ব্রেকাপ গল্প

এক্স বয়ফ্রেণ্ডের কাহিনী (২য় খণ্ড) – জ্বালাময়ী প্রেমের গল্প

এক্স বয়ফ্রেণ্ডের কাহিনী (২য় খণ্ড) – জ্বালাময়ী প্রেমের গল্প: ইচ্ছে করছে দুইটারেই থাপ্পর দিয়া পানিতে ফেলে দেই। ওই বেটা আমি যদি পল্টি না নিয়া পপিকে পাম না দিতাম তাহলে এখন ছাড়া পাইতি নাকি? আর আমাদের বাবা মায়ের কাছে আমাদের যেই ইজ্জত জীবনেও আসবেনা ছাড়াইতে উল্টা বলবে ঘরের ইদুর একটা কমছে।


পর্ব ৬

এখন আমি কি করব? একদিকে আমার দেওয়া কথা। সঞ্জিতার কাছে অঙিকার করেছিলাম। এদিকে বাবা মা নিলার সাথে বিয়ে ঠিক করে রেখেছে। ওদিকে সাদিয়া আর প্রিয়া। কাকে বেছে নিব?
এমন সময় প্রিয়ার কল। আরিয়ান রিসিভ করল।

প্রিয়াঃ এই তোর কল দেওয়া।
আরিয়ানঃ ওহ শিট। সরি ভূলেই গেছিলাম।
প্রিয়াঃ তুই তো ভূলেই যাইবি।

আরিয়ানঃ আহ সরি বাবু সো সরি।
প্রিয়াঃ তোর সরির গুষ্ঠি কিলাই। যলদি বাসার ছাদে আয়।
আরিয়ানঃ এত রাতে।
প্রিয়াঃ তোকে আসতে বলছি সময় দু মিনিট।
বলেই প্রিয়া ফোন কেটে দিল।

আরিয়ান ও আর শুয়ে থাকল না এক লাফে উঠে ছাদে চলে গেল।
গিয়ে দেখল ছাদের কিনারায় কেউ দাঁড়িয়ে ফোন টিপতেছে। বুঝতে বাকি নাই যে এটা প্রিয়া।
তাই আরিয়ান প্রিয়ার রাগ ভাঙানোর জন্য পেছন থেকে গিয়ে জরিয়ে ধরল।
সাথে সাথেই প্রিয়া ছাড়িয়ে নিয়ে দিল এক থাপ্পড়।

আরিয়ান গালে হাত দিয়ে প্রিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে।
প্রিয়াঃ তোর সাহস কি করে হয় আমাকে জড়িয়ে ধরার। আমি তোকে অনুমতি দিছি আমাকে ধরার?
আরিয়ানঃ সরি।
প্রিয়াঃ তোর সরি তোর কাছেই রাখ। আমি চললাম।
প্রিয়া হাটা ধরল। আরিয়ান প্রিয়ার হাত ধরে ফেলল।
আরিয়ানঃ সরি বললাম তো।
প্রিয়া কিছু না বলেই হাত ছাড়িয়ে নিয়ে সোজা চলে গেল।
আরিয়ান প্রিয়ার দিকে তাকিয়েই থাকল।

যে পারছে আমাকে বাজিয়ে দিয়ে চলে যাচ্ছে। আমার কি দোষ? নিলার সাথে ব্রেক আপ হইছে। নিলাকে সহ্য হচ্ছিল না তাই তো সাদিয়া কে প্রপোজ করেছিলাম। না করে দিল। একদমই না না। তারপর পছন্দ করলাম প্রিয়াকে। প্রিয়াকে পটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম।

তখনি সাদিয়া ফিরে এসে প্রপোজ করে বসল হুমকি দিল। এর মধ্যেই আবার প্রিয়াও প্রপোজ করে বসল আমার বলার আগেই। আমি নিজে পাকনামি কইরা নিলাকে ফাসাইতে গিয়ে নিলাই আমাকে ফাসাইতে বিয়ে ঠিক করে ফেলল। আজ আবার সঞ্জিতা যার কথা ভূলেই গেছিলাম প্রায় সেও হাজির। আবার মিথিলা তো আছেই। বাহ বাহ কপাল যে শুনবে সেই বলবে আমার থেকে লাকি কেউ নাই। কিন্তু আমার যে কি পরিমান ফাটছে তা বুঝার কেউ না। এখন আমি কি করব? ( আরিয়ান মনে মনে)

পরদিন আরিয়ান রেডি হয়ে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে বেড় হলো। রাস্তায় আসতেই চোখ কপালে উঠে যাবার মতো অবস্থা।
কারন সঞ্জিতা। সঞ্জিতা দাঁড়িয়ে রয়েছে।
সঞ্জিতা আরিয়ান কে দেখেই। আরিয়ানের কাছে চলে আসল।

সঞ্জিতাঃ উফস এত দেরি তোমার। তোমার জন্য সেই কখন থেকে অপেক্ষা করছি
আরিয়ানঃ তুমি আমার বাসা চিনলে কিভাবে?
সঞ্জিতাঃ আরে তোমাকে চিনেনা এখানে কেউ নাই। নাম বলতেই সবাই বাসা চিনিয়ে দিল। সংগঠন তোমার অনেক ফ্যামাস বুঝাই যাচ্ছে।

আরিয়ানঃ তো কেন এসেছ?
সঞ্জিতাঃ কেন এসেছি মানে। আজকে আমরা ঘুরব সারাদিন।
আরিয়ানঃ আমার ক্লাস আছে

সঞ্জিতাঃ আজ যেতে হবেনা ক্লাসে
আরিয়ানঃ কিন্তু আমার ইম্পরট্যান্ট ক্লাস আছে
সঞ্জিতাঃ তুমি বলতা না যে তুমি আমার জন্য পৃথিবীর সব ছেড়ে দিতে পারবা। তাহলে আজ ক্লাস টা ছাড়তে পারছ না।
আরিয়ানঃ আসলে

সঞ্জিতাঃ আসল নকল বুঝিনা আজ তুমি আমার সাথে ঘুরবা এটাই শেষ কথা।
সঞ্জিতা রিকশা ডাক দিল। সঞ্জিতা উঠে বসল।
সঞ্জিতাঃ কি হলো উঠো

আরিয়ানঃ এখন যদি ওরে এসব বলতে যাই প্রচুর কষ্ট পাবে। আমি চাইনা আমার ভালোবাসার মানুষটা কষ্ট পাক। তার থেকে ভালো কিছুদিন যাক। তারপর বুঝিয়ে বলব সব। আশা করি বুঝবে ( মনে মনে)
আরিয়ান রিকশায় চড়ে বসল।

রিকশা একটা নিড়িবিলি জায়গায় এসে থামালো।
তারপর হারিয়ে গেল অজানায় দুজন।
আরিয়ানের কাধে সঞ্জিতা মাথা দিয়ে বসে আছে।
সঞ্জিতাঃ মনে পড়ে আরিয়ান তুমি আমাকে বলতা বিয়ের পর এভাবেই আমি তোমার কাধে মাথা রাখব। তারপর নীল আকাশ দেখব।

আরিয়ানঃ হুম। তা কি ভূলা যাবে
সঞ্জিতাঃ কত রোমান্টিক চ্যাটিং করতাম আমরা হাহাহা ভাবতেই আমি একা হেসে দিতাম।
আরিয়ানঃ তুমি কিন্তু আগের থেকেও আরো সুন্দর হয়ে গেছ
সঞ্জিতাঃ ধুর পাগল কি বলো

আরিয়ানঃ সত্যি বলছি।
খুনশুটি তে দুপুর হয়ে গেল।
দুপুর বেলা দুজন রেষ্টুরেন্টে খাইতে গেল।খাবার অর্ডার হলো। খাবার আসল।
সঞ্জিতাঃ আজ কিন্তু আমি তোমাকে খাইয়ে দিব
আরিয়ানঃ কি বলছ

সঞ্জিতাঃ এটা তোমার ড্রিম ছিল। মনে পড়ে বারবার বলতা রাজি হয়ে যাও বিয়ে করে ফেলি তারপর প্রতিদিন তোমার হাতে খাব। তখন তোমার কথাগুলো শুনে শুধু হাসতাম।
আরিয়ান সঞ্জিতার দিকে তাকিয়ে আছে
পুরান সব ওর মনে আছে দেখছি। তার মানে আমি একাই এসব স্মৃতি আগলাইয়া রাখিনি সঞ্জিতাও রেখেছে। ( আরিয়ান মনে মনে)

সঞ্জিতাঃ কি হলো কি ভাবছ?
সঞ্জিতার কথা শুনে আরিয়ানের ভাবনা ভাঙল।
আরিয়ানঃ না কিছুনা
সঞ্জিতাঃ তুমি এটাই তো ভাবছ যে আমি এসব মনে রেখেছি কিভাবে? আসলে তোমার প্রতিটা স্মৃতিই আমি মনে রেখেছি। আচ্ছা হা করো আমি খাইয়ে দিচ্ছি।
আরিয়ান হা করল। সঞ্জিতা আরিয়ান কে খাইয়ে দিল।

আরিয়ানঃ কখনও কল্পনাও করতে পারিনি তুমি একদিন আসলেই আমাকে খাইয়ে দিবা। আসলেই আমি খুব লাকি। কিন্তু সঞ্জিতা তুমি ভূল সময়ে ফিরে এসেছ। জানিনা সব জানার পর তোমার রিয়েকশন কি হবে। কিন্তু এইটুকু সিউর এখন আমার জীবনে কেউ না থাকলে তোমাকে আমি বিয়ে করতে এক মিনিট ও দেরি করতাম না( মনে মনে)
সঞ্জিতা আরিয়ান কে খাইয়ে দিচ্ছে।

রেষ্টুরেন্ট এর অন্য লোকেরা দেখে তাকিয়ে আছে।
এমন সময় আরিয়ানের ফোনে কল দিল শাওন। রিসিভ করল
আরিয়ানঃ হ্যা বল
শাওনঃ যলদি ভার্সিটির পাশের হাসপাতালে চলে আয়।
আরিয়ানঃ কেন কি হয়েছে।

শাওনঃ আসলেই দেখতে পারবি। যলদি আয়। তুই আসলেই সব ঠিক হবে। নাহলে অবস্থা খারাপ হতে পারে। যলদি আয়
আরিয়ানঃ আচ্ছা আসতেছি।
ফোন কেটে দিল।
সঞ্জিতাঃ কি হয়েছে?

আরিয়ানঃ জানিনা শাওন আমাকে যলদি হাসপাতাল যেতে বলেছে
সঞ্জিতাঃ ওহ চলো আমিও যাই।
আরিয়ানঃ না থাক তোমার যেতে হবেনা। তুমি বাসায় চলে যাও।
সঞ্জিতাঃ আচ্ছা ঠিক আছে।

আরিয়ান যলদি রেষ্টুরেন্ট বিল দিয়ে। সঞ্জিতাকে রিকশায় উঠিয়ে দিল। তারপর নিজে রিকশা নিয়ে হাসপাতাল চলে আসে।
ভিতরে ইমারজেন্সি তে যেতেই আরিয়ান শাওন কে দেখতে পেলো। সাথে আরো কয়েকটা মেয়ে। যাদের কে সাদিয়ার সাথে দেখত।

আরিয়ানঃ কার কি হয়েছে?
শাওনঃ তার আগে বল সাদিয়াকে আজ তোর কোনো কিছুর উত্তর দেওয়ার কথা ছিল।
আরিয়ানঃ হুম।
শাওনঃ তো বলিস নি কেন? তার জন্যই সাদিয়া বিষ খেয়ে সুইসাইড করার চেষ্টা করেছে।
আরিয়ানঃ কিহহহ

শাওনঃ হুম দেখে আয় এখনও জ্ঞান ফিরেনি।
আরিয়ান ইমার্জেন্সি কেবিনে ওকি দিয়ে দেখল। আসলেই তো সাদিয়া।
শাওনঃ ভাগ্যেস মরে নাই। মরে গেলে তুই ফেসে যেতি
আরিয়ানঃ জানিনা

আরিয়ান বসে পড়ল।
ভাবতে পারছেনা এখন ঠিক কি করবে। কাকে কিভাবে সামলাবে। এমন সমস্যা কাউকেই কোনো কিছু বলে সামলানো যাবেনা। একেকজন পুরা ফর্মে আছে। কাকে বেছে নিব ( আরিয়ান মনে মনে)
এমন সময় ডাক্তার এসে বলল

ডাক্তারঃ প্রেসেন্ট এখন পুরোপুরি সুস্থ্য। আপনারা চাইলে দেখা করতে পারেন। আর হ্যা বাসাতেও নিয়ে যেতে পারেন।
সবাই ভিষন খুশি হলো শুনে। সবাই ভিতরে চলে গেল দেখা করতে।
আরিয়ান যেতেই সাদিয়া সবাইকে বেড়িয়ে যেতে বলল। আরিয়ান সাদিয়ার পাশে বসল,
সাদিয়াঃ এখন তো আশা করি কোনো সন্ধেহ নেই আমি তোমাকে ভালোবাসি

আরিয়ানঃ কাজ টা কি ঠিক হয়েছে?
সাদিয়াঃ হুম। আমি বলেছিলাম না দুদিন সময় দিলাম। উত্তর হ্যা নাহলে খুব খারাপ কিছু হয়ে যাবে
আরিয়ানঃ পাগল তুমি? তার জন্য এমন কেউ করে। যদি মারা যেতে
সাদিয়াঃ মরলে মরতাম। তোমাকে না পাওয়ার থেকে মরে যাওয়াই ভালো।

আরিয়ানঃ এত ভালোবাসো আমাকে?
সাদিয়াঃ হুম প্রচুর।
আরিয়ানঃ আচ্ছা চলো তোমাকে বাসায় দিয়ে আসি। কাল উত্তর দিব নে আমি।
সাদিয়াঃ উত্তর কিন্তু হ্যা হওয়া চাই।

আরিয়ানঃ আচ্ছা ঠিক আছে।
সাদিয়াকে নিয়ে আরিয়ান বেড় হলো। তারপর সাদিয়াকে বাসায় পৌছে দিয়ে আসল।
বিকালে অফিসে বসে আছে। আরিয়ান প্রচুর চিন্তিত।
শাওনঃ এত কি ভাবছিস?
.
আরিয়ানঃ কি করব এখন আমি? একদিকে নিলার সাথে বিয়ে। মিথিলা আবার হুমকি দিছে নিলাকে বিয়ে করলে কুরুক্ষেত্র বানিয়ে ফেলবে। এখানে সাদিয়া আমার জন্য আত্বহত্যা করতেছিল। আবার সঞ্জিতা আমার জন্য টাঙাইল থেকে চলে এসেছে ওর প্রতি আবার দুর্বল প্রচুর। আবার আমার ক্রাশ প্রিয়া তো আছেই। যদিও সে সাময়িক রেগে আছে। রাগ ভাঙতেই তো আবার ফিরবে। কাকে রেখে কাকে বাছব আমি? তোরাই বল

শাওনঃ তুই তলে তলে প্রিয়ার সাথেও চক্কর চালাচ্ছিলি? আর আমাদের বলছত সংগঠনের নিয়ম প্রেম করা যাবেনা।
আরিয়ানঃ আমি করতে চাইনাই। আমাকে বাধ্য করেছিল।
তুষারঃ আমি এখন একটাই কথা ভাবতেছি?
শাওনঃ কি?

তুষারঃ ওর যেভাবে একের পর এক গালফ্রেন্ড ব্যাক করল। কবে জানি ওর ক্লাস সেভেনের ক্রাশ তিন্নি এসে বলে আরিয়ান আমিও এখন তোমাকে ভালোবাসি। তোমাকে ছাড়া বাঁঁচব না।
শাওনঃ সত্যিই তো হইতেও পারে

আরিয়ানঃ আমি বিপদে আছি আর তোরা মজা নিচ্ছিস। আর আরেক মহারানী নিলা যে কোথায় আছে কে জানে। সব সমস্যার মূলে নিলা। যদি ব্রেক আপ না করত। আমার এই সংগঠন খোলাও হতোনা এত জামেলাও কাধে আসত না ইচ্ছে করছে বালডারে খুন কইরা ফেলি

শাওনঃ তখন আবার আদালত আর জেল তোমার ঠিকানা হবে।
অনেক রাতে বাসায় ফিরল আরিয়ান,
এসে মোবাইল হাতে নিতেই দেখে বন্ধ। অন করল। মিসড কল এলার্ট অন ছিল। মোবাইল অন করতেই দেখে সাদিয়ার ৫৫ টা মিসড কল। সঞ্জিতার ১৩৫ টা মিসড কল।

তখনি মিথিলা এসে আরিয়ানের সামনে দাড়ালো। রাগে কটমট করতেছে। মনে হলো আরিয়ান কে খেয়েই ফেলবে
আরিয়ানঃ কি হলো এভাবে তাকিয়ে আছ কেন?
মিথিলাঃ সকালের মেয়েটা কে ছিল?
আরিয়ানঃ কে

মিথিলাঃ কে মানে রাস্তায় দাঁড়িয়ে কার সাথে কথা বলছিলি?
আরিয়ানঃ উফস এখন আবার এর প্যারা। সঞ্জিতাকে দেখে ফেলছে( মনে মনে)
মিথিলাঃ কি হলো বলছিস না কেন?

আরিয়ানঃ ওনি আমার ভার্সিটির বড় বোন। এমনি অনেকদিন পর দেখা হয়েছে তাই কথা বলেছি
মিথিলাঃ আচ্ছা তা মানলাম রিকশায় কেন একসাথে গেলি?
আরিয়ানঃ উফস বড় আপুর সাথে রিকশায় যেতেই পারি তাতেও সন্ধেহ
মিথিলাঃ সত্যি বলছিস তো?

আরিয়ানঃ হুম কসম
মিথিলাঃ ওকে এবার ঘুমা
মিথিলা চলে গেল।
আরিয়ান আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। পরে গেল বিছানায়

অফিসে একাই বসে আছে আরিয়ান। হঠাৎ কেউ একজন বললঃ আসতে পারি কি?
আরিয়ানঃ হ্যা আসুন।
মেয়েটি ভিতরে আসতেই আরিয়ান দাঁড়িয়ে গেল। এ আর কেউ নয় তিন্নি।
আরিয়ানঃ তি তি তি তিন্নি তুমি এখানে

তিন্নিঃ বাহ তুমি দেখি আমাকে এখনও প্রচুর ভালোবাসো।
তিন্নি সোজা এসে আরিয়ানের হাত ধরল।
তিন্নিঃ আরিয়ান তোমাকে অনেক অপমান করেছি তাই না। আমি চাই এখন তোমাকে ভালোবাসে তোমাকে যত অপমান করেছি তার সব ক্ষত পরিষ্কার করে দিতে। i love you Arian I love you so much..
আরিয়ানঃ নাহহহহহহহহহ

আরিয়ান আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। অজ্ঞান হয়ে গেল।
তিন্নিঃ আরিয়ান তোমাকে অনেক অপমান করেছি তাই না। আমি চাই এখন তোমাকে ভালোবাসে তোমাকে যত অপমান করেছি তার সব ক্ষত পরিষ্কার করে দিতে। i love you Arian I love you so much..
আরিয়ানঃ নাহহহহহহহহহ

আরিয়ান আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। অজ্ঞান হয়ে গেল।
আরিয়ান ও লাফ দিয়ে ঘুম থেকে উঠে গেল।
আরিয়ানঃ এ কি দেখলাম আমি? তিন্নি ফিরে এসেছে?না এ চাইনা আমি
পরে চারদিকে তাকিয়ে দেখে নিজের রুমেই আছে। হাফ ছেড়ে বাচে।

আরিয়ানঃ আল্লাহ গো ও আল্লাহ তুমি এসব কি দেখাচ্ছ আমাকে? এমনিতেই নিলা,মিথিলা, সঞ্জিতা, প্রিয়া, সাদিয়া অলরেডি বারোটা বাজাইয়া দিচ্ছে। এখন যদি তিন্নি আসে আমি শেষ। হায় আল্লাহ ভোর বেলা স্বপ্ন দেখছি। ভোরের স্বপ্ন নাকি সত্যি হয়। আল্লাহ ভূলেও এ কাজ করোনা। আমার চাইনা আর গালফ্রেন্ড। আর লাগব না।
এমন সময় মিথিলা রুমে চলে আসল। এসেই,

মিথিলাঃ ওম্মা সূর্য কোনদিকে উঠেছে। তুই এত যলদি উঠে গেলি
আরিয়ান মিথিলার দিকে তাকিয়ে আছে।
আরিয়ানঃ বাহিরেও শান্তি নাই। ঘরেও শান্তি নাই। বাহিরে গেলে কেউ না কেউ আইসা জ্বালায়। আর ঘরে আসলে এই একটায়। উফস এসব থেকে বাচুম কেমনে? ( মনে মনে)

মিথিলাঃ কিরে এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন?
আরিয়ান উঠে দাড়ালো। মিথিলার কাছাকাছি গেল। মিথিলা লজ্জায় মুখ টা নিচু করে নিল।
মিথিলাঃ কি হয়েছে
আরিয়ানঃ তোমাকে অনেক সুন্দর লাগছে।

মিথিলাঃ উম। এতদিনে তোর চোখে পড়ল।
আরিয়ানঃ তোর বাবাকে বলনা গ্রামের একটা ছেলে দেখে বিয়ে করিয়ে দিতে।
বলেই আরিয়ান আর দাড়িয়ে থাকল না। সোজা দৌড়ে ওয়াশরুমে চলে গেল।
মিথিলা রাগে ফুসফুস করতে লাগল।

মিথিলা দরজার কাছে গিয়ে দুইটা লাথি দিল।
মিথিলাঃ তোকে আমি দেখে নিব।
আরিয়ানঃ দেখিও দেখিও এখন কাম করতে দাও।
মিথিলা রাগে গজগজ করতে করতে চলে গেল।

আরিয়ান ফ্রেশ হয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে বাসা থেকে বেড়িয়ে গেল।
অন্যদিকে ভার্সিটি ক্যান্টিনে শাওন আর তুষার বসে আছে।
তুষারঃ কিরে তোকে দেখে মনে হচ্ছে মন খারাপ
শাওন কিছু বলছেনা।

এর মধ্যেই আরিয়ান এসে জয়েন করল।
আরিয়ানঃ কিরে কেমন আছিস
তুষারঃ আমি ভালো তবে শাওনের কিছু হয়েছে মনে হয়।
আরিয়ানঃ কিরে তোর আবার কি হয়েছে। কার সাথে পাকনামি করতে গিয়া থাপ্পড় খাইছিস। কতবার বলছি ফাজলামি করা বাদ দে

শাওন তবুও কিছু বলছেনা।
আরিয়ানঃ তোরে হাসিখুশি ছাড়া ভালো লাগেনা। এভাবে মন খারাপে একদম তোকে মানায় না। বল না ভাই কি হয়েছে?
শাওনঃ পপি হুমকি দিছে
আরিয়ান আর তুষার একসাথেঃ কিহহহ

শাওনঃ হুম
আরিয়ানঃ কি বলছে খালি একবার বল? আমি দেখে নিব বাকিটা
শাওনঃ তোমাদের দেখতে হবেনা। মেয়ে আমাকে দেখে নিবে বলছে
তুষারঃ কি হয়েছে খুলে বলবি তো
শাওনঃ আরে ভার্সিটি আসলাম। হঠাৎ পথ আটকে দাড়ালো পপি।
ব্যাক টু অতিত,

শাওনঃ কি হয়েছে পথ আটকেছ কেন? ;
পপিঃ খুব ভাব তোমার তাই না।
শাওনঃ সিনিয়র দের সাথে কিভাবে বলতে হয় জানো না?

পপিঃ আরে ধ্যাত রাখ তোমার সিনিয়র গিরি। আগে বল আমাকে ভালোবাসবি কবে
শাওনঃ কখনই না।
পপিঃ আমি কে তুই তো জানিস না? আমার বাবা এই এলাকার ওসি।
শাওনঃ সে ওসি হোক আর যাইহোক আমার কি

পপিঃ তোকে জাস্ট দুদিন সময় দিলাম। এর মধ্যে তুই এসে আমাকে প্রপোজ করবি এবং আমরা রিলেশনে যাব।
শাওনঃ জীবনেও যাব না।
পপিঃ তাহলে তোকে আমি নারী নির্যাতনের মামলায় থানায় ভরে দিব। জানিস তো আমি কে ওসি মেয়ে। এখন বায়।
ব্যাক ইন বর্তমান।

শাওনঃ এখন বল কি করমু?
আরিয়ানঃ অ অ্যা ই উ
শাওনঃ এসব কি বলস?

আরিয়ানঃ ভাই তোর আর আমার তো একই বিপদ। আয় বুকে জড়াইয়া কাদি। যদিও তোকে একজন দিছে। একসেপ্ট করলেই সমস্যা শেষ। আর আমার তো যেই লম্বা লাইন। ভাই আয় কান্দি।

যাহোক আরিয়ান ক্লাস করে বেড় হতেই সাদিয়া এসে সামনে দাড়ালো। সাদিয়া আরিয়ানের হাত ধরে ফাকা জায়গায় নিয়ে গেল।
আরিয়ানঃ কি হলো এভাবে কেন আনলা
সাদিয়াঃ আজকে কিছু বলার কথা ছিল তোমার?

আরিয়ানঃ আরে আজকে অন্তত বাসায় রেষ্ট নিতা। ভার্সিটি তে আসলা কেন
সাদিয়াঃ তোরে আমি এসব জিগাইতে কইছি?
আরিয়ানঃ তো

সাদিয়াঃ আমার রিপ্লাই কোথায়?
আরিয়ানঃ নাই
সাদিয়াঃ নাই মানে

এমন সময়েই মাজখানে নিলা এসে হাজির।
নিলাঃ কি হচ্ছে এখানে
আরিয়ানঃ তুমি এখানে
সাদিয়াঃ আমরা পারসোনাল কথা বলতেছি। তুই এখান থেকে এখন যাহ
নিলাঃ তোর আমার হবু জামাইর সাথে কিসের কথা?

সাদিয়াঃ হবু জামাই মানে
নিলাঃ জামাই মানে জামাই। তুই জানিস না ও আমার হবু বর। বিয়ে ঠিক ওর সাথে আমার।
সাদিয়াঃ আরিয়ান কি বলছে এসব
আরিয়ানঃ আমি কিছু জানিনা এসব

নিলাঃ এ তুই জানিস না মানে কি বললি? কি বললি তুই?
বলেই নিলা ঠাসস করে থাপ্পর দিয়ে বসল আরিয়ান কে।
সাদিয়াঃ এ তোর সাহস কি করে হয় আমার বয়ফ্রেন্ড কে থাপ্পর মারার।

নিলাঃ আমি আমার বর কে কি করমু তোকে জিগামু আমি।
সাদিয়াও ঠাসসস করে নিলাকে থাপ্পর দিয়ে বসল।
নিলাঃ কিহ তোর এত কলিজা তুই আমাকে থাপ্পর মারলি।
সাথে সাথেই নিলাও সাদিয়াকে থাপ্পর দিয়ে বসল।

আরিয়ান এক গালে হাত দিয়ে ওদের কাহিনি দেখতেছে।
সাদিয়াঃ ও আমাকে থাপ্পর দিল তুমি কিছু বললা না আরিয়ান?
আরিয়ানঃ আমি কি বলব?
নিলাঃ হ্যা ও কি বলবে।

সাদিয়া ঠাসস করে আরিয়ান কে থাপ্পর দিয়ে চলে গেল।
নিলাও বাদ দিল না থাপ্পর দিয়ে বসল।
নিলাঃ আর যদি কোনো মেয়ের সাথে দেখছি তোর হাত পা আমি ভেঙে ফেলব।
নিলাও চলে গেল।

আরিয়ান দুই গালে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
আরিয়ানঃ নাহ নাহ আর সহ্য করা যাচ্ছেনা। আজকেই সংগঠনের বারোটা বাজাইতে হবে। এই সংগঠনের জন্যই আজ এত সমস্যা। আর নেওয়া যাচ্ছেনা। আর পারুম না। উফস গাল টা লাল করে দিল।
আরিয়ান রেগে অফিস চলে গেল। গিয়ে কাউকে কিছু না বলেই ভাঙচুর শুরু করল।

শাওন আর তুষার কোনোভাবে আরিয়ান কে থামালো।
বসালো।
শাওনঃ কি হয়েছে তোর?
আরিয়ানঃ কি হয়নি বল।
শাওনঃ কি

আরিয়ানঃ সব খুলে বলল
তুষারঃ ওহ এজন্যই তোর গাল লাল। ইশ কি থাপ্পর গুলো দিছে।
আরিয়ানঃ রাখব না আর এই সংগঠন। ভেঙে তছনছ করে দিব। যত জামেলা এই সংগঠন বাধাইছে।
তুষারঃ সংগঠনে তোকে কি করল?

আরিয়ানঃ এই টা জন্যই তো সাদিয়াকে ইমপ্রেস হইয়া পেছন লাগছে। তারপর সঞ্জিতা আমাকে খুজতে এসে ইজিলি পাইয়া গেছে। প্রিয়াও ইমপ্রেস এইটার জন্যই হইছে। এইটা না করলেই হতো। এত জামেলা আসত না
এমন সময়ই আরিয়ানের নাম্বারে কল আসল। কেটে দিল আরিয়ান। আবার আসল। রিসিভ করল।
আরিয়ানঃ কেরে ভাই তুই জ্বালাইস না তো এখন ( রাগান্বিত ভাবে)
~ আমি প্রিয়া বলছি

প্রিয়া নামটা শুনতেই আরিয়ান ঠান্ডা হয়ে গেল। রাগ কমাল। সুন্দর করে বলল
আরিয়ানঃ ওহ সরি সরি। বলো প্রিয়া
প্রিয়াঃ তুই আমার সাথে রেগে কথা বলেছিস? দুদিন না যেতেই এভাবে কথা বলিস। সামনে যে কি করবি
আরিয়ানঃ আরে না নাহ প্রিয়া। আসলে অনেক ক্ষন ধরে একজন ডিস্টার্ব করছিল। তাকে মনে করেই ভূলে বলে ফেলেছি সরি।

প্রিয়াঃ যাও মাফ করলাম। আচ্ছা শুনো কেন ফোন দিয়েছি
আরিয়ানঃ হ্যা বলো বলো
প্রিয়াঃ আমি একটা এড্রেস টেক্সট করে দিচ্ছি। ওখানেই আমি আছি। এসে দেখা করো যলদি
আরিয়ানঃ ওকে পাঠাও আমি আসতেছি।
ফোন কেটে দিল।

আরিয়ানঃ আমি চললাম তোর থাক
শাওনঃ চললাম মানে কি? তুই বলছস প্রেম করা যাবেনা। আর এখন তুই প্রেম করতে চলে যাচ্ছিস।
আরিয়ানঃ আজ থেকে তোরাও করিস। আর সংগঠনের সবাইকেও বলে দিস। প্রথম রুলস ক্লোজ। প্রেম করা যাবে।
বলেই আরিয়ান চলে আসল।

তুষারঃ কি হচ্ছে কিছুই বুঝতেছিনা। আসলে এই সংগঠনের কাজ কি তাই বুঝতেছিনা
শাওনঃ ধ্যাত শালার আমি শুধু শুধু পপিকে রিজেক্ট করলাম।
এমন সময় হাবিবের আগমন ঘটল।

হাবিবঃ হাই বন্ধুরা
তুষারঃ আসছে আরেক আবুল।
শাওনঃ তুই কয়দিন পর পর কোথা থেকে আবিষ্কার হস?
হাবিবঃ দেখ কাকে নিয়ে এসেছি। তিশা কাম ইন

একটা মেয়ে ভিতরে আসল। শাওন আর তুষার হা হয়ে আছে।
শাওনঃ কে এটা
হাবিবঃ মাই গালফ্রেন্ড এই সেই তিশা। ওরে পটানোর জন্যই তো বাসায় ছিলাম। তাই তোরা দেখিস নাই।
তুষারঃ এই সেই আন্টির ভাতিজি
হাবিবঃ ওই বেটা কি বলিস।

শাওনঃ যাক। তো তুই ওনাকে নিয়ে এখানে কেন এসেছিস?
হাবিবঃ না মানে সংগঠনে থাকলে তো প্রেম করা যাবেনা। তাই আমি সংগঠন থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করলাম।
শাওনঃ সে প্রত্যাহার করা লাগবে না।
তুষারঃ প্রথম রুলস প্রেম করা যাবেনা তা উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। সবাই স্বাধিন ভাবে প্রেম করতে পারবে। কোনো সমস্যা নাই।

অন্যদিকে আরিয়ান চলে গেল প্রিয়ার এড্রেস দেওয়া জায়গায়। রেষ্টুরেন্টে
গিয়ে দেখল প্রিয়া আগে থেকেই বসা ছিল।
প্রিয়াঃ হাই

আরিয়ানঃ হেলো
আরিয়ান বসল।
নিলাঃ আসলে কালকের জন্য সরি। তোমাকে থাপ্পড় দিয়ে কাজ টা ঠিক করিনি
আরিয়ানঃ না ঠিক আছে। কোনো ব্যাপার না

প্রিয়াঃ না আসলেই কালকে থাপ্পর দেওয়া ঠিক হয়নি। তুমি তো আমাকে ছুতেই পারো। আমিও বেশি বাড়াবাড়ি করে ফেলছি। সো সরি
আরিয়ানঃ দূর বাদ দাও। কি খাবা বলো
প্রিয়াঃ এজন্যই তো তোমাকে ভালোবাসি। তোমার মন টা অনেক ফ্রেশ। আজকে তুমিই অর্ডার দাও তোমার পছন্দের খাবার খাব।

আরিয়ান খাবার অর্ডার করল। কিছুক্ষনের মধ্যেই খাবার চলে আসল।
খাওয়া ধাওয়া শুরু হলো।
হঠাৎ পাশ থেকে একজন
~ আরিয়ান তুমি?

আরিয়ান পাশে তাকিয়ে দেখে সঞ্জিতা দাঁড়িয়ে রয়েছে। আরিয়ান সোজা দাঁড়িয়ে গেল।
আরিয়ানঃ আর আসার জায়গা পাইলা না। এখানেই আসতে হলো ( মনে মনে)
সঞ্জিতাঃ কি হলো অভাক হইলা মনে হচ্ছে?
প্রিয়াঃ ওনি কে আরিয়ান?
সঞ্জিতাঃ আপনি কে?

আরিয়ানঃ ওয়েট ওয়েট। সঞ্জিতা তুমি এখানে বসো। আমি একটু ওয়াশরুম থেকে আসতেছি।
আরিয়ান ওয়াশরুমে চলে আসল। চোখে মুখে পানি দিল। কথায় আছেনা যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধে হয়। এখন আমার সাথে তাই ঘটছে। সঞ্জিতা আর আসার জায়গা পাইল না। এখন কি করি। না কিছু করা লাগবে না আমি পালাই। পরে অন্য বাহানা দেওয়া যাবে। ( আরিয়ান মনে মনে)

যেই ভাবা সেই কাজ আরিয়ান মোবাইল অফ করে রেষ্টুরেন্ট থেকে পালালো।
সোজা বাসায় চলে গেল। গিয়ে শুয়ে পড়ল
না জানি রেষ্টুরেন্টে সঞ্জিতা আর প্রিয়ার মধ্যে কোন যুদ্ধ লেগে গেছে। চীন ভারতের মতো হলে তো লাশ পড়ে যাবে। আমাকে পাইলে যে কি করবে কে জানে? জীবন টাই বেদনা( আরিয়ান মনে মনে)
আরিয়ান ভয়ে আর মোবাইল অন করল না। অফ করেই রাখল। বাসা থেকেও বেড় হলো না।

পরদিন সকালে আরিয়ান ঘুমিয়ে আছে। আরিয়ানের আম্মু আসল
আম্মুঃ আরিয়ান উঠ বাবা। দেখ কে এসেছে
আরিয়ানঃ উফস আম্মু একটু ঘুমাতে দাও তো।

আম্মুঃ নিলা এসেছে। ওর জন্য তো উঠবি
নিলা শব্দটা শুনতেই আরিয়ান উঠে বসে পড়ল।
আম্মু মুচকি হাসি দিয়ে চলে গেল।তখনি রুমে নিলা আসল। এসে আরিয়ানের কাছে বসল।

নিলাঃ ইশ আমার জামাইটার কি অবস্থা যে হয়েছে? থাপ্পর গুলা জোরে হয়ে গেছিল বাবু?
আরিয়ানঃ মজা নিতে আসছ?
নিলাঃ না বাবু তোমাকে দেখতে এসেছি। জ্বর আসল কিনা।
আরিয়ান কিছু বলল না।

নিলাঃ যাহোক বাদ দেই এইসব। চলো নাস্তা করতে চলো। শাশুড়ি মা ডাকছেন।
আরিয়ানঃ তোমার ক্ষুদা লাগলে যাও না খাও গিয়া।
নিলাঃ ধুর কি বলো। তুমি আমার সোয়ামি। সোয়ামি কে ছাড়া কি খাওয়া যায় নাকি?
আরিয়ানঃ কি মাইয়া কিছুই বুঝিনা। গিরগিটির চাইতেও বেশি রং বদলায় ( মনে মনে)
নিলাঃ উঠো তো বলছি

নিলা আরিয়ানের হাত ধরে টেনে খাট থেকে নামিয়ে ওয়াশরুমে পাঠিয়ে দিল।
আরিয়ান ফ্রেশ হলো।
তারপর ডাইনিং টেবিলে গেল। চুপচাপ খেয়ে নিল।
এরপর তুষার কল দিল। আরিয়ান রেডি হয়ে মন্টুদার দোকানে চলে গেল।

সেখানে আগে থেকেই শাওন তুষার আর হাবিব ছিল।
আরিয়ান খবরের কাগজটা হাতে নিল। পৃষ্ঠা উল্টাতেই দেখল।
হেডলাইন প্রেমিকার জন্য প্রেমিক ডিপ্রেশনে গিয়ে আত্বহত্যা করেছে।

শাওনঃ এসব এখন প্রায়ই ঘটছে। শালা রা কি কে জানে হুদাই প্রেমিকার জন্য কেন নিজের জীবন দিতে হবে?
আরিয়ানঃ ওদের কি আমার থেকেও বেশি সমস্যা? এত ডিপ্রেশন? আমার থেকেও বেশি?
হাবিবঃ বাদ দে তো। ওগুলা সব আবাল টাইপের। বাবা মায়ের কথা ভাবেনা। একটু ভালোবাসায় ছ্যাকা খাইলেই ডিপ্রেশনে চলে যায় সুইসাইড করে বসে। নয় ট্রেন্ড।

তুষারঃ আরিয়ান দেখ তো মাইয়াটাকে চিনিস কিনা?
আরিয়ানঃ শালার ভাই শালা তুই দেখ আমাকে তাকাইতে বলিস না। এমনিতেই আমি কিছু না করতেই লোকজন আমারে বারোবাতারি বইলা বেড়াচ্ছে। এখন যদি এ মেয়ের দিকে তাকাই পরে যদি সংগঠনের উছিলা দিয়া আবার আমাকে এসে প্রপোজ করে বসে। তখন আমাকে বারোবাতারি থেকে চৌদ্ধ বাতারি বলে বেড়াবে।

আরিয়ানের কথা শুনে সবাই হাসতে লাগল।
যাহোক আড্ডা শেষে বাসায় আসতেই।
আরিয়ানের সামনে নিলা আর মিথিলা দাঁড়িয়ে রয়েছে।
আরিয়ান ভয় পেয়ে গেল। দুই গালে হাত দিল।

আরিয়ানঃ আবারও দুইটা একসাথে আমার সামনে। আল্লাহ বাচাও
নিলাঃ…….?


পর্ব ৭

আরিয়ানের সামনে নিলা আর মিথিলা দাঁড়িয়ে রয়েছে।
আরিয়ান ভয় পেয়ে গেল। দুই গালে হাত দিল।
আরিয়ানঃ আবারও দুইটা একসাথে আমার সামনে। আল্লাহ বাচাও
নিলাঃ কোথায় ছিলা এতক্ষন বাবু?

মিথিলাঃ এ তুই কোথায় ছিলি হ্যা? তোর বউ কান জ্বালা পালা বানাইয়া ফেলছে আমার।
মিথিলার মুখে বউ কথাটা শুনে আরিয়ান একটু অভাকই হয়।
নিলাঃ কথা বলিস না কেন?
আরিয়ানঃ ইয়ে মানে আমি

নিলাঃ ইয়ে মানে কি ( চোখ বড় বড় করে)
এমন সময়েয় আরিয়ানের আব্বু আম্মু আসল,
আব্বুঃ বাহ তুমিই একদম ওর জন্য পারফেক্ট মা। ওরে এভাবেই শাষন করবা।
আম্মুঃ আরিয়ান তুই তো গেলি ফেসে।

নিলাও বড় ঘুম টা টেনে বাবা মায়ের পায়ে সালাম করে দোয়া নিল।
।নিলাঃ আমার জন্য দোয়া করবেন বাবা। আমি যেন এভাবেই আপনার ছেলেকে সারাজীবন বকে যেতে পারি।
আরিয়ান খালি কাহিনি দেখতেছে। কিছু বলতে যেও পারছেনা।

আরিয়ানঃ কি কাহিনি লাগাইছে। বিয়ে তো করবই না। হুদাও লাফায়। ( মনে মনে)
আরিয়ান রুমে চলে গেল।দরজা বন্ধ করে বসতেই ফোন বাজতে শুরু করল।
স্ক্রিনে সাদিয়ার নাম্বার দেখে আর রিসিভই করল না। কয়েকবার দিল। আরিয়ান রিসিভ করল না।

তারপর একটা মেসেজ আসলঃ তুই কালকে ভার্সিটি তে আসবি না। সোজা আমার বাসার সামনে আসবি। যদি না আসিস তাহলে দেখিস তোরে আমি কি করি। প্রতারণার মামলা দিয়া জেলে পাঠিয়ে দিব।
আরিয়ান মেসেজ দেখেও আর রিপ্লাই করল। বাধ্যতামূলক কালকে দেখা করতেই হবে।

যাহোক দুপুরে একসাথেই খেতে বসলাম। নিলা আমাকে খাবার পরিবেশন করতেছে।
আম্মুঃ আজ কিন্তু সব রান্না নিলাই করেছে।
আব্বুঃ দেখতে হবেনা বউমা টা কার। অস্থির স্বাদ।
আরিয়ান নিলার দিকে তাকালো

আরিয়ানঃ এরকম ট্যালেন্ট ও আছে। কই আগে তো জানতাম না। এত রাগি তার হাতের রান্না এত মিষ্টি ভাবতেও পারছিনা। ( মনে মনে)
আব্বুঃ কিরে তুই কিছু বলছিস না যে
আরিয়ানঃ আমি আর কি বলব। কিছুই বলার নেই আমার।
আব্বুঃ এত ভালো রান্না একটু প্রশংসা ও করতে পারিস।

আরিয়ানঃ আমাকে অলটাইম বাজিয়ে দিচ্ছে। এমনিতেই রাগে বাচিনা। তারে আবার করমু প্রশংসা ( মনে মনে)
নিলাঃথাক বাবা ওর কিছু বলতে হবেনা। ও আগেও আমার হাতের রান্না খেয়েছে। অনেক প্রশংসা করেছে।
আরিয়ানঃ এ কি মেয়েরা বাবা। গায়ে পড়া স্বভাব। আগে জানলে জীবনেও প্রেম করতাম না। জীবনেও রান্না করে খাওয়ায় নাই। আর এখন বলছে আগেও খাইছি ( মনে মনে)

যাহোক খাওয়া দাওয়া হলো। বিকালের দিকে নিলা বাসায় চলে যাবে।
আম্মুঃ আরিয়ান নিলাকে বাসায় দিয়ে আয়
আরিয়ানঃ ও নিজেই যেতে পারবে। আমাকে লাগবেনা।
আব্বুঃ আহা মেয়েটা একা যাবে দিয়ে আয় তো।

আরিয়ানঃ উফস তোমরাও না খালি জ্বালাও। যাচ্ছি।
নিলাকে নিয়ে বেড় হলো বাইক নিয়ে নিল। নিলা পেছনে বসল। বাইক চালাতে শুরু করল
হঠাৎ মোবাইলে কল আসল। আরিয়ান বাইক সাইট করে মোবাইল বেড় করতেই দেখে প্রিয়ার কল। তাই আর রিসিভ করল না। সাইলেন্ট করে আবার বাইক চালাতে শুরু করল।

নিলাঃ কে ফোন দিয়েছে
আরিয়ানঃ শাওন দিছে।
নিলাঃ তো কথা বলছ না যে?
আরিয়ানঃ এমনি একটু পর তো এমনিতেই দেখা হবে।

বলতে বলতেই নিলার বাসার সামনে চলে আসল। নিলা নেমে গেল।
নিলা আরিয়ানের চুলগুলো ঠিক করে দিল।
নিলাঃ রোমান্টিকতা দেখে ভেবোনা সব ভূলে গেছি। আমি জানি মিথিলাও তোমাকে পছন্দ করে। যত যলদি পারো ওরে ওদের বাড়িতে পাঠিয়ে দিবা। আর হ্যা সাদিয়ার সাথে যেন না দেখি। মাইন্ড ইট।
বলেই নিলা আরিয়ানের কপালে চুমু দিয়ে দিল।

আরিয়ান অভাক পুরো। বুঝতেছে না হঠাৎ নিলার এত পরিবর্তন। কি হচ্ছে কি।
নিলা চলে গেল বাসার ভিতরে।
আরিয়ান বাইক স্টার্ট করে অফিসের দিকে গেল। গিয়ে ভিতরে ডুকতেই আরিয়ান চমকে উঠল। সঞ্জিতা।
শাওন এসে বলল,

শাওনঃ তোর জিনিস তুই সামলে নে ভাই। আমরা চললাম। তুষার চল।
ওরা চলে গেল।
সঞ্জিতা আরিয়ান কে দেখে উঠে দাড়ালো। আরিয়ানের সামনে আসল।
আরিয়ানঃ তুমি এখানে?

সঞ্জিতাঃ প্রিয়া কি লাগে তোমার?
আরিয়ানঃ কি কি কি কিছুনা
সঞ্জিতা আরিয়ানের আরো কাছে চলে আসল।
আরিয়ানঃ কি করছ

ঠাসস করে থাপ্পর দিয়ে বসল আরিয়ান কে।
আরিয়ানঃ আমি কি করলাম?
সঞ্জিতাঃ আমাকে রেখে প্রিয়ার সাথে প্রেম করিস তুই? এত সাহস তোর।
আরিয়ানঃ কে বলছে প্রেম করি ( অসহায় ভাবে)

সঞ্জিতাঃ নাহলে ওভাবে রেষ্টুরেন্ট থেকে পালাইলি কেন?
আরিয়ানঃ আসলে আমার ইম্পরট্যান্ট কাজ চলে এসেছিল। তাই তোমাদের বলতে ভূলেই গেছিলাম। ওয়াশরুম থেকেই বেড়িয়ে দ্রুত ওখানে চলে গেছিলাম।

সঞ্জিতাঃ আমাকে গাধা মনে হয় তোর? তোর মোবাইল বন্ধ ছিল কেন?
আরিয়ানঃ চার্জ ছিল না। শুধু শুধু থাপ্পর দিলা
সঞ্জিতাঃ ওহ সরি সরি বাবু। খুব লেগেছে তাই না ( গালে হাত দিয়ে)
আরিয়ানঃ না লাগেনি।

যাহোক সঞ্জিতা কে কোনোরকম বুঝিয়ে শুনিয়ে আরিয়ান বাসায় ফিরল।
রুমে রেষ্ট নিতেই মিথিলার আগমন।
মিথিলাঃ তোরে আমি….
আরিয়ানঃ ওয়েট ওয়েট। তুমি বলতে আসছ আমি নিলাকে কেন এখনও ছাড়ছিনা। ওরে দেখলেই তোমার শরীর জ্বলে যায়। এইসবই?

মিথিলাঃ হুম কেমনে বুঝলি?
আরিয়ানঃ হুম এভাবেই। পারলে নিজেই বিয়ে ভাঙো। আমিও চাইনা নিলাকে বিয়ে করতে
মিথিলাঃ তাহলে তোর বাবা মাকে বলিস না কেন?
আরিয়ানঃ কারন বাবার সামনে আমি কথা বলতে পারিনা।

মিথিলাঃ যাহ ভিতু। আমিই দেখছি ব্যাপারটা।
মিথিলা চলে গেল।
উফস অশান্তি। একজনের পর একজন আছেই।
একটু পর আম্মু ডাক দিল খাইতে। আরিয়ান খাইতে গেল।
আরিয়ানঃ আমি একটা কথা বলব

আব্বুঃ হ্যা বল
আরিয়ানঃ তোমরা বিয়েটা ভেঙে দাও।
আব্বুঃ কিহ কেন?
আরিয়ানঃ নিলা সুবিধার না।
মিথিলাঃ হ্যা আংকেল আমারও তাই লাগছে। দেখেন না আরিয়ানের সাথে কিভাবে কথা বলে

আব্বুঃ তোমরা যে যাই বলো। ওর মতো বদমাইশ এর সাথে নিলাই পারফেক্ট।
আরিয়ানঃ কিন্তু
আব্বুঃ আর কোনো কথা নয়। মেয়ে কোনো আমরা দেখিনাই। তুই দেখেছিস নিজেই বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিস। আমরা জাস্ট ফর্মালিটি করব। বিয়ে ভাঙব না এটাই শেষ।

আরিয়ান আর কিছুই বলল না। চুপ হয়ে গেল।
খেয়ে ধেয়ে আরিয়ান রুমে চলে গেল।
একটু পরেই ফোনে কল আসল। প্রিয়া কল দিছে। আরিয়ান ভয়ে ভয়ে রিসিভ করল।
প্রিয়াঃ তোর কল রিসিভ করতে এতক্ষন লাগে। আর বিকালে কত গুলা কল দিছি ধরলি না কেন?

আরিয়ানঃ না মানে একটু কাজে ব্যস্থ ছিলাম তাই ধরিনি। সরি
প্রিয়াঃ মাইয়া নিয়ে ঘুরলে আমার কল কেন ধরবি। তোর বাইকে বিকালে দেখলাম মেয়ে। মেয়েটা কে?
আরিয়ানঃ কোথায়? কখন আজ তো আমি বাইক বেড় করিনিই।

প্রিয়াঃ একদম মিথ্যা বলবিনা। তোকে আমি নিজে দেখেছি বিল্ডিং এর নিচে একটা মেয়েকে নিয়ে যেতে। বল মেয়েটা কে?
আরিয়ানঃ উফস। সবাই সব দেখে ফেলে? কেমন ডা লাগে এখন কি বলি ( মনে মনে)
প্রিয়াঃ তারপর আবার কাল ওইভাবে রেষ্টুরেন্ট থেকে পালাইলি কেন? ওই মেয়েটাই এই মেয়েটা ছিল তাইনা?

আরিয়ানঃ না কেউ ছিল না। আমি চিনিনা কোনো মেয়েকে। আমি শুধু তোমায় চিনি তোমায় ভালোবাসি।
প্রিয়াঃ তুই একটা চিটার বাটফার। যাহ তোর লগে ব্রেক আপ।
আরিয়ানঃ আলহামদুলিল্লাহ। থ্যাংক ইউ।

আরিয়ান ফোন কেটে দিল।
ধুর দুদিনের রিলেশনে এত জ্বালা দিচ্ছে। আর নিতে পারছিনা। যাক বাবা বাচলাম। একটা তো পিছু ছাড়ছে। যদিও প্রিয়াকে মন থেকে চাচ্ছিলাম। এবার সাদিয়ার কিছু করতে হবে। ( আরিয়ান মনে মনে)।
পরদিন সময় মতো সাদিয়ার বাসার সামনে চলে গেল। সাদিয়াও আসল। বাইকে চড়ে বসল।

একটা নিড়িবিলি জায়গায় আসল।
আরিয়ানঃ বলো ওইদিন কাহিনি করেও আজ কেন ডেকেছ?
সাদিয়াঃ আজ আমরা বিয়ে করব।
আরিয়ানঃ মানে?

সাদিয়াঃ মানে তোমার ফ্যামিলি যেহেতু নিলার সাথে বিয়ে ঠিক করেছে সেখানে তো আর আমার বলার সুযোগ নাই। সো আমরা কাজী অফিসে বিয়ে করব আজ।
আরিয়ানঃ মাথা আছে নাকি পুরাই গেছে? ফাজলামি চলে এখানে

সাদিয়াঃ আই এম সিরিয়াস। আর যদি তুমি রাজি না হও। তাহলে আমি তোমার নামে নারী নির্যাতনের মামলা করব।
আরিয়ান ঠাসসস করে দিল সাদিয়াকে এক থাপ্পর।
থাপ্পর খাইয়া সাদিয়া গালে হাত দিল। চোখ থেকে পানিও বেড় হয়ে গেল।
আরিয়ানঃ এই মাইয়া এই। তোকে যখন প্রপোজ করছি তখন ভাব নিয়া একসেপ্ট করলিনা। যাক মানলাম আমিও হার

মানলাম। অন্য কোথাও চলে গেলাম। এখন ফিরে এসে বিষ খাইয়া কাহিনি করে পুলিশের ভয় দেখাইয়া আমাকে বিয়ে করবি। এ মাইয়া এই আমাকে খেলার পুতুল মনে হয়? যে যেমনে পারছে খেলতেছে। যখন তখন ফিরে এসে ভালোবাসি বলছে। আমি তোকে এখনও একবারও বলছি আমি তোকে ভালোবাসি। আর একদিন আমাকে ফোন দিবি তো না আমার

সামনে আসবি তো আজকে একটা দিছি থাপ্পর ওইদিন আরো কয়েকটা দিব। মাইন্ড ইট। আমি তোকে ভালোবাসি না। এটাই শেষ। গুড বায়।
আরিয়ান বাইক নিয়ে চলে আসল।
অন্যদিকে শাওন ভার্সিটি তে এসে প্রথমেই পপিকে খুজল। পেয়েও গেল।

পপিঃ কি মিষ্টার আজ এত খুশি লাগছে
শাওনঃ হুম। আমি রাজি
পপিঃ কিসের
শাওনঃ তোমার প্রস্তাবে

পপিঃ সুন্দর করে বলো
শাওনঃ I LOVE YOU POPY
পপিঃ সত্যি তো?
শাওনঃ হুম ফুলকপির কসম।

পপিঃ কিহ
শাওনঃ নাহ আই লাভ ইউ পপি
পপিঃ উহু মেরা বাবুটা।
বলেই শাওন কে জড়িয়ে ধরল।

অন্যদিকে আরিয়ান ক্যাম্পাসে চলে আসল।
এসেই দেখে শাওন আর তুষার বসে আছে। ওদের সাথে যোগ হলো। শাওন আর তুষার আরিয়ানের মুখের দিকে তাকাতেই বুঝল কিছু হয়েছে

শাওনঃ কিরে কিছু হয়েছে নাকি তোর?
আরিয়ানঃ আর হবে কি প্রতিশোধ নিয়ে এসেছে। কত বড় সাহস আমাকে থাপ্পর দিছিল।এখন শুধু নিলাকে ফেরত দেবার পালা।

শাওনঃ থাপ্পর কাকে। খুলে বল তো ব্যাপার টা।
আরিয়ান সব বলল।
শাওনঃ বাহ বাহ। i am proud of you my friend…. এবার ঠিক আছে।সেরা কাজ টা করেছিস।
তুষারঃ একটা কেন আরো দু তিন টা দিতি। সবাইকে এভাবেই থাপ্পড় দিয়া বল আমি তোকে ভালোবাসিনা।

যাহোক ক্লাস শেষে আরিয়ান বাসায় চলে গেল।
সিড়ি বেয়ে উঠছে। হঠাৎ প্রিয়া সামনে এসে দাড়ালো। আরিয়ান পাশ কাটিয়ে চলে যাবে। প্রিয়া যেতে দিল না।
আরিয়ানঃ কি সমস্যা?

প্রিয়াঃ তোর কি সমস্যা? আমি জাস্ট একবার ব্রেক আপ বলতেই তুই খুশি হয়ে আলহামদুলিল্লাহ বলে ফোন কেটে দিলি সাহস কত বড়।
আরিয়ানঃ দেখো আমনিতেই মাথা গরম। সামনে থেকে সরো। আমাকে যেতে দাও
প্রিয়াঃ আমি তোকে কিছু জিগাইছি? আমি ব্রেক আপ বলাতে তুই আলহামদুলিল্লাহ বললি কেন? আমাকে সরি বললি না কেন।

আরিয়ান ঠাসসস করে প্রিয়াকে থাপ্পর দিয়ে বসল।
থাপ্পর খাইয়া প্রিয়া হা হয়ে তাকিয়ে আছে।
আরিয়ানঃ বলছিলাম না মাথা গরম।

প্রিয়াঃ তুমি আমাকে থাপ্পর দিলা?
আরিয়ানঃ তো তোকে কি করত। তোর সাথে রিলেশন গেছি কয়দিন হইছে। এর মধ্যেই এত প্যারা দিচ্ছিস। হাত ধরা যাবেনা জড়িয়ে ধরা যাবেনা। এই করা যাবেনা ওই করা যাবেনা। সবসময় বকাঝকা করিস। যখন যা চাইবা তাই করতে হবে। ফাজলামি চলে? আমি তোমার খেলার পুতুল নই। ব্রেক আপ করছিস তো। সো বায়।

আরিয়ান পাশ কাটিয়ে বাসায় চলে আসল।
বাসায় আসতেই মিথিলা….?
প্রিয়াঃ তুমি আমাকে থাপ্পর দিলা?

আরিয়ানঃ তো তোকে কি করত। তোর সাথে রিলেশন গেছি কয়দিন হইছে। এর মধ্যেই এত প্যারা দিচ্ছিস। হাত ধরা যাবেনা জড়িয়ে ধরা যাবেনা। এই করা যাবেনা ওই করা যাবেনা। সবসময় বকাঝকা করিস। যখন যা চাইবা তাই করতে হবে। ফাজলামি চলে? আমি তোমার খেলার পুতুল নই। ব্রেক আপ করছিস তো। সো বায়।
আরিয়ান পাশ কাটিয়ে বাসায় চলে আসল।

বাসায় আসতেই মিথিলা সামনে এসে দাড়ালো।
আরিয়ানঃ কিছু বলবি তুই?
মিথিলা হঠাৎ এমন কথা শুনে অভাকই হলো। কারন এর আগে আরিয়ান কখনও তুই করে বলে নাই
মিথিলাঃ তুই আমাকে তুই করে বললি?

আরিয়ানঃ হ্যা বলছি তো কি করবি? আমার রুম থেকে চলে যা ভালোভাবে বলছি
মিথিলাঃ যাব না কি করবি
আরিয়ানঃ দেখতে চাস কি করব?
মিথিলাঃ হ্যা দেখা কি করবি কর
আরিয়ানঃ তোরে তোরে আমি

আরিয়ান সোজা ওয়াশরুমে চলে গেল। গিয়ে মাথায় পানি ঢালতে থাকল।
কি ভাবলেন এত কিছু বলে কিছু না বইলা ওয়াশরুমে চলে আসলাম কেন। আসলে সব জায়গায় সব চলেনা। এখন যদি ওরে থাপ্পর দেই। তাহলে পরে বাবা মা সহ চৌদ্ধ গুষ্ঠি আমার পেছন লাগবে। কারন ওই বংশে এই একটাই মাইয়া। তখন তাদের সামলাব কিভাবে। তাই চলে আসলাম রাগ কন্ট্রোল করে।

যাহোক আরিয়ান ফ্রেশ হয়ে বেড় হলো।
বিছানায় শুয়ে পড়ল।
সঞ্জিতা কল দিল। বিকালে দেখা করতে বলছে।

বিকালে আরিয়ান দেখা করতে জায়গামতো চলে গেল।
আরিয়ানঃ হাই কেমন আছ?
সঞ্জিতাঃ ভালো তুমি ভালো আছ তো?

আরিয়ানঃ আর ভালা আসছি তোমার কানের নিচে বাজাইতে। সুযোগ দাও যলদি বাজামু ( মনে মনে)
সঞ্জিতাঃ কি হলো কি ভাবছ
আরিয়ানঃ ও কিছুনা। আমিও ভালো আছি। আচ্ছা তুমি যে সবাইকে ছেড়ে আমার কাছে চলে এসেছ। তোমার বাবা মা খুজেনা তোমাকে?

সঞ্জিতাঃ সমস্যা নাই। সবাইকে জানিয়ে দিছি। আমি তোমাকে পেয়ে গেছি। তোমাকেই বিয়ে করব।
আরিয়ানঃ ওহ ভালো।
সঞ্জিতাঃ কি হলো। তোমার মন খারাপ মনে হচ্ছে?
আরিয়ানঃ আরে ওসব কিছুনা।

এমন সময় একটা ছেলে আসল।
ছেলেটিঃ আরে সঞ্জিতা তুমি এখানে?
আরিয়ানঃ আপনি ওরে চিনেন?
ছেলেটিঃ হুম চিনব না কেন।

সঞ্জিতাঃ ওয়েট ওয়েট এ ভাই কে তুমি? আগে তো কোথাও দেখিনাই।
ছেলেটিঃ সে কি ভাবি? আপনি আমাকে ভূলে গেছেন। আমি তো আপনার হাজবেন্ড পার্থ এর বন্ধু। আপনাদের বিয়েতে পরিচিত হলাম ভূলে গেছেন?
আরিয়ানঃ কিহহহ সঞ্জিতা তুমি বিবাহিত?

সঞ্জিতাঃ আরে কিসব বলছে। এ ভাই কি সমস্যা কি? মিথ্যা বলছেন কেন?
আরিয়ানঃ ওই মিয়া মিথ্যা কেন বলেন?
ছেলেটিঃ আরে আজব আমি মিথ্যা কেন বলতে যাব। ওনাদের ডিভোর্স হয়েছে কিছুদিন আগে। আমার বন্ধু তো কাছেই থাকে। আপনি চাইলে অফিসের ঠিকানা দিচ্ছি আপনি যোগাযোগ করুন।

আরিয়ানঃ আর বলতে হবেনা। আমার যা বুঝার বুঝে গেছি। ছিহ সঞ্জিতা ছিহ। তুমি আমাকে এভাবে ধোকা দিবে ভাবতেও পারিনি। আমার সরল বিশ্বাস নিয়ে খেললে
সঞ্জিতাঃ কিন্তু আমি বিবাহিত নই। ডিভোর্স তো দূরের কথা
আরিয়ানঃ আর কত মিথ্যা বলবা। বিয়ের বিষয়টা আমার থেকে লুকাইলা। ছিহ সঞ্জিতা

সঞ্জিতাঃ আরিয়ান বিলিভ মি
ঠাসসসস করে থাপ্পর দিল আরিয়ান।
আরিয়ানঃ আর বিলিভ তোমাকে। আর কখনও নয়। তুমি একবার নয় দু বার নয় অসংখ্য বার আমাকে ঠকিয়েছ। তোমাকে ভালোবাসা আমার সব থেকে বড় ভূল ছিল। তুমি আমার সাথে আর কন্টাক্ট করার চেষ্টা করবানা। গুড বায়।
আরিয়ান ওখান থেকে রিকশায় করে চলে আসল।

উফস বাবা বাচলাম। আরেকটার পিছু ছুটল। সঞ্জিতা আমাকে এভাবে ঠকাবে কল্পনায়েও ছিল না। একসময় প্রচুর ভালোবাসতাম। যার জন্য সুইসাইড ও করতে চেয়েছিলাম। যাহোক ভূল হবার আগেই ভেঙেছি। এবার টার্গেট নিলা। বিয়ে আমার ভাঙতেই হবে। ( আরিয়ান মনে মনে)
আরিয়ান নিলাকে ফোন দিল। নিলা রিসিভ করল।

আরিয়ানঃ হ্যা বাবু। আমি তোমার বাসার সামনে আসতেছি। একটু বাহিরে আসো
নিলাঃ কেন
আরিয়ানঃ এমনি তোমাকে দেখতে প্রচুর ইচ্ছা করছে তাই। আসো
নিলাঃ আচ্ছা ঠিক আছে। সোজা ছাদে চলে আসিও।

আরিয়ানঃ ঠিক আছে বাবু।
আরিয়ান কিছুক্ষনের মধ্যেই নিলার বাসার সামনে চলে আসে। সোজা ছাদে চলে যায়। গিয়ে দেখে নিলা ছাদে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
আমাকে প্রচুর জ্বালিয়েছিস। আজকে বুঝবি কত ধানে কত চাল। হাড়ে হাড়ে বুঝবি ( আরিয়ান মনে মনে)
আরিয়ান পেছন থেকে নিলাকে জড়িয়ে ধরল। গলায় কিস করল।

নিলা আরিয়ান কে ছাড়িয়ে ঠাসসস ঠাসস করে দুটো থাপ্পড় দিয়ে বসল।
আরিয়ান গালে হাত দিয়ে হা হয়ে আছে।
কি হলো এটা? আসছি আমি ওর কানের নিচে বাজাইতে। উল্টা ও আমার কানে বাজিয়ে দিল। ( মনে মনে)
নিলাঃ তুই জড়িয়ে ধরলি কেন? আমি তোকে পারমিশন দিছি?

আরিয়ানঃ তুমি আমার হবু বউ। আমি তোমাকে জড়িয়ে ধরতে পারব না?
নিলাঃ নাহ পারবিনা। আমার অনুমতি ছাড়া কিছু করতে পারবিনা।
আরিয়ানঃ ধ্যাত। এমন বউ এর গুষ্ঠি আমি একশ এক বার কিলাই।

বলেই নিলার গালে ঠাসসস করে থাপ্পর দিয়ে বসল।
সাথে সাথেই নিলা জ্ঞান হারিয়ে পড়ে গেল।
আরিয়ান ভয় পেয়ে গেল।
কোনোরকমে কোলে করে বাসায় ভিতরে নিয়ে বিছানায় শুয়ে দিল।

নিলার মাঃ ওর কি হয়েছে?
আরিয়ানঃ জানিনা আন্টি। হঠাৎ মাথা ঘুড়িয়ে পড়ে গেছে। পানি ছিটা দিলেই ঠিক হয়ে যাবে।
নিলার বাবাঃ মেয়েটার গাল লাল কেন?
আরিয়ানঃ আচ্ছা আংকেল আমি ডাক্তার নিয়া আসি।
বলেই আরিয়ান বাসা থেকে বেড়িয়ে গেল।
কিসের ডাক্তার কিসের কি সোজা বাসায় চলে গেল।

অন্যদিকে নিলার মা পানির ছিটা দিতেই নিলার জ্ঞান ফিরল।
নিলার বাবাঃ কিরে মা তোর কি হয়েছিল?
নিলা সবার দিকে তাকিয়ে দেখল আরিয়ান কোথায়।

সবাই প্রশ্ন করছে কি হয়েছে।
নিলাঃ কিছু না। হঠাৎ চক্কর খেয়েছি। আমাকে একটু রেষ্ট নিতে দাও। মাথা টা ধরে আছে।
নিলার বাবাঃ আচ্ছা তুই রেষ্ট নে। এই সবাই বাহিরে চলো
সবাই চলে গেল।

নিলাঃ আরিয়ান তুই আমাকে চিনিস নাই। তোর কত বড় কলিজা তুই আমাকে থাপ্পড় দিয়েছিস। খালি সকাল হতে দে। আমি তোকে দেখে নিব। উফস কি থাপ্পর দিছে মাথা ব্যথা করছে। ( নিলা ভাবে)
অন্যদিকে আরিয়ান,

একবার কি কল দিয়ে জিগাসা করব জ্ঞান ফিরছে কিনা? না করব না। ফোন দিলে যদি এখন আমাকে বকে। ওর বাবা যেই। আল্লাহ কপালে যে কি আছে কে জানে। আজকের দিন টাই কি ঝড় বয়ে গেল আমার উপড়। একের পর একেকজনের সাথে ঠাস ঠাস। তবে নিলার সাথে পরিকল্পনা টা বাস্তব করতে পারলাম না। কে জানত এক থাপ্পরেই জ্ঞান

হারাবে। এত মরা ওইটা আগে জানলে আরো আস্তে দিতাম। এইটুকু তো সিউর নিলা আমাকে ছাড়বেনা। ও যেই। আবার তো প্রিয়া সাদিয়া সঞ্জিতা আছেই। আল্লাহ আমাকে বাচাও। না জানি কপালে কি আছে ( মনে মনে ভাবে আরিয়ান)
তারপর ঘুমিয়ে যায়।

পরদিন সকাল সকাল নিলা আরিয়ান দের বাড়িতে চলে আসে। প্রতিশোধ নিতে হবে। নিলা এসেছে সবাই কত খুশি। সবার সাথে কুশল বিনিময় করল।
নিলাঃ আন্টি আংকেল আরিয়ান কোথায়?

আরিয়ানের আম্মুঃ কোথায় আর ওর রুমেই ঘুমাচ্ছে
মিথিলাঃ আসতে না আসতেই আরিয়ানকে খুজতে হয় নাকি?
নিলাঃ না মানে ওর সাথে কথা ছিল

আন্টিঃ আচ্ছা আচ্ছা। ও রুমেই আছে যাও
নিলাঃ হুম আন্টি।
নিলা আরিয়ানের রুমে চলে গেল
গিয়ে দেখল পুরো রুম ফাকা। কোথাও কেউ নাই। ওয়াশরুমে চেক করল। সেখানেও নাই।

হতাশ হয়ে বাহিরে আসল।
নিলাঃ আন্টি আরিয়ান তো ওর রুমে নাই।
আন্টিঃ সে কি। তাহলে মনে হয় ওয়াশরুমে আছে।
নিলাঃ না আন্টি। ওখানেও নেই।

আন্টিঃ কি বলছ ও তো রুম থেকে বেড় হয়নি। একটা কল দাও তো
নিলাঃ আচ্ছা আন্টি দিচ্ছি
নিলা কল দিল। ফোন বন্ধ।

নিলাঃ আন্টি ফোন বন্ধ
মিথিলাঃ আরে ধুর হয়ত ছাদে আছে। ওয়েট আমি দেখে আসি
মিথিলা ছাদে গিয়ে পেলো না।
মিথিলাঃ ছাদেও তো নেই।

আরিয়ানের আব্বুঃ আরে ধুর। এত চিন্তার কি আছে। হয়ত ভার্সিটি তে গেছে। শাওন বা তুষার কে কল দিলেই জেনে যাব। আমি কল দিচ্ছি।
আরিয়ানের আব্বু শাওন আর তুষার কে কল দিল। কেউই বলতে পারল না।
আরিয়ানের আব্বুঃ নাহ ও তো ভার্সিটি যায়নি।

আরিয়ানের আম্মুঃ তাহলে গেল কোথায় ছেলেটা। কোনোদিন তো এমন করেনাই। এবার কিন্তু আমার চিন্তা হচ্ছে
নিলাঃ আচ্ছা আন্টি চিন্তা করবেন না। আমি দেখছি কি করা যায়।
অন্যদিকে শাওন আর তুষার,

শাওনঃ ওর নাম্বার তো খালি বন্ধই আসতেছে। কোথায় গেল শালায়
তুষারঃ বুঝতেছিনা তো। ফোন বন্ধ। কাউকে বলেও যায়নি।
শাওনঃ কি হচ্ছে মাথায় ঢুকছেনা।

দেখতে দেখতে একদিন চলে গেল। আরিয়ান বাসায় ফিরেনি। কোথাও কোনো খোজ নেই। সবাই খুব চিন্তায় আছে।
আরিয়ানের মা তো কাদতে কাদতে শেষ। পুলিশে মিসিং কমপ্লেইন করা হয়েছে।
নিলা সকাল সকাল ভার্সিটি চলে গেল। শাওন আর তুষার এর সাথে দেখা করতে। খুজে বেড় করল।
নিলাঃ সত্যি করে বলুন আরিয়ান কোথায়?

শাওনঃ আমরা জানলে কি তোমার এখানে আসতে হতো। আমার তো মনে হয় তুমি কিছু করেছ।
নিলাঃ আমি জানি ও আমার ভয়ে লুকিয়ে আছে। আর তাতে তোমরাই সাহাজ্য করছ। সত্যি করে বলো
শাওনঃ আরে ধ্যাত। কাহিনি লাগাইছে। আমাদের বন্ধু। ও হচ্ছে আমাদের কলিজা। ওর জন্য আমরাই চিন্তিত। আএ তুমি আসছ কাহিনি করতে। যাও তো এখান থেকে।

ওরা চলে আসল।
তুষারঃ দুস্ত প্রচুর টেনশন হচ্ছে। আরিয়ানের কিছু হইল না তো।
শাওনঃ রাখ আমার তো মনে হয় ও প্রিয়া সাদিয়া নাইলে সঞ্জিতার মধ্যে কারো সাথে আছে। ওদের ফোন দিয়ে দেখি।
তুষারঃ ভালো বুদ্ধি যলদি কর।

শাওন প্রথমে সাদিয়াকে কল দিল। রিসিভ করল।
শাওনঃ হ্যা সাদিয়া
সাদিয়াঃ হ্যা ভাইয়া বলুন
শাওনঃ আরিয়ান কোথায়?

সাদিয়াঃ জানিনা। ওর নাম আমার সাথে বলবেন না আমি আরিয়ান নামে কাউকে চিনিনা।
শাওনঃ আচ্ছা বুঝছি থাপ্পর খেয়ে তুমি রেগে আছ। আরিয়ান কে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। যদি কিছু জানো বলো
সাদিয়াঃ কিহ সাদিয়াকে খুজে পাওয়া যাচ্ছেনা। মানে কি?
শাওন বুঝে গেল ও জানেনা। ফোন কেটে দিল।

সঞ্জিতা আর প্রিয়াকেও কল দিল। কেউই কিছু জানেনা।
শাওনঃ নারে ও কারো সাথেই নাই
তুষারঃ কোথায় গেল। আমাদের না বলে তো ও কিছু করেনা। এবার কি হলো
এমন সময় পপি আসল,

পপিঃ শাওন আমার ক্লাস শেষ চলো না ঘুরে আসি
শাওনঃ বাসায় যাও। আজ আমার কাজ আছে।
পপিঃ কিহ আমাকে না বললা। তুমি জানো আমার বাবা কে?
শাওনঃ দেখো মাথা গরম করোনা। যা বলছি করো

পপিঃ তুই আমার সাথে রাগ দেখাস। আমার বাবা এলাকার ওসি।
শাওন ও দিল সাথে সাথেই পপির গালে থাপ্পর বসিয়ে।
শাওনঃ তোর বাপ এলাকার বা*। যাহ তুই তোর বাপের কাছে যা। আমি আছি চিন্তায়। আরিয়ান কে পাওয়া যাচ্ছেনা। আর একবার পকপক করে বাপের পাওয়ার দেখাতে আসবি তো একদম হাত পা ভেঙে বসিয়ে রাখব। মনে রাখিস। তোর বাপের মতো দু চারটা ওসি আমার বাপে পকেটে পুরে রাখে। ধ্যাত। তুষার চল।

শাওন তুষার কে নিয়ে চলে আসল।
শাওন হাবিব তুষার অফিসে বসে আছে।
হাবিবঃ বুঝতেছিনা আরিয়ান গেল কোথায়? প্রায় ৪৮ ঘন্টা হতে চলল। এমন তো কখনও করেনাই। ওদিকে ওর মা কেদে কেঁদে শেষ।

তুষারঃ মাথাই কাজ করছেনা। চারদিকে পোষ্টার ছাপাতে হবে।
শাওনঃ আমার চিন্তা হচ্ছে ওর কিছু হলো না তো আবার। আমাদের শত্রুর তো অভাব নাই।
হাবিবঃ তাই বইলা বাসা থেকে কিভাবে উদাও হবে। হিসাব মিলছে না
এমন সময়েই অফিসে হুরমুরিয়ে সঞ্জিতা আসল।

সঞ্জিতাঃ আরিয়ান কোথায়? আরিয়ান কে পাওয়া গেছে কি?
শাওনঃ নাহ। এখন ও খোজা হচ্ছে
কিছুক্ষন পরেই সাদিয়া চলে আসল। এসেই,
সাদিয়াঃ আরিয়ান কোথায়? ও কোথায়

তুষারঃ আস্তে আস্তে। বসো পানি খাও
সাদিয়াঃ না আগে বলো আরিয়ান কোথায়?
সঞ্জিতাঃ এক্সকিউজ মি আরিয়ান কে তুমি খুজতেছ কেন?.

সাদিয়াঃ আমার ভালোবাসার মানুষ আমি খুজব না তো কে খুজবে। আর আপনিই কে?
সঞ্জিতাঃ আমি কে মানে। আমি আরিয়ানের প্রেমিকা।
সাদিয়াঃ কিহ।

এমন সময়েই প্রিয়া ভিতরে প্রবেশ করল।
প্রিয়াঃ আরিয়ান কোথায় লুকিয়ে আছে সত্যি করে বলো। আমার ওরে চাই।
সাদিয়াঃ আপনি কে আবার?
প্রিয়াঃ আমি আরিয়ানের প্রেমিকা।

শাওন হাবিব তুষার একবার সঞ্জিতার দিকে তাকায় একবার প্রিয়ার দিকে একবার সাদিয়ার দিকে।
ওরা কুরুক্ষেত্র ছাড়া কিছুই দেখছে না।


পর্ব ৮

সাদিয়াঃ আপনি কে আবার?
প্রিয়াঃ আমি আরিয়ানের প্রেমিকা।
শাওন হাবিব তুষার একবার সঞ্জিতার দিকে তাকায় একবার প্রিয়ার দিকে একবার সাদিয়ার দিকে।
ওরা কুরুক্ষেত্র ছাড়া কিছুই দেখছে না। যুদ্ধের আগে নিরবতা পালন হচ্ছে।

শাওনঃ দেখো মামুনিরা এখানে কিছু করিও না। আরিয়ান কে খুজে পাই তারপর তোমাদের হিসাব বুঝ নিও। ওর থেকেই জেনে নিও কে তার প্রেমিকা।
সঞ্জিতা প্রথমে বেড়িয়ে গেল। তারপর সাদিয়া চলে গেল। প্রিয়াও রেগে চলে গেল।
শাওন তুষার হাবিব শান্ত ভাবে বসল।

শাওনঃ উফস ভাইরে ভাই বাচলাম। আমি তো ভাবছিলাম আজকে এই বিল্ডিং মাটির তলে চলে যাবে।
হাবিবঃ ওরে আরিয়ান কোথায় গেলি রে তোর জিনিসপত্র তুই আইসা সামলা নারে।
শাওনঃ ধ্যাত শালা ও কি অফিসে নাকি যে তুই ডাকলি চলে আসবে।

তুষারঃ ভাই তোরা লাগিস না। খবর নে পুলিশ কিছু জেনেছে কিনা।
শাওনঃ হুম।
অন্যদিকে নিলার বাসায়,
নিলার বাবাঃ মন খারাপ করিস না মা। আরিয়ানের কিচ্ছুই হবেনা। দরকার পড়লে আর্মি দিয়ে খুজ করব। পুরা দেশ তন্ন তন্ন করে ফেলব।

নিলাঃ আমার আরিয়ান কে চাই বাবা।
নিলার বাবাঃ পাইবি রে মা। চিন্তা করিস না।

অন্যদিকে আরিয়ান,
কক্সবাজারে সমূদ্রের পাড়ে বসে সমূদ্রের রুপ দেখছে। সাগরের ঢেউ এর খেলা দেখছে।
কি শান্তি। মনে হচ্ছে জান্নাতে আছি। প্যারা মুক্ত জীবন। সবাই মিলে জীবনটা খেয়ে দিচ্ছিল। কয়েকটা দিন এখানেই থাকব। কারো সাথেই যোগাযোগ করব না। অনেক জ্বালাইছে এবার জ্বলুক সবগুলা। ভালোবাসি না তো কাউরেই। শুধু

শুধু প্যারা নিচ্ছিলাম। এবার জীবনটাকে এঞ্জয় করব। ( আরিয়ান মনে মনে)
গোছল করে আরিয়ান হোটেলে চলে গেল।
ফ্রেশ হয়ে বিকালে বেড় হলো।

হোটেলের সামনে একটা ফুলের বাগান রয়েছে। অস্থির লাগছে।
হাটছিল আনমনে। হঠাৎ খেলো ধাক্কা। ধাক্কা খেয়ে নিজেকে তো সামলে নিল। কিন্তু যার সাথে ধাক্কা খেল সে পড়ে গেল। তাকিয়ে দেখল একটা মেয়ে।

আরিয়ানের প্রিয়ার কথা মনে পড়ে গেল। এমনি এক ধাক্কার পর ইতিহাস হইয়া গেছিল। তাই এবার আর রিস্ক নিল না। মেয়েটার দিকে না তাকিয়েই সোজা ওখান থেকে চলে আসল।

পরদিন সকালে সাগড়ের পাড়ে হাটতেছে।
হঠাৎ একটা মেয়ে সামনে এসে দাড়ালো।
আরিয়ান চোখ সড়াতে যেও পারল না।

কাজল কালো টানা টানা চোখ ঠোটে লিপস্টিক লাল শাড়ি পরিহিত একটা মেয়ে রুপে অনন্যা। যাই বলব তাই কম হয়ে যাবে।
মেয়েটিঃ এই যে মিস্টার আপনার কমনসেন্স নাই একটুও? কালকে ওভাবে ধাক্কা দিলেন। কিছু না বলেই আবার চলে গেলেন।

আরিয়ানের ওদিকে খেয়াল নেই। এক প্রকার ঘোড়ের মধ্যেই আছে।
মেয়েটিঃ কথা বলছেন না কেন? বোবা নাকি? অটিস্টিক আপনি?
আরিয়ানের হুশ নেই।

এত সুন্দর মেয়ে আগে কখনও দেখেছি কিনা মনে নেই। কে তুমি রূপসী। এতদিন কোথায় ছিলে। আগে আসলে আরো আগে তোমায় পেতাম ( মনে মনে)
এবার মেয়েটি আরিয়ান কে হাত দিয়ে ধাক্কা দিয়ে বসল।
ধাক্কা খেয়ে আরিয়ানের হুশ ফিরল।

মেয়েটিঃ আপনি কি বোবা?
আরিয়ানঃ না সুন্দরী।
মেয়েটিঃ what?

পরক্ষনেই মনে পড়ে গেল। ঢাকাতে কি ঘটিয়ে রেখে এসেছে। সাদিয়া প্রিয়া সঞ্জিতা নিলা মিথিলা। এমনিতেই ওরা লেগেছে। নাহ না এখানে আসছি আরাম করতে নতুন কোনো ঝামেলা নেওয়া যাবেনা। যতই সুন্দরী হোক। আমার বর্জন করতেই হবে।( আরিয়ান মনে মনে)

মেয়েটিঃ কি হলো ( প্রচুর রেগে)
আরিয়ানঃ কিছুনা ম্যাম। গুড বায়।
আরিয়ান চলে আসতে যাবে। তখনি মেয়েটি চিল্লাইয়া বলল।

মেয়েটিঃ আমার নামও নেহা। তোমাকে আমি দেখে নিব। মাইন্ড ইট।
আরিয়ান পেছনে তাকালো। তারপর বলল
আরিয়ানঃ নাইস নেইম। তবুও ভালো থাকবেন।
আরিয়ান চলে আসল।

সারাদিন চলে গেল
রাতে বিছানায় শুয়ে আছে। কিছুতেই ঘুম আসছেনা। খালি নেহার কথা মনে পড়তেছে।
উফস নেহা তুমি কি পাগল বানাইলা আমাকে এক নজরেই মন কেড়ে নিয়েছ। তোমাকে ছাড়া কিছুই মাথায় আসছেনা। তোমাকে প্রপোজ ও করতে পারব না। কারন আমার জীবন এমনিতেই দূর্বীষহ।

যা চাই তার উল্টোই হয়। প্যারাময় লাইফ। জানিনা সবাই এখন কি করছে। ( মনে মনে ভাবে)
অন্যদিকে আরিয়ানের বাড়িতে,
মিথিলাঃ আমি বুঝিনা ও গেল কোথায়?
আরিয়ানের আম্মুঃ ও গো পুলিশ কি বলল

আরিয়ানের আব্বুঃ কিছুই জানতে পারেনি। মোবাইলটাও নিয়ে যায়নি হারামজাদায়। সারাটা জীবন জ্বালাইয়া গেল।
অন্যদিকে সঞ্জিতা এখন সেই ছেলেটির সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। যে আরিয়ানকে সঞ্জিতার বিয়ের কথা বলে ব্রেক আপ করিয়েছিল।
সঞ্জিতাঃ আমি বিবাহিত তাই না?

ছেলেটিঃ নাহ ( ভয়ে ভয়ে)
সঞ্জিতাঃ ঘামছিস কেন বল। তোর বন্ধুর বউ না আমি? বল তোর বন্ধুর বাড়ি কোথায়?
ছেলেটিঃ জানিনা। আমি কিছু জানিনা।
সঞ্জিতাঃ সত্যি করে বল তোকে কে পাঠাইছে

ছেলেটিঃ আমি জানিনা কিছু
সঞ্জিতাঃ বলবি নাকি লোকজন জড়ো করব।
ছেলেটিঃ না না বলছি আমি( ভয় পেয়ে)
সঞ্জিতাঃ হ্যা বল যলদি

ছেলেটিঃ আপনার সাথে যে ছেলেটি ছিল সে আমাকে এক হাজার টাকা দিয়েছিল। ওগুলো বলার জন্য। এর বেশি আমি কিছু জানিনা। ওনিই আমাকে সব শিখিয়ে দিয়েছিল।
সঞ্জিতাঃ কিহ মিথ্যা বলছিস কেন আরিয়ানের নামে

ছেলেটিঃ নাহ আমার মা অসুস্থ। আমার মায়ের কসম খেয়ে বলছি। যা বলেছি সব সত্যি।
সঞ্জিতাঃ আচ্ছা যা তুই
আরিয়ান তুমি আমার সাথে খেললা? মিথ্যা বলে ব্রেক আপ করেছ। একবার পাই তোমাকে আমি সব শোধ উঠিয়ে নিব। কার জন্য এমন করছিস আমি দেখে নিব ( মনে মনে)
অন্যদিকে আরিয়ান পরদিন,

হোটেল থেকে বেড় হতেই নজর আটকে গেল নেহা কে দেখে।
আজকে নীল শাড়ি হালকা সাজ। চোখ সরাতেই পারছেনা। কিছু একটা টানছে টানছে।
আরিয়ানঃ উহু। তুমি কেন যে আবার সামনে আসলা। আমি চাইনা তোমাকে বুঝনা। আর আসিও না। প্লিজ
বলেই আরিয়ান আবার হোটেলে ডুকে গেল।
হঠাৎ থেমে গেল

আরিয়ানঃ না আমি থাকতে পারব না। এ মেয়ে কে ছাড়া। ঢাকার চিন্তা করে লাভ নাই। গেলেই নিলার সাথে বিয়ে দিয়ে দিবে। প্রিয়ার সাথে ব্রেক আপ করছিই। সাদিয়াও হয়ত এ ক দিনে অন্য কাউকে পেয়ে গেছে। আর রইল সঞ্জিতা ধোকা দিয়ে ব্রেক আপ তো করেছি। ওই ছেলেকেও আর পাবেনা। জানতেও পারবেনা কিছু। আর রইল মিথিলা ওরে তো বল্টু

ভাই প্রচুর ভালোবাসে। বুঝিয়ে শুনিয়ে বিয়ে দিয়ে দেওয়া যাবে। নিলাকে তো কখনই বিয়ে করব না। সো আমার নেহার উপর ট্রাই করা উচিত। দরকার হলে নেহাকে নিয়ে এখানেই স্যাটেল হয়ে যাব। আমার নেহাকেই চাই ( মনে মনে ভাবল)
যেই ভাবা সেই কাজ। আরিয়ান নেহার পেছন লেগে গেল।

টানা দুদিন ফলো করল।
একদিন বিকালে,
আরিয়ান নেহার পেছনে পেছনে হাটছে। হঠাৎ নেহা থেমে গেল। আরিয়ানের দিকে আসতে লাগল। আরিয়ান না দেখার ভান করল।

আরিয়ানের সামনে এসে দাড়ালো।
নেহাঃ কি মিস্টার সমস্যা কি?
আরিয়ান; আমাকে বলছেন?

নেহাঃ তো এখানে আশে পাশে কেউ আছে নাকি?
আরিয়ানঃ নাহ নাই।
নেহাঃ গত দুদিন ধরে পিছু নিচ্ছেন কেন? কি মতলব আপনার
আরিয়ানঃ যদি মাইন্ড না করেন তাহলে বলব

নেহাঃ হ্যা বলুন কেন ফলো করছেন
আরিয়ানঃ আপনি অনেক সুন্দর।
নেহাঃ হ্যা তো?

আরিয়ানঃ I love you..
নেহাঃ What?
আরিয়ানঃ yeah I Love you I Love you and i love you from the core of my heart..

নেহাঃ পাগল নাকি?
আরিয়ানঃ হ্যা পাগল। তোমার রুপ সৌন্দর্য আমাকে পাগল বানিয়ে দিয়েছে।
নেহাঃ ধুর।
বলেই নেহা ওখান থেকে চলে গেল।

রাতে বিছানায় শুয়ে আছে। নেহা ছাড়া মাথায় কিছুই ঘুরছেনা। নেহার একটা ছবি বেড় করল। দেখতে দেখতে কল্পনায় চলে গেল।
চাঁদের সাথে আমি দিব না তোমার তুলনা
নদীর সাথে আমি দিব না তোমার তুলনা

তুমি চাঁদ হতে যদি দূরেই চলে যেতে
তুমি নদী হতে যদি দূরেই চলে যেতে
ফুলের সাথে আমি দিব না তোমার তুলনা

ওলির সাথে দিব না তোমার তুলনা
তুমি ফুল হতে যদি ঝড়েই পড়ে যেতে
তুমি ওলি হতে যদি ওড়েই চলে যেতে
সেকথা যেন তুমি ভূলনা

তুমি যে তোমার তুলনা
কবির সাথে আমি দিব না তোমার তুলনা
ছবির সাথে আমি দিব না তোমার তুলনা।
তুমি কবি হতে যদি সবার হয়ে যেতে

তুমি ছবি হতে যদি কবেই মুছে যেতে
সে কথা যেন ভূলনা
তুমি যে তোমারি তুলনা

ওহো চাঁদের সাথে আমি দিব না তুলনা
আহা নদীর সাথে দিব না তোমার তুলনা।
তুমি যে শুধু তোমারই তুলনা
তারপর ঘুমিয়ে গেল।

পরদিন ঘুম থেকে উঠেই আরিয়ান বেড়িয়ে পড়ে নেহাকে খুজতে।
এ কদিনেও এটা বুঝতে পারেনি নেহা আসে কোথা থেকে। হঠাৎ আসে হঠাৎ হারিয়ে যায়।
খুজতে থাকল নেহা কে। কোথাও নেহাকে খুজে পেলো না। একদিন দুদিন চলে গেল।

আরিয়ানের তো ঘুম উড়ে গেছে। কোথায় চলে গেল নেহা। প্রতিটা হোটেলে খোজ নিল। সাগরের পার তো তন্ন তন্ন করে ফেলেছে।
কোথাও নাই।
হতাশ হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ছবি নিয়ে খুজতেছে।

আরিয়ান রাস্তায় আনমনে হাটছে। হঠাৎ একটা বোরকা পড়া মেয়ে সামনে এসে দাঁড়ালো।
আরিয়ানঃ আপনি?
মেয়েটিঃ আমাকে একটু সাহাজ্য করুন না

আরিয়ানঃ না আমি কোনো সাহাজ্য করতে পারব না। আমি নিজেই একজন কে খুজতেছি পাচ্ছিনা।
মেয়েটিঃ দুটি মন এক করতে সাহাজ্য করবেন না আপনি
আরিয়ানঃ মানে

মেয়েটিঃ মানে আমার বান্ধবী একটা ছেলেকে ভালোবাসে। কেউ মেনে নিচ্ছেনা।তাই বাড়ি থেকে পালিয়েছে ওরা কাজি অফিসে বিয়ে করবে। এখন কয়েকজন সাক্ষি লাগবে। নাহলে কাজি বিয়ে দিচ্ছেনা। প্লিজ একটু সাহাজ্য করুন
আরিয়ানঃ উফস কি জ্বালা। আচ্ছা কোথায় চলুন সাক্ষি হচ্ছি।

ছেলেটিঃ আমার সাথে আসুন।
আরিয়ান মেয়েটির সাথে চলে গেল।
গিয়ে সাক্ষি হিসেবে সাইন করল।

আরিয়ানঃ আমি এখন চলি। ভালো থাকবেন সবাই।
আরিয়ান যেই কাজি অফিস থেকে বেড় হলো। তখনি বোরকা পড়া মেয়েটা সামনে এসে দাড়ালো।
মেয়েটির চোখ দেখে মনে হচ্ছে অনেক দিনের চেনা।

আরিয়ানঃ আবার কি হলো আপনার?
মেয়েটিঃ কোথায় যাবেন?
আরিয়ানঃ আমি কোথায় যাব তা আপনি জেনে কি করবেন?

মেয়েটিঃ আপনি জানেন কি আপনাকে আমি গত তিন দিন ধরে ফলো করছি।
আরিয়ানঃ মানে?
মেয়েটিঃ মানে তুই নিজেকে কি ভাবিস?
আরিয়ানঃ আজব তুই করে বলছেন কেন?

মেয়েটিঃ তোকে আর কি বলব? নিজেকে হিরো ভাবিস? তুই জানিস আমি কে
আরিয়ানঃ আপনি এমন করছেন কেন?
মেয়েটি মুখের কাপড় সরিয়ে ফেলল।

আরিয়ান চেহারা দেখে চমকে গেল।
আরিয়ানঃ তু তু তুমি ন ন ন…?
..
মেয়েটিঃ তোকে আর কি বলব? নিজেকে হিরো ভাবিস? তুই জানিস আমি কে
আরিয়ানঃ আপনি এমন করছেন কেন?
মেয়েটি মুখের কাপড় সরিয়ে ফেলল।
আরিয়ান চেহারা দেখে চমকে গেল।

আরিয়ানঃ তু তু তুমি নেহা তুমি। এভাবে। জানো তোমাকে গত দুদিন ধরে কত খোজা খুজতেছি।
নেহাঃ আহারে সোনামনি টা খুজতে খুজতে টায়ার্ড হয়ে গেছে তাই না
আরিয়ান আর কিছু না বলে সোজা হাটুগেড়ে বসে হাত বাড়িয়ে দিল।

আরিয়ানঃ I love you Neha..I love you so much..
নেহাঃ হুম। জানি আমি। গত দুদিন তোমাকে পরিক্ষা করতেছিলাম আসলেই তুমি আমাকে ভালোবাসো কিনা। আমি তো সেই প্রথম ধাক্কাতেই পিছলে গেছিলাম তোমার প্রেমে। ভালোবাসি আমিও ভালোবাসি তোমাকে।
বলেই আরিয়ানের হাত ধরল। তারপর তো বুঝেনই কি হতে পারে। যা হবার তাই দুজন দুজন কে জড়িয়ে ধরল।

নেহাঃ বাবু আমরা তো দুজন দুজনকে ভালোবাসি তাই না?
আরিয়ানঃ হুম।
নেহাঃ তুমি আমাকে ভালোবাসো তো?

আরিয়ানঃ হুম বাসি।
নেহাঃ তাহলে চলো
আরিয়ানঃ কোথায়?
নেহাঃ আমার আব্বুর কাছে

আরিয়ানঃ তোমার বাবার কাছে কেন?
নেহাঃ কেন মানে কি হ্যা। আমাদের বিয়ের কথা বলতে যাব
আরিয়ানঃ পাগল হয়েছ। মাত্র একদিন হইছে প্রেমের। জমিয়ে কয়েকটা মাস প্রেম করব তারপর বিয়ের কথা ভাবা যাবে।
নেহাঃ প্রেম বিয়ের পরও করা যাবে। আমি এখন যা বলছি তাই হবে। আমি এখনি তোমাকে আব্বুর কাছে নিয়ে যাব। তুমি কথা বলবা।

আরিয়ানঃ ভূলেও না। আমি এখন পারব না।
নেহাঃ কিহ ( রেগে)
আরিয়ানঃ আরে একটা দিন তো সময় দাও।

নেহাঃ ওকে যাও দিলাম। কালকে বিকালে নিয়ে যাব এটা সিউর। কালকে যদি না বলো তাহলে তোমাকে পানিতে যদি না চুবাইছি তাহলে আমার নামও নেহা না।
আরিয়ানঃ আরে হইছ এত রুড হতে হবেনা। এখন একটু হাসো।
নেহাঃ হুম।

অন্যদিকে শাওন এখন জেলে। তুষার আর হাবিব আসছে ছাড়াইতে।
হাবিবঃ ওই বেটা কোন মাইয়া নিয়া ধরা খাইছিলি পুলিশ ধরল কেন তোরে।
শাওনঃ ভাই আর বলিস না। জীবন টা তেজপাতা বানাইয়া দিল ফুলকপি।

হাবিবঃ ফুলকপি? সে তো খাবার জিনিস। সবজি। তুই কি চুরি করতে গিয়া ধরা খাইছিস?
শাওনঃ শালার ভাই এখানে থাপ্পর দিব গিয়া তিথির কোলে গিয়া পড়বি। ফাজলামি করিস তুই। তুই জানোস না কেন এনেছে থানায়

হাবিবঃ আরে রাগিস কেন মজা করতেছিলাম। দেখ ওসির সাথে কেমনে কথা বলে তোকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাই।
তুষারঃ বেশি কথা বলিস না। আগে দেখ ছাড়েনি।
আসলে সেদিন পপিকে যে শাওন থাপ্পর দিছিল। সেটাই কোনোভাবে পপি বাবা জেনে গেছিল। তারপরেই আজকে উঠিয়ে নিয়ে এসে জেলে ভরে রেখেছে।

তুষার ওসির রুমে গেল।
তুষারঃ সালাম ওসি সাহেব ভালো আছেন আংকেল?
ওসিঃ হ্যা ভালো আছি। তোমরা ওই বাটপার টার বন্ধু তাই না।
তুষারঃ খবরদার ওসি সাহেব আমার বন্ধুকে বাটপার বলবেন না। ও আপনার থেকেও ভালো। দেখেই টো বুঝা যাচ্ছে আপনি ঘুষ খান। বাটপার হলে আপনি হবেন।

ওসিঃ কিহ যত বড় মুখ নয় তত বড় কথা। তোকে আমি
হাবিবঃ ওসি সাহেব আমাদের পিস্তলের ভয় দেখাবেন না। এক কালে এই পিস্তল দিয়া আমিও খেলছি।
তুষারঃ ওই কি বলিস। তোকে তো কোনোদিন মশা মারতেও দেখিনাই। তুই পিস্তল দিয়ে খেলেছিস। ( হাবিবের কানে তুষার বলল)

হাবিবঃ আরে শালা ছোট বেলায় ২০ টাকা খেলনা পিস্তল দিয়ে খেলস নাই নাকি। বলদের মতো কথা বলিস কেন। ( তুষার কে বলল)
ওসিঃ তোরা কার সামনে তা ভেবেছিস?
হাবিবঃ আপনি জনগনের চাকর। আপনার কাজই হলো জনগন কে সেফ রাখা। আপনি জানেন কি আমি এখন একটা ফোন দিলে আপনার চাকরি হুমকিতে পড়বে।

তারপর বাকিটা ইতিহাস।
শাওনঃ শালার ভাই শালারা তোদের ইচ্ছা করছে ঝাড়ু দিয়া মারি। কে বলছিল পাকনামি করে ওই পেটলার সাথে ঝগড়া করতে।
তুষারঃ আমি কিছু করিনাই। সব ও করছে।

হাবিবঃ হ এখন সব দোষ নন্দঘোষ। শুরু করছিল কে। আমরা যাই করি তুই শালা ফুলকপির কানে বাজাইতে গেলি কেন। তোর জন্য এখন আমরা বিপদে।
শাওনঃ ধুর বা*** ফুলকপি। ইচ্ছে করছে আরো তিন চারটা দেই। এতদিন নিজে ছিল ঘুষখোর বাপ আমার পেছন ঝুলিয়ে দিছে এখন।

~ কিহ আমার বাবা ঘুষখোর
এটা শুনে সবগুলার চোখ কপালে। পিছনে ফিরে দেখে পপি দাঁড়িয়ে রয়েছে।
শাওন দাঁড়িয়ে গেল।

পপিঃ কিহ আমার বাবা ঘুষখোর তাই না। পচ তোরা সবগুলা জেলেই পচে মরবি
শাওন সোজা গিয়ে পপি কে জড়িয়ে ধরল। গাঢ়ে একটা কিস করল।
শাওনঃ ইশ বাবু ওদের একটু বুঝাও তো সব পুলিশ ঘুষখোর হয়না। ওদের বুঝাতেই পারছি না। ওরা মানে সব পুলিশ ঘুষ।

খায়। সেই কখন থেকে বুঝাচ্ছি। এবার তুমি বুঝাও। আর আই এম সরি বাবু। তোমাকে থাপ্পর দিয়েছিলাম তাইনা কোথায় দিছিলাম এই গালে। ইশ এখনও লাল হয়ে আছে। আই এম সো সরি। আমি দিতে চাইনি। তুমি জোর করতেছিলে তাই ভূলে দিয়া ফেলছি। দেখো তোমার জন্য আমি সারারাত ঘুমাতে পারিনি। চোখ লাল হয়ে আছে। আর কোনোদিন ভূলেও

তোমার গায়ে হাত দিব না। এখন থেকে শুধু পাপ্পি আর কিস দিব। ( এক নাগাড়ে বলে ফেলল কান্না কান্না ভাব নিয়ে)
এসব শুনে পপি ইমোশনাল হয়ে গেল।
পপিঃ ইশ আমার বাবুটা খুব কষ্ট পাইছে। তুমি দুইটা মিনিট দাড়াও। আমি যাব আর আসব।
পপি ওর বাবার কাছে চলে গেল।

তুষার আর হাবিব একসাথেঃ শালা পল্টিবাজ। বলেই থু থু ফেলল।
কিছুক্ষন পরেই পপি এসে গেল।
পপিঃ চলো তোমাদের মুক্তি। আজ থেকে তোমাদের কেউ রাস্তায় দেখলেও ডিস্টার্ব করবেনা।
শাওনঃ ওহ। thank you বাবু।

পপিঃ কিসের thank you.. পাপ্পি দাও
ওদিকে তুষার আর হাবিব এসব দেখে আর দাঁড়িয়ে না থেকে সোজা বেড়িয়ে গেল।
শাওন ও পপি কে পাপ্পি দিয়ে বেড়িয়ে আসল। তারপর বুঝিয়ে শুনিয়ে পপিকে বাসায় পাঠাল। ও তুষার আর শাওনের সাথে যোগ দিল।

তুষারঃ শালা পল্টিবাজ রে। জায়গার মধ্যেই সব উল্টাই ফেলল।
হাবিবঃসব আমাদের উপর চাপিয়ে দিল।
শাওনঃ ইচ্ছে করছে দুইটারেই থাপ্পর দিয়া পানিতে ফেলে দেই। ওই বেটা আমি যদি পল্টি না নিয়া পপিকে পাম না দিতাম তাহলে এখন ছাড়া পাইতি নাকি? আর আমাদের বাবা মায়ের কাছে আমাদের যেই ইজ্জত জীবনেও আসবেনা ছাড়াইতে উল্টা বলবে ঘরের ইদুর একটা কমছে।

তুষার আর হাবিব শাওনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।
শাওনঃ এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন? জড়িয়ে ধরবি ধর। আটকাইছে কে।
তারপর আর কি
হাবিব দিল ডান গালে তুষার দিল বাম গালে।
হাবিবঃ শালা

তুষারঃ আজকের মতো মাফ করলাম।
ওরা চলে গেল।
শাওনঃ থাপ্পর দিল কেন? আমি ভূল কি বলছি? ( মনে মনে)
অন্যদিকে আরিয়ান,

রুমে শুয়ে আছে। ভাবছে কাল নেহার বাবার সামনে যাবে। কি হবে। আমার কি যাওয়া উচিত? গেলে আবার ভূল হবেনা তো? কোনো বিপদে পড়ব না তো?
এসব ভাবতে ভাবতেই আরিয়ান ঘুমিয়ে গেল।
পরদিন সকালে,

নেহা হোটেলে আরিয়ানের রুমে এসে দেখে আরিয়ান নাই। চিন্তায় পড়ে গেল। গেলো কোথায় আরিয়ান। রিসেপশনে খবর নিয়া দেখে আরিয়ান চলে গেছে। এভাবে না বলে চলে যাওয়ার কারন নেহার মাথায় ডুকল না।
ওদিকে আরিয়ান এখন ঢাকায়। নিজের বাসায় চলে এসেছে। গত কাল রাতেই ট্রেনে করে চলে এসেছে। কারন নেহার বাবার সামনে যেতে ওর বিবেকে বাধছিল। ঘুরতে গিয়া বিপদ কান্দে নিয়া ফেলছে বুঝতে বাকি ছিল না।

আরিয়ান কে দেখেই আরিয়ানের বাবা মা খুশিতে কেঁদে দিল। আরিয়ান তাদের কে বুঝিয়ে শুনিয়ে শান্ত করল।
নিজের রুমে আসতেই মিথিলা রুমে আসল,

আরিয়ানঃ তুমি।
মিথিলাঃ নিজেকে হিরো ভাবিস?
আরিয়ানঃ হুম আমি তো হিরোই।

মিথিলাঃ ফাজলামি চলে। এভাবে না বলে কেউ যায়। তুই জানিস আন্টি আংকেল কত কষ্ট পেয়েছে।
আরিয়ানঃ হুম জানি। তুই এখন বাহিরে যা আমি রেস্ট নিব।
মিথিলাঃ সে নে। তবে নেক্সট টাইম এমন আর করিস না।
আরিয়ানঃ হুম যা।

পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে রুমের বাহিরে আসতেই। ড্রয়িং রুমে দেখে নিলার বাবা মা কাকা কাকি বসে আছে। নিলাও আছে। কান পাততেই বুঝতে পারল বিয়ের কথা চলতেছে।
সবাইকে সালাম দিলো আরিয়ান।
তারপর আবার রুমে চলে আসল।

কি হচ্ছে বুঝলাম না। আমি এতদিন ছিলাম না তাতেও ওনাদের কিছু যায় আসেনি। এসে আমাকে দেখতে চায়নি। আমি ফিরছি তার পাত্তা নাই এখন বিয়ের বিষয়ে কথা বলছে। হায়রে আমি এ কোন দুনিয়ায় আছি( আরিয়ান মনে মনে)
এমন সময়েই নিলা রুমে আসল।

নিলাঃ কি বাবু কেমন আছ? কেমন লাগছিল কক্সবাজার?
আরিয়ানঃ আমি কক্সবাজারে গেছি তুমি জানলা কিভাবে?
নিলাঃ সে জানি। সেখানে আবার কোনো মেয়েকে ফাঁসিয়ে আসো নাই তো?.
আরিয়ানঃ কিহ

নিলাঃ কিছুনা।
নিলা আরিয়ানের পাশে এসে বসল।
নিলাঃ তুমি জানো তোমাকে কত মিস করেছি। কোথায় কোথায় তোমাকে খুজেছি কল্পনাও করতে পারবানা। পালানোর খুব শখ তাই না। তাই তো আর পরিক্ষা পর্যন্ত অপেক্ষা করব না। আগামী তিন দিনের মধ্যেই আমাদের বিয়ে দেওয়া হবে। তারপর দেখব কোথায় পালাও।

বলেই আরিয়ানের গালে একটা কিস দিয়ে চলে গেল।
নিলার হঠাৎ এমন পরিবর্তন দেখে আরিয়ান অভাক হয়ে গেল। কি হলো আবার এর।

একটু পরেই বাবা মা আসল। বলে গেল আগামী শুক্রবার আরিয়ানের বিয়ে। আরিয়ান না করলেও শুনেনাই।
যাহোক আরিয়ান বাসা থেকে বেড় হলো বন্ধুদের সাথে দেখা করতে।
চায়ের দোকানে যাবে। হাটছে।

হঠাৎ সামনে এসে সঞ্জিতা দাড়ালো। সঞ্জিতা দেখে আরিয়ান অভাকই হলো।
আরিয়ানঃ তুমি
সঞ্জিতাঃ হুম আমি। নাটক খুব ভালো করতে পারিস তাই না?
আরিয়ানঃ কিসের?

সঞ্জিতাঃ কিসের বুঝিস না। সেদিন পার্ক এর ছেলেটা কে ছিল? তোর ভাড়া করা ছিল না?
।আরিয়ানঃ আহ। আমি ভাড়া করেছি ও জানলো কিভাবে। গোলমাল লেগে গেল দেখছি( মনে মনে)
সঞ্জিতাঃ ভাবছিস আমি জানলাম কিভাবে তাই তো। আমি সেই ছেলেটার মুখ থেকেই শুনেছি। আজকে তোকে আমি


পর্ব ৯

আরিয়ানঃ কিসের?
সঞ্জিতাঃ কিসের বুঝিস না। সেদিন পার্ক এর ছেলেটা কে ছিল? তোর ভাড়া করা ছিল না?
।আরিয়ানঃ আহ। আমি ভাড়া করেছি ও জানলো কিভাবে। গোলমাল লেগে গেল দেখছি( মনে মনে)
সঞ্জিতাঃ ভাবছিস আমি জানলাম কিভাবে তাই তো। আমি সেই ছেলেটার মুখ থেকেই শুনেছি। আজকে তোকে আমি চল আমার সাথে।
একটা রিকশা ডাক দিল।
আরিয়ান কে রিকশায় উঠতে বলল। সঞ্জিতা উঠে গেল। তারপর নিরিবিলি একটা জায়গায় আসল।

রিকশা থেকে নামল।
সঞ্জিতাঃ চলো
আরিয়ানের হাত ধরে লেকের পাড়ে নিয়ে আসল।
দুজন দাঁড়িয়ে রয়েছে পানির দিকে তাকিয়ে।

সঞ্জিতাঃ জানো অনেক আশা নিয়ে এসেছিলাম। ভেবেছিলাম তুমি আমার জন্য অপেক্ষা করছ। কিন্তু না আমি ভূল ছিলাম।
আরিয়ান চুপ করে আছে।
সঞ্জিতাঃ জানো তোমাকে পেয়ে আমি কত খুশি হয়েছিলাম যা বলে বুঝাতে পারব না।
আরিয়ান চুপ করেই আছে।

সঞ্জিতাঃ তুমি যখন আমার সাথে থাকতা আমি ফিল করতাম আমি দুনিয়ার সব থেকে হ্যাপি মানুষ। বিশ্বাস করো আমি বুঝতেই পারিনি তুমি সব ইচ্ছার বিরুদ্ধে করতেছ। ছেলেটার মুখে যখন শুনেছি তুমি আমার সাথে সম্পর্ক ক্লোজ করার জন্য সব করেছ। প্রথমে খুব রাগ হয়েছিল। পরে যখন মনে পড়ল আমি তোমাকে কিভাবে ছেড়ে গেছিলাম। তোমার থেকে ভালোবাসা আশা করাটাই ভুল ছিল।

আরিয়ানঃ কিন্তু আমি
সঞ্জিতাঃ আজ তুমি কিছু বলবেনা। আমি বলব। আমি জানি তুমি আমাকে প্রচন্ড ভালোবাসতে। কিন্তু আমি মিস করে ফেলছি। তুমি এখন আর আমাকে ভালোবাসো না। একটু বাসো না। আশা করাই যায়না। আমি ভূল ছিলাম।
আরিয়ানঃ সঞ্জিতা..

সঞ্জিতাঃ হুম ওয়েট। আমি জানি নিলার সাথে তোমার বিয়ে ঠিক হয়ে আছে। আর নিলাকেও তুমি প্রচন্ড ভালোবাসো। আমি চলে যাচ্ছি টাঙাইল। সেখানেই বাকিটা সময় কাটিয়ে দিব।
আরিয়ানঃ আই এম সরি সঞ্জিতা। আমি আসলে এরকম করতে চাইনি।

সঞ্জিতাঃ জানি তোমার আমার প্রতি টান আছে। তবে ভালোবাসা টা নাই। সো নো চিন্তা। বাবা মায়ের পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করে নিব। খুব ভালোই থাকব।
আরিয়ানের অজান্তেই চোখ থেকে পানি বেড়িয়ে গেল।
সঞ্জিতাঃ তোমাকে লাস্ট বার জড়িয়ে ধরতে পারি?

আরিয়ানঃ হুম।
সঞ্জিতা আরিয়ান কে জড়িয়ে ধরল।
আরিয়ানঃ দোয়া করি তুমি খুব ভালো থাকো। ইনশাল্লাহ আবার দেখা হবে।
সঞ্জিতা আর কান্না রুখতে পারল না। কেঁদেই দিল।
আরিয়ান কে কিছু বলতে না দিয়েই।

সঞ্জিতাঃ বায় ভালো থেকো।
সঞ্জিতা কাদতে কাদতে চলে আসল।
আরিয়ানের চোখ থেকেও পানি বেড়িয়ে পড়ল।
এমন সময় কল আসল। দেখল আব্বু কল দিছে। আরিয়ান রিসিভ করল

আরিয়ানঃ হ্যা আব্বু
আব্বুঃ কোথায় তুই?
আরিয়ানঃ এই তো একটু দূরে আছি। কেন বলো?
আব্বুঃ বাসায় আয়। শপিং করতে যেতে হবে।

আরিয়ানঃ শপিং কেন?
আব্বুঃ কেন আবার? শুক্রবার তোর বিয়ে শপিং করতে হবেনা?
আরিয়ানঃ ওহ। তোমরা যাও।
আব্বুঃ তোকে আমি আধা ঘন্টার মধ্যে বাসায় আসতে বলেছি চলে আসবি। এক সেকেন্ড দেরি হলে খবর আছে।
বলেই ফোন কেটে দিল।

আরিয়ান দেরি না করে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিল।

বাসায় পৌছে দেখল নিলা আর মিথিলা রেডি হয়ে রয়েছে।
আরিয়ানঃ আমি ওদের সাথে যাব?
আম্মুঃ হ্যা সবাই যাচ্ছি।

আরিয়ানঃ ওহ। আমি না গেলে হয়না?
আম্মুঃ নাহ তোকে লাগবেই।
আরিয়ানঃ তাহলে শাওন আর তুষার কেও ডেকে নেই।

চিন্তা মতো ওদের ফোন দিল। বাসায় আসতে বললাম।
শাওন তুষার চলে আসল,
আরিয়ানঃ হাবিব কই রে?

শাওনঃ ওর কথা কইস না। আন্টিরে নিয়া আছে।
আরিয়ানঃ আন্টি মানে
শাওনঃ আরে ওই যে আন্টির ভাই এর মাইয়া একটা পটাইছে সারাদিন ওর পিছেই লেগে থাকে। ছ্যাকা খাইলেই বুঝতে পারবে মাইনকা চিপা কাকে বলে।

আরিয়ানঃ আচ্ছা বাদ দে।
সবাই মিলে শপিং এ গেল।
নিলা মিথিলা আর আম্মু আব্বু একের পর এক জিনিস দেখছে।
শাওনঃ আরিয়ান আমি যা দেখছি তুই কি তা দেখছিস?

তুষারঃ আরে বেটা ওয়ান টুর পোলাপানের মতো কি ছোট কালের সেই খেলা এত বড় হইয়া এখন বলিস।
শাওনঃ আরে আমি খেলছি না। সামনে দেখ
আরিয়ানঃ কি সামনে
আরিয়ান সামনে তাকিয়েই অভাক। হা হয়ে গেল।
আরিয়ানঃ ছেলেটা কে?

শাওনঃ তোর গালফ্রেন্ড তুই না বলতে পারবি। আমি কেমনে বলব
তুষারঃ ইশ কিভাবে হাতে হাত ধরে কফি খাচ্ছে। আহ পুরা যেন জামাই বউ
আরিয়ানঃ তোরা ভাবছিস আমি জ্বলছি। আমি জ্বলছি না। সাদিয়ার প্রতি আমার কোনো ফিলিংসই নাই। তবে আমাকে খুব জ্বালাইছে। এবার দেখ কি করি।

আরিয়ান ওদের সামনে গিয়ে উপস্থিত হলো। চেয়ার টেনে বসল।
আরিয়ানঃ হাই সুন্দরী how are you?
সাদিয়া আরিয়ান কে দেখে অভাকই হলো।
সাদিয়াঃ আরিয়ান তুমি

আরিয়ানঃ হ্যা সুন্দরী ম্যম। আমি কেমন আছ সোনা। এই বাটপার টা কে?
ছেলেটিঃ what the hell? বাটপার কে? আর সাদিয়া ওনি কে?
সাদিয়াঃ ইয়াশ ওয়েট আমি তোমাকে সব বলছি। একটু চুপ থাকো।
আরিয়ানঃ কি বলবা ওরে? যে তুমি আমার গালফ্রেন্ড?

ছেলেটিঃ কিহ গালফ্রেন্ড মানে?
আরিয়ানঃ গালফ্রেন্ড মানে বুঝনা?
সাদিয়াঃ Stop Stop.. ( চিল্লাইয়া)
সবাই চুপ হয়ে গেল।

সাদিয়াঃ আরিয়ান আমি তোমাকে ভালোবাসিনা। কখনও বাসিও নাই। আমি যা করেছি নিলার কথামতো করেছি। সব নিলার প্ল্যান ছিল। তোমাকে জ্বালানোর। তোমাকে প্যারায় ফেলার জন্য নিলাই এইসব করতে বলছিল আমাকে।
আরিয়ানঃ কিহ

সাদিয়াঃ হ্যা সত্যিই। বিশ্বাস না হলে নিলাকে জিগাসা করো গিয়া। তবুও প্লিজ এখানে আমার বিয়ে ভেঙোনা। ও আমার হবু বর।
আরিয়ানঃ ওহ শিট। ইচ্ছে করছে কানের নিচে দেই। কেউ জ্বালাইতে বললেই জ্বালাইতে হবে নাকি?
শাওনঃ দে কানের নিচে দে। ওইদিন অফিসে আইসা আমাদের কানটাও জ্বালা পালা করে দিছিল।
সাদিয়াঃ আমি কিচ্ছু করিনাই। সব নিলার দোষ। প্লিজ ভাইয়া আমাকে ক্ষমা করে দিন।

আরিয়ানঃ ওকে। বাট তোমাকে যেন আমার সামনে না দেখি আর।
ওরা ওখান থেকে চলে আসল।
শাওনঃ ভাইরে ভাই নিলা কি খেলা টাই খেলছে। নিজে তো জ্বালাইছে সাথে সাদিয়াকেও জ্বালাইতে পাঠিয়েছিল। তুই ওরে বিয়ে করে থাকবি কিভাবে?

তুষারঃ মাইয়া তো না যেন আগুনের গোলা।
আরিয়ানঃ আমিও কম যাইনা বন্ধু। আমিও খেলব।
শাওনঃ তোমার খেলার দৌড় আমরা জানি। কি করতে যাস কি হয়ে যায়।
আরিয়ানঃ ইনসাল্ট করছিস?

শাওনঃ নাহ মজা নিচ্ছি।
যাহোক শপিং করে সবাই বাড়ি তে ফিরে আসল।
রাত হয়ে গেছে।
আরিয়ান রুমে এসে শুইল। এমন সময়েই মিথিলা আসল,

মিথিলাঃ আরিয়ান আমার একটা কাজ করে দিতে হবে
আরিয়ানঃ কি?
মিথিলাঃ আমাদের বাড়িতে একটু বল্টুর কথা বলবি?
আরিয়ান শুয়া থেকে দাঁড়িয়ে গেল।

আরিয়ানঃ ব ব ব বল্টুর কথা?
মিথিলাঃ এত অভাক হচ্ছিস কেন? আমি সিদ্ধান্ত নিছি বল্টুকেই বিয়ে করব
আরিয়ানঃ কিহ

মিথিলাঃ আরে তুই তো জানিস না। বল্টু কয়েকদিন আগে আমাকে পাবেনা বলে বিষ খাইছিল। আহারে বেচারা। এদিকে তোর সাথে আমার হবেনা। তাই আর কি করব বল্টু কে একসেপ্ট করে নিছি। এখন আমাদের বিয়ের দায়িত্ব তোর নিতে হবে।

আরিয়ানঃ হিহি সোনা তুমি তো জানোনা। বল্টু ভাইকে বিষ খাওয়ার নাটক আমিই করতে বলছিলাম ( মনে মনে)
মিথিলাঃ কি হলো কিছু বলছিস না যে?
আরিয়ানঃ ও হ্যা করব করব। তোর পুরা বিয়ের সব কাজ আমিই করব।

মিথিলাঃ ওহ সোনা ভাই আমার। গুলুমুলু। আচ্ছা শুন তোকে খালাম্মা ডাকে।
আরিয়ানঃ যাও আসতেছি।
মিথিলা চলে গেল
আরিয়ান খাটে বসে গেল।

আরিয়ানঃ হচ্ছেটা কি? সঞ্জিতা চলে গেল ওদের গ্রামে। একটা প্যারা শেষ। শপিং মলে সাদিয়ার কাহিনি শেষ। যদিও নেপথ্যে নিলা ছিল। এখন আবার মিথিলা বাহ আরিয়ান বাহ তোর কপাল তো খুলে গেছে। সব প্যারা শেষ। যাই মা কি বলে শুনে আসি ( মনে মনে)

আরিয়ান শুনতে গেল।
আরিয়ানঃ আম্মু ডাকছিলে?
আম্মুঃ হ্যা নিলাকে ওদের বাড়িতে দিয়ে আয়।
আরিয়ানঃ আচ্ছা ঠিক আছে।

আরিয়ান বাইক টা বেড় করল। নিলাকে নিয়ে বেড় হলো।
একটা ফাকা জায়গা পেয়ে আরিয়ান বাইক থামালো।
নিলাঃ কি হলো থামালে কেন?
আরিয়ানঃ নামো বলছি।

নিলা নামল। আরিয়ান ও নামল।
নিলাঃ কি হয়েছে?
আরিয়ানঃ সাদিয়াকে তুমিই আমার পিছু লাগিয়েছিলে তাই না?
নিলাঃ নাহ তো কে বলছে

আরিয়ানঃ মিথ্যা বলবানা। আমাকে সাদিয়াই সব বলেছে
নিলাঃ ওহ। ও বলে দিছে। তাহলে আর কি হ্যা আমিই করছি
আরিয়ানঃ আমাকে জ্বালানোর খুব শখ তাই না?

নিলাঃ হুম। মেয়ে দেখলেই খালি প্রেম করতে মন চায়। তো আর কি দেখাইলাম প্যারা কাকে বলে। এমন প্যারা দিছি যার জন্য কক্সবাজারে পালাইতে হইছে। ( হাসতে লাগল)
আরিয়ানঃ মজা নিচ্ছ তাই না

নিলাঃ কি করবা করলে
আরিয়ানঃ কি করব দেখতে চাও
আরিয়ান এক পা আগাচ্ছে নিলা এক পা পিছুচ্ছে।
এক সময় নিলা দেয়ালের সাথে লেগে গেল।

আরিয়ান নিলার হাত চেপে ধরল। তারপর আর কি তা বুঝতেই পারছেন।লিপ কিস করে ফেলেছে।
কিছুক্ষন পর ছেড়ে দিয়ে আরিয়ান বাইকে এসে বসল। বাইক স্টার্ট করল।
আরিয়ানঃ আজকে ১০০ ভাগের সামথিং দেখাইলাম। বাকিটা দেখতে পাবা বিয়ের পর।
নিলা কিছু না বলে বাইকে এসে বসল।

আরিয়ান নিলাকে বাড়িতে দিয়ে সোজা বাসায় চলে আসল।

পরদিন,

শাওনঃ কিরে এত সকাল সকাল অফিসে ডাকলি
আরিয়ানঃ আজ থেকে এক্স বয় ফ্রেন্ড বলতে কোনো সংগঠন থাকবেনা।
তুষারঃ কেন?

আরিয়ানঃ এই সংগঠন মানেই প্যারা। শালার জীবন টা ত্যানাত্যানা কইরা ফেলছিল। এখন যখন সব ঠিক হয়ে গেছে। আর চাইনা নতুন করে কোনো প্যারা আসুক। সো এটা বন্ধ করাই ভালো।
তুষারঃ আসলেই। আজ থেকে বন্ধ এটা। আজাইরা সংগঠন। কোনো কাজ নাই কিছু নাই। হুদাই। এর কাজ কি “ছিল তাই জানলাম না আজও। এটা বন্ধই ঠিক আছে। আমি একমত।

তারপর আর কি। তালা পড়ে গেল অফিসের দরজায়। এক্স বয়ফ্রেন্ড বলে কোনো সংগঠন আর নেই।

বিয়ের দিন,

আরিয়ান চেয়ারে বর সেজে বসে আছে। চারদিকে সবাই কত আনন্দ করছে। হৈ হুল্লোড় করছে। আর আরিয়ান মুখে হাত দিয়ে বসে আছে।

হঠাৎ একজন কে দেখের চোখ কপালে উঠে গেল। মেয়ে মেয়ে আর কেউ নয় নেহা। নেহা এখানে।
আরিয়ানঃ আমি গেলাম ভাই বিদায় পৃথিবী। আজকে আমাকে টুকরো টুকরো করে কেটে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হবে তা ১০০% সিউর। ( মনে মনে)

আরিয়ান দাড়িয়ে গেল।
তুষারঃ কিরে দাঁড়িয়ে গেলি কেন?
আরিয়ানঃ দুই নাম্বার চাপ দিছে জোরে।

তুষারঃ ইশ শালা বিয়ের অনুষ্ঠানেও।
আরিয়ানঃধ্যাত শালা কখন আসবে বলে আসবে নাকি। সর ওয়াশরুম যাব।
আরিয়ান কোনোরকমে মুখ ঢেকে পালিয়ে ওয়াশ রুমে এসে ডুকল।

আরিয়ানঃ কি কপাল ভাই। বিয়ে করতে এসে বাথরুমে বসে থাকতে হচ্ছে। বেড় হলে নেহার সামনে পড়লে আমার মরতে হবেনা। আমাকে এমনিতেই মেরে ফেলা হবে। আমি শেষ। এখন আমি কি করব? কিছু বলেন ভাই কি করব আমি? এ চিপা থেকে কিভাবে বাচব?

আরিয়ানঃ কি কপাল ভাই। বিয়ে করতে এসে বাথরুমে বসে থাকতে হচ্ছে। বেড় হলে নেহার সামনে পড়লে আমার মরতে হবেনা। আমাকে এমনিতেই মেরে ফেলা হবে। আমি শেষ। এখন আমি কি করব? কিছু বলেন ভাই কি করব আমি? এ চিপা থেকে কিভাবে বাচব?

তুষারঃ ওটা নিপা না
শাওনঃ হ রে একটা জিনিসই। আপসোস আমি পাইলাম না।
তুষারঃ পাস নাই কিভাবে? পাইছিলি তো তুইই ব্রেক আপ করেছিস।

শাওনঃ আর মনে করাইস না। অন্য মেয়েগুলাকেও দেখ। একেক টা কি জিনিস। আল্লাহ যে এদের কি দিয়া পয়দা করছে।
তুষারঃ মাটি আর পানি দিয়াই।
শাওনঃ নারে স্পেশাল কিছু তো দিছেই। ইশ যেটাই দেখি কলিজায় লাগে রে ভাই। ইচ্ছে করছে সবাই কে নিয়ে হারিয়ে যাই। আমি রাজা আর সবগুলা আমার রানি।

এমন সময়েই শাওনের কানে কেউ ধরল।
শাওনঃ কোন শালায় রে
বলে পিছনে তাকাতেই দেখে পপি।
জিহ্বায় কামড় দিল শাওন।

শাওনঃ ওহ বেবি তুমি। কখন আসলে?
পপিঃ আমি কখন আসছি সেটা বড় কথা নয়। তুই কি বলতেছিলি?
শাওনঃ কই সোনা। আমি কিছু বলিনাই তো।
পপিঃ আমি সব শুনেছি কিন্তু

শাওন পপির হাত ধরল। তারপর আলাদা করে একটা রুমে নিয়ে গেল।
পপিঃ কি হইছে এখানে এনেছ কেন?
শাওনঃ বাবু তোমাকে আজ যা লাগছে না। একদম হুর পরী।

পপিঃ ইশ এভাবে বলোনা লজ্জা লাগে আমার।
শাওন পপি কে দেয়ালে ঠেকালো
পপিঃ কি করছ

শাওনঃ দেখছি তোমাকে। আমার বাবুটা কত সুন্দর।
পপিঃ দূর বেশি বলছ।
শাওনঃ একদমি না। আমার তো ইচ্ছে করছে
পপিঃ কি

শাওনঃ ইয়ে করতে।
পপিঃ একদম না। বিয়ের আগে কিছু নয়।
শাওনঃ ধরেছি যেহেতু আর ছাড়ছিনা।
বাকিটা আর বলা লাগবেনা বুঝে নিয়েন।

আধাঘন্টা হয়ে গেছে। বর খুজে পাওয়া যাচ্ছেনা। সবাই কানাকানি করা শুরু করল। কেউই বুঝতেছেনা বর গেল কোথায়?
সবাই বরকে খুজতে লাগল।

তুষার ও খুজতেছে। আনমনে একের পর এক জায়াগায় যাচ্ছে। হঠাৎ খেলো ধাক্কা।
ধাক্কা তুষার পড়ে গেল। চোখ মেলে সামনে তাকাতেই তুষার ক্রাশ খেয়ে বসল। চোখ নাড়াতেই পারছেনা।
তুষারঃ তু তুমি আরিয়ানের খালাতো বোন তিশা না?

  • হুম
    তুষারঃ এত সুন্দর কবে হলে তুমি?
    তিশাঃ সুন্দর আমি আগে থেকেই ছিলাম। আপনিই নজর দেন নি। পাত্তা দেন নাই।
    তুষারঃ আমার জন্য ওই অফার টা কি এখনও আছে?
    তিশাঃ আছে মানে। আমি তো এখনও আপনাকেই ভালোবাসি।

তুষারঃ ইশ কেন যে তখন একসেপ্ট করলাম না। ভালো করে তাকালেই হতো।
(আসলে তিশা একবার আরিয়ানের বাসায় বেড়াতে আসে। তখনি তুষার কে দেখে। পছন্দ করে ফেলে। তুষার এসব জানিত না। তুষার তখন দেখেছিল কিন্তু ওমন ভাবে নয়। পরবর্তীতে তিশা চলে যায়। যাওয়ার আগে তুষারের নাম্বার সহ সব যোগার করে নিয়ে যায়। এবং ফোনে তুষার জ্বালায়। প্রপোজ করে। তুষার রিজেক্ট করে দেয় তখন)

তিশাঃ তো এখনও কি তাকিয়েই থাকবেন
তুষারঃ অনুমতি দিলে জড়িয়ে ধরব।
তিশাঃ তো ধরেন আমি আটকে রেখেছি নাকি।
তুষার তিশা কে জড়িয়ে ধরল।

কিছুক্ষন পর মনে পড়ল যে ও আরিয়ান কে খুজতেছে।
তিশা কে ছেড়ে দিল।
তিশাঃ কি হলো ছাড়লেন কেন?
তুষারঃ আরিয়ান কে খুজতে হবে। শালায় কোথায় যে গেল।

তিশাঃ শালা নয় সমুন্দি বলেন। সে আমার বড়
তুষারঃ সে যাই হোক। খুজতে তো হবে। তুমি যাও এখন। পরে কথা বলব।
অন্যদিকে আরিয়ান এখনও ওয়াশরুমেই বসে আছে গালে হাত দিয়ে।
আরিয়ানঃ সবই কপাল। বিয়ে করতে এসে ওয়াশরুমে বসে আছি। বাহ আমি যে কত ভাগ্যবান। দূর ছাই কি গন্দ। কোন শালায় রে পাশের টায়।

~ ও মশাই গালি দিয়েন না। খাওয়া বেশি হইয়া গেছে। তাই ইয়ে হচ্ছে।
আরিয়ানঃ কয় বছর খান না মিয়া। যান আবার খান।
এমন সময় তুষার আরিয়ান বলে ডাকা শুরু করল।

আরিয়ান দরজা খুলে একটু মাথা বেড় করল। দেখল তুষারই ডাকছে।
আরিয়ান বেড় হলো। তুষার ও দেখল।
তুষারঃ সমুন্দির ভাই সমুন্দি কি খাইছত যে এক ঘন্টা ধরে ওয়াশরুমে তুই। ওইখানে তো সবাই তোকে খুজতে খুজতে হয়রান।

আরিয়ানঃ তুই আমাকে সমুন্দি ডাকছত তো। যা আমার কোনো একটা মামাতো খালাতো কাকাতো ফুফাতো বোন তোর নামে লিখে দিলাম। তবুও আমাকে বাচা ভাই।
তুষারঃ তোর কি হয়েছে?
আরিয়ানঃ নেহা এখানে চলে এসেছে

তুষারঃ কোথায়?
আরিয়ানঃ কোথায় আবার এখানেই। আমাকে দেখলে নগত কাহিনি ঘটে যাবে। আমাকে কেউ বাঁচাতে পারবেনা।
তুষারঃ ধুর বেটা। বিয়া বাড়িতে আসছে। বিয়ে বাড়িতে সবাই আসেই তো খাইতে। এতক্ষনে হয়তো পেট ভোজন করে চলেও গেছে। তুই এই কারনে এখানে এসে পালিয়ে ছিলি

আরিয়ানঃ হুম( মাথা নেড়ে)
তুষারঃ চল এখন ষ্টেজে।
আরিয়ানঃ চারপাশে নজর রাখ কোথাও আছে কিনা।
তুষারঃ হুম চল।

আরিয়ান আর তুষার চারদিকে তাকাতে তাকাতে ষ্টেজে গেল।
আরিয়ান ফিরে এসেছে দেখে সবাই শান্ত হলো। আরিয়ান ভয়ে ভয়ে আছে। কখন নেহা এসে কোন বেজাল লাগিয়ে দেয়।
যাহোক দেখতে বিয়ে হয়ে গেল। নেহা ও আসল না। সব ঠিক ঠাক হয়ে গেল।
আরিয়ান বউ নিয়ে বাড়ি ফিরল।

চিন্তামুক্ত হলো। আর দোয়া করল। নেহা যেন আর কোনোদিন সামনে না আসে। নাহলে নিলা যে পরিমান দাজ্জাল। আমাকে মেরে ফেলবে ডিরেক্ট।
শাওনঃ কিরে তোর কিসের এত চিন্তা?

তুষারঃ ওর তো আজ থেকে চিন্তা আরো বেড়ে গেল।
হাবিবঃ নিলা যেই চিজ। ভাই তোর কি হবে আমার ভাবতেই গা শিয়রে উঠছে।
আরিয়ানঃ তুই শালা চুপ থাক। সারাদিন তো থাকিস গালফ্রেন্ড এর চিপায়।
শাওনঃ সবাই এখন মোনাজাত ধর।

তুষারঃ কেন
শাওনঃ কেন আবার।ও যার জন্য শহর ছেরে পালিয়েছিল তার সাথেই এখন বাসর করবে। কাহিনি টা কি হবে ভেবেছিস একবারও?
আরিয়ানঃ ভয় দেখাচ্ছিস?
শাওনঃহুম। তাই তো তোর জন্য এক্সট্রা দোয়ার আয়োজন করছি।
আরিয়ানঃ ওরে কেউ থামা নাইলে কিন্তু ওর লাশ ফেলে দিব আমি।

শাওনঃ হুজুর ভিতরে আসুন।
একজন হুজুর আসল।
সবাই হুজুরকে দেখে অভাক।
তুষারঃ তুই আসলেই?

শাওনঃ আরে আমার বন্ধু বিয়ে করছে। আর আমরা আলাদা করে মোনাজাত করব না ওর সুখের জন্য তা কি হয়। হুজুর সাহেব দোয়া শুরু করুন।
আরিয়ানঃ ইচ্ছে করছে তোকে আমি

শাওনঃ ওহে বৎস করিয়া প্রেম এখন খাচ্ছ বাশ তবুও কেন কমছেনা তোমার জেদের পরিমান। যাহোক হুজুর শুরু করুন।
হুজুর মোনাজাত শুরু করল।
মোনাজাত শেষ হলো। হুজুর চলে গেলেন।
এমন সময়েই ভিতরে প্রিয়া প্রবেশ করল।

প্রিয়া কে দেখে আরিয়ান দাঁড়িয়ে গেল।
আরিয়ানঃ তুমি?
প্রিয়াঃ আমি মানে কি? তুমি কাজ টা ঠিক করেছ?
আরিয়ানঃ কি করলাম আমি?
প্রিয়াঃ কি করছ বুঝ না?

আরিয়ানঃ তোমার সাথে তো ব্রেক আপ হয়েছে। সো কি ভূল করলাম?
প্রিয়াঃ ওটাই ভূল হয়েছে। এখন দেখবা আমার খেলা। কি ভাবছ আমি এত সহজে তোমাকে ছেড়ে দিব। খুন করে ফেলব। দরকার পরলে কিডন্যাপ করব। জাস্ট মাইন্ড ইট। আমি তোমাকে ছাড়ছিনা।
বলেই প্রিয়া রুম থেকে চলে গেল।

সবাই হা হয়ে আছে।
শাওনঃ তুই প্রিয়ার সাথে সব শেষ করস নাই?
আরিয়ানঃ সেটা তো কক্সবাজারে যাওয়ার আগেই শেষ করেছি।

হাবিবঃ কুত্তা ভাগ্য রে তোর। খালি আসেই। বিয়ের পরও না জানি কত কি দেখা লাগতে পারে।
আরিয়ানঃ শালা চুপ থাক।
তুষারঃ আচ্ছা যাইহোক। অনেক রাত হয়ে গেছে। ওদিকে বাসর ঘরে বিড়াল বসে আছে। বিড়াল মারতে যা। নাহলে কখন যে বিড়াল আবার বাঘ হয়ে যাবে বলা যায়না।

সবাই হাসতে লাগল।
আরিয়ানঃ মজা নিচ্ছ তাই তো। সময় আমারো আসবে।
শাওনঃ আসবে না।আমরা এমন জায়গায় জায়গায় গালফ্রেন্ড জন্ম দিয়ে রাখিনাই। তুমি রাখছ তাহার ফল তুমি ভূগতেছ
আরিয়ানঃ শালা কে বি।

শাওনঃ ধুর বেটা যা তো বিড়াল মারতে যা। আমি পপির কাছে যাইতাম। বাবুটা অপেক্ষা করতেছে।

আরিয়ান ভয়ে ভয়ে বাসর ঘরে ডুকল। বাসর ঘরে ডুকেই চমকে উঠল।
খাটে দুজন বসে আছে। বড় বড় ঘুমটা টানা।
আরিয়ানের উপস্থিতি বুঝতে পেরে দুজনেই খাট থেকে নামল। আরিয়ান কে সালাম করল।
আরিয়ান ঘামতেছে।

আরিয়ানঃ হচ্ছে টা কি? দুজন কেন? বিয়ে কি দুইটা করলাম নাকি? যতটুকু মনে পড়ে আগে তো কাউকে বিয়ে করিনি। তো এখানে জোরা কেন। এটা কোন বিপদের লক্ষন। নিলা কোনটা? ( মনে মনে)
দুজনের মধ্যে একজন বলল

~ কি গো সোয়ামি ঘামাচ্ছ কেন? ভয় পাচ্ছ নাকি?
আরিয়ানঃ না ভয় পাবো কেন। তোমরা মজা করতেছ তাই না। আচ্ছা একটা তো নিলা আরেকটা কে? ঘুমটা উঠাও তো। ( যদিও ভয় পাচ্ছে)
~ আজ্ঞে সোয়ামি। উঠাচ্ছি।
একসাথেই দুজন ঘুম টা উঠাল।
আরিয়ান হা হয়ে গেল।

আরিয়ানঃ আ আ আর তু তু তু তোমরা। আমি বিয়ে কি দুইটা করেছি?
বলেই সোজা পড়ে গেল। অর্থাৎ অজ্ঞান হয়ে গেল।


পর্ব ১০ (অন্তিম)

আরিয়ান হা হয়ে গেল।
আরিয়ানঃ আ আ আর তু তু তু তোমরা। আমি বিয়ে কি দুইটা করেছি?
বলেই সোজা পড়ে গেল। অর্থাৎ অজ্ঞান হয়ে গেল।

যখন জ্ঞান ফিরল আরিয়ান নিজেকে কারো কোলে আবিষ্কার করল। চোখ খুলে ভালো করে তাকিয়ে দেখে নিলার কোলে মাথা। আর নিলা মাথায় হাত বুলাচ্ছে।
এক ঝাটকায় আরিয়ান উঠে গেল। উঠে চারদিকে আরেকজনকে খুজতে লাগল।
নিলাঃ কাকে খুজতেছ বাবু?

আরিয়ানঃ আরেকজন কোথায়?
নিলাঃ আরেকজন কে?
আরিয়ানঃ তোমার সাথে যে ছিল? সে কোথায়?
নিলাঃ আজব আমার সাথে কে ছিল?

আরিয়ানঃ নেহা। নেহা কোথায়?
নিলাঃ দাড়া তুই
নিলা বিছানা ছেড়ে চিপা থেকে একটা ঝাড়ু বেড় করল।
আরিয়ান ভয় পেয়ে খাটের অন্যদিকে চলে গেল।
আরিয়ানঃ এসব কি নিলা?

নিলাঃ কি এখনি দেখবি। শালা লুচ্চা। কয়ডা লাগে তোর
আরিয়ানঃ এই এই আমাকে লুচ্চা কইবানা। আমি কাউকে কিছু করিনাই।
নিলাঃ করস নাই তুই। শালা হারামজাদা পালিয়ে গেছিস কক্সবাজারে ভালো সময় কাটাইতে। সেখানে গিয়েও মাইয়া

দেইখা চোখ সামলাইতে পারিস না। তোর চোখ আজকে আমি তুইলা নিমু
আরিয়ানঃ কি বলো এসব। আমি আবার কোন মাইয়া
নিলাঃ চুপ শালা

আরিয়ানঃ খবরদার গালি দিবানা। আমি ভদ্র ছেলে। গালিগালাজ পছন্দ করিনা
নিলাঃ তুই ভদ্র। এদিকে আয় তুই। আজকে এই ঝাড়ু দিয়া মাইরা যদি তোর চেহাড়ার নকশা না পাল্টাইছি তাহলে আমার নাম নিলা না।

আরিয়ান অবস্থা বেগতিক দেখে কি করবে ভেবে পাচ্ছেনা। আজকে নিলা আমার বারোটা বাজাবেই। অত্বপক্ষ সমর্পন করাই ভালো হবে।যদি বেচে যাই। তাছাড়া চিল্লান শুরু করলে আমার মান ইজ্জত সব যাইব। যেই দাজ্জাল মাইয়া বিশ্বাস করা যায়না।
আরিয়ান নিলার সামনে চলে আসল।

আরিয়ানঃ নিলা আই এম সরি। এই তোমার গা ছুয়ে প্রমিস করছি আর কোনোদিন কোনো মেয়ের দিকে তাকাব না। এখন থেকে তোমার কথামতো চলব। এবারের মতো ছেড়ে দাও প্লিজ। লোকজন কি বলবে বলো
নিলাঃ তোকে বিশ্বাস করা যায়না। বারোভাতারি তুই।

আরিয়ানঃ ছিহ কি বলো। আচ্ছা আমি যদি খারাপই হতাম তাহলে বিয়ে করলে কেন?
নিলাঃ খুশিতে ভাল্লাগছে ঠ্যালায় এজন্য করছি।
আরিয়ানঃ তোমার এই আলসেমির জন্যই আমার জীবনে এত কিছু ঘটে গেছে। তুমি যদি এই আলসেমি না করে

ভালোভাবে চলতা। তাহলে ব্রেক আপ ও হতোনা। আমার জীবনে সাদিয়া সঞ্জিতা প্রিয়া নেহা কেউই আসত না। এত প্যারা সামলাইতে হতো না।
নিলাঃ তুই শালা বারোবাতারি তোর চোখ ভালানা। যাকেই দেখিস তাকেই তোর পছন্দ হয়ে যায়।

আরিয়ানঃ আমি প্রমিস করলাম তো। আর কোনোদিন কিচ্ছু করব না। এই কানে ধরছি উঠবস করছি। আর হবেনা প্রমিস।

নিলাঃ বিশ্বাস করব তোকে?
আরিয়ানঃ হুম বিয়ে যেহেতু করেই ফেলছ এখন তো করো।
নিলাঃ ওকে করলাম। তবে শর্ত আছে।

আরিয়ানঃ আমি সবকিছু তে রাজি। তুমি যা বলবা তাই হবে
নিলাঃ বেশি কিছু করতে হবেনা। আমার অনার্স শেষ না করা পর্যন্ত তুমি আমাকে ছুতে পারবেনা। স্বামী স্ত্রী আমরা। কিন্তু ওসব কিছুর জন্য জোর করতে পারবানা।

আরিয়ানঃ শালার আর শর্ত খুজে পাইল না। এমনিতেই জীবন টা ত্যানা ত্যানা বানাই ফেলছিল। যাহোক এবার তো শান্তি পামু। রাজি হয়ে যাই ( মনে মনে)
নিলাঃ কি হলো
আরিয়ানঃ কিন্তু

নিলাঃ কিন্তু মানে রাজি হইবি নাকি ঝাড়ু দিয়া শুরু করব।
আরিয়ানঃ না না লাগবেনা। আমি রাজি
নিলাঃ গুড বয়। যাও মাফ করলাম। গুড নাইট আমি ঘুমালাম।

নিলা বিছানায় চলে গেল।
আরিয়ান সোফায় বসে পড়ল।
আরিয়ানঃ উফস কি বাচা বাচলাম। কি কপাল এখন সারাজীবন এই প্যারা সামলাইতে হবে। কিন্তু এইটুকু বুঝতেছিনা অজ্ঞান হবার আগে দেখলাম জোরা। আরেকটা গেল কোথায়। আমি স্পষ্ট দেখেছি নেহা ছিল। নেহা গেল কোথায়( মনে মনে)

ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে গেল।

সকাল বেলা ঘুম ভাঙতেই দেখল নিলা মাত্র গোছল করে বেড় হয়েছে। চুল শুকাচ্ছে।
আরিয়ানঃ ঢংগে বাচিনা। রাতে তো কিছুই করেনাই। এখন গোছল করে সবাইকে দেখাবে আমি ওনাকে রাতে ঘুমাতে দেইনাই( মনে মনে)

এমন সময় আরিয়ানের নজর গেল নিলার কোমড়ের দিকে। ছোট একটা তিল ওকি মেরে আছে। আরিয়ান কে কাছে ডাকতেছে। আরিয়ান ছোয়ার লোভ আটকে রাখতে পারল না।
উঠে গেল। আস্তে আস্তে নিলার পেছনে গেল। যেই কোমড়ে হাত দিতে যাবে

নিলাঃ ঝাড়ু টা বিছানায় আছে দেখে নাও। লাগবে নাকি
আরিয়ান হাত দিয়েও আর দিল না। সোজা ওয়াশরুমে চলে গেল।
গিয়ে সাওয়ার ছেড়ে ভিজতে লাগল।

আরিয়ানঃ শালার কপাল এ জীবনে শান্তি আমার হবেনা। এতদিন জ্বালাইল গালফ্রেন্ড রা। এখন না জ্বালাইয়াও টেকনিকে জ্বালাবে বউ। উফস ওভাবে টার্গেট মিস করা যায়।
যাহোক ফ্রেশ হয়ে বেড় হলো।

বিকালে বিয়ের আনুষ্ঠিকতা হিসেবে আরিয়ান আর নিলাকে নিলাদের বাড়িতে যেতে হলো।
ভিতরে প্রবেশ করতেই আরিয়ান ভয় পেতে লাগল। কোথা থেকে নেহা আবিষ্কার হয়ে যায় বলা তো যায় না।
যাহোক নিলার রুমে আরিয়ান বসে আছে।

হঠাৎ চোখ গেল জানালার দিকে। জানালার কাছে গেল।
কি শশুর রে ভাই। সেই কবে এই জানালা ভাঙছিলাম। এখনও ঠিক করে নাই। এত কিপটা? অবশেষে কিপটা শশুর কপালে জুটল। কপালে কি আছে আল্লাহ জানে।( মনে মনে)

ভাবতে ভাবতে পিছনে ফিরতেই। আরিয়ান চমকে উঠল।
আরিয়ানঃ তু তু তুমি
আরিয়ানের সামনে নেহা দাঁড়িয়ে রয়েছে।
নেহাঃ হুম আমি। ভয় পাচ্ছ কেন

আরিয়ান কথা বলছেনা
নেহা হাসতে লাগল।
নেহাঃ ভয় পাইওনা।

আরিয়ানঃ তুমি নিলার সাথে মিলে ছিলা তাই তো?
নেহাঃ ছিলাম না। তবে জড়িয়ে গেছিলাম।
আরিয়ানঃ মানে?

নেহাঃ মানে হলো নিলা হচ্ছে আমার বান্ধবী। যদিও আমি কক্সবাজারে থাকি। তবুও আমরা বেষ্ট ফ্রেন্ড। তুমি ভূলে যেতে পারো। নিলা একবার তোমাকে আমার সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল।
আরিয়ানঃ কিহ

নেহাঃ হ্যা সোনা। তোমাকে কক্সবাজার দেখে আমি অভাকই হইছিলাম। তখন নিলাকে কল দেই। নিলাই আমাকে বলে তুমি বাসা থেকে পালাইছ। আর সাথে বলে তোমাকে প্রেমে ফেলতে। সেটা তো করতে পেরেছি। কিন্তু পুরোটা কমপ্লিট হবার আগেই তুমিই আমাকে ছ্যাকা দিয়ে দিয়েছ।

আরিয়ানঃ তুমি তোমার বাবার কাছে নিয়ে কি করতে চাইছিলা?
নেহাঃ তাহা না জানাই ভালো।
এমন সময়েই পেছন থেকে একজন
~ নেহা তুমি এখানে।

নেহাঃ ওহ সুমন এখানে আসো। পরিচয় করিয়ে দেই।
আরিয়ানঃ ওনি?
নেহাঃ ও হচ্ছে সুমন। আমার হবু বর। ভালোবাসার মানুষ। পাঁচ বছরের সম্পর্ক আগামী মাসেই বিয়েতে রুপ নিবে। আর সুমন ওনাকে তো চিনোই তুমি

আরিয়ানঃ Hi.. Nice to meet you
সুমনঃ Me too.. আচ্ছা নেহা তোমার সাথে কথা আছে চলো একটু।
নেহাঃ আচ্ছা আরিয়ান বায়।
আরিয়ানঃ বায়।

ওরা চলে যায়।
আরিয়ান খাটে যাইয়া বসে।
আরিয়ানঃ ভাইরে ভাই নিলা আসলে কি আল্লাহ ছাড়া কেউই জানেনা। সব খানেই আমাকে ফাসিয়ে গেছে। কক্সবাজারে পালাইয়াও ওর হাত থেকে নিস্তার পাইনাই। ভাগ্যিস নেহার কথা মতো ওর বাবার কাছে দেখা করতে যাইনাই। তাহলে কি যে হতো। ঢাকায় ফিরে এসেছি। যদি ওখানেই থাকতাম বিয়ের চিন্তা করতাম। তাহলে নেহা আমাকেই সেই বড় ছ্যাকা

দিয়ে দিতো। আল্লাহ বাচাইছে। বাচলাম আল্লাহ হুম্মা আমিন। আল্লাহ তুমিই সেরা।
এমন সময়েই নিলা আসল।
নিলাঃ খাইতে আসুন নবাব।

আরিয়ানঃ আসতেছি।
নিলাঃ আসতেছি কি আবার আমার সাথে আয় ( ধমকের সুরে)
আরিয়ান আর বসে না থেকে চলে গেল নিলার পিছু পিছু ডিনার করতে।

কয়েকদিন পর,

তুষারঃ কি বন্ধু কেমন চলছে
আরিয়ানঃ আর বলিস না ভাই। জীবন আগের থেকে বেশি প্যারাময়। উঠতে বসতে খাইতে শুইতে নিলার কথা শুনতে হয়।

শাওনঃ আহারে কি কষ্ট তোর।
আরিয়ানঃ হরে ভাই জীবনটা নরক হইয়া আছে।
শাওনঃ আচ্ছা এখন আর আমি কিছু কমুনা। আমরা কিছু কইলে তা যদি আমার আবার নিলা জানে তোর উপড় দিয়া বাশ যাবে।

তুষারঃ আরিয়ান তিশার বাড়ির এড্রেস টা দিস।
আরিয়ানঃ তিশা কেন রে?
তুষারঃ তুই না তোর বোন একটা আমার নামে লিখা দিছিলি? আমার তিশাকে ভালো লাগছে। ওর বাসায় বিয়ের প্রস্তাব দিব। আব্বু আম্মুও রাজি আছে।

আরিয়ানঃ কি ব্যাপার সামথিং অন্যরকম।
তুষারঃ যা ভাবছিস তাই। বিয়েটা যলদিই করতে চাই। অনৈতিক সম্পর্কে বেশি দিন থাকতে চাইনা। বিয়ে করে বউর সাথেই প্রেম করব।

আরিয়ানঃ বাহ ভালো তো। আচ্ছা আমি তাহলে ঘটক গিরি শুরু করে দেই। শাওন কিছু বলিস না কেন?
শাওনঃ কি বলব? পপি কোনদিন আমাকে কিডন্যাপ করে বিয়ে করে ফেলবে তার ঠিক ঠিকানা নাই।
হাবিবঃ শালার সবাই যদি বিয়া কইরা ফেলিস তাহলে আমি আর বাকি থাকব কেন? আমিও আজকে বাবা মায়ের সাথে কথা বলব।

সবাই সবার মতো চলে গেল।
পরদিন সকাল সকাল আরিয়ানের মোবাইলে কল আসল। শাওন কল দিছে।রিসিভ করল
শাওনঃ কইরে তুই

আরিয়ানঃ ঘুমাই।
শাওনঃ যলদি নিচে আয়। হাসপাতাল যেতে হবে।
আরিয়ানঃ সকাল সকাল হাসপাতালে কেন রে

শাওনঃ আরে হাবিব কাল ওর বাপের কাছে বিয়ার কথা বলছিল। তারপর নাকি দিছে কানের নিচে তিনটা। শালায় জ্ঞানই হারিয়ে ফেলছে। হসপিটালে আছে।
আরিয়ানঃ হায় হায় বলিস কি। দুইটা মিনিট দাড়া আমি আসতেছি।

শাওনঃ যলদি আয়
আরিয়ান যলদি ফ্রেশ হয়ে চলে গেল।

হাসপাতালে বেডে হাবিব শুয়ে আছে।
হাবিব কে দেখে শাওন তুষার আরিয়ান হাসতে লাগল।
আরিয়ানঃ আরো কত কিছু দেখতে হইব জীবনে। দুস্ত বিয়ের ভূত গেছেনি?

হাবিবঃ শালার ভাই শালারা দাত দেখাইয়া হাসিস না ইচ্ছা করেই অজ্ঞান হইছিলাম।
শাওনঃ আমাদের কি বোকা মনে হয়?
হাবিবঃ তুই তো বোকাই। আব্বুকে যখন বিয়ের কথা বলছি আমাকে বলে বিয়া করে খাওয়াব কি? চালাব কিভাবে। ঘ্যান

ঘ্যান করতেছিলাম তখনি দিল এক থাপ্পর। তখনি চিন্তা করলাম আম্মু তো আমার প্রতি দুর্বল। তাই আরেকটা থাপ্পর দিতেই আমি গেলাম অজ্ঞান হইয়া। আর কোনোভাবেই চোখ খুললাম না। হসপিটালে এডমিট করল। ওদিকে আম্মু গেল আব্বুর সাথে লেগে। বাজল চরম ঝগড়া। আব্বু আর রাজি না হয়ে পারলই না। সকালে আমার কানে বিয়ের কথা বলতেই

চোখ খুলে ফেললাম। এই সুখবর দিতেই তো তোদের ডাকলাম।
শাওনঃ এই যে ভাইয়েরা আপনারা যারা বিয়ে করতে পারছেন না। এই টেকনিক ইউজ করতে পারেন।
তুষারঃ তোর মাথায় এত বুদ্ধি বাহ বাহ

আরিয়ানঃ তোরাই ভবিষ্যত। আমরা তো বর্তমান। ভাইরে ভাই যা শুনাইলি।

দুদিন পর,
হাবিবঃ দুস্ত বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। আগামী মাসেই বিয়ে।
শাওনঃ বাহ কনগ্রাচুলেশন দুস্ত।
তুষারঃ তোমার ফাতরা বুদ্ধিও সাকসেসফুল বাহ। অথচ দেশের পোলাপান এসব আজাইরা বুদ্ধির অভাবে বিয়ে করতে পারেনা।

শাওনঃ কিরে আরিয়ান তুই কিছু বল?
ওদিকে আরিয়ানের চোখ অন্য জায়গায় আটকে গেছে।
সামনে দিয়ে একটা মেয়ে যাচ্ছে। অপরুপ সুন্দরী। দেখতে মাশাল্লাহ। ক্রাশ খাওয়ার মতো।
শাওনঃ কোথায় তাকিয়ে আছিস তুই? ওই বেটা।

আরিয়ানের কানে কিছুই যাচ্ছেনা।
ওরাও বুঝে গেল আরিয়ান কোথায় তাকিয়ে আছে।
শাওনঃ নিলা জানলে তোকে মেরে ফেলবে রে। চোখ নামা
আরিয়ান দাড়িয়ে গেল। এগিয়ে যাচ্ছে নিজের গন্তব্যের দিকে।

ওদিকে নিলাও চলে আসল। আরিয়ান যে মেয়েটার দিকে যাচ্ছে। তা খেয়াল করল। নিলার মাথা গেল গরম হয়ে।
নিলাঃ কথায় আছেনা স্বভাব যায়নে ধুইলে। শালা লুচ্চা। তোর লুচ্চামি জীবনেও যাবেনা। আজকে তোকে আমি খাইছি। ( মনে মনে)

রাগে গজগজ করতে করতে আরিয়ানের দিকে আসতে লাগল।
আরিয়ান ও আগাচ্ছে। নিলাও আসতেছে।
নিলাঃ কথায় আছেনা স্বভাব যায়নে ধুইলে। শালা লুচ্চা। তোর লুচ্চামি জীবনেও যাবেনা। আজকে তোকে আমি খাইছি। ( মনে মনে)

রাগে গজগজ করতে করতে আরিয়ানের দিকে আসতে লাগল।
আরিয়ান ও আগাচ্ছে। নিলাও আসতেছে।
আরিয়ান মেয়েটার মুখোমুখি।

হঠাৎ সবাই চমকে গেল। নিলা নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছেনা।
আরিয়ান সোজা গিয়ে একটা ছেলের সাথে হাতে হাত মিলাল তারপর কোলাকোলি করল।
কিছুক্ষন কথা বলে ফিরতেই আরিয়ান নিলা সামনে এসে দাড়ালো। ততক্ষনে শাওন তুষার হাবিব ও কাছে এসে গেছে।

আরিয়ানঃ কি হয়েছে? এভাবে চেয়ে আছ যে?
নিলাঃ ছেলেটা কে?
আরিয়ানঃ আমার ফ্রেন্ড।

নিলাঃ আগে তো কখনও দেখিনি। কেমন ফ্রেন্ড তোমার?
আরিয়ানঃ আরে চিনবা কিভাবে আমার ক্লোজ ফ্রেন্ড না তো। আসলে ও একটা মেয়েকে ভিষন ভালোবাসতো। মেয়েটাও প্রচুর ভালোবাসতো। তবে ভূলবশত মেয়েটা প্র্যাগনেন্ট হয়ে যায়। পরে বিয়ে করে ফেলে ওরা। কিন্তু পরিবার মানছিল না।

তাই আমাদের এক্স বয়ফ্রেন্ড সংগঠন এর হেল্প চাইছিল। সাহাজ্য করেছিলাম। সবাই মেনেও নিয়েছে। এজন্যই আমাকে ধন্যবাদ দিতে এসেছিল।
নিলাঃ তোমার চেহারা দেখে তো বিশ্বাসই হচ্ছেনা।
আরিয়ানঃ ভালো করে দেখো বাবু।

নিলাঃ এবারের মতো ছেড়ে দিলাম।
নিলা চলে গেল।

শাওনঃ এসব তো আমরা জানতাম না? কবে করলি
আরিয়ানঃ হিন্দে আই উন্দা যাই হেমনে ওমনে তেমনে করছিলাম। নো মোর প্রশ্ন। ক্লাস আছে চল
আরিয়ান হাটা ধরল।

দেখতে দেখতে আরিয়ানের অনার্স পরিক্ষা শেষ।
তো একদিন রাতের বেলা। রুমে বসে আছে। নিলা রুমে আসল।
আরিয়ানঃ নিলা এই নিলা

নিলাঃ কি বলবা বলে ফেলো
আরিয়ানঃ কিছু না
নিলাঃ বললে বলো না বললে নাই।

আরিয়ানঃ আসলে আর কতদিন?
নিলাঃ কি কতদিন?
আরিয়ানঃ এক রুম আছি পাশাপাশি। তবুও ইয়ে করতে দিচ্ছ না।
নিলাঃ এই ইয়ে কি রে? ইয়ে কি

আরিয়ানঃ মানে বাচ্চা নেওয়ার জন্য যা করতে হয়।
নিলাঃ ঝাড়ুর মাইর খাইতে ইচ্ছে করে?
আরিয়ানঃ নাহ। বলছিলাম কি তুমি কি জানো তিশা প্র্যাগনেন্ট।
নিলাঃ হ্যা জানি তো?

আরিয়ানঃ মানে তুষার বিয়ে করল দু-তিন মাস। এর মধ্যেই ওর বউ প্র্যাগনেন্ট। আর আমি করে ফেলছি ৮-৯ মাস চলছে। লোকে কি ভাবছে বলো তো
নিলাঃ কি বলতে চাও সোজা বলো

আরিয়ানঃ তোমাকে ছুতে চাই
নিলাঃ ওহে বৎস। তোমার চোখ এখন অন্যদিকে চলে গেছে। কিছু বললাম না। একদম আমার এক্সাম শেষ হবে। তারপর বাকিটা ভাবিব। এখন তুমি আমাকে ছুতেও পারবানা। কিছু করতেও পারবানা। ঠিক আছে মনে থাকবে?
আরিয়ানঃ হু

মন খারাপ করে আরিয়ান ঘুমিয়ে গেল।

পরদিন বন্ধুরা সব একসাথে।
আরিয়ানঃ জীবনটা বেদনা নিলা আমাকে কাছেও ঘেষতে দেয়না।
শাওনঃ তুষারই ভালো আছে। সবার আগে সুখবর ও দিয়ে দিছে। অথচ আমাদের গুলা একেকটা দাজ্জাল।

তুষারঃ সারাজীবন প্রেম করে বেড়াইছ তো আর কি পাইবা। আল্লাহ বলে দিছেনা ঃ যে যেমন সে পাইবেও তেমন। সারাজীবন প্রেম করে বেড়াইছ এখন সেই টার ফল পাইতেছ।
হাবিবঃ আমার বউটাও ভালো আছে। আমার সব কথা শুনে। তবে

শাওনঃ খুচুনি দিয়া পিডায় তাই তো? আর কইতে হবে না। তা আমরা জানি। আমার বউরে তো আমি ধমকের ঠ্যালায় চুপ করিয়ে রাখব।আমার মুখের উপর কথা বলার সাহসই পাবেনা
এমন সময়েই শাওনের ফোনে কল আসল। পপির কল। রিসিভ করল,

শাওনঃ হ্যা বাবু বলো
পপিঃ তোর বাবুর গুষ্ঠি কিলাই। কোথায় তুই? বাসায় আয় যলদি।
শাওনঃ কেন বাবু কি হয়েছে

পপিঃ আরিয়ান ভাই তুষার ভাই হাবিব ভাই বিয়ে করে ফেলছে। তুষার ভাই তো আবার বাবা হতেও চলেছে। আমরা বিয়ে করব কবে?
শাওনঃ বিয়ে সেটা কি খায় না পরে?
পপিঃ ফাজলামি করবিনা একদম। জেলে ভরে দিব।

শাওনঃ আরে বাবু রাগছ কেন। করব তো
পপিঃ কবে করবি?
শাওনঃ তার আগে তোমার আমাকে কথা দিতে হবে
পপিঃ কি

শাওনঃ তুমি যেমন চিকন চাকন আছ। ওমনি থাকতে হবে। বিয়ের পর যদি ফুলকপির মতো ফুলে যাও তাহলে কিন্তু ছেড়ে দিব।
পপিঃ হবোনা। আমি পুলিশের মাইয়া। কিভাবে শরীর ঠিক রাখতে হয় আমার জানা আছে।
শাওনঃ তাহলে অপেক্ষা করো আমরা খুব শীঘ্রই বিয়ে করব।
পপিঃ সত্যি তো।

শাওনঃ হুম সত্যি সত্যি সত্যি
পপিঃ ওকে লাভ ইউ বাবু।
ফোন কেটে দিল।

আরিয়ানঃ কিরে কি হয়েছে।
শাওনঃ ওই একটাই ফাও পেচাল সবাই বিয়ে করছে আমরা করব কবে। আর বাপের ভয় দেখায়।
আরিয়ানঃ তো করে ফেল না সমস্যা কোথায়?
শাওনঃ সমস্যা পপি যদি ফুলকপি হইয়া যায়। যেমন অধিকাংশ মেয়েই হয়। এমনি দেখতেই ওরে ভালো লাগে। ফুলকপি হইয়া গেলে আর নিতে পারব না

আড্ডা শেষে আরিয়ান বাসায় চলে গেল।
।রাতে খেতে বসেছে সবাই।
আম্মুঃ আরিয়ান জানিস মিথিলার মেয়ে হবে?

আরিয়ানঃ না তো তোমার মুখ থেকেই শুনলাম।
আম্মুঃ আল্লাহ জানে আমরা কবে দাদা দাদি হব।

আরিয়ানঃ আমাকে বলে লাভ কি। আমি তো হতেই চাই। যাকে বলার তাকে বলো ( মনে মনে)
অন্যদিকে নিলাও চুপচাপ খাচ্ছে।
খাওয়া ধাওয়া শেষে রুমে আসতেই।
আরিয়ানঃ শুনেছ আম্মু কি বলেছে?

নিলাঃ তো কি আমি আমার কথায় আছি। এখন হবেনা মানে হবেনা।
আরিয়ানঃ ধ্যাত তোমাকে বুঝানোর থেকে কুকুর কে বুঝানোও ভালো।
আরিয়ান শুয়ে পড়ল।

কয়েক বছর পর,
আরিয়ানঃ দেখো তো বাবা কোন টা ভালো লাগে? চিপস খাবা? চকোলেট? নাকি আইসক্রিম খাবা?
~ আইতক্রিম আইতক্রিম
ছোট তো আইসক্রিম উচ্চারণ করতে পারেনা।

আরিয়ান দুটো আইসক্রিম কিনে দিল তৃশান কে।
আরে ভাই যা ভাবছেন তা নয় আরিয়ানের ছেলে নয়। তৃশান হলো তুষারের ছেলে।
তুষার তৃশান কে কোলে তুলে নিল।

আরিয়ানঃ তোর ছেলে টা ভারি মিষ্টি তো।
তুষারঃ মিষ্টি নারে ভাই। প্রচুর দুষ্ট।
এমন সময়েই নিলা কল দিল,
আরিয়ানঃ হ্যা বলো

নিলাঃ আজকে শপিং এ যাবার কথা ছিল ভূলে গেছ নাকি? যলদি আসো।
আরিয়ানঃ আচ্ছা আসতেছি।
ফোন কেটে দিল।

আরিয়ানঃ আচ্ছা দুস্ত বাসায় যাই। নিলাকে নিয়ে শপিং করতে যাব।
তুষারঃ আচ্ছা যা। আমিও বাসায় যাই।
আরিয়ান বাসায় এসে নিলাকে শপিং করতে গেল।

শপিং করতে করতে হঠাৎ শাওনের সাথে দেখা। সাথে পপিও আছে।
আরিয়ানঃ কিরে তোরা এখানে?
শাওনঃ এই তো শায়ানের জন্য কিছু খেলনা কিন্তু এসেছি।
নিলাঃ ইশ ভাইয়া আপনার ছেলেটা প্রচুর কিউট।

বলেই কোলে তুলে নিল নিলা।
পপিঃ আপনারা নিচ্ছেন না কেন?
আরিয়ানঃ আমাকে জিগাসা করে লাভ কি। নিলাকেই জিগাও
নিলাঃ ও কিছুনা। খুব যলদিই আমাদেরও আসবে।

শাওনঃ তুষারের হলো আমার হলো হাবিবের হলো খালি তোরাই বাকি আছিস। কি যে করতাছত তোরা। আমরা যেমন সেইম এইজ ছিলাম আমাদের বেবিগুলাও সেইম বয়সের হলে হেব্বি হতো। পরম্পরা বজায় থাকত।
পপিঃ অলরেডি তোমার ছেলে তোমার সব পেয়ে গেছে বেশি কথা বলিও না।

আরিয়ানঃ আচ্ছা এসব পরেও বলা যাবে। এখন যা করতে আসছি করে চলে যাই।
নিলাঃ হুম চলো।
নিলা হাটা ধরল।
এমন সময় শাওন আরিয়ানের হাত ধরল।

আরিয়ানঃ কি হয়েছে?
শাওনঃ তুই কি কোনোভাবে কমজোর? হারবাল খাবি? (আরিয়ানের কানে বলল)
আরিয়ানঃ ধ্যাত শালা।
শাওন কে ধাক্কা দিয়ে আরিয়ান চলে আসল।
শপিং শেষে বাসায় চলে আসল।

রুমে এসে আরিয়ান চুপ করে মনমরা হয়ে বসে আছে।
এমন সময় নিলা ভিতরে আসল। আরিয়ান কে দেখল
নিলাঃ এভাবে বসে আছ কেন?

আরিয়ানঃ তো কি করব? আমার পরে বিয়ে করে সবাই বাবা হয়ে গেছে। আর আমি? সবাই যে যা পারছে। অনেকে অক্ষম বলতেছে আমাকে। আব্বু আম্মুও ইনডিরেক্টলি বুঝায় যে নাতি নাতনি কবে হবে। তো মনমরা থাকব না তো কি হবে?

নিলাঃ খেতে আসো।
আরিয়ানঃ খাব না ক্ষুদা নেই।
নিলাঃ আসো যলদি।
নিলা চলে গেল।

খাওয়া ধাওয়া শেষে।
আরিয়ান রুমে এসে শুয়ে পড়ল।নিলা পড়ে আসল।
নিলাঃ আরিয়ান আরিয়ান
আরিয়ানঃ বলো শুনতেছি

নিলাঃ তুমি যদি চাও করতে পারো
আরিয়ান এক লাফে শোয়া থেকে বসে গেল।
আরিয়ানঃ কিহ সত্যি?
নিলাঃ হুম সত্যি। সব নিষেধ তুলে নিলাম। প্রমিস তুলে নিলাম।
আরিয়ানঃ হায় হায় হাম তো পাগল হো যায়েগা।

আরিয়ান উঠে সোজা নিলাকে কোলে তুলে নিল।
নিলাঃ আরে আস্তে আমি উড়ে যাচ্ছিনা।
আরিয়ানঃ কোনো কথা হবেনা। জাস্ট ভূমিকম্প চলবে সোনা।
আর বলা যাবেনা।

কয়েক বছর পরে,

শাওনঃ দুস্ত আমার ছেলে বড় বদমাইশ হয়ে গেছে রে
আরিয়ানঃ কেন কি করছে?

শাওনঃ আর বলিস না। আমি যা করতাম পুরা আমার মতোই। মেয়েদের সাথে খালি বন্ধুত্ব করতে যায়। কিছু বলতে গেলেই নানা নানা পুলিশ কমিশনার। এইটা বলে আমাকে ভয় দেখায়। আর পপি তো আল্লাহ দিলে মাশাল্লাহ এখন ফুলকপি

আরিয়ানঃ ওয়া ওয়া। তুষার তোর টার কি অবস্থা?
তুষারঃ আমার টা খুব ভালো। ভদ্র পড়াশোনায় মনোযোগী আলহামদুলিল্লাহ। অন্তত হাবিবের ছেলের মতো না।
হাবিবঃ কি করব বল। আমরা যা করেছি তা যদি ছেলে করে। তাহলে শাষন টা করব কিভাবে?
আরিয়ানঃ হায়রে তোগো সেই লেভেলের অবস্থা। আমার ছেলে তো একদমই আমার মতো হয়নাই। খুবই ভদ্র সুশীল। আলহামদুলিল্লাহ ভালো করে শিক্ষা দিতে পারতেছি।

শাওনঃ শালা তুই ছিলি লুচ্চা নাম্বার ওয়ান। তোর ছেলে এমন বিশ্বাসই হচ্ছেনা।
আরিয়ানঃ ওই বেটা লুচ্চা কারে কস। আমার মতো ভদ্র অত্র এলাকায় একজন ও ছিল না ওকে।
শাওনঃ তা সবাই জানে। আমরাও জানি গল্প পাঠক রাও জানে।
আরিয়ানঃ যাকেই জিগাসা করবি আরিয়ান কেমন। আরিয়ান মানেই ভদ্র সুশিল।
তুষারঃ হইছে আর পাম দেওয়া লাগবেনা। তোর ছেলে ভালো তো আলহামদুলিল্লাহ।
হাবিবঃ চল আজকে তোর বাসা থেকে ঘুরে আসি।

আরিয়ানঃ যাইবি আচ্ছা চল।
সবাইকে নিয়ে আরিয়ান বাসায় আসল।
কলিং বেল চাপল। দরজা খুলছেনা কেউ। দরজা ধাক্কা দিতেই খুলে গেল।
আরিয়ান ও ভিতরে প্রবেশ করল। এমন সময়েই সাইফ এসে আরিয়ানের পেছন লুকাল। (সাইফ আরিয়ানের ছেলে)
অপরদিকে নিলার হাতে ঝাড়ু।

সাইফঃ পাপা বাচাও
আরিয়ানঃ ওয়েট ওয়েট নিলা কি হয়েছে ওরে মারছ কেন?
নিলাঃ মারব না তো আদর করব? দুদিন আগে স্কুল থেকে বিচার আসছে কোন মেয়েকে নাকি থাপ্পর দিছে। তার আগে একবার আসছে কোন মেয়েকে নাকি প্রপোজ করছে। আজকে বিচার আসছে কোন মেয়ে কে নাকি প্রপোজ করছে

রাজি হয়নাই তাই হুমকি দিছে তুলে নিয়ে আসবে। আজকে তো ওরে আমি খাইছি। বাবার মতো হবে। হাড্ডি সব ভাইঙা ঘরে বসাইয়া রাখব।
আরিয়ান হা হয়ে আছে।

পেছন থেকে তুষার হাবিব শাওন সামনে আসল।
শাওনঃ বাহ দুস্ত
তুষারঃ কেয়া বাত হে মেরা দুস্ত।
হাবিবঃ অনেক অনেক ভালোবাসা রইল। নিজের ছেলেকে সামলাও।
ওরা চলে গেল।

নিলাঃ ছেলে বাপের মতোই হইছে। তুমি ওরে সামলাও। নাহলে কিন্তু আমি মাইরা ফেলব। স্কুল থেকে আরেকবার নোটিশ আসলে। ভালো করে বুঝাও নিজের ছেলেকে
আরিয়ানঃ আচ্ছা তুমি যাও আমি বুঝাচ্ছি।
নিলা চলে গেল।

আরিয়ান সাইফ কে সামনে আনল।
আরিয়ানঃ দেখ বাপ এসব কি শুনি আমি?
সাইফঃ আমি কি করব মেয়েরাই গা ঘেসে বন্ধুত্ব করতে আসে।
আরিয়ানঃ বন্ধুত্ব করবি। তো প্রপোজ থাপ্পর এসব কেন?

সাইফঃ জানিনা আব্বু। মেয়েদের দেখলেই চোখ লক লক করে। ভালো লেগে যায়।
আরিয়ানঃ তাই মানলাম যা তো করলে একজনের সাথে কর। এতজন কে করার কি দরকার?
সাইফঃ আরে আব্বু তুমি সিনেমায় দেখো না। একটা প্রেম করলে ছ্যাকা খাওয়ার সম্ভবনা থাকে। তুমিও তো আম্মুর থেকে খেয়েছিলা। আর সব তো আমি জানিই। তাই আমি তোমার ছেলে হয়ে ছ্যাকা খাব। কেমন দেখায় বলো? তাই একসাথে ৫/৬ টা ট্রাই করি।

আরিয়ানঃ দেখ বাপ আমার। ভালো হয়ে যা। তোর মা তোকেও মারবে সাথে আমাকেও মেরে কবরে পাঠিয়ে দিবে।
সাইফঃ উম।
আরিয়ানঃ যদি ভালো করে পড়াশোনা করো। এসব দুষ্টামি ছেড়ে দাও। রেজাল্ট ভালো করো। তাহলে প্রতিবছর আমার থেকে নতুন নতুন পুরস্কার পাবা। আমি প্রমিস করছি

সাইফঃ সত্যি?
আরিয়ানঃ হুম সত্যি।
সাইফঃ ওকে আজ থেকে সব দুষ্টামি বন্ধ। আজ থেকে শুধু পড়াশোনা করব।
আরিয়ানঃ যাও এবার আম্মুকে গিয়ে জড়িয়ে ধরে সরি বলো। আর বলবা আর কখনও কোনো নালিশ আসবেনা

সাইফঃ ওকে আব্বু। আম্মু, আম্মু।
সাইফ চলে গেল নিলার কাছে।
আরিয়ান ফ্লোরে বসে পড়ল।

আরিয়ানঃ আল্লাহ আর যাই করো ছেলেটাকে আমার মতো বানাইও না। ভালো বানিয়ে দিও। প্রমিস তো করল আল্লাহ জানে ভবিষ্যতে কি করে। এখনই এইসব সামনে? বিদায়।

লেখকঃ আরিয়ান সুমন

সমাপ্ত

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “এক্স বয়ফ্রেণ্ডের কাহিনী (২য় খণ্ড) – জ্বালাময়ী প্রেমের গল্প” গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ূন – এক্স বয়ফ্রেন্ড (১ম খণ্ড) – জ্বালাময়ী প্রেমের গল্প

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!