সহবাস পদ্ধতি

ম্যাডামের সাথে প্রেম – লোভনীয় ভালবাসার গল্প

ম্যাডামের সাথে প্রেম – লোভনীয় ভালবাসার গল্প: ম্যাম আমার চেয়ে ৬- ৭ বছরের বড় হবে। এটা কোন ব্যাপার ই না। কেন যেন সারারাত ঘুমই হলোনা। ভাবতে ভাবতে অন্যরকম রোমাঞ্চপূর্ণ একটা রাত চলে গেল।


পর্ব ১

আচ্ছা আপনি কখনো নিজের থেকে বড় বয়সের মেয়ের প্রেমে পড়েছেন? আমি পড়েছি, সে কোন সাধারন মেয়ে নয়, আমার ভার্সিটির শিক্ষিকা সে।

আমি রাজ, আজ আমার প্রথম ক্লাস ভার্সিটিতে। আমি নিয়মিত ক্লাস করার মতো স্টুডেন্ট না। তবে খারাপ স্টুডেন্ট নই। সারা বছর যা কিছুই করি এক্সামের আগের একমাস আমায় বাহিরে খুজে পাওয়া যাবেনা। কেউ মারা গেলেও মনে হয় আমাকে পড়ার টেবিল থেকে উঠাইতে পারবেনা! হা হা হা আর বাকি সময় টেনেও আমাকে পড়ার টেবিলে আনা পসিবল না।

ওই যে একটা প্রবাদ আছেনা। (জাতে মাতাল তালে ঠিক) ঠিক অনেকটা =সেই রকমই। এজন্য অবশ্য বাসা থেকে কিছু বলেনা আগে বলতোযানে আমায় বলে লাভ নেই।
আর কিসের ভিত্তিতে বলবে! বাবা- মাচায় সন্তানের ভালো রেজাল্ট। আমি তো তাদের কখনো আশাহত করিনিক্লাস ফাইবে ট্যালেন্টপুলে বিত্তি, এইটে ট্যালেন্টপুলে বিত্তি, ক্লাস টেনেগোল্ডেন, আর ইন্টারেও। কে কি বলবে! আর ক্লাসে আমার উপস্থিতি১২ মাসের একমাস ও পুরো হবে কিনা সন্দেহ্।

আমরা দুই- ভাই ভাইয়া ডাক্তার, আর ভাবী ও। ওরা এক সাথেই পড়তো। লাভ ম্যারেজ ওদের ওদের রিলেশন ছিলো ইন্টার ফাস্ট ইয়ার থেকে। কত্ত এডভান্স ওরা। আর আমি ধরতে গেলে দুই বছরের সিনিয়র আমি মানে ওরা ইন্টার ফাস্ট ইয়ার থেকে রিলেশন করে। আর আমি ইন্টার পার হয়ে আসছি। ভার্সিটিতে উঠলাম, আজ অবধি একটা র্গালফেন্ড ও নাই! অবশ্য এতে আমারই দোষ আছে। আমি মেয়েদের থেকে দুরে থাকি।

অনেক মেয়েই প্রপোজ করেছে আমার মন চায়নি। আসলে সুন্দর হলে কি হবেআমি এমন একজন কে ভালোবাসতে চাই যাকে প্রথম দেখাতেই ভালো লাগবে। যাকে দেখলেই আমার Heartbit বেড়ে যাবে যাকে একবার দেখার জন্য হাজার ও ঘন্টা বসে থাকলেও বিরক্ত আসবেনা। যার সাথে একবার কথা বলার জন্য মন উন্মাদ হয়ে যাবে কিন্ত কথা বলার সাহস হবেনা। আমারি কথা শোনার পর সবাই হাসে ওরা বলে আমি নাকি কখনোই এমন কাউকে পাবো না।

যে মেয়ে গুলো আমায় প্রপোজ করে ওরা হইতো আমার গুড লুকিং (সবাই বলে) ভালো স্টুডেন্ট, ভালো ব্যাকগ্রাউন্ড এর জন্যই লাইক করে। আমি তো এরকম কাউকে চাইনা। এরা সুখের পায়রা, আমার জীবনে কোন কষ্ট আসলে এদের হারিকেন লাগিয়েও খুজে পাওয়া যাবেন আমার ফ্যামিলিতে আমরা ৫ জন সদস্য। আমি, ভাইয়া, ভাবী, আম্মু, আর বাবা। আম্মু রাজশাহী Girls কলেজ এর প্রিন্সিপাল। আর বাবা, ভাইয়া, ভাবী ৩ জনই MBBS ডক্টর। এলাকার লোকজন আমাদের বাসাকে ডাক্তার বাড়ী বলে।

পরিবারের সবার ছোট আমি, তাই একটু বেশীই আদরের। হ্যা একজন হিটলার ও আছে আমাদের বাসায় তিনি হলেন আমার শ্রদ্ধেয় বাবা। সারাদিনে একবার আমার সাথে ঝগড়া না করলে তার পেটের ভাত হজমই হয়না।
যদি কোন কারনে আমি বাসায় না ও থাকি ফোন করে ঝগড়া করবে।
বাবা চাইছিল আমিও মেডিকেল এ পড়ি কিন্তু আমার ভালো লাগেনা।

আমার প্রিয় সাবজেক্ট ইংলিশ আমি রাজশাহী ভার্সিটিতে ইংলিশ অর্নাস এ এডমিট হইছি। পরিবারের বাকীরা আমাকে সব সময় সার্পোট করে। অোম্মু তো আমি যা বলবো তাই, ভাইয়াও ভালোবাসে তবে আমার কেন যেন মনে হয় ভাইয়ার চেয়ে ভাবী আমাকে বেশি ভালোবাসে।

ভাবী অসম্ভব ভালো একটা মেয়ে ভাবীর মতো খুব কম মেয়েই আছে যারা শশুড়, শাশুড়ি কে নিজের মা- বাবার চেয়েও বেশি আর দেবর কে নিজের ভাই মনে করে। মাঝে- মাঝে মনে হয় আমার আম্মুর ডুপলিকেট ভাবী, আম্মু, বাবাও আমাদের দু- ভায়ের চেয়ে ভাবীকে বেশি ভালোবাসে। ভাসায় নতুন কেই আসলে আম্মুকে যদি জিগ্গেস করে আপনার ছেলে মেয়ে কয়টা আম্মু বলে দেয়২ ছেলে এক মেয়ে। রাস্তা- ঘাটে আম্মু ভাবী যদি একসাথে যায় যারা চিনে না তারা জিগায় এটাকে। আম্মু বলে আমার মেয়ে। মজার ব্যাপার হলো অনেক সময় অনেক এ ভুল করে ভাবীর বিয়েও নিয়ে আসে হা হা হা! ভাইয়া যদি কিছু বলে আমায়। আমি বলে দেয় বেশি কিছু বললে ভাবীরে বিয়ে দিয়ে দিবো।

এটা নিয়ে বাসায় অনেক মজা হয়। আর বাবা যতই আমার সাথে ঝগড়া করুক না ক্যানো ভাবীর সামনে আমাকে কিছু বলার সাহস পায়না! কারন টা হলো আমাকে কেউ কিছু বললে ভাবীর সেটা সহ্য হয়না সে যেই হোক ভাবী তার সাথে ঝগড়া করবে। এইজন্য বাবা কিছু বলতে গেলেই ভাবীকে ডাকি আর বাবা চুপ হয়ে যায়। ভাবীরা ৩ বোন ভাবীই সবার ছোট, ভাই নেই তো তাই সব ভালোবাসাটা আমার। আলহামদুলিল্লাহ্ আমি খুবই ভাগ্যবান এতো ভালো একটা ফ্যামিলি আল্লাহ্ আমাকে দিয়েছেন।

ভার্সিটির প্রথম দিন ক্লাসে গিয়ে জানতে পারলাম আমাদের ইংলিশ ক্লাসটা একজন ম্যামের। তিনি তার পারিবারিক সমস্যার কারনে কিছুদিন ক্লাস নিতে পারবেন্না তার পরিবর্তে অন্য টিচার কিছুদিন ক্লাস নিবেন। অবশ্য আমার এতে কোন প্রবলেম নাই আমি এমনেই ক্লাস করিনা। কে ক্লাস নিবে না নিবে আমার ওসবে যায় আসেনা।

প্রথম দিনের পর আর ক্যাম্পাসে যাওয়া হয়নি, ফ্রেন্ডসরা ফোন দেয় আমিই যাই না। অনেকদিন পর আজ ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হলাম ফোন চাপতে চাপতে ভার্সিটির গেট দিয়ে ডুকছিলাম, আশে- পাশে দেখিনি। হঠাৎ কারো সাথে ধাক্কা লাগলো। আমার হাত থেকে ফোনটা একটা ইটের টুকরার উপর পড়ে গিয়ে ফোনের স্কিনটা সুইসাইড করলো।

ফোনটা তুলে যে ধাক্কা দিয়েছে তার সামনে গিয়ে দাড়ালাম। কিন্তু আজব ব্যপার হলো যেই আমি কিনা কাউকে ফোন ধরতেই দেয়না। মনে হয় যেন সবচেয়ে বেশি আমি আমার ফোন কেই ভালোবাসি। সেই আমি কিনা যার জন্য ফোনটা ভেজ্ঞেছে তাকে কিছুই বলতে পারলাম নাহ্! তার সামনে দাড়িয়ে শুধু তাকেই দেখছি। শুধু দেখছি তার ঠোট দুটো নড়ছে কিন্তু কি বলছে! আমার কানে কিছুই ডুকছেনা।

রাতুলঃ (আমার ফ্রেন্ড) রাজ কি হয়েছেরে? ম্যাম তোকে কি বললো? সে কখন চলে গেছে আমি বুঝতেই পারিনি। রাতুলের কথায় ঘোর কাটলো।
আমিঃ ম্যাম মানে? কে ম্যাম!

রাতুলঃ তোর সামনে যে দাড়িয়ে কথা বলছিলো সে।
আমিঃ কি বলছিলো সে?
রাতুলঃ আমি কি করে জানবো! তোকেই তো বললো।
আমিঃ আমি কিছুই শুনিনি। কিন্ত তাকে তুই ম্যাম বলছিস ক্যান?
রাতুলঃ তুই তো আর ক্যাম্পাসে আসিসইনা জানবি কি করে উনিই আমাদের ইংলিশ এর প্রফেসর, পুরো কলেজের ক্রাশ। তুই আবার ক্রাশ খাশ খাশ নাই তো?

আমি বুজতে পারছিলামনা রাতুলের কথার কি উত্তর দিবো। মনে মনে বল্লাম ভাই আমি ক্রাশ না। প্রথম দেখাতেই প্রেমে পড়ে গেছি। ঠিক যেমন টা আমি কল্পনা করতাম। কিন্তু সে এতোটা সুন্দর হবে ভাবিনি।

আমিঃ না ভাই ওসব কিছুনা। আচ্ছা আমি বাড়ী যাচ্ছি। তুই থাক।
রাতুলঃ আরে মাত্রই তো আসলি, আর তুইতো ভিতরেও আসলিনা।
আমি ওর কোন কথার উত্তর না দিয়ে। বাসার দিকে রওনা দিলাম।

ভাবী হসপিটালে যাচ্ছিলো। আমাকে দেখে।
ভাবীঃ রাজ! ক্যাম্পাসে যাওনি? এতো তাড়াতাড়ি আসলা? কি হয়েছে! মুখটা শুকনো শুকনো লাগছে যে?

ভাবী আমার ফেস দেখলেই সব কিভাবে যেন বুঝে যায়। মাঝে মাঝে মনে হয় ভাবী জোতিষ বিদ্যাও জানে। আর না জানলেও আমার পেট থেকে কিভাবে কথা বের করতে হয় সেটা সে খুব ভালো পারে। ম্যামের ব্যাপার টা কিছু যেন না বুঝতে পারে তাই তাড়াতাড়ি ফোনটা বের করে দেখালাম।

ভাবীঃ রাজ এই সাধারন ব্যাপার নিয়ে এতো মন খারাপের কি আছে?
চলো এখনই কিনে দিচ্ছি তাও মন খারাপ করে থাকবানা, একদম ভালো দেখায়না। আর শোন ফোনের ব্যাপারটা যেন বাবা না জানে।
আবার তোমাকে কথা শোনানো শুরু করবে। মনযোগ দিয়ে ভাবীর কথা শুনছি। কত ভালোবাসে আমাকে আমি কোন কথায় বলছিনা দেখে।

ভাবীঃ রাজ শুধু কি ফোন নাকি অন্য কোন ব্যাপার আছে? এইরে সারছে। তাড়াতাড়ি বল্লাম না ভাবী কই কিছুনা। তুমি হসপিটালে যাও, বিকেলে ফোন কেনা যাব।

ভাবীঃ সত্যিই যাবো! আমিঃ হ্যা তুমি যাও আমি মন খারাপ করে থাকবোনা্ ভাবীঃ কথাটা যেন মনে থাকে। ওকে থাকবে তুমি টেনশন করো না বাসায় এসেই সোজা আমার রুমেকিছুই ভালো লাগছেনা। প্রথম দেখায় কুপোকাত একেবারে তারমাঝে রাতুলে কথা শুনে মাথা ভনভন করে ঘুরছে, ম্যাম উনি আমার! আমি কি সব ভাবছি এটা কি ঠিক হবে? আর যদি উনি ম্যারিড হন! তাহলে কি হবে! আমিই পাগল এতো সুন্দর মেয়ের এখনো বিয়ে হবেনা তা কি করে হয়! হইতো বাচ্চাকাচ্চা ও আছে এসব ভাবতেই কান্না পাচ্ছে ধুর এই ছ্যাকা খাওয়া ছিলো এতো অপেক্ষার ফসল! আল্লাহ্ এইডা কি করলা আমার সাথে পাওয়ার আগেই নিয়া নিলা! সারাটাদিন আপসেট ছিলাম সন্ধ্যার দিকে ভাবীর ফোন।

ভাবীঃ রাজ, আমি ফোনের দোকানে বসে আছি তুমি আসো।
ইচ্ছে করছিলোনা রুম থেকে বাহিরে যেতে কিন্তু ভাবী কে না করলে কষ্ট পাবে তাই রেডি হয়ে দোকানে গেলাম।
২০/২২ এর মধ্যেই একটা ফোন কিনলাম। ভাবীর পছন্দ ফোনটা আমার হোয়াইট পছন্দ হলেও ভাবীর পছন্দে ব্লু কালার ফোনটা কিনলাম। ফোন কেনার পর ও আমি মুখে খুশির আবেশ টা আনতে পারছিলাম না। সেটা ভাবীর চোখ এড়িয়ে যায়নি তখন ই বুঝলাম যখন বাসায় ফেরার সময় ভাবী আমাকে জিজ্ঞেস করছিলো।
ভাবীঃ রাজ! কি হয়েছে তোমার?
আমিঃ কই ভাবী কিছুনাতো!

ভাবীঃ রাজ, আমাকে মিথ্যে বলবানা, আর তুমি মিথ্যে বললেও স্পষ্ট তোমার চেহারায় সেটা ফুটে ওঠে। অতএব মিথ্যে চেষ্টা করে লাভ নেই। কি হয়েছে সেটা বলো।
আমিঃ না ভাবী তেমন কিছুনা।
ভাবীঃ রাজ এবার কিন্তু আমি রাগ করবো।

আমিঃ আসলে ভাবী আমি কারো প্রেমে পড়ে গেছি প্রথম দেখায় প্রেম যাকে বলে ঠিক সেই রকম।
ভাবীঃ ওমা তা কে সে? আমার হবু জ্যা?
আমিঃ হবু জ্যা বইলো না ভাবী।
ভাবীঃ তা কেন বলবো না!

আমিঃ ভাবী হইতো সে ম্যারিড! আমি সঠিক জানিনা।
ভাবীঃ ওমা, আচ্ছা রাজ ভালোভাবে খোজ খবর নাও আর যদি ম্যারিড হয়। ভেবে নিবা তোমার জাস্ট এটরাকসন ছিলো। কষ্ট পাবার কিছু নেই। আর রাজ যা কিছুই হোক ভালো/মন্দ আমি সবঃ সময় তোমার পাশে আছি।
আই হোপ ভালো কিছুই হবে
তুমি এতো চিন্তা করোনা তোঁ। এইবার তো হাসো আমার লক্ষী ভাইটা।
আই লাভ উ ভাবী তুমি এতো ভালো ক্যানো বলোত?
ভাবীঃ তুমি আমায় ভালোবাসো তাই আমায় ভালোভাবো।

আমিঃ একদমই না তুমি আসলেই ভালো।
কথা বলতে বলতে বাসার সামনে এসে গেলাম। গাড়ী থাকতেও আমরা বেশির ভাগ সময় রিক্সা সিএনজিতেই চলাচল করি বাবা বলে সাধারণ ভাবে জীবন- যাপন করবা যত টাকাই থাকুক না কেন। পারলে সবঃ সময় সাধারণ মানুষ কে সাহায্য করবা। গরীব মানুষ গুলোর সাথে মিশবা এতে কখনো তোমার মাঝে ওই আভিজাত্যের অহংকারের ঘুণ পোকা বাসা বাধতে না পারে।

কেননা অহংকার মানুষ কে ধংস করে দেয়। (অহংকারের চাদর একমাত্র আল্লাহ্ তায়ালার)
ভাবীঃ রাজ!
আমিঃ হ্যা ভাবী বলো?
ভাবীঃ খোজ- খবর নেবার পর কি হয় আমাকে জানাবা কিন্ত।
আমিঃ ওকে ভাবী।
ভাইয়া আর বাবা এখনো হসপিটাল থেকে ফেরেনি।

আম্মু রান্নার জন্য সবজী কাটছে। ভাবী তাড়াতাড়ি ড্রেস চেঞ্জ করে মাকে সাহায্য করতে গেলো।
আমি নতুন ফোনটাতে সিম উঠাইলাম।
অনেক চিন্তা ভাবনার পর সাকিবরে ফোন দিলাম।
সাকিব আমার ফ্রেন্ড কার কি, কি সিক্রেট আছে সেটা সাকিব সবার আগে জানে কারো ব্যাপারে কোন তথ্য জানতে আমরা সাকিবের সাহায্য নিয়ে থাকি জিনিয়াস একটা। আমার ফ্রেন্ডস রা একেকটা জিনিয়াস একেক বিষয়ে।
আমিঃ হ্যালো সাকিব, দোস্ত কেমন আছিস?

সাকিবঃ এইতো দোস্ত ভালোনারে।
আমিঃ ক্যান তোর আবার কি হলো!
সাকিবঃ নিধির(সাকিবের GF)সাথে ঝগড়া হইছে।

আমিঃ টেনশন করিসনা আমি ওরে ফোন দিয়া বলবোনি।
সাকিবঃ ধন্যবাদ দোস্ত।
আমিঃ ধন্যবাদ দেওয়ার দরকার নাই আমার একটা কাজ করে দে।
সাকিবঃ কি কাজ বল।
আমিঃ আমাদের ইংলিশ এর ম্যাম এর পুরো বায়োডাটা আমার চাই A to Z।
সাকিবঃ ক্যান রে প্রেমে ট্রেমে পড়ছিস নাকি?

আমিঃ সেসব পরে বলবো আজ রাতের মধ্যেই আমার সব খবর চাই।
সাকিবঃ ওকে আমি তোরে ২ ঘন্টা পর ফোন দিবোনি। তুই একবার নিধিরে ফোন দে প্লিজ ওরে বল আমার ফোন রিসিভ করতে।
আমিঃ আচ্ছা বলতেছি যেন ২ ঘণ্টা পর তোকে ফেন দেয়।
সাকিবঃ ২ ঘন্টা পর ক্যান! আমি এখন কথা বলতে চাই।

আমিঃ আরে গাধা আমি তোকে চিনি নিধির সাথে কথা বলা শুরু করলে তোর কোন হুশ থাকেনা। আর আমার ম্যামের খোজটা খুব দরকার।
সাকিবঃ হারামী একটা নিজের জন্য আমারে কষ্ট দিচ্ছিস!
আমিঃ বেশি কথা বললে কিন্তু নিধিরে বলবো তোর সাথে যেন কথায় না বলে।
সাকিবঃ হারামী একটা ব্লাকমেইল টা ভালোই পারোস।

রাগ করে ফোন কেটে দিলো নিধি আমার কাজিন আর আমার ফ্রেন্ড ও আমার কথা নিধি অবশ্যই শুনবে। সাকিবকে পচাইতেও এমনি ওকে ধামকি দেই। দুজন একে অপর কে ভীষন ভালোবাসে নিধি একটু রাগী টাইপের একটুতেই রাগ কতে ফোন অফ করে রাখে।
আবার দু- দিন পর ঠিক হয়ে যায় আগের মতো।

আমি জানি নিধির ফোন বন্ধ তাই ওর মায়ের ফোনে ফোন দিয়ে বলে দিলাম যাতে নিধি আমাকে ফোন করে।
দেখি একটু পর নিধি ফোন দিছে আমি ওকে সব বুঝিয়ে বল্ললাম। রাজি করালাম যাতে ২ ঘন্টা পর ওকে ফোন দেয়ও রাজী হলো।
কিন্ত আমার দু- ঘন্টা কাটছিলোনা কি হবে কি হবে এক প্রচন্ড মানসিক টেনশন।

আম্মু আর ভাবীর কাছে গেলাম।
আম্মুঃ কি হইছে মাথা ব্যাথা করছে?
আমিঃ একটু একটু।
আম্মুঃ চা করে দিবো?
আমিঃ দিলে মন্দ হয় না।

আম্মু চা করে দিলো চা খেতে খেতে আম্মুকে জিজ্ঞেস করলাম।
আচ্ছা আম্মু তোমার বড় মেয়েতো তোমার মনের মতই।
আমার বউ তোমার কেমন পছন্দ?
আম্মুঃ হঠাত বউ! কাউকে পছন্দ করিস নাকি!

ভাবীঃ না মা, ও এমনেই জানতে চাইছে তোমার কেমন পছন্দ।
আম্মুঃ কি ব্যাপার দুজন একি কথা! দুজন মিলে কি লুকাচ্ছো আমার থেকে?
আমিঃ আম্মু তুমি এমনি একটা বলতেছো প্লিজ বলোনা কেমন চাও তুমি।
আম্মুঃ তা মেয়েটা কে? একদিন বাসায় নিয়ে আসিস।

আমিঃ আম্মু তুমি কি বলতেছো! আমার কারো সাথে রিলেশন নাই। যদি কখনো হয় তাকে কেমন হওয়া উচিৎ তাই তোমাকে জিজ্ঞেস করছি।
আম্মুঃ হম বুঝছি তোরা বলবিনা। আমার কোন পছন্দ নাই যাকে তোর পছন্দ হবে আর যে তোকে সহ আমাদের ও ভালোবাসবে তেমন হলেই চলবে।
আমিঃ আর কোন কোয়ালিটি?
আম্মুঃ বড় হচ্ছিস বুদ্ধি হয়নিভালোবাসা কোয়ালিটি দেখে হয়না। মন সুন্দর তো সব সুন্দর।
আম্মুর কথা শুনে ভালোই লাগছে তারমানে ম্যামের যা অবস্থায় হোক।

আম্মু তাকে মেনে নিতে পারে তবেঁ বাবা বাধা হতে পারে। ব্যাপারনাহ ভাবী আর আম্মু সাথে থাকলে আমার কেও কিছুই করতে পারবে না। অবশেষ এ সেই মোমেন্ট আসলো মানে ২ ঘন্টা শেষ।
একটু পর সাকিব ফোন দিলো।
সাকিবঃ হ্যালো রাজ।
আমিঃ হ্যা দোস্ত বল।
সাকিবঃ ম্যামের ব্যাপারে শুনলাম খুব খারাপ লাগলো রে।

আমিঃ ক্যান কি হইছে?
সাকিবঃ কিছুদিন আগেই ম্যামের হাসবেন্ড টা এক্সিডেন্ট এ মারা গেছেরে।
সাকিব এর কথা শুনে খুশি হব না দু:খ প্রকাশ করবো বুঝতেছি না।
আমিঃ আচ্ছা ঠিক আছে পুরো ঘটনা বল।
সাকিবঃ ম্যামের নাম অরিন মেহজাবীন।
ম্যাম ফ্যামিলির একমাত্র মেয়ে।

এই বছর ই এম, এ কম্পিলিট করেছে। ৬ মাস আগে এই কলেজ এ জয়েন করে, জয়েন করারা ৪ মাস পর বাবা- মায়ের পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করে ম্যামের হাজবেন্ড ব্যাংকার ছিলো। ভালো ফ্যামিলির। মাত্র সাড়ে তিন মাসের সংসার! এইজন্যই আমাদের প্রথম ক্লাসে অনুপস্থিত ছিলো।

আমিঃ ধন্যবাদ দোস্ত, পরে কথা হবে নিধিরে বলছি একটু পর তোরে ফোন দিবে। আচ্ছা বাই।
সাকিবঃ ক্যানো ম্যামের কথা জিজ্ঞেস করলি বল্লিনা?
আমিঃ সময় হলে বলবো রাখি রে।
সাকিব এর সাথে কথা বলার পর আমার ভাবনাচিন্তা বেড়ে গেলো তারপর ও একটা প্রশান্তি আছে কেও শুনলে হইতো খারাপ ভাব্বে কিন্তু ম্যামের হাজবেন্ড মারা গেছে ভালোই হইছে নইতো আমিই মারতাম তারে।

আচ্ছা ম্যাম আর আমার বয়সের পার্থক্য কত? আমি ফাস্ট ইয়ার ফাইনাল। এক্সাম হতে হতে চার বছর। কারন সেজন জট নেই এখন আর।
আর এম, এ করতে এক বছর ৪+১=৫! আর সব কিছুর রেজাল্ট দিয়ে আর ও এক দেড় বছর! তারমানে
ম্যাম আমার চেয়ে ৬- ৭ বছরের বড় হবে। এটা কোন ব্যাপার ই না। আমার রাস্তা ক্লিয়ার এখন বাবা রাজ তোমার একমাত্র কাজ হচ্ছে মিস অরিন কে, (এস, এ, রাজ) বানানো কাল থেকে কাজে লাগাও। কেন যেন সারারাত ই ঘুম হলোনা ভাবতে ভাবতে অন্যরকম রোমাঞ্চপূর্ণ একটা রাত।

সকালে ফজরের নামাজটা পড়ে বসার রুমে বসে আছি। ভাবী দেখে বলতেছে আজ দেবর জ্বী এতো সকালে! কাহিনী কি! রাতে ঘুমাউনি? রাতে ঘুমাইলে তো তোমারে পাওয়া যাইতোনাএতো সকালে।
আমিঃ কাহিনী তো আছেই তবেঁ এখন বলা যাবেনা পরে বলবো ফ্রি টাইমে।
ভাবীঃ আচ্ছা ঠিক আছে অপেক্ষারত আছি।

ভাবী আমারে একটু বেশী করে দোয়া কালাম পড়ে ফুঁ দাওতোযেন আমি আমার কাজে সফল হতে পারি।
ভাবীঃ দোয়া করে দিলাম যেন দ্রুত আমি আরেকটা বোন পাই। আজ ক্যাম্পাসে আবার গেলাম উদ্দেশ্য ইংলিশ ক্লাস।
অনেক দোয়া কালাম পড়ে ক্লাসে ঢুকলাম।
অপেক্ষায় আছি তাকে দেখার জন্য। ফাইনালি তার ক্লাস টাইম সে আসলো।

এসেই লেকচার দেওয়া শুরু আজ ব্লু কালার শাড়ী পড়েছে সে কিযে সুন্দর লাগছে আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছিনা সাথে লম্বা হাতার ব্লাউজ। মাথায় হিজাপ পড়া।
কি যেঁ মায়াবী চেহারা উফ আমি ওই মায়ার সাগরে ডুবে যেতে চাইআজ থেকে আমি তাকে মায়াবতী বলেই ডাকবো দারুন্না!
ক্লাসে কি লেকচার হচ্ছে আমার মাথায় কিছুই ডুকছেনা আমি শুধু তাকেই দেখছি।
একটু পর আমার মায়াবতী আমার সামনে এসে দাঁড়ালো।


পর্ব ২

মায়াবতীঃ এই যে তুমি মনে হচ্ছিলো ক্লাসে মনযোগ দিয়ে লেকচার
শুনছিলে তাহলে শেষ প্রশ্নের এনসার টা কি হবে বলো?
আমিঃ আমি তো দেখছিলাম।
সেঃ মানে!
আমিঃ না মানে। হ্যা শুনছিলাম।

সেঃ তাহলে এনসার টা বলো।
আমিঃ কিসের এনসার! (সে আমাকে আই লাভ ইউ বলেছে! এতো তাড়াতাড়ি OMG! সে হইতো
আমার প্রেমে পড়ে গেছে।

সেঃ এতো কি ভাবছো! তাড়াতাড়ি বলো।
আমিঃ ওরে আল্লাহ্ ওনার মনে হয় সহ্য হচ্ছে না! তাইলে শুভ কাজে দেরি কেন।
ক্লাসে সবার সামনেই বলবো!

সেঃ হ্যা বলো।
আমিঃ হ্যা আই লাভ ইউ টু।
সেঃ What। Get out of class।
আমিঃ আপনিই তো এনসার শুনতে চাইলেন!
সেঃ I said Get out!

ক্লাসের সবাই অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে! তখনই মনে হলো
আমি হইতো ভুল শুনেছি। কোন কথা না বাড়িয়ে সোজা ক্লাস থেকে বেড়িয়ে
বাসায় চলে আসলাম। নিজেই নিজের দু গালে থাপড়ানি দিতে মন চাইতেছে।
এটা একটা কাজ করলাম আমি! আগে প্রশ্নটা জিগ্গেস করে তো নিতে পারতাম।
না খেয়েই ওসব ভাবতে ভাবতে কখন ঘুমিয়ে গেছি জানিনা।
ঘুম ভাংলো বিকেলে রাতুল, সাকিবের ডাকে।
রাতুলঃ এই উঠ্।
আমিঃ হ্যা বল।

সাকিব: আগে ফ্রেশ হয়ে আয়।
আমিঃ ৫ মিনিট দেড়ি কর।
কাজের বুয়াকে বলে গেলাম ওদের নাস্তা দিয়ে যাইতে।
৫ মিনিট পর! আসলাম।

সাকিব: তুই ম্যামকে ওই কথা কেন বল্লি?
আমিঃ বলতেছি। আগে বল আমি চলে আসার পর কি হইছে?
রাতুলঃ ম্যাম ও ক্লাস থেকে চলে গেছে। তারপর আমরাও ক্লাস থেকে
চলে আসছি।
সাকিব: তুই জানিস না চুপ কর রাতুল।

আমিঃ রাতুল কি জানেনা?
সাকিব: ক্লাসর পর ম্যাম আমাকে ডেকেছিলো।
আমিঃ ক্যানো?
সাকিব: তোর কথা জিগ্গেস করতে।
আমিঃ আমার কথা! কি? তাড়াতাড়ি বল।
সাকিব: তোর ব্যাপারে, তুই কে। আর তুই ক্লাসে ওই কথা কেন বলছিস।
আমিঃ তুই কি বললি?

সাকিব: ম্যাম ভেবেছিলো তুই হইতো বাজে ছেলে। আমি বলে দিলামনা তুই কেমনতোর রেজাল্ট, তোর ক্যারেক্টার। তারপর আর কিছু বলেনি। বললো ঠিক আছে যাও। আমি সব কিছুই ওদের বল্লাম। ভাবীঃ এটা একটু জটিল বিষয়।
আমিঃ ভাবী তুমি কখন এলে!
ভাবীঃ শুরু থেকেই সবই শুনলাম।

আমিঃ এবার তোমরা বল আমি কি করবো? তবে একটা কথা
শুনে রাখো। আমি কিন্তু সিরিয়াস তার ব্যাপারে।
কেউ কিছুই বলছেনা সবাই চুপচাপ!

আমিঃ শোন সে মাত্র আমার থেকে ৬- ৭ বছরের বড়, এটাকে আমার কাছে
কোন প্রবলেম মনে হচ্ছে না।
রাতুলঃ সমাজ কি মেনে নিবে?
আমিঃ কেন! কোন সমাজের কথা বলছিস! যে সমাজে ছেলের চেয়ে
১০/১২ বছরের ছোট মেয়ে কে বিয়ে করলে হাত তালি পওয়া যায়।
সেই সমাজ!

যে সমাজের ছোট মেয়েকে মেনে নিতে প্রবলেম হয়না সেই সমাজের
বড় মেয়ে কে মেনে নিতে প্রবলেম কোথায়?
আর সংসার তো সমাজ করবে না! আমি করবো। আমার প্রবলেম
নেই বিন্দু মাত্র। আমার ফ্যামিলি আমার সব। তারা মেনে নিলে
আর কিছুর দরকার নেই আমার।
ভাবীঃ এটা তোমার আবেগ নয় তো রাজ?

আমিঃ আমি ৯/১০ এ পড়ি না ভাবী। আমি অর্নাস ফাস্ট ইয়ারে
পড়ি। আলহামদুল্লিাহ্ কিছুটা হলেও জীবন সর্ম্পকে বুঝি। হ্যা
সে যদি টিচার না হয়ে। আমার ক্লাসমেট বা নিচের ক্লাসের কেউ
হতো একটা কথাও তোমরা বলতা না।

ভাবীঃ রাজ আমি শুধু তোমার ব্যাপার টা ক্লিয়ার হচ্ছিলাম, আর
তার ব্যাপারে না শুনেই কিন্তু আগেই তোমাকে বলেছি। ভাল হোক
বা মন্দ আমি সব সময় তোমার পাশেই আছি।
আমিঃ জানি ভাবী। আর রাতুল, সাকিব তোরা ডিসাইড কর আমার
পাশে থাকবি কিনা।

রাতুলঃ আরে বেটা কি করে ভাবলি তোকে একা রেখে যাবো!
অবশ্যই তোর পাশেই থাকবো।
সাকিব: ছোট থেকে আজ অবধি যখন একা ছাড়ি নাই।
বিয়ে করবি সেই খানে একা কেমনে ছাড়ি।!

ভাবীঃ শুধু পাশে থাকলেই কি হবে। দুজন কে এক করতে
সব কিছুই করতে হবে।
সাকিব: ভাবী এখন থেকে একটাই মিশন আমাদের ইংলিশ ম্যাম
সাকিবে কথা শুনে সবাই হেসে উঠলো।
সাকিব: রাজ তুই চিন্তা করিস না। অরিন ম্যামের, প্রতি মিনিটের খবর
আমি দিবো।
আমিঃ সাকিব সে তোর ভাবী লাগে।!

ভাবীঃ জ্বি না আমার জ্যা হয়।
রাতুলঃ তাইলে আমি তাকে ম্যাম ভাবী ডাকবো।
আমরা সবাই জোরে হেসে উঠলাম হাসির শব্দ শুনে আম্মু
এগিয়ে আসলো।
আম্মু: কি ব্যাপার এতো হাসাহাসি?

আমি এমনিই আম্মু। এদিকে কথা বলতে বলতে কখন রাত হয়ে গেছে বুঝতেই পারিনি কেউ।
রাতুল আর সাকিব বাসায় যেতে চাইলো, আম্মু ওদের আটকালো
বললো খাবার খেয়ে যাও। রান্না প্রায় শেষ আর একটু টাইম লাগবে
তোমরা গল্প করো বলে আম্মু চলে গেল ভাবী ও আম্মুর সাথেই
গেল। আমরা তিন বন্ধু মিলে গল্প করছিলাম।

রাতুলঃ রাজ, আমার মনে হয় আমাদের কোন কিছতেই তাড়াহুড়ো
করা উচিৎ হবেনা, এতে বরং হিতে বিতরীত হতে পারে। একমাস ও
হয়নি তার হাসবেন্ড এর মৃত্যু। এই সময় আরেকটা রিলেশন একসেপ্ট
সহজ জিনিস না। অরিন ম্যাম আমাদের সাথে কথা বলতেছে, ক্লাস নিচ্ছে
তারমানে এইনা সে খুব ভালো আছে হইতো লুকিয়ে লুকিয়ে কাদে।

মেয়েদের সবচেয়ে বড় গুন তো এটাই, ওরা নিজেদের কষ্ট লুকিয়ে রেখে
অন্যকে খুশি রাখে।

আমিঃ দোস্ত তুই ঠিকই বলছিস। এখন কি করা যায়?
রাতুলঃ আমার কাছে একটা প্লান আছে আই হোপ এটা কাজ করবে।
সাকিব আর আমি এক সাথে বলে উঠলাম বলনা কি প্লান।
রাতুল আমাদের সবটা প্লান বুঝিয়ে বললো খুব ভালো প্লান।

আমার আর সাকিবের ও বেশ পছন্দ হলো এখন আল্লাহ্ আল্লাহ্ করে
প্লান ঠা সাকসে হলেই হয়। এর মাঝে ভাবী ডিনারের জন্য আমাদের
ডেকে গেল। আমরা একসাথে ডিনার করলাম। তারপর ওরা বাসায়
চলে গেল।

প্লান মোতাবেক আমি দু দিন ক্যাম্পাসে যাবো না, আমি তাই করলাম।
দ্বিতীয় দিন সে ক্লাস শেষ এ আমার কথা সাকিব কে জিগ্গেস করেছে,
আমি ক্লাসে যায় না কেন?

সাকিব বলে দিছে ওটা আসলে ভুল বোঝা বুঝির কারনে হয়েছে,
মোটকথা তার রাগ ভাংগাতে যা যা বলা লাগে সাকিব সব বলেছে।
অবশেষ সে আমাকে ক্লাসে যাইতে বলছে, রাতুলের প্রথম প্লানটা
আলহামদুল্লিাহ্ সাকসেস।

তৃতীয় দিন মানে আজ আমার ক্যাম্পাসে যাওয়ার দিন, রেডি হয়ে
বের হচ্ছিলাম এমন সময় ভাবী।
ভাবীঃ রাজ, ক্যাম্পাসে যাচ্ছো?

আমিঃ জ্বি, ভাবী।
ভাবীঃ যা কিছুই করো না কেন সাবধানে করবা কোন কিছুতে
তাড়াহুড়ো করা মোটেও ঠিকনা, এমন কিছু করবা না যাতে পরে
কষ্ট পাও।
আমিঃ তোমার দোয়া আছেনা? ইনশা- আল্লাহ্ ভালো কিছুই হবে।
ভাবীঃ All the best আমার ভাইটা। সাবধানে যেও।
আমিঃ ধন্যবাদ ভাবী জ্বি।

বাসা থেকে বের হয়ে রিক্সা নিলাম, পুরো রাস্তা শুধু টেনশন হচ্ছে।
সে কি বলবে! রাগ কমেছে কিনা আল্লাহ্ ভালো যানে। আমি কাজ টাই যে
আহাম্মক টাইপের করেছি। ভাবতে ভাবতেই ক্যাম্পাসে চলে আসলাম। ।
ক্যাম্পাসের গেট দিয়ে ডুকতে যাবো তখনি হঠাৎ করে আবার ও ধাক্কা লাগলো আমার মায়াবতীর সাথে, সে কথা বলতে
বলতে দ্রুত গেট দিয়ে বের হচ্ছিলো।

আমিঃ আরে আপনি? আজ আবারো ধাক্কা! র্পাথক্য শুধু এটায় আজ আমার না আপনার ফোনটা পরে গেছেআর
আমার ফোন টা সেদিন পরে গিয়ে সুইসাইড করেছিলো তবে আপনার ফোনটার হাত – পা মনে হয় ঠিকই আছে।
সেঃ দেখ সরি, আমার তারা আছে পিল্জ ফোনটা দাও।

সে ফোনটা নিয়ে দ্রুত চলে যাচ্ছে। আর কোন কথায় বললো না।
আমিতো তার জন্যই ক্যাম্পাসে আসলাম সেই যদি না থাকে আমি এখানে থেকে কি করবো! তাকে দেখেও মনে হচ্ছিলো কোন
প্রবলেম হয়েছে। সে রিক্সা খুজছে কিন্তু একটা রিক্সা ও নেই।
আমিঃ কি হয়েছে? কোন তারা আছে বুঝি?
সেঃ দেখ আমি তোমার সাথে না হয় পরে কথা বলবো আমার দ্রুত হসপিটালে যেতে, এদিকে
একঠা রিক্সা ও তো খুজে পাচ্ছিনা।

আমিঃ ২ মিনিট দাড়ান আমি মোড় থেকে রিক্সা নিয়ে আসি। একটু যেতেই একটা রিক্সা পেলাম।
রিক্সা নিয়ে তার সামনে দাড়ালাম। সে আমাকে একটা শুকনো থ্যাংকস দিয়ে রিক্সায় উঠলো।
হঠাৎ মাথার বাত্তি মনে হয় অন হলো। হসপিটালে যাবে, তার মানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ এর দিকেই
তো যাবে। যে কোন বাহানা বানিয়ে তার সাথে রিক্সায় তো ঘোরা যাবে একটু হলেও।
আমিঃ এ মিনিট। এই রিক্সা দাড়াও।
সেঃ কি হলো!

আমিঃ আমি একটু রাজশাহী মেডিকেল এ যাবো। আর্জেন্ট পিল্জ একটু লিফট দেওয়া যাবে?
তার ফেস দেখে মনে হচ্ছে আমাকে নেবার তার বিন্দু মাত্র ইচ্ছেও নেই। ভয় হচ্ছে হইতো না করে দিবে।
সেঃ ঠিক আছে তাড়াতাড়ি উঠো।

১ সেকেন্ড ও সময় না নষ্ট না করে রিক্সায় উঠে গেলাম। মনের মধ্যে লাড্ডু ফুটছে। ওয়ে বলতে আসছিলাম
সরি। আর এতো কাছাকাছি। আল্লাহ ও মনে হয় সাহায্য করছে। আলহামদুলিল্লাহ্।
তার শরীরের ঘ্রাণ যেন ক্লোরোফোম।! মনে হচ্ছে একটু পরেই অজ্ঞান হয়ে যাবো।! আমি চোখ বন্ধ করে ভাবছি।
সেঃ তুমি চোখ বন্ধ করে আছো কেন!

আমিঃ (মনে মনে, সত্যটা বল্লে তো লাথ্থি দিয় রিক্সা থেকে ফালাই দিবেন ) না মানে, চোখে ধুলো লাগছে তো।
সেঃ সানগ্লাস পরলেই তো পারো।
আমিঃ মনে নেই আসলে। একটা কথা বলার ছিলো।
সেঃ হম্ বলো।

আমিঃ সেদিনের ঘটনার জন্য সরি, আসলে আমার বোঝার ভুল ছিলো।
সেঃ সত্যি করে বলবা, তুমি কি শুনে ছিলে?
আমিঃ রাগ করবেন না তো আবার!
সেঃ আমিই জিগ্গেস করছি।
আমিঃ আমি শুনে ছিলাম, আপনি আমাকে ওইটা বলছে আরকি!
সেঃ কোনটা!

আমিঃ I LOVE YOU (যে করেই হোক আবার তোমাকে প্রপোজ করলাম, একদিন বলেই করবো আর সেদিন
তুমি ও রিপ্লে দিবে ইনশাআল্লাহ্ )
সেঃ হা হা হা। কিভাবে ভাবলে এটা বলবো!
আমিঃ ওয়াও হাসলে এতো সুন্দর লাগে!
সেঃ কি বললে?

আমিঃ না মানে, আপনার হাসিটা অনেক সুন্দর। খুব সুন্দর করে হাসতে পারেন আপনি।
সেঃ সেটা জানিনা তবে আজ অনেক দিন পর হাসলাম।
হঠাৎ করেই সে খুব চুপচাপ হয়ে গেল। হইতো তার হাসবেন্ড এর কথা মনে হয়েছে।
সে মন খারাপ করে থাকলে আমার ভালো লাগবে না। কিছু একটা করে তাকে এই চিন্তা থেখে ফিরে আনতে হবে।
একটু পর।
আমিঃ আচ্ছা বললে না তো কেন হসপিটালে যাচ্ছেন?

সেঃ আমার মা একটু অসুস্থ বাবা হসপিটালে নিয়ে গেছে। বাবার ও শরীর টা তেমন ভালো নেই সে জন্যই যাচ্ছি
দুজনকেই ডাক্তার দেখাবো, তারা আমার জন্য হসপিটালে বসে আছে। তা তুমি কেন যাচ্ছো?
আমার প্রশ্নের উত্তর দেবার আগেই রিক্সা রাজশাহী মেডিকেল এর সামনে এসে দাড়ালো।
আমিঃ এইতো হসপিটাল এসে গেছে। সে রিক্সা ভারা দেবার আগেই আমি দিয়ে দিলাম।
সেঃ তুমি কেন দিচ্ছো! আমি দিচ্ছি।

আমিঃ ব্যাপার না আমার কাছে আছে আমি দিলাম। অন্য কোন দিন যদি একসাথে আসা হয়
আপনি দিয়ে দিয়েন। মনে মনে (অগ্রিম বুকিং দিয়ে রাখলাম অন্যদিন রিক্সা চরে ঘুরে বেরানোর জন্য। )
সেঃ বড়রা থাকতে ছোটদের ভাড়া দিতে হয় না।
আমিঃ কে বলেছে! ছোটরা থাকতে বড়দের ভাড়া দিতে হয়না নতুন রুলস। আর আপনার মা- বাবা
অপেক্ষা করছে আপনার জন্য ভিতরে যান।

আর কিছু বললো না, চলে গেল।
এই হসপিটালেই আমার ফ্যামিলি থাকে। মানে বাবা, ভাইয়া, আর আমার ভাবীজান।
ভাবছি ভিতরে যাবো কি যাবো না।! গেলে আরেকটু সময় তাকে দেখা যাবে কিন্তু বাবা যদি দেখে
তাহলে। আবার নানান কথা বলবে। আ্চ্ছা যায় বাবা আর কিবা বলবে।

এখানকার সব ডক্টর র্নাস, কমপাউন্ডার, খুব ভালো করেই চেনে আমাকে। ভিতরের দিকে যেতেই
রিসেপশনিস্ট তাহর ভাই।
তাহের ভাই: আরে রাজ, কেমন আছো ভাই?
আমিঃ এইতো ভাই আলহামদুল্লিাহ্ ভালো, ভাই আপনি কেমন আছেন?
তাহের ভাই : আছি ভাই ভালোই।

আমিঃ আপনার ছেলের পা ঠিক হইছে?
তাহের ভাই : কমছে অনেক খানি। আমার ছেলেটা ভাই খুব দুষ্ট। ১ মিনিট ও বসে থাকে না
ওর যে পা ভেংগে গেছে ও সেটা মনেই করেনা।
আমিঃ ছোট মানুষ তো এখন এইরকম ই হবে, তারপর ও একটু দেখে শুনে রাইখেন।

তাহের ভাই: আমার কথা তাও একটু শোনে ওর মায়ের কথা একেবারেই মানে না, আমি তো সারাদিনই
হসপিটালে থাকি, কেমনে যে কি করি ছেলেটাকে নিয়া। তা রাজ আজ অনেকদিন পর
কি মনে করে?
ভাবীর সাথে দেখা করার জন্য, একটা কাজ ছিলো।
ভাবীর সাথে কি কাজ শুনি?

আমিঃ কে বললো কথা টা! একদম বাবার মতো কন্ঠ।
বাবার মতো না আপনার বাবাই।
পিছনে তাকিয়ে দেখি বাবা! যেখানে বাঘের ভয় সেখানে রাতশেষ হয়! প্রবাদ টা মিথ্যা না।
ভাবছিলাম যেন বাবার সাথে দেখা না হয়। তার সাথেই আগে দেখা হয়ে গেল।
আমিঃ ও বাবা তুমি!

বাবাঃ কেন আমাকে দেখে খুশি হওনি জানি কিন্তু অবাক হবার কারন কি? আমি এই
হসপিটোলে জব করি।
আমিঃ না বাবা কে বলছে খুশি হয়নি। আমি তো খুব খুশি। এই দেখ হাসছি হা হা হা।
বাবাঃ হয়েছে হয়েছে আর অবাক হতে হবেনা। তুমিনা ক্যাম্পাসে গিয়েছিলা এখানে কেন?
আমিঃ ওই যে বাবা মায়াবতী! (হায় আল্লাহ্ কার কাছে কি বলতে যাচ্ছিলাম )
বাবাঃ কি! মায়া কে।?

আমিঃ না বাবা মায়া না। মাইগ্রেন! আমার মাথায় একটু ব্যাথা করছে। মনে হচ্ছে মাইগ্রেন এর ব্যাথা আরকি।
বাবাঃ চল, মেডিসিন খাবি। একটা খেলেই ভালো হয়ে যাবে।


পর্ব ৩

আমিঃ না বাবা, তেমন কিছু না, ভাবীর সাথে কথা
হইছে। দেখি ভাবীর কাছে যাই।

বাবাঃ আমি জানি তুই আর খাবিনা, চল আমি
তোকে দিচ্ছি।
এমন সময় একজন ইমার্জেন্সি রুগি আসলো।
বাবা কে ডাকা হচ্ছে মনে হয় অপারেশন করা
লাগবে।

বাবাঃ আমি যাচ্ছি তুই মনে করে খেয়ে নিস
মেডিসিন।
আমিঃ ওকে বাবা টেনশন নিওনা। আসলে
বাবা আমাকে অনেক ভালোবাসে
হইতো সবার থেকে বেশি কিন্তু প্রকাশ করে
না, ঝগড়া করে এমনি
আমার কিছু হলে বাবা পাগল হয়ে যায়।

ছোট বেলায় একবার খুব জ্বর হয়েছিলো বাবা সেকি কান্না মেয়েদের মতো। আমিও বাবাকে অনেক ভালোবাসি। আসতে আসতে এই ঝগড়ার অভ্যেস হয়ে গেছে বাবা ঝগড়া না করলে আমার ই ভালো লাগেনা এখন।

আমিঃ তাহের ভাই আসি তাইলে।
তাহের ভাই : আচ্ছা ভাই দোয়া রাইখেন।
দ্বিতীয় তলায় ভাবী। ভাবীর কাছেই যাচ্ছি। কিন্তু মায়াবতী কোথায়!
একবার ও তো দেখলাম না? উপরে যাচ্ছি আর
তাকে খুজছি।

ভাবীর রুমে মনে হয় রুগী থাকতে পারে।
থাকুক। আমি একটু দেখা করেই চলে আসবো
দেখা করে না গেলে ভাবী রাগ করবে।
ভাবীর রুমের ডোরটা চাপানো, আমি ডোরটা
খুলেই ভাবী বলে ডাক দিলাম।

ভিতরে গিয়ে দেখি মায়াবতী তার মায়ের।

সাথে ভাবীর সামনে বসে আছে।
আমাকে দেখে মায়াবতী।
মায়াবতী: আরে তুমি এখানে!
আমিঃ ও হ্যা, উনি আমার ভাবী।
সেঃ ওহ্।

ভাবীঃ রাজ। কি হয়েছে তোমার! কোন কিছু
হয়নি তো তোমার?
আমিঃ না, আমার কিছু হয়নি। এমনি একটা
কাজ ছিলো। যাচ্ছিলাম ভাবলাম তোমার
সাথে দেখা করে যাই।
ভাবীঃ কি কাজ?

আমিঃ আছে কাজ বলা যাবেনা।
ভাবীঃ কি এমন কাজ যা আমাকে বলা যাবে না!

আমিঃ আমি গেলাম!
ভাবীঃ আচ্ছা দাড়াও। বলা লাগবে না। আর
তুমি ওনাকে কিভাবে চেনো?

আমিঃ ভাবী, উনি আমার। ইংলিশ টিচার।
ভাবীঃ ওহ হম এখন বুঝলাম কি কাজ ছিলো আপনার।

আমিঃ ভাবী!
ভাবীঃ রাজ তুমি বসো।
আর আপনি মিস অরিন তাইনা?

সেঃ জ্বী আপনি আমার নাম।?
ভাবীঃ রাজের কাছে শুনেছিলাম।
সেঃ ওহ্।
ভাবীঃ তা অরিন কি খাবেন বলেন?
সেঃ না অমি কিছু খাবো না।
ভাবীঃ না খেলে কি করে হবে! আপনি আমার

স্পেশাল গেষ্ট।
সেঃ স্পেশাল গেষ্ট! বুঝলাম না।
ভাবীঃ আপনি আমার রাজের টিচার। আর রাজ কে আমি সবথেকে বেশি ভালোবাসি। আর ও যাদের ভালোবাসে
আমাকে তো তাদের ও ভালোবাসতে হবে
তাইনা?

সেঃ জ্বী!
ভাবীঃ এবার বলেন কি খাবেন? সে বারবার
না করছে। আমি চুপচাপ বসে বসে ভদ্র
ছেলের মতো তাকে দেখছি।
ভাবী ছাড়ার পাত্রী না একপ্রকার জোর
করেই কিছু হালকা নাস্তার ব্যাবস্থা করলেন।

পরে বাধ্য হয়ে সে শুধু এক কাপ চা ই খেল।
ওনার মা কিছু খেল না।
অসুস্থ রুগী। তাই আর দেরি করলোনা ওনার মা
বাবা কে নিয়ে বাসায় চলে গেল।
ভাবী তাকে যাওয়ার সময় আমাদের বাসায়
যাইতে বললেন। ভদ্রতার খাতিরে সে হ্যা বললো।

সে যাওয়ার পর।
ভাবীঃ রাজ!
আমিঃ জ্বী ভাবী জ্বী?
ভাবীঃ তোমার পছন্দ জাস্ট ওয়াও। আমার
খুবই পছন্দ হইছে।

আমিঃ দেখতে হবে তো ভাইটা কার। তার
ভাইয়ের পছন্দ কি করে খারাপ হবে।
ভাবীঃ তা তো বটেই। আমার ভাই বলে কথা।
তবে রাজ এই রাস্তা এতো সহজ হবেনা।

আমিঃ ভাবী আমার কাছে মনে হয় ইচ্ছেটাই সবচেয়ে বড় ফ্যাক্ট।
যদি কোন কাজে নিজের ইচ্ছে থাকে সেই কাজ যতই কঠিন হোক সেটাতে কিন্তু সাকসেস আবশ্যক।
ভাবীঃ তা ঠিক। চেষ্টা করতে থাকো।

ফালাফল ইনশাআল্লাহ্ ভালোই হবে।
আমিঃ কঠিন কাজ না আসলে ভাবী। তোমরা
পাশে থাকলেই হবে।
কে কার পাশে থাকবে?

ভাইয়া।
আমি ; আমার পাশে তোমরা যদি থাকো
হিমালয়ে ওঠা কি ব্যাপার বলো ভাইয়া।

ভাইয়াঃ সব সময় তোর পাশেই আছি।
আমিঃ লাভ ইউ ভাইয়া।
ভাইয়াঃ লাভ ইউ টু। তবে আজ হঠাৎ হসপিটালে
যে? শরীর খারাপ নাকি তোর!
আমিঃ আচ্ছা আগে বলো তোমার কোন রোগ
হইছে নাকি?

ভাইয়াঃ না তো আমার কিছুই হয়নি।
আমিঃ তাইলে তুমি হসপিটালে কি করো?
ভাইয়া: আরে এটা তো আমার জব।
আমিঃ আমার ফুল ফ্যামিলি হসপিটালে থাকে। আমি কি রোগ ছাড়া আসতে পারবো না এখানে?

ভাইয়াঃ রাগ করছিস ক্যান!
আমিঃ সবাই একি কথা বলতেছো ক্যান বারবার?

ভাইয়া ওকে সরি রাগ করিস না।
ভাবীঃ কেন বাবার সাথে ও দেখা হইছে?
আমিঃ হম্ সবার আগেই। যাইহেক ভাবী আমি বাসায় যায়।

ভাইয়াঃ কিছু খেয়ে যা।
আমিঃ না ভাইয়া, এখন আর কিছু খাবোনা।
তোমরা থাকো আর ভাবী বাবা কে বলবা আমি মেডিসিন নিছি।

ভাবীঃ কিসের মেডিসিন!
আমিঃ আর বইলোনা বাবা বারবার জিগ্গেস
করতেছে আমি ক্লাস বাদ দিয়ে
হসপিটালে কেন? তাই বলছি আমার মাইগ্রেন এর মাথা!

বাবা জোর করে মেডিসিন দিতে যাচ্ছিলো।
তখন তোমার কথা বলছি ভাবী দিবে।
ভাবীঃ ওহ্ আচ্ছা ব্যাপার না বাবা আসলে
আমি বলবোনে রাজ মেডিসিন নিছে।
ভাইয়াঃ তোমরা দুজন মিথ্যে কথা বলাও শুরু করছো!

ভাবীঃ না, আসলে কেউ ইচ্ছে করেও মিথ্যা
কথা বললে পাপ। ঠিক আছে
বাবা কে সত্যিটাই বলবো।
আমিঃ ওকে। তবে রাতে আমার খবর আছে তাইলে।

ভাইয়াঃ চিন্তা করিস না আমি বাবাকে বুঝিয়ে বলবোনে।
আমিঃ আচ্ছা ঠিক আছে, আমি আসি তাইলে।
ভাবীঃ দেখে শুনে যেও।
আমিঃ ওকে ভাবী।
হসপিটাল থেকে বের হয়ে সোজা বাসায়
আসলাম। এখন বাসায় কেউ নেই আম্মু কলেজে গেছে।

আলহামদুল্লিাহ্ আজকের দিনটা আমার প্রত্যাশার চেয়ে ও বেশি ভালো ছিলো। লান্স টা করেই ঘুমিয়ে গেলাম। বিকেলে ঘুম থেকে উঠলাম। বিকেল 6 টার দিকে সাকিব আর রাতুল আসলো। বাসায় তখন আম্মু, ভাইয়া ভাবী ও ছিলো শুধু বাবা আসেনি।

কোন একটা জরুরী কাজে আটকে গেছে।

ভাবী রাতুল আর সাকব কে দেখে এগিয়ে
আসলো।
ভাবীঃ কি খবর, তোমরা কেমন আছো?
রাতুলঃ আজ আমাদের চেয়ে ও রাজ বেশি
ভালো আছে ভাবী।

ভাবীঃ কেন!
সাকিবঃ আজ আমাদের রাজ ভাই আর ভাবী
রিক্সা নিয়া ঘুরতে গেছে।
তলে তলে এ কিছু, আর আমরা কিছুই জানলাম
না! খুব খারাপ ই লাগছে।

ভাবীঃ তার মানে তোমরা একসাথে আজ
হসপিটালে গেছিলা?
রাতুলঃ হসপিটাল
আমিঃ জ্বী, হসপিটাল।

রাতুলঃ হসপিটালে কেন?
আমিঃ কেন আবার, ভাইয়া ভাবী কে তাদের
নতুন বোন আর বাবাকে তার নতুন মেয়ের সাথে
পরিচয় করাই দিতে।
সাকিবঃ সত্যি!

ভাবীঃ আরে না, অরিনের বাবা – মা অসুস্থ
তাই চেকাপের জন্য আরকি।
কিন্তু ওরা একসাথে ছিল যে সেটা জানতাম না।

আমিঃ সবাই কোন কিছু না জেনেই আমারে
সেলফিস ভাবা শুরু করে দিছে বাহ্ বেশ ভালো তো।

রাতুলঃ মিস্টেক হইছে বুঝলাম কিন্তু আসল
কাহীনি টা কি এবার একটু বল।

এতো সাসপেন্স

ভালো না বদহজম হয়ে যাবে।
সাকিবঃ হ্যারে রাজ তাড়াতাড়ি একটু বলনা রে।

আমিঃ ওকে। সব কথায় খুলে বললাম ওদের কিন্তু হঠাৎ আম্মু সেখানে হাজির কিছু না বলে চলে যাচ্ছে। আমি দৌড়ে গিয়ে আম্মুকে আটকালাম।
আম্মু : আমি কিছুই শুনতে চাইনা। আমার কাজ
আছে আমাকে ছাড়।
আমিঃ আম্মু I am really sorry এই দেখ কান
ধরলাম যা শাস্তি দাও সমস্যা নাই সব শুনবো।

তার আগে আমার কথাটা পিল্জ শোন।
আম্মু : আগে কই ছিলা?
আমিঃ আগে আম্মু শিওর ছিলাম না।
ভাবীঃ হ্যা মা ওর কথাটা আগে শোন।
রাতুল আর সাকিব ও আম্মু কে রিকুয়েস্ট করছে।
আম্মু : অলরেডি একটা টিম হয়ে গেছে

তাইলে। তা বল এখন কি বলবি।
আমি সব কিছু আম্মুকে বল্লাম। আম্মু চুপ- চাপ

ভাবীঃ হ্যা মা আজ আমি ও দেখেছি। অনেক
সুন্দর আর সবচেয়ে বড় কথা
ব্যবহার খুবই ভালো, আন্তরিকতা বেশি ভালো
লাগছে।
আম্মু : আমি একটু ভাবি। তারপর দেখি কি করা যায়।

আমিঃ আম্মু পিল্জ এখন ই বলো না। আম্মু তুমি
যদি দেখ তুমিও তার প্রেমে পড়ে যাবা।
আম্মু : বাবা এই সমাজ সংসার খুব কঠিন দেখ
রাজ এখানে স্বাভাবিক ভাবে যত প্রশ্নই আসুক
দুটো কথা বেশি আসবে সবার থেকে নাম্বার
ওয়ান : সে তোর টিচার।

আর নাম্বার টু : সে তোর বড়। সে বিধবা এটা
কোন ফ্যাক্ট না। আমার মেয়ে হলে
তার সাথেও হতে পারতো।
আমিঃ আম্মু ধরো তোমার কথায় ঠিক। আমি
এমন আমার ছোট কোন মেয়ে কে বিয়ে করলাম
আর তারপর যদি তার সাথে আমার মনের মিল

না হয়! সংসারে সারা দিন অশান্তি লেগেই থাকবে। হ্যা আম্মু এটা ঠিক অনেক সময় মনের বিরুদ্ধে অনেক কিছুই করতে হয় মেনে নিয়ে সংসার করলেও সেই সংসারে দিন শেষে যে প্রশান্তি থাকা তা কখনোই থাকে না। আম্মু আমি এটা বলছিনা যে ভালোবেসে বিয়ে করলেই সুখি হৗয়া যায়। এখনকার রিলেশনের বিয়ে কেন ভাংগে! মেয়েরা মায়ের বাড়িতে যেভাবে সুখে থেকে প্রেম করে। ভাবে বিয়ের পর ই একি থাকবে।

কিন্তু বিয়ের পর শুরু হয় আসল জীবন।
”আম্মু সংসার জীবনটা আমার কাছে মনে হয় মৌচাকের মতো “ মৌচাকের মাঝে যেমন মধু থাকে। আমাদের সংসারেও সুখ থাকে। দেখ, মধু খেতে চাইলে প্রথমে কি করতে হয়?

মুখ ঢেকে আগুন নিয়ে মৌমাছি
তাড়াতে হয়। তারপর চাক কেটে সেটা
চিপে মধু বের করে খেতে হয়,
এই কাজে যেমন সময় লাগে তেমনি অনেক
রিস্ক ও আছে। কাঠিতে আগুন লাগাতে হাতে
ছ্যাকা লাগতে পারে।

আবার মৌচাক সাধারনত বেকায়দা জায়গা
গুলোতেই হয় বেশির ভাগ, সেখানে উঠতে
গেলে পড়ে যওয়ার রিস্ক,
বেশির ভাগ সময় মৌমাছি আক্রমনের শিকার
হতে হয়। শতকরা 2/1 জন মারাও যাইতে পারে।
ঠিক তেমনি আমরা সংসার শুরুর আগেই সুখ
খুজি আর সেটা না পেয়ে হতাশ হয়ে।
আলাদা হবার ডিসিশন টা হঠাৎ করেই নিয়ে ফেলি।

সংসারে সুখ আর মৌমাছির খাটি মধু পেতে চাইলে কষ্ট তো করতেই হবে।
সংসারে কাজ মেয়েদের এটা প্রায় আমাদের সমাজের 97% ছেলে ভাবে। মানে চাকরী বাকরী করুক কিন্তু দিন শেষে চুলো ও মেয়েই সামলাবে। এটাই প্রায় সব ছেলের ধারনা। সবাই না কিছু ভিন্ন ও আছে। সন্ধায় অফিস শেষে বাসায় এসে খুব ক্লান্ত লাগে। যদি হাজবেন্ড একটু রেস্ট নিয়ে কিচেনে তার স্ত্রী কে একঠু সাহায্য করে।

যেমন : একটু পানি এগিয়ে
দেওয়া, হইতো স্ত্রী গরমে ঘেমে গেছে
তাকে একটু রেস্ট করতে বলা
মানে ছোট ছোট কাজ গুলোতে সাহায্য করা।
এতে করে দুজনের মাঝে আন্তরিকতা বাড়ে।
আর সেই সংসারে সুখ তো

অবশ্যই আসবে তাইনা!
আমাদের সমাজের ও দোষ আছে। কোন
হাসবেন্ড তার স্ত্রীকে কাজে সাহায্য করলে
এ সমাজের মানুষ গুলো তার দিকে
সাধারনত বাকা চোখেই দেখে থাকে।
আমাদের রিলেটিভরাও বলা বলি করে। অমক
বউয়ের গোলাম হয়ে গেছে!
অনেক ছেলে স্ত্রীর কষ্ট দেখে সাহায্য করতে চাইলেও পারে না।

ওই যে কামিনী
রায়ের কবিতার মতো
” পাছে লোকে কিছু বলে “
আমি হিন্দুদের ব্যাপারে তেমন একটা
জানিনা তবে আমরা যারা মুসলিম বলে
নিজেদের দাবী করি তারা কিআসলে কোন মুসলিমের মতো কাজ করি?

বেশি কথানা। “হযরত খাদিজা (রাঃ) এর
জীবনী পড়লেই দেখতে পাড়বেন।
মুহাম্মাদ (সঃ) যত কাজই করুক না কেন একটু
সময় পেলেই খাদিজা রাঃ কে কাজে সাহায্য
করতেন।

হাদিস অনুযায়ী রাসুল (সঃ) এর কথা বা কাজ
সুন্নত। আমি বা আপনি
আমাদের নবীর কথা না মেনে সমাজের
লোকের কথা কেন ভাবি!

খাদিজা (রাঃ) মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সঃ)
এর সাথে 25 বছর সংসার করেছে এক দিন ও
তাদের ঝগড়া হয়নি। আমাদের সংসার, জীবন-
যাপন যদি তার মতো করার চেষ্টা করি
তাহলে কোন অশান্তি আমাদের কাবু করতে
পারবে না।

আম্মু : হ্যা বাবা তুই একদম ঠিক বলেছিস।
আমিঃ আর আম্মু মহানবীর বয়স যখন 25, তখন
খাদিজা (রাঃ) এর বয়স 40 ছিলো
মহানবী তো যুবক ছিলো আর খাদীজা (রাঃ)
এর ওই সময় 2 টা বিয়ে আগেই হয়েছিল।

এবং যদিও সন্তান গুলো মারা যায় তারপর ও
2/3 জন বাচ্চা ও হয়েছিল। মহানবী সঃ
খাদীজা রাঃ এর একজন Kormochari ছিলেন
মাত্র।
তাহলে এই সমাজ আমাকে কেন মেনে নিবে
না! আম্মু?

আম্মু : আমার আর কোন আপত্তি নেই।
আমিঃ আম্মু I LOVE YOU।
আম্মু : তুই চিন্তা করিস না তোর বাবাকে
ম্যানেজ করার দায়িত্ব আমার।
ভাবীঃ রাজ আজ আমি তোমার ভাইয়াকে সব
বুঝিয়ে বলবো।

রাতুলঃ তোর মতো বন্ধু পাওয়া ও ভাগ্যের
ব্যাপার।
আমিঃ আমিতো নতুন করে কিছুই বলিনি, যা
সত্য সেটাই একবার উপস্থাপন করলাম।
আমাদের চোখের সামনে সব কিছুই থাকে
আমরা দেখে ও দেখিনা।
সাকিবঃ দেখেওে দেখিনা মানে?

আমিঃ এ দেখ তুই টিভির দিকে তাকিয়ে
আছিস। যা কিছুই হোক দেখছিস। কিন্তু
কেউ যদি তোকে জি্গ্গেস করে সাকিব কয়টা
বাজে? ততখনাৎ উত্তর দিতে পারবিনা।
পুনরায় দেখে
তারপর বলতে হয়। ঠিক তেমন ই। দেখেও
দেখিনা।

সাকিবঃ হ্যা ঠিকই বলছিস।
আমিঃ এখন আমার কোন চিন্তা নেই আমার
কাজ এখন তাকে ইমপ্রেস করা।
আম্মু দোয়া কইরো তো।
আম্মু : ফি আমানিল্লাহ্।

part_04

আজ সকাল সকাল রেডি হয়ে ক্যাম্পাসে গেলাম। অনেকটা আগেই আসছি,
মেন কেউ নেই সবাই আসার আগ পর্য্ন্ত গেটের দারোয়ান চাচার সাথে গল্প করবো
বলে ভাবলাম।

আমিঃ আসসালামু আলাইকুম চাচা কেমন আছেন?
চাচা: এইতো বাবা, আল্লাহ্ যেইরকম রাইখা ভালোবাসে।
আমিঃ আপনার বাসা কোথায়?

চাচা : বেশিদুর না সামনেই।
আমিঃ আপনার বাসায় কে কে থাকে? আপনার ছেলে মেয়ে নাই।
চাচা : আমরাই দুই বুড়া আর বুড়ি থাকি। একটা পোলা ছিলো
এক্সিডেন্ট করে মইরা গেছে।

কথাটা বলতে গিয়ে ওনার কন্ঠসর ভারী হয়ে গেছে। বাবা বেচে থাকতেই
ছেলের মৃত্যু! এটা কোন বাবার মেনে নেওয়াটা খুব কঠিন।
আমি আর প্রশ্ন করার সাহস পেলাম না।

আমিঃ আল্লাহ্ তায়ালার সব কাজের মধ্যেই মজ্ঞল নিহিত আছে,
আচ্ছা চাচা আমাকে আপনার বাসায় একদিন দাওয়াত দিয়েন। আমিও তো আপনার
ছেলের মতোই। আমার নাম এস, এ, রাজ এই ভার্সিটি তে ইংরেজিতে পড়তেছি।
চাচা : আচ্ছা বাবা সময় করে একদিন যেও তোমার চাচি খুশিই হইবো।
আমিঃ ইনশা- আল্লাহ্।

কথা বলতে বলতে সময় হয়ে গেল। সব স্টুডেন্টরা আসা শুরু করছে।
রাজিব আর সামি আমার ক্লাসমেট।
রাজিব : রাজ তুইতো ক্যাম্পাসেই আসিস না ঠিক মেতো ইদানিং নিয়মিত কেন!
কাহিনী কিরে।
আমিঃ আরে ভাই কোন কাহিনী নাই প্রতিটা স্টুডেন্ট এর নিয়মিত ক্লাস করা উচিৎ।
সামি : ভুতের মুখে রাম নাম!
আমিঃ কেন তোরা কি চাস না আমি ক্যাম্পাসে আসি? !

রাজিব : কেন চাইবো না! আগে তো দেখিনি তাই কিউরিয়াস আরকি।
ওদের সাথে কথা বলতে বলতেই সাকিব আর রাতুল এসে হাজির।
রাতুলঃ তুই এতো তাড়াতাড়ি আসছিস আজ? আর এদিকে আমরা তোর
বাসায় গিয়েছিলাম এক সাথে আসবো বলে।
আমিঃ আগে বলবিলা! আমি কি জানতাম নাকি।
সাকিবঃ রাজ!
আমিঃ হম্ বল?

সাকিবঃ ম্যাম আসতেছে। ওয়াও শাড়ী টা তো বেশ সুন্দর।
সবাই তার দিকেই তাকালো। এমনেই সুন্দর তার মাঝে শাড়ী গুলা যা
পড়েনা একদম পরী লাগে।, মায়াবতী রোজ রোজ তোমার প্রেমে
পড়ি। বিশেষ করে তোমার দুটো চোখ! কিযে মায়া লুকানো আছে
তোমার মায়ার সাগরে বারবার ডুবে যেতে ইচ্ছে করে। তোমার থেকে নিজেকে
দুরে আটকিয়ে রাখা দিন দিন কষ্টকর হয়ে উঠছে।

রাতুলঃ রাজ! চল ক্লাসে যাই।
আমিঃ তার ক্লাস তো সেকেন্ড প্রিয়ডে। আমি যাবো না ক্লাসে তোরা যা।
রাতুল, সাকিবরা চলে গেল
প্রায় সব টিচার রা ক্লাসে যাচ্ছে। একটু পর টির্চাস রুমে শুধু সে একা! এই ফাকে আমি
টির্চাস রুমে।
আমিঃ আসতে পারি?

সেঃ হ্যা আসো। তুমি?
আমিঃ হ্যা আমি।
সেঃ তোমার না ক্লাস হচ্ছে।?
আমিঃ (আপনার ক্লাস হলে তো কথা ছিলো না )হ্যা হচ্ছে মনে হয়।
সেঃ ক্লাসে যাওনি কেনো?

আমিঃ রফিক স্যারের ক্লাস বোরিং লাগে। তাই যাইনি।
সেঃ কোন টিচারের ব্যাপারে এভাবে বলতে হয়না।
আমিঃ সরি। আসলে ওই ক্লাসটা করতে ইচ্ছে করছেনা।
সেঃ আমার কাছে কি কোন কাজ ছিলো?
আমিঃ (সব কাজ তো আপনার কাছেই ) হ্যা একটু কথা ছিলো আরকি।
সেঃ বলো কি বলবা।

আমিঃ (বলতে তো অনেক কিছুই চাই বলতে আর কই দিচ্ছেন )
হ্যা মানে (কি বলবো! ) ওই যে গতকাল আপনার মা –বাবাকে দেখলাম অসুস্থ
তারা এখন কেমন আছে?

সেঃ বয়স্ক মানুষ তো ছোট খাটো রোগ ব্যাধি লেগেই থাকে তবে আগের থেকে কম একটু।
আমিঃ যাক তাও ভালো, টেনশনে ছিলাম।
সেঃ তোমার কিসের টেনশন!

আমিঃ না, ইয়ে মানে, দেখুন। আপনার মা – বাবা অসুস্থ থাকলে আপনি টেনশনে থাকবেন
অর টেনশনে আপনি ও অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন।
সেঃ তাতে তোমার কি টেনশন!

আমিঃ (আমার ই তো টেনশন, আমার হবু স্ত্রী অসুস্থ থাকলে, আমি কেমনে ভালো থাকবো! )
আরে আপনি অসুস্থ থাকলে তো কলেজ এ আসতে পারবেন না, আর আমাদের ইমপটেন্ট ক্লাস
গুলো মিস হয়ে যাবে। সেই টেনশন।
সেঃ অহ্ তাই বলো। আমি কি না কি ভাবলাম।
আমিঃ (যাক ভালো ভাবেই গুল খাওয়াইতে পারছি ) কি ভাবলেন আপনি?
সেঃ না কিছুনা।
আমিঃ পিল্জ বলুন কি ভাবছেন?

সে কিছু বলার আগেই কয়েকজন টিচার রুমে আসতেছে দেখে
আমি ওখান থেকে দ্রুত চলে আসলাম।
তারপর প্রায়ই আমি ওই প্রশ্ন টা করতাম কিন্ত কখনো আর উত্তর দেননি
বারবার এড়িয়ে গেছেন কিন্ত আমি জানি উনি কি ভাবছেন। শুধু তার মুখ তেকে শোনার জন্যই
বারবার তাকে একি কথা জিজ্ঞাসা করতাম।

এভাবেই চলছে এখন হইতো সে বুঝতে পারে আমি তাকে পছন্দ করি।
একটা ছোট্র ফেন্ডশিপ হয়েছে আমাদের মাঝে।
সে মাঝে মাঝেই বিভিন্ন ভাবে আমাকে বোঝাতে চেষ্টা করে, ,
”রাজ তুমি যা চাইছো তা পসিবল না “ আমি বারবার তার কথা না বোঝার
ভান করে এবোয়েট করতে থাকি।
ফাস্ট ইয়ারের ফাইনাল এক্সাম শেষ, বেশ কিছুদিন ভার্সিটি বন্ধ!
আজব ব্যাপার হলো আমি একটা দিন ও ক্লাস মি করিনি।

আমার ডির্পাটমেন্ট এর সবচেয়ে নিয়মিত স্টুডেন্ট আমি।! কিন্তু সমস্যা
হলো তাকে না দেখে থাকা আমার পক্ষে পসিবল না। তাই
প্রতিদিন বিকেলে তার এলাকায় যাই কিন্তু সে বাসা থেকে বের ই হয়না
তেমন একটা কি করা যায়! 7 দিনের মাঝে মাত্র একদিন দেখেছি।

আজ গিয়ে দেখি বাসায় তালা দেওয়া! পাশের দোকানি থেকে জানতে পারলাম
তারা কোথাও ঘুরতে গেছে! পাগল পাগল লাগছে এমন সময় সাকিবের ফোন।
ফোনটা বিরক্তির সাথে রিসিভ করলাম।
আমিঃ সাকিব এখন কথা বলতে ভালো লাগছেনা পরে ফোন দিস।
সাকিবঃ দরকারি কথা ছিল।
আমিঃ পরে বলিস।

সাকিবঃ অরিন ম্যামের ব্যাপারে।
আমিঃ তাহলে তাড়াতাড়ি বল।
সাকিব: ফোনে বলা যাবেনা, আমি আর রাতুল। আমাদের স্কুল মাঠে
বসে আছি তুই আয়।

আমিঃ দারা আমি আসতেসি।
স্কুল মাঠে গিয়ে দেখি রাতুল আর সাকিব বসে আছে।
আমিঃ সাকিব তুই যেন তার কথা কি বলতে চাইলি?
রাতুল ; আসছিস 2 মিনিট বস তারপর বলা যাবে।

আমিঃ না রে আমায় তাড়াতাড়ি বল ভালো লাগছেনা আমার।
সাকিবঃ বলার জন্যই তো তোকে ডেকে আনলাম।
আমিঃ তাইলে দেরি কিসের! বল।
সাকিবঃ ম্যাম সিরাজগন্জ তার চাচাতো বোনের বিয়েতে গেছে।
আমিঃ ঠিকানাটা বল আমি যাবো।
রাতুলঃ এভাবে গেলে প্রবলেম হবে।

আমিঃ যা হয় হোক আমার আমি তাকে না দেখে থাকতে পারবো না।
রাতুলঃ এখানে তোর প্রবলেম এর কথা বলা হচ্ছে না, তুই একবার ঠান্ডা
মাথায় ভেবে দেখ! সেখানে ম্যাম একানা তারপর গ্রামের মাঝে। তুই এইভাবে ওখানে
গেলে ম্যামকেই সবাই আর চোখে দেখবে।
আমিঃ হম্। কিন্তু। ওকে যে কোন একটা ব্যাবস্থা কর।
রাতুলঃ আমার কাছে একটা প্লান আছে। । কাজটা হলে
খুব সহজেই বিনা দ্বিধায় ওই বাসায় এন্ট্রি নিতে পারবি।

আমিঃ কি প্লান জলদি বলনা। প্লিজ।
রাতুলঃ আমাদের প্লানটা বললো।
আমিঃ সবই ঠিক আছে কিন্তু নিজের র্স্বাথে কারো ক্ষতি করা কি ঠিক হবে!
সাকিবঃ আরে ভাই “ এভরিথিং ইজ ফেয়ার ইন দ্যা লাভ এনড ওয়ার ”
আমিঃ কোন আবুলে যে কথা টা বলছিলো আল্লাহ্ ভালো জানে। এর জন্য
কত প্রেমিক হিংস্র হয়ে কত জনের যে ক্ষতি করেছে কে জানে।

রাতুলঃ কারো বিশ্বাস লাভ না করে ওই বাড়ি তে ঢোকা পসিবল না,
আর বাই চান্স ঢুকলেও বেশি সময় টেকা যে সম্বভ না। এখন তোর
হাতে সব বেশি ভালো হইতে গেলে।

হইতো একবার দেখা পাইতে
পারিস কিন্তু আমার প্লান মোতাবেক চললে পুরো বিয়েতে সন্মানের
সাথে ওই বাড়িতে থাকতে পারবি। তো কোনটা চাস?
সাকিবঃ এতো ভাবা ভাবির কি আছে! হ্যা বলে দিলেই হয়।
কিছু পেতে চাইলে সব সময় সোজা রাস্তায় হাটলে পাওয়া যায় না রে।
আমিঃ ওকে আমি রাজি আছি।

রাতুলঃ আজ রাত 8 টার ট্রেন রাজশাহী টু সিরাজগন্জ।
আর তোকে না জানিয়েই টিকিট কাটাও শেষ! কারন যার সাথে
টিকেট কাটবো সে আগেই কাটছে তার পাশের সিটটা তোর
দরকার ছিলো। তোর হ্যার অপেক্ষায় থাকলে আর
ওই ছেলের পাশের সিট পেতাম না!

আমিঃ তোদের মতো যাদের বন্ধু আছে তাদের নিজেদের
নিয়ে কিছু ভাবার দরকার নেই।
সাকিবঃ ক্রেডিট শুধু আমাদের না। আমাদের মাস্টার
প্লানার ও আছে ভাই।
আমিঃ কে!
রাতুলঃ ভাবী।
আমিঃ ভাবী!

রাতুলঃ হ্যা ভাবী। আজ কয়েকদিন যাবত
তুই ঠিক মতো কোন কিছুই করসিস না এটা ভাবী
দেখতে পারেনি তাই সাকিব কে বলেছিলো ম্যামের খোজ নিতে।
তারপর সব শুণে আমরা তিনজন মিলে এই প্লান করেছি।
ওদের কথা শুনে আমি শুধু অবাক ই হচ্ছি। ভাগ্যবান আমি
খুশিতে কান্না পাচ্ছে।
শক্ত করে ওদর জড়িয়ে ধরলাম। খুব ভালোবাসিরে তোদের।
সাকিব, রাতুলঃ আমরাও।

আমিঃ আমি না হয় যাবো কিন্তু ভারাটে গুন্ডা কই পাবি!
সাকিবঃ সেই চিন্তা তোর করা লাগবেনা তোর কাজঠা ঠিক মতো
করিস তাইলেই হবে।
রাতুলঃ রাজ বাসায় যা আর সব কিছু রেডি করে স্টেশনে আয় ওখানেই
বাকি কথা হবে।
আমি বাসায় গিয়ে সোজা ভাবীকে জড়িয়ে ধরে কেদে দিছি
ভাবীঃ আরে, আরে কাদছো ক্যনো! রাজ প্লিজ কান্না থামাও
কি হয়েছে বলো?

আমিঃ আই লাভ ইউ ভাবী। তুমি এতো কেন ভালো বলো তো!
ভাবীঃ আই লাভ ইউ টু। আমি আমার একমাত্র ভাইটাকে ভালো
না বাসলে কাকে ভালোবাসবো? কিন্তু এখন কি হইছে!
আমিঃ তুমি জানোনা!
ভাবীঃ বুঝতেছিনা।

আমিঃ সিরাজগন্জ যাওয়ার ব্যাপারটা?
ভাবীঃ ওহ্। ভালো কথা মনে করাই দিছো। তোমার
ব্যাগ প্যাক করা রেডি। আমি শুধু তোমার ক্যামেরার
লেন্সটা খুজে পাইনি। তারপর ও ব্যাগটা একবার চেক করে
নিও সব ঠিক আছে কিনা।

ভাবীর কাজে মাঝে মাঝে অবাক হয়ে যাই। কোন মাটির
তৈরি সে! আল্লাহ্ পরম মমতায় বানিয়েছে তাকে।
ভাবীঃ রাজ দারাই আছো কেন! সময় নাই তো।
আমিঃ ওকে ভাবী।
ব্যাগে আমার প্রয়োজনীয় সব কিছুই আছে। আজ থেকে
কয়েকদিন আমার নতুন নাম হবে “ ফটোগ্রাফার

এসরাজ “

বাসা থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসলাম।
আসার সময় আম্মু টাকা দিছে, ভাবী টাকা দিছে। আমার কাছে
টাকা আছে বলার পরও জোর করে দিয়ে দিছে। যত টাকা
এখন আমার কাছে আছে অন্তত ৪৷৫ টা জেলা ভালো ভাবেই ঘোরা যাবে।

সাড়ে সাত টা্য় স্টেশনে গেলাম। রাতুল আর সাকিব দাড়িয়ে আছে
আমার জন্য ৮ টায় ট্রেন ছাড়বে। কিন্তু যার জন্য দেড়ি করা হচ্ছে
সে এখনো আসেনি।
যাইহোক ওরা আমাকে ট্রেনে উঠিয়ে দিয়ে চলে গেল।
একটুপর ট্রেনটা ছেড়ে দিলো। বেশ ভালোই লাগছে
অনেকদিন পর ট্রেন ভ্রমোন। আর সবচেয়ে বেশি ভালো লাগছে
আমার মায়াবতী কে দেখবো।

আমার ঠিক সামনেই
একটা ছেলে বসে আছে। রাতের ট্রেন তো মেন মানুষ নেই
এই বগিতে শুধু আমরা দুজন ই।
আমি আমার ব্যাগটা ক্যামেরাসহ উপরে রাখলাম।
একটুপর।
আপনার নাম কি ভাই?
আমিঃ এস, এ, রাজ। আর আপনি?
ছেলেটা : আমার নাম জাবির রহমান। আপনি কোথায়
যাচ্ছেন?

আমিঃ আমি একজন ছোট খাটো ফটোগ্রাফার। একটা বিয়ের
ফটোশুটের আফার পাইছি তো তাই আরকি।
জাবিরঃ আগে কখনো সিরাজগন্জ আসছিলেন?
আমিঃ না এইবারই প্রথম। চিনি না স্টেশনে ওদের একজনের আসার
কথা আমাকে রিসিভ করার জন্য।
জাবিরঃ আমিও বিয়েতে যাচ্ছি।
আমিঃ ফটোগ্রাফি করতে?

জাবিরঃ না, আমার বোনের বিয়ে।
আমিঃ ওহ্। বেশ ভালো তো।
আস্তে আস্তে বেশ ক্লোজ হয়ে গেলাম দুজন, আপনি থেকে
তুমিতে চলে আসা। আমরা সেম ইয়ার ও ঢাকাতে
পড়ে ঢাকা থেকে রাজশাহী গেছে সরাসরি। কাকে নাকি
ইনভাইট করতে তারপর এখন বাড়ী যাচ্ছে।

একটুপর।
আমিঃ তুমি একটু বসো। আমি ওয়াশ রুম থেকে আসি।
জাবিরঃ ঠিক আছে যাও।
ওয়াশ রুমে গিয়ে রাতুল কে ফোন দিলাম।
আমিঃ কিরে কি খবর?
রাতুলঃ তুই কই?

আমিঃ ওয়াশ রুমের সামনে।
রাতুলঃ ৫ মিনিট দাড়িয়ে থাক ঘড়ি ধরে ওখানে।
তারপর সিটে যাবি।
কথাটা বলেই ফোনটা কেটে দিলো রাতুল।
একটুপর আমি আমার সিটের দিকে যাচ্ছিলাম।
৩/৪ জন লোক মাস্ক পড়া। জাবির কে মারতে যাচ্ছে।

আমি ওদের বাধা দিতে গেলে ওরা চাকু দেখিয়ে ভয়
দেখাচ্ছে। জাবির আমাকে আটকাচ্ছে তারপরও আমি বাধা দিচ্ছিলাম
। একজনের হাতের চাকু আমার ডান হাতের
তালুতে লাগে। প্রায় অনেক খানি কেটে গেল। ফিনকি দিয়ে রক্ত
বের হচ্ছে লোক গুলো সেটা দেখে তাড়াতাড়ি পালালো
যতক্ষনে টিসি আসলো ওরা হাওয়া হয়ে গেছে।

টিসি কোথা থেকে যেন ফাস্টেড বক্স নিয়ে এসে ব্যান্ডেজ করে দিয়ে গেল।
এদিকে জাবিরের সব কিছু ছিনতাই কারীরা নিয়ে গেছে। আমার ব্যাগটা
উপরে ছিলো ওরা হইতো দেখেনি।
জাবির শুধু আমাকে নিয়ে টেনশন করছে।
একটুপর রাতুলের ফোন জাবির আমার জন্য পানি আনতে গেছে।
রাতুলঃ সরি রে। যে লোক গুলাকে ঠিক করেছিলাম ওরা ট্রেন মিস
করেছে।
আমিঃ কি! তাহলে এরা কারা ছিলো।?

রাতুলঃ কারা?
আমিঃ একটু আগেই যারা জাবিরের উপর হামলা করেছিলো!
রাতুলঃ আমাদের লোক তো আমার সামনে।
আমিঃ হম্ উল্টো বাশটা আমিই খাইলাম।
রাতুলঃ কেন কি হয়েছে?
আমিঃ আমি ভাবলাম তোর লোক তাই বেশি হিরোগিরি দেখাইতে
গিয়া হাত কেটে গেছে।!

রাতুলঃ বেশি কাটেনাই তো? !
আমিঃ ডান হাতের পুরো তালু কেটে গেছে। প্রচুর রক্ত পড়ছে।
রাতুলঃ সরি রে। ধুর কি হইলো।
আমিঃ যাইহোক এই কথা যেন বাসায় না জানে। জানলে কিন্তু
তোর খবর আছে।
এমন সময় জাবির আসলো।

  • কে ফোন করেছে?
  • আমার ফ্রেন্ড রাতুল, আমাকে ট্রেনে উঠায়
    দিয়া গেছে।
  • ওহ।
  • এই যে পানি, ব্যাথার ঔষধ টা খেয়ে নাও।
    ট্রেন থেকে নেমে কোন ক্লিনিকে যেতে
    হবে মনে হয় সেলাই ও দেওয়া লাগতে পারে।
  • হ্যা ঠিকই বলেছো।

কথা বলতে বলতে ৩ ঘন্টার ট্রেন র্জানি শেষ
হলো প্রায় ১১ টা বাজে।
স্টেশনে ট্রেন থামার পর রাতুল কে টেক্স
করলাম অন্য নাম্বার থেকে ফোন করতে।

  • রাজ কই কাউকে তো দেখছি না, চলো আগে
    ক্লিনিকে যাওয়া যাক।
  • আমিও তো বুঝতেছিনা কেউ নেই কেন!
    এমন সময় ফোন।
  • হ্যালো কে রাজ বলছেন?
  • জ্বী আমি রাজ বলছি।
  • আপনার জন্য লোক পাঠানোর কথা ছিলো
  • হ্যা কিন্তু সে কই?
  • সরি ভাই আর পাঠানো হলো না।
  • মানে কি ভাই?
  • আসলে যার জন্য আপনাকে দরকার ছিলো
    সে বাসা থেকে পালিয়ে গেছে গতকাল
    রাতে।
  • এখন আমি কি করবো?
  • ভাই সরি।
  • আপনার সরি নিয়া আমি খাবো নাকি!
    চিনি না জানি না অচেনা একটা শহরে এখন
    কই যাবো আমি? রাতে আর ট্রেন ও নেই।
  • কাল রাতের ঘটনা এখন ক্যানো বলছেন।
  • ভাই আপনার কথা মনে ছিলোনা
    মেয়েটাকে খুঁজতে খুঁজতে।
  • এখন ক্যামনে মনে পড়লো! কোন পীর বাবা
    স্বপ্নে আসছীলো নাকি!
  • ভাই আপনার রাগ করার ই কথা সরি ভাই।
  • আপনার সরি নিয়া আমি ধুয়ে কি তাবিজ
    খাবো নাকি! ফোন রাখেন মিয়া।
  • কি হয়েছে রাজ?
  • আর বইলোনা মেজাজ টা খারাপ করে
    দিছে।
  • কি বললো ফোনে?
  • যার বিয়েতে ফটোগ্রাফির কথা ছিলো সে
    গত কাল রাতে বাসা থেকে পালিয়ে গেছে।
    এখন তুমিই বলো অচেনা একটা শহরে আমি কই
    যাবো এখন?
  • রাজ ওনাদের উচিৎ ছিলো তোমায়

জানানো তবেঁ বাসার মেয়ে এভাবে চলে
গেলে কারো মাথায় ঠিক থাকেনা।
সেইদিক থেকে ওনাদের ভুল টাও ধরা
যাচ্ছেনা।
ওসব থাক আগে তুমি ডাক্তারের কাছে
চলো।

  • ওকে।
  • কিন্তু রাজ তুমিতো সব জানো আমার সব
    ছিনতাই হয়ে গেছে আমার কাছে তো টাকা
    নেই তুমি বরং বসো দেখি বাসায় কাউকে
    ফেক্সিলোডের দোকান থেকে ফোন দিয়ে
    টাকার ব্যাবস্থা করি।
  • জাবির তোমার টেনশন করতে হবেনা
    আমার কাছে টাকা আছে।
  • ওকে। তাহলে চলো।

কড্রার মোরের পাশেই একটা প্রাইভেট
ক্লিনিক আছে আমরা ওখানেই গেলাম।
হাতে দুটো শেলায় পড়েছে দু তিনটা ইনজেকশন ও লাগাতে হলো একটা এন্টি সেফটিকএকটা শুকানোর জন্য একটা ব্যাথার জন্য।

কিছু মেডিসিন ও দিলো প্রায় আড়াই হাজারের মতো খরচ হলো।
জাবির ছেলেটা অনেক ভালো।
সব সময় আমার পাশেই আছে।

  • রাজ একটা কথা বলি।
  • হ্যা বলো।
  • আমার বোনের বিয়েতে ফটোগ্রাফি করবা?
  • (আমার উদ্দেশ্য তোঁ এটাই ছিলো ভাই)
    তোমরা তোঁ মনে হয় আগেই কাউকে ঠিক করে
    রাখছো।
  • না, আমিই করতে চাইছিলাম।
  • তাইলে তোঁ হলোই।
  • না, মানে তুমি যদি করতে আমার উপকার হতো। বোনের বিয়ে বাড়িতে তো অনেক কাজ সব বাদ দিয়ে ফটোগ্রাফি করলে ওই
    কাজ গুলা কে করবে?
  • হ্যা তাও ঠিক।
  • তোমার হাতে তোঁ!
  • ব্যাপার না, আমি পারবো আর যত গুলা
    ইনজেকশন দিছে দেইখো কালকের মাঝেই
    হাত ঠিক হয়ে যাবে।
  • ধন্যবাদ তোমাকে।
  • আরে জাবির ধন্যবাদ তোঁ তোমাকে। তুমি
    না থাকলে
    আমি এখন যে কই যাইতাম!
  • না ভাই আমার ই উপোকার হলো তাইলে
    চলো এখান থেকে বাসায় যাইতে আর ও এক
    দেড় ঘন্টা লাগবে গ্রামের ভিতর তোঁ।
  • ভেজ্ঞে ভেজ্ঞে না যেয়ে একদম ভাড়া
    নিয়ে নিই একটা সিএনজি।

আর হ্যা আর একবার ও টাকার কথা মুখেও
আনবানা ওকে?

  • হম, কিন্তু
  • বলছিনা আগেই, কোন কিন্তু না। চলো
    অনেক রাত হয়ে যাচ্ছে।
  • আচ্ছা চলো।
  • জাবির তুমি সিএনজি ঠিক করো আমি ২
    মিনিট আসছিপাশের দোকান থেকে।
  • আচ্ছা তাড়াতাড়ি এসো।
  • জাবিরের জন্য একটা ফোন কিনলাম
    অনেক ভালো একটা ছেলে সে।

তাই একটু তোঁ হেল্প করাই উচিৎ ওর জন্যই তোঁ
আমি আমার মায়াবতী র কাছে যেতে
পারবো।

  • জাবির সিএনজি ঠিক হইছে?
  • হ্যা ওঠো। কই গেসিলা?
  • এটার জন্য
  • কি এটা?
  • খুলেই দ্যাখোনা?
  • সুন্দর তোঁ ফোনটা।
  • তোমার জন্য পছন্দ হইছে?
  • আরে আমার জন্য এতো টাকা খরচ করছো
    ক্যানো! আমার কাছে এখন এতো টাকা
    নেই আপুর বিয়ে এমনি অনেক টাকা খরচ
    হচ্ছে।
  • আচ্ছা আমাকে তোমার ফ্রেন্ড ভাবোনা
    তুমি?
  • হ্যা ভাবি তো।
  • তাহলে! আমি আমার ফ্রেন্ড কে গিফট
    দিতেই পারি
    তবেঁ তুমি যদি আমায় ফ্রেন্ড না ভাবো সেটা
    আরেক কথা তাহলে ফিরাই দিতে পারো।
  • রাজ তুমি কিন্তু ইমোশনাল ব্লাকমেইল
    করতেছো।
  • ওয়াও দোস্ত, আমার মাঝে যে এই গুনটা আছে
    জানতাম ই না
    ফাইন্ড আউট করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ
    দোস্ত।
  • রাজ তুমি না একটা।
  • জাবির এই তুমি তুমি করতে কেমন যেনো
    লাগছে আমি আমার ফ্রেন্ডস দের তুমি টুমি
    বলতে পারিনা।
  • বেশ তোঁ তুই করেই বলা হোক।
  • আচ্ছা জাবির বাসায় কি বলবি তাইলে
    আমার ব্যাপারে?
  • সত্যিটা যদি বলি ওরা ছিনতাই এর ব্যাপার
    টা শুনলে টেনশন করবে। বাবা এমনেই
    অসুস্থ এই খবর শুনলে ভেজ্ঞে পড়বে একটু
    মিথ্যে বলতে হবে।
  • কেমন মিথ্যে?
  • বলবো ব্যাগটা ঢাকায় ভুলে রেখে
    আসছি। আর ফোনে চার্জ ছিলোনা তাই
    কন্ট্রাক করতে পারিনি।
  • আর আমার ব্যাপারটা?
  • বলবো তুই আমার ফ্রেন্ড অনেক দিনের
    পরিচয় আর ভালো ফটোগ্রাফার ও তাই
    তোকে নিয়া আসছি।
  • প্লান কিন্তু খারাপ না।
  • আসলে মা বাবাকে টেনশন ফ্রি রাখতে
    মাঝেমধ্যে মিথ্যে টা বলতে হয়।
    জানি মিথ্যে বলা পাপ তবেঁ নেক্সট টাইম
    থেকে আর বলবোনা।
  • ভেরি গুড।

প্রায় অনেক্ষন পর ওদের গ্রামে আসলাম
রাত প্রায় সাড়ে ১২ টা বাজে গ্রাম তোঁ
তাই সবাই ঘুমিয়ে গেছে।
সিএনজি থেকে নামার পর পায়ে হেটে একটু
যেতে হয়।

পিপুলবাড়িয়া থেকে একটু ভিতরের দিকে
সবাই ঘুমিয়ে আছে। শুধু ওর মা আর
কয়েকজন জেগে আছে।
ভিতরে ডুকে কি দেখবো রাত হইছে
সকালে ভালো করে দেখা যাবে সব।

  • জাবির বাবা এতো রাত হইলো ক্যানো?
    (জাবিরের মা)
  • মা বেশি তো দেড়ি হয়নাই রাস্তাঘাট এর
    ব্যাপার না।
  • একটা ফোন ও তো দিতে পারতি রে বাবা,
    তোর বাবা কতবার দিলো রানুও(জাবিরের
    বোন) কতবার দিলো।

মা ফোনে চার্জ নাই।
সেই কখন খাইছি খাইতে দিবা নাকি পুলিশের
মতো জেরাই করবা?

  • হাত মুখ ধুয়ে আয় ওটা কে?
  • ওহ ও মা বলাই হয়নাই ওর নাম রাজ আমার বন্ধু।

আর মা ও ভালো ফটোগ্রাফার ও মানে ও আপুর বিয়েতে সবার ছবি তুলে দিবে।

  • ওহ, যাক বাবা ভালো করছিস। যাও বাবা তুমিও যাও হাত মুখ ধুয়ে আসো। আমি তোমাদের খাওয়ার ব্যবাস্থা করি।
  • জ্বি আচ্ছা

ফ্রেস হয়ে তোঁ আসলাম কিন্তু খাবো কিভাবে!

  • রাজ বাবা তোমার হাতে কি হইছে!
  • মা, আজকে আসার সময় বাসের সাথে।

ধাক্কা লাগতে গেসিলো আমার ও আমাকে বাচাতে গিয়ে হাত কেটে ফেলছে।

  • আহারে বাবা এখন খাইবা ক্যামনে!
    বাবা তুমি যদি অমত না করো আমি উঠায় খাওয়াই?
  • এতে অমতের কি আছে কাকিমা? এটা তো আর ও ভালো হলো।
    (আপনি তো আমার মায়াবতী র কাকীমা তাই আমার ও)
  • আচ্ছা বাবা।
  • খাওয়া দাওয়া তো হলো আমার চোখ শুধু তাকে খুঁজছে কিন্তু সে কই! হইতো ঘুমিয়ে পড়েছেরাত তো কম হলোনা।
  • রাজ কি ভাবছিস?
  • কিছুনা ভাই।
  • চল ঘুমাবি। সারাদিনের প্রচন্ড ক্লান্তি শোয়ার সাথে সাথে ঘুম এক ঘুমেই ভোর হয়ে গেছে। ৭ টার দিকে ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার আগেই জাবির উঠে গেছে। রাতে অবশ্য ওয়াশ রুম দেখছি লাইটের আলোতে দিনের আলোতে ভুলে যাবো কিনা! কে যানে ব্রাশ হাতে নিয়ে টিউবওয়েল এর দিকে যাচ্ছিলাম। হঠাত মায়াবতীর সামনাসামনি!

পর্ব ৫

  • রাজ!
  • হ্যা!
  • তুমি এখানে! আমি কি স্বপ্ন দেখছি নাকি!
  • OMG! আপনি আমাকে নিয়ে স্বপ্ন ও দ্যাখেন!
    আগে জানা ছিলোনা তোঁ?
  • তুমি এখানে কি করছো!
  • আমার ও একি প্রশ্ন আপনি এখানে ক্যানো!
  • আমার কাজিনের বিয়েতে আমি থাকবোনা তো কে তুমি থাকবা!
  • হ্যা অবশ্যই, এইযে আমিও আছি।
  • রাজ ফান না করে সত্যি টা বলো?
  • আমি তোঁ ফান করছিনা, আমি সত্যি ই বলতেছি।
  • অরিন আপু ও আমার ফ্রেন্ড আর ফটোগ্রাফার ও (জাবির)
  • কত দিনের ফ্রেন্ডশিপ!
  • আচ্ছা দারুন মানুষ তোঁ আপনি! আমি কি অপরাধ করেছি কোন! পুলিশের মতো জেরা করতেছেন! জাবির তোর আপুর যদি তার বিয়েতে আমার ফটোগ্রাফি করা পছন্দ না হয় সমস্যা নেই আমি চলে যাচ্ছি এখনি।
  • আরে রাজ ওনার বিয়ে না উনি আমার চাচাতো বোন। (জাবির)
  • যাও তুমি আমার ফটোগ্রাফার পছন্দ হয় নি। (মায়াবতী)
  • হি হি হি আপনার পছন্দ না হইলে কিচ্ছু যায় আসেনা।

বিয়েটা তো আপনার না গোঁ। (আমি)

  • রাজ থাম তোঁ চল তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে নে আমার ক্ষুধা লাগছেতোর জন্য ওয়েট করতেছি।
  • তুই খেয়ে নেআমি সকালে খাইনা।
  • সত্যি তোঁ?
  • হ্যা।
  • আচ্ছা তাইলে আমি খেলাম।
  • ওকে যা।
  • এই তুমি মিথ্যে কথা ক্যানো বললে খাওনা!
  • তাতে আর কার কি যায় আসে আমি খাই বা না খাই আমাকে তোঁ আর কারো পছন্দ ও নাহুম।
  • রাজ হাতে কি হইছে তোমার!
  • বক্সিং করতে গিয়া হাত ফাইটা গেছে।
  • কি হইছে বলবা তোঁ। ওহ এইজন্য ই খাবা না তাইনা?
  • আপনার তাতে কি বলেন তোঁ।
  • না খেলে তো শরীর খারাপ করবে।
  • আমি আপনার কি লাগি যে মায়া লাগছে?
  • কিছুইনা তুমি আমাদের গেষ্ট, আমাদের গেস্ট না খেয়ে থাকবে এটা দেখতে তো ভালো দেখায় না তাই।
  • হুম বুঝলামকিন্তু মাই ডিয়ার ম্যাম আমি আমার হাত দিয়ে খাইতে পারবোনা।

কিভাবে খাবো।

  • কখন আসছো?
  • গতকাল রাতে।
  • তার মানে রাত থেকে ই কিছু খাওনি?
  • না, রাতে তোঁ খাইছি আমার চাচী শাশুড়িমা নিজ হাতে তুলে খাওয়াইছে।
  • চাচী শাশুড়ী মানে!
  • আপনার চাচী তোঁ আমার চাচী শাশুড়ি ই হবে তাইনা!
  • রাজ তুমি না একটাযাও এখান থেকে।
  • যাচ্ছিলাম ই তোঁ কে কথা শুরু করছে!
  • যাও তোঁ।
  • হ্যা যাচ্ছি তবেঁ যাওয়ার আগে একটা কথা শুনবেন?
  • কি? তাড়াতাড়ি বলো
  • এতো তাড়াহুড়ো ক্যানো!
  • কাজ আছে আমার।
  • কি এতো কাজ আপনার!
  • তোমার সাথে ফালতু কথা বলে সময় নষ্ট করতে
    চাইনা।
    কি বলবা বলো না হলে আমি গেলাম।
  • ওকে ওকে বলতেছি।
  • বলো।
  • আমার মায়াবতী কে খুব সুন্দর লাগছে কিন্ত।
    হা হা হা রাগ করে চলে গেলো রাগলে তো ভারী মিষ্টি লাগে দেখতে। আমি জানি আমাকে দেখে আপনার ভালোই লাগছে যতই মুখে অস্বিকার করেন না ক্যানো।

আমি ছেড়ে দেবার পাত্র নই সেটা হইতো এই এক বছরে ভালো করেই বুঝছেন আপনি আপনার মুখ থেকে ওই থ্রি ম্যাজিক ওয়ার্ড আমি বের করবোই।

আগামীকাল রানু আপুর গায়ে হলুদ আজ থেকেই প্রাই আত্ত্বীয় স্বজন আসা শুরু করছে সকাল শেষে দুপুর আর দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যে প্রচণ্ড ক্ষুধাও লাগছে হালকা পাতলা কিছু খাইছি অবশ্য কিন্তু ভাত না খাওয়া পর্যন্ত ক্ষুধা যাবেনা। কাউকে বলতে পারছিনা বাম হাত দিয়ে তোঁ আর খাওয়া যায় নাজাবিরের মা বলেছে কয়েকবার কিন্ত মেয়ের বিয়ে সব কাজ বাদ দিয়ে আমাকে তুলে খাওয়াইতে কিভাবে বলি। সবাই শুধু খাইতেই বলে আর খাওয়াই দ্যায় না জাবির ওর বাবার সাথে কাকে যেনো দাওয়াত দিতে গেছে।

আমি একা বাকি যারা আছে বাড়ীর ভিতরে জাবিরদের বাড়ীর সামনে গাছের বাগান আছে। মাঝখানে একটা ব্রেঞ্চ পাতা আছেপাশের দোকান থেকে এক বোতল পানি আর একটা মিস্টার কুকি নিয়ে ব্রেঞ্চ
টা তে বিস্কিট খাচ্ছিলাম সুন্দর চাঁদ উঠেছে। কিন্তু এখন শুধু একটা কথায় মনে হচ্ছে “ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমারাত যেনো ঝলসানো রুটি” মনে হইতেছে চাঁদ টাকে লাঠি দিয়ে পেরে চিবিয়ে খেয়ে ফেলি।

কে যেনো কাধে হাত দিলো।

  • কে কে! আরে বাবা গ্রামে তোঁ ভুত ও থাকে ফোনটাও বাড়ীর ভিতর রেখে আসছি গাছের ছায়ায় বোঝা যাচ্ছে না কে।
  • কে আপনি? প্লিজ কথা বলুন এভাবে ভয় দেখাবেন না হুম আমি কন্তু ভয় টয় পাইনা চিৎকার দিবো কিন্তু।
  • ভয় পাওনা তাইলে চিৎকার দিবা ক্যান!
  • ওহ আপনি! কথা তো বলতে পারেন এইভাবে কেও!
  • বাব্বাহ এতো সাহসী ছেলেও ভয় পায়! আজ জানলাম।
  • মজা নিয়েন না হুম, আমি ভয় পাইনা।
  • হুম, সেটা তোঁ দেখলাম ই। কি খাচ্ছো?
  • মিস্টার কুকি খাবেন?
  • না তোমার জন্য খাবার আনছি খাও।
  • ওহ বুঝলাম মজা নিতে আসছেন।
  • এভাবে ক্যানো বলছো!
  • তা নইতো কি! আপনি তোঁ জানেন ই আমার হাত টা কাটা আমি হাত দিয়ে খাইতে পারতেছিনা।
  • রাজ, আমি জানি জাবির তোমার বন্ধু ছিলোনা কেন আসছো সেটাও জানি।
  • জানেন ই যখন জিজ্ঞেস করছেন ক্যানো?
  • হাত টা কিভাবে কাটলো সেটা বলো? দ্যাখো অন্তত আমার কাছে মিথ্যে বলবানা।
  • জাবির আর আমি একসাথে ট্রেনে আসছিলাম, জাবির ছিনতাই কারীর কবলে পড়ছিলো ওকে বাচাতে গিয়ে ছিনতাইকারী দের একজনের হাতের চাকু লেগে আমার হাত কেটে গেছে।
  • ডাক্তার দেখাইছো।
  • ট্রেনেই ফাস্ট্রেড বক্স ছিলো আর ট্রেন থেকে নেমে ক্লিনিকে গিয়েছিলাম দুটো শেলাই পড়েছে।
  • ক্যানো যেঁ হিরোগিরি দেখাইতে যাও না। এখন চুপ করে বসো এদিকে হা করো।

সে আমাকে খাওয়াই দিচ্ছেআমার কান্না পাচ্ছে। ইচ্ছে করছেজড়িয়ে ধরে বলি আই লাভ ইউ। জানি আমি যেভাবে সব কিছু সহজ ভাবি তার জন্য এতোটা সহজ না মেনে নেওয়া। সে যদি আমার কেয়ার ই না করতো কখনওই খাবার নিয়ে আসতোনা কই আর কেও তোঁ আসলোনা।

পুরো খাবারটাই খেয়ে নিয়েছি এই সময় একটা কথাও
বলিনি আমি শুধু তাকেই দেখছি।
চাঁদেরকণা যেন তার মায়াবী চেহারাকে আরো
মায়ামোহ করে তুলেছে।

  • রাজ একটা কথা বলার ছিলো।
  • একটা ক্যানো! হাজারটা বলেন আমার শুনতে
    সমস্যা নেই।
    আমি
    তোমার ভাবনা কে সন্মান করি। এসব চিন্তা বাদ দিয়ে
    ঠিকঠাক ভাবে পড়াশোনা করো
  • আমার পড়াশোনা নিয়ে ভাবা লাগবে না। আর
    কোনটা পসিবল না! আমায় একটু বলেন তোঁ।

আপনার যদি ভয় হয় এসব এ আপনি আমাকে বলেন
আমি আপনাকে নিয়ে অন্য কোন বিভাগে চলে
যাবো যেখানে কেও আমাকে, আপনাকে চিনেনা।
আর তারপর ও যদি না হয় আমরা দেশের বাহিরে চলে
যাবো।

আমার বা আমার ফ্যামিলির এতে কোন সমস্যা নেই।
আমার ফ্যামিলি আমাকে প্রচন্ড ভালোবাসে। আপনি
তো আমার ভাবীর সাথে কথাও বলেছেন।

  • না রাজ, সাপোস তোমার কথা মানলাম তোমার
    ফ্যামিলি আমাকে না তোমার চাওয়া কে মেনে নিবে
    অপছন্দ হলেও হইতো।
  • হা হা হা একদম ভূল ধারণা আপনার আমার ফ্যামিলি
    ভালোবাসে ঠিক আছে কিন্তু অন্ধ্যের মতো
    না যে যা চাইবো তাই ভুল হলে সেটা বুঝিয়ে
    অবশ্যই বলবে
    আমার মাও রাজশাহী গার্লস কলেজের প্রিন্সিপ্যাল
    সে কিভাবে ভুল করবে!
    আপনি একটা কথা জানেন?
  • কি?
  • আম্মু প্রথমেই আপনার কথা শুনে একবার শুধু
    বল্লো আপনার ইচ্ছেটাই সব আম্মুর কথা তার
    মেয়ে র সাথেও এমন কিছু ঘটতে পারতো।
    আরেকটা কথা কি জানেন?
  • আমার আম্মুর মেয়ে নেই

তার বড় ছেলের যে বউ এটা অনেক এ জানে না। তার মেয়ে হিসেবেই জানে অনেকে তোঁ ভুল করে ভাবীর বিয়েও নিয়ে আসে।
সেই ফ্যামলির মানুষ গুলা আপনাকে মেনে নিবে না
তা কি করে হয় বলুন?

  • রাজ ওসব জানিনা।
    কেও আসতেছে তুমি থাকো

আর হ্যা আমি সব বেলায় খাওয়াইতে পারবোনা
অনেক মেহমান আসবে তারা বাজে ভাববে এটা
গ্রাম সাবধানে চলাচল করবা।

  • ঠিক আছে কিন্তু রাতে আপনি না খাওইলে আর
    খাবোনা কিন্তু এখানেই ওয়েট করবো
    রোজ।

একটু পর জাবির আসলো।

  • রাজ চল খাবি।
  • আরে না ভাই তুই খা।
  • তুই খাবিনা কেন!
  • আমি খাইছি।
  • কে খাওয়াইলো?
  • আর বলিশনা বিকেলবেলা ঘুমাইছি কে যেন আইসা
    খাওয়াই দিলো।
  • আরে বেটা ওইডা স্বপ্ন ছিলো।
  • না দোস্ত আমিও তাই ভাবছিলাম, কিন্তু পরে দেখি
    আমার পেট ফুল হয়ে আছে।
  • কে আসছিলো স্বপ্নে!
  • কে আবার তোর ভাবী।
    অন্য কেও নট এলাঊড।
  • রাজ ফান করিস না চল খা।
    আমি খাওয়াই দিবো।
  • না ভাই, আমি একটা কথা শুনছি।
  • কি কথা?
  • ছেলে মানুষ তুলে খাওয়াইলে নাকি আগামী ১০
    বছর বিয়ে শাদী হয় না।
  • কি যে বলিস না ফালতু কথা।
  • না ভাই আমাই রিক্স নিতে পারবোনা আমি তাড়াতাড়ি
    বিয়ে শাদী করতে চাই।
  • কবে বিয়ে করবেন রাজ সাহেব?
  • কে বললো কথাটা!?
  • আরে রানু আপু যেঁ?
    সারাদিন এ বিয়ের কনে কে দেখাই আর
    গেলোনা সেই যে সকালে কথা হলো
    তারপর এই রাতে।
  • আর বইলোনা অরিন আপু আমারে দিয়ে সব
    কাজ করায় আমার বিয়ে হচ্ছে কোথায় আমি
    পায়ের উপর পা তুলে বসে বসে খাবো তা না
    আপু বসে থাকে আর আমারে কাজ করায় জানো
    হিটলার একটা।
  • তাইনাকি মিস অরিন!
  • ওই মিথ্যে কথা বলছিস?
  • আর রানু আপু আমি অবশ্য ওনাকে সারাদিন কাজ
    করতেই দেখেছি।
  • এমনি বললাম রাজ, আপুই সব কাজ করছে সারাদিন
    আপু কিছু খায়নি এতো করে বললাম খেতে
    খাচ্ছেনা।
  • চুপ কর তোঁ রানু।
  • আরে আপনি এখনো খাননি?
  • আরে না ও মিথ্যে বলছে।
  • আপু এইবার কিন্তু তুমি মিথ্যে বলছো।
  • আরে আমি তোঁ খেতেই যাচ্ছি।
  • খেতেই যাচ্ছি মানে! এটা কিন্তু আপনি ঠিক
    করেননিএতো কাজ করছেন আর এখনো
    খাননি। আপনি তো অসুস্থ হয়ে যাবেন! এখন যান
    তো খেতে যান।
  • হুম।
  • হুম কি! যান
    তার মানে আমি খাইনি দেখে সেও খায়নি! ধুর এটা
    কিন্তু সে ঠিক করেনি। সারাদিন বলে ভালোবাসি না আর আমার জন্য ঠিকি কষ্ট
    পায়।
    ফোনটা বেজে উঠলো

আমার সেদিকে খেয়াল ই নেই।

  • রাজ, তোমার ফোন বাজছে।
  • ওহ আচ্ছা একটু বাহিরে যাচ্ছি।
  • হেই আমার সুইটহার্ট ভাবীজান কেমন আছো?
  • এতোক্ষণে তাইলে মনে হলো! তা আবার
    আমি ফোন দেবার পর! সেই গতকাল

রাত থেকে তোঁ ভুলেই গেছো তারে পেয়ে
আমাদের।

  • তোমাদের কিভাবে ভুলি আসলে একটু ব্যাস্ত
    ছিলাম সারাদিন একটু ভালো ও লাগেনি তাই ফোন
    দেওয়া হয়নি সরি।
  • এখন হাতের অবস্থা কেমন?
  • হাতের অবস্থা মানে?
  • হাত যে কেটে ফেলছো।
  • তোমাকে কে বলছে! ওহ তার মানে রাতুলের
    বাচ্চা সব বলে দিছে! কতবার করে না করলাম।
  • না করলাম মানে কি? যদি বড় কিছু হয়ে যেতো
    দ্যাখো যা ইচ্ছে করো আমার কোন আপত্তি
    নেই কিন্তু নিজের ক্ষতি করে না এগুলা আমার
    কাছে একদম লুকাবা না, মনে থাকবে?
  • জ্বি ওকে।
  • খাইছো?
  • একটু আগেই।
  • কিভাবে খাচ্ছো! খুব কষ্ট হচ্ছে তাইনা!
  • হ্যা হচ্ছিলো তবেঁ এখন আর

কষ্ট হচ্ছে না মনে হচ্ছে হাত কাটাটা ভালোই
হইছে।

  • ছিঃ এভাবে বলতে নেই।
  • জানো ভাবী, আমি সকাল থেকে কিছু খাইনি তাই
    সেও খায়নি।
  • সকাল থেকে না খেয়ে আছো”! এই তুমি বাড়ি
    চলে আসো।
  • ভাবী শোননা আরে ভাত খাইনি অন্য কিছু
    খাইছিতো।
  • সে যে খায়নি তুমি কিভাবে জানলে?
  • রানু আপু বল্লো।
  • রানু কে?
  • যার বিয়ে সে।
  • ওহ।
  • এখন কিভাবে খাইছি জানো?
  • কিভাবে?
  • সে খাওয়াই দিছে।
  • রাজতাইতো বলি আমাদের কিভাবে ভুলে
    গেলা, এতো আদর যত্ন পাইলে তোঁ ভুলবাই।
    তবেঁ আমি মিস করতেছি তোমাদের।
  • তাইলে চলে আসো।
  • ইচ্ছে করতেছে খুব যেতে।
  • রাজ কই তুই কাজ আছে এদিকে আয় (জাবির)
  • ভাবী রাখি পরে কথা হবে।
  • ভালো থেকো আর তাকে আমার হা

বইলো।

  • ওক্কে।
  • রাজ কই ছিলি।
  • ভাবী ফোন দিছলো তোঁ, কথা বললাম।
  • আচ্ছা যাই হোক, কালকের স্টেজ টা কিভাবে
    সাজাবো মানে কোন কোন কালার হবে?
  • ওই দোকান টা কই?
  • বেশি দূর না।
  • চিন্তা করিস না, কাল সকালে আমি তোর সাথে গিয়ে
    সব ঠিক করে নিয়ে আসবো।
    এখন তোঁ কাজ নেই কারো চল একটু রানু আপুর
    সাথে গল্প করে আসি।
  • হ্যা চল আমিও তাই বলতে যাচ্ছিলাম, কাল দিন পর
    তোঁ পরের বাড়ী চলে যাবে।
  • হেই জাবির মন খারাপ করিস ক্যান এটাই তোঁ
    নিয়মরে পাগলা।
    চল

রুমে রানু আপুর সাথে আমার মায়াবতী ও আছে।

  • আরে জাবির, রাজ দরজায় দাঁড়িয়ে আছো ক্যানো!
    ভিতরে আসো।
  • না ভাবলাম আমারা এলাউড কিনা।
  • ভায়েরা তার বোন কে দেখতে আসবেনট
    এলাউড ক্যানো হবে শুনি?
  • না এমনি আরকি।
  • আচ্ছা রাজ তুমি তোঁ বল্লা না তখন আমরা বিয়ে খাচ্ছি
    কবে?
  • পাত্রী তোঁ রাজিনা, আমি তো আমার দুই হাত, পা,
    চোখ, মুখ সব কিছুর উপরেই রাজী আছি।
  • তা মেয়েটা কে?
  • সেটা তো জানিনা রানু আপু?
  • খুঁজবো নাকি!
  • তা অবশ্য মন্দ না খোজ।
  • কেমন হতে হবে ভাবীকে?
  • আপু আমার না টিচার টাইপ বউ পছন্দ।
  • ক্যানো?
  • কারন এরা সংসার টা ভালো বোঝে।
  • কিভাবে?
  • দ্যাখো আমার কাছে মনে হয় আরকিএরা যেমন
    ক্লাসের ভালো স্টুডেন্ট কে ভালো করলে
    ভালোবাসে আর ভুল করলে সুন্দর করে শাসন
    করে।

তেমনি স্বামী কে ভালো ও ভাসবে আবার ভুল
করলে শাসন ও করবে।

  • বাব্বাহ এতো কিছু জানো সংসার এর ব্যাপারে?
  • জানার চেষ্টা করছিকাজে লাগবে।
  • টিচার হলেই হবে?
  • না না, দেখতে কিউট হতে হবে।
  • কেমন কিউট?
  • এই যে মায়াবতী র মতো।
  • মায়াবতী কে!
  • কেও না, ধরো অরিন ম্যামের মতো।
  • আপুকে পছন্দ হয় নাকি!
    আপু কিন্তু সিংগেল।
  • রানু চুপ করতোএতো কথা ক্যানো বলিস
    তোরা?
  • রানু আপু হ্যা পছন্দ হচ্ছেআর সিংগেল না
    থাকলেই বা কি!
    উনি যদি ডুয়েট ও থাকত তাও ট্রাই করতাম।
  • ক্যানো?
  • আরে আপু, ফুটবলে তোঁ গোল কিপার থাকেই
    তাই বলে কি ফুটবালার রা গোল দ্যায় না?
    তা অরিন ম্যাম আপনি রাজি আছেন তোঁ?
  • রাজ খুব ইন্টেলিজেন্ট তুমি।
  • তারিফ কে লিয়ে শুকরিয়া।
  • উফফ ফালতু সব কথা শুনে মাথা ব্যাথা করছে আমার
    থাকো তোমরা, এই জাবির শোন তোঁ একটু
    কাজ আছে।

সে জাবির কে নিয়ে চলে যাচ্ছে আমি তাকিয়ে
তাকিয়ে দেখছি

  • অহু কি দেখছো ওভাবে?
  • কই আপু, কিছুনা জাবিরটা চলে গেলো আমাকে
    একা রেখে তাই।
  • জাবির নাকি অন্য কেও! হুম?
  • না আপু অন্য কে হবে! জাবির ই।
  • আচ্ছা বাদ দাও আচ্ছা তুমি তখন বলছিলা না
    স্বপ্নে কেও খাওয়াই দিছে তোমারে।
  • হুম।
  • কে সে?
  • তা তো জানিনা।
  • হুম কিন্তু আমি জানি।
  • মানে!
  • মানে আমি জানি তোমার সেই স্বপ্নওয়ালীকে।
  • আপু ফান করতেছো?
  • নাহ, অরিন আপু ছিলোনা সে?
  • না তোঁ!
  • হা হা হা গাছের বাগানের মাঝে বসেও স্বপ্ন
    দেখা যায় দিবা স্বপ্ন তাই না?
  • না মানে
  • আমি দেখেছি আমার কাছে লুকাতে হবেনা।
    প্রথমে আপুকে চুপ করে খাবার নিতে দেখলাম

আমার কাছে আজিব লাগলো! আরে আপু একবার
ক্যানো দশবার খাক আপুকে তো কেও কিছুই
বলবেনা।, তাহলে চুপ করে ক্যানো জিজ্ঞেস
করতেই যাবো দেখি আপু বাহিরে যাচ্ছে আপুর
পিছ পিছে গিয়ে দেখি তুমি!
আমার কাছে আশ্চর্য লাগছে ব্যাপার টা কারন
আপু ছোট থেকে বড় হয়েছে কত ছেলে

আপুকে ইমপ্রেস করার চেষ্টা করেছে আপু
কখনো কারো দিকে তাকাই ও নি। আর যার সাথে
বিয়ে হয়েছিলো তাকেও আপু দ্যাখেনি কাকা
আর কাকীমার পছন্দমত বিয়ে কিন্তু ভাগ্যের নিমর্ম
পরিহাস সংসার টা হলোনা আসলে ভালো মানুষ এর
জীবনে কষ্ট বেশি হয়।

আর তখন ই আমার বুঝে আসলো আপু সারাদিন
ক্যানো না খেয়েছিলো।

  • ক্যানো?
  • কারন তুমি খাওনি।
    জেনে হোক বা না জেনে অনেক ইমপটেন্স
    দ্যায় তোমাকে!

রাজ একটা সত্যি কথা বলবা?

  • হ্যা বলো।
  • তুমি কি সত্যিই ভালোবাসো নাকি এসব এমনি?
  • সত্যি বলতে একদম সত্যিকার এর। নিজের
    থেকেও বেশি
  • আপু তো তোমার থেকে বড়।
  • ওসবে আমার কিছু যায় আসেনা,
    ভালোবাসা তোঁ ভালোবাসায় এতে বয়স বাধা হতে
    পারে বলে আমার মনে হয় না।

আমি জানি সেও আমাকে পছন্দ করে কিন্তু স্বীকার
করতে চায় না।

  • আপুর জন্য এটা এতো সহজ না স্বীকার করা।
  • হ্যা আমি জানি, সহজ না। মেনে নিলেই তো আর
    প্রব্লেম হয় না, আমি আর আমার ফ্যামিলি ঠিক থাকলেই
    তোঁ হলোআর কে কি বল্লো ওসবে কি যায়

আসে?

  • হ্যা ১ বছরভর হলো করছি।
  • আমার আগেই সন্দেহ ছিলো তোমরা আগে
    থেকেই একে অপরকে চিনো কিন্তু সবার

সামনে তোঁ মনে হয় আজকেই প্রথম দেখা।

  • আমার লাভ কি সস্তা নাকি যে সবাই বুঝতে পারবে?
  • হ্যা তা তোঁ অবশ্যই।
    রাজ আরেকটা কথা।
  • হুম বলো।
  • দ্যাখো আপুর মন এমনি একবার
    ভেজ্ঞেছেপ্লিজ দ্বিতীয় বার যেনএই
    রকম না হয়, আপু আর সহ্য করতে পারবেনা রাজ।
  • ওসব নিয়ে ভাবতে হবে না, আমি যদি
    কোনোদিন স্বপ্নেও তাকে কিছু বলার চেষ্টা করি
    আমার ফ্যামিলি আমার ১২ টা বাজাবে।

আমার আম্মুর তোঁ মেয়ে নেইতার ছেলের
বউদের নিজের মেয়ের থেকেও বেশি
ভালোবাসে।

  • রাজ যাও ঘুমাও অনেক রাত হয়েছে(মায়াবতী)
  • জো হুকুম ম্যাই ডিয়ার ড্যাশ!
  • এই ড্যাশ কি রাজ (রানু আপু)
  • ওইটা সিক্রেট আপুজি।
  • ওই রানু ঘুমা তোঁ, আর ওকে যাইতে দে।
  • হুম যাচ্ছি গুড নাইট, হ্যাভ এ রাজ ড্রিম।
  • হা হা হা রাজ ভাই গুড নাইট (রানু আপু)
  • আচ্ছা অরিন আপু একটা সত্যি কথা বলবা?
  • দ্বারা দরজাটা লাগিয়ে দিয়ে আসি।
  • লাইট টাও অফ করে দিও।
  • হুম।
  • আপু।
  • হ্যা এখন বল, কি বলবি?
  • তুমি কি রাজ কে ভালোবাসো?

পর্ব ৬

  • কি বললি! (অরিন)
  • তুমি যা শুনলে তাই বললাম (রানু)
  • এসব ফালতু কথা রেখে ঘুমা তোঁ কাল না তোর গায়ে হলুদ!
  • সেটা আমি ভালো করেই জানি।
  • ওকে ঘুমা, বাই গুড নাইট।
  • ক্যানো লুকাচ্ছো!
  • কি লুকাইলাম!
  • আবার রিপিট করতেছিতুমি কি রাজ কে ভালোবাসো?
  • না, আর এটা তুই কিভাবে ভাবলি! ও জাস্ট আমার স্টুডেন্ট।
  • শুধুই কি স্টুডেন্ট!
  • হ্যা শুধুই স্টুডেন্ট।
  • হ্যা আমি তোঁ কোথাও দেখিনি স্টুডেন্ট না খেয়ে থাকলে তার টিচার ও না খেয়ে থাকে আর পরে নিজে তাকে খাওয়ানোর পর সে খায়।
  • কি সব আবোলতাবোল বকছিস!
  • হ্যা কেও বললে বিশ্বাস হতো না কিন্তু নিজের চোখ কে কিভাবে অস্বীকার করি বলো ত?
  • ছেলেটা সারাদিন কিছু খায়নি হাত দিয়ে খেতে পারছেনা তাই বিপদে পরে তাকে খাওয়াইছি এতেই কি প্রেম হয়ে গেল নাকি।
  • আর তোঁ কেও গেলোনা!
  • হইতো দ্যাখেনি।
  • তুমি কিভাবে দেখলে!
  • আমার চোখ দিয়ে দেখলাম আজিব প্রশ্ন করিস না তুই।
  • হ্যা তার মানে আর কারো চোখ নেই।
  • আমি সেটা বলিনি।
  • কি বলছো তুমি?
  • চুপ করতো।
  • আচ্ছা বুঝলাম, ভার্সিটি টিচার রা কত দয়াবতী হয় স্টুডেন্ট না খেয়ে থাকলে টিচার তুলে খাওয়াই। আগে জানা ছিলোনা তোঁ।
  • রানু চুপ করতো।
  • এখন তো বলবাই এই কথা আর তোমার না খাওয়ার ব্যাপার টা বললা না!
  • উফফ তুই যেঁ কি শুরু করলি আমি ওর জন্য কেন না খেয়ে থাকবো! আজিব না! সারাদিন কাজ ছিলো ভালোলাগছিলোনা তাই খাইনি।
  • ভালোই মিথ্যে কথা বলা শিখতেছো আগে তোঁ কখনো মিথ্যে বলোনি তুমি আপু?
  • রানু চুপ কর ও আমার স্টুডেন্ট রানু আর আমি ওর থেকে না হলেও ৬/৭ বছরের বড় হবো আর সবচেয়ে বড় সত্য আমি একজন বিধবা।
    রাজ না হয় ছোট মানুষ বোঝেনা পাগলামো করে কিন্তু তুই! আমি এটা এক্সপেক্ট করিনি তোর কাছে।
    আমি রাজের ব্যাপারে এসব স্বপ্নেও ভাবতে পারিনা।
  • তোমার চোখ কিন্তু সেটা বলেনা আপু রাজ যখন তোমার সামনে থাকেতোমার চোখে মুখে এক অন্যরকম আভা বিরাজ করে আমি বেশ কয়েকবার লক্ষ্য করেছি।
  • তুই কবে থেকে প্রেম বিশারদ হয়ে গেলি!
  • এতে বিশারদ হবার দরকার নেই এমনেই বোঝা যায়।
  • তুই বকবক করতে থাক আমি ঘুমাবো সকালে অনেক কাজ আছে আমার।
  • কতদিন এভাবে নিজেকে আড়াল করে রাখবা!

নিজেকে ঠকিও না আপু রাজ তোমাকে সত্যিই অনেক ভালোবাসে
এই বয়স, টিচার্স, বিধবা এই সব সস্থা এক্সকিউস দিয়ে নিজেকে নিজের সত্তা থেকে আড়াল করে দিওনা আপু।
তুমি রাজের সাথে ভালো থাকবা অন্য কোথাও না।

  • এই রানু এইসব ফালতু কথা আমি বুঝিনা, ঘুমা তোঁ।
  • বোঝনা নাকি বুঝেও বুঝতে চাইছো না কোনটা?
  • তুই যদি চুপ না করোস আমি রুম থেকে চলে যাবো।
  • হ্যা যাও কতদূর ভাগবা! নিজের থেকে খুব বেশি দূরে যাওয়া যায় না আপু।
  • আমি একটা কথা ভাবতেছি তুই ইঞ্জিনিয়ারিং না পরে ওকালতি পড়লে বেশি ভালো হতো।
  • সত্য কথা বলতে ওকালতি পড়তে হয়না।
  • ওরে আমার মা তোর পায়ে পড়ি এবার চুপ যা আমাকে প্লিজ ঘুমাতে দে।
  • যাও কথা নেই তোমার সাথে।
  • এটা ভালো ছিলো। গুড নাইট

এই রাজ উঠ না ভাই(জাবির)

  • কয়টা বাজে?
  • সকাল ৬ টা।
  • ওই ৬ টা কোনদিন সকাল হয়! এখনো অনেক রাত তুই ও ঘুমা আমাকেও ঘুমাতে দে।
  • সবাই ঘুম থেকে উঠছে প্লিজ উঠনা আমার সাথে চল কাজ আছে তোকে কিছুই করতে হবে না জাস্ট আমার সাথে যাবি।
  • এই রাত ৬ টায় কি শুরু করলি ভাই আমি তোরে ললিপপ কিনে খাওয়াবো আমায় ছাড়া যাগুড নাইট।
  • এই দ্যাখ এটা কি?
  • চোখ খুলতে পারবোনা, বল
  • এটা একটা বালতি আর এতে পুরো পানি আছে।
  • ওহ সায়েন্টিস্ট হবি বুঝি? পরীক্ষানিরীক্ষা করবি? হ্যা বেশ ভালো চালিয়ে যা
  • হ্যা তাই ভাবতেছি কেও ঘুম থেকে না উঠতে চাইলে এই ঠান্ডা পানি তার শরীরে ঢাললে কি ধরনেই প্রতিক্রিয়া হয় সেই পরীক্ষা।
  • ওহ ভালো, কবে করবি?
  • এখন, এই মূহুর্তে।
  • আশেপাশে তো কেও নাই।
  • তুই আছিস না!
  • কিহ দিলি তোঁ সব ঘুম নষ্ট কইরা।
  • এখন যান ফ্রেস হয়ে আসেন।
  • এর প্রতিশোধ নিবো আমি একবার ঘুমাই দেখ তারপর।
  • সে পরে দেখা যাবে।
  • ফাজিল ছেলে এখনো সকাল ই হয়নি! আরে বাইরে লাইট লাগাইছে বুঝি আরে না তোঁ এতো সকাল সকাল সূর্যি মামা উঠতেছে ক্যারে!
    একরাশ বিরক্তি নিয়ে ব্রাশ হাতে টিউবওয়েল এর দিকেই যাচ্ছিলাম!

মায়াবতী এতো সকালে গোছল করে! OMG ওয়াও এতো সুন্দর আর বড় চুল! আগে কখনো দেখা হয়নিমাথায় তোঁ সব সময় কাপড় থাকেভেজা খোলা চুল লাভ ইউ মায়াবতী উফফফ যা লাগছেনাজাস্ট
, খুব ইচ্ছে করছে তোমার চুলে মুখ লুকিয়ে ভেজা চুলের ঘ্রাণ টা প্রাণ ভরে নিই।
নতুন করে রোজ তোমার প্রেমে পড়ি আজ তোমার ভেজা চুলের প্রেমে পড়ে গেলাম। তোমার ভেজা চুল দেখতে ৬ টা ক্যানো ৩ টাই উঠে বসে থাকবো।

  • ৩ টাই উঠার দরকার নেই সে সাড়ে ৫ টায় উঠে।
  • কে?
  • আমি।
  • ওহ রানু আপু। গুড মমর্নিং হবু নতু বউ।
  • Good Morning বেচারা ভাই আমার।
  • বেচারা ক্যানো!
  • এতো ঘাস ঢেলে যাচ্ছো কাজ হচ্ছেনা তাই।
  • ওহ হবে ইনশাআল্লাহ।
  • মনে তোঁ হয়না।
  • আমার ভালোবাসা যদি সত্যি হয় সে নিজ থেকেই একদিন হ্যা বলবে।
  • আই হোপ এমনটাই হোক।
  • হোপ টোপ বুঝিনা আপু কনফিডেন্স আছে পুরো।
  • সবঃ সময় পাশে আছি।
  • ধন্যবাদ মাই ডিয়ার সুইটাপি।
  • এই সুইটাপি কি?
  • সুইট+ আপি=সুইটাপি।
  • এতো বুদ্ধি কই রাখো?
  • একটা সিক্রেট আছে বুদ্ধি বাড়ানোর।
  • কি বুদ্ধি?
  • সবাই বালিশ মাথার নিচে রেখে ঘুমায় আর আমি বালিশের নিচে মাথা রেখে ঘুমাই
    যাতে বুদ্ধি গুলা চলে না যায় হা হা হা।
  • হি হি হিদারুন ছিলো এটা, , যাও ফ্রেশ হয়ে আসো?
  • সে কই গেলো! দেখছিনাতো!
  • রুমে গেছে মনে হয়।
  • ওহ, ওকেবাই সুইটাপি।
  • বাই ভাইটু।
  • জোস ছিলো।
  • রাজ শোন তোঁ।
  • আহ কে! আপনি ডাকছেন আমাকে?
  • হ্যা শুনতে পাচ্ছিনাকি বললেন?

(সে আমার মজা বুঝতে পারেনি)

  • বললাম এদিকে আসো।
  • এক মিনিট নিজে নিজেকে আগে চিমটি কেটে দেখি।
  • ক্যানো!
  • না মানে, আমার কাছে স্বপ্ন মনে হচ্ছে।
    আপনি আমাকে ডাকছেন!
  • উফফ এদিকে আসো ত
  • এইযে আমি হাজির, হুকুম করুন মহামাননীয়া।
  • তোমার টি – শার্ট টা কাল গোছলের পর তুলতে ভুলেই গেছো অনেক মেহমান কোথায় হারিয়ে যাবে ব্যাগে উঠায় রাখো, আর ব্যাগ টাও সাবধানে রেখো।
  • ওকে তবেঁ আপনি থাকতে আমার টেনশন আছে নাকি!
  • যাও এখন খাবার খেয়ে নিও।
  • একে চেষ্টা করবো তবেঁ আগে আপনাকে ক্ষেতে হবে।
  • আমি তোঁ খাবোই বলা লাগবে নাকি!
  • সেটা খুব ভালো করেই জানি।
  • এক মিনিট একটা কথা ছিলো।
  • বলো একটু ভিতরে আসি?
  • হুম আসো।
  • ১ মিনিট একটু চোখটা বন্ধ করবেন?
  • কিহ!
  • জাস্ট ১ মিনিট বিলিভ মি উলটা পালটা আমি কি কিছু করতে পারি বলেন! কত্ত ইনোসেন্ট একটা ছেলে আমি।
  • ক্যানো।
  • চোখ বন্ধ না করলে কিভাবে করবো!
  • করবো মানে!
  • উফ এতো ক্যানো কথা বলেন জাস্ট ১ মিনিট ই তোঁ কিস করবোনা আপনার অনুমিত ছাড়া ছুবোও না বিশ্বাস রাখতে পারেন।
  • হুম, জাস্ট ১ মিনিট।
  • ওকে।
  • কি করলা!
  • আপনার কানের পিছে কাজল লাগাইলাম।
  • কাজল ক্যানো!
  • এটা কে কালা তিকা, বা নজর ফোটাও বলা হয়।
    ছোট বেলায় ছোট বাচ্চাদের কুনজর থেকে বাঁচাতে মায়েরা
    এই নজর ফোটা দিতো।
  • তোঁ! আমি কি বাচ্চা নাকি?
  • না, কাজল দেবার উদ্দেশ্য হলো কুনজর থেকে বাচা, সে বড় হোক বা ছোট।
  • আমার কি কুনজর লাগবে?
  • যা সুন্দর লাগছে আপনাকে বাসায় অনেক মেহমান আর আরো আসবে কারো কু নজন যেনো আপনার উপর না পড়ে।
  • আর তোমার (রানু আপু)
  • আরে সুইটাপি আমার তোঁ সুনজর। আমাকে নিয়ে ভয়ের কিছু নেই।
    জাস্ট পাগল প্রেমিক আমি।
  • রাজ কই গেলি চল দেরি হয়ে গেলো। (জাবির)
  • যেখানেই যাও খাবার খেয়ে যেও (মায়াবতী)
  • তুই না নাকি ওকে ভালোবাসিস না (রানু আপু)
  • ভালোবাসারা কি পেলি এখানে?
  • ভালোবাসা না থাকলে এতো টেককেয়ার!
  • আরে ও খায় না ঠিক মতো তাই বললাম।
  • কই আমাদের তো কখনো বলিশনাই।
  • রানু তুই আমার পিছে ক্যানো লাগছিস?
  • কি হইছেরে অরিন রানু টা আবার কি করলো? (রানুর মা)
  • কিছুনা কাকীমা।
  • যা তোরা দুজনা খেয়ে নে।
  • তুমি খাইবা না!
  • হ্যা খাবো আগে জাবির আর রাজ বাবারে খাবার দেই ছেলেটার হাত কেটে গেছে কাজের ভীরে একটু খোজ ও নিতে পারছিনা ঠিক মতো খায় কিনা।
  • মা, সকাল আর দুপুরে তুমি খাওয়াই দিও রাতে দরকার নেই।
  • কেন! রাতে খায় না ও?
  • খায় তবেঁ, তাকে রাতে খাওয়ানোর লোক আছে।
  • কে খাওয়াবে?
  • আছে সেটা নিয়া ভাবা লাগবে না। যাও ওদের খাবার দিয়ে আসো।
  • রানু কি শুরু করলি?
  • মা, চলো ত আমিও ওদের সাথেই খাবো।
    আল্লাহ্ ভালো জানে এই মেয়েটার কি হলোকি সব আবোলতাবোল ভাবছে যা কখনওই পসিবল না।

সন্ধ্যেয় রানু আপুর গায়ে হলুদ
আমি আর জাবির মিলে মোটামুটি সিম্পলের মাঝে সুন্দর ডেকোরেশন করেছি।
সবাই প্রশংসা করছে।

ছেলে পক্ষের লোক আসছে হলুদ দিতে।
আমার কাজ হচ্ছে এই সুন্দর মোমেন্ট গুলো ক্যাপচার করা।
কিন্তু

কিন্তু আমি যেখানেই যার পিক ই তুলতে যায়না কেন একটা মেয়ে বারবার আমার ফ্রেমে চলে আসছে!
প্রথম ভাবলাম হইতো এমনি, ,

সেকেন্ড টাইম কোয়েন্সিডেন্স
নাহ এই মেয়ে সব খানেই ক্যানো!
যেখানেই পিক তুলবো সবার মাঝে এসে বারবার দারাচ্ছে অসহ্যকর!

  • এই যেঁ আপনি?
  • আমাকে ডাকছেন!
  • না ভুতের মা কে!
  • ভূতের মা! এইখানে ভুত ও থাকে নাকি?
  • আগে জানতাম না এখন জানলাম।
  • কি ব্যাপার বলুন তোঁ।
  • আমি যেখানেই পিক তুলতে যাচ্ছি আপনি ভূতের মতো মাঝ খানে এসে বারবার ক্যানো দারাচ্ছেন!
  • ওহ, হ্যা সুন্দর জিনিশ মাঝ খানেই থাকে।
  • সুন্দর কই! আপনি তোঁ প্রতিটা পিকের বারটা বাজাচ্ছেন।
  • ক্যানো আমি সুন্দর না বুঝি?
  • মনে তোঁ হয় না, দেখতে তোঁ ভূতের মায়ের মতোই লাগে!
  • কিহ আপনি এভাবে ক্যানো বলছেন গায়ে পড়ে কাছে আসছি বলে ভাব দেখাচ্ছেন?
  • আমার গায়ে পড়া মেয়ে ভালো লাগেনা।
  • এতো এটিটিউড ক্যান আপনার!
  • মাই এটিটিড মাই স্টাইলিশ।
  • একটু বেশিই ভাব দেখাচ্ছেন, আপনার জিএফ আছে?
  • সরি, আমি ম্যারিড।
  • What!
  • কানে কম শুনেন নাকি! তাইলে চিকিৎসা করতে পারেন আপনি চাইলে আমি রিকোমেন্ড করতে পারি।
  • এতো অল্প বয়সে বিয়ে!
  • দেখুন আমার ফুটফুটে একটা বাচ্চাও আছে।
  • বিলিভ ই হচ্ছে না।
  • আপনার বিলিভ নিয়া আমার কাজ নাই ফুটেন আমার কাজ আমারে করতে দ্যান।
  • তা তোমার বাচ্চার নাম কি (মায়াবতী)
  • ওহ তাইলে আপনিও শুনেছেন?
  • হম দেখলাম শুনলাম, মেয়েটা দেখতে কিন্তু সুন্দরী বটে ভালো মানাবে দুজন কে।
  • আমার আর আপনার জুটি টা ফাস্ট ক্লাস খুব ভালো মানায় কিন্তু আমাদের, খেয়াল করেছেন কখনো?
    আর বাচ্চার নাম আপনি যেটা রাখবেন।
  • তোমার বাচ্চার নাম আমি ক্যানো রাখবো।
  • আপনার আর আমার বাচ্চা তোঁ আপনিই তোঁ নাম রাখবেন তাইনা?
  • রাজ ক্যানো এইসব ফালতু কথা বলো!
  • আমি ফালতু কথা বলছিনা।
  • ফালতু কথা নয়তো কি হ্যা!
  • যা সত্যি তাই বলছি।
  • উফফ তোমার সাথে কথা বলায় বেকার।
  • আরে আরে কই যাচ্ছেন?
    যাহ চলে গেলো
  • আরে সুইটাপি স্মাইল।
  • এতো হাসলে দার পড়ে যাবে আমার।
  • পড়লে লাগাই দিবো ব্যাপার না।
  • তখন আর মাংস খাইতে পারবোনা।
  • কি যে বলোনা এই 4G যুগে দাত লাগে নাকি! দাঁতওয়ালা মানুষ রাই স্যুপ খায় আর দাঁতহীন মানুষ এর কষ্ট কিসের?
  • ওকে বুঝলাম, স্টেজ টার ডেকোরেশন কে করছে?
  • ওয়ান এন্ড ওয়ালি #এসরাজ।
  • জাস্ট সুপার হইছেথ্যাংকস।
  • মাই প্লেজার সুইটাপি।
  • তোমাকে আজ একটু বেশিই হ্যান্ডসাম লাগছে।
  • ধন্যবাদ প্রশংসার জন্য।
    হলুদ শাড়ী তে বেশ মানিয়েছে তোমাকে।
  • থ্যাংকস।
  • তা আপু সে শাড়ী পড়েনাই ক্যানো!
  • সে নিজেই ভালো জানে, কতবার বললাম, সবাই বল্লো কিন্ত সে পড়বেনা।
  • দাড়াও আমি আসছি।
  • কই যাও?
  • তারে শাড়ী পড়াইতে।
  • কাজ হবেনা।
  • দ্যাখোই আগে।
  • All the Best Vhaitu।
  • এই জাবির ক্যামেরাটা নে তোঁ।
  • ক্যানো?
  • তুই কিছুক্ষণ ছবি উঠা আমি আসতেছি।
  • ওকে।
  • এইদিকে একটু আসবেন।
  • রুমে ক্যানো ডাকলে!
  • ভিতরে আসেন।
  • কি বলবা তাড়াতাড়ি বলো আমার কাজ আছে।
  • এটা নেন।
  • কি এটা?
  • হলুদ শাড়ী।
  • এটা তোঁ আমার শাড়ী! তুমি কই পাইলা?
  • আমার শাশুড়ি আম্মা দিছে।
  • উফফ। এটা দিয়ে আমি কি করবো?
  • পড়বেন, আর কি করবেন, না পড়তে চাইলে আমি পড়ি তাইলে!
  • ভালো মানাবে কিন্তু
    আমি পড়বো না।
  • ক্যানো পড়বেন না?
  • ইচ্ছে নেই।
  • আমি তোঁ সেটাই জানতে চাইছি, আপনার ইচ্ছে নেই ক্যানো।
  • কারন টারন জানিনা, এমনি পড়বো না।
  • কিন্তু আমি কারন জানি।
  • কি জানো তুমি?
  • এই যেঁ, শাড়ী পড়ার পর আপনি স্টেজ এর কাছে থাকবেন, আমিও সেখানে থাকবো একদম কাছে কোথাও যদি আমার প্রতি আপনার দূর্বলতা যদি প্রকাশ পায় সেই ভয়ে আপনি শাড়ী পড়বেন না তাইনা?
  • কি সব বলছো আজিব!
  • আজিব না, আমি সত্যি টাই বলছি।
    হ্যা যদি আমি মিথ্যে হই তাহলে শাড়ী ক্যানো পড়ছেন না!
  • এখানে শাড়ীর সাথে কি সম্পর্ক!
  • এতো কথা আমি বুঝিনা এই যে বেডের উপর শাড়ী রাখলাম, যদি আমার কথা সত্যি হয় তাহলে আপনি শাড়ী পড়বেন না আর যদি আমি মিথ্যে হই তাহলে আপনি শাড়ী পড়বেন।
    আসি
  • আরে শোন।
  • বাই!
  • কি ব্যাপার রাজ? কই তোমার শাড়ীওয়ালী!
  • একটু ওয়েট করো আসবে।
  • রাজ! তুমিতো সত্যিই জিনিয়াস মানতে হবে তোমাকে।
  • ধন্যবাদ কিন্ত প্রশংসার হেতু বুঝিলাম না সুইটাপি।
  • পিছনে তাকাও বুঝবা।
  • পিছনে!
    ওয়াও সত্যিই পড়ছে সে! OMG! হলুদ শাড়ী তেঁ এত্তো সুন্দর লাগবে দেখতে ভাবতেও পারিনি।
    বাহিরের প্রতিটা মানুষ শুধু তাকেই দেখছে।
  • রাজ? কি করে রাজী করালে তাকে
  • মেয়ে মানুষ সোজা কথা কম বুঝেউলটা টা ভালো বুজেসেই ট্রিক টা কাজে লাগছে আরকি।
  • এই রাজ!
  • ওহ সরি সুইটাপি তবেঁ সত্যি।
  • যাও তাকে নিয়ে আসো আসতে বিব্রতবোধ করছে।

বেশ অনেক গুলা পিক তুল্লাম তার

  • এই জাবির একটা হেল্প করবি দোস্ত।
  • কি হেল্প বল।
  • তোর আপুর সাথে কয়েকটা পিক তুলে দিবি।
  • যা আপুর কাছে বস।
  • আরে ভাই রানু আপু না।
  • কে অরিন আপু?
  • হ্যা।
  • আপু কি উঠবে?
  • তোর আপু জানবেও না যে তার পিক তোলা হচ্ছে।
  • কিভাবে?
  • আমি তার সাথে কথা বলতে যাচ্ছি তুই চুপ করে পিক তুলবি, ঠিক আছে?
  • ওকে।
  • হুলুদে আপনাকে তেমন ভালো লাগছেনা।
  • হম ধন্যবাদ (মায়াবতী)
  • বাব্বাহ প্রশংসা করলে রাগ করেন আর না করলে খুশি হন!
  • আমি এরকম ই।
  • এইজন্যই তোঁ ভালোবাসি আপনাকে।
  • কিন্তু আমি যেঁ বাসিনা।
  • কে বলছে!
  • আমি বলতেছি।
  • ওহ, ওইটা তো দেখানোর জন্য।
  • দেখারজন্য মানে!
  • হম, আপনি তোঁ আমাকে। সত্যিই ভালোবাসেন।
  • একদম ই না।
  • ভালোনাবাসলে সবাই যখন শাড়ী পরতে বলছে তখন তোঁ পরেননি, আমার বলাতে কখনো শাড়ী পড়তেন না।
  • আরে এটা তোঁ তুমি!
  • কারন যাই হোক আমার কথাতেই তোঁ পড়ছেন।
    যা লাগছেনা উফফ একটা হাগ করতে ইচ্ছে করছে।
  • তুমি কিন্তু!
  • হ্যা আমিআপনার হবু হাজবেন্ড।
  • যাও যত্তসব!
  • রাগলে কিন্তু আরো কিউট লাগে।
    চলে গিয়ে রানু আপুর কাছে বসলো।
  • এই রাজ নে অনেক গুলা উঠাইছি।
  • লাভ উ বেটা।
  • এতো খুশি ক্যানো!
  • তুই বুঝবিনা।
  • হ্যা আমি কি ছোট খোকা নাকি! সবই বুঝি তবেঁ আপু পটবে না অন্যরকম সে। এই রিলেশন অসম্ভব।
  • অসম্ভব কে সম্ভার করা অনন্ত জলিলের কাজ কিন্তু রাজ আলাদা চিজ ভাই
    সহজ কাজ আমি করিইনাআর যা শুরু করি সেটা শেষ করেই ছাড়ি।
  • হলে অবশ্য খুশিই আমি

তোর মতো একজন দোস্ত রে পার্মানেন্টলি পাবো। তবেঁ

  • চিন্তা করিস না শালাবাবু তোর আপু আমার বউ হবেই।
  • All the best।
  • জাবির?
  • ওয়াও ধন্যবাদ আরেকবার পিক গুলা জাস্ট অসাম হইছে।
  • হম পুরো ক্যামেরা জুড়েই তো তার ছবি!
  • ওহ দেখেছিস!
  • হুম। দেখলাম।
  • ক্যানো তোর দুলাভাই হিসেবে পছন্দ হয়নি তোর?
  • আমার পছন্দ হয়ে কি লাভ!

আপুর মতামত টাই মেইন।

  • ডোন্ট ওয়ারী ভাই সেও পছন্দ করে আমাকে।
  • সত্যি!
  • হ্যা তবেঁ!
  • কি তবেঁ!
  • স্বীকার করছে না কিভাবে যেঁ স্বীকার করাবো সেটাই ভাবছি।
  • যদি আমার আপু না হয়ে অন্য মেয়ে হতো তাইলে খুব সহজেই বলে দিতাম যেঁ কিছুদিন পর হইতো স্বীকার করে নিবেকিন্তু অরিনা আপু! আমি ছোট থেকেই আপুকে চিনি অন্যধাতুতে গড়া যদি তোর কথা সত্যও হয় ভাই তাও মনে হয়না স্বীকার করবে।
  • দেখা যাক, ভালো যখন বেসেছি তাকে যেভাবেই হোক আপন কর নিবোই।
  • আমি তোর পাশে আছি।
  • তোর কিরে!
  • ক্যানো!
  • আমি তোর দুলাভাই না শালা! সন্মান দিয়ে কথা বল।
  • হা হা হা আগে হ তারপর বলবো এখন তুই আমার দোস্ত।
  • এমনি বললাম তুই সারাজীবন ই আমার দোস্তই থাকবিরে।
  • রাজ এদিক আসো ভাই।
  • হ্যা সুইটাপি বলো।
  • তুমি তোঁ হলুদ দিলানাআমারে।
  • আমার তো তাকে দিতে মন চাইতেছে।
  • রাজ সবার মাঝে অন্তত চুপ থাকাটা শিখো।
  • আমার মনে হয় আমার জন্মই হইছে কথা বলতে বলতে।
  • হা হা হা রাজ বেশ করে কথা বলো তুমি (রানু আপু)
  • সবাই বুঝে আমার ট্যালেন্ট একজন ছাড়া!
  • না বুঝলে পরে পস্তাবে।
  • সবই কপাল আরকি।
  • – এই ছেলে তোমার এতো বড় সাহস কি করে হয়!
  • জ্বি আমাকে বলছেন!
  • হ্যা তোমাকে। (অচেনা মহিলা)
  • আপনি আমার ভাইয়ের সাথে এভাবে কথা ক্যানো বলছেন! (রানু আপু)

পর্ব ৭

  • এই ছেলে তোমার এতো বড় সাহস কি করে হয়!
  • জ্বি আমাকে বলছেন!
  • হ্যা তোমাকে।
  • আপনি আমার ভাইয়ের সাথে এভাবে কথা ক্যানো বলছেন! (রানু আপু)
  • আরে নতুন বউ আমি তোমার চাচী শাশুড়ি (ভদ্র মহিলা)
  • জ্বি আসসালামু আলাইকুম। (রানু আপু)
  • ওয়ালাইকুম আসসালাম (vLady)
  • আপনি রাজ এর সাথে এভাবে ক্যানো কথা বলছেন!
  • তোমার ভাই!
  • জ্বি আমার ভাই।
  • কেমন ভাই! তোমার ভাইয়ের নাম তো জাবির ছিলো মনে হয়।
  • হ্যা, ও আমার ভগ্নিপতি।
  • ওহ, তা যাই হোক ছেলেটা কিন্তু কাজটা ঠিক করেনি মা।
  • বলবেন তোঁ কি করেছে!
  • ওই দ্যাখো আমার মেয়েটা কাঁদছে তোমার এই ভাই কি যেনো বলেছে তারপর থেকেই কেদেই চলছে।
  • আরে ভুতের মা ওহ সে আপনার মেয়ে! (আমি)
  • রাজ! (রানু আপু)
  • সরি, তবেঁ আমি তোঁ কিছু বলিনি।
  • কিছু না বললে এমনি কাঁদবে নাকি! (ভমহিলা)
  • আমি সব কিছুই খুলে বললাম, এবার বলুন আমার কি অপরাধ!
  • হ্যা তাইতো, রাজের তোঁ এখানে কোন দোষ দেখছিনা!
  • সরি বাবা, ওর বান্ধবী বল্লো তুমি নাকি আমার মেয়েকে বকা দিছো তাই! (ভমহিলা)
  • আরে আমাকে দেখে আপনার বাজে ছেলে মনে হয় আন্টিজ্বী?
  • না বাবা, সরি বাবা, আসি।
  • রানু তোর ভগ্নীপতি কবে থেকে হলো রাজ! (মায়াবতী)
  • যেদিন থেকে রাজ তোমারে ভালোবাসে!
  • রানু! তোরা আর ভালো হবিনা (মায়াবতী)
  • হবার ইচ্ছে নেই টিচারনী ওই কই যাও!
  • তুই থাকতোর ভগ্নীপতি রে নিয়া আমি গেলাম।
  • হি হি হি তুমি ছাড়া তোঁ সেও থাকবেনাওই যে গান আছেনা
    “” তুমি যেখানে আমি সেখানেসেকি জানোনা! “
  • ওই তোর না গায়ে হলুদ একটু লজ্জা করছে না সবার সামনে গান গাইতে! (মায়াবতী)
  • নাহ, আমি তোমার মতো লজ্জাবতী নই যেঁ মনের কথা মনে রেখে পুড়ে মরবো যা মনে আসে বলে দিবো আমার মন শান্তি তোঁ দুনিয়া শান্তিলোকের কথায় যায় আসেনা, কথা পেটে রেখে পেটের রোগ বাঁধানোর ইচ্ছে নেই আমার।
  • আমি চুপকরে বসে বসে দুই বোনের কথা শুনছি।
    শেষ অবধি সে বাড়ীর ভিতরে চলে গেলো।

সন্ধ্যার পর মেহমানরা চলে গেলো, গ্রামের অনেক মানুষ বাদ আছে তারা অনেক রাত অবধি হলুদ দিলো অনেক এ নাচলো বেশ আনন্দই হচ্ছে।
সবাই যে যার মতো ব্যাস্ত রানু আপু একা একা বসে আছে মনে হচ্ছে মন খারাপ!

  • হেই সুইটাপিকি খবর? মাত্র একদিন ই সহ্য হচ্ছে না তার সাথে দুরুত্ব! কালই তোঁ দেখা হবে।
  • না রাজ, আমি তাকে নিয়ে ভাবছিনা।
  • তাহলে আর কাকে নিয়ে ভাবছো? কাউকে লাইক করো নাকি? আমাকে বলো সব প্রব্লেম স্লভ করে দিবো।
  • না, রাজ ওসব কিছুই না।
  • তাইলে বলো তোঁ মন খারাপ করে ক্যানো আছো!
  • আমি অরিন আপুর কথা ভাবছি।
  • কি ভাবছো?
  • এই যেঁ ওর সামনে তোমাকে জড়িয়ে কত কথা বলি ও খুব একটা রাগ করেনা অবশ্য ও অনেক ভালো। ও না সবার কষ্ট বুঝে আর সেটা স্লভ করার চেষ্টা করে কিন্তু ওর কষ্ট গুলোকে ও কাউকে শেয়ার করে না একা একা কাদে।
  • সে কাঁদতেছে!
  • এখন না দ্যাখো এখন হইতো মুরুব্বীদের মতো সংসার কাজ গুলা করতেছে।
  • হম।
  • আমি জানি আপুও তোমারে ভালোবাসে মানুষের জীবনে রিয়েল লাভ হইতো একবার ই আসে আর সেটা নাকি হয় ভুল সময়ে ভূল মানুষটার সাথে। তোমাদের বেলায় ও তাই মানুষ টা ভুল না কিন্তু সময়টা ভূল সামাজিক দৃষ্টিকোন থেকে।
  • হইতো তোমার কথা ঠিক আপু কিন্তু সময়টা এতোটাও ভুলনা কিন্তু সে যদি আমার ১৫/২০ বছরের বড় হতো আমি তোমার কথা মানতাম কিন্তু আমাদের এইজ ডিফারেন্ট মাত্র ৬/৭ এর এটা কোন ব্যাপার না।
  • এটা তুমি মানো কিন্তু আপু মানতে পারছেনা। আপুর জীবনের প্রথম প্রেম বা ভালোলাগা যে তুমি আমি সেটা গতকাল রাতে আপুর কথা শুনে বুঝেছি।
  • কি কথা!
  • আপু বলতেছে

আচ্ছা রানু বলতো এইরকম ক্যানো হয়!

  • কি ক্যানো হয়! আপু?
  • মানুষ যা চায় তা ক্যানো পায়না আর যদি পায় ও ক্যানো ভুল সময়ে পায়!
  • তখন তুমি কি বল্লা সুইটাপি?
  • আমি তোঁ কিছুই বলতে পারিনি।
  • ক্যানো!
  • আপু কথাটা বলেই রুমের বাহিরে চলে গেলো অনেক্ষন পর আসলো আর এসেই মাথা ঢেকে শুয়ে পড়লো
    কিছু বলার সময়ই পেলাম না।
    তবেঁ একটা জিনিস লক্ষ্য করেছি।
  • কি?
  • আপুর চোখে মনে হয় রক্ত ঢেলে দিছেবুঝতে পাড়লাম আপু বাহিরে গিয়ে কান্না করেছে আমি যেনো বুঝতে না পারি তাই মুখে পানি দিয়ে আসছে। আমি কি বুঝিনা! মুখ ধুইলে কতটা চোখ লাল হয়!
    এই রাজ তুমি কাঁদছ ক্যানো!
  • না মানে! আমার জন্য সে দ্বিধায় পড়ে গেছে সে মানসিক ভাবে ভেজ্ঞে পড়েছে এদিকে আমি না বুঝে বারবার তাকে জোর করছি। আমার তাকে সরি বলা উচিৎ আপু।
  • তুমি আসলেই অন্নেক ভালো তবেঁ এখন আর কিছু বইলোনা।
  • ক্যানো।
  • আমার মনে হয় না এখন বলা উচিৎ, একটু দেরি করো দ্যাখো কি হয়?
  • রানু, রাজ বাবা খাইতে আসোঅনেক রাত হয়ে গেছে(রানু আপুর মা)
  • হ্যা মা আসছি (রানু আপু)
  • রাজ চলো খাবে।
  • না আপু তুমি যাও আমার খাইতে ইচ্ছে করছেনা এইসব হাবি- জাবি খেয়ে পেট ভরে গেছে।
  • হুম বুঝলাম, সে আসবে খাবার নিয়ে চিন্তা কইরোনা, আর হ্যা আমার কথাটা মাথায় রেখো কিন্তু।
  • ওকে আপু।
  • রানু রাজ বাবা আসলোনা! (রানুর মা)
  • দাড়াও মা আমি ডেকে আনছি (জাবির)
  • এই তুই চুপ করে বস তোঁ (রানু আপু)
  • ক্যানো!
  • মা রাজ খাবেনা অনেক বলছি আর জাবির তোকেসহ সবাইকে খাইতে বলছে(কথাটা অরিন কি শুনিয়ে বল্লো রানু)
    জাবির কিছুটা বুঝতে পেরে চুপ হয়ে গেলোজানে কথা বাড়িয়ে লাভ নেই।
  • মা তুমিও খেয়ে নাও তোঁ সারাদিন শুধু কাজ আর কাজ। (রানু)
  • তোরা খাঁ, সব কাজ শেষ করে তারপর খাবো। (রানুর মা)
  • কোন অজুহাত চলবেনা
    কাকা – কাকীমা, বাবা আর মা সবাই একসাথে বসো আমি সবাই কে খাবার দিচ্ছিআমি কারো কথা শুনবো নাআর কেও কোন কথা বলতে চাইলে খাবার খাওয়ার পর বলবা। (রানু)
  • একটা প্লেট এ একটু বেশি করে খাবার দিয়ে রানু অরিন কে দিয়ে বল্লো আপু তুমি বাহিরে গিয়ে খাও।
  • ও বাহিরে গিয়ে ক্যানো খাবে! (রানুর মা)
  • মা আপুর ফ্যানের বাতাসে ভালো লাগছে নাতাই (রানু)
  • তাহলে ফ্যান বন্ধ করে দেই মা (রানুর বাবা)
  • না বাবা আপু বাহিরের খোলা বাতাসে বসে খাক ওর ভালো লাগবে। (রানু)
  • আচ্ছা মা যেটা তোরা ভালো বুঝিস কর। (রানুর বাবা)
  • এই আপু এখনো বসে আছিস ক্যান! যা খাঁ
    ফিসফিস করে বললাম আপু যাওতো ও না খেয়ে বসে আছেসকালে একটু খাইছিলো চামিচ দিয়ে দুপুরেও খায়নি, তুমি যদি চাও ছেলেটা না খেয়ে থাকুক তাইলে থাক যাওয়ার দরকার নেই।
  • আপু কিছু না বলে চুপচাপ উঠে গেলো।
  • কি করছো রাজ? (মায়াবতী)
  • এইতো বসে আছিআপনি ক্ষেতে যাননি?
  • হম।
  • ওহ বসেন যদি আপত্তি না থাকে।
  • হম, খাবার টা খেয়ে নাও। আমি খাওয়াই দিচ্ছি।
  • আমি আর একটা কথা বলিনি হাফ প্লেট খাবার শেষ, আমি আর পারবোনা।
  • আর একটু খাও।
  • আর পারবোই না আমার পেট ফুলে বেলুন হয়ে যাবে, আর আমি জানি আপনি খাননি আপনি খেয়ে নিন।
  • পরে খেয়ে নিবো।
    তোমার কি মন খারাপ?
  • না তোঁ! ক্যানো?
  • একদম চুপচাপ কথা বলছোনা যেঁ
  • না তেমন কিছুনা, এমনি।
  • কি হয়েছে বলো।
  • না কই কিছু হয়নি।
    আপনি কেমন আছেন?
  • এইতো আলহামদুলিল্লাহ্।
  • কাল রানু আপুর বিয়ে তার পরেরদিন কনে পক্ষ ছেলেদের ওখানে যাবে।
  • হম।
  • আমি ওখান থেকেই চলে যাবো।
  • (রাজের কথটা শুনে ক্যানো যেন বুকে একটা ধাক্কা লাগলো মনে হচ্ছে অনেক দুরু চলে যাচ্ছে) এখানে এসে তার পরেরদিন গেলে হয় না?
  • আসলে ফ্যামিলি কে ভীষণ মিস করছিওরাও মিস করছে আমাকে। তারপর তোঁ আর আমার কাজ থাকবেনা আর কিসের জন্য থাকবো!
  • হম!
    তোমার বাসার সবাই ভালো আছে?
  • হ্যা ভালো আছে।

আচ্ছা আপনার প্রিয় কালার কোনটা?

  • ব্লাক, হোয়াইট।
  • আর প্রিয় খাবার?
  • প্রিয় না তবেঁ সাধারণ খাবার বেশি ভালো লাগে।
  • প্রিয় ড্রেস?
  • শাড়ী।
  • প্রিয় মানুষ?
  • কিছু বললেন না যেঁ?
  • অনেক রাত হয়ে গেছে, একা একা এখানে বসে থেকোনা।
  • আমার উত্তর টা।
  • রাজ আসি।
    হম তার না বলার মাঝেও আমি আমার উত্তর টা ঠিকি খুঁজে নিয়েছি শুধু তার মুখ থেকে শোনার ইচ্ছে ছিলো।
    রাত তিনটের দিকে ঘুমানো হলোআমি ঘুম থেকে উঠে দেখি ৯ টা বাজে!
    আজ কেও ডাকেনি আমাকে!

ব্রাশ হাতে নিয়ে বাহিরে এসে দেখি সবাই কাজে ব্যাস্ত তাড়াতাড়ি ফ্রেস হয়ে আসলাম, জাবির, মায়াবতী, রানু আপু কাউকে দেখছিনা

  • কাকীমা জাবির কই?
  • বাবা উঠছো?
  • হ্যা কাকীমা।
  • কিছু খেয়ে নাও।
  • জাবির!
  • ও তোঁ ওর বাবার সাথে সেই সকালে বাজারে গেছে বাবা কিছু কাচা বাজার বাদ ছিলো ত।
    এখনি আসবো মনে হয়।
  • ওহ।
  • ওই রুমে যাওটেবিলের উপর খাবার ঢেকে রাখছি তোমার জন্য।
  • আচ্ছা কাকীমা।
    আমি ওই রুমে গিয়ে দেখি মায়াবতী কিছু একটা কাজ করছে আমাকে দ্যাখেনি।
    আমি খাবারের দিকেই যাচ্ছিহঠাত চোখ গেলো মায়াবতী র কোমরের দিকে!

একটা বড় পোকা গ্রামের ভাষায় অনেক এ ছ্যাংগা ও বলে ডেও দিয়ে দিয়ে যাচ্ছে আর একটু হলে স্কিনে যাবেআর আমার জানা মনে এই পোকা স্কিনে লাগলে খুব চুলকায় আর জ্বালাপোড়া করে কাপড়ের উপরে হাটছে তাই সে বুঝতে পারছেনা। এদিকে আমার ও পোকা দেখে ভয় লাগে।
যদি তাকে বলি যে পোকা সেও ভয় পেয়ে যাবে আর পোকাটা শরীরে লাগতে পারে!
কি করবো ধুর যা হয় হবে আমি ওটাকে ফেলে দিবো! একটা লম্বা শ্বাস নিয়ে নিলাম
আল্লাহ্ ভয় দূর করে দিও। (আমিন)

হাত দিয়ে পোকাটা ফেলে দিতে গিয়ে তার কোমরে একটু হাত লেগে গেছে অনিচ্ছাবশত।
কিন্তু সে ঘুড়ে ঊঠে ঠাস করে একটা থাপ্পড় দিলো!

আর তারপর সে ইচ্ছে মতো যা ইচ্ছে বলতে লাগলো আমি হা করে অসহায় এর মতো তাকিয়ে আছি

  • ছিঃ রাজ তুমি এতোটা নিচে নামবা আমি বুঝতে পারিনি

আমার ভাবতেই অবাক লাগে আমি তোমাকে সবার থেকে আলাদা ভাবতাম তুমি ও নরপশু দের মতো দেহের পিপাস

  • স্টপিড অনেক বলেছেন হ্যা আমি খারাপ দেখুন কথাটা আমি ও আমার মধ্যেই রাখুন আমার ফ্যামিলি অবধি যাবেন না প্রচণ্ড শ্রদ্ধা করি আপনাকে আর কিছু আমার মনটাকে প্লিজ ভেজ্ঞে দিয়েন না
    কথাটা বলেই চলে আসছিলাম দরজায় জাবির দাঁড়িয়ে আমি আমাকে কন্ট্রোল করতে পারছিনা
    তাড়াতাড়ি বাসা থেকে দূরে চলে আসলাম ওদের বাসার পাশেই যমুনা নদী একটু দূরে তবুও সেখানে গেলাম
    এমন জায়গায় বসলাম যেখানে মানুষ কম যায় আমার খুব কান্না পাচ্ছে আমি কাঁদছি
    আমার কষ্টটা সেটা না যেঁ সে আমাকে মেরেছে হ্যা সে চাইলে আর ও মারুক অপরাধ বা বিনা অপরাধে কিন্তু সে না বুঝে যেঁ সমস্ত কথা বলেছে সেটা আমার সহ্য হচ্ছেনা। (জাবির & অরিন)
  • অরিন আপু এটা তুমি কি করলা! (জাবির)
  • কি করলাম মানে একটা বেয়াদব কে শিক্ষা দিলাম। (অরিন)
  • তুমি জানো তুমি কি করেছো?
  • ঠিকই করেছি।
  • নিচে তাকিয়ে দ্যাখো ওটা কি?
  • ওওওওও পোকায়ায়ায়ায়ায়ায়া!
  • লাফ দিয়ে সরে গেলে ক্যানো!
  • আরে পোকা যেঁ ভয় পাবোনা!
  • আচ্ছা এটা বলো যদি এই পোকা তোমার শরীর এ লাগে তাহলে কি হবে?
  • জ্বলবে, ফুলেও যাইতে পারে।
  • এবার বলো ওটা যদি আমার টি শার্টের উপরে থাকে আমি জানিই না এই ব্যাপারে তুমি দেখলা পোকাটা তাহলে কি করবা?
  • ভয় যতই পাই আগে পোকাটা ফেলে দিবো।
  • তাহলে রাজের দোষটা কোথায়!
  • মানে!
  • রাজ তোঁ তোমার ভালোই চেয়েছিলো
  • ও আমার কোমরে!
  • আমাকে কিছু বলা লাগবেনা আমি তখন দরজায় দাঁড়িয়ে ছিলাম মাত্রই বাজার থেকে আসছি মা বল্লো রাজ আমাকে খুজতেছে ও এই রুমে আছে কিন্তু এসে যা দেখলাম আর যা ঘটলো তার কল্পনাও কুরতে পারিনি।
  • তুই জানিস না জাবির।
  • আমি ঠিকি জানি তুমি জানো না আপু সত্যিটাএকজনটিচারের কাছে থেকে এমন বিবেকহীন কাজ আমি অন্তত আশা করিনি।
  • এবার একটু বেশিই বলতেছিস জাবির!
  • না আমি ঠিকই বলছি আরে রাজ তোঁ বোকা তাই পাগলের মতো তোমাকে ভালোবাসেবোকা না হলে একজন বিধবা মেয়েকে এভাবে কেও ভালোবাসে!
  • জাবির্ররররররর!
  • আপু আমি সরি আমি তোমার ভাই হয়ে এতো বড় কথা বলতেছি কতটা কষ্ট পেয়ে আর ও তো ভালোবাসে তোমাকে ও কতটা কষ্ট পাচ্ছে!

তুমি যেন কি বললে আপু! তোমার শরীর এর লোভে তোমার পিছে ঘোরে! আপু আমি সব জানি ও এইখানে আসছে শুধু তোমার জন্য ও আমাকে যা বলছে সব মিথ্যেআমি ওর ব্যাপারে খুব ভালোভাবে খোজ নিয়েছি ও যদি চায় দিনে ১০ টা মেয়েকে ডেট করতে পারবে কিন্তু আজ অবধি কোন মেয়ের দিকে ঠিকমতো তাকায় ও নি আর তোমাকে ভালোবাসার পর তোঁ কোন মেয়ের সাথে ঠিকঠাক কথাও বলেনা আর তুমি তাকে এই কথা কিভাবে বল্লা!
ওই পোকাটা তোমার কাপড়ে ছিলো যদি তোমার শরীরে লাগে কষ্ট পাইবা তাই পোকা দেখে ভয় পাওয়ার পর ও হাত দিয়ে পোকাটা ফালাইতে গেছে হইত ভুল করে একটু লাগছে, , , শুধু মাত্র তোমার ভালোর জন্য আর সেই তুমি!

আর ওকে যে এসব বল্লা তুমি ভালোবাসো না ওরে! তুমিও তো ভালোবাসো যদি নাই বাসতে এতোটা কাছে ও কখনো আসতে পারতোনা তাহলে একা ওর দোষ হবে ক্যানো! দ্যাখো আপু মিথ্যে অজুহাত দিবানা আমি জানি আর দেখেছিও বোঝার জন্য যথেষ্ট বয়স হয়েছে আমার।
এখন কাঁদছ ক্যানো তুমি! এখন আর কেদে কি হবে!

ও যদি চলে যায় জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পৎ তুমি হারাবেকথাটা মনে রেখো।

  • জাবির রাজ কই!
  • আমি কি জানি! আমিও তোঁ এখানেইছিলাম।
  • কি হইছে জাবির! অরিন আপু কাঁদছে ক্যানো! (রানু)
  • জানিনা আমি আমি যাচ্ছি।
  • আপু কাদতেছো ক্যানো!
    আরে আরে আপুউউউ চুপ করো আগে তোঁ বলো হইছেটা কি!
  • রানু আমি অনেক বড় ভুল করে ফেলছি
  • কি ভুল করলা! প্লিজ কান্নাকাটি বাদ দিয়ে আগে বলো
  • আমি A to Z
  • হুম তোমার আগে বোঝা উচিৎ ছিলো জানিনা ছেলেটা কই গেলো আপু ও তোমাকে ভীষণ ভালোবাসে তোমার জন্য সব করতে পারে।
  • এখন বল কি করবো!
  • কান্না বাদ দিয়ে চলো দেখি ও কই।

রাজের ব্যাগ ফোন সব কিছুই জাবিরের রুমেই আছে
কাউকে জানালে বিয়ে বাড়িতে টেনশন হবে ভেবে কেও কাউকে কিছু বলেনি কিন্ত ওরা তিনজন মিলে অনেক খুঁজেছে কিন্তু পায়নি এদিকে সকাল গড়িয়ে দুপুর বর যাত্রী চলে আসছে রানু আর বাহিরে যাইতে পারেনি জাবির ও আটকা পরে গেছে কিন্তু অরিন আশেপাশের গ্রাম সহ প্রায় সব খানে খুজেই চলছেকিন্তু পাচ্ছেনা। ওখান থেকে নদীটা একটু দূরে তাই অরিনের মাথায় আসেনি রাজ ওখানে যাইতে পারে।
এদিকে বাসা থেকে সবাই অরিনকে ফোন দিচ্ছে বারবার

পরে উপায়ন্তর না পেয়ে বিদ্ধস্তমনে বাড়িতে আসলো লুকিয়ে কান্নাকাটি করার উপায় ও নেই এতো মানুষজন
দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যে হতে চললো রাজের কোন খোজ ৩ জনই অজানা আশংকায় ভুগছে যদি রাজ রাগ করে কোন ভুল পদক্ষেপ নেয় তাহলে কথাটা ভাবতে বুকের বাম পাশের মাংসপিণ্ড টার স্পিড বাড়তে থাকে

আল্লাহ্ এইরকম যেনো কিছু না হয় ওর যেনো কিছু না হয়!
আর আধা ঘন্টা পর বরযাত্রী চলে যাবে রানুর মনটাও ভালো নেইযাবার আগে একবার রাজ কে দেখলে একটু শান্তি পেতাম
রুমে একা বসে আছে রানু সব কিছুই রেডি হয়ে গেছে।

  • সুইটাপি চলে যাচ্ছো? (রাজ)
  • রাজ! (দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরলো রানু রাজ কে)
  • এই আপু সরি আমি একটু লেট আসলে কি দিবো তোমাকে সেটা ভাবতে ভাবতে এতো সময় লেগে গেছে নাও এটা তোমার জন্য।
  • আমি সব জানি।
  • কিছুই জানোনা দ্যাখোনা প্লিজ পছন্দ হয় কিনা!

না হলে বলো তুমি কি চাও আমার সাধ্যের মধ্যে থাকলে আমি সেটা এনে দিবো তোমাকে।

  • জানো তুমি কতটা টেনশন এ ফেলছিলা তুমিআমি জাবির আর আপু আশেপাশে র সব এলাকাজুড়ে তোমাকে খুঁজেছি কোথাও পাইনি আমি আর জাবির পরে তাও খুঁজতে পারিনি কিন্তু আপু একটু আগে আসলো না পেয়ে।
  • আপু থাকনা ওসব। শোন তোমাকে সুন্দর লাগছে কিন্তু কি যেন হারিয়ে গেছে
  • কি হারাইছে!
  • তোমার হাসিটা! কোন বঊকে ঘোমরা মুখে মানায় না বিশেষ করে আমার সুইটাপিকে।
  • এখন আর সমস্যা নেই এখন হাসবো।
  • রাজ! কই ছিলি তুই! কত খুঁজলাম তোকে ভাই তুই তোঁ আরেকটু হলে মেরেই ফেলতি(জাবির)
  • আরে এলাকাটা দেখা হয়নি আগে নদীটাও দেখছিলাম না তাই দেখে আসলামআজ রাতে চলে গেলে তোঁ আর হইতো সিরাজগঞ্জ না ও আসা হইতে পারে তাই।
  • আজ রাতে মানে!
  • এই যেঁ টিকিট কাটছি রাতেই ফিরতে হবে আম্মুর নাকি ভালো লাগছেনা। আমাকে যেতে হবে।
  • মিথ্যে ক্যানো বলছিস? তোর ফোন তোঁ রুমে কিভাবে কথা বললি!
  • ফোন রুমে তাই কি লোডের দোকান থেকে কথা বলছি।
  • রাজ ভাইটু প্লিজ যেওনা আর মাত্র ২ দিন থাকোনা (রানু)
  • না সুইটাপি থাকা যাবেনা তুমি ভাইয়া কে নিয়ে আমাদের বাসায় অবশ্যই আসবা কিন্তু আমার বাসার সবাই খুব খুশি হবে।
  • রাজ কালো চশমা পড়ে আছিস ক্যানো এই রাতে! (জাবির)
  • এমনি, ক্যানো কালো চশমা পড়া নিষেধ নাকি!
  • চশমাটা খোল তো (জাবির)
  • আরে আরে এভাবে টেনে কেও চশমা খোলে!
  • ওহ এখন বুঝালাম ক্যানো রাত হচ্ছে তবুও চশমা পরে আছিস। তুই যেঁ কান্নাকাটি করে চোখ ফুলাই রাখছিস সেটা আড়াল করার জন্য তাইনা?
  • আরে না কাঁদবো ক্যানো চোখে পোকা গেছিলো তাই লাল হয়ে গেছে এইজন্য আরকি।
  • তোমার কি মনে হয় আমি ছোট বাচ্চা! (জাবির)
  • আরে তুই তো বাচ্চাই তাইনা সুইটাপি! আমি তো যানতাম ই না তুই বড় হয়ে গেছিস।
  • মজা বাদ দে প্লিজ। (জাবির)
  • যাবার সময় হয়ে গেছে বৌমা রেডি তোঁ তুমি? (রানুর শশুড়)
  • জ্বী।

সবাই ব্যাস্ত এখন বর যাত্রী কে এগিয়ে দিতে।
রাজের মাথা প্রচন্ড ঘুরছে মনে হচ্ছে পরে যাবে এখনই। দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে জাবিরের রুমি গিয়ে শুয়ে পড়লো।
সবাই যাবার পর

  • এই জাবির রাজের কোন খবর পেলে? (অরিন)
  • হ্যা, তুমি দ্যাখোনি ওকে?
  • না তোঁ।
  • ওই তো এখানেই ছিলো আমার সাথে রানু আপুর সাথে কথা বল্লো।
  • ও কই?
  • চলেই গেলোনাকি!
  • মানে!
  • ওর মা ফোন করেছিলো নাকি ট্রেনের টিকিট কেটে আনছে।
  • সত্যি!
  • হ্যা, চলো বাড়ির ভিতরে দেখি।
    পুরো বাড়ি খুজে জাবিরের রুমে গিয়ে দেখা গেলো রাজ শুয়ে আছেজাবির ডাকতে গিয়ে শরীরে হাত দিয়ে লাফিয়ে উঠলো!
  • কি হলো জাবির! (অরিন)
  • তুমি ওর শরীরে হাত দিয়ে দ্যাখো!
  • আল্লাহ্ ওর শরীর তোঁ আগুনের মতো গরম!
    এই রাজ, রাজ?

জাবির রাজ তো কথা বলেনা! জ্ঞান হারায়নি তোঁ!

  • আপু কেদো না।
  • জাবির বেশি করে বালটিতে পানি নিয়ে আসোতাড়াতাড়ি।
  • ওকে ৫ মিনিট পর।
    আপু এই নাও
  • ওর মাথাটা ঠিক করে দাও জাবির।
    প্রায় ১ঘন্টা পানি ঢালার পর রাজের জ্ঞান ফিরছে
    জাবির ডাক্তার নিয়ে আসছে
    জ্বর এমন যেনো থার্মোমিটার গরমে ফেটে যাবে।
    সারাদিন কিছু খায়নি আর খুব কান্না করেছে।
  • রুগির একটু বেশিই জ্বরআগে ওনাকে কিছু খাবার খাওয়ান তারপর এই ঔষধ গুলা খাওয়াই দেন।
    যদি তাও না কমে তাহলে হসপিটালে নিয়ে ভর্তি করাতে হবে। (ডাক্তার)
  • আচ্ছা, এই জাবির ডাক্তার সাহেবকে এগিয়ে দিয়ে আয়।
  • আচ্ছা আপু।
  • রাজ একটু খাও।

সরি আমার সকালের কাজটা একদম ভুল ছিলোআমি বুঝতে পারিনি রেগে গিয়ে কি বলেছি জানিনা। প্লিজ মাফ করে দাওনা।
তুমি সুস্থ হয়ে আমাকে বকে ণিও এখন প্লিজ খাও প্লিজ
প্রায় আধ ঘন্টা পর রাজ একটু খেয়ে ঔষধ টা খেলো।

  • আপু তুমি না হয় আজ এখানেই থাকো ওর যা অবস্থা আমি কি করবো বুঝবোনা। আমি বরং রানু আপুর রুমে গিয়ে শুয়ে পরি।
  • আচ্ছা যা। ফোনটা অন রাখিস দরকার হলে ফোন দিবো।
  • ওকে আপু।
  • আপনিও যান ঘুমান আমি ঠিক আছি। (রাজ)
  • তুমি ঠিক নেইঘুমাও তুমি তাহলে আল্লাহ্ আল্লাহ্ করে কমতে পারে আমি এখানেই আছি।
  • এভাবে সারারাত জাগলে আপনি নিজেও অসুস্থ হয়ে যাবেন।
    আমার জানা মতে আপনি খাননি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন যান।
  • আমাকে নিয়ে তোমার টেনশন করা লাগবেনা আমি এখানেই আছি।
  • ক্যানো থাকবেন?
  • তুমি অসুস্থ তোমাকে দেখতে।
  • আমি আপনার কি হয় এতো দয়া দেখাচ্ছেন আমাকে!
  • কি হলো আর উত্তর নেই! হুহ লাগবেনা আপনার সিমপ্যাথিআপনি যান।
  • এতো কথা বইলোনা এমনি অসুস্থ তুমি কথা বললে শরীরে পেশার পরে।
  • কোন অধিকার এতো জোর করছেন! আপনার তোঁ কোন অধিকার নেই আমার উপর জোর খাটানোর।
  • আছে আমার আমার অধিকার!
  • কি অধিকার আছে আপনার!
  • কারন আমিও যে তোমা!
  • কি বললেন? ! আমি শুনতে পাইনি।
  • কিছুনা।
  • কাঁদছেন ক্যানো! প্লিজ কাঁদবেন না আপনার কান্না আমার সহ্য হবে না
    এভাবেই সারাটা রাত গেলো চুপচাপ কারো মুখে কোন কথা নেই হইতো এই অন্ধকার রাত তাদের না বলা কথা গুলো খুব সুন্দর করেতার নিজের ভাষায় প্রেয়সীর কথা গুলো সাজিয়ে তানপুরোয় নতুন সুর বেধেছে এক না বলা কথা গুলো দীর্ঘশ্বাস হয়েবেড়িয়ে আসছে।
    ঘুমহীন দু- চোখ জোরা তাদের চোখে চোখে হইতো কিছু পাওয়ার আভাস পাচ্ছে।
  • আপু রাতে ঘুমাওনি! তোমার চোখ লাল হয়ে আছে কেঁদেছ তুমি? (জাবির)

পর্ব ৮

  • আপু রাতে ঘুমাওনি! তোমার চোখ লাল হয়ে আছে কেঁদেছ তুমি? (জাবির)
  • সেরকম কিছুনা।
  • জ্বর কমেছে রাজের? (জাবির)
  • শেষ রাতে অনেকটা কম ছিলোএখন আবার একটু বাড়তেছে। (অরিন)
  • আপু পরে তোঁ আর সময় পাবা না এখন তুমি একটু ঘুমিয়ে নাও আমি আছি এখানে। (জাবির)
  • সমস্যা হবেনা। (অরিন)
  • আপু হেয়ালী করোনা অসুস্থ হয়ে যাবা (জাবির)
  • অরিন তুই নাকি সারারাত এই ছেলের সাথেই থাকসোস! (রানুর খালা)
  • কে বলছে তোমারে খালা? (জাবির)
  • মন্টুর মা নাকি দেখছে(রানুর খালা)
  • আরে না খালা আমি ছিলাম সারারাত এইখানে আপু তোঁ একটু আগেই আসলো ওরে দেখতে(জাবির)
  • আমি না তোরে রানুর ঘর থেকে বের হইতে দেখলাম (খালা)
  • আরে খালা আমি আপুর মোবাইল টা আনতে ওই ঘরে গেসিলাম আবার জ্বর আসতেছে তোঁ ডাক্তার রে একটা ফোন দেওয়া লাগবে আপুর মোবাইল এ নাম্বারটা সেভ করা আছে। (জাবির)
  • ওহ তাই বল আমিও তোঁ মন্টুর মারে তাই কইলাম আমাগো অরিন ওইরকম মাইয়্যা নাযাক গ্যা আমি ওরে বইলা আসি। (খালা)
  • আপু আমার মনে হয় এইখানে তোমার আর থাকা ঠিক হবেনা একজন এমনি একটা কথা বানিয়ে বললে সবাই জানাজানি হবে, তুমিতো জানোই গ্রাম বলে কথা। (জাবির)
  • আচ্ছা ঠিক আছে তুই এখানেই থাকিস আর ওকে কিছু খাওয়াতে হবে আমি নিয়ে আসছি ১১ টার দিকে নাকি গাড়ী আসবে সবাই রানুকে আনতে যাবে?
  • হ্যা তুমি কি করবা? (জাবির)
  • আমি জাবোনা ওকে এই অবস্থায় একা রেখে যাওয়াঠিক হবেনা। (অরিন)
  • হ্যা ঠিক বলেছো। (জাবির)
  • আচ্ছা জাবির একটা কাজ করলে কেমন হয়!
  • কি কাজ আপু?
  • তুই একটু কষ্ট করে স্টেশন এ যা গিয়ে ২টা টিকিট কেটে আন আজকে রাতের।
  • ২টা?
  • আমার আর রাজের, দ্যাখ ওকে এই অবস্থা বসিয়ে রাখা ঠিক না অন্য হসপিটালে নিলে কেমন চিকিৎসা হবে ঠিক নেই ওদের হসপিটালে ওর সবাই আছে ওরা যেভাবে চিকিৎসা করবে অন্যরা সেভাবে করবেনাআর জ্বর থেকে অন্য কিছু হলে নিজেকে ক্ষমা করতে পারবোনা আর ওর মা বাবা কেই বা কি জবার দিবো!
  • আপু তুমি ঠিক বলেছ আমি এখান থেকে যাওয়ার সব ব্যাবস্থা করছি তারপর বাকিদের আমি সামলে নিবো আর বিকেলে রানু আপু তোঁ আসতেছেই আপু থাকতে আর কেও কিছু বলতে পারবেনা।
  • হম।
  • আরেকটা কথা আপু এখান থেকে সবাই যাওয়ার পর তোমরা যেও আর তুমি কাকা কাকী কিছু একটা বলো তোমার কলেজ এ কাজ আছে আপু আমি জানি মিথ্যে সব সময় মিথ্যেই হয় কিন্তু এখানে সত্যটা কেও মানবেনা।
  • তুই ঠিকি বলেছিস।
    তাইলে তুই দেরি করিসনা এখনি যা পরে আর সময় পাবিনাকিন্তু।
  • আচ্ছা আমি যাচ্ছি।
  • মা আমার আজকেই রাজশাহী ফিরতে হবে। (অরিন)
  • আজকে ক্যানরে মা? (অরিনের মা)
  • ভার্সিটিতে কিছু কাজ পড়ে গেছে, তোমরা যাবা না? (অরিন)
  • নারে মাতোর চাচা- চাচী কয়েকদিন থাকতে বলতেছেতা তুই কি বলিস? (অরিনের মা)
  • সমস্যা নেই মা যতদিন ইচ্ছে থাকো যখন ভালো লাগে চাচা কে বইলো ট্রেনের টিকিট কেটে দিবেআর আমার সময় থাকলে না হয় আমি এসে নিয়ে যাবো।
  • কখন যাবি
  • জাবির টিকিট কাটতে গেছে মা বিকেলের ট্রেন।
  • অরিন তুই একটা কাজ কর।
  • কি কাজ মা?
  • ওই ছেলেটাকেও সাথে নিয়ে যা অসুস্থ ছেলেটা ওর বাড়ীও তোঁ রাজশাহী ওর ভাবী মনে হয় ডাক্তার সেদিন যে হসপিটালে বল্লো।
  • হ্যা মা।
  • এইখানে গ্রামে তোঁ ভালো চিকিৎসাও নেই তুই জাবির কে ফোন দিয়ে বল দুইটা টিকিট কাটতে।
  • (মা জানিনা আমার মনের কথা কিভাবে বোঝ তুমি এইজন্যই তুমি মা) আচ্ছা মা আমি জাবির কে বলতেছি।
    তুমি বাবা কে বইলো বাবা মনে হয় চাচার সাথে রানুর শশুড় বাড়ী গেছে সকালে তাইনা?
  • হ্যা তোর চাচা ছাড়লোনা।
  • যাক গেছে ভালো হইছে।
    তুমি ঠিক মতো ঔষধ গুলা খেয়ে নিও কিন্তু ভুলে যাও তুমি।
  • আচ্ছা তুই চিন্তা করিস না।
  • হ্যালো রানু। (অরিন)
  • হ্যা আপু বলো।
  • তুই ক্যামন আছিস?
  • ভালো আছি আপু। তুমি কেমন আছো? রাজের কি অবস্থা জ্বর কমছে ওর? রাতে জাবির বললো ওর নাকি খুব জ্বর!
  • হ্যা ওর জ্বরটায় বেশি তোকে একটা কথা বলবো মনে হয় তোর সাথে আর দেখা হচ্ছেনা।
  • ক্যানো আপু?
  • অরিন সব কথায় খুলে বল্লো।
  • ওহ আচ্ছা ঠিক আছে যাওআমি সব ম্যানেজ করে নিবো।
  • আচ্ছা ভালো থাকিস।
  • রাজ এই খাবার টুকু খেয়ে নাও (অরিন)
  • খাবো না।
  • ক্যান!
  • আপনি এখনো খাননি ক্যানো!
  • আমি খাবো পরে আগে তুমি খাওতোমার মেডিসিন খাওয়া লাগবে একটু সুস্থ না হলে ঊঠে দারাইবা ক্যামনে!
  • উঠে দাঁড়িয়ে কি করবোশুয়েই থাকি।
  • ক্যানো যাবে না?
  • কই?
  • রাজশাহী?
  • না পরে যাবো আপনি থাকবেন আর আমি একা রাজশাহী গিয়ে কি করবো!
  • ওহ ঠিক আছে তাহলে জাবির কে ফোন দিয়ে বলে দেই শুধু আমার টিকিট টাই কাটতে তোমার টা যেনো না কাটে!
  • মানে!
  • মানে আমি আজ রাজশাহী যাচ্ছি তুমি যেহুত যাবা না তাইলে থাকোজাবির টিকিট কাটতে গেছে।
  • আরে আরে আমি যাবো কে কোন আবুলে বলছে আমি যাবোনা!
  • তুমি না বল্লা?
  • আমি বলিনাই, মনে হয় আপনি ভুল শুনেছেন।
  • হ্যা এখন অবশ্য আমার তাইই মনে হচ্ছেকানে করানো উচিৎ তাইনা!
  • হ্যাহ না মানেবলছিলাম।
  • হুম এবার লক্ষী ছেলের মতো খাবারটা খেয়ে নাওহাত কাটাটাও ভালোভাবে শুকোইনি।
  • খাবো তবেঁ একটা সর্তে।
  • কি সর্ত আবার!
  • আমার সামনেই আগে আপনাকে খেতে হবে তারপর আমি খাবো।
  • আচ্ছা আমি পরে খেয়ে নিবো তুমি খাওতো।
  • নাহ তা হবেনা আপনি চিটিং করবেন আমি কোন কথা শুনতে চাইনা আমার কথা না শুনলে খাবোনা এক কথা।
  • ওকে এই নাও খেলাম, এবার খাও।
  • হম এবার আবার আপনার পালা।
  • প্রমিস আমি খাবো তোমার খাওয়ার পর তুমি তাড়াতাড়ি শেষ করো এখানে বেশিক্ষণ থাকলে প্রব্লেম হবে।
  • প্রমিস করেছেন কিন্তু।
  • মনে আছে আমার।
  • আমরা কখন যাবো?
  • এখান থেকে সাড়ে চারটায় বের হতে হবে ওরা ফিরতে ৫ টা বাজবে, ওরা আসার আগেই বের হতে হবে ট্রেন একটু দেড়িতে আমাদের স্টেশন এ গিয়ে একটু বসে থাকা লাগবে।
  • আগে ক্যানো!
  • সে অনেক কাহিনী স্টেশনে অনেক সময় থাকবে ওখানে গিয়ে শুনো।
  • ওকে।
    এখন না হয় উঠে একটু বসে থাকো যদি পারো।
  • আচ্ছা, আপনি যান আমি চেষ্টা করছি।
  • ওকে।
  • অরিন মা তুই নাকি রানুর শশুড় বাড়ী যাবিনা! (রানুর মা)
  • হ্যা কাকীমা যাওয়া হচ্ছেনা। (অরিন)
  • ক্যানো রে মা?
  • কাকীমা ভার্সিটি থেকে ফোন দিয়েছে কাল সকালে কলেজে উপস্থিত থাকতে হবে সকালে গিয়ে ভার্সিটি ধরা যাবে কিন্তু এতো জার্নি করে আবার ক্লাস অসুস্থ হয়ে যাবো।
  • থাকলে ভালো হতোকাজ মা আর কি করবি, রাজ বাবারে নিয়া যাবি?
  • হ্যা কাকীমা ওর বাসাও রাজশাহী অসুস্থ ও একা তোঁ যাইতে পারবেনা মা বললো ওকে সাথে নিয়া যাইতে।
  • নিয়া যা ওটাই ভালো হবে ছেলেটা একা একা যাইতেও পারবোনা রাস্তাঘাট এ কোথায় কি হয়।
  • আচ্ছা কাকীমা।
  • আপু এই নাও তোমার টিকেট একটা বগি রিজার্ভ করেছি। বিজনেস ক্লাসে।
  • ওটাই ভালো হইছে রাজ অসুস্থ মানুষজন থাকলে ওদের কথায় আরও অসুস্থ হয়ে যাবে।
  • এখান থেকে যাওয়ার জন্য রহিম কাকার সিএনজিটা রিজার্ভ করেছি ঠিক সাড়ে চারটায় তোমাদের এখান থেকে নিয়ে যাবে।
    এদিকে আমাদের গাড়িও আসছে দেখি সবাই রেডি হইছে কিনা।
  • আচ্ছা তুই যাআমার ব্যাগ গোছাইতে হবে আবার রাজ টাও অগোছালো কই কই যেঁ টি- শার্ট, প্যান্ট রাখছে ও নিজেও জানেনাদেখি আমি যায় সব গুছাই নিই।
  • আচ্ছা।
    বাসা থেকে সবার বের হইতেই প্রায় ১ টার মতো লাগলো ফিরতে যেঁ রাত হবে বোঝায় যাচ্ছে রাহজ অসুস্থ স্টেশন এ কোথায় বসাই রাখবো! তারচেয়ে এখান থেকে দেড়িতে বের হলেই হবে

ট্রেন ছাড়বে রাত ৮ টায়
এখানে থেকে সাত টায় বের হলে অনায়াসে যাওয়া যাবে।
রহিম কাকা আসছিলো আমি তাকে সাতটায় আসতে বললাম।
পৌণে সাতটা বাজে রহিম কাকা আসছে আমরা বের হচ্ছি রাজ ঠিক ঠাক দাঁড়াতে পারছেনা কিন্তু না যেয়ে উপাই ও নেই।

  • রাজ বাবা তোমারে কিছুই করতে পারলাম না ঠিকঠাক মতো খাওয়া দাওয়াও হলোনা

তুমি আবার অরিন যখন আসে তখন আইসো তখন না হয় পিঠাচিরা বানাইয়া খাওয়ামু(রানুর মা)

  • (সে এমনেই যাইতে চায়না তুমি আরও গ্রাম্য প্রবাদের কথা মনে পড়ে গেলো” এমনিতেই নাচুনী বুড়ি তার উপর ঢোলের বাড়ি”) (অরিন)
  • জ্বি কাকীমা আমি আবার আসবো, তবে এই ঝামেলা শেষ হলে কিন্তু আমাদের বাসায় আপনাকে যাইতেই হবে (রাজ)
  • আল্লাহ্ চাইলে যামু বাবাতুমি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যাও।
  • দোয়া কইরেন।
  • সময় নেই মা- কাকীমা আসি বাবা আর কাকা আসলে বইলো আমি তো বলে যাইতে পারলাম না।
  • আচ্ছা যা ভালো ভাবে যাস গিয়া ফোন দিস। (মা)
  • আচ্ছা, রাজ চলো গাড়িতে উঠো।
  • অরিন মা আসো রাস্তাঘাট এর যা অবস্থা আবার ট্রেন ছাইড়া দিবো (রহিম কাকা)
  • হ্যা কাকা চলেন। (অরিন)
  • ফাইনালি আমি আর আপনি একটা লং জার্নি তেঁ ইস এই সময় ক্যানো যেঁ অসুস্থ হওয়া লাগবে আমার না হলে এই রোমান্টিক মোমেন্ট টা ভালো করে উপভোগ করা যাইতো।
  • রাজ চুপ করে থাকো উনি আমাদের গ্রামের মানুষ তোমার কথা শুনে কি না কি ভাবে আল্লাহ্ ভালো জানে।
  • ওকে চুপ।
  • গুড বয়।
  • হ্যা সেটা তোঁ জন্ম থেকেই শুধু আপনি
  • এই আবার কথা বলে।
  • ওকে ওকে জাস্ট একটা কথা
  • কি কথা?
  • ট্রেনে তোঁ কেও থাকবেনা তখন কথা বলার অনুমিত আছে?
  • সেটা তখন দেখা যাবেএখন চুপ করে বসে থাকো। জ্বর টাও যে কমছেনা
  • আপনি আমার পাশে থাকলে এমনি জ্বর টা কমে যাবে।
  • হম তাহলে আর তোমার বাসার সবাই কষ্ট করে মেডিকেল এ পড়তো না।
  • হ্যা, তবেঁ সেটা সবার ক্ষেত্রে কিন্তু আমার মেডিসিন তোঁ আপনি।
  • অরিন মা স্টেশন চইলা আসছি(রহিম কাকা)
  • এতো তাড়াতাড়ি কাকা? (রাজ)
  • রাস্তাঘাট ফাকা জ্যাম নাই তোঁ আর খুব জোরে টাইনা আসছি(রহিম কাকা)
  • কাকা এই যে টাকা আর ব্যাগ গুলা কাউন্টারের কাছে দিয়া আসেন। (অরিন)
  • আচ্ছা মা, তাইলে এখন আমি যামু কি? (কাকা)
  • না গিয়া কি করবেন! কাবাব মে হাড্ডি হবার ইচ্ছে আছে নাকি? (রাজ)
  • রাজ! (অরিন)
  • কিছু বললা বাবা? (কাকা)
  • না কাকা ও কিছু বলে নাইবললো আপনি দেখে শুনে যাইয়েন (অরিন)
  • ওহ আচ্ছা বাবা তোমরাও দেখে শুনে যাইও আসি মা(কাকা)
  • আচ্ছা,

রাজ তুমি বসোআমি একটু আসছি সময় আছে একটু, তুমি কিছু খাইবা? (অরিন)

  • না আমার কিছু খাইতে ইচ্ছে করছেনা আপনি যা খাবেন কিনে আনেন। (রাজ)
  • হম আচ্ছা ঠিক আছে।
  • অবশেষ এ ট্রেন টা ছাড়লো বাড়ি যাচ্ছি(রাজ)
  • হম।
  • একটা কথা বলবেন?
  • হম বলো।
  • ভার্সিটি তোঁ বন্ধমানে আপনার ক্লাস গুলা সব অফ তাহলে বাসায় মিথ্যে ক্যানো বললেন?
  • আমার কাজ আছে তাই যাচ্ছি।
  • আমি জানি আপনি শুধু আমার জন্যই যাচ্ছেনতাইনা?
  • নাহ, আমি তোমার জন্য ক্যানো যাবো! আমার বোনের বিয়ে রেখে খুব দরকার ছাড়া আসবোই বা ক্যানো!
  • ঠিক এটাইতো বলতেছি আমার ইমপটেন্স সবার থেকে বেশি আপনার কাছে কিন্তু আমি এটা বুঝিনা আপনি ক্যানো অস্বীকার করেন?
  • এতো কথা কিভাবে বলো তুমি! চুপ করে থাকো তোঁ।
  • আচ্ছা মায়াবতী আপনার ট্রেন জার্নি কেমন লাগে?
  • রাজ এটা ভুলে যেওনা আমি তোমার টিচার।
  • হ্যা সেটা ক্যাম্পাসে।
  • জানিনাহ।
  • প্রেমিক- প্রেমিকা মনে করে রিক্সা হচ্ছে সবচেয়ে বেষ্ট আমার কাছে ট্রেনে লং জার্নি বেষ্ট। দেখুন না যেভাবেই হোক আমাদের দুটোই হলো।
  • মানে!
  • মানে সেদিন রিক্সায় আর আজ ট্রেনেহাউ রোমান্টিক তাইনা আমাদের রিলেশনশিপ হচ্ছেসবচেয়
    আলাদা আচ্ছা আমাদের রিলেশনশিপ এর একটা নাম দেওয়া দরকার তাইনা?
  • আমাদের মানে কি! আমার কারো সাথে কোন রিলেশন নেই।
  • হ্যা আমি জানি, যাইহোক কি নাম দেওয়া যায় হুম আচ্ছা পরে ভেবে দেওয়া যাবে।

ওকে আপনাকে আপনার শশুড় বাড়ীর সদস্যদের ব্যাপারে জানানো উচিৎ, আর হাজার হোক আমি একজন দায়িত্ববান স্বামী বলে কথা।

  • রাজ! (রেগে)
  • কিছু বলবেন?
  • নাহ!
  • তাইলে নাম ধরে ডাকলেন যেওহ বুঝেছি আপনার আমার নাম ধরে ডাকতে ভালো লাগেব্যাপার না একবার ক্যানো হাজার বার ডাকুন প্লিজ।
  • পিটানি খাইবা আসলে তুমি।
  • আমার কোন সমস্যা নেই আপনার হাতের পিটানি খাওয়াও ভাগ্য যেভাবেই হোক আপনার স্পর্শ তোঁ পাবো।
  • তোমার সাথে কেও কথা বলে পারবেনা!
  • হ্যা তাতো অবশ্যই আমি তোঁ একটাই পোডাক্ট হি হি হি।
  • মাথা ব্যাথা করছে এখন আমারউফফ!
  • ওহ এইযে এটা আপনার জন্য।
  • কি এটা?
  • আমড়া আর বড়ই।
  • কি করবো?
  • আপনি যখন দোকানে গিয়েছিলেন তখন ষ্টেশন থেকে আমি এইগুলা কিনেছি আমি শুনেছি মেয়েদের এগুলা পছন্দ।
  • এতো গুলা কে কিনতে বলছে!
  • আমি তোঁ এর আগে কখনো কিনি নাই কত গুলা লাগবে কে যানে তাই বেশি করে কিনছি।
  • মনে হচ্ছে পুরো দোকান টাই কিনা রাখছো।
  • আপনার যতগুলা ইচ্ছে খেয়ে নিন বাকিটা না হয় ফেলে দিয়েন।
  • তুমি আমড়া খাও জ্বর মুখে টক ভালো লাগবে।
  • কিন্তু আমি যেঁ টক খাইতে পারিনা আচ্ছা ঠিক আছে দিন।
  • না থাক খাওয়া লাগবেনা যেটা খাইতে পারোনা সেটা জোর করে খাইলে এসিডিটি হইতে পারে।
  • নাহ একটা খায় কিছু হবে না।
  • তারচেয়ে বরং এই বিস্কিট খাও না হলে কমলা গুলা খাইতে পারো তোমার জন্য এনেছিলামজানিনা মিস্টি হবে কিনা দোকানদার তোঁ বল্লো মিষ্টি বল্লো টক হইলে ফিরাই দিয়েন।
  • হা হা হা আপনাদের বোকা বানাইছে ১০০% এই কমলা টক হবে।
  • কিভাবে বুঝলা?
  • দোকানদার বললোটক হলে ফিরাই দিয়েন! সে জানে ষ্টেশন থেকে যারা কিছু কেনে তারা আসলে দূরে কোথাও যায় টক হলেও ফিরাই দেবার ক্ষমতা নেই।
  • এই কথা তোঁ ভেবে দেখিনিযাইহোক আমাকে সে ঠকাচ্ছে হইতো অন্য ভাবে সেও ঠকছে, হাদিস অনুযায়ী যদি কেও কাউকে ঠকায় তাহলে মৃত্যুর আগে সেও না ঠকে মারা যাবেনা।
  • হ্যা ঠিক আছে কিন্তু এতে শুধু তার দোষ নেই আপনার উচিৎ ছিলো যাচাই বাচাই করা বা একটা খেয়েও দেখা।
  • আরে সময় থাকা লাগবেনা! এদিকে ট্রেন ছাড়বে।
  • কে যেনো দরজায় নক করছেরাজ তুমি বসো আমি দেখছি।
  • নাহ আপনি বসেন আমি দেখছি।
  • তুমি দাঁড়াইতে পারবা না কিন্তু।
  • আমি পারবো যদি ফালতু মানুষ হয় তাহলে!
  • ট্রেনে ফালতু মানুষ কোথা থেকে আসবে?
  • আরে আমার ভোলা মায়াবতী আপনি জানেন না ট্রেন ক্রাইম করার পারফেক্ট যাইগা, চুপ করে বসেন আমি দেখছি।
    জ্বী ভাই আপনারা কে? (দুজন লোক দাঁড়িয়ে আছে)
  • আমরা এই পাশের বগিতে আছি গেট টা লাগানো ত তাই ভাবলাম কে আছে ভিতরে?
  • ওহ দেখেছেন?
  • হ্যা।
  • এবার আসেনধন্যবাদ।
  • তা ভাই উনি কে?
  • আমার স্ত্রী।
  • ওহ ভালোই খারাপ নাহ।
  • ক্যানো ভাই আপনাদের কোন সমস্যা?
  • না আমাদের কি সমস্যা হবে?
  • তাহলে প্লিজ আসেন।
  • ভাই এমন করছেন ক্যানো কথায় তোঁ বলতে আসছি, তা কই যাবেন?
  • কক্সবাজার যাচ্ছি ভাই।
  • ভাই মনে হয় রাগ করতেছেন!
  • আরে ভাই রাজশাহীর ট্রেনে উঠে কেও অন্য যায়গাতে যাবে নাকি! কমন সেন্স এর ব্যাপার।
  • আমরাও একটু ভাবীর সাথে গল্প করি সময় কাটতেছেনা।
  • আপনাদের টাইমপাস করানোর জন্য আমি বিয়ে করিনি তার সাথে টাইমপাস করার লোক আছে।
  • রাগ করেন ক্যান ভাই! ভিতরে তোঁ বসতে বলতে পারেন।
  • ক্যান ভাই আমি মেহমান নওয়াজীর জন্য বসে আছি নাকি!
    দ্যাখেন বেশি কথা বললে আমি টিটি কে ডাকতে বাধ্য হবো।
  • ভাবী আসসালামু আলাইকুম।
  • আরে আপনারা তোঁ বাড়াবাড়ি করতেছেন।
  • রাজ গেট লাগাই দাও(অরিন)
  • আরে ভাবীজ্বী ও রাগ করতেছে দেখি! আমরা তোঁ আপনার দেবর ভদ্র পোলাপান তাই না ভাই?
  • রাগে শরীর কাঁপছে কথা বলার শক্তি ও মনে হচ্ছে শেষ হয়ে যাচ্ছেঅনেকটা এন্ড্রোয়েড ফোনে ৪% চ্যার্জ থাকার মতো অবস্থা, ওদের মুখের উপর ঠাস করে গেট টা লাগাই দিলাম তারপর ও বকবক করতেছে সালারাশরীর ভালো থাকলে ভাবীর দেবর কত প্রকার কি কি উদাহরণ সহ সৃজনশীল প্রশ্ন বুঝাইতাম।
  • রাজ কি হয়েছে এমন করছো ক্যানো! এই রাজ কথা বলো না ক্যানো! রাজ, রাজ!
  • আমি মায়াবতীরর কথা শুনছি অনেকটা রিপিট টেলিকাস্ট এর মতো কিন্তু কথা বলতে পারছিনা আমার বুঝতে বাকি নেই আমি সেন্সলেস হয়ে যাচ্ছি আমার সমস্ত শরীর অবশ হয়ে যাচ্ছেকাঁদোকাঁদো কন্ঠে সে আমার নাম ধরে ডাকছে
    আমার তার ডাকে সারা দিতে ইচ্ছে করছেকিন্তু আমার সমস্ত শক্তি দিয়েও আমি পারছিনা শেষবার শুধু মনে হচ্ছে কেও আমাকে জড়িয়ে ধরেছে আর তারপর কি হয়েছে! আমি জানিনা।
  • ওই বাজে ছেলেদের সাথে কথা বলতে না গেলে হতো না! কেন কথা বলতে হবে!
    ভাগ্যিস ট্রেনে উঠার সময় ২ লিটারে ২ টা পানির বোতল কিনেছিলাম ওর যদি বেশি জ্বর আসে তাহলে মাথায় পানি দেবার জন্যকিন্তু সেন্সলেস হবে কে জানত!
    এই ছেলেটা আমার লাইফে আর কিছু না পারুক আমাকে হার্টের রুগী অবশ্যই বানাবে।
    এখনো জ্ঞান ফিরছেনা ক্যান!

রাজের ফোনটা বাজছে
ওর ভাবীর ফোন!
রিসিভ করবো!

রাজের কথা জানানো উচিৎ

  • হ্যালো রাজ?
  • আসসালামু আলাইকুম।
  • কে অরিন!
  • জ্বি কিন্তু আপনি কি করে জানলেন আমি!
  • রাজের ফোন ওর খুব কাছের মানুষ ছাড়া ধরতে পারেনা, আর এখন ওর খুব কাছের মানুষ টা তুমি, তা কেমন আছো?
  • জ্বী আমি ভালো আছি কিন্ত রাজ ভালো নেই?
  • ক্যানো বকেছো রাজ কে?
  • না না, ওর খুব জ্বর!
  • কি বলছো! ওখানে ডাক্তার দেখাওনি! কখন থেকে জ্বর! আমাকে কিছু বলেনি ক্যানো!
  • প্লিজ আপনি উত্তেজিত হবেন না আমরা ট্রেনেআর আধ ঘন্টার মধ্যে ষ্টেশন এ পৌছে যাবো (রাজ এর অজ্ঞান হবার কথাটা বললে আর ও উত্তেজিত হয়ে যাবে এটা না বলাই ভালো) রাজ মনে হয় হাটতে পারবেনা বেশি দূর্বল একটা এম্বুলেন্স হলে ভালো হবে।
  • আল্লাহ্ ঠিক আছে আমরা গাড়ী নিয়ে আসতেছি (ভাবী)
  • ওকে বাই।

আল্লাহ্ তার আগেই রাজের জ্ঞান পিরাইয়া দাও প্লিজ(কাঁদছে অরিন)
ট্রেন ষ্টেশন এ পৌছানোর মাত্র ১০ মিনিট আগে রাজের জ্ঞান ফিরে আসে!
অরনি সব ভুলে রাজকে জড়িয়ে ধরে!

  • এইভাবে কেও সেন্স হারায়! ভয় পাইয়ে দিয়েছিলে!
  • সরি, প্লিজ কাঁদবেন নাপ্লিজ।
  • সরি,
  • ওকেতবেঁ যা কিছুই হোক আমার উপকার ই হইছে সেন্সলেস না হলে তো আপনার ছোয়া পেতাম না!
  • যাও বজ্জাৎ ছেলে চুপ একটা কথাও বলবা না আর।
  • ওকে।
  • ট্রেন থামার সাথে সাথেই আমি নিচে গেলাম রাজ কে রেখে গিয়ে দেখি ওর পরিবার এর সবাই আসছে
  • আসসালামু আলাইকুম রাজ ওখানে।
  • হ্যা তাড়াতাড়ি চলো

রাজ কে ওদের বাসায় নিয়ে যাওয়া হলো জ্বর খুব
আমি আমার বাসায় যাইতে চাইলাম কিন্তু রাজের মা ওদের বাসায় নিয়ে গেলো।
বাসায় যাবার পর চিকিৎসা শুরু

  • তুমি অরিন তাইনা(রাজের মা)
  • জ্বি!

পর্ব ৯

  • তুমি অরিন তাইনা(রাজের মা)
  • জ্বি
  • কেমন আছো তুমি? (রাজের আম্মু)
  • জ্বী আলহামদুলিল্লাহ্, আমি ভালো আছি। (অরিন)
  • তোমার কাজিনের বিয়েতো শেষ হয়নি! আজই আসলা যেঁ? (রাজের আম্মু)
  • রা না মানে আমার ক্যাম্পাসে কিছু কাজ আছে তো তাই আরকি।
  • প্রধান কাজ হচ্ছে রাজ অসুস্থ তার ভালো ট্রিটমেন্ট দরকার তাই রাজের জন্য বাসায় মিথ্যে বলে বিয়ে বাদ দিয়ে রাজকে নিয়ে রাজশাহী ফিরে আসা কি আমি ঠিক বলিনাই! (ভাবী)
  • না সেইরকম কিছুনা আমি আসছি ওখানের সবার প্রিয় হয়ে গেছে রাজ মা- কাকীমা বললো রাজ কে নিয়ে আসতে ও অসুস্থত একা আসতে পারবেনা তাই। (অরিন)
  • সবার প্রিয় হইছে কিন্তু যার প্রিয় হইতে এতো কিছু করলো তার কি প্রিয় হইছে? (ভাবী)
  • জ্বি, আমি বুঝলাম না(অরিন)
  • নিকিতা (রাজের ভাবির নাম) ওকে আর কনফিউজড করোনা জার্নি করে আসছে ফ্রেশ হয়ে কিছু খেয়ে নাও মা (রাজের আম্মু)
  • রাজ এখন কেমন আছে! (অরিন)
  • তোমার সে এখন ঘুমোচ্ছে চিন্তা করোনা জ্বর একদম ভালো হয়ে যাবে বেশি দূর্বল তো তাই পুরোপুরিভাবে সুস্থ হতে কয়েকদিন লাগবে (ভাবী)
  • যদি কিছু মনে না করেন আমি এবার আসিআমাকে বাসায় যেতে হবে রাত হয়ে যাচ্ছে। (অরিন)
  • কোথায় যাবে মা! বাহিরে খুব বাতাস বইছে মনে হচ্ছে ঝড় উঠবে একা এতো রাতে যাবার দরকার নেই। (রাজের বাবা)
  • আমার মনে হয় খুব বেশি সমস্যা হবে নাআমি যাইতে পারবো। (অরিন)
  • ক্যানো মা এখানে কি সমস্যা হচ্ছে তোমার? (রাজের বাবা)
  • না মানে! (অরিন)
  • আরে কি সমস্যা হবে আমরা থাকতে বাবা? (ভাবী)
    বলতে গেলে এক প্রকার জোড় করেই অরিন কে রাখা হলো রাজ der বাসায়,
    কোন উপায়ন্তর না পেয়ে অগ্যতা রাজদের বাসায় রাত টা অনিচ্ছা সর্তেও থাকার সিদ্ধান্ত নিলো অরিন।
    ফ্রেস হয়ে খাবার খাওয়ার পর
  • মনে হচ্ছে তোমার মন খারাপ কিন্তু ক্যানো! (ভাবী)
  • কই না তো আমি ঠিক আছি, আচ্ছা রাজ উঠেছে?
  • নাহ হম এখন বুঝলাম ক্যানো মন খারাপ তোমার, আচ্ছা আমি যে বিনা অনুমিত তে তুমি সম্বোধন করলাম কোন আপত্তি নেই তো?
  • নাহ, সমস্যা নেই আপনি তুমি করেই বলতে পারেন।
  • শুধু আমি বললেই তো হবে না তোমাকেও তুমি বলতে হবে।
  • জ্বি আমি চেষ্টা করবো আসলে আসলে খুব তাড়াতাড়ি সব কিছু মেনে নেওয়া একটু কঠিন হয় আমার জন্য।
  • ওহ ও তাইতো বুঝি রাজের প্রপোজাল এখনো এক্সসেপ্ট করোনি?
  • আরে আপনি ভুল বুঝছেন রাজ আমার স্টুডেন্ট আমি স্বপ্নেও এসব ভাবতে পারিনা ওর ব্যাপারে ও তো সারাদিন বাচ্চামী করে যদি কিছু মনে না করেন ওর বাচ্চামীতে আপনাদের সম্মতী না দেওয়ায় ভালো।
  • ও আর বাচ্চা নেই বিয়ের জন্য রাজি হয়ে যাও বাচ্চার বাবাও হয়ে যাবে। আর আমার জানা মতে রাজ কোন ভুল করেনি তোমার ওকে বোঝার ভুলও খুবই ভালো ছেলে, খুব সুখে রাখবে তোমাকে।
  • আমি এ ব্যাপারে কিছু বলতে চাইনা।
  • তুমি কি কখনো রিয়ালাইজ করোনি?
  • কি রিয়ালাইজ করবো!
  • তুমিও ওকে ভালোবাসো।
  • আপনি ভেবে দেখুন, আমি ওর টিচার একজন বিধবা মেয়ে আমি, আর ওর থেকে বয়সেও বড় How can it possible?
  • ক্যানো নয়! তুমি চাইলেই সব সম্ভব।
  • না ভাবী ও এখন কোন এক মোহের মধ্যে আছে আপনাদের উচিৎ ওকে হেল্প করা এই মোহ থেকে বের হতে নাকি প্রশ্রয় Deoa!
  • না, প্রশ্রয় দিচ্ছিনা এই দ্যাখো তুমি আমাকে ভাবী ডাকলে কিন্তু ক্যানো! আমি তো রাজের ভাবী এর মানে তুমি তোমার মন আর তোমার চাওয়া পাওয়াকে প্রশ্রয় দিচ্ছ না অথচ তোমার মন ঠিকি এই সত্যকে মেনে নিয়েছে।
  • সরি আমার হইতো ভাবী বলে সম্বোধন করা উচিৎ হয়নি, আমি আপু বলে ডাকবো।
  • কেন বারবার এই সহজ সরল সত্যকে উপেক্ষিত করছো?
    রাজের হাত কেটে যাবার পর তাকে সবার আড়ালে উঠিয়ে খাওয়ানো ও না খেলে নিজে না খাওয়া ওর অসুস্থতার জন্য নিজে সারারাত জেগে থাকা এইগুলা কি আমাকে একটু বুঝিয়ে বলবা?

অবকা হচ্ছো! রাজ আমাকে সব বলে ওর খুশি সবার আগে আমাকে শেয়ার করে।

  • আমি আমার দায়িত্ববোধ থেকে করেছি।
  • What the! কিসের দায়িত্ববোধ! আর কেও ছিলোনা এই দায়িত্ববোধ এর জন্য! ধোকা তুমি রাজ কে না নিজে নিজের সত্ত্বা কে দিচ্ছো।
    আর যদি বেশি দেরি করে ফেলো খুব পস্তাবে।
  • আপু আমার মাথা ব্যাথা করছে আমি কি একটু রেস্ট নিতে পারি?
  • বাহ বেশ ভালো সত্য থেকে বাচার সহজ সরল রাস্তা খুব সহজেই বের করলে তুমি।
    যাইহোক, তুমি আমার রুমে ঘুমাউ, সমস্যা নেই আমি এই ব্যাপারে আর কিছু বলবোনা তোমাকে
    শুনেছি
    “ঘুমন্ত মানুষ কে ঘুম থেকে জাগানো যায় কিন্তু জাগ্রত মানুষ কে কিভাবে জাগানো সম্ভব “

অরিন শুয়ে আছে আসলে ওর কিছু বলার ছিলোনা তাই কিছু বলতে পারেনি কি বলবে ও!
এই কঠিন বাস্তবতা মেনে নেওয়া এতোটা সহজ না কেন সবাই বোঝেনা!

এতোক্ষন রাজের বাবা, ভাই, আম্মু সবাই চুপ করে দারিয়ে অরিন আর নিকিতার কথা শুনছিলো
ওহ বলা হয়নি রাজের সিরাজগঞ্জ যাবার পর রাজের আম্মু রাজের বাবা কে সব বলেছে প্রথম প্রথম মানতে কষ্ট হলেও পরে মেনে নিয়েছে, আর নিকিতাও তার হাজবেন্ড কে সব বলেছে টোটালি পুরো পরিবার রাজের পাশে।

  • আগেই তোমার কথা শুনে মেনে নিয়ে ছিলাম আজ মেয়েটার কথা শুনে রেসপেক্ট বেড়ে গেলো মেয়েটার প্রতি, আমার নালায়েক এর পছন্দমত আছে বলতে হবে। (রাজের বাবা)
  • হম ঠিকি বলেছো (রাজের আম্মু)
  • বাবা! কোন ভাবেই আপনি আমার ভাইকে নালায়েক বলতে পারেন না! (নিকিতা একটু রেগে গিয়ে)
  • হ্যা বাবা তুমি আমার ভাইকে কোন ভাবেই নালায়েক বলতে পারোনা(রাজরে ভাইয়া)
  • ওকে তোমার গুণধর ভাই, ঠিক আছে মনে হচ্ছে এবার আমার বিরুদ্ধে চার্জশীট বের হবে(রাজের বাবা)
  • হবে না ক্যানো তুমি সব সময় আমার ছেলে টা কে আন্ডার এস্টিমেট করো। (রাজের আম্মু)
  • ওকে সরি সরি আমার ভুল হয়েছে মাননীয়া স্পিকার প্লিজ আমার ভুল মার্জনা করিয়া আমাকে খেতে দেওয়া হোক পেটের ভিতর চুহা দৌড়াচ্ছে মনে হচ্ছে। (রাজের বাবা)
  • ঠিক আছে বাবা দিচ্ছি কিন্তু নেক্সট টাইম আমার ভাইকে নিয়ে আর একটা কথাও বলা যাবেনা(নিকিতা)
  • আমাকে কি পাগল কুকুর কামড়িয়েছে! তোমাদের সামনে কিছু বলে নিজের সর্বনাশ করবো! (বিড়বিড় করে) যদি বলি মনে মনে বলবো। (রাজের বাবা)
  • বাবা কিছু বললেন? (Nikita)
  • না মা কই আমিতো কিছুই বলিনি খাবার খাওয়ার আগের দোয়া দরুদপাঠ করছিলাম আরকি (রাজের বাবা)
  • তাও ভালো মনে মনেও আমি আমার ভাইয়ের নামে কিছু শুনতে চাইনা। (নিকি
    তা)
  • (আচ্ছা আমার ছেলের বউ কি জোতিশ নাকি! ওই নালায়েক এর কথা যেভাবেই বলি সব ক্যামনে শোনে! )!
  • বাবা! (নিকিতা)
  • হ্যা
  • কি হয়েছে ওভাবে তাকিয়ে আছেন ক্যানো! (নিকিতা)
  • কই নাতো বলছিলাম যে!
  • হ্যা বলেন, বাবা।
  • না মানে, মাংসের বাটিটা এদিকে দাও(একটা ফেক স্মাইলি ফেইস করে)
  • এই যে বাবা। মা তোমার কিছু লাগবে? (নিকিতা)
  • নারে মা তুই বস খেয়ে নে। (রাহিবের আম্মু)
  • সবার সবার কথা মনে আছে আমাকে সবাই ভুলে গেছে (ভাইয়া)
  • কেনো ডিয়ার হাজবেন্ড আপনার কি হলো? (নিকিতা)
  • সেই কখন ভাত দিয়ে রাখছো আর কিছু লাগবে না! শুধুই ভাত খাবো নাকি! (ভাইয়া)
  • ক্যানো! তুমি বলতে পারোনা আল্লাহ্ বলার জন্য এতো সুন্দর একটা মুখ দিছে। (নিকিতা)
  • বলা লাগবে ক্যানো! আর কেও তো বলল না! (ভাইয়া)
  • আসলে কি জানেন হাজবেন্ড সাহেব আমার আপনার কথা শুনতে মন চাইছিলো তাই আরকি(নিকিতা)
  • ও আগে বলবা না! তাহলে একটা গল্প শুনাই(ভাইয়া)
  • এই খাবার খাওয়ার সময় এতো বকবক ভালোনা চুপচাপ খাবার খাও(নিকিতা)
  • আরে তুমিই তো বল্লা! আজিব (ভাইয়া)
  • ওটা আগে ছিলো (নিকিতা)
    রাজের বাবা, আর আম্মু মিটমিট করে হাসছে

অরিন দরজায় দাঁড়িয়ে ওদের খুনসুটি দেখছেঅরিন ও হাসছে
সত্যিই সুখি একটা পরিবার
রাজ ঠিকি বলে ও ভাগ্যবান এমন পরিবার ও হয়! আগে যানতাম না এ জন্য অবশ্য রাজ ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য যেভাবেই হোক ওর জন্যই তোঁ আজ সৌভাগ্য হলো এমন সুখি পরিবার দেখার।

ফিরে গিয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিলো অরিন রাজ্যের নানান চিন্তা ভর করছে মনে

  • আরে ঘুমাউনি তুমি (নিকিতা)
  • না, চেষ্টা করছি(অরিন)
  • মাথা কি বেশি ব্যাথা করছে?
    কফি বানিয়ে দেই?
  • কথাটা হাসির হলেও আমার কফি খেলে মাথা ব্যাথা বাড়ে কমে না। (অরিন)
  • তাহলে মাথায় একটু তৈল দিয়ে দিই?
  • লাগবেনা আপুএকটু ঘুমালে সব ঠিক হয়ে যাবে?
  • সমস্যা হলে বিনা দ্বিধায় বলো।
  • না আমি ঠিক আছি সমস্যা নেই।

একটা কথা জিজ্ঞেস করি?
যদি কিছু মনে না করেন?

  • হ্যা বলো, মনে করার কিছুই নেই।
  • আপনার বিয়ে হয়েছে কত বছর?
  • আমরা পড়া অবস্থায় বিয়ে করি প্রায় ৫ বছর হলো।
  • বাচ্চা নেননি?
  • প্রথম ২ বছরের মাথায় একবার আমি পেগনেন্ট হই কিন্তু সে পৃথিবীর মুখ দেখার আগেই আমাদের ছেরে চলে যায়।
  • সরি, অজান্তে কষ্ট দিয়ে ফেললাম।
  • না ঠিক আছে।
  • আর!
  • নাহ, তারপর আমি আর রাজের ভাইয়া ডিসাইড করেছি আর বাচ্চা নিবোনা আমাদের একটা বাচ্চা আছেই তো।
  • কই আমি তো একবার ও দেখলাম না তাকে!
  • হা হা হা আমার ছেলের বউ হিসেবেই তো তোমাকে চাইছি।
  • মানে রাজ!
  • হ্যা, আমি চাইনা রাজের

ভালোবাসার ভাগ আর কেও নিকওকে কেও কিছু বললে আমার সহ্য হয় না।

  • রাজ সত্যিই ভাগ্যবান।
  • তুমি রাজি হলে কিন্তু আমি সবচেয়ে ইয়াং শাশুড়ি হয়ে যেতাম।
    -!
  • আচ্ছা ঠিক আছে আর কিছু বলবোনা।
  • রাজের জ্বর কমেছে?
  • আমি বললেও তোমার সন্দেহ দূর হবে নাতুমিই বরঞ্চ একবার নিজে গিয়ে দেখে আসো, আচ্ছা চলো আমি নিয়ে যাচ্ছি।
  • না, ঠিক আছে।
  • ওই যে তোমার রাজ যাও ভিতরে আমি একটু আসছিওর ভাইয়া কে গুড নাইট বলে আসি।

অরিন ভিতরে গিয়ে রাজের মাথায় হাত দিয়ে দেখছে জ্বর কমেছে কিনা।
আচমকা অজানা এক স্পর্শে ঘুম ভেংগে যায় রাজের

  • আরে মায়াবতী আপনি?
  • জ্বর কমে গেছে তোমার। (অরিন)
  • Good Morning সকাল হয়ে গেছে মনে হয় কখন যে ঘুমিয়ে গেছি দাড়ান উঠছিমাথায় লাগছে। (রাজ)
  • হা হা হা সকাল হয়নি বুদ্ধু মাত্র রাত দেড়টা বাজে, আর উঠতে হবে না শুয়ে থাকো। (অরিন)
  • ওহ, আমি ভাবলাম সকাল হয়ে গেছে, আপনি ঘুমাননি? (রাজ)
  • হ্যা ঘুমোতে যাবোযাবার আগে তোমাকে দেখতে আসলাম। (অরিন)
  • রাতে খাইছেন? (রাজ)
  • হুম খাইছি (অরিন)
  • সবাই কি ঘুমিয়ে গেছে? (রাজ)
  • না ক্যানো? (অরিন)
  • না মানে, আমার না ক্ষুধা লাগছে খুব আম্মু বা ভাবীকে একটু ডেকে দিবেন? (রাজ)
  • তোমার আম্মু আব্বু শুয়ে পড়েছে আর তোমার ভাবী এখানেই ছিলো তোমার ভাইয়ার সাথে দেখা করতে গেছে (অরিন)
  • এখনো ঘুমোউ নি তুমি? (নিকিতা)
  • কি করে ঘুমোব! (ভাইয়া)
  • ক্যানো, বেডে শুয়ে বালিশ মাথায় দিয়ে(নিকিতা)
  • সেটা তো আমিও জানি (ভাইয়া)
  • তো! ঘুমাউনি ক্যানো? (নিকিতা)
  • তুমি বোঝনা! (ভাইয়া)
  • আমি কি জোতিষবিদ্যা জানি নাকি! কেও না বললেই বুঝবো? (নিকি)
  • হুম, কথাটা যদি তোমার ছেলের হতো তাহলে ও মনে মনে কিছু বলার আগেই তুমি জানিতা শুধু আমার বেলায় ক্যানো এমন করো! (ভাইয়া)
  • এই তুমি আমার রাজ কে হিংসে করো নাকি! (নিকি)
  • একটু তো লাগেই(ভাইয়া)
  • খবরদার এই কথা মাথায় ও আনবা না আনলে কিন্তু আজকের মতো রোজ গেস্ট রুমেই রাখবো (নিকি)
  • হুম, একটু ঘুম পাতায় দাওনা গোঁ (ভাইয়া)
  • তুমি কি ছোট বাচ্চা নাকি গো? (নিকি)
  • এখন অন্তত তাই ভাবোনা প্লিজ(ভাইয়া)
  • হুম বলো কি করা লাগবে? (নিকি)
  • বলবো? (ভাইয়া)
  • হুম বলোনা(নিকি)
  • ১০ টা পাপ্পি আর একটা টায়িট ঝাপ্পি। (ভাইয়া)
  • এত্তোগুলা! না পারবোনা না(নিকি)
  • প্লিজ প্লিজ প্লিজ বাবু(ভাইয়া)
  • তারপর ও বেশি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু (নিকি)
  • ওকে, তোমার ইচ্ছেমত (ভাইয়া)
  • একটা গুড নাইট পাপ্পি হতে পারেআর কিছুনা (নিকি)
  • আর ঝাপ্পিটা! (ভাইয়া)
  • একটাই ওদিকে অরিন মনে হয় বেচারি একা বসে আছে। (নিকি)
  • সবার সব আছে শুধু আমি বেচারা প্রতি অবিচার সবার ঠিক আছে কি আর করার(ভাইয়া)
  • গুড নাইট মাই সুইটু হাজবেন্ড। (নিকি)
  • গুড নাইট, লাভ ইউ বউ টা(ভাইয়া)
  • লাভ ইউ টুঘুমাউ।
  • কি ব্যাপার ঘুম ভাংছে আমাদের হিরোর? (নিকি)
  • হ্যা ভাবী কই ছিলা বলোত? তোমারে খুঁজতেছি। (রাজ)
  • সে থাকতেও আমাকে খুজতেছো! কাহিনী কি ভাই? (নিকি)
  • ক্ষুধা লাগছেআর সে তো আমাদের বাসায় কোথায় কি আছে চিনেনা(রাজ)
  • আমি না হয় আসি আপু। (অরিন)
  • ক্যানো! তুমি কই যাবা! আমি খাবার এনে দিচ্ছি তুমি খাওয়াও। (নিকি)
  • না না আপু আপনি খাওয়ান আমি একটু ঘুমোতে চাচ্ছি। (অরিন)
  • ক্যানো, সিরাজগঞ্জ তো ঠিকি খাওয়াইছো হুম(নিকি)
  • সেটা তো আপু বিপদে পরে আর তখন তো আপনি ছিলেন না মায়ের চেয়ে সন্তানকে আর কেও অতটা কেয়ার করতে পারেনা। (অরিন)
  • তা ঠিক কিন্তু আমি তো এখন বুড়ো হয়ে যাচ্ছি তো আমার পরের দায়িত্ব টা তো তোমার ই নিতে হবে। (নিকি)
  • বুড়ো মানে! (অরিন)
  • আরে দ্যাখোনা এতো বড় একটা ছেলে আছে লম্বায় আমার থেকে অনেক বড়, কিছুদিন পর আমার ছেলেটার বিয়ে হবে তারপর আমার নাতিপুতি হবে, তাহলে বুড়ো হয়ে গেলাম না! (নিকি)

নিকিতার কথা শুনে ৩ জন মিলেই খুব হাসছে।
অরিন বসে আছে নিকিতা রাহিব কে খাওয়াচ্ছে,

  • তুমিও খাবা নাকি! রাজের সাথে তোমাকেও খাওয়াই দেই? (নিকি)
  • না আপুআমি কিছুই খাবোনা। (অরিন)
    অরিন আর নিকিতার ঘুমোতে ঘুমোতে প্রায় আড়াইটা বাজলো।

অথচ ফজরের আজান দেবার আগেই ঘুম থেকে উঠে অজু করে নামাজে দাঁড়িয়ে গেলো অরিন।
এই বিষয়টা রাজের বাবার চোখ এড়ায়নি তার বিষয়টা খুব ভালো লেগেছে একটু পর নিকিতা সহ সবাই উঠে নামাজ পড়ে নিলো পরিবার এর প্রতিটা সদস্য নামাজ পড়ে রাজ মাঝেমধ্যে ফজর নামাজ টা মিস করে, বাসায় বাবার ডাকাডাকি তে উঠতেই হয় বাহিরে গেলে আর হয়না।
নামাজের পর নিকিতা, কোরআন পরে অরিন ও পড়ে।
আজ দুজন মিলেই পড়ছে।

  • এর থেকে সুন্দর সময় আর কি হতে পারে রাজের মা? (রাজের বাবা)
  • হ্যা, সত্যিই খুবই সুন্দর সময় জানিনা কবে সত্যি হবে এই সময়টা! (রাজের মা)
  • হ্যা ঠিকি বলেছ আল্লাহর কাছে এটাই চাওয়া এই সকালটার মতো জীবনের বাকি সকাল গুলো ঠিক এইরকম ই মধুর হোক। (রাজের বাবা)
  • হুম আল্লাহ্ কবুল করুক তোমার চাওয়া। চলো রাজ কে দেখে আসি ওর জ্বর টা কমলো কিনা। (রাজের মা)
  • হ্যা চলো,
    আরে দ্যাখো রাজের মা, যাকে দেখতে যাচ্ছো সেই আমাদের দেখতে আসছে! (রাজের বাবা)
  • Good Morning বাবা, আম্মু। (রাজ)
  • Good Morning, এখন কেমন লাগছে! এদিকে বস জ্বর নেই তো এখন। (রাজের মা)
  • হ্যা আম্মু জ্বর নেইকিন্তু দাঁড়াইতে পারতেছিনা মনে হচ্ছে কেও পিছ থেকে ধাক্কাধাক্কি করছেমাথাটা প্রচণ্ড ঝিমঝিম করছে। (রাজ)
  • অনিয়ম করে খাওয়া আর এই জ্বরে এতো দূর্বল হয়দ গেসিস ২/৩ দিন ঠিক মতো খাবার খাইলে ঠিক হয়ে যাবিভয়ের আর কিছু নেই (রাজের বাবা)
  • বাবা একদিন এ ভালো হওয়ার মেডিসিন নাই? (রাজ)
  • ক্যানো! যুদ্ধে যাবি নাকি? (রাজের বাবা)
  • এই তুমি সকাল সকাল আমার অসুস্থ ছেলের সাথে কি শুরু করলা? তুমি যাও এখান থেকে (রাজের মা)
  • হুম, যাচ্ছি তোমার পাগল ছেলেকে সামলাও তুমি আমি আমার রুমে যাচ্ছি আমার চা টা পাঠাই দিও। (রাজের বাবা)
  • যাওনা এখানে আপনাকে কে থাকতে বলছে! আপনি থাকলে আমি আর ও অসুস্থ হয়ে যাবো! (রাজ)
  • এই রাজ চুপ করতোআর তুমি যাও আমি চা পাঠিয়ে দিচ্ছি(রাজের মা)
    নিকিতা কোরআন পড়া শেষ করেই কিচেনে ঢুকলো,
    অরিন ও সাথে গেলো নিকিতাকে সাহায্য করতে।
  • আরে তুমি কাজ করছো ক্যানো! (নিকি)
  • একটু হেল্প করি(অরিন)
  • না বাবা থাক পরে বলবা বিয়ের আগেই আমারে দিয়ে কাজ করাচ্ছে এরা ভালো মানুষ না! তুমি বরঞ্চ বসেই থাকো(নিকি)
  • আপু প্লিজ রাগ করবেন না, আমার মনে হয় এই বিষয়ে আর কথা না বলাই ভালো। (অরিন)
  • ওকে, কষ্ট পেলে সরি, তবেঁ আপাতত চুপ সময় পেলে পরে বলবো কিন্তু! (নিকি)
  • দিন আমি করি কাজ গুলা(অরিন)
  • (যার চারদিকে এতো গুন তার রান্না টেস্ট করাও উচিৎ আফটার অল আমার ছেলের বঊকে তো যাচাই বাচাই করতেই হবে আমার) ওকে আজকের সকালের রান্নাঘর তোমার সব কিছু আছে তোমার ইচ্ছে মতো ডিশ বানাও। (নিকি)
  • কার কি পছন্দ আমি তো কিছুই জানিনা! (অরিন)
  • মোটামুটি ভাবে সবাই সব কিছু খায় জাস্ট রাজ কিছু কিছু জিনিস খায়না। (নিকিতা)
  • তাহলে কি করবো? (অরিন)
  • আমি কিছুই বলবো না পুরো দায়িত্ব তোমার, কোন কিছুর দরকার হলে ডাক দিও আমি ড্রইং রুমেই আছি অরিনের কোন কথা না শুনে হনহন করে ড্রইং রুমের দিকে পাবাড়াল নিকি। কিছু বুঝতে পারছেনা অরিন অবশেষ এ বিসমিল্লাহ বলে শুরু করলো যা হবে।
  • কি ব্যাপার আজ সকালে নাস্তা পাবো না নাকি? সবাই এখানে! (ভাইয়া)
  • সময় হলে স্পেশাল খাবার পাবা(নিকিতা)
  • আলাদীন এর চেরাগ পাইছো নাকি! জিন মহোদয় রান্না করে দিয়ে যাবে? (ভাইয়া)
  • অনেকটা তাই ভাবতে পারো(নিকি)
  • মা! কি ব্যাপার বলোনা (ভাইয়া)
  • অরিন কে রান্না করাচ্ছে নিকিতা! (মা)
  • আরে তুমি গেস্ট কে দিয়ে রান্না করাচ্ছো মানে দেইখো ভাববে তুমি জ্বলাচ্ছো আর কখনো আসবেই না! (ভাইয়া)
  • প্রথম কথা হচ্ছে সে কোন গেস্ট না! সে এই বাড়ির ছোট বউ ওরফে আমার ছেলের বউ। আর দ্বিতীয়ত আমি তার সেকেন্ড শাশুড়ি আর শাশুড়ি দের একটু কড়াই থাকতে হয় বউ দের হাতের মধ্যে রাখতে হুম। (নিকি)
  • মা! দেখছো তোমার মেয়ের কথা! তুমিও কড়া হইবা আজ থেকে ওর উপর হুহ! (ভাইয়া)
  • মা আমাকে ভুল করলে মারতেও পারে বকতেও পারে সেই রাইট তার আছে আপনার মাতব্বরি করা লাগবেনাহুহ! (নিকি)
  • কে! কাকে দিয়ে রাধাচ্ছে ভাইয়া? (রাতুল, সাকিব)
  • আরে আমার দুই পল্টন কি খবর হুম (নিকি)
  • ভাবী আলহামদুলিল্লাহ্‌ ভালো, তবেঁ গতকাল রাতে আপনার থেকে রাজের কথা শুনে খারাপ লাগছে বেশি রাত হওয়াতে আর আশা হয়নি রাতে, রাজ কই? (রাতুল)
  • রাজ শুয়ে আছেওর রুমে যাও ভিতরে যাও। (নিকিতা)
  • কেমন আছিস তুই? (সাকিব)
  • ভালোরে তোরা? (রাজ)
  • আছি আলহামদুলিল্লাহ্‌ তোকে খুব মিস করতাম(রাতুল)
  • আমি কিন্তু মিস করিনাই! (রাজ)
  • হ্যা সেটা অবশ্য আমরা জানি আপনি ক্যানো মিস করে নাই? তা কতদুর এগুলো? (সাকিব)
  • সেটা তো সিক্রেট বলা যাবেনা হুম! (রাজ)
  • আমাদের বলা যাবেনা! সমস্যা পরে শুনে নেব! তা তাকে রেখেই চলে আসলি যে? (সাকিব)
  • কে বলছে! তাকে রেখে আসছি? (রাজ)
  • মানে! (রাতুল)
  • সে তো আমাদের বাসায় বউকে কেও রেখে আসে নাকি! (রাজ)
  • মানে কি! তুই বিয়েও করেসিস আর আমরা জানিনা! দেখ ভাই এই কথা বিশ্বাস করতে পারি যে আমাদের ছাড়া তুই বিয়া করতে পারোস কিন্তু এইডা বিশ্বাস হয় না ম্যাম রাজি হবে! এটা অবিশ্বাস্য। (সাকিব)
  • ক্যানো আমি কি খারাপ নাকি যে রাজি হবেনা! (রাজ)
  • না, তা নয় কিন্তু এতো তাড়াতাড়ি কিভাবে! (সাকিব)
  • বিশ্বাস না হলে কিচেনে গিয়ে দ্যাখ আমাদের জন্য রান্না করছে সে। (রাজ)
  • সত্যি! (রাতুল)
  • এই পল্টনের দল চলে আসো খাবার রেডি(নিকিতা)
  • রাজ আস্তে আস্তে ওদের সাথে ডাইনিং এ গিয়ে বসলোকিন্তু সাকিব, আর রাতুল নিজের চোখ কেও বিশ্বাস করতে পারছেনা! তবেঁ কি সত্যি রাজ! কিন্তু বিশ্বাস ই যে হচ্ছে না,!
  • Good Morning Mam! (রাতুল)
  • Good Morning, কেমন আছো? (অরিন)
  • জ্বি আলহামদুলিল্লাহ্‌ ভালো, আপনি? (রাতুল)
  • হ্যা আলহামদুলিল্লাহ্। (অরিন)
  • সাকিব ভাবী বলেই ডাকতে যাচ্ছিলো অরিন কে রাতুল আটকালো সাকিবের মনের সন্দেহ দূর করতে নিকিতা কে টেনে দূরে নিয়ে গেলো!
  • এই ভাবী রাজ যে বিয়েও করছে আগে তো বল্লানা! (সাকিব)
  • কিহ! রাজ কবে বিয়ে করছে? (নিকিতা)
  • বিয়ে না করলে ম্যাম এইখানে ক্যান! (সাকিব)
  • নিকিতা সব কিছু খুলে বললোকিভাবে অরিন আজ ওদের বাসায়।
  • অহ তাই বলো এই রাজ বলতেছে বিয়ে করছে!
  • হইতো মজা করছে চলো খাবে।

মোটামুটি ভাবে অনেক কিছুই রান্না করেছে। অরিন, সবাই খাবার টেবিলে বসে আছে।
নিকিতা অরিন কে বসতে দিয়ে সবাইকে খাবার দিচ্ছে।
সবাই একবার খাবার মুখে দেবার পর চুপ হয়ে গেলো!
অরিন বিষয় টা লক্ষ্য করে!
কি হয়েছে! খাবার ভালো হয় নি!


পর্ব ১০

অরিন বিষয় টা লক্ষ্য করে!
কি হয়েছে! খাবার ভালো হয় নি!

  • ওয়েট ওয়েট আমি আগে একটু খেয়ে দেখি(নিকিতা)
    নিকিতা ও খাবার মুখে দিয়ে চুপ হয়ে গেলো!

টেনশন এবার একটু বেশিই বেড়ে গেলো
আর সেটা বোঝা যাচ্ছে অরিনের ফেসটা দেখেই এই সকালের ঠান্ডা আবহাওয়া, উপরে ফ্যান চলছে তার মাঝেও ঘামছে অরিন!
সবাই অরিনের দিকেই তাকিয়ে আছে! বিষয়টা বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে দেখে রাজের বাবা নিরাবতা ভেজ্ঞে

  • আরে মা এতো ভয় পাচ্ছো ক্যানো! এটা কি কোন বোর্ড এক্সাম নাকি? যদি খারাপ ও হয় তাতেও তো ভয়ের কিছু নেই আমরা তো কিছুই বলবো না তোমাকে আর আমার জানামতে সবার চুপ করে থাকার আসল কারন খাবার একটু বেশিই মজা হইছে, জানিনা ভাত কতগুলা রাঁধছ আমার কাছে মনে হচ্ছে হাফ কেজি আজ আমি একাই খেয়ে নিবো! (রাজের বাবা)
    এবার অরিন নিজেও খাবার মুখে দিয়ে দেখলো, নাহ সব তো ঠিকই আছে!
    তাহলে!

এইবার একটু চিন্তা কমছে ক্যানো যেনো এর মাঝেও বারবার অরিনের চোখ রাজের দিকেই যাচ্ছে রাজ তো কিছু বলছেনা! ওর কাছে বুঝি ভালো লাগেনি!
শেষে এমন হলো সকালের খাবার সট পরে গেলো!
সবাই খুব প্রশংসা করলো কিন্তু রাজ কিছু বলেনি এর কারন খুঁজে পাচ্ছেনা অরিন,
খাবার পালা শেষে অরিন সবার থেকে বিদায় নিয়ে বাসায় চলে আসলো রাজের বাবা- মা, ভাইয়া – ভাবী ওখানেই থাকতে বলছিলো কিন্ত অধিকার না থাকায় হইতো জোর করতে পারেনি।

বাসায় এসে পুরো বাড়িটা পরিষ্কার করছে অরিন।
অরিনের বাবা একজন সরকারি কর্মকর্তা ছিলো সারাজীবন এর সঞ্চয় থেকে ৮ ডিসিমাল জায়গার উপর এই তিন তলা বাসাটা করেছে, উপরে অরিনরা নিজেররাই থাকে আর নিচের দুই তলা ভাড়া দেওয়া আছে।
কয়েকদিন না থাকায় পুরো বাসায় ধুলো জমে আছে, পুরো বাসা পরিষ্কার করে রান্না উঠিয়ে দিলো, একা মানুষ তাই বেশি কিছু করলো না ফ্রিজ থেকে মাংস বের করে রান্না করলো।
রান্না শেষে গোসল করে বের হতেই কলিংবেল এর আওয়াজ

  • হেই আপু কেমন আছো তুমি? কখন আসলা? (নিচের ফ্লাটে থাকে রিমি এইবার ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ছে)
  • আরে রিমি! আলহামদুলিল্লাহ্, তুমি কেমন আছো?
  • ভালো আছি কিন্তু তোমাকে ভীষণ মিস করেছি। (রিমি)
  • তাইনাকি তা মিস করারা আসল কারনটা কি হুম? (অরিন)
  • তেমন কিছু না আপু এমনি। (রিমি)
  • আমি যেই রিমিকে চিনি সে এমনি এমনি কাউকে মিস করা মেয়ে না (অরিন)
  • হুম, একটা কারন আছে তুমি তো জানোই তোমার কাছে সব শেয়ার না করা অবধি ভালো লাগে না আমার ফোনে বলতে পারতাম কিন্তু ফেস টু ফেস কথা বলে যে শান্তি সেটা পাবোনা তাই ফোন করিনি। (রিমি)
  • হুম বুঝলাম তুমি বসো আমি কাপড় গুলা ছাদে দিয়ে আসি। (অরিন) কিচ্ছুক্ষণ পর
  • খাইছো দুপুরে? (অরিন)
  • না এখনো না (রিমি)
  • চলো রান্না শেষ খেয়ে গল্প করা যাবে প্রচুর সময় আছে আমার সমস্যা হবেনা। (অরিন)
  • খেতে ইচ্ছে করছেনা আপু! (রিমি)
  • পেট খালি থাকলে মাথাও খালি থাকে তখন আর সঠিক সিদ্ধান্তগ্রহণ করা যায় না অতএব লক্ষী মেয়ের মতোআগে খাও তারপর সব শুনবো। (অরিন)
  • আচ্ছা চলো(রিমি)
  • কেমন লাগছে? (অরিন)
  • তোমার রান্না ভালো না হয়ে পারে বলো ফাস্টক্লাস। (রিম)
  • ধন্যবাদ।
    খাবার শেষে
  • হ্যা এবার বলো কি হয়েছে। (অরিন)
  • কিভাবে যে বলি। (রিমি)
  • বাব্বাহ আমাকে কিছু বলতেও দ্বিধা হচ্ছে আজ! কি ব্যাপার! বিষয়টা তো জটিল মনে হচ্ছে! (অরিন)
  • আগে বলো তুমি আমাকে হেল্প করবা আর রাগ করবা না কিন্তু(রিমি)
  • সাধ্যের মধ্যে হলে অবশ্যই করবো বলো। (অরিন)
  • আপু দ্বারাও ঘটনা হচ্ছে

তুমি তোমার কাজিনের বিয়েতে যাবার কয়েকদিন আগে থেকে একটা ছেলে রোজ বাসার সামনে ঘোরাঘুরি করতো প্রথম প্রথম আমার কাছে এমনি স্বাভাবিক মনে হয়েছে কিন্ত আস্তে আস্তে ছেলেটাকে ভালো লাগতে শুরু করেআর ছেলেটাও যা স্মার্ট জাস্ট ওয়াও আমি ফিদা হয়ে গেসি আপু আমি তার প্রেমে পড়ে গেছি! (রিমি)

  • বাব্বাহ আমাদের রিমি বড় হয়ে গেছে দেখছি ছেলেটা কে? কই থাকে? কিসে পড়ে? (অরিন)
  • এতো গুলা প্রশ্ন এক সাথে! (রিমি)
  • রিমির কথা শুনতে শুনতে হঠাত করেই রাজের কথা মনে পড়ে গেলোআচ্ছা রাজের হঠাৎ কি হলো! খাবারের সবাই প্রশংসা করলো কিন্তু ও কিছুই বললো নাআবার আসার সময় ও তেমন কিছুই বললো না! কিন্তু ক্যানো!
    আমিই বা ক্যানো ওর কথা ভাবছি! ওর কিছু বলা না বলায় আমার কবে থেকে যায় আসে! না বলুক তাতে আমার কি!
  • আপু! কি ভাবছো এতো! (রিমি)
  • কই! নাতো হ্যা বললা না তো, আমাদের রিমির পছন্দের ছেলেটা কে! হুম
    অবশ্যই খুব সিম্পল সে হবেনা কারন আমাদের রিমি যাকে তাকে তো কখনো পছন্দ করবে না। (অরিন)
  • হ্যা আমি সে একটু বেশিই স্পেশাল। (রিমি)
  • এতো সাসপেন্স না রেখে তাড়াতাড়ি বলো! (অরিন)
  • বলছি, প্রথম প্রথম তো চিনতাম না পরে খোজ নিয়ে দেখি আমাদের গার্লস কলেজের প্রিন্সিপ্যাল এর ছেলে
  • প্রিন্সিপ্যাল এর ছেলে!
  • কি ব্যাপার আপু! তুমি অবাক হলে যে! (রিমি)
  • না কিছুনা নাম কি তার?
  • রাজ! পুরো নাম #এসরাজ, সুন্দর নাম না আপু? (রিমি)
  • রিমির মুখে রাজের নাম টা যেনো একদম বুকে এসে লাগলো! আমি এসব কি ভাবছি! ধুর।
  • আপু! নাম টা সুন্দর না? (রিমি)
  • হ্যা খুব সুন্দর। (অরিন)
  • আপু আমার মনে হয় তুমি তাকে চেনো তোমার কলেজেই পড়ে। (রিমি)
  • হলেও হতে পারে এতো স্টুডেন্ট সবাইকে চেনা তো কঠিন তাইনা! (জানিনা ক্যানো যে রাজ কে চিনি কিন্তু কথাটা রিমিকে বলতে ইচ্ছে করছেনা! )
  • হ্যা তাও তো কথা তবেঁ আপু একটা হেল্প করাই লাগবে তোমার। প্লিজ বলো করবা(রিমি)
  • কি হেল্প! (কথাটা বলতে বুক কাঁপছে ক্যানো! )
  • ভার্সিটির রেজিস্টার খাতায় সব স্টুডেন্ট এর কন্টাক্ট নাম্বার থাকে প্লিজ ওর নাম্বার টা জোগাড় করে দাওনা গোঁ! প্লিজ আপু
    জানিনা আজ কয়েকদিন হলো আসছেনা এদিকে কিছু হলোই নাকি ভীষণ মিস করছি তাকে,
    কথা না বলা অবধি ভালো লাগছেনা অনেক চেষ্টা করে ওর ফেফু আইডি জোগাড় করেছি কিন্তু ওর আইডি তে সেই কবে নক করেছি আজ অবধি রিকুয়েস্ট একসেপ্ট ও করেনি কমেন্ট এর রিপ্লে ও দ্যায়না আর টেক্সট তো সিন ই হয়নাই
    অনলাইন এও আসেনা আগের মতো!

প্লিজ আপু এই হেল্পটা করো না গোপ্লিজ! (রিমি)

  • আরে কাঁদছ ক্যানো! পাগলি একটা ধুর এইভাবে কাদে নাকি কেও!
  • তাহলে বলোনা প্লিজ নাম্বার এনে দিবা? (রিমি)
  • আচ্ছা আমি দেখছি কি করা যায়(রাজের নাম্বার আমার ফোনেই আছে কিন্তু!
    কারো অনুমিত ছাড়া তার নাম্বার অন্য কাউকে দেওয়া একদম ই উচিৎ না রাজ জানলে কষ্ট পাবে তারচেয়ে বরঞ্চ ওকে জিজ্ঞেস করেই নাম্বার টা দিলে ভালো হবে)
  • দেখি না তুমি প্লিজ দিবাই আমারে নাম্বার টা কিন্তু(রিমি)
  • ওকে! ৪/৫ দিন পর ক্যাম্পাস খুলবে তখন গিয়ে এই ব্যাপারে খোজ নিবো ঠিক আছে?
  • হুম ভুলে যাবানা কিন্তু আপু। (রিমি)
  • হুম, চোখ মোছ এবার।

এই পানি টুক খাও ভালো লাগবে।

  • আপু আমি আসি এখন আম্মুকে বলে আসিনি পরে আসবো। (রিমি)
  • আচ্ছা ঠিক আছে এসো।

রিমি যাবার পর দরজা টা লাগিয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিলো অরিন ক্যানো যেনো একটু বেশিই ক্লান্ত লাগছে ক্যানো যেনো ভয় লাগছে কিন্তু কিসের ভয়! ভালো লাগছেনা কিছু আমিই তো চাইতাম রাজ ওর থেকে ছোট বয়সের কাউকে ভালোবেসে ভালো থাকুক তাহলে আজ যখন রিমি ওকে ভালোবাসে সেই কথা শুনে আমার ক্যানো ভালো লাগছেনা! এসব ভাবতে ভাবতেই কখন যে চোখ লেগে গেছে অরিন বুঝতেই পারেনি।

  • রাজ কি করো? (ভাবী)
  • এইতো ভাবী একটা বই পড়তেছিলাম আসো বসো। (রাজ)
  • হুম আমি একটা জিনিস বুঝলাম না! তুমি এমন ক্যানো করলে? (ভাবী)
  • কই! আমি আবার কি করলাম ভাবী? (রাজ)
  • তুমি জানোনা তুমি কি করেছো? (ভাবী)
  • না ভাবী আমার জানা মতে আমি কিছুই করিনি বুঝতে পারছিনা কি করেছি আমি! (রাজ)
  • বুঝতে পারছোনা! নাকি আমাকে বলতে চাইছো না! কোনটা! (ভাবী)
  • তোমাকে বলবো না এমন কি কথা আছে!? (রাজ)
  • সেটাই তো আমি জানতে চাইছি! (ভাবী
  • প্লিজ ক্লিয়ার করে বলো না কি করেছি আমি? (রাজ)
  • তুমি অরিনের সাথে এমন করলা ক্যানো! (ভাবী)
  • কি করেছি! (রাজ)
  • ওর রান্নার সবাই প্রশংসা করলো কিন্তু তুমি কিছুই বললেনা আবার যাবার সময় ও তেমন কিছুই বললে না!
    কারন টা কি রাজ?
  • এটা তো সুপার সিক্রেট ভাবী। (রাজ)
  • কিহ! সিক্রেট! তাও আবার সাথে? বাহ বেশ ভালো আমার ছেলে অনেক বড় হয়ে গেছে, আমার থেকে কথা গোপন করাও শিখছে! ঠিক আছে বলা লাগবে না আমি যাচ্ছি! (নিকি)
  • আরে আরে কই যাও আমি বলছি সিক্রেট আমি বলিনাই যে তোমাকে বলবো নাআচ্ছা আজ পর্যন্ত আমি কিছু লুকাইছি তোমার থেকে! (রাজ)
  • নাহ! (নিকি)
  • তাহলে আজ! আমার সব কথা তোমাকে না বললে আমার ঠিক ঠাক ঘুম ই হয় না। (রাজ)
  • ঠিক আছে এবার বলো অরিনের সাথে এমন করলা ক্যানো! (নিকি)
  • গতকাল রাতে তোমরা যাবার পর আমার ঘুম আসছিলোনা পরে অনলাইন থেকে একটা লাভ স্টোরির পিডিএফ ডাউনলোড করে পড়েছি
    ওই গল্পটার একটা কথা আমার খুব ভালো লেগেছে আর আমি সেই ফর্মুলা টা এপ্লায় করেছিআমার মনে হয় একটু কাজ হয়েছে। (রাজ)
  • কি! বুঝাই বলো। (নিকি)
  • ভাবী আসলে একজন যখন অন্যজন কে ভালোবাসে তখন সে তাকে মূল্যায়ন করতে পারেনা আর যখন সেই ভালোবাসার মানুষ এর থেকে একটু অবহেলা পাওয়া যায় সেটা অনেক বেশি ইফেক্ট করে।
    আমি ইচ্ছে তাকা সত্বেও তার খাবারের প্রশংসা করতে পারিনিআর তার যাবার সময় খুব কষ্ট হয়েছে আমার তারপর ও আমি কিছু বলতে পারিনি।
    এই কাজ টা করতে অনেক কষ্ট হইছে ভাবী কিন্তু তারপর ও করেছি জানিনা আমার এই কাজ সফল হবে কিনা! (রাজ)
  • হবে কিনা মানে! ১০০% হয়েছে। (নিকি)
  • কিভাবে বুঝলে? (রাজ)
  • তুমিতো মাথা নিচু করে ছিলে কিন্তু আমি অরিন কে দেখেছি ও বারবার তোমার দিকেই তাকাচ্ছিলো
    তোমার থেকে প্রশংসা শোনার জন্য হইত কিন্তু তুমিতো তাকালেই না! আর যাবার সময় অরিন এর ফেসটা দেখে আমার ই খারাপ লাগছে ওই চোখ কিছু খুঁজতেছিলো ও যাবার সময় আমাদের সাথে তো কথা বলছিলো কিন্তু ওর চোখ আমাদের দিকে থাকলেও দৃষ্টি তোমার দিকেই ছিলো। (নিকি)
  • দেখছ! আমি জানি সেও ভালোবাসে আমাকে কিন্তু সেটা বুঝতে পারছেনা

হইতো সমাজ এর ভয়ে! আর একটা কথা মানতেই হবে অসম্ভব ভালো একজন মানুষ সে সবার ভালোর চিন্তা করে কিন্তু নিজের কথা বাদ দিয়ে! (রাজ)

  • হ্যা রাজ এই যামানায় অরিনের মতো মানুষ আমি খুব কমই দেখেছি।
    আর এটা তো আমি শিওর অরিন ও ভালোবাসে তোমাকে ও যতই অস্বিকার করুক। আর তোমার কথায় ঠিক ও নিজেই জানেনা ওই ও তোমাকে ভালোবাসে
    আমার ছেলেটাই যে এমন কেও ভালোনাবেসে থাকতে পারবেনা হুম। (নিকি)
  • তাতো দেখাই লাগবে যার এত্তো কিউট দুইটা মম আছে সে কিভাবে লাভে ফেইল হতে পারে!? (রাজ)
  • হুম তাতো অবশ্যই

এখন তোমার একটা কাজ করা লাগবে। (নিকিতা)

  • আই লাভ ইউ মাই সেকেন্ড মম, অবশ্যই তোমার কথা মতো কাজ করবো যত কিছুই হোক। (রাজ)
  • গুড বয় এবার একটু উঠো বাগানে গিয়ে একটু হাটবা চলো। (নিকি)
  • ওকে চলো। (রাজ)

৪/৫ দিন পর
কলিং বেল টা বাজছে!
এই সকালে কে আসলো সময় ও নেই আজ ক্যাম্পাস খুলেছে একটু বিরক্তি নিয়েই দরজা খুললো অরিন।

  • আরে রিমি! তুমি এতো সকালে? (অরিন)
  • হ্যা আপু, আজ ভার্সিটি খুলছে না তোমার? (রিমি)
  • হ্যা। (অরিন)
  • তুমি যাবেনা? (রিমি)
  • হ্যা যেতে তো হবেই এখনি যাবো। (অরিন)
  • মনে আছে তোমার? (রিমি)
  • কি মনে থাকবে!
  • তোমায় যে রাজের নাম্বার এর কথা বলেছিলাম! এতো তাড়াতাড়ি ভুলে গেলে আপু!
  • (সেটা ভুলে যেতে পারলে তো ভালই হতোহুম! ) ওহ!
    আচ্ছা ঠিক আছে আমি দেখবো।
  • আচ্ছা যাও প্লিজ ভুলে যেওনা আপু।
  • ওকেআচ্ছা আসি, আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে।
    অনেকদিন পর ক্যাম্পাস এ
    আজ সেকেন্ড ইয়ারের প্রথম ক্লাস
    অরিন চারদিকে তাকিয়ে শুধু রাজ কেই খুঁজছে কিন্তু রাজ কে কোথাও দেখা যাচ্ছেনা!

ও কি আজ আসেনি! ক্যানো আসলোনা আজ?
অনেক্ষন পর রাতুলে সাথে দেখা অরিনের।

  • আসসালামু আলাইকুম ম্যাম। (রাতুল)
  • ওয়ালাইকুম আসসালাম।
    ‘রাতুল সালাম দিয়েই চলে যাচ্ছিলো’
  • রাতুল শোন তো। (অরিন)
  • জ্বি ম্যাম। (রাতুল)
  • তুমি ক্যাম্পাসে একাই আসছ? (অরিন)
  • না ম্যাম আমরা সবাই আসছি। (রাতুল)
  • ওহ! বাকিরা কোথায়! দেখলাম না যে? (অরিন)
  • ম্যাম ওই যে মাঠেই তো বসে আছে সবাই! (রাতুল)
    অরিন সবার মাঝে রাজ কে খুঁজছে কিন্তু রাজ তো ওখানে নেই!
  • ম্যাম আপনি কি রাজ কে খুঁজছেন?
  • না! ক্যানো ও আসেনি? (অরিন)
  • না ম্যাম আসেনি। (রাতুল)
  • ক্যানো আসেনি? আজ তো তোমাদের প্রথম ক্লাস। (অরিন)
  • আসলে আমি ঠিক জানিনা কেনো আসেনি সকালে ফোন দিলাম ওর ফোন বন্ধ পরে ভাবীকে ফোন দিয়ে শুনলাম ও আসবেনা আজকে। (রাতুল)
  • ক্যানো আসবেনা সেটা বলেনি? (অরিন)
  • ভাবী তো সেটা বললোনা শুধু বললো আসবেনা আর আমি জিজ্ঞেস করার সুযোগ ও পাইনি। (রাতুল)
  • ক্যানো!
  • ভাবী বললো একটা সিরিয়াস রুগী আসছে ব্যাস্ত পরে কথা বলবে। (রাতুল)
  • ওহ আচ্ছা ঠিক আছে তুমি যাও।
  • ওকে ম্যাম। (রাতুল)

রাতুল যাবার পর
কি হলো রাজের! শুনেছি ও এখন পুরোপুরি ভাবে সুস্থ হাতের কাটাটাও শুখিয়েছে। ওই তো ক্লাস মিস করেনা!
একবার কি আমি ফোন করে দেখবো?
নাহ থাক।

আমার সাথে কি হচ্ছে এটা!
আমি কেন এতো রাজ কে নিয়ে ভাবছি! এটা পাপ
নাহ আর একবার ও ওর কথা ভাববো না আমি যা হয় হোক ওর।

  • কি ব্যাপার ম্যাম এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কি ভাবছেন এতো? (সাইকোলজির প্রফেসর রাশেদ জামাল, কথা হচ্ছে রাশেদ সাহেব অনেক আগেই অরিনের উপর ক্রাশ খেয়ে বসে আছে! )
  • আরে রাশেদ সাহেবআপনি? কেমন আছেন?
  • এইতো আছি ভালোই আমাদের খোজ খবর ই নেন না আপনি কি ব্যাপার? (রাশেদ)
  • আরে কই সেইরকম তো কিছু না! ক্যাম্পাস এ এসেবসে থাকার টাইম আমার একটু কম আপনি তোঁ জানেন সেটা ফাস্ট ইয়ার থেকে ফোর্থ ইয়ার পর্যন্ত আমার ক্লাস।
  • হম ট্যালেন্ট মানুষদের ব্যাস্ততা একটু বেশি থাকে। (রাশেদ)
  • এমনভাবে ক্যানো বলছেন? (অরিন)
  • আরে আপনার সিভি টা সেদিন দেখলাম আপনার যা রেজাল্ট! আপনি মনে হয় সব সময় পড়তেন তাইনা? (রাশেদ)
  • সেইরকম কিছুনা অল্প পড়তাম কিন্তু মনোযোগ দিয়ে রেগুলার পড়তাম। (অরিন)
  • হুম, আপনার প্রশংসা না করে থাকা যায় না এমন কোন দিক নেই যেখানে আপনি নেই! যেমন রুপ তেমন গুন। (রাশেদ)
    এমন সময় ক্লাস বেল বেজে উঠলো
  • রাশেদ সাহেব আসি আমার ক্লাস আছেভালো থাকবেন।
  • হুম, আপনিও ভালো থাকবেন। (রাশেদ)
    ক্যাম্পাস থেকে ফেরার পর
    অরিন সিঁড়ি দিয়ে উঠার সময়
  • আপুউউউউ দাড়াউ(রিমি)
  • হুম বলো(অরিন)
  • কি খবর পেলে? (রিমি)
  • কাকে? (অরিন)
  • উফ তুমি এতো ভুলে যাও ক্যানো! রাজের নাম্বার পাইছো? (রিমি)
  • তুমি যতটা সহজ ভাবছো বিষয় টা ততটাও সহজ না!
    আমি হুটহাট করে কারো বায়োডাটা দেখতে গেলে আমাকে জবাবদিহি করতে হবে!
    (কথা গুলো অরিন এক রাশ বিরক্তি নিয়েই বললো)
  • অহ, আচ্ছা ঠিক আছে। তোমার কি মন খারাপ আপু? (রিমি)
  • না রিমি ক্লান্ত লাগছে খুবআমি আসি পরে না হয় কথা বলবো।

কিরে রাজ কি করিস?
বাগানে একা একা বসে আছিস ক্যানো রে! (রাতুল)

  • এমনি তুই একাই! সাকিব আসেনাই? (রাহিব)
  • না ও নিধির সাথে ঘুরতে গেছে। (রাতুল)
  • ওহ! ক্যাম্পাসে গেসিলি? (রাজ)
  • হুম, তুই গেলিনা ক্যানো? (রাতুল)
  • এমনি যাইতে মন চাইলোনা! (রাজ )
  • হঠাত ক্যাম্পাসে যাবার প্রতি অনীহা! ম্যামের সাথে কিছু হইছে! (রাতুল)
  • আরে না, তার সাথে কি হবে! যা হবার এক বছর আগেই হইছে
    সে ক্যাম্পাস এ আসেনাই? (রাজ)
  • সে একজন টিচার তার না আসলে হবে! আমরা এক মাস না গেলেও যায় আসেনা। (রাতুল)
  • আমার কথা কিছু বলেনাই? (রাজ)
  • মনে হয় খুজলো তোকে
    কিন্তু অস্বিকার করলো তবেঁ আমাকে জিজ্ঞেস করলো কি কারনে যাস নি। (রাতুল)
  • তাইলে তো ভালই,

যাইহোক চল নদীতীর থেকে ঘুরে আসি অনেক দিন আড্ডা দেওয়া হয়না। (রাজ)

  • সাকিব আর নিধি ওখানেই গেছে। (রাতুল)
  • ওহ তাহলে ভালোই হবে চার জন মিলে একটা জাম্পেস আড্ডা হয়ে যাক কি বলিস? । (রাজ)
  • হ্যা চল। (রাতুল)
  • কি ব্যাপার কই যাও তোমরা? (রাজের আম্মু)
  • আম্মু একটু পাদ্মার পারে যাচ্ছি। (রাজ)
  • আচ্ছা যাও মনটাও ফ্রেস হয়ে যাবে অনেকদিন হলো বাহিরেও যাওনা। (রাজের আম্মু)
  • আচ্ছা আম্মু আসি।
  • এই সাকিব আচ্ছা ওইটা রাজ আর রাতুল না? (নিধি)
  • কই! এমনি একটা বলোও বাদাম ছিলে দিতে কইছি আর চালাকি করতেছো যাতে ছিলা না লাগে! বুঝি বুঝিহুম। (সাকিব)
  • কচু বোঝ তুমি!
    পিছনে ঘুরে দ্যাখো (নিধি)
  • আরে সত্যিই তো! (সাকিব)
  • কি ব্যাপার তোদের বাদাম ডেট চলতেছে তাইলে! (রাজ)
  • তার নাকি বাদাম খাইতে ইচ্ছে করতেছে! (নিধি)
  • আচ্ছা আমি কি একাই খাইতেছি! সব গুলা তো তুমিই খাইলা! (সাকিব)
  • দেখছিস রাজ ও খাইতেছে আর আমারে দোষ দিতেছে! (নিধি)
  • দ্যাখ কত গুলা বাদাম ছিলো আর গুনে মাত্র ২০ টায় হবে না! (সাকিব)
  • নিজের ফোন চাপার সময় হুশ থাকেনা সব গুলা খেয়ে শেষ আমার ছিলতে ছিলতে হাত ব্যাথা করতেছে আর সে নাকি খায় নাই! (নিধি)
  • আরে আরে চুপ করতো সারাদিন ঝগড়া করিস তোরা!
    আর সাকিব ঘুরতে এসেও ফোন চাপা লাগবে নাকি! বাসায় চাপিস না!
    (রাজ)
  • ফেফুতে কয়েকটা দরকারি কাজ ছিলো। (সাকিব)
  • রাখ তোর দরকারি কাজ! প্রিয়জন সামনে থাকতে তোর দরকারি কাজ ফোনে থাকে! (রাজ)
  • আচ্ছা বাদ দিলাম (সাকিব)
  • এই নিধি এই নে তোর ফেবরিট চকলেট। (রাজ)
  • থ্যাঙ্ক ইউ এত্তো গুলা। (নিধি)।

প্রায় রাত সড়ে সাতটা অবধি আড্ডা দিয়ে বাড়ী ফিরলো সবাই
পরেরদিন ক্যাম্পাসে
অরিন থার্ড ইয়ারের ক্লাসে যাচ্ছে
আজ রাজ ক্যাম্পাসে আসছে
হঠাত করেই সামনাসামনি দুজনে


পর্ব ১১

অরিন থার্ড ইয়ারের ক্লাসে যাচ্ছে আজ রাজ ক্যাম্পাসে আসছে
হঠাত করেই সামনাসামনি দুজনে
চলতে চলতে দুজনেই থমকে দাঁড়ালো
কি করবে, কি বলবে কিছুই বুঝতে পারছেনা মনে হচ্ছে পুরো পৃথিবীটায় থমকে গেছে!

হার্টবিটের সাউন্ড স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে দু- জোড়া চোখ যেনো গভীর সমুদ্রের নীল জলে সাতার না জানা মানুষ টার মতো হাবুডুবু খাচ্ছে! বুকটা দুরু দুরু কাঁপছে!
রাজের এইরকম প্রায় এক বছর হলো হলেও আজই প্রথম অরিন এতোটা ফিল করছে!

  • আরে রাজ! গত কাল আসলি না ক্যান? (ক্লাসমেট)
    সে দিকে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই রাজের কে কি বলছে!
  • (এবার ধাক্কা দিয়ে)ওই রাজ! পাথরের মতো দাঁড়িয়ে আছিস ক্যান! (ক্লাসমেট)
  • ওহ! না মানে কি বলছিলি? (রাজ)
  • বললাম গতকাল আসিস নাই ক্যানো! (ক্লাসমেট)
  • ওহ, এমনি ঠিক আছে চল স্যার ক্লাসে গেছে মনে হয়(
    আরে মায়াবতী কই গেলো! ইস যা হয় হোক আমি তার সাথে কথা না বলে থাকতে পারবোনা! )(রাজ)

সেকেন্ড প্রিয়ডে অরিনের সেকেন্ড ইয়ারের ক্লাস।
প্রায় অনেক স্টুডেন্ট আসছে
আজ ক্লাসে রাজ ও আছেঅরিন জানে সেটা।
ক্লাসে ঢুকেই বই নিয়ে পড়ানো শুরু করলো
রাজের দিকে তাকালেই ক্যামন যেনো লাগে!

আমি আমাকে প্রশ্রয় দিলে হবেনা! আর এটা কেও জানুল সেটা হতেই পারেনা।
পুরো ক্লাসে মাথা নিচু করে ক্লাস নিছে অরিন।
কিন্তু রাজ পুরো ক্লাস শুধু তার দিকেই তাকিয়ে ছিলো
ক্লাস শেষে অরিন খুব দ্রুত সেখান থেকে চলে গেলো।
রাজ ডাকলো ম্যাম, ম্যাম!

অরিন শুনেই না শোনার ভান করে চলে গেলো।
রাজ কিছু বুঝলোনা কারন টা কি?
রাজ ছাড়ার পাত্র না দ্রুত গিয়ে সামনে দাঁড়ালো দুই তলার করিডোর এ
অরিন পাশ কাটিয়ে যেতে চাইলেওরাজ বাধা দিলো।

  • কি ব্যাপার? কি হইছে আপনার? (রাজ
  • কই! আমার কি হবে? (অরিন)
  • এইরকম ক্যানো করছেন!
  • কি করছি! আমি আমার ডিউটি পালন করছি রাস্তাবন্ধ করে দাঁড়িয়ে আছো ক্যানো? আমার ক্লাস আছে
  • কোন ডিউটি তে আছে আমাকে ইগনোর করারা কথা”!
  • আমি কই ইগনোর করলাম তোমাকে!
  • তা নইতো কি? ক্লাসে শেষে এতো ডাকলাম আপনাকে শুনলেন না যে?
  • আমি খেয়াল করিনি।
  • এতো কাছে থেকে!
  • রাজ যেতে দাও আমাকে সবাই কি ভাব্বে!
  • ঠিক আছে যেতে দিবো একটা সত্যি কথা বলা লাগবে তারপর।
  • কি কথা?
  • গতকাল আমাকে ক্যানো খুঁজছিলেন?
  • আমি তোমাকে ক্যান খুঁজবো?
  • মিথ্যে ক্যানো বলছেন?
  • মিথ্যের প্রশ্নই আসেনা(এবার রাজের পাশ কাটিয়ে চলে গেলো অরিন)
  • আরে চলে গেলেন যে!

ভার্সিটি ছুটির পর…

রাজ ক্যাম্পাস থেকে একটু দূরে কানে হেডফোন লাগিয়ে খুব মনোযোগ দিয়ে ফোনে কি যেনো দেখছে!
এদিকে রাজের বাম সাইড থেকে একটা ট্রাক আসছে
গাড়ির ড্রাইভার হাতের ইশারায় বারবার রাজ কে রাস্তার সাইড থেকে সরতে বলছে কিন্তু রাজ কানে হেডফোনের কারনে কিছুই শুনতে পারছেনা!
বাজার করার জন্য অরিন ওই রাস্তা দিয়েই আসছিলো
রাজের দিকে চোখ পড়তেই চোখ সরাতেই যাবে এমন সময় ওই ট্রাক টা চোখে পড়তেই আতকে উঠলো!

অরিন রাজ, রাজ বলে চিৎকার করছে কিন্তু রাজ শুনছেই না!
অরিন কিছু বুঝে ঊঠতে পারছেনা খুব জোড়ে দৌড় দিলো শাড়ী পড়ে অতোটাও জোরে দৌড়ানো যায় না!
তারপর ও শরীর এর সমস্ত শক্তি দিয়ে দৌড়াচ্ছে
এক হেক্সা টানে রাজ কে টেনে ফেলা দেবার সাথে সাথেই গাড়িটা ওইখানে এসে উলটে গেলো!
রাজ কিছু বুঝে ওঠার আগেই অরিন ঠাস করে একঠা থাপ্পড় লাগিয়ে দিলো!

কানের হেডফোন টা টেনে খুলে ছিঁড়ে ফেলে দিয়ে দ্রুত ওখান থেকে চলে গেলো!
রাজ হতবম্ব হয়ে নির্বাক দৃষ্টিতে তার চলার পথে তাকিয়ে রইলো!
ক্যাম্পাসের অনেক এই ওই রাস্তায় ছিলো সবাই রাজের কাছে ছুটে আসলো!
ট্রাক ড্রাইভার এর ব্রেক ফেইল হয়েছিলো! রাজ কে বাঁচাতে গিয়ে গাড়ি উলটে গেলেও সে খুব একটা ব্যাথা পায়নি হাতে আর বাম পায়ে হালকা কেটে গেছে গাড়ির ভাংগা কাচ দিয়ে!

  • রাজ! তোর কিছু হয়নি তো! তুই ঠিক আছিস? (সাকিব)
  • হ্যা কিন্তু আমি কিছু বুঝলাম না! মায়াবতী হঠাৎ এমন ক্যানো করলো! (রাজ)
  • আরে সে তো একটা মারছে আমি হইলে ১০/১২ টা একসাথে লাগাইতাম হারামী আমারে না উপদেশ দিলি গতকাল! আমি যেনো বাহিরে ফোন না চাপি আর আজ কই গেলো সে সব কথা!
  • মানে! (রাজ)
  • সাকিব সব টা খুলে বললো।
  • রাজ ঠিক আছে জানার পর অনেক এ সেখান থেকে চলে গেলো
    রাস্তার পাশ দিয়েই রাজের পুরোন এক বন্ধু যাচ্ছিলো
  • আরে রাজ! তুই ঠিক আছিস না?
  • হ্যা, আরে জোবায়ের! তুই এখানে কি করে! (রাজ)
  • আমি এদিক দিয়ে যাচ্ছিলাম আমার কাকার বাসায় হঠাত করে এই এক্সিডেন্ট টার সম্মুখীন হতে তোকে দেখলাম।
    তা ওই মেয়েটা কে? (Jubair)
  • আমার মায়াবতী। (রাজ)
  • আহ! কবে থেকে! কে সে? (জোবায়ের)
  • আমার ক্লাস টিচার সে। (রাজ)
  • ভাই তলে তলে সাবমেরিন চালাউ আর আমাগো কউ নদীতে পানিই নাই! (জোবায়ের)
  • আরে ভাই, এইডা ওয়ান সাইড লাভ আমি বাসি সে বাসেনা এই কুলাঙ্গার সমাজের ভয়ে। (রাজ)
  • আমি কিন্তু মানিনা তোর কথা টা! (জোবায়ের)
  • কোন কথা? (রাজ)
  • ওই যে ওয়ান সাইড লাভ! (জোবায়ের)
  • ক্যানো! মানিস না? (রাজ)
  • তুই দেখিস নি আমি সব বাকিরা দেখেছে কিভাবে তোকে ডাকছিলো চিৎকার করে আর পরে তোকে বাঁচাতে দৌড়ে আসলো নিজের সমস্ত রাগ তোকে থাপ্পড় দিয়ে বুঝিয়ে দিলো তার চোখ দেখেও কি বুঝিস নি? সে তোকে হারাইতে চায় না!
    তোর কিছু হলে সে ভালো থাকবেনা!
    এরপর ও বলছিস এটা ওয়ান সাইড লাভ! (জোবায়ের)
  • আমিও বুঝিরে সেও ভালোবাসে আমাকে কিন্তু কখনো স্বীকার করেনা! (রাজ)
  • তুইনা আসলেই বুদ্ধু জানিস? এমনিতেই কথায় আছেনা! ” মেয়েদের বুক ফাটে তোঁ মুখ খোলেনা””
    সব কথা ক্যানো বলা লাগবে!
    কিছু কথা বোঝার জন্যও রাখা উচিৎ! আর তার মাঝে সে সাধারণ মাইয়্যা না
    একজন টিচার সে, সে চাইলেই বলতে পারছেনা!
    তবেঁ রাজ আমার না একটা গানের লাইন মনে পড়ে গেলো
  • কি গান?
  • “ভালোবাসতে বাসতে মরেই যাবো তবুও বলবো না ভালোবাসি “
    ঠিক সেইরকম তোকে বাঁচাইতে নিজের জীবন দিয়ে দিবে তাও বলবেনা ভালোবাসি!
  • হুমতুই ঠিকই বলেছিস আচ্ছা চল বাসায় যাই।
  • নারে কাকার বাসায় যাওয়া লাগবে দরকারি কাজ আছে তবেঁ তোদের বিয়েতে প্লিজ আমায় একটু বলিস
    আমি এই অসাধারণ ভালোবাসার বিয়েতে উপস্থিত থেকে নিজেকে ধন্য করতে চাই।
  • ইনশাআল্লাহ, আচ্ছা তাইলে সময় করে আসিস সাকিব চল বাসায় যায়।

সাকিব রাজদের বাসায় গিয়ে ভাবী কে সব বলে দিলো কথাটা শুনে রাজ কে জড়িয়ে কেদেই দিলো নিকিতা! এদিকে নিকিতার কান্নাকাটি শুনে বাকি সবাই চলে আসলো! রাজের মা ও কান্নাকাটি করছে আজ যদি কিছু হয়ে যেত! রাজ সবাইকে কিছুই বলতে পারছেনা কারন কেও নেই শোনার সবাই যে যার মতো মন খারাপ আর শাসন করে যাচ্ছে এদিকে অরিনের বাজার করে বাসায় ফেরার কথা থাকলেও আর বাজার করতে পারেনি সোজা বাসায় সিঁড়ি দিয়ে ঊঠতেরিমি আজ ডাকলেও কোন কথার উত্তর না দিয়ে তরতর করে উপরে ঊঠে দরজা লাগিয়ে দিলো। তাড়াতাড়ি ড্রেস চেঞ্জ করে শাওয়ার নিতে গেলো, ঝড়নার নিচে দাঁড়ালে কাঁদলেও চোখের পানি বোঝা যায়না বাসায় তো কেও নেই চিৎকার করে কাঁদলে ও কেও শুনবেনা তাহলে অরিন কাদার জন্য শাওয়ারের টাইমটাই ক্যানো বেছে নিলো!

নিজের সত্ত্বা কে নিজের থেকে লুকাতে! প্রায় এক দেড় ঘন্টা ধরে গোসলের পর কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে রেস্ট নিলো। বিকেলে কফি হাতে বেলকুনি তেঁ দাঁড়াতেই নিচে তাকিয়ে দ্যাখে রাজ দাঁড়িয়ে! অরিন কে দেখেই হাত তুলে হাই জানালো এদিকে দ্বিতীয়তলায় রিমি বেলকুনিতে দাঁড়িয়ে! রিমি ভাবছে হইতো ওকেই হায় দিচ্ছে অনেকটা খুশিতে রিমি দৌড়ে নিচে নামলো বিষয়টা উপর থেকে দেখছে অরিন। রিমি রাজের সামনে দাঁড়িয়ে হায় বলছে কিন্তু রাজ অন্য কোথাও তাকিয়ে আছে রিমি রাজের চোখের দিকে তাকিয়ে দৃষ্টির লক্ষ্যস্থল খুঁজতে যাচ্ছে বিষয়টা অরিন বুঝতে পেরে দ্রুত বেলকুনি থেকে চলে গেলো। রিমি তাকিয়ে দ্যাখে রাজের চোখ তৃতীয় তলার দিকে! অরিন যাবার পররাজ নিচে তাকিয়ে দ্যাখে একটা মেয়ে তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে! রাজ কিছু না বলে চলে যাচ্ছে

  • এই যেঁ মিস্টার দাঁড়ান! (রিমি)
  • রাজ চারপাশ তাকিয়ে দ্যাখে কেও নেই! আমাকে ডাকছেন? (রাজ)
  • নাহ! ভুত কে ডাকি!
  • ওহ আপনি বুঝি তান্ত্রিক! বেশ ভালো কাজ চালিয়ে যান বলেই চলে যাচ্ছে রাজ!
  • এই রাজ দাঁড়ান!
  • আরে ভুতের নাম ও রাজ!

ওয়াও তাইলে তো আমার মিতা হবে সে তারে আমার পক্ষ থেকে একটু হায় বলে দেন।

  • মজা বাদ দেন
  • আরে আমি কই মজা করলাম!
  • যাইহোক, শুনেন।
  • জ্বি বলেন।
  • আপনি এখানে ক্যানো! কার সাথে দেখা করতে আসছেন?
  • সরি, সেটা আমি আপনাকে বলতে পারবোনা।
  • ক্যান! আচ্ছা যাইহোক আপনার জিএফ আছে?
  • জ্বিনা।
  • ওয়াও বেশ ভালো তো।
  • আমার জিএফ নেই এতে আপনার এতো খুশির কারন কি! বুঝলাম নাহ!
  • আপনি সেটা বুঝবেন না।
  • ওকে তবেঁ, আমার জিএজ নেই কিন্তু আমি এংগেজড!
    আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে আপু।
  • what!
  • জ্বি।
  • সে দেখতে কি আমার থেকেও সুন্দরী?
  • নিজেকে আমার ফিয়ন্সের সাথে ক্যানো কমপেয়ার করতেছেন!
  • সে যাইহোক সত্যি টা বলেন।
  • জ্বি সে অসম্ভব সুন্দর, আর রাগ করেন আর যায় করেনআমি আপনাকে হার্ট করতে চাইনি আপনি জিজ্ঞেস করাই তার বাহ্যিক দিকটা বলতেছি তার রুপের ধারেকাছে ও আপনি নেই!
  • মন টা খুব খারাপ করে! তাহলে রোজ রোজ এখানে ক্যানো আসতেন আমিতো ভাবতাম আপনি আমাকে!
  • এক মিনিট! আপনি হইতো কোথাও ভুল করছেনআমি এখানে আপনার জন্য কোন কালেও আসিনি,
    এখানে আমার কাজ আছে তাই আসি।
  • কি কাজ?
  • যে কাজ ই হোক। আপনাকে বলতে বাধ্য নই আমি
    (এতোক্ষন একটা মেয়ের সাথে কথা বলতেছি তাও আবার তার বাসার সামনে! সে দেখেছে জানিনা কি ভাববে! আমার এখান থেকে যাওয়া উচিৎ)
  • কিন্তু!
  • দুঃখিত আমি আসি।
    কথাটা বলেই হনহন করে হাটা শুরু করে দিলো রাজ
    ২ মিনিট না হাঠতেই হঠাত করে দাড়োয়ান কাকার সাথে দেখা!
  • আরে রাজ বাবাজী ক্যামন আছো?
  • জ্বি কাকা আলহামদুলিল্লাহ্। আপনি ক্যামন আছেন?
  • এইতো বাবা আমিও ভালো তা এই দিকে কই আসছিলা?
  • একজন এর সাথে দেখা করতে কাকা,
    আপনি এখানে ক্যানো?
  • এই খানেই আমার বাসা বাবা।
  • কোন জায়গায়?
  • ওই যে তিন তলা বাসাটার সাথেই তোমাদের ক্লাসের ম্যাডামের বাসা ওইটাতার বাসার সাথেই।
  • (রাজের কথাটা শুনে ভালোই লাগলো যাক তাও এই এলাকায় আসার একটা এক্সকিউজ পাওয়া গেলো)
  • কি বাবা কিছু ভাবছো?
  • না কাকা।
  • চলো বাসায় যাই তোমার কাকী দেখলে খুশি হইবো।
  • আজ না কাকা বাসা তো চিনে গেলাম আরেকদিন আসবো।
  • আচ্ছা বাবা আইসো তাইলে।
  • জ্বি কাকা(আপনি না বললেও আসতাম! হি হি হি এখন তো প্রাইয় আসবো)
    বাসায় ফিরে রাজ ওর আম্মুর কাছে গেলো
  • আম্মু কি করো?
  • কাজ করছিদেখতেই তো পারছিস, কিছু বলবি?
  • হুম।
  • বল
  • আমারে বিয়া দিবা না!
  • তুই কি মেয়ে নাকি বিয়ে দিবো!
  • ওই যাইহোক বিয়ে তো বিয়েই, কবে আম্মু?
  • কাহিনী কি?
  • আমার একটা মেয়েরে পছন্দ হইছে।
  • সেটা তো আমিও জানি আমার ও পছন্দ তাকে।
  • তুমি যার কথা বলছো সে না।
  • মানে!
  • আমাদের নিধি আছেনা
  • কি নিধি!
  • পুরা কথা তো আগে শুনবা।
  • কি বল।
  • নিধির একটা ফ্রেন্ড সেই কিউট
  • What!?

পর্ব ১২

  • নিধির একটা ফ্রেন্ড সেই কিউট
  • What?
  • আম্মু তুমি দেখলে তোমার ও পছন্দ হবে, সেই লেভেলের কিউট
    নিধিরে বলছি ওরে নিয়া আজ আসতে। (রাজ)
  • যারে তারে আমি আমার বাসায় আসতে দিবোনা!
    এই তুই যদি ওই মেয়েরেবাসায় নিয়ে আসিস আমি তোকে বাসা থেকে বের করে দিবো! আমার ছেলের বউ অরিন ছাড়া আর কেও হবেনা। (আম্মু)
  • তুমি যা কিছুই করো ওকে বাসায় নিয়ে আসবোইমাত্র ২ মিনিট পরই আসবেদ্যাখো ওরে কিছু বলবানা বললাম, ও মন খারাপ করবে। (রাজ)
  • আমার কথা আমি আগেই বলে দিয়েছি ফালতু কথার জন্য আমার টাইম নেই। (আম্মু) একটুপর

রাজ কাউকে সামনে এনে বললো আম্মু দ্যাখো কে আসছে।

  • আমি কাজ করছি এখান থেকে যা ডিস্টার্ব করিস না। (আম্মু)
  • প্লিজ দ্যাখোই না রাজ একদম সামনে নিয়ে গেলো!
  • এইবার আর ১ মিনিট ও দেরি করলোনারাজের আম্মু জড়িয়ে ধরলো তাকে!
    আরে এটাতো আমাদের Nishita র মেয়ে ওমা কত্ত বড় হয়ে গেছে! দেখতে দেখতে এত বড় হয়ে গেলো! দেখতে একদম মায়ের মতো সুন্দরী
    আর বাদর তুই এতোক্ষন আমার সাথে মজা করছিলি?
  • হা হা হা আম্মু তোমার চেহারা দেখার মতো ছিলো! তোমার ছেলের বউ অরিন মানে আমার মায়াবতী ছাড়া আর কেও কখনো হবে না। (রাজ)
  • এই অরিন কে! তোমরা আজও কেও কিছুই বলোনি আমায়! (নিধি)
  • ক্যানো সাকিব বলেনি তোকে? (রাজ)
  • আমি কাউকে বলতে নিষেধ করেছিলাম সাকিব রাতুল কেআর নিধির সাথে সাকিব মানে? (নিকিতা)
  • ভাবী নিধি দুদিন পর মিসেস সাকিব হবে!

নিধি একটু লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে নিলো।

  • সাকিব অনেক ভালো একটা ছেলে তোর পছন্দ খারাপ নাভালো ফ্যামিলি মানুষ গুলাও ভালোআর সাকিব আল্লাহ্ চাহেতো ওর ফিউচার ও ভালো হবে ইনশাআল্লাহ। সাকিবের যাইগাই অন্য কেও হলে টেনশন হতো (আম্মু)
  • হ্যা মা তুমি ঠিকি বলছো। (নিকিতা)
  • এবার একটু মুখ খুললো নিধি,
    এবার বলোনা অরিন কে?
  • রাজ সবই বললো।

রাজের কথা সবাই মনোযোগ দিয়ে শুনছে কত্ত ভালবাসে অরিন কে রাজ এর কথা না শুনলে বোঝা দ্যায়।

  • ওয়াও আমি একটু দেখবো প্লিজ আমার ভাবীরে একটু দেখা রাজ(নিধি)
  • চাইলেই দেখানো যায় নাকি!
    ওহ দাড়া এক মিনিট ক্যামেরায় পিক আছে, আমিতো সে কথা ভুলেই গেসিলাম।
    রাজ ল্যাপটপ এ ক্যামেরার চিপ লাগিয়েনিলো।

সবাই মনোযোগ দিয়ে দেখতে বসে গেলো চুপচাপ!
রাজ রানু কে জাবির কে দেখাইলো সবাইকে পুরো পরিবারের সাথে পরিচয় করাইলো
অরিনের সাথে গায়ে হলুদে ডুয়েট একটা পিক হঠাত করেই সামনে আসলো

  • ওয়াও মেয়েটা কত্ত কিউট এইডা কে রে রাজ তোর সাথে! (নিধি)
  • এইটা তোর ভাবী বান্দরনী। (রাজ)
  • তাইতো বলি রাজ এইরকম নিজের থেক্ব বড় মেয়ের প্রতি লাট্টু ক্যানো হইলো আরে একে দেখলে যে কেও লাট্টু হয়ে যাবে। (নিধি)
  • সবাই অনেক পিক দেখছো বাকি পিক টপ সিক্রেট ওইগুলা দেখা যাবেনা কথা টা বলেই ল্যাপটপ টা নিয়ে যাচ্ছিলো।
  • নিকিতা টেনে ধরলো
    এইযে বাছাধন তুমি যাওগা আমরা দেখবো।
  • রাজ একটু একটু লজ্জা পাচ্ছে তাই আর দেরি করলোনা ল্যাপটপ টা রেখে
    চলে গেলো রুমে।

স্লাইডমুড করে একের পর এক পিক দেখলো সবাই!
পুরো ক্যামেরায় শুধু অরিনের ই পিকতার প্রতিটা মুভমেন্ট
জাবিরর আর রানুর স্টিং অপারেশন এর একটা পিক যেখানে অরিন রাজ কে খাওয়াই দিচ্ছে আর রাজ হা করে তাকিয়ে আছে!
রাজ নিজেও পিকটার কথা জানেনা!
সবাই রাজের রিয়াক্ট দেখে হাসছে।
কিন্তু রাজের আম্মুর চোখে একটু জল!

নিধি আর নিকিতা চুপ হয়ে গেলো

  • কি হইছে মা? (নিকি)
  • মেয়েটা কত ভালো আমার অসহায় ছেলেটার কত খেয়াল রাখছে রাজের চোখে পানি দেখছো খাবার খেতেঁ গিয়ে ওর চোখে পানি আসছে! (আম্মু)
  • হুম মা। অরিন ই আমার রাজের জন্য পারফেক্ট আর আজকের ঘটনাবহ দিনটা কিভাবে ভুলি? (নিকি)
  • হুম সাকিব বলেছে আমাকে কিন্তু তাকেই যে রাজ ভালোবাসে সেটা বলেনি। (নিধি)

পরের দিন…

ক্যাম্পাস এ যাবার পর থেকে রাজ লক্ষ্য করছে তার মায়াবতীর মন খারাপ!
অতীব প্রয়োজনীয় ছাড়া একটা কথাও বলছে না!
রাজ ভাবছে হইত
গতকাল কের ঘটনা নিয়ে এখনো রেগে আছে!
রাজ সরি বলার সুযোগ টাও পাচ্ছেনা।
মন খারাপ করে মাঠের মাঝে বসে আছে।

  • এই রাজ তুই এখানে আর আমি তোকে পুরো ক্যাম্পাস খুঁজে আসলাম। (রাতুল)
  • জরুরী তলব ক্যান!
    এমনেই তোর ভাবী কথা বলছেনা মন খারাপ তার মাধ্যে অন্য কিছু আর বলিস না। (রান)
  • আরে ভাবীর মন খারাপ ক্যানো সেটাই তো বলতে আসলাম। (রাতুল)
  • আমি জানি তার মন খারাপ ক্যানো। (রাজ)
  • ও তাইলে তুই ও শুনেছিস!
    আর শুনেও চুপ করে আছিস ক্যামনে! (রাতুল)
  • আরে গতকাল কের ঘটনা একটা এক্সিডেন্ট মাত্র এতো রাগ করে কেও থাকে! এখন তো একটু কথা বলতে পারে তাইনা? (রাজ)
  • আরে তুই আছিস গতকাল এর ঘটনা নিয়ে আমি আজকের ঘটনা বলতেছি (রাতুল)
  • ক্যানো আজ কি হইছে! (রাজ)
  • বেশ কয়েকদিন যাবত ভাবী বাসায় যাবার সময় কয়েকজন বখাটে ভাবীকে ডিস্টার্ব করে আগে তো মাঝেমাঝে করতো আজ দু- দিন হলো বেশি আর আজকে তো একজন শাড়ীর আচল ও টেনে ধরছিলো! (রাতুল)
  • কিহ! তুই আগে বলিস নাই ক্যানো!? (রাজ)
  • আমি জানতাম না আজ সকালে আমার এক ফ্রেন্ড দেখেছ পরে সাকিব ওখানে ঘটনা শুনতেই গেছে একটু আগে সাকিব ফোন করে আমায় বললো! (রাতুল)
  • তুই সব ফ্রেন্ডস দের নিয়ে ওই রাস্তায় যা আমি মায়াবতী কে নিয়ে আসছি(রাজ)
  • আমরা না হয় প্রশাসন এর সাহায্য নেই রাজ?
  • আমি নিজের হাতে না মারলে শান্তি পাবোনা

তুই সবাইকে রেডি রাখা
আমি যা যা বলি তাই তাই কর। (রাজ)
রাজ সরাসরি টিচার্স রুমে ঢুকলো
ম্যাম এদিকে একটু আসেন

প্রথম এ অরিনের ইচ্ছে ছিলোনা কিন্তু রাজের চোখ দেখে কেপে উঠলো!
লাল হয়ে আছে
উঠে দাঁড়িয়ে বাহিরে আসতেই

  • চলেন আমার সাথে (রাজ)
  • কই যাবো আমি? (অরিন)
  • এতো কথা বলতে পারবোনা মেজাজ খারাপ আছে সোজা চলেন নইতো সবার মাঝে হাত ধরে টেনে নিয়ে যাবো! (রাজ রেগে)
    এমন সময় প্রিন্সিপাল আসলো
  • কি ব্যাপার কি হয়েছে?
  • স্যার ম্যামের মা অসুস্থ তো তাই ম্যাম কে এখনি যাইতে হবেনিয়ে যাই? (রাজ)
  • অরিন যাও তুমি সমস্যা হবেনা। (প্রিন্সিপাল)
  • অরিন যানে ওর মা সিরাজগঞ্জ রাজশাহী তেই নাই! কিন্তু রাজ এর কি হলো কখনো এমন রেগে কথা বলেনি। (অরিন)
  • ম্যাম চলেন দেরি হয়ে যাচ্ছে! (রাজ)
  • অরিন কিছু না বলে বাধ্য মেয়ের মতো ওর সাথে গেলো রাজ কে দেখে কিছু বলার সাহস ও পাচ্ছেনা

রিক্সায় কিছুদূর যাবার পর……….

  • আপনি নামেন রোজকার মতো এদিক দিয়ে বাসায় যান! (রাজ)
  • কিন্তু রাজ এই রাস্তা সটকাট দেখে যখন সময় কম থাকে তখন চলাচল করি এই রাস্তা ভালোনা আমি ওদিক দিয়ে ঘুরে যাবো। (অরিন)
  • যা বলছি তাই করেন যান! (রাক)
  • কিন্তু রাজ!
  • এবার ধমক দিয়ে বলছিনা যাইতে! (রাজ)
  • অরিন একটু ভয় পেয়েছে! কিছু না বলে চুপচাপ যাচ্ছে
    একটু দূর যেতেই

সেখানে কয়েকটা বখাটে চায়ের স্টলে বসে আছে

  • আরে ম্যাডাম জ্বী!
    কি খবর আমাদের ছাড়া বুঝি ভালো লাগেনা!
    হা হা হা
    এতো তাড়াতাড়ি চলে আসলেন যে!
  • অরিন দ্রুত চলে যাচ্ছিলো বখাটে দের একজন সামনে এসে দাঁড়ালো!
  • কই যান ম্যাডাম জ্বী? চলো না একটু বসে গল্প করি
    যখন মন চায় আমাগো ডাকবেন আমরা সব সময় রাজি আছি
    তবেঁ রাতে ডাকলে বেশি ভালো হয়
    সবাই ফিক ফিক করে দাত কেলিয়ে হাসছে
  • অরিন মনে হচ্ছে এখন কেদেই ফেলবে।
  • আসলে ভাই রাতে কোন পশুদল তো মানুষ এর বাসায় ঢুকতে পারেনা গেট লাগানো থাকে! (রাজ)
  • রাজের কথা শুনে অরিন অনেকটা সাহস পেলো রাজের পিছে এসে দাঁড়ালো।
  • কে রে ভাই তুই!
  • ভাই আমি জ্যাকি চান!
  • সবাই হেসে শেষ
    ওদের মাঝে একজন বলে উঠলো আমি রোমান রেইস্ হা হা হা
    আরে ম্যাডাম জ্বী এ আপনার আশিক নাকি! আপনি ওর পিছে গিয়া লুকাইতেছেন?
  • রাজ কোন কথা না বলে একজন কে লাথি মারলো
    আরেকজন আসতেই তাকে ঘুসি ঠিই মেরেছে কিন্ত অন্যজন ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিতেই নিচে পড়ে থাকা ভাংগা ইটের টুকরো কপালে লেগে ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হওয়া শুরু করলো!

ঠিক তখনই রাতুল বাকি বন্ধুদের নিয়ে এসে খুব মারলো ওদেরপরে পুলিশ কে খবর দিয়ে ধরিয়ে দিলো
এদিকে রাজের বেশ অনেকটা রক্তপাত হলো অরিনের বাসা কাছে হওয়াই রাতুল কে সাথে নিয়ে
রাজ কে অরিনের বাসায় নিয়ে যাওয় হলো
ফাস্টেড করে দিয়ে অনেকক্ষণ মাথায় পানি দেওতা হলো
রাজ ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়েছে

রাতুলের কাজ থাকায়
অরিন কে বলে বাসা থেকে বের হয়ে আসলো।
রাজ ঘুম থেকে উঠতে
উঠে সন্ধ্যে হয়ে গেছে

এমন সময় চারদিকে অন্ধকার হয়ে প্রচণ্ড ঝড় শুরু হলো।

  • এখন ক্যামন আছো? (অরিন)
  • ভালো না! (রাজ)
  • মাথায় খুব লেগেছে না?
    এই এক গ্লাস হলুদ দুধ টুকু খেয়ে নাও ঠিক হয়ে যাবে।
  • হম, কিন্তু ওই জানোয়ার গুলারে আবার কখনো পাইলে খুন করে ফেলবো!
  • হইছে আর কিছু করা লাগবে না ওদের পুলিশ নিয়ে গেছেক্যানো এমন ফালতু লোকের সাথে লাগতে যাও বলতো? দিলা তো নিজের মাথা ফাটাইয়া!
  • হুম কিন্ত!
  • কোন কিন্তু না দুধ টুকু খেয়ে নাও
    অসময়ে বৃষ্টির ই বা ক্যানো আসা লাগবে! ধ্যাত
  • আপনি কি আমাকে নিয়ে ভয় পাচ্ছেন?
  • না সেরকম কিছুনা!
  • ভয় পাবার কিছু নেই আপনি আমাকে বিয়ে করেন সারাজীবন আপনাকে না ছুয়েও থাকতে পারবো কিন্তু আপনাকে ছাড়া থাকতে পারবোনা!
  • হুম!
  • তারপর ও যদি মনে হয় আপনি ভয় পাচ্ছেন তাহলে আমি চলে যাচ্ছি বলে উঠে দাড়াতেই মাথা ঘুরে পড়ে যাচ্ছিলো!
    অরিন দ্রুত রাজ কে আঁকড়ে ধরলো!
    দুজন দুজনার চোখের দিকে পলকহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে
    কথাটা সিনেমাটিক মনে হলেও যারা সত্যিকারের প্রেমে কখনো পড়েছেন তারা বুঝবে প্রিয়জন সামনে থাকলে ঠিক ক্যামন ফিল হয়! এই ফিলটার জন্য হলেও একবার প্রেমে পড়তে চাই!

অনেক্ষন পর অরিন নিজেকে সামলে নিয়ে রাজ কে বসালো
এই শরীর নিয়ে কই যাইবা তুমি?
আর বাহিরে হালকা বৃষ্টি হচ্ছেনা বজ্রপাত সহ শিলা বৃষ্টি হচ্ছে!
কোথাও যাইতে হবে না
আচ্ছা কি খাবে? কি রান্না করবো?

  • বাহ আপনি তো আসলেই সুশীল মেয়ে বিয়ের আগে থেকেই বরের কথা মতো চলার প্যাকটিস করছেন? বেশ ভালো
    তবেঁ বিয়ের পর আমার কথা মতো চলা লাগবেনা আমি। আপনার কথামতো চলতে চাই।
  • ফালতু কথা বাদ দিয়ে বলো কি খাবে?
  • আপনার হাতের বিষ হলেও হাসি মুখে পান করবো!
  • তোমাকে না আমার জিজ্ঞেস করাই ভুল হয়ে গেছে।
  • হি হি হি আচ্ছা বিবি জ্বি আপনি কি জানেন আপনি রাগলে বেশিই কিউট লাগেন!
  • কি বললা তুমি?
  • অহ সরি! হবু বিবি জ্বি হি হি হি।
  • তুমি না মানুষ হইবা না!
  • হইতে চাই আপনি কাছে টেনে একটু মানুষ করে তো নিতে পারেন তাইনা!
  • ইউ! (রেগে)
  • OMG! কি বললেন!
    প্লিজ প্লিজ আগের শব্দ দুইটাও তাইলে কন।
  • (অরিন বুঝতে পারেনি)কোন শব্দ!
  • ইউ এর আগেরদুইটা!
  • মানে?
  • বলে দিবো?
  • বলো।
  • আই লাভ ইউ হবু বিবি জ্বি!
  • আই ডোন্ট!
  • সব কথা বলা লাগেনা আমি বুঝি ওই গুলা।
  • হ্যা আপনি তো জ্ঞানের জাহাজ, সব কিছুই বুঝেন।
  • ; সব কিছু বুঝিনা শুধু আপনাকেই বুঝি।
  • আমি কি কোন সাবজেক্ট নাকি!

-হ্যা, আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন আর সহজ সাবজেক্ট টা আপনি। যেখানে প্রতিটা পৃষ্ঠায় আমি আপনাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখি। রাজ রাজের মতো বকবক করছেঅরিন রান্নায় ব্যাস্ত। ওদিকে রাতুল ভাবীকে ফোন দিয়ে বলে বুজিয়ে দিয়েছে তাই তেমন টেনশন করছেনা ওরা। রাতে খাওয়া দাওয়ার পর ঘুমিয়ে গেছে দুজনে রাজ কে অরিনের রুমে থাকতে দিয়ে অরিন ওর মায়ের রুমে গিয়ে ঘুমালো।

রাজ ভোর ৫টার এলাম দিয়ে রাখলো খুব সকালে সবাই জাগার আগেই বাসা থেকে বের হতে হবে নচেৎ মানুষ আমার মায়াবতী কে খারাপ ভাববে যা আমি একদম চাইনা। ৫ টায় ঘুম থেকে উঠেই বেড়িয়ে যাচ্ছে রাজ অরিনের বলতে ইচ্ছে করছে কিছু খেয়ে যাও কিন্তু বেশি দেরি হলে অনেক সমস্যাই হবে মা- বাবা বাসায় থাকলে হইতো এসবের ভয় ছিলোনা। রাজ হালকা স্মাইল দিয়ে বললো আসি মায়াবতী। দরজা খুলতেই থমকে দাঁড়ালো রাজ!


পর্ব ১৩

রাজ হালকা স্মাইল দিয়ে বললো আসি মায়াবতী।
দরজা খুলতেই থমকে দাঁড়ালো রাজ!

  • রাজ আপনি এখানে ক্যানো! (রিমি)
  • আরে মিস তান্ত্রিক! আপনি এখানে!
    না মানে এতো সকালে ম্যামের বাসায় ক্যানো! (রাজ)
  • আমার কথা বাদ দিন আমি নিচের ফ্লাটে থাকি কিন্তু আপনি এতো ভোরে আপুর বাসায়! (রিমি)
  • ওহ, না মানে আমি ওই একটু আগেই আসছিলামএক্সাম তো সাজেশন নিতে! (রিমি)
  • ভোর ৫ টায় সাজেশন!

আপনার হাতে তো বই, খাতা কিচ্ছু নেই! আসল কাহিনী কি! (রিমি)
রাজ আরেকটা মিথ্যে অজুহাত দেখাতে যাচ্ছিলো অরিন বাধা দিয়ে বললো
রিমি ভেতরে এসো আর রাজ তুমি যাও।

  • কিন্তু আপু! (রিমি)
  • আমি বলছি তোমাকে সব, রাজ যাও। (অরিন)
    রাজ চলে গেলো
    রিমি কৌতুহল দৃষ্টি তেঁ অরিনের দিকে তাকিয়ে আছে!
  • হুম, রাজ গতকাল রাত এ এখানেই ছিলো।
  • হু!
  • হম গতকাল বিকেল থেকেই ছিলো

অরিন গতকালের পুরো ঘটনা রিমি কে বললো।

  • তার মানে তুমি রাজ কে আগে থেকেই চিনতে? (রিমি)
  • হুম চিনতাম।
  • তাহলে সেদিন যে বললে চিনোনা?
  • ওহ, সরি আসলে জানিনা ক্যানো না করেছিলাম!
  • রাজ বললো সে কাউকে ভালোবাসেআর তাকে আমি রোজ বাসার সামনে দেখতাম যদি সেই মেয়ে আমি না হই! আশেপাশে ভালোবাসার মতো মেয়ে তো আর নেই!
    সব কিছু যোগ করে বা বিয়োগ করে একটাই ফলাফল দেখা যাচ্ছে সেই ফলাফল টা হচ্ছো তুমি?
    তারমানে রাজ তোমাকে! ভালোবাসে! Omg!

এইজন্যই সে ওই গুন্ডা গুলারে মারছে!
আপু! তুমিও রাজ কে ভালোবাসো তাইনা? (রিমি)

  • নাহ, আমি কাউকে ভালোবাসি না!
  • ক্যানো মিথ্যে বলছো এবার!
  • কই মিথ্যে বললাম!
  • যদি ভালোই না বাসতে সেদিন আমার কাছে রাজের কথা গোপন করতে না!
    আর তুমি স্বীকার না করলেও তোমার চোখ স্পষ্ট বলে দিচ্ছে তুমিও রাজ কে ভালোবাসো।
  • মনে হচ্ছে সাইক্রিয়াটিস্ট তুমি!
  • কিছু কিছু জিনিস বুঝতে কোন কিছু হইতে হয় না আপু।
  • তুমিও সবার মতো পাগল হয়ে গেসো।
  • একসাথে সব মানুষ মিথ্যে হইতে পারেনা আপু সেটা তুমিও জানো
    হতে পারে তুমি ওর বড় কিন্তু ভালোবাসা তো মনের ব্যাপার স্যাপার এখানে বড়ো- ছোট কোন বিষয় টা কোন ফ্যাক্ট না!
  • ওরে আমার বিজ্ঞ আপি চুপ যাও কফি খাইবা না চা?
  • আপু তুমি কথাটা এড়িয়ে যাচ্ছো যে?
  • রিমি! কিছু সত্য কখনো প্রকাশ করতে নেই!
    যাইহোক, বাদ দাও এসব ভেবোনা।
    রিমি আর কিছুই বলতে পারেনি অরিন কে একটা ছোট মেয়ে হয়ে এতো বড় ভার্সিটির ইংলিশের প্রফেসর কে আর কিবা বুঝাবে!
    এভাবেই চলছে

কয়েকদিন পরঅরিনের কাকা ওর মা- বাবা কে নিয়ে রাজশাহী আসে।
রানুর বাবা সেদিন থেকে যায় রাতে খাবার শেষে
অরিন কে ডেকে বলে

  • মা আমি কিছু কথা বলতে চাই। (রানুর বাবা)
  • জ্বি কাকা বলেন। (অরিন)
  • মা সংসার ধর্ম বড় ধর্ম!

সংসার ছাড়া মেয়েদের মানায় না মা
এইভাবে তো আর চলা যায় না! নতুন করে কিছু ভাবতে হবে।

  • কাকা ঠিক আছে কিন্ত, আমি এসব নিয়ে আর ভাবতে চাইনা।
  • মা! তুমি এতো বড় বিশ্ববিদ্যালয় এ পড়াও তুমিও তো বোঝই! এই রকম এক্সিডেন্ট হর হামেশাই অনেক এর সাথেই হয়ে থাকে। হতাশ হলে তো চলবে না।
    যাইহোক আসল কথায় আসি
    রানুর বিয়ের দিন তোমাকে একটা ছেলে দেখেছে
    তার মা- বাবাও দেখে পছন্দ করেছে তোমার সব কিছু জানার পর ও ছেলেটা তোমাকে বিয়ে করতে চায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, একটা বড় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি তে ভালো মাইনে পায়।

ছোট পরিবার, ছেলেটা বড় আর একটা ছোট বোন, সচ্ছল পরিবার।
আমি, তোমার মা- বাবাও দেখেছে ছেলেকে সবার পছন্দ। কিন্তু মা তোমার কথায় সব হবে

  • কাকা সব ঠিক আছে কিন্ত আমি পিপারেড না এখন!
  • হম, আগে একবার তুমি ছেলেটার সাথে দেখা করোতারপর না হয় না করে দিও যদি পছন্দ না হয়।
    ওহ ভালো কথা ছেলেটার মুসাব্বির আদনান
    রাজ।

-! নাম টা শুনে বুকটা ধক করে উঠলো অরিনের!
রাজের পুরোনাম #এসরাজ!

  • কি হলো মা কি ভাবছো?
  • না কিছুনা কাকা আমি একটু ভাবি তারপর দেখা যাক কি হয়!
  • আচ্ছা মা সমস্যা নেই, তুমি সময় নাও তবেঁ বেশি সময় নিওনা ছেলেটার ব্যাপারে খোজ খবর নিয়েছি ভালো একটা ছেলে।
  • হুম, ঠিক আছে।

পরেরদিন রানুর বাবা চলে যায় সিরাজগঞ্জ।
অরিনের মা – বাবা চায়নাতার মেয়েকে কোন প্রকার জোর জবরদস্তি করতে তাই কখনো এই ব্যাপারে অরিন কে কিছু বলেনি।
অরিন আবারো কাজের মাঝে ব্যস্ত হয়ে গেলো
আর রাজ প্রতিদিন তাকে ইম্প্রেস করার চেষ্টায় ব্যস্ত।
এভাবেই চলছে দিন গুলি।

এর মাঝে
রাজের একজন ক্লাসমেট Mim এর বিয়ে ঠিক হয়ে গেলো
আর সেই বিয়েতে মিমের ক্লাসমেট রা ছাড়াও ডিপার্টমেন্ট এর স্যার ম্যামদের ও ইনভাইট করা হলো।
বিয়েতে সেদিন অরিন গ্রীন কালারের জামদানী পড়েছিলো মাথায় স্কার্ফ লম্বা হাতার ম্যাচিং ব্লাক কালারের ব্লাউজ হাতে হ্যান্ড ব্যাগ!
আর ম্যাচিং হিল! হালকা লিপস্টিক সব কিছু মিলিয়ে সবার দৃষ্টি নতুন বউ বাদ দিয়ে অরিনের দিকেই ছিলো!

অরিন কিছুটা অস্বস্তিজনক অবস্থায় ছিলো
আর রাজ সাদা প্যান্ট সাথে ব্লাক পাঞ্জাবি উপরে গ্রীন কটি!
মনে হয় যেনো দুজন ডিসাইড আগেই করে রাখছিলো!
কিন্ত সেরকম কিছুই না রাজ জানে অরিনের ব্লাক আর গ্রীন পছন্দ তাই পড়েছে কিন্তু এভাবে ম্যাচিং হবে বুঝতে পারেনি।

  • ওয়াও আমাদের কানেকশন টা দেখছেন? ম্যাচিং ম্যাচিং!
  • কাকতালীয় জিনিস কখনো কানেকশন হয় না! (অরিন)
  • আচ্ছা আপনি সব কিছু সব সময় নেগেটিভ ভাবেন ক্যানো! একটু পজিটিভ ভাবেন না প্লিজ। (রাজ)
  • আমি সব সময়ই নেগেটিভ মাইন্ডেডহুম।
  • আপনি বিশ্বাস করেন বা নাই করেন ” হামারী এ আনুখা প্রেম কাহানী কাভি খতম নেহি হোগিআপ মেরি হে মেরি হি রেহনা “
  • সেটা কখনো হবেনা। (অরিন)
  • ম্যাম আপনাকে কিন্তু সুন্দর লাগছে(রাশেদ সাহেব)
  • ধন্যবাদ আপনাকে। (অরিন)
  • আরে তুমি কে? (রাশেদ)
  • জ্বি আমি এসএরাজ।

অন্য ডিপার্টমেন্ট এর হওয়াই রাশেদ সাহেব চিনতে পারেনি আর রাশেদ সাহেবের আত্ত্বীয়া হয় মিম।

  • ওহ মনে হচ্ছে তুমিও ম্যামের সাথে ম্যাচিং করেই পাঞ্জাবী পড়ছ! (রাশেদ সাহেব)
  • জ্বি আপনি ঠিকই বলেছেনআমরা ম্যাচিং করেই পড়েছি। (রাজ)
  • ওহ, তোমরা একে অপর কে চিনো? (রাশেদ)
  • কি যে বলেন না! কাছের মানুষ কে চিনবোনা মানে! (রান)
  • কাছের মানুষ! মানে? (রাশেদ সাহেব)
  • জ্বি আমি ওনার হবু হাজবেন্ড! (রাজ! )
  • রাজ! ফালতু কথা বলা বাদ দাও আর রাশেদ সাহেব আপনিও ক্যানো এসব আজগুবিকথা শুনছেন কে জানে! ধুর আমার এখানে থাকায় উচিৎ না বলে অরিন সেখান থেকে চলে গেলো।
  • তার মানে তুমি যা বললে সব মিথ্যে! (রাশেদ সাহেব্)
  • একদম মিথ্যে নয় পুরোটায় সত্যি। উনি একটু রাগী মানুষ তো তাই আরকি। (রাজ)
  • কিন্তু তোমাকে তো ছোট মানুষ মনে হচ্ছে! (রাশেদ)
  • আরে কি বলেন এইগুলা! ছোট মানুষ মানে! দাড়ান বিয়ে করতে দেন ১বছরের মাথায় এক সাথে ৩/৪ টা বাচ্চার বাবা হয়ে যাবো! হি হি হি। (রাজ)রাজ
    কথা টা বলেই সেখান থেকে চলে গেলো
    রাশেদ সাহেব আবুলের মতো হা করে সেখানেই ঠায় দাঁড়িয়ে রইলো সব কথা যেনো তার মাথার উপর দিয়েই গেলো!
    আলহামদুলিল্লাহ্‌ মিমের বিয়ে টা সম্পন্ন হবার পর
    সাউন্ড বক্সে গান বন্ধ করে স্পিকার লাগিয় দিলো
  • আসসালামু আলাইকুম আমি এস এরাজ আমি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যে যেখানেই ছিলো সবাই রাজের দিকে তাকালো।
  • আচ্ছা আপনাদের কাছে আমার কিছু প্রশ্ন নাম্বার ওয়ানঃ কাউকে ভালোবাসতে কি কোন সর্তের প্রয়োজন আছে? নাম্বার দুইঃ ভালোবাসায় কি কখনো বয়স বাধা হতে পারে? নাম্বার তিনঃ একটা ছেলে যদি তার হাটুর বয়সী মেয়েকে বিয়ে করে বাহবা পায় তাহলে নিজের থেকে বড় বয়সী মেয়েকে বিয়ে করা যাবেনা ক্যানো? রাজের কথা শুনে সবাই খানিকক্ষণ চুপ করে থাকলো তারপর সবাই এক সাথে যে যার মতো কতে মন্তব্য করতে লাগলো রাজ চুপ থাকতে বললো সবাইকে দেখুন আপনার এক এক করে বলুনসবাই যদি বক্তা হন শ্রোতা হবে কে! প্লিজ সবার মন্তব্যসূত্র অনুযায়ী ভালোবায় কোন সর্ত হয় না ভালোবাসায় বয়স ও ফ্যাক্ট না কিন্তু বড় মেয়ে! এই জাইগাতেই খানিক খটকা লাগলো সবার অনেক এ বললো।

(সমাজ যে বিষয় সাপোর্ট করেনা তার নাম অসামাজিকতা, অতএব, অসামাজিক কান্ড তারাই করে যারা মানসিক ভারসাম্যহীন, মানে পাগল)
(সমাজ সবসময় মননশীল চিন্তাভাবনার উপর প্রতিষ্ঠিত
তাকে বেকিয়ে দেখা বা সেই ভাবে পরিচালিত করাটাও তাদের কাজ যারা মানসিকভাবে অসুস্থ)

(এই সমাজে কেই বা নিজের থেকে বড় কাউকে বিয়ে করবে! ) আবার অনেক এই এটাকে বাহবা ও দিলো সব কিছু শোনার পর রাজ বললো ha ha ha কথাটা মানতে পারলাম না একটু পজিটিভ ভাবে চিন্তা ভাবনা করেন তাহলে আর সমস্যা নেই এই সমাজ এর কথা বলছেন? আপনি দু বেলা না খেয়ে থাকেন দ্যাখেন কেও খাইতে দ্যায় কিনা। আর এই আপনি যদি টাকা পয়সা বা আপনার নাম ডাক থাকে অনেক সন্মান পাবেন তেল মাথায় তেল দেওয়া যাকে বলে আপনি যে কথাটা বললেন না সেটা চিন্তা ভাবনা করাটায় ভারসাম্যহীনতার পরিচয়।

একটু ভেবে দেখবেন আর একদম মনে হয়না আমার সেটা আমি যথেষ্ট দেখেছি এই সমাজ ব্যাবস্থাকে একটা রিয়েল ঘটনা বলি আপনাদের আমাদের এলাকায় এক আপু থাকতো অনেক ভালো একটা মেয়ে কলেজে যাওয়ার পথে এলাকার বখাটেরা জ্বালাইতো আপু তাদের প্রেম নিবেদন অস্বীকার কয়ায় একদিন রাস্তা থেকে জোর পূর্বক আপুকে তুলে নিয়ে গিয়ে গ্যাং রেপ করে পরে গ্রামের রাস্তায় ফেলে রেখে যায় রক্তাক্ত বিকৃত কাপড়ে। আচ্ছা আপু দোষ্টা কোথায় ছিলো!

এই সমাজ তাকে গ্রহণ করেনি তাকে তার পরিবারের রাস্তা ঘাটে চলা ফেরা কতটা কষ্টের হয়েছিলো নিজে দেখেছি
এক সময় অসহায় হয়ে আপুর আত্ত্বহনন
আর পরে তার পরিবার ও এখানে থাকতে পারেনি
আর ছিনেমার সব গল্পই শুধু গল্পই হয়না বাস্তবতারর নিরিখে অনেক কিছুই হয়ে থাকে।
তাহলে কাকে আপনি মানসিক অসুস্থ বলছেন?

রাজের কথা গুলো শোনার পর সবার মুখ বন্ধ হয়ে গেলো
তবেঁ কিছু মানুষের জন্মই হয়
তর্ক – বির্তকের জন্য
আপনি যতই সঠিক হন না ক্যানো এরা তর্ক করতে করতে এক সময় আপনাকে তার পর্যায়ে নিয়ে আসবে!

  • দেখুন আমিও একজন কে ভালোবাসি সে আমার থেকে বয়সে বড় এতে আমার বা আমার পরিবার এর কোন সমস্যা নেই কে কি বলে যদিও আমার এসবে যায় আসেনা তবেঁ যাকে ভালোবাসি তার যায় আসে তার কাছে এই সমাজের চাওয়া টাই সব নিজের চাওয়া পাওয়া নিজের মাঝেই মেরে ফেলতে চায় সে
    অনেকটা

“ভূমিষ্ঠ না হওয়া শিশুকে মায়ের পেটেই মেরে ফেলার মতো”
শুধু মাত্র এই সমাজের আপনাদের মতো কিছু মানুষের বিকৃত মন মানসিকতার জন্য!
দেখুন মানুষ সামাজিক জীব
সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করায় মানুষের ধর্ম।
কিন্তু এই সমাজ কিন্তু একা একা সৃষ্টি হয়নি!
সমাজের জন্য মানুষ হয়নি কিন্তু,
মানুষের জন্যই সমাজের জন্ম।

আমাদের নবী হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) তার চেয়ে ১৫ বছরের বড় মেয়ে হযরত খাদিজা (রাঃ) কে বিয়ে করেছিলো! সেই আমরা যারা নিজেদের মুসলমান বলে জাহির করি তারা কিভাবে আমার কথায় বিদ্বেষ প্রকাশ করে!?
রাজের এই কথার পর আর কেও টু শব্দ টাও করেনি।

সেদিনের পর হইতো কিছু মানুষের মানসিকতা চেঞ্জ হলেও হতে পারে কিন্ত
অরিন বিষয় টাকে খুব গভীর ভাবে অনেক বার ভেবেছে সে কিছুই বুঝে উঠতে পারছেনা কি করবে!
নাহ রাজের পাগলামো দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে এভাবে চলতে থাকলে এক সময় পুরো রাজশাহী বিভাগ জানাজানি হয়ে যাবে
রাজ ছেলে মানুষ ওর সমস্যা নেই কিন্তু আমি একজন বিশ্ববিদ্যালয় এর শিক্ষিকা হয়ে কিভাবে রাজের মতো পাগলামো
করতে পারি!
এটা কখনওই পসিবল না।
রাতে

অরিন ওর কাকা মানে রানুর বাবাকে ফোন দিলো

  • আসসালামু আলাইকুম কাকা, কেমন আছেন?
  • এইতো মা ভালো আছি। তুমি কেমন আছো?
  • জ্বি কাকা আলহামদুলিল্লাহ্‌ ভালো।
  • কিছু বলবা মা?
  • হ্যা, আপনি যেই বিয়ের কথা বলেছিলেন আমার তাতে আপত্তি নাই আপনারা যেটা ভালো বুঝেন করেন।
  • আলহামদুলিল্লাহ্‌ মা শুনে খুশি হইলাম, তাইলে কবে দেখা করবা?
  • না কাকা আপনি দেখেছেন,
    মা- বাবা ও দেখেছে আমি আর সেখানে দেখতে চাইনা
    তবেঁ কাকা একটা কথা।
  • কি কথা মা?
  • কাউকে দাওয়াত দিবেন না বিয়েতে সাধারণ বলতে খুব সাধারণ একটা বিয়ে হবে আমি কাউকে এ ব্যাপার এ জানাইতে চাইনা!
  • কিন্তু মা!
  • না কাকা এটাই আমার ফাইনাল ডিসিশন!

পর্ব ১৪

কাউকে দাওয়াত দিবেন না বিয়েতে সাধারণ বলতে খুব সাধারণ একটা বিয়ে হবে আমি কাউকে এ ব্যাপার এ জানাইতে চাইনা!

  • কিন্তু মা!
  • না কাকা এটাই আমার ফাইনাল ডিসিশন!
    অরিন ফোনটা রেখে চুপ চাপ বসে আছে, ভালো লাগছেনা কিছু।
  • কি হইছে মা! খুব অস্থির দেখাচ্ছে তোকে? (অরিনের বাবা)
  • না বাবা সেরকম কিছুনা, রাতের মেডিসিন টা নিছো? (অরিন)
  • হ্যা, নিছি ক্যানো এতো টেনশন করিস বলতো। নিজের ভালো মন্দের কথাও ভাব কিছুটা। (বাবা)
  • তোমরাই তো আমার সব বাবা, তোমরা ভালো থাকা মানেই আমার ভালো থাকা। (অরিন)
  • হ্যা মা তা জানি। তবে একটা কথা কি মা যে কাজ ই করিস ভেবে চিনতে করিস মা, মা রে সব সময় যেমন মন কে প্রশ্রয় দেওয়া উচিৎ না, ঠিক তেমনি মনের বিরুদ্ধে যাওয়াও উচিৎ না।

শরীর এর জন্য খাদ্য দরকার, মনের জন্য ও পছন্দসই কাজ দরকার, জীবন এ অনেক কিছুই নিজের চাওয়া পাওয়ার মতো হয় না।
জীবন টা মা একটা অগোছালো ঘরের মতো যদি সেই ঘর টা অগোছালোই থাকে তাহলে সেই ঘরের কোন সুন্দরতা থাকেনা আর সেই ঘরে থেকেও শান্তি নেই।
আর সেই ঘরটাকে সাজিয়ে গুছিয়ে নিয়ে থাকতে শুরু করলে যেমন দেখতেও ভালো লাগে, তেমনি মনের মাঝে এক প্রকার শান্তি ও বিরাজ করে।

বাকিটা তো তুই বুঝিস মা

নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার মতো বয়স তোর হয়েছে, আর হঠাৎ করে এমন কোন সিদ্ধান্ত নিস না যাতে পরে পস্তাইতে হয় তোকে।
আর একটা কথা, কথায় আছে না ভাবিয়া করিও কাজ করিয়া ভাবিওনা।
ভবিষ্যৎ এর কথা ভেবে যেমন নিজের বর্তমান নষ্ট করা উচিৎ না, তেমনি, বর্তমান এর জন্য ভবিষ্যৎ ও নষ্ট করা উচিৎ না!
আশাকরি, আমার কথার মূলঅর্থ তুই বুঝবি।

আসি মা, দেখি ঘুমাই গিয়ে রাত অনেক হইছে।
অরিনের বাবা চলে যাবার পর অরিন নিজের দরজা টা লাগিয়ে দিলো
বেড এ শুয়ে শুয়ে ভাবছে
বাবা হইত সব ঠিকই বলেছে বাবা সঠিক সময়ই কথা গুলো বলেছে, কিন্তু বাবা আমি নিজের মনকে প্রায়োরিটি দিতে গিয়ে যদি সমাজবিরুদ্ধ কাজ করি, তখন ও কি আমি সঠিক হবো!

উফফ আমি আর ভাবতে পারছি নামাথাটা টেনশন এ ফেটে যাচ্ছে।
ক্যানো আমার সাথেই এমন হতে হবে! ক্যানো রাজ! তুমি আমার জীবনে এলে! আমিতো চাইনি তোমাকে আমার নিজেকে নিয়ে গর্ব, অহংকার এক নিমিষেই ক্যানো ধুলোয় মিশিয়ে দিলে ক্যানো!
আকাশের (আকাশ অরিনের প্রয়াত হাসবেন্ড)সাথে ৩ মাস কাটানোর মুহূর্ত গুলো আমি অনেক টাই ভুলে গেছি আমি আমার সব কিছু তাকে সপে দিয়েছিলাম কিন্তু নিজের মন তাকে সপে দেবার আগেই আকাশ আমাকে রেখে চলে যায়!

তাই হইতো ওকে ছাড়া থাকতে খুব একটা কষ্ট হয় না আমার। কিন্তু রাজ তুমি আমার অভ্যেস হয়ে গেছো! কিভাবে ভুলে যাবো তোমাকে! জানিনা আমি ভালোবাসার সংজ্ঞা কি?
আসলে প্রকৃত সুখ কই আমরা নিজেরাই হইতো জানিনা, হইতোবা অনেকে জানেও। আমি খুব সাধারণ একটা মেয়ে এসব দূরহ কাজ বোঝার ক্ষমতা আমার নেই।
তবুও যেটা আমার কাছে মনে।

“কিছু পাওয়া- নাপাওয়ার মাঝে যে সুখ খুজে নিতে পারে সেই প্রকৃত সুখী “
কথা গুলো বলেই কাঁদতে শুরু করে দিলো অরিন
কিন্তু আমি তোমার হতে পারবোনা আর সেটা আমাকে পারতেই হবে!

রানু যখন শুনলো অরিন বিয়ের জন্য রাজি হয়ে গেছে।

নিজের কান কে অবিশ্বাস না করলেও ঠিক এরকম হবার আশংকা আগেই করেছিলো।
রানু দেরি করেনি পরেরদিনই রাজশাহীর উদ্দেশ্য রুওনা হলো একা,
রাজ কে ফোন করে বললো রাজ আমি রাজশাহী আসতেছি তোমার সাথে আমি দেখা করতে চাই সবার আগে তুমি না হয় স্টেশন এ আসো কথাটা অনেক ইমপর্টেন্ট!
রাজ বললো সুইটাপি তুমি আমার বাসায় আসো সবার সাথে দেখাও হবে আর কথাও শোনা যাবে খুব খুশি হবে সবাই পরে রানু রাজদের বাসায় গেলো।
রানুকে রাজ পরিচয় করিয়ে দিলো পরিবার এর সাথে।

সবাই রানুর সাথে পরিচিত হয়ে খুশি হলো কিন্তু রানুর চোখে মুখে চিন্তার বাজ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যদিও রানু হেসে কথা বলছে কিন্তু তারপর ও।

  • তুমি কি কোন কিছু নিয়ে টেনশন এ আছো? তুমি তো আমার ছোট তাই সরাসরি তুমি সম্বোধন করলাম কিছু মনে করোনি তো? (নিকিতা)
  • আরে না আপু, আপনি আমাকে তুমি করেই বলবেন, ব্যাপার না। (রানু)
  • ওকে, তাহলে এবার বলো কি ভাবছো? (নিকিতা)
  • রানু প্রথম এ রাজের দিকে তাকালো ইশারায় বলতে চাইলো বলবো কিনা!
  • সুইটাপি এরা আমার জান। আমি কোন কিছু করার আগে এরা সবার আগে জানে, তুমি সব কিছু বলতে পারো। কোন সমস্যা নেই(রাজ)
  • আসলে একটা নিউজ আছে জানিনা শুনছো কিনা! (রানু)
  • কি নিউজ! (রাজের আম্মু)- অরিনের ব্যাপারে তুমি কিছু শোননি রাজ? (রানু)
  • নাতো আপি! গতকাল ই তো আমার ফ্রেন্ড মিমের বিয়েতে দেখা হইছিলো কিছু
    তো জানিনা, G অসুস্থ সে, কি হইছে? (রাজ)
  • না, অরিনের বিয়ে(রানু)
  • What! (নিকিতা! )
    আপি এটা কি বলো? এটা হতে পারে না, তুমি মজা করতেছো তাইনা? (রাজ)
  • না রাজ, আমি মজা করতেছি না, তুমি তো জানোই অরিন সমাজ নিয়ে বেশি ভাবে তাই নিজের চাওয়া পাওয়া গুরুত্বহীন ওর কাছে।
    ও চায় না ওর বিয়ের কথা কেও জানুক হয়তো তোমার কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত কিন্তু আমি জানি ও তোমাকে কতটা ভালোবাসে।
  • সে এটা কিভাবে করতে পারে! আমি এখনি যাবো তার কাছে। (রাজ)
  • রাজ থাম! ওর সাথে কথা বললে ও হইতো জিদ করেই বিয়েটা করবে আমাদের অন্য কিছু ভাবতে হবে! (রাজের বাবা)
  • কি করবে বাবা? (নিকি)
  • আমার কাছে একটা প্লান আছে। (ভাইয়া)
  • কি প্লান! (নিকি)
  • বিয়ের সময় বর পালটে দিলে কেমন হয়! (ভাইয়া)
  • হি হি হি! চুপ করো তুমি ফালতু বুদ্ধি!
    যাইহোক এবার মেইন কথায় আসি আচ্ছা রানু এটা বলো

অরিন কি ওই ছেলেকে দেখছে? (নিকি)

  • না! ও কাউকে চিনেনা, আর ও বিয়ের আগে তাকে দেখতেও চায় না! (রানু)
  • এটা আমাদের জন্য একটা গুড পয়েন্ট!
    রানু তুমি একটা কাজ করো
    এখনি তুমি তোমার বাবা কে ফোন দাও রাজশাহী আসতে, আর এটা বলে দাও অরিন যেনো এই ব্যাপারে না জানে কোন কিছু সোজা আমাদের বাসায় আসতে বলো, আর একটা কথা জাবির কেও আসতে বলো। (নিকি)
  • ক্যানো ভাবী! (রাজ)
  • সব বুঝাই বলবো তবেঁ তার আগে এমন ভাব করবা তুমি এই ব্যাপারে কিছুই জানোনা ওকে। রানু তোমার আরেকটা কাজ আছে। (নিকি)
  • কি কাজ আপু? (রানু)
  • তুমি এখন অরিনের বাসায় যাও বেশি দেরি হলে ও সন্দেহ করতে পারে যে তুমি এখানে আসছো।
    আর এখনি তুমি তোমার বাবা কে ফোন দিয়ে সব কিছু বলো।
    রানু সুন্দর করে ওর বাবাকে সব কিছু বুঝিয়ে বললো

ওর বাবা ও রাজি হলো।

  • নিকিতা তুই যা করছিস ভেবে করছিস তো মা? (রাজের আম্মু)
  • মা আগে এটা বলো তুমিকি চাও যে অরিন এই বাড়িতে বউ হয়ে আসুক? (নিকি)
  • অরিনের মতো বউ পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। (রাজের আম্মু)
  • তাহলে মা চিন্তা কইরো না
    ঘৃ খাইতে চাইলে আজ্ঞুল সোজা রেখে লাভ নেই!
    আজ্ঞুল বেঁকিয়েই ঘৃ খাইতে হয়। (নিকি)
  • আপু তাহলে আমি আসি? (রানু)
  • দারাও যাবার আগে আরেকটা কথা, আগামীকাল অরিন ক্যাম্পাসে যাবার পর অরিনের মা- বাবাকে আমাদের বাসায় নিয়ে আসবা!
    এখন তুমি তাদের কি বলে নিয়ে আসবা সেটা তোমার ব্যাপার, আর তোমার বাবাও তো কাল সকালের ট্রেনেই আসতেছে।
    রাজ তুমি রানুকে এগিয়ে দিয়ে আসো আর হ্যা রাস্তার মোড় অবধি, এর বেশি যেওনা, অরিন যেনো এইসব ব্যাপারে একটু ও না জানে তাহলে কিন্তু প্লান ফ্লপ মনে রেখো। (নিকি)
  • ঠিক আছে ভাবী(রাজ)

রানু সবার থেকে বিদায় নিয়ে অরিনের বাসার দিকে রওনা হলো
এদিকে রানু ওর বাবাকে ফোন দেবার আগেই ওর বাবা অরিনকে ফোন দিয়ে বলে দিছে রানুর রাজশাহী যাবার কথা!
রানু কলিংবেল চাপতেই অরিন দরজা খুলে দিলো

  • আপু কেমন আছিস? (রানু)
  • হুম এইতো, তা এতো দেরি যে! আগে তো জানতাম

বাস বা অন্য কোন যানবাহন রাস্তাঘাট এ জ্যামে আটকে যায় কিন্তু এই প্রথম দেখলাম ট্রেনেও জ্যাম হয়! তাইনা? (অরিন)

  • রানু ভ্রু কুঁচকিয়ে! এই রে সেরেছে নিশ্চিত এটা বাবার কাজ! তার মানে আপু আগে থেকেই আমার আসার ব্যাপার টা জানে!
    এখন কি হবে! ১০০% তার সন্দেহ হবে আমি রাজের সাথে মিট করেছি! ভাব রানু ভাব এমন কিছু বলতে হবে যাতে সন্দেহ করতে না পারে! কিছু তো একটা গল্প বানাইতেই হবে হুম
    Let’s go রানু All the best to me!
  • আরে আপু! আর বলিস না কি যেঁ ঝামেলায় পড়ছিলাম!

ট্রেনে আমি যে বগিতে আসতেছিলাম সেই বগিতে আমার সাথে একটা মেয়ে ছিলো মেয়েটার বাবার বাড়ি রাজশাহী তেই।

  • তাতে কি হইছে! বাবার বাড়ি আসবেইতো নাকি? (অরিন)
  • হ্যা তাতো অবশ্যই আসবে কিন্তু কথা হচ্ছে মেয়েটা পেগনেন্ট ছিলো সাড়ে আট মাস চলছে ডাক্তার বলেছিলো আর ও একমাস পর বাচ্চা হবে তাই মেয়েটাএকাই সফর করছিলো, কিন্তু ট্রেনেই মেয়েটার ব্যাথা শুরু হয়ে যায়! ইচ্ছে তো করছিলো মেয়েটাকে বকি একা এই অবস্থায় ক্যানো চলতে হবে!
    কিন্তু মেয়েটার ফেস দেখে কিছুই বলতে পারিনি জানিস আপু!
  • তারপর! (অরিন)
    রানু আর চোখে অরিনের দিকে তাকালো! আপুকে একটু চিন্তিত মনে হচ্ছে, তার মানে মেডিসিন কাজ করছে!
    এবার ওভার কনফিডেন্স নিয়ে রানু শুরু করলো
  • তারপর! জানিস না আপু

আমি খুব টেনশন এ পড়ে গেসি কি করবো!
ট্রেন থেকে নেমে ওর পরিবার এর লোকজন কে ওর ফোন দিয়ে জানালাম আর আমি দেরি না করে মেয়েটাকে পাশের ক্লিনিকে নিয়ে গেলাম।
মেয়েটাকে এডমিড করাতেই ওর বাসার লোকজন আসলো!

  • তারপর! (অরিন)
  • তারপর মেয়েটার একটা ফুটফুটে বাচ্চার জন্ম দিলো।
  • মেয়েটা আর ওর বাচ্চা ভালো আছে তো? (অরিন)
  • হ্যা আপু ভালো আছে
    ডক্টর কি বলেছে জানিস আপু?
  • কি বলেছে? (অরিন)
  • আর একটু দেরি হলে নাকিবাচ্চাটাকে বাচানো যেতো না!
    এবার একটু কাঁদোকাঁদো চেহারাযুক্ত করেরানু অরিন কে বললো
  • আপু তুই বল আমি কি ভুল করেছি? (রানু মাথা নিচু করে আড় চোখে অরিনের দিকে তাকিয়ে! )
  • নারে পাগলি, তুই ঠিক কাজ টাই করেছিসতোর জন্য একটা বাচ্চা আজ বেচে গেছে, একজন নারী হয়ে আরেক নারীকে বিপদে সাহায্য করেছিস আল্লাহ্ তোকে এর ফল অবশ্যই দিবে। (অরিন)
  • আল্লাহ্ দিবে কিনা জানিনা কিন্তু তুই তো আমাকে ঠিকি দিলি আমাকে সন্দেহ করে! হুহ (মুখ টা বাকিয়ে নিলো রানু)
  • সরি আপুটা রাগ করিস না প্লিজ এবার ফ্রেস হয়ে রেস্ট নিয়ে নে। (অরিন)
    রানু মনে মনে (বাহ রানু তুই তো জব্বর অভিনয় করতে পারিস! ইঞ্জিনিয়ারিং বাদ দিয়ে অভিনয় এ ভালো কিছু হইতে পারতি তোর গল্পে তো পুরাই গলে পানি হয়ে গেছে রে উম্মাহ রানু হি হি হি, , একটা ডিংচাক ডান্স দিবার মন চাইতেছে! কন্ট্রোল রানু কন্ট্রোল )
  • হুম যাচ্ছি (রানু)
  • আরে রানু মা তুই কখন এলি? আগে ফোন করে বলিস নাই ক্যানো! কেমন আছিস তুই? জামাই বাবাজী কেমন আছে? (অরিনের মা)
  • আলহামদুলিল্লাহ্‌ সবাই ভালো আছে কাকী মা। (রানু)
  • আরে মা ও অনেকদূর থেকে জার্নি করে আসছে, আর ও তো এখনি যাচ্ছেনা, পরে সব জেনে নিও এখন ওকে ফ্রেস হয়ে রেস্ট নিতে দাও। (অরিন)
  • হা তুই ঠিকি বলেছিস। রানু মা যা ফ্রেস হয়ে আয় খেয়ে রেস্ট নে। (অরিনের মা)
  • জ্বী কাকীমা (রানু)

সেদিন রাতে খাবার খাওয়ার পর
রানু ওর কাকা কাকীর সাথে কিছুক্ষণ গল্প করলো
অরিন তার আগেই নিজের রুমে চলে গেছে।
রানু ও একটু পর রুমে গেলো
অরিন শুয়ে শুয়ে বই পড়তেছে।

  • আপু কি বই পড়িস? (রানু)
  • একটা বাংলা উপন্যাস (অরিন)
  • ইংলিশ এর প্রফেসর এর হঠাৎ বাংলায় রুচি হলো কবে থেকে?
  • ক্যানো পড়লে কি সমস্যা নাকি?
  • না! তা নেই কিন্তু আগে তো পড়তে দেখিনি তাই বলতেছি আরকি।
  • কথা ঘুরিয়ে লাভ নেই কি বলবি সরাসরি বল! আর তুই কাউকে না বলে এইভাবে হঠাৎ করে রাজশাহীতেঁ বকবক করতেই আসছিস জানি!
  • তুই কত কিছু জানিস! কেও কিছু বলার আগেই বুঝিস তাহলে আমি এটা বুঝিনা তুই নিজেকে ক্যানো বুঝিস না!
  • কে বলছে বুঝিনা!
  • কচু বুঝিস! আচ্ছা আমি এটা বুঝলাম না হঠাৎ করে তোর বিয়ের সিদ্ধান্ত নেবার কারন টা কি আমি জানতে পারি?
  • হঠাৎ এর কি আছে! মেয়ে হয়ে জন্ম নিয়েছি বিয়ে তো করতেই হবে!
  • হ্যা বিয়ে করা লাগবে ঠিক আছে, আমি তো আর বিয়ে করতে নিষেধ করিনাই! কিন্তু যারে চিনিস না জানিস না দেখিস ও নাই তাকে বিয়ে করার মানেটা কি?
  • চিনিনাই চিনে নিবো! আর কাকা কাকী, মা বাবা ইভেন তুই ও
    দেখছিস তাকে আমার দেখে কি হবে! তোরা তো আর আমার খারাপ চাইবি না!
  • রাখতো সংসার তুই করবি কাকা- কাকী, মা- বাবা নাহ বুঝলি?
  • অত বুঝে লাভ নেই
    , ঘুমিয়ে পর অনেক রাত হইছে।
  • হ্যা উত্তর না থাকলে মানুষ কথা এড়িয়েই যায় জানি।
  • রানু তুই সব জানিস তারপর ও ক্যানো এসব বলিস!
  • আমি তো সব জানি। তুই জেনেও ক্যানো ভুল করছিস?
  • ওকে গুড নাইট।
  • আপু তুই না একটা! উফফ যা বেশি করে ঘুমা!
    দুজন দুদিক হয়ে শুয়ে আছে রানু ঘুমিয়ে গেলেও অরিন আর ঘুমোতে পারেনি!
    পরেরদিন।

পর্ব ১৫

পরেরদিন…

অরিন সাড়ে নয়টার দিকে ক্যাম্পাসে গেলো।
এদিকে রানু কি বলবে কাকা – কাকী কে বুঝতে পারতেছেনা! আসল কথা তো বলায় যাবে না, তাহলে কি করবে? অবশেষে মাথার বাত্তি জ্বলেছে।
রানু কাকা কাকী কে গিয়ে বললো পাশেই আমার এক চাচা শশুড় এর বাড়ি তোমরা চলো আমি ওদের বলেছি তোমাদের নিয়ে যাবো।
কিন্তু প্রথম এ ওরা রাজী হলোনা কিন্তু রানু অনেক কষ্টে ম্যানেজ করে রাজ দের বাসার দিকে রওনা হলো।

অপরদিক এ রাজ স্টেশন থেকে রানুর বাবা কে নিয়ে আসলো
জাবির ও আসতেছে আর সাকিব, রাতুল, নিধি তো আছেই!
একটা মহা সংগ্রাম এর পূর্ব প্রস্তুতি চলছে।

ফাইনালি ১১ টার দিকে সবাই উপস্থিত হলো, নিকিতা
এবার সবাই কে বললো
দেখুন, অরিন আর রাজ একে অপর কে ভালোবাসে
কিন্তু অরিন সমাজের ভয়ে, আর জানিনা ক্যানো সেটা প্রকাশ করতে ভয় পাচ্ছে। হ্যা আমি জানি রাজ ওর থেকে বয়সে ছোট কিন্তু আমার কাছে মনে হয় না বৈবাহিক রিলেশন এ বয়স কোন ফ্যাক্ট!
সবচেয়ে বড় হচ্ছে দুজনের বোঝাপড়া, আর ম্যাচিউরিটি।
আশাকরি আপনারা বুঝতে পারছেন?

অরিনের বাবা রাজি হলেও মা একটু দ্বিধায় ছিলো
পরে সবাই বোঝানোর পর তিনিও রাজি হলেন।
নিকিতা রানুর বাবাকে জিজ্ঞেস করলেন আচ্ছা কাকা আপনি কি অরিনের মতামত এর ব্যাপারে ওই ছেলেদের বলেছেন?

  • না মা, সময় হয়নি আজ বলতে চাইছি। (রানুর বাবা)
  • আলহামদুলিল্লাহ্, আর বলার দরকার ও নাই। (নিকি)
  • তাহলে কি করবো? (রানুর বাবা)
  • আপনি এক কাজ করুন এখনি তাদের ফোন দিয়ে বলুন
    এই বিয়ে হবে না, তারপর কি করা লাগবে আমি বলতেছি। (নিকি)
    রানুর বাবা ফোন দিয়ে তাদের না করে দিলেন।

আপনারা তো রাজ কে দেখলেন, ওকে কি আপনাদের অপছন্দ? (নিকি)
রাজ কে অপছন্দের কিছুই নাই এক বাক্যে সবাই পছন্দের কথা শিকার করে নিলো।
আলহামদুলিল্লাহ্। রাজ তুমি ক্যাম্পাসে যাও

  • কিন্তু ক্যানো ভাবী? (রাজ)
  • দ্যাখো আমি রিস্ক চাইনা, অরিন অবশ্যই তোমাকে খুঁজবে আর না পাইলে। ভাবতেই পারে তুমি রানুর সাথে মিট করতে গেসোঅতএব তুমি যাওআর সাকিব, রাতুল সহ বাকিরা থাকুক।

রাজ বাধ্য ছেলের মতো ক্যাম্পাসের দিকে পা বাড়ালো।
আর এদিকেনিকিতা সবাইকে তার প্লান বুঝাচ্ছে
এবার সবাই শোন কার কি কাজ করা লাগবে
সাকিব, আর রাতুলের কাজ হবেরাজের রুমটাকে সুন্দর করে সাজানো
সাকিব নিকিতার কানে কানে বললো
(ভাবী এতো কষ্ট করে রুম সাজিয়ে কি হবে?

  • ক্যানো! (নিকি)

আরে ভাবী এতো ট্রাজেডি করে বিয়ে, তোমার কি মনে হয় এদের দারা কিছু হবে?

  • হা হা হা হা ফাজিল! সাজাইতে তো হবেই হা হা হা)
    আর নিধি তোমাকে তো অরিন চিনেও না, সো তোমাকে হতে হবে বরের ছোট বোন।
  • ভাবী এমনেও তো আমি ওর ছোট, সো পারফেক্ট। (নিধি)

রাজের ভাইয়া তোমার সব বাজার করার দায়িত্ব, আর বাবা জানিনা তোমার বিয়েতে যাওয়া হবে কিনা।

  • আরে সমস্যা নেই, বউ তো আমার বাড়িতেই আসবে। (বাবা)
    কাকা আপনাকে এক কাজ করতে হবে বিয়ের আগে কোন ভাবেই যেনো অরিন রাজ কে দেখতে না পায়আলাদা আলাদা রুমে দুজন কে রাখবেন আর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক মসজিদ এ বিয়ে পড়াইলে সওয়াব বেশি পাওয়া যাবে আর টেনশন ও কম হবে।
    এখান থেকে শুধু ওর মতামত টা জেনে নিলেই হবে রেজিস্টার টা বাসায় করবেন বিয়ে পড়ানোর পর।

আর আমার বিয়াই- বিয়াইন শোনেন আমিও কিন্তু রাজ এর মা হই। তাই আমিও বিয়াইন – বিয়াই ই বলবো কিন্তু।
আপনাদের কি আপত্তি আছে?

  • দুজনেই শিকার হয়ে গেলোকারো সমস্যা নেই।
    যায়হোক আপনারা এমন কিছুই করবেন না যাতে অরিন কিছু বুঝতে পারে।
    আর রাজের নকল মা- বাবার দায়িত্ব টা আমার।

ভাবী যদি কোন ভাবে দ্যাখে রাজ কে অরিন ভাবী তাহলে? (রাতুল)
আরে, এটার জন্য প্লান বি রেডি
সাধারণত মেয়েরা ঢেকে থাকে আমরা রাখবো রাজ কে

  • মানে! (রাতুল)
  • মানে হলোহিন্দুদের বিয়ে দ্যাখো নি? বর টোপর এর সামনে ফুল দিয়ে সাজানো থাকে কেও ফেস দ্যাখে না, ঠিক সেটাই আমরা রাজের সাথে করবো।
  • জাস্ট সুপার আইডিয়া ভাবী (রাতুল)
  • হম তাতো অবশ্যই, আর জাবির ও রানুর কাজ
    রানু, তুমি খুব সুন্দর করে সাজাবে অরিন কে।
    আর সিম্পল সব কিছু ডেকোরেশন এর কাজ জাবির এর।
    আশাকরি সবাই সবার কাজ বুঝে গেছো?

এখন বলো আমার প্লান টা কেমন?
সবাই প্রশংসা করলো।
যায়হোক ধন্যবাদ প্রশংসা করার জন্য এখন প্লান ওয়ার্ক আউট করতে সবাইকে নিখুঁত ভাবে কাজ করতে হবে।
All the best সবাইকে।

রানু তোমরা এখন যাওজাবির আজ এখানেই থাকআর কাকা আপনিও থাকেন।

  • না, মা! থাকা যাবেনা তবেঁ বিয়ে ডেট কবে দিবো।? (কাকা)
    আপনি অরিন কে ফোন করে বলেন, যেহেতু ও চাইছে সিম্পল এর মাঝে বিয়ে হোক তাইবর পক্ষ আর দেরি করতে চাইছে না।
    আজ তো বুধবার আগামী শুক্রবার মানে আর একদিন পর বিয়ে।

এদিকে ক্যাম্পাসে রাজের সাথে অরিনের দেখা হলেও অরিন একটা কথা বলেনি।
কথা না বলার কারন রাজ জানে, কিন্তু এভাবে ছেড়ে দিলে তো হবেনা এইযে আপনি?

  • হম বলো। (অরিন)
  • কি হইছে আপনার?
  • কই কি হবে আমার! আমি ঠিকি তো আছি।
  • তাহলে কথা বলছেন না ক্যানো!
  • কি কথা বলবো, আমি ব্যস্ত আছি আমার ক্লাস আছে আসি।
  • হুম, কিন্তু আমার সাথে কথা না বলে থাকতে পারেন আপনি?
  • ক্যানো পারবো না! (এমন সময় কাকার ফোন)

অরিন একটু দূরে গিয়ে কথা বলছে রাজ পিছে পিছে
অরিন একট ফাকা ক্লাস রুমে ঢুকে রুম লক করে দিলো।
কাকা পুরো কথা বুঝাই বললো, অরিন একটা দীর্ঘশ্বাস ছেরে ঠিক আছে বলে ফোন রেখে চুপ করে ব্রেঞ্চের উপর বসে রইলো।
এদিকে রুমের দরজায় দাঁড়িয়ে রাজ ডাকছে

প্রচন্ড অভিমান আর রাগেঅরিন ঠাস করে দরজা খুলে রাজের সামনে এসে দাঁড়ালো।

  • কি হইছে! What’s ur problem! সোজা কথা বূঝোনা তুমি?
    আমি তোমার টিচার, তোমার আমার আমার মাঝে একজন টিচার আর স্টুডেন্ট এর রিলেশনশিপ এর বাইরে
    কোন কিছুই নেই।
  • ভেবে বলছেন তো?
  • ভাবার কি আছে?
  • আমি কি কিস করতে পারি আপনাকে? (রাজ)
  • এটা কেমন বেয়াদবি!
  • বেয়াদবি! কোনটা টাকে বেয়াদবি বলছেন? আমি জোর করে করিনি করার জন্য অনুমিত চাইছি
    আপনি রাজি আছেন তো?
  • ছিঃ তোমার থেকে আমি এটা আশাকরি নাই রাজ!
  • কি আশা করেছেন আমার থেকে, আমার সাথে না আপনার টিচার আর স্টুডেন্ট এর রিলেশন, আপনি এর বাইরেও আমার থেকে আশা করেন! আজিব না ব্যাপার টা?
    একজন স্টুডেন্ট যা ইচ্ছে করতে পারে, এইযে আজ একবছর এর বেশি হলো একি কথা বারবার বলতেছি ভালোবাসি, ভালোবাসি
    কোনদিন ও বাজে নজরে তাকাইনিআমি প্রতিটা মেয়েকে সন্মান করি আর আমার কাছে আপনার সন্মান অনেক উপরে।
    আপনার আচার আচরণ দেখে একটা বাচ্চাও বুঝবে ভালোবাসেন আপনিও আমাকে, ,
    কি কি করেছেন না করেছেন ওসব এ আমার যায় আসেনা সবচেয়ে বড় কথা এতো ভালোবাসি তাই আপনার কাছে আমি মূল্যহীন তাইনা?
    কোনদিন ও অন্যায় আবদার করেছি কি?

করিনি। আপনাকে নিয়ে মজাও করিনি আর আপনি আমার টাইপ পাস না আমাকে আপনি টাইমপাস হিসেবে ব্যাবহার করেছেন।
আজকে যদি জোর জবরদস্তি করতাম ঠিকি আপনি আমায় ভালোবাসতেন শিকার করতেন কিন্তু কি করবো বলুন
আমি না একটু ওভার ভদ্র পোলা বুঝছেন, তাই আরকি সব আমার দোষ ধুর থাকেন আপনি আপনার এটিটিঊড নিয়া, মেজাজি খারাপ করে দিছেন!

রাজ রেগে ফুলে বেলুন হয়ে গেছে মনে হচ্ছে কখন যে ফাটবে! আল্লাহ্ ভালো জানে
অরিন নির্বাক হয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে কি থেকে কি হলো বুঝতে পারছেনা!

রাজের সাথে এভাবে কথা বলা উচিৎ হয়নিকই ও তো একটা কথাও ভুল বলেনি কিন্তু
কাল দিন পর যে আমার বিয়ে!
নিজের অজান্তেই চোখের কোন বেয়ে দু- ফোটা জল গড়িয়ে পড়লো
বাকি সময়টা চুপচাপ ক্লাস নিয়ে বাসায় ফিরলো অরিন তারপর আর রাজ কে একবার ও দ্যাখেনি ক্যাম্পাসে।

সন্ধ্যায় কফি হাতে অন্ধকার এ বেলকুনিতে দাঁড়িয়ে আছে অরিন
সমস্ত ভাবনা জুড়ে রাজ!
নাহ রাজের সাথে ওভাবে কথা বলা একদম উচিৎ হয়নিওর কি দোষ! যথেষ্ট ভালো একটা ছেলে সে

  • কি ভাবছিস! রাজের কথা? (রানু)
  • (নিজেকে সংযত করে) তুই হয়তো ভুলে গেসিস কাল দিন পর আমার বিয়ে রাজের কথা ক্যানো ভাববো! আর সবচেয়ে বড় কথা ও আমার স্টুডেন্ট বুঝছিস?
  • সবচেয়ে বড় কথা ওইটা না টিচার তো তুই পরে আপু আগে তুই একটা মেয়ে।
    একটা কথা কি জানিস আপু?
  • কি কথা?
  • আমার জীবনে প্রথম আমি একজন হার্টলেস মানুষ দেখলাম আর আমার দূরর্ভাগ্য হচ্ছে তুই আমার বোন(কথাটা বলে রেগে রানু ভিতরে চলে গেলো)
  • হমম! হয়ত ঠিকি বলেছিস কিন্তু আমিও ভুল নই
    বিয়ের পর সব ঠিক হয়ে যাবে আর রাজ ও ওর ভুল বুঝতে পারবে।
    পরেরদিন সকালে
    অরিন রেডি হচ্ছে ক্যাম্পাসে যাবার জন্য।
  • আজকে কলেজ না গেলে হয় না! (অরিনের মা)
  • মা আমি চাইনা এই ব্যাপারে কেও জানুক আর আদিক্ষ্যেতার কিছুও নেই আমার প্রথম বিয়ে হচ্ছেনা, সেটা সন্ধ্যাও হতে পারে।
  • হা কাকী ঠিকি বলছে
    যদি ক্যাম্পাসে না যায় আরেকজন সন্দেহ করতে পারে খোজ নিতে বাসায় আসলে তো সব জানতে পারবে আর জানলে তো বিয়ে হইতে দিবেনা এই ভয়!
    তাইনা আপু? (রানু)
  • কে, কি করবে! (অরিনের মা)
  • মা তুমি ওর কথা শুইনো না তো ফালতু বকবক। (অরিন)
  • হ্যা! সত্যি কথা গুলা ফালতু বকবক ই হয়! হুহ(রানু)
  • মা আমি আসি।

অরিন চলে যাবার পর খুব ভালো করেই হলুদের আমাজে শুরু করলো রানু
ওদিক এবিয়ের আসল আয়জোন হচ্ছে রাজদের বাসায় গুটিওকয়েক পরিচিত আত্ত্বীয় স্বজন ছাড়া কাউকে কিছু বলেনি।
কিন্তু পুরো বাসায় লাইটিং করা হচ্ছে কেও কিছু জিজ্ঞেস করলে বলছে আজ নিকিতা দের ম্যারেজ ডে!

এই ভাবী তুমি এই কাজ বাদ দাও তো সপিং করবা কখন! (রাজ)

  • আরে আরে আমার ছেলে তো পাগল হয়ে গেলো টেনশন এ!
    টেনশন এর কিছু নাই বিকেলে যাবোআমি, মা।, আর নিধি।
  • যদি বিকেলে ঝড় আসে! (রাজ)
  • OMG! রাজ তুই না সত্যিই বিয়ে পাগলা হয়ে গেসিস। (নিধি)
  • হি হি হি বান্দরনী কোথাকার, তোর বিয়েতে না টিকটিকি আর তেলাপোকা দিবো, বেশি কথা বললে! (রাজ)
  • হুহ বিয়ে পাগলা কোথাকার? (নিধি)
  • যা এখান থেকে,
    ভাবী! তাহলে কি করবা?
  • তাইলে আর কি! অরিনের যে শাড়ী আছে ওইগুলা পড়াইয়া নিয়া আসবো। (নিকিতা)
  • মজা করতেছো?
  • তা ছাড়া কি করবো, আমার ছেলে টা তো গেছে!
    সমস্যা কই রাতে না হয় সকালে গিয়ে নিয়ে আসবো পরিচিত দোকান সব।
    আজ ক্যাম্পাসে যাইবা না? তোমার সে তো গেছে রানু ফোন দিছিলো।
  • যাক গা আমি যাবোনাগতকাল ঝগড়া হইছে।
  • আবার ঝগড়া করতে গেছো ক্যান!
  • কি করবো! মেজাজ খারাপ হয়ে গেছে কথা শুনে
    বলতেছে আমাদের দুজনের নাকি টিচার আর স্টুডেন্ট এর রিলেশন আর কিছু নাই!
    বলো কারনা রাগ হবে?
  • উল্টাপাল্টা কিছু বলোনাইতো আবার?
  • তেমন কিছু বলিনাই, আজকে না গেলে অবশ্যই ভাববে আমাকে নিয়ে।
  • কি করে বুঝলা তোমাকে নিয়ে ভাববে!
  • গতকাল ই দেখলাম, চোখের পানি মুছতেছে। হম
  • অরিন না আসলেই একটা পাগল ক্যানো যে নিজের কথা বুঝে না কে জানে।
    যায়হোক তুমি থাকো আমার অনেক কাজ আছে।
  • সন্ধ্যায় গায়ে হলুদ হবে দুজনের

রাজ দের বসার ছাদেই সুন্দর করে স্টেজ সাজানো হয়েছে, অরিনদের বাসায় অবশ্য এসব কিছুই হয়নি।
হালকা একটু হলুদ দিয়ে অরিন নিজের রুমে লাইট অফ করে শুয়ে আছে।
রানুর খুব ইচ্ছে হচ্ছে ওকে গিয়ে জ্বালাইতে কিন্তু

ক্যানো যেনো মায়া ও হচ্ছে
আসলে আমরা যা কিছুই বলি বাস্তবতা তো এটাই আপু নিজেও কষ্ট পাচ্ছে।
অরিন ভুল- সঠিকের মার প্যাঁচে পড়ে আছে
একা একা হইতো কাঁদছে।
এদিকে নিকিতা রাজ কে হলুদ দিয়ে নিধি, আর মায়ের সাথে শপিং এ যাচ্ছে।
রাজ নিকিতাকে ডেকে বললো

ভাবী আর যা ইচ্ছে কেনো সমস্যা নেই শুধু শাড়ীর কালার টা আমার পছন্দের কিনবা।

  • কি কালার?
  • গ্রীন সাথে ব্লাক ওর মিশ্রণ।
  • বাহ, আমার ছেলের তো বেশ পছন্দ, অবশ্য মানাবে ওকে কিন্তু বিয়েতে সবাই লাল কালার ই পড়ে।
  • সবার বউ আর আমার বউয়ের মাঝে ডিফারেন্ট তো আছেই ভাবী।
  • হুম, তাতো অবশ্যই।
  • আরেকটা কথা, আমার না তার সাথে এখন একটু কথা বলতে ইচ্ছে করছে কি করবো?
  • এখন না বলাই ভালোযদি বুঝতে পারে?
  • পারবেনা, গত কালের ক্যাম্পাসের ঘটনা নিয়ে বলবো।
  • ঠিক আছে, তবেঁ সাবধানে ওকে?
  • ওকে ভাবী জ্বী।

নিকিতারা যাবার পর বাসায় সবাই মজা করছে।
রাজ ছাদ থেকে নিচের রুমে আসলো
এসেই একটা ফোন দিলো

ক্যানো যেনো একটু বুক বেশিই ধকধক করছে
দুবার দেবার পর ও অরিন রিসিভ করেনি অবশ্য সেটা ভুলে নয় ইচ্ছে করেই।
কিন্তু তৃতীয় বার আর পারেনি
রিসিভ করলো অরিন
কান্নাকাটি করার পর যেকোনো মানুষের ই কন্ঠ ভারী হয়ে যায়।

অরিন ফোনটা রিসিভ করে চুপ করে আছে, আসলে ঠিক কি বলবে বুঝতে পারতেছেনা।
ওদিকে রাজ ও চুপচাপ মনেহচ্ছে যেনো কেও
টিভির সাউন্ড মিউট করে হা করে তাকিয়ে দৃশ্য দেখছে।
১০/১৫ মিনিট এভাবেই চলছে

  • কি ব্যাপার এখনো রাগ কমেনি আমার উপর থেকে? (রাজ)
  • কিসের রাগ? (অরিন)
  • গতকাল ক্যাম্পাসের ঘটনার জন্য সরি জানি না কি হইছিলো আমার!
    আসলে আপনাকে খুব ভালোবাসি তাই হয়তো আপনার কথায় মাথা ঠিক ছিলোনা। প্লিজ মাফ করে দেন
  • আমার সে কথা মনেই নেই!
  • তারমানে আমার কথা একদম ই মনে পড়েনা আপনার!
    আমি আর ও ভাবলাম আপনি হইতো কষ্ট পাচ্ছেন! সরি আমার প্রেডিকশন ভুল হবার জন্য, হইতো আমার ভালোবাসায় খাত আছে তাই আমি কোন দাগ কাটতে পারিনি আপনার মনে!
  • (হইতো একটু বেশিই দাগ কেটে গেছো কিন্তুকিছু কথা কখনো বলতে নেই যেঁ! ) এসব নিয়ে ভেবে ক্যানো সময় নষ্ট করছো? সেরকম কিছুই না।
  • হইতো আপনার কাছে সেটা, তবে আমার কাছে আমার সবটা জুড়ে আপনার বসবাস।
    থাক ওসব কোন না কোন একদিন বুঝবেন সেই আশাই রইলাম।
  • (হইতো আর কখনো ওই কোন একদিন আসবেনা রাজ! ) হম।
  • যাইহোক কি করছিলেন?
  • কিছুনা।
  • ভালো আছেন তো আপনি?
  • হুম।
  • না! ক্যানো যেনো মনে হচ্ছে ভালো নেই আপনি! কি হইছে বলবেন একটু?
  • কই কিছুতো হয়নি?
  • আপনার কণ্ঠস্বর ভারী লাগছে! কেঁদেছেন আপনি?
  • আরে নাহ, শুয়ে আছি এইজন্য।

রাজের সাথে কথা বলতে বলতে অরিনের একটু বেশিই খারাপ লাগছে।
যাইহোক রাজ আমি এখন ফোনটা রাখিভালো লাগছেনা কথা বলতে।

  • ওহ, আচ্ছা ঠিক আছে তো একটা কথা।
  • হম বলো কি কথা?
  • আমি আমার মায়াবতী কে ভীষণ ভালোবাসি।
    অরিন আর কিছুই বলতে পারেনিফোনটা কেটে দিয়ে কান্নায় ভেজ্ঞে পড়লো!
    রানু এসে মাথায় হাত দিলো আজ আর লুকোতে পারেনি অরিন
    রানুকে জড়িয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে!

অরিন কান্না হইতো রানু ও সহ্য করতে পারেনি যদিও জানে কাল হইতো সব ঠিক হবে আল্লাহ্ চাইলে কিন্তু তারপর ও অরিনের কান্না!
যাকে সব সময় নিজেকে আড়াল করতেই দেখা গেছে যাকে গতকাল ই হার্টলেস বলেছে সেই মানুষ টা এভাবে কাঁদছে!
কাঁদোকাঁদো কন্ঠে অরিন রানুকে বলছে।

  • রানু তুই বলিস না আমি হার্ট লেস, আর ও কত কি! আজ আমি সত্যি কথা বলবো রানু আমি সত্যিই হইত ভালোবাসি রাজ কে!
    জীবনের প্রথম কাউকে এতোটা ভালোবেসেছি! কিন্তু রানু এই রিলেশন কি করে পসিবল বল!
    সবাই ভাবে আমি হইতো বুঝতে পারছিনা! আমি ঠিক ওই প্রথম দিন থেকেই রাজ কে পছন্দ করি! কিন্তু এটা কি করে ভুলে যাবো!
    আমি ওর টিচার! আমি একজন বিধবা!

একটা ছেলে অনেক গুলা মেয়ের সাথে থাকতে পারে! তবুও কিছুই যায় আসেনা কারন তাদের দেখলে বোঝা যায়না!
কিন্তু রানু একজন মেয়ে একবার কারো সাথে ফিজিক্যাল রিলেশন হবার পর! সেই মেয়েটার কাছে হইতো অন্য কাউকে দেবার মতো আর কিছুই থাকেনা!
আমি কোন মুখ নিয়ে রাজের কথা মেনে নিবো!

আমিও ভালোবাসি কিন্তু ওকে দেবার মতো তো কিছু নেই আমার কারো উচ্ছিষ্ট খাবার খাওয়া এতোটাও সহজ না! আমি রাজ কে ঠকাইতে চাইনা!
ও আমাকে ক্যাম্পাসে হইতো খোজে কিন্তু ওর থেকে বেশি আমি খুজি ওকে!
আজ সারাদিন দেখিনি ওকেখুব খারাপ লেগেছে। সত্যিতো এটাই আমি ক্যাম্পাসে ওকে দেখতেই গিয়েছিলাম!

  • তাহলে ওকে না জানিয়ে বিয়ে করতে যাচ্ছিস! এটা কি ঠিক হচ্ছে!
  • আমি জানিনা কোনটা ঠিক আর বেঠিক কিন্ত আমি রাজ কে ছাড়া থাকতে পারবোনা কিন্তু ওকে আমি বিয়ে করতে পারবোনা!
  • অন্যজন কে যে বিয়ে করবি! সে ঠকবেনা!
  • আমি জানিনা।
    আপু যা কিছুই করিস আবেগ এ করিস না! পরে ভুল বুঝতে পারবি তাই আগেই সব কিছু ভেবে কাজ কর।
    আমি আর কিছুই ভাবতে পারছিনা মাথা অহস্য ব্যাথা করছে।
  • হুম, আয় আপু আমি মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি তুই ঘুমিয়ে যা।
    রানু সব জেনেও চুপচাপ, মনে মনে বলছে

আপু তোর ভালোর জন্যই করছি এসব যখন প্রিয় মানুষ গুলো তার ভালো বুঝতে পারেনা! তার আশেপাশের মানুষ গুলোর উচিৎ সেই ভালোটাকে পেতে সাহায্য করা”
আগামীকাল এর কথা ভেবে খুব এক্সাইটেড আমি। খুব ইচ্ছে করছে তোর সাথে শেয়ার করি কিন্তু তোর সাথে শেয়ার করলে হিতে বিপরীত হতে পারে! অতএব, এই রিক্স আমি কখনো নিতে পারবোনা।
ভালোবাসি অনেক আপু তোকে।
ওদিকে শপিং শেষ করে সবাই বাসায় ফিরলো
রাজের শাড়ীটা বেশ পছন্দসই হয়েছে।
রাতে আর কেও ঘুমোতে পারেনি।

আচ্ছা রাজ তুই ঘুমা ভাই কাল না বিয়ে তোর কাল রাতে তো ঘুমানোর টাইম। নাও পাইতে পারিস(সাকিব)

  • কে কইছে পামু না!
    কাল রাতে আমার উপর বজ্রপাত হতে পারে আমি রিক্স নিতে পারবোনা বেডের সাথে সাথে দয়া করে সোফাটাও ঠিক করে দিস!
    আমার অবস্থান সোফাতেই হবে মনে হচ্ছেহুম।
    রাজের কথা শুনে সবাই হাসছে!
  • হা সবাই হি হি হি করেহাসো। দয়ামায়াহীন সব গুলা।
    সবাই এবার বলতেছে আহারে বেচারা নতুন বর!
    মন খারাপ করে সবাই বসে আছে!
  • বুঝছি, বুঝছি আর একটিং করা লাগবেনা হুম।
    এভাবেই সারারাত কাটলো সবার।

আজ বিয়ে
রাজের নকল মা- বাবার দারিত্বটা পড়েছে নিধির মা বাবার উপর।
ঠিক দুপুর ১২ টায় বাসা থেকে বের হবে সবাই
এখন সাড়ে ১১ বাজে।

  • এই রাজ খাবার টুকু খেয়ে নাও অরিন দের বাসায় খাবার দরকার নেই। (নিকি)
  • আরে ভাবী ক্যানো খাবেনা ও! (রাতুল)
  • খাবার খাইতে গেলে ফেস বের করা লাগবে!

যদি বিয়ে পড়ানোর আগে অরিব জানে না তাইলে বিয়ে হইছে! (নিকি)

  • আমাদের রাজ ইতিহাসের প্রথম বর হতে যাচ্ছে যে কিনা শশুড় বাড়িতে না খেয়েই বিয়ে করবে! আরে অনক এ তো খাবারের জন্যও বিয়ে করে না!
    এতে রাজ রে নোবেল দেওয়া উচিৎ হি হি হি। (রাতুল)
  • ওই ফিক ফিক করা বন্ধ কর, আর ভাবী তুমি ঠিকি বলছোদাও খাওয়াই দাও। (রাজ)

অবশেষ এ সেই মাহেন্দ্রক্ষণ রাজ মা- বাবা, ভাই – ভাবীকে ছাড়া বিয়ে করতে যাচ্ছে!

হুম, সবার থেকে দোয়া নিয়ে রওনা হলো রাজ।

রিমি জানতোনা বিয়ের কথা আজ ই শুনেছে

এসেই অরিন কে বকাবকি করছে!

আপু তুমি এটা কি করছো! রাজ তোমাকে ভালোবাসে, আর তুমিও তাহলে ক্যানো অন্য মানুষ কে বিয়ে করতে যাচ্ছো!
রিমি রিমির মতো বলছে অরিন যেনো কিচ্ছু শুনতে পায়নি! চুপচাপ বসে আছে।
বিয়েটা সুন্নতী তকিয়ায় সম্পন্ন করার জন্য মসজিদেই বিয়ে পড়ানো হলো
আর এদিকে রানু অরিন কে খুব সুন্দর করে সাজাচ্ছে!

শাড়ী টা দেখে অরিনের ও কেমন যেনো লাগলো! এটাতো আমার পছন্দের কালার! যাকে চিনিনা জানিনা! সে কি করে জানলো আমার পছন্দের কথা! হইতো কারো কাছে শুনেছে সৌভাগ্য এটা যে অরিন রাজের বাবার নাম জানতোনা! তাই রেজিস্টার করার সময় রাজের নাম শুধু # সোহানআহম্মেদ দেওয়া ছিলো যাতে অরিন বুঝতে না পারে! (# এসএ এর পূর্ণরূপ হচ্ছে সোহান আহম্মেদ যা অরিন জান্তোনা) আলহামদুলিল্লাহ্‌ বিয়েটা সম্পন্ন হলো।

অরিনদের বাসা থেকে বের হতে বিকেল ৫টা বাজলো
রাজদের বাসায় যাইতে বেশি সময় লাগেনা!

অরিন যেনো বুঝতে না পারেগাড়ি নিয়ে পুরো রাজশাহীর অলি গলিতে ঘুড়ে রাত সাড়ে নয়টায় বাসায় আসলো ওরা
ভাগ্যিস অরিন একবার ও জানালার দিকে তাকায়নি পুরো সময় মাথা নিচু করে ছিলো।
রাজ দের বাসা লাইটিং করে একটু অন্যপ্রকার করানোর চেষ্টা তারপর ও
অরিন বাসায় পা রাখতেই তার কেমন যেনো মনে হলোমনে হয় এর আগেও হইতো আমি এই বাসায় আসছি!
হইতো এমনি ভাবছি বলে চুপ হয়ে গেলো।

নিকিতার প্লান অনুযায়ী বাসার সবাই অরিনের সাথে সকালে দেখা করবে তাই রাতে আর কেও অরিনের সামনে যায়নি।
রাজের রুমটা খুব সুন্দর করে সাজানো হইছে!
অরিন এখনো তার হাসবেন্ড কে দ্যাখেনি!
অরিন কে বাসর ঘরে রেখে আসলো নিধি!

রাজ ভিতরে যাইতে ভয় পাচ্ছে! হা হা হা মনে হচ্ছে যেনো ভিতরে কোন ক্ষুধার্ত বাঘ আছে ভিতরে গেলেই খেয়ে নিবে!
বিয়েতে ভয় মেয়েরা পেলেউ আজ ক্যানো যেনো রাজ ভয় পাচ্ছে
সবাই বলার পর কাপা কপা পায়ে আস্তে আস্তে ভিতরে গেলো রাজ!


পর্ব ১৬

সবাই বলার পর কাপা কপা পায়ে আস্তে আস্তে ভিতরে গেলো রাজ!

রাজ ভিতরে প্রবেশ করার সাথে সাথেই অরিন মাথা নিচু করে নিলো!
রাজঃ ক্যানো যেনো মনে হচ্ছে পুরো শরীর প্যারালাইজড হয়ে গেছে
উঁহু আমার বাসর যাবো কি যাবোনা! আল্লাহ্ আমারে দেখলে কি হবে!

হাত দিয়ে মুখটা ঢেকে বিসমিল্লাহ্ বলে রুমের লাইট অফ করলাম কারন আমার মাথার বাত্তি জ্বলছেঅন্ধকার এ যা হয় হবেকিন্তু ড্রিম লাইট টাতে এতো আলো ক্যারে! OMG এইডা তো দিনের মতো ফকফকা! নিশ্চিত ওই বান্দর গুলা ইচ্ছে করে করছে! আমারে বাশ খাওয়াইতে ফোনটা ভাইব্রেড হতেই দেখলাম সাকিবের টেক্সট ” রাজ আমাদের বেডে তোর জন্য জাইগা রাখছি সমস্যা নাই ভাই আসতে লজ্জা পাইস না” সাথে একটা হা হা ইমো দেওয়া! বিপদে পড়লে সবাই মজা ন্যায়! ফয়িন্নিরা কাছে থাকলে দিতাম কয়েকটা! ফোনটা অফ করে বেডের একদম কর্ণারে গিয়ে বসলাম। সেও চুপচাপ বসে আছে।

আমাকে সে সালাম দিলোআমি সানন্দে উত্তর দিতে গিয়ে দেখি! ওমা আমার গলা দিয়ে আওয়াজ ই বের হচ্ছে না! আমি এতো চেষ্টা করছি হচ্ছেইনা
শুধুআ উ ই এই শব্দ গুলা ছাড়া কথা বের ই হচ্ছে আমি গলা ধরে টানাটানি করছি, মনে হয় সে আমাকে বোবা ভাবছে!
তাই বলতেছে আপনার কি কষ্ট হচ্ছে কথা বলতে!
আমি হ্যা বলার যায়গায় এ্যা বলছি!

এইবার সে মুখ উপরে তুললো আমি অন্যদিকে বিদ্যুৎ বেগে ঘুরে বসলাম।
সে নিশ্চিত বোবা ভাবছে আমারে! আল্লাহ্ এইডা কি করলা! বাসর রাইতে আমার কন্ঠ কারিয়া নিলা! একটু পর আমার রুম, আমার সাধের বেড টাও হাত ছাড়া হতে পারে! এ কেমন বিচার! আমার মনে হয় এইবার আমার কান্নাকাটি করা উচিৎ কিন্তু সেটাও তো হচ্ছেনা! কি করবো আমি! চোখ বন্ধ করে এসব ভাবতেছি চোখ খুলতেই দেখি সে আমার সামনে!
মন চাইতেছে দৌড় দেই কিন্তু বাইরে বান্দর গুলা এই অপেক্ষায় আছে কখন আমাকে বাহির করে দিবে!
না আমি যাবোনা এইখান থেকে

যা হয় হবে এই বেডের অর্ধেক মালিকানা আমার ও হুহ।

  • তুমিইইইইইই! তুমি এইখানে কি করছো!
  • ভাবলাম কথা তো বের হচ্ছে ইনা এই সুযোগে হেতিরে একবার আই লাবু কইলে মন্দ হয় না!
    তাই একটু জোড়েই কইছি “আই ল্যাব ইউ মায়াবতী “! এইবার কথা বের হইছে! আল্লাহ্ এখন কি হবে! কিচ্ছু বললো না শুধু পাঞ্জাবীর কলার ধরে দার করিয়ে বল্লো
    “” আমার হাজবেন্ড কই! “
    আমিই তো আপনার সামনে!
    “ভালোই ভালোই বলো তার সাথে কি করছো! “(অরিন)
    কেও কিছুই করেনাই কিন্তু একজন মানসিক, সাথে শারীরিক টর্চার শুরু করছে!
  • কে?
  • আপনি, আবার কে! দেখেন আমি কিন্তু স্বামী নির্যাতন এর কেস করে দিমু হু অসহায় অবলা একটা স্বামীরে এইভাবে কেও ভয় দেখায় নাকি! বলেই কেঁদে দিলাম!
    এতে মনে হয় বরফ একটু গলছে!

এইবার একটু সাহস নিয়ে বললাম দেখুন আমার সাথেই আপনার বিয়ে হইয়েছে!
সে আমার কথা চার আনাও বিশ্বাস করেনি!
সে তার কাকা কে ফোন দিলো!

যেহেতু বিয়ে হয়ে গেছে তাই আর কাকা শুশুড় কিছু লুকোননি সব বলে দিছে!
কোন কথা না বলে ফোনটা অফ করে চুপচাপ বসে রইলো! আমি কি করবো! বুঝতেছি না!
অনেক্ষন দাঁড়িয়ে থেকে পা ব্যাথা হয়ে গেছে সেও বসে আছে আমাকেও কিছু বলছে না!
আমি আস্তে আস্তে বেডের কাছে যেতেই সে ধমক দিয়ে বললো এই এদিকে আসবা না!
কই যাবো!

  • সে আমি জানিনা! যেখানে ইচ্ছে যাও কিন্তু এই বেডের আশেপাশে যেনো না দেখি!
    হাইরে আমার কল্পনারে যা ভাবছি তাই! হু হু
    আমি রুম থেকে বের হয়ে যাচ্ছিলাম কষ্টে
    সে পিছন থেকে ডাক দিলো।
  • শোন?
  • ওয়াও তারমানে, রাগ মনে হয় কমছে পাশে থাকতে দিবে ইয়াহু বলে লাফ দিতেই যাবো এমন সময় সে বললো
  • সোফার উপর ঘুমাও
    বাইরে গেলে সবাই খারাপ ভাববে!
  • (আ আ আ আমি কি সোফারে বিয়ে করছি নাকি! )
    হুম বলে রাজি হয়ে গেলাম!
    যাই গা আই নাবুই চোপা!
    আমার বাসর রাতের সজ্ঞী!
    সে শাড়ী পড়েই অন্যদিক ঘুরে শুয়ে আছে!

অবশ্য একটা বালিশ দিছে দয়াকরেকখন ঘুমাই গেছি জানিনা।
মাঝরাতে হঠাত কান্নার আওয়াজে ঘুম ভাংলো!
সে মোনাজাত এ কাঁদছে!
তার কথা গুলো শুনে আমার ই কান্না পাচ্ছিলো

“” হে আল্লাহ্ তুমি আমাকে হেফাযোত করো সমস্ত পাপ থেকেজানিনা এই বিয়ের পর আমাকে কত কথা শুনতে হয়! তুমি আমাকে ধৈর্য্য ধারন করার তৌফিক দান করিও, আল্লাহ্ যা কিছুই হয় তোমার ইশারায় হয়হইতো এর মাঝেও মজ্ঞল নিহিত রাখছো, রাজ অবুঝ
জানিনা আল্লাহ্ ও এই জগত সংসার এর সব দিক মেনে নিতে পারবে কিনা! খুব ভয় হয় যদি কখনো ও পালটে যায়!
তখন এই সমাজে দাঁড়াবার শক্তিটুকুও আর থাকবেনা! হে আল্লাহ্ সারাটা জীবন যেনো তোমার ইবাদত করতে পারি, আমি আমার স্বামী ও তার পরিবারের সেবা করতে পারি হে আল্লাহ্ আমার দ্বারা কারো যেনো কোন প্রকার ক্ষতি না হয়, তুমি এই পরিবারের প্রতিটা সদস্যকে সুস্থ রেখো তোমার অশেষ রহমতের মাঝেই রেখো।
জানিনা আল্লাহ্ এর পর কি হবে!

  • সে কথা বলেই হু হু করে কেঁদে উঠলো আমার ও তার কান্না দেখে কান্না পাচ্ছে, পরে সে বিছায় গিয়ে শুয়ে পড়লো।
    ভোরে বেলা সে আমাকে জড়িয়ে ধরেছে! আহা কি শান্তি আমিও তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছি তাকে কিস করতে চাইলাম কিন্তু সে রাজিনা আমি জোর করে কিস করতে যাচ্ছি
    ঠোট দুটো উপরের দিকে করতে আমিও উপরের দিকেই যাচ্ছি হঠাত ধপাস করে পড়ে গেলাম!
    তাকিয়ে দেখি কেও নেই!

যাকে মায়াবতী ভেবে জড়িয়ে ধরেছি সে মায়াবতী না! মাথার নিচের বালিশটা আমার বুকে!
তারমানে এতোক্ষণ স্বপ্ন দেখছিলাম!
কান্নায় পাচ্ছে! ধুর

তাকিয়ে দেখি সেও বেডে নেই! কই গেলো! আবার রাগ করে চলে যায়নি তো!
বেডের উপরে খুঁজলাম!
নিচেও খুঁজলাম পড়ে ওয়াশ রুম থেকে পানির শব্দ বেরুচ্ছে! তার মানে সে ওয়াশ রুমেই!
১ মিনিট পর সে বেরুলো।
সে গোসল করে নিছে, ওয়াও ভেজা চুল! যা লাগছে না উফফ মনে হচ্ছে জড়িয়ে ধরি কিন্তু যা হিটলার বউ আমার! থাপড়ানী খাবো শিওর!

  • ওভাবে তাকিয়ে আছো ক্যানো! (বউ)
  • আমি আমার বউরে দেখতেছি!
  • এখনো পাঞ্জাবী চেঞ্জ করোনাই ক্যানো! আরেকটা চুরি করে বিয়ে করার ইচ্ছে আছে নাকি? !
  • সেই দুঃসাহস আমার নেই!
    একটা করেই বেড হারাইছি আরেকটা করে বাড়ি ছাড়া হবার কোন প্রকার ইচ্ছে নেই!
    ন্যাড়া বেল তলায় একবার ই যায় হুহ।
  • কিছু বললা!
  • না! বলেই তার সামনেই পাঞ্জাবী, গেঞ্জি খুলে ফেলছি।
  • এই তুমি এখানেই খুলছো ক্যানো!
  • আচ্ছা তাইলে বাহিরে সবার সামনে খুলি ওকে!
  • আমি সেটা বলিনাইআই মিন ওয়াশ রুমে গিয়ে খুলতে পারতে!
  • এখানে খুললে কি প্রব্লেম!
    আচ্ছা আপনি সালমান খানের মুভি দ্যাখেন নাই কখনো?
  • হুম, দেখেছি।
    আপনিও তো দেখছেন!

পর পুরুষ কে শার্টহীন দেখে বাহবা দেন আর নিজের স্বামী শার্ট খোলায় প্রব্লেম কই!

  • ও আল্লাহ্ এতো কথা! যা ইচ্ছে করো।
  • হ্যা, আমি আমার প্যান্টা টাও এখানে খুলতে পারি।
  • লজ্জা করবে না! ছিঃ
  • আমার একটু লজ্জা শরম কম ই আছে আপনি চোখ বন্ধ করতে পারেন হুহ, এই রুমটা হাফ আমার ও হুম, কাল থেকে ভাগ করে নিবো।
  • সে পরে দেখা যাবে! যাও গোসল করে আসো বাহিরে সবাই কি ভাব্বে!
  • বাহিরে সবাই দুঃস্বপ্ন দেখতেছে!
  • মানে! আমার মতো ঐতিহাসিক বাসর তো কারো হয় না! তাই আরকি সারারাত সোফায় বর কে থাকা লাগে।
    আমি সোজা গোসল করতে ঢুকে গেলাম বের হতেই সে বের হয়ে গেলো রুম থেকে।

কেও যেনো কিছু বুঝতে না পারে তাই ফুল গুলা ইচ্ছে করেই ছিরলামযদি বুঝতে পারে পচানি খাইতে হবে আমার!
যদিওবা রুম পরিষ্কার ই আছে ইচ্ছে করেই নোংরা করছি পরে মায়াবতী অবশ্য বকতে পারে যাক ব্যাপার না সে রুমেই বকবে।
আর বাদরগুলা তো সবার সামনেই বলবে!
তারচেয়ে মায়াবতীর গাল শুনতেও ভালোলাগবে আহা কি সুন্দর করে কথা বলে আমার বউটা! মনটা চায়
থাক কমুনা হিহি হি।

বেশি দেরি করলে ওরাই আসবে তারচেয়ে বরং আমিই বাইরে যাই।
আজকে কেমন যেনো লজ্জা লজ্জা লাগছে সবার সামনে যাইতে! ড্রইং রুমে সবাই বসে আছে। মায়াবতী কে দেখছিনা! কই যে গেলো
কাউকে জিজ্ঞেস ও করা যাবেনা কি যে ভাবে আবার আল্লাহ্ যানে!

সবাই এমন ভাবে তাকিয়ে আছে আমার দিকে! মনে হচ্ছে আমার প্যান্ট ছিরে গেছে! হা করে একেকজন তাকিয়ে আছে! এইভাবে থাকলে কথা শোনা লাগবে তারচেয়ে বরং আমিই বলি।

  • কি ব্যাপার কারো কোন কাজ নেই! হা করে তাকাই আছো ক্যা! মাছি ডিম পারতাছে মুখের মধ্যে সবার!
    এবার সবাই ঠিকঠাক হয়ে বসলো!
  • না মানে তুই ঠিক আছিস রাজ! (সাকিব)
  • ক্যানো! আমাকে কি ল্যাংড়া দেখাচ্ছে!
  • না, ইয়ে মানে।
  • কিসের এতো মানে মানে হুম? মনে হইতে কোনদিন দেখিস নাই আমারে!
  • আজকে নতুন নতুন লাগছে তোকে(নিধি)
  • হ্যা আমার ও তাই মনে হচ্ছে! দেখতো কয়টা শিং গজাইছে মাথায়!
  • ওভাবে ক্যানো বলছিস? (নিধি)
  • কি বলবো বল! তোরা আমার ফ্রেন্ডস না শত্রু একেকটা।
  • দ্যাখ, আমরা কিন্তু সারারাত ঘুমাইনাই তোর জন্য এই ড্রইং রুমেই ছিলাম। (রাতুল)
  • ক্যানো!
  • যদি তোরে!
  • যদি আমারে সে বের করে দ্যায় তাহলে নুনেরছিটে দিবার জন্য তোমরা জেগে আছিলা তাইনা বাবাজীবন!
  • সকাল সকাল ঝগড়াটে মুডে ক্যান তুই! নিশ্চিত সোফায় রাখছে তোরে সারারাত! (সাকিব)
    সবাই হি হি হি করে ৩২ টা দাত বের করে হাসছে মনডা চাইতেছে হাতুরী দিয়া সব গুলার দাত ভাইঙ্গা দেই!
    বজ্জাতের দল একটা!

কিছু না বললে ইজ্জতের বারটা বাজবে তাই চাপা মারা আবশ্যক।

  • জ্বিনা! আমি আমার বেডেই ছিলাম, তোমাদের মতো সেলফিশ না আমার বউ হুহ।
  • আমরা তো জানি আমাদের ভাবী জ্বি কে, রাজ ভাই! (সাকিব)

কথাটা বলেই আবার হাসছে সব গুলা!
নিজেকে ক্যানো যেনো অসহায় লাগছে!
এমন সময় মায়াবতী আসছেসবাই চুপচাপ!
ওয়াও গ্রেট আইডিয়া আমি এখন মায়াবতীর সাথে সাথেই থাকবো তাইলে আর কেও কিছু বলবেনা!
যেই ভাবা সেই কাজতার কাছে গেলাম

  • এইযে শুনছেন?
  • হুম। (বউ)
  • কি করছেন?
  • দেখতেই তো পারছো?
  • হম, সুন্দর লাগছে দেখতে আপনাকে।
  • ক্যানো, আগে দেখতে ভালো লাগতোনা?
  • তেমন টা নয়তো! আজকে আপনার জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে, নতুন ভোর, সাথে নতুন ফ্যামিলি শুধু আমিই বাদ হুম।
  • ক্যানো তুমি কি ফ্যামিলির বাহিরে নাকি!
  • না, তবেঁ আপনার কাছে তো বাহিরেই।
  • বললেই কি সব চেঞ্জ হয়ে যায়!
  • যায়না ঠিক আছে কিন্তু মানা তো উচিৎ তাইনা?
  • হ্যা, তো?
  • আমি আপনার কি হই?
  • তুমি জানোনা?
  • আপনি বলেন না? এমন সময় ভাবী আসলো
  • কি ব্যাপার হুম! আমার ছেলেকে পুরো বাসায় খুঁজে পেলাম না! অবশেষ এ বউয়ের কাছে! (নিকিতা)
  • তেমন কিছুনা ভাবী, আমি মাত্রই আসছি আসলে আমার ক্ষুধা লাগছে তো।
  • তা আমাকে বললেনা ক্যানো! (নিকি)
  • তোমাকে খুঁজতে হলে ড্রইং রুমের মধ্যে দিয়ে যাওয়া লাগবে আর ওখানে ওই ফাজিল গুলা আছে।
  • তুমিতো একবার ও বললা না তোমার ক্ষুধা লাগছে! (অরিন)
  • আসলে কি অরিন, অনেক সময় ক্ষুধা লাগলেও সামনের মানুষ রে দেখলে মনের সাথে সাথে পেট ও ভরে যায় তাইনা রাজ? (নিকিতা)
  • ভাবী! তুমিও শুরু করলা! যাও খাবোইনা।
  • আরে, আরে রাজ শোন!
    যাহ্ চলে গেলো!
  • অরিন? (নিকি)
  • হুম আপু বলেন।
  • মন খারাপ তোমার?
  • না।
  • রাগ করে আছো আমার উপর?
  • না, আপু রাগ ক্যানো করবো, মানুষ তো উছিলা ভাগ্যটাই মেইন।
    ভাগ্যে ছিলো তাই।
  • হুম। ঠিক আছে তুমি বসোআমি ভাজিটা করছি।
  • না সমস্যা নেই আপু।
  • ওকে, সমস্যা নেই আমি জানিতুমি বসো ত।

জানিনা তুমি কি ভাবছো, তবেঁ আমার ভালোই লাগছে আমি আজ শাশুড়ি হয়ে গেছিহা হা হা।

  • আপনাদের মতো এতো সুন্দর ফ্যামিলি পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার এতে আমার কোন সমস্যা নেই কিন্ত!
    অরিন কিন্তু বলেই চুপচাপ হয়ে গেলো
  • আসলে অরিন তুমি একটু বেশিই ভাবছো! রাজ তোমাকে খুব ভালো রাখবে
    ওকে একটু আপন করে নিলেই হয়।

সারাদিন এভাবেই কাটলো রাজ সবাইকে রেখে সেই যেঁ সকালে গেছে আর আসেনি বাসায়!
সবাই ফোন দিলে বলেছে কাজ আছে!
প্রায় রাত ১০ টার দিকে আসলো!

খাবারের কথা কথা বললেই বললোআমি আমার ফ্রেন্ড এর বাসায় খেয়ে আসছি।
সবার সাথে কথা বলে রাজ রুমে গিয়ে একা বসে আছে।

অরিন রুমে ঢুকতেই রাজ সোফায় গিয়ে চুপচাপ চাদরমুরী দিয়ে শুয়ে পড়লো!
রাজের মুখ দেখেই অরিন বুঝেছে সারাদিন রাজ কিছুই খায়নি!

  • এই রাজ শোন?
  • হুম বলেন।
  • একটু উঠনা।
  • হুম, বলেন এবার।
  • খাবার খেয়ে নাও! রাতে না খেয়ে শুইতে হয়না।
  • আমি খাইছি।
  • আমার কাছে মিথ্যে বলে লাভ নেই আমি জানি খাওনি, প্লিজ খেয়ে নাও।
  • হুম, আপনি খাইছেন?
  • হুম খাইছি।
  • হইতো সবার অনুরোধমত একটু খাইছেন! তাইনা?
  • আরে নাহ, খাওতো।
    আর একটা কথা তুমি বেডেই শুতে পারো তবেঁ একটা শর্তে!
  • হুম বলুন কি শর্ত?

পর্ব ১৭

কি শর্ত?

  • হুম বলুন কি শর্ত?
  • বেডের মাঝ বরাবর একটা কাপড় টানিয়ে দুজন দুপাশে থাকা যেতে পারে।
  • অবশ্য আইডিয়া খারাপ নাহ, আজ থেকে থাকা যাবে?
  • হুম, যাবে।
  • আমার না খেতে ইচ্ছে করছেনা তবেঁ যদি খাওয়াই দেন তাহলে!
  • হুম, আচ্ছা ঠিক আছে এই নাও চুপচাপ বসো।
  • আচ্ছা আপনি এতো ভালো ক্যানো!
  • তোমার হয়তো আমাকে ভালো লাগে তাইএমন টা মনে হয়।
  • উঁহু, যাকগে আপনার বোঝা লাগবে নাআপনি যেমন আছেন তেমন থাকলেই হবে।
    খাবার শেষে রাজ কাপুড় টা টানিয়ে শুয়ে পড়লো অরিন ও শুয়ে পড়লো।
  • আচ্ছা জানেন আমার আজ একটা স্বপ্ন পূর্ণ হয়েছে।
  • কি স্বপ্ন?
  • এইযে আপনার এতো কাছেআমি, এখন আপনার সাথে কথা বলতে বা আপনাকে ভালোবাসতে আর কারো কথার পরোয়া করা লাগবেনা।
  • হুমমম।
  • আচ্ছা আরেকটা কথা, আমি ঘুমের মধ্যে কি করি জানিনা তবেঁ যদি ভুল করে আপনার সীমানায় আমার বেয়াদব হাত পা চলে যায় প্লিজ কেটে দিয়েন না হুম
    তাইলে কিন্তু মানুষ আপনাকেই বলবে আপনার হাজবেন্ড পজ্ঞু!
  • হা হা হা! যাইহোক ভয়ে ভয়ে ঘুমানোর দরকার নেই কাপড়ের সাথে বালিশ ও দেওয়া থাকবে।
  • আপনি হাসলে দেখতেও ভালো লাগেমনডা চায়
  • কি চায়?
  • ওটা বলা যাবেনা বললে তো বেড থেকে নামাই দিবেন! থাক বাবা এই রিস্ক আর চাই না।
  • হুম, যাইহোক ঘুমাওআমি ঘুমোব, কাল ক্লাস আছে আমার Good Night
  • গুড নাইট রাজের বউ!
    অরিন আর কিছু না বলে ঘুমিয়ে গেছে

অরিন ভোরে ঘুম থেকে উঠেছে রাজ ঘুমোচ্ছে, অরিন কাপড় টা সরিয়ে
রাজের দিকে তাকিয়ে আছে
“একদম মাছুম লাগছে দেখতে আর ঘুম থেকে উঠলেই শুরু হয়ে যাবে এতো কথা কই পায় ও!
আমি বা না মানি তুমি আমার হাসবেন্ড!

খুব ইচ্ছে করছে তোমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে কিন্ত
তুমি যেগে যাবে আর জাগলেই শুরু হয়ে যাবে থাক দরকার নেই।
অরিন নামাজ পড়ে বাহিরে যাবার আগেই বেডের কাপড় টা সরিয়ে দিলো যাতে কেও বিষয়টা না জানে নিকিতাও উঠেছে ঘুম থেকে।
সকালের খাবার খাওয়ার পর অরিন বিশ্ববিদ্যালয় এ যাচ্ছে রাজের আম্মু তার কলেজ এ যাচ্ছে।

রাজের মা অরিন কে সাথে নিয়ে গেলেন অরিনকে নামিয়ে দিয়ে রাজের আম্মু ও চলে গেলো।
একটু পর রাজ ও ক্যাম্পাস এ গেলো
বিয়ের কথা ক্যাম্পাসে জানেনা কিন্ত যানতে কতক্ষণ!

শুনেছি “কথা কু হলে নাকি তা বাতাসের আগে আগে ঘোরে”
যদিওবা কু না এই বিয়ে কিন্তু
ওদের বিয়েতে কিন্তু কথাটা অবশ্যই আছে।!
ক্লাসশেষ হলেও রাজ ক্যাম্পাসেই ওয়েট করেঅরিনের ক্লাস শেষ হওয়া অবধি
তারপর এক সাথে দুজন বাসায় ফেরে রাজের কাছে এর চেয়ে রোমান্টিক মোমেন্ট আর কি হতে পারে!

রাজ রিক্সা ওয়ালাকে সব সময় বলতো তাড়াতাড়ি যান কিন্তু আজ বলছে।

ভাই ধীরে ধীরে যানকোনো সমস্যা নেই।
ইস উত্তম কুমার আর সুচিত্রা সেনের কথা মনে পড়ছে
” এই পথ যদিনা শেষ হয় তবেঁ কেমন হতো তুমি বলতো “!

কিন্ত অরিন বিষয়টা বুঝতে পেরে রিক্সা ওয়ালাকে বললো
ভাই আপনি একটু তাড়াতাড়ি যান আমার বাসায় কাজ আছে।
রাজ আর কিছুই বললো না চুপচাপ বসে রইলো।
আস্তে আস্তে এই বিয়ের কথা

সবার মাঝেই জানাজানি হয়ে গেলো!
ক্যানো যেনো রাস্তাঘাট এ চলতে গেলে সবাই এখন আড় চোখে তাকায়!

ক্যাম্পাসের টিচার্স রুমে বসলে এখন কেমন যেনো অস্বস্তি লাগে অরিনের দুই একজন কংগ্রাচুলেট করলেও বেশির ভাগই একটু বাজিয়ে কথা বলাটা বাদ দ্যায়নি!
রাস্তাঘাট এ চলাচলকারী পথচারী রাও কিভাবে যেনো তাকায় মনে হয় কতবড় অপরাধ আমি করে ফেলেছি!
সেই বাজে লোক গুলা জেল ছাড়া পাবার পর রাস্তার পাশেই থাকে
তারাও কথা শোনাতে ভুল করেনা”
পাশ দিয়ে গেলেই বলবে
“আড়ে ম্যাম, বাচ্চা মানুষ রে বিয়া করে মজা আছে নাকি!
আমাদের বললেই পারতেন!

কোন সমস্যা নেই এখনো রাজি আছি হা হা হা! “
আবার অনেক এই বলে
একজন টিচার হয়ে স্টুডেন্ট কে কিভাবে বিয়ে করলো! লজ্জা করলোনা! “
নিশ্চিত এই মহিলার চরিত্র খারাপ ছিলো! একজন বিধবা মানুষ হয়ে নিজের থেকে হাটুর বয়সী পোলারে বিয়ে করলো ক্যামনে!
এই মহিলা তো টিচার নামের কলঙ্ক!

অনেক এ তো তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দেবার পক্ষেও!
কথা গুলো শুনতে শুনতে আর ধৈর্য্যের বাধ টিকেনি
অনেক ভেজ্ঞে পড়েছে অরিন! সব সময় মন খারাপ করে থাকে

রাতে রাজ ঘুমানোর পর অরিন নামাজ শেষে যখন কাঁদছিল রাজ উঠে তার পাশে গিয়ে বসলো!
রাজ অরিনের মোনাজাত শেষ হলে যখন অরিনের কাধে হাত দিয়ে বললোআমি ও আমার পরিবার আপনার সাথেই আছি এতোটা ভেজ্ঞে পড়বেন না “
আপনি জানেন না! ভালো জিনিসের দোষ বেশি!
আপনি ভালো কাজ করেছেন এইজন্য সবাই এতো সমালোচনা করছে!
আপনি লোকের কথায় ক্যানো কান দিচ্ছেন!

আমি হইতো এক এক করে সবার মুখ বন্ধ করতে পারবোনা কিন্তু আমরা দুজন মিলে কিন্তু করতে পারি!
যদি আমরা কারো কথায় কান না দিয়ে এক সাথে চলি নিজেদের মতো
আসলে বাজ্ঞালীদের একটা মুদ্রাদোষ আছে কোন টপিক পাইলে দু দিনেই ভাইরাল হয়ে যাবে আবার ঠিক একইরকম ভাবে দু দিন পরই সেই টপিক হারিয়েও যাবে!
অবশ্য আমি চাই ওরা মনে রাখুক আমাদের ভালোবাসা কে!

আমাদের মতো যারা আছে তারা এই সমাজের ভয়েই সারাজীবন কষ্ট পায়! কিছু না করে কষ্ট পাবার চেয়ে কিছু করে কষ্ট পাওয়াই তো ভালো তাইনা?
এর মাঝেই অরিন কখন রাজ কে জড়িয়ে ধরেছে রাজ বুঝতেই পারেনি!
অরিন কাঁদছে রাজ শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো কানে কানে বললোআপনার রাজ সব সময় আপনার পাশেই আছেএতো চিন্তা আর টেনশন করে নিজের স্বাস্থের ক্ষতি করে লাভ নেই!
অরিন রাতে খায়নি আজ তার জন্য রাজ ও খায়নি!
একটু পর যখন অরিন স্বাভাবিক হলো

  • আচ্ছা আপনি এমন ক্যানো বলেন তো?
  • কেমন!
  • আপনার স্বামী না খেয়ে আছে আপনার সেদিকে খেয়ালই নাই! হুহ
  • কি? তুমি খাওনি ক্যানো!
    রাতে না খেলে শরীর খারাপ করবেনা!
  • হ্যা এই রুলস শুধু আমার জন্য প্রযোজ্য তাইনা!
  • এভাবে ক্যানো বলছো?
  • না, আপনি না খাইলে তো ওটাকে ডায়েট উপাধি দিয়া দিবেন তাইনা!
    যাকগে বেশি করে খাবার আনেন আমার অনেক খুদা লাগছে।
    অরিন মুখে পানি দিয়ে নিলো তারপর একটা প্লেটে খাবার নিয়ে আসলো রাজের জন্য
    অরিন একটু রাজ কে খাওয়ানোর পর রাজ প্লেট টা নিজের হাতে নিলো
  • আমার হাতে খেতে ইচ্ছে করছেনা! (অরিন)
  • আপনার হাতের বিষ ও ভালো লাগবে।

এখন আপনি চুপ করে বসুন আমি আপনাকে খাওয়াই দিচ্ছি।
অরিন লক্ষী মেয়ের মতো চুপচাপ খাচ্ছে অনেক বছর পর কারো হাতে খাচ্ছে!

  • তুমি তো সুন্দর করে খাওয়াইতে পারো।
  • প্রাকটিস করতেছি।
  • কিসের প্রাকটিস!
  • আমার ফিউচার জুনিয়র দের তো খাওয়াইতে হবে!
  • মানে?
  • বুঝনেন নাই! ওকে ব্যাপার না বুঝে লাভ নাই আমি বুঝলেই চলবে হুম।
    অরিন রাজের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে
    রাজ কে দেখে আস্তে আস্তে
    সমস্ত চিন্তা যেনো উরে যাচ্ছে
    মনে হয় অন্য রকম এক যাদু আছে এই চেহারার মাঝে
  • ওভাবে কি দেখছেন! (রাজ)
  • তোমাকে! না, মানে কিছুনাতো।
  • হুম, আচ্ছা না বললেন
    শুনেন আমি কিন্তু আর আগের মতো নাই আমি কিন্তু এখন আপনার ইয়ে হই হুম তাই ভালোবাসলে একটু নাই ভাইসেন কিন্তু, আমি আমি আবার একটু কমটম বুঝি আরকি।
  • ইয়ে মানে কি?
  • ইয়ে মানে ইয়ে!
  • আহ!
  • মানে আপনার পতিদেব!
  • আহারে আমার ইয়ে! হা হা হা।
    আচ্ছা যায়হোক কাল তো ভার্সিটি তে ফাংশন আছে তারপর একটা ১০/১৫ দিনের ছুটি আছে
    কোথাও ঘুরতে যাবেন? (অরিন)
  • নাহ, কই যাবো?
  • ক্যানো আমাদের মধুচন্দ্রিমায়!

ধুর মধুচন্দ্রিমার গুষ্ঠি! আমার বউ তো বেডের মাঝেই ইন্ডিয়া পাকিস্তান এর বডার বানাই রাখছে।
থাক দরকার নাই কোথাও যাবার হুম।

  • এসব চিন্তা না করে ঘুমাউ।
    রাজ আস্তে আস্তে বলতেছে
    হ্যা বিয়ে করে কোন গর্ধভ যে আমার মতো ঘুমাই কে জানে!
  • কিছু বললা?
  • কই! বলতেছিলাম আজকে কত তারিখ?
  • হুম। ওকে গুড নাইট
  • জ্বি ব্যাড নাইট টু মি।

পরেরদিন ক্যাম্পাসে প্রায় সব ডিপার্টমেন্ট এর স্টুডেন্ট আর টিচার রাও ছিলো রাজ সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে অনেক কথা বলল অনেকে বললো টিচার কে শুধু মা- বাবার দরজা দেওয়া যায় বিয়ে করে বউয়ের দরজা না! রাজ বললো হয়তো আপনি ঠিক বলেছেন এবার আপনি বলুন তো আপনার সব স্টুডেন্ট কি আপনাকে মানে! আপনাকে পিতার মতো মনে করে? – হ্যা মানে। (জৈনক টিচার)

  • তাহলে এক কাজ করুন ওই দুজন কে বলুন
    আজকের পর যেনো আর দুজন দুজনের সাথে রিলেশন না করে!
  • আমার কথা কি শুনবে! (টিচার)
  • ক্যানো শুনবেনা! আপনি না বাবা!

স্যার শোনেন আমি আপনাকে সন্মান করি হয়তো না হতে পারে ভুলকিন্তু আমি কখনো ওভাবে দেখিনি তাকে
হ্যা সে আমার টিচার আমি তাকে প্রচন্ড সন্মান করি আর সারাজীবন ই করবো কিন্তু আমি তাকে ভালোও বাসি।
আর এই বিয়েতে তার দোষ তো ছিলোনাসে নিজেও জানতো না এই বিয়ের কথা আপনারা প্লিজ ওনাকে ব্লেম করা বন্ধ করুন দোষ আমার আমাকে বলুন আমরা ভালো আছি ইনশাআল্লাহ ভালো থাকতে চাই জীবনের শেষ নিঃশ্বাস অবধিদোয়া করবেন আমাদের জন্য। আর প্লিজ আড় চোখে তাকানো বন্ধ করুন। “যদি কখনো কারো সাথে ভালো ব্যবহার করতে না পারেন, তার সাথে খারাপ ব্যাবহার করার অধিকার ও আপনার নেই” আশাকরি বুঝাইতে পারছি
ভালো থাকবেন সবাইতারপর অবশ্য অনেক প্রব্লেম ই কমে গেছে।

বাসার ফেরার পথে

  • রাজ?
  • হুম, বলেন।
  • কোথায় যেনো যাইতে চাইছিলা?
  • উগান্ডা!
  • আমার অবশ্য সুইজারল্যান্ড পছন্দ তবেঁ তুমি চাইলেউগান্ডা ও যাওয়া যাইতে পারে!
  • আয়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়া! আপনি রাজি!
  • হুম।
  • ইয়াহুউউউউউহহ

ইস একটা হাগ করতে মন চাইতেছে।

  • বাই দ্যা ওয়ে এটা রিক্সা! আপনি আপনার বেড রুমে নাই! হুম
  • আহ, হুম বেড হলেই বা কি! আমার কপালে কিচ্ছু নাইক্কা হুহ।
    অরিন হাসছে
  • এই যেঁ একজন কষ্ট পাচ্ছে আর আপনি হাসছেন!
  • নাহ কিছুনা!

হঠাত করে একটা প্রাইভেট কার রিক্সাটাকে ধাক্কা দিয়ে চলে গেলো!
রিক্সা উলটে গেলো রাজ কে বাঁচাতে অরিন রাজ কে জড়িয়ে ধরতেই অরিনের মাথাটা আরেকটা গাড়ির সাথে প্রচন্ড জোরে ধাক্কা খেলো
মুহূর্তেই অরিনের সমস্ত দুনিয়া অন্ধকার হয়ে গেলোতারপর কি হয়েছে অরিন জানেনা!
রাজ খুব একটা ব্যাথা পায়নি হালকা একটু কেটে গেছে রিক্সাওয়ালার হাত ভেজ্ঞে গেছে!
তাড়াতাড়ি অরিনকে হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হলো
অনেক্ষন হলো কিন্তু।


পর্ব ১৮ (শেষ পর্ব)

হঠাৎ করে একটা প্রাইভেট কার রিক্সাটাকে ধাক্কা দিয়ে চলে গেলো!
রিক্সা উলটে গেলো রাজ কে বাঁচাতে অরিন রাজ কে জড়িয়ে ধরতেই অরিনের মাথাটা আরেকটা গাড়ির সাথে প্রচন্ড জোরে ধাক্কা খেলো
মুহূর্তেই অরিনের সমস্ত দুনিয়া অন্ধকার হয়ে গেলোতারপর কি হয়েছে অরিন জানেনা!
রাজ খুব একটা ব্যাথা পায়নি হালকা একটু কেটে গেছে রিক্সাওয়ালার হাত ভেজ্ঞে গেছে!
তাড়াতাড়ি অরিনকে হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হলো অনেক্ষন হলো কিন্তু!

এখনো অরিনের জ্ঞান ফিরছেনা!
রাজের সেকি কান্না রাজের কান্না দেখে হসপিটালের সমস্ত মানুষের চোখেই পানি! একজন ডাক্তার সাধারণত এই মুহূর্তে পেসেন্ট এর পরিবার কে শান্তনা দিয়ে থাকে কিন্তু! নিজের পরিবার এর কিছু হলে নিজেকে শান্তনা দেওয়াটা সবচেয়ে কঠিন!
রাজের বাবাও কাঁদছে! রাজ তার বাবা কে জীবনের একবার ই কাঁদতে দেখেছিলো যখন ছোট থাকতে রাজের খুব জ্বর হয়েছিলো আর আজ!
রাজ ওর মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে!

  • আম্মু “আমার মায়াবতীর” কিছু হলে আমি বাচবোনা আম্মু আম্মু তাকে বলোনা প্লিজ চোখ খুলতে!
    আম্মু আমাকে বসতে বললেন!
    আমি না আজকের পর আর কিচ্ছুই চাইবোনা আমি সোফাই থাকবো আমার কোন সমস্যা নেই আম্মু তবুও প্লিজ মায়াবতী কে উঠতে বলো প্লিজ আম্মু!
    রাজ কে শান্তনা দেবার একটুও সাহস পাচ্ছেনা রাজের আম্মু তারপর ও বললো রাজকে আল্লাহ্ বলেছেন যখন ই কোন বিপদে পড়বে

(আমার স্বরণ করো আমি তোমাদের সাহায্য করবো)
তুই আল্লাহ্ কে ডাকঅজু করে দুই রাকাত সালাতুল হাজত নামাজ পড়!
ইনশাআল্লাহ অরিন ভালো হয়ে যাবে, জ্বি আম্মু আমি এখনি যাচ্ছি
রাজ অজু করে নামাজ পড়েছে
নামাজ শেষে মোনাজাত এ সেকি কান্না!

মনে হয় ওর কান্নায় সমস্ত মাখলুকাত কাঁদছে!
হঠাত করেই চারদিকে অন্ধকার হয়ে ঝুম বৃষ্টি শুরু হলো!
মহান আল্লাহ্ তায়ালা যে সমস্ত সময় মানুষ এর দোয়া কবুল করেন তার মাঝে এই বৃষ্টি একটা!
বৃষ্টির সময় দোয়া করলে সেই দোয়া কবুল হয়।
পুরো হসপিটাল যেনো নিশ্চুপ হয়ে আছে

রাজ কেদেই যাচ্ছে!
একটুপর আল্লাহ্ তায়ালার অশেষ রহমতে অরিনের জ্ঞান ফিরলো!
হইতো রাজের পবিত্র ভালোবাসা, আর রাজের আকুতি আল্লাহ্ তায়ালার নিকট পছন্দ হয়েছিলো।
রাজ খবর টা শুনেই আল্লাহ্ তায়ালার শুকরিয়া আদায় স্বরুপ আর ও দুই রাকাত শুকরিয়া নামাজ পড়ে নিয়ে
অরিনের কাছে গেলো

  • রাজ তুমি ঠিক আছো? তোমার কিছু হয়নি তো! (অরিন)
    রাজ এই প্রশ্নের উত্তর আর দিতে পারলোনা অরিন কে জড়িয়ে আবার কান্না শুরু করে দিলো!
  • বলুন তো এতো ক্যানো ভালোবাসেন হুম! আমার জন্য নিজের মৃত্যু কে আলিজ্ঞন করতে যাচ্ছিলেন!
    একবার ও মনে হলোনা আপনাকে ছাড়া আমি কিভাবে বাচবো!
    পরিবার এর প্রতিটা মানুষের নিঃশ্বাস যেনো আটকে ছিলো
    সবাই এবার একটা শান্তির দীর্ঘশ্বাস ফেললো
  • এই রাজ! (অরিন)
  • হুম।
  • সবাই দেখছে ছাড়ো!
  • দেখুক, আমার যায় আসেনা হুহ।
  • পাগল একটা!
    মাথাটা ঝিম ঝিম করছে ক্যানো যেনো! উফফ
  • ভাবী দ্যাখো মাথা নাকি ঝিম ঝিম করছে! (রাজ)
  • রাজ এবার ওকে ছাড়ো ওকে একটু ঘুমাইতে দাও খুব জোরে লাগছে তো তাই এমন হচ্ছে প্রচুর ব্লিডিং হবার জন্য এতো দূর্বলতা, আর তুমিও একটু রেস্ট নাও(নিকিতা)
  • না ভাবী, আমি এখানেই থাকবো কোথাও যাবোনা আমার ভয় লাগে! (রাজ)

রাতে সবাই চলে গেলো বাসায় রাজ সবাইকে যাইতে বলছে। সবাই যাবার পর।

  • এই রাজ একটু ঘুমাও তুমি
    এভাবে থাকলে অসুস্থত হয়ে যাইবা।
  • না আপনি ঘুমান আমি আপনাকে দেখবো।
  • পাগলামো বাদ দিয়ে আমার বেডেই শুইতে পারো।
  • সত্যি!
  • হুম আমি মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি আসো ঘুমাও।

রাজ বাচ্চা ছেলের মতো চুপটি করে শুয়ে আছে অরিন মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে, রাজ কখন ঘুমিয়ে গেছে ও জানেনাযখন ঘুম ভাংলো তখন দেখলো
একদম ছোট বাচ্চাকে জড়িয়ে ধরে যেমন ঘুমায় ঠিক সেইরকম অরিন ওকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছে!
মায়াবতী কে দেখে মনে হচ্ছে সমস্ত সুখ যেনো তার বাহুডোর এ আবদ্ধ!
কোন চিন্তাভাবনা নেই!
এই ফেসটার জন্য হাজারবার মরতে রাজি!
ভালোবাসি আপনাকে মায়াবতী অনেক ভালোবাসি।
রাজ অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার মায়াবতীর দিকে এমন সময় অরিনের ঘুম ভাংলো!

দুজন দুজনের চোখের দিকে তাকিয়ে আছে
এতোটা কাছাকাছি হয়তো আগে আসেনি তারা
এমন সময় নিকিতা আসলো

  • একটা কাশি দিয়ে Good Morning! ডিস্টার্ব করলাম নাতো!
    অরিন দ্রুত রাজের উপর রাখা হাতটা সড়িয়ে নিয়ে
    আপু Good Morning আসো
    রাজ উঠে বসলো।
    Good Morning ভাবী জ্বি।

কি আনছো?

  • দ্যাখো কি আনলাম।
  • ওয়াও ভুনাখিচুড়ি! ধন্যবাদ সুইট ভাবী খুধা লাগছিলো অনেক।
  • তোমার খুধা ও লাগে! হুম! (নিকি)
  • অবশ্য লাগে নাই তাও আনছো যখন নষ্ট করে কি হবে?
    খেয়ে নিই।
  • ব্যাপার নাহ তোমার খুধা না লাগলে আর ও মানুষ আছে দাও নিয়ে যাই! (নিকিতা)
  • এইডা কিন্তু ঠিক না ভাবী হুহ!
  • কোনটা!
  • কাওকে খাবার দিয়ে আবার ফিরিয়ে নেওয়া!
    দুজনের কান্ড দেখে অরিন হাসছে!
  • হুম বুঝছিযায়হোক।
    অরিন এখন কেমন আছো?
  • এইতো আপু আলহামদুলিল্লাহ্‌ ভালো।
  • ব্যাথা কমেছে!
  • আছে হালকা তবেঁ খুব না।
  • আচ্ছা, খিচুড়ি ভুনা রাজের খুব পছন্দ আর শুনেছি তোমার ও, তাই দুজনের জন্যই আনলাম।
    রাজ তাড়াতাড়ি শেষ করোআমি অরিন কে খাওয়াচ্ছি।
  • ভাবী তোমারে লাগবেনা তুমি যাও বাকি রুগীদের দেখে আসো।
  • তাইনাকি! আমাকে বের করে দেবার ভালোই প্লান করেছো হুম! বুঝি বুঝি সব বুঝি ওকে যাচ্ছি। (নিকি)
  • আড়ে আপু, রাজ না বলে তুমি থাকো।
  • না গোঁ, এইখান এ থাকলে তোমার বর মন খারাপ করে থাকবে। তারচেয়ে বরং তুমি তার হাতেই খাও এটাই বেটার
    কথা গুলো বলে নিকিতা মুচকি হেসে চলে গেলো!
  • আচ্ছা রাজ, আপুকে এভাবে বলার কি দরকার ছিলো!
  • সে আপনি বুঝবেন না
    আমি খাওয়াই দেই আপনি খেয়ে নিন মেডিসিন গুলাও তো খাওয়া লাগবে নিয়মিত না হলে তাড়াতাড়ি সুস্থ হবেন কি করে!
    প্রায় ৮/১০ দিন হসপিটালে থাকতে হলো অরিন কে

এভাবেই ছোট খাটো খুনসুটি চলতে থাকলো!
এখন অনেকটাই কাছাকাছি থাকে তারা আগের মতো অরিন চুপচাপ থাকেনা।
বাসায় ফেরার পর রাজ বেডের মাঝ বরাবর কাপড় টানাচ্ছে

  • কি করছো রাজ? (অরিন)
  • এইতো আমাদের ইন্ডিয়া পাকিস্তান এর বডার টানাচ্ছি!
  • অবশ্য না টানালেও হয়!
  • আয়ায়ায়া কিছু বললেন!
  • বললাম যেঁ, আমরা without বডার থাকতে পারি আরকি।
  • আপনি ঠিক আছেন তো!
    না মানে! আমার কানে কোথাও প্রব্লেম হইছে নাকি!
    ইদানীং উলটা পালটা শুনতেছি মনে হচ্ছে!
  • এতো ভনিতা করার কি আছে! যা ইচ্ছে করো যাও
  • প্লিজ রাগ করবেন না!
    এইযে বডার ফালাই দিলাম।
    ওহ ও ভুলেই গেসিলাম তোমাকে বাবা ডাকছে যাও শুনে আসো কি বলে।
  • ওকে যাচ্ছি।
    রাজ যাবার পর অরিন ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে পড়লো!
    ক্যানো যেনো সাজতে খুব ইচ্ছে করছে রাজের জন্য!

সে যায় হোক আমার হাজবেন্ড ওর হক আদায় করা একজন স্ত্রী হিসেবে আমার কর্তব্য!
আর, আমিও তো ভালো বাসি ওকে এমন তো নয় যে বাসিনা যদিও বিয়েটা অন্যরকম ভাবে হয়েছে আমার ও তো ওই বিয়েতে ইচ্ছে ছিলোনা তাহলে মাঝখান থেকে রাজ কে কষ্ট দিয়ে আমার লাভ কি!
তাই আমি একটা ডিসিশন নিয়েছি!

রাজ যদি কখনো কিছু চায় আমার থেকে আমি বাধা দিবোনা ওকে!
অরিন সুন্দর করে হালকা করে সাজলো।
একটুপর রাজ আসলো
আসলে মায়াবতী বাবা এমনেই ডাকছেওয়াও!
হেব্বি সুন্দর লাগছে আপনাকে!

  • তাই বুঝি?
  • হুম, যা লাগছেনা উফফ!
  • রাজ!
  • হুম।
  • ছাদে যাবা?
  • চলুন।
    যাবার পর
  • জানো, রাজ রাতে ছাদে বসে চাঁদ দেখাটা আমার খুব প্রিয় একটা জিনিস আগে সব সময় দেখতাম যখনই চাঁদ উঠতো কিন্তু বিয়ের পর!
    রাজ বুঝতে পারতেছে এখন মুড অফ হয়ে যাবে তাই অরিনের মুখের কথা কেড়ে নিয়ে বললো
    জানেন আমি কখনো রাতে ছাদে আসিনা!
  • ক্যানো!
  • শুনেছি পরীরা নাকি রাতে ঘোরাঘুরি করে, সুন্দর ছেলে দেখলে উঠিয়ে নিয়ে যায়! সেই ভয়ে আসিনা
    রাজের কথা শুনে অরিন হাসতে হাসতে শেষ!
    অবশ্য রাজ এই হাসিটার জন্যই কথাটা বলেছে
  • রাজ, ভালোইতো হইতো বলো পরী বউ পাইতা!
    পরীরে বিয়ে করে ওখানেই সেটেল হয়ে যাইতা!
  • হুম, সবাই পরী বউ খুঁজে কিন্তু আমার তো হুরপরী আছে আমি শুধু পরী দিয়ে কি করবো?
  • মানে!
  • মানে, আমার মায়াবতীর সাথে কারো তুলনা হয় না।
    অরিন একটু লজ্জা পেয়ে চুপ হয়ে গেলো
    রাজ আস্তে আস্তে অরিনের খুব কাছে এসে অরিনের হাতটা নিজের হাতের মধ্যে নিলো
    অরিন একটুও বাধা দ্যায়নি।
  • জানেন মায়াবতী, আমার ও স্বপ্ন ছিলো আমার ভালোবাসার মানুষটির হাতে হাত রেখে দুজনে হারিয়ে যাবো স্বপ্নের রাজ্যে,
    আর আল্লাহ্ তায়ালার কাছে চাইবো সেই স্বপ্নের কখনো অন্তিম মুহূর্ত না আসুক!
    আমার প্রিয় মানুষ টা আমার কাধে মাথা রেখে চাদের আলোয় নিজেকে উদ্ভাসিত করুক!
    অরিন রাজের কথা শুনে মাথাটা রাজের কাধে রাখলো!
  • আজকে নিজেকে এই দুনিয়ার সবচেয়ে সুখী মানুষ মনে হচ্ছে! আলহামদুলিল্লাহ্।
    আপনি চাইলে শাহ্ জাহানের মতো তাজমহল বানিয়ে দিবো, আপনি চাইলে ওই সুন্দর চাঁদ আপনাকে এনে দিবো আপনি চাইলে পংখীরাজে করে তেপান্তর এ ঘুরতে নিয়ে যাবো!

আপনি চাইলে সমস্ত জোনাকিপোকা দিয়ে আপনার ঘরটা আলোকিত করে দিবো!
আপনি চাইলে সমস্ত ফুল দিয়ে
আপনার চার পাশ রাজ্ঞিয়ে দিবো!
আপনি চাইলেসমস্ত তারকারাজি আপনার পায়ে লুটিয়ে দিবো!
এতোক্ষণ আমি যা কিছুই বলেছি সমস্ত অবান্তর কথা আমি এসব কিছুই করতে পারবোনা!
মিথ্যে আশ্বাস দিয়ে ভালোবাসা টিকেনা কিন্তু একটা কথা আমি আপনাকে নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসবো!

আপনার প্রতিটা চাওয়া পাওয়া নিজের সর্বশক্তি দিয়ে আমি সাধ্যের মদ্ধ্যে হলে তার পূরণ করার চেষ্টা করবো আপনি কি তাতে আমার সাথে চলতে রাজি আছেন?

  • হুম, আমিও চাইনা অবান্তর কিছু, যেমন আছো তেমন ই থাকলেই হবে!
  • এইভাবে হাত ধরে কাধে কাধ রেখে যদি থাকি! সকালে সবাই দেখলে কি ভাববে! এইভাবে থাকা কি যাবে!
  • পাজি ছেলে কোথাকার যাও।
    দুজনেই হাসছে!

এভাবেই চলছিলো দুজের ভালোবাসা
আশে পাশের অনেক এ আর কিছু বললেও অরিন আর ওসবের ধার ধারেনা!
সুখেই আছে সবাই কিন্তু রাজ যেনো কেমন হয়ে যাচ্ছে দিন দিন!
ভুলে যাচ্ছে সব অরিনের জন্মদিন টাও ভুলে গেছে রাজ!
অরিন যখনই চাইছে খুব কাছাকাছি থাকুক দুজনে
রাজ ফ্রেন্ডস দের নিয়ে ব্যস্ত!

রাতে ঠিক কখন বাসায় ফেরে সেদিকে ওর খেয়ালই নেই!
ইদানীং বেশ মন খারাপ থাকে এসব নিয়ে অরিনের!
বিষয় টা রাজের আম্মুর চোখ এড়াইনি
অরিন কে নিজের রুমে ডেকে নিলেন

  • অরিন মা তুমি ঠিক আছো তো?
  • জ্বি, মা। আমি ঠিক আছি।
  • ক্যানো যেনো মনে হচ্ছে তোমার মন খারাপ!
  • কই মা! সেরকম কিছু না!
  • মা! আমি বুঝি আমি জানি তুমি যথেষ্ট বুদ্ধিমতী একটা মেয়ে, সব সময় নিজের খারাপ লাগা গুলো গোপন রাখো।
    একটা কথা কি মাএকটা মেয়ে ছোট থেকেই ম্যাচিউরিড হয় কিন্তু একটা ছেলের ম্যাচিউরিটি পাইতে অনেক সময় লাগে!
    মা, ওকে মানানোর দায়িত্ব টা তোমার হাতে, এই বয়সে ওইরকম হয় ওকে ওর দায়িত্ববোধ শিখানোর দায়িত্ব তোমার কাধে!
    এমন কিছু করো যাতে ও ওর দায়িত্বপালন করতে আর পিছপা না হয়।
  • জ্বি মাআমি চেষ্টা করবো।

সেদিন রাতে অরিন খুব সুন্দর করে সাজলো
অপেক্ষারত অনেক্ষন কিন্তু
রাধার কৃষ্ণ তার বন্ধুদের নিয়ে ব্যস্ত!
অরিন অনেক ফোন দিলো কিন্তু রাজ ফোন রিসিভ ও করেনি!
অরিন এর খুব কান্না পাচ্ছে!

রাজ আসলো রাত আড়াইটার দিকে অরিন চুপ করে শুয়ে আছেরাজ এসে অবশ্য দু একবার ডাকছে কিন্তু! অরিন কিছু বলেনি!
পরেরদিন খুব সকালে রাজ উঠার আগেই, অরিন ওদের বাসায় চলে গেছে এটা অবশ্য রাজের আম্মু দেখেছে কিন্তু কিছু বলেনি।
রাজ ঘুম থেকে উঠে তার মায়াবতী কে খুঁজছে ভাবছে হয়তো কিচেনে কিন্তু! পুরো বাড়ি খুঁজে কোথাও পেলোনা!

  • আম্মু তোমার ছোট ছেলের বউ কই!
  • আমি কি করে জানবো! তোর বউ কই! তুই জানিস না?
  • না! রাতে তো রুমেই ছিলো!
    সকাল থেকেই নেই!
  • বিয়ে করলেই কি দায়িত্ব শেষ! তার ভরণ পোষণ এর কথা বাদ ই দিলাম
    তার কি অন্য চাওয়া পাওয়া থাকতে পারেনা!
  • আম্মু এভাবে ক্যানো কথা বলছো!
  • আর কিভাবে শুনতে চাস! হুম? বাড়িতে বউ থাকতে রাত দুইটা তিনটে অবধি বাহিরে থাকার কোন কারন আমি খুঁজেছ পাইনা!
    হ্যা দু- একদিন হতে পারে কিন্তু রোজ রোজ একি রকম হলে! কিভাবে চলবে!
  • আম্মু আমিতো তাকে ভালোবাসি!
  • রাখ তোর ভালোবাসা!

মুখে বললেই হয় নাকি!
তার জন্মদিন কয় তারিখ ছিলো তুই জানিস!
একবার ও তাকে উইশ ও করিস নাই! আর তোর জন্মদিনে সে সারারাত জেগে থাকে!
তোকে ফোন দিলে তোর তার ফোন রিসিভ করার ও টাইম থাকেনা! কি কাজ করিস তুই?

  • আম্মু মায়াবতী কই?
  • বললাম না জানিনা!
  • থাক তোমার বলা লাগবে নাা আমার বউরে আমিই খুঁজে নিবো।
    রাজ অনেক খুঁজে অরিন দের বাসায় আসলো
    এসে দ্যাখে অরিন বেলকুনিতে বসে আছে চোখ দুটো লাল হয়ে আছে!
  • আপনি কেঁদেছেন?
  • নাহ, তুমি এখানে!
  • আমাকে না বলে চলে আসলেন ক্যানো!
  • তুমি ঘুমোচ্ছিলে।
  • এইযে কান ধরলাম!

সরি যতক্ষণ না মাফ করে দিবেন আমি উঠ বস করতে থাকবোহুম

  • আমি তোমার সাথে ক্যানো রাগ করবো?
  • আমি জানিনা, ভুল তো করেছি আরেকটা চান্স দিন না প্লিজ আর ভুল হবেনা কান ধরেছি।

১২৩৪৫৬৭৮৯
১০বারের বেলায় অরিন রাজ কে জড়িয়ে ধরে কেদে দিলো!

  • I am really sorry আর কখনো কষ্ট দিবোনা আপনি যা যা বলবেন তাই শুনবো।
    রাত ১০ টার পর আর কখনো বাহিরেও থাকবোনা! আর ভুল করেও আপনার বার্থডে ভুলে যাবোনা।
  • পাগল একটা হা হা হা!
    চলুন না বাসায় যাই?
  • খেয়ে তারপর চলো।

কিছুদিন পর……….

  • এই রাজ কি করছো?
  • জ্বি ম্যাম কয়েকদিন পর এক্সাম আমার, তার পিপারেশন নিচ্ছি।
  • হুম, গুড বয়।
    যায়হোক এই মিষ্টি টা খেয়ে নাও।
  • আমার তো এই মিস্টি চাইনা!
  • তাহলে!
  • যা চাইবো দিবেন?
  • হুম, চেয়েই দ্যাখো না
  • সত্যিই তো, বলি তাহলে?

রাজ আস্তে আস্তে অরিনের খুব কাছে চলে আসছে অরিনের নিঃশ্বাস ভারী হয়ে যাচ্ছে।

  • হ্যাহ বলো কি?
  • একটা লিপলক! এর চেয়ে বেশি মিষ্টি আল্লাহ্ দুনিয়ায় বানায় নাই। আমার ওইটা চায়!
  • না, মানে! আমার কাজ আছে রাজ! আমি আসি?
  • কোন ফাঁকিবাজি তো চলবেনা বউ! আগেই অনুমিত নিয়া নিছি।
    অরিনের সমস্ত শরীর শিথিল হয়ে গেছে। রাজ কে বাধা দেবার আর শক্তি নেই তার।
    অবশেষ এ মায়াবতী ধরা দিয়েছে রাজের বাহুডোর এ!

এভাবেই সুখে শান্তিতে চলে যাচ্ছে এই দুষ্টু মিষ্টি ভালোবাসা।
মোস্টলি ভালোবাসায় কখনো বয়স বাধা হতে পারেনা।
ভালোবাসা তো শুধু দুটি দেহের না! ভালোবাসা দুটি মনের।
ভালো থাকুক সমস্ত ভালোবাসা।

লেখা – নীলার আব্বু

সমাপ্ত

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “ম্যাডামের সাথে প্রেম – লোভনীয় ভালবাসার গল্প” টি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ। )

আরো পড়ূন – অভিনয় – অসহায় ভালোবাসার গল্প