মিষ্টি প্রেমের গল্প

সে কি জানে (শেষ খণ্ড) – দু জনার গোপন সম্পর্কের গল্প

সে কি জানে (শেষ খণ্ড) – দু জনার গোপন সম্পর্কের গল্প: রেয়ানের ভালোবাসার পৃথিবীতে থাকতে থাকতে আজ ৫টা বছর কেটে গেছে। অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে এ ৫বছরে। শুধু পরিবর্তন হয়নি রেয়ানের আমার প্রতি ভালোবাসা। সময়ের সাথে সাথে ভালোবাসাটাও যেন আরও বেড়ে গেছে তার।


পর্ব ১৪

আচমকা ছোঁ মেরে হাতে থাকা প্লেট ছুঁড়ে ফেলে দিলেন রেয়ান। আমার হাতটা খুব শক্ত করে চেপে ধরেছেন তিনি। তার দিকে তাকাতেই আঁতকে উঠলাম। চোখগুলো ভীষণ লাল হয়ে আছে উনার। তার এমন ভয়াবহ চেহারা দেখে আমি চুবসে গেলাম। চুপচাপ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছি। আর আমার দৃষ্টি মাটিতে পড়ে থাকা ফুচকার দিকে। সাথে আমার নতুন ফ্রেন্ডদেরও। তাদের মুখে ভয়ের ছাপ স্পষ্ট। রেয়ানের এমন ব্যবহারে যথেষ্ট ভয় পেয়েছে তারা। হঠাৎ রেয়ান ফুচকাওয়ালার দিকে তাকিয়ে শান্তভাবে বলে উঠেন

~ আপনি নিশ্চয়ই বিনা কারণে জেলে যেতে চাবেন না? সো এই যে মেয়েটাকে দেখছেন। (আমার দিকে আঙ্গুল তুলে)তাকে জীবনেও নিজের দোকানের ফুচকা খাওয়াবেন না। বুঝেছেন?
রেয়ানের কথা শেষ হতেই ফুচকাওয়ালা তাড়াতাড়ি কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বলেন
~ জ্বজ্বী স্যার!

রেয়ান ফুচকাওয়ালার দিকে একবার তাকালো। তারপর তার হাতে ১০০ টাকার ৩টি নোট দিয়ে আমার ফ্রেন্ডদের উদ্দেশ্য করে বললেন
~ তোমাদের ফুচকার ট্রিট আজকে আমি দিলাম। আইন্দা মিরাকে ভুলেও ফুচকার ট্রিট দিবে না। নাহলেবাকিটা বুঝে নিও!

বলেই আমাকে টানতে টানতে নিয়ে গেলেন গাড়ির দিকে।

রেয়ান শান্ত ভাবে গাড়ি চালাচ্ছেন। আর আমি বসে বসে উনার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি। বুঝতে পারছি না তখন তার ওভাবে করার কারন কি। আমি রেয়ানের দিকে তাকিয়ে আছি সেটা হয়তো সে বুঝতে পেরেছে। তাই উনি ড্রাইভ করতে করতেই আমাকে বলেন
~ কি হয়েছে? এভাবে তাকিয়ে আছো কেন?
তার এমন শান্ত ব্যবহারে আমার একটু সাহস হয়। মিনমিনিয়ে তাকে বললাম
~ তখন ওভাবে করলেন কেন? জানেন কত মানুষ আমাদের দিকে তাকিয়ে ছিল। আর আমার ফ্রেন্ডরা। ওরা হয়তো আমার সাথে রাগ করেছে!

~ তুমি ওখানে কি করছিলে?
~ আসলে ভার্সিটি ছুটি হওয়ার অনেক্ষন পরও আপনি আসছিলেন না। আর আমার ফ্রেন্ডগুলোও বলছিল ফুচকা খেতে। আমার ফুচকা আর আইস্ক্রীম অনেক পছন্দ। তাই আর মানা করি নি। খেতে চলে যাই। এতে এত রিয়েক্ট করার কি আছে?

~ এতে এত রিয়েক্ট করার কি আছে মানে? অনেক কিছু আছে। আর ওই ছেলেটা তোমার সাথে কি করছিল?

~ কোনটা? রাফি?
~ হ্যাঁ ও। ওর সাথে কেন ফুচকা খেতে গেলে? আমি বলেছিলাম না ওর কাছ থেকে দূরে থাকতে। তারওপর তোমার ফেন্ডদের ৩টা মেয়ের মধ্যেই ২টা ছেলে। এসব মানা যায়। তাছাড়া কি খাচ্ছিলে যেন। ফুচকা। তাও আবার ফুটপাতের। আল্লাহ জানে ওগুলো কি~ না কি দিয়ে বানায়। আর তুমি বসে বসে আরাম করে খাচ্ছিলে। যদি কিছু হয়ে যায় তোমার। এসব দেখেই তো মেজাজ খারাপ হয়েছে আমার।

উনার কথাশুনে মুহূর্তেই রেগে গেলাম আমি। লাইক সিরিয়াসলি? এসব কারনে তিনি রাস্তায় এমন ব্যবহার করেছেন। মানলাম রাফির থেকে উনি দূরে থাকতে বলেছেন। সেটার জন্য তো আমার সময় লাগবে তাই না? আমি কি কাউকে মুখের উপর বলতে পারবো নাকি আমার থেকে দূরে থাকো। কথা বলবা না আমার সাথে তাছাড়া কি বললেন যেন। ফুটপাতের ফুচকা ভালো না। উনি কি জানেন না রেস্টুরেন্টের ফুচকা থেকেও ফুটপাতের ফুচকা ডের মজা। জীবনে খাননি হয়তো। তার জন্য এমন কথা বলতে পারলেন

পার্কের একটা বেঞ্চে বসে রাগে ফুসছি আমি। পাশেই রেয়ান গম্ভীর ভাবে বসে আছেন। কি যেন করছেন ফোনে। আমি যে রাগে ফুসছি এতে তার বিন্দু মাত্র মাথা ব্যথা নেই। ফোনের দিকে গভীর মনোযোগে তাকিয়ে আছেন তিনি। তার এভাবে ফোন টিপা দেখে আমি বিরক্ত। চরম বিরক্ত!

সাথে রাগ যেন বেড়েই যাচ্ছে। রাগ আর বিরক্তি একসাথে ভর করেছে আমার উপর। মুহূর্তেই কপাল কুঁচকে এলো আমার। রাগের জন্য বারবার হাত কচলাচ্ছি আমি! রেয়ান ফোনের দিকে দৃষ্টি রেখেই গম্ভীর কণ্ঠে বললেন
~ এভাবে রাগ করে কোনো লাভ নেই মরুভূমি! এসব ফুটপাতের জিনিস আমি তোমাকে খাওয়াচ্ছি না। তাও আবার রাফির সাথে। যদি চাও তাহলে রেস্টুরেন্টে নিয়ে তোমাকে খাওয়াবো।
~ আপনি বললেই হলো? আপনি অনেক অসভ্য রেয়ান। তখন ওমন বাজে ব্যবহার করা একদমই ঠিক হয় নি আপনার।
~ তোমাকে বলতে হবে না মরুভূমি। আমি জানি আমি কি করেছি। তাছাড়া আমার কাজে আমি মোটেও অনুতপ্ত নই। বরং আমার ভালো লাগছে ঐরকম ব্যবহার করে।

~ আপনার লজ্জা। অনুতপ্ততা এগুলো থাকলেই না কাজ করবে! উফফ! সবার সামনে কি কেল্লেংকারিই না করলেন আপনি।

~ বেশ করেছি! এখন চুপ থাকো। একদম কথা বলবে না। আমার এগুলো শুনতে বিরক্ত লাগছে।
~ একশবার কথা বলব। আপনার তাতে কি? বিরক্ত লাগলে চলে যান এখান থেকে।
~ মিরা সাট আপ। আদার ওয়াইজ আই উইল কিস ইউ।

কথাটা বেশ জোড়েই বললেন রেয়ান। আশেপাশের সবাই তাকিয়ে আছে আমাদের দিকে। এতে প্রচুর অস্বস্তি লাগছে আমার। তার সাথে লজ্জাও। লজ্জা যেন আমার মাথার ওপর চড়ে বসেছে। কিন্তু রেয়ানের কিছুই হচ্ছে না। সে এখনও ফোন চালাচ্ছেন। একদম স্বাভাবিক! যেন কিছু হয়ই নি।


পর্ব ১৫

~ মিরা সাট আপ। আদার ওয়াইজ আই উইল কিস ইউ।

কথাটা বেশ জোড়েই বললেন রেয়ান। আশেপাশের সবাই তাকিয়ে আছে আমাদের দিকে। এতে প্রচুর অস্বস্তি লাগছে আমার। তার সাথে লজ্জাও। লজ্জা যেন আমার মাথার ওপর চড়ে বসেছে। কিন্তু রেয়ানের কিছুই হচ্ছে না। সে এখনও ফোন চালাচ্ছেন। একদম স্বাভাবিক! যেন কিছু হয়ই নি।

কিন্তু আমি তো আর এভাবে বসে থাকতে পারবো না। আমার লজ্জা জিনিসটা আছে। যা রেয়ানের মধ্যে নেই। মোটেও নেই! রেয়ানের দিকে একবার তাকিয়ে সোজা হাঁটা ধরলাম সামনের দিকে। কয়েক দকম গিয়েই পিছনে তাকালাম আমি। ভেবেছিলাম রেয়ান হয়তো আমার পেছন পেছন আসছে। কিন্তু না। মহাসয় এখনও ফোন টিপাটিপি করতে ব্যস্ত। বুঝতে পারছি না ফোনে কি এমন করছেন তিনি। তার এমন ফোন চালানো দেখে আমার রাগটা যেন আরও বেড়ে গেলো। ইচ্ছে করছে তার সামনে গিয়ে কয়েকটা কড়া কথা শুনিয়ে দি। কিন্তু আমি নিরুপায়। এমনটা করতে পারবো না। তাও আবার পাব্লিক প্লেসে। কিন্তু সামনাসামনি বলতে না পারলে কি হয়েছে? মনে মনে তো বলতে পারবো। তাই তাকে মনেমনেই কয়েকটা কড়া কথা বলতে বলতে আবার সামনের দিকে হাঁটতে লাগলাম আমি।

হঠাৎ রেয়ান এসে আমার হাত ধরে ফেললো। আমি হাত ছাঁড়াতে নিলেই পকেটে থাকা সানগ্লাস বের করে চোখে দিতে দিতে বলে উঠলেন
~ তুমি তো দেখি আস্ত একটা সাপ। মরুভূমির সাপ! এত নড়াচড়া করো কেন তুমি? আই গেস। এখন তোমাকে কোলে নেওয়া উচিত আমার।

উনার কথা শুনতেই চোখ বড় বড় হয়ে গেল আমার। আগের বার কি হয়েছিল সেটা আমি এখনও ভুলি নি। আর সে আসছে আবার আমাকে কোলে নিতে। অত্যন্ত ঝাঁঝালো কণ্ঠে বললাম
~ খবরদার। মোটেও এমন করবেন না। নাহলে আমি কিন্তু!

~ তুমি কিন্তু কি? কিস করবা আমাকে। তাহলে করো না। আই এম ওয়েটিং ফর দেট! লিভস এ দিয়ো কেমন?

সাথে সাথে আমার চোখ আরও ৩ডাবোল বড় হয়ে গেলো। রাস্তার মধ্যে কিসব কথা বলছেন উনি। উনার লজ্জা না থাকলে কি হয়েছে। আমার তো আছে। আমার তো লজ্জা লাগছে। তবুও নিজের ঝাঁঝালো কন্ঠে আবার বললাম
~ অসভ্য! চরম অসভ্য! আপনার সাথে কোনো কথা নেই। সামনে আসবেন না আমার।
কথাটা শুনে বাঁকা হাসলেন উনি। তারপর দু’হাত পেছনে নিয়ে আমার দিকে একটু ঝুঁকে বলে উঠেন
~ কেন? লজ্জা লাগছে বুঝি?

আমি কিছু বললাম না। মুখ ভেংচি দিয়ে আবার সামনের দিকে হাঁটা দিলাম। আমার পেছন পেছন রেয়ানও আসলো। পাশাপাশি হাঁটছি আমি আর রেয়ান। হঠাৎ রেয়ান আমার হাত শক্ত করে ধরল। তারপর সামনের দিকে তাকিয়ে থেকেই শান্ত সরে বললেন
~ একা ফেলে রাখার জন্য কি তোমাকে ভালোবেসেছি আমি? কখনও না! তাহলে আমাকে রেখেই হাঁটা ধরলে কেন? আর এই যে দেখছো তোমার হাতটা ধরেছি আমি। এটা কিন্তু আর ছাড়ছি না।

পর্ব ১৬

গাড়িতে বাসার সামনে রেয়ান আর আমি বসে আছি প্রায় অনেক্ষন। কারও মুখে কোনো কথা নেই। চুপচাপ বসে আছি দু’জনেই। আশেপাশে পাখির কিচিরমিচির শব্দ শোনা যাচ্ছে। বৃষ্টি আসবে আসবে ভাব! কেমন যেন অন্ধকার হয়ে আছে চারপাশটা। সেদিকেই তাকিয়ে আছি আমি। অবশেষে নিরবতা ভেঙ্গে রেয়ান বলে উঠেন
~ এভাবে আর কতদিন মিরা? আমাকে বিয়ে করলে তোমার সমস্যাটা কোথায়?
~ কোনো~ ই সমস্যা নেই।

~ এটা আমার জীবন হলেও আমার লাইফের সব ডিসিসন আমার একার নয়। এতে আমার মা আর রিহানেরও মত লাগবে। আমি জানি। রিহান আপনার জন্য পাগল। আপনাকে বাবার অধিকার দিতে ও এক পায়ে রাজি। কিন্তু মা! তিনি আপনাকে পছন্দ করেন না। তার মতামতই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমার জীবনে। তাছাড়া আমারও মনে হতে হবে। যে হ্যাঁ! এখন আমি আপনাকে বিয়ে করব। আপনাকে বিশ্বাস করতে পারব।
~ তুমি কি আমাকে বিশ্বাস করো না?

~ করি। কিন্তু কোথায় যেন একটা বাঁধা কাজ করে।

আমার কথাশুনে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন রেয়ান। তারপর শান্ত সরে বললেন
~ অনেক দেড়ি হয়ে গেছে। তোমার এখন যাওয়া উচিত!
~ হুম
বলেই বের হয়ে গেলাম গাড়ি থেকে। রেয়ানের দিকে একবার তাকিয়ে চলে যেতে লাগলাম বাসার দিকে। হঠাৎ রেয়ান আবার বলে উঠলেন
~ মিরা শুনো!

~ জ্বী
~ কালকে রেডি থেকো। আমার বোনকে পাত্রপক্ষ দেখতে আসবে। আমি চাই তুমি আর রিহানও যাও আমার সাথে। তাছাড়া মা আর আমার বোনের সাথে তোমাকে পরিচয়ও করে দিবো।
~ আচ্ছা
~ আর আরেকটা কথা। তোমার মনকে বলবা আমাকে যেন সে বিশ্বাস করে। আর রইল তোমার মার কথা। উনাকে কালকের মধ্যেই ইম্প্রেস করে ফেলবো আমি। বি রেডি ফর দেট বেইব।
কথাটা বলেই বাঁকা হাসলেন তিনি। আমিও একটা মুচকি হেসে বললাম
~ খোদা হাফেজ
~ হুম। খোদা হাফেজ।

সকালে ঘুম থেকে উঠতেই দেখি রিহান আমার পাশে নেই। হয়তো মার সাথে নিচে খেলছে। তাই একেবারে ফ্রেস হয়েই নিচে গেলাম আমি। সেখানে যেতেই দেখি মা আর রিহান একা না। তাদের সাথে রেয়ানও আছে। রেয়ানকে দেখে কিছুটা চমকে যাই আমি। সাদা শার্টের কনুই পর্যন্ত ফোল্ড করা।

আর শার্টের প্রথম ২টি বোতাম খোলা। ফলে রেয়ানের সাদা বুকের বেশখানিক~ টা দেখা যাচ্ছে। আর তার সাথে রয়েছে রেয়ানের নিজস্ব এটেটিউট। সব মিলিয়ে সুন্দর লাগছে রেয়ানকে। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো। মা রেয়ানের সাথে হেসে হেসে কথা বলছে। কিন্তু কেন? তাহলে কি রেয়ান মাকে ইম্প্রেস করে ফেলেছে? হয়তো! ভাবতেই মুখে হাসির রেখা ফুটে উঠে আমার। আমাকে দেখতেই রেয়ানও মুচকি হাসেন। তারপর বলে উঠেন
~ তাড়াতাড়ি রেডি হও। শাশুমার থেকে পারমিশেন নিয়ে নিয়েছি আমি।

~ কিভাবে? মা তো
আমি আর কিছু বলতে যাবো তখনই মা বলে উঠেন
~ মিরা! রিহানকে নিয়ে রুমে আয় তো। তোর সাথে কিছু কথা আছে। তুই রেডি হতে হতে আমার কথাটুকু শুনে নিস।

আমি আর কিছু বললাম। বুঝতে পারছি মা রেয়ানকে নিয়েই কিছু বলবেন আমাকে। তাই রেয়ানকে অপেক্ষা করতে বলে আমি। মা আর রিহান রুমে চলে আসি। রুমে ডুকতেই মাকে জিজ্ঞেস করি
~ তুমি রেয়ানকে মেনে নিয়েছো মা?

~ হয়তো! জানিস মিরা ছেলেটা যখন আমার কোলে মাথা রেখে কাঁদতে কাঁদতে তোকে আমার কাছে চায়। তখন কেন যেন মনে হয়। ছেলেটা তোকে সুখে রাখবে। কষ্ট দিবে না। এখন বাকি~ টা তুই যা বুঝে নিস।
বলেই মা চলে যান। মার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছি আমি। ভাবছি। আসলেই রেয়ান অনেক অদ্ভুদ। সবাইকে আপন করে নিতে পারেন তিনি। আর তার এই জিনিসটাই আমার সবথেকে পছন্দের।

প্রায় কিছুক্ষন পর আমি আর রিহান রেডি হয়ে নিচে আসি। তারপর মাকে বিদায় জানিয়ে বাইরের দিকে যেতে থাকি। ঠিক তখনই রেয়ান আমার পেছনে এসে কানে কানে বলেন
~ মাই লেডি! ইউর লুকিং সো বিউটিফুল। লাইক আ স্টবেরি আইস্ক্রিম।

বলেই চোখ টিপ মারলেন উনি। সাথে সাথে আমি বলে উঠলাম
~ অসভ্য

এভাবেই দুষ্টু~ মিষ্টি ঝগড়া করতে করতে আমরা পৌঁছে যাই রেয়ানদের বাড়ি। কিন্তু এ বাড়িটা অন্য রকম। আগেরটার মতো না। কিন্তু আগেরটার থেকেও দ্বিগুণ সুন্দর। তারওপর খুব সুন্দর করে সাজানো হয়েছে বাড়িটা! বাড়িতে ঢুকতেই প্রথমে রেয়ানের মার সাথে দেখা হয় আমার। উনি অনেক খাতিরদারি করেন আমার আর রিহানের। তারপর দেখা হয় রেয়ানের বোনের সাথে। রেয়ানের মতো তার বোনও অনেক সুন্দর। উনার বোনের নাম দিধা। দিধা আমাকে দেখতেই জড়িয়ে ধরে। তারপর বলে উঠে
~ কেমন আছো ভাবি?

ভাবি কথাটা শুনে চোখ বড় বড় হয়ে গেল আমার। পরক্ষনে নিজেকে সামলে নিয়ে রেয়ানের দিকে তাকালাম। সে আমার দিকেই তাকিয়ে তাকিয়ে মুখ টিপে হাসছেন। উনার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে আবার দিধার দিকে তাকালাম আমি। তারপর বললাম
~ আলহামদুলিল্লাহ! তুমি কেমন আছো?

~ আমিও আছি ভালো। জানো ভাবি! রেয়ান ভাইকে কতবার বলেছি যেন তোমাকে আমাদের সাথে দেখা করায়। কিন্তু একবারও আনে নি। কেমন দেখছ।
~ হুম। অনেক পঁচা।

~ ঠিক বলেছো। আচ্ছা এটা তোমার ছেলে রিহান না। আমার ভাতিজা।
দিধার কথা শুনে অবাক হলাম আমি। তাহলে রেয়ান আগে থেকেই আমার সম্পর্কে সব বলেছেন তার পরিবারকে। অবশ্যক বলারই কথা। নিউজের মাধ্যমে তো তাদের এমনেও জানার কথা। কিন্তু তারা মেনেও নিয়েছেন আমাকে। ব্যপারটা কেমন যেন। আচ্ছা রেয়ানের পরিবারের সবাই এত ভালো কেন? আমাকে নিয়ে কোনো কি আপত্তি নেই তাদের মাঝে?

পাত্রপক্ষের সামনে বসে আছে দিধা। দিধার সামনেই বসে আছে তুরান। তুরানই দেখতে এসেছে দিধাকে। যতটুকু বুঝেছি তুরানের দিধাকে পছন্দ হয়েছে। দিধারও তাই। এখন গুরুজনরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলছেন। হঠাৎ খেয়াল করি তুরানের ভাই নির্ঝর আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি তার দিকে তাকাতেই মাথা নিচু করে ফেলে সে। তারপর তুরানের বাবার কানে কি যেন বলে। সাথে সাথে তিনি নির্ঝরের দিকে চোখ বড় করে তাকান। পরক্ষনে রেয়ানের বাবা মিস্টার আজিজ সাহেবকে কিছু বলার চেষ্টা করতে শুরু করেন। কিন্তু কেন যেন পারছেন না বলতে। প্রায় অনেক্ষন পর সাহস করে বলেন

~ আসলে বেয়াইন। ওই যে মেয়েটা গোলাপি শাড়ি পড়া। ওকে আমার ছোট ছেলে নির্ঝরের পছন্দ হয়েছে। যদি চান। তাহলে তুরানের দিধার সাথে বিয়ে হওয়ার পরপরই নির্ঝরের এই মেয়ের সাথে বিয়ে করিয়ে দিবো।
কথাটা শুনে অবাক না হয়ে পারলাম না। কারন গোলাপি শাড়ি পড়া মেয়েটা আমি। আচ্ছা। তুরানের বাবার মাথা~ টাথা কি গেছে নাকি। তাছাড়া রেয়ান আর আমার ব্যপারে তো অনেক নিউজ হয়েছে। সেগুলো কি দেখে নি এই লোক। দেখলে তো এভাবে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার কথা না। তাও আবার রেয়ানের সামনে! রিতিমতো হাত~ পা কাঁপা কাঁপি শুরু হয়ে গেছে আমার। আজকে মনে হয় একটা মার্ডার হয়েই যাবে। ভাবতেই রেয়ানের দিকে তাকালাম আমি।

থা নিচু করে শান্ত ভাবে দাঁড়িয়ে আছেন উনি। তার এই শান্ত রুপ দেখে মনে হচ্ছে। এটা ঝড়ের পূর্বাভাস!

পর্ব ১৭

রেয়ান শান্ত ভাবে দাঁড়িয়ে থাকলেও তাকে দেখে বোঝা যাচ্ছে সে রেগে আছে। প্রচুর রকমের রেগে আছে! ইতোমধ্যে তার চোখ মুখ পুরো লাল হয়ে আছে। তার সাথে কপালের রগটাও স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। আমিসহ রেয়ানের পরিবারের প্রত্যেকটা সদস্য তার দিকে তাকিয়ে আছে। সবার মুখেই একটা আতংকের ছাপ। এখন কি করবে রেয়ান?

আমাদের এভাবে রেয়ানের দিকে তাকাতে দেখে তুরানের বাবা মিস্টার আজিজ আহমেদকে বললেন
~ বেয়াইন! কোনো কি সমস্যা হয়েছে?

প্রতিউত্তরে মিস্টার আজিজ আহমেদ কিছু বলতে যাবেন তার আগেই রেয়ান মাথা নিচু করা অবস্থায়ই গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠেন
~ আপনি কি নিউজ দেখেন নি?
~ কিসের নিউজ রেয়ান?

এবার রেয়ান মাথা তুলে তাকালেন। সাথে সাথে আঁতকে উঠলাম আমরা। রেয়ানের চোখ ভীষণ লাল হয়ে আছে। যেন এখনই আগুন বের হবে তার চোখ থেকে। কিন্তু উনি এখনও শান্ত ভাবে দাঁড়িয়ে আছেন। উল্টাপাল্টা কিছু করছেন না। হঠাৎ রেয়ান আমার দিকে এগোতে এগোতে তুরানের বাবাকে বলেন
~ আমার আর মিরার ব্যাপারে!

~ মিরা কে?
কথাটা শুনে রেয়ান হেসে দিলেন। তারপর তাচ্ছিল্যভরা কণ্ঠে বলে উঠলেন
~ যাকে নিজের ছোট ছেলের বিয়ের জন্য দেখছেন। তার নামই জানেন না। স্ট্রেঞ্জ!
~ এই গোলাপি শাড়ি পড়া মেয়েটা তাহলে মিরা?

~ জ্বী
বলতে বলতেই রেয়ান আমার পাশে এসে দাঁড়ান। তারপর আমার কোমড় ধরে টেনে নিজের সাথে একদম মিশিয়ে নিয়ে নির্ঝরের দিকে তীক্ষ্ম দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলে উঠেন
~ ফর ইউর কাইন্ড ইনফরমেশন! মিরা আমার বউ। মিডিয়ায়েও এসব ব্যাপারে অনেক কথা হয়েছে। সেগুলো কি দেখেন নি আপনি?

কথাটা শুনে নির্ঝড় আর তুরানের বাবা~ মা কেমন চুপসে গেলেন। আমতা আমতা করে তুরানের বাবা রেয়ানকে বললেন

~ আসলে রেয়ান আমরা গত পরশুই কানাডা থেকে বাংলাদেশে এসেছি। তাই তোমাদের ব্যপারে টিভিতে তেমন কোনো খবর দেখি নি। মিরা যে তোমার বউ সেটা আমরা জানতাম না। জানলে এমন ভুল কখনও হতো না। মাফ করে দিও আমাদের!

বিনিময়ে রেয়ান কিছু বললেন না। সে এখনও তার তীক্ষ্ম দৃষ্টি দিয়ে নির্ঝরকে দেখে যাচ্ছেন। যেন পারলে এখনও খুন করে ফেলবেন তাকে। কিছুক্ষন ওভাবে তাকিয়ে থেকে রেয়ান আমার হাত টান দিয়ে কোথায় যেন নিয়ে যেতে লাগলেন। যাওয়ার আগে একবার নির্ঝরের দিকে তাকিয়ে ছিলাম আমি। সে করুন দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। কিন্তু এতে আমার কি? আমার তো ভয় লাগছে রেয়ানকে নিয়ে। তার এমন শান্ত আচরণ যে সজম হচ্ছে না আমার

রেয়ান আমাকে একটা রুমে নিয়ে এসেছেন। রাগে গজগজ করছেন উনি। পিছনে ফিরে পাশে থাকা টেবিলে জোড়ে একটা লাথি দেন। অতপর নিজের চুল টেনে ধরেন। যেন অনেক্ষন পর নিজের রাগটা বের করতে পেরেছেন উনি। পেছনে ফিরে থাকার কারনে তার মুখ দেখতে না পারলেও বুঝতে পারছি। তার মুখ এখন হয়তো ভীষণ লাল হয়ে আছে। ভাবতে ভাবতেই রেয়ান আবারও টেবিলে লাথি দেন।

। এবার কিছুটা জোড়েই লাথি দেন উনি। ফলে কেঁপে উঠলাম আমি। কিছু বলারও শক্তি নেই আমার। ভয়ে রিতিমতো হাত~ পা কাঁপছে আমার। রেয়ান কিছুক্ষন স্থির ওভাবে দাঁড়িয়ে থাকলেন। পরক্ষনে আমার দিকে ফিরে আমার গালে আলতো করে নিজের দু’হাত রেখে শান্ত কণ্ঠে বললেন
~ একমাত্র তুরানের ভাই দেখে ওই ছেলেটা এখনও সুস্থ আছে। ইচ্ছে তো করছে এখনই গিয়ে ওই ছেলের ইনকাউন্টার করে দি। কিন্তু আফসোস! সেটা পারছি না আমি। কিন্তু তাকে শাস্তি তো দিবোই। আমার মিরার ওপর নজর দিয়েছে সে। ১মাস অন্তত হোসপিটালে ভর্তি থাকতে হবে তার।

কথাটা শুনে চোখ বড় বড় হয়ে গেল আমার। কোনোমতে কাঁপাকাঁপা কণ্ঠে রেয়ানকে জিজ্ঞেস করি
~ কককি করবেন আআপনি?
~ বেশি কিছু না। জাস্ট হাত~ পা ভেঙ্গে দিবো!

বিছানার এপাশ~ ওপাশ করছি শুধু। বারবার রেয়ানের কথাগুলো মনে পড়ছে আমার। সত্যি সত্যিই কি এমন কিছু করবেন নাকি উনি! প্রশ্নটা যেন বারবার মস্তিষ্কে বারি খাচ্ছে। আমার ভাবনার বিচ্ছেদ ঘটিয়ে হঠাৎ ফোনের রিংটন বেজে উঠে। ফোন চালু করতেই দেখি রেয়ানের মেসেজ। যেখানে লিখা নিচে আসো তাড়াতাড়ি। কাজ আছে! । একটু আগেই না রেয়ান আমাদের বাসায় পৌঁছে দিলেন। তখন তো কিছু বলেন নি।

তাহলে এখন আবার কিসের কাজ? ভাবতে ভাবতেই পা বাড়ালাম রেয়ানের কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। নিচে যেতেই দেখি রেয়ান বুকে হাত গুজে গেটের সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। আমাকে দেখতেই সোজা হয়ে দাঁড়ান তিনি।
~ একটু আগেই তো আপনি আমাদের দিয়ে গেলেন। এখন আবার আসলেন যে?
~ আসলে তোমাকে একটা কথা বলার ছিল।
~ হুম। বলুন।
রেয়ান কিছুক্ষন চুপথেকে আবার বললেন
~ আমি কি তোমাকে একটু জড়িয়ে ধরতে পারি মিরা?

কথাটা শুনে অবাক হলাম আমি। আনমনেই মুখ থেকে বের হয়ে গেল হা?। সাথে সাথে রেয়ান শক্ত করে জড়িয়ে ধরলেন আমায়। তারপর নরম সরে বলে উঠলেন

~ আমাকে ১সপ্তাহর জন্য এ শহরের বাইরে যেতে হবে মরুভূমি। একটা মিশন আছে আমার। কালকে সকাল সকাল আমি আর আমার ফুল পুলিশফোর্স বের হবো। একটু আগেই জানলাম এটা। তাছাড়া সকালে তো আসতে পারবো না। তাই এখন চলে আসলাম। তাই চিন্তা করবে না একদম। আমি জলদি চলে আসবো। ততদিনে নিজের খেয়াল রাখবে। রিহানকে বলবে তার বাবা যখন আসবে তখন তার জন্য অনেক গুলো মজা নিয়ে আসবে। কাঁদতে একদম বারণ করবে ওকে। কেমন!

বলেই আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরলেন আমায়। কিন্তু আমার কোনো ভাব~ গতি পাল্টায় নি। স্থির দাঁড়িয়ে আছি। রেয়ান এখন যা বলল তা বুঝার চেষ্টা করছি আমি। আসলেই কি রেয়ান ১সপ্তাহের জন্য চলে যাবে। তাকে কি পুরো ১সপ্তাহ দেখতে পারবো না আমি। ভাবতেই কেঁপে উঠলাম। বুঝতে পারছি না এখন কেমন রিয়েক্ট দেয়া উচিত আমার। প্রায় অনেক্ষন রেয়ান আমাকে এভাবেই জড়িয়ে ধরে থাকেন।

। তারপর আসতে আসতে সরে আসেন আমার থেকে। তার চোখে জল স্পষ্ট। আচ্ছা উনি কাঁদছেন কেন? উনারও কি আমার মতো কষ্ট হচ্ছে। এক সপ্তাহ না দেখতে পাওয়ার কষ্ট! কিন্তু তাতে কি। ভিডিও কল তো আছেই। তাহলে? ভাবতেই ভ্রুঁ কুঁচকে এলো আমার। আমাকে এভাবে ভ্রুঁ কুঁচকাতে দেখে হেসে দিলেন রেয়ান। হাসতে হাসতেই বললেন
~ এভাবে ভ্রুঁ কুঁচকে আছো কেন?

~ না এমনি।
কথাটা শুনে আবার হাসলেন উনি। তারপর আলতো করে আমার গালে হাত রেখে বলে উঠেন
~ ভয় নেই। কিছু হবে না আমার। খুব তাড়াতাড়িই ফিরবো তোমার কাছে। আর শুনো। ভাববে না যে যাচ্ছি গা দেখে ওই নির্ঝড় নাকি ফির্ঝড়। ওয়াট এভার। ওই ছেলের কিছু করবো না। মিশন থেকে এসেই ওইটারে টারগেট করব আগে।
কথাটা শুনে আবার ভ্রুঁ কুঁচকে এলো আমার। রেয়ানের চোখে চোখ রেখে বলে উঠলাম
~ লাইক সিরিয়াসলি? এখনও আপনার মাথায় এসব ঘুড়ছে!

~ অভেয়েসলি! আফটার ওল আমার মরুভূমির দিকে নজর দিয়েছে ও।
~ আপনার কিচ্ছু হবে না। আপনি একটা গুন্ডা পুলিশ। সেটা জানেন?
~ তাই নাকি? তাহলে তো গুন্ডামি দেখানোই উচিত। কি বলো?

~ একদম না! এখন যান। অনেক দেড়ি হয়ে গেছে। সকালে আবার আপনার উঠতে হবে।
~ হুম
বলেই আমার কপালে একটা গভীর চুমু এঁকে দিলেন রেয়ান। তারপর শান্ত সরে বললেন
~ নিজের। রিহানের আর শ্বাশুমার খেয়াল রেখো।

চললাম
বলেই চলে যেতে লাগলেন রেয়ান। আর আমি! আমি তার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছি। এই শেষ দেখা তার সাথে। ১সপ্তাহর আগে আর সামনাসামনি দেখা হবে না। ভাবতেই ভেতর থেকে একটা দীর্ঘ শ্বাস বেরিয়ে এলো আমার। বাসায় চলে যেতে নেবো। তখনই হঠাৎ রেয়ানের কণ্ঠ শুনতে পাই। সামনে তাকাতেই দেখি রেয়ান প্যান্টের পকেটে হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছেন। হালকা জোড়ে বলে উঠেন
~ খোদা হাফেজ বেনীওয়ালি।

তার কথা শুনে অবাক হয়ে তাকালাম তার দিকে। আমার অবাক হওয়া দেখে বাঁকা হাসলেন উনি। তারপর আবার বলে উঠলেন

~ শ্বাশুমার কাছ থেকে শুনেছি। তুমি নাকি ছোট বেলায় অনেক বেনী করতে। তাই নতুন নাম দিলাম। বেনীওয়ালি! কেমন লাগলো? হট! তাই না?
তার কথা শুনে এবার আমিও হেসে দিলাম!

আজ ১সপ্তাহ হতে চলল। খুব একা একা লাগছে নিজেকে একয়দিনে। মিস করা যে কি তা আজকে বুঝতে পারছি আমি। খুব ইচ্ছে করছে রেয়ানকে দেখতে। কিন্তু তার কি দেখতে ইচ্ছে করে না আমাকে। হয়তো না! একবারও তো ভিডিও কল দেন নি উনি। ভিডিও কল কি। এমনে কলই তো তিনি কম দেন। আবার ভিডিও কল! আগে তো প্রতিদিন ১০~ ১২টা কল দিতেন। আর এখন। দিনে মাত্র ৩~ ৪টা কল দেন। তাও খুব কম কথা বলেন। কেমন আছি~ রিহান কেমন আছে~ ভালো আছি নাকি আমরা~ নিজের খেয়াল রাখছি নাকি। এইতো এগুলো। তার এসবে খুব কষ্ট পাই আমি। উনি কি বুঝেন না উনার সাথে কথা বলব আমি। অনেক গুলো কথা!

বারবার ফোনের দিকে তাকাচ্ছি। রেয়ানকে কল দিবো কি দিবো না বুঝতে পারছি না! অবশেষে দিয়েই ফেলি। ২~ ৩বার রিং হতেই ফোনটা কেটে দেন উনি। তারপর আবার কল বেক করেন।

কল রিসিভ করতেই তাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে বলে উঠি
~ এত পাষাণ কেন আপনি? একটুও আমার কথা মনে পরে না আপনার।
প্রতিউত্তরে তিনি খুব শান্ত সরে বললেন
~ কি হয়েছে?
~ আমি আপনাকে দেখবো।

~ এইতো কালবাদে পরশু দিন চলে আসবো তোমার কাছে।
~ পরশু দিন? কিন্তু আপনার তো কালকে আসার কথা।
~ আসলে কাজটা এখনও শেষ হয় নি। তাই!

~ আমি কিচ্ছু জানি না। আপনি কালকেই আসবেন। আসবেন মানে আসবেন!
~ দেখো মিরা! আমি একজন পুলিশ। সবসময় দেশের জন্য লড়াই করতে হয় আমার। এটা আমার দায়িত্ব। তুমিই বলো। আমি কি আমার দায়িত্বকে ফেলে চলে আসবো তোমার কাছে?

কথাটা শুনে শান্ত হয়ে গেলাম আমি। সত্যিই তো। আমার জন্য নিজের দায়িত্ব কেন ফেলে আসবেন উনি। সবার আগে নিজের দেশ। তারপর সবকিছু। উনি যা করছেন সব দেশের জন্যই তো তাই না? আমার তাকে উৎসাহ দেওয়ার উচিত। তার বদলে আমি কি করছি। তাকে এগুলো বলছি। ভাবতেই নিজের উপর নিজেরই রাগ লাগছে আমার। আমাকে চুপ থাকতে দেখে উনি আবারও বলে উঠলেন
~ তাছাড়া আমি তোমার কাছে এসেই বা কি করব। তুমি তো আমাকে বিয়েই করো না। ভাবছি এখানের একটা মেয়েকে বিয়ে করে ফেলবো।

~ কি বললেন আপনি? আবার বলুন তো?
~ যা শুনেছো। তাই~ ই বলেছি মাই লেডি।
কথাটা শুনে আমার রাগ হলো প্রচুর। সামান্য বিয়ের জন্য উনি এমন বলছেন আমায়? কিছুটা ঝাঁঝালো কণ্ঠে তাকে বললাম
~ আপনি যা বলেছেন তা ফেরত নিন এক্ষুনি। আর তাড়াতাড়ি আসবেন। আপনি আসলেই আমি আপনাকে বিয়ে করব। তখন দেখবো কিভাবে অন্য কাউকে বিয়ে করেন।

কথাটা বলেই জিভ কাটলাম আমি। রাগের বসে কি বলে ফেলেছি আমি! ভাবতেই লজ্জা লাগছে। এদিকে আমার কথা শুনে রেয়ান কাশতে কাশতে শেষ। হয়তো আমার এমন কথা আশা করেন নি সে। কাশতে কাশতেই বললেন
~ আর ইউ সিরইয়াস?

~ অবশ্যই! এএতে এতো জজজিজ্ঞেস করার কি আআছে?

~ বাহ্ বাহ্। তুমি তো দেখি রোমেন্টিক হয়ে গেছো মরুভুমি। তুমি জাস্ট ওয়েট করো। আমি খুব তাড়াতাড়ি আসবো তোমার কাছে। আফটার ওল বিয়ে হবে আমার। আচ্ছা মরুভূমি একটা কাজ করো। বাসরে আমরা কি ক
আর কিছু বলার আগেই ফোন কেটে দিলাম আমি। উনি কত বড় অসভ্য। তা বারবার প্রমাণ দেন। এসব কথা কেউ বলে? আসলেই উনি অসভ্য। অনেক অনেক অনেক অসভ্য!

পর্ব ১৮

খোলা আকাশের নিচে দোলনায় বসে আছি আমি। চোখ থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে। যেন বুকে অনেক কষ্ট জমা হয়ে আছে। আমার ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে আছেন রেয়ান। আমার কষ্ট দেখে তিনি কাতর। কিন্তু তা প্রকাশ করছেন না। যথা সম্ভব হাসার চেষ্টা করছেন উনি। যেন হাসি দিয়ে বোঝাতে চাচ্ছেন আমি ঠিক আছি মিরা। এত কাঁদার কি আছে? দেখো হাসছি আমি।

কিন্তু সে কি জানে তার হাসার কারন আমি জানি। আমার কষ্ট দূর করার জন্য যে। সে হাসার চেষ্টা করছে তা আমি বুঝতে পারছি। হয়তো জানে! কিন্তু তাও ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উনি। যদি একটু হলেও কষ্ট কমে আমার। কিন্তু তার এমন চেষ্টা দেখে আমার কষ্ট যেন আরও বেড়েই চলছে। তার জন্যই হয়তো কান্না কমার বদলে আরও বেড়ে গেছে। একসময় হিচকি উঠে যায় আমার। তা দেখে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলেন না উনি। করুন দৃষ্টি নিক্ষেপ করে তাকিয়ে আছেন আমার দিকে। আমার পাশে বসে আলতো করে আমার হাত ধরে বলে উঠেন
~ এত কাঁদছো কেন? আমি তো সুস্থ তাই না?

হাঁটতে~ চলতেও পারছি। তাহলে?
উনার কথা শুনে কান্না ভেজা কণ্ঠে তাকে বললাম
~ আপনার সাথে আমার কথা নেই। এমন বড় এক্সিডেন্ট হলো আর আপনি আমাকে একটু জানানোর প্রয়োজন বোধও করলেন না। হাউ কুড ইউ?

~ জানালে তুমি খামাকা টেন্স থাকতে। তাছাড়া আমি কি ইচ্ছে করে এক্সিডেন্ট করেছি নাকি! ভুলে হাতে গুলি লেগে গিয়েছিলো। ব্যস এতটুকুই।

~ ব্যস এতটুকু? কেন? ভুলেই বা হাতে গুলি লাগবে কেন? নিজের উপর একটুও কি খেয়াল রাখা যায় না। আর মাথায়! মাথায় কিভাবে ব্যথা পেয়েছেন আপনি?
~ ক্রিমিনালদের সাথে ধস্তাধস্তির সময় হয়তো পেয়েছি!

বিনিময়ে আমি আর কিছু বললাম না। কথা বলব না তার সাথে আমি! অভিমান করেছি। অনেক অভিমান! এত কিছু হলো আর সে আমাকে একটু জানালোও না। এমন কেন উনি? একটু জানালে কি খুব বেশি ক্ষতি হতো?
আমাকে চুপ থাকতে দেখে রেয়ান এবার শান্তভাবে বলে উঠলেন
~ প্রেয়সী আমার!

এত কান্না। অভিমান। জেদ কোথায় রাখো তুমি? আচ্ছা #সেকিজানে তাকে কাঁদলে কতটা কিউট লাগে। ইচ্ছে করে তার ওই লাল গাল~ টা টেনে দিতে। সে যখন আনন্দের সাথে হাসে। তখন ইচ্ছে করে তার আনন্দের সাথে মিলে আমিও হাসি। তাকে বলো! সে কি চায়? তার আনন্দের সাথে হাসতে নাকি সে তখন কাঁদবে তখন আস্তে করে তার গাল টেনে দিতে। কোনটা?

কথাগুলো শুনে গলে গেলাম আমি। যেন আমার সব অভিমান। জেদ। রাগ নিমিষেই হাওয়ায় মিশে গেছে। তার এসব কথা শুনলে যে আমার মন নরম হয়ে যায়! রেয়ানের দিকে আড়চোখে তাকাতেই দেখি সে আমার দিকেই তাকিয়ে আছেন। হয়তো উত্তরের আশায়। তাই ধীরে ধীরে তার কাছে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরলাম। তারপর বললাম
~ দু’টোই চাই আমার। দিবেন আমাকে?

কথাটা শুনে হাসলেন উনি। পরক্ষনে সেও জড়িয়ে ধরলেন আমায়! তার মনে শুধু একটাই কথা ঘুরছে আমার মরুভূমিটা আজকে সত্যিই আমার হলো। আমি পেরেছি তাকে আমার করতে! হঠাৎ ফোনের রিংটন বেজে উঠলো। মাথা উঁচু করে রেয়ানের দিকে তাকাতেই দেখি উনি চোখ বন্ধ করে আছেন। তার কাছ সরে আসতে আসতে বললাম
~ রেয়ান! আপনার ফোন বাজছে।

কথাটা শুনে রেয়ান ফোন বের করলেন পকেট থেকে। তারপর আমার দিকে ফোনটা এগিয়ে দিয়ে বললেন
~ ফোনটা ধরে কথা বলো।

তার কথা মতো ফোনটা হাতে নিলাম। ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখি দিধার কল। সাথে সাথে ভ্রু কুঁচকে এলো আমার। দিধা ফোন দিয়েছে! তাহলে উনি কথা বলছেন না কেন? আমাকেই বা কথা বলতে বলছেন কেন? আমার ভাবনায় ছেদ করে রেয়ান আবারও বললেন ধরো।

তার দিকে একবার তাকিয়ে ফোনটা ধরেই ফেললাম। ফোন রিসিভ করতেই অপর পাশ থেকে দিধার চিন্তিত ভরা কণ্ঠ ভেসে উঠল

~ রেয়ান ভাইয়া। কোথায় তুমি? প্লিজ তাড়াতাড়ি বাসায় আসো। তুরানের ছোট ভাই নির্ঝরকে পাওয়া যাচ্ছে না। সকাল হতে রাত গড়িয়ে গেছে। ও এখনও বাসায় ফিরে নি।

কথাটা শুনে আমি স্তব্ধ। সাথে সাথে রেয়ানের দিকে তাকালাম আমি। উনি বাঁকা হাসছেন। যেন বলতে চাচ্ছেন উনি উনার কথা রেখেছেন

১ঘন্টা যাবত জেড়া করছি রেয়ানকে। কিন্তু সে তো সে~ ই। কোনোভাবেই বলছেন না নির্ঝর কোথায়। বরং শুধু এতটুকুই বলছেন
~ সময় এলে বাসায় পাঠিয়ে দিবো ওই ছেলেকে। এত চিন্তার কিছু নেই। আর তাছাড়া ওর প্রতি তোমার এত চিন্তা কেন হ্যাঁ? আমার জন্যও তো এত চিন্তা করো না। ওই ছেলে গেছে আজকে। জাস্ট ওয়েট এন্ড সি। ওর আমি কি করি।

তার এমন কথা শুনে আমি হাসবো নাকি কাঁদবো বুঝতে পারছি না। ডান হাতের এই অবস্থায়ও উনি নির্ঝরকে নিয়ে গেছেন। আল্লাহ জানে সুস্থ থাকলে কি করতেন! তার এসব আমার বিরক্ত লাগছে। পাশাপাশি ভালোও লাগছে। কিন্তু এখন আপাতত ভালো লাগাটা সাইডে রেখে কিছুটা রাগ নিয়েই তাকে জিজ্ঞেস করলাম
~ আপনি বলবেন না নির্ঝর কোথায়?
~ নোপ
~ তাহলে আপনি এখানে বসে থাকেন আমি যাচ্ছি।
~ আরে আরে। এখন গেলে কেমনে হবে? আমাদের বিয়ের ব্যাপারেও তো কথা বলতে হবে তাই না?
~ কিসের বিয়ে? কার বিয়ে?

~ আমাদের বিয়ে।
~ কোনো বিয়ে টিয়ে হবে না আমাদের। আপনি আমার কথার উত্তর দিয়েছেন? দেন নি তাই তো? তাহলে আমি আপনাকে বিয়ে করব কেন? করব না বিয়ে আপনাকে।

কথাটা শুনে রেয়ানের মুখ মুহূর্তেই গম্ভীর হয়ে গেল। গম্ভীর কণ্ঠেই বললেন
~ আমি ওকে একটা রুমে আটকে রেখেছি। ৩~ ৪দিন পর ছেঁড়ে দিবো।
~ ওয়াট? ৩~ ৪দিন। আর ইউ সিরিইয়াস? কালকে সকালের ভেতর ও যেন ওর বাসায় পৌঁছে যায়। নাহলে আপনার আর আমার বিয়ের কথা ভুলে যান!
~ ওকে ফাইন। ছেঁড়ে দিবো।

~ হুম। এবার এনা আপনি আমার সুপার হিরো।
বলেই গাল টেনে দিলাম তার। আর সে! সে অন্য দিকে মুখ করে আছেন। আমার দিকে তাকাচ্ছেনও না। হয়তো রাগ করেছেন আমার ওপর। ভীষণ রাগ!

আমার কথায় হয়তো রেয়ান সত্যিই রাগ করেছিলেন। তাই কিছু না বলেই চলে যান ছাদ থেকে। পরেরদিন রেয়ান তার কথা রেখেছিলেন। নির্ঝকে ছেঁড়ে দেন উনি। কেউ জানেও না যে নির্ঝরকে আসলে রেয়ান কিডন্যাপ করেছিলেন। খুব চালাকির সাথে সব কিছু হেন্ডেল করেন উনি। কিন্তু বিপত্তি ঘটে আমার সাথে। আজকে সারাদিন রেয়ান আমার সাথে কথা বলেন নি। কল দিয়েছিলেন মাকে। মা আর রিহান কথা বলেছে তার সাথে। আমি কথা বলতে গেলেই ফোন কেটে দেন উনি। বুঝতে পারছি না এত রাগের কি আছে? #সেকিজানে তার এমন রাগে আমার কষ্ট হচ্ছে!

সকালটা আমার এভাবেই কেটে যায়। মাঝরাতের দিকে রিহানকে জড়িয়ে ধরার জন্য হাত পাশে নিতেই অনুভব করি পাশে কেউ নেই। তাড়াতাড়ি চোখ খুলে ভালো ভাবে পাশে তাকাতে শুরু করি। সত্যিই রিহান নেই এখানে। আর না আছে রুমের কোনো জায়গায়। সাথে সাথে ভয় লাগা শুরু হয়ে যায় আমার। কোনোমতে নিচে যেতেই দেখি চারপাশ পুরো অন্ধকার। হঠাৎ কেউ বলে উঠে
~ Happy Birthday To You
Happy Birthday To You
Happy Birthday। Happy Birthday
Happy Birthday
Dear moruvumi
কথাটা বলতে বলতেই আমার ঠিক সামনে থেকে কেউ যেন আসছে। সে একটু কাছে আসতেই আমি অবাক! এ তো মা। রিহান আর রেয়ান। সাথে দিধাও আছে। রেয়ান আর রিহান হাঁটু গেড়ে হাঁটছে। তাদের হাতে কেক। রেয়ান বাম হাত দিয়ে কেক ধরেছেন আর রিহান দু’হাত দিয়ে।

তাদের দু’পাশে মা আর দিধা মোমবাতি নিয়ে আসছে। দৃশ্যটা দেখতেই আমার চোখে পানি চলে আসে। এতো ভালোবাসে কেন এ মানুষগুলো আমায়। আমি কি আদও এ ভালোবাসার যোগ্য? হয়তো! তারা ধীরে ধীরে আমার একদম কাছে চলে আসে। রেয়ান একটা মুচকি হেসে আমাকে বলেন

~ সো মাই ডিয়ার হবু বউ। কেক~ টা কেটে আমাদের উদ্ধার করো প্লিজ।

কথাটাশুনে এবার রাগ করলাম না বরং হেসে দিলাম। তার ভালোবাসা যে এমনই। সামনে প্রকাশ না করলেও তার কাজকর্ম দিয়ে সে বুঝিয়ে দেয় যে সে কতটা ভালোবাসে আমায়। আমি খুশি মনে কেকটা কাটলাম। প্রথমে মাকে খাওয়ালাম। আমাকে এত সুন্দর পৃথিবীতে জন্ম দেওয়ার জন্য। তারপর রিহানকে। আমার ছোট দুনিয়াকে এত বড় করার জন্যে। এরপর রেয়ানকে। আমাকে এত এত ভালোবাসার জন্য। আর অবশেষে দিধাকে। আমার এত ভালো বোন হওয়ার জন্য।

পর্ব ১৯

রেস্টুরেন্টে বসে আছি আমি আর রেয়ান। রেয়ান চোখ~ মুখ শক্ত করে তাকিয়ে আছেন আমার দিকে। আর আমি করুন দৃষ্টি নিক্ষেপ করে। আমার ঠিক সামনে রয়েছে প্রায় ২০টির মতো ফুচকার প্লেট। এসবগুলো আমাকে খেতে হবে। এটাই রেয়ানের আদেশ! কারন আমি আজকে আবার ফুটপাতের ফুচকা খেয়েছি। খেয়েছি বললে ভুল হবে। খেতে নিয়েছিলাম!

ভার্সিটি ছুটি হওয়ার আধা ঘন্টা পরও রেয়ান আসছিলেন না। এদিকে আমি ক্ষুধায় কাতর। আমার চোখের সামনে ফুটপাতের ফুচকা গুলো ভেসে বেড়াচ্ছে। ভেবেছিলাম হয়তো রেয়ান আরও দেড়ি করে আসবেন।

তাই ফুচকাওয়ালাকে অনেক কাকুতি~ মিনতি করে। ঘুস খাইয়ে এক প্লেট ফুচকা কিনে নিলাম। তারপর যেই না একটা ফুচকা মুখে দিতে যাবো ঠিক তখনই কোথা থেকে রেয়ান এসে আমার হাত ধরে ফেলেন। তার দিকে তাকাতেই আমার চোখ বড় বড় হয়ে যায়। আচমকা কাশতে শুরু করি আমি। আর রেয়ান! উনি তো আমাকে ধমক দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সাথে ফুচকাওয়ালাকে কিভাবে সায়েস্তা করবেন সেটাও হয়তো ভাবছেন। এরপর বাকিটা ইতিহাস।

~ তুমি ফুচকা গুলো খাওয়া শুরু করবে নাকি আমি জোড় করে খাওয়াবো?
~ আপনার মাথা ঠিক আছে? এতগুলো ফুচকা মানুষ কিভাবে খায়?
~ মানুষ খেতে না পারলেও তোমাকে খেতে হবে।
~ আমি কি মানুষ না?

~ না! নাও ফাস্ট। জলদি খেয়ে শেষ করো এগুলো।

~ রেয়ান প্লিজ এগুলো ফেরত দিন। এতগুলো ফুচকা আমি কিভাবে খাবো। প্লিজ ফেরত দিন না।
~ আমার কথার অবাধ্য হওয়ার সময় মনে ছিল না তোমার। এখন কোনো ফেরত দেওয়া~ নেওয়া হবে না। চুপ~ চাপ সব ফুচকা খেয়ে শেষ করবে। নাও হারি আপ!

উনার কথা শুনে কাঁদো কাঁদো ভাব নিয়ে তাকিয়ে রইলাম তার দিকে। যেন চোখ দিয়ে বলছি প্লিজ রেয়ান কিন্তু না! উনি তার সিদ্ধান্তে অটুট। আমাকে সব ফুচকা খেতে হবে মানে খেতেই হবে। চোখ মুখ আরও শক্ত করে অনেকটা বিরক্তি নিয়ে উনি বলে উঠলেন
~ ডু ইট ফাস্ট মরুভূমি! নাহলে আমি বাধ্য হবো তোমাকে জোর করে খাওয়াতে।

এবার আমি কেঁদেই দিলাম। এত অত্যাচার করছেন কেন উনি? একটুও কি নিজের পছন্দের খাবার খেতে পারবো না আমি। তাছাড়া কিই~ বা করেছি? শুধু ফুটপাতের ফুচকা খেতে নিচ্ছিলাম এটাই। এর জন্য কেউ এভাবে শাস্তি দেয়? নাক টানতে টানতে তাকে জিজ্ঞেস করলাম
~ শুধু তো ফুচকাই খেতে যাচ্ছিলাম।

এর জন্য এমন শাস্তি কেন দিচ্ছেন?

~ প্রথমত আমি তোমাকে বারণ করেছিলাম ফুচকা খেতে। তাও কেন খেতে গেলে? তুমি কি জানো ফুটপাতের ফুচকায় কত ময়লা~ আবর্জনা থাকে। অনেক সময় তো তারা ময়লা হাতেই ফুচকা বানায়। যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তার উপর যদি তাদের কোনো ছোঁয়াছে রোগ থাকে আর সে অবস্থায় তারা ফুচকা বানায় তাহলে তার রোগটা তোমার কাছেও যেতে পারে। এজন্য মানা করি তোমাকে ওসব খেতে। কিন্তু তুমি তো আমার কথা শুনলে না। এখন শাস্তি ভুগো। তাছাড়া শাস্তি তো তেমন কিছুই দি নি।

তোমার ফেভরেট ফুচকাই তো। তাহলে খেতে অসুবিধা কিসের? তাই তাড়াতাড়ি ফুচকা খাবা! বাসায়ও তো যেতে হবে আমাদের তাই না? নাও স্টার্ট!

তার কথায় জুক্তি থাকলেও এখন সেটা আমার মোটেও ভালো লাগছে না। বারবার আকুতি মিনতি করার পরও যখন উনি শুনলেন না। তখন একবার করুন দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে ফুচকা খেতে শুরু করলাম। ২প্লেট ফুচকা খেতেই আমি শেষ। আমার দাঁড়া আর খাওয়া সম্ভব না।

এদিকে রেয়ান তাড়া করছেন যেন সব ফুচকা তাড়াতাড়ি শেষ করি আমি। কিন্তু কিভাবে? আমার পেটে যে আর জায়গা নেই। কিছুটা রাগ নিয়েই এবার বললাম

~ আপনি খেতে পারবেন এতগুলো ফুচকা যে আমাকে বলছেন। তাছাড়া ২প্লেট তো খেয়েছি আর কত খাবো। প্লিজ রেয়ান এবার রেহাই দিন। আমার পেটে সত্যি আর জায়গা নেই। ৷
কথাটা শুনে কিছুক্ষন ভ্রুঁ কুচঁকে তাকিয়ে থাকলেন আমার দিকে। পরক্ষনে ওয়েটারকে ডেকে তার কাছে ৫০০টাকার নোট ধড়িয়ে দিলেন।

তারপর আমার হাত টেনে নিয়ে যেতে লাগলেন গাড়ির দিকে। গাড়িতে বসতেই উনি আমার দিকে ঝুঁকে পড়লেন। সাথে সাথে আমি চোখ বড় বড় করে খানিকটা ঢেবে গেলাম গাড়ির সিটের সাথে। তা দেখে বাঁকা হাসলেন রেয়ান। পরক্ষনে আমার সিট বেল্ট লাগাতে শুরু করলেন। শেষে সরে আসতে নিয়ে কানে ফিসফিস করে বললেন

~ নেক্স টাইম যেন এমন আর না হয় জান। নাহলে শাস্তিটা অন্য ভাবে দিবো। এবার মাফ করে দিয়েছি পরেরবার হয়তো নাও করতে পারি। শোকর করো বিয়েটা হয় নি। (চোখ টিপ মেরে)
বলেই আবার বাঁকা হাসলেন উনি। সে হাসি অদ্ভুদ। অনেকটাই অদ্ভুদ!

আজকে রাতে দিধার গায়ে হলুদ। সে উপলক্ষে রেয়ান আমাকে একটা হলুদ লেহেংগা দিয়েছেন। সাথে সাজুগুজোর কিছু সামগ্রী। মা আর রিহানের জন্য রয়েছে শাড়ি আর পাঞ্চাবী। শুনেছি আজকে নাকি রেয়ান আর রিহান একই রকমের পাঞ্চাবী পড়বে। কথাটা রেয়ান বলেছে রিহানকে। এর জন্য রিহান তো খুশিতে রিতিমতো নাচানাচি করছে।

সন্ধ্যার দিকে রেয়ান গাড়ি পাঠায় আমাদেরকে নিতে। আশ্চর্য রকম ভাবে রেয়ান আসে নি আমাদের নিতে। কিন্তু কেন? তাকে পাঞ্চাবীতে কেমন লাগবে সেটা তো আমার দেখতে ইচ্ছে করছে। আফসোস দেখাটা এখন হলো না। হলুদের অনুষ্টানে গেলেই হয়তো তাকে দেখবো।

কিন্তু আমি ভুল! সেখানে গিয়েও তার দেখা নেই। বুঝতে পারছি না উনি কোথায়। এদিকে নির্ঝর নামক ছেলেটা এত কিছু জানার পরও আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। তাকিয়ে আছে তাকিয়ে আছেই! এর কি লজ্জা নেই। এভাবে তাকিয়ে আছে কেন আমার দিকে? আজব! রেয়ান যদি এটা দেখে তাহলে কেলেংকারি হয়ে যাবে। তাই যথাসম্ভব নির্ঝরের আড়াল হচ্ছি। কিন্তু অসভ্যটা ঠিকই আমার পিছু পিছু আসছে। এবার রেগে গেলাম আমি। তার কাছে গিয়ে কিছু বলতে যাবো। তখনই আমাকে অবাক করে দিয়ে কোথা থেকে রেয়ান এসে নির্ঝরের সামনে দাঁড়ালেন। নির্ঝরের পাঞ্চাবীর কলার ঠিক করতে করতে দাঁতে দাঁত চেপে বললেন

~ বেশি উড়তে ইচ্ছে করছে তাই না। ডানা টা কেটে দিলে কেমন হয়? একটা কথা শুনে রাখ। হাত~ পা ভেঙ্গে দিবো যদি আমার বউয়ের দিকে বাজে নজরে দেখিস। জানে মেরে ফেলব একদম!

পর্ব ২০

~ বেশি উড়তে ইচ্ছে করছে তাই না। ডানা টা কেটে দিলে কেমন হয়? একটা কথা শুনে রাখ। হাত~ পা ভেঙ্গে দিবো যদি আমার বউয়ের দিকে বাজে নজরে দেখিস। জানে মেরে ফেলব একদম!
কথাটা বলেই রেয়ান নির্ঝরের পাঞ্জাবির কলার টেনে একটা রুমে নিয়ে গেলেন। সবাই দিধাকে হলুদ লাগাতে ব্যস্ত। তাই এদিকে কি হচ্ছে না হচ্ছে এতে কারো খেয়াল নেই। রেয়ান যেন খুব ভালো ভাবেই নিজের কাজ সম্পূর্ণ করতে পারবেন এখন।

প্রায় আধা ঘন্টা ধরে এখানে দাঁড়িয়ে আছি আমি। রুমে রেয়ান নির্ঝরের সাথে কি করছেন তা জানতে ব্যপক ইচ্ছে হচ্ছে আমার। কিন্তু আফসোস! ইচ্ছেটা পূরণ করতে পারছি না। এদিকে কোনো আওয়াজও আসছে না রুম থেকে। কিছুটা বিরক্ত হয়েই রেয়ানের আসার অপেক্ষা করতে লাগলাম আমি। অবশেষে অপেক্ষার পালা শেষ হয়ে রেয়ান নির্ঝরকে নিয়ে বের হলেন রুম থেকে। তাদেরকে দেখতেই ভ্রুঁ কুঁচকে এলো আমার। বুঝতে পারছি না নির্ঝর এমন ক্যাবলা মার্কা হাসি হাসছে কেন?

? একটু ভালোভাবে তাকাতেই দেখি নির্ঝরের গাল দু’টো লাল হয়ে আছে। তারমানে রেয়ান নির্ঝরের গালে থাপ্পড় মেরেছেন। কিন্তু কিভাবে? উনার এক হাতে তো গুলি লেগে ছিল। এর জন্য ওই হাতটা ওতো নাড়াতেও পারতেন না। তবে~ কি অন্য হাত দিয়ে নির্ঝরের গালে এমন মারাত্ত্বক থাপ্পড় মেরেছেন! বলতে হবে। রেয়ানের শক্তি আছে বটে। পুলিশ কি উনি এমনি এমনি হয়েছেন! কথাটা ভাবতেই আনমনেই বলে উঠলাম গুন্ডা একটা।

রেয়ান নির্ঝরকে ইশারা করতেই সে আসতে আসতে সেখান থেকে চলে গেল। যেন রেহাই পেয়েছে সে! এদিকে আমি রেয়ানের দিকে তাকাতেই স্তব্ধ। এতক্ষনে রেয়ানের সৌন্দর্য ধরা পরেছে আমার চোখে। হলুদ রঙ্গের পাঞ্জাবিতে মারাত্ত্বক লাগছে তাকে।

আগের মতোই বুকের প্রথম দু’টো বোতাম খোলা। সাথে তার নিজ্বস এটেটিউট। যা তার সৌন্দর্যকে আরও দ্বিগুণ বাড়িয়ে তুলেছে। উনি খুব গম্ভীর ভাবে আমার সামনে এসে দাঁড়ালেন। তারপর কিছু না বলেই এটেটিউট দেখিয়ে চলে গেলেন সেখান থেকে। অদ্ভুদ! আচ্ছা তার এমন করার কারন কি? আমাকে দেখে উনি এমন করছেন কেন? ব্যপারটা আসলেই অদ্ভুদ। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে এগুলো অদ্ভুদ না। চরম বিরক্তির একটা বিষয়। এ মানুষটাকে মাঝে মাঝে চিনতে খুব কষ্ট হয় আমার। কি চায় সে? তাকে বুঝবার ক্ষমতা হয়তো কারো নেই!

দিধার স্টেজের কাছে যেতেই দেখি মহাসয় একটা চেয়ারে বসে আছেন। তার পাশেই রিহান আর মা। গল্পেমশগুল তারা। আমি নামক একজন ব্যক্তি যে আছি সেটা হয়তো তারা ভুলেই গেছেন। যেন তাদের পরিবারের কোনো সদস্যই না আমি। একটু ডাকলোও না আমাকে। এবার রাগ লাগছে আমার। এমন কি করেছি আমি যে সবাই আমাকে এত ইগনোর করছে। আর রেয়ান। রেয়ান তো রিতিমতো আমাকে ভুলেই গেছেন। ইচ্ছে করছে উনার এসব এটেটিউট ডাস্টবিনে ফেলে দি। ইসস! যদি এমন করতে পারতাম। তাহলে আমার থেকে আনন্দ আর কেউ পেতো না।

হঠাৎ একটা মেয়ে এসে রেয়ানের পাশেই চেয়ার নিয়ে বসে পরে। সে কি গল্প তাদের। মেয়েটা যেন হাসতে হাসতে রেয়ানের গায়ে ঢলে পড়ছে। আহা কি মজা! রেয়ানেরও যেন এসব মজা লাগছে। কিন্তু আমি তো রাগে ফুসছি। ইচ্ছে করছে মেয়েটার মাথা ফাটিয়ে দি। অসভ্য মেয়ে। আর কোনো ছেলে পাসনি তুই? তাছাড়া দোষ রেয়ানেরও আছে। উনি কেন এত সুন্দর পার্সোনেলিটি নিয়ে এসেছেন হলুদের অনুষ্টানে। এত সুন্দর~ ই বা লাগছে কেন তাকে? একটু বাজে ভাবে আসতে পারলেন না।

তাহলেই তো মেয়েরা উনার দিকে তাকাতো না। ভাবতেই রাগ যেন আরও বেড়ে গেল। সবার সামনে গিয়ে রেয়ানের হাত ধরে দিলাম এক টান। সাথে সাথে উঠে দাঁড়ালেন উনি। মুখে তার চরম বিরক্তি। যেন আমার এমন কাজ তার একটুও ভালো লাগেনি। একটুও না! কিন্তু এতে আমার কি। আমি রেগে আছি। অনেক রেগে আছি! আজকে উনার একদিন কি আমার একদিন। টানতে টানতে উনাকে সবার থেকে দূরে একটা নির্জন স্থানে নিয়ে আসলাম। আমার ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে আছেন উনি। গম্ভীরভাব নিয়ে কিছু বলতে যাবেন তার আগেই আমি তার পাঞ্জাবির বোতাম লাগিয়ে দিলাম। গাল টেনে একেবারে লাল করে দিয়ে দু’হাত দিয়ে চুলগুলো এলোমেলো করে দিলাম।

সবশেষে উনার দিকে তাকাতেই আমি অবাক। এতকিছু করার পরও যেন তাকে আরও বেশি সুন্দর লাগছে। অদ্ভুদ! নিজের কাজে যেন এখন নিজেরই আফসোস হচ্ছে। আগেই মনে হয় ঠিক ছিলেন। এখন যে আগের থেকেও কিউট লাগছে তাকে। একদম নিষ্পাপ বাচ্চা। যেন পৃথিবীর কিচ্ছুটি বুঝে না সে। তার চেয়েও অদ্ভুদ বিষয় হলো উনি চুপ~ চাপ দাঁড়িয়ে আছেন। কিছু বলছেন না আমায়। তার দৃষ্টি বরাবর আমার চোখের দিকে। তার এমন শান্ত ভাব দেখে মনে হচ্ছে এখন কিছু হবে। খুবই ভয়ংকর কিছু।
ভাবতেই চলে আসতে নিলাম সেখান থেকে। সাথে সাথে রেয়ান আমার হাত টেনে দেওয়ালের সাথে ঘেষে দাঁড় করালেন। আমার দিকে একটু ঝুঁকে বাঁকা হেসে বললেন
~ জান তৈরি তো তুমি।

তার কথায় কাশতে লাগলাম আমি। আমতা আমতা করে বললাম
~ আআমাকে যযেতে দিন রেয়ান। সসবাই হয়তো আমার জন্য অপেক্ষা করছে।
~ হুম! যেতে দিবো তো। আগে রোমেঞ্চ তো করে নি। জানো তোমাকে না মারাত্ত্বক লাগছে আজ। তাই তো দূরে দূরে থাকছিলাম তোমার কাছ থেকে। যদি ভুল কিছু হয়ে যায়। বাট ইউ নো ওয়াট। এতকিছুর পরও তুমি নিজেই ধরা দিলে আমার কাছে। তাই!

~ তাই কিচ্ছু করবেন না আপনি। আমাকে যযেতে দিন প্লিজ।
~ অবশ্যই না। আমার এ অবস্থা করেছো তুমি। তোমাকেও তো কিছু করতে হবে তাই না?
~ কককি ককরবেন আপনি?
~ হলুদ লাগাবো
বলেই পাঞ্জাবির পকেট থেকে একটা প্যাকেট বের করলেন উনি। যেখানে আছে হলুদ! বুঝতে পারছি না রেয়ানের মতলব কি। হলুদ কি আমাদের যে উনি আমাকে হলুদ লাগাবেন। হলুদ যদি লাগানোর এতই ইচ্ছে থাকে তাহলে দিধাকেই না লাগাবেন। আমাকে কেন?

প্রশ্নটা বেশ ভাবে করতে ইচ্ছে করছে আমার তাকে। কিন্তু পারছি না করতে। উনি কাছে আসলেই কেন যেন গলা থেকে সর বের হয় না আমার। আচ্ছা এমন কেন হয়?
হঠাৎ নিজের কোমড়ে শীতল কিছু অনুভব করি। রেয়ান আমার কোমড়ে হলুদ লাগিয়েছেন। ভাবতেই জমে গেলাম আমি। মুহুর্তেই চোখ খিঁচে বন্ধ করে ফেলি। তা দেখে রেয়ান নেশা ভরা কণ্ঠে বলে উঠেন
~ চোখ খুলো মরুভূমি

তার কথা যেন আমার কানে পৌঁছাচ্ছে না। আপন মনে চোখ বন্ধ করে আছি আমি। এতে রেয়ান আবারও বললেন
~ ভয় নেই। বিয়ের আগে কিচ্ছু করব না তোমাকে। চোখ খুলতে পারো তুমি।
তার কথা শুনে সাহস হলো আমার। ধীরে ধীরে চোখ খুললাম আমি। সাথে সাথে রেয়ান আমার নাকের সাথে নিজের নাক ছোঁয়ালেন। শান্ত কণ্ঠে বললেন

~ ভালোবাসি
বলেই আর এক মুহুর্ত দাঁড়ালেন না উনি। চলে যান সেখান থেকে। এদিকে আমি তার যাওয়ার পানে তাকিয়ে আছি। মনে মনে একটা কথাই বলছি #সেকিজানে আমিও ভালোবাসি তাকে। হঠাৎ নাকে হাত দিতেই বুঝতে পারি তরল কিছু লেগে আছে সেখানে। হাত দিয়ে দেখতেই দেখি হলুদ!

পর্ব ২১

মনে ভর করেছে একরাশ স্তব্ধতা। আর কানে বাজছে রেয়ানের সেই ভালোবাসি কথাটা। সাথে রয়েছে আকাশ থেকে বৃষ্টির এক এক বিন্দুর নিচে পরার শব্দ। বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছি আমি। বারান্দা থেকে আজ এক অন্যরকম মনোরম দৃশ্য দেখতে পারছি আমি। অন্যরকম এক অনুভূতি! হলুদের অনুষ্টান শেষ হতে প্রায় অনেক দেড়ি হয়ে যায়। রেয়ান খুব কৌশলে আমাদের তাদের বাসায় থাকার জন্য বাধ্য করে ফেলেন। তাছাড়া রেয়ানের মা~ বাবা। দিধা অনেক করে বলছিলো আমায়। যেন থেকে যাই আজ রাত~ টা।

তাই আমিও আর মানা করি নি। কিন্তু কোথায় যেন একটা অস্বস্থি কিংবা বাঁধা রয়েই গেছে। তবুও ভালো লাগছে। বাইরের মৃদু মৃদু বাতাস প্রাণ~ টা জুড়িয়ে দিচ্ছে আমার। আপাতত এ পরিবেশটা উপভোগ করতে চাই আমি।

হঠাৎ গান গাওয়ার শব্দ আমার কানে এসে বারি খায়। পাশে তাকাতেই দেখি আমার ঠিক বাম পাশের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছেন রেয়ান। হাতে তার গিটার! উনার গানের গলা খুব অদ্ভুদ। পাশাপাশি সুন্দরও। আবছা আলোয় বুঝতে পারছি উনি আমার দিকে তাকিয়ে হাসছেন আর গান গাইছেন। এ যেন তার পক্ষ থেকে আমার জন্য এক টুকরো ভালোবাসা

গানটা শুনতে শুনতে এতটা গভীরে চলে গিয়েছিলাম যে রেয়ান কখন গান গাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন তা টেরই পাই নি। যখন বুঝতে পারি তখন পাশে তাকাতেই দেখি রেয়ান নেই। উনি তো এতক্ষন এখানেই ছিলেন। এখন কোথায় গেলেন? হয়তো রুমে চলে গিয়েছেন! কিন্তু আমার এখন রুমে যাওয়ার ইচ্ছে নেই। এই মনোরম পরিবেশে থাকতে বড্ড ইচ্ছে করছে আমার।

তাই কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে থাকলাম এখানে। পরক্ষনে কি ভেবে যেন রুমে ঢুকলাম। রুমে ঢুকার ৩~ ৪ সেকেন্ড পরই হালকা করে দরজা ধাক্কানোর শব্দ পাই আমি। রিহান ঘুমাচ্ছে এখন। আর মা অন্যরুমে। তাই ভেবেছিলাম হয়তো মা এসেছেন। কিন্তু দরজা খুলতেই আমি অবাক! রেয়ান দাঁড়িয়ে আছেন সামনে। তার হাতে ২মগ কফি কিংবা চা! আমাকে দেখেই উনি ফিসফিসিয়ে বলে উঠলেন
~ মরুভূমি! ভিতরে আসতে দিবে না আমাকে। আর কতক্ষন দাঁড়িয়ে থাকবো।
~ এত রাতে আপনি এখানে কি করছেন? জানেন ক’টা বাজে। ৪টা!
~ তো?
~ তো মানে কি? যান এখান থেকে।

~ আমি যে এত কষ্ট করে কফি বানালাম। ভেবেছিলাম দু’জনে বারান্দায় বসে কফি খাবো। আর বৃষ্টি উপভোগ করব। তাছাড়া রোমেঞ্চ তো আছেই। (চোখ টিপ মেরে)
~ যান তো এখান থেকে রেয়ান। ঘুমাবো আমি।
~ বলেই হলো নাকি?

কথাটা বলতে বলতেই উনি আমাকে উপেক্ষা করে ঢুকে গেলেন রুমে। রিহানের দিকে একবার তাকিয়ে ওর কাছে যান উনি। কফির মগ পাশে থাকা টেবিলে রেখে দু’টো চুমু দিলেন রিহানের কপালে। তারপর ফিসফিসিয়ে বলে উঠলেন

~ বাবার ছেলে না তুই। ঘুম থেকে উঠবিনা একদম! বাবা~ মার রোমেঞ্চের ১২টা বাজাইস না কেমন। যদি না উঠিস তাহলে বাবাই তোকে অনেক গুলো চকলেট দিবো।
তার কথা শুনে প্রায় সাথে সাথেই আমি বলে উঠলামঘুসখোর।

কিন্তু আমার কথায় বিন্দু মাত্র পাত্তা দিলেন না উনি। রিহানের কপালে আরও কয়েকটা চুমু এঁকে দিয়ে কফির মগ নিয়ে সোজা চলে গেলেন বারান্দায়। আমি এখনও ঠায় দাঁড়িয়ে আছি। এ মানুষটা কখনও আমার কথা শুনে না। এত জেদ কোথা থেকে আসে উনার?

আমার ভাবনার বিচ্ছেদ ঘটিয়ে রেয়ান আমার হাত টেনে নিয়ে যান বারান্দায়। পাশাপাশি দু’টো চেয়ারে বসে আছি আমরা। আমার হাতে কফি। কফির এক চুমুক খেতেই আমি অবাক।

এত ভালো কফি কি উনি বানিয়েছেন? বিশ্বাস তো হচ্ছে না আমার। একবার জিজ্ঞেস করলে কেমন হয়? না থাক! নাকি করেই ভেলব। ভেবেই পাশে তাকালাম আমি। রেয়ান একধ্যানে কফি খাচ্ছেন। তার দৃষ্টি সামনের দিকে। কিছুটা হালকা সরে তাকে জিজ্ঞেস করলাম
~ কফিটা কি আপনি বানিয়েছেন?
~ অবশ্যই। কেন ভালো হয় নি?

~ না দারুণ হয়েছে। কিন্তু আমার বিশ্বাস হচ্ছে না এটা আপনি বানিয়েছেন।
~ কেন? কেন? কেন বিশ্বাস হচ্ছে না।
~ না কিছু না। তা কি কি বানাতে পারেন আপনি।

~ আমাকে কি তোমার মতো ডামিস পেয়েছো। আমি অনেক কিছু বানাতে পারি। এই ধরো কফি আর নুডুলস।
~ এ্যাঁ। শুধু কফি আর নুডুলস বানাতে পারে তার আবার কত তেজ। আমাকে ডামিস বলেন। আপনি নিজে কি। পুরুষ ডামিস।
~ আর ইউ লস্টেড? পুরুষ ডামিস আবার কি?

~ কিছু না

বলেই ভেংচি কাটলাম আমি। তা দেখে হেসে দিলেন রেয়ান। তারপর দু’জনের মধ্যেই নিরবতা। শুধু রয়েছে না বলা কিছু কথার নিশ্বাসের শব্দ। প্রায় কিছুক্ষন এভাবে থাকার পর রেয়ান হঠাৎ~ ই বলে উঠেন
~ মিরা তুমি না আজকে মেহেদী লাগিয়ে ছিলে। তোমার হাতে আমার নাম আছে নিশ্চয়ই। দাও তো তোমার হাত। আমি আমার নাম খুঁজবো।

~ মানে?
~ মানে হাত~ টা দাও।
বলেই আমাকে আর দিতে দিলেন না। নিজেই আমার হাত টেনে নিজের কোলে রাখলেন। তারপর খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগলেন আমার হাত। যেন এটা বিজ্ঞানিদের একটা বিশেষ পর্যবেক্ষনের জিনিস। এভাবে কতক্ষন নিজের নাম খুঁজার পর উনি করুন গলায় বললেন
~ এ হাতে তো শুধু রিহানের নাম। আমার নাম তো খুঁজে পাচ্ছি না।

~ কারন আমার বাম হাতে রিহানের নাম লিখা আর ডান হাতে আপনার। আর এখন আপনি আমার বাম হাত ধরে আছেন।
~ ও এই ব্যপার। আচ্ছা দাও তোমার ডান হাত~ টা দাও।

বলেই ডান হাতটা এবার নিয়ে নিলেন উনি। আগের মতোই খুঁজছেন নিজের নাম। আর আমি! আমি হাই তুলছি বারবার। এসব দেখে আমার শুধু একটা কথাই মাথায় ঘুরছে। আমি এখন ঘুমাবো। ১০মিনিটের জন্য হলেও ঘুমাবো!

রাত এভাবেই শেষ হয়ে যায় আমাদের। আমার হাতে নিজের নাম খুঁজে পেয়েছিলেন রেয়ান। তার মুখ তখন উজ্জ্বল লাল বর্ণ ধারণ করে ছিল। ছেলেরাও কি লজ্জা পায়। নাকি এটা তার বেশি খুশি হওয়ার নমুনা! ভোরে বেশ আড্ডা করি আমরা দু’জন। কিন্তু আফসোস! আমার ঘুমানোটা হলো না।

সকাল হতেই সবাই লেগে যাই বিভিন্ন কাজে। সবার থেকে বেশি কাজ করছিলেন রেয়ান। কিন্তু এই ব্যস্ততার মাঝেও আমার খেয়াল রাখতেন তিনি। কতক্ষন পরপরই এসে আমাকে আর রিহানকে জ্যুস খাইয়ে দিয়ে যান। দুপুরে খাবারের সময় ভাত। আর এমনিও টুকিটাকি খাবার খাইয়ে দেন।

আবার এমনিও আসেন। আমরা কি করি তা দেখার জন্য। এর মধ্যে মারও খেয়াল রেখেছেন উনি। মার কখন কি প্রয়োজন সব এনে দিয়েছেন রেয়ান। সবশেষে অনুষ্টানের সব কাজ শেষ হয় আমাদের। বিকাল তখন ৫টা। রেডি হতে চলে যাই সবাই। আমি রুমে যাওয়ার সময় রেয়ান সামনে এসে দাঁড়ান আমার। হাতে একটা প্যাকেট ধরিয়ে বলেন
~ তুমি তো এমনিতেই পেত্নী। আরও পেত্নী সেজে আসিও কেমন?

বলেই দৌঁড় দিলেন উনি। যেন কত ভয় পান আমাকে! আমি তার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছি। মুখ থেকে শুধু এতটুকুই বলিঅসভ্য। রুমে এসে প্যাকেট খুলতেই দেখি একটা লাল রঙের শাড়ি। শাড়ি~ টাতে কাজ নেই তেমন। কিন্তু তাও কেন যেন চোখে ধরার মতো। রেয়ানের চয়েস আছে বটে! ভেবেই মুচকি হাসলাম আমি।

রাত ৮টার দিকে সবাই কমিউনিটি সেন্টারে পৌঁছালাম। আমি। মা আর দিধা একগাড়িতে। রেয়ান আর রিহান বাইকে। আর অন্য সবাই অন্যান্য গাড়িতে। এতটুকু সময়ে একবারও রেয়ানকে দেখলাম না আমি। ভেবেছিলাম কমিউনিটি সেন্টারে গিয়ে দেখা করব উনার সাথে। কিন্তু হলুদের মতো আজকেও গায়েব উনি। বুঝতে পারছি না এভাবে পালিয়ে পালিয়ে বেড়ান কেন উনি! তার এসব আমার প্রচুর বিরক্তি লাগে। প্রচুর!

অনুষ্ঠান প্রায় শেষের দিকে। এখন কাজী দিধার আর তুরানের বিয়ে পড়াবেন। কিন্তু এখনও রেয়ানের খবর নেই। আসলে তিনি গেলেন কোথায়। এখন যে চিন্তা হচ্ছে আমার। দেখতে দেখতে বিয়ে পড়ানোও শেষ হয়ে যায়। এখন কান্না আসছে আমার। উনার কি আমাকে মনে পড়ে না। এতো সুন্দর করে উনার জন্য সাজলাম। অথচ উনিই নেই!

হঠাৎ কে যেন এসে আমার হাত শক্ত করে ধরে। পাশে তাকাতেই দেখি রেয়ান। উনি আমার দিকে বাঁকা হেসে বললেন
~ রেডি তো মরুভূমি

বলেই আমাকে টেনে দিধার পাশে বসালেন। আমার পাশে উনি বসতে বসতে কাজী সাহেবকে বললেন
~ বিয়ে পড়ানো শুরু করা যাক তাহলে!

পর্ব ২২

বাসর ঘরে বসে আছি আমি। চিন্তায় আমার মাথা~ ফেটে যাচ্ছে। কি থেকে কি হয়ে গেছে বুঝতে বেশ অবাক লাগছে আমার। এমন কিছু হবে হয়তো সেটা কল্পনাও করিনি আমি। তাছাড়া রিহান! সে এসবের কি বুঝেছে তা আমি জানি না। কিন্তু যখন আমাদের বিয়ে হচ্ছিলো। তখন তার মুখে খুশির ছাপ স্পষ্ট। আর কি লাগে আমার। নিজের থেকেও আমাকে ভালোবাসার মানুষ আছে। রিহানও ভালোবাসে রেয়ানকে। তাহলে! হঠাৎ দরজা খোলার শব্দ পাই আমি। ঘোমটার আড়ালে দেখতে পারছি রেয়ান আমার দিকে আসছে। তার মুখে যেন বিজয়ের হাসি। আমার সামনে এসে গম্ভীর কণ্ঠে বললেন
~ সালাম করবে না আমায়?

তার কথায় কিছুটা লজ্জা পেলাম আমি। পরক্ষণে উঠে দাঁড়ালাম। তাকে সালাম করতেই সে আমার মাথায় হাত দিয়ে বলে উঠেন
~ সদা সুখী হও তুমি। তোমার বরকে যেন অনেক ভালোবাসা দাও। তোমার যেন বাচ্চাদের ফুটবল~ টিপ হোক। তুমি আর তোমার বর দীর্ঘ জীবি হোক।

কথাটা শুনতেই সোজা হয়ে দাঁড়ালাম আমি। তার দিকে ভ্রুঁ কুঁচকে তাকিয়ে আছি। কিন্তু তাতে তার বিন্দু মাত্র খেয়াল নেই। ধপ করে বিছানায় শুয়ে পড়েন উনি। ক্লান্ত কণ্ঠে আমায় বলেন
~ মতুভূমি আমার না খুব ঘুম পাচ্ছে। তুমি এক কাজ করো ফ্রেস হয়ে আসো। তারপর দু’জনে মিলে ঘুমাবো।

বলতে বলতেই হামি দিতে লাগলেন উনি। যেন কত বছর ঘুমান না! তার এসব দেখে আমি বিরক্ত! চরম বিরক্ত! ভেবেছিলাম দু’জনে মিলে সারা~ রাত গল্প করব। কিন্তু এখন কি হলো। ঘুমাবো আমরা। আজব!
নিজের গহনাগুলো খুলছি আমি। আর রেয়ান! উনু আরাম করে ঘুমাচ্ছেন। এত ঘুম কোথা থেকে আসে তার? ভাবতেই অবাক লাগছে আমার। নাকি অন্য কিছু করতে চাচ্ছেন উনি। ভাবতে ভাবতেই ওয়াশরুমে চলে গেলাম আমি।

খুব ক্লান্ত লাগছিল আমার। তাই এঁকেবারে গোসল করেই বের হলাম ওয়াশরুম থেকে। বের হতেই হঠাৎ কেউ একটানে কোলে নিয়ে নিলো আমায়। হুট করে এমন করায় কিছুটা ভয় পেয়ে গেলাম আমি। রাগি চাহনি নিয়ে কোলে নেওয়া ব্যক্তির দিকে তাকাতেই সে মুচকি হেসে বলে উঠলেন
~ চলো জ্যোছনা বিলাস করব।

কথাটা বলে প্রায় সাথে সাথেই উনি আমাকে কোলে নিয়ে হাঁটা ধরলেন। তার কথায় বুঝতে পারছি উনি হয়তো ছাদে যাবেন!

ছাদে যেতেই আমি অবাক! চারপাশটা বেলুন আর মোববাতি দিয়ে সাজানো। আকাশে ফানুশ উড়ছে অসংখ্য। হয়তো আজকে বৌদ্ধ পূর্ণিমা! অবাক নয়নে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছি চারপাশটা। রেয়ান এখনও আমাকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। দোলনার কাছে গিয়ে বসে পড়েন উনি। আমি তার কোলে বসা!
~ আমার বুকে মাথা রাখবে মিরা।

কথাটা বেশ করুন গলায় বললেন উনি। তার দিকে তাকাতেই দেখি সে আমার দিকেই তাকিয়ে আছেন। তার চোখে যেন কিছু পাওয়ার তৃষ্ণা দেখতে পারছি আমি। মুচকি হেসে উনার বুকে মাথা রেখে বললাম
~ হঠাৎ এভাবে বিয়ে করলেন কেন? অন্যভাবেও তো করা যেত।

~ সত্যি বলতে কি। দিধার বিয়ে দেখে আমারও বিয়ে করতে ইচ্ছে করছিলো। তাছাড়া সেই মুহুর্তে আমার প্রেম প্রেম পাচ্ছিলো। মানেইউ নো ওয়াট আই মিন!

কথাটা বেশ দুষ্টোমি সরে বললেন রেয়ান। তার দিকে তাকাতেই সে চোখ টিপ মারলেন আমায়। তা দেখে চোখ ছোট ছোট করে তাকাতেই টুপ করে চুমু দিয়ে দিলেন গালে। এবার বেশ লজ্জা লাগছে আমার। লজ্জায় তার বুকের সাথে একদম মিশে গেছি আমি। প্রায় সাথে সাথেই সে আমায় তার দু’হাত দিয়ে আবদ্ধ করে ফেলেন!

সকালে ঘুম ভাঙ্গতেই নিজেকে বিছানায় অবিষ্কার করি। ঘুমু ঘুমু চোখে পাশে তাকাতেই দেখি রেয়ান নেই। ধড়ফুড়িয়ে উঠে বসলাম আমি। সামনে তাকাতেই দেখি রেয়ান দাঁড়িয়ে আছেন। রেডি হচ্ছেন উনি। তাহলে কি কোথাও যাচ্ছেন? কিন্তু কোথায়? ভাবতেই ভ্রুঁ কুঁচকে এলো আমার। রেয়ানের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম আমি। মুখে আমার একরাশ কালো মেঘ এসে জড়ো হয়েছে। আমাকে এভাবে থাকতে দেখে টাই ঠিক করতে করতে উনি আমায় বললেন
~ কি হয়েছে?

প্রতিউত্তরে আমি খুবই গম্ভীর কণ্ঠে বললাম
~ কোথায় যাচ্ছেন আপনি?

উনি মুচকি হেসে আমার কোমড় জড়িয়ে একদম কাছে নিয়ে গেলেন তার। দু’গালে দু’টা চুমু দিয়ে বললেন
~ সরি বৌ! কাজে যেতে হচ্ছে আমার। ইমার্জেন্সি! না গেলে সমস্যা হবে। আই সোয়ের তাড়াতাড়ি চলে আসবো।
কথাটা বলেই কপালে চুমু দিলেন উনি। কিন্তু এবার আর আমার ভালো লাগছে না। ভেবেছিলাম আমি। রিহান আর রেয়ান মিলে কোথাও ঘুরতে যাবো। কিন্তু তা তো আর হলো না!

বিকাল ৫টা বেজে ১০ মিনিট। নুডুলস বানাচ্ছি আমি। পাশে আমার শ্বাশুড়ি মা দাঁড়িয়ে আছেন। আসলে উনাকে শ্বাশুড়ি মা বলব নাকি আসল মা! ঠিক বুঝে উঠা দায় হয়ে যাচ্ছে আমার। এত ভালোবাসা কি কোনো শ্বাশুড়ি তার ছেলের বউকে দেয়। হয়তো! নাহলে উনি কিভাবে আমাকে এত ভালোবাসেন। উনার সাথে তো আমার মাত্র ৩ কি ৪দিন দেখা হয়েছে।
হঠাৎ কলিংবেল বেজে উঠে। সাথে সাথে মা [রেয়ানের মা] চলে যান দরজা খুলতে। এদিকে আমি নুডুলসের জন্য কিছু সবজি কাটছি। প্রায় অনেক্ষন হয়ে যায় মা আসছেন না। হয়তো নিজের রুমে চলে গেছেন উনি। আমি আনমনেই রান্না করে যাচ্ছি। হঠাৎ কোমড়ে কারো শীতল হাতের ছোঁয়া অনুভব করি। সাথে সাথে কেঁপে উঠলাম আমি। পেছনে ফিরতে চাইলে সে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আমায়। গলায় মুখ ডুবিয়ে ফিসফিস করে বলেন
~ আই রেলি রেলি মিস ইউ বৌ। চুমু খেতে ইচ্ছে করছে খুব।

পর্ব ২৩

রেয়ানের কোলে বসে আছি আমি। হাতে আমার গিটার। উদ্দেশ্য গিটার শিখবো। আর আমাকে শিখাবেন রেয়ান! আমার হাতের উপর হাত রেখে গিটারের এক এক স্টেপ শিখাচ্ছেন উনি। কিন্তু আফসোস! এ আধাঘন্টায় আমি একটা কিছুও বুঝি নি। তবে চোখ বন্ধ করে অনুভব করছি তার স্পর্শ। আর শুনছি গিটারের মন জুড়ানো আওয়াজ!

~ মরুভূমি এভাবে চোখ বন্ধ করে থাকলে হবে? দেখো এ সুর~ টা সুন্দর আর সহজও। তুমি শিখতে পারবে।
~ কষ্ট লাগে। আপনি একটা কাজ করুন আমাকে গান শুনান।
~ অবশ্যই না। আগে গিটার চালানো শিখো তারপর।

~ না প্লিজ!
প্রতিউত্তরে রেয়ান কিছু বলতে যাবেন তার আগেই দরজা ধাক্কানোর শব্দ কানে এসে বারি খায় আমাদের। চটজলদি উঠে দাঁড়ালাম আমি। দরজার কাছে গিয়ে দরজা খুলতেই দেখি মা আর রিহান দাঁড়িয়ে আছে। আমাকে দেখতেই রিহান করুন গলায় বলে উঠে
~ মা আমি তোমার আর বাবার সাথে ঘুমাবো।

রিহানের কথায় রেয়ান হেসে দিয়ে বলে উঠেন
~ অবশ্যই আসো। আমরা দু’জন মিলে তোমার মাকে অনেক জ্বালাবো। তাড়াতাড়ি আসো।
কথাটা শুনে রিহানের মুখে হাসি ফুটে উঠে। এক দৌঁড়ে সে চলে যায় রেয়ানের কাছে বিছানায়। এটা দেখে এবার আমি মুচকি হাসলাম। মাকে বিদায় জানিয়ে চলে গেলাম তাদের কাছে।

মাঝরাতের দিকে হঠাৎ অনুভব করি আমাকে কেউ শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আমার ঘাড়ে মুখ লুকিয়ে আছে। তার প্রত্যেকটা নিশ্বাস আমার ঘাড়ে পরছে। পুরো জমে যাচ্ছি আমি! তার দিকে ফিরতে নিলে সে ফিসফিস করে বলে উঠে
~ উহু! নড়বে না। এভাবে ভালো লাগছে।

~ কিন্তু!
আর কিছু বলতে যাবো তার আগেই রেয়ান আমার গলায় আর ঘাড়ে দু~ তিনিটে চুমু দিয়ে দিলেন। ঘুম জড়ানো কণ্ঠে বলে উঠলেন
~ ভালোবাসি বউ!
~ আমিও ভালোবাসি আমার হিটলার বরকে। ৷

বলেই মিটিমিটি হাসছি আমি। আমার হাসি দেখে নিমিষেই রেয়ানের ভ্রুঁ কুঁচকে এলো। পরক্ষনেই নিজের মুখ আমার কাছে এনে আলতো করে ঠোঁটে ঠোঁট ছোঁয়ালেন উনি। সাথে সাথে আমার চোখ দু’টো বড় বড় হয়ে গেল। সে দিকে পাত্তা না দিয়ে উনি দুষ্টোমি কণ্ঠে বলে উঠলেন
~ বাসর করবে মরুভূমি। কালকে! আমার না খুব প্রেম প্রেম পাচ্ছে।

কথাটা শুনে আমার লজ্জা যেন আরও দ্বীগুণ বেড়ে গেলো। কিন্তু তবুও নিজের রাগি কণ্ঠে তাকে বললাম
~ অসভ্য! চরম অসভ্য আপনি। মুখে কিছু আটকায় না আপনার। লির্লজ্জ কোথাকার।

বলেই রিহানের দিকে মুখ করে শুয়ে পড়লাম আমি। আমাকে এমন করতে দেখে রেয়ান হাসতে হাসতে বিছানায় গড়াগড়ি খাওয়ার অবস্থা। পরক্ষনে আবার আমাকে জড়িয়ে ধরলেন উনি। গলায় মুখ ডুবিয়ে ফিসফিস করে বলে উঠলেন

~ #সেকিজানে কতটা ভালোবাসি তাকে। আত্মহত্যা বা কোনো খারাপ কাজ করব না তার জন্য। কিন্তু এমন কিছু করব যা এগুলোকেও হার মানাবে। তবে সে যদি কখনও ছেঁড়ে চলে যায় আমাকে। বিশ্বাস করো আটকাবো না তাকে। তবে তাকে বলে দিও। তাকে ছাঁড়া আমি এক নিস্তেজ প্রাণ হয়ে থাকবো!

কথাটুকু বলেই আরেকটু আগলে নিলেন আমাকে। আর আমি! আমি মনে মনে হাসছি। এত ভালোও কি বাসা যায় কাউকে? প্রশ্নের উত্তরটা হয়তো রেয়ানই তার আচরণ দিয়ে বুঝিয়ে দেয় আমায় বারবার! নাহলে প্রশ্নটা এত জ্বালায় কেন আমায়। ঘুর~ পাকই বা করে কেন আমার মাথায়!

সকালের দিকে দু’গালে টান অনুভব করতেই ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও চোখ খুললাম আমি। চোখ খুলে অবাক না হয়ে পারলাম না। আমার একপাশের গাল রেয়ান তার এক হাত দিয়ে টানছে তো অন্যপাশের গাল টানছে রিহান। আমাকে দেখে দু’জনেই মিষ্টি হেসে বলে উঠে
~ ভার্সিটি যাবে না!

তাদের কথায় পার্থক্য শুধু এতটুকুইশেষের দিকে রেয়ান বৌ বলেছে তো রিহান মা! তাদেরকে একসাথে দেখে মনটা ভরে গেছে আমার। কিন্তু ভার্সিটির কথা শুনতেই ভ্রুঁ কুঁচকে এলো আমার। রেয়ানের দিকে তাকিয়ে চোখ ছোট ছোট করে বললাম

~ ভার্সিটি কেন যাবো। আমার তো নতুন নতুন বিয়ে হয়েছে। এখন কিসের ভার্সিটি?
~ বিয়ে হয়েছে তো কি হয়েছে? পড়ালেখার কোনো ফাঁকি নেই। যাও উঠে ফ্রেস হয়ে নাও।
কথাটা শুনে উনার দিকে অসহায় ভাবে তাকালাম। কিন্তু তার কোনো পরিবর্তন হলো না। উনি উনার সিদ্ধান্তে অটুট। তাই বাধ্য হয়ে চলে গেলাম ওয়াশরুমে।

ওয়াশরুম থেকে বের হতেই দেখি বাপ~ ছেলে বিছানায় বসে ফোন নিয়ে মহাব্যস্ত হয়ে আছে। একজন ব্যস্ত ফোনে গেমস্ খেলছে তো অন্য জন তা মহাব্যস্ত নিয়ে দেখছে। মূলত রেয়ান খেলছে আর রিহান তা দেখছে। আর তাদের এই মহাব্যস্ততার কারন হলো পাপজি গেম! ভাবতেই একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললাম আমি। পরক্ষনে চলে গেলাম নিচে নাস্তা বানাতে।

নিচে যেতেই শ্বাশুড়ি মার সাথে দেখা হয় আমার। উনি আমাকে দেখতেই মিষ্টি করে হেসে বলে উঠলেন
~ রিহান আর রেয়ান উঠেছে মিরা?
~ জ্বী মা।
~ ও আচ্ছা। তাহলে চলো দু’জনে গল্প করতে করতে নাস্তা বানিয়ে ফেলি।

প্রতিউত্তিরে হাসলাম আমি। তারপর দু’জনে মিলে নাস্তা বানানো শুরু করে দিলাম। গল্পে এতই মশগুল ছিলাম আমরা যে কখন নাস্তা বানানো শেষ হয়ে গেছে তা টেরই পাইনি। প্লেটে নাস্তা বেড়ে পা বাড়ালাম রুমের দিকে। যাওয়ার আগে মা আমাকে ডেকে মিষ্টি সরে বলে উঠলেন
~ মিরা! বিকালের দিকে দিধা আসবে। তাই তুমি একটু চেষ্টা করো ভার্সিটি থেকে তাড়াতাড়ি আসতে। কেমন?
মার কথায় শুধু আচ্ছা বললাম আমি।

আসলে বুঝতে পারছি না উনি এত ভালো কেন! বারবার কেন যেন মনে হয় এত ভালোবাসার যোগ্য তো আমি? হয়তো আবার হয়তো না! তবে এতটুকু বুঝতে পারছি উনারা এত ভালো দেখেই রেয়ান এতটা ভালো। ইচ্ছে করছে শ্বাশুড়ি মাকে জড়িয়ে ধরে বলি
~ ধন্যবাদ আপনাকে মা। নিজের অজান্তেই আপনার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ~ টা আমাকে দেওয়ার জন্য। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে!

কিন্তু আফসোস! আপাতত এমন~ টা বলতে পারছি না আমি। শুধু নির্বাক তাদের ভালোবাসার এক এক~ টা রুপ দেখছি!

রুমে যেতেই চরম বিরক্ত হই আমি। রেয়ান আর রিহান এখনও গেমস্ খেলছেন। তাদের কাছে গিয়ে নাস্তার প্লেট পাশের টেবিলে রেখে বলে উঠলাম
~ গেমস্ খেলা বাদ দিয়ে এখন কি একটু নাস্তা খেতে পারবেন আপনারা।
সাথে সাথে তারা জবাব দিতে প্রস্তুত। ব্যস্ত ভঙ্গিতে দু’জন একসাথে বলে উঠেন
~ আহ! খাইয়ে দাও আমাদের।

তাদের কথাশুনে এবার রাগ লাগছে আমার। তবে তা প্রকাশ করলাম না। খাইয়ে দিতে লাগলাম ওদের। আসলে রাগ করে লাভ কি? ওরা তো আমারই। একজনের অস্তিত্ত্ব আমি তো অন্যজন আমারই অংশ!

পর্ব ২৪

আমাদের দু’পাশে বিরাজ করেছে দুইসারি গাছ~ পালা। বামপাশে এক বিরাট নদী। আর মাঝখানে রাস্তা। ভার্সিটির পাশেই এ জায়গাটা। আমি। রেয়ান আর রিহান হাঁটছি সেই রাস্তায়। রিহান রেয়ানের কাঁধে বসে তার গলা জড়িয়ে আছে। আর রেয়ান! সে তার এক হাত দিয়ে রিহানকে আগলে রেখেছেন তো অন্য হাত দিয়ে আমার এক হাত শক্ত করে ধরে আছেন। প্রায় অনেকটা পথই হাঁটছি আমরা। ভালোই লাগছে। অন্য এক অনুভূতি গ্রাস করছে আমায়। যখন রেয়ান হাঁটতে হাঁটতে আমার দিকে অপলকভাবে তাকিয়ে থাকেন। তখন যেন লজ্জার সাথে সাথে এ অনুভূতিটাও প্রবল হয়। থাকি না কিছুক্ষন এখানে। পরে না হয় চলে যাবো নিজেদের গন্তব্যে!

বাসায় আসতেই দিধার সাথে দেখা হয় আমাদের। তুরান আর নির্ঝরও আছে এখানে। এই এতক্ষনে একবারও আমার দিকে তাকায় নি নির্ঝর। মাথা নিচু করে চুপচাপ বসে আছে সে। একটা টু শব্দও করে নি সে। হয়তো রেয়ানের থাপ্পড় বেশভাবে মনে গেথে গেছে তার। তবে ভালোই হলো!

এদিকে দিধা আর তুরানের সাথে আড্ডা দেওয়া শুরু করে দিয়েছেন রেয়ান। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলছে তারা। হঠাৎ দিধা আমাকে বলে উঠে
~ তা ভাবী! কোথায় গিয়েছিলে তোমরা?

~ এই তো ভার্সিটিতে। তোমরা কখন এলে?
~ একটু আগেই।

~ ও! কতদিন থাকবে?
~ ৩দিন!
~ ভালোই হয়েছে গল্প করতে পারবো তোমার সাথে।
বলেই মুচকি হাসলাম আমি।

সাথে দিধাও। তা দেখে রেয়ান সবার আড়ালে আমার পেটে চিমটি কেটে কানে ফিসফিসি করে বলে উঠলেন
~ সবার সাথে কথা বলার সময় এত হাসো। কই! আমার সাথে তো হাসো না। হাসলেও খুব কম। কেন বলতো?
~ কারন আপনি এক নাম্বারের অসভ্য। কথা বলতে গেলেই অসভ্যতামি শুরু করে দেন।
~ তাই? ওকে দেন। এখানেই শুরু করছি তোমার অসভ্য বরের অসভ্যতামি।
বলেই বাঁকা হাসলেন উনি। আর আমি! চোখ রাঙ্গিয়ে তাকিয়ে আছি তার দিকে। যার অর্থ সবার সামনে বাজে কোনো কথা বলবেন তো চুল টেনে দেবো আপনার। নির্লজ্জ কোথাকার!

কিন্তু আমার চোখ রাঙ্গানির অর্থ উনি বুঝেও না বুঝার ভান করে আছেন। আমার কানে আবার ফিসফিসি করে বলে উঠলেন
~ জানো তোমাকে শাড়ি পড়লে অনেক হট লাগে। একদম স্পাইসি! ইচ্ছে করে খেয়ে ফেলতে। একদম
আর কিছু বলার আগেই উঠে দাঁড়ালাম আমি। তার এসব বাজে কথা শুনার কোনো ইচ্ছে নেই আমার। রেয়ানের দিকে একবার তাকিয়ে দিধার দিকে তাকালাম আমি। মিষ্টি হেসে বললাম
~ আমি আসছি নাস্তা নিয়ে। তোমরা বসে বসে গল্প করো।

কেমন!
আমার কথা শুনতেই দিধা বলে উঠে
~ ভাবী আমিও আসি।

বলেই আমার সাথে রান্না ঘরে আসতে লাগলো দিধা। আমরা যেতেই তুরান রেয়ানকে একটা মুচকি হাসি দিয়ে বলল
~ অনেক ভালোবাসেন আপনি মিরা ভাবীকে তাই না?
বিনিময়ে হাসলেন রেয়ান। তারপর তুরানকে বললেন
~ তা কেমন চলছে সংসার জীবন?

~ ভালোই। আপনার?
~ সবসময়ের মতো অসম্ভব ভালো।

কথাটা বলেই নির্ঝরের দিকে তাকালেন রেয়ান। কিছুটা খোঁচা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে গম্ভীর কণ্ঠে বললেন
~ তা কি অবস্থা নির্ঝর। কোনো ভালোবাসার মানুষ আছে কি তোমার?

না চাইতেও হাসলো নির্ঝর। তারপর আগের নেয় মাথা নিচু করে বসে রইলো। এটা যেন আরও বেশি আনন্দ দিচ্ছে রেয়ানকে। তবুও একটা ফাঁকা যেন রয়েই গেছে। সে ভালো করে শাস্তি দিতে পারে নি নির্ঝরকে। তার মতে নির্ঝরে হাত~ পা ভেঙ্গে ১মাস অন্তত হাসপাতালে ভর্তি করাতে পারলে ভালো হতো। ভাবতেই তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে নির্ঝরের দিকে একবার তাকালেন রেয়ান।

রাত প্রায় ১০টা। দিধার রুমে আমি। দিধা আর তুরান বসে বসে গল্প করছি। হঠাৎ ফোনে টুং করে রিংটন বেজে উঠে। পরপর ৩~ ৪বার টুংটাং শব্দ হতেই ফোন ওন করলাম আমি। রেয়ান মেসেজ দিয়েছেন। যাতে লিখা
~ আর কতক্ষন অপেক্ষা করাবে জান। এবার তো রিহানও ঘুমিয়ে গেছে। এখন তো আসো।
~ বউ গো আমার আসো না। এত গল্প করার কি আছে।

~ মরুভূমি! জানো কয়টা বাজে। ১০টা! তাড়াতাড়ি আসো। ঘুমাতে হবে তো। তাছাড়া এত রাতে ওদের রুমে কি করছ। তোমার বর যে তোমার অপেক্ষা করছে।

মেসেজগুলো পড়তেই হাসি চলে এলো আমার। তবে তা বের হতে দিলাম না। নিজের মধ্যেই আটকিয়ে রাখলাম। ফোনটা রাখতে যাবো তখনই আবার রেয়ানের মেসেজ! এবারের মেসেজ দেখে মনে হচ্ছে উনি রেগে আছেন
~ এই মেয়ে সমস্যা কি তোমার। বরকে একা রেখে গল্প করতে লজ্জা করে না। ফাজিল মেয়ে কোথাকার। তাড়াতাড়ি রুমে আসো। নাহলে আমি এসে যাবো ওখানে।

তার এই মেসেজটা পড়তেই নিমিষেই ভ্রুঁ কুঁচকে এলো আমার। তাকে কি আমি মানা করেছি এখানে আসতে। সেও তো এসে আমাদের সাথে গল্প করতে পারেন। তাছাড়া আমি কোন দিক দিয়ে ফাজলামি করলাম। যাবো না আমি তার কাছে। কি করেন উনি আমি শুধু দেখবো।

ভাবতে না ভাবতেই রেয়ান রুমে হাজির। কাউকে কোনো কিছু না বলেই হুট করে কোলে তুলে নিলেন আমায়। সাথে সাথে চোখ বড় বড় হয়ে গেল আমার। উনি যে নির্লজ্জ। তার জলজেন্ত প্রমাণ রেয়ানের এসব কর্মকান্ড। তুরান আর দিধার সামনে এভাবে কোলে নেওয়ার মানে কি। কি না কি ভাবছে এখন ওরা। এদিকে তার যেন এসবে কোনো মাথা ব্যথাই নেই। সামনে তাকিয়ে থেকেই গম্ভীর কণ্ঠে আমায় বলে উঠেন
~ চোখ ঠিক করো নাহলে খুলে পড়ে যাবে।

তার কথায় যেন রাগ হলো আমার। একহাত দিয়ে খুব জোড়ে টান দিলাম তার চুল। এতে যেন সে আরাম পেয়েছে। বাঁকা হেসে আমাকে মিষ্টি করে বললেন
~ আহা মরুভূমি! চুল টানলে যে কি আরাম তা তোমাকে বুঝাতে পারবো না। রুমে গিয়েই তোমাকে দিয়ে চুল টানাবো আমি। ইউ নো! তোমার হাতে জাদু আছে।

~ কঁচু।

~ কঁচু তো কঁচু খেতে। না। না। তোমার মাথায়ও তো কঁচু আছে।
প্রতিউত্তরে ভেঙ্গচি দিলাম আমি। তা দেখে রেয়ান হেসে দিয়ে বলে উঠলেন
~ জানো মরুভূমি! তুমি যখন ভেঙ্গচি দাও তোমাকে অনেক কিউট লাগে।

একদম পেত্নীর মতো!
কথাটা বলেই বিছানায় বসিয়ে দিলেন আমায়। তারপর দরজা লাগিয়ে আয়েশ করে আমার কোলে মাথা রেখে পেটে মুখ গুজালেন উনি। আয়েশি কণ্ঠে বললেন
~ মাই ডিয়ার মিসেস! তাহলে চুল টেনে দাও আমার। খুব ঘুম পাচ্ছে।

বলেই হামি দিতে লাগলেন উনি। আর আমি! তার দিকে চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে আছি। তা দেখে উনি এবার মুচকি হেসে বললেন
~ জানো মরুভূমি। তোমার শরীরে এক মারাত্তক ঘ্রাণ আছে।

যা।
আর কিছু বলার আগেই মুখ চেপে ধরলাম উনার। এ অসভ্যটা কখনও ঠিক হবে না। নির্লজ্জ। বেহায়া একটা! কথাগুলো বিড়বিড় করতে করতেই রেয়ানের চুল সহযত্নে টেনে দিতে লাগলাম। আর সে! আমার পেটে মুখ লুকিয়ে চোখ বন্ধ করে আছেন। হালকা কণ্ঠে আমাকে বলেন
~ এভাবে তোমার কাছে থাকলে কেন যেন স্বর্গিয় সুখ পাই আমি। সবসময় সাথে থেকো আমার। আমি চাই এ সুখটা আমার সাথে সবসময় থাকুক!

সকাকে ঘুম থেকে উঠতেই দেখি রেয়ান আর রিহান মিলে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে আমায়। তা দেখে মুখে আপনা~ আপনিই হাসির রেখা ফুটে উঠলো আমার। দুইজনকে নিজের কাছ থেকে ছাঁড়িয়ে ওদের কপালে চুমু দিলাম আমি। তাড়াতাড়ি ফ্রেস হতে চলে গেলাম। কালকে তো রেয়ানের জন্মদিন। অনেক কাজ আছে আমার!

পর্ব ২৫

আজ সারাদিন রেয়ানের সাথে একফোটাও কথা বলিনি নি আমি। এমনকি দেখাও করি নি। ভাবছি একেবারে রাত ১২টার সময় দেখা দিবো তার সামনে। কিন্তু রেয়ান তো আমাকে দেখার জন্য অকুল হয়ে আছেন। বেচারা রান্না ঘরে। দিধার রুমে। মার রুমে ৩~ ৪বার উঁকিঝুঁকিও দিয়েছেন। এক নজর যেন আমাকে দেখতে পারেন সেই আশায়। রিহানকে দিয়েও আমাকে অনেক বার ডাকিয়েছেন। কিন্তু বরাবরই উনি নিরাশ হোন। এদিকে ডিউটির টাইম হয়ে যাওয়ায় এক প্রকার হতাশ হয়েই রেয়ান চলে যান পুলিশস্টেসনে। আর আমি! আমি লেগে যাই রেয়ানের জন্মদিনের সারপ্রাইজ প্লেন করতে। আমি। দিধা। তুরান। মা। রেয়ানের বাবা~ মা আর রিহান। সবাই মিলে রেয়ানের জন্য সারপ্রাইজ প্লেন করছি।

রেয়ান তার ডিউটি শেষ করে বাসায় আসেন প্রায় রাত ১০টার দিকে। এবারও রুমে পায়চারি করছেন উনি। আমি আসছি না কেন সে জন্যে! দিধা রেয়ানের জন্য খাবার দিতে উনার রুমে যেতেই উনি কিছুটা অস্থির হয়ে বলে উঠেন
~ দিধা! তোর ভাবী কোই? আজকে সকাল থেকেই আমার সামনে আসে না। কিছু কি হয়েছে? ও কি রাগ করেছে আমার সাথে? আমি কি কোনো ভুল করে ফেলেছি?

~ ভাইয়া থামো! ভাবীর কিচ্ছু হয় নি আর তুমিও কিচ্ছু করোনি।
~ তাহলে তোর ভাবী আমার সামনে আসে না কেন? ওকে রুমে আসতে বল আমার ওর সাথে কথা আছে!
~ ভাবী ব্যস্ত ভাইয়া। এখন আসতে পারবে না।

বলেই দিধা আর দাঁড়ালো না সেখানে। বের হয়ে গেল রুম থেকে। আর রেয়ান! সে নির্বাক তাকিয়ে আছে দিধার যাওয়ার দিকে। বুঝতে পারছে না এমনি কি করেছে সে যে আমি তার সামনে আসছি না। অনেকটা সময় আমার আসার অপেক্ষায়ই কাটিয়ে দেন রেয়ান। রাত তখন প্রায় ১১টা বেজে ৫৫ মিনিট। হঠাৎ রেয়ানের ফোনে একটা মেসেজ আসে। যাতে লিখা
~ ছাদে আসুন। কথা আছে।

ব্যস! এতটুকু লিখা পড়তেই রেয়ান দ্রুত পায়ে ছাদের দিকে এগোতে থাকেন। পারলে উড়ে চলে যান ছাদে। যেহেতু উড়তে পারবেন না আপাতত দ্রুতভাবে হেঁটে যাওয়াই উত্তম তার জন্য।
ছাদে যেতেই রেয়ান চরম অবাক। আশেপাশের ডেকোরেশসন দেখে উনি বিস্মিত। তবে এই বিস্মিত মাখা চেহারায় হাসির রেখা ফুটে উঠে যখন উনি সামনে থাকা দেওয়ালে Happy Birthday লিখাটা দেখতে পান। জোড়ে জোড়ে আমার নাম ডাকা শুরু করেন উনি। কিন্তু আমি তার সামনে আসি নি। বরাবর ১২টার সময় আসতে করে উনার পিছনে এসে বলে উঠি

~ Happy Birthday My Dear Hitlar husband
সাথে সাথে পিছনে ফিরে তাকান রেয়ান। আমাকে দেখে মুচকি হেসে হালকা কণ্ঠে বলেন
~ Thank you

তার কথায় স্মিত হাসলাম আমি। পরক্ষনে জড়িয়ে ধরলাম তাকে। হুট করে জড়িয়ে ধরায় বেশ অবাক হলেন রেয়ান। তারপর মিষ্টি সরে বললেন
~ ভালোবাসি
~ ভালোবাসি আমিও

কথাটা বলার প্রায় সাথে সাথেই আড়াল থেকে দিধা। তুরান। রেয়ানে মা~ বাবা। মা আর রিহান বের হয়ে আসেন। দুষ্টোমি কণ্ঠে দিধা বলে উঠে
~ তোমাদের রোমেঞ্চ শেষ হলে এখন কেক কাটা শুরু করা যাক।
দিধার কথা শুনে রেয়ান আমার কপালে একটা চুমু দিয়ে বলেন
~ উহু। এখনও শেষ হয় নি।

তার এমন কথা শুনে বরাবরের মতো এবারও বললাম
~ অসভ্য

এরপর কেটে যায় ২মাস। আজকে আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহুর্ত। আমি যে মা হতে চলেছি। রেয়ান আসলেই এ কথাটা বলব তাকে। আচ্ছা কথাটা শুনে উনি কি রিয়েক্ট দিবেন। খুশি হবেন? আমাকে কোলে তুলে নাচবেন? নাকি আমার ভাবনারও বেশি কিছু করবেন! ভাবতে ভাবতেই আয়নার সামনে এসে দাঁড়ালাম। আজকে সাজবো আমি। রেয়ানের জন্য সাজবো! হঠাৎ পেটে কারও হাতের ছোঁয়া অনুভব করি। সে আমার গলায় মুখ ডুবিয়ে নেশা ভরা কণ্ঠে বলে উঠেন

~ আজকে সাজছো যে? কোনো কি বিশেষ কিছু?
~ হুম

বলেই ফিরে তাকালাম তার দিকে। তাকে জড়িয়ে ধরে ফিসফিস করে বলে উঠলাম
~ আপনি বাবা হবেন।

কথাটা বলতেই কিছুটা দূরে গিয়ে দাঁড়ান উনি। দু’হাত দিয়ে নিজের মাথার চুল খুব শক্ত করে ধরে আছেন। পরক্ষনেই আমার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন। প্যান্টের পকেট থেকে একটা আংটি বের করে আমার সামনে ধরে কিছুটা কাঁপাকাঁপা কণ্ঠে বলে উঠেন
~ আআমি ভেভেবেছিলাম এ আংটি দিয়ে আজকে তোমাকে সারপ্রাইজ দিবো। বাট! তুমিই উল্টা আমাকে সারপ্রাইজ দিয়ে দিয়েছো। সত্যি বলতে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সারপ্রাইজ এটা। এ মুহুর্তে কি করব বুঝতে পারছি না মিরা। তাই হয়তো গুছিয়ে কথাও বলতে পারছি না। খুন নার্ভাস লাগছে জানো। আচ্ছা মিরা। আসলেই আমি বাবা হবো।

তার এমন রুপ দেখে আমার হাসি পাচ্ছে। প্রচুর হাসি! তবে সেটা প্রকাশ করলাম না। মুচকি হেসে তাকে বললাম

~ জ্বী।
কথাটা শুনা মাত্র উঠে দাঁড়ালেন উনি। শক্ত করে জড়িয়ে ধরেন আমায়। তারপর অসংখ্য চুমু দিতে লাগলেন আমার মুখে!

এর ১মাস পর থেকে শুরু হয় আমার রেয়ানকে জ্বালানো। এরজন্য ঠিকমতো ডিউটিও করতে পারতেন না উনি। আর না ঘুমাতে পারতেন রাতে। মাঝরাতে তাকে ঘুম থেকে ডেকে খাবার আনতে বলি। এই তো এখন। আমার খুব ইচ্ছে করছে আইস্ক্রিম খেতে। রাত প্রায় ৩টা বাজে। রেয়ান আমার পাশেই ঘুমিয়ে আছেন। তাকে ডাকতে ইচ্ছে করছে না আমার মোটেও। কিন্তু আমি নিরুপায়। আইস্ক্রিম যে খেতেই হবে আমার। তাই আস্তে আস্তে ডাকতে লাগলাম তাকে। কিছুক্ষন ডাকার পর রেয়ান ধড়ফড়িয়ে উঠে বসেন। অস্থির কণ্ঠে বলে উঠলেন

~ কি হয়েছে মরুভূমি? কোথাও কি ব্যথা করছে? ডাক্তারের কাছে যাবে?
~ না!
~ তাহলে?

আমি ইনোসেন্ট ফেস করে বললাম
~ আইস্ক্রিম খাবো।

~ আইস্ক্রিম তো বাসায় নেই বউ। চিপস্ খাবা?
~ না আমি আইস্ক্রিমই খাবো।

~ আমি বানিয়ে দিলে হবে?
~ আপনি পারবেন বানাতে।
~ ইউটিউব থেকে দেখে বানাবো। চলবে?
~ হুম।

~ আচ্ছা তুমি শুয়ে থাকো আমি বানিয়ে আনছি।
~ না আমিও যাবো আপনার সাথে।
~ কিন্তু!
~ প্লিজ!
~ আচ্ছা চলো।

বলেই রেয়ান কোলে তুলে নিলেন আমায়। তারপর রান্নাঘরে নিয়ে চুলার পাশে একটু দুরত্ব রেখে বসিয়ে দিলেন আমাকে। তারপর লেগে গেলেন কাজে। তার দিকে অপলক তাকিয়ে আছি আমি। আসলে এ মানুষটা এমন কেন। একটুও কি বিরক্ত হয় না সে। আমি তাকে এত জ্বালাই তবুও একটু উফফ বলে শব্দও করে না সে। কেন? একবার করেছিলাম তাকে প্রশ্নটা। উত্তরে সে বলেছিলো

~ তুমি আমাকে ভালোবাসো দেখে আমার তোমার প্রতি এই ছোট ছোট খেয়াল রাখাও তোমার কাছে অনেক বড় মনে হয়। যদি ভালো না বাসতে! তাহলে এর চেয়ে বেশি খেয়াল রাখলেও তোমার চোখে পড়তো না। তাছাড়া কষ্টটা তো আমি তোমার জন্য করছি না। করছি শুধু আমার ছোট বেবি যে তোমার পেটে এখন আছে। আর আমার মরুভূমির জন্য! তোমার জন্য মোটেও করছিনা।

কথাটা বলেই তখন উনি খুব মিষ্টি করে একটা হাসি দিয়েছিলেন। তার হাসিটা দেখে যেন মনে মনে হিংসে হতে লাগলো আমার। আমি কেন তার মতো তাকে ভালোবাসতে পারি না। আমারও যে ইচ্ছে করে তাকে ভালোবাসতে। তার মতো করে!

রেয়ানের ভালোবাসার পৃথিবীতে থাকতে থাকতে আজ ৫টা বছর কেটে গেছে। অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে এ ৫বছরে। শুধু পরিবর্তন হয়নি রেয়ানের আমার প্রতি ভালোবাসা। সময়ের সাথে সাথে ভালোবাসাটাও যেন আরও বেড়ে গেছে তার। এই তো এখন। আমি। রিহান। কুহু। তুরান এক লাইনে বসে আছি বিছানায়। আমাদের সামনেই দাঁড়িয়ে আছেন রেয়ান। উদ্দেশ্য আমাকে চুল বেঁধে দিবেন!

সবার মাথা বেঁধে দেওয়ার পর রেয়ান আমাকে চুল বেঁধে দেওয়া শুরু করে দেন। প্রথমে আমার চুলে ঝুটি করেন উনি। তারপর চোখে কাজল আর ঠোঁটে একটু মেরিল লাগিয়ে দেন। অতপর কপালে গভীর ভাবে চুমু দেন উনি। সাথে সাথে কুহু বলে উঠে

~ বাবাই। আমাল উম্মা কোই। আমাকেও উম্মা দাও।
কুহুর কথায় তাল মিলিয়ে তুরানও বলে উঠে
~ আমাকেও উম্মা দাও।
এবার রিহানও বলে

~ হুম বাবাই। আমাকেও কপালে চুমু দিতে হবে।

তাদের সবার প্রতিউত্তরে রেয়ান শুধু হাসলেন। তারপর এক এক করে তিনজনেরই কপালে চুমু দিয়ে দিলেন উনি। পরক্ষনে তাদের উদ্দেশ্য করে বলে উঠেন

~ এবার তোরা ড্রইংরুমে গিয়ে বয়। আমি রেডি হয়ে আসছি। তারপর সবাই মিলে স্কুলে যাবো।
কথাটা বলতে না বলতেই তিনজনই মিটিমিটি হাসতে হাসতে চলে যায় ড্রইংরুমে। এদিকে তারা যেতেই রেয়ান কোলে তুলে নেন আমায়। আয়নার সামনে দাঁড় করে আমার হাতে টাই ধরিয়ে দেন। তারপর আমার কোমড় জড়িয়ে বলেন

~ তো মিসেস হিটলার। আমার টাই~ টা পড়িয়ে দাও আমাকে।
তার কথায় ভ্রুঁ কুঁচকে এলো আমার। ভ্রুঁ কুঁচকেই তাকে বললাম
~ আমি হিটলার?

~ হুম। তুমিই তো আমাকে সবসময় হিটলার ডাকো। সো! হিটলারের বউ তো মিসেস হিটলারই হবে।
~ না! আমি মরুভূমিই ঠিক আছি।

~ তাই?
~ হুম তাই। এখন দুষ্টোমি বন্ধ করুন। তিন বাচ্চার বাবা হয়ে গেছেন তাও আপনার এ অসভ্যতামি আর দুষ্টোমি এখনও গেল না।
~ আর তুমিও তো তিন বাচ্চার মা হয়ে গেছ। এখনও তোমাকে রোমেঞ্চ শিখাতে পারলাম না আমি। হায় আমার কপাল।
~ চুপ থাকুন!
~ অবশ্যই না। আসো তোমাকে রোমেঞ্চ শিখাই।

~ না। আপনার অফিস আর বাচ্চাদের স্কুলের দেড়ি হয়ে যাচ্ছে।
বলেই তার টাই বাঁধতে লাগলাম আমি। আর সে আমার দিকে অপলক তাকিয়ে আছেন। হঠাৎ~ ই বলে উঠেন
~ ভালোবাসি প্রিয়তমা।

বলতে বলতেই উনি আমার গালে চুমু দিতে এগিয়ে এলেন। কিন্তু চুমু দেওয়া আর হলো না। তার আগেই আমাদের ৩টা ছেলেমেয়ে এসে হাজির। আমাদেরকে এভাবে দেখে হাসছে তারা। আর রেয়ান! সে আমার থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে আছেন। তার মুখে বিরাজ করেছে একরাশ কালো মেঘ। আর মুখে ফিসফিস করে বলছেন
~ এ বাচ্চাগুলোর জন্য আমার রোমেঞ্চের ১২টা বেজে যায় প্রতিবার।

কথাটা বলতেই যেন তার মুখ আরও কালো হয়ে যায়। রেয়ানের কানের কাছে গিয়ে আমি ফিসফিসিয়ে বলে উঠি

~ সে কি জানে তাকে এখন কতটা কিউট লাগছে। তাকে বলো আমিও আমার প্রিয় বরকে ভালোবাসি।
বলেই চোখ টিপ মারলাম আমি। সাথে সাথে রেয়ান জোড়ে জোড়ে হেসে দিলেন।

লেখা – ইশানুর তাসমিয়া

সমাপ্ত

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “সে কি জানে (১ম খণ্ড) – দু জনার গোপন সম্পর্কের গল্প” গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ূন – সে কি জানে (১ম খণ্ড) – দু জনার গোপন সম্পর্কের গল্প

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!