মনের জগতে মনোবিজ্ঞান

ভালবাসার মানসিক রোগ – Obsessive Love Disorder

ভালবাসার মানসিক রোগ

ভালবাসার মানসিক রোগ – Obsessive Love Disorder – অবসেসিভ লাভ ডিসঅডার: কাউকে কি পাগলের মত ভালবাসা যায়? উত্তর হ্যাঁ যায়, এতটাই যায় যে অন্যজন সেটা নিতে পারে না, বিরক্ত হয়ে যায়, এমনকি ব্রেকাপ করে ফেলে। তো আজকে এরকম অতিরিক্ত ভালবাসার গল্প বলব আপনাদের, যা শুনে অনেকের মনে হবে যে, আমার সঙ্গীও তো এরকম, আমি কি তবে ভুল করলাম? নাহ আগেই বলে রাখি যে আপনি ভুল করেননি। ভুল করছে তার পরিবার, সমাজ ও কাছের মানুষ জন।

ভালবাসার মানসিক রোগ কি ও কিভাবে হয়?

কোন রোগ বা মেন্টাল প্রবলেম বাতাসে আসে না, প্রতিটির পিছনে শক্ত কোন কারণ থাকে। যেমন- ছোট থেকে যারা নেগেটিভ পরিবেশে বড় হয়, পরিবারের কলহ দেখে, খারাপ অভিজ্ঞতা হয় এবং অনেক ধোঁকা খেয়ে বিশ্বাসের গোড়া ভেঙ্গে গেছে তাদের ক্ষেত্রে কিছু কমন মেন্টাল ডিসঅর্ডার তৈরী হয়, তার মধ্যে Obsessive Love Disorder বা OLD একটি।

এই ওল্ডে ভোগা মানুষ যদি আপনার প্রেমিক/প্রেমিকা বা আপনার স্বামী/স্ত্রী হয় তাহলে কিছু বিষয় আপনি খেয়াল করলে দেখবেন যে- সে আপনার প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণ অনুভব করে যখন আপনার সাথে সময় ব্যয় করে, অতিরিক্ত কথা বলে। আপনি কার সাথে কথা বলছেন, কি করছেন? কার সাথে বন্ধুত্ব ইত্যাদি পার্সোনাল সব বিষয়ে তদারকি করবে এবং জবাবদিহি করবে। কারণ এদের মাঝে একটি কমন বিষয় হল- ভালবাসার মানুষকে প্রটেক্ট করা, তারা ভাবে যে আপনার অনেক বিপদ বা হারানোর সম্ভাবনা আছে তাই সে আপনার সাথে যোগের মত লেগে থাকে এবং সব বিষয়ে নেগেটিভ ধারণা পোষণ করে। এতে আপনি যদি রাগ দেখান বা কথা না বলেন তাহলে পাগলামি যেমন না খেয়ে থাকা, হাত কাটা, ঘুমের অসুধ খাওয়া ইত্যাদি সুসাইড এটেমট করতে পারে।

প্রেম রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার

বিশ্বাসের গোড়া যেহেতু দুর্বল সেহেতু আত্মবিশ্বাস নেই বললেই চলে, তাই সকল সন্দেহ ও অবিশ্বাসের তীর আপনার দিকে ছুড়ে মারে। তবে কেয়ারিং করার দিক থেকে অন্যদের হার মানাবে এরা। খাওয়া থেকে শুরু করে ঘুম পর্যন্ত প্রতিটি বিষয় আপনাকে সে নিয়মিত করাই ছাড়বে, মোট কথা ছোট বেলায় আমাদের মা-বাবা যেমন আমাদের কেয়ার করত, এরা ঠিক তেমন। তবে অন্যকে যদি আপনার সাথে মিশতে দেখে বা কেয়ারিং করতে দেখে তাহলে প্রচণ্ড ঈর্ষা আর হিংসা বোধ করে, যাকে বলে পুড়ে যাওয়া।

ওল্ডে ভোগা মানসিক রোগী পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা বেশি, কারণ জেনেটিক্যালি স্বভাব ও মুড সুইং এর কারণ। যাইহোক ভাল ভাবে বিশ্লেষণ বা সাইক্রিয়াটিস্ট না দেখানোর আগে আপনার সঙ্গীকে ওল্ডে ভোগা রোগী বানাবেন না, আমি জাস্ট কমন কিছু বিষয় বলালাম। যদি আপনার সঙ্গী ওল্ডে ভোগেও তবুও সেটা খারাপ কিছু না, কারণ তার মত ভালবাসতে কেউ পারবেনা আপনাকে, তাই যদি সহ্য করা পসিবল না হয় বা মনে হয় কিছুটা কমিয়ে আরো স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসা জরুরী তাহলে ভাল কাউন্সিলিং এবং থেরাপির মাধ্যমে সেটা সম্ভব। তবে আপনি ধর্য নিয়ে কিছু কাজ করেন, মানে হোম কাউন্সিলিং তাহলে সে বিনা খরচে দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। কারণ মনের মানুষের কেয়ারিং এমনিতে অর্ধেক সুস্থ্য করতে পারে। এটা মনোবিজ্ঞানীরাও বলে যে আমরা যে ট্রিটমেন্ট দিব তা যদি আপনি সঙ্গী হিসেবে দিতে পারেন তাহলে সেটা দ্রুত ফলপ্রসু।

আরেকটা কথা বলে রাখি, যারা নিজেকে ওল্ডে ভোগা ভাবছেন বা সঙ্গী ভুগছে এবং এটা আপনাদের জীবন ও সম্পর্ককে অনেক খারাপ পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে, এমনকি আপনার পক্ষে এটার ট্রিটমেন্ট করার কোন অর্থ নেই। সেক্ষেত্রে আপনার যদি ইচ্ছা হয় তবে কমেন্ট করতে পারেন, আমি এ ব্যাপারে অভিজ্ঞদের অনলাইন কিছু রেফারেন্স সলুশন, ফ্রি পিডিএফ এবং ভিডিও দিয়ে সাহায্য করতে পারি, বাকিটা আপনার কাজের উপর নির্ভর করছে।

লেখা- Nerjhor

আরো পড়ুন- সাপিয়োসেক্সচুয়াল ভালোবাসা

Related posts

কুকুর ভীতি – ভালবাসা দিয়ে মানসিক রোগ জয় | Cynophobia

valobasargolpo

সিজোফ্রেনিয়া – অদৃশ্য সাইকোর মানসিক জগতের গল্প | Schizophrenia

valobasargolpo

Leave a Comment

error: Content is protected !!