ব্রেকাপ গল্প

এক্স বয়ফ্রেন্ড (১ম খণ্ড) – জ্বালাময়ী প্রেমের গল্প

এক্স বয়ফ্রেন্ড – জ্বালাময়ী প্রেমের গল্প: ভাইরে ভাই তোমার কষ্ট টা আমি না বুঝলে কে বুঝব। তুমিও আমার মতো হতভাগা। জীবনে এক্স বয়ফ্রেন্ড টাইটেল ঝুলে গেছে। আর অন্য পোলাপান এক সাথে ৫/৬ টা প্রেম করে। আসো ভাই কোলাকোলি করি।


পর্ব ১

নিলাঃ এই তুই এখানে কি করিস?
আরিয়ানঃ বাল ফালাই। তোর কি?
নিলাঃ কানের নিচে দিয়া ভয়রা বানাইয়া ফেলব একদম। মানুষ চিনছ

আরিয়ানঃ ও হেলো তোর বাপের খাইও না পড়িও না।
নিলাঃ কিহ তুই আমার বাপের নাম নিয়া বলিস তোরে আমি আজ খাইছি।

আরিয়ানঃ তোর সাথে আমার কিছু নাই। ব্রেক আপ হয়ে গেছে সো কাহিনি করিস না। বাসায় যাইয়া নাক ঢেকে ঘুমা।

এমন সময়,

রিয়াঃ নিলা ক্লাসের সময় হয়ে গেছে চল যলদি।
আরিয়ানঃ ওই যা ক্লাসে যা।
নিলাঃ তোকে আমি দেখে নিব।

আরিয়ানঃ দেখছিস অনেক এখন যা।
নিলা ক্লাসে চলে গেল।
এদিকে আরিয়ান ওর বন্ধুদের কাছে চলে গেল।

আরিয়ান অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পড়ে। আর নিলা ফার্স্ট ইয়ার। ওদের দু বছরের প্রেম কাহিনি কিছু দিন আগেই পরিসমাপ্তি হলো। এখন কেউ কাউকে দেখতে পারেনা।

সাপ বেজির মতো দুজন দুজনের পেছন লেগেই থাকে। দেখা হলেই ঝগড়া হবে।
আরিয়ান চলে গেল বন্ধুদের কাছে।
শাওনঃ কোথায় ছিলি এতক্ষন?

আরিয়ানঃ আর বলিস না শাঁকচুন্নির জ্বালায় থাকা যায় না। যেখানেই দেখে লেগে যায় পেছনে।
শাওনঃ আমার মনে হয় নিলা তোকে ভালোবাসে।
আরিয়ানঃ চুপ থাক। এমন ভালোবাসা আমার চাই না। প্রচুর প্যারা দেয়।

শাওনঃ ওই যে দেখ সাদিয়া আসতেছে।
আরিয়ানঃ উফস আমার ক্রাশ টা। জানের জান জীবনের জীবন।

শাওনঃ এত কথা না বলে যা প্রপোজ কর গিয়ে। কখন কে পটিয়ে ফেলে বলা যায় না।
আরিয়ানঃ যাচ্ছি।

আরিয়ান স্মার্ট ছেলে। অনেক মেয়েরই ক্রাশ।
যাহোক সে সাদিয়ার সামনে গিয়ে দাড়ালো।
আরিয়ানঃ সাদিয়া তোমার সাথে কথা ছিল।
সাদিয়াঃ হ্যা ভাইয়া বলেন।

আরিয়ানঃ ভাইয়া ডেকোনা প্লিজ।
সাদিয়াঃ কেন?
আরিয়ানঃ Actually তোমাকে প্রথম দিন দেখেই ভালোবেসে ফেলেছি। তোমার টানা টানা চোখ কাজল কালো চোখ লাল লাল ঠোট। সব আমাকে পাগল করে

দেয়। নেশা লেগে যায়। তুমি ছাড়া ঈদানিং কিছু বুঝছিনা। সো আই লাভ ইউ আই লাভ ইউ সো মাচ।
সাদিয়াঃ চুপ করে আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে আছে।

আরিয়ানঃ চুপ করে থেকে হার্টবিট বাড়িয়ে দিও না প্লিজ।
সাদিয়াঃ আমাকে এক দিন সময় দিন।
আরিয়ানঃ আচ্ছা ঠিক আছে। কালকে এ সময় তোমার জন্য অপেক্ষা করব।
সাদিয়াঃ ওকে।

সাদিয়া হাটা ধরল।
আরিয়ানঃ সাদিয়া
সাদিয়া পেছন তাকালো।

আরিয়ানঃ উত্তর কিন্তু হ্যা হওয়া চাই। নাহলে মরেই যাব।
সাদিয়া চলে গেল।
শাওন আরিয়ানের কাছে আসল।
শাওনঃ কি বলল রে?
আরিয়ানঃ দোস্ত

শাওনঃ বল
আরিয়ানঃ ধরে নে রাজি হবেই।
দুজন হাতে হাত ধরে খুশিতে ক্লাসে চলে গেল।

বিকাল বেলা,
আরিয়ানঃ কিরে তোর কি হয়েছে?
হাবিবঃ আর বলিস না
আরিয়ানঃকি হয়েছে

হাবিবঃ অনেক দিন পর পাশের ফ্লাটে বাড়াটিয়া এসেছে।
আরিয়ানঃ তো কি সমস্যা?
হাবিবঃ ওই বাসায় একটা মেয়ে আছে

আরিয়ানঃ ওয়াও কেমন নিশ্চয়ই খুব সুন্দর। তোর তো খুশি হওয়ার কথা।
হাবিবঃ শালা পুরো টা শুনবি তো ( রেগে গিয়ে)
আরিয়ানঃ আরে বল রাগিস কেন

হাবিবঃ মেয়েটা খুব সুন্দর। মাশাল্লাহ। প্রথম দেখাতেই চিন্তা করে ফেলেছি বিয়ে করলে এরেই করব।
তুষারঃ বাহ বাহ তারপর?

হাবিবঃ তো প্রতিদিন লুকিয়ে লুকিয়ে দেখতাম। একদিন দেখি একটা ছেলের সাথে ঘুরতেছে।
শাওনঃ এজন্য মন খারাপ? ছেলেটা কে বল পেদানি দিয়া বুড়িগঙ্গায় ভাসাইয়া দিব

হাবিবঃ তুই ই সব বল। শালা পুরা না শুনে মাজখানে কথা বলবি না।
শাওনঃ থাক ভাই আর বলব না তুই বল
হাবিবঃ তো খোজ নিয়া দেখি ছেলেটা তার বয়ফ্রেন্ড।

দুদিনেই ব্রেক আপ করাইলাম। আলহামদুলিল্লাহ বলে মেয়েটাকে বউ ভাবা শুরু করে দিছি। প্রপোজ করার জন্য আজকে রেডিও ছিলাম। কিন্তু দুপুর বেলা ভার্সিটি থেকে বাসায় গিয়ে দেখি আম্মু আর ওই মেয়েটা ড্রয়িং রুমে বসে আছে।

আরিয়ানঃ বাহ বাহ দুস্ত তোর তো কুত্তা ভাগ্য চাওয়ার আগেই তোর বউ তোর ঘরে।
হাবিব রাগি দৃষ্টিতে তাকালো। আরিয়ান চুপ হয়ে গেল।
হাবিবঃ সব ঠিক আছে। কিন্তু যখন শুনলাম ওই মেয়ে আম্মুকে আপু বলে ডাকে। জীবন টা বেদনা হয়ে গেল। আম্মু আমার সাথে মেয়েকে মামা ভাগ্নি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিল।

আরিয়ান শাওন তুষার ঠিক কি বলবে ভেবে পাচ্ছেনা।
তিনজন হাবিব কে তিন টা থাপ্পড় দিয়ে দিল।
তুষারঃ শালা বলদ

শাওনঃ শালা অটিস্টিক
আরিয়ানঃ প্রতিবন্ধী। ওরে পাবনা দিয়ে আয়।
সবাই সবার বাসায় চলে গেল।

তো পরদিন আরিয়ান সাদিয়ার জন্য অপেক্ষা করতেছে।
এমন সময় সাদিয়া আসতেছে। লাল শাড়ি কপালে নীল টিপ। ঠোটে হালকা লিপস্টিক সব মিলিয়ে অস্থির লাগছিল।

সাদিয়া সামনে আসতেই।
আরিয়ানঃ ওয়াও তোমাকে আজ দারুন লাগছে। যদিও প্রতিদিনই লাগে আজকে পুরো অন্যরকম।
সাদিয়াঃ ওহ thank you

আরিয়ানঃ সো আমার উত্তর টা।
সাদিয়াঃ উফস আমি না কিছু খেয়ে আসিনি। ক্যান্টিনে খেতে খেতে বলি
আরিয়ানঃ ওকে চলো

আরিয়ান আর সাদিয়া ক্যান্টিনে চলে যায়। খাবার নিল
আরিয়ানঃ এখন বলো। আমার না সহ্য হচ্ছেনা
সাদিয়াঃ সত্যি বলতে তোমাকে আমার ভিষন ভালো লেগেছে। তোমার স্টাইল আমাকে মুগ্ধ করেছে। সব মিলিয়ে তুমি একদম পারফেক্ট উফস এত প্রশংসা না করে বলো না ভালোবাসো। ( আরিয়ান মনে মনে বলে)

সাদিয়াঃ আমি হয়ত তোমাকে হ্যা বলতাম। কিন্তু আই এম সরি
আরিয়ানঃ সরি কেন?

সাদিয়াঃ আমাকে নিলা সব বলেছে। তুমি নিলার এক্স বয়ফ্রেন্ড। ব্রেক আপ হওয়াতে তুমি এখন আমার কাছে এসেছ। এসব না জানলে হয়ত আজ আমি রাজি হয়ে যেতাম। কিন্তু আমি জেনে শুনে কারো এক্স কে আমার বয়ফ্রেন্ড বানাতে পারব না। আমি দুঃখিত।
আরিয়ানঃ নিলার সাথে আমার কিছু ছিল না।

সাদিয়াঃ মিথ্যা বলে লাভ নাই। আমার নিলা প্রমান ও দিয়েছে। আমি সেকেন্ড হ্যান্ড মাল ইউজ করিনা।
বলেই সাদিয়া চলে গেল।

এত অপমান আরিয়ান কে এর আগে কেউ করেনি। ইচ্ছে করছে নিলাকে মেরে ফেলতে।
হন্ন হয়ে নিলাকে খুজতে লাগল।

অন্যদিকে নিলা আজকে ভার্সিটি আসেনাই। বাসাতেই আছে।
নিলা বাসায় বসে টিভি দেখতেছে। এমন সময় রিয়া কল দিল। নিলা রিসিব করল।
নিলাঃ কি খবর রে?

রিয়াঃ খবর ঝাক্কাস। সাদিয়া আরিয়ান কে পুরো থ বানিয়ে না করে দিছে।
নিলাঃ আমার সাথে পাঙা নিছিল। এবার বুঝব ঠ্যালা।
রিয়াঃআমার ট্রিট যেন পেয়ে যাই।

নিলাঃ পেয়ে যাবি চিন্তা করিস না।
গতকাল আরিয়ান প্রপোজ করার পর সাদিয়া ক্লাসে যায়। আরিয়ান যে সাদিয়াকে প্রপোজ করছে তা নিয়ে।

সাদিয়া তার বান্ধবিদের সাথে কথা বলতেছিল তখনি নিলার কানে এটা যায়। তখনি নিলা এগিয়ে যায়,
নিলাঃ আরিয়ান তোকে প্রপোজ করছে।
সাদিয়াঃ হুহ

নিলাঃ তুই জানিস ও কত বড় লুচ্চা।
সাদিয়াঃ কিসব বলিস। ওনি অনেক ভদ্র আছে।
তারপর নিলা ওর আর আরিয়ানের সব বলে পিক ও দেখায়।

সাদিয়াঃ তো কি তোর সাথে তো ব্রেক আপ হয়েছে।
নিলাঃ হুম হয়েছে। এখন যদি তুই ইউজ করা জিনিস ইউজ করিস। তাতে আমার কি? আমার কিছু হবে আমি চললাম।

এই বলে নিলা চলে আসে।
নিলা সোফায় বসে বসে এসব ভাবছে আর হাসতেছে। এমন সময় নিলার মা,

নিলার মাঃ কিরে তুই একা একা হাসছিস?
নিলাঃ ও তুমি বুঝবানা।
নিলার মাঃ বুঝব না। আচ্ছা তোর বাবা কে বলে বিয়ের ব্যবস্থা করছি তোর
নিলাঃ উফস মা তোমার আর কাজ নাই। খালি বিয়ে বিয়ে করো

নিলার মাঃ তুই যেই একা একা হাসিস। এসব ভালো ঠেকছে না আমার। সন্ধেহ জনক।
নিলাঃ হুম তোমার জন্য আমার হাসাও বন্ধ করে দিতে হবে হুহ ( মুখ ভেংচি কাটল)

তারপর নিজের রুমে চলে গেল।
অন্যদিকে আরিয়ান নিলা কে পেয়ে ক্যান্টিনে বসে আছে। শাওন আর তুষার আসল
তুষারঃ কিরে এখানে এভাবে বসে আছিস। ক্লাসেও গেলি না

আরিয়ান কিছু বলছেনা।
শাওনঃ ওদিকে হাবিব শালায় মেয়ের জন্য ভার্সিটি আসেনা। এখানে তুই এসেও এভাবে বসে আছিস। বলবি তো কি হয়েছে।

আরিয়ানঃ সব বলল
ওর কথা শুনে দুজনেই হাসতে লাগল।
আরিয়ানঃ হাসিস কেন?

শাওনঃ মেয়ে তো ভূল বলেনাই। আসলেই তো তুই নিলার এক্স বয়ফ্রেন্ড।
আরিয়ানঃ তুই তুই তোরে আজকে

সামনে থাকা বোতলটাই হাতে নিল। শাওন অবস্থা বেগতিক দেখে দৌড়ে পালালো।
দৌড়াতে দৌড়াতে গিয়ে খেল এক মেয়ের সাথে ধাক্কা।
দুজনেই পড়ে গেল।

মেয়েটিঃ এক্সকিউজ মি চোখে দেখেন না?
শাওনঃ আপনি দেখেন না? দেখছেন দৌড়ে পালাচ্ছি সামনে আসলেন কেন
মেয়েটিঃ ফালতু ছেলে

শাওন মেয়েটার দিকে তাকালো ভালো করে। খুবই সুন্দর। পছন্দ হয়ে গেল।
শাওনঃ আপনার নাম কি?

মেয়েটিঃ নাম দিয়ে কাজ কি? ফালতু
বলেই মেয়েটি হাটা ধরল।
শাওনঃ ওরে কে কোথায় আছিস আমাকে ধর আমি তো ক্রাশ খেয়েছি ( চিল্লাইয়া)

মেয়েটি একবার পিছন তাকিয়ে চলে গেল।
মেয়েটিঃ নাম দিয়ে কাজ কি? ফালতু
বলেই মেয়েটি হাটা ধরল।

শাওনঃ ওরে কে কোথায় আছিস আমাকে ধর আমি তো ক্রাশ খেয়েছি ( চিল্লাইয়া)
মেয়েটি একবার পিছন তাকিয়ে চলে গেল।
এমন সময় কলার চেপে আরিয়ান ধরল শাওন কে।
আরিয়ানঃ এইবার যাইবি কোথায়?

শাওনঃ দেখ ভাই তুই না আমার ভাইয়ের মতো। একটু দুষ্টামি না করছি এত রাগিস কেন?
আরিয়ানঃ আচ্ছা মাফ করে দিলাম যাহ।
শাওনঃ এই না হলে আমার বন্ধু।

আরিয়ানঃ পাম বাদ দাও ওই মেয়েটা কে?
শাওনঃ কোনটা?
আরিয়ানঃ তোকে ফালতু বলে চলে গেল যে
শাওনঃ আমার হবু গালফ্রেন্ড।
তুষারঃ হবু? কেমনে

শাওনঃ আজকে ক্রাশ খাইছি। কাল থেকে পটাব। কয়েকদিনের মধ্যেই ওর সাথে প্রেম করব। সো হবু হলো না?
আরিয়ানঃ হ তোর মাথা হয়েছে। শালা।
তুষারঃ চল ক্লাসে যাই

আরিয়ানঃ না আজ ক্লাস করব না। নিলা কে খুজতে হবে। ওরে আমি খাইছি
তুষারঃ নিলা কলেজ আসেনি পাইবি কোথায়?
আরিয়ানঃ ওহ এজন্যই খুজে পাচ্ছিনা। শালি রে পাইয়া নেই। এক্কেবারে খাইয়া ফেলব।

শাওনঃ দু বছর তো খাইছতই। আবার কি খাইবি
আরিয়ানঃ শাওন ( চোখ বড় বড় করে তাকালো।
শাওনঃ কিছুনা সরি।
আরিয়ানঃ বাসা

য় গেলাম বিকালে মন্টুদার দোকানে দেখা হবে।
শাওনঃ তো আমরা আর ক্লাস করব কেন। চল তিন জনেই বাসায় চলে যাই।
তিন জনই বাড়িতে চলে গেল।

বিকাল বেলা মন্টুদার দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছে সবাই।
এমন সময় আরিয়ান দেখে নিলা যাচ্ছে। দেখেই সকালের কথা মনে পড়ে গেল। মনে মনে বলে তোরে আমি খাইছি।

দৌড়ে রাস্তার ওপাড়ে গিয়ে। নিলার সামনে দাড়ালো।
নিলাঃ এই যে মিস্টার পথ ছাড়ুন
আরিয়ানঃ বাব্বাহ এত সুন্দর করে কথা বলতেও জানিস। আগে জানতাম না। দুই টা বছর জ্বালাইছিস।

এখনও কেন জ্বালাস? সাদিয়া কে কি বলছিস?
ইশ সাদিয়া তাহলে ওরে সব বলে দিছে। শাকচুন্নি কোথাকার। মুখটাও বন্ধ রাখতে পারেনা ( নিলা মনে মনে)

আরিয়ানঃ বলিস না কেন
নিলাঃ আচ্ছা এই সাদিয়া টা কে?
আরিয়ানঃ তুই সাদিয়া কে চিনিস না? কানের নিচে দিয়া বসাইয়া রাখব

নিলাঃ তুই চাস আমি এখন এখানে চিৎকার করি? তারপর লোকজনের হাতে মাইর খা?
আরিয়ানঃ তুই চাস আমি তোকে লিপ কিস করি? এই ভরা রাস্তায়?

নিলাঃ কিহ
আরিয়ানঃ হ্যা।
নিলাঃ খাড়া দেখাচ্ছি মজা
নিলা চিৎকার দিতে যাবে তখনি আরিয়ান সামনে থেকে সড়ে গেল।

পাবলিকের মাইর বড়ই ডেঞ্জারাস। বলা তো যায়না। হাড্ডি খুজে পাওয়া যাবে কিনা। এইসব ভেবেই আরিয়ান সড়ে গেল।
আর নিলা চুপচাপ একটা ভাব নিয়ে চলে গেল।

আরিয়ানের শরির জ্বলতেছে। এর প্রতিশোধ নিয়েই ছাড়ব।
এমন সময় শাওন আর তুষার কাছে আসল,
শাওনঃ দুস্ত নিলার কাছে তোর হার মেনে নেওয়া যাচ্ছেনা। তুই খালি অনুমতি দে এখনি তোর সামনে নিয়ে আসব

আরিয়ানঃ হ যা
শাওনঃ এ খাইছে আমারে। আমি তো ফাজলামি করতেছিলাম। ওই মেয়ে যে ফাজিল। আমাকে এক হাটে বিক্রি করে আরেক হাট থেকে কিনে আনবে
তুষারঃ ডাইলগ কম মার নারে ভাই। এত কথা বলিস কেন

আরিয়ানঃ সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাকা করতে হয়।
শাওনঃ কিন্তু ঘি তো সোজা আঙুলেও উঠে।
আরিয়ানঃ ওরে কিছু বলবি নাকি পানিতে চুবামু আমি।

বলেই আরিয়ান আর তুষার দোকানে চলে গেল।
আর শাওন,
কি ভূল বললাম? সোজা আঙুলে তো ঘি উঠেই। কেন বোতলের ভিতরে যদি আঙুল সোজা ডুকানো হয় তাহলে তো অবশ্যই আঙুলে একটু লেগে থাকবে। তো

হলো না সোজা আঙুলে ঘি উঠানো? ( শাওন মনে মনে)
রাত ৮ টা বাজে,
শাওন আরিয়ান আর তুষার নিলাদের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

তুষারঃ এবার বল কি করতে এখানে এনেছিস
আরিয়ানঃ ওয়েট বন্ধু। বড় বড় ঈটের টুকরা নে।
তুষার দুটা টুকরা এনে দিল।

আরিয়ানঃ ছোট বেলায় এক ঢিলে ৪ টা আম পাড়তাম।
শাওনঃ তার সাথে এখানের কি সম্পর্ক। না আছে আম না আছে কোনো কিছু। আস্ত বাড়ি টাই দাঁড়ানো।
আরিয়ানঃ তোকে চুপ থাকতে বলছিনা।
সবাই চুপ।

আরিয়ান নিলার রুমের দরজা টার্গেট করল। তারপর পর পর দুটো ঢিলা দিল। জানালার কাচ শেষ।
হঠাৎ কুকুর দুইটা দৌড়াইয়া আসল। ঘেউ ঘেউ করতে করতে।

শাওনঃ আমার মনে হয় আর গালফ্রেন্ড পটানো হলোনা। আল্লাহ আমারে বাচাও
তুষারঃ আমার আর বিয়ে করা হবেনা।
আরিয়ানঃ বাচতে চাইলে দৌড়া।

উপায় না পেয়ে তিনজনই দিল দৌড়।
অন্যদিকে নিলা ঘরে ভিতরে হঠাৎ কাচ ভেঙে পড়ায়।
দিল চিৎকার। সাথেই আম্মু আব্বু চলে আসল।
আম্মুঃ চিল্লাস কেন?
নিলাঃ ওইদিকে দেখো

আব্বুঃ কে করছে কে
ওনারা জানালা দিয়ে তাকিয়ে কাউকে পেলোনা।
অন্যদিকে আরিয়ান শাওন তুষার দৌড়ে কোনোরকমে একটা দেয়ালে উঠে বাচল।

তুষারঃ শালা আজ যদি ধরতে পারত। উপড়ে চলে যেতাম।
শাওনঃ বাবা বেচে গেছি। কালকের মসজিদে ১৪ টাকা দান করব।
তুষারঃ ১৪ টাকা কেন রে?

শাওনঃ সেটা আমার ইচ্ছা। জীবন টা খেয়ে দিচ্ছিল অল্পের জন্য বেচে গেছি।
তুষারঃ শালা কিপটা

আরিয়ানঃ কে জানত ঐ কুত্তির ঘরেও কুত্তা আছে।
শাওনঃ বাল প্রেম করছ এইটুকুও জানো না।
তুষারঃ হইছে ভাই বাসায় চল এখন।
তিনজন বাসায় চলে গেল।

পরদিন কলেজে,
শাওনঃ এই যে মিস আপনি অনেক সুন্দর
প্রথম দেখায় মন নিয়েছেন কেড়ে
এখন ভালোবেসে আপন করে

মেয়েটিঃ থামেন থামেন আর বলতে হবেনা।
শাওনঃ ভাগ্যিস থামাইছে। নাহলে এর পরে যে কি বলতাম সেটা মাথায় ছিলই না ( মনে মনে)
মেয়েটিঃ একদিনেই প্রেম ভালোবাসা হয়না। আর

আপনাকে তো আমার ফালতু ছাড়া কিছু মনেই হয়না। আগে ভালো হোন তারপর ভেবে দেখব
শাওনঃ হায় হায় তোমছে তো মে কোরবান।
মেয়েটিঃ পাগল।

ভেংচি কেটে হাটা ধরল।
শাওনঃ নাম টা তো বলে যাও।
মেয়েটি পেছন ঘুরে তাকালো।
মেয়েটিঃ নিপা

মেয়েটি চলে গেল।
অন্যদিকে আরিয়ান সাদিয়ার পেছন পেছন হাটছে।
আরিয়ানঃ সাদিয়া শুনো না প্লিজ
সাদিয়াঃ তোমার সাথে আমার কোনো কথা নাই
আরিয়ান সাদিয়ার হাত ধরে ফেলে।

আরিয়ানঃ প্লিজ
সাদিয়া দাড়ালো।
সাদিয়াঃ বলো কি বলতে চাও
আরিয়ানঃ থ্যাংক ইউ।
সাদিয়াঃ আগে বলো কি বলবা

আরিয়ানঃ বিশ্বাস করো নিলার সাথে আমার কোনো কিছু নাই।
সাদিয়াঃ ছিল তো
আরিয়ানঃ উফস। সে ছিল। এখন তো নাই। বুঝনা কেন
সাদিয়াঃ আগেও বলেছি এখনও বলছি আমার কারো এক্স বয়ফ্রেন্ড এর সাথে প্রেম করার ইচ্ছা নাই। so

bye..
সাদিয়া চলে গেল।
উফস নিলা নিলা নিলা মন চায় খুন করে ফেলি।
তুষারঃ রাগিস না থাম। ভালোমতো একটা বুদ্ধি বেড় কর। যাতে সাপ ও মরে লাঠিও না ভাঙে।

আরিয়ানঃ দু বছর জ্বালাইছে। এখন এক্স বয়ফ্রেন্ড কইয়া সবাইর কাছে ছড়াইয়া দিছে।
অন্যদিকে নিলা ক্লাস থেকে বেড় হুলো।
হাটছে হঠাৎ একটা ছেলে এসে সামনে দাড়াল।
নিলাঃ কি চাই?

ছেলেটিঃ কথা ছিল
নিলাঃ বলুন
ছেলেটি হাটু গেড়ে নিলার সামনে বসল। তারপর বলল
ছেলেটিঃ আই লাভ ইউ আই

নিলাঃ….?


পর্ব ২

ছেলেটিঃ কথা ছিল
নিলাঃ বলুন
ছেলেটি হাটু গেড়ে নিলার সামনে বসল। তারপর বলল
ছেলেটিঃ আই লাভ ইউ

নিলাঃ কি সত্যি
ছেলেটিঃ I really love you..
নিলাঃ খুশি হলাম। তবে আজ উত্তর দিব না। কালকে দিব চলবে?
ছেলেটিঃ চলবে না দৌড়াবে।

নিলাঃবায় দ্যা ওয়ে তোমার নাম কি?
ছেলেটিঃ নিলয় আমার নাম।
নিলাঃ আহ কত সুন্দর। নিলয় তার নিলা। আচ্ছা বায়। বাসায় যাব।

নিলা চলে গেল বাসায়। পেছন থেকে আরিয়ান আর শাওন এসে দিল নিলয়ের কাধে হাত দিল।
নিলয়ঃ কি ভাই কি চাই?

শাওনঃ সিনিয়র দের সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় জানিস না?
বলেই দিল এক থাপ্পড়।
আরিয়ানঃ উফস শাওন থাম না। কথা বলতে দে।
শাওনঃ বল
নিলয়ঃ আপনারা কারা?

আরিয়ানঃ দেখ ছোট ভাই। এত প্রশ্ন না করে বলতো তুই নিলার সাথে কি করতেছিলি
নিলয়ঃ কেন বলব?

শাওনঃ আবার মুখে মুখে তর্ক করস। মাটির নিচে পুতে রেখে দিব।
নিলয়ঃ সরি ভাইয়া। আমি আসলে নিলাকে পছন্দ করি।
আরিয়ানঃ গুড ভেরি গুড carry on..
অন্যদিকে হাবিবের বাসায়,

আম্মুঃ কি ব্যাপার তুই তিন চারদিন ধরে ভার্সিটি যাচ্ছিস না। কি হয়েছে?
হাবিবঃ শোক পালন করতেছি।
আম্মুঃ কিসের

হাবিবঃআমার মায়ের বয়স ৪৪। আমি যদি বিয়া করতাম তুমি দাদি হয়ে যেতা। ঐ পাশের বাসার সুমাইয়া তোমাকে কিভাবে আপু বলে ডাকে? বুঝে আসেনা

আম্মুঃ আপু ডাকলে তোর সমস্যা কি?
হাবিবঃ সমস্যা তোমাকে কিভাবে বলব মা এ গোড়তর সমস্যা। ( মনে মনে)
আম্মুঃ বলিস না কেন তুই কি সমস্যা?

হাবিবঃ না মানে তুমি তো তার মায়ের বয়সী। আন্টি বলতে পারত। আপু কেন ডাকল তা বুঝলাম না।
আম্মুঃ তুই ও সুমাইয়ার মাকে আপু ডাক তাহলেই তো সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।

হাবিব ওর মায়ের দিকে তাকালো।
আম্মুঃ এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন?
হাবিবঃ মা তুমি মহাজ্ঞানী। তোমাকে হাজার সালাম। যাও তুমি রান্না করতে যাও। না তুমিই থাকো আমিই চলে যাই নিজের রুমে।

হাবিব নিজের রুমে চলে আসল।
ইচ্ছে করছে কোমায় চলে যাই। বললাম কি আর উত্তর দিল কি। যাকে আমি শাশুড়ি ভেবে আসতেছি তাকে আপু ডাকতাম। আর যাকে বউ বানানোর স্বপ্ন দেখছি

তাকে বানাব আপু। বাহ বাহ কপাল তোকে বাহবা দিতে হবে। মহরাজা তোমাকে হাজারো সালাম। বাপরে বাপ খেয়ে ছেড়ে দিল।

যাহোক পরদিন ভার্সিটি তে নিলা অপেক্ষা করছে নিলয়ের প্রপোজের উত্তর দিবে।
অনেক ভেবে দেখল নিলয় তার সাথে যায় না। তাই ভেবে ফেলছে রিজেক্ট করে দিবে।

ওদিকে নিলয় নিলা কে দেখেই কাছে চলে আসল।
নিলয়ঃ কেমন আছ আপু?
নিলাঃ আপু?( অভাক হয়ে)

নিলয়ঃহ্যা আপুই তো। যদিও তোমার বাবা মা আর আমার বাবা মা আলাদা। তবুও আমি তোমাকে বোন হিসেবেই মেনে নিছি
নিলাঃ কাল যে প্রপোজ করলা

নিলয়ঃ ওহ ওটা তো ডেয়ার ছিল। চাপে পড়ে প্রপোজ করছিলাম। যাহোক বলে দিলাম সরি। ভালো থেকো ছোট বইনা। বায়
নিলয় প্রস্থান করল।

নিলার হাসি মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল। কোথায় ভাবছিলাম আমি রিজেক্ট করব তারপর ও আমার পায়ে ধরব অনুনয় অনুরোধ করবে। আরিয়ান দেখে জ্বলবে। কিন্তু এ শালা তো আমাকেই বোকা বানিয়ে দিয়ে গেল।

( মনে মনে)
এমন সময় রিয়া,
রিয়াঃ কিরে এখানে কি করছিস ক্লাসে চল
নিলাঃ হ্যা চল।

ওদিকে আড়াল থেকেই আরিয়ান শাওন আর তুষার মজা নিচ্ছিল। নিলার কাহিনি দেখে হাসতে লাগল।
শাওনঃ অস্থির শিক্ষা হয়েছে।

তুষারঃ আচ্ছা আমি যা দেখছি তোরাও কি তা দেখছিস?
শাওনঃ তুই কি এখন সেই ক্লাস ফাইভ সিক্স এর খেলা খেলবি নাকি? যে আমরা বলমু দেখছি তারপর বলবি আম গাছ দেখা। ওই খেলা খেলবি?

তুষারঃ শালা মাথা মোটা ওদিকে তাকা।
আরিয়ান শাওন তাকিয়ে অভাক। কারন হাবিব ভার্সিটি তে এসেছে। ওদের সামনে দাড়াল।

শাওনঃ সালাম বস। ভালো আছেন আপনে? আন্টি কেমন আছে?
হাবিবঃ আলহামদুলিল্লাহ ভালো। আম্মুও ভালো আছে।
শাওনঃ কিহ তুই ওই সুমাইয়াকে আন্টি থেকে আম্মু ডাকা শুরু করছিস?

হাবিবঃ তোরে কি দিয়া বানাইছে রে? আল্লাহ
শাওনঃ মাটি আর পানি
আরিয়ানঃ ঝগড়া করিস না তো। তোর আন্টির কি খবর সেটা বল

শাওনঃ কি আর খবর। আন্টিকে মা ডাকা শুরু করছে শুনলি না?
হাবিবঃ চুপ থাকবি তুই। নাকি পিডামু এখন
এমন সময় শাওন নিপাকে দেখতে পেল।

শাওনঃ শালা তুই থাক তোর আন্টিকে নিয়া আমি চললাম।
এক দৌড়ে নিপার কাছে চলে আসল।
এই মনটাকে লিখে দিলাম তোরি নামেতে
তুই কি আসবি বলনারে প্রেমের টানে?

ভালোবাসার মাতাল হাওয়া বইছে যে আমার প্রানে
তোর ছোয়াতে যেন যাই সব কিছু আমি ভুলে।
তুই যে জানের জিগার ওই খোদাই জানে
তুই যে জানের জিগার ওই খোদাই জানে।

নিপাঃ থামাও তোমার ডাইলগবাজি।
শাওনঃ কসম ডাইলগ মারিনা। তুমিই আমার সব।
নিপাঃ আই এম ইমপ্রেস।
শাওনঃ কিহ সত্যি

নিপাঃ হুম।
তারপর আর কি হয়ে গেল শাওন আর নিপার প্রেম।

নিলার বাসায়। নিলার চাচাতো বোন এবার ক্লাস সিক্সে পড়ে। নাম নিলাশা দুজন টিভি দেখছে তখনি,
নিলাশাঃ আচ্ছা আপু প্রেম করা কি ভালো?

নিলাঃ কি ব্যাপার তোর মুখে এসব
নিলাশাঃ আর বলোনা আমার কয়েকটা বান্ধবী প্রেম করে।
নিলাঃ আহ কি দিন কাল আসল। অকালপক্ব

পোলাপান ও প্রেম করে ( মনে মনে)
নিলাশাঃ কি হলো আপু
নিলাঃ একদম না। প্রেম করা ভালোনা। একেবারে বিয়ের পর জামাইর সাথে প্রেম করবি। এখন একদম এসব চলবে না

নিলাশাঃ কিন্তু আপু তুমিও তো প্রেম করতা।
নিলাঃ তোকে কে বলল?
নিলাশাঃ তোমার ডাইরি তে দেখেছি সব।
নিলাঃ ওরে শাকচুন্নি তুই তলে তলে আমার জিনিসে

হাত দিস। আরেক দিন যদি এসব শুনছি তাহলে দেখিস তোর আব্বু আম্মুকে যদি না বলছি আমি।
বলেই নিলা নিজের রুমে চলে আসল।
অন্যদিকে আরিয়ান বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে বসল। আম্মু আসল।

আম্মুঃ তোর মামা কল দিছিল
আরিয়ানঃ কেন?
আম্মুঃ তোকে যেতে বলছে
আরিয়ানঃ কিহ সত্যি
আম্মুঃ হুম। কিন্তু তুই এত খুশি হয়ে গেলি কেন

আরিয়ানঃ অনেকদিন পর মামার বাড়ি যাব তাই খুশি হয়েছি।
আম্মুঃ কবে যাবি
আরিয়ানঃ কবে কেন কালই যাচ্ছি।

আম্মুঃ ওকে। আমি ভাইকে ফোন দিয়ে জানাচ্ছি।
আম্মু চলে গেল।
আপনারাও আবার ভাববেন না যে আমি মামার বাড়ি যাব তাই খুশি হয়েছি। আসলে তা না কিন্তু। আসল কাহিনি হচ্ছে মামাতো বোন মিথিলা। আর কিছু বলব না।

পরদিন সকালেই আরিয়ান মামার বাড়িতে রওনা দিল।
অন্যদিকে নিলা,
নিলার মাঃ এখনও রাজরানীর মতো ঘুমাচ্ছে এই উঠ যলদি

নিলাঃ উফস মা ঘুমাতে দাও তো।
নিলার মাঃ উঠ যলদি। বাড়িঘর গোছাইতে সাহাজ্য কর।
নিলাঃ কেন কোনো উৎসব হবে নাকি?

নিলার মাঃ হুম। তোকে দেখতে আসবে
নিলাঃ আ এ উ কি বলছ?
নিলার মাঃ হুম। উঠ এখন।
নিলার মা চলে গেল।

আমি কি বেচে আছি? কি বলছে। আসুক কোন শালায় দেখতে আসবে তাকে যদি মজা না দেখাইছি আমি।
দুপুরের দিকে নিলাকে দেখতে লোকজন আসল।

ছেলের প্রশংসা করছে সবাই। কিন্তু নিলা এখন বিয়ে করবেনা। সো এ বিয়ে ভাঙতেই হবে।
নিলাকে আর ছেলে কে আলাদা রুমে পাঠানো হলো কথা বলতে। নিলা নিলার রুমেই নিয়ে আসল।

দুজন সামনাসামনি দাঁড়িয়ে রয়েছে। কিভাবে বিয়ে ভাঙবে ভাবতে পারছেনা। কোনো বুদ্ধিই মাথায় আসছেনা।

ছেলেটিঃ চুপ করেই থাকবেন নাকি?
নিলাঃ না মানে
ছেলেটিঃ আমার সম্পর্কে কিছু জানতে চাইলে প্রশ্ন করতে পারেন।

এমন সময় নিলার জানালার দিকে নজর গেল। জানালা এখনও রিপেয়ার করা হয়নি এখনও ভাঙা। পাইছি বুদ্ধি
নিলাঃ আপনাকে কিভাবে যে বলব আসলে আমি।
ছেলেটিঃ take it easy.

নিলাঃ আমার বয়ফ্রেন্ড আছে।
ছেলেটিঃ হাহা এসব ব্যাপার না। এখন কার যুগে এসব কমন। বিয়ের পর ঠিক হয়ে যাবে
নিলাঃ ঠিক হবেনা। ওই যে দেখেন জানালা ভাঙা। এটা দুদিন আগে আমার বয়ফ্রেন্ড ভাঙছে। ও প্রায়ই এ

জানালা দিয়ে আমার রুমে যাওয়া আসা করে রাতের বেলা। কি হয় বুঝতেই তো পারছেন
ছেলেটিঃ কি বলছেন আপনি

নিলাঃ সত্যি বলছি। এখন চাইলে আপনি বিয়ে করতে
পারেন। আর হ্যা প্লিজ এ গুলা কাউকে বলবেন না দয়া করে। আমার বদনাম হয়ে যাবে।
ছেলেটি একবার নিলার দিকে তাকাচ্ছে আরেকবার জানালার দিকে। অতঃপর….?

নিলাঃ ঠিক হবেনা। ওই যে দেখেন জানালা ভাঙা। এটা দুদিন আগে আমার বয়ফ্রেন্ড ভাঙছে। ও প্রায়ই এ জানালা দিয়ে আমার রুমে যাওয়া আসা করে রাতের বেলা। কি হয় বুঝতেই তো পারছেন

ছেলেটিঃ কি বলছেন আপনি
নিলাঃ সত্যি বলছি। এখন চাইলে আপনি বিয়ে করতে পারেন। আর হ্যা প্লিজ এ গুলা কাউকে বলবেন না দয়া করে। আমার বদনাম হয়ে যাবে।

ছেলেটি একবার নিলার দিকে তাকাচ্ছে আরেকবার জানালার দিকে। অতঃপর
ছেলেটিঃ আপনাকে আমি
নিলাঃ আপনি আমাকে ভালো ভেবেছেন কিন্তু আমি ভালো নই। আপনি আমাকে বিয়ে করতে পারেন। কিন্তু

পরে যখন আমি আমার বয়ফ্রেন্ড এর সাথে পালাব। তখন বুঝবেন ঠ্যলা।
ছেলেটি কিছু না বলেই রুম থেকে বেড়িয়ে গেল।
নিলা নাচতে লাগল। বিয়ে ভেঙে যাবে ১০০% সিউর।

যাহোক ছেলেরাও পরে জানাবে বলে চলে গেল।
অন্যদিকে আরিয়ান মামার বাড়ি পৌছে গেল।
সবাইর সাথে কথা বলা শেষে রুমে বসে আছে।
শালার যাকে দেখতে আসলাম তাকেই দেখছিনা।

মিথিলা কোথায়? দেখতে পেলাম না তো। ( আরিয়ান মনে মনে)
এমন সময় দরজায় কেউ ধাক্কা দিল। ভিতরে প্রবেশ করল।

আরিয়ান ক্রাশড। হায় কি রুপ। মনে হয়না এমন আর দেখছি।
আরিয়ানঃ আপনি?।

~ আরে ভাই আমি মিথিলা। তোর কি খবর?
আরিয়ান চমকে গেল। বলাই বাহুল্য আরিয়ান আর মিথিলা সমবয়সী।
আরিয়ানঃ তুমি আমারে তুই করে বলছ কেন?

মিথিলাঃ তুই তো আমার থেকে মাত্র ১ মাস তেরো দিনের বড়। তো তুই করে বলব না তো কি করব?
আরিয়ানঃ না ঠিক আছে চালিয়ে যাও
মিথিলাঃ আচ্ছা আমি যাই রে। কাজ আছে।

আরিয়ান কিছু বলতে যেও বলল না।
মিথিলা চলে গেল।
ভাইরে ভাই এরে ছোট বেলায় দেখছি কেমন আর এখন কেমন। পুরাই পাল্টে গেছে। সুন্দরী মেয়েদের ভাব একটু বেশিই থাকে। উত্তরাধিকার সূত্রে সেটাই বহন করতেছে।
যাহোক পরদিন সকালে,

আরিয়ান বাড়ি থেকে একাই বেড় হলো। রাস্তায় হাটছে। ঘুরে ফিরে দেখছে।
এমন সময় একটা ছেলে এসে সামনে দাড়াল। আরিয়ান চমকে গেল।

আরিয়ানঃ আপনি?
~ আমি বল্টু
আরিয়ানঃ কি কি বললা বল্টু? ( হাসতে হাসতে)
বল্টুঃ হুম বল্টু। বাবা মা বড় আশা করে নামটা রাখছিল। হাসবেন না আপনি

আরিয়ানঃ তো কি চাই
বল্টুঃ কিছু চাইনা দিতে এসেছি
আরিয়ানঃ কি?
বল্টুঃ এই চিঠিটা মিথি কে দিবেন।
আরিয়ানঃ মিথি কে আবার?

বল্টুঃ মিথি মানে মিথিলা।
আরিয়ানঃ ওয়েট ওয়েট ওর সাথে তোমার কি সম্পর্ক।
বল্টুঃ সে অনেক দুঃখের কথা রে ভাই। একসময় ছিল আমি আর মিথি একে অপরকে খুব ভালোবাসতাম।

দুজন হাতে হাত ধরে কত ঘুরাঘুরি করছি এই গ্রামেই। এখন নতুন নতুন ছেলে পেয়ে আর ও আমাকে পাত্তাই দিচ্ছেনা। ও তো অন্য ছেলেদের সাথে ঠিকই

প্রেম করছেম আর এদিকে আমি অন্য কোনো মেয়ের সাথে প্রেম ও করতে পারছিনা
আরিয়ানঃ কেন
বল্টুঃ কারন সবাই জানে আমি ওর এক্স বয়ফ্রেন্ড।

আরিয়ানঃ ভাইরে ভাই তোমার কষ্ট টা আমি না বুঝলে কে বুঝব। তুমিও আমার মতো হতভাগা। জীবনে এক্স বয়ফ্রেন্ড টাইটেল ঝুলে গেছে। আর অন্য পোলাপান এক সাথে ৫/৬ টা প্রেম করে। আসো ভাই কোলাকোলি করি।

দুজন কোলাকোলি করল।

রাতে রুমে শুয়ে আছি। এমন সময় মিথিলা আসল,
মিথিলাঃ এই শুন না
আরিয়ানঃ বলেন আপা

মিথিলাঃ তোর কাছে ওই পাঠাটায় কি বলছে রে?
আরিয়ানঃ পাঠা কে? আবার
মিথিলাঃ আরে বল্টু চোরা
আরিয়ানঃ কিছু বলেনাই।

মিথিলাঃ বলবি নাকি অন্যকিছু করব
আরিয়ানঃ কি আর বলবে বলছে ছ্যাকা খাইয়া বাকা হইয়া এখন বন বাধারে ঘুরে বেড়ায়।

মিথিলাঃ ঠিক আছে তুই ঘুমা। শালা বল্টু চোরা তোরে আমি খাইছি।
হনহনিয়ে চলে গেল।
উফস কি মেয়েরে বাবা। এরে নাকি আমি দেখতে আসছি। না ভাই না কালকেই চলে যাব আর থাকা যাবেনা। এখানে থাকলে আমি পাগল হয়ে যাব।

পরদিন সকালেই মামার কাছে গেল আরিয়ান,
আরিয়ানঃ মামা আমি আজকে চলে যাব
মামাঃ সে কি রে দুদিন হলো আসছিস
আরিয়ানঃ আসলে সামনে পরীক্ষা তো তাই গিয়ে

পড়াশোনা করতে হবে।
মামাঃ ওহ। আচ্ছা। তাহলে কি করার। যা
এমন সময় মিথিলা আসল,
মিথিলাঃ বাবা আমিও যাচ্ছি তাহলে
মামাঃ তুই কোথায় যাবি?

মিথিলাঃ আন্টির বাড়ি। আন্টির সাথে কথা বলা শেষ। যেতে বলেছে।
আরিয়ান মনে মনে বলেঃ এর জন্যই আমি চলে যাচ্ছি। আবার একেই সঙে করে নিয়ে যেতে হবে।
আরিয়ানঃ আম্মু তো আমাকে বলেনাই।
মিথিলাঃ আমাকে বলেছে।

এমন সময়েই আম্মু কল দিল। আর বলল মিথিলা কে নিয়ে যেতে।
কি আর করব মিথিলা কে নিয়েই বাড়িতে ফিরলাম।
বাসায় আসতেই আম্মু মিথিলাকে সে কি আপ্যায়ন।
এদিকে আরিয়ান রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে বসল।
এমন সময় শাওনের কল। রিসিভ করল।

শাওনঃ কিরে ভাই মিথিলার জন্য আমাদের ভূলে যেতে পারলি।
আরিয়ানঃ আরে কি বলছিস। আজকে বাড়ি ফিরলাম।
শাওনঃ তুই বাসায় তাহলে মামার দোকানে চলে আয়।
আরিয়ানঃ আচ্ছা ওয়েট কর আমি আসতেছি।

আরিয়ান বেড় হয়ে গেল।
সিড়ি দিয়ে দ্রুত নামছে। এমন সময় খেল ধাক্কা।
নিজেকে সামলে নিয়ে মেয়েটাকেও ধরে ফেলল।
দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে আছে। পুরো সিনেমার দৃশ্য।

আরিয়ানঃ না ভাই মিথিলার থেকেও সুন্দরী পৃথিবীতে রয়েছে। এ তো মেয়ে নয় যেন আসমান থেকে নেমা আসা পরী। ইচ্ছে করছে পাপ্পি দিয়ে দেই ( মনে মনে)
ওদিকে মেয়েটি নিজেকে সামলে নিয়ে,

মেয়েটিঃ চোখ হাতে নিয়ে হাটেন নাকি।
আরিয়ানঃ অপরুপ সুন্দরি পরী দেখতে যেমন তেমন লাগছে তোমায় বেশ। কালো কালো নয়ন কেড়ে নিয়েছে আমার মন। কোথায় গেলে পাবো গো তোমায়

একবার দাওয়াত দেওনা আমায়।
মেয়েটিঃ ও হেলো পাগল হয়ে গেলেন নাকি? কি আবল তাবল বকছেন
আরিয়ানঃ আবল তাবল বলছিনা গো সোনামনি। তুমি মোর জীবনের ভাবনা হাজার বছরের সাধনা।
মেয়েটি ঠাসসস করে দিল এক থাপ্পড়।

মেয়েটিঃ ফালতু।
থাপ্পড় খেয়ে হুশ ফিরল আরিয়ানের।
সুন্দরী তোমার জন্য একটা কেন একশ থাপ্পড় খেতেও রাজি আছি।
কিন্তু মেয়েটা কে? বিল্ডিং য়ে তো আগে কখনও

দেখিনি। খবর নিতে হবে তো ( মনে মনে)
তারপর চলে আসল আড্ডা খানায়।
শাওন তুষার হাবিব বসে আছে। সবার সাথে হাইপাই করল।

আড্ডা দিতে লাগল।
অন্যদিকে নিলা ভার্সিটি থেকে ফিরতেই,
সবাই ড্রয়িং রুমে বসে আছে। সবাই নিলার দিকে তাকিয়ে আছে

নিলাঃ কি ব্যাপার সবাই এভাবে তাকিয়ে আছ যে সবাই
নিলার মাঃ তোর রুমে কে আসে রাতের বেলা?
নিলাঃ আমার রুমে কে আসবে আবার?

নিলার মাঃ তোর রুমেএ জানালা কে ভাঙছিল?
নিলাঃ আজব আমি কিভাবে বলব?
নিলার মাঃ তো কি আমরা জানব?
নিলাঃ তা আমি কি করে বলব

নিলার মাঃ হুম তুই কি করে বলবি। তো পাত্র পক্ষকে কে বলছে যে তোর রুমে রাতের বেলা ছেলে আসে।
নিলাঃ আরে তোমরাও না। আমি বিয়ে করব না তাই এইসব বলে দিছি। প্লিজ বাবা আমি এখন বিয়ে করব না।

নিলার বাবাঃ দেখছ আমি বলছিলাম না আমার মেয়ে এসব করতেই পারেনা। তুই বিয়ে করবিনা আমাকে বললেই পারতি। এসব বলতে গেলি কেন?
নিলাঃ আম্মুকে বলছি তো। পাত্তা দেয়নাই। তাই তো করেছি

নিলার মাঃ মেয়ে ঢাঙর হয়ে গেছে। বিয়ে দিতেই হবে। ওর কথা শুনা যাবেনা।
নিলাঃ আব্বু…
নিলার বাবাঃ তুই যা রুমে আমি দেখছি

পরদিন সকালে,
আরিয়ান ঘুমিয়ে আছে। মিথিলা গিয়ে ডাকতে লাগল।
আরিয়ানঃ উফস আরেকটু ঘুমাতে দাও তো আম্মু
মিথিলাঃ ওই বেটা ওই। আমি তোর মা না। উঠ নাহলে কিন্তু পানি ঢেলে দিব।

আরিয়ানঃ ধুর। ঘুমাতে দাও
আরিয়ান ঘুমিয়েই আছে।
মিথিলাও হার মানবেনা। পানি নিয়ে এসে সোজা আরিয়ানের গায়ে ঢেলে দিল।

আরিয়ান ও চিৎকার দিয়ে উঠে বসে পড়ল।
আরিয়ানঃ এমন করলা কেন?
মিথিলাঃ তোকে উঠতে বলছিলাম না?
আরিয়ানের চিৎকার শুনে আরিয়ানের আম্মুও চলে আসল।

আম্মুঃ কিরে কি হয়েছে
আরিয়ানঃ দেখোনা কি করছে?
আম্মু দেখে হাসতে লাগল।
আম্মুঃ একদম ঠিকমত আছে। মিথিলা মা ভালো কাজ করছিস। আমি তো ওরে সামলাইতে পারিনাই। তোকে দায়িত্ব দিয়ে দিলাম। তুই সামলা।
আরিয়ানঃ কাজ টা ঠিক হলো না

আরিয়ান ওয়াশরুমে চলে গেল।
আরিয়ান আর তুষার বসে আছে। তখনি হাবিব আসল,
হাবিবঃ কিরে কি করিস?
আরিয়ানঃ দেখস না কি করি?

হাবিবঃ তোরা কামলা রা আর কি করবি
আরিয়ানঃ শালা কামলা কারে কইলি।
হাবিবঃ তোদের
আরিয়ানঃ ব্যাপার কিরে তোর? আজকে তোকে খুশি খুশি লাগছে।

হাবিবঃ হু আমি অনেক খুশি। কারন আজকে সুমাইয়া
তুষারঃ কারন তোকে তোর সুমাইয়া তোকে মামা বলে ডাক দিছে তাই তো। এটা আর এমন কি। ক্রাশ মামা ডাকছে তুই দুঃখ না পাইয়া এত খুশি কেন?
হাবিবঃ….?


পর্ব ৩

হাবিবঃ হু আমি অনেক খুশি। কারন আজকে সুমাইয়া
তুষারঃ কারন তোকে তোর সুমাইয়া তোকে মামা বলে ডাক দিছে তাই তো। এটা আর এমন কি। ক্রাশ মামা ডাকছে তুই দুঃখ না পাইয়া এত খুশি কেন?

হাবিবঃ শালা বিসি চুপ থাক। বলতে তো দে
আরিয়ানঃ আরে ভাই রাগিস না তো। আর তোরাও কি বেটা খালি ওরে পচাস। ও কি জেনে বুঝে গেছিল নাকি লাইন মারতে। বন্ধু তুই বল কি বলবি

হাবিবঃ আরে আজকে সুমাইয়াদের বাসায় নতুন একটা মেয়ে এসেছে। সেই দেখতে তার কাছে সুমাইয়াও ফেইল।

তুষারঃ খোজ নিছত নি যে আবার আন্টি লাগে কিনা?
হাবিবঃ হুম নিছি রে ভাই। ওটা সুমাইয়ার কাকাতো ভাইয়ের মাইয়ার মাইয়া। এখন থেকে এখানে থেকেই
পড়াশোনা করবে। সো আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে নিছি Sumaiya out Tisa in..
এমন সময় শাওন উপস্থিত হলো।

শাওনঃ আজকে আর ক্লাস করা হবেনা রে
হাবিবঃ পেট চাপ দিছে নাকি?
শাওনঃ আরে নাহ নিপা ওদের বাসায় যেতে বলেছে।
আমরা সবাই হা হয়ে গেলাম।

আরিয়ানঃ কিহ কি কইলি। মাত্র দুদিন হলো প্রেম হয়েছে এর মধ্যেই বাসা
তুষারঃ শালা মজা নাও আমাদের সাথে? মনে করছ আমাদের নাক টিপলে দুধু বেড় হয়?

শাওনঃ বিশ্বাস করলে কর না করলে নাই আমি চললাম।
আরিয়ানঃ ভাই তুই কি সিরিয়াস?
শাওনঃ হুম। গেলে চল। বাসার ভিতরে নিতে পারব না। বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে

আরিয়ানঃ শালার নিলার লগে দুই বছর প্রেম করছি হাত টাই ঠিক মতো ধরতে পারিনাই। আর ও দু দিনে রুমে চলে যায়। বাহ ভাই বাহ। যাহ যাহ তুই যা

কষ্টে দুঃখের ঠ্যালায় আরিয়ান হাটা ধরল।
শাওনঃ এ তুই কই যাস
আরিয়ান উত্তর না দিয়ে হাটতেই লাগল। আনমনে হাটছে।

হঠাৎ খেল ধাক্কা। ধাক্কা খেলো তো খেলো নিলার সাথেই।
নিলাঃ শালা তুই ধাক্কা দিলি কেন
আরিয়ানঃ আচ্ছা নিলা তোমার সাথে আমি কোথায় কোথায় ঘুরতে গেছিলাম? আচ্ছা তুমি আমাকে রুমে ডাকছিলা কখনও?

নিলা ওর উত্তর শুনে হা হয়ে গেল। কি বললাম আর ও কি বলল
নিলাঃ কিরে গাজা তোকে খাইছে নাকি তুই গাজা খাইছত?

আরিয়ানঃ কাজটা ঠিক করোনাই। আমাকে রুমে ডাকা উচিত ছিল তোমার।
এই বলে আরিয়ান হাটা ধরল।

এদিকে নিলাঃ শালার মাথা মনে হয় ছ্যাকা খাইয়া পুরা গেছে গা। যাক গে আমার কি আমি চললাম।
আরিয়ান ওয়াশরুমে গিয়ে চোখে মুখে পানি দেয়।

ভার্সিটি শেষে বাড়ির সামনে আসতেই দেখে। কালকের সেই মেয়েটা গেইটের সামনে দাড়িয়ে রয়েছে।
আরিয়ান চোখে কালো চশমা লাগিয়ে নিল। ভাব সাব নিয়ে মেয়ের পাশে দাড়ালো।

এমন সময় মেয়েটি বলে উঠল ঃ এই ছাগল
আরিয়ান ভ্যাবাচেকা খাইয়া গেল। অবশেষে মাইয়া আমাকে ছাগল বলল।

আরিয়ানঃ কি ব্যাপার আপনি আমাকে ছাগল বললেন কেন?
মেয়েটি আরিয়ানের দিকে তাকালো।
~ আমি আপনাকে কখন ছাগল বললাম
আরিয়ানঃ এই মাত্রই তো বললেন

~ কানা নাকি ওই যে সামনে দেখেন না ছাগল ওটাকেই বলেছি।
আরিয়ান তাকালো। লজ্জাও পেলো। ধ্যাত আলগা পাকনামি করে নিজেকে ছাগল বানিয়ে ফেললাম।
আরিয়ানঃ ওহ আচ্ছা সরি। বুঝতে পারিনি
~ ইটস ওকে

আরিয়ানঃ কোথাও যাবেন নাকি?
~ হুম একজনের বাসায় যাব। রিকশা পাচ্ছিনা।
আরিয়ানঃ ওহ। এখানে তো রিকশা পাওয়া বড় দায়। আমি যদি হেল্প করি তাহলে নিবেন তো?
~ নিব তো। আসলে আমার যাওয়াটা জরুরী।
আরিয়ানঃ জাস্ট ফাইভ মিনিট।

এক দৌড়ে বাসায় গেল। এই সুযোগ কিছুতেই মিস করা যায় না। বাইকের চাবিটা নিয়ে নিচে নেমে আসল। তারপর বাইকটা বেড় করল।

পাচ মিনিটের মধ্যেই মেয়েটির সামনে এসে দাড়াল।
আরিয়ানঃ উঠুন
~ আপনার বাইক?
আরিয়ানঃ হুম উঠুন
উঠে বসল।

~ আপনাকে ওইদিন যতটা খারাপ ভেবেছিলাম আসলে আপনি তা নন। খুব ভালো পরোপকারি ছেলে।
আরিয়ানঃ ধন্যবাদ মেডাম।

~ সে কি আপনি আমাকে মেডাম বলছেন কেন?
আরিয়ানঃ কি করব বলুন এত হতভাগা কপাল এখন পর্যন্ত নামটাই জানতে পারলাম না।
মেয়েটি হেসে দিল।

~ ওহ আমার নাম প্রিয়া। এমবিএ করছি আর আপনি?
আরিয়ানঃ আমি আরিয়ান সুমন। প্রখ্যাত বেকবেঞ্চার। এর বেশি কিছুই নাই আমার বায়োডাটায়।
প্রিয়া শুনে হাসতে লাগল।
প্রিয়াঃ আপনি খুবই হাসির মানুষ।

উফস ক্রাশ তোমার প্রশংসা মনে বিধে যাচ্ছে। তুমি ছাড়া কেউ বুকে নাই।
প্রিয়াঃ ব্যাস ব্যাস এখানেই রাখুন। এসে গেছি।
প্রিয়া নেমে গেল।

প্রিয়াঃ ধন্যবাদ
আরিয়ানঃ ঠিক আছে।
প্রিয়া শপিং মলের ভিতরে ডুকে গেল।
আরিয়ান মনে মনেঃ বাসায় যাব নাকি থাকব। এখানে থেকে প্রিয়ার যাওয়ার সময় প্রিয়াকে আবার নিয়ে যাব।

সেটাই মনে হয় ঠিক হবে। এতে প্রিয়া যলদি ইমপ্রেস হয়ে যাবে। আর আমিও নিলার অভিশিক্ত হিসেবে প্রিয়াকে পেয়ে যাব। তখন কেউ আমাকে কারো এক্স বয়ফ্রেন্ড বলবেনা। এটাই করব।

আরিয়ান প্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করতে লাগল।
ঘন্টাখানিক পর প্রিয়া বেড় হলো সাথে একটা ছেলে। হাতে কত কিছু। মনে হচ্ছে কত কত গিফট।
তারপর ওই ছেলের সাথে গাড়িতে করে চলে গেল।

এদিকে এসব দেখে আরিয়ানের যায় যায় অবস্থা। এ কি দেখলাম আমি? এসব দেখার জন্য এখানে অপেক্ষা করতেছিলাম। ধ্যাত।
ভারাক্রান্ত মন নিয়ে বাসার দিকে রওনা দিল।

বাসায় ডুকেই মিথিলা সামনে আসল।
আরিয়ানঃ ঠান্ডা পানি নিয়ে আসো
মিথিলাঃ এভাবে কোথায় গেছিলি?
আরিয়ানঃ তোমাকে বলতে হবে? পানি নিয়ে আসো

মিথিলাঃ আমি তোর বউ না যে তোর কথা শুনব। নিজের কাজ নিজে করে খা।
আরিয়ান মিথিলার দিকে রাগিদৃষ্টিতে তাকাল। মিথিলা ভেংচি কেটে চলে গেল।

আরিয়ান নিজেই ফ্রিজ থেকে পানি নিল।
কপাল আমার এক খান। নিলার সাথে ব্রেক আপ হলো। সাদিয়াকে প্রপোজ করল নিলার এক্স বয়ফ্রেন্ড

বলে রিজেক্ট করে দিল। যাই প্রিয়াকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছিলাম তারও বয়ফ্রেন্ড আছে। তাইলে কি আমি আর কাউকে পাব না। ( আরিয়ান মনে মনে ভাবে।
রাতে আরিয়ান শুয়ে আছে। তখনি মিথিলা কাছে আসে
মিথিলাঃ কিরে কি করছিস?

আরিয়ানঃ দেখো না কি করি
মিথিলাঃ সে দেখছি। চিন্তিত লাগছে তোকে
আরিয়ানঃ হুম। তো
মিথিলাঃ ছ্যাকা খেয়েছিস নাকি?

আরিয়ানঃ গালফ্রেন্ডই নাই আবার কিসের ছ্যাকা খাব।
মিথিলাঃ ইয়েস
আরিয়ানঃ কি হলো ইয়েস বললা কেন?
মিথিলাঃ না কিছুনা।

মিথিলা রুম থেকে চলে গেল।
আরিয়ান আবারও বুঝলনা মিথিলা কি বুঝালো।
যাহোক পরদিন সকালে ভার্সিটি যাবে। সিড়ি দিয়ে নামছে তখনি প্রিয়ার সাথে দেখা। প্রিয়ার দিকে

তাকালো। প্রিয়া কথা বলতে যাবে পাত্তা না দিয়ে আরিয়ান দ্রুত চলে গেল।
প্রিয়া কিছু বুঝল না। কালকেই কত সুন্দর করে কথা বলল। আর আর আজ কি হলো।

যাহোক আরিয়ান ভারাক্রান্ত মনে ভার্সিটির ক্যান্টিনে বসে আছে। তখনি নিলা আসে। সামনে বসে,
নিলাঃ আই লাভ ইউ
আরিয়ান একবার নিলার দিকে তাকালো। কিছু না বলেই নিচে তাকিয়ে থাকল।

নিলাঃ আই লাভ ইউ আরিয়ান
আরিয়ানঃ কেন কাটা শরীরে লবনের ছিটা দিয়ে জ্বালা বাড়াচ্ছ।
নিলাঃ সাদিয়া গেছে তো কি হইছে। আমি যেমন আগেও ছিলাম এখনও আছি। লাভ ইউ

আরিয়ানঃ মজা নিওনা। প্লিজ ভালো লাগছেনা
লিজাঃ রিয়েলি লাভ ইউ
আরিয়ানঃ……?

আরিয়ানঃ মজা নিওনা। প্লিজ ভালো লাগছেনা
নিলাঃ রিয়েলি লাভ ইউ
আরিয়ানঃ নিলা তুমি যে মজা নিচ্ছ জানি। সো এসব বললেও আমি রাজি হচ্ছিনা।

আরিয়ান উঠে চলে আসতে যাবে তখনি নিলা হাত ধরল।
নিলাঃ আরে বাল এত ভাব নিচ্ছিস কেন? আমার একটা হেল্প লাগবে তাই এমন করতেছি
আরিয়ানঃ আমি কেন সাহাজ্য করতে যাব
নিলাঃ তোর জন্যই তো সব হইছে। আমি জানি তুই ই

আমার রুমের জানালা ভাঙছিলি। ওইটা দেখাইয়া আমি আবার বিয়েও ভাঙছিলাম। কিন্তু আম্মু সব বুঝে পাত্র পক্ষকে বুঝিয়ে শুনিয়ে আবার রাজি করে ফেলছে। তুই তো জানিসই আমি এখন বিয়ে করতে চাইনা।

আরিয়ানঃ সাহাজ্য লাগবে। তারপর ও তুই করে বলছিস। আমি যে বড় এজন্য তো বড় ভাই বলে ডাকবি
নিলাঃ এক্স কে কখনও তুমি বলতে নেই। এক্স সবসময় গাধা হাবা গদা সিধা কালসাপ এসবই হয়।

আরিয়ানঃ তাইলে বায়। সাহাজ্য করতেছিনা আমি
নিলাঃ আচ্ছা আচ্ছা বলছি। প্লিজ সাহাজ্য করো। তুমি ছাড়া কেউই এটা ভালো করে করতে পারবেনা। কারন তুমিই আমার সম্পর্কে সব জানো।

আরিয়ানঃ বিনিময়ে কি পাব?
নিলাঃ কি?
আরিয়ানঃ ৫০০০ টাকা দিতে হবে।
নিলাঃ কিহহ
আরিয়ানঃ হুম। এটাই ফিস। তুই কোনো আমার

প্রেজেন্টে না যে তোর জন্য ফ্রিতে করব। টাকা দিলে করব নাহলে না।
নিলাঃ পাইয়া ভালোই দিতেছ। আচ্ছা দিব।
আরিয়ানঃ সো কোথায় যেতে হবে। কখন
নিলাঃ এখনি চল আমার জন্য অপেক্ষা করতেছে ছেলেটা।

আরিয়ানঃ ওকে।
আরিয়ান চলল নিলার সাথে।
রেষ্টুরেন্ট এ তিনজন বসে আছে।
আরিয়ানঃ ভাই মেনু টা নিয়া আসেন তো

মেনু নিয়ে আসল।
আরিয়ান কতগুলোর অর্ডার দিল।
নিলাঃ কি হচ্ছে কি এসব
আরিয়ানঃ আরে কথা বলোনা আমি তো আছিই।

নিলাঃ সো দেখতেই পারছেন এটা আমার বয়ফ্রেন্ড
ছেলেটিঃ বিশ্বাসযোগ্য নহে। ওইদিন যে কাজ করছেন। তারপর থেকে এসব বিশ্বাস করতে পারছিনা।

নিলাঃ বিশ্বাস না করলে এখন কি করতে পারি
ছেলেটিঃ আমি বলি কি। আপনাকে আমার খুব ভালো লেগেছে। আপনি রাজি হয়ে যান।

এর মধ্যেই অর্ডার করা খাবার চলে আসল। আরিয়ান খেতে লাগল।
নিলাঃ আরিয়ান কি করতেছ তুমি কিছু বলছ না কেন?
আরিয়ানঃ বড় ভাই খাবেন নাকি?
নিলা রাগিদৃষ্টিতে আরিয়ানের দিকে তাকালো।

আরিয়ানঃ বললাম তো খাবে কিনা
নিলার ইচ্ছা করছে আরিয়ান কে খেয়ে ফেলে।
ছেলেটিঃ এ কাকে নিয়ে আসছেন। মনেই হয়না আপনার বয়ফ্রেন্ড।

আরিয়ানঃ এইরে ভাই ও বলছে শুনছেন না আমি ওর বয়ফ্রেন্ড। কেন নিজের জীবনে বিপদ ঢেকে আনছেন। আপনার বিশ্বাস হয়না। ওয়েট ওয়েট।
মোবাইল টা বেড় করল। নিলা সাথের ছবিগুলো দেখাল।

আরিয়ানঃ আপনি কি চান ওরে জোর করে বিয়া করতে। তা আপনি করতে পারবেন। যদিও চাইলে বিয়ের আগেই ওরে নিয়ে পালাতে পারব। কিন্তু করব

না। বিয়ের দু তিন দিন পর পালাব। যাতে মানসম্মান আপনারও যায় হুহ। সাথে আমার বন্ধুবান্ধব দিয়ে পোষ্টারে পোষ্টারে ছাপিয়ে দিব আপনার ইয়ে নাই।
ছেলেটিঃ What?

আরিয়ানঃ ভাই কিছুনা। খাবারের বিল টা দিয়ে দিয়েন। নিলা চলো
নিলা কে নিয়ে চলে আসতে যাব তখনি
ছেলেটিঃ আপনার সাথে একটু পারসোনালি কথা বলতে পারি

আরিয়ানঃ নিলা বাহিরে যাও তো। আমি কথা বলে আসতেছি
নিলা বাহিরে গেল।
আরিয়ান আর ছেলেটি মুখোমুখি,

ছেলেটিঃ সত্যি করে বলেন তো আপনাকে নিলা কোথা থেকে ভাড়া করে আনছে
আরিয়ানঃ কেন রে ভাই? বললে কি ফাচ টেহা পামু?
ছেলেটিঃ এজন্যই আমার সন্ধেহ যে আপনি ওর বয়ফ্রেন্ড না।

আরিয়ানঃ থাক ভাই আর কিছু কমুনা। বিয়ের পর যখন বউ নিয়া পালামু তখনি বুঝিয়েন
আরিয়ান চলে আসল।
রিকশায় দুজন আসছে।

আরিয়ানের মনে অনেক ফূর্তি হচ্ছে। কয়জনেই না পারে এক্স এর থেকে এভাবে টাকা মারতে।
আরিয়ানঃ টাকা কোথায়?
নিলাঃ কাজ করোনি তো।

আরিয়ানঃ যা বলেছি বিয়ে ১০০% ভাঙবে।
নিলাঃ ওকে দিচ্ছি টাকা। তবে যদি বিয়ে না ভাঙে খবর আছে।
আরিয়ানঃ ওকে।

নিলার টাকা দিল আরিয়ান কে।
কত বড় কিপটা। সাথে এত টাকা নিয়ে ঘুরে। অথচ আমার সাথে প্রেম চলাকালীন একটা জিনিসের বিলও দিত না। খালি আমার পকেটের বারোটা বাজাইত।

হারামজাদি( মনে মনে আরিয়ান)
বিকাল বেলা,
হাবিব তুষার আর আরিয়ান বসে আছে।
আরিয়ানঃ শাওন কোথায় রে?
তুষারঃ ও নাকি অসুস্থ্য।

হাবিবঃ কি খেলা টা খেলছে দেখছত। শালায় অসুস্থ্যই হইয়া গেছে।
আরিয়ানঃ সামথিং গন্ডগোল। আমরা ওর ফ্রেন্ড ওরে দেখতে যাব না? চল দেখে আসি।
হাবিবঃ চল।

তিনজনই চলল শাওনের বাসায়। আংকেল আন্টিকে সালাম দিয়ে বাসায় শাওনের রুমে গেল।
গিয়ে দেখে শাওন শুয়ে শুয়ে পাব্জি খেলতেছে।
আরিয়ানঃ কিরে শালা এই তুই অসুস্থ্য। পাব্জি খেলিস।

ওদের দেখে শাওন চমকে গেল।
শাওনঃ তোরা কখন আসলি
হাবিবঃ সেই ভোর থেকে দাঁড়িয়ে রয়েছি
শাওনঃ কিহ।

আরিয়ানঃ শালা তুই তো দিব্বি ঠিক আছত।
শাওনঃ আর ঠিক। হাতে পায়ে পিঠে প্রচুর ব্যথা রে ভাই।
তুষারঃ কি আকাম করছে দেখছত।

শাওনঃ ভাই তোরা যা ভাবছিস তার কিছুই হয়নাই
আরিয়ানঃ তো
শাওনঃ মাইয়া যে সাফা কবিরের অনেক বড় ফ্যান কে জানত। জানলে জীবনেও যেতাম না।
তুষারঃ মানে

শাওনঃ মানে ওহ মাই ডার্লিং নাটকে যেমন সাফা কবির তৌসিফ কে ঢেকে বাসায় নিয়ে যায় লোভ দেখিয়ে। পরে
আরিয়ানঃ ওয়েট ওয়েট তুই ও তা করছিস নাকি
শাওনঃ হ রে ভাই

শুনে আরিয়ান তুষার হাবিব জোরে জোরে হাসতে লাগল।
শাওনঃ শালারা থাম না
আরিয়ানঃ তার মানে তুইও তৌসিফ এর মতো মরবি
শাওনঃ কুত্তায় কামরাইছে আমারে? আমি মরতে যামু

কেন। এসব বুঝতে পেরে অলরেডি ব্রেক আপ করে চলে এসেছি। ব্রেক আপ ডান।
আরিয়ান তুষার হাবিব ওর দিকে অভাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।

আরিয়ানঃ বাহ বাহ ভাই তুই একদিন অনেক উন্নতি করবি।
সবগুলা একসাথে শাওনের উপড় পড়ল।
শাওন ও দিল চিৎকার।

ছাদে,
আরিয়ানঃ আমি একটা বুদ্ধি পাইছি বুঝলি। একটা সংগঠন খুলব
শাওনঃ কিসের

আরিয়ানঃ যেহেতু ঈদানিং মেয়েরা ঈদানিং ছেলেদের কে শান্তিতে থাকতে দিচ্ছেনা। ব্রেক আপ করে ফেলে দেয়। ইউজ করে। দেখছ না শাওনের কি হাল করছে ভালোবাসার নামে। এগুলা একরকম অত্যাচার। ইউজ

করে পরে ছেড়ে দেয়। তো আমাদের সংগঠনের কাজ হবে যত সকল এক্স বয়ফ্রেন্ড সবাইকে আমাদের সংগঠনে এড করা।
তুষারঃ নাম

আরিয়ানঃ সংগঠনের নাম থাকবে “”এক্স বয়ফ্রেন্ড সংগঠন “”
শাওনঃ কাজ কি হবে?
আরিয়ানঃ কাজ হবে কোনোভাবেই যেন কোনো মেয়েকে ধোকা দিতে না পারে। ইউজ করে ফেলে দিতে না পারে। পাশাপাশি বিয়ে ভাঙতে সাহাজ্য করব।

প্রকৃত প্রেমিক প্রেমিকাদের বিয়ের জন্য সাহাজ্য করব।
শাওনঃ হ ভাই এভাবে করতে করতে পুরো পৃথিবীতে ফ্যামাস হব। তারপর আস্তে জাতীয় নির্বাচন করব। প্রধানমন্ত্রী হব। তারপর দেশ থেকেই মেয়েদের বিতারিত করে দিব।

আরিয়ানঃ তোরে আমি
শাওনঃ ভাই মজা করছি মারিস না। এমনিতেই মরার মতো আছি।
আরিয়ানঃ ওকে। এখন

আরিয়ানঃ চল তাইলে আমার পক্ষ থেকে আজ ফ্রি বিরিয়ানি খাওয়াব।
সবগুলারে নিয়া রেষ্টুরেন্ট গেলাম।
দুদিন পর,

বাসার সামনে রিকশার জন্য অপেক্ষা করছি। আজকে আমাদের সংগঠনের উদ্ভোদন হবে। হঠাৎ প্রিয়া এসে পাশে দাড়ালো।
প্রিয়াঃ কি মশাই আপনাকে তো দেখাই যায়না
আরিয়ানঃ হুম। ব্যস্থ আছি

প্রিয়াঃ আপনি কি কোনো কারনে রেগে আছেন আমার উপড়।
আরিয়ানঃ নাহ।
এর মধ্যেই একটা রিকশা আসল।
আরিয়ানঃ যান আপনি

প্রিয়া উঠে বসল।
প্রিয়াঃ আপনি কোথায় যাবেন
আরিয়ানঃ সামনেই
প্রিয়াঃ তাহলে চলুন।

আরিয়ানঃ না থাক। আমি হেটে যাব।
প্রিয়াঃ আহা চলুন তো। সমস্যা নেই আমার
ওদিকে সবাই আরিয়ানের জন্য অপেক্ষা করতেছে। তাই আরিয়ান উঠে গেল।

জায়গামতো এসে নেমে গেল।
এখানেই একটা অফিস ভাড়া নেওয়া হয়েছে। যদিও কিছুটা দুই নাম্বারি করেছে তা না বলাই শ্রেয়।
আরিয়ান অফিসের সামনে যেতেই,

শাওনঃ শালা আমাদের আসতে বলে তোরই দেরি
আরিয়ানঃ শালা চেয়ারম্যান কখনও আগে আসে নাকি। যাহোক সব কিছুর ব্যবস্থা করেছিস তো।

শাওনঃ সব ঠিক আছে। এখন উদ্ভোদন করার পালা।
সবাই দোয়া করিয়েন উদ্ভোদন করতে যাচ্ছি।


পর্ব ৪

শাওনঃ শালা আমাদের আসতে বলে তোরই দেরি
আরিয়ানঃ শালা চেয়ারম্যান কখনও আগে আসে নাকি। যাহোক সব কিছুর ব্যবস্থা করেছিস তো।

শাওনঃ সব ঠিক আছে। এখন উদ্ভোদন করার পালা।
সবাই দোয়া করিয়েন উদ্ভোদন করতে যাচ্ছি।
আরিয়ান শাওন তুষার হাবিব। আরো কয়েকজন ফ্রেন্ড মিলে উদ্ভোদন করল।

সবাই মিষ্টি খাইল।
শাওনঃ দুস্ত এখন আমাদের কাজ কি হবে
আরিয়ানঃ লোকসংখ্যা বাড়ানো। যত বয়ফ্রেন্ড আজ পর্যন্ত ছ্যাকা খাইয়া বাকা হইছে। সবাইকে আমাদের চাই।

তুষারঃ কি মনে হয় সবাই আমাদের সাথে যোগ হবে?
আরিয়ানঃ প্রেমের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার জন্য যদি এত সিংগেল পোলাপান একত্রে হতে পারে। তাহলে অবহেলিত বয়ফ্রেন্ড গুলা কেন পারবেনা।

শাওনঃ আমি আজও বুঝলাম না আমাদের কাজটা কি হবে।
আরিয়ানঃ তোর গালফ্রেন্ড নিপার মতো মেয়েদের টাইট দেওয়া। পোলাপান দের যখন মেয়েরা ছ্যাকা দিয়ে চলে যায় তার যেই ছ্যাসরামি করে তা থেকে বাচানো।

পারলে বুঝিয়ে শুনিয়ে বিয়ে করানো। + সবাইকে হেল্প করা। এক কথায় সব ধরনের হেল্পিং কাজ হবে আমাদের সংগঠন থেকে।
শাওনঃ ওহ আচ্ছা।

এমন সময় একটা ছেলে আসল,
ছেলেটিঃ এটা কি “এক্স বয়ফ্রেন্ড সংগঠন”
আরিয়ানঃ ইয়েস কি চাই।

ছেলেটিঃ আমি সিহাব। আপনাদের মতো আমাকেও আমার গালফ্রেন্ড ছ্যাকা দিয়ে চলে গেছে। আপনাদের পোষ্টার দেখে আপনাদের কাছে চলে আসলাম। এখন আমাদের কি করা উচিত।

আরিয়ানঃ ওহ আচ্ছা। তো ছ্যাসরামি কর নাই তো?
সিহাবঃ না ভাই।
আরিয়ানঃ হুম গুড। ওর নাম ফোন নাম্বার রেখে আমাদের সংগঠনের কার্ড টা দিয়ে দে। আর হ্যা

সবসময় আমাদের সাথে থাকতে হবে কিন্তু।
সিহাবঃ জ্বী থাকব।

কিছুক্ষন পর বয়স্ক একজন লোক আসল।
শাওনঃ দাদাভাই কি চাই?
~ এটা কি এক্স বয়ফ্রেন্ড সংগঠন?
শাওনঃ হ্যা

~ ওহ আমিও সদস্য হতে চাই।
শাওনঃ এ্যা এ বুইড়া বলে কি। এক পা তো কবরে দিয়াই রাখছে। আবার এসব ও। ( মনে মনে)
আরিয়ানঃ ওহ দাদাভাই বসুন। আপনিও কি ছ্যাকা খাইছিলেন নাকি?

~ সে কি বলব তোমাদের। সখিনার মার জন্য কি পাগল যে ছিলাম। কিন্তু কপাল খারাপ সখিনার মার বিয়ে হয়ে গেছে আমি চাকরি পাওয়ার আগেই।
শাওনঃ দাদাভাই আর এই সখিনা কি সখিনার মার

বিয়ের আগেই হয়ে গেছিল?
~ আরে নাহ। সখিনা তো বিয়ের পর হয়েছে। আমি তাকে সখিনার মা বলেই ডাকতাম। আহা কি যৌবন ছিল।

আরিয়ানঃ থাক আর বলতে হবেনা। এই ওনাকেও সদস্য করে নে।
কাজ এগুতে লাগল। দুদিনের শহরের কয়েক হাজার পোলাপান সদস্য হয়ে গেল। সবাই কাজ করতে দৃ ঢ়প্রতিজ্ঞ।

দুদিন পর অফিসে একটা ছেলে আসল,
শাওনঃ কি চাই?
আরিয়ানঃ এভাবে বলিস কেন সুন্দর করে বলতে পারোস না।
শাওনঃ ভাই বসো। তারপর বলো
~ আমার সাহাজ্য লাগবে

আরিয়ানঃ কি সাহাজ্য
~ আমার গালফ্রেন্ড এর আজ বিয়ে।
শাওনঃ সে কি ছ্যাকা খাইয়া আসছ।

~ না আমরা দুজন দুজনকে খুব ভালোবাসি। বিয়ে
করতে চাই। কিন্তু তার ফ্যামিলি মানতেছে না। আজ তার বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে। আমি কোনো উপায় না পেয়ে

আপনাদের কাছে আসলাম। সাহাজ্য করুন প্লিজ
আরিয়ানঃ মেয়েকে কিডন্যাপ করতে হবে।
=< যা খুশি করুন আমারে সাহাজ্য করুন।
আরিয়ানঃ ওকে let’s go.

শাওনঃ দাড়া
আরিয়ানঃ বল
শাওনঃ তোদের লাগবেনা। আমি একাই একশ। একটা ডাইলগ দিব পুরো বিয়ে ভেঙে যাবে।
আরিয়ানঃ পাকনামি করিস না।

শাওনঃ পাকনামি না। দেখ কি করি। ফলো মি
সবাইকে নিয়ে বিয়ে বাড়িতে চলে গেল।
বিয়ের অনুষ্ঠানে সবাই ব্যস্থ। হঠাৎ শাওন এক চিৎকার করে বলল,

শাওনঃ চৌধুরী সাহেব কোথায় আপনি সামনে আসেন।
শাওনের চিৎকারে সবাই থমকে গেল। সবাই চুপ। একদম নিশ্চুপ সবাই।
চৌধুরী সাহেব সামনে আসলেন।

~ কি চাই? এত চিৎকার কেন করছ?
শাওনঃ আপনার টাকা পয়সার প্রচুর গরম তাই না?
~ what the hell..who are you?
আরিয়ানঃ ওই বেটা কিসব বলছিস তুই ( শাওনের কানে বলল)

শাওনঃ তুই চুপ থাক। আমাকে বলতে দে( আরিয়ানের কানে বলল)
শাওনঃ আপনার মেয়ে একটা ছেলেকে ভালোবাসে। তাকে জামাই না বানিয়ে আপনি ওই হাবা টাকে জামাই বানাচ্ছেন।
~ এই ছেলে কিসব ফালতু কথা বলছ
শাওনঃ ফালতু কথা বলছি না। হয় এই ছেলে( যে সাহাজ্য নিতে এসেছে) ওর সাথে আপনার মেয়ের বিয়ে

দিবেন। নাহলে আমরা আপনার মেয়েকে তুলে নিয়ে যাব।
~ আক্কাস আমার বন্দুক টা নিয়ে আয় তো।
শাওনঃ চৌধুরী সাহেব। হতে পারেন আপনি চৌধুরী। আমিও খান পরিবারের ছেলে এরকম দু চারটা বন্ধুক আমাদের পকেটেও থাকে।

আরিয়ানঃ এই শালায় বাপের জন্মে পিস্তল দেখছে নি। কি ডাইলগ যে মারতেছে। ( মনে মনে)
আরিয়ান এগিয়ে গেল।
আরিয়ানঃ দেখুন আংকেল আপনার মেয়েকে ও খুব ভালোবাসে। ওর সাথে বিয়ে দিন। খুব হ্যাপি থাকবে।

শাওনঃ তুই ভয় পেয়ে কথা বলছিস কেন? ওনি কি করবে। চৌধুরী সাহেব দের বাহাদুরি মোভিতেই বাস্তবে কিছুই না।
শাওন সোজা স্টেজে চলে গেল। মেয়ের হাত ধরল।
বাকিটা ইতিহাস,

নিলাঃ হায় হায় এ কি হাল তোমাদের ইশ মায়াদয়াও নাই।
আরিয়ানঃ এই তুমি এখানে কিভাবে আসলে
নিলাঃ আমি থাকব না সে কিভাবে হয়। রায়হান এদিকে আয় তো
রায়হান কে দেখে আমরা অভাক।

আরিয়ানঃ তুমি মাইর খাওনি?
নিলাঃ ও খাবে কেন? ওরে দিয়েই তো সিস্টেম করে তোদের মাইর খাওয়াইলাম
আরিয়ানঃ মানে?

নিলাঃ মানে যেই চৌধুরী সাহেবের বাড়িতে গেছ সেটা আমার ফ্রেন্ড নিশার বিয়ে ছিল। আমি পোষ্টারে দেখি তোমাদের সংগঠন এর কথা। তা দেখেই রায়হান কে

নিয়ে প্ল্যান করি। আহা তোমরাও বিশ্বাস করে ওরসাথে চলে গেলা। আহা সে কি ডাইলগ। বাকিটা ইতিহাস।
আরিয়ানঃ ছিহ ছিহ নিলা তুমি এটা করতে পারলে। কাজটা একদম ঠিক করোনি। এক্স বয়ফ্রেন্ড মহান

সংগঠন সবাইকে সাহাজ্য করবে। আর তুমি আমাদের উদারতা নিয়ে খেললে। এক্স বয়ফ্রেন্ড বাসী তোমাকে ক্ষমা করবেনা। আমিও দেখে নিব।
নিলাঃ আজাইরা সংগঠন। ফালতু যতসব। মেয়েদের

বিরুদ্ধে কাজ করবি তো এমনই হবে। মাইন্ড ইট। এখনও সময় আছে বন্ধ করে দে।
শাওনঃ একবার ঠিক হয়ে নেই খালি।

আরিয়ানঃ তুই শালা চুপ থাক। তোর ওই বাংলা সিনেমার ডাইলগের আজ এই অবস্থা আমাদের। ও মা গো কি ব্যথা।

নিলাঃ আর জীবনেও আমার সাথে পাঙা নিতে আসিস না।
নিলা চলে গেল।
আরিয়ানঃ একবার সুস্থ্য হই। দেখে নিব তোকে আমি।
আপনারা এতক্ষনে বুঝে গেছেন হয়ত কি ঘটেছে।

আসলে আরিয়ান শাওন তুষার সবাই উত্তম মধ্যম খেয়েছে। কোনোরকমে জান নিয়ে পালাইছে।
পরদিন ডাক্তার ডিসচার্জ করে দিল।
বাড়িতে,

মিথিলাঃ কি আজাইরা কাজ করতে গেছে। এরপর মাইর খাইয়া আসছে। কেন রে তোর হাত পা ছিল না?
আরিয়ানঃ ছিল তো

মিথিলাঃ তো কিছু করতে পারলিনা। আমি হইলে দুই চারটাকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিতাম। আর তুই নিজেই হাসপাতাল ছিলি।

আরিয়ানঃ আমি কি তোমার মতো ডাইনি নাকি।
মিথিলাঃ কিহ কি কইলি আমি ডাইনি?
আরিয়ানঃ কই না তো আমি কিছুই বলিনাই।
মিথিলাঃ ডাইনি রাই ভালো

তিন দিন পর অফিসে বসে আছে,
আরিয়ানের হাত ভাঙা শাওনেরও হাত ভাঙা। তুষারের মাথায় ব্যান্ডেজ।

তুষারঃ এমন যদি সবাই ফাসিয়ে দিয়ে দেয়। তাহলে মাইর খাইয়াই মরতে হবে
আরিয়ানঃ কে জানত ওটা নিলার কাহিনি ছিল। এখন থেকে সাবধানে কাজ করতে হবে। আর শাওন আজ

থেকে যদি পাকনামি করিস তো মাইরা নদীতে ভাসাইয়া দিমু।
এমন সময় একজন
~ আসতে পারি
আরিয়ান তাকিয়ে দেখে প্রিয়া।

আরিয়ানঃ আরে আপনি আসুন আসুন বসুন
প্রিয়াঃ সে কি আপনাদের এই অবস্থা কেন?
শাওনঃ সে আর বইলেন না বিয়ে

আরিয়ানঃ শাওন ( রাগি দৃষ্টিতে তাকালো। )।
শাওন চুপ হয়ে গেল।
প্রিয়াঃবুঝলাম না।
আরিয়ানঃ বান্ধবীর বিয়ের দাওয়াত খেতে গিয়ে সবাই বাইক এক্সিডেন্ট করেছি।

প্রিয়াঃ ইশ আল্লাহ। কি অবস্থা। দেখে চালাবেন না
আরিয়ানঃ হুম। আপনি এখানে কেন?
প্রিয়াঃ শুনলাম আপনার অফিস এখানে তাই আসলাম। আচ্ছা আপনার সাথে পারসোনাল কথা বলতে পারি
আরিয়ান; বলুন শুনছি

প্রিয়াঃ না মানে ওনাদের সামনে নয়
আরিয়ানঃ তোরা একটু বাহিরে যা তো।
শাওন তুষার বাহিরে গেল।
। আরিয়ানঃ এবার বলুন

প্রিয়াঃ Actually I LOVE YOU..
আরিয়ানঃ…?
প্রিয়াঃ Actually I LOVE YOU..
আরিয়ানঃ What?

প্রিয়াঃ আরে উত্তেজিত হচ্ছেন কেন। পুরোটা শুনুন না আগে। Actually আমি বলতে চাইছি। I Loved your idea..এত সুন্দর উদ্যোগ কয়জনের মাথায় আসবে। আপনি জিনিয়াস
আরিয়ানঃ ও অ্যা

বলে কি? এত বড় ধোকা আমার সাথে। ইশ কত খুশি হইছিলাম। বাড়ির নিচে গালফ্রেন্ড। এক তালা থেকে আরেক তালায় গেলেই গালফ্রেন্ড এর সাথে আলাপ করা যেত। ছাদে গিয়ে লাইন মারা যেত। উফস পোড়া

কপাল আর হলোনা। ( আরিয়ান মনে মনে)
প্রিয়াঃ O hlw কোথায় হারালেন?
প্রিয়ার আওয়াজ শুনে আরিয়ান বাস্তবে ফিরল।
আরিয়ানঃ না না কিছুনা। তাহলে ওদের বাহিরে যেতে

বললেন কেন? ওরাও তো এই প্রশংসার দাবিদার
প্রিয়াঃ সব তো সবার সামনে বলা যায় না। যাহোক একটা কথা বলব সামনে আসেন
আরিয়ানঃ বলুন না শুনছি

প্রিয়াঃ কান এদিকে আনেন। কানে মুখে বলব
আরিয়ান এগিয়ে গেল।
প্রিয়া আস্তে আস্তে বলল
প্রিয়াঃ আসলে প্রথম যা বলছিলাম তাই সত্যি।
আরিয়ান প্রিয়ার দিকে তাকাল।

প্রিয়াঃ আই লাভ ইউ
বলেই প্রিয়া অফিস থেকে বেড়িয়ে গেল।
আরিয়ান বসে পড়ল।
মনে মনে এত খুশি যে কাকে বুঝাবে। ইচ্ছে করছে ডান্স করতে।

এমন সময়েই শাওন আর তুষার চলে আসল।
শাওনঃ কিরে ওনি এভাবে চলে গেল কেন? আর তোকে কি বলল?
আরিয়ানঃ সে যে ভালোবেসেছে আমায় কি করে তোমাদের বুঝাই আমি

ভালোবাসি আমি তাহাকে অপরুপ সুন্দরী রুপসী গোলাপে পদ্ম…
শাওনঃ এই ওরে মনে হয় জ্বীনে ধরছে। কি আবল তাবল বলতেছে।
আরিয়ানঃ আরে বেটা পুরো টা শেষ করতে দিবি তো( রেগে)

তুষারঃ আবল তাবল কবিতা না বলে আসল কাহিনি বল
আরিয়ানঃ প্রিয়া আমাকে প্রপোজ করছে। ও আমাকে ভালোবাসে।
শাওন আর তুষার রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
আরিয়ানঃ এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন?

তুষারঃ সংঘঠনের নিয়ম কি? সদস্য থাকাকালীন কোনো প্রেম করা যাবেনা। আর তুই
আরিয়ানঃ অ এমন নিয়ম ছিল নাকি?

শাওনঃ তো
আরিয়ানঃ আচ্ছা থাক ভাই রাগিস না। প্রিয়া কে একসেপ্ট করব না।
তুষারঃ মাথায় থাকে যেন।

কয়েকদিন পর,
আরিয়ান ভার্সিটির ক্যাম্পাসে হাটতেছে।
এমন সময় সাদিয়া আসল,
সাদিয়াঃ হাই

আরিয়ানঃ হেলো
সাদিয়াঃ কেমন আছ?
আরিয়ানঃ সূর্য কোন দিকে উঠল। যে মেয়ে আমাকে পাত্তা দিচ্ছিল না। সে এখন নিজে থেকে এসে আমার সাথে কথা বলছ( মনে মনে)

সাদিয়াঃ কি হলো।
আরিয়ানঃ না মানে আমি ভালো। তোমার শরীর ঠিক আছে তো?
সাদিয়াঃ হুম।

আরিয়ানঃ তাহলে আমার সাথে নিজে থেকে কথা বলছ
সাদিয়াঃ Actually i wanna say something
আরিয়ানঃ বলো

সাদিয়াঃ সাইডে চলো না। কোলাহল আর সবার সামনে বলতে পারব না।
আরিয়ানঃ তো কোথায় যাবা?
সাদিয়াঃ চলো
সাদিয়া আরিয়ান কে নিয়ে একটা ক্লাসে গেল। যেখানে কেউ নাই

আরিয়ানঃ এবার বলো
সাদিয়াঃ Actually I am in love..
আরিয়ানঃ oh.. who was that lucky guy?

সাদিয়াঃ you
আরিয়ানঃ what?আমি? মানে কিভাবে how? মজা করছ
সাদিয়াঃ না মজা করছিনা সিরিয়াসলি বলছি। I love you.. even i wanna marry you।

আরিয়ানঃ তোমাকে আবার ওই নিলা এইসব করতে বলছে তাই না।
সাদিয়াঃ তোমার সন্ধেহ হয়?
আরিয়ানঃ ইয়েস আমি কাউকে বিশ্বাস করিনা।
সাদিয়াঃ ওয়েট করাচ্ছি

সাদিয়া আরিয়ান কে লিপ কিস করে বসল।
আরিয়ান পুরো স্তব্ধ হয়ে গেল। হা হয়ে আছে।
সাদিয়াঃ এবার তো বিশ্বাস হয়?
আরিয়ানঃ অ অ্যা
সাদিয়া ক্লাস থেকে বেড়িয়ে গেল।

আরিয়ানঃ ভাইরে ভাই। এসব কি শুরু হলো। একদিন আমি যাদের পেছন ঘুরছিলাম। তারা হঠাৎ আমার পিছু লাগল কেন। এগুলা যদি আমার সংগঠনের সবাই জানে আমারে তো মেরে ফেলবে। তারপর আবার কিস করছে। কাউকে বলা যাবেনা এসব। লুকিয়েই রাখব।
আপনারাও কাউকে বইলেন না

দুদিন পর,
আরিয়ান শুয়ে আছে রুমে,
মিথিলা আসল,
মিথিলাঃ আমি চলে যাচ্ছি কাল
আরিয়ানঃ কি সত্যি? আলহামদুলিল্লাহ।

মিথিলাঃ আমি চলে যাচ্ছি তাই তুই এত খুশি।
আরিয়ানঃ হুম খুশি। তোমার জ্বালায় আমার জীবন অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছিল। যাও যলদি বাড়ি যাও
মিথিলাঃ কি কইলি তুই। আমি তোকে জ্বালাই?

আরিয়ানঃ তো কি। বিবাহিত পুরুষ যেমন বউর দ্বারা অত্যাচারিত হয়। আমি অবিবাহিত হয়েও তোমার থেকে সেগুলাই পাচ্ছি। একটাই তফাৎ তারা মাজে মাজে রোমান্স করার সুযোগ পায় আমি পাই না।

মিথিলাঃ তাহলে বিয়ে করে নে আমাকে। রোমান্স ও করতে পারবি
আরিয়ানঃ অ অ্যা ( অসহায় ভাবে মিথিলার দিকে তাকালো)

মিথিলাঃ ঠিক আছে আমি যেহেতু জ্বালাই তোকে আরো জ্বালামু। আমি যাচ্ছিনা বাড়ি। ফুপি ফুপি
চলে গেল।

আরিয়ানঃ আমি শেষ। ধ্যাত শালা কেন যে এসব বলতে গেছিলাম। জীবনটা বেদনা। এখন আরো সহ্য করো ওর পকপকানি। খাইয়া ছেড়ে দিল আমারে। তারপর গতিবিধি সুবিধার না আমাকে বিয়ের স্বপ্ন দেখে। ও মাই খাট। where i can go?

উফস ওয়াশরুমে যেতে হবে। আপাদত সেখানেই যাই।

দুদিন পর,
শাওনঃ নিলাকে নিয়ে কি ভাবলি?
আরিয়ানঃ সবই যদি আমি করি তোরা কি করবি?
শাওনঃ তুষার তুই বল

আরিয়ানঃ তুইও বল
শাওনঃ না আমি বলব না। আমি বুদ্ধি দিলে আবার কার না কার হাতে মাইর খাব ঠিক নাই।
তুষারঃ আচ্ছা কোয়েল কে ফলো করি না। আরে ওই যে একটা মোভি আছে না নাম মনে নাই। সাউথ ইন্ডিয়ান মোভির নকল ছিল। কি যেন নাম Dangerous

khiladi না কি
আরিয়ানঃ এত কাহিনি না বলে আসল কাহিনি বল
তুষারঃ মানে হলো আমরা নিলার বাড়িতে যাব। গিয়ে বলব তুই নিলাকে ভালোবাসিস। নিলাও তোকে

ভালোবাসে। ব্যাস পরে নিলাকে নিলার বাবা মা ই উত্তম মধ্যম দিয়া বিয়া দিয়া দিবে।
আরিয়ানঃ ওই মোভিতে পরে কি হইছিল মনে আছে? ওদের বিয়ে হয়েছিল শেষ পর্যন্ত।

তুষারঃ আরে ভাই সেখানে মেয়ে ছেলের বাড়িতে গেছে তাই ওমন হয়েছে। আর এখানে তো ছেলে হয়ে যাইবি তুই। আর এছাড়া কোনো বুদ্ধি হবেনা যদি আমরা

আরিয়ানঃ না থাক। ১০ বছরের জন্য জেলে যেতে চাই না। অবশ্য আমি যতটুকু জানি নিলার বাবা মা প্রেম ভালোবাসা একদম পছন্দ করেনা।
তুষারঃ তাহলে চান্স নিয়ে দেখ। হইলে হইতে পারে

সিনেমার অসমাপ্ত শুটিং বাস্তবে সফল।
আরিয়ানঃ তাহলে আজই চল। চল শাওন
শাওনঃ না আমি যাব না
আরিয়ানঃ কেন রে?

শাওনঃ তোদের চিন ভারত যুদ্ধে আবার আমি গিয়া মাইর খাইতে চাইনা। আমি বাংলাদেশ হইয়া পপকর্ন খাব তোরা ফিরে আসার পর কাহিনি শুনব।

তুষারঃ আরে শালা চলতো। তুই খালি মুখ বন্ধ রাখিস।
শাওন তুষার আর আরিয়ান চলে গেল নিলার বাসায়,
নিলার বাবাঃ তো কিছু বলবা তোমরা কি জন্য এসেছ নাকি চুপ করেই থাকব

শাওনঃ আংকেল আমি কিছু জানিনা ওরা জানে সব। ওরাই বলবে
নিলার বাবাঃ তো বলতে বলো

শাওনঃ আংকেল চা বিস্কুট হবে না? না মানে ক্ষুদা লেগে গেছে।
তুষার চিমটি দিল। আর ফিস ফিস করে বলল
তুষারঃ মুখ বন্ধ রাখতে পারিস না। আরিয়ানের দিকে তাকা

আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে দেখে ওর হাত পা কাপতেছে।
তুষারঃ আর দেয়ালে দেখ বন্ধুক। ওনি কিন্তু রিটায়ার্ড আর্মি অফিসার। সো চুপ থাক।
নিয়ার বাবাঃ কি হলো বলবা তো

আরিয়ানঃ Actually আংকেল আমি আর নিলা
নিলার বাবাঃ কি তুমি আর নিলা
আরিয়ানঃ আমি আর নিলা দুজন দুজনকে ভালোবাসি। আমাদের তিন বছরের প্রেম। আমরা দুজন দুজন কে

ছাড়া বাঁঁচব না। যদি আপনি কো অপারেট করতেন।
নিলার বাবাঃ তুমি জানো আমি কে? আর্মি তে থাকতে আমি একাই ২০ জন কে মেরেছি। তুমি আমার সামনে বসে এসব বলছ সাহস তো কম না তোমার

আরিয়ানঃ ভালোবাসা কোনো কিছুই মানেনা। আপনি আমাকে মেরে ফেলতে পারেন। আপনার মেয়েকে বন্দি করতে পারেন। কিন্তু আমাদের ভালোবাসা আটকাতে পারবেন না

নিলার বাবাঃ তোমার স্পর্ধা দেখে আমি শিহরিত। দাড়াও এখনি বেড়িয়ে যাও আমার বাড়ি থেকে। গেট আউট।

শাওন আরিয়ান তুষার এক মিনিট ও দেড়ি করল না। সোজা বেড়িয়ে চলে আসল।
এসে তিনজন কোলাকোলি করল।
আরিয়ানঃ আগুন লেগে গেছে। আজকে নিলার ছাড় হবেনা।

বলতেই তিনজন হাসতে লাগল হো হো করে
তুষারঃ তোর হাত পা কাপছিল কেন?
আরিয়ানঃ ওসব কিছুনা। এমনিই। এই শালায় সব জায়গায় বেজাল লাগায়।

শাওনঃ তোরা চিন ভারত ছিলি। আমি বাংলাদেশ হইয়া দুই পক্ষকেই সমান সাপোর্ট দিতে চাইছিলাম।
আরিয়ানঃ তোর জন্য আজকে গুলি খাইতে হতে পারত।

তুষারঃ আলহামদুলিল্লাহ বেচে আছি।
এমন সময় তুষারের ফোন আসল। ও কল ধরে কথা বলল।
আরিয়ানঃ কে রে?

তুষারঃ হাবিব কল দিয়েছে। তারাতারি জেনারেল হাসপাতালে যেতে বলেছে। ওর পাশের বাসার কোন ছেলে নাকি সুইসাইড এটেমট করেছে।
আরিয়ানঃ তাহলে যলদি বল

ওরা হাসপাতাল চলে আসল।
আরিয়ানঃ কি হয়েছে রে?
হাবিবঃ আমিও জানিনা। ভাগ্যিস ছাদ থেকে লাফ দিয়ে বালির উপর পড়ছে। বালির জন্য বেঁচে গেছে।

আরিয়ানঃ কি যে পোলাপান আজকাল হুদাও সুইসাইড করতে যায়।
যাহোক চিকিৎসা শেষে ছেলেটা বেচে যায়। আমর ছেলেটার কাছে গেলাম।

হাত আর পা বেকায়দায় পড়ার জন্য ভেঙে গেছে।
আমরা পাশে বসলাম।
আরিয়ানঃ ওর নাম কি রে?
হাবিবঃ ওর নাম মেহেরাজ।

আরিয়ানঃ আচ্ছা ভাই এসব কেন করতে গেলা? জীবনে এত কষ্ট কিসের। জানোনা আত্বহত্যা মহাপাপ।
মেহেরাজঃ জানি কিন্তু আমি বাচতে চাইনা। বাচার কোনো ইচ্ছাই নাই আমার।

আরিয়ানঃ কি এত কষ্ট আমরা জানতে পারি কি?
মেহেরাজঃ হুম।
আরিয়ানঃ বলো তাহলে
মেহেরাজঃ তারিখ :২৭.৯.২০১৯

আমি ঢাকাতে পড়তাম। ১-১০ পর্যন্ত আমার লেখা পড়া হয়েছে ঢাকাতে। পারিবারিক সমস্যার কারণে আমি আমার গ্রামের বাড়িতে এসে পরি। সেখানকার একটা

কলেজে ভর্তি হই। আমি মেধাবী ছাত্র ও না আবার গাধা ও না। তো ওই খানকার কোচিং এ ভর্তি হই। আমার কাজিন ওই কোচিং এ পড়তো তার গফ ও

পড়তো। আমি কারো সাথে প্রয়োজন ছাড়া কথা বলি না। তো ওইখানে ২টা মেয়ে পড়তো। তারা ও কাজিন। একজন আমার বেস্টফ্রেন্ড এর সাথে রিলেশনে ছিলো। তো একদিন আমার এক ফ্রেন্ড বললো আমি

নাকি সাথের জনকে পছন্দ করি। পরে তারা এটা প্রচার করে বেড়ায়। তো তাদের মধ্যে এটা নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। আমার ও ভালো লাগতো কিন্তু বুঝতে দিতাম না। একদিন আমি আমার ফ্রেন্ডদের আমার ১ম

ভালোবাসা নিয়ে শোক প্রকাশ করছি। ওই সময় সে মন খারাপ করে বসে থাকে। পরে আমার এক ফ্রেন্ড ওরে জিজ্ঞাসা করে আমাকে পছন্দ করে কিনা। কিন্তু সে তার মুখের উপর না করে দেয়। কিছুদিনের মধ্যে তার

সাথে আমার ভালো একটা সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আমি একদিন সাহস করে আমার মনের কথা জানাই কিন্তু সে না করে দেয়। ভারাক্রান্ত মন নিয়ে কিছুদিন ওর সামনে যাই নাই। তো হঠাত করে একদিন কোচিং এ গেলাম

আমাকে দেখে হাউমাউ শুরু করে দিছে। পরে যাই হোক রিলেশনশিপে গেলাম। আবারো সেই পোড়াকপাল নিয়ে। ভালোই চলছিল। ২বছর হলো রিলেশনের। হঠাত করে ও আমার সাথে কথা বলা কমিয়ে দেয়। হুম,জানিনা,কিছুনা,এমনি ই কথা গুলা

এভাবে কমে আসে। আর তাকে যতবারই বলতাম যে কি বুঝে রিলেশনে আসছো সে একটা ই জবাব দিতো জানি না!এ ছাড়াও তার ধারে কাছে বসতে দিতো না। এড়িয়ে চলতো। সহ্য করতে পারতাম না। হঠাত করে

আমার মেসেজের রিপ্লাই ও দেয় না। ভেবেছি হয়তো এ কাউকে পছন্দ করে কিন্তু না। ওর ভাবি আমাদের রিলেশনের ব্যাপারে জেনে যায়। আমার সাথে শেষ ২০১৯ নভেম্বর ৪:৪৮ p.m. এ লাস্ট মেসেজ

দেয়। (আমাদের মধ্যে কিছু নাই। তোমার সাথে আমার মিলে না। তুমি তোমার মতো থাকো। আল্লাহ হাফেজ)। আমি বললাম তোমার যা ইচ্ছা শাস্তি দাও। এরকম করিও না। আমি যেকোনো পরিস্থিতিতে

তোমার সাথে থাকবো। কিন্তু না কোনো উত্তর আসলো না
ওইদিন থেকে আজ পর্যন্ত আমার চাল-চলন সব এলো-মেলো। কারো সাথে কথা বলি না। চুপ-চাপ থাকি। সিগারেট এর গন্ধ সহ্য হতো না। এখন সিগারেটও ধরেছি। ভাই আমি সব সময় মন মরা থাকি।

আরিয়ানঃ সব বুঝলাম এতদিন সহ্য করলা। হঠাৎ এসব সুইসাইড এর সিদ্ধান্ত কেন নিতে গেলা
মেহেরাজঃ আমার বাবা নাই। মার কাছে বড় হয়েছি। তাকে সব বলেছি তুমি যদি আমাকে ছেড়ে চলে যাও। আমি নিজের অস্তিত্ব হারাইয়া ফেলব। গত ১০-১২

দিন আগে ওর চাচাতো ভাই আমার সাথে একটা সমস্যা করে গেল। কিছুই বুঝলাম না। ভাই আমি ভালো করে কথা বলতে ভূলে গেছি। কেউ ভালো কথা বললেও সহ্য হয় না। অতিরিক্ত কথা শুনতে পারি না। রেগে যাই অল্পতেই। প্রতিবেশী আত্বীয় স্বজন সবাই আমাকে

বেয়াদব ভাবে। সবাই আমাকে খুব খারাপ মনে করে। সব কিছু মিলিয়ে আমার জীবন থমকে গেছিল। আর নিতে পারছিলাম না। আমার জন্য মরা ছাড়া উপায়ই ছিল না।

শাওনঃ নারী তুমি মহান। পৃথিবীতে যা কিছু কল্যানকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক নর। ঠিক তেমনি প্রতিটা ছেলের জীবন ধ্বংসের পেছনে কোনো না কোনোভাবে কোনো মেয়ের হাত থাকে। হায়রে দুনিয়া

আরিয়ানঃ দেখো ভাই তুমিই বললা তোমার বাবা নেই। মা তোমাকে মানুষ করছে। তার কথা ভেবেছিলা একবারও? তুমি মারা গেলে তাকে কে দেখবে? চিন্তা করেছ? কোথাকার কোন মেয়ে কষ্ট দিছে তার জন্য তুমি তোমার জন্মদাত্রী মাকে ভূলে যাবে?

শাওনঃ দেখ ভাই। ছ্যাকা আমি খেয়েছি আরিয়ান খেয়েছে হাবিব তো যে ছ্যাকা খাইছে তা বলবার মতো নয়। কই আমরা তো সুইসাইড করতে যাইনি।
আরিয়ানঃ যাহোক আশা করি তোমাকে বুঝাতে হবেনা

। আজ থেকে তুমি আমাদেরও বন্ধু। আমাদের একটা সংগঠন আছে ” এক্স বয়ফ্রেন্ড ” নাম ওখান থেকে সবাইকে সাহাজ্য করি। আজ থেকে তুমিও আমাদের সাথে জয়েন হইলা সুস্থ্য হতেই আমাদের সাথে অফিসে দেখা করবা।

শাওনঃ আর হ্যা কখনও ওই ধোকাবাজ এর কথা মনে পড়ে তাহলে ডিরেক্ট নিজে নিজেই গালি দিবা খাছ বাংলা গালি দেখবা সব ঠিক ঠাক।
তুষারঃ একটা মেয়ে ছেড়ে গেছে তাই বইলা নিজের ক্ষতি করতে নেই। মাকে কত কষ্ট দিয়েছ জানো এখনি মাকে সরি বলো

মেহেরাজের চোখ থেকে পানি বেড়িয়ে গেল।
মেহেরাজঃ আই এম সরি
তুষারঃ আমাদের নয় নিজের মাকে বলো।
আরিয়ানঃ আমরা বাহিরে যাই এখন

আরিয়ান তুষার শাওন হাবিব বাহিরে আসল।
আরিয়ানঃ কি অবস্থা একটা মেয়ের জন্য জান দিতে চলেছিল।

শাওনঃ যাক সব তো এখন ঠিকঠাক। এখন চল রেষ্টুরেন্ট যাই। খুব ক্ষুদা লাগছে খাওয়া দাওয়া করব
আরিয়ান তুষার আর হাবিব এক দৃষ্টিতে শাওনের দিকে তাকিয়ে আছে

শাওনঃ এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন?
হাবিবঃ এখন যদি তোকে আমরা আধাঘন্টা না পিডাই। জাতী আমাদের ক্ষমা করবেনা


পর্ব ৫

শাওনঃ এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন?
হাবিবঃ এখন যদি তোকে আমরা আধাঘন্টা না পিডাই। জাতী আমাদের ক্ষমা করবেনা

শাওনঃ দেখ ভাই সত্যিই ক্ষুদা লাগছে। এখন যদি তোরা মারতে চাস মার। কিছু বলব না
তুষারঃ ইমোশনাল ব্লেইকমেইল করিস।
শাওনঃ না সত্যিই বললাম।
আরিয়ানঃ আচ্ছা চল রেষ্টুরেন্ট।
তারপর ওরা রেষ্টুরেন্ট চলে গেল। খাওয়া দাওয়া করল।

পরদিন ভার্সিটি তে আরিয়ান বসে আছে। হঠাৎ নিলা সামনে আসল।
নিলাঃ এ তুই আমার বাসায় গিয়া কি বলছত?
আরিয়ানঃ কি বলছি?

নিলাঃ আমি তোকে ভালোবাসি?
আরিয়ান হাসতে লাগল।

আরিয়ানঃ উত্তম মধ্যম দিয়েছে তোকে। ওয়াহ বাহ। এই খুশি কারে দেখাব। এখন কেমন লাগে? আর লাগবি আমার পিছে?
নিলাঃ বলছিলাম না তোকে আমার পিছে লাগিস না পস্তাতে হবে। এখন দেখ আমি কি করি

আরিয়ানঃ তুই করবি আমি ছেড়ে দিব নাকি? আমিও দিব
নিলাঃ পারলে নিজেকে বাচাও বাবু
নিলা একটা হাসি দিল। সাথে একটা চোখ টিপ দিল।
তারপর চলে গেল।

আরিয়ান অভাক হয়ে গেল।
এ মেয়ে মাইয়া না অন্যকিছু। বাসায় বকা খাইয়াও এত খুশি আবার চোখ টিপ দিয়ে যায় নিজের শত্রু কেই। অভাক কান্ড ( আরিয়ান মনে মনে)
এমন সময়েই শাওন তুষার আসল,

তুষারঃ কিরে নিলা আবার তোকে ভরে দিয়ে গেছে নি?
আরিয়ানঃ ধুর ওর মতো মেয়ে আমাকে বলবে তেমন কিছুই না। বাড়িতে অনেক বকেছে সেটাই শুনাচ্ছিল আর হুমকি দিয়ে গেল।

শাওনঃ শুনে খুশি হলাম। যা করে এসেছ ওর বাবা যখন এসে জায়গামতো টাস টাস করে গুলি করবে তখন বুঝবা ঠ্যালা কাকে বলে।

আরিয়ান কিছু বলতে যাবে তখনি মাজখানে সাদিয়া চলে আসল।
সাদিয়াঃ এই তুমি এখানে আর তোমাকে আমি সারা ক্যাম্পাস খুজতেছি
শাওন আর তুষার অভাক হলো।

শাওনঃ তুমি ওরে কেন খুজতেছ?
আরিয়ানঃ তেমন কিছুনা রে। ওরে একটা নোট দেওয়ার ছিল সেটার জন্যই খুজতেছিল হয়তো। আচ্ছা সাদিয়া তুমি লাইব্রেরীর সামনে অপেক্ষা করো আমি আসতেছি।

সাদিয়াঃ আচ্ছা ঠিক আছে।
সাদিয়া চলে গেল।
তুষারঃ ব্যাপার টা কি? সন্ধেহজনক কিন্তু
আরিয়ানঃ আরে বললাম তো। তোরা ক্লাসে যা আমি ওর সাথে কথা বলে আসতেছি

শাওনঃ যাই করো মাইন্ডে রেখো সংগঠনের প্রথম রুলস প্রেম করা যাবেনা।
আরিয়ানঃ হুম জানি। আমার জিনিস আমাকে শিখাতে হবেনা।

আরিয়ান লাইব্রেরীর সামনে চলে গেল। সাদিয়া অপেক্ষা করতেছিল।
আরিয়ানঃ এবার বলো কেন ডেকেছ?

সাদিয়াঃ কেন ডেকেছি মানে। এভাবে কথা বলছ কেন?
আরিয়ানঃ কিছুনা। বলো কি বলবা
সাদিয়াঃ আমার প্রপোজের উত্তর কোথায়?
আরিয়ানঃ আই এম সরি। একদিন হয়তো আমি

তোমাকে প্রপোজ করছিলাম তা ছিল শুধু তোমার সৌন্দর্যের মোহ। তোমাকে একবার দেখলে যেকোনো ছেলেই নিজের করতে চাইবে। আর আমার তো নিলার সাথে ব্রেক আপ হওয়ায় মাথা ঠিক ছিল না। তাই

তোমার পিছু ঘুরঘুর করেছি। এটা ভালোবাসা ছিল না ছিল মোহ। আশা করি বুঝেছ। আর হ্যা আমার সংগঠন ” এক্স বয়ফ্রেন্ড “এর সদস্য দের প্রথম শর্ত ই হলো প্রেম করা যাবেনা। সো আমি তোমাকে একসেপ্ট করতে পারছিনা

সাদিয়াঃ ফাজলামি করো আমার সাথে? হুট করে বলবা ভালোবাসি। আবার বলবা মোহ। এটা মজা চলে নাকি?
আরিয়ানঃ দেখো সাদিয়া আমি যখন প্রপোজ করছিলাম তখন তো তুমি আমাকে নিলার এক্স বলে অপমান

করেছ। এখন কেন আমার পিছু লেগেছ তা বুঝতেছিনা?
সাদিয়াঃ তোমার সাহসীকতা দেখেই আমি তোমার প্রেমে পড়ে গেছি।
আরিয়ানঃ মানে

সাদিয়াঃ মানে তুমি যে নিশার বিয়ে ভাঙার জন্য ওর বাবার সাথে সে কি পাঙা নিয়েছ। তা দেখেই আমি ইমপ্রেস। পরে অবশ্য মাইর খাইছিলা। তাতে সমস্যা নাই। যে অন্যের ভালোবাসার জন্য মাইর খাইতে পারে

সে নিজের ভালোবাসার জন্য জীবন ও দিতে পারবে। আমি এমনই একজন খুজতেছিলাম।

আরিয়ানঃ অ অ্যা কিহ( আরিয়ান অভাক হয়ে)
সাদিয়াঃ ওকে যাও তোমাকে আমি আরো দুদিন সময় দিলাম। যদি রাজি না হও তাহলে নিশ্চিত তোমাকে আমি…. নাহ তখনি দেখবা
সাদিয়া চলে গেল।

আরিয়ান একবার উপরে তাকালো
আরিয়ানঃ ভাইরে ভাই এটা কিভাবে সম্ভব একজন প্ল্যানিং করে মাইর খাওয়ালোম আরেকজন সেই প্ল্যানিং এ আমাদের একটু সাহসীকতা দেখে প্রেম পড়ে গেছে।
অন্যদিকে হাবিব,

বাড়ির ছাদে বসে গিটার বাজিয়ে গান ধরল,
হতে পারে কোনো রাস্তায় কোনো হুট তোলা এক রিকশায়

আমি নীল ছাতা নিয়ে দাঁড়িয়ে তুমি দেখলেনা,
রোদে পোড়া এ রোমিও চেহাড়া তুমি বুঝলেনা আমার ইশারা
মন যদি থামতে তুমি থামলেনা

তোমার জুলিয়েট হাসি হেসে যদি ডাকতে ভালোবেসে
আমি তোমার চোখে তাকানোর সাহস পেতাম না
আমার জড়োসড়ো এই শরীরে তোমার হাওয়ায় লাগছে ফুরফুরে

প্রেম নাকি পাগলামি বলতে পারব না
লোকে পাগল বলুক মাতাল বলুক
আমি তোমার পিছু ছাড়ব না
তোমার পিছু ছাড়ব না

এমন সময় পেছন থেকে হাততালি শুনল। হাবিব পিছন ফিরে দেখে তিশা। হাবিব ভাব নিয়ে বলল
হাবিবঃ আপনি?

তিশাঃ বাহ আপনি তো খুব ভালো গান গান।
হাবিব ভাব নিলো আরো বেশি করে।
হাবিবঃ আসলে মাজে মাজে গাই আর কি।
তিশাঃ আরেকটা গান শুনান না প্লিজ
হাবিবঃ এখন

তিশাঃ প্লিজ আমার জন্য
উফস ক্রাশ এভাবে বললে কেমন যে লাগে বুঝানো যায় না। আহ সেইরকম ফিলিংস। ( হাবিবের মনে মনে)
তিশাঃ কি হলো শুনাবেন না?

হাবিবঃ হ্যা হ্যা শুনাব তো। বসুন
কি গাওয়া যায় যাতে ইন্ডাইরেক্টলি প্রপোজ করা যায়। উম পাইছি ( হাবিব মনে মনে)
হাবিবঃ

বলছি তোমার দিব্যি খেলে
আমি বড় শান্ত ছেলে
দেখছি তোমায় সুযোগ পেলে
শুনে বুঝি ভিষম খেলে

পড়ে গেছি ইশকেতে আছি বড় রিস্কেতে
খালি মিস করি যাই একটু যদি মিশত সে
রাগারাগি কম করে মনটা নরম করে এসএমএস এ হলেও যদি বলতো আমায় সে

আসোনা কেন বাসোনা ভালো লাগেনা যে আমার
ওহো ক্ষতি কি বলো করেছি তোমাকে দু একবার।
তিশাঃ বাহ খুব সুন্দর। আচ্ছা আমি এখন আসি
হাবিবঃ জ্বী

তিশা উঠে হাটা ধরল। আবার পিছে ফিরল।
তিশাঃ ও হেলো
হাবিবঃ হ্যা হ্যা বলো বলো
তিশা একটা হাসি দিল।

তিশাঃ you are so cute..আর হ্যা সবই বুঝি কেউ প্রপোজ না করলে কি করব
বলেই একটা হাসি দিয়ে চলে গেল।
হাবিবঃ হায় ঊহো হিহি what the fuska
this is the prem kahini bukka…

অন্যদিকে আরিয়ান ভার্সিটি থেকে চিন্তা করতে করতে বাড়ি গেল।
কলিং বেল চাপতেই আম্মু দরজা খুলে দিল,
আরিয়ান ভিতরে ডুকেই অভাক হয়ে গেল। নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছেনা। কারন নিলার বাবা

মা ওদের বাসায়।
আরিয়ান অভাক ও হয়েছে আবার ভয় ও পাচ্ছে। ভয়ের ঠ্যালায় ঘামতে লাগল।
নিলার বাবাঃ আরে বাবা তোমার জন্যই অপেক্ষা করতেছিলাম আসো বসো।

আরিয়ান দাড়িয়েই রয়েছে।
নিলার বাবাঃ আরে চিন্তা করোনা বকব না বসো।
আব্বুঃ কিরে বসছ না কেন
আরিয়ান ভয়ে ভয়ে বসল।
আব্বুঃ ওনি বলছেন তুই নাকি গতকাল ওনাদের বাসায় গিয়েছিলি। এবং কিসব বলে এসেছিস। তুই ওনাদের মেয়েকে ভালোবাসিস

আরিয়ান চুপ করে আছে।
নিলার বাবাঃ ভয় পেও না বলো। তোমার বাবার সাথে আমার কথা হয়ে গেছে
আব্বুঃ কি হলো বল তোর ওনার মেয়ের সাথে কি সম্পর্ক

আরিয়ানঃ না মানে নেই
নিলার বাবাঃ কিহ
আরিয়ানঃ হ্যা আছে ( ভয় পেয়ে। )
আব্বুঃ ঠিক করে বল কি না হ্যা আছে এসব কি?
আরিয়ানঃ না নাই।

নিলার বাবার দিকে তাকাতেই
আরিয়ানঃ হ্যা আছে।
নিলার বাবাঃ বেয়াই মশাই ও আপনাকে ভয় পাচ্ছে। দেখছেন না বলতে পারছে না। আসলে ওরা দুজন দুজন কে ভালোবাসে। নিলাও স্বীকার করেছে এসব। তো

আমি চাইছিলাম কি ওদের দু হাত এক করে দিতে
আরিয়ান এটা শুনে পুরো অভাক।
তার মানে নিলা বাসায় বকা খায়নাই। উলটো আমাকে ফাসানোর জন্য এই প্ল্যান করছে। এখন তো আমিই ফেসে গেছি ( মনে মনে আরিয়ান)

আব্বুঃ হ্যা তাই তো ভাবছিলাম।
নিলার বাবাঃ তো কি বলেন বিয়ের দিকে আগানো যাবে কি?
আরিয়ানঃ আমি যেতে পারি?
নিলার বাবাঃ হ্যা তুমি যাও
আরিয়ান রুমে চলে আসে।

কি করতে গেলাম। এখন হলো টা কি? আমি নিজেই তো ফেসে গেলাম।
এমন সময় ফোনে কল আসল। নিলার নাম্বার দেখেই রিসিভ করল।
নিলাঃ কিরে কেমন লাগল
আরিয়ানঃ মানে কি এসবের হ্যা?

নিলাঃ মানে ক্লিয়ার। তুই জানতি যে আমার বাবা প্রেম ভালোবাসা একদম পছন্দ করে না। সেই সুযোগ নিয়ে আমাকে ফাঁসিয়ে আব্বুর হাতে থাপ্পড় খাওয়াইতে চাইছিলি। আমি অভিনয় করে বিষয় টা তোর দিকেই

ঘুরিয়ে দিলাম। বলছিলাম না আমার সাথে পাঙা নিস না। এখন বুঝ ঠ্যালা। যদি কোনোভাবে আমি তোর বউ হই তাহলে তো বুঝছই তোর জীবন নরক বানাইয়া ছাড়ব।

আরিয়ানঃ কিছুতেই না। আমি রাস্তার মেয়েকে বিয়ে করব তবুও তোকে করব না।
নিলাঃ পারলে বিয়ে ভাঙো বাবু
আরিয়ানঃ হ্যা ভাঙবই। চেয়ে দেখ

বলেই আরিয়ান ফোন কেটে দিল।
এই ছিল তোর প্ল্যান। এজন্যই সকালে ঝগড়া না করে হাসি আর চোখ টিপ দিয়ে চলে গেছিল। আমি তোকে দেখে নিব। ( আরিয়ান মনে মনে)

বিকালে অফিসে বসে আছে।
তুষারঃ তুই এত চিন্তিত কেন?
আরিয়ানঃ তো কি করতাম? তোর কথা শুনতে গিয়া ফেসে গেছি এখন

তুষারঃ ওহ এই ব্যপার। কিচ্ছু হবেনা। বিয়ে আমরা ভাঙবই।
শাওনঃ ভাঙার কি দরকার ভাই। বিয়েটা করে নে। এই উছিলায় আমাদের বাবা মা ও আমাদের বিয়ের দিকটা চিন্তা করবে।

আরিয়ানঃ তুই আর একটা কথা বলবি তো পরিক্ষার সময় আর টুকলি করতে দিতাম না।
শাওনঃ আরে ভাই এমন করছ কেন। পরীক্ষার হলে তো তুই ই আমার ভরসা। এই চুপ করলাম।

সন্ধায় বাসায় ফিরল আরিয়ান।
আব্বুঃ আরিয়ান কথা আছে তোর সাথে
আরিয়ানঃ হ্যা বলো

আরিয়ানঃ নিলা কে আমরা দেখলাম। খুব ভালো। দেখতেও মাশাল্লাহ। আমাদের পছন্দ হয়েছে। ওইরকম একটা মেয়ে কিভাবে তোকে পছন্দ করল আল্লাহ জানে। যাইহোক তোর অনার্স পরীক্ষা শেষ হলেই তোদের বিয়ে দিব। নিলার বাবার সাথে কথা হয়ে গেছে আমার।

বলেই আব্বু চলে গেল।
আরিয়ানঃ কার সামনে কার প্রশংসা করল। ও কত ভালো মানুষ তা আমি ছাড়া আর কে জানে।
আরিয়ান নিজের রুমে চলে গেল। শুয়ে পড়ল। চিন্তা করতে লাগল

এ বিয়ে আমার ভাঙতেই হবে। নাহলে আমার প্রিয়াকে পাওয়া হবেনা। কত সুন্দর করে কাল রাতে প্ল্যান করলাম প্রিয়ার প্রপোজ একসেপ্ট করব। আর এখন ত্রিমুখী বিপদে আছি। সকালে সাদিয়া হুমকি দিল। এখন নিলার সাথে বিয়ে ঠিক। আর আমি প্রিয়াকে চাই। নাহ

প্রিয়াকে পাইতে হলে আমার এ বিয়ে ভাঙতেই হবে যেভাবেই হোক। ( আরিয়ান মনে মনে)
এমন সময় মিথিলা আসল,
মিথিলাঃ তুই কি আমার মনের কথা বুঝিস না?
আরিয়ানঃ কি বুঝতাম?

মিথিলাঃ সত্যিই বুঝিস না?
আরিয়ানঃ ধুর কি বলো বুঝিনা। যাহোক বলো তোমার বল্টুর কি খবর? তার সাথে কথা হয়? বেচারা তোমাকে খুব ভালোবাসে। ছ্যাকা দিয়ে কাজ টা ঠিক করোনাই।

যাহোক বল্টুর নাম্বার টা দিও ওরেও আমি আমার সংগঠনে এড করে নিব।
মিথিলা হাতে একটা গ্লাস নিল। সোজা ভেঙে ফেলল।
আরিয়ান এক লাফে উঠে বসে পড়ল।

আরিয়ানঃ এই এই তোমার কি হয়েছে। এমন করছ কেন?
মিথিলা হাতে একটা গ্লাস নিল। সোজা ভেঙে ফেলল।
আরিয়ান এক লাফে উঠে বসে পড়ল।
আরিয়ানঃ এই এই তোমার কি হয়েছে। এমন করছ কেন?

মিথিলাঃ কি হয়েছে বুঝিস না তুই?
আরিয়ানঃ কি বুঝতাম?
মিথিলাঃ আই লাভ ইউ আরিয়ান আই লাভ ইউ।
আরিয়ানঃ ওহ ( স্বাভাবিক ভাবেই)
পরক্ষনেই খেয়াল হলো। কি বলছে

আরিয়ানঃ কিহ ( অভাক হয়ে)
মিথিলাঃ হ্যা ছোট বেলা থেকেই আমি তোকে ভালোবাসি। ছোট বেলায় বর বউ খেলতাম মনে আছে? তখন থেকেই তো তোকে আমি স্বামি হিসেবে মনে জায়গা দিয়ে দিছি

আরিয়ানঃ তারপর?
মিথিলাঃ তারপর আর কি? তুই যদি ওই নিলা না টিলা ওরে বিয়া করস তাইলে আমি কুরুক্ষেত্র বাজিয়ে দিব। মনে রাখিস আমিও নুপুরপুরের মেয়ে
আরিয়ানঃ বল্টু ভাই এর কি হবে তাইলে

মিথিলাঃ বল্টু নাটের সাথে জোড়া লাগাইয়া দিমু। বল্টু কোন শালা রে। ওরে আমি চিনিনা। ও ই আমার পিছু ঘুরে। আর একবার যদি ওর নাম আমার সামনে উচ্চারণ করিস। খুন করে ফেলব ডিরেক্ট।
আরিয়ানঃ না ম্যাম you can go.

মিথিলাঃ মাইন্ড ইট।
মিথিলা চলে গেল।
আরিয়ান মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ল।
উপরে তাকিয়ে বললঃ নিলার সাথে বিয়ে ভাঙতে হবে

তার চিন্তায় ঘুম আসেনা। তারপর আবার সাদিয়ার হুমকি এখন আবার মিথিলার হুমকি। হচ্ছে টা কি? আর কেউ বাকি আছে কি? আসো সবাই একসাথে আসো। আমাকে ঠ্যালা দিয়ে উপরে পাঠিয়ে দাও। আমার আর প্রিয়াকে পাওয়া হচ্ছেনা।

। ওরে প্রিয়ারে প্রিয়া আয় না আমার কাছে
তুই ছাড়া কেই বা পৃথিবীতে আমার আছে
একটু কান্দি জড়াই ধরে তোকে
যদি বেচে যাই কোনোভাবে এই বিপদ থেকে।

পরদিন,
ভার্সিটি তে শাওন আর তুষার বসে আছে।
তুষারঃ আরিয়ান তো প্রতিদিন আমাদের আগেই চলে আসে। আজকে আসছে না যে?

শাওনঃ ও বিয়া ভাঙাতে ব্যস্থ। তাই হয়ত আসবেনা।
তুষারঃ ওহ। পোলাডা পুরা ফেসে গেছে।
শাওনঃ যাহোক তুই প্রেম কবে করবি
তুষারঃ বাংলাদেশ যেদিন চাঁদে গমন করবে সেদিন ইনশাল্লাহ হবে

শাওনঃ ধুর মজা করিস
এমন সময় একটা মেয়ে এসে বলল
~ এক্সকিউজ মি
তুষারঃ জ্বী বলুন

~ আপনি নন ওনাকে বলছি ( শাওন কে দেখিয়ে)
শাওনঃ জ্বী বলুন
~ Actually i am popy.. Nusrat jahan popy
শাওনঃ সে আপনি পপি হোন নাহলে ফুলকপি হোন আমার সাথে কি দরকার তা বলুন

পপিঃ I want to say something
শাওনঃ আহা উফস। ইংলিশ বলে কানটা নষ্ট করে দিল। বাংলায় বলেন যা বলবেন।

পপিঃ আসলে আপনাকে আমি বেশ কিছুদিন ধরে ফলো করতেছি। আপনাকে প্রথম দিন দেখেই আমি ক্রাশড। আপনার কথা বলার স্টাইল চলার ধরন আমাকে পুরো মুগ্ধ করেছে।

হঠাৎ ফুল এগিয়ে দিয়ে বললঃ i love you.
শাওন বসা থেকে দাঁড়িয়ে গেল। তুষার তো হা হয়েই আছে।
শাওনঃ কি কি কি বললেন আপনি?
পপিঃ আই লাভ ইউ
শাওনঃ you know what ওহ দুঃখিত আমি তো ইংলিশে দুর্বল। যাহোক আপনি ভূল মানুষ চুজ

করেছেন। আমার অঙিকার বদ্ধ আছি আমাদের সংগঠনের কাছে যে কোনো দিন প্রেম করব না। সো আপনি যেভাবে এসেছেন চলে যান। আমি একসেপ্ট করছি না। তুষার চল।

শাওন ভাব নিয়ে তুষার কে নিয়ে ওখান থেকে চলে আসল।
তুষারঃ দুস্ত তুই আমাদের সংগঠন কে এত ভালোবাসিস। i am proud of you.. Love you bondhu..

তুষার শাওন কে জড়িয়ে ধরল।
অন্যদিকে আরিয়ান মোবাইল বন্ধ করে ঘরে বসে আছে।

একবার সাদিয়া একবার প্রিয়া কল করেই যাচ্ছে দেখা করার জন্য। ভয়ে মোবাইলই বন্ধ করে রাখছে।
বিকালে শাওনের কল পেয়ে আরিয়ান কল ধরল,
শাওনঃ কিরে কোথায় তুই?
আরিয়ানঃ উগান্ডায় আছি।

শাওনঃ সে কি কখন গেলি। আমাকেও নিতি। আমি যাইতাম। ছিহ ছিহ এই তোর বন্ধুত্বের পরিচয় আমাদের না নিয়ে নিজে একাই এঞ্জয় করতে চলে গেলি। ইশ কত স্বপ্ন ছিল উগান্ডা দেখার

আরিয়ানঃ আরে শালা আসল কথা বল তো কি জন্য কল দিছত।
শাওনঃ আর বলে কি হবে তুই তো উগান্ডায়।
আরিয়ানঃ তুই বলবি কিনা।

শাওনঃ একটা মেয়ে এসেছে সাহাজ্য চাইতে। মেয়েটা নাকি প্রায় কয়েক বছর আগে একটা ছেলের সাথে পরিচয় ছিল। ছেলেটা মেয়েটাকে খুব ভালোবাসত। কিন্তু কোনো কারনবশত ওদের রিলেশনে ফাটল ধরে। মেয়েটা দূরে চলে যায়।

আরিয়ানঃ তো আমরা এখন কি করব
শাওনঃ পুরোটা শুন। মেয়েটাও নাকি ছেলেটাকে প্রচুর ভালোবাসে। অনেকদিন যোগাযোগ না থাকায় ছেলেটাকে খুজে পাচ্ছেনা। তাই মেয়েটা আমাদের

কাছে এসেছে সাহাজ্য চাওয়ার জন্য
আরিয়ানঃ বল কাল সকালে আসতে
শাওনঃ দুস্ত মেয়েটা কেঁদে দিয়েছে। তুই আয় না। বিষয়টা দেখ।
আরিয়ানঃ আচ্ছা অপেক্ষা কর আসতেছি।
কল কেটে দিল।

আরিয়ান রেডি হয়ে বেড়িয়ে গেল। সিড়ির মধ্যেই প্রিয়ার সাথে দেখা। প্রিয়া আরিয়ান কে দেখেই আরিয়ানের কলার চেপে ধরল।

প্রিয়াঃ তুই আমার কল ধরস না কেন? আর কি শুনলাম তোর বাবা মা নাকি তোর বিয়ে ঠিক করেছে
আরিয়ানঃ দেখো প্রিয়া আমি তোমাকে সব এসে বুঝাই। এখন জরুরী কাজ আছে

প্রিয়াঃ তুই এখন বল আমি এখন শুনব
আরিয়ানঃ প্রিয়া আমি তোমাকেই ভালোবাসি এটা মাথায় রাখো। বাকিটা এসে বলব প্লিজ
প্রিয়াঃ সত্যি তো?
আরিয়ানঃ হুম কসম।

প্রিয়াঃ ওকে যাও। অপেক্ষায় থাকব আমি
আরিয়ানঃ হুম বায় এখন।
আরিয়ান কোনোরকমে বেচে অফিসে চলে আসল।
দেখল শাওন দাড়িয়ে রয়েছে।

শাওনঃ এতক্ষন লাগল আসতে
আরিয়ানঃ সে তুই বুঝবিনা। মেয়েটা কোথায় অনেক ইন্টারেস্টিং লাভ এফেক্ট।
শাওনঃ আমরাও জানি আয় এখন।

আরিয়ান মেয়েটার সামনে যেতেই মেয়েটার চেহারা দেখে হা হয়ে যায়।
এতো সঞ্জিতা। হ্যা সঞ্জিতা।
আজ থেকে প্রায় ৬/৭ বছর আগে।
তখন নবম শ্রেনিতে পড়তাম। সবেমাত্র তিন্নির কাছ

থেকে ছ্যালা খেয়েছি। ছ্যাকা খেয়ে সবসময় ছ্যাকার পোষ্ট করতাম। কথা বলতাম না গুছিয়ে। তখনি সঞ্জিতার আগমন। সঞ্জিতার সাথে কথা শুরু হলো। ইমোশনাল কথা বলতে বলতে সঞ্জিতার সাথে ভালো পরিচয় হয়ে গেছিল। একসময় পুরোপুরি ভালো বন্ধুত্ব। আস্তে আস্তে আমি সঞ্জিতার প্রতি আকৃষ্ট হই। ভালোবেসে ফেলি। প্রপোজ করার পর জানতে পারি সঞ্জিতা অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ছে। অর্থাৎ আমার থেকে চার বছরের সিনিয়র। আরেকটা সমস্যা ধর্মে খ্রীষ্টান। কিন্তু তখন দেড়ি হয়ে গেছিল। আমি সঞ্জিতাতে পুরোপুরি এডিক্টেড হয়ে গেছিলাম। সঞ্জিতাকে বুঝাতে লাগলাম। সঞ্জিতাও বুঝল। কথাবার্তা জমে গেল।

প্রেমিক প্রেমিকা আমরা। সব ঠিক ছিল। কিন্তু কখনও বুঝতেই পারিনি আসলে ফেসবুকে রিয়েল লাভ হয়না। একদিন হঠাৎ সঞ্জিতা ব্রেক আপ বলে দেয়। সেদিন অনেক কেঁদেছিলাম। অনেক বুঝিয়েছিলাম। কিন্তু বুঝেনি সঞ্জিতা কন্টাক্ট করা বন্ধ করে দেয়। ফেসবুক থেকে ব্লক। নাম্বার ব্লক। এক কথায় যোগাযোগ বন্ধ। তখন সঞ্জিতাকে পাগলের মতো ভালোবাসতাম।

এক কথায় ওরে ছাড়া কিছু বুঝতাম না। হঠাৎ ছেড়ে যাওয়ায় প্রচুর কষ্ট পাই। কয়েকবার তো সুইসাইড করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু করিনি। এই সেই সঞ্জিতা যার কারনে আমার এসএসসি পরিক্ষা খারাপ হয়।

আজ সেই সঞ্জিতা আমার সামনে দাড়িয়ে। অবশ্য এর আগে ছবিতে ছাড়া কোনোদিন দেখা হয়নি সামনাসামনি।
সঞ্জিতাও আরিয়ান কে দেখে অভাক। সোজা দৌড়ে এসে সঞ্জিতাকে জড়িয়ে ধরে।

সঞ্জিতাঃ আরিয়ান আই এম সরি সো সরি। আমি তোমাকে বুঝতে পারিনি ( কেঁদে দিয়ে)
শাওন আর তুষার অভাক হয়ে তাকিয়ে আছে
শাওনঃ আরিয়ান ওনাকে চিনিস তুই?

আরিয়ানঃ সেই সেই সঞ্জিতা মনে পড়ে।
শাওনঃ কিহ এই তোর সেই সঞ্জিতা যার জন্য তুই
আরিয়ানঃ তোরা একটু বাহিরে যাবি
শাওন আর তুষার বাহিরে চলে গেল।

আরিয়ান আর সঞ্জিতা পাশাপাশি বসে আছে।
সঞ্জিতাঃ ভাবতেও পারিনি এত বড় শহরে তোমাকে এত সহজে খুজে পাবো।
আরিয়ান চুপ করেই আছে।

সঞ্জিতাঃ কিছু বলছ না কেন? মনে আছে তুমি আমার জন্য কত পাগলামি করতা?
আরিয়ানঃ কেন ছেড়ে গিয়েছিলে?

আমি তোমাকে ওতটা ভালোবাসতে পারিনি। আমার বিশ্বাস ছিল ভারচুয়াল জগতে কিসের প্রেম ভালো বাসা এগুলা হয়না। তুমি আমার সাথে মজা করছ এসব ভেবেছিলাম। তার উপর তুমি মুসলীম আমি খ্রীষ্টান সব মিলিয়ে এগুলা মানতে পারছিলাম না। তাই আমার কাছে হারিয়ে যাওয়া ছাড়া অপশন ছিল না। যদিও তোমাকে ভূলতে পারিনি।

আরিয়ানঃ তাহলে ফিরে আসলে কেন আজ
সঞ্জিতাঃ সব স্বাভাবিক ছিল। এই তো কিছুদিন আগে

আমার বিয়ের কথা বলছিল তখনি আবার তোমার কথা মনে পড়ে যায়। সব থেকে বেশি মনে পড়তেছিল ” তোমাকে ছাড়া বাচতে পারব না। তোমার জন্য সারাজীবন অপেক্ষা করব। কখনও যদি ফিরে আসো।

আমি সাধরে গ্রহন করব। অপেক্ষায় থাকব”” জানিনা কি হলো আমার তোমার বলা প্রতিটা কথা মনে পড়তেছিল। ভালোবেসে ফেলেছি তোমাকে বুঝতে বাকি ছিল না। তাই তোমার শেষ কথা টা ভাবলাম তুমি

তো আমাকে কথা দিয়েছ যখনি ফিরব সাদরে গ্রহন করবা তার জন্যই ঢাকাতে চলে আসলাম তোমাকে খুজতে। এত সহজে তোমাকে পাব স্বপ্নেও ভাবিনি।
আরিয়ানঃ থাকো কোথায় তুমি?

সঞ্জিতাঃ এই তো কাছেই একটা বাসা নিয়েছি। ওখানেই থাকি।
আরিয়ানঃ ওহ
সঞ্জিতাঃ কি হলো তুমি আমাকে দেখে খুশি হওনি আমার দিকে তাকাচ্ছও না? আগে তো আমাকে একবার দেখার জন্য কত পাগলামি করতা।

আরিয়ানঃ চলো তোমাকে বাসায় দিয়ে আসি
সঞ্জিতাঃ নাহ আজকে তোমার সাথে টাইম স্পেন্ড করব। চলো। তুমি তো খুব করে চাইতা যে আমার সাথে কোনো এক রাতে দুজন পাশাপাশি হাটতে। চলো আজকে

আরিয়ানঃ না সঞ্জিতা। আজ পারব না। ভালো লাগছেনা। আজকে বাসায় চলে যাও। অন্যদিন হাটব।
সঞ্জিতা বুঝতে পারল ব্যাপারটা। আসলে হঠাৎ আরিয়ান যে সঞ্জিতা কে দেখে মানসিক ভাবে ঠিক নেই।

সঞ্জিতাঃ আচ্ছা ঠিক আছে। আমি চলে যাচ্ছি এখন। কাল দেখা হবে তাহলে
আরিয়ানঃ চলো রিকশায় উঠিয়ে দিয়ে আসি
সঞ্জিতাঃ লাগবে না আমি যেতে পারব।

সঞ্জিতা অফিস থেকে বেড়িয়ে চলে গেল।
আরিয়ানের চোখ থেকে পানি বেড়িয়ে গেল।
শাওন আর তুষার পাশে এসে বসল। আরিয়ানের হাত ধরল।

তুষারঃ দুস্ত কাদিস না। আমরা জানি তুই কত টা কষ্ট পেয়ে সঞ্জিতাকে ভূলেছিলি।
আরিয়ানঃ বিশ্বাস কর বন্ধু। ওরে খুব ভালোবাসতাম। এমন ভাবে ৬/৭ বছর পর ফিরে আসবে কল্পনাও করতে পারিনি।

শাওনঃ এখন কি করবি?
আরিয়ানঃ নিজেও জানিনা কি করব। বরং আমি সঞ্জিতাকে কথা দিয়েছিলাম যে তোমার জন্য আজীবন অপেক্ষা করব। যেভাবেই তুমি ফিরো না কেন আমি তোমাকে সাধরে গ্রহন করব। প্রায় বছর ৪ ওর জন্য

অপেক্ষা করেছি ফিরে আসেনি। কল্পনার বাহিরেই ছিল আজ ৭ বছর পর এভাবে ফিরে আসবে।
শাওনঃএজন্যই ফেসবুক রিলেশন করা ভালো না। এগুলা জীবনের অনেক ক্ষতি করে দেয়। খালি ধোকা ধোকা আর ধোকা।

তুষারঃ যার সাথে ঘটে সেই বুঝে মজা। যাহোক বন্ধু তুই নিজেকে সামলা এখন তো তোরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে কি করবি।

শাওনঃ আমাদের সংগঠন থেকে এটা প্রচার করব যে কেউ যাতে এইসব ফেসবুক প্রেম না করে। জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। আপনারা এটা থেকে শিক্ষা গ্রহন করুন।

আরিয়ানঃ চুপ কর না ভাই। ভালো লাগছেনা।

রাতে আরিয়ান বাসায় ফিরল।
রুমে গিয়েই বিছানায় শুয়ে পড়ল। মিথিলা চলে আসল রুমে,

মিথিলাঃ এত দেরি করে ফিরলি কেন
আরিয়ানঃ আজকে প্লিজ বক বক করোনা ভালো লাগছেনা। আমাকে একটু একা থাকতে দাও
মিথিলাঃ কি হয়েছে তোর?

আরিয়ানঃ আমার কি হয়েছে তোর জানতে হবে? বলছি না ভালো লাগছে না যা এখান থেকে যা ( রেগে উচ্চস্বরে)

মিথিলা ভয় পেয়ে গেল। কিছু না বলে চলে গেল।
আরিয়ান ভাবতে লাগল।

এখন আমি কি করব? একদিকে আমার দেওয়া কথা। সঞ্জিতার কাছে অঙিকার করেছিলাম। এদিকে বাবা মা নিলার সাথে বিয়ে ঠিক করে রেখেছে। ওদিকে সাদিয়া আর প্রিয়া। কাকে বেছে নিব?

লেখা – আরিয়ান সুমন

চলবে

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “এক্স বয়ফ্রেন্ড – জ্বালাময়ী প্রেমের গল্প” গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ। )

আরো পড়ূন – এক্স বয়ফ্রেণ্ডের কাহিনী (২য় খণ্ড) – জ্বালাময়ী প্রেমের গল্প

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!