ব্রেকাপ গল্প

ঘৃণার মেরিন – অবশেষে যা হলো তোমার আমার

ঘৃণার মেরিন – অবশেষে যা হলো: নীড় ঘুমিয়ে আছে। হঠাৎ ওর মনে হলো কেউ ওর হাত পা বেধে কোথাও নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি মুখও বাধা। নীড় তারাতারি চোখ মেলল। দেখলো ওকে খুব যত্ন সহকারে শূন্যে তুলে গাড়িতে ওঠানো হলো।


পর্ব ১

: ১৪০ কোটি।

: oh my god the নিহাল আহমেদ চৌধুরী বললেন ১৪০ কোটি। হয়তো উপস্থিত আর কেউ এটাকে আর বারাতে চাইবেনা। so ১৪০কোটি ১, ১৪০কোটি ২, ১৪০কোট
: ১৯৫কোটি টাকা,

১৯৫কোটি কথাটা শুনেই সবাই পিছে ঘুরলো। ১জন ছারা। যে ঘোরেনি সে হলো নীড় আহমেদ চৌধুরী বর্ষন। যে ১সপ্তাহ আগে london থেকে ফিরলো। লেখা পড়া complete করে। সে সাইডে দারিয়ে তার জান নীরার সাথে কথা বলছিলো। আর যে ১৯৫কোটি টাকা বলল তাকে দেখে কারো ঘাম ছুটতে লাগলো আবার কারো চোখ বেরিয়ে আসতে লাগলো। আবার কারো কাপাকাপি শুরু হলো। আবার তার দিকে তাকিয়ে কারো চোখ ঝলসাতে লাগলো। কারন সে হলো none other than the মেরিন বন্যা খান। যে কালো রঙের লেডিস ব্লেজার পরেছে। হাতে কালো ঘড়ি। ঠোটে গাঢ়ো লাল লিপস্টিক। স্মোকি আইস। 4 layer করে কাটা চুলগুলো উচু করে ঝুটি করা। ২পাশে চুল বের করা।

: মমমেরিন ববববন্যা খখখান। ১৯৫কোটি টাকা এএএক, ১৯৫.
মেরিন: stop এখানে উপস্থিত কেউ এই dealটার জন্য ১৯৫কোটি টাকার বেশি দাম চরাবে না। so don’t waste my time
আসলেই এখানে উপস্থিত কেউ এটাকে আর বারাবেনা। টাকার বিষয় তো আছেই তবে তারথেকে বড় কারন হলো মেরিন। মেরিন যখন এখানে এসেছে তখন এই ডিলটা ও ই নিবে। যেভাবেই হোক না কেন।

: tttthis dddeal goes ttto tttthe মমমমেরিন বববন্যা খান।
মেরিন style মেরে স্টেজে উঠলো। deal paper নিলো। তখন চোখ গেলো নীড়ের দিকে। নীড়ের পেছন দেখা যাচ্ছে। কালো ব্লেজার। কারো সাথে ফোনে কথা বলছে। হাতটা দেখা যাচ্ছে। সেই সাথে হাতের ঘড়ি আর আংটি।
মেরিন মনে মনে: কে এই ব্যাক্তি যে মেরিন বন্যা খানের উপস্থিতিতে অন্য কাজ করছে। strange সাংবাদিকদের প্রশ্নে মেরিনের ধ্যান ভাঙলো।
মেরিন: yes

সাংবাদিক: ম্যাম এই ডিলটা নেয়ার কারন?
মেরিন: মেরিন বন্যা খান কখনো কাউকে কোনো জবাব দেয়না।
বলেই মেরিন বেরিয়ে গেলো। নীড় কেবল মেরিনের পেছনটা দেখলো।

১ঘন্টাপর…

মেরিন: জন
জন: yes mam
মেরিন: নিহাল আহমেদ চৌধুরীর সাথে আজকে তার ম্যানেজারের ছারাও আর কে এসেছিলো?
জন: ম্যাম উনার একমাত্র ছেলে নীড় আহমেদ চৌধুরী বর্ষন।
মেরিন: ওহ। আচ্ছা শোনো
জন: জী ম্যাম
মেরিন: পরশু তুমি officeএ একটু তারাতারি যেও। আমার একটু লেট হবে।
জন: ok ম্যাম।
মেরিন: ok bye পরশু দেখা হবে।
জন: পরশু?

মেরিন: হামম। কারন এখনই আমি ঢাকা রওনা হচ্ছি।
জন: এই রাতে?
মেরিন: হামম।
জন: ok mam আমি তাহলে সব গুছিয়ে নিচ্ছি।
মেরিন: দারাও
জন: জী ম্যাম।

মেরিন: আমি কি বলেছি তুমিও আজকে যাবে?
জন: কিন্তু ম্যাম
মেরিন: আমি একা যাবো। & i don’t want any argument
বলেই মেরিন বেরিয়ে গেলো।

২ঘন্টাপর…

মেরিন full volume এ গান ছেরে গাড়ি চালাচ্ছে। “আয় খুকু আয়”। গান শুনতে শুনতে হুইসকির বোতলটার মুখ দাঁত দিয়ে খুলল। এর ঢোক মুখে দিলো। এরইমধ্যে হঠাৎ করে ওর গাড়ির কিছুটা সামনে থাকা গাড়িটা break মারায় ওকেই খুব জোরে break চাপতে হলো। যার কারনে ওর কপালটা স্টিয়ারিং এ লেগে সামান্য কেটে গেলো।
মেরিন: what the hell

মেরিন রেগে মেগে হুইসকির বোতলটা হাতে নিয়েই বের হলো। তেরে গাড়িটার দিকে এগিয়ে গেলো।
মেরিন: hey you dumb stu
তখন গাড়ি থেকে এক সুদর্শন যুবক বেরিয়ে এলো। formal get up black suit পরা চুল গুলো হালকা ডার্ক করা। ভীষন ফর্সা। পাকা রং যাকে বলে। কাচা হলুদের মতো। লম্বা ৬২। ঠোট ২টা লাল। crush খাওয়ার মতো। সে ১বার হাত জোর করে ক্ষমা চেয়ে এরপর ২কান ধরে sorry sorry বলতে বলতে এগিয়ে এলো। ভীষন cute লাগছে দেখতে। ছেলেটার পরনে থাকা suit সেই সাথে ডান হাতে থাকা ঘড়ি আর অনামিকা আঙ্গুলের সেই স্বর্নের আংটিটা দেখে মেরিন বুঝতে পারলো এটা সেই নীড় আহমেদ চৌধুরী বর্ষন। মেরিন নীড়ের পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখছে।
নীড় কানে হাত দিয়ে cute করে

বলল: i m really very sorry miss আসলে আমি ইচ্ছা করে করিনি।
মেরিন: oh really? আপনার ভুল বসত করা কাজের জন্য আমার গাড়িটা নষ্ট হতে পারতো। জানেন এটার দাম কতো? u idiot
নীড় অবাক হলো। কোনো মেয়ে এমনভাবে কথা বলতে পারে। তার কপাল কেটে রক্ত বের হচ্ছে তবুও সে ওটার কথা না বলে গাড়ির কথা বলছে। তাও এতোটুকু ১টা মেয়ে। অতিরিক্ত হলে বয়স ২১ কি ২২ হবে। লম্বায় ৫৩। হরিনের মতো চোখ। কালো লেডিস ব্লেজার পরা। ঠোটে dark red lipstick স্মোকি আইস। উচু করে ঝুটি করা। ডান হাতে ঘড়ি সেই সাথে ১টা হুইসকির বোতল।
মেরিন: এই যে hello why don’t answering?

নীড়: আসলে মিস গাড়িটা disturbed দিচ্ছিলো কিছুক্ষন যাবত থেমে গেলো। এখন হঠাৎ করে থেমেই গেলো। তাই
মেরিন: shut up just shut up ছোটোলোক। এমন খাটারা গাড়ি নিয়ে বের হন কেন? ভালো গাড়ি কেনার টাকা না থাকলে কিনবেন না। third class & cheap।

নীড়: excuse me আপনার সাথে আমি ভালোভাবে কথা বলছি আর আপনি
ভুল করেছি তাই আমি নীড় আহমেদ চৌধুরী বর্ষন আপনার মতো ১টা মেয়েকে sorry বলছি। তাও আপনার মতো ১টা বেয়াদব মেয়েকে। যে কিনা মদ খেয়ে টাল হয়ে একটুপর এমনিতেই accident করে মরবে। যার একহাতে ওই মদের বোতল। যত্তোসব ফালতু মেয়ে।
মেরিন: you
বলেই হাত ওঠালো নীড়কে থাপ্পর মারার জন্য। আর সাথে সাথে নীড় হাতটা ধরে ফেলল।

নীড়: আল্লাহ কেবল আপনাকেই হাত দেয়নি। আমাকেও দিয়েছ। ভুল করেছি বলে এই হাতটা ঠিক আছে। না হলে ভেঙে গুরিয়ে দিতাম। মেয়ে মানুষও মানতাম না। got it
মেরিন অবাক চোখে দেখছে নীড়কে। এই প্রথম কেউ সাহস করে ওর সাথে কথা বলছে। তাও চোখে চোখ রেখে। নীড় মেরিনের হাত ছারলো। নীষ চলে যেতে নিয়ে আবার ফিরে এলো।
নীড়: দেখি আসুন আপনার মাথায় ব্যান্ডেজ করে দেই। অনেক রক্ত পরছে।

মেরিন: ও নীড়কে দেখতে ব্যাস্ত। নীড় মেরিনকে টেনে গাড়ির কাছে নিয়ে গিয়ে first aid box বের করে মেরিনের মাথায় রক্ত মুছে পরম যত্নে ব্যান্ডেজ করছে। মলম লাগাচ্ছে আর মুখ দিয়ে ফু দিচ্ছে। মেরিন মুগ্ধ নয়নে নীড়কে দেখছে।
নীড়: কতোখানি কপাল কেটে গেছে সেটা না বলে উনি গাড়ির কথা বলছেন। কি ভাব
মেরিনের কাছে দারিয়ে নীড়ের কেমন যেন ১টা অনুভূতি হচ্ছে। যেটা ৫বছরের ভালোবাসা নীরার কাছে থাকলে কখনোই হয়না। heart beat অনেকগুন বেরে গেছে।

নীড় কথা বলছে যার জন্য ওর ঠোট ২টা নরছে। সেই সাথে আছে নীড়ের অসম্ভব সুন্দর চোখজোরা।
মেরিন: i love you
নীরের হাত থেমে গেলো। অবাক চোখে মেরিনের দিকে তাকালো। নীড় কিছু বুঝে ওঠার আগেই মেরিন নীড়ের ঠোট জোরা দখল করে নিলো। নীড় তো just shocked রাগ লাগছে ভীষন। কিন্তু কোথাও কোনো অন্যরকম ভালোলাগাও কাজ করছে। তবুও নীড় রাগটাকে প্রাধান্য দিলো। মেরিনকে ছারিয়ে ঠাস করে ১টা থাপ্পর মারলো।
নীড়: অসভ্য মেয়ে। বেয়াদব। নোংরা মেয়ে। মা-বাবা কিছু শেখায়নি? নাকি পতিতালয়ে বড় হয়েছো? অসভ্য যে আমি আমার ৫বছরের ভালোবাসা আমার হবু বউকে idiot বাজে মেয়ে।
বলেই নীড় সোজা হাটা ধরলো।

মেরিন গালে হাত দিয়েই বলল: আপনার গাড়িটা কি আর চলবে? আসুন আমার গাড়িতে বসুন। একসাথে ঢাকা যাবো। গল্প করতে করতে।
নীড়ের মাথা রাগের চোটে ফেটে যাচ্ছে। নীড় কোনো রকমে গাড়িটা start দিয়ে ওখান থেকে চলে গেলো। মেরিন ওখানে দারিয়েই হাহা করে হাসতে লাগলো। হুইসকির বোতলে চুমুক দিলো।
মেরিন: পালিয়ে কোথায় যাবেন নীড় মেরিনের নজর পরেছে আপনার ওপর। এখন থেকে আপনি আমার দৃষ্টিবন্দী নীড়। আপনি যে আমার নীড়। বন্যার বর্ষন।

৩দিনপর শাহজাহান খান স্বয়ং চৌধুরীদের office এ গেলো।

শাহজাহান খান: আসতে পারি?
নিহাল: আরে স্যার আপনি? আসুন বসুন বসুন
শাহজাহান খান: ধন্যবাদ। আমি ১টা জরুরী কাজে এখানে এসেছি।
নিহাল: জী স্যার বলুন। স্যার আমাকে ডেকে পাঠাতেন।

শাহজাহান খান: আমার নাতনি মেরিন বন্যা খান student তবুও সে আমার থেকে ভালোই business বোঝে। তবে মাঝে মাঝে sentimentএরও দরকার হয়। যেটা ওর জানার অগোচরে। তাই ও তোমার দেয়া offer টা reject করে দিয়েছে। আক সেটা আমি final করতে এসেছি। খান & চৌধুরীরা একসাথে কাজ করবে।
নিহাল: oh my god i can’t believe sir.thank u

শাহজাহান: হামম। এই নাও ডিল পেপার। ঠান্ডা মাথায় এটা পড়ো। পড়ে ২দিন পর আমাকে ফোন কোরে। যে এই ডিলটা করবে কি করবেনা।
নিহাল: স্যার যেখানে আপনি এসেছেন সেখানে কোনা ভাবাভাবির দরকার নেই।
শাহজাহান: না। তুমি পড়ো।

নিহাল: আপনি যখন বললেন তখন এখনই পড়বো।
নিহাল ড্ল পেপারটা পড়লো। আর পড়ে তো ওর চোখ কপালে।
কারন যেই project টা ওরা jointএ করতে চায় সেটা সম্পুর্ন হবে minimum ৮০০ কোটি টাকা লাভ হবে। যার থেকে খান গ্রুপ ১টা টাকাও নিবেনা। খান গ্রুপ কেবল চৌধুরী গ্রুপের সাথে কাজ করবে। তবে, এই ডিলটা সম্পুর্ন করতে হলে চৌধুরী গ্রুপ & company এর
70% share মেরিনের নামে করতে হবে। মেরিনের নামে 70% share দিলেও মেরিন এই company এর কোনো টাকাতে কখনো কোনো ভাগ নেবেনা। ও just share নিবে 70%। এমন এ্যাগরিমেন্ট কখনো নিহাল দেখেনি।

নিহাল: uncle এটা কোন ধরনে ডিল?
মেরিন: আমি বলছি।
নিহাল: তুমি এখানে?
মেরিন: কেন আসা নিষেধ? যাই হোক uncle এই পেপারে sign করবেন কি করবেন না সেটা আপনি সময় নিয়ে ভাবুন ঠান্ডা মাথায়। যদি চৌধুরী গ্রুপ খান গ্রুপের সাথে মিলে যায় তবে চৌধুরী গ্রুপ কতোটা ওপরে চলে যাবে সেটা আপনি অবশ্যই আন্দাজ করতে পারছেন। তবে মনে রাখবেন যদি 70% মেরিনের নামে না হয় তবে 100% হয়ে যাবে।

নিহাল ভালো মতো বুঝতে পারলো যে মেরিন কি বোঝাতে চাইছে। যদি ও পেপারে sign না করে তবে মেরিন ওর company খেয়ে ফেলবে। সব ডিলার দের, investor দের কিনে নেবে। তাই বাধ্য হয়েই নিহাল sign করলো।
মেরিন: thank you uncle
নিহাল: welcome
মেরিন: আমি সপ্তাহে ৩দিন এই officeএ বসবো। কাল থেকে। আর পরশু থেকেই project টা শুরু হবে। আসছি। চলো দাদুভাই।
মেরিন চলে গেলো।


পর্ব ২

নীড়: you?
মেরিন: any doubt?
নীড়: তোমার সাহস কি করে হয় আমার office এ ঢোকার? আমার কেবিনে ঢোকার?
মেরিন: মেরিন বন্যা খানের সাহস পরিমাপ করা যায় বা করতে পারে এমন কোনো যন্ত্র বা ব্যাক্তি কিছুই নেই। আমার স্রষ্টাই একমাত্র আমার নিয়ন্ত্রক। by the way এখন তো কেবল আপনার office কেবিনে ঢুকেছি।
বলেই মেরিন নীড়ের সামনে এসে দারালো।
মেরিন: খুব শীঘ্রই এখানো ঢুকবো।

(নীড়ের বুকে আঙ্গুল রেখে)
নীড় ঝারা দিয়ে মেরিনের হাত সরিয়ে দিলো। এতে মেরিনের হাত টেবিলের সাথে লেগে কেটে গেলো।
মেরিন: ও মা এতো রাগ? জায়েজ আছে। মেরিন বন্যা খানের ভালোবাসার রাগ থাকবে না সেটা কি হয়?

একে তো মেরিন সামনে আসাতে নীড় heart লাফাতে লাফাতে বেরিয়ে আসার উপক্রম। তার ওপর মেরিনের এমন তরো কথা। নীড়ের মেজাজ গরম হতে আর কি লাগে?

নীড়: shut up just shut up get out from my cabin & office
কথাটা শুনে মেরিন হাহা করে হাসতে লাগলো।
মেরিন: জান আপনি আপনার বাবার কাছে যান। সব বুঝতে পারবেন। তো মিস্টার জান যান।
নীড় রেগে নিহালের কাছে গেলো। সব জানতে পারলো।
নীড়: what? এটা মেয়ে মানুষ না অন্যকিছু? একে তো আমি
নিহাল: নীড় দারাও

নীড়: তুমি আমাকে আটকাচ্ছো বাবা?
নিহাল: হ্যা। আটকাচ্ছি। তুমি ছোটো ছোটো বাচ্চা বাচ্চা বিষাক্ত সাপ দেখেছো?
নীড়: বাবা

নিহাল: বড় সাপের বিষ নামানো গেলেও সেই বাচ্চা সাপের বিষ নামানো অসম্ভব। মেরিন হলো সেই ছোটো বাচ্চা সাপ। যার ওপর না কোনো ওঝা প্রভাব ফেলে আর না বাজপাখি ১৯ বছর বয়সে business এ যোগ দিয়েছে। student but এই ৩বছরে ও খান empire এর property ৫গুন বারিয়েছে। ওর তেজ সূর্যের থেকেও যেন বেশি। চোখ বাজপাখির মতো। যেটায় চোখ পরে সেটাতে পরেই। খুবই ভয়ংকর ১টা মেয়ে। heartless রাগী পাজি জেদী। বদমেজাজী। drinks – smoke, মারামারি এমন কোনো বাজে স্বভাব নেই যা ওর মাঝে নেই। যদি ওর নামে 70% share না দিতাম তবে পুরো চৌধুরী গ্রুপটাকে ও মাটির সাথে মিশিয়ে দিতো।
নীড়: বাবা ওইটুকু ১টা মেয়েকে এতো ভয়

নিহাল: হামম ভয়? ভয় না ঘৃণা। যারাই সংস্পর্শে এসেছে তারা সবাই ওকে ঘৃণা করতে বাধ্য ভয়। কেউ ভয় পেতেও বাধ্য হয় ওইটুকু মেয়েকে ভয়। because she is a psycho সকলের অপ্রিয় যে সে হলো #ঘৃণারমেরিন।
নীড়: কিন্তু বাবা ওকে ভয় পেয়ে এখন ওর servant হয়ে থাকবো? ওই ফালতু মেয়ের
নিহাল: নীড় ভাষা ঠিক করো। ও খারাপ হতে পার তুমি তো না।

নীড়: sorry কিন্তু বাবা কি করবো?
নিহাল: ওর কাছে life টা game। সব কিছুতেই হার অথবা জিত খোজে। ওর মন চেয়েছে এই office এর share নেয়ার নিয়েছে
নীড় মনে মনে: ওর মন office এ না আমার ওপর
নিহাল: কি ভাবছো?

নীড়: তুমি মেনে নিতে পারো but আমিনা।
মেরিন: তো কি করবেন?

নীড়: তুমি?
মেরিন: হামম। আমি। 70%share নিয়ে আমি নিশ্চয়ই এই office এর যেখানে ইচ্ছা যেতে পারি।
নীড়: disgusting
বলেই নীড় বেরিয়ে গেলো।
মেরিন মনে মনে: পালান জান পালান তবুও পরিশেষে আপনি আমার
মেরিন নিজের জায়গায় গিয়ে বসলো।

পরদিন …

নীড় officeএ এলো। নীরার সাথে কথা বলতে বলতে লিফ্টে উঠলো। তাই খেয়াল করেনি যে মেরিনও লিফ্টে। নীড়তো নীরার সাথে হাসতে হাসতে কথা বলছে। আর মেরিন এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। এই প্রথম মেরিন নীড়ের হাসিটা দেখলো। ভীষন সুন্দর। মেরিন কেবল নীড়ের হাসিটাই দেখে যাচ্ছে। আর কিছু দেখার সময় নেই ওর। এমন কি নীড় কি পোশাক পরেছে তাও দেখেনি মেরিন। নীড়ের চোখ মেরিনের ওপর পরলো। চোখ পরতো না। কিন্তু heartbeat fast হওয়ার কারন খোজার জন্য সাইডে তাকাতেই মেরিনকে দেখলো। সাদা লেডিস জিন্স। নেভি ব্লু রঙের লেডিস শার্ট। হাতা ফোল্ড করা। চুলগুলো খোলা। ঠোটে লাল লিপস্টিক। ব্রাউন চশমা। মেরিনকে দেখে নীড়ের হাসি উধাও হয়ে গেলো।
নীড়: পরে ফোন করছি জান।

নীরা: ok baby
নীড় ফোন রেখে দিলো।
মেরিন: আপনার হাসিটা ভয়ংকর সুন্দর keep smiling
নীড় কিছু বলতে যাবে তখনই ওদের floor এসে গেলো। নীড় হনহন করে ওর নতুন কেবিনে গেলো। নীড় রাতারাতি নিজের জন্য আলাদা কেবিনের ব্যাবস্থা করেছে। কিন্তু গিয়ে অবাক। কারন ওর চেয়ারের পাশে আরেকটা চেয়ার। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মেরিন এসে পেছন থেকে জরিয়ে ধরলো।
মেরিন: ভালোবাসি জান
বলেই নীড়ের পিঠে চুমু দিলো।

নীড় ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো মেরিনকে।
নীড়: একদম আমাকে টাচ করবেনা বলে দিলাম।
বলেই নীড় গিয়ে চেয়ারে বসলো। বসে চোখ বন্ধ করলো। কিছুক্ষনপর বুঝতে পারলো যে কেউ ওর কোলে ধপ করে বসে ওর ঠোট জোরা দখল করে নিলো। তারাতারি মেরিনকে সরিয়ে ঠাস করে ১টা থাপ্পর মারলো।

নীড়: নোংরা মেয়ে। বেহায়া। লজ্জা করেনা এমন কাজ করতে?
মেরিন: না কারন আমি আপনাকে ভালোবাসি। আপনি আমার। ২দিনপর আপনার সাথে আমার বিয়ে। তাই লজ্জা পাওয়ার প্রশ্নেই ওঠেনা।
নীড়: ভালোবাসো? তোমার মতো বাজে মেয়ে ভালোবাসতে জানেনা। আর বিয়ে?
নীড় নিজের হাতের আংটিটা দেখিয়ে
বলল: দেখছো এটা? এটা আমার engagement ring
মেরিন: ring টা মোটেও সুন্দরনা। cheap আর engagement হয়েছে বিয়ে না। আপনার বিয়েতাে আমার সাথেই হবে।
নীড়: in your dreams তোমার সাথে আমার বিয়ে কখনোই হবেনা। যাকে ভালোবাসি সেই নীরা কেই আমি বিয়ে করবো।
মেরিন: দেখা যাবে।

বলেই মেরিন নীড়ের পাশের চেয়ারে বসলো। সারাদিন মেরিন কোনো কাজ টাজ না করে নীড়কেই কেবল দেখলো। বিকালে ওরা project siteএ গেলো। মেরিন তো কিছুই দেখছেনা নীড়কে ছারা। নীড় just বিরক্ত হচ্ছে।

২দিনপর …

সাইটে কাজ চলেছে জোর দমে। নীড় আসার আগেই মেরিন চলে এসেছে। নীড় এসে দেখে কাজ চলছে। আর perfectly চলছে।
নীড়: এর ধারে কাছে যাওয়া যাবেনা। দূরে থাকতে হবে
নীড় খানিকটা দূরে গিয়ে দারালো। এখানের পরিবেশটা ভীষন সুন্দর।
নীড়: really very beautiful
মেরিন: yes too much beautiful
নীড়: আবার তুমি?
মেরিন: হামম।
নীড় চলে যেতে নিলো।

মেরিন: নীড়
এমন ভালোবাসা মিশ্রিত ভাবে কেউ কখনো নীড়কে ডাকেনি। মেরিনের “নীড়”ডাকটাই বলে দিচ্ছে যে মেরিন নীড়কে কতোটা ভালোবাসে। তাই না চাইতেও নীড় দারালো। মেরিনের দিকে ঘুরলো। মেরিন নীড়ের দিকে এগিয়ে গেলো। ২হাতে নীড়ের গলা জরিয়ে ধরে
বলল: ভালোবাসি
নীড় মেরিনের হাত সরাতে সরাতে
বলল: are you totally mad?
তখনই কোনো সোরগোল পাওয়া গেলো। নীড়-মেরিন সেখানে গেলো।

গিয়ে দেখলো ৫-৬জন গুন্ডা type লোক ম্যানেজারকে ধমকাচ্ছে। কারন ওদেরকে চাঁদা দেয়া হয়নি। আর এখানে নাকি কোনো কাজ করতে হলে ওদেরকে আগে চাঁদা দিতে হয়। ১জনের হাতে গান। যেটা দিয়ে দিয়ে ম্যানেজারকে ধমকাচ্ছে।
নীড়: what the

বলেই নীড় রেগে যেতে লাগলো। ঠিক তখনই গুলির শব্দ পেলো। শব্দ পেয়ে নীড় পেছনে ঘুরলো। দেখলো মেরিনের হাতে গান। নীড় তো just অবাক। আসলে যে গান হাতে নিয়ে ম্যানেজারকে ধমকাচ্ছিলো তার হাত বরাবর মেরিন shoot করেছে। বসের হাতে গুলে করেছে দেখে তার চ্যালাপেলারা ক্ষেপে গিয়ে মেরিনের দিকে তেরে আসতে নিলো। মেরিন ওদের পায়ের ওদিকে ফাকা গুলি করলো। ভয়ে ওরা ওখানেই থেমে গেলো। মেরিন ওদের সামনে গেলো।

মেরিন: এতোটুকু সাহস নিয়ে গুন্ডাগিরি whatever মেরিন বন্যা খান কখনো কারো অনুমতি নিয়ে কাজ করেনা। তোরা তো কোন ছার। আর যদি কখনো তোদের চেহারাটা আমার চোখের সামনে পরে তাহলে কাজ করার জন্য হাত থাকবেনা, চলার জন্য পা থাকবেনা। now out
নীড় তো এখনো হা করে দেখেই যাচ্ছে।

নীড়: এতোটুকুর জন্য লোকটাকে গুলি মারলে?
মেরিন: কপাল ভালো যে আমি রাগী অবস্থায় নেই। তাহলে বুলেটটা ওর মাথায় লাগতো।
জন: ম্যাম ম্যাম
মেরিন: চেচাচ্ছো কেন?

জন: ম্যাম এখানে না
মেরিন: চিন্তার কোনো কারন নেই ২টা কফি
জন: জী ম্যাম
জন চলে গেলো।

নীড়: মেয়ে হয়ে সাথে ১টা গান নিয়ে ঘুরতে লজ্জা করেনা?
মেরিন: না আর ১টা না ২টো গান নিয়ে ঘুরি।
নীড়: …..

মেরিন: শুনুন না একটু হাসুন না হাসলে আপনাকে অনেক ভালোলাগে।
নীড়: তুমি ভাবলে কি করে যে তোমার ভালোলাগার কোনো কাজ আমি করবো
মেরিন: না করলেন কিন্তু মনে রাখবেন আজ আমার পছন্দের কাজ যেমন করছেন না একদিন এমনও দিন আসবে যে আমার অপছন্দের কাজ করবেন না।
নীড়: এমন দিন কখনো আসবেনা
বলেই নীড় যেতে নিলো।
মেরিন পেছন থেকে
বলল: i love you
নীড়: & i hate you

কিছুদিন পর
নীড় ঘুমিয়ে আছে। হঠাৎ ওর মনে হলো কেউ ওর হাত পা বেধে কোথাও নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি মুখও বাধা। নীড় তারাতারি চোখ মেলল। দেখলো ওকে খুব যত্ন সহকারে শূন্যে তুলে গাড়িতে ওঠানো হলো। এরপর কোথাও নিয়ে যাওয়া হলো। ১টা বিশাল বড় ঘরের মতো কিছু। ঘুটঘুট অন্ধকার। তাই কিচ্ছু দেখা যাচ্ছেনা। ওকে ১টা চেয়ারে বসিয়ে লোকগুলো চলে গেলো। তবে ওর heartbeat fast
নীড় মনে মনে: আবার কেন heartbeat fast?
তখন লাইট জ্বলে উঠলো। সামনে তাকিয়ে দেখলো মেরিন দারিয়ে আছে। মেরিন ১টা রিমোট প্রেস করে রুমটার roofসরিয়ে দিলো। চাঁদের আলোতে রুমটা ভরে গেলো। মেরিন নীড়ের দিকে এগিয়ে এসে ওর কোলে বসলো। এরপর নীড়ের মুখের বাধন খুলে দিলো।
নীড়: what is all this? আমাকে এভাবে এখানে কেন আনিয়েছো?
মেরিন নীড়ের ঠোটে হাত বুলাতে বুলাতে
বলল: আপনাকে ভীষন দেখতে ইচ্ছা করছিলো তাই।

নীড়ের তো হাত বাধা। তাই নিজের হাত দিয়ে মেরিনের হাতটা সরাতে পারছেনা। তাই মাথা নারাচ্ছে।
নীড়: কি হচ্ছেটা কি? হাত সরাও ঠোট থেকে। আর সারাদিন কি আমাকে দেখোনি? রোজই তো দেখো।
মেরিন: হামম দেখি তো। কিন্তু রাতে চাঁদের আলোতে তো কখনো দেখিনি। তাই আপনাকে চাঁদের আলোতে ভীষন দেখতে ইচ্ছে হলো। দেখতে ইচ্ছে হলো চাঁদ বেশি সুন্দর না আপনি? নিঃস্বন্দেহে আপনি বেশি সুন্দর। i love you

নীড়: & i hate you তুমি কি বোঝোনা যে আমি অন্যকাউকে ভালোবাসি। তোমাকে আমি ভালোবাসিনা। ঘৃণা করি।
মেরিন: করুন আপনাকে ভালোবাসার আগে তো এই শর্ত দিয়ে ভালোবাসিনি যে আপনিও আমাকে ভালোবাসবেন। আমি আপনাকে ভালোবাসি সেটাই বড়
নীড়: তোমার problem টা কি? তুমি কি মনে করো তুমি আমাকে পাবে? আমি নীরাকে ভাআর বলতে পারলো না। মেরিন ওর ঠোট জোরা দখল করে নিলো। একটুপর নীড় গালে গরম তরল কিছু অনুভব করলো। একটুপর মেরিন নীড়কে ছারলো। এরপর পাগলের মতো নীড়ের সারা মুখে kiss করলো। এরপর নীড়ের কোল থেকে উঠলো। then লোকগুলোকে ডাকলো। ওরা আবার নীড়কে একইভাবে বাসায় পৌছে দিলো।

৩দিনপর…

নীড় বসে বসে মেরিনের কথা ভাবছে।
নীড়: মেয়েটা এমন কেন? কেন বোঝেনা যে আমি নীরাকে ভালোবাসি। নীরা এসব কথা জানলে কতোটা কষ্ট পাবে। তারমধ্যে আগামী রবিবার নীরা আসছে। জানি না কি হবে? মেরিন যে dangerous ও যদি উল্টা পাল্টা কিছু করে ফেলে
নীড় কি সব ভাবছিস তুই? তোর এটা ভাবা উচিত যে যদি নীরা তোকে ছেরে যায় তাহলে কি হবে কিচ্ছু ভাবতে পারছিনা। মেয়েটা আমাকে পাগল করে ফেলেছে।

নীলিমা: কে পাগল করলো আমার ছেলেটাকে
নীড়: আরে মামনি
নীলিমা: আমার ছেলেটা যে এখনো বেড ছারেনি? অসুস্থ?
নীড়: না মামনি এমনিতেই।

নীলিমা: তাহলেই ভালো। নিচে আসো। বাবা বসে আছে তোমার জন্য। নাস্তা করবে না?
নীড়: হামম তুমি যাও আমি আসছি।
নীলিমা: come soon
বলেই নীলিমা চলে গেলো।
নীড়: thanks god যে আজকে শুক্রবার। সাইকোটার সাথে দেখা হবেনা। ১মিনিট ১মিনিট যদি আমি বাইরে না যাই তাহলে তো ওকে আর সহ্য করতে হবেনা। হামম। good idea কিন্তু রাতে যদি তুলে নিয়ে যায়? সেটারও ১টা ব্যাবস্থা করবো। at least ৩-৪দিন শান্তি পাবো।

পর্ব ৩

বেরিয়ে দেখলো যে বাসার বাইরে ভীর জমে গেছে। আর ১টা গাড়ির ওপর দারিয়ে আছে। যেটা ধীরে ধীরে ওদের বাড়ির সামনে আছে মেরিন মাইক্রোফোন নিয়ে বলছে:
নীড় নীড় নীড় where you i love you
মাইক্রোফোন টা বড় সরো ১টা স্পিকারে সাথে join করা। স্পিকারটাতে মেরিনের কথা বাজছে। যা শুনে কানে তালা লাগার উপক্রম

নীড়: …
নিহাল: এই মেয়ে এখানে এভাবে নীড়ের নাম নিচ্ছে কেন?
নীলিমা মনে মনে: মেরিন
মেরিন নীড়কে দেখ খুশি হলো। নীড় রেগে মেরিনের দিকে গেলো। মেরিন লাফ দিয়ে গাড়ি থেকে নামলো।
নীড়: এসবের মানে কি?

মেরিন: ৩দিনধরে office না আসার মানে কি?
নীড়: অসহ্য তুমি কি পাগল?
মেরিন: হামম। আপনার জন্য because i love you
নিহাল-নীলিমা: ….
নীড়: & i hate you আমার চোখের সামনে থেকে দুর হও তো।
মেরিন: সেটা আপনাকে বলতে হবেনা। এমনিতেও চলে যাবো। আপনাকে দেখা হয়ে গেছে। আমার কাজ শেষ। আসছি। আর হ্যা আজকে থেকে না হলেও কালকে থেকে office এ চলে আসবেন। bye
বলেই মেরিন চলে গেলো।

নিহাল: oh my goodness এটা আমার মাথাতেই আসেনি। আসলে মেরিনের উদ্দেশ্য তুমি?
নীড় কোনোকিছু না বলে ready হয়ে office এ গেলো। এদিকে সকালে মেরিন যে কান্ড ঘটিয়েছে সে কান্ডের জন্য প্রেস মিডিয়ায় ঝড় উঠে গেছে।

২দিনপর
নীড় ফোনে কথা বলছে। আর মেরিন কফি খেতে নীড়কে দেখছে। ঠিক তখনই কোথায় থেকে নীরা দৌড়ের এসে নীড়কে জরিয়ে ধরলো।
নীরা: missed you জান
নীড়: জান

নীড় ফোন রেখে নীরাকে জরিয়ে ধরলো।
নীড়: i also missed you but তুমি আসবে আমাকে বলোনি কেন?
নীরা: বললে surprise দিতাম কিভাবে?
নীড়: হামম তাও ঠিক। you know what?
নীরা: what?

নীড়: i love you
নীরা: i love you 2
বলেই নীরা নীড়ের বুকে মুখ লুকালো। তখন নীড়ের চোখ মেরিনের দিকে পরলো। চোখ দিয়ে আগুন ঝরছে আর হাত দিয়ে রক্ত।
নীড় মনে মনে: আমি তো এই ডাকাতের কথা ভুলেই গিয়েছিলাম। আল্লাহই জানে এখন কি করবে?
নীড়কে অবাক করে মেরিন ওখান থেকে চলে গেলো। গিয়ে গাড়িতে বসলো।
জন: ম্যাম আপনার হাত দিয়ে তো অনেক রক্ত পরছে। দেখি ব্যান্ডেজ করে দেই
মেরিন রেগে জনের দিকে তাকালো।

জন: ম্যাম সেপটিক হয়ে যাবে
মেরিন:
জন: ম্যাম আপনি যদি বলেন ওই নীরাকে এখনই ২মিনিটও লাগবেনা নীড় স্যারের কাছে থেকে ওকে সরাতে।
মেরিন: আপাদত নীড়ের ওপর মেরিনের কোন অধিকার নেই। তাই নীড়ের বুকে ও এখনো safe আছে
বলেই মেরিন চলে গেলো।

খান বাড়িতে
মেরিন বাসায় ঢুকছে। তখন কবিরের সাথে মেরিনের চোখাচোখি হলো। যতোযাইই হোক সন্তানের আঘাতে তো বাবাদের হৃদয় ঠিকই পুরে। তাই কবিরেরও বুকটা মোচর দিলো। কিন্তু মেরিনকে ignore করে চলে গেলো। এতে মেরিনের কিছুই যায় আসেনা মেরিন রক্তাত্ব হাত নিয়ে সিড়ি দিয়ে উঠছে। তখন ওর ফুপ্পি সেতু
বলল: কিরে অনামুখী কাকে খুন করে এলি?
মেরিন: আপনার অকর্মা বরটাকে
বলেই মেরিন সোজা দাদুভাইয়ের রুমে গিয়ে দাদুর কোলে মাথা রেখে শুয়ে পরলো। দাদুভাইও first aid box নিয়ে ready ছিলো। কারন জন আগেই ফোন করে সব বলেছে।

দাদুভাই: দেখি দিদিভাই হাতটা দেখি
দাদুভাই পরম যত্নে মেরিনের হাতে ব্যান্ডেজ করে দিলো।
মেরিন: আমি নীড়কে বিয়ে করবো।
দাদুভাই: হামম করবে। কবে করবে তারিখ ঠিক করেছো?
তখনই ২জন শুনতে
পেলো: নানু
২জন সামনে তাকালো।

দেখলো নীরা দারিয়ে আছে।
নীরা: নানু নানু নানু
মেরিন: ওখানেই দারাও আর এক পাও যেন আগে না বারে
নীরা: তোকে বলে আগে বারবো
নীরা তাও আগে আসতে নিলে দাদুভাই থামিয়ে দিলো।
দাদুভাই: যা বলার ওখান থেকেই বলো।
নীরা: নানু আমি এতোদিন পরে এসেছি তাও তুমি
দাদুভাই: তুমি কোনো জাতীয় সম্মাননা পাওয়ার মতো কাজ করে আসোনি। নিজের দোষ ঢেকে এসেছো।
নীরা: তোমার এই নাতনি বুঝি পুরস্কার পাওয়ার মতো কাজ করে?
দাদুভাই: তোমার মতো ছলনা করে না। now out
নীরা: মাম্মি মাম্মি

মাকে ডাকতে ডাকতে আর ন্যাকা কান্না কাদতে কাদতে নীরা বেরিয়ে গেলো।

রাতে
নীড়: মেরিন ওভাবে চলে গেলো কেন? কিছুই বললনা। নীড় তুই কি চাস যে মেরিন react করুক?

পরদিন
নীড় office এ গেলো। দেখলো মেরিনের গাড়ি নেই।
নীড়: আজকে এখনো আসেনি কখনো তো late করেনা
তখনই মেরিনের গাড়ি এসে হাজির। মেরিন আজকে নেভি ব্লু লেডিস কোট পরেছে। ডান হাতে ব্যান্ডেজ। মেরিনকে দেখে কেন যেন নীড়ের মনে হলো যে মেরিনের শরীরটা ভালোনা। তবুও নীড় মেরিনকে ignore করে চলে গেলো। গিয়ে নিজের চেয়ারে বসলো।
৫মিনিটপর মেরিন কেবিনে ঢুকলো। ঢুকে চুপচাপ নিজের চেয়ারে বসলো। নীড় আরো অবাক হলো।
নীড় মনে মনে: কেন যেন এর নীরবতা ঝড়ের পূর্বাভাসের মতো লাগছে।

মেরিন ল্যাপটপ খুলে কাজ করতে বসলো।
মেরিন: বিয়ে করবেন আমাকে?

কথাটা শুনে অবাক হয়ে তাকালো মেরিনের দিকে। যাকে ভালোইবাসেনা তাকে বিয়ে?
মেরিন ল্যাপটপে কাজ করতে করতে
বলল: কি হলো বলুন
নীড়: আমি নীরাকে ভালোবাসি আর ওকেই বিয়ে করবো। বুঝেছো?
মেরিন: ভালোমতো জিজ্ঞেস করছি তাই ভালোমতো বলুন যে বিয়ে করবেন কি না?
নীড়: না
মেরিন: হামম। ভালোমতো বললাম ভালো লাগলো না। এরপর কি হবে বা হতে পারে সেটা আমি নিজেও জানিনা।
নীড়: যা মন চায় করো।

২জন ২জনের কাজ করছে। হঠাৎ মেরিনের হাতের সাথে নীড়ের হাত ছোয়া লাগলো। মেরিন সাথে সাথে হাতটা সরিয়ে নিলো। কিন্তু নীড় বুঝতে পারলো যে পারলো মেরিনের শরীর অনেক গরম। মানে ভীষন জ্বর। এখন নীড় বুঝতে পারলো মেরিন কেন এসেই আজকে ওকে জরিয়ে ধরেনি। তখনই নীরা রুমে ঢুকলো।

নীরা: জান একি তুই?
মেরিন জবাব দিলোনা।
নীরা: কি রে তুই এখানে কেন?
বলতে বলতে নীরা আগে বারতে লাগলো। মেরিন গানটা বের করে নীরার পা বরাবর ফাকা গুলি করলো ১টা। এরপর হাত দিয়েই ইশারা করলো চলে যেতে।
নীরা: তোর কি মনে হয় যে আমি ভয়ে চলে যাবো?
নীড়: জান চলো আমরা অন্য কোথাও যাই।

নীড় নীরাকে নিয়ে office থেকে বেরিয়ে গেলো।
নীরা: আরে তুমি কি ওকে ভয় পাও নাকি? ওই বেয়াদবটার ভয়ে
নীড়: তুমি ওকে চেনো?

নীরা: চিনবো না কেন? ও তো মেরিন। মেরিন বন্যা খান। মামার মেয়ে।
নীড়: what? ও তোমার মামাতো বোন?

নীরা: হ্যা। ও এখানে কেন? তাও তোমার কেবিনে? তোমার পাশে। তুমি আমাকে বলোনি কেন?
নীড়: শান্ত হও জান আমি তোমাকে সব বলছি
নীড় নীরাকে সব বলল।
নীরা: what? এতোকিছু তুমি আমাকে বলোনি কেন?
নীড়: তুমি কষ্ট পাবে বলে
নীরা: তুমি জানোনা ও কতো dangerous এখনি চলো।
নীড়: কোথায়?

নীরা: marriage registry office
নীড়: what? কি বলছো কি?
নীরা: তা না হলে তুমি জানোনা ও যখন বলেছে যে তোমাকে বিয়ে করবে তখন করবেই।
নীড়: কিন্তু এখন কিভাবে সম্ভব।

নীরা: এখন না হলে কখনোই না তুমি uncle-aunty কে ডেকে আসতে বলো। আর আমি মাম্মি-পাপা আর মামাকে আসতে বলি।
নীড়: কিন্তু এখনই কিভাবে সম্ভব?
নীরা: তারমানে তুমি আমাকে বিয়ে করতে চাওনা?
নীড়: আরে কি বলো কি?
নীরা: তাহলে চলো?
নীড়: ok চলো।
ওরা marriage registry office এ রওনা হলো।

মাঝপথে
নীড় বাধ্য হয়ে গাড়িতে break মারলো। কারন মেরিন পথ আটকে দারিয়ে আছে। নীড়-নীরা গাড়ি থেকে নামলো।
নীরা: তুই? সামনে থেকে সর

মেরিন: মেরিন নিজের অনুযায়ী চলে। অন্যকারো না। তোমার মতো কোনো কীটপতঙ্গ তো আমার পায়ের ধুলা।
নীরা: …

মেরিন গানটা আঙ্গুলে ঘোরাতে ঘোরাতে নীড়ের সামনে এলো।
গানটা নীড়ের গালে আলতো করে ধরে
বলল: জীবনে শেষবারের মতো আপনাকে জিজ্ঞেস করছি। বিয়ে করবেন আমাকে?
নীড়: না
মেরিন: ভেবে বলছেন?

নীড়: হামম।
জবাবে মেরিন ১টা রহস্যময়ী হাসি দিলো। নীরার ভয় লাগলো মেরিনের হাসিটা দেখে ভয় লাগলো।
মেরিন: জীবনে আর ভালোভাবে ভালোবাসা পাওয়া হলোনা। আর না মনের আশা পূরন হলো। এটাই হয়তো “মেরিন বন্যা খানের”সাথে নীড় আহমেদ চৌধুরী বর্ষনের শেষ দেখা।
“শেষ দেখা”কথাটা শুনেই নীড়ের বুক কেপে উঠলো।
তবে নীড় কিছু বুঝে ওঠার আগেই মেরিন নীড়ের ঠোটে হালকা ১টা কিস করে চলে গেলো। নীড় অবাক চোখে মেরিনের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো।
নীরা: তারাতারি চলো
নীড়: এখন বিয়ে না করলেই না মনে তো হয়না যে ও আর ফিরবে
নীরা: ও ফিরবে কি ফিরবে জানিনা কিন্তু নানু আর ওর চামচা জন কি না কি বাগরা দেয় তার ঠিক নেই।
নীড়: কিন্তু

নীরা: ও তো তুমিও ওর রূপের জ্বালে আটকে গেলে
নীড়: কি যা তা বলছো?
নীরা: তাহলে চলো। registry marriage টা করে নেই। বিয়েটা ১বার হয়ে গেলে আর কেউ কিছুই করতে পারবেনা। পরে না হয় ধুমধাম করে program হবে। চলোনা
নীড়: হামম।
মনে মনে: মেয়েটা না কিছু করে ফেলে
নীড়-নীরার বিয়েটা সম্পুর্ন হলো।

registry office থেকে বেরিয়েই নীরার ১টা ফোন এলো। ১টা বড় মডেলিং এর। নীরা তো খুশিতে আত্মহারা। লাফাতে লাফাতে চলে গেলো।
আর নীড় ডুবে গেলো ভাবনার জগতে।
নীড় মনে মনে: সত্যিই কি তবে এটা শেষ দেখা ছিলো? ও কি নিজেকে কিছু করে ফেলবে? যা মন চায় করুক। আমার কি

২মাসপর
কালকে নীড়ের গায়ে হলুদ।
নীড় চাদের দিকে তাকিয়ে আছে। ১৫-২০দিনের মতো মেরিনের সংস্পর্শে ছিলো। তবুও কেন যেন রোজ ভীষন ভাবে ওকে মনে পরে। ওর কথা, ওর কাজ। মেরিন নীড়কে ২দিন না দেখলে কেমন করতো সেই মেরিন
নীড়: আমার জন্য কি তবে মেরিন কিছু উল্টা পাল্টা করলো? যদি সত্যি এমনটা হয় তবে এই পাপ আমি কোথায় রাখবো? কিচ্ছু জানিনা

পরদিন
সন্ধ্যায়
আজকে নীড়-নীরার গায়ে হলুদ
নীড় নিজেই ready হচ্ছে। হলুদ রঙের পাঞ্জাবি আর কালো রঙের ধুতি পরেছে নীড়। সিল্কি চুলগুলোতে আজকে জেল দেয়নি। আজও নীড় না চাইতেও মেরিনকে ভাবছে। হঠাৎ ই কারেন্ট চলে গেলো। তখন কেউ ওকে পেছন থেকে জরিয়ে ধরলো।
নীড়: আহ নী

পরক্ষনেই নীড়ের বোধ হলো যে এটা নীরার ছোয়ানা। মেরিনের। নীড় ঝড়ের বেগে পিছে ঘুরলো। লাইট নেই। চাদও অনেকটা মেঘে ঢাকা। তবুও নীড় মেরিনকে স্পষ্ট দেখলো। দেখলো মেরিন হলুদ রঙের ১টা শাড়ি পরে আছে। যার মধ্যে কালো পাথর বসানো। খুবই সাধারন কিন্তু দারুন ১টা শাড়ি। অস্বাভাবিক সুন্দর লাগছে মেরিনকে। না চাইতেও মেরিনকে দেখে নীড় টা স্বস্তির নিঃশ্বাস নিলো।
নীড়: ত

মেরিন নীড়কে কথা বলতে না দিয়ে ওর ঠোটে মাঝে আঙ্গুল রাখলো।
এরপর নীড়কে বসিয়ে ওর কোলে চরে বসলো। এরপর নীড়ের ২ গালে হলুদ লাগিয়ে দিলো। এরপর নীড়ের গালের সাথে নিজের গাল ঘষে নিজেও হলুদ রাঙা হলো। এরপর নীড়ের ঠোটে ১টা হালকা কিস করে চলে গেলো। আর লাইট জ্বলে উঠলো। নীড় সাথে সাথে মেরিনকে খুজতে বের হলো। কিন্তু কোথাও পেলোনা।
নীড়: তুমি স্বপ্ন নাকি সত্যি

পর্ব ৪

নীড়: তুমি স্বপ্ন নাকি সত্যি নাকি দুঃস্বপ্ন
নীড়কে নিচে নিয়ে যাওয়া হলো হলুদ সন্ধ্যা শুরু হলো। অনেক আনন্দ উৎসব হলো কিন্তু নীড় সত্যি নামক স্বপ্নটার রহস্য ভেদ করতে ব্যাস্ত। ও বুঝতে পারছেনা যে ওটা সত্যি সত্যি কি মেরিন ছিলো?

পরদিন
আজকে নীড়ের বিয়ে।

নীড়: স্বপ্ন কিভাবে হতে পারে? মেরিন তো সত্যিই ছিলো। আমি তো feel করেছি। feel করেছি নীড় তুই কি করছিস? কি ভাবছিস? তুই মেরিনকে কিভাবে মেরিনকে feel করতে পারিস তুই নীরাকে ভালোবাসিস নীরা তোকে ভালোবাসে। নীরা তোর বিয়ে করা বউ। তোর মনের মালিক কেবল আর কেবল নীরা। মেরিন কেবল ভেসে আসা কালো মেঘ। আজকের পর থেকে আর ওকে নিজের কল্পনায় আনবোনা
আমার
ভালোবাসার সাথে অন্যায় করতে পারবোনা আমি।

রাতে….

চারদিকে মানুষ ভরপুর। রমরম করছে। প্রেস-মিডিয়া সবাই উপস্থিত। কাজী সাহেব এলো। কারন registry marriage করা হলেও কবুল পরিয়ে তো আর বিয়ে হয়নি ঠিক তখনই সাইরেন বাজাতে বাজাতে ১ডজন পুলিশের গাড়ি হাজির হলো। সবাই তো অবাক। আইজি, ডিআইজি কমিশনার সব এসে হাজির। সবাই তো মহা অবাক। কবির-নিহাল দৌড়ে গেলো।

কবির: কি ব্যাপার আপনারা এখানে?
নিহাল: কোনো সমস্যা? আপনারা হঠাৎ এখানে?
কমিশনার: হাজার শুকরিয়া করুন যে হোমমিনিস্টার আসেনি। আচ্ছা আপনারা এতো বড় এবং উচ্চশিক্ষিত মানুষ হয়ে এমন বেআইনি কাজ করতে আপনাদের লজ্জা করছেনা?
কবির: বেআইনি কাজ? কি বেআইনি কাজ করছি?

ডিআইজি: বিবাহিত ছেলের আবার বিয়ে দিচ্ছেন তাও divorce না করিয়ে তাও জোর করে আবার বলছেন কি বেআইনি কাজ।
নিহাল: what? বিবাহিত ছেলে মানে?
কমিশনার: বিবাহিত ছেলে মানে বোঝেন না? নাকি নাটক করছেন? সবার কোমড়ে দরি বেধে নিয়ে যাবো থানায়।
নীড় আর বসে থাকতে পারলোনা। কি হয়েছে জানার জন্য উঠে এলো।
নীড়: কি হয়েছে?

কমিশনার: এই যে আপনি ২মাস আগে বিয়ে করা বউ রেখে নতুন করে বিয়ে করতে লজ্জা করছেনা?
নীড়: কি আবোল তাবোল কথা বলছেন? বউ রেখে নতুন বিয়ে করবো কেন? আমার wife নীরা। আর নীরাকেই ২মাস আগে বিয়ে করেছি। তখন registry marriage ছিলো। আর এখন ইসলামিক ভাবে
আইজি: shut up লজ্জা করছেনা মিথ্যা বলতে। সবাই কে ধরে নিয়ে যাবো থানায়। থার্ড ডিগ্রি দিলে মজা বুঝবেন। আমাদেরকে মিথ্যা বলছেন? আপনার wife আপনাদের marriage registry paper আমাদেরকে দেখিয়েছে। আমরা সেটা ভালোভাবে চেক করে দেখেছি। সবটা সত্যি ছিলো।
নীড়: oh really? তো কোথায়, কে আমার wife.

মেরিন: আমি
সবাই দরজার দিকে তাকালো। দেখলো সাদা লেহেঙ্গা আর গা ভরতি গহনা পরে দারিয়ে আছে মেরিন।
দেখে মনে হচ্ছে স্বর্গ থেকে কোনো অপ্সরী। style মেরে হেটে আসলো।
নীড়: তুমি?
মেরিন: yes honey
কমিশনার: চিনলেন তাহলে
নীড়: চিনবোনা কেন? the মেরিন বন্যা খান।
মেরিন: উহু একটু ভুল হলো। মেরিন বন্যা খান নয় মেরিন বন্যা নীড় খান চৌধুরী
নীড়: shut up officer she is not my wife
আইজি: তাই?

তখন আইজি নীড়-মেরিনের marriage registry paper টা বের করে
বলল: তাহলে এটা কি?
নীড় কাগজটা হাতে নিয়ে দেখলো তাতে বরের নাম বরের মা-বাবার নাম তো ঠিকই আছে চৌধুরী চৌধুরী কিন্তু কনের নামের জায়গায় সব খান খান মেরিন বন্যা খান, কনিকা খান, কবির ফয়সাল খান
নীড়: এগুলো সব ফালতু ভুয়া
বলেই নীড় কাগজটা ছিরতে গেলো। কিন্তু পারলোনা। কমিশনার নিয়ে নিলো।

কমিশনার: মিস্টার নীড়
আপনার সাহস দেখে অবাক হচ্ছি আপনি আমাদের সামনে
নীড়: দেখুন
নিহাল: দারাও নীড় officersএই paper কি না কি জানিনা তবে আমাদের কাছেও ১টা পেপার আছে। দারান। দেখাচ্ছি
বলেই নিহাল আরেকটা পেপার নিয়ে এলো সেটা আইজির হাতে দিলো।

নিহাল: পড়ে দেখুন।

আইজি পড়তে লাগলো।
নিহাল: এটাই আসল। এই কারনেই কপি। মেজিস্ট্রেট বলেছিলো এখন নাকি নতুন rules তাই সাথে সাথে আসল পেপারটা পাওয়া যাবেনা। আর এই মেয়েটা আসল পেপার নিয়ে এসেছে। তাহলেই বুঝুন
আইজি: এমন new rules এর কথা কখনো শুনিনি মিস্টার চৌধুরী
বলেই আইজি সাহেব পেপারটা নিহালের চোখের সামনে তুলে ধরলো।
বলল: i think আপনার এটা পড়ে দেখা দরকার আমার না।

নিহাল পেপারটা হাতে নিলো। পড়লো। আর পড়ে আরেক দফা ঝটকা খেলো। কারন এটাতো মেরিনের কাগজেরই কপি। মানে নীড়-মেরিনের marriage registry এর। নীড় হাতে নিলো। নীড়ও অবাক।
নীড়: এটা কি করে সম্ভব signature করার সময় তো ঠিক দেখেছিলাম। তা
তখন নীড়ের মনে পরলো যে সেদিন নীরা sign করার পর হঠাৎ বাইরে শোরগোল হয়েছিলো। হঠাৎ করে এমন হওয়াতে সবাই বেশ চমকে গিয়ে পেছনে ঘুরেছিলো আর বিয়ের ১০মিনিট পরেই নীরা সকল বাধা নিষেধ উপেক্ষা করে মডেলিং করতে চলে যায়। আর আকস্মিকভাবে বিয়েটা হওয়াতে পেপারটা আর পড়াই হয়নি।

নীড়: oh god officers is a cheating বিশ্বাস করুন
আইজি: shut up
নীড়: ok fine বিয়ে যখন আছে তখন divorceও আছে। এই ম
আইজি: জানতাম আপনি এই contract পেপারটাও হয়তো ভুলে গেছেন।
বলেই তিনি আরো ১টা পেপার বের করে দিলো। যেটাতে লেখা মেরিনের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মেরিনই নীড়ের বউ থাকবে। নীড়ের তো কথা বলার ভাষাই নেই।
নিহাল: এসব আমরা মানিনা
ডিআইজি: কিছু করার নেই না মানলে আপনাদের সবাইকে জেলে পচে মরতে হবে
উনারা অনেক অপমান করলো সবাইকে।

নীরা: এটা কোন ধরনের কথা? আপনারা নিশ্চয়ই ঘুষ খেয়েছেন
মেরিন: officers আপনাদের ঘুষখোর বলছে আর তারথেকেও বড় কথা, আসল কালপ্রিট তো এই মেয়েটা ওই নিজে সব plan করেছে। আমার স্বামীকে ফাসিয়েছে arrest her
কমিশনার: এমন মেয়েকে তো আসলেই arrest her
কবির: ১মিনিট নীরার মামা কবির ফয়সাল খান এখনো জীবীত। আমি কবির ফয়সাল খান বলছি যে আপনারা চলে যান। আর আমার ভাগনীর দিকে ভুলেও পা বারাবেন না।

আমার পাওয়ার তো জানেন
তখন দাদুভাই পেছন থেকে
বলল:আর মেরিন বন্যা নীড় খান চৌধুরীর পাওয়ারটাও তো জানেন। মেরিন বন্যা মানেই শাহজাহান খান so arrest her
নীড়: ১মিনিট সন্ধ্যা ৬টার পর কোনো মেয়েকে arrest করা যায়না। নিশ্চয়ই ভুলে যাননি
আইজি: না যাইনি তবে এনাকে আপনি বাচাতে পারবেন না
বলেই ওনারা চলে গেলো।

আর তখন ধাধা করে গুলি চলতে লাগলো। না না কারো ওপরে না। শূন্যে
কারন এটা মেরিন বন্যার বিয়ে। এখানে বাদ্যযন্ত্রের শব্দ না, গুলির শব্দ পাওয়া যাবে। বাদ্যযন্ত্রতো সব বিয়েতেই বাজে। তাই মেরিন ওর বিয়েতে ২১ ধরনের gunএর গুলি আওয়াজ দিয়ে মিউজিক বাজাচ্ছে।
কবির: তোমাকে তো মেয়ে আমি
মেরিন: জন এই লোকটাকে ১মিনিটের মধ্যে আমার চোখের সামনে থেকে সরাও
জন নিয়ে গেলো।

মেরিন নীড়ের সামনে গিয়ে
বলল: ভালোভাবে সেদিন বলেছিলাম না বিয়ে করতে করলেন না তাইজন্যেই তো এতোকিছু করতে হলো। এই বাদরমুখীকে অতো বড় মডেলিং এর offer দিতে হলো। সেদিন বলেছিলামনা “মেরিন বন্যা খানের সাথে নীড় আহমেদ চৌধুরী বর্ষনের এটাই শেষ দেখা। “
এখন আপনার সামনে মেরিন বন্যা খান না, মেরিন বন্যা নীড় খান চৌধুরী দারিয়ে আছে। চলুন ইসলামিক নিয়মে কবুল বলে বিয়ে করি।
নীড় ঠাস করে নীড়ক থাপ্পর মারলো। জন আর মেরিনের বাকি লোকজন তেরে আসতে নিলে মেরিন থামিয়ে দিলো। মেরিন ২হাত দিয়ে নীড়ের গলা জরিয়ে ধরলো।

মেরিন: কেন খামােখা ঝামেলা করছেন? আপনি কি চাইছেন উপস্থিত সবার মাথার ঘিলু উরে যাক আর সবার আগে উরুক আপনার বাবার মাথা।
নীড়:সাহস থাকলে করে দেখাও
মেরিন: কেন খামোখা বয়স্ক বাবার রক্ত ঝরাতে চাইছেন? তবুও আপনি যখন চাইছেন তখন
ওরনার নিচে থাকা গানটা মেরিন নিহালের দিকে তাক করলো। just shoot করবে তখন নীড় মেরিনের হাত ওপরে উঠিয়ে দিলো।
নীড়: ঠিক করছো না

মেরিন গানটা হাতে নিয়েই আবার নীড়ের গলা জরিয়ে ধরলো।
বলল: আমি কখনোই কারো জন্য কিছু ঠিক করতে পারিনা
বলেই নীড়ের গালে কিস করলো। আর আবারও হাওয়ায় গুলি বর্ষিত হলো। বুলেটগুলো মিউজিকের মতো করেই যেন বাজতে লাগলো।

চৌধুরী বাড়িতে
নীলিমা নতুন বউ বরন করবে বলে বরন ডালা নিয়ে দারিয়ে আছে। নিহাল, নীড়-মেরিন গাড়ি থেকে নামলো। নীড় হনহন করে ঘরে ঢুকতে নিলে নীলিমা বাধা দিলো।

নীলিমা: আমার বউমাকে ফেলে তুমি একা ভেতরে ঢুকতে পারোনা।
নিহাল: এটা নীরা মা না এটা
নীলিমা: মেরিন বন্যা নীড় খান চৌধুরী। আমার বউমা উহু আমার মেয়ে।

নিহাল: তোমার কন্ঠ বলছো তুমি খুশি
নীলিমা: অবশ্যই
নিহাল: ও তাহলে নিজের best friend এর মেয়ের জন্য খুশিতে আত্মহারা?
নীলিমা: হামম।
নিহাল: এমন মেয়েকে বউমা হিসেবে পেয়ে তোমার আনন্দ দেখে আমি শিহরিত অবশ্য আমি ভুলেই গিয়েছিলাম যে এই মেয়ে এমন কেন। দেখতে হবে না কার মেয়ে? চরিত্রহীন মায়ের অসভ্য মেয়ে।

“চরিত্রহীন মা”- কথাটা শুনে মেরিন চোখ গরম করে নিহালের দিকে তাকালো।
নিহাল: আমাকে চোখ রাঙিয়ে লাভ নেই। সারা দুনিয়ে জানে যে কনিকা কবির খান uffs not কনিকা কবির খান জানিনা কি sirname হতে পারে তার। whatever সবাই জানে যে কনিকা চরিত্রহীনা
মেরিন আর ১মিনিটও দেরি না করে দরজার পাশে জ্বলতে থাকা লাইটের সারি থেকে ১টা লাইন ১টানে ছিরে নিয়ে মেরিন ওটা দিয়ে নিহালের গলায় পেচিয়ে দাতে দাত চেপে
বলল: যদি তুমি নীড়ের বাবা না হতে তবে তোমার এই জিহ্বাটা টেনে ছিরে কুকুরদের খাওয়াতাম।
নিহালের চোখ বেরিয়ে আসার উপক্রম। ঘটনা টা এতো তারাতারি ঘটলো যে কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘটে গেলো। নীড় তারাতারি মেরিনকে সরিয়ে নিলো।

নীড়: বাবা তুমি ঠিক আছো? এই মেয়ে তোমাকে
নিহাল: ছারো তো নীড়।

রাত ১টা
নীড় রুমে ঢুকলো। দেখলো সারাঘর ফুলে সাজানো। আর দেয়ালে ওর আর মেরিনের ছবি দিয়ে ভরা। নীড় বেডের সামনে গেলো। ১টানে ফুলগুলো ছিরে ফেলল।
নীড়: বিয়ে হয়েছে বলেই তুমি আমার ভালোবাসা হয়ে যাওনি। আমি তোমাকে ঘৃণা করি এবং ঘৃণা করবো। বুঝেছো, ঘৃণা।
মেরিন বসা থেকে উঠতে উঠতে
বলল: আপনার ঘৃণাই আমার জন্য অনেক কিছু। আপনার ঘৃণাই আমার বেচে থাকার জন্য যথেষ্ট।
আর হ্যা, ভালোবাসার চেয়ে ঘৃণা অনেক দামী ভালোবাসা তবুও ভোলা যায় কিন্তু ঘৃণা কখনো ভোলা যায়না। কারন ভালোবাসা থাকে হৃদয়ে আর ঘৃণা থাকে হৃদয়ের গভীরে। মেরিন তো নীড়েরই। ভালোবাসার নাই বা হোক, হোক না সে

বলেই মেরিন নীড়ের পা ধরে সালাম করতে গেলো। কিন্তু নীড় সরে গেলো।
নীড়: আমিও দেখবো তুমি আমার ঘৃণা নিয়ে কতোদিন টিকতে পারো
বলেই নীড় washroom এ চলে গেলো। বেরিয়ে এসে দেখে মেরিন লেহেঙ্গাটা পাল্টে ১টা শাড়ি পরে আছে। নীড় কোনোকথা না বলে কপালে হাত দিয়ে সোফায় শুয়ে পরলো। মেরিনকে মেরে ফেলতে ইচ্ছে করছে সেই সাথে কোথাও কোনো বাধাও অনুভব করছে। তাই শুয়ে পরলো। পরমুহুর্তেই বুঝতে পারলো যে মেরিন ওর বুুকের ওপর মাথা রেখে ওকে শক্ত করে জরিয়ে ধরলো।

নীড় মেরিনকে ১টা ঝারা দিয়ে ফেলে দিলো। মেরিন পরে গেলো। যথেষ্ট ব্যাথা পেলো।
নীড়: খবরদার আমাকে ছোবেনা। কোনো অধিকার নেই তোমার। বুঝেছো? তোমাকে কখনোই আমি নিজের বউ বলে মেনে নিবোনা। আর না বউয়ের অধিকার ছুতে আসলে জানে মেরে দিবো।

মেরিন: মানেন না মানেন বউ তো আপনারই আর হ্যা আপনার কাছে বউয়ের অধিকার চাইওনি। শুধু একটু ঘুমাতে চাই আপনার বুকে
নীড়: কল্পনাও করবে না
মেরিন: আপনি কি কোনো কথাই ভালোভাবে শুনতে পারেন না?
নীড় কোনো কথা না বলে শুয়ে পরলো।
মেরিন: ভালোমতো জিজ্ঞেস করছি আপনার বুকে আজকে আর আগামী প্রতিদিন আপনার বুকে ঘুমাতে দিবেন কি না?
নীড়:
মেরিন: কি হলো বলুন
নীড়:
মেরিন: নীড়
নীড়: না শুনেছো?
মেরিন: হামমম।

৫মিনিটপর
মেরিনের কোনো সারাশব্দ না পেয়ে নীড় পেছনে ঘুরলো। দেখলো মেরিন নেই। নীড় উঠে বসলো।
নীড়: গেলো কোথায়?
মেরিন: আমি এখানে
নীড় বারান্দার দরজার দিকে তাকালো। দেখলো মেরিন ১টা বড় সরো মদের বোতল হাতে নিয়ে দারিয়ে আছে দরজায় হেলান দিয়ে।
নীড়: তুমি আসলেই ১টা বাজে মেয়ে।
মেরিন বরাবরের মতো সেই রহস্যময় মুচকি হাসি দিলো। এরপর বোতলে ১বার চুমুক দিলো। মেরিন বারান্দার দরজাটা লক করে বোতল টা হাতে নিয়ে বেডে গিয়ে বসলো।

মেরিন: বুকে নিয়ে ঘুমাবেন?
নীড়:
মেরিন বেডের চারদিকে মদটা ছিটিয়ে দিলো। এরপর বাকী মদটুকু চুমুক দিয়ে শেষ করলো।
মেরিন: শেষবারের মতো জিজ্ঞেস করছি

পর্ব ৫

দাউদাউ করে আগুন
জ্বলতে লাগলো। নীড় তো অবাক।
নীড়: এই মেয়ে কি করছো কি?
মেরিন: বসে আছি নিজের চিতায়
দেখতে পারছেন না
নীড়: দেখি হাত দাও
মেরিন বসে রইলো। নীড় বেডে যেতে নিলো। কিন্তু পারলোনা।
নীড় দরজা খুলতে গেলে পারছেনা সব লকড। এমনকি washroom এরও

নীড়: মেরিন বেরিয়ে আসো আগুন কিন্তু ছরিয়ে যাবে হাত দাও
মেরিনের কোন হেলদোল নেই। নীড় ১টানে ১টা পর্দা নিলো। এরপর সেটা নিয়ে ঝাপ দিলো বেডে
মেরিন: আমার সাথে আগুনে পুরতে চান?
নীড়: দেখি এটা গায়ে পেচিয়ে নাও।
মেরিন: আগে বলুন আপনার বুকে ঘুমাতে দিবেন?
নীড়: r u mad?
মেরিন: হামমম। only for you
নীড়: দেখো তোমার শাড়িতেও কিন্তু alcohol
আগুনে ধরে যাবে

মেরিন:যাক
নীড়: আগুনে পুরে যাবে যে
মেরিন: বন্যা কখনো আগুনে পুরেনা
নীড় মেরিনকে ওঠানোর চেষ্টা করলো।
নীড়: এতো শক্ত হয়ে ১টা মেয়ে মানুষ কিভাবে বসে থাকতে পারে
মেরিন: যেভাবে আমি আছি

নীড়: ওঠো
মেরিন: আগে বলুন তবে বুকে নিয়ে ঘুমাবেন আজকে আর আগামী সবরাতে
নীড়:
মেরিন: বলুন
নীড়: ok
মেরিন: promise?

নীড়: promise
মেরিন: god promise?
নীড়: god promise
সাথে সাথে মেরিন নীড়কে জরিয়ে ধরলো।
নীড়: দেখি বের হতে হবে এখান থেকে
কোনো রকমে আগুন নেভানো হলো। মেরিন নীড়ের বুকে মাথা রেখে ঘুমালো।

পরদিন
মেরিনের ঘুম ভাঙলো। মেরিন নীড়ের ঠোটে ১টা ডিপ কিস করে উঠে গেলো। নিহাল বাগানে বসে আছে। কপালে হাত দিয়ে। তখন দেখলো ওর সামনে ১টা কাপ এলো। চায়ের না। তবে কিছু ১টা আছে। নিহাল তাকিয়ে দেখলো মেরিন দারিয়ে আছে।
মেরিন: এটা খেয়ে নাও বাবা
নিহাল: খবরদার আমাকে বাবা ডাকবেনা। তোমার অধিকার নেই আমাকে বাবা ডাকার
মেরিন: মেরিনকে অধিকার দেয়ার ক্ষমতা কারো নেই। এখন এটা খেয়ে নাও। গলার ব্যাথাটা কমবে
নিহাল: shut up
বলেই নিহাল চলে যেতে নিলো।

মেরিন: আমি যখন বলেছি যে তুমি এটা খাবে তখন যদি এটা আমার তোমাকে খাওয়াতে হয় তাহলে
কিন্তু ব্যাপারটা ভালো হবেনা আর আমি জানি তোমার গলায় যথেষ্ট ব্যাথা আছে।
নিহাল: তোমার হুমকি তে ভয় পাইনা
মেরিন: শেষ বারের মতো বলছি খাবে কি খাবেনা?
নিহাল জানে এই মেয়ে কে দিয়ে বিশ্বাস নেই। তাই খেয়ে নিলো।

বিকালে
নীরা: তুই এটা ঠিক করিসনি তুই আমার শিকার কেরে নিয়েছিস
মেরিন: শিকার? যদি নীড় তোর এই রূপটা দেখতে পারবে সেদিন আমাকে আর কষ্ট করে তোর সর্বনাশ করতে হবেনা নীড়ই করবে। শুধু ১টা প্রমান এরপর তোর কপালে কি আছে তুই কল্পনাও করতে পারবিনা
নীরা: তুই খুজেও কোনো প্রমান পাবিনা। আর প্রমান পেলেও নীড় তোর কথা বিশ্বাস করবেনা। আর রইলো আমার কথা আমাকে তো তুই ছুতেও পারবিনা আমার চতুর্দিকে কবির ফয়সাল খান নামের protection দেয়াল আছে। আমার মামা
মেরিন: তোর মামা নামের দেয়ালকে আমি তোয়াক্কা করি নাকি?

দেয়ালটাকে ধুলো বানাতে আমার মুহুর্তও লাগবেনা।
নীরা: এই জেলে আমাকে কতোদিন বন্ধ করে রাখবি?
মেরিন:কসম আল্লাহর আমি চাইনা তোকে এই জেলে বন্দী রাখতে। আমি তো চাই তোকে আমার বানানো জেলে রাখতে। যেখানে জেইলার আমি, জজ আমি, ব্যারিস্টার আমি, জল্লাদ আমি, আইনও আমি

তবে আমি তোকে আমার জেলে নিলে তোর career, তোর future কিছুই ধংব্স করতে পারবোনা। তোকে জানে মারতে পারবো। কষ্ট দিতে পারবো। কিন্তু সেটা আমি করবোনা তোকে just জানে মারলে আমার কলিজা জুরাবে না
কদিন জেলের হাওয়া খা। জেলে থেকে তাও ৩বেলা খাবার পাবি। বের হলে god knows
জেলে থেকে বের হওয়ার সময় জেইলারকে বলে গেলো নীরার জীবন অতিষ্ট করে দিতে।
মেরিন বাসায় ফিরে দেখে নিহাল-নীড় কি যেন বলাবলি করছে। ওকে দেখে থেমে গেলো।

মেরিন: planning plotting চলছিলো বুঝি?
নীড়: তোমার জন্য কি কথা বলাও যাবেনা। ?

রাতে
নীড় বারান্দায় বসে আছে। তখন ওর সামনে ১টা খাবারের প্লেট এলো।
নীড়: now what? মেরিন আমাকে খাইয়ে দিননা সকাল থেকে না কিছু খাইনি
নীড়: তো আমি কি করবো?
মেরিন: ভীষন ক্ষুধা পেয়েছে।
নীড়: তোমার হাত কি নষ্ট হয়ে গেছে নাকি?
মেরিন: উহু আপনার হাতে খাবো।
নীড়: পারবোনা।

মেরিন:না খেলে মরে গেলে আপনাকে ভালোবাসবে কে?
নীড়: যত্তোসব তুমি মরে গেলে আমি শান্তি পাবো।
মেরিন: আপনি কোনো কথাই ঠিক মতো শোনেন না খালি আমাকে রাগান আজকে এখন আমার সারাবাড়িতে আগুন লাগানোর ইচ্ছ নেই।
নীড় আর কোনো কথা না বারিয়ে মেরিনকে চুপচাপ খাইয়ে দিলো।

পরদিন
নীড়-মেরিন খান বাড়িতে গেলো। কেবল দরজা দিয়ে ঢুকবে তখন কবির
বলল: ওখানেই দারাও এই খান বাড়িতে ঢোকার কোনো অধিকার নেই বের হও এখান থেকে।
কথাটা শুনে মেরিন বাকা হাসি দিলো। এরপর নীড়ের হাত ধরে ভেতরে ঢুকলো।
দাদুভাই: দিদিভাই চ

মেরিন হাত দিয়ে থামিয়ে দিলো। এরপর কবিরের সামনে গেলো।
মেরিন:১দিন বাড়িতে নেই এতো দেখি টিকটিকি ১লাফে সিংহ uffs ডাইনোসর হয়ে গেছে। তো কি বলছিলেন আপনি? আপনি আমাকে এ বাড়িতে ঢুকতে না করছিলেন আমার এ বাড়িতে ঢোকার অধিকার নেই?
কবির: না
মেরিন: আপনার আছে?

কবির: আমার কথা বলছো? আমি কবির ফয়সাল খান।
মেরিন: তো আমি কি অন্য কেউ? আর অন্যকেউ হলেও এই বাড়িতে না ঢুকতে পারার কারন?
কবির: কারন এই খান বাড়িটার আমি শুদ্ধিকরন করেছি। যেটা কনিকার পা পরে অপবিত্র হয়েছিলো। তুমি যাওয়ার পর পবিত্র করেছি। আর তুমি খান নও। তুমি কারো পাপের ফসল
বলতে না বলতেই দাদুভাই কবিরকে ঠাস করে ১টা থাপ্পর মারলো।

দাদুভাই: দিদিভাইয়ের খবর জানিনা তবে তুই নিশ্চয়ই আমার সন্তান হতে পারিস না। আর দিদিভাইয়ের এ বাসায় ঢোকার অধিকার আছে কিনা জানিনা তোমার অধিকার নিয়ে সন্দেহ আছে। এই খান সম্রাজ্ঞের একচ্ছত্র অধিকারীনি আর তুমি কেবল ওর servant got it? চলো দিদিভাই আর দাদুভাই

কবির: বাবা আমাকে থাপ্পর মারলে সত্যিটা মিথ্যা হয়ে যাবেনা। ওই মেয়েটার জন্য আমার বাবুই পাখিটা আজকে
দাদুভাই তাচ্ছিল্যের সুরে
বলল: তুমি আসলেই শ্রেষ্ঠ বাবা কবির চলো।

মেরিন: দারাও দাদুভাই এই কবির ফয়সাল খান তো আমার servant তাইনা তাহলে এর শরীরে এমন দামী পোশাক কি করে মানায়? আর রাজার হালেই বা চলে কিভাবে। সব তো আমার টাকার ফুটানি। আমি আবার অপচয় পছন্দ করিনা। বসে বসে অনেক অন্নধংব্স করেছেন মিস্টার কবির কালকে থেকে একটু খেটে খাবেন। এখন কি কাজ করবেন সেটা আপনি decide করুন। রান্নার কাজ, মালির কাজ, driver এর কাজ, নাকি ঝাড়ুদারের কাজ।

কবির: তুমি ভাবলে কি করে যে আমি তোমার order follow করবো?
মেরিন: আপনি follow করবেন না আমি করাবো। চলো দাদুভাই i am too much tired

রাতে
নীড় বিরক্ত হচ্ছে। কারন মেরিন ওকে আষ্ঠেপৃষ্ঠে জরিয়ে ধরে রেখেছে। কিন্তু গত ২দিনের মতো আজকে কোনো কথা বলল না।
নীড়: আচ্ছা এভাবে ঘুমানো যায়? নরতে পর্যন্ত কষ্ট হয়
মেরিন কিছু না বলে চুপচাপ নীড়ের ওপর থেকে নেমে বেডে শুয়ে নীড়ের বুকে কেবল মাথাটা রাখলো। নীড় খানিকটা অবাক হলো। কিন্তু কিছু বললনা।

সকালে
খাবার টেবিলে
মেরিন এসে বসলো। তখন দেখলো। সেতু খাবার বেরে দিচ্ছে। আর মেরিনের প্লেটেও খাবার বারছে।
মেরিন: এতো দেখি অরন্যে রোদন very impressive
সেতু: impress হওয়ার কিছু নেই। আমি সব মানতে পারি কিন্তু আমার ভাইয়ার কষ্ট না।
মেরিন: আহারে আমার চোখে পানি চলে এলো। আপনি কতোটা মহান

সেতু মেরিনকে চা দিলো।
মেরিন কিছুনা বলে সেই গরম চায়ে সেতুর আঙ্গুল চুবিয়ে দিলো।
সেতু: আহ
নীড়: তুমি কি পাগল?

মেরিন: not now only for you
বলেই সেতুর চুলের মুঠি ধরে টেবিলের সাথে চেপে ধরলো।
মেরিন: আমাকে কি তোর ভাইয়ের মতো অন্ধ মনে করিস? হ্যা? ঘাষে মুখ দিয়ে চলি আমি? তুই আমার খাবারে drugs মিশিয়ে আমাকে নিথর পাথর বানানোর plan করবি আর আমি জানবোও না এখন এগুলো তুই গিলবি তাও কুকুরের মতো।

নীড়: মেরিন কি করছো কি? ছারো আন্টিকে
মেরিন কোন জবাব না দিয়ে খাবার গুলো সেতুর মুখে ঢোকাতে লাগলো। কোন রকমে নীড় আর কবির মেরিনকে থামালো।
সেতু ছারা পেয়ে washroom এ গিয়ে ইচ্ছা করে বমি করলো। কারন ওগুলো ওর পেটে গেলে ওর brain কাজ করা বন্ধ করে দিবে। যার ফলে ওর বডিও আর balanced রাখতে পারবেনা। প্যারালাইজড হয়ে যাবে।
বিকালে নীড়-মেরিন আবার চৌধুরী বাড়িতে পৌছালো।

২দিনপর
নীড় ready হয়ে গাড়ির কাছে গেলো। দেখলো মেরিন আগে থেকেই গাড়িতে বসে আছে। সাদা রঙের ১টা টপস। চোখে চশমা, চুলগুলো খোলা। মেরিনের প্রতিটা get upই perfect office going ladyএর মতো।
নীড়: আমার গাড়িতে বসার কারন?
মেরিন: আপনি নিজেই আমার তাই আপনার সব কিছুই আমার। so
নীড়: 😠।
মেরিন: বসুন। লেট হয়ে যাচ্ছে।
নীড় বিরক্তি নিয়ে বসলো। ২জন office পৌছালো।

কিছুদিন পর
এই কদিনে মেরিনের পাগলামো ভালোবাসায় নীড় just অতিষ্ট হয়ে গেছে। ২জন office থেকে বাসায় ফিরছে। নীড় drive করছে। আর মেরিন তো নীড়কে দেখায় ব্যাস্ত। হঠাৎ নীড় break মারলো। মেরিনের ধ্যান ভাঙলো।
মেরিন: কি হলো?

নীড়: ফুচকা 😋
মেরিন: ফুচকা? আপনি এগুলো খাবেন? its tacky
নীড়: shut up
বলেই নীড় দৌড়ে ফুচকার দোকানে গেলো। মেরিনও নীড়ের পিছে গেলো। নীড় বাচ্চাদের মতো করে ফুচকা খেতে লাগলো। আর মেরিন দেখতে লাগলো। নীড়কে খেতে দেখে মেরিনেরও খেতে ইচ্ছা করলো। নীড় আরেকটা ফুচকা মুখে দিতে নিলে মেরিন ওর হাত নিয়ে নিজের মুখে ফুচকা টা ঢুকিয়ে নিলো।

নীড়: এটা কি করলা?
মেরিন: yummy
নীড়: খুব তো বলেছিলে যে its taccy yuck
মেরিন: আমি কি জানতাম নাকি এমন হবে?
নীড়: এখন তো জানলে।

২জন মন ভরে ফুচকা খেয়ে গাড়ির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তখন হঠাৎ ১টা ক্রিকেট বল এসে নীড়ের কপালে লাগলো।
নীড় কপালে হাত দিয়ে
বলল: ouch
নীড়ের কপাল লাল হয়ে গেলো।
মেরিন: নীড়
মেরিন দৌড়ে গিয়ে পানি এনে নীড়ের মাথায় পানি দিয়ে দিলো।

নীড়ের মাথায় পানি দিতে দিতে ১টা ছেলে এসে
বলল: এই যে মিস বলটা দিন
মেরিন চোখটা লাল করে ওর দিকে তাকালো।

ছেলেটা: ওহ বাবা এর তো দেখি রুপে না চোখেও আগুন
নীড়: ১টা থাপ্পর দিবো। মেয়েদের সম্মান দিয়ে কথা বলতে শিখোনি?
ছেলেটা: না গো uncle uncle হয়ে বেশি react করবেন না। না হলে পুরো মাথাই ফাট
আর বলতে পারলোনা। মেরিন বলটা এমন জোরে ছেলেটার মুখ বরাবর মারলো যে ছেলেটা ধপাস করে পরে গেলো। আর মুখ দিয়ে গলগল করে রক্ত পরতে লাগলো।
মেরিন বলটা হাতে নিয়ে মাঠে গেলো।

পর্ব ৬

মেরিন: বলটা কে হিট করেছে 😠? আমি কি়ছু জিজ্ঞেস করছি
১জন বলে
উঠলো: কেন জানলে কি খেলবেন নাকি তার সাথে? 😏।
মেরিন ওই ছেলেটার মুখ বরাবরও বল মারলো। আর এমনভাবে মারলো যে ছেলেটার মুখে হিট করে বলটা আবার ওর হাতেই চলে এলো।
মেরিন: যেটা জিজ্ঞেস করেছি সেটা বলো।

নীড়: মেরিন হয়ে গেছে চলো। দেখি বলটা দাওতারপর চলো মেরিন: আরে কেন যাবো কেন? আমি তো এদেরকে এদের জন্য আপনি কতোটা ব্যাথা পেয়েছেন
নীড়: কিচ্ছুনা চলো এখান থেকে।
নীড় জোর করে নিয়ে মেরিনকে গাড়িতে বসালো।

নীড়: তুমি বসো আমি ওদের বলটা দিয়ে আসছি একদম উঠবেনা।
মেরিনকে বসিয়ে নীড় ওদের বলটা দিতে গেলো।
নীড়: take your বল দেখে খেলা করো
নীড় চলে যেতে নিলো। তখন পেছন থেকে
১জন বলে

উঠলো: ভাইয়া উনি আপনার কি হয়?
নীড়: কেন?
অন্যজন: না মানে আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে আপনার এই ছেলে পোশাকের আড়ালে ১টা মেয়ে লুকিয়ে আছে।
বলেই ওরা হাসতে লাগলো।
নীড়: এমন মনে হওয়ার কারন?
১জন: আপনার ভীতু গিরি দেখে আমরা শিহরিত। ১টা মেয়ে রাগ করতে পারে। আর আপনি পারেন না
অন্যজন: পারে পারে উনিও পারে সরিয়ে নিয়ে যেতে।
নীড় ১টা বাকা হাসি দিয়ে ওদের কাছে গেলো।

বলল: এরজন্যেই বলে কারো ভালো করতে নেই।
একে তো বল মেরে নীড় আহমেদ চৌধুরী বর্ষনের মাথা ফাটিয়েছো। ভীষন রাগ উঠেছিলো। কিন্তু সাথে ছিলো মেরিন বন্যা
যদি তখন ওকে না নিয়ে যেতাম তবে গুলি খেয়ে মরতে হতো। কিন্তু তোরা ভালো বুঝলি না
বলেই নীড় ধরে একেকটাকে পিটানো ধরলো। হঠাৎ নীড় গুলির শব্দ পেলো। পেয়ে পিছে ঘুরে দেখো ১দন রক্তাত্ব অবস্থায় পরে আছে। আর সামনে তাকিয়ে দেখে মেরিন। আসলে ওই ছেলেটা পেছন থেকে নীড় আঘাত করতে আসছিলো। তখন মেরিন এসে হাত বরাবর গুলি মারলো।

রাতে
নীড় রকিং চেয়ারে বসে আছে। তখন ও কপালে ঠান্ডা কিছু অনুভব করলো। তাকিয়ে দেখে মেরিন ওর কপালে ice bag ধরে রেখেছে। নীড় কোনো react না করে চোখ বন্ধ করে রইলো। জানে react করে লাভ নেই।
মেরিন: উঠুন খেয়ে নিন

নীড়:
মেরিন: উঠুন না। ভীষন ক্ষুধা পেয়েছে আমার। উঠুন না।
নীড়: তুমি কি একটুও আমাকে শান্তি দিতে পারোনা।
মেরিন: কি এমন করলাম এখন?
নীড়: তুমি কিছুই করোনা। তোমাকে দেখলেই আমার সব শান্তি চলে যায়। বিরক্তি কর।
মেরিন: জানি। আসুন খেয়ে।
নীড়: খাবোনা।

মেরিন: আমার ভীষন ক্ষুধা পেয়েছে।
নীড়: যাও গিয়ে গেলো।
মেরিন কিছু না বলে খাবার এনে নীড়ের মুখে ঢুকিয়ে দিলো।
মেরিন: চুপচাপ খেয়ে নিন।
প্রতিদিনের মতো আজও নীড় জিজ্ঞেস করলোনা মেরিনকে যে ও খেয়েছে কি না

পরদিন
office এ
মেরিন দারিয়ে কোনো ১টা file ঘাটছে তখন কেউ ওর পিছে এসে দারালো। আর তার উপস্থিতি বুঝতে পেরে ভয়ে মেরিন ঘামতে লাগলো। মেরিন চুপচাপ নিজের গানটা হাতে নিতে লাগলো। কিন্তু ততোক্ষনে লোকটা মেরিনের কোমরে হাত দিয়ে ফেলল। মেরিন ঘুরে দুম করে গানটা দিয়ে লোকটার মাথায় আঘাত করতে নিলে লোকটা মেরিনের হাত মোচর দিয়ে ধরে ফেলল। তার নাম নিলয়। নিলয় শাহরিয়ার।
নিলয়: তোর এই ভিলেন রূপ সবার জন্য হতে পারে। কিন্তু আমার জন্যনা। কারন তুই আমার কাছে ধরা। তোর কোনো জারিজুরি আমার ওপর চলবে না। বুঝেছিস? তোর ভিলেন রুপ বাকীদের জন্য আর তোর হট রূপ আমার জন্য।
মেরিন হাত ছোটানোর জন্য চেষ্টা করছে।

মেরিন: যদি তুই আমার হাত না ছারিস তবে তোকে
নিলয়: কি করবি? মেরে ফেলবি? আমাকে মেরে ফেলবি? আমাকে মারলে তাকে পাবি কোথায়?
মেরিন: নীড় নীড়
নিলয়: তোর বরকে ডাকছিস? ওকে কি আমি ভয় পাই নাকি? আর তোর ডাকেই কি সে আসবে? তোর কি মনে হয় তার সাথে তোর কি সম্পর্ক আমি জানিনা? সে তো তোকে ঘৃণা করে ঘৃণা নীড় আমার বোন নীরাকে ভালোবাসে সে তোকে ছুয়েও দেখেনি।
তখন নীড় রুমে এলো। আর ওদেরকে এভাবে দেখে খানিকটা অবাক হলো।
নীড়কে দেখেও নিলয় মেরিনকে ছারলো না। নীড়ের কেন যেন খারাপও লাগলো।

নিলয়: আরে নীড় এসো।
নীড়: ভালো আছেন ভাইয়া
নিলয়: হামম। ভালো আছি। এমন ১টা চলন্ত আইটেম song চোখের সামনে থাকলে কি খারাপ থাকা যায় কি বলিস রে মেরিন
নীড়: ভাইয়া একটু কাজ আছে। আসছি।
মেরিন যে কতোটা কষ্ট পেলো নীড়ের এমন ব্যাবহারে তা বলার মতো না তবুও নিলয়ের হাতে কামড় দিলো। নিলয় আহ বলে মেরিনের হাত ছেরে দিলো। মেরিন দৌড় দিয়ে নীড়ের কাছে গেলো।
নিলয়: কি রে আমার আদর-ভালোবাসায় কি মন ভরে গেছে? দেখে রাখো নীড় ওকে আমাকে ছেরে কি করে তোমার কাছে গেলো।
নীড়:
মেরিন:
তখন জন ঢুকলো।

জন: ম্যাম একি তুই
নিলয়: ওরে বাবা জন বাবু যে কি খবর
জন: তোকে তো
মেরিন: জন চলো চৌধুরী companyতে ১টা কাজ আছে।
নিলয়: বাবা এখন আবার জনের সাথেও কাজ আছে
মেরিন কোনো জবাব না দিয়ে বেরিয়ে গেলো।

মেরিন সোজা বাসায় চলে এলো। দৌড়ে washroom এ গেলো। shower on করে ভিজতে লাগলো। আর সারা শরীরে বিশেষ করে কোমড়ে আর হাতে ইচ্ছা মতো সাবান ঘষতে লাগলো।
আর কল্পনা করতে লাগলো সেই সময়টার কথা। মেরিন দেয়ালে হেলান দিয়ে বসে বসে ভিজতে লাগলো আর মাথা দেয়ালে বারি দিতে লাগলো।

৫ঘন্টাপর
নীড় নাসায় এলো। এসে fresh হতে গিয়ে দেখে মেরিনকে। সাদা হয়ে গেছে ভিজতে ভিজতে।
নীড় খেয়াল করে দেখলো মেরিন দেয়ালে মাথা বারি দিচ্ছে আর কি যেন বিরবির করে বলছে। নীড় দৌড়ে মেরিনের কাছে গেলো।
নীড়: মেরিন মেরিন
মেরিন: আমম

নীড়: দেখি ওঠো ঠান্ডা লেগে যাবে
মেরিন নীড়ের দিকে ঘুরলো।
নীড়: ঠান্ডা হয়ে গেছো
মেরিন হাহা করে হাসতে লাগলো।
মেরিন: নীড়
নীড়: কি?
মেরিন: ভালোবাসি অনেক বেশি ভালোবাসি
বলেই মেরিন নীড়ের ঠোট জোরা দখল করে নিলো। কিছুক্ষনের মধ্যেই মেরিন অজ্ঞান হয়ে গেলো। নীড় মেরিনকে কোলে তুলে রুমে নিয়ে গেলো।

কিছুক্ষনপর
মেরিনের জ্ঞান ফিরলো। বুঝতে পারলো কেউ ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। মেরিন চোখটা মেললনা। কেবল চোখ দিয়ে ২ফোটা পানি গরিয়ে পরলো।
নীলিমা: শোনামা উঠে কিছু খেয়েনে।
মেরিন: একটু এভাবে থাকি please
নীলিমা: হামম।
মেরিন: মামনি ১টা গল্প শোনাবে? রাজকুমার-রাজকন্যার। পরী, রাজা-রানী, ঘুম পারানী গান শোনাবে
নীলিমা মেরিনের কপালে চুমু দিলো।
বলল: শোনাবো তবে কিছু খেয়ে নে
তখন নীড় রুমে ঢুকলো।

নীড়কে ঢুকতে দেখে মেরিন তারাতারি চোখের পানি মুছে উঠে বসলো।
নীলিমা: কি রে তুই?
নীড়: হ্যা ওই তো ঘুম পাচ্ছিলো, তাহলে তুমি এখানে থাকো আমি গেস্টরুমে যাচ্ছি।
নীলিমা: নানা তুই বোস। মামনি আমি তোমার খাবার পাঠিয়ে দিচ্ছি।
মেরিন: হামম।
নীলিমা চলে গেলো।

মেরিন বেড থেকে নেমে বেডটা গুছিয়ে দিলো।
মেরিন: নিন শুয়ে পরুন
নীড় মনে মনে: কিভাবে জিজ্ঞেস করি?

নীড়: শোনো
মেরিন: হামম।
নীড়: তো
তখনই servant এসে খাবার দিয়ে গেলো। নীড়ের আর জিজ্ঞেস করা হলো না।
নীড়: যাও খেয়ে নাও।
মেরিন: হামম। আপনি খেয়েছেন?

নীড়: হামম।

তখন মেরিনের চোখ পরলো নীড়ের হাতের দিকে। নীড়ের হাতটা লাল হয়ে আছে। মেরিন ছুটে নীড়ের কাছে গেলো।
মেরিন: আপনার হাত লাল হয়ে আছে কেন? কি হয়েছে?
নীড়: না কিছুনা।
মেরিন: বললেই হবে? বসুন দেখি।
মেরিন তারাতারি নীড়ের হাতে ঔষধ দিয়ে দিলো। নীড় মাঝে মাঝে সত্যি অনেক অবাক হয়।
মেরিন: অনেক বেশি ব্যাথা করছে? শুয়ে পরুন শুয়ে পরুন।
নীড়: আরে আ
মেরিন: কোনো কথা না।

মেরিনের ঝারি খেয়ে নীড় বাধ্য হলো শুতে। মেরিন লাইট নিভিয়ে দিলো।
নীড়: লাইট নেভালে কেন?
মেরিন: লাইট জ্বললে তো আপনার ঘুম আসেনা।
নীড়: তুমি অন্ধকারে খাবে কি করে?
মেরিন: আমি পারবো। অাপনি ঘুমান।

নীড় কপাল হাত দিয়ে
ভাবছে: মেয়েটা সত্যি আমাকে পাগলের মতো ভালোবাসে। এমন পাগলামো ভালোবাসাই তো আমি চেয়েছিলাম। নীরার মধ্যে কখনো আমি এমনটা দেখিনি আচ্ছা মেরিন এমন কেন? এতো রাগী এতো জেদী তবুও আমার সাথে কখনো rude behave করেনা কিন্তু ওর এতো ভালোবাসাও যে আমি মেনে নিতে পারছিনা। আমি যে নীরাকে ভালোবাসি।

এসব ভাবতে ভাবতে নীড়ের বোধ হলো মেরিনের কথা। উঠে বসে। দেখে মেরিন সোফায় শুয়ে আছে। নীড় অবাক হলো। কারন আজকে মেরিন সোফায় ঘুমালো।
নীড় মনে মনে: ও কি আমার ওপর অভিমান করেছে? করলে করুক। আমার কি?

একটুপর
নীড়ের খেয়াল হলো সেদিনের কথা।
নীড়: oh no ওর জ্বর আসেনি তো
নীড় তারাতারি সোফার ওখানে গেলো। মেরিনের কপালে হাতে দিয়ে দেখলো ধুম জ্বর।
নীড়: oh my goodness
নীড় মেরিনকে কোলে তুলে বেডে নিয়ে শুইয়ে দিলো। এরপর মাথায় পানি পট্টি দিতে লাগলো। আর মেরিনকে দেখতে লাগলো।

এই প্রথম নীড় মেরিনকে এভাবে পর্যবেক্ষন করছে। জ্বরের জন্য মেরিনের মুখটা লাল হয়ে আছে। পাপড়ি গুলো ভেজা। নিশ্চয়ই কাদছিলো। ঠোট ২টা কাপছে। কপালটা ভাজ পরে আছে। নীড় বুঝতে পারলো যে মেরিনের প্রচন্ড মাথা ব্যাথা করছে। তাই মেরিনের মাথা টিপে দিলো। মেরিনের শরীরের তাপ এতোটাই বেশি যে নীড় পাশে বসেই টিকতে পারছেনা। তাও নীড় মাথায় পট্টি দিয়ে মেরিনকে বুকে জরিয়ে শুয়ে পরলো। ভোরের দিকে মেরিনের জ্বর ছারলো।

সকাল ৯টা
মেরিনের ঘুম ভাঙলো। দেখলো ও এলোমেলো হয়ে নীড়ের বুকে শুয়ে আছে।
মেরিন: আমি তো সোফায় ছিলাম এখানে?
মেরিনের মুখে হাসি ফুটলো। মেরিন নীড়ের কপালে চুমু দিলো।
মেরিন: যতোটা কষ্ট কালকে পেয়েছিলাম তার হাজারগুন আনন্দ আজকে পেলাম। আপনি আমার কথা ভেবেছেন সেটাই যে আমার পরম পাওয়া। কিন্তু আমার জন্য আপনার কতো কষ্ট হয়েছে
মেরিন উঠে fresh হয়ে office এ গেলো।

বেলা ১১টা
নীড়ের ঘুম ভাঙলো। উঠে মেরিনকে না পেয়ে অবাক হয়ে গেলো।
নীড়: গেলো কোথায় মেয়েটা। room, washroom খুজে দৌড়ে নিচে নামলো।
নীড়: মামনি মামনি মেরিন কোথায়?
নীলিমা: ও তো office চলে গিয়েছে।
নীড়: what? এই শরীর নিয়ে office?
রাগের চোটে নীড়ের গা জ্বলে যাচ্ছে। দ্রুত রেডি হয়ে office এ গেলো। আর গিয়ে দেখে মেরিন ১টা লোককে বেল্ট দিয়ে মারতে মারতে সিরি দিয়ে নামাচ্ছে। আর সবাই চুপচাপ দেখছে। লোকটার শরীর থেকে রক্ত বের হচ্ছে।

নীড়: তুমি ওকে মারছো কেন? ছারো ওকে
মেরিনকে থামাতে গিয়ে নীড় হাতে ১টা বাড়ি খেলো।
মেরিন: দেখি দেখি অনেক জোরে লেগেছে? দেখি।
নীড় হাত ছারিয়ে নিলো।
মেরিন লোকটাকে বলল: তোরজন্য কেবল তোর জন্য আমার হাত দিয়ে নীড় বারি খেয়েছে। আজকে তোকে আমি মেরেই ফেলবো।

মেরিন ১টা গ্লাস নিয়ে ধপ করে ওটা ভেঙে লোকটার পেটে ঢোকাতে নিবে তখন নীড় আবার এসে থামাতে নিলো। নীড় কিছুতেই মেরিনকে থামাতে না পেরে ঠাস করে ১টা থাপ্পর মারলো।
নীড়: আমার ব্যাথার কারন ও না তুমি
বলেই নীড় নিজের রুমে চলে গেল। কেবিনে গিয়ে বসলো। একটুপর জানতে পারলো যে, যে লোকটাকে মেরিন মারছিলো সে rival company এর গুপ্তচর। সে নীড়ের dream project এর information চুরি করতে এসেছিলো। আর এ কারনেই মেরিন ওকে মারছিলো।

নীড়: উফফ বেশি react করে ফেলেছি আসলে sorry বলতে হবে।
কিন্তু অনেকক্ষন হয়ে গেলো তবুও মেরিন এলোনা। নীড় ম্যানেজারকে ডেকে পাঠালো।
ম্যানেজার: স্যার ডাকছিলেন?
নীড়: হামম। আপনাদের ম্যাম কোথায়?

পর্ব ৭

নীড় ছুটে বেরিয়ে গেলো। নীড় যেতে যেতে জনকে ফোন করলো।
জন: hello sir
নীড়: তোমার ম্যাম কোথায় জানো?

জন: ম্যাম তো এই অমানুষটাকে আমার হাতে দিয়েই যেন কোথায় বেরিয়ে গেলো?
নীড়: আচ্ছা রাখছি
জন: জী স্যার।
নীড়: আমার সন্দেহ যদি ঠিক হয়, এইকদিনে ওকে যতোটুকু বুঝেছি তখন মনে হচ্ছে আমার ধারনাই ঠিক

দুপুর গরিয়ে রাত হলো। মেরিন এখনো এলোনা।
নীড়: না জানি কি করেছে? কখন আসবে?

তখন মেরিনের গাড়ির আওয়াজ পেলো। মেরিন বাড়িতে ঢুকলো। মেরিনকে দেখে স্বাভাবিক মনে হলেও এর পেছনে গভীর কিছু আছে যা কেবল নীড় বুঝতে পারলো।

নীলিমা: একি তোর হাত কাটলো কি করে?
মেরিন: একটু কেটে গেছে।
নীলিমা: ব্যান্ডেজ দেখে মনে হচ্ছেনা একটু কেটেছে।
নিহাল: আবার কার সাথে ঝামেলা করেছে দেখো।
মেরিন ওপরে গেলো। নীড়ও পিছে পিছে গেলো।

নীড়: যখন office এ ছিলে তখনতো short হাতার dress পরেছিলে। তো এখন full হাতা কেন?
মেরিন: আমার ইচ্ছা।
নীড় আর কিছু না বলে first aid box নিয়ে মেরিনকে ১টানে বেডে বসালো। এরপর মেরিনের জামার হাতা ১টা ছিরে ফেলল। যা ভেবেছিলো তাই। মেরিনের হাত ক্ষতবিক্ষত। আঘাতের চিহ্ন। নীড় আন্দাজ করেছিলো যে মেরিন নিজেকে আঘাত করতেই গেছে। কারন তখন নীড় ওকে বলেছিলো যে তোমার জন্য আমি ব্যাথা পেয়েছি। নীড় মেরিনের হাতে ঔষধ দিয়ে দিচ্ছে। আর মেরিন নীড়কে দিয়ে দেখছে। হাতে ঔষধ দেয়ার পর
নীড়: সারা শরীরেরও কি এই একই অবস্থা?

মেরিন:
নীড় মেরিনের স্যালোয়ার হাটু পর্যন্ত পটপট করে ছিরে দিলো। এরপর সেখানেও ঔষধ দিয়ে দিলো। then মেরিনকে ঘুরিয়ে ওর পিঠে হাত দিতে গেলে মেরিন হাত ধরে ফেলল।
মেরিন: আমি লাগিয়ে নেবো।
নীড় থেমে গেলো।
রাতে নীড় নিজের হাতে মেরিনকে খাইয়ে দিলো।

২দিনপর
আজকে শুক্রবার। তাই সবাই বাসায়।
নিহাল: এই মেয়ে এই তুমি আমার মায়ের শাড়ি পরেছে কেন?
মেরিন: কারন আমি তোমার মা লাগি।
নিহাল: আমার মা? আমার মা হওয়ার তোমার কোনো যোগ্যতা নেই।
মেরিন: আছে আছে। ১ডজন যোগ্যতা আছে।

নিহাল: মোটেও না। আমার মা অতো খারাপ ছিলোনা তোমার মতো। বুঝেছো?
মেরিন: ইশ, যে না ১টা কালোকুলো মা
নিহাল: ওই তোমাকে না বলেছি আমার সাথে কথা বলবেনা বেয়াদব মেয়ে
মেরিন: এখানে সবাই সাক্ষী যে তুমি আগে কথা বলেছো?

নিহাল: huh
নীড় মনে মনে হাসছে। সুন্দর ১টা সময় কাটছে। ঠিক তখনই নীড় ৫-৬টা বন্ধু এসে হাজির হলো। তাদের মধ্যে ২জন মেয়েও আছে। ১জন এসে নীড়কে জরিয়ে ধরে গালে কিস করলো। যার নাম লিমা।

লিমা: missed you ইয়ার
নীড় এমনিতেই এগুলো পছন্দ করেনা। তারওপর মেরিন। নীড় তারাতারি নিজেকে ছারিয়ে মেরিনের দিকে তাকালো। দেখলো মেরিন শান্ত চোখে তাকিয়ে আছে। যা দেখে নীড় বেশি ভয় লাগলো।
কারন এই কয় মাসে নীড় মেরিনকে দেখে যা বুঝেছে তা হলো এই যে মেরিন শান্ত থাকা মানেই ১০ নম্বর বিপদ সংকেত। তাই বন্ধুরা যাওয়ার আগে নীড় লিমাকে বলল সাবধানে থাকতে। আর এখান থেকে সরাসরি বাসায় যেতে। আর মিনিমাম ১সপ্তাহের মধ্যে যেন বাড়ি থেকে বের না হয়। লিমা এটাকে মজা মনে করলো।

রাতে
নীড়: মেরিন
মেরিন: হামম।
নীড়: লিমা একটু free minded
মেরিন: হামম।
নীড়: তাই বলছিলাম কি
মেরিন: no worry ওকে জানে মারবো না। বাচিয়ে রাখবো।
নীড়: দেখো
মেরিন: দেখছিই তো আপনাকে।

বলেই মেরিন নীড়ের ঠোট জোরা দখল করে নিলো। পরদিন মেরিন নিজে লিমা কে গাড়ি দিয়ে accident করালো। এরপর নিজেই হসপিটালে নিয়ে গেলো। লিমার জ্ঞান ফেরার পর।
মেরিন: আর যেন কোনোদিন এই চোখ তুলে নীড়ের দিকে না তাকাতে দেখি। আর যেন কোনো দিন এই হাত দিয়ে নীড়কে ছুতে না দেখি

কিছুদিনপর
নীড়-মেরিন office এ কাজ করছে। নীড় ফাইল ঘাটছে আর মেরিন ল্যাপটপে কাজ করছে। তখন কেবিনে নিলয় এলো। নিলয়কে ১পলক দেখেই মেরিন চোখ নামিয়ে নিলো। ভয়ে আজও মেরিনের হাত পা ঘামতে লাগলো।
নীড় ১বার মেরিনের দিকে তাকালো ১বার নিলয়ের দিকে।
নীড়: hello নিলয় ভাইয়া
নিলয়: hello
নীড়: বসুন
নিলয় বসলো।

নীড়: ভাইয়া বসুন আমি একটু আসছি।
বলেই নীড় বেরিয়ে গেলো।

নিলয়: বাহ তোর জামাই তো দেখি বেশ বুদ্ধিমান আমাদের সময় দিয়ে গেলো
বলেই নিলয় চেয়ার থেকে উঠতে নিলো।

মেরিন: যেখানে আছিস ওখান থেকে আমার দিকে ১পাও বারালে
নিলয়: তুই আমার কিছুই করতে পারবিনা। কারন তোর উদ্দেশ্য হাসিল না হওয়া পর্যন্ত তুই আমার কিছুই করবিনা। আর আমিও আমার উদ্দেশ্য হাসিল না হওয়া পর্যন্ত তোকে তার খবর দিবোনা। তোকে নিজের করবো এরপর তোকে ১বার ছুতে পারলে তোর হাতে মরলেও আফসোস থাকবেনা।
মেরিন: সাবধানে থাকিসরে এমন না হয় যে তোর পাপের ঘরা ভরে যায়। আর তোকে আমি আগেই মেরে ফেলি।

নিলয়:পারবি না রে। চিনি তোকে।
মেরিন: যদি তুই আগে ভাগেই বলে দিসে তবে তোকে একটু কম যন্ত্রনাদায়ক মৃত্যু দিবো। কথা দিলাম। কিন্তু তুই যদি আরো নিচে নামিস তোর মৃত্যু যে কতোটা ভয়ংকর হবে তুই কল্পনাও করতে পারবিনা।

নিলয় মেরিনের কাছে গিয়ে ওর ঘাড়ে আঙ্গুল বুলিয়ে
বলল: তাই বুঝি?
মেরিন আর দেরি না করে হাত থাকা কলম টা দিয়ে নিলয়ের হাতে পার দিলো।
নিলয়: আহ।

মেরিন: আমাকে ছোয়ার অধিকার কেবল আমার নীড়ের আছে। আরেকবার যদি আমার দিকে হাত বারাস তাহলে আমি সব ভুলে যাবো। আর তোর হাত আমি কেটে দিবো।
নিলয়: তোর নীড় তো তো ছুতেও ঘৃণা করে। তোকে তো আমিই কেবল ছোবো।
বলেই নিলয় চলে গেলো।

রাতে
মেরিন ছাদের রেলিং এ বাইরের দিকে পা ঝুলিয়ে বসে drinks করছে। নীড় মেরিনকে খুজতে খুজতে ছাদে গেলো।
নীড়: একি? তুমি এখানে?

মেরিন ১বার নীড়ের দিকে তাকিয়ে চোখ ঘুরিয়ে নিলো।
নীড়: কিছু বলছি তো
মেরিন: শুনছি বলুন
নীড়: এখানে কি করছো
মেরিন: দেখছেন না বুঝি oh আপনি তো আবার আমাকে চোখেই দেখেন না।

নীড়: চোখে দেখার মতো কি তুমি কেউ?
মেরিন সেই চির রহস্যময়ী হাসি দিলো।
নীড়: মাতলামো বন্ধ করো।

মেরিন এবার হাহা করে হেসে উঠলো। এরপর উঠে এলো।
নীড়ের ২কাধে হাত রেখে
বলল: আমি মাতাল কিন্তু আপনি তো সেই জুয়ারিহ যে কখনো নিজের বউকেও বন্ধক রাখতে, বাজী ধরতে দ্বিধা বোধ করবেন না
নীড় মেরিনের হাত সরিয়ে দিলো।

বলল: কি যা তা বলছো?
মেরিন: আচ্ছা আমাকে নিজের বউ নাই ভাবেন কিন্তু আমি তো ১টা মেয়ে তাইনা তাহলে কককিভাবে ওই নিলয়ের সাথে একা রেখে বেরিয়ে এলেন
নীড়:
মেরিন: কি হলো বলুন
নীড়: নিলয় ভাইয়া তোমার কাজিন আর তাছারাও
মেরিন: তাছারাও?

নীড়:ওর সাথে তোমার একসময় সম্পর্ক ছিলো। হয়তো এখনো আছে
মেরিন: আপনার কি সত্যি ওই বাজে লোকটার কথা বিঃশ্বাস করেছেন?
নীড়: না করার কি কোনো কারন আছে? আর ওই নিলয় ভাইয়াকে বাজে বলার আগে নিজের কথা বিচার করে নাও। তোমারও তেমন কোনো ভালো record নেই।
মেরিন: আমার কি খারাপ
নীড়: সবটাই
কাজ, স্বভাব background origin
মেরিন: আমার origin, background খারাপ? আর নীরার বুঝি ভালো?
নীড়: ও তোমার মতো না। তুমি তো জেদের বসে আমার সাথে এমন করেছো। কিন্তু ও তো আমাকে ভালোবাসে।

মেরিন: হ্যা ভীষন ভালোবাসে আপনাকে তাই অন্যের বাচ্চার মা হয়
কথাটা বলতে না বলতেই নীড় মেরিনকে থাপ্পর মারলো।
নীড়: একদম আমার নীরার নামে বাজে কথা বলবেনা তোমার ওই মুখ দিয়ে?
মেরিন: আমি নোংরা?
নীড়: হ্যা অবশ্যই। বাজে মেয়ে। তাইতো নিলয় ভাইয়ার সাথে এতোদিনের relation থাকা সত্তেও কেবল নীরাকে কষ্ট দেয়ার জন্য আমাকে বিয়ে করেছো।
মেরিন: 😂😂😂।
নীড়: আসলে যার origin এমন, গোরাই এমন তখন তাকে তো অমন হতেই হবে?
মেরিন: মানে?

নীড়: মানে ভীষন সহজ। মা যেমন তার মেয়েও অমন।
মেরিন: নীড়
নীড়: আমাকে ঝারি মারলেই কি সত্যটা পাল্টো যাবে না। সারা শহর জানে তোমার চরিত্রহীনা মায়ের কথা
মেরিন: নীড়
বলেই মেরিন নীড়কে থাপ্পর মারার জন্য হাত ওঠায়। কিন্তু নীড়ের গালের সামনে নিয়ে বহুকষ্টে হাতটা থামিয়ে নিলো।

মেরিন: i hope যদি আপনাকে ভালোনাবাসতাম আমি খারাপ আমার origin খারাপ, কিন্তু আপনি তো ভালো। বউ হিসেবে নাই বা respect করুন। মেয়ে হিসেবে তো করুন। লজ্জা করেনা এই কথা বলতে। কি এমন দেখেছেন যে এতো বড় কথাটা বললেন? হ্যা বলুন? ওই পশুটার কথা শুনে আমাকে এগুলো বললেন তো? আরে আপনার বাবা যে আমাকে dislike করে তাকে গিয়ে বলুন আজকে যে কাজটা সকালে করেছেন, আর যে কাজটা এখন করলেন সেটা ঠিক করেছেন কিনা? এর থেকে যদি আমাকে কোনো পতিতালয়ে বিক্রি করে দিতেন কসম আল্লাহর কম কষ্ট লাগতো। এতো ঘৃণা আমার জন্য?

বলেই মেরিন নিচে চলে গেলো। গিয়ে blanket মুরি দিয়ে শুয়ে পরলো। কিছুক্ষন পর নীড়ও রুমে গেলো। blanket টা নরতে দেখে বুঝতে পারলো যে মেরিন কান্না করছে।
নীড় মনে মনে: আসলেই আজকে বেশি করে ফেলেছি ঠিক হয়নি।

পরদিন
নীড়: দেখুন নিলয় ভাইয়া অতীতে মেরিনের সাথে যা যা হয়েছে তা হয়েছে। এখন আর অতীত ঘাটার কোনো ইচ্ছাই আমার নেই। আপনি এখন মেরিনের অতীত। তাই আপনি আপনার মতো থাকুন আর মেরিনকে মেরিনের মতো থাকতে দিন।
নিলয়: হঠাৎ মেরিনের জন্য এতো কথা? তুমি না নীরাকে ভালোবাসো?
নীড়: হ্যা বাসি। কিন্তু মেরিন এখন চৌধুরী বাড়ির সম্মান। যাই হোক যেভাবেই হোক ও আমার বিয়ে করা বউ
নিলয়: আর আমার বিয়ে না করা বউ।

নীড়: মানে?
নিলয়: তুমি অতোটাও অবুঝ নও যে তুমি বুঝবে না। ও কতোটা খারাপ তুমি ভাবতেও পারবেনা। তুমি তো ওর স্বামী তুমি নিশ্চয়ই জানো ওর শরীরের ঠিক কোথায় কোথায় তীল আছে? আমিও জানি। পিঠের বাম দিকে, কাধে, ব
নীড়: stop ভাইয়া।

নিলয়: ok stop but আমি চুপ করলেই তো আর সত্য পাল্টে যাবেনা। তাইনা।
নীড় আর কিছু না বলে চলে গেলো।
নিলয়: যাও নীড় বাবু যাও আজকে গিয়ে মেরিনকে ক্ষেপিয়ে দিয়ে নিজের বিপদ ডেকে আনো।

নীড়ের মাথায় আগুন লেগে গেলো। জানেনা কেন এতো রাগ লাগছে। মেরিনকে নিয়ে এমন feeling হওয়ার কোনো কারনই নীড় খুজে পাচ্ছেনা। কিন্তু রাগের চোটে নীড়ের মাথা ফেটে যাচ্ছে। রাত ১১টায় নীড় বাসায় ফিরলো। এখনও রাগ কমেনি। বরং বেরেছে। তারমধ্যে এসে দেখে মেরিন শাড়ি পরে আছে। সুন্দর লাগছে। নিজের চোখ ঘুরিয়ে নিয়ে গলার টাই খুলতে লাগলো।
মেরিন নীড়কে পেছন থেকে জরিয়ে ধরলো।
মেরিন: i am sorry জান কালকে অমন করার জন্য
নীড় মেরিনকে সরানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু মেরিন আরো জোর করে ধরে রেখেছে।
মেরিন: বললাম তো sorry

নীড় নিজেকে ছারিয়ে ঠাস করে মেরিনকে থাপ্পর মারলো।
নীড়: ফালতু মেয়ে কোথাকার
মেরিন: মানে?

নীড়: মানে
বলেই নীড় ১টানে মেরিনের শাড়িটা খুলে ফেলল। মেরিন উল্টা দিকে ঘুরে গেলো। নীড় মেরিনের পিঠের তীলটা দেখলো। যা দেখে নীড়ের মাথা আরো গরম হয়ে গেলো। ও মেরিনকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিলো।

নীড়: এই কারনে তোমাকে ফালতু বলেছি এই তীল গুলোর জন্য। লজ্জা করেনা ১জনের মন ভেঙে আমার কাছে আসতে
মেরিন: নিলয় বলেছে
নীড়: সত্যিই বলেছে
মেরিন: আপনার কাছে সবাই সত্যবাদী আমি ছারা। ওই নিলয়ের কথা আপনি চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করতে পারেন আর আমার না

নীড়: তোমার মধ্যে সত্যের কি আছে? তুমি পুরোটাই মিথ্যা। কারন যদি নিলয় মিথ্যা হতো তবে এই তীল গুলো গুলো সত্যি হতোনা আর তোমাকে যতোদূর চিনি, নিলয় তোমার সাথে এমব behave করে তবুও তুমি ওকে জীবীত রেখেছো কারন নিলয় সত্যি বলছে।
মেরিন: আমি যদি বলি নিলয় মিথ্যা বলছে
নীড়: বিশ্বাস করবো না। তাহলে নিলয় ওগুলো জানলো কি করে? আর নিলয়কে কিছু বলোনি কেন?
মেরিন নীড়ের সামনে গিয়ে দারালো।

মেরিন: আমার তীল নিলয় কিভাবে দেখলো? নিলয় কেন বেচে আছে জানতে চান?
নীড়:

মেরিন: জানাবো না। যেদিন ভালোবেসে জানতে চাইবেন সেদিন জানাবো
ভালো তো আপনি আমাকে বাসবেনই। কিন্তু হয়তো সেই ভালোবাসা আমি দেখতে পারবোনা।
বলেই মেরিন ১টা জামা নিয়ে washroom এ গেলো। এরপর বেরিয়ে গাড়ির চাবি নিয়ে বেরিয়ে গেলো।

পরদিন
নিলয়: করছো কি নীড়? ছারো আমাকে
কে শোনে কার কথা নীড় দে দানা দান পিটাতেই লাগলো নিলয়কে। ইচ্ছা মতো মারলো নীড় নিলয়কে।

নীড়: আর কখনো যেন তোর ওই নোংরা মুখে আমার বউর নাম শুনি আর কখনো যেন ওই নোংরা চোখ দিয়ে আমার বউর দিকে তাকাতে না দেখি জানে মেরে দিবো।
বলেই নীড় চলে গেলো।

রাতে
নীড় বাসায় গেলো। রুমে ঢুকে দেখে মেরিন বারান্দায়। একটু এগিয়ে যেতেই নীড় শুনতে পেলো
🎶🎵🎶
মা
আমার সাধ না মিটিলো
আশা না পুরিলো
সকলে ফুরায়ে যায় মা (2)
জনমের শোধ ডাকি গো মা তোরে
কোলে তুলে নিতে আয় মা
আমার সাধ না মিটিলো
আশা না পুরিলো
সকলি ফুরায়ে যায় মা
🎶🎵🎶
নীড় উপস্থিতি টের পেয়ে মেরিন থেমে গেলো। চোখের পানি গুলো মুছে নিলো। নীড় চুপচাপ মেরিনের পিছে গিয়ে দারালো।
নীড়: sorry
বলে নীড় washroom এ চলে গেলো। বেরিয়ে দেখে ছোট টেবিলটাতে খাবার সাজানো। আর সোফায় মেরিন শুয়ে আছে।

নীড় কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস
করলো: খেয়েছো
অন্য ১টা সময় হলে মেরিন অনেক খুশি হতো কিন্তু এখন চাইলেও খুশি হতে পারবেনা মেরিন। তাই চুপ রইলো। নীড়ও কিছু না খেয়ে আধশোয়া হয়ে হেলান দিয়ে বসে রইলো। লাইট নিভিয়ে দিলো।

নীড় কপালে হাত দিয়ে বসে আছে। তখন বুঝতে পারলো কেউ ওর কেটে যাওয়া বাম হাতটার ব্যান্ডেজটা খুলে নতুন করে ব্যান্ডেজ করে দিচ্ছে। আসলে নিলয়ের সাথে মারামারি করতে গিয়ে হাত কেটে গিয়েছিলো। মেরিন নীড়ের হাতে ব্যান্ডেজ করে প্লেটে খাবার এনে চুপচাপ নীড়ের মুখে ঢোকাতে লাগলো। নীড়ের চোখের দিকে তাকাচ্ছেনা।
নীড়: তুমি খেয়েছো?

মেরিন:
নীড়কে খাইয়ে মেরিন চুপচাপ অল্প একটু খেয়ে নিয়ে বাকি গুলো নিচে রেখে আসলো। এরপর এসে নীড়কে জরিয়ে ধরে ওর বুকে মাথা রেখে শুয়ে পরলো। কেন যেন নীড়ের ঠোটের কোনে হাসি ফুটলো।

পরদিন
নীড় রেডি হয়ে নিচে গেলো। গাড়ির ওখানে যেতেই দেখলো মেরিন driving sitএ বসে আছে। যার মানে নীড়কে কাটা হাত নিয়ে drive করতে দিবেনা। নীড় গিয়ে গাড়িতে বসলো। মেরিন গাড়ির start দিলো। একটুপর মেরিনের ফোন এলো। মেরিনের কানে bluetooth লাগানো।

মেরিন: hello
জন: ম্যাম নীড় স্যারের গাড়িতে টাইম বোম্ব লাগানো আর সেই সাথে ব্রেক ফেইল।
কথাটা শুনে মেরিনের মাথায় আগুন জ্বলে গেলো।
মেরিন: find out
বলেই মেরিন কেটে দিলো।
মেরিন দরজা খুলে দিলো।

মেরিন: sit belt খুলুন।
নীড়: কেন?
মেরিন: বলেছি খুলতে খুলুন
বাধ্য হয়ে নীড় খুলল।
মেরিন: কোনো কথা না বলে গাড়ি থেকে লাফান
নীড়: what? why?
মেরিন: অতো কথার সময় নেই যা বলছি করুন
নীড়: চলন্ত গাড়ি থেকে?

মেরিন নীড়কে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে ওকে ধাক্কা মারলো। নীড় ছিটকে বাইরে পরলো। খানিকটা ব্যাথাও পেলো নিজের balance ঠিক করতে করতেই কিছু blust হওয়ার শব্দ পেলো। সামনে তাকিয়ে দেখে গাড়ি blust
নীড়: মেরিন

নীড় দৌড়ে গেলো। দেখলো গাড়ি থেকে খানিকটা দূরে মেরিন পরে আছে। মেরিন গাড়ি থেকে ঝাপ দিয়েছিলো। নীড় দৌড়ে গিয়ে মেরিনের কাছে গেলো।
নীড়: তুমি ঠিক আছো?
বিনিময়ে মেরিন রহস্যঘেরা হাসি দিলো। নীড় মেরিনকে হসপিটালে নিয়ে গেলো।

২দিনপর
নীড় ফোনে কথা বলতে গেলো। কথা বলে এসে দেখে মেরিন নেই। পাগলের মতো খুজতে লাগলো।
ওদিকে
নিলয়কে বেধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ওর সামনে দারিয়ে আছে ওর কাল। মেরিনের হিংস্র রূপটা দেখে নিলয় আতকে উঠলো।
নিলয়: তুই এবারও আমার কিছু করবি নারে আমি জানি কা
আর বলতে পারলোনা
মেরিন ওর জিহ্বা বরাবর ছুরি মারলো।

এরপর হাতে আরেকটু বড় ধরনের ছুরি নিয়ে নিলয়ের সামনে গেলো।
মেরিন: আজকে তোকে বাচাতে পারে এমন কোনো শক্তি নেই আল্লাহ ছারা & trust me আল্লাহ মনে হয় না তোকে বাচাবেন। হয়তো তোর মৃত্যুর উছিলা আমি
বলেই নিলয়ের বুকে ছুরি দিয়ে আঘাত করলো।

মেরিন: যখন ১৩ বছরের বাচ্চা ছিলাম তখন তুই তোর এই হাত দিয়ে আমার ইজ্জত লুটতে গিয়েছিলি
বলেই নিলয়ের ১হাত কেটে ফেলল।
নিলয় ব্যাথায় আহ করে উঠলো। কথা তো আর বলতে পারবেনা।
ছটফট করতে লাগলো।

পর্ব ৮

মেরিন আর হসপিটালে না গিয়ে বাসায় চলে এলো। মেরিন বাসায় ফিরেছে শুনে নীড়ও দৌড়ে বাসায় ফিরলো। হাপাতে হাপাতে রুমে ঢুকলো। দেখলো মেরিন বারান্দায় রকিং চেয়ারে বসে আছে। কপালে হাত দিয়ে। নীড় ১টা স্বস্তির নিঃশ্বাস নিলো।
নীড়: তুমি এখানে?
মেরিন: কেন?

নীড়: হসপিটাল থেকে বেরিয়ে কোথায় গিয়েছিলে
মেরিন: আপনাকে বলতে বাধ্য নই। মেরিন বন্যা কাউকে কোনো কৈফিয়ত দেয়না।
নীড়: আমাকেও বলতে বাধ্য নও?
মেরিন: না। তবে যেদিন আমার স্বামী হয়ে, অধিকারের সাথে কোনো কিছু জানতে চাইবেন সেদিন বলবো।

পরদিন
মেরিন রেডি হয়ে office যাচ্ছে।
নীলিমা: এই শরীর নিয়ে কোথায় যাচ্ছিস?
মেরিন: কেন আমার কি হয়েছে?
নীলিমা: কিচ্ছু হয়নি but চুপচাপ রুমে যা। rest কর।
মেরিন: rest? ২দিন rest করে পিঠ ব্যাথা করছে। আর office এ কতো কাজ পরে আছে যানো?
নিহাল: কাজের tension না নিয়ে কেউ নিজের খেয়াল রাখলেই বেশি ভালো হবে।
মেরিন: কাজ না করলে মেরিন বন্যাকে খাওয়াবে কে?
নিহাল: নীলা কাউকে বলে দাও যে চৌধুরী empire খান empire এর মতো বড় না হলেও কাউকে ২বেলা ২মুঠো খাওয়ানোর তৌফিক ঠিকই আছো।

মেরিন: আমি কি বলেছি যে তা নেই? আমি তো বলেছি কার ঠ্যাকা পরেছে আমাকে খাওয়ানোর? আজকে কারোটা খাবো ২দিনপর কথা শুনবো বসে বসে অন্ন ধমব্স করতে মেরিন শেখেনি।
আর হ্যা মামনি “কেউ”এর শশুড়কে “কেউ”এর তরফ থেকে thank you দিয়ে দিয়ো।
বলেই মেরিন চলে গেলো।

২দিনপর
মেরিন: hello my ফুপাতো ভাই জ্বালা পোরাটা কমেছে? একটু মনে হয় কমেছে। তাই তো আবার জ্বালাতে এসেছি। জন, একে পেট ভরে খাইয়েছো তো?
জন: জ্বী ম্যাম।
মেরিন: good আমার ছুরিটা দাও।
জন দিলো।

মেরিন: আচ্ছা জন সেদিন এই হাতটা যেন কেন কেটেছিলাম?
জন: ম্যাম ইয়ে মানে
মেরিন: আমতা আমতা আমার ভালো লাগেনা।
জন: ম্যাম যখন আপনি ছোটো ছিলেন তখন
মেরিন: তখন?

জন: আপনাকে molest করেছিলো।
মেরিন: right molest করেছিলো। সেদিনের পর থেকে সেই ছোট্ট ভীতু মেরিন পুরোপুরি মরে গিয়েছিলো। সেদিন কবির ফয়সাল খান আমাকে বলেছিলো আমি নাকি আমার মায়ের মতো হয়েছি। characterless
আমি নাকি তোকে provoke করেছি অমন টা করার জন্য কি হাস্যকর সেদিন তোর ওপর আমার ১টা ভয় লাগা কাজ করে। সেই ভয় কাটানোর জন্যেই
যাই হোক
কাজটা complete করি।
বলেই মেরিন অন্যহাত টা কেটে ফেলল।

মেরিন: আমার মা যে চরিত্রহীনা নয় সেটা কেবল ১জনই জানে। আর সে আছে তোর কব্জায়। আর সে হলো আমার দীদা। তাকে তুই লুকিয়ে রেখেছিস। ১টা বয়স্ক মানুষকে লুকিয়ে রেখে কষ্ট দিয়ে যাচ্ছিস। সে তো তোরও কিছু লাগে। তোরই নানিমা। অবশ্য তোর দোষ দিয়ে কি লাভ বলতো? তোর মা ই তো নিজের মায়ের মুখ বন্ধ করিয়ে দেয়ার জন্য কতো কি করেছে।
যাই হোক এখন দেখ কেমন লাগে।
বলেই মেরিন চলে গেলো।

নীড়ের কিছুই ভালো লাগছেনা। কারন এখন মেরিন আগের মতো ওর সাথে আগের মতো কথা বলেনা। আর না আগের মতো পাগলের মতো জরিয়ে ধরে, কিস করে। আগে তো নীড় জবাব দিতো আর না দিতো মেরিন আপন মনে বকবক করতো। এখন অমন করেনা। কেবল চুপচাপ নীড়ের বুকে মাথা রেখে ঘুমায়। নীড় বেশ বুঝতে পারছে যে সেদিনের আচরনে মেরিন যথেষ্ট কষ্ট পেয়েছে।

পরদিন
ভোরের দিকে নীড়ের ঘুমটা ভেঙে গেলো। দেখলো মেরিন নেই। তারাতারি উঠে বসলো। খুজতে লাগলো। দেখলো মেরিনের গাড়ির চাবিটা জায়গা মতোই আছে। রুম থেকে বেরোলো। নামাযের রুমের ওখান দিয়ে যাওয়ার সময় নীড় খুব মিষ্টি সুরে কোরআন শরীফ পড়ার শব্দ পেলো। ভেতরে তাকিয়ে দেখে মেরিন পড়ছে। সাদা রঙের ১টা থ্রীপিছ পরে আছে।
নীড় মনে মনে: মাশাল্লাহ অনেক সুন্দর করে পড়ে তো।
মেরিনের পড়া শেষ করে ঘুরতেই দেখে নীড় দারিয়ে আছে।
মেরিন: আপনি?
নীড়: হামম। ঘুমটা ভেঙে গেলো।
মেরিন: কিছু লাগবে?
নীড়: না।

মেরিন: হামম। আচ্ছা শুনুন।
নীড়: বলো।

মেরিন: না মানে আমি না আজকে office যেতে পারবোনা।
নীড়: হামম। কিন্তু কেন?
মেরিন: একটু কাজ আছে।
নীড়: কি কাজ?
মেরিন: আছে কোনো কাজ।
বলেই মেরিন রুমে গেলো।

নীড় fresh হয়ে এসে দেখে যে মেরিন চুল গুলো ছেরে দিয়েছে। সেই সাদা থ্রীপিছটাই পরে আছে। ওরনাটা অন্যদিনের মতো গলায় না পেচিয়ে সুন্দরভাবেই নিয়েছে। অন্যরকম সুন্দর লাগছে।
নীড়: আমিই কি সাথে যেতে পারি?
মেরিন:
নীড়: নাকি এর জন্যেও স্বামি হয়ে অধিকার নিয়ে বলতে হবে?
মেরিন:
হ্যা না কিছু না বলে মেরিন নিচে নেমে এলো। নীড় এর মানেটা বুঝলো। তাই নীড়ও সাথে সাথে নিচে নামলো। ২জন মিলে বের হলো। একটু সামনে থেকে দাদুভাই pick করে নিলো। নীড় আর দাদুভাই কথা বলতে লাগলো। হঠাৎ মেরিন গাড়িতে break মারলো।

দাদুভাই: কি হলো দিদিভাই
মেরিন সামনের দিকে তাকিয়ে আছে। নীড় আর দাদুভাইও তাকালো। দেখলো কবিরের গাড়ি।
নীড়: আরে বাবা ভালো আছো?
কবির: হামম।

নীড়: ভালোই হলো। চল আমাদের সাথে।
কবির: কোথায় যাবো?
দাদুভাই: তুই কি জানিস না আজকে কি? আজ যে কনা মায়ের জন্মদিন চল আমাদের সাথে।
কবির হা হা করে হেসে উঠলো।
কবির: জন্মদিন? like really যার জন্মের ঠিক নেই তার আবার জন্মদিন।
দাদুভাই: মুখ সামলে কথা বল।

কবির: আচ্ছা বাবা ওই নষ্টা মেয়েটাকে নিয়ে কোনো কথা তুমি কেন মানতে পারোনা বলোতো?
দাদুভাই: কবির বরাবরের মতো আজও ১টা কথাই বলবো পরে আফসোস করোনা।
কবির: আফসোস করার মতো কিছু বলিনি। ওই মেয়েটাকে গাড়ি সরাতে বলো। আমার পথের সামনে থেকে।
কথাটা শুনে মেরিন ১টা devil smile দিয়ে গাড়ি start দিলো। এরপর গাড়ি পিছে নিয়ে প্রচন্ড speed এ এসে কবিরের গাড়িটাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো। এরপর গাড়ি থেকে নামলো।

নীড়: এটা কি করলা?
মেরিন: মিস্টার খান বললেন না গাড়িটা সরাতে। তাই সরালাম।
কবির: আমি তোমার গাড়ির কথা বলেছি।
মেরিন: correction আপনার বাক্যে কোথাও “তোমার”কথাটা উল্ল্যেখ ছিলোনা।
কবির: বেশি বার বেরো না ঝড়ে পরে যাবে।
মেরিন: wrong ঝরে পরে যাবোনা বরং আরো প্রসারিত হবো।
বলেই মেরিন গাড়িতে উঠলো।

গাড়িটা থামলো ১টা এতিমখানায়। সেখানে যেতেই বাচ্চারা এসে মেরিনকে ঝেকে ধরলো।
নীড়: দাদুভাই
দাদুভাই: আজকে কনিকার জন্মদিন। আসলে আজকের দিনেই কনিকা কে কবিরের মা এখান থেকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিলো। তাই এই দিনটাতেই কনিকার জন্মদিন পালন করা হয়। কনিকা যখন ছিলো তখন এই দিনটা এখানেই পালন করতো। এখন দিদিভাই করে। ও মনে করে এখানেই ১দিন ও কনিকা পাবে।

কিছুক্ষনপর
নীড় ফোনে কথা বলতে বলতে হাটছে। তখন কারো সাথে ধাক্কা লাগলো। তাকিয়ে দেখে ১টা মহিলা। একদম ঢেকে রেখেছে নিজেকে। মহিলাটির চোখ পানি ভাসছে।
নীড়: sorry আন্টি
মহিলাটি ৫সেকেন্ডের মতো মায়া ভরা দৃষ্টিতে নীড়ের দিকে তাকিয়ে দৌড় দিলো। দৌড়ে যাওয়ার সময় তার ১পায়ের থেকে নুপুর খুলে গেলো। নীড় দৌড়ে গিয়ে নুপুরটা হাতে নিয়ে মহিলাটাকে ডাকতে লাগলো।
নীড়: এইযে আন্টি আপনার নুপুর
মহিলাটা ১টা বার পিছে তাকেয়ে আবার দৌড় দিলো।
নীড়কে দৌড়াতে দেখে মেরিন ছুটে এলো।
মেরিন: কি হয়েছে আপনার? আ
তখন মেরিন নীড়ের হাতের নুুপুরটা দেখলো। ১টানে নিয়ে নিলো।
অস্থির হয়ে জিজ্ঞেস
করলো: এএএটা ককককোথায় পপপেলেন?
নীড়: ১টা মহিলার

মেরিন: কককোথায় সে?
নীড়: দৌড়ে ওই বাইরের দিকটাতে গেলো।
মেরিন আর ১সেকেন্ডও দেরি না করে দৌড় লাগালো। দেখলো দূরে ১জন কালো চাদর পেচিয়ে দৌড়াচ্ছে।
মেরিন: আম্মু
কিন্তু ডাক দিতে না দিতেই সে চোখের পলকে গায়েব হয়ে গেলো।

মেরিন ওখানেই হাটু গেরে বসে পরলো। দাদুভাই এলো।
দাদুভাই: দিদিভাইও দিদিভাই কি হয়েছে?
মেরিন দাদুভাইকে জরিয়ে ধরে হাউমাউ করে কাদতে লাগলো।
কাদতে কাদতে মেরিনের হিচকি উঠে গেলো। এমন ১টা মেরিনকে প্রথমবার নীড় দেখলো।
মেরিন: দদদাদুভভভাই আআআমার আআআম্মু ও দদদাদুভাই আআমার আম্মু এএএই দদদেখো আআআম্মুর নননুপুর।
দাদুভাই: কোথায় দেখেছো?

মেরিন: ওও ও
বলতে বলতে মেরিন অজ্ঞান হয়ে গেলো।
(আসলে নুপুর জোরা কবির কনিকাকে তখন দিয়েছিলো যখন মেরিন হয়েছিলো। আর বলেছিলো এটা সেদিনই পা থেকে খুলবে।
😒😒😒। )

মেরিনকে খান বাড়িতে আনা হয়েছে। কারন এতিমখানাটা থেকে খান বাড়ি কাছে।
ডক্টর চেক আপ করে বের হলো।

দাদুভাই: তপু আমার দিদিভাই?

তপু: ভালোনা দাদুভাই। কতোবার বলেছি ওর bp normal রাখার জন্য? bpএর ঔষধ কি regular খায়না? এই বয়সেই এমন high pressure থাকলে ভবিষৎে কি হবে বলো তো? ভবিষৎ? এই conditionএ কদিন বাচে সেটা দেখো। ওর যে bp যে কোনোদিন stroke করবে। ওর মেন্টাল প্রেসার, ব্লাড প্রেসার সব control এ রাখার চেষ্টা করো। না হলো অনেক কিছু হয়ে যেতে পারে। আর হ্যা ও কি একেবারেই ঘুম আসেনা? ঘুম না আসলে শরীর কখনোই ঠিক হবেনা। at least ১মাস ওকে পুরো বেডরেস্টে রাখুন। পারলে ওর mental treatmentটাও করান।

দাদুভাই: ওর জ্ঞান কখন ফিরবে?
তপু: কিছুক্ষনের মধ্যেই। ওকে আপাদত disturb করবেন না।
বলেই dr তপু চলে গেলো।
দাদুভাই: জানিনা ওর কোন গতি হবে।

একটুপর
দাদুভাই সোফায় বসে আছে। পাশে নীড় বসা।
তখন মেরিন ফোনে কথা বলতে বলতে সিড়ি দিয়ে নামছে।
মেরিন: হ্যা আমি এখনি আসছি।

মেরিন: না না আমিই আসছি।

মেরিন: রাখছি।

দাদুভাই:একি দিদিভাই কোথায় যাচ্ছো তুমি?
মেরিন: factoryতে। worker আর ম্যানজারের সাথে ঝামেলা হয়েছে।
দাদুভাই: হোক। কোথাও যাবেনা তুমি।
মেরিন: আরে দাদুভাই
দাদুভাই: কোথাও যাবেনা মানে যাবেনা। যাও গিয়ে rest করো। এই শরীর নিয়ে সে বের হচ্ছে।
সেতু: অভিনয় অভিনয় সব অভিনয় মায়ের মতো তো। সব মায়ের মতো।
দাদুভাই: সেতু

সেতু: কি মিথ্যা বললাম বাবা? আজকে ১টা অশুভ দিন। আজকের দিনেই তো এই খান বাড়িতে ওই মহিলার পা পরেছিলো। সারাবাড়ি অপবিত্র হয়ে গিয়েছিলো।
দাদুভাই: সে

মেরিন: দাদুভাই বলতে দাও। দেখি আজকে কতো বলতে পারে। মনেরভাব প্রকাশ করার স্বাধীনতা থাকা দরকার। বল বল সেতু আজকে তো আর না আমি গান হাতে নিবো আর না ছুরি আর না চাবুক আজকে বলে ফেল। তবে মনে রাখিস আমি কান কিন্তু অন্যকোথাও রেখে আসিনি।
সেতু: কি করবি? মেরে ফেলবি? তোর অতো সাহস নেই। তাহলে তো এতোদিনে মেরেই দিতি।
মেরিন: তুই তোরটা ভাব। আর নিজের উল্টা গোনা শুরু কর।

সেতু: আচ্ছা তাই? কি এমন হলো? তোর ওই চরিত্রহ
আর বলতে পারলোনা। ওপর থেকে ঝুমুরটা ঠাস করে সেতুর মাথায় পরলো।
মেরিন হাতে তালি দিতে লাগলো।
মেরিন: কিছু শাস্তি অলৌকিকও হয়।

কিছুদিনপর
নীড়: কেমন আছো তুমি?
নীরা: বিন্দাস। দেখোনা সিডনি শহরে আছি আর বিন্দাস থাকবোনা?
নীড়: এভাবে বলছো কেন?
নীরা: তো কিভাবে বলবো? এই জেলখানাতে কেমন থাকবো?
নীড়:
নীরা: আমার কি মনে হয় জানো তুমি আমাকে কখনোই ভালোবাসোনি। মেরিনের রূপে, অর্থে হারিয়ে গেছো।

নীড়: নীরা কি বলছো? তুমি এটা বলতে পারলে?
নীরা: তো কি বলবো? কিসের শাস্তি আমি পাচ্ছি বলো তো? তোমাকে ভালোবাসার? তুমি যদি আমাকে মনে রাখতে তাহলে কি এই কয় মাসে ১বারও আমার সাথে দেখা না করে থাকতে পারতে? আজও আসতে না। কেবল ডেকে পাঠিয়েছি বলে এসেছো।
নীড়:
নীরা: নীড় i love you

পর্ব ৯

নীড়: আমি আজকে নীরার সাথে করতে গিয়েছিলাম।
মেরিন: তো কি কথা হলো? আমাদের divorce নিয়ে?
নীড়:
মেরিন: কালতো শুক্রবার পরশুই আপনার নীরা মুক্তি পাবে।
বলেই মেরিন চলে গেলো। নীড় অনেকবেশি অবাক হলো।

পরদিন
জন: ম্যাম নীরাকে কি বের করা ঠিক হবে?
মেরিন: এটাই তো নীরাকে বের করার সঠিক সময়।
জন: কিন্তু ম্যাম
মেরিন: নীড়ের প্রতি নীরার প্রতিশোধ নেয়ার সময় যে চলে এসেছে।
জন: স্যারের কোনো ক্ষতি হবে না তো?

মেরিন: যতোক্ষন মেরিনের শরীরের ১ফোটা রক্ত আছে ততোক্ষন নীড়ের কিছু হতে দিবোনা।
জন: নীরা কি plan করবে সেটা তো আমরা জানি না।
মেরিন: not needed
জন: ম্যাম আপনার কিছু হয়ে গেলে?
মেরিন ওর সেই হাসিটা দিলো।

মেরিন: সকল ঘৃণার অবশান ঘটবে। এখন চলো। নিলয়ের আত্মাটাকে শান্তি দিয়ে আসি।
আজকে নিলয়ের চোখ ২টা মেরিন তুলে নিলো।
মেরিন: তুই আমার ইজ্জতে হাত দিয়েছিস কিছু বলিনি, দীদাকে আটকে রেখেছিস তাও কিছু করিনি আমার সংসারে আগুন লাগাতে চেয়েছিস কিছু করিনি কিন্তু এখন তুই আমার কলিজার দিকে চোখ তুলে তাকিয়েছিস, কলিজাতে হাত দিয়েছিস আজকে তো তোর চোখ ২টা তুলে নিলাম। ২দিনপর তোর কলিজাটা বের করবো।

২দিনপর
নীরা জেল থেকে বের হলো। নীড়, কবির, সেতু ওকে নিতে এসেছে।
সেতু: আহারে আমার বাচ্চাটা
কবির: মামনি তুমি ঠিক আ
তখন সবাই ধুম ধারাক্কা বাদ্য বাজনার শব্দ পেলো। সবাই পিছে তাকালো। দেখলো বাদ্যবাজনা নিয়ে মেরিন নাচতে নাচতে আসছে। হাতে গাঁদা ফুলের মালা। যেমনটা কোরবানির গরুর গলায় পরানো হয়।

মেরিন: jail সে আয়া মেরা দোস্ত কো সালাম কারো ওহ হাই নীরা আপু
বলেই নীরাকে জরিয়ে ধরলো। এরপর নীরার গলায় মালাটা পরিয়ে দিলো। কেউ কিছু বুঝতে পারলোনা।
নীরা: তুই এখানে?
মেরিন: কেন আপু আমার কি এখানে আসতে নেই?
নীরা: shut up
মেরিন: ok

২দিনপর
নীড়: i am sorry নীরা but আমি এটা করতে পারবোনা। তোমাকে ভালোবাসি এর মানে এই না যে আমি কারো মন নিয়ে খেলবো। তাও মেরিনের।
নীরা: কেন মেরিনের মন নিয়ে খেলা যাবেনা কেন?
নীড়: আরে ও আমার বিয়ে করা বউ। আর তাছারাও
নীরা: তাছারাও?

নীড়: তাছারাও ও আমাকে ভালোবাসে। ভীষন ভালোবাসে
নীরা: ওওও ও তোমাকে ভীষন ভালোবাসে। আর আমি বুঝি বাসিনা
নীড়: কিসের মধ্যে কি বলছো নীরা?
নীরা: হ্যা তা নয়তো কি? তুমি আমাকে একটুও ভালোবাসোনা।
নীড়: তোমাকে ভালোবাসি এর মানে এই না যে আমি ওই অসহায় মেয়েটার মন ভাঙবো
নীরা: অসহায় মেয়ে?

তোমার মাথা ঠিক আছে? তুমি যদি আমাকেই ভালোবাসো তবে কি আজীবন ওর সাথেই থাকবে না কি?
নীড়: দেখো আমি চাইলেও ওকে divorce দিতে পারবোনা।
নীরা: সে কারনেই তো বলছি এই কাজটা করতে। ওকে তো আর মেরে ফেলতে বলছিনা তাইনা?
তুমি আমার কথা মতো কাজ করে যাও দেখে নিও divorce ও তোমাকে দিবেই।
নীড়: ও তাও divorce দিবেনা। ও মরে গেলেও আমাকে divorce দিবেনা।

নীরা: আরে এই planটা success করতে হবে। মেরিন ভালোবাসার কাঙাল তাই তুমি একটু ভালোবাসার অভিনয় করবে
নীড়: মেরিন ভালোবাসার কাঙাল হতে পারে but বোকা না। হঠাৎ করে যদি ওকে ভালোবাসতে শুরু করি ও ঠিকই বুঝে যাবে।
নীরা: এতো তারাতারি করবে কেন? প্রথমে ওর সাথে বন্ধুত্ব করবে। পরে ধীরে ধীরে ভালোবাসা দেখাবে।
নীড়: i am sorry নীরা আমি এটা পারবোনা।
নীরা: ok তাহলে আমাকে ভুলে যাও।

নীড়: যাবো তবুও আমি এই কাজ করতে পারবোনা।
নীরা মনে মনে: কিছু কর নীরা কিছু কর ১ঢিলে ২ পাখি মারার এটাই সুযোগ। কি করি? কি করিপেয়েছি।
নীরা: ভালো। যে জীবনে তুমি নেই সে জীবন রেখে কি লাভ?
বলেই নীরা ছুরি দিয়ে হাত কেটে ফেলল।
নীড়: পাগল হলে তুমি নীরা? ছেলেমানুষি বন্ধ কর।
নীরা: আমি শেষ করে দিবো নিজেকে একে বারে
নীড়: আরে নীরা
নীরা: একদম আগে বারবেনা আগে বারলে আমি নিজেকে শেষ করে দিবো বলে দিচ্ছি
নীড়: নীরা অনেক রক্ত ঝরছে।

নীরা: ঝরুক মরে যাবো আমি
এটা দিয়ে আমি আমার বুক চিরে তোমাকে আমার হৃদয়টা দেখাবো
বলেই নীরা ছুরি নিজের বুকের দিকে নেয়।
নীড়: please থামো। তুমি যা বলবে আমি তাই করবো তবুও থামো।
নীরা: আমাকে ছুয়ে কথা দাও।

নীড়:
নীরা: কি হলো? আমাকে ছুয়ে কথা দাও
নীড়: এই তোমাকে ছুয়ে কথা দিলাম। এখন তো থামো।
নীরা নীড়কে জরিয়ে ধরলো। কেন যেন নীরার জরিয়ে ধরাটা নীড়ের মোটেও ভালো লাগলোনা। নীরার হাতে ব্যান্ডেজ করিয়ে নীড় চলে গেলো।

নীরা: আর মাত্র কিছুদিন নীড় তোমার জীবনের সীমা শেষ। তোমাকে জানে মেরে দিবো। আর তুমি মরে গেলে মেরিন এমনিতেই শেষ।
নীড় নীরা কে কথা তো দিলো। কিন্তু কোনো কিছুই ভালো লাগছেনা। ওর মন কিছুতেই সায় দিচ্ছেনা মেরিনের মন ভাঙার।

রাতে
নীড় বাসায় গেলো। ঢুকতে যাবে তখনই মিষ্টি কন্ঠে গান শুনতে পেলো। একটু দরজা ফাক করে দেখলো মেরিন ওর শার্ট গায়ে জরিয়ে নাচছে আর গান গাইছে।

মেরিন:
🎶🎵🎶
তু আতা হ্যা সিনেমে
যাব যাব সাসে ভারতি হু
তেরে দিলকি গালিও সে
ম্যা হার রোজ গুজারতি হু
হাওয়া কে জ্যাসে চালতা হ্যা তু
ম্যা রেত জ্যাসি উরতি হু
কন তুঝে ইউ পেয়ার কারেগা
জ্যাস ম্যা কারতি হু
🎶🎵🎶
নীড়ের শার্ট গায়ে জরিয়ে চোখ বন্ধ করে নাচতে নাচতে মেরিন খেয়ালই করেনি যে নীড় চলে এসেছে। নাচতে নাচতে কার্পেটে বেজে পরে যেতে নিলো তখন নীড় ওকে ধরে ফেলল। মেরিন চোখ বন্ধ রেখেই মুচকি হাসি দিলো। এরপর চোখ বন্ধ রেখেই নীড়ের ঠোটে হালকা করে কিস করলো। এরপর চোখ মেলল।

মেরিন: i love you
নীড় মুচকি হাসি দিলো।
নীড়: এভাবে বেসামাল হয়ে কতোক্ষন থাকবেন ম্যাডাম?
মেরিন: যতোক্ষন আপনি এভাবে আগলে রাখবেন
নীড় মেরিনকে সোজা করে দার করালো।

মেরিন: জান যান গিয়ে fresh হয়ে নিন। আজকে আপনার favorite dishes রান্না হয়েছে।
নীড় একটু অবাক হলো। কারন নিলয়কে নিয়ে ঝামেলা হওয়ার পর মেরিন ওর সাথে তেমন কোনো কথা বলেনি।
কিন্তু আজকে আবার অমন করে কথা বলছে। নীড়ের মনটা আনন্দে ভরে গেলো।
নীড়: হামম।
বলেই নীড় washroom এ গেলো।

মেরিন মনে মনে: নিখুত অভিনয়ের পালা হয়তো শুরু হয়ে গিয়েছে। আমিও দেখি আপনি কতো সুন্দর অভিনয় করতে পারেন আমার মন ভাঙার process তো শুরু হয়ে গেলো। কিন্তু আমার মন ভাঙবেন কি করে? আমি তো heartless তাই আমার মন তো ভাঙবেনা তবে খুব শীঘ্রই আপনার কোমল মনটা ভাঙতে চলেছে নীরার হাতে। যেটা আমার মেনে নিতে ভীষন কষ্ট হবে। যার জন্য নীরা কে শাস্তি পেতে হবে। আপনার অভিনয় আমি মাথার তাজ বানিয়ে রাখবো। আর divorce এ জীবনে পাবেন না কথা দিলাম।

রাতে খাওয়া দাওয়ার পর
মেরিন নীড়ের কোলে ধপ করে বসলো।
মেরিন: আজকে রান্না কেমন লাগলো।
নীড়: পচা 😜।
মেরিন: 😕। huh
বলেই কোল থেকে উঠে গেলো।

নীড়: আরে বাবা মজা করছিলাম। অনেক ভালোহয়েছে।
মেরিন: সত্যি? 🙂।
নীড়: হামম।
মেরিন: তাহলে ছোট্ট ১টা প্রশ্ন করবো ঠিক ঠিক উত্তর দিবেন
নীড়:
মেরিন: ভয় পাওয়ার কিছু নেই। অমন কিছু ask করবোনা
নীড়: করো
মেরিন: আপনি আমাকে ভালোবাসেন না ঘৃণা করেন?

নীড়:
মেরিন: কি হলো বলুন
নীড়:
মেরিন হাহা করে হেসে উঠলো। নীড় এই হাসির মানে জানেনা।
মেরিন: আমিও বোকার মতো প্রশ্ন করি তাইনা? মেরিন কে কি কখনো ভালোবাসা যায়? মেরিন কি কখনো ভালোবাসার হতে পারে? মেরিন তো ঘৃণার যাই হোক কফি খাবেন?
নীড়:

মেরিন: এটার উত্তর তো দিন
নীড়: হামম।
মেরিন: দারান এখনই নিয়ে আসছি।
মেরিন কফি নিয়ে এলো। নীড় খেলো।

কিছুক্ষনপর
নীড়ের মনে হচ্ছে যে ও হাত-পা, সারা শরীরে কোনো বোধ পাচ্ছেনা। মুখটাও যেন খুলতে পারছেনা।

মেরিন: নীড় হাত-পা নারাতে পারছেন না? পারবেন কি করে? আমি যে আপনার কফি তে drugs দিয়েছি। কয়েক ঘন্টার জন্য আপনাকে friz করার জন্য। but আপনি sense হারাবেন না। কেন এমনটা করলাম জানেন? আপনার গায়ে আমার stamp মারার জন্য।
বলেই মেরিন খুব ছোট আর সরু ১টা লোহার কাঠি নিয়ে এলো। সেই সাথে মোমবাতি। এরপর নীড়ের হাতটা হাতে নিলো।
এরপর সেই লোহার কাঠিটা আগুনে পুরিয়ে নীড় হাতে লিখতে লাগলো।

মেরিন: জানেন নীড় আপনার হাত পা অবশ কেন করেছি? যেন আপনি ব্যাথা না পান কিন্তু কতো রক্ত ঝরছে খুব কষ্ট হচ্ছে আমার। কিন্তু কিছু করার নেই চিন্তা করবেন না আমি ক্ষত শুকানোর জন্য ১টা মেডিসিন নিয়ে এসেছি। ২ দিনোর মধ্যে আপনার এই ক্ষতটা ঠিক হয়ে যাবে
ভালোই হয়েছে আমাকে ঘৃণা করেন। যদি আমাকে ভালোবাসতেন তবে এখানে লিখতে হতো #ভালোবাসার মেরিন কতোগুলো অক্ষর হয় ভালোবাসা শব্দটায়। কিন্তু ঘৃণা শব্দটা যথেষ্ট ছোট। আপনার কম রক্ত ঝরবে। সাধে কি বলি যে ভালোবাসার থেকে ঘৃণা অনেক ভালো।
মেরিন কান্না করছে আর কথা গুলো বলছে। কিন্তু ঠোটে ছোট্ট হাসি।

নীড় মনে মনে: বড়ই অদ্ভুদ তুমি। ১দিকে মুখে প্রশান্তির হাসি আর অন্যদিকে কষ্টের কান্না। তোমাকে বোঝা বড় দায়। যেমন আমার রক্ত ঝরায় তোমার অনেকবেশি কষ্ট হচ্ছে তেমনি আবার আমারই হাতে নিজের নাম লিখে শান্তি লাগছে তোমাকে বোঝে কার সাধ্য? জানিনা আমার হাত থেকে রক্ত ঝরানোর জন্য নিজেকে আবার কি শাস্তি দিবে?

একটুপর
মেরিন: হয়ে গিয়েছে। দেখুন
নীড় নিজের হাতের দিকে তাকালো। দেখলো ওর হাতে লেখা

ঘৃণার_মেরিন।

নীড় জানেনা ও ঠিক কেমন react করা উচিত। মেরিন নীড়ের হাতে ১টা চুমু দিয়ে ব্যান্ডেজ করে দিলো। এরপর অসংখ্য চুমু দিলো ব্যান্ডেজের ওপর দিয়ে।
মেরিন: আমি আপনার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি। ঘুমিয়ে পরুন।
নীড় বেশ বুঝতে পারছে যে ও ঘুমালেই মেরিন কিছু না কিছু করবেই নিজের সাথে।
মেরিন: কি হলো ঘুমান
কিছুক্ষনের মধ্যেই নীড় ঘুমিয়ে গেলো।

সকালে
নীড়ের ঘুম ভাঙলো। বরাবরের মতো মেরিনকে নিজের বুকের মধ্যই পেলো। ১টা মুচকি হাসি দিলো। পরক্ষনেই রাতের কথা মনে পরলো। নীড় তারাতারি উঠে বসলো। মেরিনের হাত-পা চেক করতে লাগলো। যা ভেবেছি তাই মেরিনের ২হাতেই ব্যান্ডেজ। যা দেখে নীড়ের বুকটা কেপে উঠলো।
নীড়: মেয়েটা আসলেই পাগল।

নীড় মেরিনকে ঠিক মতো শুয়াতে গিয়ে মেরিনের ঘাড়ের দিকে নজর গেলো। দেখলো সেখানে ছোট ১টা love আঁকা। তারমধ্যে নীড় লেখা।
নীড়: আর কতো ভালোবাসবে আমায়
মেরিন: যার থেকে বেশি আর ভালোবাসা যায় না
নীড়: তুমি জেগে আছো?
মেরিন নীড়কে আষ্ঠেপৃষ্ঠে জরিয়ে ধরে
বলল: হামম।
নীড়: ছারো উঠবো। 😜।

মেরিন নীড়ের বুকের ওপর উঠে বসলো। এরপর গালে ১টা ঠুকনা দিয়ে
বলল: ওই ব্যাটা ওই তোর সমস্যাটা কি হ্যা? তোর আর কতো ভালোবাসা লাগবে বল? তোর ওই নীরা কি তোকে এতোটাই ভালোবাসা দিয়েছে যে ওর ভালোবাসা তোর মাথা থেকেই নামছে না? যেদিন তুই আমাকে ভালোবাসবিনাসেদিন তোরে বোঝাবো কতো ধানে কতো চাল
খালি নীরা নীরা নীরা কেন রে নীরা নারী আর আমি কি পুরুষ? নাকি নীরা চলন্ত item song হয়ে ঘুরে বেরায় বলে নাকী ছোটো ছোটো পোশাক পরে বলে ওকে ভালো লাগে? আমি তো শার্ট-প্যান্ট পরি ওর মতো ছিরাভিরা পোশাক পরিনা বলে আমাকে ভালো লাগেনা? ১টা কথা মাথায় রাখবি আমি চাইলেই নীরা হতে পারি কিন্তু নীরা জনমেও আমি হতে পারবে না। নীরা কি আমার থেকে খুব বেশি সুন্দরি? শালা পুরুষ মানুষই এক
নীড়ের মেজাজ গেলো খারাপ হয়ে।

এবার নীড় মেরিনের ওপর চরে বসলো। মেরিনের হাত চেপে ধর
বলল: ওই সব পুরুষ মানুষ এক মানে কি হ্যা? আমি মোটেও অমন না। বুঝেছো।
কিছুক্ষন পর নীড় বুঝতে পারলো ওর হাত ভিজে যাচ্ছে। তাকিয়ে দেখে ওর হাত মেরিনের রক্তে ভিজে যাচ্ছে।
নীড়: oh no
নীড় তারাতারি উঠে বসলো। মেরিনর হাতে নতুন করে ব্যান্ডেজ করতে লাগলো।
নীড়: idiot ব্যাথা লাগলে বলতে তো হয় নাকি
মেরিন: আপনার দেয়া ব্যাথায় আমার প্রশান্তি।
বলেই নীড়ের কপালে চুমু দিলো।

পর্ব ১০

নীড় washroom থেকে বের হলো। দেখলো মেরিন আয়নার সামনে দারিয়ে রেডি হচ্ছে। মেরিনকে দেখেই নীড়ের মেজাজ সেই লেভেলের খারাপ হয়ে গেলো। কারন মেরিন আজকে শাড়ি পরেছে। শাড়ির ব্লাউজ আর শাড়ি পরার ধরন দেখে নীড়ের রক্তেই আগুন লেগে গেছে। ব্লাউজটা sleeveless, শাড়িটা এমনভাবে পরেছে যে মেরিনের পেট-পিঠ অনেকটাই দেখা যাচ্ছে। চুল গুলো ১পাশে এনে রেখেছে। পিঠে থাকা নীড় নামটা দেখা যাচ্ছে। নীড় মেরিনের পেটের দিকে তাকিয়ে দেখলো যে ওখানেও নীড় লেখা। সেজেছেও আজকে চরম ভাবে। মেরিন নীড়ের দিকে ঘুরলো।

নীড়ের গলা ধরে
বলল: কেমন লাগছে আমাকে?
নীড় দাঁতে দাঁত চেপে
বলল: কি করেছো?
মেরিন: মেয়ে সেজেছি
নীড়: চুপচাপ শাড়ি পাল্টে হয় থ্রীপিছ পরো না হয় as usual ছেলেদের মতো shirt-pant বা coat পরো।

মেরিন: উহু আমি তো মেয়েই সাজবো।
নীড়: যদি মেয়ে সাজার শখ হয় তো ভালোমতো শাড়ি পরো।
মেরিন:উহু আমি এভাবেই পরবো।
নীড়: কারন?
মেরিন: যদি আপনার নজর পরে আমার দিকে
নীড়: মানে কি? এভাবে শাড়ি পরলে আমার নজর পরে মানে?
মেরিন: এভাবে শাড়ি পরে বলেই তো আপনি নীরাকে ভালোবাসেন।
নীড়: রাগ না ওঠাতে চাইলে change করে আসো। তুমি হয়তো জানোনা আমি তোমার থেকেও ভয়ংকর।
মেরিন: তাই বুঝি?
নীড়: change করো।

মেরিন: উহু নীরাকে তো change করতে বলেন না।
নীড়: নীরা মডেল আর তুমি বাড়ির বউ।
মেরিন: বউ? 🤣🤣। আপনি তো বিয়ে মানেন না।
নীড়: কথা না বারিয়ে change করো।

মেরিন: না না না না না
নীড় আর কোনো কথা না বলে ১টানে মেরিনের শাড়ি খুলে পটপট করে শাড়ি ছিরে তাতে আগুন লাগিয়ে দিলো।
নীড়:১০মিনিট সময় দিলাম। রেডি হয়ে আসো।
বলেই নীড় বেরিয়ে যেতে নিলো।
মেরিন:
আয় হায় মিরচি
উহ উহ মিরচি
উফ উফ মিরচি
😁😁😁
নীড়: shut up
বলেই নীড় চলে গেলো।

১০মিনিটপর মেরিন রেডি হয়ে নিচে গেলো। ১টা লং টপস, জিন্স, লং সুজ, চোখে কালো চশমা, চুল গুলো খোলা। নীড় ১বার দেখে সামনে তাকালো। নীড়ের মুখ দেখে মেরিন বুঝতে পারলো নীড় রেগে আছে। মেরিন নানা ভাবে নীড়কে জালাতে লাগলো। নীড় react করলো না। তবে react না করে পারলো না। চশমা টা মাথায় তুলে
বলল: drive করছি তো
মেরিন: হায়
আখিও সে গোলি মারে
আপনে দিওয়ানে কা
কারদে বুরা হাল রে
কে আখিও সে গোলি মারে।

নীড় ফিক করে হেসে দিলো।
ওরা office পৌছালে।

২দিনপর
নীড়-মেরিন বান্দরবান পৌছালো। ১টা official কাজে।
মিটিং শেষ করে নীড়-মেরিন হোটেলে ফিরছে। গাড়ি রেখে পায়ে হেটে। হাটতে হাটতে নীড়-মেরিন ১টা পাহাড়ের চূড়ায় গেলো।
মেরিন: নীড় i love you
মেরিনের আওয়াজ প্রতিধ্বনিতো হতে লাগলো। যেটা দেখে মেরিন বেজায় খুশি।
নীড়: তোমার মুখে কি love you নীড় ছারা কোনো কথাই আসে না? 😕।
মেরিন: উহু। এখন আপনি বলুন?
নীড়: 😒🙄।

মেরিন: আরে love you বলতে বলিনি। hate you বলতেই বলেছি।
নীড়: পারবোনা।
মেরিন: এখন কিন্তু ইয়ারাম গানের রানী মুখার্জীর মতো blackmail করবো পাহাড় থেকে লাফাবার। so তারাতারি বলুন। মেরিন i hate you
নীড়: what? তুমি কি actually পাগল?
মেরিন: হামম। only for you এখন বলুন।
নীড়: জনমে কাউকে দেখিনি hate you শোনার জন্য কেউ এমন করে।
মেরিন: 😁। মিথ্যা ভালোবাসার থেকে সত্যি ঘৃণা অনেক ভালো। আপনার ঘৃণাকে অনেক বেশি ভালোবেসে ফেলেছি। বলুন।

নীড়: মেরিন
i lo
i hate you 🤭
মেরিন: 🤨।
নীড়: ভুলে বেরিয়ে গিয়েছিলো।
মেরিন: একটু ভালোবাসলে কি হয়?
নীড়: কিছু না
বলেই হাটতে লাগলো।

মেরিনে দৌড়ে গিয়ে নীড়ের কাধে উঠলো।
নীড়: what?
মেরিন: এভাবে নিয়েই হাটুন। কোলে তো আর নিবেন না কখনো।
নীড়: আল্লাহ নামো কোলে নিচ্ছি।
মেরিন: সত্যি?

নীড়: হামম।
মেরিন নামলো। নীড় মেরিনকে কোলে নিলো। আর মেরিন একটু পর পর নীড়
মাথা তুলে নীড়ের গালে-ঠোটে কিস করতে লাগলো।
নীড়: কি করছো কি?
মেরিন: ভালোবাসছি।
নীড়: উফ অসহ্য।
মেরিন: 😁😁।

১টা গান শুনবেন? ।
নীড়:
মেরিন: গাই হামম।
🎶🎵🎶
মেরি তারাহ তুম ভি কাভি
পেয়ার কারকে দেখোনা
চাহাদকা মুঝপে সানাম
ইকরার কারকে দেখোনা
কিতনা মাজা হ্যা ক্যাসা নেশা হ্যা
পেয়ার কারকে দেখো না
🎶🎵🎶

পরদিন
আরেকটা মিটিং এর জন্য কক্সবাজার গেলো।
নীড়-মেরিন মিটিংএ গেলো। সেখানে ১টা মেয়ে বারবার নীড়ের সাথে আজিরা পারতে যাচ্ছে। আর লেগে লেগে বসছে। আসলে মেয়েটা জানেনা নীড় বিবাহিত।
নীড় মনে মনে: এই মেয়ের কি মরার ভয় নাই? যে মেরিন বন্যার সামনে আমার সাথে চিপকাতে আসছে 😕।
মেরিন কিছু না বলে দারিয়ে গেলো। সবাই ভয়ে কেপে উঠলো। মেরিন খুব শান্ত ভাবে গিয়ে ধপ করে নীড় কোলে গিয়ে বসলো।
এরপর খুব ঠান্ডা মাথায়
বলল: আমি এভাবেই আমার জামাইর কোলে বসে মিটিং করবো। কারো সমস্যা? সমস্যা থাকলে হাত তুলুন।

কার ঘাড়ে কটা মাথা যে হাত তুলবে।
নীড় মনে মনে: আবার শান্ত গলায় কথা ওই মেয়েটার কপালে দুঃখই আছে।
মেরিন নীড়ের কানে ফিসফিস করে
বলল: ভয় নেই জানে মারবো না।

রাতে
নীড় বসে বসে
ভাবছে: আচ্ছা কোনো মেয়ে আমার দিকে তাকালেও মেরিন ওদের অবস্থা খারাপ করে। তাহলে নীরাকে কিছুই বলছেনা কেন?
মেরিন: কারন নীরা কে আমি কিছু বললে আপনার মনটা ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাবে।
নীড় অবাক হয়ে গেলো। মেয়েটা ওর মনের কথা কিভাবে বুঝলো?
মেরিন: মাথায় অতো জোর দিতে হবেনা। ফেটে যাবে। চলুন আমার ভীষন ঘুম পাচ্ছে। ঘুমাবো।
নীড়: তো ঘুমাও না। কে না করেছে?
মেরিন: 🤨।

নীড়: তুমি তো আমার কলিজার ওপর চরে ঠিকই আরামসে ঘুমাও। কষ্ট তো হয় আমার।
মেরিন: হ্যা তা তো হবেই। আমি তো আর নীরা না। নীরা হলে কেবল কলিজা কেন brain, liver, kidney, heart সব কিছুর ওপরেই ঘুমাতে দিতেন।
নীড়: হ্যা দিতামই তো। 🙃।
মেরিন: হুহ। দিন দিন। যেদিন ওই নীরা আপনার হৃদয়ের তা থৈ তা তা থে নৃত্য করবে সেদিন বুঝবেন।
নীড়: হামম।
মেরিন: আচ্ছা আপনি নীরার ওপর এতো দুর্বল কেন বলুন তো?
নীড়: তোমাকে বলা জরুরী মনে করছি না।
মেরিন: বুঝেছি অতীব শীঘ্রই নীরার বাচ্চার বাবা হবেন। সেই good news টাই হয়তো পেয়েছেন।

নীড়: ১টা থাপ্পর দিবো। কি আবোল তাবোল ব
তখনই নীড়ের ফোনে নীরা call করলো।
মেরিন: ধরো বেবি ধরো নীরা জানু ফোন করেছে। huh
বলেই মেরিন রুমে চলে গেলো।
নীড়: hello
নীরা: কি হলো? plan কতোদূর?
নীড়: উফ এতো plan plan করো না তো। ঘুমাবো।
নীড় কথা বলে রুমে গেলো।

দেখলো মেরিন নিচে শুয়ে আছে। না বিছানা করে না। এমনিতেই। নীড়ের খটকা লাগলো।
নীড়: মেরিন মেরিন মেরিন উঠলোনা।
নীড়:মেরিন এই মেরিন oh no এর তো জ্ঞান হারিয়েছে।
নীড় তারাতারি মেরিনকে কোলে তুলে নিলো। হেটে বেডের কাছে যেতেই মেরিন দামাদুম করে নীড়ের গালে কিস দিতে লাগলো।
নীড়: 😱🤬😤।

মেরিন: 🤣।
নীড় মেরিনকে ধপাস করে বেডে ফেলে
বলল: সব কিছুর ১টা লিমিট থাকে।
মেরিন: কিন্তু আমি লিমিট ছারা।

২দিনপর
নীড় মনের সুখে ফুচকা খাচ্ছে। আর মেরিন নীড়কে দেখছে।
নীড়: আচ্ছা তুমি আমার মধ্যে কি দেখো?
মেরিন: আমার স্বর্গ।
নীড়: 😒।

দেখতে দেখতে মেরিনের চোখ কিছুটা সামনে গেলো। দেখলো ১টা ৬-৭ বছরের বাচ্চা মেয়ে মা-বাবার সাথে পার্কে ঘুরতে এসেছে। বাচ্চাটা মা-বাবার সাথে বল খেলছে। মেরিন আরেকটু কাছে গিয়ে দারালো। আর দেখতে লাগলো। আর ডুব দিলো সুন্দর অতীতে।
প্রতি শুক্রবারেই কবির-কনিকার সাথে মেরিন ঘুরতে বের হতো। এভাবে খেলতো। আনন্দ করতো। কনিকা কিছু বললেই কবিরের পেছনে লুকাতো। princess বলে ডাকতো কবির সবসময়।

নীড়: এ আবার কোথায় গেলো?
নীড় তাকিয়ে দেখলো মেরিন একটু সামনে গাছের সাথে মাথা ঠেকিয়ে দারিয়ে এক ধ্যানে কি যেন দেখছে। নীড় মেরিনের সামনে গেলো। দেখলো মেরিন ছোট্ট সেই পরিবারটকে দেখছে। আজও চোখে পানি মুখে হাসি। নীড় মেরিনের ঘাড়ে হাত রাখলো।
নীড়: মেরিন
মেরিন চমকে উঠলো। আর চোখের সামনে থেকে সেই সুমধুর সময় চলে গেলো। মেরিন সাথে সাথে চোখের পানি মুছে নিলো।

মেরিন: বাবাহ আপনার খাওয়া অবশেষে হলো। pregnant woman দের মতো টক খাচ্ছিলেন।
নীড় অবাক চোখে দেখছে।

মেরিন নীড়ের গলায় হাত রেখে
বলল: আমাকে বুঝি এতোটাই hot & beautiful লাগছে? হামম হামম?
নীড়: তোমার চোখের পানি আগেও দেখিছি তাই এই মিথ্যা হাসির পেছনের সত্যি কান্নাটা আড়াল করার কি দরকার?
মেরিন হা হা করে হেসে উঠলো।
মেরিন: মেরিনের মায়ায় জরাবেন না। হারিয়ে যাবেন চলুন যাই

রাত ১টা
নীড়ের ঘুম ভেঙে গেলো। দেখলো মেরিন নেই সারা বাড়ি খুজেও মেরিনকে পেলেনা। নীড় মেরিনকে খুজতে বের হলো। গার্ডের কাছে শুনে ওই অনুযায়ী গেলো। যেতে অনেকটা দূরে সাগর পারে নীড় মেরিনকে দেখতে পেলো। ছুটে গেলো। দেখলো ১টা হুইসকির বোতল পরে আছে। আর মেরিন গিটার বাজিয়ে গান গাইছে।

🎶🎵🎶
আমার সকল দুঃখের
প্রদীপ জ্বেলে দিবস গেলে
করবো নিবেদন
আমার ব্যাথার পূজা
হয়নি সমাপন (2)
যখন বেলা শেষের ছায়ায়
পাখিরা যায় আপন কুলায় মাঝে
সন্ধ্যা পূজার ঘন্টা যখন বাজে (2)
তখন আপন শেষ শিখাটি
জ্বালবে এ জীবন
আমার ব্যাথার পূজা হবে সমাপন।

আমার সকল দুঃখের
প্রদীপ জ্বেলে দিবস গেলে
করবো নিবেদন
অনেক দিনের অনেক কথা ব্যাকুলতা
বাধা বেদন ডোরে
মনের মাঝে উঠেছে আজ ভরে (2)।

যখন পূজার হোমানলে
উঠবে জ্বলে একে একে তারা
আকাশপানে ছুটবে বাধন হারা (2)
অস্তরবির ছবির সাথে
মিলবে আয়োজন
আমার ব্যাথার পূজা হবে সমাপন।

আমার সকল দুঃখের
প্রদীপ জ্বেলে দিবস গেলে
করবো নিবেদন।
আমার ব্যাথার পূজা হয়নি সমাপন
🎶🎵🎶।
কেন যেন মেরিনের কন্ঠে গানটা শুনে নীড়ের চোখে পানি চলে এলো।
মেরিন: এতো রাতে আপনি এখানে? ঘুমান নি? শরীর খারাপ করবে যান গিয়ে ঘুমিয়ে পরুন।
নীড় গিয়ে মেরিনের পাশে বসলো।

নীড়: স্বামী হয়ে অধিকার নিয়ে জিজ্ঞেস না করে বা কিছু না বলে যদি বন্ধু হয়ে অধিকার নিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করলে না বললে শুনবে বা বলবে?
মেরিন কিছু না বলে নীড়ের কোলে বসে নীড়ের গলা জরিয়ে ধরে চোখে চোখ রেখে
বলল: যদি বলি আমাকে ভালোবাসতে বাসতে পারবেন? সারাজীবন বাদ দিলাম যদি বলি আজকে রাতটাতেই আমাকে একটু ভালোবাসতে? বাসবেন? পারবেন ভালোবাসতে?
নীড়:
মেরিন হা হা করে হেসে উঠলো। এরপর নীড়ে বুকে মাথা রাখলো।
মেরিন: সব কিছুর লিমিট থাকে। কিন্তু আমার নেই। আমার কোনো সীমা নেই। লাগাম নেই। খুব ঘৃণা করেন আমাকে তাইনা? আপনার দোষ নেই। মেরিনকে সবববাই ঘৃণা করে। এমনকি মেরিন নিজেও মেরিনকে ঘৃণা করে।
জানেন নীড়
অনেকবার ভেবেছি নিজেকে শেষ করে দিবো। কিন্তু করিনি। কেন জানেন? আমি যদি মরে যাই আমার দাদুভাইর কি হবে? দীদাকে, আম্মুকে কে খুজে বের করবে?

আমার মায়ের চরিত্রের দাগ মুছবে কে? আমি যে কবির ফয়সাল খানেরই মেয়ে সেটা প্রমান হবে কি করে? DNA test করলে প্রমান হবে যে আমি কবির ফয়সাল খানের সন্তান। কিন্তু এতে আমার আম্মুকে অপমান করা হবে। নীড় আমার আম্মুকে খুজে দেবেন? বলুন না। দেবেন? কথা দিচ্ছি যেদিন আপনি আমার আম্মুকে খুজে দেবেন সেদিন আমি আপনাকে মুক্তি দিয়ে দেবো। divorce দিয়ে দিবো। আপনি সকল বাধা নিষেধ থেকে মুক্ত হয়ে যাবেন। এই আপনাকে ছুয়ে কথা দিলাম। আমি দাদুভাই, দীদা, আম্মুকে নিয়ে অনেক অনেক অনেক দূরে চলে যাবো। ১টা ছোট সুন্দর ভালোবাসার পৃথিবী সাজাবো। যেখানে কেউ কাউকে ঘৃণা করবে না।

এমনকি মেরিনকেও না। মেরিনও হবে ভালোবাসার মেরিন। চারিদিকে ফুল, পাখি, চাঁদ, সূর্য, তারাদের মেলা থাকবে। যেখানে মেঘেদের সাথে খেলা করা যাবে, পাখি-ফুলদের সাথে কথা বলা যাবে। ওদেরকে বন্ধু বানানো যাবে আম্মু ঘুম পারানির গান শোনাবে, বাবা চকোলে না না উনাকে তো নেয়া যাবেনা। উনি গেলে পিছে পিছে নীরা, সেতু, নিলয় সবাই যাবে। কাউকে নিবোনা। শুধু আমরা ৪জন।
মেরিন নীড়ের বুকে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে বেখেয়ালি ভাবে কথাগুলো বলছে। সেই সুযোগে নীড় মেরিনকে কোলে করে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছে।

মেরিন: ও নীড় যদি আমি মরে যাই আমার আম্মুকে খুজে বের করে সকল অপবাদ দূর করে দিবেন। কথা দিন না
আচ্ছা আমার জন্য কিছু করতে হবেনা। আমার আম্মুর নামের সাথে যে চরিত্রহীনা tag টা লেগে আছে সেটা দূর করবেন কথা দিন আমার আম্মু হিসেবে না করবেন আপনার মামনির best friend হিসেবে করবেন। কেমন?

ও নীড় কথা দিন না কথা দিন আমি মরে গেলেও এভাবে আমাকে ঘৃণা করবেন। বলুন না আপনার ঘৃণা আমার সব হয়ে গেছে। আপনি যদি কখনো আমাকে ঘৃণা না করে ভালোবাসতে শুরু করেন তাহলে আমি মরে যাবো। আপনার ঘৃণাতেই আমার কতো সুখ না জানি আপনার ভালোবাসায় তততার থেকে কতো বববেশি সুখ হবে। সেই খুশি হয়তো আমি নিতে পারবোনা। খুশিতেই heart attack করে মরে যাবো। তাই কথা দিন যে আমাকে always ঘৃণা করবেন।
কেমন?

আচ্ছা নীড় অন্য স্বামীদের বউ মরলে তো তারা লোক দেখানোর জন্যে হলেও কান্না করে কিন্তু আপনি তো করবেন না। আপনি তো খুশি হবেন। যাক ভালো হবে আমি মরে গিয়ে অন্তত আপনার মুখে হাসি ফোটাতে পারবো। তবে ভালোই হবে আমি ম
আর বলতে পারলোনা। নীড় মেরিনের ঠোট জোরা দখল করে নিলো।

পর্ব ১১

নীড় মেরিনের ঠোট জোরা দখল করে নিলো। মেরিন অবাক হলেও আর কিছু না ভেবে নীড়ের সাথে তাল মেলাতে লাগলো।

একটুপর
নীড় মেরিনকে ছারলো। মেরিন এখনও চোখ বন্ধ করে আছে। চোখ দিয়ে পানি পরছে। নাকটা লাল হয়ে গেছে। পাপড়ি গুলোও ভিজে আছে। ঠোট ২টাও কাপছে। খুব কষ্ট হচ্ছে মেরিনের চোখে পানি দেখে।

নীড় হাত দিয়ে মেরিনের চোখের পানি মুছে দিলো।
নীড়: মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি ঘুমিয়ে পরো।
মেরিন চোখ মেলল। হাত দিয়ে পানি মোছাটা মেরিনের পছন্দ হয়নি।
মেরিন উঠে বসলো।
নীড়: কি হলো?
মেরিন: না কিছুনা। আপনি ঘুমান।
বলেই মেরিন washroom এ গেলো। fresh হয়ে change করে এলো।

নীড়: change করলে যে?
মেরিন: হ্যা একটু কাজ আছে।
বলেই গাড়ির চাবিটা হাতে নিলো।
নীড়: এতো রাতে কিসের কাজ? চাবি রাখো। আর চুপচাপ ঘুমাও।
মেরিন: আরে ঘুমালে হবেনা। আমার যেতে হবে।
নীড়: না। কোথাও যাবোনা। না মানে না।

মেরিন: আজব তো
দেখি সরুন তো
নীড়:মেজাজ খারাপ কোরো না তো।
মেরিন নীড়ের গলা জরিয়ে বলল: কেন গো জান? যেতে দিতে চান না কেন হামম? মতলব টা কি? 😏।
নীড়: অনেক কিছু। চাবি রাখো। কিছু হলেই চাবি নিয়ে বের হও কেন?
মেরিন: ভাগ্য পরীক্ষা করতে।
নীড়: মানে?
মেরিন: কিছুনা। সরুন।

নীড়: না মানে না।
মেরিন: আমি যখন বলেছি যে আমি যাবো তখন তো যাবোই।
নীড়: আমিও যখন বলেছি যে যেতে দিবো না তখন দিবোনা।
মেরিন: আচ্ছা আপনার কি আমার কোনো কথাই ভালো লাগেনা?
নীড়: না।

বলেই নীড় মেরিনের হাত থেকে চাবিটা নিয়ে ছুরে মারলো।
এরপর কোলে তুলে নিয়ে বারান্দায় গিয়ে বসলো।

নীড়: দেখো ওই সাগরটা কে ঢেউয়ের পর ঢেউ আসতেই থাকে সাগরের বুকে। কিন্তু ১বার না ১বার তাকেও স্থির হতে হয় মানুষের জীবনটাও এমন উথাল পাতাল যতোই থাকুক না কেন স্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করেই। এটাই প্রকৃতির নিয়ম। তুমি আমি আমরা কেউই প্রকৃতির বাইরে না।
মেরিন ওর সেই হাসি দিয়েই

বলল: কখনো কি দেখেছেন যে বন্যা হয়েছে অথচ কোনো ক্ষতিই হয়নি? চুল পরিমান ক্ষতি হলেও হয়। আমি বন্যা। স্থিরতা আমার বৈশিষ্ট্য না। ধংব্স করাই আমার বৈশিষ্ট্য। নোংরা আবর্জনায় আমি ভরপুর। যদি লাগাতার মাত্র ২টা বন্যাতেই কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হয় তবে ৩য় বছরেই বন্যা আর আতংক থাকবেনা। কিন্তু কথাটা সেটা না
মেরিন বন্যার আতংকটা কমে গেলে খান সম্রাজ্ঞ হেলে পরবে।
তবে কথাটা হলো এই যে আপনি আমাকে এই উপদেশ বানী শোনাচ্ছেন কেন?
নীড়: বাস্তবতাকে এরিয়ে যেতে চাইছো?

মেরিন: বাস্তবতাকে এরিয়ে চললে এই পর্যন্ত আসতে পারতাম না
বলুন তো, যদি দুর্বল হতাম আপনাকে পেতাম? কতোবার ভালোমতো বলেছি ভালোবাসতে? বেসেছেন? request করেছি accept করেছেন?

নীড়: দেখো তুমি যে সময় আমাকে propose করেছো তখন তোমাকে accept কিভাবে করতাম বলো তো? আমি অন্যকারো ছিলাম। ভালোবাসতাম নীরাকে। ভীষন
মেরিন: আর আমাকে ঘৃণা
আচ্ছা নীড় বুকে হাত রেখে ১টা কথা বলবেন?
নীড়: পারবোনা।

মেরিন নীড়ের হাত নীড়ের বুকে রেখে
বলল: সত্যি করে বলুন তো যদি আমি মরে যাই আপনি আমাকে কাধে করে গোরস্থানে নিয়ে যাবেন তো? আমাকে আপনার হাতের মাটি দিবেন তো? কান্না করে নাই দিলেন হাসতে হাসতে দিবেন তো?
কথাটা শুনে নীড়ের বুক কেপে উঠলো। নীড় মেরিনকে বসিয়ে উঠে গেলো।

নীড়: তোমার ফালতু কথা গুলো শুনলে না আমার গা জ্বলে যায়। রাত দুপুরে ঢং করতে আসছে।
মেরিন পেছন থেকে নীড়ের কলার ধরে সামনে এনে
বলল: আমি বলেছিলাম আমার ঢং দেখতে আসুন? গিয়ে ঘুমিয়ে পরুন। আর নীরার স্বপ্ন দেখুন। বলেই নীড়ের কানে ১টা কামড় দিলো। এরপর ঘাড়ে ১টা কিস করে ছেরে দিলো।
মেরিন: জান যান গিয়ে ঘুমিয়ে পরুন আর আমার কথা ভাবতে হবেনা। আমি আমার খেয়াল রাখতে পারি। আর ঘুম? ১দিন না ঘুমালে আমি মরবো না। কই মাছের জান আমার। যান
নীড় চোখ ছোটো ছোটো করে তাকিয়ে আছে।

মেরিন: দেখুন বাইরেও যেতে দিলেন না আবার বারান্দায়ও থাকতে দিবেন না। কাহিনি কি বলুন তো?
নীড়: কাহিনি হলো এই যে আমি দুর্বল মেরিনকে দেখতে চাই মেরিনের কান্না দেখতে চাই happy? 😒
মেরিন হা হা করে হেসে উঠলো।
মেরিন: sorry গো। আপনার এই wish টা পূরন করতে পারলাম না। bye
মেরিন নীড়কে ঠেলেঠুলে রুমে পাঠালো।

মেরিন: যখন কল্পনা আর বাস্তবতার দেয়াল ভেঙে যায় তখন সেটাই হয় নিখুত অভিনয় না হয় প্রকৃত ভালোবাসা। আপনার কোনটা?

রবি ঠাকুর মানবের মাঝে বাচিতে চান। আর আমি? 😏।
মরিতে চাইনা আমি সুন্দর ভুবনে
ঘৃণার মাঝে আমি বাচিবার চাই
কবিতাটার ২লাইন বলেই মেরিন হা হা করে হাসতে লাগলো।
ওর অট্ট হাসির আড়ালে থাকা হৃদয় ভাঙা চিৎকার নীড় ঠিকই শুনতে পেলো। নীড় এসে ওর কাধে হাত রাখলো। মেরিন ঘুড়ে নীড়কে খুব শক্ত করে জরিয়ে ধরলো।
ধরে কাদতে লাগলো।

মেরিন: নীড় আমাকে কখনো ছেরে যাবেন না please
আমি পারবোনা আপনাকে ছারতে। কখনো পারবোনা।
বলেই নীড়ের সারা মুখে পাগলের মতো কিস করতে লাগলো। এরপর আবার নীড়কে জরিয়ে ধরে কাদতে লাগলো। নীড় মেরিনের মাথাটা তুলে কপালে চুমু দিলো। মেরিন নীড়ের চোখের দিকে তাকালো। মেরিনের চোখ-নাক লাল হয়ে আছে। মুখ বুজে নিরবে কান্না করছে। যার জন্য ঠোটটাও কাপছে। মেরিনের চোখ ২টা অস্বাভাবিক সুন্দর। গভীর। ওই চোখে নীড়ের জন্য যেমন অঢেল ভালোবাসা আছে তেমনি আছে হাহাকার। যেমন মায়া ভরা তেমন আছে কষ্ট।

এই প্রথম নীড় মেরিনকে এতো গভীরভাবে দেখছে। মেরিন আসলেই অনেক সুন্দরি।
মেরিন: ছছছারুন
বলেই মেরিন নীড়কে ছেরে দিলো। কিন্তু মেরিন খেয়াল করলো যে নীড় ওকে ধরে রেখেছে। নীড় মেরিনের চোখের পানি ঠোট দিয়ে শুষে নিলো। মেরিন তো মহাঅবাক। নীড় মেরিনকে কোলে তুলে নিলো।

মেরিন সাংঘাতিক অবাক হলো।
মেরিন: নননীড়, ন
নীড় মেরিনকে কথা বলতে না দিয়ে নীড় মেরিনের ঠোট দখল করে নিলো।

সকালে
নীড়ের ঘুম ভাঙলো। ঘুম ভাঙতেই নীড় মেরিনকে পেলো। মেরিনের গালে, চোখের কোনে পানির নিশান রয়ে গেছে। নীড় মেরিনের কপালে কিস করলো। তখনই ওর রাতের কথা মনে পরলো। কি করে ফেলেছে ও? মেরিনকে বুক থেকে নামিয়ে লাফ দিয়ে উঠে বসলো। মেরিনের ঘুম ভেঙে গেলো। নীড় খেয়াল করলো না।

নীড়: ছিঃ ছিঃ, নিজের ভালোবাসার সাথে এতো বড় বিশ্বাসঘাতকতা কিভাবে করলাম?
মেরিন নীড়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বেশ বুঝতে পারলো যে নীড়ের মধ্যে অনুতাপ-অপরাধবোধ কাজ করছে। মেরিন জানতো এমনই কিছু হবে। তাই ও নীড়কে বাধা দিচ্ছিলো।
মেরিন মুচকি হাসি দিয়ে নীড়কে টেনে ওর বুকে আবার শুয়ে পরলো। নীড়ের নিজের ওপর রাগ হচ্ছে।
নীড়: কি করছো টা কি?

মেরিন: ঘুমাচ্ছি। আজকে ১টা জিনিসের প্রমান পেলাম।
নীড়:
মেরিন: মেয়েদের চোখের পানিতে ছেলেরা দুর্বল হয়।
নীড়: মানে?
মেরিন: একটু চোখের জ্বল আর কথা emotional ব্যাস নীড় পেয়ে গেলাম
নীড়:!
মেরিন কিছু না বলে washroomএ গেলো। নীড় কিছুই বুঝলোনা।

একটুপর
মেরিন বের হলো। নীড় মেরিনের দিকে তাকালো। ভীষন সুন্দর লাগছে।
মেরিন: এই যে hello আমায় নিয়ে অতো গবেষনা না করে যান fresh হয়ে নিন। আমি breakfast বানিয়ে নিচ্ছি।
নীড়: তুমি তখন কি বললে?
মেরিন: ভীষন ক্ষুধা লেগেছে খেয়ে তারপর বলবো।
নীড় fresh হতে গেলো।

মেরিন: এই মুহুর্তে আমার আপনার ঘৃণার ভীষন প্রয়োজন। কারন এখন আপনি আমাকে ঘৃণা না করলে নীরাকে ভালোবাসতে পারবেননা। আর আপনি নীরাকে ভালোনাবাসলে নীরার plan successfull হবে কি করে? আমি নীরার game plan জানবো কি করে
তাই আপাদত আমার ঘৃণাটাই আমি চাই

নাস্তা করার পর
নীড়: এখন তো বলবা?
মেরিন: কি?
নীড়: তখন ওই কথাটা বললা কেন?
মেরিন: ও ওই কথা? আসলে আপনি ভীষন ভালো মানুষ। এতো ভালো মানুষ বলেই বারবার ঠকে যান। নীরা ঠকায়, সবাই ঠকায়। তাই এবার আমিও ঠকালাম। you are such an emotional fool

নীড়: মানে?
মেরিন গিয়ে নীড়ের কোলে বসলো। নীড়ের চুল ঠিক করতে করতে
বলল: তারআগে বলুন কালকে যখন ভালোভাবে ভালোবাসতে বললাম বাসলেন না কেন? হামম?
নীড়: তোমার কথা কিছু বুঝিনা।

মেরিন: হাহাহাহাহা কালকে যদি একবার বলাতেই রাজী হতেন তাহলে আমার আর এতো কষ্ট করে অশ্রুবিসর্জন দিতে হতো না। আপনাকে emotional blackmail করতে হতো না।
নীড়: clearly বলবা?

মেরিন: মানে খুব সহজ আপনার ভালোগিরির একটু সুযোগ আমিও নিলাম।
emotion টা কমান। মেরিন বন্যার নীড় এতো দুর্বল হৃদয়ের হলে চলে?
নীড়: তুমি কি পাগল? কি বলো কি?
মেরিন: হামম। only for you

মেরিন নীড়ের কোল থেকে উঠে কাজ করতে করতে
বলল: একটু অশ্রুবিসর্জন যদি নীড় আহমেদ চৌধুরী বর্ষন অর্জন হয় আর ক
মেরিন কথা শেষ করার আগেই নীড় ঠাস করে মেরিনকে থাপ্পর মারলে।
নীড়: তুমি আসলেই ঘৃণার যোগ্য। তোমাকে ভালোবাসা যায়না।
বলেই নীড় চলে গেলো। গেলো।

নীড়: ফাজিল মেয়ে কি মনে করে নিজেকে? আমি আসল নকল বুঝিনা? মনে করে সবার সামনে যেমন নিজের emotion লুকিয়ে রাখে মনে করে আমার কাছেও তেমনি পারবে ১টা থাপ্পর দেয়া ঠিক হয়নি। ১০-১২টা দিলে ভালো হতো। বেয়াদব। মেজাজটাই খারাপ করে দিলো।

রাতে
নীড় বাসায় ফিরলো। দেখলো বাসা অন্ধকার।
নীড়: মেরিন মেরিন
কোনো সারা পেলোনা। লাইট অন করলো। দেখলো মেরিনকে যখন থাপ্পর মেরেছিলো তখন যেভাবে যেই পসিশনে ছিলো এখনও ওই একইভাবে আছে। নীড় অনেক অবাক হলো।
নীড় আগে বারতে লাগলো। তখন দেখলো মেঝেতে রক্ত ভরা। নীড়ের বুকটা কেপে উঠলো।
নীড় ধীর পায়ে মেরিনের কাছে এগিয়ে গেলো। মেরিনকে ছুতে ওর সাহস হচ্ছেনা। কাপা কাপা হাতে মেরিনের গায়ে হাত দিলো। ঠান্ডা হয়ে গেছে।

নীড়: মমমেরিন মমমমেরিন এই মমমেরিন ঘোরো
নীড় মেরিনকে নিজের দিকে ঘোরালো।
দেখলো কপাল কেটে রক্ত বের হতে হতে থেমে গেছে।
নীড় ; মমমেরিন মেরিন মেরিন 🔊🔊🔊

হসপিটালে
নীড় মেরিনের হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বুকের সাথে মিশিয়ে রেখেছে। ওর শরীরে রক্ত দেয়া হচ্ছে। ডক্টর বলেছে যদি ১২ ঘন্টার মধ্যে জ্ঞান না ফেরে তাহলে মেরিন কোমায় চলে যাবে।
নীড়ের চোখ দিয়ে পানি পরছে। আর আল্লাহর কাছে দোয়া করছে মেরিনের জন্য। নীড় কখনো ভাবেনি যে ও মেরিনের জন্য দোয়া করবে। কিছুক্ষন পরে মেরিনের জ্ঞান ফিরলো। আর জ্ঞান ফেরার পরই মেরিন নীড়ের নাম নিলো। নীড় কিছুতেই ভেবে পায়না যে মেয়েটা ওকে এতো ভালোবাসে কেন?

২দিনপর

পর্ব ১২

মেরিন: হামম। আপনার সমস্যা?
নীড়: হ্যা সমস্যা। তুমি এখন কোথাও যাবেনা।
মেরিন: দেখুন আপনার সাথে ফালতু বকবক করার সময় আমার নেই। আমি যাবোই।
নীড়: ১টা থাপ্পর দিবো। চুপচাপ বেডে শুয়ে পরো।

মেরিন: এখানে কোনো কাচের কোনা নেই যার ওপর আপনি আমাকে থাপ্পর মেরে ফেলবেন। কপাল কাটবেন

নীড়: দেখে মেরিন বসো
মেরিন: don’t touch
নীড় খানিকটা অবাক হলো।

নীড়: দেখি বসো
মেরিন: বসার সময় নেই। i have to go right now
নীড় মেরিনের হাত ধরে টেনে বসালো।
এরপর গালে হাত দিয়ে
বলল: কোথাও যাবেনা তুমি আমি যেতে দিবোনা।

মেরিন নীড়ের কপালে কিস করে
বলল: আমিও আপনার কথা শুনতে বাধ্য নই।
নীড়: ১০০বার বাধ্য। কারন আমি তোমার স্বামী।
মেরিন: স্বামী? 🤣🤣। আগেই বলেছি আমাকে সেদিনই বাধা দেবেন যেদিন অধিকার নিয়ে বলবেন
নীড়: আলাদা করে অধিকারবোধের দরকার নেই তুমি আমার বিয়ে করার বউ। ১বার যখন আমি না করেছি তখন যাবে না।

মেরিন নীড়ের কোলে বসে ওর মুখে আঙ্গুল বুলাতে বুলাতে
বলল: মেরিনকে আটকাতে পারে একমাত্র নীড় কিন্তু যদি চোখে ভালোবাসা আর কন্ঠে অধিকার থাকে আমি যখন বলেছি যে আমি যাবো তখন তো যাবোই।
নীড়: পারলে যাও

মেরিন: আপনি আমাকে আটকাতে চান? মন থেকে? আপনি কি আটকাবেন? আমি তো এমনিতেই নীড়ে আটকে গেছি নয়কি
বলেই নীড়ের ঠোট জোরা দখল করে নিলো। নীড় অবাক হলো। তবুও মেরিনকে বাহুডোরে আটকে নিলো।

মেরিন খুব সাবধানে নীড়ের ঘাড়ে ১টা injection দিয়ে দিলো। নীড় বুঝতেও পারলোনা। নীড় মনের অজান্তেই মেরিনের ঠোট ছেরে ধীরে ধীরো গলায় মুখ গুজে দিলো। মেরিনের গলায় কিস করতে করতে নীড় অজ্ঞান হয় গেলো। মেরিন নীড়কে বেডে শুইয়ে দিলো।
মেরিন: এখন আমার যেতেই হবে নীড় sorry আপনার ভালোবাসা আমি এখন নিতে পারলাম না

৪ঘন্টাপর
নীড়ের জ্ঞান ফিরলো। দেখলো ও ওর রুমে। মানে ঢাকায়। তারাহুরা করে উঠে বসলো।
নীড়: আমি এখান?
তখন দেখলো ওর হাতের মুঠোয় ১টা চিঠি।
চিঠিতে লেখা: আপনার বাধা মানতে পারলাম না আর না আপনার আবেগে ভাসা ভালোবাসা নিতে পারলাম
কারন আমি #ঘৃণার_মেরিন।
যে ভালোবাসার অযোগ্য।
নীড়: এই মেয়েকে কখনোই আমি বুঝতে পারবোনা। তুমি কেন এতো অজানা

তপু: আমাকে এখানে তুলে নিয়ে এলে?
মেরিন: শুনলাম কবির ফয়সাল খানের লিভার ড্যামেজ হয়ে গেছে। আর কোথাও তার ম্যাচিং ব্লাডের লিভার পাওয়া যাচ্ছেনা।
তপু: কোথাও পাওয়া যাচ্ছেনা সেটা না সেতু আন্টি আর নীরার মিলেছে।
মেরিন: কিন্তু ওরা দিবেনা।
তপু: হামম। এখন তো তোমার নজর পরেছে তার ওপর। তার বাচা এখন অসম্ভব। আর এটা বলতেই তুমি আমাকে এনেছো?

মেরিন ওর হাসিটা দিয়ে
বলল: ভুল কবির ফয়সাল খানের এখনো মরার সময় হয়নি। এখন আমি উনাকে মরতে দিতে পারিনা। আল্লাহ যেন উনাকে এখন না নেয়। এখন যদি কবির ফয়সাল খান মরে যায় তবে আমার আম্মুর সত্য না জেনেই সে মরবে। তাকে আমার আম্মুর সত্য জেনে মরতে হবে।
তপু: বুঝলাম না।
মেরিন: আমি কবির ফয়সাল খানকে আমার অর্ধেক লিভার দিবো।
তপু: what?
মেরিন: হামম।
তপু: তুমি দিবে?

মেরিন: হ্যা
তপু: সত্যি ভালোলাগলো। যে তুমি
মেরিন: ঘৃণা করি আমি কবির ফয়সাল খান কে এখন বাচতে হবে।
তপু: মানে?
মেরিন: মানে তোমাকে বুঝতে হবে না। তোমার কাজ just surgery করা তো করো। আর মুখ বন্ধ রাখবে যে আমি দিয়েছি। বিনিময়ে ৫০লাখ পাবে। চাইলে আরো বেশি দিবো।
তপু: না কোনো লাগবেনা। তবে তুমি কি নিজের ভালো দিক লুকাতে চাইছো?
মেরিন হাহা করে হেসে উঠলো।

বলল: তপুদা বন্যার পানি দেখেছো? সেখানে নোংরা ভরা থাকে। সেই পানি থেকে পবিত্র পানি বের করা যেমন বেকার তেমনি মেরিনের মধ্যেও ভালো কিছু খোজা বেকার। মেরিনের মাঝে ভালো কিছু নেই। সময় এলে কবির ফয়সাল খানকে আমি নিজে জানাবো। ওনাকে জীবন ভিক্ষা দিয়েছি সেটা তার জানতে হবেতো। উনি যে আমার ভিক্ষার জীবন নিয়ে বেচে আছেন সেটা জানাবো না?
যখন জানতে পারবেন তখন না বাচতে পারবে না মরতে পারবে। তার সকল দাম্ভিকতা মাটির সাথে মিশে যাবে। আর হ্যা ভুলেও যেন কেউ টের না পায় যে আমি লিভার দিয়েছি।
তপু: হামম।

মেরিন: জন
জন: ম্যাম
মেরিন: তপুদা কে পৌছে দিয়ে আসো।
জন: জী ম্যাম
ওরা চলে গেলো।

পরদিন
হসপিটালে
কবির ঘুমিয়ে আছে। মেরিন ওর রুমে ঢুকলো।
মেরিন: কবির কবির কবির
সে আমার ছোট বোন বড় আদড়ের ছোট বোন
কিন্তু সে আমাকে লিভার দিলোনা so sad
আদরের ভাগনিও দিলোনা। আহারে কি দুঃখ নিঃসঙ্গ জীবন so sad কেউ নেই জীবনে। এমন জীবনের থেকে মরে যাওয়া ভালো। কিন্তু তার অনাদরের মেয়ে তো তাকে যে মরতে দেবেনা কারন তার মেয়ে সবার জন্য শাস্তি নির্ধারন করেছে কিন্তু আপনার জন্য তো করেনি। আমার মায়ের প্রতি ঘৃণা নিয়ে আমি আপনাকে মরতে দিবোনা। আপনি যখন মরবেন তখন আপনার বুক ভরা আমার মায়ের জন্য ভালোবাসা থাকবে। সেই সাথে হৃদয় জুরে থাকবে অনুতাপ। মৃত্যুর সময় আমার আম্মুর মুখটা দেখার জন্য থাকবে আহাজারি। ছটফট করবেন আম্মুকে দেখার জন্য। কিন্তু পাবেন না। কতো কি plan আছে আমার।

এতো সব planning fullfill না করে এতো সহজে আপনাকে মরতে দেই কি করে বলুন তো? তারমধ্যে আপনাকে তো আপনার আদরের বোন ভাগনির লাশও কাধে করে গোরস্থানো নিতে হবে। তাই না?
কলেমা শাহাদাত বলতে বলতে ওদোর গোরস্থানে নেবেন না?
আপনি এতো জ্বলদি মরলে হবে।

আপ
তখন এদিকটা তে কাউকে আসতে দেখলো। মেরিন তারাতারি লুকিয়ে পরলো। আর তখন নীড় আর নার্স রুমে ঢুকলো।

নীড়: বাবা দেখি ঘুম নার্স: ১৫মিনিটি wait করুন উনি উঠে যাবেন। উনার ঘুম ভাঙার সময় প্রায় হয়ে গেছে।

নীড় বসলো।
মেরিন মনে মনে: নীড় এখানে কেন? damn it
নীড় চারিদিক দেখতে লাগলো।
মনে মনে: এমন কেন মনে হচ্ছে যে মেরিন এখানে আছে? মেরিন তো ব্যাংকক।
তখন দেখলো যে কবির নরাচরা দিচ্ছে। নীড় গিয়ে কবিরের কাছে গিয়ে বসলো। ধীরে ধীরে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো। কবির চোখ মেলে দেখে নীড় বসে আছে ওর পাশে।
কবির: আরে নীড়
কবির উঠতে নিলো।

নীড়: আরে আরে করছো কি? উঠতে হবেনা।
কবির: না বসবো। সারাদিন তো শুয়েই থাকি।
নীড় কবিরকে বসিয়ে দিলো।
কবির: কেমন আছো তুমি বাবা?
নীড়: ভালো বাবা।
কবির: যদি কোনো ভুল করে থাকি মাফ ক
নীড়: ছিঃ বাবা করছো বাবা? তুমি বড় তুমি কেন ক্ষমা চাইবে?
কবির: জীবনের শেষ সম
নীড়: বাবা তোমার কিছু হবেনা।

& i am really very sorry এতোদিন আসতে পারিনি বলে আসলে এই কদিন ঢাকার বাইরে ছিলাম।
কবির: আর বাবা তুমি কেন sorry বলছো? আমি তো ১টা ঝড়া পাতা। কেউ নেই আমার বয়স্ক বাবাটা ছারা এই শরীর নিয়েও ছোটাছোটি করছে। আসলে বাবা বাবাই হয়
নীড়: নীরা, সেতু আন্টি ওরা আসেনি?

তখন দাদুভাই ভেতরে ঢুকলো।
দাদুভাই: ওরা আসবে কেন? আসলে যে লিভার দিতে হবে।
নীড়: মানে?

কবির: আহ বাবা। এমন করে বলছো কেন? ওদের হয়তো কোনো কাজ আছে
দাদুভাই: ১বার অন্তত ওদের দোষটা দে। জানো নীড় দাদু, যেই শুনেছে যে ওর লিভার লাগবে আর এই মুখী হয়নি। যদি লিভার দিতে হয়? কারন ওদের সাথে কবিরের blood group matched তাও ওই ২জনকে নিয়েই মরছে। আর তোমাকেই বা কেন বলছি? তুমিও তো ওই একই

কবির: আহ বাবা তুমি ওদের সাথে এতো বাজাবাজি করো কেন? আর তুমি যাকে আমার মেয়ে বলে দাবি করো সে কয়বার এসেছে?
দাদুভাই: কেন সে আসবে কেন? কি দায় তার?
নীড়: ১মিনিট আমার কিছু বলার আছে বাবা।
কবির: কি?

নীড়: আসলে বাবা মেরিনই আমাকে পাঠিয়েছে
কবির: what?
নীড়: আসলে ও আসতে একটু দ্বিধা করছিলো। চক্ষুলজ্জা। তাই আমাকে
কবির: মিথ্যা কথা। আমি মানি না? তুমি মিথ্যা বলছো। ওকে ভালো সাজানোর জন্য।
নীড়: বলেকি ওই মেয়েকে আমি ভালো সাজাবো কেন? i just hate her
মেরিন মনে মনে: এই লোকটা বলে কি? আমি কখন বললাম? উনি কি পাগল না মাথা খারাপ?
নীড়:whatever, দাদুভাই তোমার আর দৌড়াদৌড়ি করতে হবেনা। যা করার আমি করবো। ডোনারও খুজে আনবো।

তপু: ডোনার পাওয়া গেছে।
নীড়: সত্যি?
কবির: কে সে?
তপু: ১জন মৃত ব্যাক্তির।

১০দিনপর
মেরিন বাসায় ফিরলো
নীলিমা: মামনি
মেরিন: মামনি
নীলিমা: মিটিং শেষ হলো তবে।

মেরিন: হামম।
নীলিমা: যা fresh হয়েনে। আমি খাবার বারছি
মেরিন: এই না না আমি কিছু খাবোনা একটু ঘুমাবো।
নীলিমা: কিন্তু
মেরিন: please
নীলিমা: আচ্ছা।

মেরিন রুমে গেলো। দেখলো নীড় বসে আছে।

মেরিন নীড়কে পেছন থেকে জরিয়ে ধরলো।
মেরিন: missed you জান
বলেই নীড়ের ঘাড়ে কিস করলো। নীড় মেরিনের হাত সরিয়ে উঠে দারালো।
নীড়: কোথায় গিয়েছিলে?

মেরিন: আপনি বুঝি জানেন না?
নীড়: না কারন এমন কোনো মিটিং ছিলোনা। বলো কোথায় গিয়েছিলে?
মেরিন কিছু না বলে কাবার্ডের দিকে পা বারালো। কেবল খুলল। নীড় ধিরিম করে লাগিয়ে দিয়ে মেরিনকে কাবার্ডের সাথে চেপে ধরলো।

নীড়: কিছু বলতে বলেছি
মেরিন: কি
নীড় দাতে দাত চেপে
বলল: কোথায় গিয়েছিলে? আমি জানি কোনো মিটিং ছিলোনা। so বলো কোথায় গিয়েছিলে আর কেন গিয়েছিলে? 🤬
মেরিন: আপনাকে বলতে বাধ্য নই
নীড় মেরিনের গাল চেপে ধরে
বলল: ফাজলামো করো?

বলতে বাধ্য নই বলতে বাধ্য নই স্বামী হয়ে অধিকার নিয়ে জিজ্ঞেস করলে বলবেন
মানে কি এসবের? হ্যা মানে কি?
যখন অধিকার দিবেনা তখন বিয়ে করেছো কেন? জেদ দেখিয়ে বিয়ে করেছো, জেদ মিটে গেছে। তাহলে এখন divorce দিয়ে দাও মুক্তি করো আমায়।
ব্যাথায় মেরিনের চোখে পানি চলে এলো। তাও নীড়কে ১বিন্দু বাধা দিলোনা। মেরিনের চোখের পানি দেখে নীড় ছেরে দিলো।

মেরিন: মেরিনের থেকে মুক্তি ভুলে যান। যতোদিন বেচে আছি আপনাকে এভাবেই থাকতে হবে।
নীড়: then মরে যাও তুমি মুক্তি পাই আমি।
মেরিন: sorry not possible আমি মরলে আপনাকে ভালোবাসবে কে?
বলেই নীড়ের ঠোটে ছোট ১টা কিস করে washroom এ চলে গেলো।

রাতে
মেরিন ধপ করে নীড়ের বুকে শুয়ে পরলো। নীড় মেরিনকে সরিয়ে দিলো।
নীড়: don’t you dare to touch me
মেরিন: কেন কেন?

নীড়: তোমাকে আর তোমার স্পর্শকে আমার just সহ্য হয়না। বুঝেছো?
মেরিন: পুরোনো dialogue দেখি ঘুমাতে দিন। ঘুম পাচ্ছে
নীড়: তোমাকে ধরে রাখিনি। ঘুমাও আরেকবার আমাকে ছুতে আসলে আমি এখন উঠে চলে যাবো so নিজেও ঘুমাও আমাকেও ঘুমাতে দাও।
মেরিন ১টা হাসি দিয়ে
বলল: আপনি ঘুমান
বলেই মেরিন ১টা বালিশ নিয়ে বারান্দায় চলে গেলো।
এদিকে মেরিনের সাথে এমন ব্যাবহার করে নীড়ের ভালো লাগছেনা। আর না মেরিনকে ছারা ঘুম আসতে পারছে। আর না ওই কয়দিন ঘুমাতে পেরেছে। আর যখন শুনেছে কোনো মিটিং নেই তখন নীড় ক্ষেপে গেছে। মেরিনের ফোন বাজছে। আওয়াজ পেয়ে মেরিন দৌড়ে এলো।
মেরিন: hello

মেরিন: what?

মেরিন: আমি এখনি আসছি
মেরিন ফোন রেখে। গান, টাকা, চেক বই ব্যাগে ঢুকিয়ে চাবি হাতে নিয়ে বের হতে লাগলো।
নীড়: কোথায় যাচ্ছো?
মেরিন: জনের মারাত্মক accident হয়েছে।
বলেই মেরিন বেরিয়ে গেলো। নীড়ও পিছু পিছু গেলো।

হসপিটালে
জনের বউ রিতা হাউমাউ করে কাদছে। মেরিন তার মাথায় হাত রাখলো। রিতা মেরিনকে দেখেই ক্ষেপে গেলো।

রিতা: আপনি এখানে কেন এসেছেন? হ্যা? আপনার জন্যেই আমার স্বামীর এই অবস্থা আপনার হয়ে কাজ করে বলেই ওর এতো শত্রু
মেরিন: হয়ে গেছে তোমার বকবক। এই নাও ধরো টাকা
রিতা সেগুলো নিয়ে মেরিনের ওপর ছুরে মারলো।
রিতা: লাগবেনা আপনার টাকা
মেরিন: তোমার কপাল ভালো যে তুমি জনের বউ না হলে যে কাজটা করলে তার জন্য তোমাকে চওরা মূল্য দিতে হতো।

মেরিন জনকে দেখলো। এরপর ডক্টরদের সাথে কথা বলে বেরিয়ে এলো।

মেরিন: hello

মেরিন: ২৪ঘন্টার মধ্যে আমি তার লাশ চাই যে জনের এই অবস্থা করেছে

মেরিন: কোনো কথানা চাই মানে চাই got it
মেরিন ফোন কাটলো। এরপর গাড়ির কাছে যেতে নিলো। তখন মেরিনের মাথা চক্কর দিলো দিলো। পরে যেতে নিলে নীড় এসে ধরে ফেলল। কোনো কথা না বলে মেরিনকে কোলে তুলে গাড়িতে বসিয়ে বাসায় নিয়ে এলো। এরপর নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নিয়ে শুয়ে পরলো। মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে
বলল: মেয়েসুলভ আচরন করতে শেখো এখন তুমি মেরিন বন্যা খান নও। এখন তুমি মেরিন বন্যা নীড় খান চৌধুরী আর আমাকে জানিয়ে কোনো কাজ করলে আমি বাধা দিবোনা। আমি চাইনা আমার বউয়ের দিকে কেউ আঙ্গুল তুলুক অথবা আমার বউর গায়ে কোনো ফুলের টোকাও লাগুগ। আমার অনুমতি ছারা কোথাও ১পাও বারাবেনা। got it?

পর্ব ১৩

নীড়: বুঝেছো?
মেরিন: না আর বুঝতে চাইও না। কিছু জিনিস না বোঝাই ভালো।
বলেই মেরিন উঠতে চাইলো। কিন্তু নীড় আরও শক্ত করে জরিয়ে ধরলো।
মেরিন: দেখি ছারুন আমাকে। ঘুমাবো।
নীড়: তোমার exactly কোথায় problem বলবে? always আমার সাথে চিপকে থাকো but আমি নিজে থেকে তোমার কাছে আসলে আবার দূরে পালাও। তোমার কাহিনিটা কি বলবে?
মেরিন: আর চিপকাবো না। ছারুন আমাকে ঘুমাবো।
নীড়: ছারবোনা। সমস্যা?

মেরিন: আপনার সমস্যা হচ্ছে
নীড়: আমার কথা তোমাকে ভাবতে হবেনা। ঘুমাও।
মেরিন: এভাবে আমার ঘুম হবে না।
নীড়: আচ্ছা আমি বুক থেকে সরালে লাগে আপনার ঘুম হবে?
মেরিন: হ্যা
নীড়: ভালো দেখি কিভাবে ঘুমান
বলেই নীড় মেরিনকে নামিয়ে দিলো।

নামানো ২সেকেন্ডের মাথায় মেরিন ধপ করে নীড়ের বুকের ওপর উঠে শুয়ে পরলো।
নীড়: মানে কি?

মেরিন: আমি আমার মতো করে আপনাকে জরিয়ে ধরবো।
বুঝেছেন?
বলেই মেরিন নীড়ের শার্টের বুকের কাছের ২টা বোতাম খুলে বুকে ২টা কিস করলো। নীড় মুচকি হাসলো।
নীড়: তোমাকে কি কখনোই আমি বুঝতে পারবোনা?
মেরিন: সেটা আপনার ওপর নির্ভর করে।

কিছুদিনপর
জন: ম্যাম আমি কি করেছি যে আপনি আমার সাথে এমন করছেন? কি ভুল করেছি আমি? আমি তো জবটা ছারতে চাইনা।
মেরিন: কিন্তু আমি তো তোমাকে কাজটা আর করতে দিবোনা। infact কাউকেই না।
জন: ম্যাম কি এমন হয়েছে যে এমন কথা বলছেন? আর এমন ১টা সময়ে? নীরার প্রতিশোধের যে সময় হয়ে এলো।
মেরিন: মেরিন নিজের কাজ নিজেই করতে পারে। তোমাকে মাথা ঘামাতে হবেনা।
জন: ম্যাম আমার অপরাধটা কি?

মেরিন: আমি কি বলেছি তোমার অপরাধ?
জন: তাহলে? ম্যাম রিতা কি কিছু বলেছে?
মেরিন: বেশি কথা বলা আমি পছন্দ করিনা জন। এই নাও টাকা। তুমি এখন আসতে পারো।
জন: ম্যাম আমি এই টাকা নিতে পারবোনা।
মেরিন: টাকা নিবেনা তো খাবে কি? এই টাকা দিয়ে ছোটোখাটো ব্যাবসা করো।
জন: sorry ম্যাম আপনি আমাকে কাজে রাখতেন তবে এর ১০গুন টাকা নিতেও আমার আপত্তি থাকতোনা।

মেরিন: তোমার সাহস কিভাবে হয় আমার ওপর কথা বলার?
জন: ক্ষমা করবেন ম্যাম। আপনি জীবন দিতে বললে হাসতে হাসতে দিয়ে দিবো। কিন্তু এটা নিতে পারবোনা।

মেরিন: ভালো। এখন চোখের সামনে থেকে দূর হও।
জন: জী ম্যাম। কিন্তু ম্যাম এই জন আপনার জন্য সবসময় প্রস্তুত। আমি আপনার ছায়া হয়েই থাকবো।
বলেই জন বেরিয়ে গেলো।
মেরিন: sorry জন কিন্তু তোমাকে আমি আর এভাবে আমার অভিশপ্ত জীবনের অংশীদার হতে দিবোনা। তোমার কিছু হয়ে গেলে তোমার পরিবারকে কি জবাব দিবো?

৩দিনপর
মেরিন: আজকে ৩তারিখ। তার মানে আর ২দিন পর রবিবার, নীরা ওর plan আন্জাম দিবে। সেদিন নীড়কে কিছুতেই বাসা থেকে বের হতে দেয়া যাবেনা।
ভেবেই মেরিন বড় বড় সকল gangদের, shooteদের, killerদের সাথে মেরিন contact করলো। নীরা ওদের hire করেছে কিনা জানার জন্য। কিন্তু না। নীরা করেনি। এরপর মেরিন সকল ধরনের poison এর খবর নিলো। নীরা সেগুলোও কিনেনি
মেরিন: plan টা কি নীরার? ও তো নিজে shoot করতে পারবেনা। ওর planটা কি?

নীড়: hello
নীরা: hello baby
নীড়: বলো🙄
নীরা: plan কেমন এগোচ্ছে?
নীড়: দারুনভাবে। aeroplane এর গতিতে
মনে মনে: always আজিরা প্যাচাল
নীরা: oh good আচ্ছা বেবি শোনো।

নীড়: বলো
নীরা: রবিবার একটু লেকে আসতে পারবে?
নীড়: কেন?
নীরা: বলো না
নীড়: একটু কাজ আছে।
নীরা: প্লিজ একটু আসবে? খুব জরুরী কাজ আছে।
নীড়: আরে আমার কিছু কাজ আছে।

নীরা: আরে বাবা its urgent about মেরিন please
নীড়: ok i’ll try to come
কথাটা বলতে বলতে নীড় রুমে ঢুকলো। মেরিন নীড়ের দিকে ঘুরলো। নীড় ফোনটা রাখলো।
মেরিন: কোথায় যাবেন? কেন যাবেন? কবে যাবেন?
নীড়: আরে কিছুনা
মেরিন: না বলুন না
নীড়: আরে তেমন কিছুনা
মেরিন: নীরার ফোন ছিলো?

নীড়:
মেরিন: বববলুন না
নীড়:
মেরিন: কি হলো? বলুন
নীড়: হামম।

মেরিন: ও কি বলল?
নীড়: ২জন প্রেমিক যুগলের কথা জেনে তুমি কি করবে হামম😁
মেরিন: বলুন না
নীড়: আমমম বলা যাবেনা
মেরিন: ববববলুন না ও কি আপনাকে রবিবার যেতে বলেছে?
নীড়:তুমি কি করে জানলে?
মেরিন: সেটা আপনার জানতে হবে না। আপনি আজকে থেকে আগামী ৭দিন বাসা থেকে বের হবেন না।
নীড়: মানে? কেন?
মেরিন: না মানে না।
আমি যখন বলেছি না তখন না
বলেই মেরিন রান্নাঘরে চলে গেলো।
নীড়: তুমি আসলেই অদ্ভুদ
মেরিন বাসার security ১০গুন বারিয়ে দিলো।

২দিনপর
আজকে রবিবার
মেরিন ঘুম থেকে উঠে দেখলো নীড় রেডি হচ্ছে। মেরিন ধরফরিয়ে উঠে বসলো।
মেরিন: আআপনি কোথায় যাচ্ছেন?
নীড়: কাজ আছে।
মেরিন: নীরার কাছে?
নীড়: হামম।

মেরিন: আপনি যাবেন না।
নীড়: মেরিন সবকিছুতে বাধা ভালো লাগেনা।
মনে মনে: আমি তো যাবোনা হুদ্দাই একটু মজা নিচ্ছি যেন তুমি এসে romance করো 😜
মেরিন: দেখুন নীড় আপনি কোথাও যাবেন না
নীড়: কেন যাবোন কেন?

মেরিন: না বলেছি তো।
নীড়: কারন টা বলো। কারন বললে যাবোনা।
মেরিন: কারনটা আমি আপনাকে বলতে পারবোনা। কিন্তু please যাবেন না
নীড়: কারন বলো
মেরিন: গেলে আজকে নীরা আপনাকে মেরে ফেলবে
নীড়: মেরিন 🤬 সবকিছুর লিমিট থাকে।

মেরিন: আমি সত্যি বলছি নীড় বিশ্বাস করুন
নীড়: shut up just shut up লজ্জা করেনা কারো নামে এমন মিথ্যা বলতে?
মেরিন: আমি সত্যি বলছি
নীড়: ভেবেছিলাম যাবোনা। কিন্তু এখন যাবোই নিজে খুনী বলে তুমি অন্যদেরও খুনী বলবে বা ভাববে তা কিন্তু ঠিক না
মেরিন: নীড় আমি সত্যি বলছি।

নীড়: রাখো তোমার সত্য সরো যেতে দাও
মেরিন: কোথাও যেতে দিবোনা আমি আপনাকে
নীড়: সরতে বলেছি।

মেরিন: না
নীড় ঠাস করে মেরিনকে থাপ্পর মারলো।
মেরিন: আমাকে মেরে ফেললেও আপনাকে যেতে দিবোনা।
নীড়: আমিও যাবো
মেরিন নিজের গান নিয়ে নীড়ের দিকে ধরলো।
মেরিন: যাবেন না আপনি
নীড়: দেখিয়ে দিলে নিজের আসল রূপ

মেরিন:
নীড়: মারো আমাকে
মেরিন গানটা নামিয়ে নিলো। নীড় বেরিয়ে যেতে নিলো।
মেরিন: দারান নীড়
নীড়: আবার কি?

মেরিন বুলেট প্রুফ জ্যাকেট টা নীড়কে দিলো।
মেরিন: এটা পরে নিন
নীড়: have you lost it
মেরিন: হ্যা পরলে তো অসুবিধা নেই। আপনি যাবেন। যেতে না করবো না। কিন্তু এটা পরুন আর এই গানটাও রাখুন
নীড়: বারাবারি করছো
মেরিন: করছি এতোটুকুই না। অনেক গার্ডও থাকবে আপনাকে দূর থেকে protect করার জন্য
নীড়: আচ্ছা সব কথা মানলাম যদি তোমার কথা মিথ্যা হয়? তবে?
মেরিন: যেই শাস্তি দেবেন মাথা পেতে নিবো।
নীড়: মনে থাকবে? পরে আবার না করবে না তো?
মেরিন: না
নীড়: ok প্রস্তুত থেকো

লেকে
নীড়: নীরা
নীরা: বেবি
বলেই নীরা নীড়কে জরিয়ে ধরলো। সকল গার্ড আর মেরিন লুকিয়ে আছে। নীড় নিজেকে ছারিয়ে নিলো।
নীড়: কেমন আছো?
নীরা: এখন তো সেদিনই ভীলো থাকবো যেদিন আমার উদ্দেশ্য হাসিল হবে তোমাকে পাওয়ার
নীরা কোনো কিছুই করলো না কথা টথা বলে নীড় চলে গেলো। মেরিন তো অবাক।

বাসায়
মেরিন মাথা নিচু করে বসে আছে। সামনে নীড় বসে আছে। মেরিন জানে যে নীড় শাস্তি স্বরূপ divorce এর কথাই বলবে তাই ১দিকে মেরিনের হাতপা জ্বমে ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে অন্যদিকে ঘামের ওপর ঘাম দিচ্ছে।

জীবনে এই প্রথম মেরিন এমন situationএ। তাই situationটা মেনে নেয়ার জন্য ওরনার নিচে হাতের মুঠোয় ১টা ছুরি নিয়ে রেখেছে। যেটা চেপে ধরে রেখেছে। যারজন্যে মেরিনের হাতকেটে রক্ত বের হচ্ছে।
নীড়: কিছু বলবে
মেরিন:
নীড়: তুমি আমাকে স্পর্শ করবে না আমার সামনেও আসবেনা
বলেই নীড় বেরিয়ে গেলো। মেরিন কথাটা শুনে চোখ বন্ধ করে নিলো।

একটুপর
মেরিনের মোবাইলে ১টা call এলো। unknown number
মেরিন বুঝতে পারলো যে এটা নীরা।
মেরিন ধরলো।
মেরিন: ফোন করার কারন?
নীরা: কি ভেবেছিলি? নীড়কে আজকে মেরে দিবো?
মেরিন:
নীরা: plan change রে নীড়ের charmএ আটকে গেছিরে। তাই নীড়কে মারা cancel ওকে তোর কাছে থেকে ছিনিয়ে নেবো।
মেরিন কোনো জবাব না দিয়ে কেটে দিলো।

রাতে
নীড় বাসায় ফিরলো। রুমে ঢুকলো
ঢুকে দেখে রুমে কোথাও মেরিন নেই। fresh হতে ঢুকলো। বেরিয়ে দেখে ওর জুস রাখা। যেটা রোজ ও বাইরে থেকে এলে খায়। নীড় খানিকটা অবাক হলো। রাতে খাওয়ার সময়ও নীড় মেরিনকে দেখলো না। নীড় কিছু বুঝলোনা।

রাত ১১টা
নীড়: কি ব্যাপার?
মেরিন কোথায় গেলো। তখন ১টা servant এলো। কফি নিয়ে। নীড় ঘুমানোর আগে কফি খায়।
servant: স্যার আপনার কফি
নীড় নিলো।
নীড়: তোমাদের ম্যাডাম কোথায়?
servant: না মানে ম্যাম গেস্টরুমে।
নীড়: what?
servant: জী স্যার।
নীড়: আচ্ছা তুমি আসো
servant চলে গেলো।

নীড়: পাগল নাকি? গেস্টর oh no তখন তো আমিই বললাম ধ্যাত কি যে করি
মেরিন আর নীড়ের সামনে এলোনা। নীড় ছটফট করতে লাগলো। কিছুতেই ঘুমাতে পারছেনা। মেরিন ঘরে বসে cctv তে নীড়কে দেখছে।
মেরিন: আমি জানিনা নীরার কি উদ্দেশ্য? কিন্তু ও যে ওর plan change করেনি সেটা জানি ওর plan বের তো আমি করবোই

আর নীড় আপনি মানুন না মানুন মেরিনের মায়ায় আপনি পরে গেছেন মেরিনের ঘৃণার জালে জরিয়ে গেছেন। আপনার থেকে দূরে থেকে যতোটা আমার কষ্ট হবে তার কিছুটা আপনারও হবে।
আপনি কি ভেবেছেন আপনার দেয়া শাস্তির জন্য আমি দূরে না নীড় আমি চাইলে আপনাকে বাধ্য করতে পারি শাস্তি বাতিল করাতে কিন্তু করবোনা। একটু আপনিও দেখুন যে আপনি আমার ঘৃণার জালে আটকে গেছেন।
সারারাত নীড়-মেরিন না ঘুমিয়েই কাটিয়ে দিলো।

সকাল ৭টা
একটু আগে নীড়ের চোখ লাগলো। মেরিন নীড়ের রুমে ঢুকলো। ইচ্ছা মতো নীড়ের চোখে মুখে কিস করলো। এরপর নীড়ের হাতে সবসময় থাকা ব্রেসলেট টায় ১টা tracker লাগিয় বেরিয়ে গেলো।

বেলা ১০টা
নীড় office গেলো। বুক ভরা আশা নিয়ে। মেরিনকে দেখার কিন্তু সেখানে গিয়ে জানতে পারলো মেরিন খান office সারাটা দিন নীড়ের just জঘন্য গেলো।

১৫দিনপর
নীড় পুরাই দেবদাস হয়ে গেছে। মেরিনেরও হাল নাজেহাল। কিন্তু ও তো তবু নীড়কে altime দেখেছে। গেস্টরুমে গিয়ে যে দেখবে তারও উপায় নেই। কারন মেরিন জানালা দরজা সব বন্ধ তো করে রাখেই সেই সাথে পর্দাও দিয়ে রাখে। নীড় আজকে office যাওয়ার সময় হাতের ব্রেসলট টা খুলে পরে যায়। office থেকে ফেরার পথে নীরার সাথে দেখা হয়। নীড় ignore করে চলে আসতে নেয় নীরা পথ আটকায়।
নীরা: কোথায় যাচ্ছো নীড়?
নীড়: দেখছোনা বাসায় যাচ্ছি?
নীরা: হামম। যাও। বলো তো পরশু কি?

নীড়: কি?
নীরা: এটা ভুলে গেলে? আমাদের relationship এর anniversary ৩বছর পূরন হলো। ভোর ৪টা বাজে এসে আমাকে propose করেছিলে
নীড়:
নীরা: এরপর থেকে তো গত ৩বছর ধরেই ৪টা বাজে আমাকে নানা ভাবে i love you বলে আসছো আর এবার নাকি ভুলেই গেছে
নীড়:

নীরা: আচ্ছা এবার আমি তোমাকে surprise দিবো আর promise এবার কোনো দুষ্টুমি করবো না আর করতেও বলবেনা। চলে এসো। কেমন?
নীড়: দেখো নীরা গত ৩বছর আর এবার না। এখন আমি married তাই তোমার সাথে আর কোনো সম্পর্ক রাখতে পারবোনা
নীরা: অভিনয় করতে করতে কি সত্যি তুমি মেরিনের প্রেমে পরে গেলে
নীড়: যেটা ভাবো
নীরা: নাকি মেরিন কিছু করেছে?
নীড়: কেউ কিছু করেনি
নীরা চোখে পানি বের করে
বলল: বেশ যদি তুমি মেরিনের সাথে সুখী হও তবে সেটাই হোক। তোমার সুখের থেকে বড় আমার কাছে কিছুই নেই। তবে ৩বছরের সম্পর্কের বদৌলতে ছোট্ট ১টা আবদার করতে পারি?
নীড়: করো

নীরা: এবার ভোর ৪টায় শেষ বারের মতো একটু আসবে? কসম আল্লাহর ভালোবাসার দাবি করবোনা আর না কখনো তোমার কাছে কোনো কিছু চাইবো আর না কোনো সম্পর্ক রাখবো
আসবে?
নীড়:
নীরা: আল্লাহর কসম খেয়ে বললাম তাও বিশ্বাস হলো না?
নীড়:

নীরা: ১বার এসো না হলে এই নীরা চিরনিদ্রায় চলে যাবে
বলেই নীরা যেতে নেয়
নীড়: দারাও নীরা
নীরা দারালো।
নীড়: আসবো।
নীরা হাসি দিয়ে চলে গেলো।

পরদিন
রাত ১২টা
নীড় জেগে আছে। কিন্তু কেন যেন মেরিনের ভীষন খুব ঘুম পাচ্ছিলো। তাই ঘুমিয়ে পরেছে। বাকী সবাইও ঘুম। বাইরে প্রচন্ড বৃষ্টি পরছে। আর বাজ পরছো। হঠাৎ ই মেরিন নীড়কে নিয়ে খুবই বাজে ১টা স্বপ্ন দেখলো। আর নীড় বলে চিল্লানি দিয়ে উঠলো। নীড় শুয়ে শুয়ে মেরিনের পাগলামো গুলো কল্পনা করছিলো। মেরিনের চিৎকার শুনতে পেয়ে ছুটে মেরিনের রুমে গেলো। দরজায় নক করতে লাগলো।
নীড়: মেরিন মেরিন

পর্ব ১৪

নীড় মেরিনকে বুকের সাথে খুব শক্ত করে জরিয়ে ধরলো।
নীড়: কি হয়েছে কি? বলো তো
মেরিন নীড়কে জরিয়ে ধরে করে কাদতে লাগলো। থামার নামই নিচ্ছেনা।
নীড়: কি হয়েছে কি বলো?
মেরিন কেদেই যাচ্ছে।

মেরিন: আপনি কোথাও যাবেন না আমাকে ছেরে please
নীড়: ঠিকাছে। যাবোনা। কিন্তু কি হয়েছে কি বলো তো
মেরিন: না আপনি কোথাও যাবেন না।
নীড় মেরিনকে কোলে করে ওদের রুমে নিয়ে গেলো।

কান্না করতে করতে মেরিনের হিচকি উঠে গেছে।
নীড়: দেখি একটু পানি খেয়ে নাও।
মেরিন: না আমি আপনাকে ছারবো না আপনি চলে যাবেন
নীড়: আরে আমি কোথাও যাচ্ছিনা॥ আর তোমাকেও ছারতে বলছিনা but পানি তো খাও।
মেরিন: উহু

নীড়: আচ্ছা তুমি শুয়ে পরো আমি মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি।
মেরিন: না আপনি চলে যাবেন
নীড়: আরে আমি কোথাও যাবোনা
এদিকে বৃষ্টি আরো বেরে গেলো। ভেতরে পানি ছিটে আসতে লাগলো।
নীড়: একটু নামো আমি বারান্দার দরজা জানালা লাগিয়ে আসি
মেরিন: উহু আপনি নীরার কাছে চলে যাবেন।
নীড়: না আমি কোথাও যাবোনা।
মেরিন: নীরার কাছে যাবেন

নীড়: এবার কিন্তু রাগ ওঠাচ্ছো।
বললাম তো আমি কোথাও যাবোনা। নামো।
মেরিন: না আপনি নীরার কাছে যাবেন নীরা আপনাকে কিছু করে ফেলবে
নীড়: কি শুরু করেছো বলো তো রাত দুপুরে? ইচ্ছা করে এমন করতেছো তাইনা?
মেরিন:

নীড়: নামো জানালা লাগাতে দাও।
মেরিন কিছু না বলে নিজের বুকে পাথর কোল রেখে নেমে গেলো। এরপর রুম থেকে বের হতে নিলো। দেখে নীড়ের রাগ উঠে গেলো। দুম করে মেরিনকে কোলে তুলে নিলো।

নীড়: এতো জেদ থাকা ভালোনা। মেরিন নীড়ের দিকে তাকালোও না।
নীড়: আমার বউটা বুঝি রাগ করলো?
মেরিন:

নীড় মেরিনকে বসিয়ে মেরিনের হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিলো।
নীড়: কোথাও যাবোনা তোমাকে ছেরে। আর না তোমাকে যেতে দিবোনা।
মেরিন কান্নাভরা চোখে নীড়ের দিকে তাকিয়ে আছে। নীড় মেরিনের কপালে চুমু দিলো। মেরিন নীড়কে জরিয়ে ধরলো।
মেরিন: কোথাও যাবেন না বলুন
নীড়:যাবোনা তাহলে তোমাতে হারাতে দাও

৩:৪০টা
মেরিন নিশ্চিন্তে নীড়ের বুকে ঘুমিয়ে আছে। নীড় মেরিনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। তখন নীড়ের ফোন বাজলো। নীড়ের দেখার সময় নেই। বারবার বাজতেই আছে। বিরক্তি নিয়ে নীড় ফোন হাতে নিলো। দেখলো নীরা। ধরলোনা। বেজেই যাচ্ছে। নীড় ভাবলো ফোন বন্ধ করবে। তখন ১টা voice message এলো। নীড় প্লে করলো।
নীরা: তুমি আসবে না এটাই তো শেষ please এসো।
নীড়: কিভাবে যাই? মেরিন কিন্তু যদি না যাই হয়তো নীরা নামটা কখনো আমাদের জীবন থেকে যাবেনা আজকে আমাকে যেতে হবে মেরিন তোমার সাথে নতুন করে জীবন সাজানোর জন্য।
তুমি ঘুম থেকে ওঠার আগে আবার চলে আসবো।

নীড় মেরিনের চোখে মুখে অসংখ্য ভালোবাসার পরশ দিয়ে দিলো। মেরিন শক্ত করে নীড়কে জরিয়ে ধরে রেখেছে। নীড় কোনো রকমে নিজেকে ছারিয়ে বেরিয়ে গেলো।

নীড় গিয়ে দেখে চারদিকে খুব সুন্দর করে সাজানো। আর ৫ লোক। মুখ ঢাকা।
নীরা: hello baby welcome
নীড়: দেখো আসলে আমার তারাতারি যেতে হবে।
নীরা: হামম যাবেই তো। ওপরে
নীড়: মানে?

নীরা: জানবে জানবে এতো তারাতারি কেন। boys
সাথে সাথে লোক গুলো নীড়কে আটকে ফেলল। নীড় তো অবাক।
নীরা: অবাক হলে বেবি? আজকে কতো কতো অবাক হওয়ার আছে তোমার? তারিখ মনে আছে? ২৩শে জুন। আজকের দিনেই ৩বছর আগে এই জায়গায় এ সময় তুমি আমাকে propose করেছিলে। আর আজকে আমি তোমাকে জানে মারবো বুঝেছো জানে মারবো।
নীড়: what?

নীরা: অবাক হলে বেবি মনে আছে ৩বছর আগে আলমগীর হোসেন নামে কেউ ১জন তার মেয়ের সাথে তোমার বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলো তোমার আর তোমার বাবার কাছে? কিন্তু তোমরা accept তো করোই নি উল্টা দালাল বলে অপমান বের করে দিয়েছিলে শুধু তাই নয়, তার ব্যাবসাটাও expose করেছিলে। যার জন্য তাকে জেলে যেতে হয়েছিলো। ৬মাস জেল খেটেছিলো।

নীড়: ৬মাস জেল কমই ছিলো। ওই লোকটার হওয়ার দরকার ছিলো। মেয়ে বিক্রির দালালী করে।
নীরা: shut up just shut up business is business বুঝেছো।
নীড়: তুমি ওই বাজে লোকটার হয়ে কথা বলছো কেন?

নীরা: খবরদার বাজে বলবেনা। কারন সে আমার বাবা। তোমার আর তোমার বাবা specially তোমার জন্য আমার বাবা জেল থেকে বের হওয়ার পর তাকে ভীষন বাজে ভাবে সব জায়গায় অপমানিত হতে হয়। বাবার মুখে কালি পর্যন্ত দেয়া হয়। যেদিন বাবা arrest হয় সেদিনই আমি তোমাকে আমার প্রেমের জালে ফেলার plan করি আমি আর ভাইয়া। কিন্তু জেল থেকে বের হওয়া পর এতো এতো অপমান বাবা আর মেনে নিতে না পেরে আমার বাবা suicide করে। সময় থাকতে hospitalএ নিয়ে গেলেও বাবা বেচে গেলেও কোমায় চলে যায়। গত বছর ৫ই জুন মারা যায়।
নীড় অনেকটা অবাক হলো।

নীড়: ৫ই জুন
নীরা: হ্যা হ্যা ৫ই জুন মেরিন ভেবেছিলো ৫ই জুন আমি তোমাকে জানে মেরে দিবো। কিন্তু ও তো জানতো না যে আমি আগে থেকেই তোমাকে মারার জন্য এই ২৩শে জুন তারিখটা ঠিক করে নিয়েছি। মেরিন
বড় বড় shooter, killer, gangstar সবাইকে hire করে রেখেছে। যেন আমি ওদেরকে তোমাকে মারার জন্য ওদেরকে ফোন করলেই যেন মেরিন খবর পেয়ে যায়। but আমি কেন লোক ভারা করবো? তোমার ভালোমানুষির জন্য তোমার কি শত্রুর অভাব আছে?
guys put off your mask

নীড় তাকালো ওদের দিকে। কাউকেই ও চেনেনা।

নীরা: কাউকেই তুমি চেনোনা। এরা নিরব ঘাতক। তোমার সকল শত্রুদের মেরিম আয়ত্তে আনলেও এদের হদিস জানেই না জানবে কি করে, ৩বছরের সম্পর্ক তো আমার সাথে তোমার। জানো আজকে তোমাকে শেষ করবো। তাহলে তো মেরিন এমনিতেই শেষ
কারন মেরিন হলো রুপকথার রাজ্যের সেই রাক্ষসী যার প্রাণ পাখিতে থাকে। তুমি হলো সেই পাখি এখন এরা তোমাকে মেরে দুর্বল বানাবে আর আমি আরামসে তোমাকে shoot করবো। start boys
ওরা নীড়কে মারতে লাগ
লো। নীড় কোনো রকমে ছুটে ওদের ৫জনের সাথে মারামারি করতে লাগলো। মেরে মেরে একেকটার হাল
নাজেহাল করে দিলো নীড়। একেকটা নিচে পরে রইলো।
তখন নীরা নীড়ের মাথায় বারি মারলো।

নীড় মাথায় হাত দিয়ে বসে পরলো। নীরা দুরে পরে থাকা গান টার কাছে গেলো। হাতে নিলো।
নীরা: আহারে আমার আশিক
এখন কি করবা? good bye my জান
নীড় দারানোর চেষ্টা করলো। দারিয়েও গেলো।

নীরা: আহা তোমার পায়ের বেগের থেকে আমার গুলির বেগ অনেক বেশি। স্থির হয়ে দারাও। তোমার heart বরাবর shoot করি
নীড় বুঝতে পারলো যে এখন ওর মৃত্যু নিশ্চিত। যদি মেরিনের কথাটা শুনতো। মৃত্যুর আফসোস নেই। আফসোস ১টাই, মেরিনকে ভালোবাসি বলা হলো না। নীড় চোখ বন্ধ করে নিলো।
নীড়: i love you মেরিন
নীরা shoot করে দিলো। নীড় শুনতে পেলো।

কিন্তু কিছুই realize করলো না। সাথে সাথে চোখ মেলল। দেখলো ওর সামনে ওকে রক্ষা কবজের মতো মেরিন দারিয়ে আছে।
নীড়: মেরিন
নীড় মেরিনের দিকে এগিয়ে ছুটে গেলো।
তখনই নীরা আবার shoot করতে নিলে মেরিন ধা ধা করে নীরার গায়ে সবগুলো গুলি ঢুকিয়ে দিলো। এরপর ধপাস করে বসে পরলো।
afterall মেরিন গুলি চালানোতে e
xpart😎
আর নীরা তো কিছুদিন ধরে শিখেছে।
নীড় কিছু বুঝে ওঠার আগেই সব হয়ে গেলো। সবকিছু এতোটাই দ্রুত ঘটলো ১টা মিনিটও মনে হয় সম্পুর্ন হয়নি
নীড় দৌড়ে মেরিনের কাছে গেলো। মেরিনকে জরিয়ে ধরলো।

রক্তে গা ভিজে গেছে।
নীড়: মমমেরিন
জন: ম্যাম
নীড় নিজের শার্ট খুলে মেরিনের গুলির জায়গায় বেধে দিলো। আর দেরি না করে মেরিনকে কোলে তুলে দৌড়াতে লাগলো।

নীড়: কি করলে মেরিনকি করলে কেন করলে আমি তোমার কিছু হতে দিবোনা।
মেরিনের চোখ বন্ধ হয়ে আসছে। তবুও জোর করে খুলে রেখেছে। নীড়কে দেখছে। দম নিতেও কষ্ট হচ্ছে তবুও মুখে আজও হাসি।

নীড় মেরিনের দিকে তাকালো।
গাড়িতে তুলল। জন গাড়ি start দিলো।

নীড়: তোমার কিছু হবেনা। আমি হতে দিবোনা
মেরিন: নীহড় আআহমার ভভভভীষন ইচ্ছা ছিলো আআআপনার বববুহকে শেষ নননিঃশ্বাস নিবো। আআআহজকে সেটা পপপূরন হচ্ছে এর থেকে বববড় পপাওয়াহ আর নেই
নীড়: চুপ, একদম চুপ।

মেরিন আর চোখ খুলে রাখতে পারছেনা।
মেরিন: এএএকবার শেষ ববাহরের মমমতো বববলুন না আআআপনি, আআআপনি আআমাকে ঘণা করেন please ১বার
নীড়:

মেরিন: ভভভালোবাসি বলতে বববলিনি। ককিন্তু ১বার বলুন নাহ ঘৃণা করি ১বার এটা না শশুনে যে আমি মমরেও শান্তি পাবোনা
নীড়: just stop it
মেরিন: এতোটুকুও বববলতে পপপারবেন না
নীড়: না পারবোনা। কারন আমি তোকে ঘৃণা করিনা। ভালোবাসি
“ভালোবাসি”কথাটা মেরিন নিতে পারলোনা। জ্ঞান হারালো

নীড় মেরিনকে কোলে নিয়ে দৌড়ে পাগলের মতো হসপিটালে ঢুকলো।
নীড়: ডক্টর ডক্টর আমার বউকে বাচান, আমার মেরিনকে বাচান
আমার #ভালোবাসার_মেরিন কে বাচান।
ডক্টররা নীড়কে হাজার চেষ্টা করেও OT এর বাইরে রাখতে পারলো না। জেদ ধরে ও ভেতরে রইলো। ওর ১কথা যে ও বউকে ছেরে ১চুলও নরবেনা

কিছুক্ষনপর
গুলি বের করা তো শেষ।
ডক্টর: oh my god
নীড়: কি হয়েছে ডক্টর?
ডক্টর: ওনার তো heart attackও হয়েছে। উনাকে বাচাবো কিভাবে?
নীড়ের সামনে সব অন্ধকার হয়ে গেলো। ওর মনে পরলো মেরিনের বলা সেদিনের কথা। মেরিন বলেছিলো যে নীড়ের মুখে ভালোবাসি শুনলে খুশিতে heart attack করবো।
ডক্টর: এই মুহুর্তে ডক্টর তপুকে বাসা থেকে ফোন করে আনো
তপু এলো। তপু তো মেরিনের medical history জানে। তপু তারাতারি action নিলো।

পর্ব ১৫

খান বাড়িতে
সেতু: আয় হায়রে আমার মেয়েটা আজও ফিরলোনা নিশ্চয়ই নিশ্চয়ই ওই মেয়েটাই না না মেয়ে না কালনাগিনী। ওই কালনাগিনীই কিছু করেছে ও ভাইয়ারে আমার বাচ্চাটাকে এনে দেনা
কবির: শান্ত হ আমি মামনিকে খুজে নিয়ে আসবো।
দাদুভাই: ত

তখনই জন এলো।

জন:দাদুভাই, দাদুভাই
দাদুভাই: আরে জন
জন: দাদুভাই একটু চলুন না
দাদুভাই: কোথায়?

জন: ম্যামের একটু কাজ ছিলো
সেতু: ওই তোরে না ওই কালনাগিনী
জন: mind your language আপনার জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রনে রাখুন। না হলে ওটা কাটতে আমার ২সেকেন্ডও লাগবেনা। ভুলে যাবো যে আপনার মৃত্যু কার হাতে আছে
কবির: এই জন। সাবধান বলে দিচ্ছি।
তুমি আমার সামনে দারিয়ে আমারই বোনের সাথে এভাবে কথা বলছো?

জন: আপনার বোনের কপাল ভালো যে এখনও সে কথা বলার মতো অবস্থায় আছে। তবে সেটা আপনার জন্য না। আপনি কেন আপনার মতো ১০জন এলেও i don’t care
কবির: তুমি বোধহয় ভলে গেছো আমি কে? আমি কবির ফয়সাল খান। আর সিংহ সিংহই হয়। গর্জন না দিলেই সিংহ কুকুর হয়ে যায়না। রাজা রাজাই থাকে
জন: রাজা হ্যা রাজা রাজাই থাকে। তো রাজা মশাই রাজার নীতি জানেন তো? ১টা রাজ্যে ১জনই রাজা থাকে। আর এই খান সম্রাজ্ঞে রাজা বলুন সম্রাট বলুন, সুলতান বলুন, বাদশাহ বলুন, নবাব বলুন ওই ১জনই। সে হলো the মেরিন বন্যা নীড় খান চৌধুরী।

হ্যা আপনি সিংহ। তবে জঙ্গলের না সার্কাসের। যে কি না পোষা কুুকুরের চেয়ে নিম্নস্তরের।
কবির: জন
জন: চিল্লাবেন না। এই জন কেবল ১জনেরই চোখ রাঙানো আর চিল্লানো সহ্য করে। অন্যকারোনা। বুঝেছেন?

আর এই যে আপনি আমার ম্যামের কথা মাথায় আনলেও মাথাটা কেটে ফেলে দিবো।
সেতু: চোরের সাক্ষী দারোগা।
কবির: তোমার ওই ম্যাম ভিক্ষা রাজা। তাকে আমার বাবা এই সম্রাজ্ঞ দান করেছে।
জন: মোটেও না। এটা আল্লাহর দান। আল্লাহই তাকে এই অধিকার দিয়েছেন। কারন সে এই খান বাড়ির।

কবির: কোনোদিনও না। ও কারো পাপের ফসল
জন: এই এই কবির খান মুখ সামলে। আরেকবার এটা বলার আগে DNA test করিয়ে নিয়েন। আহা ম্যামের না। আপনার আপনি actually এই খান বাড়ির রক্ত কিনা আর হ্যা যাকে পাপের ফসল বলছেন তার দেয়া ভীক্ষার জোরেই বেচে আছেন। যদি সে পাপের ফসল হয়, যদি তার রক্ত খারাপ হয়, যদি সে অপবিত্র হয় তবে আপনিও।
কবির: মানে?

জন: মানে আপনি যার জন্য বেচে আছেন সে হলো মেরিন বন্যা। তার লিভারই আপনার শরীরে।
বলেই জন দাদুভাই কে নিয়ে চলে গেলে।

দাদুভাই গিয়ে মেরিনের এই অবস্থা দেখে পাগল হয়ে গেলো। হাউমাউ করে কাদতে লাগলো। নিহাল-নীলিমা-নীড় অনেক কষ্টে ওনাকে সামলালো।
দাদুভাই: আমি একটু ভেতরে যেতে চাই
দাদুভাই ভেতরে গেলো। মেরিনের কপালো চুমু দিয়ে ধীরে ধীরে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো।

দাদুভাই: দিদিভাই আমি জানি আমার দিদিভাই ফাইটারএতে সহজে কি হার মানবে? এবার তুমি ঠিক হও সব বাদ দিয়ে সব ছেড়ে তুমি আর আমি অনেক দূরে চলে যাবো।
কথাটা শুনে নীড়ের বুকটা কেপে উঠলো
দাদুভাই: আমি সত্যিই ব্যার্থ। না আমি তোমার দুঃখ দূর করতে পেরেছি আর না তোমাকে রক্ষা করতে পেরেছি। প্রতিনিয়ত তুমিই আমাকে রক্ষা করে এসেছো। তাই ভুলেই গিয়েছিলাম যে দিনশেষে তুমি কি

ভুল ধারনায় বেচেছিলাম। হয়তো তুমি ছায়া পেয়েছো। শাহজাহান খান এতো বড় ভুল কখনোই করেনি। আর ভুল করবোনা। তোমার দাদুভাই হয়তো তোমার কষ্ট দূর করতে পারবেনা। কিন্তু সকল পরিচিত ছায়ার আড়ালে নিয়ে যাবো।
দাদুভাই বাইরে বের হলো।

দাদুভাই: জন
জন: জী দাদুভাই ডক্টরের কাছ থেকে সকল report নিয়ে আসো।
জন: জী দাদুভাই
দাদুভাই: আর সব report এনে সিঙ্গাপুর যাওয়ার ব্যাবস্থা করো
দিদিভাই কে নিয়ে সিঙ্গাপুর যাবো
জন: ok দাদুভাই
জন চলে গেলো।

নীড়: দদাদুভাই মমমেরিনকে shift করা ঠিক হবেনা
দাদুভাই: তোমাকে আমার নাতনিকে নিয়ে ভাবতে হবেনা। আমি জানি তোমার জন্যেই ওর এই অবস্থা।
নিহাল: দেখুন স্যার মেরিনের condition আরো বিগরে যেতে পারে।
দাদুভাই: তোমাদের কারোই চিন্তা করতে হবেনা মেরিনকে নিয়ে। ও তো #ঘৃণার_মেরিন। ওকে নিয়ে এতো ভাবার কি আছে? আর তোমরা বাবা-ছেলে তো ওর কথা বলোইনা তুমি ওকে প্রথম দিনেই ওকে কি বলেছো তা আমি জানি কারো দরকার নেই আমার মেরিনের। আমি শাহজাহান খান মরে যাইনি তোমাদের কারো ছায়া ওর ওপর পরতে দিবোনা
বলেই দাদুভাই বেরিয়ে যেতে নিলো। সামনে পরলো কবির।

দাদুভাই: তুমি এখানে?
কবির মাথা নিচু করে আছে।
দাদুভাই: কি হলো বলো
কবির: বাবা আমি একটু আমার মেয়েটাকে দেখতে চাই
দাদুভাই ঠাস করে কবিরকে থাপ্পর মারলো।

দাদুভাই: লিভার দিয়ে জীবন বাচিয়েছে বলে আজকে পাপের ফসল থেকে মেয়ে হয়ে গেলো?
কবির মাথা নিচু করে দারিয়ে আছে।

দাদুভাই: এতোদিন যখন পাপের ফসলটাকে টিকিয়ে রেখেছি তখন যতোদিন বেচে আছি ততোদিনও পারবো। পাপের ফসলকে মেয়ে বানানোর দরকার নেই
বলেই দাদুভাই বেরিয়ে গেলো জন সব ব্যাবস্থা করে ফেলল।

একটুপর
তপু: আরে দাদুভাই কি করছো কি? মেরিনকে shift করা ঠিক হবেনা।
দাদুভাই: তোমাদের কারো কথা আমি শুনবো না কেউই মেরিনের ভালো চায়না
তপু: দাদুভাই তুমি আমাকেও এই কথা বলছো? তুমি জানোনা মেরিন আমার জন্য কি?
কথাটা শুনে নীড়ের খটকা লাগলো।

তপু: আমি কিছুতেই মেরিনকে shift করতে দিবোনা।
দাদুভাই: অধিকার দেখাচ্ছো কোন অধিকারে?
তপু: ভালোবাসার অধিকারে, মানবতার অধিকারে। আমি মেরিনকে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিবোনা। কিছুতেই আমি permission দিবোনা।
দাদুভাই: এর পরিনতি কি হতে পারে জানো?
তপু: হ্যা। জানি। তবুও আমি দিবোনা
বলেই তপু চলে গেলো। তপুর কথা নীড়ের মোটেও ভালো লাগলোনা।

জন: দাদুভাই এখন?
দাদুভাই: একটু wait করতে হবে। নীরা সুস্থ আছে তো?
জন: না দাদুভাই অবস্থা ভালোনা।
দাদুভাই: তাহলে তো হবেনা নীরাকে সুস্থ হতে হবে বেচে ফিরতে হবে। এতো সহজ মৃত্যু তো ওর প্রাপ্য না যে করেই হোক নীরাকে সুস্থ করার ব্যাবস্থা করো। দরকার হলে বিদেশে পাঠাও। তবুও ওকে বাচাও
জন: দেখি দাদুভাই কি করা যায়

রাতে
নীড়: দাদুভাই তততুমি এখন বববাসায় চলে যাও।
দাদুভাই: কেন?
নীড়: না মানে রাতে তো যে কোনো ১জন allow
দাদুভাই: জানি। আমি থাকবো।
নীড়: দদদাদুভাই আআআমি থাকি?
দাদুভাই: তোমার কষ্ট করতে হবেনা। তুমি আসতে পারো।
নীড়:
নীড় ১পাও নরলো না।

দাদুভাই: কি হলো? তুমি দারিয়ে আছো যে?
নীড়: তততুমি বাসায় যাও। আমি থাকবো।
দাদুভাই: দেখো তোমার সাথে বেশি কথা বলার ইচ্ছা আমার নেই। তুমি যাও। ও আমার দায়িত্ব। খামোখা নিজের বোঝা বারাতে হবেনা। তুমি আসতে পারো।
নীড়: না আমি যাবোনা। ও আমার বোঝা না। ও আমার বউ। আর আমার বউর কাছে আমিই থাকবো।

দাদুভাই: বউ? হায়রে আজব দুনিয়া। ওই লোকটাকে দেখো। যেই জানতে পারলো যে মেরিন ওকে লিভার দিয়েছে ওমনি তার কাছে মেরিন পাপের ফসল থেকে মেয়ে হয়ে গেলো। তোমার দিকে ছোরা গুলি নিজে খেলো বলে তোমার কাছেও ফালতু মেয়ে থেকে বউ ভয়ে গেলো। প্রমানে যদি ভালোবাসার খোজ পাওয়া যায় তবে সেটা আর যাই হোক ভালোবাসা হয়না।
যাই হোক তুমি এখন আসতে পারো।
নীড়: আমি যখন বলেছি আমি যাবোনা তখন যাবোনা। আমার বউয়ের কাছে আমিই থাকবো। তুমি বাসায় চলে যাও।

দাদুভাই: জোর দেখাচ্ছো কোন জোরে
নীড়: কবুলে জোরে চলে যাও কালকে সকালে এসো না হলে জোর করে পাঠাবো
দাদুভাই: তুমি ভুলে যাচ্ছো আমি কে?
নীড়: আমি কিছুই ভুলিনি তুমি যাও।
নীড়ের জেদের কাছে দাদুভাইকে হার মানতেই হলো। দাদুূভাই চলে গেলো।

সকালে
নীড় সারারাত মেরিনের হাত ধরে দেগে বসেছিলো। এখনও আছে। হঠাৎ মনে হলো মেরিনের হাত নরছে। নীড় তারাতারি তপুকে ডেকে আনলো।
তপু চেক করলো। দেখলো মেরিনের জ্ঞান ফিরেছে।
তপু: out of danger
নার্স ওকে injectionটা দিয়ে দাও।
নার্স: ok sir
মেরিন ঘুমিয়ে পরলো।

নীড়: ও আবার ঘুমিয়ে পরলো কেন?
তপু: ভয় নেই। তোমার মতো ওর ক্ষতি করার চেষ্টা করবোনা।
তপু মেরিনকে ১পলক দেখে বেরিয়ে গেলো।
নীড় বুঝতে পারলো যে তপু মেরিনকে ভালোবাসে।

৪ঘন্টাপর
মেরিন চোখ মেলে তাকালো। আধো আধো চোখে দেখলো দাদুভাই, নিহাল, নীলিমা, নীড় আর জন দারিয়ে আছে।

দাদুভাই ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। নীড় ওর হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বসে আছে। মেরিন নীড়ের দিকে ১বার তাকিয়ে দাদুভাইয়ের দিকে চোখ ঘোরালো। চোখ ঘোরানোর সময় দরজার বাইরে দারিয়ে থাকা কবিরকেও দেখলো।
দাদুভাই: দিদিভাই কেমন লাগছে এখন?
মেরিন ভাঙা ভাঙা গলায়
বলল: ভভভালো। তততোমাকে এমন লললাগছে কককেন?
দাদুভাই: কিছুনা দিদিভাই

মেরিন: কককষ্ট দদদিয়ে ফেললাম তোমাকে
দাদুভাই মেরিনের কপালে চুুমু দিয়ে
বলল: আমার দিদিভাই কি কখনো আমায় কষ্ট দিতে পারে?
মেরিনের চোখ থেকে পানি গরিয়ে পরলো।
নীলিমা: এমন কাজ আরেকবার করলে মারবো ধরে
তখন তপু ভেতরে ঢুকলো।
তপু: সবাই kindly একটু বাইরে যাবেন একটু চেকাপ করতে হবে।
নীড় ছারা সবাই বেরিয়ে গেলো।
তপু: নীড় তোমাকে কি আলাদাভাবে বলতে হবে?

নীড় বেরিয়ে যেতে নিলে হাতে থাকা ব্রেসলেটে টান অনুভব করলো। দেখলো মেরিন ১আঙ্গুল দিয়ে সেটা ধরে রেখেছে। মনে করলো ভুল করে সেটা হয়েছে। তাই আঙ্গুল টা ছারিয়ে নিলো। কিন্তু পরক্ষনেই মেরিন আবার ধরে ফেলল। যা দেখে নীড় মুচকি হাসলো।
তপু: কি হলো যা
তখন তপু দেখলো মেরিন ভ্রু কুচকে ওর দিকে তাকিয়ে আছে।
যার অর্থ এই
যে: তোমার সাহস কিভাবে হয় আমার নীড়কে বের হতে বলার।
তপু আর নীড়কে কিছু বলল না।

তপু সব চেক করতে লাগলো। মেরিন চোখ বন্ধ করে রাখলো।
তপু: তোমার কিছু হলে কারো কিছুই হবেনা। কিন্তু তাই বলে বারবার নিজেকে ঝুকিতে ফেলা ঠিকনা। নিজেকে বাচিয়ে রাখতে শেখো। নার্স ওকে মেডিসিনটা দিয়ে দিও।
তপু চলে গেলো। তপু চলে গেলে মেরিন চোখ মেলল।
নার্সও মেডিসিন দিয়ে চলে গেলো।

নীড়: মেরিন
নীড় ডাকটা দিতেই মেরিন আবার চোখ বন্ধ করলো।
নীড়: তুম
মেরিন: i want to sleep
নীড়: ওহ। আচ্ছা তুমি ঘুমাও।

৩দিনপর
মেরিনের অবস্থা এখন অনেকটাই ভালো। কিন্তু নীড় অনেক অবাক। কারন ৩দিনে মেরিন নীড়ের সাথে কোনো কথাই বলেনি। আর না ওর দিকে তাকিয়েছে।
নীড় মনে মনে: হয়তো অনেক রেগে আছো।

নীড় ভাবছিলো তখন খেয়াল করলো বাইরে কেউ দারিয়ে আছে। কালো চাদর মুরি দিয়ে। নীড়ের খটকা লাগলো। এটা কনিকা না তো দৌড়ে বের হলো। কিন্তু খুজে পেলোনা। হতাশ হয়ে ফিরে এলো। এসে দেখে মেরিন বসার চেষ্টা করছে। ছুটে ওর কাছে গেলো। ওকে সাহায্য করতে চাইলে মেরিন হাত দিয়ে ইশারা করে বাধা দিলো। তবুও নীড় ধরে বসিয়ে দিলো।
নীড়: তুমি আমাকে ig
তখন জন বলল: আসতে পারি?
নীড়: come
জন: ম্যাম ডেকেছিলেন?

মেরিন: হামম।
নীড় অবাক হলো।
জন: কোনো কাজ ছিলো?
মেরিন: হ্যা এই মুহুর্তে অফিস যাও। ওখানে ১টা blue file আছে। ওটাতে সব মিটিং এর details আছে। এখনি গিয়ে ওটা নিয়ে আসবে।
জন: জী ম্যাম
মেরিন: আর শোনো।

জন: জী ম্যাম
মেরিন: যাওয়ার সময় জেনে যেও যে আমাকে রিলিজ কবে দেয়া হবে?
জন: কিন্তু ম্যাম
মেরিন: প্রশ্ন আমার ভালো লাগেনা। go.
জন চলে গেলো।

নীড়: রিলিজ নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবেনা।
মেরিন: আর আমাকে নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবেনা।
নীড়: সব কিছুতে তোমার জোর চলবে না। সবকিছু তোমার under এ চললেও তুমি আমার under এ চলবে বুঝেছো?
জবাবে মেরিন রহস্যময়ী হাসি দিলো। একটুপর জন file নিয়ে এলো।

৪দিনপর
মেরিনের জন্য আজই ওকে রিলিজ দেয়া হলো।
তপু: তোমাকে রিলিজ দেয়া হলো কেবল তোমার জেদের কারনে। কিন্তু এর মানে এটা না তুমি যা ইচ্ছা তাই করবে একদম bed rest এ থাকবে।
মেরিন: জ্ঞান শোনার সময় এবং ইচ্ছা কোনোটাই আমার নেই। do it fast
তপু: তুমি কি কোনো কথাই শুনবে না
মেরিন:
তপু: নিজের খেয়াল রেখো।

পর্ব ১৬

নীড় দুম করে মেরিনকে কোলে তুলে রুমে নিয়ে গেলো। নিয়ে বেডে বসালো।
নীড়: ১পা এখান থেকে নামলে পা ভেঙে ঘরে বসিয়ে রাখবো বলে দিলাম। বসো আমি তোমার খাবার নিয়ে আসছি।

নীড়ের কোনো কথাই যেন মেরিন শুনতে পায়নি। মেরিন বেড থেকে নেমে চুপচাপ যেতে নিলে নীড় হাত টেনে মেরিনকে কাছে এনে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো।
নীড়: সমস্যাটা কি তোমার? কথা কানে যায়না? বললাম না বসে থাকতে।
মেরিন: বসে থাকলে আমার কাজগুলো কে করবে?
নীড়: জাহান্নামে যাক কাজ।

মেরিন: কাজ জাহান্নামে গেলে টাকা পাবো কোথায়? বাচবো কিভাবে?
নীড়: টাকায় মানুষ বাচে?
মেরিন নীড়ের গলায় হাত রেখে
বলল: হামম। আমি তো বাচি। টাকার জোরে টাকার নেশাতেই তো মেরিন বেচে আছে।
নীড়: তাহলে কি নীড়কে ভালোবেসে মেরিন বেচে নেই? টাকা কি নীড়ের চেয়েও বড়?
মেরিন: হয়তো কারন টাকা না থাকলে মেরিন নীড় পেতোনা। যাই হোক ছারুন। আমাকে যেতে দিন।
নীড়: যদি না ছারি

মেরিন: ধরে রাখার কোনো কারন নেই।
নীড়: আমিও দেখি তুমি আজ কিভাবে যাও
মেরিন: সমস্যাটা কোথায় আপনার? বাচতেও দেননা মরতেও দেননা। atleast আমাকে আমার মতো থাকতে দিন। ছারুন।
নীড়: না।

মেরিন: আপনার কি মনে হয় আপনি আমাকে আটকে রাখতে পারবেন
নীড়: হামম।
মেরিন: এর আগেও তো চেষ্টা করেছিলেন পেরেছিলেন?
নীড়: তখন পারিনি। তবে জানি এখন পারবো।
মেরিন: এখন কি কোনো দৈব্যেশক্তি পেয়েছেন আমাকে আটকানোর নাকি অসুস্থ বলে?
নীড়:
মেরিন: তো কিভাবে আটকাবেন আমাকে?

নীড়: স্বামী হয়ে আটকাবো ভালোবেসে আটকাবো
মেরিন: স্বামী হয়ে? ভালোবেসে? হ্যা স্বামী আপনি আমার but ভালোবাসা কোথায় থেকে এলো?
নীড়: দেখো মেরিন
মেরিন: দেখছিই তো আপনাকে আমার তো আর অন্য কিছু দেখার নেই। হার না মানা মেরিন যে নীড়ে হেরে গেছে, আটকে গেছে। কিন্তু নীড়তো নীরাতে আটকে আছে।
নীড়: যদি বলি বর্ষন বন্যায় পতিত হয়েছে। মিশে গেছে বন্যায় তবে?
যদি বলি মেরিনকে ভালোবেসে ফেলেছে। তবে?

মেরিন: ভালোবাসা? ছোট্ট ১টা গুলির এতো শক্তি? গুলির যে মানুষ মারার ক্ষমতা আছে সেটা জানতাম কিন্তু ভালোবাসানোর ক্ষমতা আছে সেটা জানতাম না।
যদি জানতাম তবে অনেক আগেই খেয়ে নিতাম।
নীড়: গুলি খাওয়াতে ভালোবাসা হয়না।

মেরিন: একদম ঠিক। গুলি খাওয়াতে ভালোবাসা হয়না। কৃতজ্ঞতা হয়। এখন সেই কৃতজ্ঞতাবোধ থেকে আসা দয়া-মায়াকে ভালোবাসা ভাবছেন। ভিক্ষা দিচ্ছেন।
আর মেরিন বন্যা ভিক্ষা নেয়না।

নীড়: আর যদি বলি গুলির জন্য না। দয়া-মায়াও না। এটা ভালোবাসা অনেক আগের।
যদি বলি তোমার জীবনের সব ঘৃনা আমার আর আমার জীবনের সব ভালোবাসা তোমার।
কথাটা শুনে মেরিন হা হা করে হাসতে লাগলো। পাগলের মতো।
মেরিন: না মেরিনের জন্য ভালোবাসা জায়েজ আর না নীড়ের জন্য ঘৃণা জায়েজ
আর আপনার ভালোবাসা? আমার প্রতি? তাও আগে থেকে?
হ্যাহ যদি ভালোবাসতেন তবে বিশ্বাস করতেন। সেদিন ওই ৫ই জুন অমন অপমান করতেন না অবিশ্বাস করতেন না

অতো বড় শাস্তিও দিতেননা। আপনাকে না ছোয়ার, আপনার সামনে না আসার।
যদি ভালোবাসতেন তবে ভালোবাসার জ্বালে ফেলে ধোকা দিতে পারতেন না।
যদি ভালোবাসতেন তবে আমার ১টা কথা অন্তত রাখতেন। কোথাও বের হতেন না।
যদি ভালোবাসতেন তবে আমাকে ফেলে ভোর ৪টায় অন্য মেয়ের কাছে যেতেন না।

নীড়: তুমি আমার কথাটা তো শোনো
মেরিন: আমি তো আপনার কথা শোনার জন্যেই চাতক পাখির মতো আশায় থাকি। আপনাকে ভীষন ভালোবাসি। তাই আপনাকে শাস্তি দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব না।
আপনার তো ৭খুন মাফ

নীড়: তুমি ভুল ভাবছো
মেরিন: ভুল ঠিক জানিনা নীড়। আপনার ওপর আমার কোনো আক্ষেপ নেই। আর না কোনো অভিযোগ শুনেছি স্ত্রীরা দাবি না ছারলে, অভিযোগ করলে স্বামীরা নাকি জান্নাতে যেতে পারবেনা। যদি সেটা সত্যি হয় তবে আমি মেরিন আজকে আপনার ওপর থেকে সকল প্রকারের সব দাবি ছেরে দিলাম।

নীড়: এই মেয়ে এই ১টা থাপ্পর দিবো। ফালতু কথা একদম বন্ধ। বুঝিস না তোকে আমি ভালোবাসি
মেরিন: হামম। ভালোবাসেন। অস্বীকার করিনি। তবে সেটা কৃতজ্ঞতার। আপনার কোন দোষ নেই। যে আমার জন্ম দাতা তাকে লিভার দিয়েছি বলে তার কাছে আমি পাপের ফসল থেকে মেয়ে হয়ে গেলাম। আজব না? আর আপনি তো পরের ছেলে। না রক্তের সম্পর্ক, না মনের, না শরীরের, না আত্মার, না ভালোবাসার uffs শরীরের সম্পর্ক তো হয়েছে। ২ ২ বার। আচ্ছা তখন কি আমার জায়গায় নীরা কে দেখেছিলেন?
নীড়:
মেরিন: whatever কারো দয়া-ভিক্ষা নিতে পারবেনা। #ঘৃণার_মেরিনকে ঘৃণারই থাকতে দিন। তাকে ভালোবাসার ভুল করবেন না। ভালোবাসলে পরে আফসোস করবেন। আর হ্যা মেরিনের চিন্তা করবেন না। মেরিন ননীর পুতুল না মেরিন iron lady। এখন আমার পথ ছারুন।
নীড়:
মেরিন: কি হলো?
নীড়: তোমার বলা শেষ?
মেরিন: yes my dear জান।
নীড়: good
বলেই মেরিনকে কোলে তুলে বেডে নিয়ে গেলো। বসালো। এরপর হাত বেধে দিলো।

নীড়: বন্যার তেজ সবাই জানে। কিন্তু বর্ষনের তেজও কারো কাছে অজানা নয়। আমি ১দিন তোমাকে বলেছিলাম যে আমি তোমার থেকেও dangerous সেটা এমনি এমনি বলিনি। তুমি তো আমার নারী নক্ষত্র সবই জানো। তো আমার রাগ সম্পর্কেও জানো। আমি তোমার থেকে অনেক জেদী। তুমি তো কেবল নরম ভূমি ধংব্স করো। আর আমার বিদ্যুতের আঘাতে সুবিশাল পাহাড়ও ধংব্স স্তুপে পরিনত হয়। আজকে থেকে আমার কথার বাইরে কোনো কাজ করবেনা। না হলে আমি যে কি করবো তা নিজেই জানিনা। বসো আমি খাবার নিয়ে আসছি।
বলেই নীড় খাবাার আনতে গেলো।
খাবার নিয়ে এসে নীড় মেরিনকে জোর করে খাইয়ে দিলো।

পরদিন
মেরিন: আজও কি আমার হাত বেধে রাখবেন?
নীড়: হ্যা। কারন হাত খুলে দিলেই তুমি যেভাবেই হোক পালাবে।
মেরিন: ফোনটা তো দিবেন কালকে থেকে বেজেই যাচ্ছে।
নীড়: হাত তো বন্ধ। কথা বলবে কি করে?
মেরিন:
নীড়: দেখি হা করো
মেরিন: পারবোনা।
নীড়: মেজাজ খারাপ না করে খাও তো।
তখন মেরিনের ফোন বাজতে লাগলো।

মেরিন: ফোনটা আনুন
নীড়: no
মেরিন: না আনলে খাবোনা।
নীড় নিয়ে এলো। জনের call।
মেরিন: হাত খুলে দিন।
নীড়: not at all loud এ দিচ্ছি।
নীড় loud এ দিলো।
মেরিন: hello
জন: hello mam
মেরিন: কি হয়েছে?
জন: ম্যাম নীরাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। admit করা হয়েছে। কিন্তু
মেরিন: কিন্তু কি?

জন: ম্যাম নীরার condition ভীষন খারাপ।

মেরিন: ১কাজ করো। তা হলে তো চলবেনা। নীরাকে সুস্থ করতে হবে। যতো টাকা লাগে খরচ করো। i want নীরা alive নীরাকে বাচাতেই হবে। নীরা হলো রূপ কথার সেই তোতাপাখি যার মধ্যে কারো জীবন বন্দী থাকে। তোতাপাখি মারা গেলে সেও মরে যাবে।
এই কথাটুকু মেরিন নীড়ের দিকে তাকিয়ে বলল। নীড় মনে করলো মেরিন ওকে উদ্দেশ্য করে বলেছে।

জন: ok mam
মেরিন: দরকার হলে তুমিও সিঙ্গাপুর চলে যাও।
জন: না ম্যাম তার দরকার হবেনা।
মেরিন: ok bye

নীড়: নীরা আমার জীবন না।

মেরিন:
মেরিন মনের সুখে খাবার খাচ্ছে। আর বাইরের আকাশ দেখছে। যেন এটাই সবথেকে দরকারী কাজ।
নীড়: কিছু বলেছি
মেরিন: শুনেছি
নীড়: নীরার বাঁচা মরা আমাকে effect করেনা।
মেরিন ১টা ছোট্ট হাসি দিলো। নীড়ের পক্ষে হয়তো কোনোদিনও সেই হাসির মানে বুঝবেনা।
মেরিন: effect করেনা বলে নীরাকে বাচাতে চাইছেন?
নীড়: কি বলো এগুলা?

মেরিন: যা করার করুন। but নীরাকে মরতেই হবে। আমি ওর হৃদয়টা বের করে আমার পোষা কুুকুরদের খাওয়াবো। তবে তার আগে ওর সুন্দর চেহারাটা কুৎসিত করে দিবো।
নীড়: ধংব্সের খেলা বন্ধ করে সুন্দর করে বাঁচা যায়না?
মেরিন আবারো হাসি দিলো।

৫দিনপর
নীড়ের শ্বাসন-বারনে অতীষ্ট মেরিন। আবার কেন যেন খুশিও।
নীড়: ওই কালকে সকালে বাবা আসবে।
মেরিন: বাবা?
নীড়: কবির বাবা
মেরিন: তো আমি কি করতে পারি?
নীড়: কিছু করতে হবেনা। বাজে ব্যাবহার করবেনা।
মেরিন:

নীড়: কিছু বলেছি
মেরিন: আপনি বলেছেন আমি শুনেছি এর বেশি কিছু আশা করবেন না ॥ আর ওই stupid ভালোগিরির expect আমার কাছে করবেন না। ৫দিন ধরে আটকে রেখে যদি মনে করেন আপনি যা ইচ্ছা তাই করবেন তাহলে ভুল ভাবছেন। আ
তখনই মেরিনের ১টা ফোন এলো।

মেরিন: hello
মেরিন: ok
নীড়: কার ফোন ছিলো। মেরিন বাকা হাসি দিয়ে বলল কারোনা।
বলেই কাবার্ড থেকে কিছু ১টা নিয়ে washroom এ গেলো।
নীড়: এমন হাসি মানেই কোনো কাহিনী আছে।
মেরিন বেরিয়ে এলো।

নীড়: change করলা কেন?
মেরিন: আপনিও করে আসুন। আপনাকে নিয়ে কোথাও যাবো।
নীড়:কোথায়?
মেরিন: গেলেই বুঝতে পারবেন।
নীড়: তুমি কিন্তু drive করবেনা।
মেরিন: ok

২জন ১টা জায়গায় গেলো। নীড় ভেতরে ঢুকে বুঝতে পারলো যে এটা মেরিনের সেই জায়গা। যেখানে সবাইকে শাস্তি দেয়।

নীড়: এখানে?
মেরিন: ভেতরে চলুন।
নীড় মেরিনকে কোলে তুলে ভেতরে ঢুকলো। ভেতরে ঢুকে দেখে সেদিনের ওই ৫জন হাত-পা বাধা রক্তাত্ব অবস্থায়।
নীড়: এরা?
জন: ম্যাম এরা দেশ ছেরে পালাচ্ছিলো।

মেরিন: হামম। নীড় আমাকে নামাবেন please?
নীড় নামালো। মেরিন নীড়ের হাত টেনে ১টা টেবিলের সামনে নিয়ে দার করালো। নীড় তাকিয়ে দেখলো যে টেবিল টাতে অনেক ধরনের গান, ছুরি রাখা আছে। সেই সাথে আরো অন্যধরনের অস্ত্রও আছে। নীড় কাহিনী বুঝলোনা।
মেরিন: এখান থেকে যেটা নিতে মন চায় সেটা নিন। এরপর এদের সাথে যা মন চায় করেন।
নীড়: মানে?
মেরিন: খুব সহজ। কারো হাত কাটবেন কারো পা কাটবেন কারো গলা কাটবেন কারো কলিজা বের করবেন। যার সাথে যা ইচ্ছা করুন।

নীড়: পাগল নাকি? এগুলো করবো কেন? ওদেরকে তো পুলিশে দেবো। যা করার আইন করবে।
মেরিন: আবার ভালোমানুষই পেচাল। তোদের ১টা সুযোগ দিয়েছিলাম কম কষ্টদায়ত মৃত্যু ভোগ করার। but আমার জামাইটা ভালোমানুষ। ১কাজ করুন আপনি গাড়িতে গিয়ে বসুন। আমি এদের মুক্তির ব্যাবস্থা করে আসছি।
নীড়: আর কতো মারামারি করবে?

মেরিন: মারামারি? কে বলল যে আমি এদের সাথে মারামারি করবো? its too cheap মেরিন বন্যা নীড় খান চৌধুরী কি ১২-১৪ বছর কিশোর যে মারামারি করবে? আমি তো এদের রক্ত নিয়ে খেলবো। এদের কলিজা কতো বড় সেটা দেখবো। কোন কলিজায় আমার কলিজায় হাত দেয় সেটা দেখবো। আপনি তো ভালোমানুষ রক্ত দেখতে পারবেন না।
নীড়: যদি আমি পুলিশের কাছে যাই
মেরিন: who care? আমার কাজ ততোক্ষনে হয়ে যাবে।

নীড়: তো তুমি মারবে ভালো কথা। আমাকে বাইরে যেতে বলছো কেন?
মেরিন: এখানে আপনাকে এনেছিলাম যেন আপনি এদেরকে শাস্তি দিতে পারেন। কিন্তু আপনি আইন আইন করছেন। ভেতরে থাকলে জ্ঞান দিবেন। কি করছো? পাগল নাকি? এমন করোনা। blah blah blah
নীড় ১টা বাকা হাসি দিলো। মেরিন খানিকটা অবাক হলো।

নীড়: এখানে অস্ত্র দেখে মনে হচ্ছে যে তুমি অস্ত্রবিদ্যায় বেশ পারদর্শী। এখানে প্রায় সবই আছে কিন্তু তীর-ধনুক নেই।
মেরিন: বোরিং
নীড়: কতোদূর থেকে shoot করতে পারো? বা ছুরি ছুরতে পারো?
মেরিন: মানে?
নীড়: ২হাত একসাথে use করতে পারো?
মেরিন: ….
নীড় ২হাতে ২টা ছুরি নিয়ে পিছে গেলো।
নীড়: কোথায় নিশানা লাগাতে হবে?

নীড়ের কর্মকান্ড দেখে মেরিন বুঝতে পারছেনা।
নীড়: বলো।
মেরিন: হৃদপিন্ড বরাবর
নীড়: ok
নীড় যথেষ্ট দূরে দারিয়ে ১বার ২জনের দিকে তাকিয়ে উল্টা ঘুরে গেলো। এরপর ওখান থেকে ২জনের বুক বরাবর ছুরি ছুরলো।
মেরিন: ….

নীড় মেরিনের সামনে গিয়ে ওর বন্ধ করলো।
নীড়: বলেছিনা আমি তোমার থেকেও dangerous আমার রাগের কারনেই নীরা আমার শত্রু হয়েছিলো। আমার রাগের জন্যেই হাজারো দুশমন আছে। আমার রাগের জন্যেই আমাকে abroad পাঠানো হয়েছিলো। class 8 এ ১জনের হাত কেটে ফেলেছিলাম। আমার হাতের থাপ্পরে নিশ্চয়ই বুঝেছো যে মাইরের হাতটা কতো শক্ত। মারামারি, অস্ত্র চালানো ছেরে দিয়েছি মাত্র। ভুলে যাইনি। মামনি অনুরোধে বিরত আছি। হিংস্র আমিও। ছুরি দিয়ে তো যেমন তেমন এই হাত দিয়ে বুকটা চিরে হৃৎপিন্ডটা বের করার ক্ষমতাও আছে। so baby underestimate me actually i am your hubby
মেরিন:
নীড়: কি হলো?
মেরিন: কিছুনা।

নীড়: এখন কি এদের বুক চিরতে হবে?
মেরিন: থাক আপনার হাত আর নতুন করে রক্তাত্ব করতে হবেনা।
নীড়: নাহ চলো আজকে ২জন মিলে একেকটাকে ফাটাই। ধংব্সের খেলা খেলি।
খেলবে?
নীড়কে বড্ড অচেনা লাগছে মেরিনের।

পর্ব ১৭

মেরিন তো নীড়কে দেখেই যাচ্ছে।
নীড়: জন।
জন: জী স্যার।
নীড়: cold drinks হবে?
জন: জী স্যার।
নীড়: দাও।
জন দিলো।
নীড় খেতে খেতে মেরিনক্ বলল: আমায় দেখা হয়ে গেলে বলে দিও। বাড়ি ফিরতে হবে।

কথাটা শুনে জন একটু শব্দ করে হেসে উঠলো। মেরিন প্রথমবার confused
ও জানতো যে নীড় রাগী। কিন্তু dangerous সেটা জানতোনা। মেরিন ধামধুম করে গিয়ে ১টা হুইসকির বোতল হাতে নিলো। কেবল ওটার মাথা খুলবে তখনই নীড় পেছন থেকে এসে ওটা নিয়ে নিলো। জায়গা মতো রাখলো। এরপর মেরিনের কানে ফিসফিস করে
বলল: এর থেকেও আমার ভালোবাসার নেশা বেশি।

বলেই চোখ মারলো। এরপর মেরিনকে কোলে করে গাড়িতে বসিয়ে গাড়ি start দিলো। কিছুক্ষন পর মেরিন খেয়াল করলো যে এটা অন্যরাস্তা।
নীড়: অবাক হওয়ার কিছু নেই। long drive এ যাচ্ছি।
মেরিন: কিন্তু কেন? কয়টা বাজে দেখেছেন? আপনার শরীর খারাপ করবেনা। বাসায় চলুন।
নীড় fulll sound এ গান ছেরে
বলল: কিছু বললে?
মেরিন: …
মেরিন বাইরের দিকে তাকিয়ে রইলো।

নীড় ১হাত দিয়ে মেরিনের হাত ধরলো। মেরিন অবাক হয়ে ওর দিকে তাকালো।
নীড়: এটা আমার বউর হাত।

মেরিন: আপনার কি মনে হয়না যে আপনি বারাবারি করছেন? যাকে বলে নেকামো
drive এ concentrate করুন।
নীড়: না করলে কি হবে? accident? who cares?
মেরিন: i care আমি মরে গেলেও আপনার কিছু না হলেও আপনি চুল পরিমান আঘাত পেলে আমার অনেক কিছু
মেরিনের কথা শুনে নীড়ের রাগ উঠলো। ১দিকে ব্রেক মারলো অন্যদিকে ১টানে মেরিনকে কাছে এনে ওর ঠোট জোরা দখল করে নিলো। শেষে জোরে সোরে ১টা কামড় দিয়ে ছেরে দিলো।
নীড়: বেশি কথা বলবা আর কামড় খাবা।
বলেই আবার গাড়ি start দিলো।

একটুপর
আবার ব্রেক মারলো। এরপর নামলো।
মেরিন: একি নামছেন কেন?
নীড় চুপচাপ ১টা দোকানের ভেতর ঢুকে কিছু নিয়ে আবার গাড়ি start দিলো।

৩০মিনিটপর
নীড় আবার ব্রেক মারলো। নামলো। মেরিনকে কোলে করে মেরিনকেও নামিয়ে গাড়ির ওপরে বসালো। এরপর সেই ব্যাগটা নিয়ে এসে মেরিনের পাশে বসলো। এরপর ওটা untie করার পর মেরিন দেখলও যে এটা ১টা বড়সরো ice bag
মেরিন: কি হয়েছে আপনার? আপনি ঠিক আছেন তো?
নীড় কিছু না বলে ২টা কুলফি বের করলো।

নীড়: নাও ধরো। খাও।
মেরিন: what? এতো রাতে ice cream? আপনার যে ঠান্ডা লেগে যাবে? জ্বর চলে আসবে যে।
নীড়: আসবেনা। আর এটাকে কুলফি বলে। আমার অভ্যাস আছে। আর আসলেও ২জনেরই আসবে।

মেরিন: আমার আসলে আসুক আপ
নীড় মেরিনের মুখে কুলফি ঢুকিয়ে দিলো।
নীড়: কোনো কথানা। খাও।
মেরিন: আপনি always এই ice cream খান? এই down market? অসুস্থ হয়ে যাবেন তো
নীড় কিছু না বলে গাড়ির ওপর শুয়ে পরলো। এরপর ১টানে মেরিনকে বুকে জরিয়ে নিলো।
নীড়:কোনো কথা না। চুপচাপ কুলফি খাও আর তারা দেখো।
মেরিন:

নীড়: আমার অনেক দিনের ইচ্ছা ছিলো এভাবে কিছু মুহুর্ত পার করার। নীরাকে নিয়ে আসতে ভয় করতো। ওর সাথে একটু close হয়ে বসা মানেই ওর উটকো romance এর প্যারা উঠতো। মামনির করা নির্দেশ ছিলো যেন বিয়ের আগে লিমিটে থাকি। যদি এ সময়ে ওর সাথে time spend করতে আসতাম তাহলে হয়তো ও situationটা negative বানিয়ে দিতো।
মেরিন: অবাক হলোম আপনার কাছেও তাহলে নীরা কখনো negative হয়? strange
মেরিনের কথা শুনে নীড় মুচকি হাসি দিলো। মেরিন বুঝতে পারলো নীড় ওর কথায় একটু কষ্ট পেয়েছে
মেরিন: নীড়
নীড়: বলো
মেরিন: কিছুনা।
বলেই নীড়কে শক্ত করে জরিয়ে ধরলো।
নীড়: কি হলো?
মেরিন: ঘুম পাচ্ছে।

নীড়: তাহলে চলো বাসায়
মেরিন: উহু এখানেই এভাবে ঘুমাবো।

পরদিন
নীড় মেরিনকে খাইয়ে দিচ্ছে।

নীলিমা মনে মনে: যাক আমার ছেলেটার তবে আক্কেল হয়েছে।
নিহাল; ওই মহিলা আমার মামনি-বাবার দিকে নজর দিচ্ছো কেন?
নীলিমা: huh তুমি জীবনে আমাকে খাইয়ে দিয়েছো?
নিহাল: তুমি কখনো আমাকে এতো ভালোবেসেছো?
নীলিমা: না। এতোদিন তো পর পুরুষের সাথে সংসার করলাম।
নিহাল: তাই ই মনে হয়
নীড়-মেরিন হেসে দিলো।

দাদুভাই: আমরাও কি একটু join করতে পারি
সবাই ঘুরে দেখলো দাদুভাই আর কবির দারিয়ে আছে। মেরিন দাদুভাই বলে দৌড়ে গিয়ে জরিয়ে ধরলো।
মেরিন: দাদুভাই তুমি কেমন আছো?
দাদুভাই: ভালো। আমার দিদিভাইটা কেমন আছে?
মেরিন: ভালো।

কবির:ভালো আছো মামনি?
মেরিন: excuse me কে আপনার মামনি? আপনার মামনি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লরছে। no worry মরবে না। i guarantee
কবির:
নীড়: বাবা ভালো আছো?
কবির: হামম।

মেরিন: দাদুভাই চলো ওপরে চলো।
নীলিমা: কেনরে? বোস এখানে
মেরিন: না গো মামনি পবিত্র যমযম পানির ধারে কাছে কি আর নর্দমার পানি থাকতে পারে? চলো দাদুভাই
মেরিন দাদুভাইকে নিয়ে ওপরে গেলো।

নিজের রুমে নিয়ে দাদুভাইকে বসিয়ে তার কোলে মাথা রাখলো। আর দাদুভাই ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো।
দাদুভাই: দিদিভাই
মেরিন: হামম।
দাদুভাই: অনেক তো হলো বদলা বদলা খেলা
মেরিন: তুমিও কি এখন বারন করবে?

দাদুভাই: না দিদিভাই। আমি তো বলছিলাম এই এদের জগত থেকে অনেক দূরে চলে যাই। যেখানে কেবল তুমি আর আমি থাকবো। আর বাকী সবাই হবে অচেনা।

মেরিন: যাবো দাদুভাই ১বার আম্মুকে আর দীদাকে খুজে পাই এরপর যাবো। নীড়কে আরেকটু ভালোবেসে নেই। এরপর তুমি আমি দীদা আম্মু আমরা ৪জন অননননেক দূরে চলে যাবো। যাওয়ার আগে যে আমার মায়ের গায়ের দাগ মুছতে হবে। সেটাই তো প্রধান কাজ।
আরো ১টা আবদার আছে আমার, আমারই ভাগ্যের কাছে। যাওয়ার আগে নীড়ের নিশান নিয়ে যাওয়ার। যা নিয়ে আমি আমার বাকী জীবন পার করতে পারবো।
দাদুভাই: ততোদিনে দেরি না হয়ে যায়।

নীড় ওদের সব কথা শুনে নিলো। আসলে ও ওদেরকে ডাকতে এসেছিলো। এসে এগুলো শুনে ফেলল।
নীড় মনে মনে: কোথাও যেতে দিবোনা তোমাকে আমার ভালোবাসার বাধনে বেধে রাখবো তোমায় আজীবন। আমি নিজেকে নিজে কথা দিলাম যতোদিন বেচে আছি ততোদিন তোমাকে নিজের থেকে দূরে করবো না। আর না তোমাকে দূরে যেতে দিবো কারন আমি তোমাকে ভালোবাসি। অনেক বেশি ভালোবাসি। তোমার মাকে তো পাতাল থেকে হলেও আমি খুজে আনবো। তবে তার আগে আমার তোমার সত্য জানা জরূরী

কিছুদিনপর
নীড়: hello দাদুভাই
দাদুভাই: বলো।
নীড়: ভালো আছো?
দাদুভাই: হামম।
নীড়: তুমি কি এখনো আমার ওপর রেগে আছো?
দাদুভাই: রাগ না করার মতো মহান কোনো কাজ তো করোনি। করেছো?
নীড়: sorry দাদুভাই তবে এরপর থেকে চেষ্টা করবে যেন আমার জন্য তুমি আর hurt না হও

দাদুভাই: দেখা যাবে।
নীড়: দাদুভাই আমি কি তোমার সাথে একটু দেখা করতে পারি?
দাদুভাই: কেন?
নীড়: please দাদুভাই
দাদুভাই: হামম। কবে?
নীড়: কাল?

দাদুভাই: হামম। কোথায়?
নীড়: আমি কালকে তোমাকে পিক করে নিবো।
দাদুভাই: হামম।

পরদিন
নীড় দাদুভাইকে নিয়ে ১টা নিরিবিলি জায়গায় গেলো। যেখানে কেউ নেই।
দাদুভাই: এখানে আমাকে নিয়ে এলে যে আমাকে আটকে রেখে মেরিনের কাছে divorce নেবে?

নীড়:
দাদুভাই: কি হলো? বলো
নীড়: না।
দাদুভাই: তাহলে?
নীড়: জানতে চাই
দাদুভাই: কি?
নীড়: মেরিনের অতীত
দাদুভাই: কেন?

নীড়: বলোনা
দাদুভাই: যেদিন জানার যোগ্যতা অর্জন করবে সেদিন বলবো।
নীড়: দাদুভাই please
দাদুভাই: বললাম তো যেদিন যোগ্যতা অর্জন করবে সেদিন বলবো।
নীড়: যদি বলি আমি মেরিনকে ভালোবাসি তবুও বলবেনা
দাদুভাই: ভালোবাসো? তুমি না নীরাকে ভালোবাসতে নীরা ধোকা দিয়েছে বলে মন মেরিনে এলো। যদি আবার নীরা ফিরে আসে ক্ষমা চায় তবে তো আবার মেরিনকে ফেলে নীরার কাছে চলে যাবে
নীড়: যদি বলি সারাজীবন মেরিনকেই ভালোবাসবো

দাদভাই: impossible
নীড়: তোমাকে যদি বলি সেদিন নীরার সাথে সব সম্পর্ক শেষ করতে গিয়েছিলাম মানবে?
দাদুভাই: না
নীড়: ভালো। যাই হোক। শেষবারের মতো ভালোভাবে জিজ্ঞেস করছি মেরিনের অতীত বলবে কি বলবে না?

দাদুভাই: না
নীড়: মেরিন ঠিকই বলে। ভালো ভাবে বলা কথা কারো মাথাতেই ঢোকেনা।
বলেই নীড় গান বের করে দাদুভাইয়ের মাথায় ঠেকালো। এরপর ১টা বাকা হাসি দিলো।

দাদুভাই: তুমি যেটা করছো ভেবে করছো? মেরিন তোমাকে যতোটা ভালোইবাসুক না কেন তোমার এই কাজ কখনোই মেনে নেবেনা। তোমার কপালে কি আছে সেটা তুমি জানোনা
নীড়: আমার কথা তোমার ভাবতে হবেনা। তুমি নিজের কথা ভাবো। যে তুমি মেরিনকে কি জবাব দিবে।
দাদুভাই: মানে?

নীড়: মানে
বলেই নীড় গানটা নিজের মাথায় ঠেকালো।
নীড়: কি ভেবেছিলে? তোমাকে shoot করবো? না
নিজেকে করবো। মেরিন নিঃসন্দেহে তোমাকেই বেশি ভালোবাসে। কিন্তু ঘটনার জন্য তো জবাব তোমায় দিতেই হবে। good bye
নীড় just trigger press করবে তখনই দাদুভাই
বলল: থামো তোমার কিছু হলে মেরিন মরে যাবে। বলছি আমি
নীড়: সত্যি?

দাদুভাই: হামম।
নীড় বাকা হাসি দিলো। আর দাদুভাইকে জরিয়ে ধরলো।
দাদুভাই: বসো
নীড় বসলো।

দাদুভাই: আজকের মেরিন আর ১২ – ১৩
বছর আগের মেরিনের মধ্যে আকাশ পাতাল পার্থক্য সেই মেরিন যতোটা হাসতে পারতো ততোটা হয়তো আর কেউ পারতো না সেই সাথে ভীতুও ছিলো প্রচুর। সকলের আদরের সকলের ভালোবাসার মেরিন ছিলো। মা-বাবার ১টা ছোট্ট পরী ছিলো। বাবার princess মায়ের দুষ্টু পরী ছিলো। কবির তো মেয়ের মুখ দেখে সকালে চোখ মেলতো। আর কবির-কনিকার ভালোবাসা তো ছিলো উদাহরন দেয়ার মতো। কবিরের মা কনিকাকে ভীষন আদর করতো। আমিও।

সেতু আর কনা মায়ের মধ্যে কখনো কোনো ভেদাভেদ করিনি। আর কনা? ও তো ছিলো মাটির মেয়ে। আল্লাহ হয়তো ওকে নিজের হাতে বানিয়ে ছিলো। মাশাল্লাহ অনেক সুন্দর। আর আচার-ব্যাবহার ওর মতো অমায়িক খুব কম মানুষই হয়ে থাকে। এমন কোনো ভালো গুন অবশিষ্ট নেই যা কনার মধ্যে ছিলোনা। আর অন্যদিকে সেতু। এমন কোনো খারাপ গুন নেই যা ওর মধ্যে ছিলো না। infact এখনো আছে। অথচ কনা-সেতু ২জনকে কিন্তু একই শিক্ষা দিয়েছি। কনা সেতুর থেকে ৫-৭ বছরের ছোট ছিলো। সেতু ছিলো চালাক আর কনা ছিলো বুদ্ধিমতী।

সেতু কনাকে বরাবরই হিংসা করতো। যেটা আমাদের অজানা ছিলো। ও লুকিয়ে কনাকে অনেক torture করতো। কিন্তু কনা আমাদের কাউকে কিছু না বলে সব মুখ বুঝে মেনে নিতো। ১দিন কবির দেখে ফেলে। কবির অন্যায় সহ্য করতে পারতোনা। তাই আদরের ছোটবোনকে শ্বাসন করে। এতে সেতুর রাগ আরো বেরে যায়। তবুও নিজের রাগটাকে চেপে রাখে।

মেরিন হওয়ার আগে নীরা বাড়ির একমাত্র মেয়ে বাবু ছিলো। আমাদের খান বাড়িতে মেয়েদেরকে বেশি আদর করা হয়। নিলয়ও আদর পেয়েছে। কিন্তু নীরা বেশি। মেরিন হওয়ার পর স্বাভাবিক ভাবেই কিছুটা ভালোবাসা ওর ঝুলিতে যেতো। এমনটা নয়যে নীরাকে কম আদর করা হতো। কিন্তু ওদের এটা মনে হতো যে নীরাকে কম আর মেরিনকে বেশি ভালোবাসা হয়। ১দিন কিছু official কাজে আমি দেশের বাইরে যাই। ১টা বড় সরো project এর জন্য। আর এসে দেখি আমার সাজানো সংসার তছনছ।

শুনেছি কনা নাকি কোথাও লুকিয়ে যেতো। কবির জিজ্ঞেস করলে বলতো সময় এলে বলবো। একটুকু বিশ্বাস রাখো। কবির কনাকে অনেক ভালোবাসতো। তাই কিছু মনে করেনি। কিন্তু হঠাৎ ই ১দিন কনার সাথে রনক নামের ১জনের সাথে কিছু আপত্তিকর ছবি ভাইরাল হয়।

রনক এটাও দাবি করে যে মেরিন ওর সন্তান। রনক আরো বলেছে যে কনার সাথে আরো অনেকের অবৈধ সম্পর্ক আছে। এসব কথার সত্যমিথ্যা যাচাই কবির করেনি। যা নয় তাই বলে কনিকাকে। কনিকা বারবার কেবল এটাই বলেছিলো আমি নির্দোষ। বিশ্বাস করো আমি নির্দোষ। কিন্তু কবির এমন সব কথা বলে যে কনা বাধ্য হয় বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে। যখন এসব ঘটছিলো তখন কবিরের মা নাসিম (নাসিমা) নাকি বাসায় ছিলোনা। মাজারে গিয়েছিলো।

আমি বাড়ি ফিরে কনাকে পাইনি। দেখি নাসিম কবিরকে অনেক বকছে। নাসিম বলছিলো যে
: আমি জানি কনামা কেমন ওর সত্যতার প্রমান আমি দিবো। ও আমার শিক্ষায় শিক্ষিত। ওর ওপর আমি নিজের থেকে বেশি বিশ্বাস করি। ওর সত্যতার প্রমান আর ওকে না নিয়ে আমি নাসিমা খান এই খান বাড়িতে ফিরবোনা।

এই বলে সকল বাধা উপেক্ষা করে নাসিম বেরিয়ে যায়। আর ফেরেনি আর মেরিনের ওপর শুরু হয় সেতু-নিলয়-নীরা আর নীরার বাবার অমানবিক অত্যাচার। সেই সাথে কবিরের অবহেলা। বাবা বলে কবিরের কাছে যেতো। কবির মেরে ধরে সরিয়ে দিতো তবুও বাবা বলতে পাগল মেরিন বারবার কবিরের কাছে যেতো। কতো বলতাম যেওনা যেওনা তবুও যেতো।

দেখতে দেখতে মেরিন ১৩ বছরের হয়ে গেলো। নিলয় ছিলো তখন ২৩ বছরের। রোজ রাতেই মেরিন মা-বাবার ছবি বুকে জরিয়ে কাদতে কাদতে ঘুমিয়ে পরতো। এমনই ১দিন মেরিন ঘুমিয়েছিলো। তখন নিলয় মেরিনের সাথে
ছোট্ট মেরিন কিছু বুঝে ওঠার আগেই নিলয় বেশ এগিয়ে যায়। কোনো রকমে মেরিন ১টা চিৎকার দেয়। আমি পাশের রুমেই ছিলাম। ছুটে যাই।

বাচাই মেরিনকে। এতো বড় অন্যায় করেছিলো নিলয়। তবুও দোষ হয়েছিলো ছোট্ট মেরিনের। ও নাকি উষ্কেছিলো নিলয়কে। ওরা কেউ নিলয়কে কিছুই বলেনি। কবিরও মেরিনকেই কথা শোনায়। আমি নিলয়কে পুলিশে দেই। কিন্তু কবির বের করিয়ে আনে। সেদিনের আগে তো মেরিন তবু ঘুমাতো। কিন্তু সেদিনের পর থেকে মেরিন রাতে ঘুমাতে ভুলে যায়।

ভয় পায় ঘুমাতে
সারাক্ষন ভয়ে ভয়ে থাকতো। নিলয়কে তো দেখলে ভয় পেতোই। এমনকি ওর নাম শুনলে, ওর ছায়া দেখলেও ভয় পেতো। infact আজকের মেরিনও নিলয়ের উপস্থিতিতে ভয় পায়। কারন কাচা বয়সে যে ভয়টা ওর মধ্যে ঢুকেছিলো সেটা আজও রয়ে গেছে।
যাই হোক ওকে নিয়ে আমি নিউইয়র্ক চলে যাই। ভেঙে আবার নতুন করে গরে তুলি। ওর যখন ১৯বছর বয়স তখন আসি। কিন্তু সেই ১৩ বছসের মেরিন আর ১৯বছরের মেরিনের মধ্যে ছিলো আকাশ পাতাল পার্থক্য। নতুন মেরিন ভালোবাসার না ঘৃণার। যার কোনো ভয় নেই। যার অপর নাম ভয় আর ঘৃণা।

এতোকিছুর পরও আজকের মেরিন রাতে ঘুমাতে ভয় পায়। কারন নিলয় আর সেদিনের সেই রাত। যেদিন আমার কোলে মাথা রাখতো সেদিন হয়তো ২-১ ঘন্টার জন্য ঘুমাতো। তোমার সাথে বিয়ের পর হাজার অপমানিতো হলেও ১টা বিষয় ভালো হয়েছে। সেটা হলো ও রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে
এই মেরিনের অতীত

পর্ব ১৮

নীড় বাসায় এসে রুমে ঢুকে দেখে মেরিন নেই।
নীড়: গেলো কোথায়? মেরিন মেরিন
নীড় খুজতে লাগলো মেরিনকে। দেখে রান্নাঘরে মেরিন রান্না করছে। নীড় গিয়ে দুম করে পেছন থেকে জরিয়ে ধরলো।

মেরিন: কি হলো?
নীড়: কতোক্ষন ধরে ডাকছি সারা তো দিবে
মেরিন: কি লাগবে? বলুন দিচ্ছি
নীড়: তোমাকে লাগবে
মেরিন আর জবাব না দিয়ে চুপচাপ কাজ করতে লাগলো। নিজেকে ছারানোর চেষ্টা করে লাভ হলোনা। তাই আর চেষ্টাও করলোনা।
নীড়: কি রান্না করছো?
মেরিন: আমার মাথা এখন ছারুন।

নীড়: ছারুন ছারুন করছো কেন? নিজে যখন জরিয়ে ধরো তখন
মেরিন: আর ধরবোনা। হইছে? এখন তো ছারবেন?
নীড়: মানে কি হ্যা মানে কি? ধরবেনা কেন? ও হ্যা ঠিকই তো। ধরবে কেন? আমি তোমাকে জরিয়ে ধরবো।
বলেই নীড়ের মেরিনের ঘাড়ে কিস করলো।

মেরিন বেসামাল হয়ে গেলো। আর ক্যাচ করে হাত কেটে গেলো।
কিন্তু কোনো আওয়াজ করলোনা। কারন এতোটুকু কেটে যাওয়া ওর কাছে কিছুইনা এখন। পানি ভরতি পাত্রে হাত ডুবিয়ে রাখলো। আর অন্য হাত দিয়ে রান্না করতে লাগলো।

নীড় তো নিজের কাজেই ব্যাস্ত। মেরিনের ঘাড়ে মুখ গুজে আছে। মেরিন ১হাতেই কোনোরকমে কাজ করছে। ১টা servant হঠাৎ করে চলে এলো। তার হাতে চায়ের কাপ ছিলো। নীড়-মেরিনকে দেখে হাত থেকে পরে গেলো। আর নীড়ের হুশ ফিরলো। servant লজ্জা পেয়ে দৌড়ে বেরিয়ে গেলো।
নীড়: আজব পাবলিক romance কর একি তোমার হাত কাটলো কি করে?
মেরিন: এমনিতেই
নীড়: দেখি আসো ব্যান্ডেজ করে দেই।

মেরিন: লাগবেনা। পরে করে নিবো। কাজটা শেষ করে নেই।
নীড় কোনো কথা না বলে কাধে তুলে মেরিনকে রুমে নিয়ে গেলো। হাতে ব্যান্ডেজ করতে লাগলো। আর বকতে লাগলো। নীড়কে দেখে যে কেউই বুঝবে যে মেরিনের কাটা হাত দেখে ওরই বেশি কষ্ট হচ্ছে। মেরিন নীড়কে দেখছে। মেরিন দুম করে নীড়ের ঠোটে কিস করে দিলো। এরপর অন্যদিকে তাকিয়ে রইলো। নীড় মুচকি হাসি দিলো।

কিছুদিন পর
নীরা সুস্থ হলো। ওকে দেশে ফিরিয়ে আনা হলো।
নীড়: আমরা airport কেন এলাম বলবা?
মেরিন: কাউকে welcome জানাতে
নীড়: তোমার কাজ সত্যিই অদ্ভুদ।

মেরিন: আমি জানি।
নীড়: কাকে welcome জানাতে এসেছি সেটা তো বলবে?
মেরিন: সামনে তাকান বুঝে যাবেন
নীড় সামনে তাকালো। দেখলো নীরা হেটে আসছে। সাথে ৬-৭জন গার্ড।
নীড়: নীরা
মেরিন: your love
নীড়: তু
মেরিন দৌড়ে গিয়ে নীরাকে জরিয়ে ধরলো।

মেরিন: আপু
নীরা তো অবাক সেই সাথে হয়ও পাচ্ছে প্রচুর। মেরিন এতো নরমাল ব্যাবহার করছে। এরমানেই ঝামেলা আছে।
মেরিন: thanks god যে তুমি ঠিক আছো সুস্থ আছো। তুমি না বাচলে যে আমার নীড় uffs তোমার নীড়ও
তোমার বিরহে তো নীড় পাগল হয়ে গেছে সত্যি একেই বলে ভালোবাসা। যে ভালোবাসা কখনো আমায় দিয়ে হবেনা। আমার তো বন্দুক ঠেকানো ভালোবাসা
উনি তোমাকে মন থেকে ক্ষমা করে দিয়েছে। এমন ভালোবাসা আর কোথাও পাবেনা। যাও গিয়ে নতুন করে জীবন সাজাও।

মেরিনের কাহিনি নীড়ের মাথার ওপর দিয়ে যাচ্ছে। তবে মেরিন যে অভিমানে সব করছে সেটা বেশ বুঝতে পারছে। মেরিন নীরার হাত টেনে এনে নীড়ের হাতে দিলো। এরপর ওদের হাতে ১টা envelope দিলো।

মেরিন: এটাতে switzerland এর tickets আছে। এটা আপনাদের জন্য আমার gift honeym uffs pre-honeymoon এর all the best bye
বলেই মেরিন চলে যেতে নিলে নীড় ওকে টেনে নিজের কাছে আনলো।
নীড়: এসবের মানে ক
আর বলতে পারলোনা। মেরিন নীড়ের ঘাড়ে ১টা injection মেরে দিলো। নীড় জ্ঞান হারালো।

৩ঘন্টাপর
দেখলো ও ১টা রুমের মধ্যে আবদ্ধ। বেশ বড় রুমটা। সাথে attached kitchen & washroom ও আছে। পাশ ফিরে দেখে নীরা শুয়ে আছে। নীড় লাফ দিয়ে ওখান থেকে সরে এলো। তখন নীড় কারো হাসির শব্দ পেলো। কিন্তু কাউকে পেলোনা।

মেরিন: কি খুজছেন?

আমাকে? পাবেন না খুব শখ না আপনার আমাকে ফেলে নীরার কাছে যাওয়ার? ওর সাথে থাকার
নিন থাকুন। যতোদিন ইচ্ছা থাকুন
আপনার ইচ্ছা পূরন না করে পারি
নীড়: ইচ্ছা পূরন? আমার আরো কতো ইচ্ছা ছিলো। পূরন করেছিলে
মেরিন: আপনাকে মুক্তি দেয়ার তো সেটা তো সম্ভব না। তবে ১টা offer কিন্তু দিয়েছিলাম আমার আম্মুকে যদি খুজে বের করেন তবে আপনাকে মুক্তি দিবো।
নীড়:

মেরিন: whatever আপনাকে ভালোবাসি। কিন্তু ভুলের শাস্তি দিবোনা এটা ভাবা ভুল।
enjoy your punishment মানে pre-honeymoon
নীড়: ভুল করলে মেরিন পস্তাতে হবে তোমায় ভালোভাবে বলছি আমাকে এখান থেকে বের করো
মেরিন:না করলে?
নীড়: তুমি কিন্তু ভালো মতোই আমকে চেনো।
মেরিন: শাস্তি দিবেন? মেরিনের জন্য আর নতুন কোনো শাস্তি নেই।
bye

একটুপর
মেরিন রুমটার camera on করলো। কিন্তু on হচ্ছেনা।
মেরিন: মানে কি?
মেরিন ফুটেজ দেখতে লাগলো। দেখলো নীড় ক্যামেরার সামনে এসে ঠাস করে ভেঙে দিলো। মানে ভাঙতে নিলো। ভাঙার পর তো আর দেখা যায়না। 😅।
মেরিন ছুটে গেলো। আসলে ও তো পাশের রুমেই ছিলো। দেখলো দরজা ভাঙা। আর নীরা হাত-পা-মুখ বাধা অবস্থায় আছে। সেই সাথে থাপ্পরের দাগ। আর মাথা ফেটে রক্তও বের হচ্ছে। দেয়ালে রক্ত দেখলো।

যার মানে দেয়ালে নীড় নীরার মাথা ফাটিয়েছে। কিন্তু কোথাও নীড় নেই। মেরিন নীরার চুলের মুঠি ধরে
বলল: আমার নীড় কোথায়? বল আমার নীড় কোথায়?
নীরার এমনিতেই হাল খারাপ। তারওপর মুখ বন্ধ। উত্তর দিবে কি করে?
মেরিন: কথা বলছিস না কেন? জন
জন জন দৌড়ে এলো।

মেরিন: নীড় কোথায়?
জন: দেখিনি ম্যাম
মেরিন: কেন চুরি করতে গিয়েছিলে stupid এটাকে নজরে রেখো।
বলেই মেরিন নীড়কে খুজতে বেরিয়ে গেলো। পাগলের মতো খুজতে লাগলো নীড়কে। পেলোইনা। লোক লাগিয়ে দিলো চারিদিকে লোক লাগিয়ে দিলো নীড়কে খোজার। কিন্তু পেলোনা।

৩দিনপর
নীড়ের কোনো খবর নেই। মেরিন তো পাগল প্রায়। খাওয়া-দাওয়া-ঘুম সব বন্ধ। অসুস্থ হয়ে পরেছে মেরিন।
মেরিন: কেন সেদিন এমন করলাম কেন এমন শাস্তি দিলেন আমায় আমি
তখন নীলিমা পাগলের মতো দৌড়ে এলো।
নীলিমা: নীড় ফিরেছে

মেরিন কথাটা শুনে এই শরীর নিয়েই দৌড়ে নিচে নামলো। গিয়ে দেখে নীড় দারিয়ে আছে। ছুটে গিয়ে নীড়কে জরিয়ে ধরলো। হাউমাউ করে কাদতে লাগলো।
মেরিন: কেন আমাকে ছেরে গিয়েছিলেন? কেন কেন কেন? এতো বড় শাস্তি কেন দিলেন? 😭। আর কখনো আমি এমন করবোনা। আপনি কেন বোঝেন না কেন চলে গেলেন আমাকে মারতেন বকতেন কথা দিন আর কখনো আমাকে ছেরে যাবেন না please
নীড় বুঝতে পারলো মেরিনের মনের হাল। তাই নীড়ও মেরিনকে শক্ত জরিয়ে ধরলো।
নীড়: যাবোনা
মেরিন: promise

নীড়: promise
নীড় মেরিনের মাথায় চুমু দিলো। মেরিন নীড়কে ছারলো। কিন্তু ছেরে যেই নীড়ের পিছে নজর গেলো মেরিনের পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গেলো। কারন কনিকা-নাসিম দারিয়ে আছে। মেরিন নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছেনা। ও ধীর পায়ে কনিকার দিকে এগিয়ে গেলো। কনিকার মুখে হাত বুলিয়ে দিলো। না মেরিন আর মেনে নিতে পারলোনা।

অজ্ঞান হয়ে গেলো। কবির মেরিনকে ধরতে এলে নীড় বাধা দিলো। ধরতে দিলোনা। সবাই হাজার চেষ্টা করেও মেরিনের জ্ঞান ফেরাতে পারলোনা। শেষে ডক্টর তপুকে ডাকা হলো। নীড়ের তপুকে সহ্য হয়না। কিন্তু তপুই মেরিনের treatment এর জন্য better তাই ওকেই ডাকলো। তপু চেক করলো।
তপু: কতোবার বলেছি ওকে tension free রাখতে ওকে চাপ না দিতে খেতে দেননা ওকে নাকি? এরপর ওর কিছু হলে আর আমাকে ডাকবেন না।
বলেই তপু চলে গেলো।

রাতে
১টা বাজে
নীড়ের চোখ লেগে এসেছিলো তখন নীড় শুনতে
পেলো: আম্মু
নীড় তারাতারি চোখ মেলল। দেখল মেরিন চোখ মিটমিট করছে। আর চোখ বেয়ে পানি পরছে
নীড়: মেরিন
মেরিন: আম্মু
নীড় নিহালকে ফোন করলো।
ফিসফিস করে বলল: বাবা মেরিনের জ্ঞান ফিরেছে। মামনিকে বলো যে আম্মুকে ডেকে নিয়ে আসে।
নিহাল: হামম।
নীড় মেরিনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো। কিছুক্ষন পর সবাই রুমে ঢুকলো।

কনিকা মেরিনের পাশে বসলো। এরপর নিজের কোলে মেরিনের মাথাটা নিলো। এরপর মাথায় হাত বুলাতে লাগলো।
কনিকা: আম্মুই ও আম্মুই আম্মুইরে দেখো সোনাবাচ্চা আম্মু এসেছি। দেখো ছোট পাখি। আম্মুই টা ও আম্মুইটা
মেরিন কানে সব শুনতে পাচ্ছে। কিন্তু চোখ মেলতে ইচ্ছা করছেনা। ভয় করছে। যদি চোখ মেলে আর কনিকাকে না পায়।

কনিকা: আম্মুই দেখো না ও মা টা
মেরিন ধীরে ধীরে চোখ মেলল। উঠে বসলো। দুচোখ ভরে মাকে দেখতে লাগলো। চোখ দিয়ে অনবরত পানি পরছে। কনিকা মেয়ের চোখের পানি মুছে দিলো। মেরিন কনিকাকে জরিয়ে ধরে কাদতে লাগলো। আর কনিকাও কাদতে লাগলো।
মেরিন: কেন আমাকে একা ফেলে চলে গিয়েছিলে?

কেন এই নষ্ট পৃথিবীতে আমার থেকে আলাদা হলে কেন আমায় সাথে করে নিয়ে গেলেনা কেন নিয়ে গেলেনা
কেউ আমাকে ভালোবাসেনা আম্মু আদর করেনা সবাই ঘৃণা করে আমিও আমাকে ঘৃণা করি তুমিও কি আমায় ঘৃণা করবে আম্মু আম্মু আমি পচা হয়ে গেছি
তোমার আম্মুই পচা হয়ে গেছে খারাপ হয়ে গেছে তুমিও কি আমাকে ঘৃণা করবে? আমাকে আদর করবেনা? ও আম্মু ও আম্মু আম্মুরে
জানো বাবাও না আমাকে ঘৃণা করে আগের মতো আদর করেনা, কোলে নেয় না, খাইয়েও দেয় না
জানো বাবা কি বলে বাবা বলে আমি নাকি তার মেয়ে না আম্মু তুমি না বলতে আমি নাকি বাবার মতো হয়েছি
আমার চোখ নাক ঠোট পাপড়ি কপাল সব বাবার মতো
তুমি না বলতে রাগও করি বাবার মতো
হাসিও বাবার মতো
তাহলে বাবা কেন ওই কথা বলে
জানো আরো কি বলে
বলে আমি নাকি পাপের ফসল
আরো কি বলে জানো বলে আমি নাকি তোমার মতো। চরিত্রহীনা
জানো আম্মু এগুলো শুনলে আমার না ভীষন কষ্ট হয় এগুলো শুনলে
মনে হয় কেউ বুকের ওপর ছুড়ি চালাচ্ছে।

ও আম্মু বাবাকে বলোনা যেন এমন কথা আর না বলে
আমার ভীষন কষ্ট হয় বলবে বলো
ও আম্মুরে বলোনা বলবে বলোনা বলবে
কনিকা কাদতে কাদতে
বলল: হ্যা বলে দিবো শান্ত হও মা। কান্না থামাও বাচ্চা আর কেউ তোমাকে ঘৃণা করবেনা তোমার বাবাও আবার তোমাকে আদর করবে
কাদতে কাদতে ১পর্যায়ে মায়ের বুকেই ঘুমিয়ে পরলো মেরিন।

কনিকাও সারারাত মেয়েকে বুকে নিয়েই পার করলো।

রাত পার করতে করতে অতীতের বাকী অংশ জেনে আসি।

কনিকা কোনোরকমে নিজের পরিবারের সূত্র জানতে পেরেছিলো। তাই তার গভীরে যাচ্ছিলো। যেটা শুনে সেতু যা তা বলছিলো। তাই নিজেই গোপনে সত্য খুজতে লাগলো। নাসিমকে ছারা কাউকে বলেনি যদি বাকীরা মজা নেয়। যদি বলে এতিমের আবার নিজের পরিচয় জানার স্বাধ। সেই সত্যের সন্ধানে যেতো। অথচ যেই সেতুর ভয়ে কথাটা কনিকা গোপনে রেখেছিলো সেই সেতুই সুযোগ বুঝে কবিরের কান ভরেছিলো। মিথ্যা ছবি, মিথ্যা প্রমান সব বের করেছিলো। কবিরও বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়েছিলো। সেতু এটাও প্রমান করেছিলো যে মেরিন রনকের ছেলে।

তবে মেরিনের নামে খান বাড়ির সব সম্পত্তি থাকায় মেরিনকে সাথে নিতে বাধা দিয়েছিলো কনিকাকে
কবির কনিকাকে মেরিনের কসম দিয়েছিলো যেন কনিকা আর কখনো ওদের সামনে না আসে। আসলে মেরিনের মরা মুখ দেখবে। তাই কনিকা এতোদিন কারো সামনে আসেনি। নাসিম যখন মাজার থেকে এসে সব শুনলো তখন কনিকাকে খুজতে বেরিয়ে গেলো। কিন্তু নিলয় এসে তাকে আটক করে ফেলল। তাই সেও আর ফিরলোনা।

পরদিন
মেরিনের ঘুম ভাঙলো। দেখলো ও মায়ের বুকে।
কনিকা: good morning বাচ্চা
মেরিন: আম্মু
নীড়: বলি হলো মা-মেয়ের ঘুম হলো?
কনিকা-মেরিন পিছে ঘুরলো।

নীড়: good morning
কনিকা: good morning
নীড়: তারাতারি fresh হয়ে নাও ২জন আধাঘন্টার মধ্যে press conference আছে
২জন অবাক হলো।
মেরিন: press conference?
নীড়: হামম। hurry up
একটুপর press conference হলো। সেখানে সবার সামনে কনিকার গায়ে মাখা কালির দাগ মুছে দিলো নীড়। সেই সাথে বেরিয়ে এলো কনিকার আসল পরিচয়। কনিকা হলো মাহমুদ বংশের মেয়ে।

কিছুক্ষনপর
সবাই বসে আড্ডা দিচ্ছে। কিন্তু মেরিন নেই। নীড় মেরিনকে খুজছে। সিড়ির দিকে তাকালো। দেখলো off-white রঙের ১টা শিফনের শাড়ি পরে চুল গুলো ছেরে দিয়ে নামছে। শাড়িতে চিকন গোল্ডেন রঙের পার। কোনো সাজ নেই। কেবল নাকে নাকফুল কানে দুল, হাতে চুরি, গলায় ছোট্ট ১টা চেইন। হাতে ১টা envelopeও আছে। নীড় সেটা নিয়ে মাথা ঘামালোনা। কারন ও মেরিনকে দেখতে ব্যাস্ত। বউ বউ লাগছে। মেরিনের মুখে ১প্রশান্তির হাসি। মেরিন এসে নীড়ের সামনে দারালো। নীড় বসা থেকে উঠে দারালো।
মেরিন হাসি দিয়ে বলল: ধন্যবাদ
নীড়:!

পর্ব ১৯

নীড় ঠাস করে থাপ্পর মারলো। সবাই তো হা।
নীড়: এসবের মানে কি?
মেরিন: আপনার মুক্তি

নীড়: মানে মেরিন কখনো কিছু ভোলেনা হতে পারি খারাপ কিন্তু আপনাকে ভীষন ভালোবাসি। আপনাকে মুখে বলা কথাই আমার জন্য অনেক। তারমধ্যে আপনাকে ছুয়ে কথা দিয়েছি। সেটার বরখেলাপ কি করে করি আপনি মুক্তি চেয়েছেন তাই আপনাকে মুক্তি দিবো

নীড়ের মনে পরলো সেই রাতের কথা যেদিন মেরিন ওকে ছুয়ে কথা দিয়েছিলো যদি নীড় কনিকাকে খুজে আনে তবে মেরিন নীড়কে মুক্তি দেবে। মানে divorce নীড় ভেবেছিলো ওটা কেবলই আবেগের প্রলাপ ছিলো। ভুলেই গিয়েছিলো কথাটা।

মেরিন: ক্ষমা চাইছি কালকেই কথাটা পূরন করতে পারিনি। আমি signature করে দিয়েছি আপনার যোগ্য কাউকে খুজে নেবেন। যাকে আপনি ভালোবাসেন। আর যে আপনাকে ভালোবাসে মেরিন চোখ নামিয়ে কথা গুলো বলছে। তাই নীড়ের ভয়ংকর রাগী চোখ ২টা দেখেনি কথাগুলো বলেই মেরিন যেই নীড়ের দিকে তাকালো। আর চমকে উঠলো।

নীড়: বলা শেষ?
মেরিন: হামম। আরেকটা কথা ক্ষমা। জানি আমি ক্ষমার অযোগ্য। তবুও ক্ষমা চাইছি। আমাকে please ক্ষমা করে দেবেন।
নীড় আর কোনো কথা না বলে মেরিনকে টেনে রুমে নিয়ে গেলো।

নীড় মেরিনের দিকে তাকিয়ে আছে। আর মেরিন নিচে দিকে। কারন নীড়ের দিকে তাকানো এখন সম্ভব না।
নীড়: আমার দিকে তাকাও
মেরিন:
নীড়: তাকাতে বলেছিনা
নীড় মেরিনের গাল চেপে মাথা ওপরে তুলল।
নীড়: আমার মুখটা কি আর ভালো লাগছেনা যে নিচের দিকে তাকিয়ে আছো
মেরিন:
নীড়: কথা বলছো না কেন?

মেরিন: ভালো লাগলে কি হবে? আর তো দেখতে পারবোনা এই ভালোলাগার মুখ।
নীড়: কেন দেখতে পারবিনা কেন? বল দেখতে পারবিনা কেন?
মেরিন: কারন di
আর বলতে পারলোনা নীড় মেরিনের ঠোট জোরা দখল করে নিলো।

একটুপর
নীড়: আরেকবার divorce এর d ও উচ্চারন করলে কি করবো নিজেও জানিনা।
বলেই divorce paper টা টুকরো টুকরো করে আগুনে পুরিয়ে দিলো।
নীড় দেখলো মেরিন চুপচাপ দারিয়ে আছে। আর স্থির চোখে পুরে যাওয়া দেখছে।
নীড়: কি হলো? কথা বলছোনা কেন?

মেরিন: কখনো দেখেছেন বর্ষা শেষে বন্যার ধংব্সলীলা আমি এখন বর্ষা শেষে সেই স্থির বন্যা, শান্ত বন্যা যেমনটা আপনি বলেছিলেন সেদিন, যেমনটা চেয়েছিলেন
নীড়: আমি বর্ষা শেষে শান্ত বন্যা চাইনা
আমি গ্রীষ্মের শুরুতে আগমনী বন্যা কেই চাই।

যার কথা ভেবেই শুরু হয় আতংক। যার আরেক নাম ভয়
মেরিন: ভুল করলেন না তো সারাজীবন কিন্তু বোঝা নিয়ে বেরাতে হবে
নীড়: কি বললা? তুমি আমার বোঝা?
মেরিন: হামম। বোঝা। এখন পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে
নীড়: …।
নীড় কিছু না বলে বেরিয়ে গেলো।

মেরিন: যায় জ্যোতি যায় যাক না জীবন ছারবো না তোরে
কি ভেবেছিলেন মিস্টার চৌধুরী আপনাকে আমি মুক্তি দিবো। ঘৃণার মেরিন আমি ঘৃণা থেকে কখনো মুক্তি পাওয়া যায়না। আমার দাদুভাইকে kidnap করে আমার অতীত জেনেছেন
আমার আম্মুকে ফিরিয়ে এনেছেন
কেন করেছেন জানিনা বুঝি?

ভালোবাসেন আমাকে
কিন্তু বলছেন না
ভালোবেসেছি আপনাকে কি করে আপনাকে ছারতে পারি নিঃশ্বাস আপনি আমার এই কথার তীর তো কেবল আপনার মুখে ভালোবাসি শোনার জন্য। আর ৩দিন দূরে থাকার শাস্তি।
হায় কি রাগ আজকে সাদা শাড়ি পরেছি আজকে কি রক্ত দিয়ে রং খেলা ঠিক হবে?
তখন জন ফোন করলো।

মেরিন: hello
জন: ম্যাম সেতু-নীরাকে কোথাও খুজে পাওয়া যাচ্ছেনা
মেরিন: what?
জন: yes mam
মেরিন: যেভাবেই হোক ওদের খুজে বের করো

বিকালে
দাদুভাই: নিহাল
নিহাল: জী স্যার
দাদুভাই: কিসের স্যার? কাকা ডাকো
নিহাল: ok কাকা
দাদুভাই: আমি আমার নাতনিকে বাসায় নিয়ে যেতে পারি?
নিহাল: হ্যা কাকা কিন্তু ১বার নীড় এসে নিক
দাদুভাই: নীড় কখন আসবে জানিনা এখন নিয়ে গেলাম। দাদুভাই আসলে বলো যে আমি নিয়ে গেলাম।

খান বাড়িতে
কনিকা মেরিনকে খাইয়ে দিচ্ছে। কবির দূর থেকে দেখছে। খুব ইচ্ছা হচ্ছে স্ত্রী সন্তানের সাথে বসে কিছু মুহুর্ত পার করার। কিন্তু অপরাধবোধের জন্য ওদের সামনে যেতেই সাহস পাচ্ছেনা।

রাতে
মেরিন মাকে জরিয়ে ধরে শুয়ে আছে। কিন্তু ঘুম হচ্ছেনা। গতরাতে তো কাদতে কাদতে ঘুমিয়ে গেছে। কিন্তু আজকে কিছুতেই ঘুম আসছেনা। নীড়কে ছারা অথচ কতো ইচ্ছা ছিলো মায়ের বুকে ঘুমাবে। খেয়াল করে দেখলো কনিকা কাদছে। কনিকা মনে করেছিলো মেরিন ঘুমিয়ে পরেছে। কান্নার আভাস পেয়ে মেরিন ধরফরিয়ে উঠলো।
মেরিন: আম্মু তুমি কাদছো কেন?

কনিকা: কই না তো
মেরিন: বললেই হলো। বলো কাদছো কেন?
কনিকা: sorry রে মা তোমার জীবনটা নষ্ট করে ফেলেছি, সুন্দর করে সাজাতে পারিনি কিছুই করতে পারিনি ক্ষম
মেরিন: এই পাগল নাকি? কি বলছো কি? তোমার কোন দোষ নেই আম্মু দোষ ওই
সেতু, আর কবির খানের ওদের ২জনের আমি এমন হাল করবো ওই কবির খানকে তো আমি এমন মৃত

কনিকা: না মা অমন কথা বলেনা সে তোমার বাবা
মেরিন: বাবা my foot
কনিকা: মামনি আমি জানি কবির তোমার অপরাধী। আমারও অপরাধী কোনোদিনও ক্ষমা করতে পারবোনা কিন্তু তাই বলে মামনি খুন করা কি ঠিক? কারো জীবন নেয়া যে হারাম তারওপর সে তোমার বাবা

মেরিন: আম্মু বাদ দাও তো
কনিকা: মামনি কবিরকে আমি ঘৃণা করি কিন্তু ও তোমার বাবা পিতার হত্যাকারী খেতাব পেতে দিতে পারিনা
মেরিন: আম্মু তুম

কনিকা: কথা দাও তুমি কবিরের কোনো ক্ষতি করবেনা
মেরিন: আম্মু তুমি ওই লোকটাকে বাচাতে চাইছো?
কনিকা: না মা আমি তোমাকে ভালোবাসি জানি সে অনেক আঘাত দিয়েছে তোমাকে
মেরিন: আমার থেকে কয়েক গুন বেশি কষ্ট তোমাকে দিয়েছে। তবুও তুমি ওই লোকটাকে ক্ষমা করে দিলে

কনিকা: কে বলেছে ক্ষমা করেছি যে লোকটা আমার জীবনের ১২টা বছর কেরে নিয়েছে। সেই লোকটাকে ক্ষমা যে আমার বাচ্চাটার জীবনটা বিষিয়ে দিয়েছে তাকে ক্ষমা করবো? কোনোদিনও না
কনিকা কান্না করতে লাগলো। মেরিন মাকে বুঝিয়ে সুজিয়ে ঘুম পারালো। এরপর বারান্দায় গিয়ে দারালো।

মেরিন: তোমার চরম শাস্তির সময় ঘনিয়ে এসেছে মিস্টার কবির ফয়সাল খান শুধু ১বার তুমি ক্ষমা চাও আমার মামনির কাছে এরপর দেখো আমি তোমায় কেমন ক্ষমা দেই? সেই সময়টার অপেক্ষা যেদিন তুমি ক্ষমা চাইবে? কিন্তু সেতু আর নীরা কোথায় গেলো? ও
তখন কেউ পেছন থেকে হঠাৎ ওর মুখে কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে দিলো। এরপর হাত বেধে কাধে তুলে নিয়ে কোথাও যেতে লাগলো।

গাড়িতে গাড়িতে বসিয়ে মেরিনের চোখের বাধন রাখা হলেও মুখের বাধন খুলে দেয়া হলো। মেরিন মোচরা মোচরি করছে।
মেরিন: নীড় ভালো হচ্ছেনা কিন্তু
নীড়:
মেরিন: চুপ থাকলে লাভ হবেনা কিন্তু। আমি জানি এটা আপনি
নীড় মেরিনের চোখের বাধন খুলে দিলো। ২জনের চোখই রাগে লাল হয়ে আছে।
২জন একসাথে
বলল: এসবের মানে কি?

মেরিন: আপনার সাহস কিভাবে হয় আমাকে এভাবে তুলে আনার?
নীড়: তোমার সাহস কিভাবে হয় আমাকে না বলে এই বাসায় আশার?
মেরিন: মানে? মেরিন বন
নীড়: জানি জানি

মেরিন: মেরিন বন্যা খান কোনো কাজ কারো অনুমতি নিয়ে করেনা
নীড়: wait wait মেরিন বন্যা খান মানে?

মেরিন: মেরিন বন্যা খান মানে মেরিন বন্যা খান।
নীড়: তোমার কি আমার থাপ্পর খেয়ে মন ভরে না? মেরিন বন্যা খান নামে এখন কেউ নেই। মেরিন বন্যা নীড় খান চৌধুরী আছে।
মেরিন:

নীড়: চুপ কেন?
মেরিন: বাসায় যাবো আমার হাত খুলে দিন
নীড়: ..।
মেরিন: কিছু বলেছি তো
নীড়: শুনেছি তো।।

মেরিন: ধ্যাত
নীড়: আচ্ছা আমি তোমাকে বাসায় রেখে গেলাম শাড়ি পরা এখন আবার এই অবাঙালি পোশাক কেন?
মেরিন: mind your own business
নীড়: সেটাই করছি

একটুপর
নীড় গাড়ি থামালো। ১টা বাড়ির সামনে। এরপর কোলে করে মেরিনকে ভেতরে নিয়ে যেতে লাগলো।
মেরিন: এটা কার বাড়ি?
নীড়: তোমার জামাইর। মানে তোমার।

মেরিন: …
নীড় মেরিন ১টা রুমে নিয়ে নামালো। এরপর ১টা লাল টুকটুকে শাড়ি হাতে ধরিয়ে দিয়ে
বলল: যাও এটা পরে আসো।
মেরিন: এই রাত সারে ১২টা বাজে আপনি আজিরা পেচাল পারছেন?
নীড়: হ্যা। পরবে কি পরবেনা?
মেরিন: না।

নীড়: তুমি কি কোনো কথাই ১বারে শুনতে পারোনা?
মেরিন: না। আর এই শাড়ি আপনি গিয়ে নীরাকে দিন।
নীড়: আরেকবার নীরার নাম নিলে খবর আছে। শাড়িটা পরে নাও।
মেরিন:না বলেছিনা।

নীড় বাধ্য হয়েই নিজেই মেরিনকে শাড়ি পরিয়ে দিলো। এরপর সাজিয়ে দিলো। ভীষন সুন্দর লাগছে মেরিনকে। এরপর আবার মেরিনকে কোলে তুলে গাড়িতে বসালো। কালো কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে দিলো। মেরিনের মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছে।

কিছুক্ষন পর আবার গাড়ি থামলো। নীড় মেরিনকে গাড়ি থেকে নামালো। হাতের বাধন কিছুটা হালকা করলো।

নীড়: দারাও আসছি
বলেই নীড় চলে গেলো। মেরিন গুতাগুতি করতে করতে হাতের বাধন খুলে ফেলল।
মেরিন মনে মনে: হালকাই তো ছিলো। তাহলে এতোক্ষন খুলতে পারলাম না কেন?
এরপর চোখের বাধন

টা খুলবে আর ঠিক তখনই গিটারের আওয়াজ পেলো। ১টানে চোখের বাধন খুলল। আর দেখলো সামনে আলোর মেলা সেই সাথে গোলাপের পাপড়ির তেরি করা পথ। পথের কিনারা দিয়ে আছে প্রদীপ মাথার ওপর পূর্নিমার চাদের আলো। নদীর স্নিগ্ধ বাতাস। মাতাল করা গিটারের সুর

সারারাত ভর
চোখের ভেতর
স্বপ্নে তোমার আনা গোনা
নেমে আসে ভোর
থাকে তবু ঘোর
হাওয়ায় হাওয়ায় জানাশোনা
তুমি দেখা দিলে তাই মনে
জাগে প্রেম প্রেম কল্পনা
আমি তোমার হতে চাই
এটা মিথ্যে কোনো গল্পনা

মেরিন একেবারে নীড়ের সামনে এসে পরেছে। চারিদিক সুন্দর করে সাজানো। সাদা গোলাপ দিয়ে। সামনে ১টা ভ্যানিলা কেক রাখা। নীড়কেও অনেক সুন্দর লাগছে। কালো shirt-pant চুল স্পাইক করানা। নরমাল। বাতাসে উরছে। গান শেষ করে নীড় মেরিনের সামনে এসে ১হাতে মেরিনের কোমর জরিয়ে সামনে এনে অন্যহাত দিয়ে ওর মুখের ওপর থেকে চুল সরিয়ে মেরিনের কপালে চুুমু দিয়ে
বলল: happy anniversary আমার বউটা

মেরিন অবাক হলো এটা জেনে যে নীড়ের মনে ছিলো।
নীড়: অবাক হলে? কি ভেবেছো আমার মনে নেই?
মেরিন:
নীড়: চলো কেক কাটি।

২জন কেক কাটলো। ২জন ২জনকে wish করলো। আবার নীড় হাওয়া হয়ে গেলো। পরক্ষনেই আবার ঝরের বেগে এলো। ১গুচ্ছ গোলাপ নিয়ে। হাটু গেরে বসলো
নীড়: হয়তো তোমার মতো কখনো ভালোবাসতে পারবোনা। কারন মেরিনের মতো ভালোবাসার ক্ষমতা কারো নেই
তবে আমি আমার সবটুকু দিয়ে তোমাকে ভালোবাসবো। কখনো কোনো অভিযোগের সুযোগ দিবোনা। যতোদিন বেচে আছি পাশে থাকবো। ১টা কথাই বলতে চাই
তুমি আমার
ঘৃণার_মেরিন না।

ভালোবাসার মেরিন
১টা সুযোগ দিবে please
তোমাকে ভালোবাসার
মেরিন নিজের চোখ আর কানকে বিশ্বাস করতে পারছেনা নীড়কে জরিয়ে ধরেকাদতে লাগলো।
নীড়: আরে পাগলি কাদছো কেন?

মেরিন: i love you love you love you love you a lot
নীড়: & i love you too
মেরিন: কখনো আমাকে ছেরে যাবেন না please
নীড়: মাথা খারাপ না পাগল আমি তো আজীবন আমার বউটার সাথে থাকবো। কথা দিলাম

কিছুদিনপর
চৌধুরী বাড়িতে
মেরিন: কাহিনি কি বলো তো? কি লুকাচ্ছো?
নীড়: কোথায়? কিছু নাতো
মেরিন: কিছু তো আছে ঘাপলা
নীড়: জান তুমি কি আমার ওপর সন্দেহ করছো
মেরিন: ধ্যাত কি যে বলো না। আচ্ছা শোনো আজকে ওই বাসায় যাবো কিন্তু।

নীড়: আচ্ছা
বলেই নীড় মেরিনের কপালে চুমু দিয়ে চলে গেলো।
নীড় মনে মনে: জান ঘাপলা তো করছি কিন্তু প্রমান না পেলে তো আর সম্ভব না। কালকেই সব clear হবে। ইনশাল্লাহ।
বিকালে ওরা খান বাড়িতে গেলো।

পরদিন ….

কনিকা কাজ করছে
নীড় office এ। মেরিন রুমে বসে অফিসের কাজ করছে। দাদুভাই-দীদা বসে চা খাচ্ছে। কবির অনেক সাহস জুগিয়ে কনিকাকে ডাক দিলো।
কবির: কনা
কনিকার সময় ওখানেই থেমে গেলো। কতোদিন পর সেই ভালোবাসার ডাক কিন্তু কনিকা আবেগকে প্রশ্রয় দিলোনা।

কবির: একটু কথা বলতে চাই
কনিকা যেন শুনতেই পায়নি।
কবির: শোনো না please
মেরিন: কি শুনবে আপনার কথা? আরো কোনো অপবাদ-অপমান শোনা বাকি আছে কি?
কবির: …

মেরিন: কি হলো এখন চুপ কেন? ১২বছর ধরে যাকে দুনিয়ার সব বাজে বাজে কথা বলেছেন আজকে তার সাথে আরো কথা আছে? যার জীবন থেকে আপনি ১২টা বছর কেরে নিয়েছেন তার সাথে কথা বলতে চান? যাকে ঘৃণা করে এসেছেন, যার অস্তিত্বকে ঘৃণা করে এসেছেন তার সাথে কথা বলতে চান? যাকে কখনোই ভালোইবাসেন নি তার সাথে কথা বলতে চান? আসলে আপনি just আম্মুর রুপের মোহয় পরে বিয়ে করেছিলেন
কবির: মেরিন

কবির মেরিনকে থাপ্পর মারার জন্য হাত তুলেও নামিয়ে নিলো।
মেরিন: নামালেন কেন? মারুন আমাকে কসম আল্লাহর ওই হাত কেটে কুকুরদের খাওয়াবো
তখন ওখানে নীড় এলো।

কবির: হামম। খাওয়াবেই তো। আচ্ছা তুমি তো সবাইকে শাস্তি দাও মেরেও ফেলো। আমাকে দিলেনা কেন? মারলেনা কেন?

মেরিন: দিবো তো শাস্তি আগে সেতু আর নীরাকে খুজে বের করে নেই। ওদেরকে ওদের পাওনা বুঝিয়ে নেই আপনার চোখের সামনে ওদেরকে নৃশংস্র ভাবে খুন করে নেই। এরপর
নীড়: খুন হওয়াদের আর কি খুন করবে মেরিন
মেরিন পিছে ঘুরলো।

মেরিন: একি তুমি? কখন এলে?
নীড়: মাত্র।
মেরিন: যাও fresh হয়ে নাও
নীড়: হবো তার আগে কিছু কাজ আছে। সেটা complete করতে হবে
মেরিন: মানে?

নীড়: খুব সহজ সেতু আর নীরা আর বেচে নেই। মরে গেছে। খুবই বাজে ভাবে মরেছে
মেরিন: মরে গেছে? অসম্ভব ওদের মৃত্যু এভাবে হতে পারেনা।

নীড়: কিন্তু হয়েছে। গতকালই। জানতে চাও ওদের মৃত্যু কিভাবে হয়েছে? ওদের হাত-পা প্রথমে আগুনে পুরে দেয়া হয়েছে। পরে সেগুলোতে আবার ঔষধ দেয়া হয়েছে। এরপর আবার পোরানো হয়েছে। এরপর একটু ঔষধ লাগিয়ে তাদেরকে কুমির ভরা পুকুরে ছেরে দেয়া হয়েছে। ক্ষনিকের মধ্যেই ২জনের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে।
মেরিন:কি? কে করলো এমন?
নীড়: তোমার সামনে দারিয়ে আছে।
মেরিন: মানে?

নীড় কবিরের সামনে গিয়ে কবিরের কাধে হাত রেখে বলল: বাবা
দাদুভাই, দীদা, কনিকা, মেরিন, জন তো অবাক।
মেরিন: কি বলছো কি? আজেবাজে কথা বন্ধ করো
নীড়: আজেবাজে কথা বন্ধ না। সেতু-নীরা-নিলয়কে যতোটা তুমি ঘৃণা করো তার থেকে অনেক বেশি ঘৃণা বাবা করে।
মেরিন: stop nonsense
নীড়: না আমি একদম ঠিক বলছি সব গল্পেরই এপিঠ ওপিঠি থাকে। বাবার সত্যটা কেউ জানোনা।
মেরিন: সত্য?

নীড়: হ্যা সত্য আচ্ছা মেরিন তোমার মনে কি কখনো এই প্রশ্নটা আসেনি যে বাবা যদি আম্মুকে ভালোইনাবাসতো, যদি ঘৃণাই করতো তবে ২য় বিয়ে কেন করেনি? ১২ টা বছর কেন একাই কাটিয়ে দিলো।

বাকীরা সবাই ভাবলো: হ্যা তাই ই তো
নীড়: কারন হলো বাবা কেবল আর কেবল আম্মুকেই ভালোবাসে।
মেরিন: নামের ভালোবাসা দাদুভাইয়ের ভয়ে করেনি
নীড়: seriously? কবির ফয়সাল খানের মতো ১জন talented & educated business icon চাইলেই নিজে আলাদাভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারতেন না? পারতেন। কিন্তু ইচ্ছা করেই কিছু করেননি?
মেরিন: …

নীড়: আমি জানি তুমি আমাকে পাগলের মতো ভালোবাসো। কিন্তু হঠাৎ যদি আমি কিছুদিন ধরে তুমি আমাকে না জানিয়ে কোনো কাজ করো। like না বলে কোথাও যাওয়া, late করে ফেরা আমার কি খটকা লাগবেনা? বাবার তো তবুও কখনোই সন্দেহ হয়নি। কিন্তু যদি কোনো স্বামী কারো সাথে তার স্ত্রীর অমন ছবি দেখে এমনকি এটা জানতে পারে যে সন্তানটাও তার নাতখন সেই স্বামীর মনের অবস্থা কেমন হতে পারে? সব মিলিয়ে কি তার রাগ করাট জায়েজ নয়? তার মনের অবস্থা কি হতে পারে? অমন অবস্থা নিয়ে ঠিক ভুল বিবেচনা করা যায়?
সবাই: ….

নীড়: তুমি যে আমায় এতো ভালোবাসো, তবুও যদি আমার এমন কিছু জানতে পাও তবে ওই মুহুর্তে তুমি কিভাবে react করবে?
মেরিন: …

নীড়: ১২ বছর আগে বাবা সেদিন আম্মুকে অনেক অপমান করেছিলো ঠিকই। কিন্তু যখন মাথাটা ঠান্ডা হলো তখন বিষয়ের গভীরে যায়। প্রমান পেয়েও যায় সত্য। কিন্তু সেই সাথে এটাও জানতে পারে যে দীদা ওদের কব্জায়। তাই ওদের কিছু বলতে পারেনা। ওদের সাথে মিলে থাকার নাটক করে। দীদাকে আমি পেলেও আম্মুর খোজ বাবার জন্যেই পেয়েছি।
মেরিন: মিথ্যা কথা সব মিথ্যা
নীড়: না। সব সত্য। বাবা আজও আম্মুকে ভালোবাসে। আর তোমাকেও
মেরিন: ক
নীড়: কোনো কথা না। আগে আমার কথা শোনো
জন

জন: জ স্যার
নীড়: ১টা কথা বলো তো মেরিনের under এ তো তুমি কাজ করো। but মেরিনের under এ কাজ করার জন্য তোমাকে কে কাজ করতে বলেছে? কে তোমাকে মেরিনের ছায়া হয়ে থাকতে বলেছে? কে তোমাকে মেরিনের সাহায্য করতে বলেছে?
জন:
নীড়: বলো

জন: জানিনা স্যার তার সাথে কেবল আমার ফোনে কথা হয়। আর মাস শেষে salary দেয়। সে বলেছে যে করেই হোক আমি যেন ম্যামকে একা না ছারি আলাদা না ছারি যেন সবসময় রক্ষা করি
নীড়: সে পুরুষ না মহিলা?

জন: পুরুষ
নীড়: সবাই জানতে চাও সে কে? সে এই কবির ফয়সাল খান হ্যা মেরিনের সাথে সে খারাপ ব্যাবহার করেছে। আর সেসবের জন্যেই আজ মেরিন the মেরিন হতে পেরেছে। স্বর্নকে পুরিয়ে যেমন খাটি করা হয় তোমনি কষ্ট পেয়ে মেরিন বন্যা হতে পেরেছে জানতো যে বাবা নিজে মেরিনকে save করতে পারবেনা।

দাদুভা
ইয়েরও বয়স হয়েছে। তাই মেরিনের strong হওয়ার দরকার ছিলো। সে কারনেই
মেরিন:
নীড়: ৫বছর আগে তোমার car accident হয়েছিলো। তোমাকে রক্ত দিয়ে কে বাচিয়েছিলো জানো? বাবা
মেরিন:
নিহাল: আরো আছে
সবাই পিছে তাকালো। দেখলো নিহাল-নীলিমা দারিয়ে আছে।

নিহাল মেরিনের সামনে গিয়ে ওর মাথায় হাত রাখলো।
বলল: ভাবির সত্যিটা কবির আমাকে আরো আগেই বলেছে। সব সত্যই বলেছে। কারন সেদিন আমি তোমাকে বাজে কথা বলেছিলাম আমাকে কবির বলেছিলো যেন আমি তোমাকে বাবার ভালোবাসা দেই। তুমি ভালোবাসা কাঙাল কিন্তু যেন পলকেই পরিবর্তন না হই তাহলে তুমি বুঝে যাবে তুমি কবিরের দুনিয়া কবিরের হাতে দেখো। তোমার প্রতি জন্মদিনে ও নিজেকে আঘাত করেছে। যার চিহ্ন আজও রয়ে গেছে। তুমি তোমার বাবার ঘৃণার মেয়ে নও ভালোবাসার
মেরিন: মিথ্যা মিথ্যা মিথ্যা।

সব মিথ্যা। সবাই মিথ্যাবাদী। সবাই খারাপ
বলেই মেরিন গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেলো। নীড়ও পিছে ছুটলো। গাড়ি নিয়ে মেরিনের পথ আটকালো। এরপর মেরিনের সামনে গিয়ে দারালো।
মেরিন: আমার পথ ছেরে দাও নীড়
নীড়:ছারবোনা গাড়ি থেকে নামো
মেরিন: আপনি সরবেন কি না?

নীড়: না।
মেরিন: না সরলে কিন্তু
নীড়: কিন্তু আমার ওপর দিয়ে চালাবে?
মেরিন:
নীড়: আমার ওপর দিয়ে চালাবে? বলো
মেরিন:
নীড়: চালাও

মেরিন: ….
নীড়: কি হলো চালাও
মেরিন মাথা নিচু করে বসে রইলো।
নীড়: নামো
মেরিন:
নীড়: নামতে বলেছি কিন্তু

মেরিন নেমে এলো। নীড় মেরিনের কাধে হাত দিয়ে হাটতে লাগলো।
নীড়: সত্য থেকে না পালিয়ে সত্যে মোকাবেলা করতে কবে শিখবে? তোমার, আম্মুর জীবন থেকে যেমন ১২ বছর হারিয়ে গেছে তেমনি বাবার জীবন থেকেও। please accept this
মেরিন: আমি যে বাবার সাথে অনেক খারাপ ব্য

নীড়: সবটাই সময়ের দোষ ছিলো চলো আবার নতুন করে জীবনটা শুরু করি।
নীড় মেরিনকে নিয়ে বাসায় ফিরলো। বাবা-মেয়ের মিল হলো। মেরিন কবিরকে বুকে জরিয়ে কাদতে লাগলো। কবিরও এতো বছর পর মেয়েকে বুকে জরিয়ে কাদতে লাগলো। সব সমস্যা মিটে গেলো। মেরিনের জীবনও স্বাভাবিক হয়ে গেলো।

কিছুদিনপর
নীড় office থেকে এসে দেখে মেরিন টেবিল calendar এর পাতা উল্টাচ্ছে।
নীড়: কি করছে আমার বউটা?
মেরিন: তোমার ভাগ্য গননা
নীড়: ভাগ্য গননা?

মেরিন: হামম।
নীড়: মানে?
মেরিন: দেখি দেখি তোমার কপালে কি লেখা?
নীড়:…।

মেরিন: উফফ
চুলগুলো সরাও না
নীড়:…।
মেরিন: অলস কোথাকার? আমি সরিয়ে দিচ্ছি মেরিন সরিয়ে দিলো।
মেরিন: …।
নীড়: কি হলো?
মেরিন: তোমার কপালটা তো ভীষন ভালো গো।

নীড় মেরিনের কাধে হাত রেখে নাকে নাক ঘষে
বলল: তোমার মতো বউ পেলে তো সবারই কপাল ভালো হবে?
মেরিন: তাই বুঝি? তোমার কপাল আরো বেশি ভালো হতে চলেছে। আজ থেকে ঠিক ৯মাস পর ১টা ছোট্ট নীড় আসতে চলেছে যার নাম হবে নির্বন
নীড়: মান সত্যি?
নীড় মেরিনকে কোলে নিয়ে ঘুরতে লাগলো।

নীড়: উহুহু আমি বাবা হতে চলেছিthank u আল্লাহ thank u জান its the best gift in my life i just love you
খবরটা শুনে খান বাড়ি চৌধুরী বাড়িতে ধুম পরে গেলো। মেরিনের জীবন থেকে সকল ঘৃণার অবসান ঘটলো।

লেখা – মোহনা

সমাপ্ত

(পাঠক আপনাদের ভালোলাগার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিয়ত আমাদের লেখা। আপনাদের একটি শেয়ার আমাদের লেখার স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের এই পর্বের “ঘৃণার মেরিন – অবশেষে যা হলো” গল্পটি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তী গল্প পড়ার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ।)

আরো পড়ূন – সত্যের আড়ালে – তার অগোচরে গোপন প্রেম