স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প

যদি তুমি জানতে (শেষ খণ্ড) – বাংলা প্রেমের গল্প কাহিনী

যদি তুমি জানতে (শেষ খণ্ড) – বাংলা প্রেমের গল্প কাহিনী: আমি নিচে নামছিলাম আর নেভা আমাকে উপর থেকে ডাকছিলো। আমি ওর ডাক শুনেও না শুনার ভান ধরে জলদি সিড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে শাড়ির সাথে পা লেগে পড়ে যেতাম এমন সময় আমাকে নিভরাজ ধরে ফেলে।


পর্ব ১২

প্রচন্ড পিপাসায় আমার গলাটা শুকিয়ে কাট হয়ে গেছে।
পাশের টেবিলে জগ রাখা ছিলো কিন্তু সেটা খালি।
যাই কিচেন থেকে গিয়ে পানি খেয়ে আসি।
পা টিপে টিপে কিচেনে গেলাম।
এবাড়ির সব কিছু আমার জানা।তবে নিভরাজের রুম ছাড়া। ওটা লকড ছিলো যেটা ওর পারসোনাল বেড রুম।
মানে যেটা আপুনির হবার কথা ছিলো।
ঐ রুমে নাকি কাউকে ঢুকতে দেয়নি।

ফ্রিজ খুলে পানির বোতল নিলাম। ফকঢক করে কয়েক দফা পানি পান করলাম।
হঠাৎ কারো হাটার শব্দ পেয়ে আমি প্রচন্ড ভয় পেয়ে যায়।
এত রাতে কে হতে পারে।
কোনো চোর টোর নয়তো।
ওরে আল্লাহ চোর হলে তো আমায় দেখলে মেরে ফেলবে।

তাদের হাতে চাকু।বটি। দা এসব থাকে।
আর এমনিতে সবাই জানে আজ বাদে কাল নেভার বিয়ে।
বিয়ে বাড়ি প্রচুর জুয়েলারী পাবে সেই আশায় চোর চুরি করতে এসেছে।
আর সেদিনই তো আন্টি আংকেল। নেভা। তাওহীদ আর আমি সহ গিয়ে অনেক জুয়েলারী সেট কিনে আনলাম নেভার জন্যে।
ওরে বাবা এসব চুরি হয়ে গেলে কি হবে।
আমার খুব ভয় করছে।

তারাতারি পানির বোতলটা রেখে ফ্রিজ বন্ধ করে ফ্রিজের পাশেই লুকিয়ে গেলাম।

পাশ থেকে রুটি বানানোর বেলুনীটা নিলাম।
চোরের মাথা আজ ফাটিয়ে দিবো।
আমি চুপচাপ হয়ে আগান্তুক চোরের অপেক্ষা করছি।
হাটার শব্দটা অনেকটা ফ্রিজের কাছাকাছি এলো।
হল রুমের লাইটের হালকা আলোয় যে ছায়াটা দেখা যাচ্ছে একটা পুরুষের।
হাতে কি যেনো।

দেখে মনে হচ্ছে চাকু টাকু হবে।
আমি চুপিচুপি বেলুনীটা উপরে উঠিয়ে যেই না মারতে যাবো অমনি সে আমাকে এক টানে হাত পেছনের দিকে নিয়ে তার সামনে বরাবর পেছিয়ে ধরলো।
আর সাথে সাথে আমার হাত থেকে বেলুনীটা নীচে পড়ে গেলো।

আমাকে এভাবে ধরাতে আমি ব্যাথা পাচ্ছিলাম হাতে।তার একহাত আমাকে পেছিয়ে আমার কোমড়ে আর এক হাতে আমার মুখ চেপে ধরেছে।
আমি শুধু ওমমম ওমমম করে চিৎকার করার চেষ্টা করছি।
কিন্তু ব্যর্থ হচ্ছি বারবার।
পা দিয়ে চোরটার পায়ে জোরে আঘাত করতেই সে আহহহ করে আমার মুখ থেকে হাত সরিয়ে নিলে আমি সাথে সাথে জোরে অনেক জোরে একটা চিৎকার দিলাম।

আমার চিৎকারে সবাই কিচেনে চলে এলো।
নেভা কিচেনের লাইট জ্বালালে সে আমায় ছেড়ে দেয়।
আর আমি তাকে দেখে খুব অবাক হয়ে যায়।
সেও আমাকে দেখে চোখ বড় বড় করে বলে।
তুমি।

আন্টি আংকেল ঘুম ঘুম ভরা চোখে।
কিরে কি হলো।
নিভরাজ মা আমার খুব ক্ষুধা লেগেছিলো।
তাই ফ্রিজ থেকে আপেল নিতে আসলাম।
পাশে কাউকে লুকিয়ে থাকতে দেখে ভেবেছি চোর হবে।

নেভা: সানাত তুই কেন এসেছিস?
আমি আমতা আমতা করে।
আমি পা।পানি নিতে এসে ছিলাম।
দেখলাম কেউ আসছে।
সবাই তো ঘুম ছিলো।
ভেবেছি চোর হবে হয়তো।

তাই বলেই নিচে পড়া বেলুনীটার দিকে তাকালাম।
এবার সবাই বুঝতে পারলো।
নেভা হাসতে হাসতে খুটিখুটি হয়ে যাচ্ছে।
তাই বলে তুই ভাইয়াকে মারতে বেলুনী নিয়েছিস?

নিভরাজ কিছু না বলে ফ্রিজ থেকে আপেল নিয়ে রুমে চলে গেলো।
আংকেল আন্টিও চলে গেলো।
আর নেভা তো আমাকে আবারো পাগল বানিয়ে দিচ্ছে।

তুই শেষ পর্যন্ত আমার ভাইটাকে চোর বানিয়ে দিলি।
সানাত তুই কি বল তো।
আমার তো হাসতে হাসতে মরে যেতে ইচ্ছে করছে।
এটা ভাইয়ার অভ্যেস।
মধ্যরাতে কিছু খাওয়া।
যাই হোক এবার ঘুমাতে চল।

বললেই হলো আমার কি আর ঘুম আসবে।
প্রিয় মানুষটার এত স্পর্শ পেলে কি ঠিক থাকা যায়।
অনেক গুলো ভাবনা আমাকে ঘিরে রেখেছে।
আর সেই ভাবনার মধ্যে আমি কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি জানিনা।
সকাল থেকে পুরো বাড়ি জুড়ে ব্যস্ততা।
এটা করা ওটা করা।
গেস্ট এসে ভর্তি হয়ে গেছে।

আমি নেভা।আনিক আর নেভা আরো কয়েকটা কাজিন সহ খুব মজা করছি।
মাঝে মাঝে আন্টির কাছে গিয়ে জিঙ্গেস করছি কিছু করতে হবে?
কিন্তু আন্টি আমায় কিছু্ করতে দিচ্ছে না।
বলে। যাও ইনজয় করো।

শাওয়ারটা সেরে দুপুরের দিকে ঠিক লাঞ্চের আগে আমি রেডি হয়ে নেভার জন্যে ওয়েট করি।
আন্টি যে আকাশী কালারের শাড়ি দিয়েছিলো সেটা পড়েছি।
চোখে গাড় করে কাজল দিয়েছি।
হাত ভর্তি আকাশী আর সাদা রংয়ের কাঁচের চুড়ি পড়েছি।

নেভাকে কোথাও দেখছি না যে।
আনিকা রুমে এলে ওর কাছে জিঙ্গেস করলাম নেভা কোথায়?
কিন্তু ও হা করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
সানাত এটা তুই কি পড়েছিস।

আমি শাড়ি ঠিক করতে করতে।
কেন রে কি হয়েছে।
ভাল্লাগছে না বুঝি।
চেইন্জ করে ফেলি?

আনিকা আরে নাহ।
তোকে খুব সুন্দর লাগছে।
আজ তোকে নিভরাজ দেখলে না একদম পাগল হয়ে যাবে।
নিশ্চয় ওর মাথাটা খারাপ করার জন্যেই এটা পড়েছিস তাইনা।?
দুষ্টুমির হাসি হেসে।

আমি লাজুক ভঙ্গিতে।
আরেহ না।
এটা আন্টি দিয়েছে আজকে পড়ার জন্যে তাই পড়েছি।
আচ্ছা নেভাকে দেখেছিস?
ওকে অনেক্ষণ হলো দেখছি না।

আনিকা একটু ভেবে বললো,
হ্যা দেখেছি।
নিভরাজের রুমে যেতে দেখেছিলাম।
নয়তো আন্টির রুমে হবে হয়তো।

আমি আচ্ছা। ধন্যবাদ তোকে।
আন্টির রুমে নেভাকে পেলাম না।
নিভরাজের রুম ক্রস করে যেতেই হাসাহাসির শব্দ শুনতে পেলাম।
আমি আড়াল থেকে উকি মেরে দেখছি।

নিভরাজ ফোনে ভিডিও কলে কোনো একটা মেয়ের সাথে খুব হেসে হেসে কথা বলছে।
পাশে নেভাও আছে।
নিভরাজ এভাবে হেসে হেসে মেয়েটার সাথে কথা বলছে যেনো মনে হয় ওর অনেক ক্লোজ হবে।
নেভা দুষ্টুমি করে করে ভাবী। ভাবী করছে।

আর মেয়েটা লাজুক ভঙ্গিতে হাসছে।
সাথে নিভরাজ ও।
নিভরাজ: হেই বেবি দেকেছে।
তোমার ননদ টাও চাই যে তুমিই ওর ভাবী হও।
কি রাজি তো।
তোমাকেই কিন্তু ভাবী হতে হবে।

হুম বলে দিলাম।
মাইন্ড ইট বেবি।
নিভরাজ চোখ টিপ মেরে হাসছে আর নেভা সাথে মেয়েটাও।
ইয়েস বেবস বলে মুচকি মুচকি হাসছে মেয়েটা।

আমার বুকে চিন চিন ব্যাথা করছে কেনো।
খুব অসহ্য যন্ত্রনা হচ্ছে বুকের ভেতরটাই।
চোখ দিয়ে পানি আসছে অনবরত।
তার মানে নিভরাজের গার্লফ্রেন্ড।
মানে নিভরাজ তাকে বিয়ে করবে।

নেভা সব জেনেও আমাকে কিছু বলেনি।
খুব বেশি কষ্ট লাগছে আমার।
আমি আর এক মুহূর্তও দাড়ালাম না।নেভার রুমের দিকে যেতেই আন্টির সামনে পড়লাম।

আন্টি আমাকে উপর থেকে নীচ পর্যন্ত দেখে বললো,মাশাআল্লাহ।
তোমাকে তো শাড়িতে বেশ মানিয়েছে।
এবার ঠিক লাগছে আমার বাড়ির বউয়ের মতো।
কি হলো সানাত তোমার কি মন খারাপ।

আমি লুকিয়ে চোখের পানি মুচে।
ক।কই নাতো।
এমনিতে।
নেভার জন্যে খারাপ লাগছে।
নেভার রুমে গিয়ে বিছানার উপর বসে কাঁদতে লাগলাম আমি।
নিভরাজ আমাকে ভালোবাসতে পারেনি।
কিন্তু আমি যে ওকে অনেক ভালোবাসি।

কারণে অকারণে।কেনো জানিনা।
শুধু জানি নিভরাজকে ভালোবাসি। নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসি।
আনিকা রুমে মেকাপ করছিলো।
আমাকে কাদতে দেখে ও ছুটে এলো।
কি হয়েছে সানাত।
তুই কাদছিস কেনো?
কেউ কিছু বলেছে।

আমি আনিকাকে জড়িয়ে আরো কাদলাম।
আনিকা আমি মরে যাবো রে।
আমি বাচতে চাই না।
আমার সব শেষ হয়ে গেছে।

আনিকা কিচ্ছু বুঝতে পারছে না।
সানাত হয়েছে টা কি বলবি তো নাকি।
বললে তো বুঝবো আমি।
নেভাও রুমে এলে আমাকে এভাবে দেখে জিঙ্গেস করে কারণ কি।
কিন্তু আমি কিচ্ছু বলিনি।

ওর সাথে সন্ধ্যে অব্দি আমি একটা কথাও বলিনি।
সারাক্ষণ আন্টির পাশাপাশি ছিলাম।
কিন্তু নেভা বারবার আমাকে ডাকছিলো।
কথা বলার চেষ্টা করছিলো।

আমি নিচে নামছিলাম আর নেভা আমাকে উপর থেকে ডাকছিলো। আমি ওর ডাক শুনেও না শুনার ভান ধরে জলদি সিড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে শাড়ির সাথে পা লেগে পড়ে যেতাম এমন সময় আমাকে নিভরাজ ধরে ফেলে।

নয়তো আমি সোজা নিচে পড়ে যেতাম আর মাথা বা কোমড় কিছু একটাতো যেতো।
নিভরাজ আমার চোখের দিকে তাকিয়ে আছে।
তাকিয়ে তো থাকবেই তখন যে কেদেছিলাম কাজল লেপ্টে ভুতের মতো দেখাচ্ছে।
মুহূূতেই মনে পড়ে গেলো তার বেবির কথা।
আমি নিজেকে সামলে নিয়ে নিভরাজের পাশ কাটিয়ে চলে এলাম।

বাসায় যেতে হবে আমার জুয়েলারীর সেটটা আনতে।
আন্টি বলেছে সেটা পরার জন্যে।
কিন্তু সেটা তো বাসায় আমার ডেস্কে রেখে লক করে চাবি নিয়ে এসেছি।
আর বাসা তো অনেক দূরে না।

তাই আনিকাকে নিয়ে আন্টিকে বলে বাইরে বের হতেই দেখি ড্রাইভার গাড়ির ডোর খুলে দিলো।
আন্টি বলেছে আমাদের বাসায় দিয়ে আসতে আর নিয়েও আসতে।
গাড়ি বসলাম।
ড্রাইভার গাড়ি স্টার্ট দিচ্ছিলো বাট গাড়ি স্টার্ট নিচ্ছেনা।
আমি আনিকাকে বললাম চল হেটে হেটেই চলে যায় বেশি তো দূরে নয়।

যখন গাড়ি থেকে বের হয়ে ডোর অফ করে একপা দুপা বাড়ালাম অমনি গাড়ির ডোরের চিপায় আমার শাড়ির আচল চাপা পড়ে ছিলো আমি খেয়াল করিনি।
আর শাড়ি ব্লাউজ সহ খানিকটা ছিড়ে গেলো ফরফর করে।

শাড়ির আচল যে ব্লাউজের সাথে পিনআপ করা ছিলো তাই।
ড্রাইভার দৌড়ে এসে ডোর অপেন করে দিলো।
আশে পাশে তেমন কোনে মানুষ না থাকলেও অনেক ছেলে ছিলো যারা আমাকে ড্যাবড্যাব করে দেখছে আর কেউ কেউ হাসছে।

কিন্তু কেউ এগিয়ে আসছে না।
আমি তৎক্ষণাৎ নিচে জড়ো হয়ে বসে কান্না করছি।
আর আনিকাও শাড়ি পড়াতে আমায় কিছু দিতে পারছে না।
হঠাৎ একপাশ থেকে নিভরাজ এসে তার কোট খুলে আমার গায়ে জড়িয়ে দিলো।
আনিকা তোমরা এখানে কি করছো সবাই ভেতরে আর তোমরা এখানে?

ভাইয়া আমরা সানাতের বাসায় যাচ্ছি কাজে।
হঠাৎ এমনটা হবে বুঝতে পারিনি।
নিভরাজ আমাদের গাড়ি ঠিক করে দিলো।
আমরা আমাদের বাসায় চলে এলাম।

খুব কান্না করছি আমি।
আনিকা বার বার আমাকে শান্তনা করার চেষ্টা করছে।
এসব কি হচ্ছে আমার সাথে।
এত কষ্ট আমি মেনে নিতে পারছি না।
বার বার কেনো আমি অপমানিত হচ্ছি।


পর্ব ১৩

ভাইয়া আমরা সানাতের বাসায় যাচ্ছি কাজে।
হঠাৎ এমনটা হবে বুঝতে পারিনি।
নিভরাজ আমাদের গাড়ি ঠিক করে দিলো।
আমরা আমাদের বাসায় চলে এলাম।
খুব কান্না করছি আমি।

আনিকা বার বার আমাকে শান্তনা করার চেষ্টা করছে।
এসব কি হচ্ছে আমার সাথে।
এত কষ্ট আমি মেনে নিতে পারছি না।
বার বার কেনো আমি অপমানিত হচ্ছি।

আম্মুর কিছু লাগবে নাকি জিঙ্গেস করতে ফোন হাতে নিলাম দেখি অফ হয়ে আছে।
অন হচ্ছে না।
চার্জ নেই মনে হয়।
আনিকার ফোনে ব্যালান্স নেই।
আমাদের গেইটের নিচে আসতেই মুখোমুখি হলাম সেই অসভ্য ইমরাজের।
আনিকা আমাকে ফিসফিসিয়ে বললো,এতো বিয়ে বাড়িতে ছিলো সানাত হঠাৎ এখানে কেনো?

কেমন বাজে দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকাচ্ছে।
ইমরাজ ::::::: শাড়িটা চেইন্জ করলে কেনো।
ওটাতেই তোমাকে বেশ হট হট লাগছিলো।
তা একটু সময় আমাকে দেওয়া যাবে?

আনিকা: আমাদের সময় নেই।
দেখি সামনে থেকে সরেন তো।
এভাবে পথ আটকে দাড়িয়েছেন কেনো?
কে আপনি হ্যা?

ইমরাজ ::::::: ওহ তোমার সময় নেই।
তাহলে তুমি যেতে পারো।
কিন্তু সানাত থাক।
ওর সাথে আমার দরকার আছে।

আনিকা বাধা দিয়ে আমাকে টান দিয়ে নিয়ে আসতে চাইলে ইমরাজ ওকে ধাক্কা দিয়ে আমাকে আটকে ফেলে।

আমি কি করছেন আপনি।
আনিকাকে ধাক্কা দিলেন কেনো।
সরেন বলছি।
আর আপনাকে কে অধিকার দিয়েছে আমাদের আটকানোর?

এবার ইমরাজ আমার হাত চেপে ধরে চোখ বড় বড় করে।
অধিকার তো আমি সেদিনই পেয়ে গেছি যেদিন তোমায় স্পর্শ করি।
আর তখন থেকেই তোমাকে কাছে পাবার জন্যে আমার ভেতরটা ছারখার হয়ে যাচ্ছে।
চলোনা এখন।
পুরো বাসা ফাকা।
কেউ নেই।

খুব ইনজয় হবে।
আর তাছাড়া তোমাকে বেশ হট হট দেখাচ্ছে।
নিজেকে কন্ট্রোল করা দায় হয়ে পড়ছে।
চলো না বেবি।
খুব বাজে ভাবে ইঙ্গিত করলো আমায় অসভ্যটা।
আমি আর টলারেট করতে পারলাম না।

টাশ করে বসিয়ে দিলাম শয়তানটার গালে আমার পাঁচ আঙ্গুল।
তুই কি ভেবেছিস আমাকে।
রাস্তার মেয়ে।
নাকি তোর মতো।
ঘরে তো মা বোনও আছে লজ্জা করেনা অন্যের মেয়েকে।বোনকে এসব বাজে কথা বলতে।
যদি কখনো আমার সামনে আসিস না তোর খবর আছে বদমাইশ।লম্পট কোথাকার।

আমি পাশ কাটিয়ে আসতেই ইমরাজ আমাকে জোরে টান দিয়ে ওর সামনে এনে আমার হাত খুব জোরে চেপে ধরে।
আর আমার হাতের কাঁচের চুড়ি কট কট করে ভেঙ্গে কয়েকটা আমার হাতে বিধে যায়।
প্রচন্ড ব্যাথায় আমি দমে গেছি।
তোর সামনে এসেছি এবার কি করবি বল।
তুই তো কিছু করতে পারবি না করবো তো আমি।

এখন দেখ তোর কি হাল করি আমি।
ইমারাজ প্রচন্ড রেগে গেছে থাপ্পড় খেয়ে।
আমাকে টানতে টানতে আমাদের বাসার দিকেই নিয়ে যাচ্ছিলো।
আমি হাতে ব্যাথা পাচ্ছিলাম আর আনিকাকে খুজছি।
আনিকা কোথায়?

হঠাৎ আমার অন্য হাতটা পেছন থেকে কেউ টেনে ধরলে ইমরাজ আমাকে টানতে না পেরে পেছনে ফিরলো।
নিভরাজ ঐ অসভ্যটার হাত থেকে আমাকে ছাড়িয়ে নিজের পিছনে নিয়ে গেলো।
তারপর ইমরাজকে অনেক মারলো।
রাত বেশি হওয়াতে তেমন কোনো মানুষও ছিলোনা।
নিভরাজ ওকে মেরে খুব রেগে আমার দিকে এসে আমাকে ঝাড়তে লাগলো।
খুব বকছে আমাকে।

সব নাকি আমার দোষ।
আমি এখানে কেনো এসেছি।
যদি সে আসতে আজ দেরী হয়ে যেতো তাহলে আমার মরা ছাড়া কোনো উপায় ছিলো না।
আমার ভাগ্য ভালো ছিলো যে তাই আমি বেচে গেছি সেই রেপিষ্ট ইমরাজের হাত থেকে।
এমন হাজারো মেয়ের সাথে এসব দুর্ঘটনা ঘটে যায় আর তারা হারিয়ে ফেলে বেচে থাকার আশা টুকু।

আনিকা ছুটে এলো বাইরে থেকে।
সানাত তুই ঠিকাছিস তো।
আমাকে জড়িয়ে ধরলো।
নিভরাজ ভাইয়া তোমাকে অসংখ্যা ধন্যবাদ।
আজ যদি তুমি না থাকতে তাহলে।

ধন্যবাদ তো পাওয়ার যোগ্য তুমি।
যদি তুমি আমাকে ফোন না করতে আমি জানতাম কেমনে যে এখান কি হচ্ছে।
আমি আনিকাকে আবারো জড়িয়ে ধরলাম।
বেচারী আমার জন্যে জটপট ব্যালেন্স নিয়েছে।

নিভরাজকে ফোন করে আনিকা জানিয়েছে।
নিভরাজ আমাদের দুজনকে নিষেধ করে যাতে এসব কথা কাউকে না বলি।
সে চুপটি করে আমাদের নিয়ে যায়।
কেউ ছিলোনা।
কেউ দেখেনি। সো আমরা চারজন ছাড়া একথা কেউ জানবে না।

আমরা খুব স্বাভাবিক ভাবেই বাসায় এসে সবার সাথে হাসি ভাবে কথা বলছি।
যেনো কিছু হয়নি।
কিন্তু একটু আগেই যে আমার সাথে কত কিছু হয়ে যেতো।
নেভা আম্মু আর আন্টি আমার হাতে ব্যান্ডেজ দেখে অবাক হয়ে জিঙ্গেস করে কি হয়েছে।

আমি আমতা আমতা করে বলতে গিয়ে।
আনিকা বললো,
কি আর হবে।
আসার সময় তাড়াহুড়া করতে গিয়ে হোচট খেয়ে পড়ে যায় আর হাতে ব্যাথা পেয়েছে।
সমস্যা নেই আমি ব্যান্ডেজ করে দিয়েছি।

রুমে এসে আমি ফ্রেস হয়ে নিভরাজের কথাই ভাবছি।
ও বারবার আমাকে বাচিয়ে দিচ্ছে।
যখন ও ইমরাজকে মেরে বেহুশ করে দেয় আমি আবেগের বশত ওকে জড়িয়ে ধরি শক্ত করে।
কিন্তু ও আমাকে ধরে নি।

ওর হাত আমার পিছেন আমাকে আকড়ে ধরেনি।
কিন্তু ও নিজেই আমাকে ব্যান্ডেজ করে দিয়েছে।
চুরির দুটো টুকরো আমার হাতে বিধে ছিলো।
নিভরাজ টান দিতেই আমি ওকে খামচে ধরি।
প্রচন্ড ব্যাথা হচ্ছিলো ক্ষত স্হানে।

ফার্মেসী থেকে মেডিসিন ও নিয়ে দিয়েছে।
একটা রাতে আর একটা সকালে খাওয়ার পর খেতে বলেছে।

আমিও ভুলে গেলাম নিভরাজের গার্লফেন্ডের কথা।
মনে আসলেই পাত্তা দিচ্ছি না।
নেভার সাথে ইনজয় করছি।
হাসছি। নাচচি।
খাচ্ছি।
আনিকা: সানাত তুই মেডিসিন খেয়েছিস?

আমি মাথায় বাড়ি মেরে।
ইশ।
একদম ভুলে গেছি।
আনিকা নিজেই আমাকে মেডিসিন আর পানি এনে দিলো।
আমি ঔষুধ মুখে দিয়ে পানিটা মুখে দিতেই আনিকা বললো,
আমার তো মনে ছিলোনা। বাট নিভরাজ ভাইয়া মনে করিয়ে দিয়েছে।

এবার আমার মুখ থেকে পানি বেরিয়ে গেলো।
আর আমি কাশতে লাগলাম।
নিভরাজ।
কেনো এত ঢং করছে।
আমাকে কেয়ার করার অভিনয় করছে।
ওযে অন্য কাউকে ভালোবাসে আমি তো জেনে ফেলেছি।
তারপরও কেনো আমার সাথে।

নাহ আর ভাবতে পারছি না।
নেভার মেহেদী রাতটা খুব আনন্দের সাথে কাটালো সবাই।
তবে আমার ক্ষেত্রে আলাদা।
আমরাটা কষ্টে।
এবার নেভার বিদায়ের পালা।
নেভার সাথে সাথে আমাকেও সাজতে হলো পার্লারে।
সবাই আমাক দেখে আন্টির কাছে জিঙ্গেস করছে কে এটা?

আন্টি আমাকে কাছে ডেকে ওদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো।
এটা আমার ছেলের বউ।
নিভরাজের বউ।
নেভাকে বিদায় দেওয়ার পর একে ঘরে তুলবো।

এক মেয়েকে বিদায় দিয়ে আমার অন্য মেয়েকে ঘরে নিয়ে আসবো।
আম্মুকে বললো,
আমার মেয়েটাকে কিন্তু কিছুদিনের জন্যে দেখে রাখবেন।
কদিন পরেই নিয়ে আসবো কিন্তু।

আমি আজকেও নিভরাজকে মেয়েটার সাথে কথা বলতে দেখেছি।
আমার কেনো জানিনা খুব কষ্ট হয়।
আপুনির কথা মনে পড়ে।
নেভার বিদায়ের পর আমি বাসায় চলে আসি।
আন্টি আসতে দেয় না তারপরও আমি চলে আসি।
থাকলে তো তার ছেলের ঐসব দেখতে হবে আমাকে।
এত কষ্ট আমি আর কত সহ্য করবো।

আজকে এক সপ্তাহ পুরো হলো আমি ঐ বাড়ি থেকে এসেছি।
নেভা প্রতিদিন ফোনে কথা বলে।
আন্টিও কথা বলে।
তারা চায় আমাকে আগামী সপ্তাহে অনুষ্টান করে ঘরে তুলতে।
কিন্তু নিভরাজ কি মেনে নিবে?

আমাদের তো বিয়ে হয়েই গেছে। এখন জাস্ট অনুষ্টান করে নিয়ে যাবে।
বরাবরের মতোই নিভরাজের মুখটা মলিন হয়ে আছে।
মনে হয় জোর পূর্বক ওকে রাজি করিয়েছে।
নেভা সহ ওর শশুর বাড়ির সবাই এসেছে।
সবার মুখে হাসি।

কিন্তু আমারও তো কিছু করার নেই।
কিছু করলে তো আংকেল আন্টি।
আব্বু আম্মু কষ্ট পাবে।
তাই চুপচাপ যা হচ্ছে তা হতে দিচ্ছি।

আমাকে বাসায় নিয়ে আসার সময় আব্বু আম্মু যখন আমার হাত নিভরাজের হাতে তুলে দিলো আব্বু আম্মুর চোখ থেকে অঝোরে পানি ঝরছিলো।
বড্ড অসহায় মনে হচ্ছিলো আমার।
তাদের এত আশা আমি কি পারবো রাখতে।
বাসায় এসে আমি প্রচন্ড অবাক হই।

কারণ আমাকে যে রুমে বসানো হয়েছে মানে বাসর সাজানো হয়েছে যে রুমে সেই রুমে আমি কখনো আসিনি।
আর এটাই নিভরাজের পারসোনাল বেড রুম যেটা সবসময় লকড ছিলো।
রুমটা আজ প্রথম দেখলাম আমি।
সবকানে বড় বড় টেডি দিয়ো সাজানো।
চারোদিকে রোজ লাইটের ডেকোরেট করা।

সব সোহা আপুনির ফেবারিট।
এমন ফার্নিচার ও আপুর পছন্দের।
তার মানে আপুনির যা যা পছন্দ নিভরাজ তা তা দিয়েই আপুনির জন্যে রুমটা ডেকোরেট করে ছিলো।
আর খাটের পাশের ওয়ালে অনেক বড় একটা বেবির কিউট পিক টাঙ্গানো।
আমি জাস্ট অবাক হয়ে রুমটা দেখছি।

আলমারীতে অনেক কাপড়।
একেক রকমের একেক কালারের কাপড়।
কারো আসার শব্দ পেয়ে চুপচাপ খাটে গিয়ে বসলাম।

নিভরাজ মলিন মুখ নিয়ে রুমে ঢুকলো দরজা বন্ধ করলো।
তারপর লাইট নিভিয়ে দিলো।
তবে রোজ লাইটের আলোয় পুরো রুমের সৌন্দর্যটা ফুটে উঠেছে।

নিভরাজ খাট থেকে বালিশ নিলে আমি জিঙ্গেস করি কোথায় যাচ্ছেন?

ও আমার দিকে না তাকিয়ে বললো,
তুমি শুয়ে পড়ো।
আমি সোফায় শুচ্ছি।

আমি: আরে নাহ। আপনার রুম।আপনার খাট। তাহলে আপনি কেন সোফায় শুভেন।
আমিই বরং সোফায় ঘুমাই আর আপনি খাটে শুয়ে পড়ুন।

নিভরাজ থাক লাগবে না।
তুমি খাটে থাকো আমি সোফাই ঘুমাবো।
বলে সোফায় শুয়ে পড়লো।

আমার অনেক কষ্ট হচ্ছিলো যা চাপা দিয়ে রেখেছি মনের এক কোণে।
উনি আমাকে এখনো মেনে নিতে পারেনি।
উনি কি আমায় কখনো ভালোবাসবে না?

আজ প্রতিটা মেয়ের জন্যে জিবনের সবচাইতে স্পেশাল একটা রাত।
কিন্তু আমার কাছে চরম কষ্টের রাত।
প্রিয় মানুষটা আমার এতোটা কাছে থাকা সত্তেও আমি তাকে ছুতে পারছি না।
তাকে কাছে নিতে পারছি না।
তাকে আপন করে নিতে পারছি না।

কতোটা দূর্ভাগ্য হলে এমনটা হয়।
কাদতে কাদতে বালিশ ভিজিয়ে ফেলেছি।
তারপরও কান্না থামছে না।
ইচ্ছে করছে চিৎকার করে কাদতে।
নিভরাজের কলার চেপে ধরে বলতে।
যদি তুমি জানতে তোমায় কতোটা ভালোবাসি আমি।
তোমায় কতোটা চাই আমি।

দূর্ভাগ্য আমার সে কথা তুমি কখনো জানবে না।
বুকটা চির চির হয়ে যাচ্ছে আমার।
কষ্টে আমার আকাশটা অন্ধকারে চেয়ে গেছে।
মেঘলা হয়ে গেছে আমার চঞ্চল আকাশটা।
আমার সাতরঙে সাজানো সব স্বপ্নই কালো মেঘে ঢেকে গেছে।
অপূর্ণতা বুঝি এখানেই।


পর্ব ১৪

দূর্ভাগ্য আমার সে কথা তুমি কখনো জানবে না।
বুকটা চির চির হয়ে যাচ্ছে আমার।
কষ্টে আমার আকাশটা অন্ধকারে চেয়ে গেছে।
মেঘলা হয়ে গেছে আমার চঞ্চল আকাশটা।
আমার সাতরঙে সাজানো সব স্বপ্নই কালো মেঘে ঢেকে গেছে।
অপূর্ণতা বুঝি এখানেই।

সকাল নয়টার আমার ঘুম ভাঙ্গলো।
হাত নাড়াছাড়া করতে করতে চুড়ির রিনঝিন শব্দ হচ্ছিলো।
আমার হাতে এত চুড়ি কেনো।
পুরো শরীরটা ভারী ভারী লাগছে।
ওহহহ গত কাল তো আমার বিয়ে হয়েছিলো।

বিছানায় সব ফুল ত্যাচন্যাচ ভাবে পড়ে আছে।
আমিতো একদম ভুলেই গেছিলাম।
কাপড় ঠিক করে চারোপাশে চোখ বুলিয়ে নিভরাজকে দেখতে পেলাম না।

হায় আল্লাহ এত সকাল হয়ে গেছে আর আমি এখনো বিছনায়।
চট জলদি ফ্রেশ হয়ে কাপড় চেইন্জ করে
নিচে গেলাম।
কিচেনে আন্টি আর কাজের মহিলা কাজ করছে।
আমি আন্টিকে সালাম দিয়ে বললাম।
আন্টি সরি উঠতে লেইট হয়ে গেছে।

আন্টি জিব্বায় কামড় দিয়ে।
এখনো তুই আমাকে আন্টি ডাকবি।
মা ডাকবি না বুঝি?
আমার কি ছেলের বউয়ের মুখ থেকে মা ডাক শুনতে ইচ্ছে করেনা?

ওহ সরি আন্টি।
না না মা।
সরি মা।
আচ্ছা এখন থেকে মা বলেই ডাকবো।
মা আমাকে নাস্তা করে নিতে বললো,

সবাই নাকি নাস্তা সেরে ফেলেছে।
বাবা নাকি অফিসে গেছে আর নিভুমনি বাইরে হাওয়া খেতে গেছে।
নিভুমণি আসার আগেই আমাকে রুমটা পরিস্কার করতে হবে।

মা কাজের মহিলাকে রুম পরিস্কার করতে বললে আমি নিষেধ করি।
তারপর আমি নিজে গিয়েই রুমটা পরিস্কার করি।
আবার কিচেনে এসে টেবিলে বসলাম।
খুব ক্ষুধা পেয়েছে।
নাস্তা করবো।

পাউরুটি দিয়ে ডিমের ওমলেট পেছিয়ে মুখে দিলাম।
অমনি দরজা দিয়ে নিভুমণি মানে নিভরাজকে ঢুকতে দেখে আমি তাড়াহুড়ো করে আরো কয়েক দফা পাউরুটির স্লাইস ওমলেট ছাড়াই মুখে ঢুকিয়ে দিলে গলায় আটকে যায়।

আমি হেচকি দিতে দিতে পানি খুজতে লাগলাম।
পানির গ্লাসটা কেউ সামনে এগিয়ে দিলো।
যে এগিয়ে দিলো তাকে দেখে আরো বেশি হেচকি আসছে।
তারাতারি পানিটা নিয়ে ঢকঢক করে খেয়ে নিলাম।

নিভুসোনা পানি দিয়েই হনহনিয়ে চলে গেলো।
তখন কিন্তু মা আর কাজের মহিলাটা ছিলো না কিচেনে।
নিভুমণি।নিভুসোনা। আরো কত কি ডাকবো আমি তাকে।
বড্ড ভালোবাসি যে।

মা আর কাজের মহিলাটা কিচেনে এলে আমি মাকে বললাম।
মা আজকের রান্নাটা আমি করবো।
আপনারা কেউ কিন্তু কিচ্ছু করতে পারবেন না বলে দিলাম।
চুপচাপ শুধু লাঞ্চ করবেন।

মা: কিন্তু তুমি যে মাত্রই এলে।
নতুন বউকে দিয়ে রান্না করালে মানুষে কি বলবে।
আর তুমি একা পারবে না তো।

আমি: মানুষে কি বলবে আর কি বলবে না তা দিয়ে আমার কিচ্ছু যায় আসে না।
আমি পারবো মা।
আপনি চিন্তা করবেন না।
আজ তো রান্না আমিই করবো।
মাকে আর কাজের মহিলাটাকে কিচেন থেকে বের করে দিলাম।
মা উনাকে নিয়ে ছাদে চলে গেলেন চারা গুলো দেখতে।

কি রান্না করা যায়।
ফ্রিজ থেকে ডিম নিলাম।
ডিমের কোরমা।
শশার ঝোল।মুরগী তারপর মাছ ফ্রাই করবো।আর আমার প্রিয় ডাল।
মাছ ধুয়ে মরিচ মশলা দিয়ে কিছুক্ষনের জন্যে মেরিনেট করে রাখলাম।
মাংসটাও মেরিনেট করে রেখেছি।এমনকি ডিমটাও।
তারপর পোলাও। ডাল।আর সব তরকারীর জন্যে পেয়াজ। কাচা মরিচ ও ক্যাপসিকাম কাটতে হবে।
আমি পেয়াজ কুচি করে কাটতে পারিনা বড় বড় হয়ে যায়।

পেয়াজ কাটতে কাটতে চুলায় ফ্রাই প্যান উঠিয়ে তাতে তেল দিলাম।
এবার হাত যে স্লিপিং হয়ে গেছে তা বুঝতে পারিনি।
পেয়াজ কাটতে গিয়ে আমার হাতে চুরির আচ লাগলো খুব বেশি একটা।
আহ করে চিল্লিয়ে লাফাতে লাগলাম।

হাত কেটে গেছে প্রচুর রক্ত বেরুচ্ছে তার উপর পেয়াজের রস লেগে খুব জ্বালা করছে।
নিভরাজ দৌড়ে কিচেনে এসে আমার হাতে রক্ত দেখে চোখ বড় বড় করে বললো,
ওরে বাপরে এমন হলো কিভাবে।
আমার হাত টেনে বেসিনে পানি ছেড়ে তার মধ্যে দিলো।
ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা পানি দিতেই আমি আরো চিৎকার দিলাম।
আহহ জ্বলে যাচ্ছে আমার হাত।

নিভরাজ আমাকে চেয়ারে বসিয়ে রুম থেকে স্প্রে এনে স্প্রে করে দিলে একটু শান্তি লাগে।
এমন সময় মা আর কাজের মহিলাটাও চলে এলো।
আরে সানাত মা তোর কি হয়েছে।
বলেছিলাম তুই এসব পারবি না।
তারপরও কথা শুনলি না।
উহহহহ কতটা কেটে গেছে।
নিভরাজ ব্যান্ডেজ নেই। ব্যান্ডেজ লাগিয়ে দে।

নিভরাজ মা ব্যান্ডেজ তো শেষ হয়ে গেছে।
ওয়েট করো আমি এখনি ফার্মেসীতে গিয়ে নিয়ে আসছি।

মা তেমন কিছু নাতো।
সামান্য কেটে গেছে।
আপনি উনাকে বলেন পেয়াজ গুলো কেটে দিতে রান্নাটা কিন্তু আমিই করবো।

মা :::::::::: এমন অবস্হায় তুমি রান্না করবে।না এমন হবে না।

না মা আমি পারবো তো।
জাস্ট রান্নাটাই তো করবো।
নিভরাজ একটু পরেই ব্যান্ডেজ এনে আমাকে লাগিয়ে দিলো।
আর রান্নাটা আমিই করেছি।

বাবা দুপুর একটার দিকে বাসায় চলে এলেন।
সবাই একসাথে বসে লাঞ্চ করলাম।
বাবা মা খুব প্রশংসা করলো রান্নার।
কিন্তু নিভুসোনা কিছুই বললো না।
সব ব্যর্থ আমার।
আমি হাতের জন্যে ভালোভাবে খেতেও পারিনি।

রাতেও ডিনার করতে পারিনি।আমার একটু একটু জ্বর এসেছিলো।
অবাক হলাম তখনি নিভরাজ রাতে আমার পাশে বসে আমার মাথায় পানি দিচ্ছে।
প্রচন্ড ভালো লাগছে আমার।
জ্বরের বেগে কি বলছি নিজেও জানিনা।
নিভরাজ আমার খুব ক্ষুধা পেয়েছে।

নিভরাজ কিছু না বলে চলে গেলো।
একটু পর আপেল।মাল্টা নিয়ে এলো।
আমি এসব দেখে বললাম।
আমি এগুলো খাবো নাতো।
ভাত খেতে ইচ্ছে করছে।

নিভরাজ ::::::: ভ্রু কুচকে।
এই মধ্যরাতে ভাত।
আচ্ছা দেখি।
সে আবারো চলে গেলো।

একটু পর ফিরে এলো হাতে প্লেট তাতে অল্প ভাত আর তরকারী।
একটা ডিম ভেজে এনেছে আমার জন্যে।
ধোয়া উঠছে তাই বুঝতে পেরেছি।

নিভরাজ প্লেট আমার দিকে এগিয়ে দিলে আমি অসহায় ভঙ্গিতে ওর দিকে তাকিয়ে আবার নিজের কেটে যাওয়া ডান হাতের দিকে তাকালাম।
আমিতো খেতে পারবো না।

নিভরাজ হাত ধুয়ে আমাকে খাইয়ে দিতে লাগলো।
এটা কি সত্যি নাকি স্বপ্ন।
কোনো এক ভালোলাগা আমাকে ছুয়ে যাচ্ছে।
প্রচন্ড সুখ অনুভব করছি।
এমন হলে তো আমি প্রতিটা দিনই হাত কাটতে রাজি।

নিভরাজে আঙ্গুল আমার ঠোটঁকে ছুয়ে দিচ্ছে।
অল্প ভাত কিন্তু আমার মনে হচ্ছে এই সামান্য টুকু ভাত যদি প্রিয় মানুষটার হাত থেকে খাওয়া যায় তাহলে অনেক অনেক ভাত বেচে যাবে।
মন পেট দুটোই ভরে যাবে।
এত যে শান্তি।

নিভরাজের প্রতি ভালোবাসাটা আরো দ্বিগুন বেড়ে গেলো।
নিভরাজ আমার কলিজা।
আমার এত্ত কেয়ার করে।
খাওয়া শেষ করে আমাকে মেডিসিন দেয় তারপর ঘুমুতে বলে লাইট নিভিয়ে সেও শুয়ে পড়ে।

আমি ভাবনার জগতে হারিয়ে যাচ্ছি।
ওর এত কেয়ারিং আমার প্রতি।
সিড়ি থেকে পড়ে যাওয়ার সময় ও আমাকে ধরেছিলো।
পড়তে দেয়নি।
তারপর গাড়ির ডোরে শাড়ি আটকে ছিড়ে গেলে ও নিজের কোট আমাকে পড়িয়ে দিয়ে আমার সম্মান রক্ষা করেছিলো।
এমনকি ইমরাজ নামক পশুটার হাত থেকেও আমাকে বাচিয়েছিলো।

তারপর আজ কিচেনে হাত কেটে গেছিলাম।তখন ও এসে আমাকে ব্যান্ডেজ করে দিলো।তারপর এখন মাথায় পানি ঢেলে দিলো।খাইয়ে দিলো।
তাহলে কি নিভরাজ আমাকে ভালোবাসে।
উফফফ আমি আর ভাবতে পারছি না।
খুশিতে পাগল হয়ে যাবো আমি।

পরদিন কেনো জানিনা নিভরাজের জন্যে আমি নিজেকে নতুন করে সাজানোর ট্রাই করি।
আলমারী খুলে একটা শাড়ি নিলাম।
অরেন্জ কালার।
জানিনা শাড়িগুলা আমার জন্যে কিনা।
তবে জানি এগুলো আপুনির জন্যে ছিলো।

কিন্তু আপুনি ওর অতীত আর আমি বর্তমান।
সো সব তো আমার জন্যে।
মায়ের কাছে শুনেছি নিভরাজের আসতে লেইট হবে।
ও নাকি ফ্রেন্ডদের সাথে মিট করতে গেছে।

আমি পুরো রুম রং বেরংয়ের ছোট বড় ক্যান্ডেল দিয়ে সাজিয়ে দিলাম।
রুমের সব পর্দা অরেন্জ কালার ম্যাচিং করে সেট করে দিলাম।
আর রোজ লাইট গুলো তো আছেই।
ওয়ালের এক পাশে আমার আর নিভরাজে মানে আমাদের বিয়ের এডিটিং করা পিক টাঙ্গিয়ে দিলাম।

বাহ রুমটাতো বেশ সুন্দর লাগছে।
সোফা থেকে নিভরাজের বালিশটা খাটে রাখলাম।
আজ নিভরাজকে আপন করেই ছাড়বো।
অনেক সুন্দর করে সাজলাম।
অরেন্জ কালার শাড়ির সাথে ম্যাচ করা অরেন্জ কালার পাথরের সিম্পল সেট ছিলো সেটাও পড়লাম।
এবার অপেক্ষা নিভরাজের।

রাত বারোটা বেজে পঁচিশ মিনিট। খুট করে দরজা খুলার শব্দ পেলাম।
নিভরাজ রুমে ঢুকে কিছুক্ষনের জন্যে স্টাচু হয়ে গেলো।
চারোপাশ তাকাচ্ছে।
তারপর আমি ওর সামনে গেলাম লাজুক ভঙ্গিতে।
ও আমার দিকে তাকিয়ে ধীরে ধীরে আমার কাছে আসছে।
ও যতোটা আমার কাছে আসছে ঠিক একটু একটু করে আমার হার্টবিট ও বেড়ে চলছে।

ও অনেকটা আমার কাছে এসে আমার দু বাহু ধরে আমাকে ওর দিকে টেনে ধরলো আর আহিস্তা আহিস্তা আমার কাছে আসতে লাগলো।
আমি লজ্জায় চোখ বন্ধ করে ফেলি।

নিভরাজ হঠাৎ আমাকে ধাক্কা দিয়ে সিট সিট করতে থাকে।
নিজের মাথায় হাত দিয়ে বলে। এ আমি কি করতে যাচ্ছিলাম।
আর এই মেয়ে তোমার এত সাহস হলো কেমন করে আলমারী থেকে কাপড় বের করে পড়ার?
আর কে অনুমতি দিয়েছে তোমায় পর্দার কালারটা চেইন্জ করতে।
রুম চেইন্জ করতে।

আমি রিতিমতো অবাক হয়ে যায়।
নিভরাজের চোখ লাল লাল হয়ে আছে।
খুব মেজাজ দেখিয়ে কথা বলছে ও আমার সাথে।
ওর প্রতিটা কথা তীরের মতো আমার বুকে বিধছে।

নিভরাজ পর্দা টেনে ছিড়ে ফেলছে।
সব ক্যান্ডেল লাথি দিয়ে ফেলে দিচ্ছে।
আমাকে আবারো ধমকের সুরে বললো,
কি বলছি কথা কানে যায় না।
যাও এক্ষুনি চেইন্জ করে আসো।
আর কক্ষনো আমার আলমারীতে হাত দিবানা।
যাও।

আমি কাদতে কাদতে দৌড়ে ওয়াশরুমে ঢুকে গেলাম।
নিভরাজ এমনটা না করলেও পারতো।
কি করেছি আমি।
একটা শাড়িই তো পড়েছি।
তার জন্যে এতকিছু।
আমি তার বিয়ে করা বউ।

তাকে তো আপন করে পেতে চাইবো। তাহলে।
আমার এক তরফা ভালোবাসা সত্যিই অপূর্ণ রয়ে যাবে।
কখনো পূর্ণতা পাবে না।
নিভরাজ আমাকে ভালোবাসে না।
ওয়াশরুমে কতক্ষণ বসে কেদেছি নিজেও জানিনা।

খুব কাদতে ইচ্ছে করছে আজ।
চিৎকার করে কাদতে ইচ্ছে করছিলো। গুমড়ে কান্না করাটা জান বের করে ফেলে।
আর চিৎকার করে কান্না করলে মনটা হালকা হয়।

অনেক্ষণ কেটে যাবার পর ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে দেখি নিভরাজ খাটে ঘুমিয়ে পড়েছে।
আর রুমের সব জিনিস ত্যাচন্যাচ করা।
আমি চেইন্জ করে প্রথমে সব ক্যান্ডেল নিয়ে ডাস্টবিনে ফেলে দিলাম।
কত ভালোবেসে এসব এনেছিলাম নিজে গিয়ে।
তারপর সোফায় শুয়ে পড়লাম।
শুধু চোখ দিয়ে পানি আসছে।
থামছেই না।

আমার হাতে যে আগে কেটে গেছিলো ঠিক সেখান বরাবর ক্যান্ডেলের স্ট্যান্ডের কোণা লেগে ছিড়ে যায়।
হালকা রক্ত এসেছিলো আমি চেপে ধরে রাখি হয়তো থেমে যাবে।
প্রিয় মানুষটার দেওয়া প্রথম উপহার।
এটার দাগ বোধহয় না গেলেই ভালো হবে।

এতদিন যাও একটু কথা বলতাম গতকাল রাতের পর থেকে উনার সাথে কথা বলিনা।
মা খাওয়ার টেবিলে আমাকে বললো নিভরাজকে ডেকে দিতে কিন্তু আমি রুমে গিয়ে চুপচাপ বসে থাকি।
সে ফোনে কারো সাথে চ্যাটিংয়ে বিজি।

আজ চার পাঁচদিন হলো ওর সাথে কথা বলি না।
আজ আম্মু আব্বু আসবে।
মা আর আমি মিলে অনেক রান্না বান্না করলাম।
নিভরাজ উপর থেকে চিৎকার দিয়ে মাকে বললো,
মা আমার নীল শার্টটা কোথায় পাচ্ছি না যে?

মায়ের হাতে মসলা লাগানো ছিলো আর চুলোয় তরকারী বসানো।
আজ কাজের মহিলাটাও আসেনি।
তাই আমাদের দুজনকে সব করতে হচ্ছে।
মা আমাকে বললেন।

সানাত মা যাতো। দুই নম্বর ড্রয়ারে লন্ড্রী থেকে আনা নিভরাজের সব কাপড় রয়েছে।
ওখান থেকেই নীল শার্টটা ওকে দিয়ে আসো।
নিজে তো খুজবে না। আর খুজলেও সব ত্যাচন্যাচ করে ফেলবে।
তারাতারী যাও।
আমি কিন্তু মা আমি।

সানাত তুমি যাও আমি দেখছি।
তরকারীটা লেগে যাবে নয়তো।
আমি বাধ্য হয়ে গেলাম।
রুমে এসে আমার চোখ ছড়ক গাছ।
যেই রুমটা কিছুক্ষণ আগে আমি পরিস্কার করে গেছি কত কষ্ট করে।
জাস্ট রুমটা গুছাতে আমার দুই ঘন্টার মতো সময় লাগে।
কিন্তু সেই রুমটাকে কি করে ফেলেছে।

পুরো বিছানায় কাপড় এলোমেলো। তারপর আমার সাজানো ড্রেসিংয়ের সব জিনিস এলোমেলো।
সব ড্রয়ার খোলা।
আজব তো।
এভাবে কেউ রুম অগুছালো করে।
প্রতিটা দিন সে এমন করে।
বাইরে থেকে এসে কাপড় যেখানে সেখানে খুলে রাখে।

জুতা একটা এই পাশে তো আরেকটা ওপাশে।মোজা রাখে আমার ড্রেসিংয়ের উপর নয়তো সোফার উপর।
আর শাওয়ারের পর ভেজা টাওয়ালটা বিছানার উপর তো থাকবেই।
সব মুখে বুঝে সহ্য করে আমি গুছিয়ে রাখি।
কিচ্ছু বলিনা তাকে।

কারণ একদিন কাজের মহিলাটা যখন রুমে এলো পরিস্কার করতে তখন সে বললো,
ভাইজান মোজা। জুতা এখানে সেখানে না রেখে ঠিক করে রাইখেন।
তখন সাহেব জবাব দিলো।
আমার রুম।
যা যেখানে খুশি রাখবো তাতে আপনার কি।
থাক সব এরকম।
আমি তো পুরাই হা।
ভালো কথার দাম নাই।

বাই দা ওয়ে মোজা রাখতে গিয়ে আমি যে কতবার বমি করে দিছি হিসাব রাখিনি।
তারপর থেকে নাকে কাপড় দিয়ে জুতা মৌজা ঠিক করি।
উনি এখনো শার্ট পাননি।
একটার পর একটা উলোট পালোট করেই যাচ্ছেন।
আমাকে দেখে আরো বেশী করছেন।
অথচ নীল শার্টটা তাকে উকি দিয়ে দেখছে আর উনি তো চোখেই দেখছেন না।

আমি উনার সামনে থেকে শার্টটা নিয়ে উনার সামনে রাখলাম।
তারপর অন্য সব কাপড় গুছাতে গুছাতে বকবক করতে লাগলাম।
নিজের রুম।নিজের জিনিস।
তাই বলে কি এভাবে সব অগুছালো করে রাখবে।
কাউকে কষ্ট দিতে খুব ভালো লাগে তাইতো একজন ছেড়ে চলে গেছে।
আমিও চলে যাবো কোনো একদিন।

হঠাৎ নিভরাজ আমাকে টান দিয়ে ওর সামনে নিয়ে আসে।
আমি বুঝতেও পারিনি।
বেসামাল ওর বুকের উপর পড়লে ও আমার দুবাহু ধরে আমাকে ঝাকিয়ে আলমারীর সাথে চেপে ধরে লাল লাল চোখে বললো,
কি বললে তুমি।
একজন আমাকে ছেড়ে চলে গেছে।
তুমি আমাকে এভাবে বলতে পারলে।

সোহাকে আমি এখনো ভুলতে পারিনি। আর তুমি আমাকে কাটা গায়ে নুনের ছিটা দিচ্ছো।
যখন তখন একজন চলে গেছে।
এমন কথাটা বলার মানে কি।
তুমি কি ভাবো নিজেকে।
আমার মনের ভেতর সোহার যে জায়গাটা রয়েছে সেটা কখনো কেউ নিতে পারবে না।
তুমিও না।

ভালো করে বুঝে নাও সেটা।
সোহার জায়গায় নিজেকে রাখার চেষ্টা করবেনা কখনো।
কারণ তুমি কখনো ওর মত হতে পারবে না।
সো নিজের জায়গায় থাকো।
আমাকে ধাক্কা দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায়।

আর আমি আলমারীর সাথে বারি খেয়ে নিচে পড়ে যায়।
আর কত কষ্ট দিবে নিভরাজ আমাকে।
একটা রুমে থাকি দুজন কিন্তু তারপরও আমরা অনেক দূর।
অপরিচিতদের মতো বসবাস আমাদের।
যেনো কেউ কাউকে চিনিনা।

নিভরাজকে আমি ভালোবাসি এটাকি আমার অপরাধ।
ও কেনো আমায় সহ্য করতে পারেনা।
কেনো আমায় ভালোবাসতে পারেনা।
সোহা আপুনিতো আর নেই।

চাইলেও আপুনিকে ফিরিয়ে আনা যাবেনা।
তাহলে আমি কি করবো।
রাগের মাথায় বলি আর কি সেটা।
নিভরাজ কেন বুঝেনা আমায়।আমি কতোটা ভালোবাসি ওকে।
কেনো সে আমাকে আপন করে নিতে পারেনা।

চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করে ছিলাম তার।
আর সে কিনা বলছে আমাকে।
মরে যেতে ইচ্ছে করছে আমার।

পর্ব ১৫

নিভরাজকে আমি ভালোবাসি এটাকি আমার অপরাধ।
ও কেনো আমায় সহ্য করতে পারেনা।
কেনো আমায় ভালোবাসতে পারেনা।
সোহা আপুনিতো আর নেই।
চাইলেও আপুনিকে ফিরিয়ে আনা যাবেনা।

তাহলে আমি কি করবো।
রাগের মাথায় বলি আর কি সেটা।
নিভরাজ কেন বুঝেনা আমায়।আমি কতোটা ভালোবাসি ওকে।
কেনো সে আমাকে আপন করে নিতে পারেনা।

চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করে ছিলাম তার।
আর সে কিনা বলছে আমাকে।
মরে যেতে ইচ্ছে করছে আমার।

আম্মু আব্বু চলে এলো।
কত খুশি তারা আমাকে দেখে।
নিচে আব্বু আম্মু।বাবা মা একসাথে বসে হেসে হেসে গল্প করছে।
কত খুশি দেখাচ্ছে তাদের।
কিন্তু আমার ভেতর যে কি হচ্ছে তা কেউ জানেনা শুধু আমি ছাড়া।
না পারছি কাউকে বলতে আর না পারছি সইতে।

নেভা আর তাওহীদকে ও আসতে বলা হয়েছে।
ওরাও চলে এসেছে।
নেভাকে খুব খুশি দেখাচ্ছে।
আমি কিরে নেভা তুই দেখি আগের চাইতে আরো বেশি সুন্দর হয়ে গেছিস।
কিছু ব্যাপার ট্যাপার হলো নাকি।

নেভা মুখ লুকিয়ে যাহ কি সব বলছিস।
তুইতো সুন্দর হয়ে গেছিস।
ভাইয়া বুঝি তোকে খুব খুশিতে রেখেছে।

আমি দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে।হ্যা রে বড্ড সুখে আছি আমি।
মনে মনে ভাবছি।
সুখে থাকলে নাকি মানুষ সুন্দর হয়ে যায় এখন দেখছি দুঃখে থাকলেও মানুষ সুন্দর হয়।
বাহ কত্ত ভালো।

টেবিলে খাবার সাজালাম আমি আর নেভা মিলে তারপর সবাই একসাথে খেতে বসলাম।
পুরো পরিবার একসাথে।তাওহীদকে এটা ওটা নিয়ে দিচ্ছি আমি।

তাওহীদ ভাবী রান্নাটা কিন্তু দারুণ হয়েছে।

মা আমাদের বউমার হাতের রান্না খুব মজা।
নিভরাজের বাবা তো বউয়ের হাতের রান্না ছাড়া খেতেই পারেনা।
আম্মু আব্বু আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।
সাথে নেভাও।

নেভা: মা সানাত ভালোভাবে রান্না করতে পারে?
না মানে আগে একবার ওর হাতের রান্না খেয়ে আমি দুইদিন পানি ছাড়া কিচ্ছু খেতে পারিনি।
কি যে ঝাল দিয়েছিলো।তাইনা আন্টি।
আম্মুও ইশারায় বলে হুমমম।

নেভার দিকে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে ইশারায় বকে দিলাম।
মা হয়তো আগে কাচা ছিলো। তবে এখন সব রান্না মজা হয়।
আমার সব আশা পূর্ণ হলো।
নেভার বিয়েটাও দিয়ে দিলাম আর নিভরাজের বিয়েটাও করিয়ে দিলাম।

এবার নাতী নাতনীর মুখ দেখেই শান্তি পাবো।
নেভা: হুম মা।আমিও তো ফুফি হবো।তারপর আন্টি আংকেল নানা নানী হবে আর তোমরা দাদা দাদী।
ছোট্ট একটা বাবু।
পুরো ঘর মাতিয়ে রাখবে।

সবার সামনে কি কথা বলছে মা আর নেভা।
নিভরাজ উঠে গেলে মা বললো, কিরে বাবা উঠে গেলি যে।
নিভরাজ আমাকে এক পলক দেখে।
মা আমার খাওয়া হয়ে গেছে।
তারপর চলে গেলো।

নেভা:: ভাইয়া তো এমনি।অল্প করে খেয়ে চলে যায়।

আম্মু আমার সাথে একান্তে কথা বলে।
সানাত তুই সুখে আছিস তো।
না মানে নিভরাজ বড্ড ভালো ছেলে।
তোকে খুব সুখে রাখবে।

হুম আম্মু।আমি অনেক অনেক সুখে আছি।
ভেতর থেকে গুমড়ে উঠা কান্নাটা চাপা দিয়ে দিলাম মিথ্যে একটা হাসি দিয়ে।
আম্মু এখানে আমি অনেক সুখে আছি।
ওরা সবাই অনেক ভালো।
তুমিতো জানো ওদের।

আম্মু ও শুনে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো।
বিকেলের দিকে সবাই চলে গেলো।
মা নিভরাজকে বললো,
সানাতকে নিয়ে বাইরে থেকে ঘুরে আয়।

মেয়েটারও একটু ভালো লাগবে।
কিন্তু নিভরাজ বললো তার নাকি ফ্রেন্ডদের সাথে কাজ আছে।
নিভরাজ সাথে সাথে রেডি হয়ে কোথায় চলে গেলো।

হঠাৎ মায়ের শরীর খারাপ হলে মাকে ডাক্তার দেখানো হলো।
ডাক্তার বললো শরীর প্রচন্ড দূর্বল কিছুদিন ফুল বেড রেস্টে থাকতে হবে।
আর আমি রাত দিন মায়ের সেবা করতে লেগে গেলাম।
এমনকি অনেক সময় রাতে জেগে ছিলাম।
যদি মায়ের কিছু দরকার পড়ে।

আর সকালের দিকে জিমুতে জিমুতে পড়ে যায়।
সারাটা দিন ধকল যায় আমার উপর।
নিজের রুমেও ঠিক মতো যায়নি।
নিভরাজ প্রতিদিন মায়ের রুমে আসে। আর বাবা তো কিছুদিনের জন্যে দেশের বাইরে গেছেন কি যেনো কাজে।
মা আমাকে অনেক করে বলে নিজের রুমে ঘুমুতে কিন্তু আমি মায়ের সাথেই ঘুমাই।

তারপরও নিভরাজ শাওয়ার নিতে গেলে ওর কাপড় বের করে রাখি।
ওর জন্যে টাইম মত খাবার বেড়ে দিই আর যদি লেইটে আসে তাহলে খাবার রুমে রেখে আসি।
এদিকে মা অনেকটা সুস্হ হয়ে যায়।
আমি রুমে এসে দেখি নিভরাজ শুয়ে আছে অবেলায়।
এমন সময় তো ও শুয়ে থাকে না।
শরীর খারাপ করে নি তো।
আমি ধীরে ধীরে ওর কপালে হাত রেখে দেখি ওর শরীর গরম হয়ে আছে।

আমি হাত লাগানোর সাথে সাথে ও চোখ খুলে আমাকে দেখে চট করে বসে পড়ে।
তুমি?

আমি না মানে আপনার তো জ্বর মনে হয়।
ওয়েট আমি এক্ষুনি আসছি।
নিভরাজের জন্যে লাল চা মসলা দিয়ে করে আনলাম।
এটা খেলে কিছুটা ভালো লাগবে।

আমি চা টা টেবিলে রেখে উনাকে দেখি কারো সাথে কথা বলছেন।
কাকে যেনো বলছে প্রচন্ড মাথা ব্যাথা করছে।
আমি ড্রয়ার থেকে বিকসটা নিলাম।

উনার কথা শেষ হলে চা টা উনার হাতে দিয়ে পাশে বসে বিকস উনার কপালে লগিয়ে দিতেই উনি চিৎকার করে বলে উঠলেন।
হোয়াট দ্যা হেল আর উই ডুয়িং।

তারপর চা টা ছুড়ে নিচে ফেলে দেয়।
আমি চমকে যায় ভয়ে।
বিকসের কৌটা আমার হাত থেকে পড়ে যায়।
আমি আমতা আমতা করে।
আপনার মাথা ব্যাথা করছে তো।

নিভরাজ চোখ লাল লাল করে ধমকের সুরে বললো,
মাথা ব্যাথা করছে তো কি।মাথায় চড়ে বসবে নাকি।
তোমাকে বলেছি আমি আমার যত্ন নিতে।
এত মানা করা সত্তেও কেনো আমার কাছে আসো।
কেনো আমার যত্ন নাও।

দূরে থাকতে পারো না আমার থেকে।
আমি তোমাকে সহ্য করতে পারিনা।
চুপচাপ সব এতদিন সহ্য করেছি বলে কি মাথায় চড়ে বসবা।
যা ইচ্ছে তাই করতে পারবা।

তুমি এই বাড়িতে বউ হয়ে এসেছো ঠিক।
বাট আমার ইচ্ছাতে না।
সো বেশি বাড়াবাড়ি আমি পছন্দ করিনা।
যাও এখান থেকে।
দরকার নেই তোমার কোনো সহানুভূতির।

আমার চোখ দিয়ে আপনা আপনিই পানি পড়ছে।
নিভরাজ এত সহজে কেমনে এত বড় বড় কথা গুলো বলে ফেলে।
ওর এমন কথা গুলো আমার বুকটা ছিড়ে ফেলে যতটুকু যায়।
কষ্টে আমি ঠিকমতো দাড়াতেও পারছি না।

মনে হচ্ছে কেউ ছুড়ি দিয়ে ইচ্ছে মতো আঘাত করছে।
আমি এত বেহায়া কেনো।
মানুষটা মানা করা সত্তেও কেনো বারবার তার সামনে আসি।
যখন তার জন্যে কাপড় বের করে রাখি সে সেইম কাপড়টা না পড়ে অন্য একটা বের করে পড়ে।
এত ইগনোর করার পরও কেনো বুঝিনা আমি বারবার তার কাছে আসি।

কেনো তার এসব তীরের ফলার মতো কথা গুলোও আমার বেশ লাগে।
তার প্রতি ভালোবাসাটা কেনো কমেনা।
কেনো কেনো।
এই কেনোর উত্তর আমি নিজেও জানিনা।
কিচ্ছু জানিনা আমি।
শুধু জানি নিভরাজ আমি তোমাকে ভালোবাসি।
হুম অনেক ভালোবাসি।

এভাবে যে রাগ করে রুম থেকে বেরিয়ে গেছে।মোবাইলটা নিতে ভুলে গেছে।
কার যেনো ফোন এসেছে।

মোবাইলটা হাতে নিতেই সেই ভিডিও কলে কথা বলা মেয়েটার হাসি মাখা ছবি ভেসে উঠলো।
একটা মেসেজও এসেছে।
বেবস ফোনটা রিসিভ করো।ইমপরট্যান্ট কথা আছে।

কেনো জানিনা এই মেয়েটাকে আমি সহ্য করতে পারিনা।
নিভরাজের বিয়ে হয়ে গেছে মেয়েটা কি জানেনা।
কোনো বিবাহিত ছেলের সাথে কথা বলার কি দরকার আমি বুঝিনা।
রিং বাজলে আমি কেটে দিলাম।
সাইলেন্ট করে ড্রয়ারে রেখে কিচেনে চলে আসি।

সন্ধ্যের দিকে মেঘের গর্জন শুরু হয়।
আর দমকা বাতাস।
এমন প্রচন্ড বাতাসে দাড়িয়ে থাকতে আমার খুব ভালো লাগে।
এলোপাতাড়ি বাতাস দোল খেতে থাকে শরীরের সাথে।
তখন কি যে মজা লাগে আমার।
একটু পর নামবে অন্ধকার।চারোদিকে জানালা দরজা বন্ধ করে ছাদে গেলাম।

গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি দিয়ে শুরু হলো আমার বৃষ্টি উপভোগ করা মানে ভেজা।
ছোট ছোট বিন্দু থেকে বড় বড় বিন্দুতে পরিণিত হলো।
পুরো ভিজে ঢোল হয়ে গেছি আমি।
এদিকে অন্ধকারটাও নেমে এসেছে পুরোপুরি।
তারপরও আবছা আলো রয়ে গেছে।

বৃষ্টিতে ভেজা সেই ছোটকাল থেকেই আমার অভ্যেস।
আম্মুর বকা খেয়েও লুকিয়ে ভিজতাম।
অনেক্ষণ লাফালাফি করলাম।
মা এসে ডাক দিয়ে গেলো।
কিন্তু কে শোনে কার কথা।
আজ তো আমি ইচ্ছে মতোই ভিজবো।

হঠাৎ দরজার দিকে চোখ যেতেই লাফালাফি থামিয়ে দিলাম।
এমন ভাবে ভিজে গেছি যে কাপড়টাও ঠিকমতো টেনে নিজেকে ঢাকতে পারছিনা।
বড্ড বেহায়া বেহায়া মনে হচ্ছে।
বৃষ্টি আমার মাথার উপর দিয়ে টপ টপ করে পড়ে কপাল।চোখ।আর ঠোটঁ ছুয়ে নিচে পড়ছে।
সামনে আগান্তুককে দেখে যে ভেতরটা আরো দুমিয়ে উঠলো।
এবার হালকা কাপুনি দিয়ে উঠছি আমি।
নিভরাজ এতক্ষন ধরে দাড়িয়ে আমায় দেখছিলো।

আর এখন ধীরে ধীরে আমার কাছে আসছে।
নিভরাজ আমার যতটা কাছে আসছে ঠিক তার দ্বিগুন কাপুনি দিয়ে উঠছে আমার শরীরটা।
কেনো জানি লজ্জা করছে আমার।
নিভরাজ আমার অনেকটা কাছে চলে এলো।

ওর ঠোটঁ যখনি আমার ঠোটঁ বরাবর আনবে ঠিক তখনি দড়ম করে বিজলী চমকে উঠলো আর আমিও চমকে উঠলাম।
হায়রে ভাবনা তুই এত স্বার্থপর কেন রে।
আর এই নিভরাজটাও না জাস্ট ভাবনাতেই আমার কাছে আসে বাস্তবে না।

সে এখনো দরজার পাশেই হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছে।
চিৎকার করে কি যেনো বলছে।
বৃষ্টির ঝমঝম শব্দে শুনতে পাচ্ছি না।
শুধু ঠোটঁ নাড়ানো টা বুঝতে পারছি।

অনেক্ষণ ধরে বৃষ্টিতে ভেজার ফলে আমার কেমন জানি লাগছে।
দাড়ানোর মধ্যে আমি ঘুরে পড়ে যাচ্ছি।
খুব ঠান্ডা অনুভব করছি।
আমার চোখ বন্ধ হয়ে আসছে।

নাহ আর পারছি না।
গা এলিয়ে দিতেই ঝাপসা ঝাপসা চোখে দেখলাম নিভরাজ তার বাহুডোরে আমাকে ধরে রেখেছে।
আমার নাম ধরে কত সুন্দর করে ডাকছে।
সানাত উঠো।
সানাত কি হয়েছে তোমার?

সানাত।সানাত।
আমি চেষ্টা করেও কোনো জবাব দিতে পারছি না।
কখনো আমার নাম ধরে ডাকেনি। সাড়া দেওয়ার ইচ্ছে থাকলেও দেওয়া হয়নি।
কিন্তু আজ।ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস।
সে আমাকে ডাকছে কিন্তু আমি শুনেও সাড়া দিতে পারছি না।

আমি সব অনুভব করতে পারছি কিন্তু নিজেকে ঠিক সামলে নিতে পারছি না।
যেনো নিজ থেকে কন্ট্রোল হারিয়ে গেছে।
নিভরাজ আমাকে কোলে করে রুমে নিয়ে আসে।
টাওয়াল দিয়ে আমার চুল। হাত।মুখ যতটুকু পারে মুছে দেয়।
ভেজা কাপড় দেখে সে কেমন জানি করে।
আমার লাগেজ থেকে কাপড় বের করে পাশে রেখে মাকে ডাক দেয়।

তারপর আর কি।
সে বাইরে চলে যায় আর মা আমাকে চেইন্জ করে দেয়।
আর ব্লানকেট দিয়ে আমাকে কিছুক্ষণ ঘুম পাড়িয়ে দেয়।
ঘন্টা খানেক পর আমি ঘুম থেকে উঠলাম।
এখন কিছুটা বেটার লাগছে।

মা আমার জন্যে গরম গরম স্যুপ করে আনে।
পুরো এক গ্লাস দুধ খেতে জোর করে।
অথচ নিজে এখনো পুরোপুরি সুস্হ হয়নি আর আমার কত খেয়ার করছে।
মা আমাকে বকছে।
তোমায় আমি বারবার নিষেধ করেছি তারপরও তুমি কেনো ভিজলে।
ভাগ্যিস নিভরাজ এসেছিলো।

ও আসার সাথে সাথে ওকে পাঠিয়ে ছিলাম তোমায় নিয়ে আসতে।
নয়তো আজ কি যে হত।
আর কক্ষনো ভিজবা না।

পরদিন আমি সুস্হ হয়ে উঠি।
আমি রুম গুছাচ্ছিলাম আর হঠাৎ পিছন থেকে নিভরাজের কন্ঠ।
এখন কেমন লাগছে?

এই একটা কথাই যথেষ্ট ছিলো আমার জন্যে।
এত্ত যে খুশি লাগছে আমার।
মনে হয় এখনি পুরোপুরি ভালো হয়ে গেছি।
নিভরাজ আমাকে।
মানে আমাকে জিঙ্গেস করছে আমি কেমন আছি?

ভালো না থাকলেও ওর কথাটা শুনে আমি ভালো।
এত একসাইটেড যে প্রায় আধঘন্টা পর রিপ্লে দিলাম।
এতক্ষণ চুপ ছিলাম।
মনে মনে যে লাড্ডু ফুটছিলো।

কিন্তু রিপ্লেটা শুনার মত কেউ ছিলোনা।
নিভরাজকে কোথাও দেখিনি।
মোবাইলটা টেবিলের উপর ছিলো।

বোধহয় চলে গেছে।
আল্লাহ সে একন কি ভাববে।
বলবে কি আমি রিপ্লে কেনো দিলাম না।
এটাও তো কথা।সে কি আমার রিপ্লের জন্যে বসে থাকবে।

ওহ আমিতো ভুলেই গিয়েছিলাম।
আজ তো আমার জন্যে স্পেশাল দিন।
আজ নীল শাড়িটা পড়বো।
তবে আলমারী থেকে শাড়ি নিয়ে পড়ার খুব ইচ্ছে ছিলো।

কিন্তু নিভরাজ রেগে যাবে।
ও সাফ সাফ মানা করে দিয়েছে আলমারীতে যেনো আমি হাত না দিই।ওহ আমিতো ভুলেই গিয়েছিলাম।
আজ তো আমার জন্যে স্পেশাল দিন।
আজ নীল শাড়িটা পড়বো।
তবে আলমারী থেকে শাড়ি নিয়ে পড়ার খুব ইচ্ছে ছিলো।

কিন্তু নিভরাজ রেগে যাবে।
ও সাফ সাফ মানা করে দিয়েছে আলমারীতে যেনো আমি হাত না দিই।

আমার লাগেজটা কই দেখছি না কেনো।যেখানে রেখেছিলাম সেখানে নেই।
এদিক সেদিক খুজতেই চোখ পড়লো আলমারীর উপর।
ওখানে লাগেজটা দেখা যাচ্ছে।
কে রাখলো ওটা।
আলমারীর উপর আমি নাগাল পাচ্ছি না।

টি টেবিলটা টেনে কোনো ভাবে লাগেজটা নিলাম। কিন্তু এটা কি।
লাগেজটা সরানোর পর দেখি কিছু একটা দেখা যাচ্ছে আরেকটু দূরে।
আমি ওটা নিতে পা গুলোকে আলাগ করলাম।
কোনোভাবেই নাগাল পাচ্ছি না।

তবে একটা বক্স মনে হচ্ছে।
এটাতো অবিকল আপুনির আলমারীতে রাখা সেই বক্সটার মতো।
এবার বক্সটা নেওয়ার জন্যে আরেকটু এগোতেই আমি টেবিলের এক প্রান্তে চলে আসাতে টেবিলটা উল্টে আমি পড়ে যাই।
পড়ে যাবার আগ মুহূর্তে আমি চোখ বন্ধ করে মনে মনে বলি।
আল্লাহ আমাকে বাচাও নয়তো আমি শেষ।

তবে অনুভব করতে পারছি কেউ আমায় পড়ার আগেই ধরে ফেলেছে।
আর আমিও পড়ে না যাবার জন্যে তাকে দুহাত দিয়ে আকড়ে ধরি।
ধীরে ধীরে চোখ খুললাম।
চোখ খুলেও আমি চোখ বড় বড় করে নিভরাজের দিকে তাকিয়ে রইলাম।
তার কোলে আমি।
দ্বিতীয় বারের মত সে আমায় কোলে নিয়েছে।

আমি তার দিকে তাকিয়ে আছি আর সে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
কেনো জানি চুবসে যাওয়া মনটা আবারো নতুন স্বপ্ন বুনতে শুরু করলো।
কোনো এক পথে চলতে আহব্বান জানালো।
নিভরাজ আমায় আবারো বাচালো।
কিন্তু কেনো?

নিভরাজ আমাকে কোল থেকে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে আলমারী খুলে তার জ্যাকেটটা নিয়ে বাইরে চলে গেলো।

আর আমি হারিয়ে গেছি কোনো এক অজানা নগরীতে।
যেখানে শুধুই নিভরাজের বসবাস।
আজ স্পেশাল দিন এজন্য যে আজকের এই দিনেই তো আমাদের কাবিন হয়েছিলো।
আমি সবসময় এই দিনে নিজেকে সাজাতাম।

তারপর কোনো বাচ্ছাদের পেলে তাদের কিছু খাবার কিনে দিতাম।
ফকিরদের খালি হাতে ফেরত দিতাম না।
জানিনা কেনো আমি এই দিনে এসব করি।

আজ নিজের হাতে কেক বানালাম।
সেই দিনের কাবিনের শাড়িটাও পড়লাম।
সাজলামও ইচ্ছেমত।
রাতে নিভরাজ এলে এসব দেখে জিঙ্গেস করলো।
এসবের মানে কি?
রুমটাকে এমন জগন্য করে রেখেছো কেনো?

আমি আজ আমাদের জন্যে অনেক স্পেশাল একটা মোমেন্টস।
আপনার মনে নেই।
আজ থেকে ঠিক তিন বছর আগের এই দিনে আমাদের কাবিন হয়েছিলো।
তো আমাদের জন্যে স্পেশাল না।
এটাকে সেলিব্রেট করতে হবে না বুঝি।
আমি মুচকি হাসি দিয়ে কেকটা উনার সসামনে রেখে বললাম।এই নিন কেকটা কাটুন।

নিভরাজ লাল লাল চোখ করে প্রথমে আমার দিকে তাকালো তারপর কেকটা এক ঝটকায় ছুড়ে নিচে ফেলে দিলো।
সেই মুহূর্তে আমার এমন মনে হলো যেনো সে আমাকেই ছুড়ে ফেলেছে।

তারপরও আমি নিজেকে সামলে নিয়ে নিভরাজের মুখে হাত বুলিয়ে বললাম।
আপনি সবসময় এমন করেন কেনো।
এখানে রাগ করার কি আছে?

নিভরাজ এবার আমার হাত চেপে ধরে ঠিক আমার পেছন বরাবর হাত নিয়ে আমাকে টেনে ওর অনেকটা কাছে নিয়ে যায়।
তারপর খুব রাগি কন্ঠে বলে।
হ্যা মনে আছে তো আমার।
আজকেই এই দিনেই তো আমাকে বাধ্য হয়ে তোমায় বিয়ে করতে হয়েছে।
এই দিনকে আমি কিভাবে ভুলবো।
লজ্জা করেনা তোমার।নিজের খুশীর জন্যে সোহার কথা কেমনে ভুলে গেলা।
ছি ছি।

এত জঘন্য তুমি সানাত।
আমি কক্ষনো সোহাকে ভুলতে পারবো না কক্ষনো না।
আর তোমার স্বার্থকথা সেটাও ভুলা যাবেনা।
স্বার্থপর একটা তুমি।
নিজের খুশীর জন্যে তোমার মত মেয়েরা সব করতে পারে।

নিভরাজের কথাগুলো আমার শরীরটাকে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে।
এদিকে হাতে প্রচন্ড যন্ত্রনা হচ্ছে আমার।
কিন্তু তার চাইতেও বেশী যন্ত্রণা হচ্ছে মনে।
আমি নাকি স্বার্থপর।

আমি কিছু বলছি না। কিন্তু আমার দুচোখ দিয়ে শুধু অনবরত পানি পড়ছে।
নিভরাজ আমার চোখের দিকে তাকিয়ে আমায় ছেড়ে দিয়ে রুম থেকে চলে গেলো।
আর আমি ধপ করে ফ্লোরে বসে অঝোর ধারায় কাদতে লাগলাম।
নিভরাজ আমায় স্বার্থপর বললো,

আমার মতো মেয়েরা নিজের খুশীর জন্যে সব করতে পারে।
হ্যা ও তো ঠিকিই বলেছে।
সব আমার জন্যে হয়েছে।
এসব ভাবতে ভাবতে আমি খাটের উপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লাম।

সকালে মায়ের ডাকে আমার ঘুম ভাঙ্গলো।
মা রুমের এমন অবস্হা দেখে জিঙ্গেস করলো এসব কেমনে হলো?
আর নিভরাজ কোথায়?

নিভরাজ কি তাহলে আসেনি?
মা আমিতো জানিনা।
ওহ গতকাল রাতে এটা আমার হাত থেকে পড়ে গেছে আর।
মা ওহ আচ্ছা।
সানাত নিভরাজ কি রাতে আসেনি?

আমি এসেছিলো তো মা।হয়তো আবার ফ্রেন্ডের বাসায় গেছেন।
ওহহ আমিতো ভুলেই গিয়েছিলাম।
উনি তো আমায় বলে গেছিলেন।

মা ::::::: ঠিকাছে তাহলে।
কই তুমি এসো। বেলা হয়ে গেলো যে।
নাশতা করবে তো।

মা চলে গেলে আমি ফ্রেশ হয়ে নিলাম।
এই প্রথম মায়ের কাছে মিথ্যে বলেছি।
বোধহয় উচিৎ হয়নি।
তবে আমাদের মধ্যকার কাহিনিটা জানালে যে উনি কষ্ট পাবেন।
শুধু শুধু চিন্তা করবেন।
অসুস্হ মানুষ এমনিতে।

দুইটা দিন পার হয়ে গেলো অথচ নিভরাজের কোনো খবর নেই।
ফোন দিচ্ছি বাট বন্ধ বলছে।
খুব টেনশন হচ্ছে আমার।
মাকে তো একটা বলে শান্ত রেখেছি এখন নিজেকে কিভাবে শান্ত করি।
কিভাবে। কোথায় পাবো নিভরাজের খবর?

নিভরাজ কেনো বারবার আমার সাথে এমন করে।
না বলে উদাও হয়ে যায়।
হয়তো সে আমার কেয়ার করে না বাট আমি তো ওর খুব কেয়ার করি।
ওর আমাকে প্রয়োজন নেই কিন্তু আমার ওকে প্রয়োজন। খুব বেশি প্রয়োজন।

আজ তিনদিন হলো আজও সে বাসায় আসেনি।
এদিকে মা আমাকে ওর কথা জিঙ্গেস করতে করতে পাগল করে দিচ্ছেন।
তাও মিথ্যে আশা দিচ্ছি উনাকে।
নাহ এভাবে ঘরে বসে থাকলে চলবে না।

কিছু একটা করতে হবে।
বিকেলের দিকে রেডি হয়ে নিচে নামতেই মা বললো,
বউমা কোথায় যাচ্ছো?

আমি থতমত খেয়ে। ভেবেছিলাম মায়ের কাছ থেকে লুকিয়ে বেরুবো।
কিন্তু উনি সামনে পড়ে গেলেন।
আমি: ইয়ে মানে।
মা আমি। আমি বাসায় যাচ্ছি।
আম্মুর সাথে দেখা হয়না কতদিন তাই ভাবলাম একটু দেখা করে আসি।

মা ::::::: এটাতো খুব ভালো।
চলো আমিও তোমার সাথে যায়।

আমি: না না মা।আপনি কেনো যাবেন।
মা এবার আমার দিকে ভ্রু কুচকে তাকালেন।
না মানে বলছিলাম কি।
বাসায় তো কেউ নেই।
আর আপনি অসুস্হ।নিভরাজ যদি আসে তখন?

মা বুঝতে পেরে।ওহ আমিতো ভুলেই গিয়েছলাম।
হ্যা রে মা।
ছেলেটা এসে তো প্রথমে আমায় খুজবে।
ঠিকাছে তুমি যাও আমি নাহয় পরে যাবো।

আমি: ঠিকাছে মা।
মা আমাকে মাঝে মাঝে তুমি আবার মাঝে মাঝে তুই করে বলে।
মাঝে মাঝে সানাত ডাকে আবার মাঝে মাঝে বউমা।
আমি বেরিয়ে গেলাম।
ওর ফ্রেন্ড যতোটা চিনি সবার সাথে কথা বলে জানলাম ওর সাথে কারো দেখা হয়নি।
কিন্তু দুদিন আগে নিমাজের সাথে দেখা হয়েছিলো।

খুব আপসেট ছিলো নাকি।
কিন্তু ওর মনের কথা কাউকে বলতো না।
অনেক খোজাখুজির পরও ওকে পেলাম না।
কোথায় আপনি?
এভাবে আমাকে এত কষ্ট দেন কেনো?

সন্ধ্যে পেরিয়ে এখনি রাত নামবে।
আকাশটা অন্ধকারকে বরণ করে নিবে।
নিভরাজের চিন্তায় চিন্তায় আমার মাথাটা ঘুরছে।
এলাকার গলি দিয়ে যাচ্ছিলাম।
কেমন জানি মাথাটা ভো ভো করছে।

পিছন থেকে গাড়ির হরণ শোনা যাচ্ছে।
আমি গাধার মতো না সরে পিছনে ফিরতেই আরেকটুর জন্যে গাড়িটা আমার উপর দিয়ে যেতো নয়তো আমাকে ধাক্কা দিয়ে কোমায় পাঠিয়ে দিতো।
ভাগ্যিস গাড়ির ড্রাইভার গাড়ি সময়মতো ব্রেক করেছে।

আমি নিজেকে ঠিক করতে করতে গাড়ি থেকে কেউ একজন নেমে এসে আমাকে ধরে পাশের বেন্চিতে বসালো।
তারপর পানি খাওয়ালো আর কিছুটা মুখে ছিটিয়ে দিলো।
এবার অনেকটা হালকা মনে হচ্ছে।
যার পাশে বসে আছি তার দিকে তাকিয়ে আমি অবাক।
আরে আপনি?
আমার সামনে আরাভকে দেখতে পাচ্ছি।

আরাভ হ্যা আমি।
তুমি ঠিক আছো তো?
কি হয়েছিলো তোমার?
এত হরণ বাজানোর পরও তুমি সরছিলে না কেনো?
আমি ছিলাম বলে কোনোরকম ব্রেক করেছি। যদি অন্য কেউ হতো তাহলে যে আজ কি হতো।

আমি ধন্যবাদ আপনাকে।
একচুয়েলী আমি এমনিতে হাটছিলাম।

আরাভ পানিটা আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে।
আরেকটু পানি খাও। রিলেক্স হও তারপর বলো কি হয়েছে?

আমি: না কিছু হয়নি তো।
আরেকটু পানি খেলাম।

আরাভ ::::::: কিছু না হলে তুমি এখানে কেনো।
তোমার বাসা তো এখানে না।
কি সমস্যা আমায় বলতে পারো।

আমি: নাতো। কোনো সমস্যা না।
হঠাৎ সামনে দিয়ে আজমকে যেতে দেখলাম।
আমি ওর কাছে ছুটে গেলাম।
আজম আজম দাড়াও।

আজম আমাদের এলাকার ছেলে।
খুব ভালো ছেলে।
জুনিয়র হলেও ওর কাছে এলাকার সবার কমবেশি খবরাখবর পাওয়া যায়।
একটু দূরেই ওর একটা ফুলের শপ রয়েছে।

আমাকে দেখে আজম দাড়ালো।
সানাত আপু কেমন আছো?

আমি: হ্যা ভালো। তুমি কেমন আছো?

আজম আমিও ভালো।
তা আপু ভাইয়া কেমন আছে?
আর ভাইয়ার প্রতিদিন সারপ্রাইজটা কেমন লাগে তোমার?

আমি একটু অবাক হলাম।
সারপ্রাইজ।
মানে কি?

আজম ::::::: ভাইয়া যে প্রতিদিন বিকেলে তোমার জন্যে ফুলের বাকেট নিয়ে যায় সেইটার কথা বললাম।
সবচেয়ে স্পেশালটাই কিনে নেয়।

আমি অনেক অবাক হলেও সেটা ওকে দেখালাম না।
ওহহ আচ্ছা।
আজও কি নিয়েছে?

আজম ::::::: হ্যা।
প্রতিদিন নেয়।

আমি: ওহহ।
তারপর।তো তোমার ভাইয়া কোন দিকে গেছে আজ বলতে পারো।
না মানে এখনো বাসায় যায়নি তাই জিঙ্গেস করলাম।
আমার পাশে আরাভটাও দাড়িয়ে আছে।
যদি বুঝে যায় তাই এভাবে পেছিয়ে বলতে হচ্ছে।

আজম :::::::: ঝর্ণা দিঘীটার দিকে যেতে দেখলাম।
আর বেশির ভাগ ওদিকেই যেতে দেখি।

এবার আমার আর বুঝতে বাকি রইলো না নিভরাজ একিদন কোথায় ছিলো।
আচ্ছা আজম তুমি যাও।
তোমার লেইট হয়ে যাচ্ছে।

আরাভ :::::::: সানাত তুমিকি নিভরাজকে খুজছো?
কোথায় গেছে?

আমি::: কোথাও না।
আপনি এখন যেতে পারেন।

আমি হাটা ধরলাম আর আরাভ এসে আমার সামনে দাড়ালো।
ওয়েট সানাত।
তুমি আমাকে ফ্রেন্ড ভাবতে পারো।
এবার বলো কি হয়েছে আর আমি তোমায় কি হেল্প করতে পারি।

আরাভ জোর করছিলো।
হেল্প করতে চাইলো।
আমিও ভাবলাম জাস্ট ফেন্ড হিসেবে হেল্প করতেই তো চাইছে।
থাক সাথে তো যেতে পারে।
আবার ঐদিকে অসভ্য ইমরাজকে দেখা যাচ্ছে।
আড্ডা দিচ্ছে বখাটেদের সাথে।
একা গেলে সমস্যা হতে পারে তাই বাধ্য হয়ে আরাভকেও আসতে বললাম।

আরাভ জানতে চাইলেও আমি সত্যিটা বলিনি।
মিথ্যে কথা বলেছি।
ঝর্ণা দিঘীটার পাড়ে একটা বড় মসজিদ আছে আর তার পাশেই বড় কবরস্হান।
যেখানে শুয়ে আছে আমার কলিজার টুকরো আমার সোহা আপুনি।

আমার সাথে সাথে আরাভও দূর থেকে কবরস্হান দেখছে।
সোহা আপুনির কবরের পাশে অনেক গুলো বাকেট।
পায়ের পাশ বরাবর নিভরাজ বসে বসে কাদছে।
ওর কান্না আর ওর এমন বেহাল অবস্হা দেখে আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে।
ছেলেদের চোখের পানিটা যে কত মূল্যবান।
যখন তখন বা খুব সহজেই ঝড়ে না।

অনেক কষ্ট পেলে তারা কাদে।
নিভরাজ কেমন ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাদছে।
আমার চোখ দিয়ে টপটপ করো পানি গড়িয়ে পড়ছে।
আরাভ :::::::: নিভরাজ এখানে কেনো?
ও কি বাসায় যাবেনা?

আমি: বললাম না আমার উপর অভিমান করে চলে এসেছে।
এখন ওকে কিভাবে বাসায় আনা যায়।
ওকে দেখে মনে হচ্ছে আসবে না।

আরাভ মসজিদের হুজুরের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছে নিভরাজকে তারা অনেকে বাসায় চলে যেতে বলেছে কিন্তু সে এক পাও নড়ে না তার ইচ্ছে ছাড়া।
কেউ তাকে বাসায় নিতে পারছে না।
তিনদিনে মানুষটার কত পরিবর্তন হয়েছে।

কত অসহায় মনে হচ্ছে তাকে।
আমিও ঢুকরে কেদে উঠে বললাম।
আপুনিরে তোর ভালোবাসার মানুষটাকে আমি ভালো রাখতে পারিনি রে।
তাকে আমি একটু সুখ আমি দিতে।পারিনি।
শুধু কষ্ট দিয়েছি।

ক্ষমা করে দিস তুই আমাকে।
কিন্তু আমি তোকে কথা দিয়েছিলাম।
আমি কাউকে কষ্টে থাকতে দেবো না।
যা কিছুই হোক না কেনো।
আমি নিভরাজের মুখে হাসি ফুটাবোই।

পর্ব ১৬

কত অসহায় মনে হচ্ছে তাকে।
আমিও ঢুকরে কেদে উঠে বললাম।
আপুনিরে তোর ভালোবাসার মানুষটাকে আমি ভালো রাখতে পারিনি রে।
তাকে আমি একটু সুখ আমি দিতে।পারিনি।
শুধু কষ্ট দিয়েছি।

ক্ষমা করে দিস তুই আমাকে।
কিন্তু আমি তোকে কথা দিয়েছিলাম।
আমি কাউকে কষ্টে থাকতে দেবো না।
যা কিছুই হোক না কেনো।
আমি নিভরাজের মুখে হাসি ফুটাবোই।

আমি আরাভকে সব বুঝিয়ে দিলাম।
আরাভ মানুষটাও অনেক ভালো। নিভরাজকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে বাসায় নিয়ে এলো।
কিন্তু আমি যে সেখানে ছিলাম সেইটা আরাভকে বলতে নিষেধ করেছি।
যেহেতু নিভরাজ আমাকে অপছন্দ করে।সহ্য করতে পারেনা।
আরাভ মায়ের অসুস্হতার কথাও বলে নিভরাজকে।

তারপর নিভরাজ চলে আসে বাসায়।
আর আমিও ওদের পেছন পেছন এসে বাসায় আগে থেকে ঢুকে পড়ি।
মা নিভরাজকে দেখে খুশিতে পাগল হওয়ার মতো।

জড়িয়ে ধরেন ছেলেকে।
এতদিন কি করছিলি ফ্রেন্ডের বাসায়?
নিভরাজ ::::::: মা।আমি।

আরাভ ::::::: নিভরাজকে বলতে না দিয়ে।
আন্টি আমি ওকে জোর করে রেখে দিয়েছিলাম।
বললাম অনেকদিন পর আমাদের দেখা হলো।
একটু সময় কাটানো যাক।

নিভরাজও সায় দিলো আরাভের সাথে।
এটা আমার প্ল্যান ছিলো।
যা আমি আরাভকে বলতে বলেছিলাম।
আর আরাভ নিভরাজকে।
আড়ালে দাড়িয়ে আমি সব দেখছি।

মা বারবার নিভরাজকে জড়িয়ে ধরছেন।
আরাভের সাথে চোখাচোখি হলে ও ইশরায় আমাকে শান্তনা জানায়।
মানে সব ঠিকাছে।

তারপর মা নিভরাজকে নিজের হাতে পরম যত্নে খাইয়ে দিচ্ছেন।
খাওয়া শেষ হলে নিজের আচল দিয়ে
নিভরাজের মুখ মুচে দেন।
তারপর নিভরাজকে মাথায় হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেন।
আসলেই মায়ের মতো পৃথিবীতে দ্বিতীয় আর কেউ হয়না।

মায়ের এত ভালোবাসা।
এতদিন ছেলেকে না দেখে আমার শাশুড়ির মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছিলো না।
আর আজ।
চেহেরায় নুর উপছে পড়ছে।
চিকচিক করছে।

এবার আমার পালা। নিভরাজের মুখে হাঁসি ফুটানো।
বাবারে বাবা নিভরাজ যে ঘুম দিয়েছে উঠেছে ঠিক সকাল দশটায়।
ঘুম থেকে উঠেই সে ছাদে গেলো।
আমি জানতাম যে নিভরাজ সকালে ছাদে আসে।
তাই আগে থেকে রেডি ছিলাম।

গাছে পানি দিচ্ছিলাম।
আর নিভরাজ আসার অপেক্ষা করছিলাম।
নিভরাজ যেই না দরজা অতিক্রম করলো আমি লুকিয়ে গেলাম।
ও ছাদে এসে একটু হাটলো।গাছ গুলোকে দেখলো।
ফুলটাকে স্পর্শ করে ঘ্রাণ নিলো চোখ বন্ধ করে।

তারপর হালকা একটু ওয়ার্ক আউট করে নিজেকে সতেজ করে ছাদের এক পাশে দাড়িয়ে পাখিদের দেখছে।
তাদের খাবার দিচ্ছে।
পাখিগুলো নিভরাজের।
এতক্ষণ আমি মুগ্ধ হয়ে সব দেখছিলাম।
খুব প্রাণবন্ত মনে হচ্ছে নিভরাজকে।
ঠোটেঁর কোণে হালকা মৃদু হাসির রেখা।

এইতো মোক্ষম সুযোগ।
আমি পাইপ নিয়ে দৌড়ে নিভরাজের দিকে গিয়ে।
গুড মরনিং নিভরাজ বলেই পানির পাইপটা ওর দিকে ধরলাম।
ওর পুরো শরীর ভিজে গেছে।
ও হেসেঁ হেসে চুল ঝাকাতে ঝাকাতে।
সানাত কি করছো।
থামো বলছি।

ও দৌড়ে আমাকে ধরতে চাইছে।
সত্যিই ওর মুড এখন অনেক ভালো।
একটুও রাগ করছে না আমার সাথে।
ও ছুটে এসে আমাকে ধরে পাইপটা নিয়ে আমার দিকে ধরলো।
আমার নাকে মুখে পানি ঢুকে আমি শেষ।
আমি ওর থেকে পাইপটা কেড়ে নিতে লাফালাফি করছি।

ওর হাতে পাইপ নিয়ে উপর করে ধরেছে আমার দিকে।
আমি ওর অনেকটা কাছে এসে পাইপটা নেওয়ার চেষ্টা করছি।
হঠাৎ নিভরাজ আমার থেকে কিছুটা সরে দাড়ালো।

তখন আমারো হুশ এলো।
এটা কি করছি আমি।
তখন আবার নিভরাজ বলবে। বাহানা দিয়ে তার কাছে আসতে চাইছি।
আমি সংকোচ নিয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে রইলাম।

আর নিভরাজ নিচে চলে গেলো।
তবে মোমেন্টটা খুব ইনজয় করেছি।
নিভরাজের সাথে এই প্রথম কোনো হ্যাপী টাইম আমি স্পেন্ড করেছি।
অনেক অনেক বেশি ভালো লাগছে আমার।

ও কিভাবে হেসেঁ ছিলো।
দেখেই মনটা ভরে গেছে।
আমি নিচে নামলে মা সামনে পড়ে।
মা মিটিমিটি হেসেঁ বললো,
সকাল সকাল দুইটার কি হলো।

দুইটাই তো ভিজো ঢোল হয়ে গেছিস।
আমি লজ্জা পেয়ে মায়ের সামনে থেকে চলে আসি।
মা মনে হয় নিভরাজকেও ভিজে কাপড়ে
দেখে ফেলেছে।

আগামীকাল যে আরো একটা প্ল্যান আছে আমার।
তাই রাতেই সব সেরে ফেললাম।
মাকে একটা লিস্ট লিখে বলেছি ড্রাইভারকে দিয়ে এসব আনাতে।
মা জিঙ্গেস করলে বললাম সারপ্রাইজ।

রাতে দেরী করে ঘুমুলেও আমি সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে যায়।
তখনও সবাই ঘুম।
আমি আমার কাজে লেগে পড়ি।
এদিকে মা উঠে পড়ে।
মা আমাকে হেল্প করতে চাইলে আমি চুপচাপ মাকে বসিয়ে রাখি।
একটু পরই নিভরাজ ঘুম থেকে উঠবে।

নিভরাজ ঘুম থেকে উঠে নাস্তা করে আবার রুমে চলে এলো।
ওকে কিচ্ছু বুঝতে দেওয়া যাবে না।
সারাটা দিন আমি কাজ করেছি।
সকাল গড়িয়ে দুপুর।দুপুর গড়িয়ে বিকেল। বিকেল গড়িয়ে প্রায় সন্ধ্যে।
এখন আমার প্ল্যান শুরু।
মা নিভরাজকে মিথ্যে কথা বলে ঔষুধ আনতে বাইরে পাঠিয়ে দিলো।
আর তারাতারি আসতে বললো,

নিভরাজ চলে গেলো ঔষুধ আনতে।
এদিকে আমি আমার কাজ করছি।
শুকরিয়া আল্লাহর কাছে।
নিভরাজ আসার আগেই সব কমপ্লিট হয়ে গেছে।
আমরা যে যার পজিশনে আছি।
নিভরাজ দরজা খুলেই দেখে পুরো ঘর অন্ধকার।

নিভরাজ মা মা করে মাকে ডাকতে ডাকতে লাইটের দিকে যাচ্ছিলো।
তার আগেই চারোদিক লাইট জ্বলে উঠে।
আর এক এক পাশ থেকে নিভরাজকে অবাক করে দিয়ে ওর ভার্সিটির সব ফ্রেন্ডরা ওকে চমকে দিতে থাকে।
নিভরাজ খুব বেশি অবাক হয়।
সবাই নিভরাজকে ঝাপটে ধরে।

অনেক বছর পর নিভরাজের সব ফ্রেন্ডকে অনেক কষ্টে এক করেছি।
আর প্রতিটা দেওয়ালে ওদের সব ছবি দিয়ে সাজিয়েছি।
নিভরাজ সব ফ্রেন্ডকে এত দিন পর একসাথে পেয়ে অনেক অনেক খুশি হলো।
ওরা সারা রাত গল্প।গুজব করে কাটিয়ে দিলো।
ওদের জন্যেই তো সকাল থেকে আমি রান্না করেছি।

আর নিভরাজের সব ফ্রেন্ডকে একসাথে করতে পেরেছি শুধু মাত্র আরাভের জন্যে।
আজ যদি ও আমাকে হেল্প না করতো তাহলে নিভরাজকে এত খুশি করতে পারতাম না।
নিভরাজের চেহেরা দেখে বুঝা যাচ্ছে ও কতোটা হ্যাপী।

নিভরাজের ফ্রেন্ডরা চলে যাবার পর আমি আরো একটা প্ল্যান করলাম আরাভের সাথে।
নিভরাজকে নিয়ে বাইরে ঘুরতে যাবো।
ওর পছন্দের জায়গায়।
বাট আপুনির কাছে শুনেছিলাম ওর সবচেয়ে পছন্দের জায়গা হচ্ছে সমুদ্রের পাড়।
ও সবসময় ঐ জায়গাতেই বেশী যেতো।
তারপর মাকেও আমাদের প্ল্যানে মিলিত করলাম।

মা নিভরাজকে বুঝিয়ে রাজি করালো।
আর নিভরাজও মায়ের কথাই রাজি হলো।
যেহেতু তার মায়ের ইচ্ছে।
কিন্তু আমরা কোথায় যাচ্ছি সেটা নিভরাজকে বলা হয়নি।
কারণ এটাও তার জন্যে সারপ্রাইজ ছিলো।

গাড়ি থামলে সবাই গাড়ি থেকে নামলেও নিভরাজ কেনো জানি তব্দা মেরে বসে আছে।
আমরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছি।
যখন মা ডাকলো নিভরাজ ঘোর কেটে গাড়ি থেকে নেমে এলো।
ভেবেছিলাম ওর মুখে হাসি দেখবো কিন্তু না ওর মুখটা মলিন করে আছে।

আমরা অনেক্ষণ সময় কাটালাম সমুদ্রের পাড়ে।
আমিতো পানিতেও ভিজলাম।
আইসক্রিম খেলাম।
তারপর আরাভ বাদাম এনে আমার দিকে বাড়িয়ে দিলো।
আমি বাদাম খেতে খেতে বললাম।
বোধহয় নিভরাজ হ্যাপী হয়নি।
দেখেন না ওর মুখটা কেমন মলিন হয়ে আছে।

আরাভ একটু দুরুত্ব রেখে আমার পাশে বসলো।
হুম তাতো দেখছি।
বাট কারণটা কি।
তার পছন্দের জায়গায় নিয়ে এলাম।
কিছু বুঝতে পারছি না।
নিভরাজের সামনে বাদাম।আইসক্রিম সব দিলাম বাট সে কিছুই নিলো না।
শুধু এক ধ্যানে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে আছে।

হঠাৎ আমার মনে পড়লো।এটা জাস্ট নিভরাজের পছন্দের জায়গা না এটাতো আপুনিরও পছন্দের জায়গা।
মানে আপুনিও নিভরাজের সাথে এখানে অনেকবার এসেছে।
আরে আমিতো ভুলেও গেছিলাম।
উফফফ সিট।
নিশ্চয় নিভরাজের পুরোনো স্মৃতি মনে পড়েছে।

এটা আমি কি করলাম।
হ্যাপী করতে গিয়ে সেড করে দিলাম।
বাসায় আসার সময় সারাটা পথ নিভরাজ কারো সাথে কথা বলেনি।
মুখটা মলিন করেই ছিলো।
বাসায় এসে রুমে গিয়েই দরজাটা ধপ করে বন্ধ করে দিলো।
পিছনে তো আমিও ছিলাম।

রাতে আর দরজা খুলেনি।
মা অনেক বার ডেকেছেন ডিনার করতে।
আমিও ডেকেছি বাট সে আসেনি।
নিভরাজ আগের চাইতে অনেকটা বদলে গেছে।
এখন আমার সাথে তেমনটা রাগ দেখায় না।

সকালে দরজা খুললে আমি চা নিয়ে গেলাম।
আমি গুড মরনিং বলে রুমের পর্দা উঠিয়ে দিলাম।
চা টা উনার হাতে দিলাম।
উনি কিছু বললো না।
আমার হাত থেকে চা টা নিয়ে চুমুক দিতে থাকে একের পর এক।

আমি: চা টা কেমন হয়েছে?
ভালো?

নিভরাজ আমার দিকে তাকিয়ে।হুম।
তারপর আবার চুমুক দিলো।
আচ্ছা আপনি এখন শেইভ করেন না কেনো?
এটা তো জাস্ট নিভরাজের সাথে কথা বলার বাহানা।

নিভরাজ ভ্রু বাকা করে আমার দিকে তাকালো।
জানেন আপনাকে ঠিক বুইডা দাদাদের মতো লাগে।
ঐ যে দাড়োয়ান কাকার মতো।
আমি হাসতে লাগলাম।

নিভরাজ চায়ে চুমুক দিতে দিতে আমার দিকে আজব দৃষ্টিতে থাকিয়ে আছে।
হয়তো ভাবছে পাগল টাগল হয়ে গেছে নাকি।
নিজে কথা বলে আবার নিজেই হাসে।

মনে মনে অনেক সাহস যুগিয়ে কথাগুলো বলছিলাম।
ভেবেছিলাম রাগ করে চা টা ছুড়ে মারবে আর আমায় এত গুলা কথা শুনাবে।
কিন্তু না সে শুধু নির্বাক হয়ে আমার কথা শুনছে আর আমায় দেখছে।
হ্যা। না কিচ্ছু বলছে না।

রাতে আম্মু ফোন করে আমাকে আর নিভরাজকে বাসায় যেতে বলে খুব জোর দিয়ে বলে।
মা আম্মুকে বলে দিলেন যে আমরা যাবো রাতে।
নিভরাজকে বললে সে প্রথমে রাজি হয়না।
তারপর আমি রুমে গিয়ে খুব অসহায় ভঙ্গিতে নিভরাজকে বললাম।
চলেন না আমাদের বাসায়।
আম্মু আব্বু কত আশা করে বলেছেন।
না গেলে ওদের মনে কষ্ট পাবে।

নাহ কিছু হলোনা।
নিভরাজ চুপ করে বসে রইলো।
আমি আর মা রেডি হয়ে নিচে এলাম।
আমার খুব মন খারাপ হলো।
নিভরাজ গেলে আম্মু আব্বু খুব খুশি হত।

যখনি আমরা বের হবো বাসা থেকে অমনি সিড়ি বেয়ে নিভরাজ নেমে এলো।
নিভরাজ রেডি হয়ে এসেছে।
মাকে বললো,
আমাকে না নিয়েই চলে যাচ্ছো মা।
মা হেসে জবাব দিলো।
তুই তো যাবিনা বলেছিলি।

নিভরাজ: তাই বলে একাই চলে যাবা।
আচ্ছা চলো দেরী হয়ে যাচ্ছে।
নিভরাজ ড্রাইভারকে থাকতে বলে নিজেই ড্রাইভিং সিটে বসলো।
আমার যে কি খুশি লাগছে।
জানিনা আপনা আপনিই মুখে হাসির ঝলক দেখা যাচ্ছে বুঝতে পারছি।

আম্মু আব্বু এতকক্ষণ আমাদের জন্যে ওয়েট করছিলেন।
নিভরাজকে দেখে আব্বু আম্মু প্রচন্ড খুশি হলেন।
আমরা একসাথে ডিনার করলাম।
রাতেই আবার বাসায় চলে আসি।

আমি চুড়ি খুলছিলাম হঠাৎ নিভরাজ ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে মুখ মুছতে মুছতে আমায় বললো,
সানাত আমাকে একটু কফি এনে দিবা?

আমি চোখ বড় বড় করে ওর দিকে তাকিয়ে আছি।
বসা থেকে উঠে গেছি।
কি বলছে নিভরাজ।

সত্যিই কি ও আমাকে বলছে ওর জন্যে কফি আনতে।
যে মানুষটা আমার সাথে কথা পর্যন্ত বলে না সে নাকি আমায় তার জন্যে কফি আনতে বলছে।
আমার বিশ্বাস হচ্ছে না।

নিভরাজ আমাকে এভাবে দেখে।
আচ্ছা থাক লাগবে না।
তুমি ও তো টায়ার্ড হয়ে গেছো।

আমি: না।না মানে।
আমি একদম ঠিকাছি।
কফি এক্ষুনি করে আনছি।

আমি ছুটে গেলাম কিচেনে।
খুশীতে পাগল পাগল হয়ে যাবো মনে হচ্ছে আমার।
এমন মনে হচ্ছে যেনো ধীরে ধীরে সব ঠিক হয়ে যাচ্ছে।
খুব আগ্রহের সাথে কফি বানাচ্ছিলাম।
কিন্তু এসব ভাবতে ভাবতে পানিটা শুকিয়ে গেছে

ধৈৎ।কি হচ্ছে এসব।
আবার পানি তুলে দিলাম।
কফি বানিয়ে রুমে এসেই দেখি নিভরাজ ঘুম।
খুব গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন সে।
এত তারাতারি কিভাবে ঘুমিয়ে পড়লো।

নিভরাজকে এভাবে ঘুম থেকে জাগানোটা ঠিক হবেনা।
কত সুন্দর করে ঘুমুচ্ছে।
এর আগেও আমি ওকে অনেক বার ঘুমানো অবস্হায় দেখেছি।
কিন্তু সবসময় একটা বিষন্নতার চাপ ছিলো।

বাট আজকে।
ওর মুখে কোনো বিষন্নতা নেই।
কেমন বেখেয়ালী ভাবে ঘুমাচ্ছে।
হাত দুটো মাথার নিচে দিয়ে।
আজ বড্ড সুন্দর লাগছে মানুষটাকে আমার কাছে।
কিন্তু মাঝে মাঝে নিভরাজকে আমি বুঝতে পারিনা।
কি চায় সে।
আর কি চাইনা।

তবে যাই হোক।
মানুষটা অনেক ভালো।
অনেক্ষণ ধরে ঘুমন্ত নিভরাজকে দেখছি।
যেই মাত্র ও নড়ে চড়ে উঠলো আমি বেলকুণিতে পালিয়ে আসি।
যদি চোখ খুলে আমায় দেখে নেয়।

নিভরাজ মোটেও ঘুমাইনি।
কিন্তু ঘুমের ভান করে ছিলো।
সানাত যে এতক্ষণ তাকে দেখছিলো সে সব জানে।
তারপরও চুপটি করে চোখ বন্ধ করে ছিলো।
বড় একটা নিশ্বাস ছেড়ে নিভরাজ ওপাশ হয়ে শুলো।

বেলকুণিতে এসে আকাশের তারা গুনছি।
বেশ ভালোই লাগছে।
কেনো জানি আকাশটাকে আজ অনেক সুন্দর লাগছে আমার কাছে।
মাঝে মাঝে একটা বাতাস পুরো শরীরকে ছুয়ে দিচ্ছে।
কাল আরেকটা কাজ বাকি আছে।

যেটা সবচেয়ে বেশি ইমপরটেন্ট।
আর এমনিতেও আরাভকে সব জানানো হয়েছে।
কাল নিভরাজের জন্মদিন।
আর আমি ওকে আবারো আরেকটা সারপ্রাইজ দিতে চাই।

পর্ব ১৭

বেলকুণিতে এসে আকাশের তারা গুনছি।
বেশ ভালোই লাগছে।
কেনো জানি আকাশটাকে আজ অনেক সুন্দর লাগছে আমার কাছে।
মাঝে মাঝে একটা বাতাস পুরো শরীরকে ছুয়ে দিচ্ছে।
কাল আরেকটা কাজ বাকি আছে।

যেটা সবচেয়ে বেশি ইমপরটেন্ট।
আর এমনিতেও আরাভকে সব জানানো হয়েছে।
কাল নিভরাজের জন্মদিন।
আর আমি ওকে আবারো আরেকটা সারপ্রাইজ দিতে চাই।

পরদিন সকাল থেকে নিভরাজকে দেখা যায়নি।
কোথায় গেছে কে জানে।
বাইরে গাড়িও নেই।
দাড়োয়ান কাকা বললো,
সকাল সকাল নাকি গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেছে।
এদিকে আমি রাতের পার্টির সব আয়োজন করছি।

সাথে আরাভও আছে।
নিভরাজ যে বাসায় নেই এতে ভালোই হয়েছে।
আমাদের লুকিয়ে কাজ করতে হচ্ছে না।
নেভা আর তাওহীদও এসেছে।

নেভা: মিটিমিটি হেসে।
খুশির খবর আছে।

আমি খুব একসাইটেট হয়ে।
মানে কি রে।
আমি যেটা অনুমান করেছি সেটা নাকি।

নেভা মাথা নেড়ে হ্যা বললো,
ওয়াও নেভা।
আমাকে তো মামি বানিয়ে দিলি।
আই লাভ ইউ জান্টুস।

নেভা তুই কি দিবিনা খুশির খবর?
মানে আমাকে ফুফি বানাবি না।

আমি: আরে রাখ তো আমার কথা।
মাকে বলেছিস।
উফফফ আমার যে কি খুশি লাগছে।
নেভাকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে কাজে লেগে পড়লাম।

নিভরাজ সন্ধ্যেয় বাসায় এসে বাসা দেখে অবাক।
নেভা। মা। তাওহীদ।আমি আর আরাভ সবাই একসাথে।
হ্যাপী বার্থডে টু ইউ
হ্যাপী বার্থডে নিভরাজ।
সবাই একসাথে নিভরাজকে ওয়েলকাম করলাম।
নিভরাজের পছন্দের স্ট্রবেরী কেক অর্ডার করেছিলাম।

আর ওয়ালে আগের মতো।
নিভরাজের ছোট থেকে বড় হওয়া পর্যন্ত যতোটা ছবি পেয়েছি মায়ের কাছে সব কেটে সাইজ করে লাগিয়ে দিয়েছি।
অনেক হ্যাপী হয়েছে নিভরাজ।

আমি রুমে এসে কাপড় চেইন্জ করলাম।
আলমারী থেকে সেই শাড়ীটা নিলাম যেটা নিভরাজ আপুনির জন্যে স্পেশাল ভাবে কিনে রেখেছিলেন।
খুব পছন্দের একটা কালাম।
হালকা হলুদের সাথে বেগুনী পাড়।

অনেক সফট শাড়িটা।
সাথে ব্লাউজ আর অর্নামেন্টস সহ ছিলো।
সব মিলিয়ে পড়েছি আমি।
নিভরাজ আপুনির জন্যে ডায়মন্ডের যে আংটিটা কিনেছিলো সেটাও নিজে নিজেই পড়ে নিলাম।

তারপর ছাদে এসে গাছ থেকে টকটকে লাল গোলাপটা ছিড়ে নিলাম।
আজ এটা দিয়ে আমি আমার স্বামিকে না মানে নিভরাজকে প্রোপজ করবো।
যা হবার হবে।মনের কথা আজ প্রকাশ করেই ছাড়বো।
প্রয়োজনে সে আমায় আজ মেরে ফেলুক।

নেভা আর আরাভ লাইট অফ করে দেয়।
তারপর নিভরাজকে ছাদে নিয়ে আসে দেন ওরা এক পাশে লুকিয়ে পড়ে।

নিভরাজ ছাদের ডেকোরেট দেখে অবাক।
ছাদের ফ্লোরে সব ফুলের পাপড়ি।
গাদা।গোলাপ।আরো কত রকমের ফুল।
ব্যাকগ্রাউন্ডে মিউজিক বাজছে।

অনেক সাধনার পরে আমি
পেলাম তোমার মন
পেলাম খুজে এভূবনে
আমার আপনজন
তুমি বুকে টেনে নাও না প্রিয় আমাকে
আমি ভালোবাসি। ভালোবাসি।
ভালোবাসি তোমাকে।

নিভরাজ একপা একপা করে আমার দিকে এগিয়ে আসছে।
আমি পেছনে ফিরে ছিলাম।
যখন নিভরাজ এলো আর বললো,
এসব কি সানাত।

আমি ওর দিকে ফিরলাম।
হাটু ভাজ করে বসে গোলাপটা ওর দিকে বাড়ালাম।

আই লাভ ইউ নিভরাজ।
জবাবের আশায় ওর দিকে তাকিয়ে আছি।
আর ও আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
আমাকে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছে।

কিন্তু কোনো জবাব দিচ্ছে না।
আমি নেভাদের দিকে তাকিয়ে আবারো নিভরাজের দিকে তাকালাম।
হঠাৎ নিভরাজের ফোনে রিং বেজে উঠলো।
ও আমার সামনেই ফোন রিসিভ করলো।
হ্যা সিলভি বলো।

কথা বলতে বলতে ও নিচে চলে গেলো।
আমার সমস্ত আশা ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়ে।
সিলভি আর কেউ না সেই মেয়েটা।
যার সাথে নিভরাজ হেসে হেসে কথা বলে।
ভিডিও কলে যে মেয়েটার সাথে আগেও কথা বলেছিলো।
এ কদিন ও কথা বলেছিলো বাট আমি তেমনটা সিরিয়াস ভাবে নিইনি।
আমি দুই হাটু গেড়ে বসে চিৎকার দিয়ে কান্না করতে থাকি।

নেভা। তাওহীদ।আর আরাভ ছুটে আসে।
আমাকে শান্তনা দেয়।
আমার তখন মরে যেতে ইচ্ছে করছিলো।
এতদিনেও আমি নিভরাজের মনে এতটুকু জায়গা করে নিতে পারিনি।
আমার জিবনের তো ষোল আনাই বৃথা মনে হচ্ছে।

নিভরাজকে বুঝি হারিয়ে ফেললাম।
চেয়েছিলাম তো অনেক আগলে রাখতে।
আপন করে নিতে।
নিজের করে রাখতে।
কিন্তু হলোনা।
এভাবে আমাকে ছুড়ে ফেলে দিতে পারলো।
নাহ আর পারছি না আমি সহ্য করতে।

এত অবহেলা। ইগনোর সহ্য করার ক্ষমতা আমার আর নেই।
বুক ফেটে যাচ্ছে আমার।
মনে হচ্ছে কলিজাটা ছিড়ে যাবে।
প্রচন্ড কষ্ট হচ্ছিলো বুকে।

নিভরাজ তার জবাব আমায় দিয়ে গেছে।
চলে যাবো আমি নিভরাজের জিবন থেকে।
আর কক্ষনো আসবো না।
কক্ষনো না।

কিন্তু যাবার আগে স্বার্থপর নিভরাজকে কিছু কথা বলে যাবো।

রুমে এলাম আমি।চোখের পানি মুছতে মুছতে নিভরাজকে দেখছি।
সে এখনো কথা বলছে সিলভি নামের মেয়েটার সাথে।

আমার সহ্য হচ্ছেনা।
ইচ্ছে করছে নিজেকে কিছু একটা করে ফেলি।
আমি কেনো অন্য জনের জন্যে নিজের ক্ষতি করবো।
নিভরাজের হাত থেকে ফোনটা নিয়ে ছুড়ে মারলাম ফ্লোরে।

নিভরাজ অভাক হয়ে আমার দিকে তাকালো।
এটা কি করলে তুমি?

আমি নিভরাজের কলার চেপে ধরলাম।
কি ভাবেন আপনি নিজেকে।
যখন যা ইচ্ছা তাই করবেন।
আপনাকে অনেক বেশি ভালোবাসি এটাই কি আমার অপরাধ।
হ্যা আমি আজ বলবো।

আমি আপনাকে নিজের চাইতেও বেশি ভালোবাসি।
অপেক্ষা করেছি তিন তিনটা বছর শুধু আপনার জন্যে নিভরাজ শুধু আপনার জন্যে।
কেনো জানেন।
কারণ আপনাকে ছাড়া আমি কাউকে ভাবতে পারিনা।
মানুষের কত কথা শুনেছি।

কত অপমান করেছেন আপনি আমাকে।
এমনকি আমার নিজের কলিজার টুকরি বোনের মধ্যে পর্যন্ত টেনে এনেছেন আমাকে।
সব দোষ নাকি আমার।
কি দোষ আমার বলুন।
জানি আপনি আপুনিকে ভালোবাসেন।
কখনো ভুলতে পারবেন না।

কিন্তু আমিকি সেটা বলেছি কখনো আপনাকে।
মনে প্রানে আপনাকে স্বামি হিসেবে গ্রহন করে নিয়েছি।
কারণ আপুনি চাইতো তার ভালোবাসার মানুষটা যেনো সবসময় সুখে থাকে।
সবসময় ভালো থাকে।
আমি সেটাও চেয়েছি কিন্তু আমি ব্যর্থ।
পারিনি আমি আপনাকে নিজের করে নিতে।

এটা আমার ব্যর্থতা।
আজ আপনি অন্যকারো।
আপুনিকে এমন ভালোবাসে।
আজ অন্য জনকে।
সিলভিকে বেচে নিয়েছেন।

বাহ নিভরাজ বাহ।
এদিকে আমাকে বলেন সোহার জায়গা কেউ নিতে পারবে না আর অন্যদিকে সেটা সিলভিকে দিয়ে দিয়েছেন।
বোধহয় অনেক ভালোবাসেন সিলভিকে।

কথাটা বলার সাথে সাথে নিভরাজ আমাকে টাশ করে থাপ্পর লাগিয়ে দিলো।
জোড়ে থাপ্পড় দিয়েছে যার কারণে আমি ঘুরে নিচে পড়ে গেছি।

অনেক সহ্য করেছি আর না।
আজকে চলেই যাবো।
অন্য মেয়ের জন্যে সে আমার গায়ে হাত তুললো।
নেভা।আরাভ।তাওহীদ আর মা আমাকে অনেক আটকানোর চেষ্টা করে কিন্তু আমি নাচোড়বান্দা।
তাদের কারো কথা শুনতে বাধ্য নই।
বাসায় চলে আসি।

এত রাতে আম্মু আমাকে বাসায় আসতে দেখে বললো,
কিরে সানাত সব ঠিকটাক তো?

আমি আম্মুকে জড়িয়ে ধরে চোখের পানি ছেড়ে দিলাম।
আম্মু: সানাত কি হয়েছে মা।
তুই হঠাৎ এই সময়।
বাসার সবাই ভালোতো।
আর তুই একা কেনো।
নিভরাজ কোথায়?

আমি চোখের পানিটা মুছে নিলাম।
আম্মুকে মিথ্যে বললাম।
আম্মু বাসার সবাই ভালো আছে।
তোমার জন্যে খুব মন জ্বলছিলো তাই চলে এলাম।

আম্মু তো নিভরাজ আসেনি কেনো?
আমি: আমাকে বুঝি আশা করোনি।
আচ্ছা ঠিকাছে তাহলে আমি চলে যাচ্ছি।

আমি চলে আসার জন্যে পা বাড়াতেই আম্মু আমার হাত ধরে বাসার ভিতর নিয়ে যেতে যেতে বললেন।
পাগল নাকি মেয়েটা।
তোকে আশা করবো না মানে।
এমনিতে জামাইর কথা জিঙ্গেস করছিলাম আর কি।
হুম এবার বল কি খাবি।তোর জন্যে কি রান্না করবো।

আমি এখন কিচ্ছু খাবোনা আম্মু ক্ষিধে নেই।
পরে বলবো আমি।

রুমে এসে অনবরত কাদতে লাগলাম।
কেনো নিভরাজ কেনো।
এমনটা না করলেও পারতেন আপনি।
একটু ভালোবাসলে আমায় কি এমন হতো।
আপনার একটু ভালোবাসা পেলে আমি সারাটা জিবন কাটিয়ে দিতে পারতাম।

কতোটা ভালোবাসি আমি আপনাকে।
এতোটা অবহেলার পরও কেনো আমি আপনাকে মন থেকে মুচে দিতে পারছি না।
কেনো আপনাকে ঘৃনা করতে পারছি না।
আপনি তো সিলভির।
নেভা অনেকবার ফোন দিয়েছে কিন্তু আমি রিসিভ করিনি।

আমার আর নিভরাজের মধ্যে যা হয়েছে সেসব কথা তাওহীদ।নেভা আর আরাভ জানে কিন্তু আমি নিষেধ করেছি মাকে কিছু না জানাতে।
মা শুধু জানে আমি রাগ করে বাসায় চলে এসেছি।
কি ব্যাপারে রাগ করেছি সেটা জানেনা।

তাওহীদের আর আরাভেরও ফোন আসছে।
তাওহীদেরটা রিসিভ করতে পারিনি তবে আরাভের টা রিসিভ করলাম।
আরাভ আমাকে অনেক করে বুঝালো।
যেনো বাসায় চলে আসি।

আর নেভার সাথেও কথা বললাম।
সেদিন রাতে কেউ আমাকে মানাতে পারেনি।
তারপরদিন সকালে মা ফোন করে আমাকে আবার বাসায় চলে যেতে বললো,
নিভরাজ নাকি আগামীকাল ফ্রান্স চলে যাবে।
টিকিট কনফার্ম করে এসেছে সেদিন।

কথাটা শুনেই আমার হাত থেকে ফোন পড়ে গেলো।
মাথাটা ঝিনঝিন করতে লাগলো।
নিভরাজ নিভরাজ করেই আমি সেন্সলেস হয়ে যায়।

পড়ে যাবার আগেই আম্মু এসে ধরে ফেলে।
আমাকে সোফায় বসিয়ে আম্মু পানি খাইয়ে দিয়ে কয়েক ফোটা মুখে ছিটিয়ে দেয়।
সাথে সাথে আমার হুশ ফিরে আসে।
আমি আম্মুর সামনে নিজেকে ঠিক রেখে রুমে চলে আসি।
আর আম্মু মায়ের সাথে কথা বলেন।

আমি রুমে এসে দরজা বন্ধ করে দিয়ে চিৎকার করে কাদতে থাকি।
ইচ্ছে করছে আরো বেশি জোরে চিৎকার করে কাদতে।
নিভরাজ চলে যাবে আমাকে ছেড়ে চলে যাবে।
আমি কিভাবে থাকবো।
ওকে ছাড়া যে আমি বাচবো না।

ভালোবাসার মানুষটাকে ভুলে যাওয়া কি এত সোজা।
যে যাবার সে তো যাবে।
নিভরাজ তো আমায় ভালোবাসে না।
আমার এক তরফা ভালোবাসা দিয়ে কি হবে।
আমি নাহয় এভাবেই কাটিয়ে দিবো বাকি জিবনটা।

সারাটা রাত শুধু কেদেছি।কিচ্ছু মুখে দিইনি।
আম্মু দরজা বারেবার নক করতে লাগলো।
সানাত দরজা খোল।
সারাদিন কিছু খাসনি।
গতকাল রাতেও কিচ্ছু মুখে দিসনি।
দরজা খোল মা।
সানাত।

আম্মু তুমি চলে যাও।
আমার ক্ষুধা নাই।
আম্মু আবারো দরজা নক করলে আমি ধমকের সুরে বললাম।
বললামনা চলে যেতে।
প্লিজ আমায় একা থাকতে দাও।
আল্লাহর দোহায় লাগে আমায় একা থাকতে দাও।

আমার মন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে।
খুব খুব অসহায় মনে হচ্ছে নিজেকে।
নিজের জিবনটাকেই অসহ্য লাগছে।

মনে হয় আমি আর বাচবো না।
জিবনের শেষ সম্বলটুকু ও আমার আর রইলো না।
বুক ফেটে কান্না আসছে।
নিভরাজ আপনার কি আমার কথা একটুও মনে পড়ছে না।
শুনেছি মানুষ যদি মন থেকে কাউকে স্মরণ করে তবে অন্য মানুষটা বুঝতে পারে।

হঠাৎ মনে পড়লো সেই বক্সের কথা।
আলমারী থেকে আপুনির বক্সটা বের করলাম।
আর ব্যাগ থেকে নিভরাজের আলমারীর উপর যে সেইম বক্সটা রাখা ছিলো সেটাও বের করলাম।
আজ দুটো বক্সই একসাথে খুললাম।
নিভরাজের টাতে সব আপুনির পিক।লেটার।

আর আপুনির টাতে নিভরাজের পিক।লেটার আর সেই আংটির কথাও লিখা ছিলো।
এটা আপুনির জন্যে।
নিভরাজদের বংশগত আংটি এটা।
বউদের পড়ানো হয়।
নিভরাজের দাদী তার মাকে দিয়েছেন আর নিভরাজের মা নিভরাজের বউয়ের জন্যে রেখেছিলেন।
যে আংটিটা আমি নিভরাজের আলমারী থেকে নিয়ে নিজেই হাতে পড়ে ছিলাম সেই আংটিটা।

পর্ব ১৮

হঠাৎ মনে পড়লো সেই বক্সের কথা।
আলমারী থেকে আপুনির বক্সটা বের করলাম।
আর ব্যাগ থেকে নিভরাজের আলমারীর উপর যে সেইম বক্সটা রাখা ছিলো সেটাও বের করলাম।
আজ দুটো বক্সই একসাথে খুললাম।
নিভরাজের টাতে সব আপুনির পিক।লেটার।

আর আপুনির টাতে নিভরাজের পিক।লেটার আর সেই আংটির কথাও লিখা ছিলো।
এটা আপুনির জন্যে।
নিভরাজদের বংশগত আংটি এটা।

বউদের পড়ানো হয়।
নিভরাজের দাদী তার মাকে দিয়েছেন আর নিভরাজের মা নিভরাজের বউয়ের জন্যে রেখেছিলেন।
যে আংটিটা আমি নিভরাজের আলমারী থেকে নিয়ে নিজেই হাতে পড়ে ছিলাম সেই আংটিটা।

সকাল ছয়টার দিকে আমার চোখে ভেঙ্গে ঘুম আসে।
আর আমি ঘুমিয়েও পড়ি।
ঘুম থেকে উঠি দুপুর দুটোয়।
একটা লম্বা শাওয়ার নিলাম।
আম্মুর সাথে খুব স্বাভাবিক আচরণ করছি।
আম্মু :::::::: নাশতা করতে আয়।
আজ দুদিন ধরে কিচ্ছু মুখে দিসনি।

হুম আম্মু নাশতা দাও।
খুব ক্ষুধা পেয়েছে।
কিন্তু যখনি আম্মু নাশতা আনলো আমি কিচ্ছু খেতে পারলাম না।
ইচ্ছে করছিলো না।
তারপরও জোর করে কিছু একটা মুখে দিলাম আম্মুকে শান্তনা দেওয়ার জন্যে।

অনেক চেষ্টা করেও ভুলতে চাইলাম নিভরাজের চলে যাবার কথা কিন্তু ক্ষনে ক্ষনে মনে পড়ে যাচ্ছে।
আবারো কাদতে ইচ্ছে করছে।
দেখতে দেখতে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে হয়ে গেলো।

হঠাৎ কলিং বেল বেজে উঠলো।
আমি রুম থেকে বেরুলে আম্মু আগেই দরজা খুলে দিলো।
নেভা। মা।তাওহীদ।আরাভ। বাবা সবাই ভেতরে ঢুকলো।
আমি দেখছি পিছনে কেউ আছে কিনা কিন্তু না।
কেউ নেই।
তারমানে নিভরাজ এতক্ষনে চলে গেছে।
কারণ ওর ফ্লাইট তো পাঁচটায়।
আর এখন তো সাতটা বেজে চললো।

বুকটা হাহাকার করে উঠলো।
একটা চাপা আর্তনাদ যেনো আজ বেরিয়ে যেতে চাইছে।
সে আজ কোনো বাধা মানছে না।
নেভা আর মা আমার কাছে এলো।
নেভা আমাকে জড়িয়ে ধরলো।

আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।
ওরা সবাই আমাদের বাসায় কেনো।
নেভার কাছে জিঙ্গেস করলাম। হঠাৎ কি মনে করে।

নেভা একদম চুপ কোনো কথা বলবি না।
চল আমার সাথে ছাদে।

আমি: ছাদে কেন যাবো?

নেভা আমি বলছি তাই।একটু দরকার আছে।

আমি: কি দরকার?

নেভা:: না মানে। তাওহীদ আর আরাভ তোকে ছাদে যেতে বলেছে।
তোর সাথে কথা আছে ওদের মেবি।

আমি চুল বাধতে বাধতে। ওহহ আগে বলবি না।
আচ্ছা চল।
নেভা তুই যা আমি একটু আসছি।
তারপর আমি একাই ছাদে গেলাম।
পুরো ছাদটা অন্ধকার হয়ে আছে।

কিন্তু এখানে যে কাউকে দেখছি না।
তাওহীদ। আরাভ। আপনারা আছেন?
কোনো সাড়াশব্দ নেই।

তারপর আরেকটু এগোলাম।
পায়ের সাথে কি যেনো লেগে অন্য দিকে চলে গেলো।
আর পায়ের নিচে কিছু আছে সেটাও অনুভব করতে পারছি।

আমি আরাভ।তাওহীদ বলে ডাকতে ডাকতে আরো কয়েক পা এগুলাম।
নাহ কেউ নেই এখানে।
তাহলে নেভা আমাকে এখানে কেনো আসতে বললো,
নাকি আমার আসতে দেরী হলো তাই ওরা নিচে চলে গেছে।

যখনি আমি নিচে আসার জন্যে ব্যাকসাইডে ফিরলাম অমনি টাস টাস করে লাইট জ্বলে উঠলো চারোপাশ থেকে।
সব রোজ লাইট।
আমি ছাদের ডেকোরেট দেখছি।
এতক্ষণ নিচে যে কিছু ছিলো অনুমাণ করছিলাম তা ছিলো ফুলের পাপড়ি।
আর অনেক গুলো বেলুন।

আমি আরেকটু সরে দাড়িয়ে খেয়াল করলাম।
ছাদের মধ্যখানে যেখনে আমি যাচ্ছিলাম।
সেখান পর্যন্ত একটা বড় লাভ শেইপ করা ফুলের পাপড়ি দিয়ে সাজানো।
ঐটার মধ্যে আমার নামও লিখা আছে।

আমি প্রচন্ড অবাক হলাম।
এইসব কি।
কে করলো এগুলা।
অনেক বেশি সারপ্রাইজড হলাম আমি।
তবে ডেকোরেশন অনেক সুন্দর হয়েছে।

আমি মুগ্ধ হয়ে সব দেখছিলাম।
পিছন থেকে কারো কন্ঠে আমার নাম শুনে এক সেকেন্ডের জন্যে আমার হার্টবিট বন্ধ হয়ে গেলো।
খুব চিরচেনা কন্ঠস্বর।
নিভরাজের কন্ঠ।
আমি পিছনে ফিরে তাকালাম।
বাকরুদ্ধ কর একটা সিন আমার চোখে পড়লো।
নিভরাজ হাটু গেড়ে বসে হাতে লাল টুকটুকে গোলাপ আমার দিকে বাড়িয়ে দিলো।

চোখে একরাশ অনুশোচনা নিয়ে বললো,
ক্ষমা করে দাও এই অধম্যকে।
ভালোবেসে ফেলেছি তোমায় সানাত।

আমি জাস্ট স্পিচলেস হয়ে গেছি।
এটা কি সত্যি।
নিভরাজ তো চলে গেছে তাহলে।
আমি জাস্ট ওর দিকে অপলক ভাবে তাকিয়ে আছি।

সিলভির কথা মনে পড়তেই আমি চলে আসার জন্যে পা বাড়াই।
নিভরাজ আমার হাত ধরে ফেলে।
সানাত আমায় ক্ষমা করে দাও প্লিজ।
অনেক কষ্ট দিয়েছি তোমাকে।

সবসময় অবহেলা। আর ইগনোর করেছি তোমায়।
সবসময় রুডলি বিহেব করেছি।
তারপরও তুমি আমাকে নিঃস্বার্থ ভাবে ভালোবেসে গেছো।
আমার জন্যে তিনটা বছর অপেক্ষা করেছো।
কিন্তু আমার কি দোষ বলো তুমি।

আমার মুখের দুপাশে দুহাত রেখে।
যখনি তোমার কাছে আসতে চাই তোমাকে আপন করে নিতে চাই তখনি সোহার কথা মনে পড়ে সব উলোট পালোট হয়ে যায়।
কোনো একটা বিব্রতভাব কাজ করে কিন্তু আজ তোমার কাছে আসতে আমার একটুও বিব্রতভাব হচ্ছে না।

সবসময় চেয়েছি সব পরিস্থিতি সামাল দিতে কিন্তু বারবার আমি ব্যর্থ হয়েছি।
পারিনি আমি নিজেকে আটকে রাখতে।
পারিনি আমি তোমায় ছেড়ে যেতে।
জানিনা কখন নিজের অজান্তে তোমায় কতোটা ভালোবেসে ফেলেছি

জানিনা কখন তুমি এই মনে ধীরে ধীরে জায়গা করে নিয়েছো।
যে আমাকে এতটা ভালোবাসে।
আমার শত আঘাত।অবহেলা দেওয়া শর্তেও যে আমাকে আর আমার পরিবারকে ছেড়ে যায়নি।

সবসময় আমার মুখে হাসিঁ ফুটানোর চেষ্টা করেছে।
আমাকে নিজের চাইতেও বেশি ভালোবেসেছে অন্তত তাকে আমি হারাতে দিতে চাই না।
একজনকে তো হারিয়ে ফেলেছি তার ধাক্কাটা আমি এখনো সামলাতে পারছি না।

তোমাকে হারিয়ে ফেললে তো পুরো জীবন টাকেই আমি হারিয়ে ফেলবো।
সানাত তুমি আমায় ক্ষমা করে দাও।
যদি তুমি জানতে তোমায় কতোটা ভালোবেসে ফেলেছি আমি।
আই লাভ ইউ সানাত।
লাভ ইউ সো মাচ।

নিভরাজ আমার হাতে আংটিটা পড়িয়ে দিলো। আংটিটা তো আমি আসার সময় খুলে রেখে এসেছিলাম।
কি জবাব দিবো আমি।
নাহ অবশেষে ভালোবাসাটা আমার কাছে ধরা দিয়েছে।
নিভরাজ আমাকে প্রপোজ করছে।
ওর চেহেরায় সম্পূর্ণ অনুশোচনা আমি দেখতে পাচ্ছি।
ওকে না করার মতো এত বড় দুঃসাহস আমার নেই।

ফুলটা ওর হাত থেকে নিয়ে।
আই লাভ ইউ টু নিভরাজ।
আমিও আপনাকে অনেক অনেক বেশি ভালোবাসি।
এই দেখেন এত্তগুলা বলে আমার দুহাত মেলে ধরলাম।
এত্তগুলা ভালোবাসি আপনাকে।
সারাটা জীবন আপনার সাথে আপনার হাত ধরে কাটিয়ে দিতে চাই।

নিভরাজ আমাকে এক টানে ওর বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।
আমার মাথাটা কেমন ঝিনঝিন করছে।
খুব বেশি কাশি আসছে।
আর ঘুমও আসছে।
নিভরাজের বুকে আমি পরম সুখ পাচ্ছি।

আজ এই হৃদস্পন্দন কি বলছে তা স্পষ্ট বুঝতে পারছি।
ওখানে শুধু আমার নামটাই শোনা যাচ্ছে।
নি।নিভরাজ।
আপনাকে ছেড়ে যেতে আমার ইচ্ছে করছে না মোটেও।
আপনাকে নিয়ে অনেক বেশি বছর বাচতে ইচ্ছে করছে।
এদিকে কথা বলছি আর কাশছি।
নিভরাজ আপনার যে আসতে বড্ড লেইট হয়ে গেছে।

ততক্ষণে আমি নিভরাজকে শক্ত করে ধরে রেখেছি।
ইচ্ছে করছে ওর বুকের ভিতর ঢুকে যেতে।
নিভরাজ অবাক হয়ে মানে।
আমার মুখটা ওর সামনে এনে।

আমাকে আরো বেশি করে জড়িয়ে ধরুন।
আমি বাচতে চাই।
আমি আপনার উপর রাগ করে অনেক গুলো ঘুমের আর আব্বু ডায়াবেটিকসের মেডিসিন খেয়ে ফেলেছি।

নিভরাজ চোখ বড় বড় করে।
সানাত এটা কি করেছো তুমি।
পাগলী তুমি এটা কি করলে।
নিভরাজের চোখ চলচল করছে।

আমার মুখ দিয়ে কথাও আসছে না।
নিভ।নিভরাজ।
আমারনা বুকটা খুব জ্বালা করছে।
আর বড্ড ঘুম পাচ্ছে।
আমাকে আরেকবার বলুন না ভালোবাসি। আমায় আপনার বুকের সাথে জড়িয়ে রাখুন না প্লিজ।

নিভরাজ আমাকে পাজা কোলা করে নিয়ে নিচের দিকে যেতে যেতে।
এটা কি করলে তুমি সানাত।
ততক্ষণে আমার শরীরটা ঢলে গেছে।
শুধু খুব ঝিমানো চোখে নিভরাজের পাগলামী দেখছি।
ও আমার জন্যে এমন করছে।

এত কষ্টের মাঝেও আমার সুখ সুখ লাগছে।
তবে বাচার ইচ্ছেটা আরো ছিলো।
আমাকে নিয়ে যে সবাই কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছে।
নিভরাজের চোখ থেকে পানির ফোটা গড়িয়ে টপ করে আমার মুখে পড়লো।

আমার ভেতরটা জ্বলে যাচ্ছে।
মনে হচ্ছে কেউ বুকটা ক্ষত বিক্ষত করে দিচ্ছে।প্রচন্ড কষ্ট হচ্ছিলো।
তারপরও
অনেক কষ্টে কিছুটা শক্তি একত্র করে নিভরাজের মুখে হাত বুলিয়ে। বড্ড ভালোবাসি আপনাকে।

ব।বড্ড।
আমি আর কিছু জানিনা।
আর কিচ্ছু বলতে পারলাম না।
শুধু নিভরাজের চিৎকারটা শুনেছিলাম।
সানাত।

নিভরাজ আমায় ছেড়ে চলে যাবে এটা আমি মেনে নিতে পারছিলাম না।
যখনি ভাবি নিভরাজ আমার থেকে দূরে চলে যাবে।
আমি কিভাবে বাচবো ওকে ছাড়া।
নিজেকে কন্ট্রোল রাখতে পারছিলাম।
খুব অসহ্য লাগছিলো জীবনটাকে।

তাই লুকিয়ে আম্মুর রুম থেকে সব মেডিসিন নিয়ে আসি নিজের রুমে।
আব্বুর মেডিসিন প্রায় শেষের দিকে ছিলো তাই কম পেয়েছি।
কিন্তু যা পেয়েছি রাগের মাথায় তাই খেয়ে ফেলেছিলাম।

যখন আমার সেন্স ফিরলো শরীরে প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব করছি।
বিশেষ করে গলা।মাথা আর বুকে।

আমি চোখ খুলে পাশে নিভরাজকে দেখতে পেলাম।
নিভরাজ আমার হাত ধরে বসে অন্য মনস্ক হয়ে তাকিয়ে আছে।
আমার হাত নড়ে উঠলে নিভরাজ তৎপর হয়ে আমাকে জিঙ্গেস করে।
তোমার সেন্স ফিরেছে।
আল্লাহর কাছে লক্ষ কোটি শোকরিয়া।
সানাত কেমন লাগছে তোমার?

আমার হাতে ব্যাথা করছিলো।
হাতে স্যালাইন লাগানো।
হ্যা ভালো।
আমি কি বেচে আছি।
ভেবেছিলাম তো মরেই যাবো।

নেভা কেবিনে ঢুকে আমাকে দেখে বাকিদেরও ডেকে দিলো।
আম্মু। মা এসে আমাকে দেখছেন।
আম্মু বললেন তুই সুস্হ হয়ে নে তারপর তোকে এমন মাইর দিবো বেয়াদপ মেয়ে কোথাকার।
এসব কি করেছিস।
আমাদের কথা একটুও ভাবলি না।

নেভা হ্যা আন্টি।
খুব পঁচা সানাত।
এসব কেউ করে।
এখন ওয়াশ করার মজা কি সেটা বুঝো।
বাবারে বাবা আমিতো জিবনেও এসব খাবো না।
তুই আগে সুস্হ হয়ে নে তারপর দেখিস তোকে আমি সহ আন্টি কি করি।

আম্মুর চোখে পানি।
আব্বু এসে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন।
আব্বু :::::::: তুই এমনটা কেনো করেছিস মা।
তুই জানিস না এসব পাপ।
সারাটা জীবন জাহান্নামে জ্বলতে হয়।

আর কক্ষনো এমন করবি না।
জীবনে যতোই ঝড়।তুফান আসুকনা কেনো।
এসব মোকাবিলা করেই বেচে থাকার নামই জীবন।
এসব ফালতু কাজ যেনো আর না করিস।

নার্স এসে বললো,
কেবিনে নাকি এত জন থাকতে পারবে না।
একজনকে রেখে বাকিদের বাইরে থাকতে বললে নিভরাজ ছাড়া সবাই বাইরে চলে যায়।
নার্স আমার দিকে মুচকি হাসি দিয়ে।
এখন কেমন লাগছে?

আমি: বুকে প্রচন্ড ব্যাথা করছে।

নার্স: তো করবে না।
ওয়াশ করতে যে মেশিনটা ওখানে ঢুকাতে হয়েছে।
ব্যাথাটা সারতে একটু সময় লাগবে।
দেখি ইনজেকশনটা পুশ করে দিই।

ইনজেকশন আমি ভয় পেতাম।
কিন্তু এখন পাশে নিভরাজ আছে তাই মোটেও ভয় লাগছে না।
তবে ওর হাত শক্ত করে ধরে চোখ বন্ধ করে রেখেছি।
একটু পর।
নিভরাজ সানাত ঘুমিয়ে গেলে নাকি?

আমি চোখ খুলে দেখি নার্স মেডিসিন খুলছে।
নিভরাজ মুচকি হেসেঁ।
ইনজেকশন অনেক আগেই পুশ করে দিয়েছে।
এখন কিছু খাবে?

আমি: না আমার কিছু খেতে ইচ্ছে করছে না।
নার্স কিচ্ছু খেতে ইচ্ছে করছে না বললে কি হবে।
মেডিসিন খেতে হবে তো।
খালি পেটে খাওয়া যাবে না।
তারপর নিভরাজের দিকে তাকিয়ে।
উনার জন্যে কিছু নিয়ে আসুন।
ফ্রুটস।জুস এসব আনবেন।
এমনিতে বাইরের কিছু খাওয়া ঠিক হবেনা।

নিভরাজ আমাকে বললো কি খাবে বলো?

আমি ফিসফিসিয়ে ফুচকা।
নিভরাজ চোখ বড় করে।
মাইর চিনো।
আম্মু দিবে নেভা দিবে।
এখন আমিও দিবো কিন্তু।
তুমি ওয়েট করো আমি এখনি কিছু নিয়ে আসছি।

নিভরাজ বের হবার সাথে সাথে নেভা আসলো।
নেভা মৃদু হেসেঁ।
সব রোমান্স করার ফন্দি তাই না।
তারপর নেভার কাছে সব শুনলাম।
নিভরাজ বাসা থেকে বের হয়ে যায় কিন্তু একটু পরেই আবার ব্যাক করে।
তারপর আমাদের সব বলে যা রুমে হয়েছিলো।

আর সব আরাভ ভাইয়া আর তাওহীদের হেল্পিং সহ নিভরাজ ভাইয়ার প্ল্যান।
আরাভ নাকি নিভরাজকে আমার কথা সব বলে দিয়েছে মানে যা যা আমি করেছিলাম।
পার্টি। বার্থডে।বেরাতে যাবার প্ল্যান এসব আর কি।
আরো একটা কথা নেভার কাছে শুনে আমি খুব লজ্জিত।

সিলভি ছোট মামার ছেলের গার্লফ্রেন্ড।
ঠিক গার্লফ্রেন্ড না।ওদের কাবিন হয়ে গেছে।
সিলভিও ফ্রান্সে থাকে।
ওরা একে অপরের সাথে ফ্রী তাই বেবস বেবস করে কথা বলে।
আর আমি কি ভুলটাই না বুঝে ছিলাম।

নিভরাজকে যা তা শুনিয়ে দিয়েছিলাম।
নেভা আমাকে সিলভির সাথে কথা বলিয়ে দেয়।
আগামী মাসে ওরা দেশে আসবে।
আর দেশে আসলে ওদের রিসিপশনটা সেরে নিবে।
আমাকেও ইনভাইট করলো।

খুব ভালো মেয়েটা।
উল্টা পাল্টা কত কি ভেবেছিলাম।
আমি খুব অনুশোচিত।
নিভরাজকে সরি বলতে হবে।

ও নিজেও তো ওর প্রতিটা ভুলের জন্যে আমার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলো।
ক্ষমা চাইলে কেউ কখনো ছোট হয়না।

নিভরাজ জুস নিয়ে এলো।
আর বার্গারের একটা প্যাকেট দেখে আমি খুশি হয়ে গেলাম।
জুস এগিয়ে দিলে আমি বার্গারের প্যাকেটটা নিলাম।
এখন কেবিনে সবাই আছে।

সবাইকে একটা একটা করে জুস দিলো।
যখন হাসিঁ মুখে আমি বার্গারের প্যাকেটটা খুললাম ভেতরে যা আছে তা দেখে আমার মুখটা মলিন হয়ে গেলো।
অসহায় চোখে নিভরাজের দিকে তাকালাম।
আর সবাই হাসছে।

বার্গারের প্যাকেটে। আপেল।মাল্টা এসব ফ্রুটস কেটে রেখেছে।
প্লেট নেই তাই এই ব্যবস্হা।
কত খুশি হয়েছিলাম।
যাহ খাবোনা।

নিভরাজ জুস দিয়ে বললো,
ফ্রুটস এন্ড জুস সব খেয়ে তারপর মেডিসিন খেতে হবে।
সো কুইক সানাত।

আমি অসহায় ভঙ্গিতে।
এটা তো চিটিং নিভরাজ।
উপর দিয়ে এক আর ভেতরে আরেক।
আমার ফ্রুটস খেতে ভালো লাগেনা।

আম্মু: ভালো না লাগলেও খেতে হবে।
এদিকে নেভা ফ্রুটস খাওয়া শুরু করে দিয়েছে।
নিভরাজ: আরে নেভা থাম থাম।
আস্তে খা।
পেটে কি রাক্ষস ঢুকেছে।
কি হয়েছে তোর।
এবার আমি আর মা হেসে দিলাম।

এবার সব টিকটাক।
বাসায় আসার পথে আমাকে আর নিভরাজকে একা গাড়িতে দিয়ে সবাই একসাথে চলে গেলো অন্য গাড়ি করে।
আজ নিভরাজ আমার গা ঘেসে বসেছে।
আমার হাতটা খুব শক্ত করে নিজের হাতের সাথে ধরেছে।
সানাত আর কক্ষনো এমনটা করবে না।

যদি তোমার কিছু হয়ে যেতো তাহলে আমার কি হতো।
প্লিজ এমন পাগলামী আর কখনো করো না।
হয়তো আমার রাগ একটু বেশী।
সেটা কি একসেপ্ট করতে পারবে না?
বলো সানাত।

আমি নিভরাজের মুখের কাছাকাছি গিয়ে।
আপনার সব কিছু আমি একসেপ্ট করতে পারবো।
জাস্ট ইগনোর টা ছাড়া ওটা পেলে মরে যাবো কিন্তু সত্যি সত্যি।
নিভরাজ আমার ঠোটঁ চেপে ধরে হাত দিয়ে।
খবরদার এমন কথা আর মুখেও আনবে না।
আমরা কোথায় যেনো যাচ্ছি।

খুব বাতাস এখানে।
যখন গাড়ি থামলো আবছা আলোয় দেখা যাচ্ছে সমুদ্র।
আর শোনা যাচ্ছে স্পষ্ট সমুদ্রের গর্জন।
এখন রাত। চারোদিকে অন্ধকার তাই মানুষজন কম।
নিভরাজ আমাকে নিয়ে সমুদ্রের কিছুটা কাছে গিয়ে আমরা পাথরের উপর বসলাম।
আমি নিভরাজের কাধে মাথা রেখে সমুদ্র দেখছি।

কিছুক্ষণ হাত ধরে খালি পায়ে বালির উপরে হেটেছি দুজন।
প্রচন্ড এক ভালোলাগা কাজ করছে।
এই মুহূর্তে পুরো পৃথিবীটাই আমার কাছে খুব সুন্দর মনে হচ্ছে।

আকাশে আজ তারার মেলা।
একটা বড় অর্ধ চাঁদ ও আমাদের দেখছে।
তার নিচে বিশাল সমুদ্র।
নিভরাজের কাধে মাথা রেখে ওর হাতে হাত রেখে সমুদ্র দেখছি।
এই রাতের সমুদ্র। তারা ভরা আকাশ।

আর অর্ধ চাঁদ। আর সবচেয়ে স্পেশাল ভালোবাসার মানুষটার পাশে বসে এসব দৃশ্য দেখতে কত যে মনমুগ্ধকর সেটা ভাষায় প্রকাশ করা যাবেনা।
নিভরাজ আমার হাতটা চেপে ধরে আমার দিকে ফিরলো।
নিভরাজের এমন চাহনীটা আজ প্রথম আমার কাছে।

এই চাহনীতে অনেক কিছুই বলে দেয়।
আমার সারা শরীরে এক অজানা বাতাস দোলা দিয়ে যাচ্ছে।
ঠোটঁ জোড়া কাপছে।
বুকের ভিতরটা এখন যন্ত্রনা করছে না।
কোনো এক খুশির আগাম বার্তা জানান দিচ্ছে।

নিভরাজ ধীরে ধীরে আমার দিকে এগিয়ে আসছে।
আমার প্রথম ভালোবাসার মানুষটার স্পর্শ।
খুব লজ্জাকর মুহূূর্ত।
চোখ জোড়া বন্ধ করে ফেলি।
কিন্তু না তার কোনো স্পর্শ নেই।
চোখ খুলে দেখি নিভরাজ আমার দিকে অপলক ভাবে তাকিয়ে আছে।

আমি ভীষণ লজ্জা পেয়ে যায়।
নিভরাজ: সারাটা জিবন পাশে থাকবে তো?
এভাবে অনেক বেশি ভালোবাসবে তো?
কথা দাও সানাত।
হাত বাড়িয়ে দিলো।

আমি নিভরাজের হাতের উপর হাত রেখে।
হুম কথা দিলাম।
সারাজিবন পাশে থাকবো।আর এভাবে না এর থেকেও বেশি ভালোবাসবো।
সানভির আব্বুকে।

নিভরাজ ভ্রু কুচকে।
সানভির আব্বু মানে।

আমি জ্বিব্বায় কামড় খেয়ে।
ইয়ে মানে।
আমি ভেবে রেখেছিলাম যদি আমার মেয়ে হয় তার নাম সানভি রাখবো।
নিভরাজ দুষ্টুমির হাসি হেসে।

ওহ আচ্ছা।তাহলে পানি এতটুকু গড়িয়ে গেছে আর আমি জানিও না।
সব হবে সব হবে।
একটা আরো পাঁচ ছয়টা নাম ঠিক করে রাখো।
আর বাসায় চলো।
প্রস্তুতি নিতে হবে তো।

আমি লজ্জায় নিভরাজের বুকে মুখ লুকালাম।
চাঁদ।আকাশ।তারা আর সমুদ্র যেনো আজ আমাদের ভালোবাসার স্বাক্ষী হয়ে থাকবে।
তারপর দুজনে হাত ধরে গাড়ির দিকে যাচ্ছি।
আমাদের দুজনের পথচলা আজ থেকে শুরু।

ভালোবাসার সাক্ষী সরূপ এই প্রকৃতি।
এভাবেই সত্যিকারের ভালোবাসাগুলো পূর্নরূপ পায়।

ভালোবাসার মানুষটার অবহেলাও গুলোকে ভালোবাসা মনে হয়।
ভালোবাসার মানুষটাকে ছেড়ে না গিয়ে তার জন্যে অপেক্ষা করাটাও এক রকম ভালোবাসা।
সবাই সবার ভালোবাসার মানুষের সাথে সুখে থাকুক।

লেখা – লাভলী খানম

সমাপ্ত

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “যদি তুমি জানতে – বাংলা প্রেমের গল্প কাহিনী” গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ূন – যদি তুমি জানতে (১ম খণ্ড) – বাংলা প্রেমের গল্প কাহিনী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!