প্লিস। (লামিজার হাত টেনে বাচ্চাদের কন্ঠে মায়া নিয়ে)

লামিজাঃ সরি বাবু। অনেক বেলা হয়েছে এখন যদি নিচে না যাই তাহলে সকলে কী ভাববে বলো? ছেড়ে দাও হাতটা আমার।
জনি দুঃখ নিয়ে লামিজার হাতটা ছেড়ে দিলো। লামিজা মিষ্টি হাসি নিয়ে নিচে নামতে লাগলো।
জনিঃ ধুত ভাল্লাগে না। (উঠে ওয়াশরুমের দিকে যেতে যেতে)

লামিজা নিচে গিয়ে রান্নাঘরে নুরিকে দেখে চমকে গেলো।
লামিজাঃ কী রে নুরি এত তাড়াতাড়ি উঠে পড়েছিস?

নুরিঃ আরে নিশান তো ছাড়তেই চাইছিলো না। অনেক কষ্টে চলে এসেছি। তুই এত তাড়াতাড়ি কেনো? আমি একা তো পারতাম সব ম্যানেজ করতে।
লামিজাঃ ওহ। তুমি একাই প্রশংসা পাবা আর আমাকে সবাই কাজ চুন্নি ভাববে তাই না! (ইয়ার্কি করে)

নুরিঃ বাহ ভালো বুঝেছিস তো।
লামিজা আর নুরি দুজনেই হাসতে লাগলো।
লামিজা আর নুরি দুজনে মিলে সকলের জন্য নাস্তা তৈরী করে নিলো। খাওয়ার সময় সকলে নতুন দুই বউ এর প্রশংসায় মেতে তুললো।

জনির বাবা আজ জনিকে তার দায়িত্ব বুঝায় দিলো। নিশান খুশি হলো যে জনি প্রথম কাজে আসলো। জনি সবকিছু বুঝে নিলো। নিশান জনিকে নিশানের পদ দিতে চাইলে জনি বলে, ভাই এতদিন তুই সব কিছু দেখছিস তাই তুই সব ভালো জানিস। আমার কোনো সমস্যা নেই বর্তমান পদে। তুই তোর পদে থেকেই আমার পাশে থাক তাতেই আমি খুশি।
নিশান জনিকে বুকে জড়িয়ে নিলো। জনির বাবা আজ সত্যি অনেক খুশি হলো।

আহাদের রুমে,
আহাদঃ কবে যে এই বই গুলা সব গ্রাস করে ফেলবো? (বইয়ের দিকে তাকিয়ে)না পড়তে হবে। পড়তেই হবে। বুঝতেই হবে। কিন্তু বাসর রাতটা তো বুঝলামি না। যাক গে শ্রাবণী তো বুঝাইতে চাইছে। (হাসি নিয়ে)

লামিজাঃ আসবো ভাই? (দরজায় দাঁড়িয়ে)
আহাদঃ আরে আয় আপু। (পেছনে ঘুরে)
লামিজাঃ পড়তেছিলি বুঝি?

আহাদঃ হুম রে।
লামিজাঃ আচ্ছা শ্রাবণী যে তোকে পছন্দ করে এটা বুঝিস তুই?
আহাদঃ কৈ! আমাকে তো বলে নি।

লামিজাঃ আরে গাধা মেয়েরা পছন্দ করলে বা ভালোবাসলে ছেলেদের বলে নাকি!
আহাদঃ তাহলে কী করে আপু?
লামিজাঃ আরে গাঁধা তুই ওকে প্রোপোজ করবি। সাধারন বিষয় একটা।
আহাদঃ সেটা কীভাবে বলে আপু?

লামিজাঃ নিজের মনের যত কথা আছে সব খুলে বলবি গভীর আবেগ দিয়ে।
আহাদঃ এতো একদম সহজ বিষয়। (হাসি নিয়ে)
লামিজাঃ আমি জানতাম তুই ঠিক পারবি। একটু শোনা তো। (আগ্রহ নিয়ে)

আহাদঃ (একটু কেশে) আমার নাম আহাদ। আমি দেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে পড়াশোনা করছি। আমরা দুই ভাই বোন। এই তো কালকেই আমার বড় বোনের বিয়ে হলো। খুব খুশি হয়েছি আমি। আপুর বরের নাম জনি। সে আমাকে খুব ভালোবাসে….
লামিজাঃ এই গাঁধা থাম থাম থাম। (রাগে, বিরক্তি আর হতাশায়)

আহাদঃ কেনো আপু কিছু বলতে কী ভুলে গেছি? (চমকে উঠে)
লামিজাঃ এই তুই কী রচনা বলতেছিস? তোকে কী রচনা বলতে বলা হয়েছে? তোকে তোর মনের কথা বলতে বলা হয়েছে।
আহাদঃ মনের কথাই তো বললাম আপু। (অবাক হয়ে)

লামিজাঃ আরে ভাই আমার তুই শ্রাবণীর সামনে গিয়ে শ্রাবণীকে বলবি যে, আমি তোমাকে ভালোবাসি। পারবি না?
আহাদঃ এটা তো খুব সহজ কাজ আপু। খুব পারবো। (হাসি দিয়ে)
লামিজাঃ তাহলে আজকে বলিস। ঠিক আছে?

আহাদঃ আচ্ছা আপু।
লামিজা চলে গেলো। আহাদ লাফাতে লাফাতে শ্রাবণীকে খুঁজে বের করলো। শ্রাবণী ছাদে বসে বসে গান শুনছিলো। আহাদ কে দেখে রেগে গেলো শ্রাবণী।
আহাদঃ শ্রাবণী….

শ্রাবণীঃ ঐ তুমি এখানে আসছো কেনো? কোনো লেকচার থাকলে দূরে গিয়ে মুড়ি খাও গিয়ে। আমাকে বিরক্ত করবে না একদম।
আহাদঃ আমি তো একটা কথা বলতে এসেছিলাম তোমায়। (ভয়ে ও মন খারাপে)

শ্রাবণীঃ কী কথা? (আশ্চর্য হয়ে)
আহাদঃ আসলে হয়েছে কী শ্রাবণী…
শ্রাবণীঃ কী হয়েছে।

আহাদঃ সাধারনত তাপ প্রয়োগের ফলে বেশিরভাগ পলিমারই জারিত হয়ে অন্য উপাদানে পরিবর্তিত হয়। কিন্তু আমি কোনো পরিবর্তন ছাড়াই শুধুমাএ একটা প্রভাবকের অদৃশ্য উপস্থিতি হৃদয়ের অন্তঃথ থেকে জারিত বা বিজারিত না করে মুখমন্ডের মুখ দ্বারা হালকা শ্বাস নিয়ে আবার ছেড়ে দিয়ে মধু মিশ্রিত গলায় বেনজিন বলয় বিহীন তোমাকে….

শ্রাবণীঃ Seriously তুমি খুবই বিরক্তিকর আহাদ। (রাগে আর বিরক্ত নিয়ে)এই কঠিন বাক্য ছাড়ে যখন কথা বলতে পারবে তখন আমার সামনে এসে কথা বলিও। মনে থাকে যেনো।
শ্রাবণী প্রচন্ড রাগে চলে গেলো। আহাদ থ মেরে দাঁড়িয়ে রইলো।

আহাদঃ আমি তো বলতে চাইছিলাম “আমি তোমাকে ভালোবাসি”কী কী যে বললাম! যাক গে কাল আবার বলবো এখন। আজ বরং আরো কিছু টিপস শিখি আপুর কাছে থেকে। (লাফাতে লাফাতে নিচে নামতে নামতে)


পর্ব ১৪

কলিংবেল বাজতেই আছে তো বাজতেই আছে। প্রচন্ড রাগ আর বিরক্ত নিয়ে দরজা খুলে দিলো শ্রাবণী আর ছেলেটাকে দেখে সাথে সাথে বকবকানি শুরু করে দিলো।
শ্রাবণীঃ মাথা খারাপ নাকি আপনার? এত বেল বাজায় কেউ? পাবনা থেকে কবে ছাড়া পেছেয়েন শুনি?

ছেলেটা হা করে শ্রাবণীর দিকে তাকিয়ে আছে আর মনের তৃপ্তিতে শ্রাবণীর কথা শুনছে।
নুরি দৌড়ে এসে শ্রাবণীকে বললো, আরে শ্রাবণী ও আমার মামাতো ভাই লাবিব।
শ্রাবণী সাথে সাথে চুপ মেরে গেলো।

শ্রাবণীঃসরি ভাইয়া আসলে বার বার বেলের শব্দ কানে এত লাগছিলো যে মাথা ঘুরে গিয়েছি তাই রাগে যাতা বলে ফেলেছি। মাফ করে দিয়েন।
লাবিবঃ আরে কোনো সমস্যা নেই। তোমার মতো এত্ত সুন্দর মেয়ে যে এত্ত সুন্দর ভাবে বকতে পারে আমার জানা ছিলো না। এত্ত গুণ কোথায় পেয়েছো? (আশ্চর্য হয়ে)
শ্রাবণীঃ (এ ব্যাটা টাংকি মারতাছে নাকি?) জ্বী..আসলে

নুরিঃ আরে শ্রাবণী ওর কথা শুনিও না ও ঢপ মারতে ওস্তাদ। (হাসতে হাসতে)
শ্রাবণী একটু হেসে দিলো।
লাবিবঃ O my GOD! এত সুন্দর হাসি! আমি তো মরেই যাবো। আপু আমার হার্ট ব্যাথা করতেছে আপু। (নাটক করে)
শ্রাবণীঃ (তাহলে মর ব্যাটা)

নুরিঃ ভাই আর ঢপ মারিস না তো। আয় ভেতরে আয়।
লাবিবঃ Ok bye beautiful girl..আবার পরে কথা হবে। (ভেতরে যেতে যেতে)
শ্রাবণীঃ (ওহ মরন! আবার কথা হবে! বেয়াদপ ছ্যাচড়া কোথাকার। এক পাগলের জ্বালায় বাঁচি না আরেকটা এসে হাজির হলো। ধুত ভালো লাগে না। )

লামিজার ঘরে,
আহাদ লামিজাকে সব খুলে বললো।
লামিজাঃ ভাই রে ভাই তোকে এত কথা কে বলতে বলেছে? (কপালে হাত চাপড়িয়ে)

আহাদঃ আপু যখনি বলতে গেছি তখনি রাগে ধমক দিয়ে চলে গেছে।
লামিজাঃ তুমি যেসব বলা শুরু করেছিলে তাতে যে তোমাকে থাপ্পর মাড়ে নি তাই ভালো। (রাগে)
আহাদঃ এখন কী করবো? কিছু উপায় শেখায় দে না। (অসহায়)

লামিজাঃ (একটু ভেবে) একটা কাজ করতে পারবি?
আহাদঃ কী কাজ?
লামিজাঃ কবিতা লিখবি আর সেখানে তোর মনের কথা লিখবি। কিন্তু খবরদার ভুল ভাল কিছু লিখবি না আর কোনো কবিতা নকল করবি না। নিজে নিজে লিখে শেষে লিখবি আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি শ্রাবণী। পারবি তো?

আহাদঃ কয়েকটা লাইন বলে দে তাহলে।
লামিজাঃ আচ্ছা শোন তাহলে।

প্রিয় শ্রাবণী,
যেদিন হতে দেখেছি তোমাকে হৃদয়ে লেগেছে দোলা,
তুমি অনেক চালাক বটে কিন্তু আমিতো আলা ভোলা।

তোমার হাসিতে পাগল হয়ে ঘুরছি আমি এদিক সেদিক,
আমি যে তোমার তুমি যে আমার এই বাণীটাযে নয় বেঠিক।

চুলের মাঝে রূপের ছোঁয়া আলোয় দেখি যে মুখ,
যদি তুমি হয়ে যাও আমার এনে দিবো আমি পৃথিবীর সুখ।
খোলা চুলে লাগে যে বেশ, মিষ্টি তোমার ঐ হাসি,
শুনছো শ্রাবণী! আমি যে তোমাকে অনেক ভালোবাসি।

এভাবে লিখবি বুঝেছিস।
আহাদঃ মোটামুটি। আচ্ছা যাই আপু গিয়ে কবিতাটা লিখেই ফেলি।
লামিজাঃ আচ্ছা। ভালো করে লেখিস ভাই।
আহাদঃআচ্ছা আপু। (যেতে যেতে)

টেবিলে বসে কী সব ভাবতে ভাবতে আহাদ অনেক কষ্ট করে আহাদ চিঠিটা লিখলো। তারপর লামিজাকে দিয়ে বললো, আপু শ্রাবণীকে দিস।
(হাসি নিয়ে)
লামিজাঃ ঠিকঠাক লিখেছিস তো? (ভ্রু কুঁচকে)
আহাদঃ হুম আপু। (হাসি দিয়ে)

শ্রাবণীর রুমে,
লামিজাঃ আসতে পারি? (দরজায় নক করে)

শ্রাবণীঃ আরে ভাবি। এসো এসো। পারমিশন নিতে হয় নাকি?
লামিজাঃ হয় গো। (শ্রাবণীর পাশে বসে)
শ্রাবণীঃ নাহ। তুমি আর পারমিশন নেবে না। ঠিক আছে?

লামিজাঃ আচ্ছা বোন ঠিক আছে। (হেসে)এই নাও আহাদ কী জানি একটা চিঠি লিখছে তোমাকে দিতে বলেছে। (শ্রাবণীর হাতে চিঠি দিয়ে)
শ্রাবণীঃ আমাকে লিখেছে? (আশ্চর্য হয়ে)
লামিজাঃ হুম। আচ্ছা থাকো কাজ আছে অনেক আমি যাই তাহলে।

শ্রাবণীঃ আচ্ছা ভাবি।
লামিজা চলে গেলে শ্রাবণী চিঠিটা পড়া শুরু করলো।
চিঠিতে এই লেখা ছিলো যে,
প্রিয় শ্রাবণী,

রূপের যাদুর আণবিক ভর বলতে হয়তো কিছুই নেই,
ভর এসে মিলে খোলা চুলে পিএইস মানের হাসিতেই।
উত্তপ্ত করলে চুনাপাথর বিয়োজন ঘটে ঘটুক না,
হয়তো কালো কালো চোখে চাষ হয়ে যায় পুদিনা।

আলোর রেশ কাটতেই চায়না জারন বিজারনের খেলার মাঝে,
ভালোবাসাটুকু খুঁজে নেই আমি সকল বিক্রিয়ার কাজে কাজে।
ফুল গুলোতে আলো এসে পড়ে বেগুনী রশ্নী তো পড়ে না,
হালকা মায়া, মিষ্টি হাসি, ভালোবাসা ছাড়া তো আর চলে না।

ভালোবাসা পেতে জীবন মরন বিক্রিয়ায় আমি মারিয়া,
সত্যি তোমায় অনেক ভালোবাসি আমার প্রানের প্রিয় ডালিয়া।
শ্রাবণীঃ চিঠি দিলো আমাকে ভালোবাসলো ও ডালিয়াকে? কে এই ডালিয়া? আহাদ আজ তোরে খাইছি আমি। আসতেছি আমি। (রাগের মাথায় বের হতে হতে)


পর্ব ১৫

শ্রাবণীর রুমে,
লামিজাঃ আসতে পারি? (দরজায় নক করে)

শ্রাবণীঃ আরে ভাবি। এসো এসো। পারমিশন নিতে হয় নাকি?
লামিজাঃ হয় গো। (শ্রাবণীর পাশে বসে)
শ্রাবণীঃ নাহ। তুমি আর পারমিশন নেবে না। ঠিক আছে?

লামিজাঃ আচ্ছা বোন ঠিক আছে। (হেসে)এই নাও আহাদ কী জানি একটা চিঠি লিখছে তোমাকে দিতে বলেছে। (শ্রাবণীর হাতে চিঠি দিয়ে)
শ্রাবণীঃ আমাকে লিখেছে? (আশ্চর্য হয়ে)
লামিজাঃ হুম। আচ্ছা থাকো কাজ আছে অনেক আমি যাই তাহলে।

শ্রাবণীঃ আচ্ছা ভাবি।
লামিজা চলে গেলে শ্রাবণী চিঠিটা পড়া শুরু করলো।
চিঠিতে এই লেখা ছিলো যে,
প্রিয় শ্রাবণী,

রূপের যাদুর আণবিক ভর বলতে হয়তো কিছুই নেই,
ভর এসে মিলে খোলা চুলে পিএইস মানের হাসিতেই।

উত্তপ্ত করলে চুনাপাথর বিয়োজন ঘটে ঘটুক না,
হয়তো কালো কালো চোখে চাষ হয়ে যায় পুদিনা।
আলোর রেশ কাটতেই চায়না জারন বিজারনের খেলার মাঝে,
ভালোবাসাটুকু খুঁজে নেই আমি সকল বিক্রিয়ার কাজে কাজে।

ফুল গুলোতে আলো এসে পড়ে বেগুনী রশ্নী তো পড়ে না,
হালকা মায়া, মিষ্টি হাসি, ভালোবাসা ছাড়া তো আর চলে না।
ভালোবাসা পেতে জীবন মরন বিক্রিয়ায় আমি মারিয়া,
সত্যি তোমায় অনেক ভালোবাসি আমার প্রানের প্রিয় ডালিয়া।

শ্রাবণীঃ চিঠি দিলো আমাকে ভালোবাসলো ও ডালিয়াকে? কে এই ডালিয়া? আহাদ আজ তোরে খাইছি আমি। আসতেছি আমি। (রাগের মাথায় বের হতে হতে)

আহাদের রুমে,
আহাদঃ ধুর পড়তেই ইচ্ছা করছে না। কখন শ্রাবণী আসবে? (মাথায় হাত দিয়ে)
হুট করে শ্রাবণী রুমে এসে আহাদের কলার টেনে তাকে তুললো।

আহাদঃ ওআপুগো ভুতে আমারে তুইলা ধরছে। কোথায় তুই? (ভয়ে চোখ বন্ধ করে শ্রাবণীকে না দেখে)
শ্রাবণীঃ ঐ বেয়াদপ পোলা আমি ভূত লাগি? চোখ খোল। (ধমক দিয়ে)

আহাদ চমকে উঠে চোখ খুলে বললো, ওহ! শ্রাবণী তুমি। একটু কলারটা ছাড়ো আমরা বসে কথা বলি। (ভয়ে)
শ্রাবণী আহাদকে ছেড়ে দিয়ে বললো, ডালিয়াটা কে রে? (প্রচন্ড রাগে)
আহাদঃকে ডালিয়া? কোন ডালিয়া? তোমার কী বোন হয়?

শ্রাবণী প্রচন্ড রেগে বিছানা ঝাড়া ঝাড়ু টা হাতে তুলে নিয়ে বললো, বল তুই ডালিয়াকে কবে থেকে ভালোবাসিস? আমার সাথে ধোঁকামি কেনো করলি?
আহাদঃ সত্যি বলছি শ্রাবণী আমি ডালিয়া বলে কাউকে চিনি না। আর আমি তো তোমাকে ভালোবাসি..যাক বাবা বলেই ফেললাম! (মাথা চুলকাতে চুলকাতে)

শ্রাবণী আহাদের কথা শুনে এতটা খুশি হলো যে বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে। কিন্তু আবার প্রচন্ড রেগে ঝাড়ু তুলে বললো, মিথ্যুক ছেলে। লেটারে তো বলেছিস তুই ডালিয়াকেই ভালোবাসিস।
আহাদঃ কৈ দেখি। (শ্রাবণীর কাছে থেকে লেটারটা নিয়ে)আরে এটা তো ছন্দ মেলাতেই লিখেছি। তোমার নাম তো শ্রাবণী আর শেষ লাইনের আগে শেষে ছিল মারিয়া তাই বলে দিয়েছি ভালোবাসি ডালিয়া। সুন্দর লিখছি না? (দাঁত বের করে)

শ্রাবণী প্রচন্ড রেগে আহাদের কালার টেনে নিজের কাছে নিয়ে বললো, তুই আমার নামি লিখতি তোকে ছন্দ মেলাতে কে বলছে? আর সুন্দর! একদম ফালতু হয়েছে লেটার টা। তোকে না বলছি আমার সামনে পড়াশোনার কথা বলবি না। তাও কেনো লিখেছিস?
আহাদঃ সরি। (ভয়ে, দুঃখে)

হঠাৎ শ্রাবণী আহাদের বুকে তার মাথা গুজে আহাদকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। আহাদের সারা শরীরে যেনো ঝটকা লেগে গেলো। দরজার আড়াল থেকে লামিজা, পায়েল, নুরি লুকিয়ে লুকিয়ে দেখছে।
শ্রাবণীঃ এত দিনে তুমি বুঝলে আহাদ? তুমি খুব খারাপ। আমি তোমাকে একদম ভালোবাসি না। (খুশিতে কান্না করতে করতে)কিন্তু তবুও আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি আহাদ। প্লিজ আমাকে ছেড়ে ডালিয়া, ফালিহা কে কখনো ভালোবেসো না। তাহলে আমি তোমাকে মেরে ফেলবো তারপর আমাকেও মেরে ফেলবো।
আহাদঃ (আমাকে মেরে ফেলবে! নিজেও মরবে! কী মেয়ে রে বাবা! ভাগ্য ভালো ভালোবাসি বলছি নাহলে তো আজ ডেড বডিটাও আমার পাওয়া যেতো না)
শ্রাবণীঃ আগলে নেবে না আমায় আহাদ? (মায়া নিয়ে)

আহাদ শ্রাবণীকে দুহাত দিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললো, এইতো নিলাম। আমিও তোমাকে অনেক ভালো বাসি ডালিয়া।
এ কথা বলতেই জিহ্বা কামড়ে ধরলো আহাদ। চট করে শ্রাবণী আহাদকে ছেড়ে দিয়ে রাগে আহাদের পায়ে জোড়ে পাড়া দিলো। আহাদ চিল্লাতে লাগলো। পায়েল, নুরি, লামিজা হাসতে হাসতে লুটিয়ে পড়লো।
শ্রাবণীঃ আবার ডালিয়া বলিস তুই!

আহাদঃ সরি শ্রাবণী বলতে ডালিয়া বলেছি। আমাকে ছেড়ে দাও শ্রাবণী। খুব লাগছে পায়ে। ও আপু গো।
শ্রাবণীঃ চুপ। একদম চুপ। বল এবার যে আমাকে ভালোবাসিস বল। (ধমক দিয়ে)

আহাদঃ অনেক অনেক ভালোবাসি তোমাকে শ্রাবণী। (চিল্লায়ে)
শ্রাবণী আহাদের বুকে আবার জড়িয়ে গেলো।

লামিজা, নুরি আর পায়েল দরজার আড়াল থেকে বের হয়ে হাত তালি দিতে লাগলো। চমকে উঠে আহাদ আর শ্রাবণী দূরে ছিটকে গেলো।
লামিজাঃ অবশেষে আমার বোকা ভাইটা প্রোপজ করলো!
পায়েলঃভাবতেই পারছি না। (হাসতে হাসতে)
লামিজাঃকী রে ভাই এত রোমান্টিকতা কোথায় থেকে শিখলি?

আহাদঃ “Tum Hi H0h” গানটা থেকে(হাসি দিয়ে)
পায়েলঃ বাহ! তলে তলে দুলাভাই এত রোমান্টিক? একটা জ্যাকেট লাগতো তো। (হাসি দিয়ে)
লামিজাঃ জ্যাকেট তো নেই। ওড়না তো আছে।

লামিজা দৌড়ে একটা ওড়না নিয়ে আহাদের হাতে দিয়ে বললো, ভাই এই নে। আমরা গেলাম।
তিনজনেই দৌড়ে চলে গেলো। শ্রাবণী লজ্জায় কিছু বলতেই পাড়ছে না।
আহাদঃ আচ্ছা ওড়না দিলো কেনো? (শ্রাবণীকে প্রশ্ন করে)
শ্রাবণীঃ জানো না?
আহাদঃ না তো।

শ্রাবণী আবার রেগে গিয়ে আহাদের হাত থেকে ওড়না টা কেড়ে মাথায় উপর দিয়ে আহাদকে টেনে এনে এক ওড়নার নিচে দুজনে দাঁড়ালো।
আহাদঃ কী করেতেছো? কিছুই তো দেখতে পারছি না? (এদিক সেদিক তাকিয়ে)
শ্রাবণীঃ চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকো।

আহাদঃ কিছুই তো বুঝতেছি না শ্রাবণী।
শ্রাবণীঃ এভাবে ওড়নার নিচে দুজন প্রেমিক প্রেমিকা থাকলে কী করে বলোতো?
আহাদঃ বুঝেছি।
শ্রাবণীঃ কী বুঝেছো? (লজ্জায়)

আহাদ পকেট থেকে তার ফোনটা বের করে ফ্লাশ জ্বালিয়ে শ্রাবণীর মুখের দিকে ধরে বললো, অন্ধকারেও তোমাকে অনেক সুন্দর লাগে। এটাই তো! আমি জাতনাম।
শ্রাবণী রাগে ওড়নাটা সরিয়ে ফেলে দিয়ে বললো, তুমি আমার কচু জানো।

শ্রাবণী আহাদের কাছে এসে আহাদের কলার টেনে ঠিক যখনি আহাদের ঠোঁটে ঠোঁট মিলাতে যাবে আহাদ মাথা নিচু করে শ্রাবণীকে ছাড়িয়ে দূরে সরে যায়।
আহাদঃ কী করছো এসব? এগুলো কেউ করে? এগুলো পাপ। (হাঁপাতে হাঁপাতে)

শ্রাবণীঃ এত সাধু তুমি? (আশ্চার্য হয়ে)কাছে এসো একটু। (মজা করে আহাদের কাছে আসতে আসতে)
আহাদ একদম ঠেকে গেছে দেয়ালে শ্রাবণী চোখ বন্ধ করে পা উঁচু করে ঠোঁট দুটো পাউট করেছে। আহাদ আস্তে করে সরে গিয়ে “ও আপু গো বাঁচাও” আমার বলে এক দৌড়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।
শ্রাবণী চোখ খুলে হাসতে লাগলো।

শ্রাবণীঃ এতটা সরল কেনো তুমি? অনেক ভালোবাসি তোমাকে আহাদ। অনেক বেশি ভালোবাসি।
শ্রাবণী বের হয়ে খুশিতে নাচতে নাচতে নিজের রুমের দিকে যেতে লাগলো।


পর্ব ১৬

আহাদঃ আচ্ছা ওড়না দিলো কেনো? (শ্রাবণীকে প্রশ্ন করে)
শ্রাবণীঃ জানো না?
আহাদঃ না তো।

শ্রাবণী আবার রেগে গিয়ে আহাদের হাত থেকে ওড়না টা কেড়ে মাথায় উপর দিয়ে আহাদকে টেনে এনে এক ওড়নার নিচে দুজনে দাঁড়ালো।
আহাদঃ কী করেতেছো? কিছুই তো দেখতে পারছি না? (এদিক সেদিক তাকিয়ে)
শ্রাবণীঃ চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকো।
আহাদঃ কিছুই তো বুঝতেছি না শ্রাবণী।

শ্রাবণীঃ এভাবে ওড়নার নিচে দুজন প্রেমিক প্রেমিকা থাকলে কী করে বলোতো?
আহাদঃ বুঝেছি।
শ্রাবণীঃ কী বুঝেছো? (লজ্জায়)

আহাদ পকেট থেকে তার ফোনটা বের করে ফ্লাশ জ্বালিয়ে শ্রাবণীর মুখের দিকে ধরে বললো, অন্ধকারেও তোমাকে অনেক সুন্দর লাগে। এটাই তো! আমি জাতনাম। 😁😁😁
শ্রাবণী রাগে ওড়নাটা সরিয়ে ফেলে দিয়ে বললো, তুমি আমার কচু জানো।

শ্রাবণী আহাদের কাছে এসে আহাদের কলার টেনে ঠিক যখনি আহাদের ঠোঁটে ঠোঁট মিলাতে যাবে আহাদ মাথা নিচু করে শ্রাবণীকে ছাড়িয়ে দূরে সরে যায়।
আহাদঃ কী করছো এসব? এগুলো কেউ করে? এগুলো পাপ। (হাঁপাতে হাঁপাতে)

শ্রাবণীঃ এত সাধু তুমি? (আশ্চার্য হয়ে)কাছে এসো একটু। (মজা করে আহাদের কাছে আসতে আসতে)
আহাদ একদম ঠেকে গেছে দেয়ালে শ্রাবণী চোখ বন্ধ করে পা উঁচু করে ঠোঁট দুটো পাউট করেছে। আহাদ আস্তে করে সরে গিয়ে “ও আপু গো বাঁচাও” আমার বলে এক দৌড়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।
শ্রাবণী চোখ খুলে হাসতে লাগলো।

শ্রাবণীঃ এতটা সরল কেনো তুমি? অনেক ভালোবাসি তোমাকে আহাদ। অনেক বেশি ভালোবাসি।
শ্রাবণী বের হয়ে খুশিতে নাচতে নাচতে নিজের রুমের দিকে যেতে লাগলো।

ঘাপটি মেরে শুয়ে আছে জনি। লামিজা কাজ শেষ করে ঘরে এসে দরজা লাগাতেই জনি লামিজাকে ধপ করে কোলে তুলে বিছানায় ফেলে দিলো।
লামিজাঃ আরে কী করছো জনি? (অবাক হয়ে)
জনিঃ আদর!

লামিজাঃ তর সইছে না বুঝি! (ভ্রু কুঁচকে)
জনিঃ না লামিজা। (লামিজার কাছে এসে)
লামিজাঃ আচ্ছা আগে একটা কথা শুনো। (জনিকে থামিয়ে)

জনিঃ কাল বলিও প্লিজ(লামিজার গালে চুমু দিতে দিতে)
লামিজা জনিকে থামিয়ে বললো, ৫ মিনিট পর এসব জনি। আগে শুনো প্লিজ।
জনিঃ আচ্ছা বলো। (কিছুটা বিরক্তি সুরে)

লামিজাঃআহাদ আর শ্রাবণী একে অপরকে ভালোবাসে। মা বাবা যাওয়ার আগে ওদের বিয়েটা দেওয়ার ব্যবস্থা করে দাও প্লিজ।
জনিঃকী বলছো! কবে এসব হলো? (আশ্চার্য হয়ে)

লামিজাঃ আজকেই। (হাসি মুখে)
জনিঃ হায়রে আমার শ্রাবণী…
লামিজাঃ কী বললে? তোমার শ্রাবণী মানে? (প্রচন্ড রাগে)

জনিঃ আরে আমার শ্রাবণী বোনটা এত বড় হয়ে গেলো। কাল বাদ পরশো ওর বিয়ে হবে। আনন্দই আনন্দ। তাই না? (ভয় পেয়ে)
লামিজাঃ হুম তা তো বটেই। (হাসি নিয়ে)
লামিজাঃ প্লিজ কাল মা বাবার সাথে কথা বলিও। প্লিজ।

জনিঃ আচ্ছা। বলবো এখন। এখন তো কাছে আসবে।

জনি লামিজাকে কাছে টেনে এনে লামিজার গালের চারপাশে হাত দিয়ে বোলাতে লাগলো। লামিজা চোখ বন্ধ করে ফেললো। জনি লামিজার ঠোঁটে ঠোঁট মিশিয়ে দিলো আর হাত দিয়ে লামিজার পিঠের ব্লাউজের হুক খুলতে লাগলো। লামিজা জনিকে ছেড়ে জনির গালে মুখে পাগলের মতো কিস করতে লাগলো। ধীরে ধীরে প্রবল উত্তেজনায় তার হারিয়ে গেলো ভালোবাসার পবিত্র মিলনে।

লাবিবের চা নিয়ে এলো পায়েল। লাবিব মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে।

পায়েলঃ এই যে কী দেখছেন? মেয়েদের দেখা আপনার স্বভাব নাকি? (রাগে)
লাবিব লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করলো।
লাবিবঃ আসলে আমি প্রচুর ঢপ মারি মানুষ কে। কারন মানুষের প্রশংসা করলে দাম পাওয়া যায়। কিন্তু আজ প্রথম বার আপনাকে দেখলাম যাকে দেখে আমার প্রশংসা করার ভাষা হারিয়ে গেছে। যে কথা গুলো বলতে বলতে আমি অভ্যস্ত সেই কথা গুলো হারিয়ে গেছে। আপনি সত্যি অনেক সুন্দর। (মাথা নিচু করে লজ্জায় কথা গুলো বলে)

পায়েলের খুব খারাপ লাগলো ছেলেটাকে না জেনে এতগুলা কথা শুনায় দিছে বলে।

পায়েলঃ সরি। আসলে ওভাবে তাকিয়ে ছিলেন তো তাই বলেছি। মন খারাপ করিয়েন না।

লাবিবঃনা না। আপনি একদম ঠিক আছেন। আপনি আমার ভুল ধরায় দিয়েছেন। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। ☺☺
লাবিব হাসি মুখে চা খেয়ে চলে গেলো পায়েল মন খারাপ করে নিজের রুমে বসে আছে।
শ্রাবণীঃ কী হয়েছে রে মুড অফ? (পায়েলের পাশে এসে)

পায়েলঃ কিছু না আপু।
শ্রাবণীঃ আমাকে বল। পারলে সমাধান দিতে পারি।

পায়েল শ্রাবণীকে সব খুলে বললো।
শ্রাবণীঃ তুই কী লাবিবকে ভালোবাসিস?
পায়েলঃ জানি না। ওর জন্য মন খারাপ লাগছে।

শ্রাবণীঃ ওয়েট।
পায়েলঃ কোথায় যাচ্ছিস? (অবাক হয়ে)
শ্রাবণীঃ তুই বস। আমি আসতেছি। (যেতে যেতে)

ছাদে দাঁড়িয়ে চুপচাপ করে দাঁড়িয়ে আছে লাবিব।
শ্রাবণীঃ এই যে ভাই? (পেছন থেকে ডেকে)
লাবিব পেছনে ঘুরে মাথা নিচু করে বললো, জ্বী বলেন।

শ্রাবণীঃ মাথা নিচু কেনো? ওপরে তুলুন।
লাবিবঃ সরি আপু আমি একজনকে দেখেছি। আমি আর চাই না অন্যকাউকে দেখতে।

শ্রাবণীঃ কাকে দেখেছেন? পায়েল কে?
লাবিবঃ জ্বী।
শ্রাবণীঃ ভালোবাসেন তাকে?

লাবিবঃ জানি না।
শ্রাবণীঃ যদি ভালোবেসে থাকেন তাহলে দেরী না করে ওকে বলে ফেলেন। লেট করলে কিন্তু না ও পাইতে পারেন।
বলেই যেতে লাগলো শ্রাবণী। লাবিব চুপ করে আশেপাশে তাকিয়ে অনেক কিছু ভাবছে আনমনে।

জনির মা, বাবার রুমে,

জনিঃ মা আসবো?
মাঃ আরে আয় বাবা।
জনিঃ একটা কথা ছিলো মা। (সোফায় বসে)
মাঃ বল।
জনিঃ বাবা কোথায়?
বাবাঃ এইতো আমি জনি। (ওয়াশরুম থেকে বের হতে হতে)
মাঃ বলে ফেল তো। কী বলবি?

জনিঃ আসলে মা আহাদ আর শ্রাবণী একে অপরকে ভালোবাসে। আমি আর লামিজা চাচ্ছি যে তোমরা যাওয়ার আগে ওদের ও বিয়েটা দিয়ে দিতে।
বাবাঃ হুম। ওকে তাহলে তো শ্রাবণীর মা, বাবাকে ডাকতে হয়।

মাঃ আমি ফোন করে বলবো এখন।
জনিঃ Thanks মা, বাবা।

বাবাঃ তোমার বোনটারও একটা ব্যবস্থা করো তাহলে।
জনিঃ হোক ওরটাও হয়ে যাবে এখন।
সকলে একসাথে হাসতে লাগলো।

আহাদের রুমে,

আহাদ পড়া পড়ছে আরে কানে হেডফোন দিয়ে গান শুনছে।

আহাদঃ এ জাতীয় নিউক্লিওফিলিক প্রতিস্থাপন দুই ধাপে ঘটে। বিক্রিয়াটি প্রথম ক্রম বিক্রিয়। (ও শ্রাবণী ও শ্রাবণী আই লাবু, আই লাবু)

শ্রাবণী আহাদের রুমে ঢুকে আহাদের কথা শুনে আহাদকে জড়িয়ে ধরতেই আহাদ “ও মাগো, ও আপু গো ভূত আমারে জড়ায় ধরছে গো। ও শ্রাবণী বাঁচাও আমারে” বলে চোখ বন্ধ করে দৌড় দিয়ে রুমের দরজার সামনে থেকে ঘুরে আবার ভেতরে আসতে থাকে। শ্রাবণী হাসতে হাসতে লুটিয়ে পড়লো প্রায়। আহাদ দৌড়ে শ্রাবণীকে না দেখে শ্রাবণীকে নিয়ে ধাক্কায় বিছানার ওপর পরে যায়। শ্রাবণী তো ভয়ে আহাদের বুকে মাথা গুজে দিয়েছে। আহাদ ভয়ে চোখ বন্ধ করে শ্রাবণীকে জড়িয়ে ধরেছে নিজের অজান্তেই।

পায়েল আহাদের চিৎকার শুনে রুমে এসে আহাদ আর শ্রাবণীর কান্ড দেখে হাত তালি দিতে থাকে। চমকে উঠে আহাদ চোখ খুলে শ্রাবণীকে কাছে দেখে আ আ আ করে চিৎকার দিয়ে দূরে সরে যায়। শ্রাবণী আহাদের চিৎকার শুনে হাত দিয়ে কান চেপে ধরে।

শ্রাবণীঃ আহাদের বাচ্চা কানের পোকা সব বের করে ফেললি। থাম একটু থাম।

আহাদঃ এই তুমি কখন এলে? জানো আমাকে না ভূত জড়িয়ে ধরেছে শ্রাবণী। আমিও ধীরে ধীরে বোধ হয় ভূত হয়ে যাবো শ্রাবণী। আমাকে বাঁচাও। (শ্রাবণীকে ধরে মায়াকান্নায়)
পায়েলঃ কী রে আপু! ভাইয়া এসব কী বলে?

শ্রাবণীঃ আরে বাবু কাঁদছো কেনো? আমি আছি তো। আমি থাকতে আবার ভূত লাগে? আমি তোকে মেরে ভূত বানায় দিবো। বেয়াদপ। তোরে জড়ায় ধরছি আমি। কোনো ভূত না। (আহাদের কলার টেনে আহাদকে ঝাঁকি দিতে দিতে)

আহাদঃ সরি শ্রাবণী। ভুল হয়ে গেছে। ছেড়ে দাও একটু। আর হবে না। (ঝাঁকি খেতে খেতে)

শ্রাবণী আহাদকে ছেড়ে দিয়ে বললো, এই তোমার সমস্যা কী? এত ভয় পাও কেনো? (রাগে বিরক্ত নিয়ে)
আহাদঃ ওভাবে পেছন থেকে কেউ জড়িয়ে ধরলে ভয় তো পাবোই।

মালিহঃ তাহলে কাছে আয়। তোকে সামনে থেকে জড়িয়ে ধরি। আয়। (হাসি নিয়ে)
আহাদঃ নাহ। আ..আজ না। আরে..আ..আরেক দিন। (তোতলিয়ে)
শ্রাবণীঃ তাহলে বাবু কাছে এসো একটা কিসি দেই।

শ্রাবণী আহাদের কাছে এসে ঠোঁটে ঠোঁট বসানোর আগেই আহাদ এক দৌড়ে পালিয়ে চলে গেলো।
শ্রাবণীঃযাহ! আজকেও পালালো? (হতাশায়)

পায়েলঃআপুরে ভাগ্য করে একটা জামাই পেতে চলেছিস। (হাসতে হাসতে)
শ্রাবণীঃ হুম। আমার জামাই বেষ্ট। (কিউটি হাসি দিয়ে)


পর্ব ১৭ (শেষপর্ব)

আহাদের রুমে,
আহাদ পড়া পড়ছে আরে কানে হেডফোন দিয়ে গান শুনছে।

আহাদঃ এ জাতীয় নিউক্লিওফিলিক প্রতিস্থাপন দুই ধাপে ঘটে। বিক্রিয়াটি প্রথম ক্রম বিক্রিয়। (ও শ্রাবণী ও শ্রাবণী আই লাবু, আই লাবু)

শ্রাবণী আহাদের রুমে ঢুকে আহাদের কথা শুনে আহাদকে জড়িয়ে ধরতেই আহাদ “ও মাগো, ও আপু গো ভূত আমারে জড়ায় ধরছে গো। ও শ্রাবণী বাঁচাও আমারে” বলে চোখ বন্ধ করে দৌড় দিয়ে রুমের দরজার সামনে থেকে ঘুরে আবার ভেতরে আসতে থাকে। শ্রাবণী হাসতে হাসতে লুটিয়ে পড়লো প্রায়। আহাদ দৌড়ে শ্রাবণীকে না দেখে শ্রাবণীকে নিয়ে ধাক্কায় বিছানার ওপর পরে যায়। শ্রাবণী তো ভয়ে আহাদের বুকে মাথা গুজে দিয়েছে। আহাদ ভয়ে চোখ বন্ধ করে শ্রাবণীকে জড়িয়ে ধরেছে নিজের অজান্তেই।

পায়েল আহাদের চিৎকার শুনে রুমে এসে আহাদ আর শ্রাবণীর কান্ড দেখে হাত তালি দিতে থাকে। চমকে উঠে আহাদ চোখ খুলে শ্রাবণীকে কাছে দেখে আ আ আ করে চিৎকার দিয়ে দূরে সরে যায়। শ্রাবণী আহাদের চিৎকার শুনে হাত দিয়ে কান চেপে ধরে।

শ্রাবণীঃ আহাদের বাচ্চা কানের পোকা সব বের করে ফেললি। থাম একটু থাম।

আহাদঃ এই তুমি কখন এলে? জানো আমাকে না ভূত জড়িয়ে ধরেছে শ্রাবণী। আমিও ধীরে ধীরে বোধ হয় ভূত হয়ে যাবো শ্রাবণী। আমাকে বাঁচাও। (শ্রাবণীকে ধরে মায়াকান্নায়)
পায়েলঃ কী রে আপু! ভাইয়া এসব কী বলে?

শ্রাবণীঃ আরে বাবু কাঁদছো কেনো? আমি আছি তো। আমি থাকতে আবার ভূত লাগে? আমি তোকে মেরে ভূত বানায় দিবো। বেয়াদপ। তোরে জড়ায় ধরছি আমি। কোনো ভূত না। (আহাদের কলার টেনে আহাদকে ঝাঁকি দিতে দিতে)

আহাদঃ সরি শ্রাবণী। ভুল হয়ে গেছে। ছেড়ে দাও একটু। আর হবে না। (ঝাঁকি খেতে খেতে)

শ্রাবণী আহাদকে ছেড়ে দিয়ে বললো, এই তোমার সমস্যা কী? এত ভয় পাও কেনো? (রাগে বিরক্ত নিয়ে)
আহাদঃ ওভাবে পেছন থেকে কেউ জড়িয়ে ধরলে ভয় তো পাবোই।

মালিহঃ তাহলে কাছে আয়। তোকে সামনে থেকে জড়িয়ে ধরি। আয়। (হাসি নিয়ে)
আহাদঃ নাহ। আ..আজ না। আরে..আ..আরেক দিন। (তোতলিয়ে)
শ্রাবণীঃ তাহলে বাবু কাছে এসো একটা কিসি দেই।

শ্রাবণী আহাদের কাছে এসে ঠোঁটে ঠোঁট বসানোর আগেই আহাদ এক দৌড়ে পালিয়ে চলে গেলো।
শ্রাবণীঃযাহ! আজকেও পালালো? (হতাশায়)

পায়েলঃআপুরে ভাগ্য করে একটা জামাই পেতে চলেছিস। (হাসতে হাসতে)
শ্রাবণীঃ হুম। আমার জামাই বেষ্ট। (কিউটি হাসি দিয়ে)

গত ৩ দিনে আহাদ আর শ্রাবণী চুটিয়ে প্রেম করেছে। আহাদ মোটামুটি প্রেম শিখে গেছে।
লাবিব কে জনির মা, বাবা খুব পছন্দ করেছে। আজ শ্রাবণী, আহাদ ও লাবিব পায়েলের বিয়ে। সকাল থেকেই সকলে মিলে কাজ শুরু করে দিয়েছে। স্বল্প পরিসরে কিছু মানুষ উপস্থিত থেকে বিয়েটা সম্পন্ন হলো।

লাবিব, পায়েলের বাসর ঘরে,

ঘোমটা পরে বসে আছে পায়েল। লাবিব এসে মাথা নিচু করে বসে পড়লো। অনেক্ষন চুপ থেকে পায়েল বললো, আজকে থেকে তুমি মাথা উঁচু করে আমাকে দেখবে। মনে থাকবে তো?
লাবিব মাথা উঁচূ করে বললো, হ্যাঁ থাকবে।

লাবিব পায়েলের ঘোমটা তুলে দিয়ে পায়েলকে বুকে টেনে নিয়ে ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে হারিয়ে গেলো এক ভালোবাসার শহরে।

শ্রাবণী আর আহাদের রাসরঘরে,

ঘোমটা দিয়ে বসে আছে শ্রাবণী। আহাদ রুমে এসে দরজা বন্ধ করে দিয়ে শ্রাবণীকে হাই বলে সোজা পড়ার টেবিলে গিয়ে পড়তে শুরু করলো। শ্রাবণী অবাক হয়ে আহাদের কান্ড দেখতে লাগলো।
শ্রাবণীঃ এই আহাদ এক্ষনি এখানে এসো। (প্রচন্ড রাগে)

আহাদঃ দুই দিন তো পড়ি নি আজ সব মেকাপ দিয়ে তারপর ঘুমাবো। তুমি ঘুমিয়ে পড়ো শ্রাবণী।
শ্রাবণী প্রচন্ড রাগে আহাদের কাছে গিয়ে আহাদকে টেনে তুলি আহাদের ঠোঁট ঠোঁট মেলাতে মেলাতে বিছানায় ফেলে দিলো। নিয়ল ধপ করে উঠে দরজার কাছে গিয়ে বলে, এ কী করছো শ্রাবণী? এগুলো তো পাপ।

শ্রাবণীঃ আরে এখন তো আমাদের বিয়ে হয়েছে এখন পাপ কেনো? (হতাশায় বসে পড়ে)

আহাদা শ্রাবণীর কাছে এসে শ্রাবণীর হাতে হাত রেখে শ্রাবণীর ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দিলো। শ্রাবণী অবাক হয়ে আহাদের সাথে তাল মেলাতে লাগলো। আহাদ শ্রাবণীর পেটের চারপাশে হাত বুলাতে বুলাতে শ্রাবণীর শাড়ি খুলে দূরে ফেলে দিলো। শ্রাবণীর যেনো বিশ্বাস হচ্ছে না আহাদের কান্ড দেখে। আহাদ শ্রাবণীর ব্লাউজের হুক খুলে ফেলে দিলো বিছানায়। শ্রাবণীর বুকে মাথা গুজে শ্রাবণীর উত্তেজনা বাড়াতে লাগলো। ধীরে ধীরে আহাদ তার সেরোয়ানি খুলে শ্রাবণীর পেডোকোর্ট খুলতে গিয়েই শ্রাবণী নিজেকে সামলে আহাদকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়।
আহাদঃ কী হলো শ্রাবণী? (আশ্চার্য হয়ে)
শ্রাবণীঃ তুমি তাহলে এতদিন বলদের নাটক করেছো?

আহাদঃ তোমাকে দেখে সত্যিই তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি। তাই তোমার কাছে বেশি আকর্ষনীয় হতে এমনটা করেছি।
শ্রাবণীর রাগ যেনো বেড়েই চলেছে। কিন্তু আহাদের ভালোবাসা তাকে আবার টেনে এনেছে আহাদের কাছে। শ্রাবণী ধীরে ধীরে আহাদের কাছে এসে বললো, আমার কাছে তুমি ঐ বলদা আহাদটাই থেকো প্লিজ!

আহাদঃ থাকবো শ্রাবণী।
শ্রাবণীকে বুকে টেনে নিয়ে আহাদ তাকে নিয়ে হারিয়ে গেলো ভালোবাসার শহরে।

ছাদে,

জনির কোলে শুয়ে আকাশের চাঁদ দেখছে লামিজা।

জনিঃ আজ অনেক ভালো লাগছে।
লামিজাঃ আমারও জনি।

জনি লামিজার কপালে চুমু এঁকে বললো, চলো সোনা ভেতরে যাই।
লামিজাঃ চলো।

জনি আর লামিজা নিচে যেতে লাগলো। হঠাৎ লামিজার মনে হলো তাকে কেউ পেছন থেকে ডাকছে। কিন্তু পেছনে তাকিয়ে কাউকে দেখতে পেলো না সে।
জনিঃ কী হয়েছে লামিজা?

লামিজাঃ কে যেনো পেছন থেকে আমায় ডেকে বললো, “কেউ আসছে। “
জনিঃ ভুল শুনেছো লামিজা। চলো।

জনি আর লামিজা যেতে লাগলো। কিন্তু লামিজার মন বলছে সামনে তাদের বিপদ আসছে। সত্যি কী সামনে তাদের বিপদ আসবে?

লেখা – ইসরাত জাহান প্রভা


সমাপ্ত

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “সত্যি তোকে অনেক ভালোবাসি – গোপন ভালোবাসার গল্প” টি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!